লিবিয়ায় ৪৫ জনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ-৫৪ জনের কারাদণ্ড

অনলাইন ডেস্ক: ২০১১ সালে লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলিতে প্রেসিডেন্ট মোয়াম্মার গাদ্দাফির বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থানকালে বিক্ষোভকারীদের নির্বিচারে গুলি করে হত্যার দায়ে ৪৫ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। বুধবার (১৫ আগস্ট) আদালত ওই ৪৫ জনকে ফায়ারিং স্কোয়াডে নিয়ে গুলি করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের এ আদেশ দেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দণ্ডপ্রাপ্তদের একটি মিলিশিয়া গোষ্ঠীর সদস্য বলছে স্থানীয় পশ্চিমাপন্থি সরকার। গাদ্দাফির বিরুদ্ধে লাখো জনতা রাস্তায় নেমে এলে এই গোষ্ঠীর সদস্যরা তখন নির্বিচারে গুলি ছোড়ে এবং অনেককে হত্যা করে। ধারণা করা হচ্ছে, গাদ্দাফির পতনের পর আফ্রিকার আরব দেশটিতে এখন পর্যন্ত এটিই সবচেয়ে বেশি মৃত্যুদণ্ডাদেশের ঘটনা। দেশটির সরকারি কৌঁসুলিরা জানান, ওই ঘটনায় আরও ৫৪ জনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে মামলা থেকে রেহাই দেওয়া হয়েছে ২২ জনকে। অভিযুক্তদের কবে গ্রেফতার করা হয়েছে কিংবা তাদের বিরুদ্ধে কবে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে, সেসব বিষয়ে কিছু স্পষ্ট করেননি রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলিরা। ওই দেশের সরকার এই দণ্ডপ্রাপ্তদের মিলিশিয়া গোষ্ঠীর বললেও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বলছে, মোয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের খবরে ত্রিপোলির আবু সালিমে আগাম উদযাপনে নামে সরকারবিরোধীরা। এসময় গাদ্দাফিপন্থি স্থানীয় বাসিন্দারা নির্বিচারে গুলি ছোড়ে বিরোধীদের ওপর। তারপর বিজয়ী বিরোধীরা অভিযুক্তদের অনেককে গ্রেফতার করে। ২০১১ সালের অক্টোবরে বিদ্রোহীদের হাতে গাদ্দাফি নিহত হওয়ার প্রায় সাত বছরেরও বেশি সময় ধরে অস্থিতিশীলতার মধ্যে যাচ্ছে লিবিয়া। যদিও পশ্চিমা গোষ্ঠীর সমর্থনপুষ্ট ত্রিপোলি সরকার সম্প্রতি সেখানে শান্তি প্রতিষ্ঠার দাবি করেছে।...

ভূমিকম্পে ১০ ইঞ্চি উপরে উঠে গেল ইন্দোনেশিয়ার দ্বীপ

অনলাইন ডেস্ক: ভয়াবহ ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠা ইন্দোনেশিয়ার লম্বক দ্বীপ ১০ ইঞ্চি উপরে উঠে গেছে বলে জানা গেছে। শনিবার বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, উপগ্রহ চিত্র মারফত এই তথ্যের প্রমাণ মিলেছে। বিজ্ঞানীদের মতে, ছবিতে স্পষ্ট লম্বক দ্বীপের মাটি উঁচুনিচু ও অসমান হয়েছে। দ্বীপের উত্তর-পশ্চিম পাশ অর্থাৎ ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থলের কাছে ভূখণ্ডটি প্রায় ১০ ইঞ্চি উঁচু হয়ে গেছে। এমনই তথ্য জানাচ্ছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা ও ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি। ৫ আগষ্টের ওই ভূমিকম্পে শুধু দ্বীপ উচুঁই হয়ে যায়নি, বিভিন্ন জায়গা দুই থেকে ছয় ইঞ্চি নিচুও হয়ে গেছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, প্রশান্ত মহাসাগরীয় বেসিনে আগ্নেয়গিরি আর চ্যুতি রেখার অবস্থানের কারণে বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা তথা রিং অব ফায়ারের মধ্যে পড়েছে ইন্দোনেশিয়া। ফলে এখানে ভূমিকম্প নিত্যদিনের ঘটনা। উল্লেখ্য, ওই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৯। জাতীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে রোববারের সেই ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪০০। তবে সরকারি সংস্থা বলছে, ভূমিকম্প আঘাত হানার পর এ পর্যন্ত ৩৮১ জনের মৃত্যু হয়েছে।...

জার্মানিতে পানি কমতেই নদীতে বেরিয়ে আসছে অস্ত্র

অনলাইন ডেস্ক: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এবং যুদ্ধের পর নদী বা জলাশয়ে অস্ত্র, বোমা ও অন্যান্য উপকরণ ফেলে দেয়া হয়েছিল। এতদিন পর এসব সামরিক অস্ত্র-শস্ত্র বের হচ্ছে। কারণ, জার্মানি জুড়ে তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে জলাশয়ের পানি কমে গেছে। তবে এসব অস্ত্রের দেখা পেলে তাতে স্পর্শ না করতে সতর্ক করেছে দেশটির পুুলিশ। পুলিশের দেয়া তথ্যানুযায়ী, জার্মানির পূর্বাঞ্চলের সাক্সনি আনহাল্ট আর সাক্সনি রাজ্যে এল্বে নদীর বিভিন্ন জায়গায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিপুল পরিমাণ বোমা ও অস্ত্র পাওয়া গেছে। এগুলোর মধ্যে আছে রয়েছে- ২২টি গ্রেনেড, মাইন ও অন্যান্য বিস্ফোরক দ্রব্য। পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন,এটা পরিষ্কার যে পানির স্তর নীচে নেমে যাওয়ায় এগুলো পাওয়া যাচ্ছে।’ জার্মানিতে এ বছর জুলাইকে বলা হচ্ছে উষ্ণতম মাস। ৩১ জুলাই সাক্সনি আনহাল্টে তাপমাত্রা ছিল সর্বোচ্চ ৩৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সপ্তাহের শুরুতে সাক্সনি আনহাল্টের মাগডেবুর্গে পানির উচ্চতা রেকর্ড পরিমান ৫১ সেন্টিমিটার কমে গেছে। যেখানে সর্বশেষ ১৯৩৪ সালে পানি কমেছিল ৪৮ সেন্টিমিটার। দেশটির পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ রকম কোনো অস্ত্র বা সরঞ্জাম দেখতে পেলে প্রথমে তাদেরকে যেন খবর দেয়া হয়। এরপর অস্ত্র নিষ্ক্রিয়করণ বিশেষজ্ঞরা পরীক্ষা করে সেগুলোকে নিষ্ক্রিয় করেন। এছাড়া যেগুলো নিষ্ক্রিয় করা যায় না, সেগুলোকে খোলা জায়গায় নিয়ে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। গত মাসে এলবে নদীতে পাওয়া দুটি অ্যান্টি ট্যাংক মাইনের বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন অস্ত্র নিষ্ক্রিয়করণ বিশেষজ্ঞরা। শীর্ষ নিউজ...

জরুরী বিজ্ঞপ্তি

অনলাইন ডেস্ক: সকলের অবগতির জন্য জানানো যাইতেছে যে, বহুল প্রচারিত জনপ্রিয় অনলাইন দৈনিক নিউজ হবংিবশধঃঃড়ৎ.পড়স এর জনপ্রিয়তায় ইতি মধ্যে মুষ্ঠিমেয় কিছু অপরাধী চক্র নিউজ একাত্তর ডট কম এর নাম দিয়ে বিভিন্ন অনৈতিক কাজ করছেন মর্মে পত্রিকার সম্পাদক বিভিন্ন ভাবে অবগত হয়েছেন। সম্প্রতি নিহার কান্তি দাশ নামক ব্যক্তি নিউজ একাত্তর ডট কম পত্রিকার সাংবাদিক পরিচয়ে বিভিন্ন তদবীর,অপকর্ম চালাচ্ছেন বলেও জানাযায়। নিউজ একাত্তর ডট কম পত্রিকায় নিহার কান্তি দাশ নামে কোন সংবাদ দাতা আগেও ছিলনা এবং বর্তমানে ও নাই,শুধু তাই নয় নিউজ একাত্তর ডট কম পত্রিকার ষ্টিকার গাড়িতে লাগিয়ে ভিজিটিং কার্ড ব্যবহার করে গত কিছু দিন যাবত কিছু অপরাধী ব্যক্তি গন বিভিন্ন ব্যক্তির সাথে প্রতারনা করছেন বলেও কতৃপক্ষ অবগত হয়েছেন। এমতাবস্থায় জনপ্রিয় অনলাইন দৈনিক নিউজ একাত্তর ডট কম এর সকল লেখক ও পাঠকের সহ সকলের প্রতি অনুরোধ করা যাচ্ছে যে, নিহার কান্তি দাশ সহ যে কোন ব্যক্তি নিউজ একাত্তর ডট কম এর সাংবাদিক পরিচয় প্রদান করিলে তাদেরকে সংশ্লিষ্ঠ থানায় সোপর্দ্ব করীয়া প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা গ্রহন করিবেন। নিউজ একাত্তর ডট কম এর প্রধিনিধি যাচাই করতে সম্পাদকের মোবাইল নং ০১৮২৪-২৪৫৫০৪ নাম্বারে ফোন করে নিশ্চিত হওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হইল। নিউজ একাত্তর ডট কম কোন অন্যায় অপরাধীকে প্রশ্রয় দেয় না এবং প্রচলিত আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। নিউজ একাত্তর ডট কম এর পরিচয়ে ভূয়া সাংবাদিকদের অপকর্মের দায় নিউজ একাত্তর ডট কমের নয়। নিউজ একাত্তর ডট কম এর যে কোন বিষয়ে উপরে দেওয়া সম্পাদকের নাম্বারে ফোন করে অথবা চট্টগ্রাম অফিস-১৯/২০/২১ বি, হানিমুন টাওয়ার ৩য় তলা,অলংকার মোড়,পাহাড়তলী,চট্টগ্রাম এ যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে। নিবেদক মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন চৌধুরী সম্পাদক নিউজ একাত্তর ডট কম ০১৮২৪-২৪৫৫০৪ ...

মিলেনিয়াম হিউম্যান রাইটসের ১৫ আগষ্টের আলোচনা সভায় বক্তারা,বঙ্গবন্ধু সাহসী ব্যক্তি ছিলেন

অনলাইন ডেস্ক: মিলেনিয়াম হিউম্যান রাইটস্ এন্ড জার্নালিস্ট ফাউন্ডেশন (এমজেএফ) জেলা ও মহানগর কমিটির যৌথ উদ্দেগ্যে সংস্থার অলংকারস্থ চট্টগ্রাম কার্যালয়ে ১৫ আগষ্ট বিকেলে বঙ্গবন্ধুর শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে চট্টগ্রাম জেলার চেয়ারম্যান মোঃ লোকমান আলীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্থার কেন্দ্রিয় চেয়ারম্যান সাংবাদিক মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন চৌধুরী,বিশেষ অতিথি ছিলেন আকবরশাহ্ থানা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক কাজী আলতাফ হোসেন। প্রধান অতিথি বলেন,বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ এক এবং অভিন্ন। বঙ্গবন্ধুর নির্মম হত্যাকান্ডে জাতি হিসেবে আমরা বিশ্বের কাছে খাটো হয়েছি। বঙ্গবন্ধু সাহসী ব্যক্তি ছিলেন এবং অংশীদারীত্বের গনতন্ত্রে বিশ্বাসী ছিলেন। বঙ্গবন্ধু ছাড়া স্বাধীন বাংলাদেশ অসম্ভব। উক্ত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন সংস্থার জেলার সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান সাংবাদিক শেখ জয়নাল আবেদীন, মোঃ নূরুল আনোয়ার দুলাল,মৃদুল মজুমদার,মহিলা বিষয়ক সচিব সবিতা বিশ্বাস,মিসেস মিলি চৌধুরী,আব্দুল গফুর,সুজন আচার্য্য,হাজ্বী নুরুল আলম,মহানগর চেয়ারম্যান এম.এ. নুরন্নবী চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান ইদ্রিস মোঃ নূরুল হুদা, মহাসচিব মোঃ তছলিম কাদের চৌধুরী, উসমান গনি,মাহমুদা বেগম,মরিয়ম,নারগীছ আক্তার,বুলু আক্তার, প্রমুখ। আলোচনা সভা শেষে বঙ্গবন্ধু সহ ১৫ আগষ্টে নিহত সকল শহীদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে মুনাজাত করা হয়।...

গৃহবধূর ৬ মৃত সন্তান

অনলাইন ডেস্ক: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একই দিনে ছয়টি মৃত সন্তানের জন্ম দিয়েছেন এক গৃহবধূ। বুধবার বিকেলে আশুগঞ্জ উপজেলার বেসরকারি ক্লিনিক নূর মেডিকেল সেন্টারে সন্তানগুলোর জন্ম দেন তিনি। এর মধ্যে চারটি ছেলে ও দুইটি মেয়ে। ওই গৃহবধূর নাম মাহিনূর আক্তার (২৮)। তিনি সরাইল উপজেলার দেউবাড়িয়া গ্রামের সৌদি আরব প্রবাসী আবুল কালামের স্ত্রী। তবে বর্তমানে মাহিনূরের শারীরিক অবস্থা মোটামুটি ভালো রয়েছে বলে জানিয়েছেন ক্লিনিকের চিকিৎসক শাহীন আরা। মাহনূরের স্বজনরা জানান, প্রায় চার বছর আগে মাহিনূরের বিয়ে হয় সৌদি আরব প্রবাসী আবুল কালামের সঙ্গে। বিয়ের পর কোন সন্তান না হওয়ায় পরিবারের লোকজন সন্তানের জন্য মাহিনূরকে বিভিন্ন কবিরাজি ওষুধ খাওয়ান। এ সময় মাহিনূর সন্তান ধারণে সক্ষম হন। বুধবার সকালে তাকে নূর মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। এসময় চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানান, গর্ভে চারটি সন্তান থাকতে পারে। চিকিৎসক তাদের বাড়ি ফিরে যেতে বলেন। বিকেলে বাড়ি ফেরার পথে নৌকায় উঠতে গেলে মাহিনূরের প্রসব বেদনা ওঠে। এ সময় তিনি নৌকাতেই একটি সন্তান প্রসব করেন। পরে তাকে দ্রুত আবার নূর মেডিকেলে সেন্টারে আনা হয়। সেখানে চিকিৎসকের সহায়তায় একে একে আরো পাঁচটি সন্তান প্রসব করেন মাহিনূর। কিন্তু বাচ্চাগুলো কিছু সময়ের মধ্যে মারা যায়। এ ব্যাপারে ওই ক্লিনিকের চিকিৎসক শাহীন আরা জানান, কোন প্রকার অস্ত্রোপচার ছাড়াই শিশুগুলো ভূমিষ্ট হয়। তিনি বলেন, গর্ভধারণে নানা কারণে মাতৃগর্ভে একাধিক ভ্রুণের জন্ম হতে পারে। কিন্তু অপরিণত সময়ে অপরিপক্ক ভাবে জন্ম নেওয়ায় বাচ্চাগুলোর শারীরিক গঠনে পুর্ণাঙ্গতা পায়নি। ফলে তারা মৃত অবস্থায় ভূমিষ্ট হয়েছে।...

মহেশখালির মাতারবাড়িতে আ-লীগ নেতাকে হাত-পা কেটে হত্যা

অনলাইন ডেস্ক: কক্সবাজারে জিয়াবুল হক নামে আওয়ামী লীগের এক নেতাকে সন্ত্রাসীরা কুপিয়ে হত্যা করেছে। এসময় সন্ত্রাসীরা কুপিয়ে তার ১টি হাত ও দুইটি পা বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। বুধবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে মহেশখালির মাতারবাড়ি বাজারে এঘটনা ঘটে। জিয়াবুল হক মহেশখালী উপজেলার মাতরবাড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সভাপতি ছিলেন। মহেশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, আশঙ্কাজনক অবস্থায় জিয়াবুলকে চট্টগ্রামে নেয়ার পথে রাত ১০টার দিকে তিনি মারা যান। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের ধরতে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে বলেও জানান ওসি। নিহত আওয়ামী লীগ নেতা জিয়াবুলের ছোট ভাই ও স্থানীয় ইউপি সদস্য সরওয়ার কামাল জানান, দীর্ঘদিন যাবৎ স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল জিয়াবুল হককে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিল। বিষয়টি মহেশখালী থানা ও মাতারবাড়ি পুলিশ ফাঁড়িকে কয়েক দফায় অবহিত করা হয়েছিল। ওই প্রভাবশালী সন্ত্রাসী গ্রুপটি প্রকাশ্য জনসম্মুখে তার ভাইকে কুপিয়ে হত্যা করে বলে অভিযোগ তার।...

সবজির দাম বেশি চড়া

অনলাইন ডেস্ক :বাজারে সবজির দাম বেশি চড়া। তার সঙ্গে বাড়তি ডিমের দামও। ফলে নিম্নবিত্ত আয়ের মানুষদের জীবিকা নির্বাহে হিমশিম খেতে হচ্ছে। মূলত দেশের বিভিন্ন স্থানে বন্যার প্রভাব পড়েছে রাজধানীর সবজি বাজারে। বড় বাজারের তুলনায় ছোট বাজারে দাম বেশি বেড়েছে। বিক্রেতারা বলছেন, যেসব এলাকায় সবজি চাষ হয়, সেসব এলাকায় বন্যার কারণে সবজি ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। তাই বাজারে সবজির দাম বাড়তি। ক্রেতারা বলছেন, বন্যার দোহাই দিয়ে সবজির দাম বাড়িয়ে তুলছে বিক্রেতারা। ফলে জীবন বাঁচাতে যতটুকু বাজার করা দরকার ততটুকুই করছেন বেশির ভাগ মানুষ। শুক্রবার রাজধানীর কাঁঠালবাগান, কারওয়ান বাজার ও হাতিরপুল বাজারে গিয়ে বর্ষার হরেক রকম সবজি দেখা যায়। এসব সবজির দাম গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিপ্রতি ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে। বিক্রেতারা বলছেন, বর্ষায় কাঁকরোল, ঝিঙে, চিচিঙ্গা, পটোল, ঢ্যাঁড়স, কচু মুখি, কচুর লতি, চালকুমড়া পাওয়া যাচ্ছে। কারওয়ান বাজারের খুচরা বাজার, হাতিরপুল ও কাঁঠালবাগান বাজারে ঝিঙা ও ধুন্দলের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা কেজি, আর পটল ২৫ থেকে ৩০ টাকা, ঢেঁড়স ও করলার কেজি ২৫ থেকে ৩০ টাকা, পেঁপে ২০ থেকে ২৫ টাকা, কাঁকরোল ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, বরবটি বিক্রি হচ্ছে ৩৫-৪০ টাকা, শসা ২৫ থেকে ৩০ টাকা, কচুর লতি ২০ থেকে ৪০ টাকা, কচুর ছড়া বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা, বেগুন ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়। এছাড়া মরিচের দাম কেজিতে বেড়েছে ১০ থেকে ১৫ টাকা। প্রতি কেজি প্রকার ভেদে ৮০ থেকে ৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সবজির দাম বাড়ার কারণ জানতে চাইলে কারওয়ান বাজারের এক সবজি বিক্রেতা বলেন, বাজারে মাল কম আসে, বন্যায় খেত ডুইবা গেছে। সরবরাহ বাড়লে দাম কমব। বাজার ঘুরে দেখা যায়, ডিমও বিক্রি হচ্ছে বাড়তি দামে। ডিম ভেদে প্রতি ডজনের দাম বেড়েছে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত। ব্রয়লার মুরগির ডিম প্রতি ডজন ৯৫ টাকায়, দেশি মুরগির ডিম ১৪০ টাকা এবং হাঁসের ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায়। মাছ ও মাংসের দাম বেশ চড়া। প্রতিকেজি মাংসে ২০ টাকা থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। আর মাছ ভেদে বেড়েছে ২০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত। এ বাজারে গরুর মাংস প্রতিকেজি ৫২০ টাকা, খাসির মাংস ৮০০ টাকা, মুরগি ব্রয়লার ১৬০ টাকা, লেয়ার ২৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতি কেজি রুই ২৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, পাঙাস ১৪০ থেকে ২০০ টাকা, তেলাপিয়া ১৮০ টাকা, চিংড়ি ৬০০ থেকে ১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।...

বিশ্ববিদ্যালয় খোলার নির্দেশ মন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক :আন্দোলনের ভয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাস বিরতি বা বন্ধ না রাখার নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। আবার উস্কানিতে যাতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে যুক্ত না হয় সেটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে (ভিসি) দায়িত্ব নিতে হবে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম। অন্যদিকে ভিসিরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আটক ২২ শিক্ষার্থীর মুক্তি দাবি করছেন। বলেছেন, তাদেরকে মুক্ত না করলে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক করা কঠিন হবে। তবে শিক্ষামন্ত্রী বিষয়টি তার এখতিয়ারের বাইরে বলে জানিয়েছেন। বুধবার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যদের সঙ্গে জরুরি মতবিনিময় সভা করেন শিক্ষামন্ত্রী। এ সময় দুই পক্ষে এই কথা হয়। মত বিনিময়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান আবদুল মান্নানের সভাপত্বিতে রাজধানীসহ দেশের ১০৩টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, বোর্ড অব ট্রাস্ট্রিজ চেয়ারম্যান, সদস্য, শিক্ষকসহ অনেকে মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন। তারা নিজ নিজ সমস্যা তুলে ধরেন। গত ২৯ জুলাই ঢাকার বিমানবন্দর সড়কে বাস চাপায় দুই কলেজ শিক্ষার্থী নিহতের পরদিন থেকে নিরাপদ সড়কের দাবিতে যে আন্দোলন হয় তাতে অংশ নেয় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরাই। তবে টানা ছয় দিনের আন্দোলন শেষে ৫ আগস্ট তারা উঠে গেলে এর পর দিন রাস্তায় নামে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা। এর মধ্যে রামপুরা এলাকায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরকার সমর্থকদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। আর পরদিন ওই এলাকায় প্রথমে ইস্টওয়েস্ট এবং পরে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় নর্থ সাউথ ইউনির্ভার্সিটির শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশ ও বহিরাগতদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। সেদিন আগস্ট তিনটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করে পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করে কর্তৃপক্ষ। তবে আটক হয় ২২ জন শিক্ষার্থী, যাদেরকে ৭ আগস্ট দুই দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়। শিক্ষা বলেন, ‘স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থীদের রাস্তায় দাড়িয়ে আন্দোলন যৌক্তিক ছিলো। আমরা তাদের এ দাবিকে সমর্থন করি। যৌক্তিকভাবে তারা ক্ষোপ প্রকাশ করেছেন, দাবি জানিয়েছেন, আন্দোলন করে গেছেন।’ ‘এতে করে আমরা অনেক অজানা কিছু জানতে পেরেছি। অনেকে ট্রাফিক আইন মেনে চলেন না, রাস্তায় ফিটনেস বিহীন গাড়ি চলানো হচ্ছে, ভিআইপিরা আইন অমান্য করছেন, অনেকে লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালাচ্ছেন। আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্রের যে সকল সমস্যা তা তারা চোখে আঙ্গুল দিয়ে আমাদের দেখিয়ে দিয়েছেন।’ ‘প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের ৯ দফা দাবি মেনে নিয়েছেন। বর্তমানে তা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। নতুন সড়ক আইন তৈরি করা হয়েছে। জাতীয় সংসদে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। দ্রুতই এটি বাস্তবায়ন করা হবে। তাই আর ছাত্রদের রাস্তায় থাকার কোন অবকাশ নেই।’ উপাচার্যদেরকে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরাতে রাজধানীর সকল প্রধানদের নিয়ে মতবিনিময় সভা করেছি। এরপর আর তারা রাস্তায় না নামলেও এখন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নামছেন। তৃতীয় পক্ষ এতে সুবিধা নিচ্ছে। তাই আন্দোলনের ভয়ে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রাখবেন না। এতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। শিক্ষার্থীদের মটিভেট করে তাদের ক্লাসে ফিরিয়ে নিতে হবে।...

জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা শুরু ১ নভেম্বর

অনলাইন ডেস্ক: জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষা শুরু হতে যাচ্ছে আগামী ১ নভেম্বর থেকে। আজ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্র থেকে এ তথ্য জানা গেছে। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক গণমাধ্যমকে জানান, জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা ১ নভেম্বর শুরু করার প্রস্তাব করা হয়েছে। চলবে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত। প্রথম দিন জেএসসিতে থাকবে বাংলা পরীক্ষা। তিনি বলেন, আগের মতোই সকাল ১০টা ও বিকাল ২টায় দুটি করে পরীক্ষা আয়োজন করা হবে। পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে। মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বিভাগের উপসচিব মো. আবদুল খালেক স্বাক্ষরিত সূচিতে দেখা গেছে, প্রথম দিন জেডিসি অনুষ্ঠিত হবে কোরআন মজিদ ও তাজবিদ বিষয়ের পরীক্ষা দিয়ে। ...

টাইগার -এ- দলের জয়

অনলাইন ডেস্ক: জাতীয় দলের হয়ে ক-দিন আগেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলেছেন সৌম্য সরকার। কিন্তু সেই ব্যর্থতার বৃত্তেই ছিলেন। তবে আয়ারল্যান্ড সফরের প্রথম আনঅফিসিয়াল টি-টোয়েন্টিতে তার ব্যাটে ভর করেই জয় পেল বাংলাদেশ এ দল। ৪ উইকেটের এ জয়ে সৌম্যর ব্যাট থেকে আসে ৫৭ রানে দুর্দান্ত এক ইনিংস। সঙ্গে নাজমুল হোসেন শান্ত ও তরুণ আফিফ হোসেনদের ব্যাটও কথা বলেছে। প্রথমে ব্যাট করা আইরিশ এ দল নির্ধারিত ২০ ওভারের শেষ বলে অল আউট হওয়া পর্যন্ত ১৫২ রান সংগ্রহ করে। জবাবে ১৮ ওভার শেষে ৬ উইকেট হারিয়ে এই জয় তুলে নেয় সফরকারী বাংলাদেশ। ১৫৩ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে শুরুটা অবশ্য টাইগার এ দলের ভালো হয়নি। ওপেনার জাকির হোসেন দলীয় শূন্য রানে বোল্ড হয়ে ফেরেন। তবে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ৬২ রানের পার্টনারশিপ গড়েন এ ম্যাচে নেতৃত্বে থাকা সৌম্য ও শান্ত। শান্ত ২৩ বলে ৩৮ করে ফিরে গেলেও হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন সৌম্য। ৪১ বলে ৫টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৫৭ করেন এই তারকা। শেষ দিকে ২১ বলে অপরাজিত ৩৫ করে দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যান আফিফ। ডাবলিনে এর আগে টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে সিমি সিংয়ের ৪১ ও ওপেনার স্টুয়ার্ট টমসনের ২৮ রানে ভর করে দেশড় রানের কোটা পার করেন স্বাগতিকরা। তবে বাংলাদেশি বোলারদের তোপে নিয়মিত উইকেট হারায় তারা। শরিফুল ইসলাম, তাইজুল ইসলাম ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ২টি করে উইকেট তুলে নেন। একটি করে উইকেট পান নায়েম হাসান ও আফিফ।...

সিপিএল ম্যাচে ২২৩ করেও হারল ব্রাভোর দল

অনলাইন ডেস্ক: ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (সিপিএল) ম্যাচে শনিবার ২২৩ রান করেও হেরেছে ডোয়াইন ব্রাভোর দল ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্স। আন্দ্রে রাসেলের দল জ্যামাইকা তালাওয়াশ ম্যাচটি জিতে নিয়েছে চার উইকেটে। আন্দ্রে রাসেল সেঞ্চুরি করেছেন। ৪০ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি। সিপিএলে এটি দ্রুততম সেঞ্চুরি। ইনিংস শেষে ৪৯ বলে ১২১ রান করে অপরাজিত থাকেন আন্দ্রে রাসেল। এই ম্যাচে হ্যাটট্রিকও করেন আন্দ্রে রাসেল। তিনটি উইকেট শিকার করেন তিনি। এদিন পোর্ট অব স্পেনে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ছয় উইকেটে ২২৩ রান সংগ্রহ করে ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্স। দলের পক্ষে ২৭ বলে ৪৬ রান করেন ক্রিস লিন। ৪২ বলে ৬১ রান করেন কলিন মুনরো। ২৭ বলে ৫৬ রান করেন ব্রেন্ডন ম্যাককলাম। ১৬ বলে ২৯ রান করেন ডোয়াইন ব্রাভো। জ্যামাইকা তালাওয়াশের পক্ষে অধিনায়ক আন্দ্রে রাসেল তিন ওভার বল করে ৩৮ রান দিয়ে তিনটি উইকেট শিকার করেন। এছাড়া ক্রিসমার সানতোকি ১টি, ইমাদ ওয়াসিম ১টি করে উইকেট শিকার করেন। পরে জ্যামাইকা তালাওয়াশ ব্যাট করতে নেমে ১৯.৩ ওভারে ছয় উইকেট হারিয়ে জয় তুলে নেয়। ২২৫ রান করে তারা। সিপিএলের ইতিহাসে এটি এক ইনিংসে সর্বোচ্চ স্কোর। জ্যামাইকা তালাওয়াশের পক্ষে আন্দ্রে রাসেল ৪৯ বলে ১২১ রান করে অপরাজিত থাকেন। এই রান করার পথে তিনি ছয়টি চার মারেন ও ১৩টি ছক্কা হাঁকান। অর্থাৎ, ১২১ রানের মধ্যে তার ১০২ রানই আসে বাউন্ডারি থেকে। এছাড়া হাফ সেঞ্চুরি করেন কেনার লুইস। ৩৫ বলে ৫১ রান করে আউট হন তিনি। দলীয় ৪১ রানে জ্যামাইকা তালাওয়াশের পঞ্চম উইকেটের পতন হয়। এরপর আন্দ্রে রাসেল ও কেনার লুইস ১৬১ রানের পার্টনারশিপ গড়েন। দলীয় ২০২ রানে কেনার লুইস আউট হয়ে যান। আন্দ্রে রাসেল ইনিংস শেষে অপরাজিত থাকেন।...

মুক্ত আশরাফুল

অনলাইন ডেস্ক: এখন তিনি ইংল্যান্ডে অনুশীলন করছেন। ইংল্যান্ডে কেনো এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে আশরাফুল বললেন, এখানে ২০১৯ বিশ্বকাপ। তাই ইংলিশ কন্ডিশনে নিজেকে তৈরি করে নিচ্ছেন! না, আশরাফুল এখনই জাতীয় দলে সুযোগ পেয়ে যাননি। তবে জাতীয় দলের জন্য বিবেচিত হতে আর তার কোনো বাধা নেই। অবশেষে আজ থেকে সব ধরনের ক্রিকেট খেলার জন্য মুক্ত হয়ে গেলেন মোহাম্মদ আশরাফুল। গত দুই বছর ধরে ঘরোয়া ক্রিকেট খেলতে পারলেও তার ফ্রাঞ্চাইজি ক্রিকেট খেলার ওপর এবং বিসিবির কোনো দলে বিবেচিত হওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা বলবত ছিল। আজ থেকে সেই নিষেধাজ্ঞা উঠে গেছে। এই দিনটায় পৌঁছাতে পেরে দারুণ খুশী বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক আশরাফুল। তিনি বলছেন, এখন বিপিএলসহ বিভিন্ন টুর্নামেন্টে পারফরম করে আবার জাতীয় দলে ফিরতে চান তিনি। ২০১৩ সালের জুন মাসে এর আগের বিপিএল আসরে ম্যাচ ও স্পট ফিক্সিংয়ে জড়িত থাকায় প্রথম নিষিদ্ধ করা হয় আশরাফুলকে। পাশাপাশি আইসিসির দুর্নীতি ও অপরাধ দমন ইউনিট (আকসু) ও বিসিবি এই অভিযোগ নিয়ে তদন্ত করে। ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে আকসুর পাওয়া তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে শুনানি শুরু করে বিসিবির বিশেষ ট্রাইব্যুনাল। ওই বছর জুন মাসে আশরাফুলকে ৮ বছরের জন্য সব ধরনের ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ করা হয়। এরপরের মাসে আশরাফুল তার নিষেধাজ্ঞার বিপক্ষে আপিল আবেদন করেন। সেই আপিলের শুনানি শেষে আশরাফুলের নিষেধাজ্ঞা কমিয়ে ৫ বছর করা হয়। এর মধ্যে প্রথম তিন বছর তিনি সব ধরনের ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ ছিলেন এবং পরের দুই বছর নিষিদ্ধ ছিলেন ফ্রাঞ্চাজি ক্রিকেট ও বিসিবির সব দল থেকে। অবশেষে গতকাল সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর আশরাফুল বলছিলেন, এই সময়টার জন্য গত পাঁচ বছর ধরে অপেক্ষা করেছি। এই দিনটা মাথায় রেখেই আমি পরিশ্রম করেছি। এখন আমার কোথাও খেলতে বাধা নেই। বিশেষ করে বিপিএলে খেলাটা আমার জন্য বড় একটা উপকারের ব্যাপার হবে। পাঁচ বছর আগে একটা অন্যায় করেছিলাম, অবশেষে সেই অন্যায়ের শাস্তি পুরো শেষ হলো। গত দুই বছরে আশরাফুল নিয়মিত ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ ও জাতীয় ক্রিকেট লিগ খেলেছেন। বিশেষ করে গত বছর ঢাকা লিগে ৫টি সেঞ্চুরি করে আবার নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছেন। আশরাফুল বলছিলেন, এই সময়ে তাকে যে সব মানুষ সমর্থন দিয়ে গেছেন, এ জন্য তিনি কৃতজ্ঞ,এই কাজ অন্য কেউ করলে সমাজ হয়তো তাকে পুরোপুরি ছুঁড়ে ফেলে দিত। আমি আগ বাড়িয়ে সব অন্যায় স্বীকার করার জন্য হোক, বা অন্য কোনো কারণে হোক, এই সময়টায় মানুষ আমাকে দারুণ সমর্থন দিয়েছে। আর পরিবারের কথা তো বলার দরকারই নেই। তারা সবসময় আমার পাশে ছিল। বন্ধুরা ছিল। এমনকি সাধারণ মানুষ আর মিডিয়ারও দারুণ সমর্থন পেয়েছি। লোকে বার বার জিজ্ঞেস করেছে, আশরাফুল কবে ফিরবে, আশরাফুলকে দেখতে চাই। এসব কথাবার্তা আমাকে টিকিয়ে রেখেছে। এই নিষেধাজ্ঞার সময়েও যে ট্রেনিং করতে পেরেছেন, তাকে উত্সাহ দেওয়া হয়েছে, এ জন্য আশরাফুল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কাছে বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন,ক্রিকেট বোর্ডকে আমি ধন্যবাদ দিতে চাই। তারা আমাকে দারুণ সমর্থন দিয়েছেন। যখন কোথাও খেলার অনুমতি ছিল না, তখন বিশেষ ব্যবস্থায় আমার ট্রেনিং চালু রাখার জন্য তারা অনুমতি দিয়েছেন। বোর্ডে আমি যখনই গেছি বা কোথাও যখনই বোর্ড সভাপতির সাথে দেখা হয়েছে, উনি উত্সাহ দিয়েছেন। বোর্ডের সিইও সুজন ভাই (নিজামউদ্দিন চৌধুরী) খুব সাহায্য করেছেন। সবাইকে এই সুযোগে ধন্যবাদ জানাই। আশরাফুল এখনই নিজেকে জাতীয় দলে কল্পনা করছেন না। তবে ভালো পারফরম্যান্স করে সেখানে আবার নিজের জায়গাটা করে নেওয়ার স্বপ্ন দেখছেন,আমার জন্য সুখবর হলো, এখন আমাকে বিবেচনা করা হবে। আমার এখন লক্ষ্য হলো জাতীয় ক্রিকেট লিগের আগে নিজেকে পুরোপুরি তৈরি করে ফেলা। এরপর বিপিএল-এ নিজের সেরা পারফরম্যান্সটা করা। এগুলো সব নিয়মিত করতে পারলে তখন জাতীয় দলের কথা ভাবা যাবে। শীর্ষনিউজ...

জম্মু-কাশ্মিরে প্রথম বাংলাদেশি গানের শুটিং

অনলাইন ডেস্ক: ভারতের জম্মু-কাশ্মির রাজ্যের লাদাখ অঞ্চলকে বলা হয় পৃথিবীর স্বর্গ। এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নজরকাড়া। বহু হিন্দি ও ভারতীয় বাংলা ছবির গানের শুটিং হয়েছে লাদাখের লোকেশনগুলোতে। সমুদ্রপৃষ্ট থেকে অনেক ওপরে এই লোকেশনগুলোর অবস্থান। সম্প্রতি সেখান থেকে ভয়ংকর সুন্দর অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিরেছেন হালের সবচেয়ে জনপ্রিয় গায়ক ও সুরকার ইমরান মাহমুদুল এবং মডেল তানজিন তিশা। ইমরান ও তিশা সেখানে গিয়েছিলেন আমার এ মন নামের একটি মিউজিক ভিডিওর শুটিং করতে। ১ থেকে ৩ আগস্ট তিনদিন শুটিং হয় সেখানে। এই প্রথম বাংলাদেশি কোনও মিউজিক ভিডিওর শুটিং হল জম্মু-কাশ্মিরের লাদাখ অঞ্চলে। গানটির কথা লিখেছেন রবিউল ইসলাম জীবন। সুর ও সঙ্গীত করেছেন ইমরান নিজেই। গানচিলের ব্যানারে এটির ভিডিও নির্মাণ করেছেন তানিম রহমান অংশু। কিন্তু কী ভয়ংকর অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিরলেন ইমরান ও মডেল তিশা। এ সম্পর্কে ইমরান জানালেন,লাদাখের লোকেশন দেখার মতো। চোখে লেগে আছে এখনও। চারদিকে পাহাড়। তবে কোনো সবুজ নেই। অক্সিজেনের প্রচুর সংকট ছিল। শুটিংয়ের সময় আমরা বাড়তি অক্সিজেন সিলিন্ডার সঙ্গে রেখেছি। এরপরেও অক্সিজেনের অভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ি। পরে তিন ঘণ্টা অক্সিজেন মাস্ক পরে স্বাভাবিক হই। তিশার অবস্থাও একই। সব মিলিয়ে ভয়ঙ্কর সুন্দর একটা অভিজ্ঞতা নিয়ে কাজ শেষ করেছি। তানজিন তিশা বলেন,কি বলবো! মনে হচ্ছিল শুটিংয়ের পুরোটা সময় একটা স্বপ্নের মধ্যে ছিলাম। অসাধারণ একটি কাজ হয়েছে। অক্সিজেনের অভাব, ননস্টপ জার্নি- সব ছাপিয়ে লোকেশনগুলোর সৌন্দর্যে ডুবে আছি এখনও। ইমরান আর আমার আগের দুটি ভিডিওর চেয়েও এটি বেশি প্রশংসিত হবে বলে আশা করি। এদিকে, শুটিং শেষে দেশে ফেরার পর নতুন মিউজিক ভিডিও নিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন জনপ্রিয় গায়ক ও সুরকার ইমরান। তিনি লেখেন,ভারতের জম্মু-কাশ্মীরের লাদাখের মনোরম দৃশ্যগুলো এতদিন বলিউড এবং টলিউডের বিভিন্ন চলচ্চিত্রে দেখেছি! এবার নিজেই সেখানে গিয়ে আমার এ মন গানটির ভিডিওর শুটিং করলাম। জীবনে অনেক মিউজিক ভিডিও করেছি, তবে এটির অভিজ্ঞতা সবচেয়ে রোমাঞ্চকর! ইমরান আরও লেখেন,এই প্রথম বাংলাদেশের কোনও গানের ভিডিও হলো জম্মু-কাশ্মিরের লাদাখে। ১, ২ ও ৩ আগস্ট তিন দিন ধরে শুটিং হয়েছে। অনেক পরিশ্রম করে ভিডিওটি নির্মাণ করেছেন তানিম রহমান অংশু ভাই। ঈদে গানচিল মিউজিকের ব্যানারে প্রকাশ পাবে ভিডিওটি। আমার বিশ্বাস সবাই কাজটি হৃদয় থেকে উপভোগ করবেন। সবার জন্য অনেক অনেক ভালোবাসা আমার এ মন থেকে। প্রসঙ্গত, মডেল তানজিন তিশা বিপরীতে গায়ক ইমরানের এটি তৃতীয় কাজ। এর আগে ইমরানের চলতে চলতে বলতে বলতেএবং শেষ সূচনা গান দুটির মিউজিক ভিডিওতে মডেল হয়েছিলেন তিশা। দুটি গানই সুপারহিট হয়েছিল। বিশেষ করে,চলতে চলতে বলতে বলতে গানটি এখনও গানপ্রেমীদের কণ্ঠে গুনগুন করে গাইতে শোনা যায়।...

ঈদের ছুটিতে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে

বর্ষা মৌসুম তারপরও ঈদের ছুটিতে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে ছুটে আসছেন পর্যটকরা। তাদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত কক্সবাজার। সৈকত শহরের ৪ শতাধিক হোটেল-মোটেল-গেষ্টহাউজ ও কটেজ কর্তৃপক্ষের প্রস্তুতিও শেষ। আর পর্যটকদের নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশও। রমজানে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার পর্যটক শূন্য থাকলেও ঈদের ছুটিতে ভ্রমণ পিপাসুদের ঢল নামে এই সৈকতে। বর্ষা মৌসুম হওয়ায় প্রথমে পর্যটকের সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল কক্সবাজারে। তবে সব আশঙ্কাকে উড়িয়ে দিয়ে এরই মধ্যে হোটেল-মোটেল-গেস্ট হাউস ও কটেজের প্রায় ৮০ শতাংশ কক্ষ বুকড হয়ে গেছে। আর ব্যবসায়ীরাও নতুন সাজে সাজিয়েছেন তাদের প্রতিষ্ঠান। হোটেল কর্তৃপক্ষও পর্যটকদের নানান সুযোগ-সুবিধা দেয়াসহ শেষ করছে যাবতীয় প্রস্তুতি। তারা আশা , প্রতি বছরেই মতো এবারও ঈদের ছুটিতে ভালো ব্যবসা হবে। বর্ষা মৌসুম তাই সাগর উত্তাল থাকবে। এক্ষেত্রে অনাকাঙ্কিত দুর্ঘটনা এড়াতে পর্যটকদের সমুদ্রে স্নান ও নিরাপত্তায় কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানালেন হোটেল ওনার্স এসোসিয়েশনের এ নেতা। কক্সবাজার হোটেল ওনার্স এসোসিয়েশনের মুখপাত্র মো. সাখাওয়াত হোসাইন জানান, 'সমুদ্র উত্তাল থাকবে। এখানে লাইফগার্ড ও পুলিশ ট্যুরিস্টদের তৎপরতাটা বৃদ্ধি করলে আমার মনে হয়, যারা কক্সবাজারে আসবেন তারা নিবিঘ্নে এখান থেকে ফিরতে পারবেন।' আর ট্যুরিস্ট পুলিশের এ কর্মকর্তা জানালেন, ঈদের ছুটিতে পর্যটকরা যাতে স্বাচ্ছন্দ্যে কক্সবাজার ভ্রমণ করতে পারে সেজন্য সব ধরণের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।...

শংখ নদীতে ডুবে ২ পর্যটকের মৃত্যু:বান্দরবানে

বান্দরবানে বেড়াতে এসে গোসল করতে নেমে শংখ নদীতে ডুবে দুই পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার দুপুর ২টায় রুমা বাজার সংলগ্ন বড়ুয়া পাড়া ঘাটে এ ঘটনা ঘটে। রুমা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সামসুল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, পানিতে ডুবে মারা যাওয়া শান্তনু সরকার (২৬) এবং জুনায়েদ আহসান জুয়েলের (২৪) মরদেহ উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়েছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, শান্তনু সরকার ঢাকার ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সিএসই বিভাগের প্রভাষক এবং জুনায়েদ আহসান জুয়েল ঢাকা টেক্সটাইল ইউনিভার্সিটির ছাত্র। অন্য আরো দুই বন্ধুসহ তারা চার বন্ধু গত বৃহষ্পতিবার বান্দরবানের রুমা উপজেলায় বগালেক পর্যটন কেন্দ্রে থাকেন। শনিবার সেখান থেকে রুমা উপজেলা সদরে পৌঁছে ওই ৪ বন্ধু শংখ নদীর বড়ুয়া পাড়া ঘাটে নামে। এক পর্যায়ে তারা ডুবতে শুরু করলে দুইজন সাঁতরে তীরে আসতে পারলেও শান্তনুকে রক্ষা করতে গিয়ে জুনায়েদও পানিতে তলিয়ে যায়।...

বঙ্গবন্ধুর স্বাধীন বাংলাদেশ আজ তার খুনিদের পদচারণামুক্ত

মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন চৌধুরী :শোকাবহ ১৫ আগস্ট। জাতীয় শোক দিবস। বাঙালির অশ্রু ঝরার দিন। ১৯৭৫ সালের এই দিন বাঙালি জাতির ইতিহাসে কলংক লেপন করেছিল সেনাবাহিনীর কিছু বিপথগামী উচ্ছৃঙ্খল সদস্য। ঘাতকের নির্মম বুলেটে সেদিন ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর সড়কের ঐতিহাসিক ভবনে শাহাদতবরণ করেছিলেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্থপতি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ১৫ আগস্ট কালরাতে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছিলেন বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী মহীয়সী নারী বেগম শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব, বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠপুত্র শেখ কামাল, শেখ জামাল ও তাদের স্ত্রীদ্বয় যথাক্রমে সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল, বঙ্গবন্ধুর শিশুপুত্র শেখ রাসেল, বঙ্গবন্ধুর ভাই শেখ নাসেরসহ বঙ্গবন্ধু পরিবারের ২৮ সদস্য। একই দিন ঘাতকের নির্মম বুলেটে প্রাণ হারান বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলুল হক মনি, তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী বেগম আরজু মনি, বঙ্গবন্ধুর ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাত, শহীদ সেরনিয়াবাত, শিশু সুকান্ত বাবু, আরিফ, রিন্টু প্রমুখ। ঘাতকরা সেদিন বঙ্গবন্ধুর ৩২ নম্বর বাড়িতে আক্রমণ করে বঙ্গবন্ধু পরিবারের সব সদস্যকেই হত্যা করে। কিন্তু দেশে না থাকায় প্রাণে বেঁচে যান বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং কনিষ্ঠ কন্যা শেখ রেহানা। ঘাতকরা সেদিন বঙ্গবন্ধু এবং তার পরিবারের সদস্যদেরই কেবল হত্যা করেনি, বাঙালি জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্রবিন্দুকে নস্যাৎ করতে চেয়েছিল। আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন হওয়ার পর রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রথম শোক দিবস পালনের সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু এরপর ২০০১ সালে বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট ক্ষমতায় এসে সে সিদ্ধান্ত বাতিল করে। তবে ড. ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় এলে আবারও ১৫ আগস্টকে জাতীয় শোক দিবস রাষ্ট্রীয়ভাবে পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। বাঙালি জাতির ইতিহাসে অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শুধু এদেশের স্বাধীনতার স্থপতিই ছিলেন না, ভাষা আন্দোলন, ৬ দফা আন্দোলনসহ প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামেই তার ভূমিকা ছিল ঐতিহাসিক। এই মহানায়কের জন্ম না হলে বিশ্বের বুকে বাংলাদেশ স্বাধীনভাবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারত না। যারা এ মহানায়ককে হত্যা করেছিল। ২০১১ সালের জানুয়ারিতে ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে বঙ্গবন্ধুর পাঁচ খুনির ফাঁসি কার্যকর হয় । বঙ্গবন্ধুর স্বাধীন বাংলাদেশ আজ তার খুনিদের পদচারণামুক্ত। জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে সারা দেশের মন্দির, গির্জা ও অন্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে প্রার্থনার আয়োজন করা হবে। এ উপলক্ষে বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশন বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার এবং সংবাদপত্রগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ এবং বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশনগুলো বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করবে। জেলা ও উপজেলা প্রশাসন যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালনের জন্য আলোচনা সভা এবং মিলাদ মাহফিলসহ জাতীয় কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিজ নিজ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠন ধানমণ্ডির বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, মিলাদ মাহফিল ও আলোচনা সভার আয়োজন করবে। জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে প্রতি বছরের মতো এবারও সাংবাদিক সমাজ জাতীয় প্রেস ক্লাবের সম্মেলন কক্ষে সর্বধর্ম প্রার্থনা সভার আয়োজন করবে। এছাড়াও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করবে। লেখক, মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন চৌধুরী ,সম্পাদক, নিউজ একাত্তর ডট কম ও দৈনিক সংবাদের কাগজ । ...

সজীব ওয়াজেদ জয়ের ৪৮তম জন্মদিন

অনলাইন ডেস্ক :বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দৌহিত্র ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে এবং তার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের ৪৮তম জন্মদিন আজ শুক্রবার (২৭ জুলাই)। মুক্তিযুদ্ধের সময় অবরুদ্ধ ঢাকায় ১৯৭১ সালের আজকের দিনে পরমাণু বিজ্ঞানী ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া ও শেখ হাসিনা দম্পতির প্রথম সন্তান জয়ের জন্ম হয়। দেশ স্বাধীনের পর তার নাম রাখেন নানা শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নিহত হওয়ার সময় মা ও বাবার সঙ্গে জার্মানিতে ছিলেন জয়। পরে মায়ের সঙ্গে রাজনৈতিক আশ্রয়ে ভারত চলে যান। তার শৈশব ও কৈশোর কাটে ভারতে। সেখানকার নৈনিতালের সেন্ট জোসেফ কলেজে লেখাপড়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস অ্যাট আর্লিংটন থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে স্নাতক করেন তিনি। পরে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লোক প্রশাসনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ এর ধারণাটি জয়ের উদ্যোগেই যুক্ত হয়। দেশের মানুষ এ ধারণা ব্যাপকভাবে গ্রহণ করেছিল, যা ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনার ক্ষেত্রে বড় ধরনের ভূমিকা রাখে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারেও অংশ নিয়েছেন তিনি। তার আগে ২০১০ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি সজীব ওয়াজেদ জয় রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্য পদ গ্রহণ করেন। বর্তমানে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করছেন। ২০০২ সালের ২৬ অক্টোবর ক্রিস্টিন ওভারমায়ারকে বিয়ে করেন সজীব ওয়াজেদ জয়। তাদের একটি মেয়ে আছেন। সজীব ওয়াজেদ জয়ের জন্মদিন উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে ঘরোয়া পরিবেশে কেক কাটা হবে বলে জানা গেছে। এ অনুষ্ঠানে মা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে জয়ও উপস্থিত থাকবেন।...

ওয়ান-ইলেভেনের ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছি দেশে: সেতুমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, দেশে এখন ওয়ান-ইলেভেনের ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছি। ওয়ান-ইলেভেনে যারা দেশকে ডিপলিটিসাইজ (বিরাজনীতিকরণ) করতে চেয়েছিল, তাদের সহযোগী ছিল মিডিয়ার একটি অংশ। যারা (মিডিয়ার ওই অংশ) উসকানি দিয়ে (প্রধানমন্ত্রী) শেখ হাসিনার সরকারকে হটানোর চক্রান্ত করছে। বৃহস্পতিবার (১৬ অাগস্ট) দুপুরে ইডেন মহিলা কলেজ মিলনায়তনে এক অালোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। বঙ্গবন্ধুর শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ইডেন মহিলা কলেজ শাখা ছাত্রলীগ আয়োজিত এ অালোচনা সভায় মন্ত্রী বলেন, সারা বাংলা যখন শোকে, তখন ভুয়া জন্মদিবস পালনের মাধ্যমে পাপের নোংরা দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বিএনপি। তারাই অগণতান্ত্রিকভাবে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে একটি বৈধ সরকারকে হটানোর চক্রান্ত করছে। এদেরকে চিনে রাখতে হবে। তাদের সম্পর্কে জানতে হবে। বঙ্গবন্ধু হত্যাকে ইতিহাসের বর্বরতম রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড উল্লেখ করে কাদের বলেন, যে হত্যাকাণ্ডে বেগম মুজিব, শিশু রাসেল থেকে শুরু করে অন্তঃস্বত্তা নারী- কেউ রেহায় পায়নি। ইডেন মহিলা কলেজ শাখা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক তাসলিমা অাক্তারের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন কলেজের অধ্যক্ষ শামসুন নাহার, আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক শামসুন নাহার চাঁপা, আওয়ামী লীগের সদস্য মেরিনা জাহান, পারভীন জামান কল্পনা, মারুফা অাক্তার পপি প্রমুখ।...

ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত খালেদা জিয়া: রিজভী

অনলাইন ডেস্ক: অবৈধ সরকারের অন্যায় আর জুলুমের শিকার হয়ে খালেদা জিয়া ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত অভিযোগ করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, তাকে সব অধিকার থেকে দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছে। এমনকি তাকে সুচিকিৎসাও দেওয়া হচ্ছে না। বাংলাদেশ এখন জুলুমের গ্যাসচেম্বারে পরিণত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টায় নয়াপল্টনের দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন। রুহুল কবির রিজভী বলেন, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে সাজানো মামলাগুলো রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, নিরাপদ সড়কের দাবিতে চলমান আন্দোলনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উস্কানি ও সহিংসতার মিথ্যা অভিযোগে বিভিন্ন থানায় ৫১টি মামলায় প্রায় শ’খানেক শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছে। হাজার হাজার শিক্ষার্থীকে ওই মামলাগুলোতে আসামি করা হয়েছে। তাদের তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করা হচ্ছে। এরপর তাদের পাঠানো হচ্ছে জেলখানায়। ওই সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের বিনা চিকিৎসায় মরণাপন্ন অবস্থা। কিন্তু বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালের পরিচালক কোনক্রমেই শিমুল বিশ্বাসকে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করছেন না। নিম্ন আদালত ও উচ্চ আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও বিএসএমএমইউ-এর কর্তৃপক্ষ নির্বিকার। সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, বিএনপি নেতা মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, এবিএম মোশারফ হোসেন, আব্দুস সালাম আজাদ, মুনির হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।...

মাদক সভ্য ও সুন্দরের পথে বাধা

অনলাইন ডেস্ক :ইসলাম সুন্দরের ধর্ম। শাশত সৌন্দর্যের পবিত্র এক সামিয়ানার নাম ইসলাম। ইসলামের আরশের ছায়ায় অপবিত্রতা নেই। মাদকতা নেই। ধোঁকা নেই। মাদক সভ্য ও সুন্দরের পথে বাধা। আলোকিত জীবন চলাচলে বিঘ সৃষ্টি করে। মাদকের কারণে জীবন সংকটে পড়ে। ইসলামে মাদককে একদিনে নিষেধ করা হয়নি। ধীরে ধীরে নিষেধ করা হয়েছে। ইসলামী আইন খুব সূক্ষ্মভাবে প্রতিরোধ করেছে মাদককে। মদিনায় ইসলামের প্রথম যুগে মদ সম্পর্কে কোরআনুল কারিমে প্রথমে যে আয়াত নাজিল হয়েছিল, তাতে বৈধতার যৎসামান্য আভাস ছিল। প্রথমে হুট করে এক দফায় নিষেধ করে দিলে মানুষের জন্য পালন করা কষ্টকর ও অনেকে অবজ্ঞা করত। কারণ মাদক তাদের রক্ত, শিরায়, ধমনিতে মিশে গেছে। এ জন্য প্রথমে বৈধতার কিঞ্চিৎ আভাস দিয়ে বলে দেওয়া হয়েছে বোধ সম্পন্ন ব্যক্তির জন্য নিদর্শনের কথা। এখানে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, জ্ঞানীরা মাদক পরিত্যাগ করবে। শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ কোরআনে পঠিত হয়েছে, খেজুর বৃক্ষের ফল ও আঙুর থেকে তোমরা মাদক ও উত্তম খাদ্য সংগ্রহ করে থাক, তবে অবশ্যই বোধশক্তিসম্পন্ন সম্প্রদায়ের জন্য রয়েছে নিদর্শন। (সূরা নাহল : ৬৭)। তখনও মদ অবৈধ করা হয়নি। যার ফলে অনেক মুসলমান সাহাবি আগের মতো মদ পানে অভ্যস্ত ছিল। সর্ব যুগেই মদ পান মানুষের জ্ঞান চিন্তা শক্তিকে গ্রাস করেছে। বুদ্ধি বিনষ্ট করেছে। আকল বিকল করেছে। তখনকার সময়ে হযরত ওমর, মুয়ায ইবনে জাবালসহ কিছু সাহাবি রাসুল (সা.) এর কাছে এই মর্মে আরজ করলেন যে, হে আল্লাহর রাসুল! মাদকের ব্যাপারে আমাদের ফতোয়া দিন। এতে আকল নষ্ট হয় এবং মাল ধ্বংস হয়। মুসলমানের চেতনার বারান্দায় যখন মদের মন্দ বিষয় উঁকি দিল, তারা যখন স্বেচ্ছায় স্বীকার করল মদের কারণে তাদের চিন্তাশক্তি লোপ পায়, তখনই মহান প্রভু নাজিল করেন মদ পানে উপকারের তুলনায় মদের মন্দ বিষয়। কোরআনে ঘোষণা হয়েছে, ‘লোকে আপনাকে মদ ও জুয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। বলুন, উভয়ের মধ্যে মহাপাপ এবং মানুষের উপকার আছে। কিন্তু তাদের পাপ উপকার অপেক্ষা অধিক। (সূরা বাকারা : ২১৯)। এই আয়াত নাজিল হলে মানব মাঝে প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। কেউ চিরতরে মদ পান ছেড়ে দেন। কেউ আগের অভ্যাসে চালিয়ে নেয় জীবনকে। এভাবে কিছুদিন চলতে থাকে। এ সময় আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রা.) বাড়ির এক অনুষ্ঠানে সাহাবিদের দাওয়াত করেন। খাবার শেষে ব্যবস্থা করেন মদের। জমে যায় আরবীয় ঐতিহ্যের মদ আসর। ইচ্ছামতো পান করেন অনেকে। তৃপ্তির ঢেঁকুর গিলেন। সবার মধ্যে এক উন্মাদনা। মদের ঘোরে তারা নামাজে দাঁড়ায়। তখন তাদের কোনো একজন নামাজে পাঠ করে ফেলেন, কুল ইয়া আইয়ুহাল কাফিরুন, আবুদু মা তাবুদুন। অর্থাৎ লাঅক্ষরটি বাদ দিয়ে পড়েন। নেশার ঘোরে নামাজে মারাত্মক ভুল করে ফেলে। অর্থে ভুল বিরাট বড়। তখনই আল্লাহ নাজিল করেন, হে মোমিনরা! মদপানোত্তর মাতাল অবস্থায় তোমরা নামাজের নিকটবর্তী হবে না। যতক্ষণ তোমরা যা বল তা বুঝতে পার।(সূরা নিসা : ৪৩)। ওই আয়াত নাজিল হলে তুলনামূলক মদপায়ীর সংখ্যা হ্রাস পায়। বেশিরভাগ সাহাবি মদপান ছেড়ে দেন। একদিন ওসমান (রা.) তার বাসায় খাবারের দাওয়াতে আয়োজন করেন। খানা শেষে তাদের রীতি অনুযায়ী মদ পানে উন্মাদ হয়ে ওঠেন অনেকে। উন্মাদনায় সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.) আনসারদের দোষারোপ করে কবিতা আবৃত্তি করেন। এতে আনসারী এক যুবক রাগ করে তার মাথায় ছুড়ে মারেন উটের গাদেশের একটি হাড়। এতে তিনি গুরুতরভাবে জখম হন। পরে নবীজির কাছে অভিযোগ দায়ের করলে নবীজি আল্লাহর কাছে মোনাজাতে আঁখি ভেজান। তখন আল্লাহ নাজিল করেন, হে মোমিনরা! মদ, জুয়া, মূর্তি পূজার বেদি ও ভাগ্য নির্ণয়ক সব ঘৃণ্য বস্তু, শয়তানের কাজ। সুতরাং তোমরা তা বর্জন করো। তাহলে তোমরা সফলকাম হতে পারবে। (সূরা মায়েদা : ৯০)। এই আয়াত নাজিল হলে রাসুল (সা.) এর সব সাহাবি মদ পান ছেড়ে দেয়। এমনকি মদের পাত্র পর্যন্ত ভেঙে আঁস্তাকুড়ে নিক্ষেপ করে। তাদের হৃদয়ের উঠান থেকে চিরতের মুছে যায় মদের নাম। নেশার জগৎ। আল্লাহর প্রতি বিশ^াস, রাসুল (সা.) এর প্রতি ভালোবাসর সঙ্গে কখনও মদ থাকতে পারে না। আল্লাহ ও নবীর প্রেম আর মদ; সম্পূর্ণ দুই মেরুর। মানব হৃদয় থেকে মদের প্রভাব ছিন্ন করার জন্য ইসলাম যে দিকদর্শন দিয়েছে, হৃদয়ের উর্বর জমিনে ঈমান নামক যে মধুর সজীব ফসল ফলন করেছে এমন ফসল ফলাতে পারলে মানব মাঝে মদের কোনো গন্ধ থাকবে না। মানব জনম হবে আলোকিত। আলোড়িত। সুন্দরের মিছিলে দেশ হবে তারাভরা আকাশ। মাদকসেবীর জন্য নির্ধারণ করা যেতে পারে শাস্তির বিধান। ইসলামী আইনে মাদকসেবন ফৌজদারি অপরাধরূপে গণ্য। মাদকসেবীকে ইসলামী আইন অনুযায়ী শাস্তি দেওয়া যেতে পারে। কোরআন মজিদে এর কোনো শাস্তির উল্লেখ নেই। কিন্তু ফকিহবিদরা এ ব্যাপারে একমত যে, মদ্যপায়ীর শাস্তি হচ্ছে দোররা। দোররা কতটা মারতে হবে বা কী পরিমাণ, এতে ইমামদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম মালেক (রহ.) এর মতে, মদ্যপায়ীর শাস্তি হচ্ছে আশি দোররা। তারা তাদের মতের স্বপক্ষে ওমর ফারুক (রা.) সম্পর্কে বর্ণিত হাদিস দারা দলিল পেশ করেন। মদ্যপানের হালকাতম শাস্তি হচ্ছে আশি দোররা।(মুসলিম : ১৭০৬)। ইমাম শাফি (রহ.) এর মতে মদ্যপানের শাস্তি হচ্ছে চল্লিশ দোররা। তারা দলিল দেন আনাস বিন মালেক (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস দ্বারা। আনাস (রা.) বলেন, নবী করিম (সা.) মদ্যপানের শাস্তি হিসেবে জুতো বা বেত দিয়ে চল্লিশটি বেত্রাঘাত করতেন। (বোখারি : ৬৩৯১)। আমাদের উচিত, অনাগত প্রজন্মকে সুন্দর পৃথিবী উপহার দিয়ে যাওয়া। নিরাপদ শহর তাদের হাতে তুলে দিয়ে বিদায় নেওয়া। কিন্তু আমরা যদি মরে যাওয়ার সময় পরবর্তী প্রজন্মের কাছে নিরাপদ পৃথিবী উপহার দিতে না পারি, তাহলে পৃথিবী সভ্যতা হারিয়ে ইতিহাস স্বীকৃত এমন একটা অন্ধকার জগতে আবার চলে যাবে। আমাদের জীবন, আমাদের পৃথিবী সুস্থ নিরাপদ ও আলোকিত রাখতে হলে মাদককে না বলতে হবে। জীবন এবং পৃথিবীর ডায়েরি থেকে মুছে দিতে হবে ধ্বংসাত্মক মাদকের নাম। জীবনকে নিষিদ্ধ আঁধারে কলঙ্কিত করার আগেই জালাতে হবে আলোর মশাল। পবিত্রতার ঘ্রাণ ছড়াতে হবে পৃথিবীর পাড়া মহল্লায়। এ ঘ্রাণ গায়ে মেখে সবাইকে নিয়ে যেতে হবে আলোর মিছিলে। সুন্দরের এ মানুষেরা পৃথিবীর মাজারে ফেরি করে বেড়াবে মহাসত্যের গান। সভ্যতার প্রদীপ্ত আলো।...

জেনে নিন কেন হিন্দু বিয়েতে সাত পাকে ঘোরা হয় ?

বিয়ে মানে দুটো মনের মিলন, দুটো পরিবারের মিলন। বিয়েতে অনেক নিয়ম কানুন মানা হয়। এক এক ধর্মের এক এক নিয়ম। হিন্দু মতে বিয়ে মানেই, শুভদৃষ্টি, সাত পাকে ঘোরা, খই পোড়ানো, সিঁদুর দান। তবে এই সমস্ত রীতি কিন্তু শুধুই ধর্মীয় কারণে নয়। এর পিছনে আরও অনেক কারণ রয়েছে। হিন্দু মতে বিয়েতে আমরা দেখতে পাই, আগুনের কুন্ডলীর চারপাশে বর-বউকে ঘুরতে। একে সাত পাকে বাঁধা পড়া বলা হয়। বলা হয়, এর মাধ্যমে অগ্নিদেবতাকে বিয়েতে সাক্ষী হিসেবে রাখা হয়। শুধু আগুনের চারপাশে ঘোরাই নয়, এই সময়ে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতিও দিতে হয় একে অপরকে। প্রথম প্রতিশ্রুতি- প্রথমে বর তাঁর বউ এবং তাঁর ভাবী সন্তানদের যত্ন নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।বিনিময়ে কনেও প্রতিশ্রুতি দেন যে তিনি তাঁর স্বামী এবং তাঁর পরিবারের যত্ন নেবেন। দ্বিতীয় প্রতিশ্রুতি- এবার বর প্রতিশ্রুতি দেন যে তিনি তাঁর স্ত্রীকে সবরকম পরিস্থিতি থেকে রক্ষা করবেন।বিনিময়ে কনেও প্রতিশ্রুতি দেন যে তিনি স্বামীর সবরকম যন্ত্রণায় পাশে থাকবেন। তৃতীয় প্রতিশ্রতি- এবার বর প্রতিশ্রুতি দেন যে তিনি তাঁর পরিবারের জন্য রোজগার করবেন এবং তাঁদের দেখভাল করবেন।একই প্রতিশ্রুতি এবার কনেও করেন। চতুর্থ প্রতিশ্রুতি- স্ত্রীর কাছে তাঁর পরিবারের সমস্ত দায়িত্ব তুলে দেওয়া এবং একইসঙ্গে স্ত্রীর সমস্ত মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন বর।স্ত্রী তাঁর সমস্ত দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করার প্রতিশ্রুতু দেন। পঞ্চম প্রতিশ্রুতি- যে কোনও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে স্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করার প্রতিশ্রুতি দেন বর।স্বামীকে সমর্থন করার প্রতিশ্রুতি দেন স্ত্রী। ষষ্ট প্রতিশ্রুতি- স্ত্রীর প্রতি সত্য থাকার প্রতিশ্রুতি দেন স্বামী।স্ত্রীও স্বামীর প্রতি সত্য থাকার প্রতিশ্রুতি দেন। সপ্তম প্রতিশ্রুতি- শুধু স্বামী হিসেবেই নয়, বন্ধু হিসেবেও সারাজীবন স্ত্রীর সঙ্গে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন বর।বিনিময়ে স্ত্রীও স্বামীর সঙ্গে জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।বাংলা রিপোর্ট...

জয় বাংলা এবং আওয়ামী লীগ

সিরাজুল আলম খান :জয় বাংলা এমন একটি স্লোগান যা বাংলাদেশের সশস্ত্র যুদ্ধের সময় জনগণকে তাঁদের স্বাধীনতার লক্ষ্যে প্রবল উদ্দীপক ও তেজোদীপ্ত করেছিলো। এর আগে বাঙালি আর কখনো এতো তীব্র, সংহত ও তাৎপর্যপূর্ণ স্লোগান দেয়নি, যার একটি পদেই প্রকাশ পেয়েছে রাজনীতি, দেশ, দেশপ্রেম, সংস্কৃতি, ভাষার সৌন্দর্য ও জাতীয় আবেগ। জয় বাংলা স্লোগান ছিলো সশস্ত্র যুদ্ধকালীন সময়ে বাঙালির প্রেরণার উৎস। যুদ্ধে সফল অপারেশন শেষে কিংবা যুদ্ধ জয়ের পর অবধারিতভাবে স্বাধীনতা সংগ্রামীরা চিৎকার করে জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে চারপাশের জনগণকে বিজয়ের বার্তা পৌঁছে দিতো। কখন, কীভাবে কিংবা কী বিশেষ প্রয়োজনে এ জয় বাংলাস্লোগানটির উৎপত্তি হয়েছিলো, তার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস তুলে ধরা হলো- সোমবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৬৯। সেদিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের একটি সভা ছিলো। মধুর ক্যান্টিনের সে সভায় ১৭ মার্চ শিক্ষা দিবস যৌথভাবে পালনের জন্য কর্মসূচি প্রণয়ন নিয়ে প্রাসঙ্গিক আলোচনা করছিলেন। সেদিন, সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদর আহূত সভায় আলোচনার এক পর্যায়ে তৎকালীন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে (তৎকালীন জিন্নাহ হল, যা বর্তমানে সূর্যসেন হল) প্রথম বর্ষের ছাত্র ও ছাত্রলীগ নেতা আফতাব উদ্দিন আহমেদ এবং দর্শন বিভাগে (ইকবাল হল, যা বর্তমানে সার্জেন্ট জহুরুল হক হল) ছাত্র ও ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক চিশতি শাহ হেলালুর রহমান (৭১ সালে শহীদ) জয় বাংলা স্লোগানটি উচ্চারণ করেন। সভা চলাকালীন সময়ে অনেকটা আকস্মিকভাবেই সকলকে চমকে দিয়ে চিৎকার করে জয় বাংলা স্লোগান দেন ছাত্রলীগ নেতা আফতাব উদ্দিন আহমেদ, পরক্ষণেই সেই স্লোগানের প্রত্যুত্তর দেন তৎকালীন ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক চিশতি শাহ হেলালুর রহমান। সঙ্গে সঙ্গেই আরো সাত-আটজন কর্মী প্রতিধ্বনি দিলো, জয় বাংলা। সেদিনের সেই সভায় আফতাব বেশ কয়েকবার জয় বাংলা স্লোগানটি দেন এবং শেষের দিকে উপস্থিত সংখ্যাগরিষ্ঠ কর্মীরাও এর প্রত্যুত্তর দেন। এরপর এভাবেই কিছুক্ষণ ওই স্লোগান চললো। বলা হয়ে থাকে সেটাই এ বাংলার বুকে জয় বাংলা স্লোগানের সর্বপ্রথম উচ্চারণ। আর এ দুই ছাত্রনেতাই ছিলেন নিউক্লিয়াস বা স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ-এর সদস্য। যদিও তার বেশ আগেই ১৯৬২ সালে গঠিত গোপন সংগঠন নিউক্লিয়াসর নেতৃবৃন্দ এবং ছাত্রলীগকর্মীরা যেকোনো আন্দোলনে স্বকীয়তা আর স্বাধীনতা প্রকাশ করার জন্য এবং আত্মপ্রত্যয় সৃষ্টির লক্ষ্যে জয় বাংলাকে প্রতীকী স্লোগান হিসেবে উচ্চারণ করতেন। এছাড়াও স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদতখন হাতে লেখা তিন পাতার একটি পত্রিকায় কয়েকটি সংখ্যা প্রকাশ করে যার নাম ছিলো জয় বাংলা। রবিবার, ১১/১৮ জানুয়ারি (তবে নিশ্চিতভাবে ১৮ জানুয়ারি-ই হবে), ১৯৭০। সেদিন, ঢাকা শহরের পল্টনে আওয়ামী লীগের জনসভায় সিরাজুল আলম খান সর্বপ্রথম জয় বাংলা স্লোগানটি উচ্চারণ করেছিলেন। স্লোগানটি ছিলো বাংলা শব্দ। জয়+বাংলা= জয় বাংলা অর্থাৎ বাংলাদেশ ও বাংলা ভাষার জয়। বাংলার জয়ের কথা বলা হচ্ছে, তাই এ স্লোগান সকলের ভালো লেগেছিলো। সকলেই জয় বাংলা স্লোগানকে গভীর আন্তরিকতার সঙ্গে গ্রহণ করেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানেরও এ স্লোগান বেশ মনে ধরে। এরপর ৭০-এর ৭ জুন ঢাকার রেসকোর্স ময়দানের বিশাল এক জনসভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার ভাষণে প্রথম যুক্ত করেন এ স্লোগানটি এবং উচ্চারণ করেন জয় বাংলা। আমাদের অস্তিত্বে জয় বাংলা শব্দের / স্লোগানের/ ধ্বনির ব্যবহার ও কার্যকারিতা আরো ব্যাপকভাবে বিস্তৃত। জয় বাংলা স্লোগানের উৎপত্তি এবং জাতীয় স্লোগানে পরিণত হবার রয়েছে এক ইতিহাস। সংক্ষেপে তা হলো- নিউক্লিয়াসর পক্ষ থেকে বিভিন্ন স্লোগান নির্ধারণের জন্য তিনটি সেলকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিলো। এর মধ্যে একটি সেল জিয়ে সিন্ধ বা জিও সিন্ধ (জয় সিন্ধু)-এর মতো করে জয় বাংলা শব্দটি কাজে লাগানো যায় কি না সিরাজুল আলম খান এর কাছে উপস্থাপন করা হয়। এ সেলটির মূল দায়িত্বে ছিলেন তৎকালীন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আফতাব উদ্দীন আহমেদ (পরবর্তীতে ড. আফতাব আহমেদ)। সুবিধা মতো সময়ে জয় বাংলা স্লোগানের বিষয়টি নিউক্লিয়াস র বিবেচনায় আসে। নিউক্লিয়াসর সদস্যদের প্রত্যেকেরই ভেটো (Veto) দেয়ার সুযোগ ছিলো। এ ভেটো(Veto) প্রয়োগের কারণে প্রায় ৮-১০ দিন সময় লাগে জয় বাংলাকে অনুমোদন দানের ক্ষেত্রে। পাশাপাশি বলে দেয়া হয়েছিলো স্লোগানটিকে সতর্কতার সঙ্গে ব্যবহার করার জন্য। যেন আর দশটা স্লোগানের মতো জয় বাংলাকে যত্রতত্র ব্যবহার না করা হয়। তুমি কে? আমি কে? বাঙালি-বাঙালি তোমার আমার ঠিকানা পদ্মা-মেঘনা-যমুনা পি- না ঢাকা? ঢাকা-ঢাকা ছয় দফা-ছয় দফা, না হলে এক-দফা এগার দফা-এগার দফা, নাহলে এক-দফাবীর বাঙালি অস্ত্র ধরো, বাংলাদেশ স্বাধীন করোস্বাধীন করো স্বাধীন করো, বাংলাদেশ স্বাধীন করো। এ স্লোগানগুলো নিউক্লিয়াস সেলর মাধ্যমে স্লোগান হিসেবে গ্রহণ করা হয়, যা পরবর্তীতে জনপ্রিয়তা অর্জন করে। এসব কোনো সাধারণ স্লোগান নয়, যেন একেকটি ঐশী বাণী। স্বাধীনতাকামী বাঙালির প্রাণের স্পন্দন স্বাধীনতার বীজমন্ত্র মুক্তি ও বিজয়ের মূলমন্ত্র সশস্ত্র যুদ্ধের অনুপ্রেরণা এবং এগারোশো বছরের পরাধীনতার শেকল ভেঙে বাঙালির কাক্সিক্ষত স্বাধীনতার স্বপ্ন বাস্তবায়নের এক শক্তিশালী অস্ত্র। জয় বাংলা স্লোগানের বিষয়ে ছাত্রলীগের দুয়েকজন এবং আওয়ামী লীগের সবাই (বঙ্গবন্ধু ছাড়া) ঘোর আপত্তি করতো। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটিতেও জয় বাংলার বিষয়ে আলাপ আলোচনা হয় এবং তাঁরা জয় বাংলাকে নিয়ে ভারত ঘেঁষা রাজনীতি করা হচ্ছে এ যুক্তি তুলে ধরেন। শুধু কমিটিতেই নয়, আওয়ামী লীগ সভার সকলেই জয় বাংলার বিরুদ্ধে অবস্থান নেন (তাজউদ্দিন আহমদ ছাড়া)। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বের বৃহত্তর অংশই জয় বাংলা স্লোগানের সরাসরি বিরোধিতা করেন এবং তাঁরা এ স্লোগানের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর কাছে অভিযোগও করেন। //এ ব্যাপারে বঙ্গবন্ধুর সরাসরি উত্তর ছিলো, এ বিষয় নিয়ে তোমাদের মাথা ঘামাবার দরকার নেই। আওয়ামী লীগের বৃহত্তর অংশ এ আবদারমূলক রাজনীতির //প্রতি বঙ্গবন্ধুর কোনো রকম সমর্থন না পেয়ে ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করেছিলো। তাঁরা জয় বাংলা স্লোগানকে ভারতের জয় হিন্দ ও সিন্ধুর জিয়ে সিন্ধ বা জিও সিন্ধ এর সঙ্গে মিশিয়ে এক ধরনের বিদ্রুপ করতো। আর সুযোগ পেলে জয় বাংলা স্লোগান দেয়া ছাত্রলীগ কর্মীদের ওপর চড়াও হতো। রবিবার, ৪ জানুয়ারি ১৯৭০। সেদিন, ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনে সৈয়দ নজরুল ইসলাম ছিলেন প্রধান অতিথি। অনুষ্ঠানের শুরুতে জয় বাংলা স্লোগান দেয়া শুরু হলে দুয়েকজন আপত্তি করেন এবং এ স্লোগানটি বন্ধ করার জন্য সৈয়দ নজরুল ইসলামকে অনুরোধ জানান। তা সত্ত্বেও জয় বাংলা স্লোগান বারবার উচ্চারিত হতে থাকে। সৈয়দ নজরুল ইসলাম তাঁর বক্তব্য প্রদানকালে জয় বাংলার পক্ষে বিপক্ষে অবস্থান পরিষ্কার করলেন না। বিষয়টি বুঝতে পেরে নিউক্লিয়াস নেতৃবৃন্দ চার-পাঁচজন মিলে একটি গ্রুপ হয়ে সন্ধ্যার পর থেকে শুরু করে রাত ১২/১টা পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের হল-হোস্টেলে জয় বাংলা স্লোগান দিতো। তখন রাতের অন্ধকারে হাতে লেখা পোস্টার লাগানো হতো ঢাকা শহরের প্রায় সর্বত্র (সে সময়কালে বৃহত্তর ঢাকার লোকসংখ্যা ছিলো দশ লাখের মতো, আজকের ঢাকা দিয়ে সেদিনের ঢাকাকে বোঝা একেবারেই অসম্ভব; বর্তমানে বৃহত্তর ঢাকার লোকসংখ্যা হলো দুই কোটি বিশ লাখ)। তখন ক্ষুদ্রাকার মিছিল করে জয় বাংলা স্লোগান দেয়া হতো। জয় বাংলা স্লোগানে মুখরিত মানুষ আন্দোলিত পুরো ঢাকা শহর। বিষয়টি বঙ্গবন্ধু পর্যন্ত পৌঁছানো হলো। তখন আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি হিসেবে কে এম ওবায়দুর রহমানকে বঙ্গবন্ধুর কাছে পাঠানো হয়। কে এম ওবায়দুর রহমান বঙ্গবন্ধুর কাছে জয় বাংলাকে তুলে ধরেন গুরুতর আপত্তিমূলক স্লোগান হিসেবে। সিরাজুল আলম খান ওই সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন। বঙ্গবন্ধু তখন কোনো সিদ্ধান্ত না দিয়ে পরবর্তীতে বিষয়টি সুরাহা করবেন বলে জানান। আসলে বিষয়টি ছিলো অত্যন্ত জটিল। তবে স্বাধীনতার প্রশ্নে জয় বাংলা স্লোগানের গুরুত্ব বিবেচনায় আসে। এ বিষয়ে কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেয়ার দায়িত্ব নিউক্লিয়াসর পক্ষ থেকে সিরাজুল আলম খানকে দেয়া হয়। রবিবার, ১১/১৮ জানুয়ারি (তবে নিশ্চিতভাবে ১৮ জানুয়ারি-ই হবে), ১৯৭০। সেদিন, পল্টন ময়দানে আওয়ামী লীগের জনসভা হওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। ওই দিনটিতে কৌশলগতভাবে জয় বাংলা কে জনগণের কাছে প্রথমবারের মতো তুলে ধরার সিদ্ধান্ত নেয় নিউক্লিয়াস। গাজী গোলাম মোস্তফাকে (সাধারণ সম্পাদক, ঢাকা শহর আওয়ামী লীগ) নিউক্লিয়াসর প্রতি পরোক্ষ একজন সহযোগী হিসেবে অতি নিপুণভাবে গড়ে তোলা হয়েছিলো। সভা উপলক্ষে পল্টনে আওয়ামী লীগের অন্যসব জনসভার চাইতে পাঁচ ফুট উঁচু করে বিশেষভাবে মঞ্চ নির্মাণ করার জন্য গাজী গোলাম মোস্তফাকে অনুরোধ জানানো হয়। ১৯৬৪-৬৫ সালে ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন সৈয়দ মজহারুল হক বাকি। ছাত্র রাজনীতির পর তিনি বিজ্ঞাপনী নামে একটি বিজ্ঞাপন প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে ছিলেন, যার অফিস ছিলো জিন্নাহ এভিনিউতে (বর্তমানে বঙ্গবন্ধু এভিনিউ)। কামাল আহমেদ ছিলেন যশস্বী খ্যাতিসম্পন্ন একজন অংকন শিল্পী (বর্তমানে তিনি কানাডা প্রবাসী) তবে তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না এবং একই বয়স না হলেও (কামাল আহমেদ ছিলেন সিরাজুল আলম খান-এর চেয়ে ৪-৫ বছরের বড়) সিরাজুল আলম খান-এর সঙ্গে তাঁর সখ্যা ছিলো। শিল্পী কামাল আহমেদকে আনা হলো বিজ্ঞাপনী প্রতিষ্ঠানে। সে সময় রবিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন ছিলো। সৈয়দ মজহারুল হক বাকি ও কামাল আহমেদকে সিরাজুল আলম খান (দৈর্ঘে প্রায় ৪ ফুট লম্বা পাশে ১০ ফুট চওড়া) কাঠের উপরে জয় বাংলা শব্দটি লেখার জন্য বলেন। লেখার পর এ কাঠটিকে দুভাগে ভাগ করা হয়। তখন বেলা তিনটে, পাঁচটায় জনসভা শুরু হবে। সে সময়কালে শহর আওয়ামী লীগের সক্রিয় সদস্য পনর-বিশ জনের বেশি ছিলো না। বাকিরা সবাই খ্যাতিমান এডভোকেট আব্দুস সালাম খান (সম্পর্কে বঙ্গবন্ধুর মামা)-র নেতৃত্বাধীন ছয় দফার বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা পিডিএম (Peoples Democratic Movement-PDM)-এ চলে যায়। সে সময় থেকে শুরু করে পরবর্তী সকল জনসভায় এবং অন্যান্য সাংগঠনিক কাজে ব্যস্ত থাকতে হতো নিউক্লিয়াস সদস্যদের। তখনই নিউক্লিয়াসর রাজনৈতিক উইং হিসেবে বিএলএফ (BLF-Bangladesh Liberation Force) গঠন করা হয়। এসব সময়ে ঢাকা শহরের সব স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় এবং তখনকার ঢাকা শহরের অন্তর্ভুক্ত ৪২টি ওয়ার্ডে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠনের পাশাপাশি বিএলএফ (BLF)-এর সদস্য সংখ্যা খুব দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পেতে থাকে। গোটা বাংলাদেশেও তখন একই অবস্থা। শুধুমাত্র ঢাকা শহরেই তখন বিএলএফর সংখ্যা প্রায় সাড়ে তিন (৩.৫০) হাজার। আর জেলা-থানা (বর্তমানে উপজেলা) পর্যায়ে আড়াই (২.৫) হাজার। এ সংখ্যা গণআন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থান এবং সশস্ত্র সংগ্রামকালে বৃদ্ধি পেয়ে সাত (৭) হাজারে উন্নীত হয়। জনসভাসমূহে লোক সমাগম, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্ব বিএলএফ (BLF)-র সদস্যদের উপর দেয়া হয়। মূল দায়িত্বে ছিলেন কাজী আরেফ এবং মনিরুল ইসলাম (মার্শাল মনি)। অন্যান্য জনসভার মতো কবিয়াল শফি আহমেদ এখানেও তাঁর জনপ্রিয় কবিগান প্রায় একঘণ্টা ব্যাপী গেয়ে শুনালেন। রবিবার, ১৮ জানুয়ারি, ১৯৭০। দিনটি ছিলো স্বাধীনতার লক্ষ্যে পৌঁছানোর এমন এক সন্ধিক্ষণ, যার দায়িত্ব বর্তিয়ে ছিলো নিউক্লিয়াসর পক্ষ থেকে সিরাজুল আলম খান-এর উপর। সাধারণত সিরাজুল আলম খান সরাসরি কোনো দায়িত্বে থাকতেন না। তিনি যেসব দায়িত্বে থাকতেন তা হলো, রণনীতি ও রণকৌশল প্রণয়ন এবং জটিল বিষয়ে ও ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত দানের ব্যাপারে। সে দিনের গুরুত্বের কারণেই সিরাজুল আলম খান-এর উপরে এ দায়িত্ব দেয়া হয়। বেলা তিনটের দিকে কাঠের দুই অংশের এক অংশ আগেই বেশ উঁচু করে নির্মাণ করা মঞ্চের মাঝামাঝি জায়গায় শামিয়ানায় আটকানো হার্ডবোর্ডের ওপর লাগিয়ে দেয়া হয়। বাকি অংশ লাগানো হয় পাশাপাশি করে জনসভা শুরু হওয়ার দশ-পনেরো (১০-১৫) মিনিট আগে। জয় বাংলা লেখাটি রঙতুলিতে মাস্টারপিস (masterpiece) হিসেবে কাঠের খণ্ডে লিখেছিলেন শিল্পী কামাল আহমেদ। বেলা চারটে নাগাদ জনসভায় আগত মানুষের দ্বারা পল্টন ময়দানের আউটার স্টেডিয়াম ছিলো কানায় কানায় ভরপুর। যেসব খুঁটিতে মাইক হর্ণ (সরশব যড়ৎহ) লাগানো হয়েছিলো, প্রত্যেকটি খুঁটির গোড়ায় দুজন করে বিএলএফ (BLF) সদস্য ছিলেন। আর তাঁদের হাতে দেয়া হয়েছিলো একটি চিরকুট। নির্দেশ ছিলো সিরাজুল আলম খান যখন মঞ্চ থেকে স্লোগান দেবেন সে মুহূর্তে এ চিরকুট খোলা হবে। প্রায় ১০০টি মাইক হর্ণ লাগানো বাঁশের খুঁটির গোড়ায় ছাড়াও গোটা পল্টনের বিশেষ বিশেষ জায়গায়ও বিএলএফ(BLF) সদস্যদের দায়িত্ব ভাগ করে দেয়া হয়েছিলো। নিচে, মঞ্চের সামনে, পিছনে এবং চারপাশে বিএলএফ(BLF) সদস্যরা বিশেষ নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন। সেদিন, আওয়ামী লীগের জনসভায় পুরো পল্টন জুড়ে ছিলো প্রচুর জনসমাগম। একমাত্র মসজিদটি ছাড়া তখনকার আউটার স্টেডিয়ামে আর কোনো স্থাপনা ছিলো না। পেছনে ডিআইটির দিকে বাস্কেটবল খেলার জন্য ছোটো ছোটো কাঠের গ্যালারির (স্টেডিয়াম) মতো কয়েকটি স্থাপনা ছিলো মাত্র। সেসময় পল্টন ময়দানে এক লক্ষের মতো লোকসমাগম হতে পারতো। তেমনই লোকে লোকারণ্য অবস্থায় ১৯৭০ সালের ১৮ জানুয়ারির জনসমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয়। সে মুহূর্তে ঢাকা শহরের লাখো মানুষের জনস্রোত যেন মিশে গিয়েছিলো পল্টন ময়দান (আউটার স্টেডিয়াম)। সভার বক্তৃতা মঞ্চটি ছিলো বিশেষভাবে নির্মিত বেশ কিছুটা উঁচু। মঞ্চের শামিয়ানায় আটকানো হার্ডবোর্ডের ওপর লাগানো কাঠের খণ্ডে উজ্জ্বল লাল রঙের দুটি শব্দ জয় বাংলা জ্বল জ্বল করছিলো। বেশ কিছুটা উঁচু করে মঞ্চ তৈরি করার কারণে দর্শকরা দূর থেকেও তা স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছিলেন। সভার শুরুতে তাজউদ্দীন আহমদ বক্তব্য রাখলেন। সভাপতি ছিলেন বঙ্গবন্ধু। মঞ্চে উপবিষ্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমদ, খন্দকার মোশতাক আহমেদ, ক্যাপ্টেন মনসুর আলী ও গাজী গোলাম মোস্তফা ছাড়া আর কোনো আওয়ামী লীগ নেতা ছিলেন না। তবে আওয়ামী লীগ করতেন না কিন্তু তৎকালীন আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের প্রধান কাজে সদা ব্যস্ত থাকতেন এমন একজন ব্যক্তির সেই মঞ্চে উপস্থিতি সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। আর সেই ব্যক্তিটি ছিলেন সিরাজুল আলম খান। গাজী গোলাম মোস্তফার উপর একটি দায়িত্ব দেয়া হয়েছিলো, যেভাবে হোক বঙ্গবন্ধুকে স্লোগান দেয়ার জন্য সিরাজুল আলম খানকে অনুরোধ করা। তাজউদ্দীন আহমদের বক্তব্যের পর বঙ্গবন্ধু মঞ্চে বসা অবস্থায় বললেন, সিরাজ স্লোগান দে। কথাটি বঙ্গবন্ধু দুবার বললেন। সিরাজুল আলম খানও এ মুহূর্তটির জন্য অপেক্ষা করছিলেন। যেনো অনেকটা যাদু দেখানোর মতো ভঙ্গিতে সিরাজুল আলম খান মাইকের সামনে এলেন। এসে অত্যন্ত আবেগ মিশ্রিত বলিষ্ঠ কণ্ঠে বললেন, আজকের এ দিনটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে বাংলাদেশের জন্য। প্রিয় ভাই-বোনেরা আপনারা দেখছেন ওই উপরে জ্বল জ্বল করছে দুটি শব্দ জয় বাংলা। আসুন, সাত কোটি মানুষের পক্ষ হয়ে আমরা সকলকে জানিয়ে দিতে চাই, বাঙালি আমাদের পরিচয়। আসুন, যার কণ্ঠে যতো জোর আছে সবটুকু দিয়ে আমরা একই সঙ্গে বলে উঠি, জয় বাংলা। আজ থেকে জয় বাংলাকে আমাদের ভবিষ্যৎ আন্দোলনের স্লোগান হিসেবে ব্যবহার করা হবে। আসুন, আমরা সবাই কণ্ঠে কণ্ঠ মিলিয়ে আওয়াজ তুলি জয় বাংলা। তিনি আবারো বললেন, জয় বাংলা। তখন লক্ষ কণ্ঠের সমস্বরে আকাশ থেকে বাজ পড়ার মতো কানফাটা আওয়াজে জয় বাংলা স্লোগানের ধ্বনি পল্টনকে মুখরিত করে তোলে। প্রত্যেক খুঁটির গোড়ায় চিরকুট ইতিমধ্যে খোলা হয়ে গেছে। নির্দেশ ছিলো জয় বাংলাকে প্রতিধ্বনিত করে জয় বাংলা বলা। পল্টনেই শুধু নয়, ফিরে যাবার মুহূর্তেও সকলের মুখে মুখে ধ্বনিত হচ্ছিলো জয় বাংলা! আত্মপ্রত্যয়ের এক শব্দ জয় বাংলা বাঙালি জাতির পরিচয়ের এক শব্দ জয় বাংলা যেনো একটি ব্যক্ত আবেগের শব্দ জয় বাংলা! সেই থেকে বাংলাদেশের জনগণ প্রথম জানালো তাদের আগামী দিনের স্লোগান জয় বাংলা। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, নিউক্লিয়াস (স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ)-এর সিদ্ধান্ত অনুসারে আনুষ্ঠানিকভাবে এটাই প্রথম জনসম্মুখে জয় বাংলা স্লোগানের উদ্বোধন। তাজউদ্দীন আহমদের পর একে একে বক্তৃতা দিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম, খন্দকার মোশতাক আহমেদ, ক্যাপ্টেন মনসুর আলী। সভাপতি হিসেবে এবার বক্তব্য দিবেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাও ঘোষণা করলেন সিরাজুল আলম খান। আবারো সিরাজুল আলম খান মাইকের সামনে গেলেন। ঘোষণা দিয়ে বঙ্গবন্ধুকে বক্তব্য দেয়ার জন্য আহ্বান জানালেন। এ সিরাজুল আলম খান যেন অতি পরিচিত সিরাজুল আলম খান নয়। নতুন পরিচিতি। নতুন অভিব্যক্তি। নতুন প্রকাশভঙ্গি। নতুন প্রাণশক্তি। নতুন রাজনীতির সূর্যোদয়ের আহ্বান। সিরাজুল আলম খান বঙ্গবন্ধুকে বক্তব্য দেবার আহ্বানের সময় জয় বাংলা ধ্বনি দিলেন। আবারো দিলেন, তখন সভা থেকে লক্ষ কন্ঠের প্রতিধ্বনি অনুরণিত হয়ে আকাশে গর্জনের মতো শোনা গেল। গর্জনের শব্দের তীব্রতা মুহুর্মুহু প্রতিধ্বনি হলো। সে গর্জন শেষ বিকেলের শীতল বাতাস বয়ে নিয়ে গেল গোটা ঢাকা শহরে। লক্ষাধিক বাঙালির বাঁধভাঙ্গা আবেগ আর প্রত্যাশায় এ যেনো এক নবজাগরণের ইঙ্গিত। বঙ্গবন্ধু বক্তৃতা করছেন সে সুযোগে মঞ্চে বসা খন্দকার মোশতাক আহমেদ সিরাজুল আলম খানকে কাছে ডেকে নিয়ে বললেন, ভাইডি কামডা সাইরে দিসো। তুমি বলেই পারলা। আর কেউ পারতো না! জানো সিরাজ, পৃথিবীর ইতিহাসে আর একজন মানুষ রাশিয়া বিপ্লবের স্লোগান হিসেবে দিয়েছিলো, জমি, রুটি, স্বাধীনতা! জানো সে লোকটা ক্যাডা? লেনিন, লেনিন। ইতোমধ্যে বঙ্গবন্ধুর বক্তৃতা শেষ। জনসভার লক্ষাধিক মানুষের কণ্ঠে একই শব্দ এবং আওয়াজ জয় বাংলা। মনে হচ্ছিলো সারা ঢাকা যেন নতুনভাবে জেগেছে। পাখির ডাকে নয়, গগণবিদারী গর্জনের শব্দে। আর সে শব্দ হলো জয় বাংলা। জয় বাংলা কোনো দল বা ব্যক্তির স্লোগান নয়, এ স্লোগান ছিলো বাঙালির আত্মপরিচয়ের স্লোগান, স্বাধীনতাকামী জনগণের ঐক্যের স্লোগান, অর্জিত সাহসের স্লোগান, শত্রুমুক্ত করে স্বাধীন সার্বভৌমত্ব অর্জনের স্লোগান। জয় বাংলা শুধু একটি স্লোগান নয়, একটি ইতিহাস সংগ্রাম আর ভবিষ্যতের নাম। এ স্লোগান ৭১-এ বাঙালি জাতিকে করেছিলো ঐক্যবদ্ধ আর সশস্ত্র যুদ্ধকে করেছিলো ত্বরান্বিত। এ স্লোগান কণ্ঠে নিয়ে বাঙালিরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিলো সশস্ত্র সংগ্রামে। রণাঙ্গনে বুলেটের চেয়েও শক্তিশালী ছিলো এ জয় বাংলা। এগারশবছর ধরে যে বাঙালিদের নিরস্ত্র করে রাখা হয়েছিলো স্বাধীনতা সংগ্রামের শেষ পর্যায়ে সে বাঙালিদের হাতে রাইফেল তুলে নেয়ার জন্যও জয় বাংলাস্লোগান ছিলো বীজমন্ত্র। এ বীজমন্ত্রই প্রতিটি সশস্ত্র যোদ্ধা এবং জনগণকে বীর বাঙালি অস্ত্র ধরো, বাংলাদেশ স্বাধীন করো-স্লোগানের মাধ্যমে উজ্জীবিত করেছিলো। জয় বাংলা মানে- সে সকল মানুষের জয়, যারা এ বাংলার মাটি ও মানুষকে শোষণ-নির্যাতন থেকে মুক্ত করার প্রত্যয়ে যুগে যুগে লড়াই করে হটিয়ে দিয়েছে- সেন, আর্য, সুলতান, মুঘল, পাঠান, মারাঠি, পর্তুগিজ, দিনেমার, ওলন্দাজ, ফিরিঙ্গি, বর্গি, ইংরেজ, নীলকর, কাবুলিওয়ালা, জমিদার-জোতদার, পাকিস্তানিসহ বিদেশি পরাশক্তিকে। আর বুঝিয়ে দিয়েছে জয় বাংলা শুধু সাধারণ একটি স্লোগান নয়, জয় বাংলা বাঙালির মটো (motto)। আন্দোলন-সংগ্রাম এমন কি সশস্ত্র যুদ্ধের কোথাও কোনোদিন বাঙালিরা বলেননি বাংলাদেশ জিন্দাবাদ কিংবা বাংলাদেশ চিরজীবী হোক। সময়ের ব্যবধানে সে জয় বাংলা আজ ষোল-সতের (১৬/১৭) কোটি মানুষের প্রিয় স্লোগান/ধ্বনি। বঙ্গবন্ধু তাঁর ৭ মার্চের ভাষণে জয় বাংলা স্লোগান দিয়েই বক্তব্য শেষ করেছিলেন। আজকাল দুয়েকজন আহাম্মক অতি পা-িত্য জাহির করার মধ্য দিয়ে বাঙালি বিরোধী কিছু কথা বলার চেষ্টা করছেন। তা হলো-বঙ্গবন্ধু নাকি জয় বাংলা বলার পর জয় পাকিস্তান উচ্চারণ করেছিলেন। এরা পঞ্চম বাহিনীর লোক (5th columnist) লোক। এরা পাকিস্তান থাকতে পাকিস্তানিদের দালালি করতো। মার্চ মাসের আগের দিন পর্যন্ত এরা পাকিস্তানি হয়েই কাজ করতো। সর্বশেষ না পেরে এরা বাঙালি বন্ধু হয়ে উঠেন। ৭ মার্চে বঙ্গবন্ধু কেন জয় পাকিস্তান শব্দ উচ্চারণ করবেন? ওই সময় গোটা আন্দোলন ছিলো নিউক্লিয়াস-বিএলএফ-এর হাতে। এ নিউক্লিয়াস-বিএলএফ-এর মাধ্যমেই গোটা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করা হয়েছিলো। বঙ্গবন্ধু ছিলেন স্বাধীনতাকামী জনগণের নেতা। আহাম্মকরা তাদেরকে যতোই চতুর মনে করুন না কেনো, তারা আসলে সার্কাসের ভাঁড়। লেখক: তাত্ত্বিক, রাজনৈতিক গবেষক ও মুক্তিযুদ্ধকালীন নিউক্লিয়াস-এর সদস্য সূত্র: মানবজমিন...

দেশের বেসরকারি চিকিৎসাসেবা নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ছে :টিআইবি

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) বলেছে, দেশের বেসরকারি চিকিৎসাসেবা খাতে বাণিজ্যিকীকরণের প্রবণতা প্রকট আকার ধারণ করেছে। ঘাটতি রয়েছে বেসরকারি চিকিৎসাসেবায় সরকারের যথাযথ মনোযোগের । এতে একদিকে এটি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ছে, অন্যদিকে কিছু ব্যক্তির এ খাত থেকে বিধিবহির্ভূত সুযোগ-সুবিধা আদায়ের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। আজ বুধবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবি কার্যালয়ে বেসরকারি চিকিৎসাসেবা : সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায় শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। গবেষণায় দেশের বিভিন্ন জেলায় নিবন্ধিত ১১৬টি (হাসপাতাল ৬৬টি এবং রোগনির্ণয় কেন্দ্র ৫০টি) বেসরকারি চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠান থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। গবেষণায় বেসরকারি চিকিৎসা খাত সংশ্লিষ্ট আইন ও নীতি পর্যালোচনা, প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা, এসব প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসাসেবা, বেসরকারি চিকিৎসাসেবার বিপণন ব্যবস্থা, তথ্যের স্বচ্ছতা, তদারকির বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন টিআইবির নির্বাহী ব্যবস্থাপনা উপদেষ্টা সুমাইয়া খায়ের, টিআইবির গবেষণা ও পলিসি পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল হাসান। গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন টিআইবির প্রোগ্রাম ম্যানেজার তাসলিমা আক্তার এবং ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার মো. জুলকারনাইন। ফলাফলে দেখা যায়, গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত ১১৬টির মধ্যে ৯৭টি প্রতিষ্ঠান পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেয়নি। এ ছাড়া বেসরকারি চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রধান আইন দ্য মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অরডিন্যান্স ১৯৮২ প্রণয়নের পর এখন পর্যন্ত হালনাগাদ করা হয়নি। এ আইনের কোনো বিধিমালাও করা হয়নি। দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় বেসরকারি চিকিৎসাসেবা আইনের খসড়া নিয়ে কাজ করা হলেও তা এখনো আইন হিসেবে প্রণয়ন করা হয়নি। অনুষ্ঠানে টিআইবির ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতি সুলতানা কামাল বলেন, বেসরকারি চিকিৎসা খাতে তদারকির চিহ্ন দেখতে পাই না। সরকার এ ক্ষেত্রে পুরো উদাসীন। সেখানে কি স্বার্থের দ্বন্দ্ব আছে সরকারের? কোনো ধরনের জবাবদিহির সম্মুখীন না হয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। যাঁরা তদারকের দায়িত্বে আছেন, তাঁরা তাঁদের কাজ গুরুত্বসহকারে নিচ্ছেন না। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণকারী খানার প্রায় সাড়ে ৬৩ শতাংশ বেসরকারি প্রতিষ্ঠান হতে সেবা নেয়। কিন্তু বাংলাদেশে বেসরকারি চিকিৎসাসেবা উচ্চ মুনাফাভিত্তিক খাত। মালিকেরা বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানকে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিয়েছে। তদারকির অভাব থাকায় সেবাগ্রহীতাদের জিম্মি করে উচ্চ মুনাফা আদায়ের সুযোগ রয়েছে।...

বঙ্গবন্ধুর স্বাধীন বাংলাদেশ আজ তার খুনিদের পদচারণামুক্ত

মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন চৌধুরী :শোকাবহ ১৫ আগস্ট। জাতীয় শোক দিবস। বাঙালির অশ্রু ঝরার দিন। ১৯৭৫ সালের এই দিন বাঙালি জাতির ইতিহাসে কলংক লেপন করেছিল সেনাবাহিনীর কিছু বিপথগামী উচ্ছৃঙ্খল সদস্য। ঘাতকের নির্মম বুলেটে সেদিন ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর সড়কের ঐতিহাসিক ভবনে শাহাদতবরণ করেছিলেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্থপতি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ১৫ আগস্ট কালরাতে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছিলেন বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী মহীয়সী নারী বেগম শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব, বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠপুত্র শেখ কামাল, শেখ জামাল ও তাদের স্ত্রীদ্বয় যথাক্রমে সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল, বঙ্গবন্ধুর শিশুপুত্র শেখ রাসেল, বঙ্গবন্ধুর ভাই শেখ নাসেরসহ বঙ্গবন্ধু পরিবারের ২৮ সদস্য। একই দিন ঘাতকের নির্মম বুলেটে প্রাণ হারান বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলুল হক মনি, তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী বেগম আরজু মনি, বঙ্গবন্ধুর ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাত, শহীদ সেরনিয়াবাত, শিশু সুকান্ত বাবু, আরিফ, রিন্টু প্রমুখ। ঘাতকরা সেদিন বঙ্গবন্ধুর ৩২ নম্বর বাড়িতে আক্রমণ করে বঙ্গবন্ধু পরিবারের সব সদস্যকেই হত্যা করে। কিন্তু দেশে না থাকায় প্রাণে বেঁচে যান বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং কনিষ্ঠ কন্যা শেখ রেহানা। ঘাতকরা সেদিন বঙ্গবন্ধু এবং তার পরিবারের সদস্যদেরই কেবল হত্যা করেনি, বাঙালি জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্রবিন্দুকে নস্যাৎ করতে চেয়েছিল। আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন হওয়ার পর রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রথম শোক দিবস পালনের সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু এরপর ২০০১ সালে বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট ক্ষমতায় এসে সে সিদ্ধান্ত বাতিল করে। তবে ড. ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় এলে আবারও ১৫ আগস্টকে জাতীয় শোক দিবস রাষ্ট্রীয়ভাবে পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। বাঙালি জাতির ইতিহাসে অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শুধু এদেশের স্বাধীনতার স্থপতিই ছিলেন না, ভাষা আন্দোলন, ৬ দফা আন্দোলনসহ প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামেই তার ভূমিকা ছিল ঐতিহাসিক। এই মহানায়কের জন্ম না হলে বিশ্বের বুকে বাংলাদেশ স্বাধীনভাবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারত না। যারা এ মহানায়ককে হত্যা করেছিল। ২০১১ সালের জানুয়ারিতে ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে বঙ্গবন্ধুর পাঁচ খুনির ফাঁসি কার্যকর হয় । বঙ্গবন্ধুর স্বাধীন বাংলাদেশ আজ তার খুনিদের পদচারণামুক্ত। জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে সারা দেশের মন্দির, গির্জা ও অন্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে প্রার্থনার আয়োজন করা হবে। এ উপলক্ষে বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশন বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার এবং সংবাদপত্রগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ এবং বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশনগুলো বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করবে। জেলা ও উপজেলা প্রশাসন যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালনের জন্য আলোচনা সভা এবং মিলাদ মাহফিলসহ জাতীয় কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিজ নিজ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠন ধানমণ্ডির বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, মিলাদ মাহফিল ও আলোচনা সভার আয়োজন করবে। জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে প্রতি বছরের মতো এবারও সাংবাদিক সমাজ জাতীয় প্রেস ক্লাবের সম্মেলন কক্ষে সর্বধর্ম প্রার্থনা সভার আয়োজন করবে। এছাড়াও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করবে। লেখক, মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন চৌধুরী ,সম্পাদক, নিউজ একাত্তর ডট কম ও দৈনিক সংবাদের কাগজ ।


জয় বাংলা এবং আওয়ামী লীগ

সিরাজুল আলম খান :জয় বাংলা এমন একটি স্লোগান যা বাংলাদেশের সশস্ত্র যুদ্ধের সময় জনগণকে তাঁদের স্বাধীনতার লক্ষ্যে প্রবল উদ্দীপক ও তেজোদীপ্ত করেছিলো। এর আগে বাঙালি আর কখনো এতো তীব্র, সংহত ও তাৎপর্যপূর্ণ স্লোগান দেয়নি, যার একটি পদেই প্রকাশ পেয়েছে রাজনীতি, দেশ, দেশপ্রেম, সংস্কৃতি, ভাষার সৌন্দর্য ও জাতীয় আবেগ। জয় বাংলা স্লোগান ছিলো সশস্ত্র যুদ্ধকালীন সময়ে বাঙালির প্রেরণার উৎস। যুদ্ধে সফল অপারেশন শেষে কিংবা যুদ্ধ জয়ের পর অবধারিতভাবে স্বাধীনতা সংগ্রামীরা চিৎকার করে জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে চারপাশের জনগণকে বিজয়ের বার্তা পৌঁছে দিতো। কখন, কীভাবে কিংবা কী বিশেষ প্রয়োজনে এ জয় বাংলাস্লোগানটির উৎপত্তি হয়েছিলো, তার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস তুলে ধরা হলো- সোমবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৬৯। সেদিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের একটি সভা ছিলো। মধুর ক্যান্টিনের সে সভায় ১৭ মার্চ শিক্ষা দিবস যৌথভাবে পালনের জন্য কর্মসূচি প্রণয়ন নিয়ে প্রাসঙ্গিক আলোচনা করছিলেন। সেদিন, সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদর আহূত সভায় আলোচনার এক পর্যায়ে তৎকালীন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে (তৎকালীন জিন্নাহ হল, যা বর্তমানে সূর্যসেন হল) প্রথম বর্ষের ছাত্র ও ছাত্রলীগ নেতা আফতাব উদ্দিন আহমেদ এবং দর্শন বিভাগে (ইকবাল হল, যা বর্তমানে সার্জেন্ট জহুরুল হক হল) ছাত্র ও ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক চিশতি শাহ হেলালুর রহমান (৭১ সালে শহীদ) জয় বাংলা স্লোগানটি উচ্চারণ করেন। সভা চলাকালীন সময়ে অনেকটা আকস্মিকভাবেই সকলকে চমকে দিয়ে চিৎকার করে জয় বাংলা স্লোগান দেন ছাত্রলীগ নেতা আফতাব উদ্দিন আহমেদ, পরক্ষণেই সেই স্লোগানের প্রত্যুত্তর দেন তৎকালীন ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক চিশতি শাহ হেলালুর রহমান। সঙ্গে সঙ্গেই আরো সাত-আটজন কর্মী প্রতিধ্বনি দিলো, জয় বাংলা। সেদিনের সেই সভায় আফতাব বেশ কয়েকবার জয় বাংলা স্লোগানটি দেন এবং শেষের দিকে উপস্থিত সংখ্যাগরিষ্ঠ কর্মীরাও এর প্রত্যুত্তর দেন। এরপর এভাবেই কিছুক্ষণ ওই স্লোগান চললো। বলা হয়ে থাকে সেটাই এ বাংলার বুকে জয় বাংলা স্লোগানের সর্বপ্রথম উচ্চারণ। আর এ দুই ছাত্রনেতাই ছিলেন নিউক্লিয়াস বা স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ-এর সদস্য। যদিও তার বেশ আগেই ১৯৬২ সালে গঠিত গোপন সংগঠন নিউক্লিয়াসর নেতৃবৃন্দ এবং ছাত্রলীগকর্মীরা যেকোনো আন্দোলনে স্বকীয়তা আর স্বাধীনতা প্রকাশ করার জন্য এবং আত্মপ্রত্যয় সৃষ্টির লক্ষ্যে জয় বাংলাকে প্রতীকী স্লোগান হিসেবে উচ্চারণ করতেন। এছাড়াও স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদতখন হাতে লেখা তিন পাতার একটি পত্রিকায় কয়েকটি সংখ্যা প্রকাশ করে যার নাম ছিলো জয় বাংলা। রবিবার, ১১/১৮ জানুয়ারি (তবে নিশ্চিতভাবে ১৮ জানুয়ারি-ই হবে), ১৯৭০। সেদিন, ঢাকা শহরের পল্টনে আওয়ামী লীগের জনসভায় সিরাজুল আলম খান সর্বপ্রথম জয় বাংলা স্লোগানটি উচ্চারণ করেছিলেন। স্লোগানটি ছিলো বাংলা শব্দ। জয়+বাংলা= জয় বাংলা অর্থাৎ বাংলাদেশ ও বাংলা ভাষার জয়। বাংলার জয়ের কথা বলা হচ্ছে, তাই এ স্লোগান সকলের ভালো লেগেছিলো। সকলেই জয় বাংলা স্লোগানকে গভীর আন্তরিকতার সঙ্গে গ্রহণ করেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানেরও এ স্লোগান বেশ মনে ধরে। এরপর ৭০-এর ৭ জুন ঢাকার রেসকোর্স ময়দানের বিশাল এক জনসভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার ভাষণে প্রথম যুক্ত করেন এ স্লোগানটি এবং উচ্চারণ করেন জয় বাংলা। আমাদের অস্তিত্বে জয় বাংলা শব্দের / স্লোগানের/ ধ্বনির ব্যবহার ও কার্যকারিতা আরো ব্যাপকভাবে বিস্তৃত। জয় বাংলা স্লোগানের উৎপত্তি এবং জাতীয় স্লোগানে পরিণত হবার রয়েছে এক ইতিহাস। সংক্ষেপে তা হলো- নিউক্লিয়াসর পক্ষ থেকে বিভিন্ন স্লোগান নির্ধারণের জন্য তিনটি সেলকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিলো। এর মধ্যে একটি সেল জিয়ে সিন্ধ বা জিও সিন্ধ (জয় সিন্ধু)-এর মতো করে জয় বাংলা শব্দটি কাজে লাগানো যায় কি না সিরাজুল আলম খান এর কাছে উপস্থাপন করা হয়। এ সেলটির মূল দায়িত্বে ছিলেন তৎকালীন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আফতাব উদ্দীন আহমেদ (পরবর্তীতে ড. আফতাব আহমেদ)। সুবিধা মতো সময়ে জয় বাংলা স্লোগানের বিষয়টি নিউক্লিয়াস র বিবেচনায় আসে। নিউক্লিয়াসর সদস্যদের প্রত্যেকেরই ভেটো (Veto) দেয়ার সুযোগ ছিলো। এ ভেটো(Veto) প্রয়োগের কারণে প্রায় ৮-১০ দিন সময় লাগে জয় বাংলাকে অনুমোদন দানের ক্ষেত্রে। পাশাপাশি বলে দেয়া হয়েছিলো স্লোগানটিকে সতর্কতার সঙ্গে ব্যবহার করার জন্য। যেন আর দশটা স্লোগানের মতো জয় বাংলাকে যত্রতত্র ব্যবহার না করা হয়। তুমি কে? আমি কে? বাঙালি-বাঙালি তোমার আমার ঠিকানা পদ্মা-মেঘনা-যমুনা পি- না ঢাকা? ঢাকা-ঢাকা ছয় দফা-ছয় দফা, না হলে এক-দফা এগার দফা-এগার দফা, নাহলে এক-দফাবীর বাঙালি অস্ত্র ধরো, বাংলাদেশ স্বাধীন করোস্বাধীন করো স্বাধীন করো, বাংলাদেশ স্বাধীন করো। এ স্লোগানগুলো নিউক্লিয়াস সেলর মাধ্যমে স্লোগান হিসেবে গ্রহণ করা হয়, যা পরবর্তীতে জনপ্রিয়তা অর্জন করে। এসব কোনো সাধারণ স্লোগান নয়, যেন একেকটি ঐশী বাণী। স্বাধীনতাকামী বাঙালির প্রাণের স্পন্দন স্বাধীনতার বীজমন্ত্র মুক্তি ও বিজয়ের মূলমন্ত্র সশস্ত্র যুদ্ধের অনুপ্রেরণা এবং এগারোশো বছরের পরাধীনতার শেকল ভেঙে বাঙালির কাক্সিক্ষত স্বাধীনতার স্বপ্ন বাস্তবায়নের এক শক্তিশালী অস্ত্র। জয় বাংলা স্লোগানের বিষয়ে ছাত্রলীগের দুয়েকজন এবং আওয়ামী লীগের সবাই (বঙ্গবন্ধু ছাড়া) ঘোর আপত্তি করতো। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটিতেও জয় বাংলার বিষয়ে আলাপ আলোচনা হয় এবং তাঁরা জয় বাংলাকে নিয়ে ভারত ঘেঁষা রাজনীতি করা হচ্ছে এ যুক্তি তুলে ধরেন। শুধু কমিটিতেই নয়, আওয়ামী লীগ সভার সকলেই জয় বাংলার বিরুদ্ধে অবস্থান নেন (তাজউদ্দিন আহমদ ছাড়া)। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বের বৃহত্তর অংশই জয় বাংলা স্লোগানের সরাসরি বিরোধিতা করেন এবং তাঁরা এ স্লোগানের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর কাছে অভিযোগও করেন। //এ ব্যাপারে বঙ্গবন্ধুর সরাসরি উত্তর ছিলো, এ বিষয় নিয়ে তোমাদের মাথা ঘামাবার দরকার নেই। আওয়ামী লীগের বৃহত্তর অংশ এ আবদারমূলক রাজনীতির //প্রতি বঙ্গবন্ধুর কোনো রকম সমর্থন না পেয়ে ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করেছিলো। তাঁরা জয় বাংলা স্লোগানকে ভারতের জয় হিন্দ ও সিন্ধুর জিয়ে সিন্ধ বা জিও সিন্ধ এর সঙ্গে মিশিয়ে এক ধরনের বিদ্রুপ করতো। আর সুযোগ পেলে জয় বাংলা স্লোগান দেয়া ছাত্রলীগ কর্মীদের ওপর চড়াও হতো। রবিবার, ৪ জানুয়ারি ১৯৭০। সেদিন, ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনে সৈয়দ নজরুল ইসলাম ছিলেন প্রধান অতিথি। অনুষ্ঠানের শুরুতে জয় বাংলা স্লোগান দেয়া শুরু হলে দুয়েকজন আপত্তি করেন এবং এ স্লোগানটি বন্ধ করার জন্য সৈয়দ নজরুল ইসলামকে অনুরোধ জানান। তা সত্ত্বেও জয় বাংলা স্লোগান বারবার উচ্চারিত হতে থাকে। সৈয়দ নজরুল ইসলাম তাঁর বক্তব্য প্রদানকালে জয় বাংলার পক্ষে বিপক্ষে অবস্থান পরিষ্কার করলেন না। বিষয়টি বুঝতে পেরে নিউক্লিয়াস নেতৃবৃন্দ চার-পাঁচজন মিলে একটি গ্রুপ হয়ে সন্ধ্যার পর থেকে শুরু করে রাত ১২/১টা পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের হল-হোস্টেলে জয় বাংলা স্লোগান দিতো। তখন রাতের অন্ধকারে হাতে লেখা পোস্টার লাগানো হতো ঢাকা শহরের প্রায় সর্বত্র (সে সময়কালে বৃহত্তর ঢাকার লোকসংখ্যা ছিলো দশ লাখের মতো, আজকের ঢাকা দিয়ে সেদিনের ঢাকাকে বোঝা একেবারেই অসম্ভব; বর্তমানে বৃহত্তর ঢাকার লোকসংখ্যা হলো দুই কোটি বিশ লাখ)। তখন ক্ষুদ্রাকার মিছিল করে জয় বাংলা স্লোগান দেয়া হতো। জয় বাংলা স্লোগানে মুখরিত মানুষ আন্দোলিত পুরো ঢাকা শহর। বিষয়টি বঙ্গবন্ধু পর্যন্ত পৌঁছানো হলো। তখন আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি হিসেবে কে এম ওবায়দুর রহমানকে বঙ্গবন্ধুর কাছে পাঠানো হয়। কে এম ওবায়দুর রহমান বঙ্গবন্ধুর কাছে জয় বাংলাকে তুলে ধরেন গুরুতর আপত্তিমূলক স্লোগান হিসেবে। সিরাজুল আলম খান ওই সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন। বঙ্গবন্ধু তখন কোনো সিদ্ধান্ত না দিয়ে পরবর্তীতে বিষয়টি সুরাহা করবেন বলে জানান। আসলে বিষয়টি ছিলো অত্যন্ত জটিল। তবে স্বাধীনতার প্রশ্নে জয় বাংলা স্লোগানের গুরুত্ব বিবেচনায় আসে। এ বিষয়ে কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেয়ার দায়িত্ব নিউক্লিয়াসর পক্ষ থেকে সিরাজুল আলম খানকে দেয়া হয়। রবিবার, ১১/১৮ জানুয়ারি (তবে নিশ্চিতভাবে ১৮ জানুয়ারি-ই হবে), ১৯৭০। সেদিন, পল্টন ময়দানে আওয়ামী লীগের জনসভা হওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। ওই দিনটিতে কৌশলগতভাবে জয় বাংলা কে জনগণের কাছে প্রথমবারের মতো তুলে ধরার সিদ্ধান্ত নেয় নিউক্লিয়াস। গাজী গোলাম মোস্তফাকে (সাধারণ সম্পাদক, ঢাকা শহর আওয়ামী লীগ) নিউক্লিয়াসর প্রতি পরোক্ষ একজন সহযোগী হিসেবে অতি নিপুণভাবে গড়ে তোলা হয়েছিলো। সভা উপলক্ষে পল্টনে আওয়ামী লীগের অন্যসব জনসভার চাইতে পাঁচ ফুট উঁচু করে বিশেষভাবে মঞ্চ নির্মাণ করার জন্য গাজী গোলাম মোস্তফাকে অনুরোধ জানানো হয়। ১৯৬৪-৬৫ সালে ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন সৈয়দ মজহারুল হক বাকি। ছাত্র রাজনীতির পর তিনি বিজ্ঞাপনী নামে একটি বিজ্ঞাপন প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে ছিলেন, যার অফিস ছিলো জিন্নাহ এভিনিউতে (বর্তমানে বঙ্গবন্ধু এভিনিউ)। কামাল আহমেদ ছিলেন যশস্বী খ্যাতিসম্পন্ন একজন অংকন শিল্পী (বর্তমানে তিনি কানাডা প্রবাসী) তবে তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না এবং একই বয়স না হলেও (কামাল আহমেদ ছিলেন সিরাজুল আলম খান-এর চেয়ে ৪-৫ বছরের বড়) সিরাজুল আলম খান-এর সঙ্গে তাঁর সখ্যা ছিলো। শিল্পী কামাল আহমেদকে আনা হলো বিজ্ঞাপনী প্রতিষ্ঠানে। সে সময় রবিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন ছিলো। সৈয়দ মজহারুল হক বাকি ও কামাল আহমেদকে সিরাজুল আলম খান (দৈর্ঘে প্রায় ৪ ফুট লম্বা পাশে ১০ ফুট চওড়া) কাঠের উপরে জয় বাংলা শব্দটি লেখার জন্য বলেন। লেখার পর এ কাঠটিকে দুভাগে ভাগ করা হয়। তখন বেলা তিনটে, পাঁচটায় জনসভা শুরু হবে। সে সময়কালে শহর আওয়ামী লীগের সক্রিয় সদস্য পনর-বিশ জনের বেশি ছিলো না। বাকিরা সবাই খ্যাতিমান এডভোকেট আব্দুস সালাম খান (সম্পর্কে বঙ্গবন্ধুর মামা)-র নেতৃত্বাধীন ছয় দফার বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা পিডিএম (Peoples Democratic Movement-PDM)-এ চলে যায়। সে সময় থেকে শুরু করে পরবর্তী সকল জনসভায় এবং অন্যান্য সাংগঠনিক কাজে ব্যস্ত থাকতে হতো নিউক্লিয়াস সদস্যদের। তখনই নিউক্লিয়াসর রাজনৈতিক উইং হিসেবে বিএলএফ (BLF-Bangladesh Liberation Force) গঠন করা হয়। এসব সময়ে ঢাকা শহরের সব স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় এবং তখনকার ঢাকা শহরের অন্তর্ভুক্ত ৪২টি ওয়ার্ডে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠনের পাশাপাশি বিএলএফ (BLF)-এর সদস্য সংখ্যা খুব দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পেতে থাকে। গোটা বাংলাদেশেও তখন একই অবস্থা। শুধুমাত্র ঢাকা শহরেই তখন বিএলএফর সংখ্যা প্রায় সাড়ে তিন (৩.৫০) হাজার। আর জেলা-থানা (বর্তমানে উপজেলা) পর্যায়ে আড়াই (২.৫) হাজার। এ সংখ্যা গণআন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থান এবং সশস্ত্র সংগ্রামকালে বৃদ্ধি পেয়ে সাত (৭) হাজারে উন্নীত হয়। জনসভাসমূহে লোক সমাগম, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্ব বিএলএফ (BLF)-র সদস্যদের উপর দেয়া হয়। মূল দায়িত্বে ছিলেন কাজী আরেফ এবং মনিরুল ইসলাম (মার্শাল মনি)। অন্যান্য জনসভার মতো কবিয়াল শফি আহমেদ এখানেও তাঁর জনপ্রিয় কবিগান প্রায় একঘণ্টা ব্যাপী গেয়ে শুনালেন। রবিবার, ১৮ জানুয়ারি, ১৯৭০। দিনটি ছিলো স্বাধীনতার লক্ষ্যে পৌঁছানোর এমন এক সন্ধিক্ষণ, যার দায়িত্ব বর্তিয়ে ছিলো নিউক্লিয়াসর পক্ষ থেকে সিরাজুল আলম খান-এর উপর। সাধারণত সিরাজুল আলম খান সরাসরি কোনো দায়িত্বে থাকতেন না। তিনি যেসব দায়িত্বে থাকতেন তা হলো, রণনীতি ও রণকৌশল প্রণয়ন এবং জটিল বিষয়ে ও ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত দানের ব্যাপারে। সে দিনের গুরুত্বের কারণেই সিরাজুল আলম খান-এর উপরে এ দায়িত্ব দেয়া হয়। বেলা তিনটের দিকে কাঠের দুই অংশের এক অংশ আগেই বেশ উঁচু করে নির্মাণ করা মঞ্চের মাঝামাঝি জায়গায় শামিয়ানায় আটকানো হার্ডবোর্ডের ওপর লাগিয়ে দেয়া হয়। বাকি অংশ লাগানো হয় পাশাপাশি করে জনসভা শুরু হওয়ার দশ-পনেরো (১০-১৫) মিনিট আগে। জয় বাংলা লেখাটি রঙতুলিতে মাস্টারপিস (masterpiece) হিসেবে কাঠের খণ্ডে লিখেছিলেন শিল্পী কামাল আহমেদ। বেলা চারটে নাগাদ জনসভায় আগত মানুষের দ্বারা পল্টন ময়দানের আউটার স্টেডিয়াম ছিলো কানায় কানায় ভরপুর। যেসব খুঁটিতে মাইক হর্ণ (সরশব যড়ৎহ) লাগানো হয়েছিলো, প্রত্যেকটি খুঁটির গোড়ায় দুজন করে বিএলএফ (BLF) সদস্য ছিলেন। আর তাঁদের হাতে দেয়া হয়েছিলো একটি চিরকুট। নির্দেশ ছিলো সিরাজুল আলম খান যখন মঞ্চ থেকে স্লোগান দেবেন সে মুহূর্তে এ চিরকুট খোলা হবে। প্রায় ১০০টি মাইক হর্ণ লাগানো বাঁশের খুঁটির গোড়ায় ছাড়াও গোটা পল্টনের বিশেষ বিশেষ জায়গায়ও বিএলএফ(BLF) সদস্যদের দায়িত্ব ভাগ করে দেয়া হয়েছিলো। নিচে, মঞ্চের সামনে, পিছনে এবং চারপাশে বিএলএফ(BLF) সদস্যরা বিশেষ নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন। সেদিন, আওয়ামী লীগের জনসভায় পুরো পল্টন জুড়ে ছিলো প্রচুর জনসমাগম। একমাত্র মসজিদটি ছাড়া তখনকার আউটার স্টেডিয়ামে আর কোনো স্থাপনা ছিলো না। পেছনে ডিআইটির দিকে বাস্কেটবল খেলার জন্য ছোটো ছোটো কাঠের গ্যালারির (স্টেডিয়াম) মতো কয়েকটি স্থাপনা ছিলো মাত্র। সেসময় পল্টন ময়দানে এক লক্ষের মতো লোকসমাগম হতে পারতো। তেমনই লোকে লোকারণ্য অবস্থায় ১৯৭০ সালের ১৮ জানুয়ারির জনসমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয়। সে মুহূর্তে ঢাকা শহরের লাখো মানুষের জনস্রোত যেন মিশে গিয়েছিলো পল্টন ময়দান (আউটার স্টেডিয়াম)। সভার বক্তৃতা মঞ্চটি ছিলো বিশেষভাবে নির্মিত বেশ কিছুটা উঁচু। মঞ্চের শামিয়ানায় আটকানো হার্ডবোর্ডের ওপর লাগানো কাঠের খণ্ডে উজ্জ্বল লাল রঙের দুটি শব্দ জয় বাংলা জ্বল জ্বল করছিলো। বেশ কিছুটা উঁচু করে মঞ্চ তৈরি করার কারণে দর্শকরা দূর থেকেও তা স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছিলেন। সভার শুরুতে তাজউদ্দীন আহমদ বক্তব্য রাখলেন। সভাপতি ছিলেন বঙ্গবন্ধু। মঞ্চে উপবিষ্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমদ, খন্দকার মোশতাক আহমেদ, ক্যাপ্টেন মনসুর আলী ও গাজী গোলাম মোস্তফা ছাড়া আর কোনো আওয়ামী লীগ নেতা ছিলেন না। তবে আওয়ামী লীগ করতেন না কিন্তু তৎকালীন আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের প্রধান কাজে সদা ব্যস্ত থাকতেন এমন একজন ব্যক্তির সেই মঞ্চে উপস্থিতি সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। আর সেই ব্যক্তিটি ছিলেন সিরাজুল আলম খান। গাজী গোলাম মোস্তফার উপর একটি দায়িত্ব দেয়া হয়েছিলো, যেভাবে হোক বঙ্গবন্ধুকে স্লোগান দেয়ার জন্য সিরাজুল আলম খানকে অনুরোধ করা। তাজউদ্দীন আহমদের বক্তব্যের পর বঙ্গবন্ধু মঞ্চে বসা অবস্থায় বললেন, সিরাজ স্লোগান দে। কথাটি বঙ্গবন্ধু দুবার বললেন। সিরাজুল আলম খানও এ মুহূর্তটির জন্য অপেক্ষা করছিলেন। যেনো অনেকটা যাদু দেখানোর মতো ভঙ্গিতে সিরাজুল আলম খান মাইকের সামনে এলেন। এসে অত্যন্ত আবেগ মিশ্রিত বলিষ্ঠ কণ্ঠে বললেন, আজকের এ দিনটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে বাংলাদেশের জন্য। প্রিয় ভাই-বোনেরা আপনারা দেখছেন ওই উপরে জ্বল জ্বল করছে দুটি শব্দ জয় বাংলা। আসুন, সাত কোটি মানুষের পক্ষ হয়ে আমরা সকলকে জানিয়ে দিতে চাই, বাঙালি আমাদের পরিচয়। আসুন, যার কণ্ঠে যতো জোর আছে সবটুকু দিয়ে আমরা একই সঙ্গে বলে উঠি, জয় বাংলা। আজ থেকে জয় বাংলাকে আমাদের ভবিষ্যৎ আন্দোলনের স্লোগান হিসেবে ব্যবহার করা হবে। আসুন, আমরা সবাই কণ্ঠে কণ্ঠ মিলিয়ে আওয়াজ তুলি জয় বাংলা। তিনি আবারো বললেন, জয় বাংলা। তখন লক্ষ কণ্ঠের সমস্বরে আকাশ থেকে বাজ পড়ার মতো কানফাটা আওয়াজে জয় বাংলা স্লোগানের ধ্বনি পল্টনকে মুখরিত করে তোলে। প্রত্যেক খুঁটির গোড়ায় চিরকুট ইতিমধ্যে খোলা হয়ে গেছে। নির্দেশ ছিলো জয় বাংলাকে প্রতিধ্বনিত করে জয় বাংলা বলা। পল্টনেই শুধু নয়, ফিরে যাবার মুহূর্তেও সকলের মুখে মুখে ধ্বনিত হচ্ছিলো জয় বাংলা! আত্মপ্রত্যয়ের এক শব্দ জয় বাংলা বাঙালি জাতির পরিচয়ের এক শব্দ জয় বাংলা যেনো একটি ব্যক্ত আবেগের শব্দ জয় বাংলা! সেই থেকে বাংলাদেশের জনগণ প্রথম জানালো তাদের আগামী দিনের স্লোগান জয় বাংলা। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, নিউক্লিয়াস (স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ)-এর সিদ্ধান্ত অনুসারে আনুষ্ঠানিকভাবে এটাই প্রথম জনসম্মুখে জয় বাংলা স্লোগানের উদ্বোধন। তাজউদ্দীন আহমদের পর একে একে বক্তৃতা দিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম, খন্দকার মোশতাক আহমেদ, ক্যাপ্টেন মনসুর আলী। সভাপতি হিসেবে এবার বক্তব্য দিবেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাও ঘোষণা করলেন সিরাজুল আলম খান। আবারো সিরাজুল আলম খান মাইকের সামনে গেলেন। ঘোষণা দিয়ে বঙ্গবন্ধুকে বক্তব্য দেয়ার জন্য আহ্বান জানালেন। এ সিরাজুল আলম খান যেন অতি পরিচিত সিরাজুল আলম খান নয়। নতুন পরিচিতি। নতুন অভিব্যক্তি। নতুন প্রকাশভঙ্গি। নতুন প্রাণশক্তি। নতুন রাজনীতির সূর্যোদয়ের আহ্বান। সিরাজুল আলম খান বঙ্গবন্ধুকে বক্তব্য দেবার আহ্বানের সময় জয় বাংলা ধ্বনি দিলেন। আবারো দিলেন, তখন সভা থেকে লক্ষ কন্ঠের প্রতিধ্বনি অনুরণিত হয়ে আকাশে গর্জনের মতো শোনা গেল। গর্জনের শব্দের তীব্রতা মুহুর্মুহু প্রতিধ্বনি হলো। সে গর্জন শেষ বিকেলের শীতল বাতাস বয়ে নিয়ে গেল গোটা ঢাকা শহরে। লক্ষাধিক বাঙালির বাঁধভাঙ্গা আবেগ আর প্রত্যাশায় এ যেনো এক নবজাগরণের ইঙ্গিত। বঙ্গবন্ধু বক্তৃতা করছেন সে সুযোগে মঞ্চে বসা খন্দকার মোশতাক আহমেদ সিরাজুল আলম খানকে কাছে ডেকে নিয়ে বললেন, ভাইডি কামডা সাইরে দিসো। তুমি বলেই পারলা। আর কেউ পারতো না! জানো সিরাজ, পৃথিবীর ইতিহাসে আর একজন মানুষ রাশিয়া বিপ্লবের স্লোগান হিসেবে দিয়েছিলো, জমি, রুটি, স্বাধীনতা! জানো সে লোকটা ক্যাডা? লেনিন, লেনিন। ইতোমধ্যে বঙ্গবন্ধুর বক্তৃতা শেষ। জনসভার লক্ষাধিক মানুষের কণ্ঠে একই শব্দ এবং আওয়াজ জয় বাংলা। মনে হচ্ছিলো সারা ঢাকা যেন নতুনভাবে জেগেছে। পাখির ডাকে নয়, গগণবিদারী গর্জনের শব্দে। আর সে শব্দ হলো জয় বাংলা। জয় বাংলা কোনো দল বা ব্যক্তির স্লোগান নয়, এ স্লোগান ছিলো বাঙালির আত্মপরিচয়ের স্লোগান, স্বাধীনতাকামী জনগণের ঐক্যের স্লোগান, অর্জিত সাহসের স্লোগান, শত্রুমুক্ত করে স্বাধীন সার্বভৌমত্ব অর্জনের স্লোগান। জয় বাংলা শুধু একটি স্লোগান নয়, একটি ইতিহাস সংগ্রাম আর ভবিষ্যতের নাম। এ স্লোগান ৭১-এ বাঙালি জাতিকে করেছিলো ঐক্যবদ্ধ আর সশস্ত্র যুদ্ধকে করেছিলো ত্বরান্বিত। এ স্লোগান কণ্ঠে নিয়ে বাঙালিরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিলো সশস্ত্র সংগ্রামে। রণাঙ্গনে বুলেটের চেয়েও শক্তিশালী ছিলো এ জয় বাংলা। এগারশবছর ধরে যে বাঙালিদের নিরস্ত্র করে রাখা হয়েছিলো স্বাধীনতা সংগ্রামের শেষ পর্যায়ে সে বাঙালিদের হাতে রাইফেল তুলে নেয়ার জন্যও জয় বাংলাস্লোগান ছিলো বীজমন্ত্র। এ বীজমন্ত্রই প্রতিটি সশস্ত্র যোদ্ধা এবং জনগণকে বীর বাঙালি অস্ত্র ধরো, বাংলাদেশ স্বাধীন করো-স্লোগানের মাধ্যমে উজ্জীবিত করেছিলো। জয় বাংলা মানে- সে সকল মানুষের জয়, যারা এ বাংলার মাটি ও মানুষকে শোষণ-নির্যাতন থেকে মুক্ত করার প্রত্যয়ে যুগে যুগে লড়াই করে হটিয়ে দিয়েছে- সেন, আর্য, সুলতান, মুঘল, পাঠান, মারাঠি, পর্তুগিজ, দিনেমার, ওলন্দাজ, ফিরিঙ্গি, বর্গি, ইংরেজ, নীলকর, কাবুলিওয়ালা, জমিদার-জোতদার, পাকিস্তানিসহ বিদেশি পরাশক্তিকে। আর বুঝিয়ে দিয়েছে জয় বাংলা শুধু সাধারণ একটি স্লোগান নয়, জয় বাংলা বাঙালির মটো (motto)। আন্দোলন-সংগ্রাম এমন কি সশস্ত্র যুদ্ধের কোথাও কোনোদিন বাঙালিরা বলেননি বাংলাদেশ জিন্দাবাদ কিংবা বাংলাদেশ চিরজীবী হোক। সময়ের ব্যবধানে সে জয় বাংলা আজ ষোল-সতের (১৬/১৭) কোটি মানুষের প্রিয় স্লোগান/ধ্বনি। বঙ্গবন্ধু তাঁর ৭ মার্চের ভাষণে জয় বাংলা স্লোগান দিয়েই বক্তব্য শেষ করেছিলেন। আজকাল দুয়েকজন আহাম্মক অতি পা-িত্য জাহির করার মধ্য দিয়ে বাঙালি বিরোধী কিছু কথা বলার চেষ্টা করছেন। তা হলো-বঙ্গবন্ধু নাকি জয় বাংলা বলার পর জয় পাকিস্তান উচ্চারণ করেছিলেন। এরা পঞ্চম বাহিনীর লোক (5th columnist) লোক। এরা পাকিস্তান থাকতে পাকিস্তানিদের দালালি করতো। মার্চ মাসের আগের দিন পর্যন্ত এরা পাকিস্তানি হয়েই কাজ করতো। সর্বশেষ না পেরে এরা বাঙালি বন্ধু হয়ে উঠেন। ৭ মার্চে বঙ্গবন্ধু কেন জয় পাকিস্তান শব্দ উচ্চারণ করবেন? ওই সময় গোটা আন্দোলন ছিলো নিউক্লিয়াস-বিএলএফ-এর হাতে। এ নিউক্লিয়াস-বিএলএফ-এর মাধ্যমেই গোটা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করা হয়েছিলো। বঙ্গবন্ধু ছিলেন স্বাধীনতাকামী জনগণের নেতা। আহাম্মকরা তাদেরকে যতোই চতুর মনে করুন না কেনো, তারা আসলে সার্কাসের ভাঁড়। লেখক: তাত্ত্বিক, রাজনৈতিক গবেষক ও মুক্তিযুদ্ধকালীন নিউক্লিয়াস-এর সদস্য সূত্র: মানবজমিন

সরকারকে শিক্ষার্থীদের কথা শুনতে হবে

কয়েক দিন ধরে যেটি ঘটছে, সেটি খুব দুর্ভাগ্যজনক। সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক হলো, যেটি খুব স্বাভাবিক, সেটিই ঘটানোর চেষ্টা করছে সন্তানরা। একটি অসম্ভব-অস্বাভাবিক ঘটনাকে স্বাভাবিক করার সংগ্রামে নেমেছে তারা। আমাদের গণপরিবহন অস্বাভাবিক গণপরিবহন। যেখানে সরকারের প্রধান ভূমিকা পালনের কথা ছিল, সেখানে ব্যক্তিগত মালিকানায় পুরো বিষয়টি তুলে দেওয়া হয়েছে। তারা শুধু লাভের আশায় নিম্নমানের গাড়ি রাস্তায় নামাচ্ছে, যার ফিটনেস নেই। রুট পারমিটও নেই অনেক গাড়ির। আমি শুনলাম, যে গাড়িটি শিক্ষার্থীদের চাপা দিয়েছে, সেটির কোনো রুট পারমিট ছিল না। কম বয়সী এবং অত্যন্ত অদক্ষ চালক দিয়ে গাড়িগুলো চালানো হয়। একটি অকারণ প্রতিযোগিতা চালু করা হয়েছে, যত বেশি ট্রিপ দেওয়া যাবে, তত বেশি লাভ হবে। এতে করে এদের হাতে মানুষকে খুন করার লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। এটি অত্যন্ত অস্বাভাবিক। পৃথিবীর কোনো দেশে এটি আমি দেখিনি। যে গতিতে, যে বেপরোয়াভাবে বাসগুলো চলে, এটি অস্বাভাবিক। যেভাবে এই চালকরা ধরা পড়ে, তখন তাদের পাশে যেভাবে ইউনিয়নগুলো দাঁড়িয়ে যায়; আমাদের নৌপরিবহনমন্ত্রী দাঁড়িয়ে যান, এটি অত্যন্ত অস্বাভাবিক। কোনো রাষ্ট্রে আমি এমনটি ঘটতে দেখিনি। এটি করলে একজন মন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে, বাধ্যতামূলকভাবে। কারণ, তিনি সরকারের একজন দায়িত্বশীল মন্ত্রী। তিনি সাংসদ, আইনপ্রণেতাও বটে। তিনি যখন আইন লঙ্ঘনকারীকে সমর্থনের জন্য দাঁড়িয়ে যান, তখন তিনি আইন চরমভাবে লঙ্ঘন করেন। আইনপ্রণেতারা কখনও আইন লঙ্ঘনকারী হতে পারেন না। এ ধরনের অস্বাভাবিক ঘটনা আমাদের দেশে স্বাভাবিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাস্তায় নেমে আমি নিরাপদে পথ চলব, এটিই স্বাভাবিক। এখন এটিই অস্বাভাবিক হয়ে গেছে। পৃথিবীর সবখানে গণপরিবহনের একটি অংশ শিক্ষার্থীদের জন্য থাকে। সেটি শুধু যুক্তরাষ্ট্রের মতো উন্নত দেশে নয়, অনুন্নত দেশেও দেখেছি। শিক্ষার্থীদের জন্য হলুদ রঙের পৃথক বাস থাকে, সেটি স্বাভাবিক। আমাদের দেশে এটি কোনোদিনও হয়নি। শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো বাস নেই। তাদের গণপরিবহনে মারামারি করে, অসম বয়সী অনেক যাত্রীর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে উঠতে হয়; এটি চূড়ান্তভাবে অস্বাভাবিক। দুটি শিশু মারা গেল, কী নিদারুণ হত্যাকাণ্ড! এটি মেনে নেওয়া এত কষ্টকর যে এই খবরটি পড়তে গিয়ে সবার চোখ জলে ভিজেছে। আমাদের মন্ত্রী এটি শুনে হাসলেন, এটি চূড়ান্তভাবে অস্বাভাবিক। এই মন্ত্রীরা, সাংসদরা, অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা গাড়ির মালিক হয়ে যাচ্ছেন; এদের না পারা যায় ছোঁয়া, না পারা যায় ধরা। এমনকি এদেরকে কোনোদিন যদি আদালতে নেওয়া হয়, তখন পক্ষে সমস্ত দেশের পরিবহন শ্রমিকরা দাঁড়িয়ে যায়। আমি একটার পর একটা অস্বাভাবিক কথা বলে যাচ্ছি। ভিআইপিদের গাড়িগুলো যখন উল্টো পথে চলে যায়, এমন অস্বাভাবিক ঘটনা পৃথিবীর কোথাও ঘটে না। ফুটপাত দখল হয়ে যায়। ধানমণ্ডির ইউল্যাব থেকে বাসা পর্যন্ত আমি গতকাল হেঁটে এলাম। দেখলাম, একটি বড় আবাসন প্রতিষ্ঠান ফুটপাত দখল করে তাদের কর্মকর্তাদের গাড়ি পার্ক করে রেখে দিয়েছে। ফুটপাতে গাড়ি, সেই গাড়ি পুলিশ ধরতে পারে না। ফুটপাতে মোটরসাইকেল উঠে যায়, সেগুলো পুলিশ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। ফুটপাতে নির্মাণসামগ্রী পড়ে থাকে, সেখানে তাদের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। এখন এই শিশু-কিশোররা রাজপথে নেমেছে অস্বাভাবিক অবস্থাকে স্বাভাবিক করতে। এটি আমার ভাবতে অবাক লাগে, যে বিষয়টি নিয়ে তাদের আন্দোলনে নামারই কথা নয়; সেই বিষয়টি নিয়ে আন্দোলন করছে তারা। কারণ, তারা একটি স্বাভাবিক অবস্থার গ্যারান্টি চাইছে। সেই তাদের ওপর কালকে দেখলাম পুলিশ লাঠিচার্জ করছে। আবারও সেই অস্বাভাবিক। স্বাভাবিক হওয়া কী উচিত ছিল? এদের সঙ্গে বসে আলাপ করা, এদের কাঁধে-মাথায় হাত রেখে বোঝানো, তাদের স্নেহ দিয়ে, ধৈর্য ধরে কথা শুনে একটি স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনা। এটিই হতো স্বাভাবিক। সেটি না হয়ে তাদের ওপর লাঠিচার্জ হয়েছে। এটি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারি না। মানছি কেন? কারণ, আমাদের প্রজন্মের আর কোনো শক্তি নেই এদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার। আমরা সবাই নানা স্বার্থের বন্ধনে আবদ্ধ। আমাদের হাত-পা-মুখ বাঁধা। আমরা লোভের কাছে বলি হয়ে গেছি। ক্ষমতা চাই। ফলে আমরা কোনোদিন কোনো প্রতিবাদ করব না। প্রতিবাদ করলে যেভাবে নিয়ন্ত্রণের খÿ নেমে আসে, তাতে অনেকেই প্রতিবাদ করার সাহসটা হারিয়ে ফেলেছে। অথচ প্রতিবাদ হওয়া উচিত ছিল। প্রতিবাদ হওয়া উচিত ছিল যারা সরকার চালাচ্ছে, তাদের ভেতর থেকে। তাদের বলা উচিত, নির্বাচন করার সময় ভোটারদের যে প্রতিশ্রুতি তারা দেন, তার বিপরীতে যাওয়ার প্রতিবাদ করা উচিত। এর আগে যখন কোটা সংস্কারের আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা নিজেদের চিন্তাভাবনায় নেমেছিল; তাদের দেশদ্রোহী, সরকারদ্রোহী হিসেবে আখ্যায়িত করতে পারলাম। কিন্তু এই শিশু-কিশোরদের কি সেই আখ্যায় আখ্যায়িত করব? এরা তো সরকারের বিরুদ্ধে সংগ্রামে নামেনি। তারা স্বাভাবিক অবস্থার গ্যারান্টির জন্য নেমেছে। এটি আসলে সরকারের পক্ষেই যাচ্ছে। তারা চাইছে স্বাভাবিক অবস্থা নিশ্চিত হোক। এটি হলে সরকারেরই লাভ। আমি মনে করি, যারা রাস্তায় নেমেছে, এদের কোনো লোভ নেই, অন্য কোনো চিন্তা নেই। তারা শুধু সহপাঠীর মৃত্যুর বেদনায় আহত হয়ে মাঠে নেমেছে। তারা এর পুনরাবৃত্তি চায় না। বয়স্ক প্রজন্ম এগুলোকে স্বাভাবিক হিসেবে ধরে নিয়েছি। কিন্তু ওরা এটাকে স্বাভাবিক হিসেবে মানতে পারছে না। আমি মনে করি, ভবিষ্যৎ কথা বলছে। যে প্রজন্ম রাস্তায় নেমেছে, তারা ভবিষ্যতের কর্ণধার। এরা যখন রাষ্ট্র পরিচালনা করবে, প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে যাবে, তখন আমি হয়তো বেঁচে থাকব না। কিন্তু ভবিষ্যৎ এরাই। এরা কথা বলছে, এদের কথা শুনতে হবে। এদের কথা শুনলে সরকার, রাষ্ট্র ও সমাজ লাভবান হবে। এদের চাহিদা সামান্য। এরা স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে আন্দোলন করছে। তারা লাইসেন্স চেক করছে, এটি তো তাদের কাজ না, এটা পুলিশের কাজ। এটা অস্বাভাবিক। যে কাজটি পুলিশের করার কথা, রাষ্ট্রের করা কথা; সেই কাজটি এই শিক্ষার্থীরা করছে। এতে প্রমাণ হয়, আমরা রাষ্ট্র হিসেবে কতখানি পিছিয়ে পড়েছি। এই ভবিষ্যতের আশা-আকাঙ্ক্ষা থেকে একটি চিত্র উঠে এসেছে। এখন পর্যন্ত স্বস্তি পাচ্ছি এই ভেবে, তাদের আন্দোলনকে সরকারবিরোধী আন্দোলন হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়নি কিংবা তাদের ওপর সরকারি বা অন্য কোনো ছাত্রসংগঠন আক্রমণ করেনি বলে। তবে আজকে (গতকাল) ঢাকা-চট্টগ্রাম হাইওয়ে পরিবহন শ্রমিকরা বাচ্চাদের গায়ে হাত তুলেছে। এই ভবিষ্যতের কথা সরকারকে শুনতেই হবে; কারণ এরাই ভবিষ্যতে ভোট দিয়ে সরকারকে নির্বাচিত করবে। সেইসঙ্গে গণপরিবহনকে সুশৃঙ্খলভাবে পুনর্গঠিত করতে হবে। আর শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথক গণপরিবহন ব্যবস্থা চালু করতে হবে। লেখক: সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, শিক্ষাবিদ

আজকের মোট পাঠক

32601

নিউজ একাত্তর ডট কম

সম্পাদক : মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন চৌধুরী

নির্বাহী সম্পাদক : আহাম্মদ হোসেন ভুইয়া

একটি পপুলার মিডিয়া পাবলিকেশন এর প্রকাশনা | রেজি নং: চ-১২৪২৭/১৭

সম্পাদকীয় ও বানিজ্যিক কার্যালয় : ৪১৬/সি,খিলগাও ঢাকা। ফোন : ০৩১-২৭৭১১৮৮, ০১৮২৪২৪৫৫০৪, ০১৭৭৮৮৮৮৪৭২

চট্টগ্রাম কার্যালয় : ১৯/২০/২১ বি ৩য় তলা, হানিমুন টাওয়ার,পাহাড়তলী,চট্টগ্রাম।

ই-মেইল : newsekattor@gmail.com, editorekattor@gmail.com, কপিরাইট ©newsekattor.com কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত