বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১৫, ২০১৮

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বন্ধুত্বের অর্থ এই নয় যে,তার দেশ ওয়াশিংটনের খেলার পুতুলে পরিণত হয়েছে!

অনলাইন ডেস্ক: ফ্রান্স মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের খেলার পুতুল নয় বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বন্ধুত্বের অর্থ এই নয় যে, তার দেশ ওয়াশিংটনের খেলার পুতুলে পরিণত হয়েছে। আমেরিকার ওপর নির্ভরশীল হওয়া ইউরোপের উচিত হবে না। ইউরোপের জন্য আলাদা বাহিনী গঠনের প্রস্তাবে ফ্রান্সকে একহাত নেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার জবাবেই এমন মন্তব্য করেন ম্যাক্রোঁ। সম্প্রতি ইউরোপের জন্য আলাদা সেনাবাহিনী গঠনের প্রস্তাব দেন ম্যাক্রোঁ। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ওয়াশিংটনের ওপর নির্ভরশীলতা বাদ দিয়ে ইউরোপের উচিত আত্মরক্ষার নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে গ্রহণ করা। ম্যাক্রোর এমন প্রস্তাবের পর ক্ষুদ্ধ হয়ে ট্রাম্প বলেন, নিজ দেশে ফরাসি প্রেসিডেন্টের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ায় তিনি ইউরোপের জন্য সেনাবাহিনী গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন। এছাড়া প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মার্কিন বাহিনীর কথিত অবদানের কথা স্মরণ করে ট্রাম্প ম্যাকরনকে বলেন, সে সময় মার্কিন বাহিনী এগিয়ে না এলে আপনাদেরকে আজ প্যারিসে বসে জার্মান ভাষা শিখতে হতো। ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের পর ফ্রান্স সরকারের মুখপাত্র বেনিয়ামিন গ্রিভক্স তার দেশের প্রেসিডেন্টকে আক্রমণ করে ট্রাম্পের দেয়া বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ফরাসি প্রেসিডেন্টের সমালোচনা না করে প্যারিসে সন্ত্রাসী হামলার বার্ষিকীকে ট্রাম্পের উচিত ছিল কিছুটা হলেও ভদ্রতা বজায় রাখা।...

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সিএনএন-এর মামলা

অনলাইন ডেস্ক :মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা করেছে সে দেশের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ক্যাবল নিউজ নেটওয়ার্ক (সিএনএন)। গত সপ্তাহে এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্পের সঙ্গে বিতর্কে জড়ানোর পর সিএনএন এর প্রধান হোয়াইট হাউজ সংবাদদাতা জিম অ্যাকোস্টার হোয়াইট হাউজে প্রবেশে মার্কিন প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা এবং তার প্রেস পাস বাতিল করা হয়। এ ঘটনার জেরে মঙ্গলবার ওয়াশিংটনের ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে এ মামলা দায়ের করা হয় বলে জানিয়েছে সিএনএন ও ওয়াশিংটন পোস্ট। মামলার বাদী হয়েছে সিএনএন এবং অ্যাকোস্টা। আর বিবাদী করা হয়েছে ছয়জনকে। এরা হলেন- প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, চিফ অব স্টাফ জন এফ কেলি, প্রেস সেক্রেটারি সারাহ স্যান্ডার্স, হোয়াইট হাউজের যোগাযোগ বিষয়ক উপ-প্রধান বিল শাইন, গোয়েন্দা পরিচালক র‌্যানডলফ অ্যালেস ও অপর এক কর্মকর্তা যিনি অ্যাকোস্টার 'হার্ড পাস' জব্দ করে নিয়ে যান। সিএনএন এক বিবৃতিতে বলেছে, অ্যাকোস্টার প্রেস পাস ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়ে মঙ্গলবার সকালে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এতে অভিযোগ করা হয়েছে, নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ট্রাম্প সিএনএন এবং সাংবাদিক অ্যাকোস্টার সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন করছেন। গত ৭নভেম্বর সাংবাদিক অ্যাকোস্টার হোয়াইট হাউজে প্রবেশের প্রেস পাস বাতিল করে ট্রাম্প প্রশাসন। যা সিক্রেট সার্ভিস 'হার্ড পাস' নামে পরিচিত। ওই দিন এক সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নত্তোর পর্বে সীমান্তে শরণার্থীদের ঢল ঠেকানোর ইস্যু থেকে শুরু করে অভিবাসন বিরোধী বিজ্ঞাপন প্রচার এমনকি ২০১৬ সালের মার্কিন নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের বিষয়টি নিয়েও ট্রাম্পকে নানা রকম প্রশ্ন করে যাচ্ছিলেন অ্যাকোস্টা। তার প্রশ্নবানে বিব্রত ট্রাম্প এক পর্যায়ে বলে ওঠেন, ‘যথেষ্ট হয়েছে। এবার মাইক্রোফোন রাখুন।’ তার এ কথার পরই হোয়াইট হাউজের এক নারী কর্মী এগিয়ে এসে অ্যাকোস্টার হাত থেকে মাইক্রোফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু অ্যাকোস্টা তাকে বাধা দেন। ট্রাম্প তাৎক্ষণিকভাবে সম্মেলনকক্ষ ছেড়ে বেরিয়ে যান। তবে একটু পরই ফিরে এসে অ্যাকোস্টাকে ‘অত্যন্ত রূঢ়’ ও ‘ভয়ঙ্কর’ বলে মন্তব্য করেন। ওই নারী কর্মীর সঙ্গে অ্যাকোস্টার আচরণকেও ‘ভয়াবহ’ বলে উল্লেখ করেন তিনি। হোয়াইট হাউজ একজন সাংবাদিকের এ ধরনের কখনো সহ্য করবে না। আর এ কারণেই তার প্রেস পাস বাতিল করা হয়েছে বলে পরে জানান হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি সারাহ স্যান্ডার্স। তবে অ্যাকোস্টাকে সমর্থন করে কথা বলেন অন্য আরেক সাংবাদিক। তিনি অ্যাকোস্টাকে ‘অত্যন্ত পরিশ্রমী একজন প্রতিবেদক’ বলে মন্তব্য করেন। সিএনএন বলেছে, অ্যাকোস্টা চ্যালেঞ্জিং সব প্রশ্ন করার কারণেই তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। অ্যাকোস্টার পক্ষ সমর্থন করেছে হোয়াইট হাউজ করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনও। তারা বুধবারের সংবাদ সম্মেলনে যা ঘটেছে তার জন্য অ্যাকোস্টার হোয়াইট হাউজে প্রবেশ নিষিদ্ধ করাকে বাড়াবাড়ি আখ্যা দিয়েছে। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সিএনএন এর মামলাকেও জোর সমর্থন দিয়েছে অ্যাসোসিয়েশন। সিএনএন এর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যত দ্রুত সম্ভব অ্যাকোস্টা যাতে সঠিক উপায়ে হোয়াইট হাউজে ফিরে আসতে পারেন, প্রাথমিকভাবে তারা সেই চেষ্টা করছেন। হোয়াইট হাউজ থেকে অ্যাকোস্টার কার্ড প্রত্যাহারের বিষয়ে আদালতের রায় চাওয়া হয়েছে।...

২ কমান্ডারসহ ৬ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করল ইসরাইলি সেনারা

অনলাইন ডেস্ক: ইহুদিবাদী ইসরাইলি সেনারা অবরুদ্ধ গাজায় অনুপ্রবেশ করে ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের একজন শীর্ষস্থানীয় কমান্ডারকে হত্যা করেছে। একইসঙ্গে ইহুদিবাদী সেনাদের আগ্রাসী হামলায় হামাসের আরেকজন স্থানীয় কমান্ডারসহ আরো পাঁচ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। হামাস রোববার এক বিবৃতিতে জানিয়ছে, ইসরাইলি বিশেষ বাহিনীর একটি দল প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে একটি বেসামরিক গাড়িতে করে গাজা উপত্যকায় অনুপ্রবেশ করে। তারা চলন্ত গাড়ি থেকে গুলি চালিয়ে হামাসের সামরিক শাখা ইজ্জাদ্দিন আল-কাস্সাম ব্রিগেডের সিনিয়র কমান্ডার নূর বারাকাকে হত্যা করে। দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস শহরের কাছে এই গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। ইসরাইল সীমান্ত থেকে গাজা উপত্যকার তিন কিলোমিটার ভেতরে এই হামলা হয় বলে হামাস জানিয়েছে। কমান্ডার নিহত হওয়ার পর হামাস যোদ্ধারা ঘাতক ইসরাইলি সেনা বহনকারী গাড়িটির ওপর হামলা চালালে দু পক্ষের মধ্যে গুলিবিনিময় শুরু হয়। এ সময় আকাশে উড়ে আসে একটি ইহুদিবাদী জঙ্গিবিমান। ইসরাইলি বিশেষ সেনা বহনকারী গাড়িটিকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করার জন্য ওই বিমান থেকে অন্তত ২০টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। এই গুলি বিনিময় ও ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে হামাসের স্থানীয় কমান্ডার মোহাম্মাদ আল-কারা সহ আরো পাঁচজন নিহত হন। ...

ভারতের প্রতিরক্ষা তথ্য তছনছে চীনের গোপন ইউনিট

অনলাইন ডেস্ক: ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো সাইবার হামলার লক্ষ্যবস্তু করতে পারে চীন। সম্ভাব্য এ সাইবার হামলার ব্যাপারে সতর্ক করেছে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। গোয়েন্দা রিপোর্ট মতে, চীনের লক্ষ্য মোটেও অস্ত্রে ঘায়েল করা নয়। প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর সাইবার হামলা চালিয়ে সব তথ্য তছনছ করে দিতে চায় দেশটি। এ লক্ষ্যে একটি গোপন সামরিক ইউনিট গড়ে তুলেছে চীনা সেনাবাহিনী পিপল’স লিবারেশন আর্মি (পিএলএ)। নাম দেয়া হয়েছে ‘ইউনিট ৬১৩৯৮’। সাইবার হামলার মাধ্যমে স্পর্শকাতর যেকোনো তথ্য হাতিয়ে নিতে পারে দলটি। শনিবার এ খবর দিয়েছে রয়টার্স। গোয়েন্দাদের দাবি, বিশ্বব্যাপী বৃহৎ পরিসরে সাইবার যুদ্ধ শুরু করেছে চীন। এ যুদ্ধের অন্যতম প্রতিপক্ষ ভারত। পিএলএর ইউনিট ৬১৩৯৮ বর্তমানে ভূ-অবস্থানগত গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, বিভিন্ন তথ্যসূত্র ট্র্যাকিং বা শনাক্তকরণ, উৎসগুলোতে ঢুকে পড়ে তথ্য চুরির সঙ্গে জড়িত রয়েছে। ইউনিটটির সদর দফতর সাংহাইয়ে। চীনের গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ ইউনিটে প্রস্তুত একদল হ্যাকারও। এর আগেও বিদেশি সংস্থায় হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে এই ইউনিটের বিরুদ্ধে। তাই আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছে না ভারত। বিভিন্ন ম্যালওয়্যারের সাহায্যে মূলত তথ্য চুরি করে এই ইউনিট। এরা চীনা সেনার স্ট্র্যাটেজিক ফোর্সের অংশ। গেল অক্টোবরেই যুক্তরাষ্ট্র অভিযোগ আনে, জেট ইঞ্জিন ডেটা হ্যাক করেছেন চীনা গোয়েন্দা কর্মকর্তরা। ভারত সম্প্রতি দেশের মাটিতে বেশ কয়েকটি এয়ারক্রাফট তৈরি করেছে। সদ্য জলে নেমেছে নিউক্লিয়ার সাবমেরিন। তাই ভারতের সামরিক শক্তিতে চীনের নজর বাড়ছে বলে মনে করছেন ভারতীয় গোয়েন্দারা। সম্প্রতি চীনা সেনাবাহিনীর এই বিশেষ ইউনিট বিশ্বজুড়ে সাইবার-গুপ্তচরবৃত্তি চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠলে তা অস্বীকার করে চীনা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। এর আগে আমেরিকাভিত্তিক একটি কম্পিউটার নিরাপত্তা সংস্থা দাবি করেছিল তারা আন্তর্জাতিক একটি হ্যাকিং সিস্টেমের সঙ্গে সাংহাইয়ের একটি সামরিক ইউনিটের যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছে। কিন্তু চীন বলছে, এ অভিযোগের স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ নেই। আর তা ছাড়া হ্যাকিং কাকে বলে, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সেরকম কোনো সংজ্ঞাও নেই। চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে যে জবাব দেয়া হয়, তার প্রধান যুক্তি- সাইবার জগতে যারা হামলা চালায় তারা প্রায়শই তাদের নাম-পরিচয় গোপন রাখে। তারা বলছে, যে ইন্টারনেট ঠিকানা থেকে এসব হামলা চালানো হয়েছে তার সঙ্গে চীনের যোগাযোগটি মার্কিন কম্পিউটার কোম্পানি ম্যানডিয়েন্ট প্রমাণ করতে পারেনি। শীর্ষ নিউজ...

আমি উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখছি :অর্থমন্ত্রী

অনলাইন :অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, আমাদের ভোটাররা সচেতন। তারা যে ভুল করবে না, সে ব্যাপারে আমি খুবই নিশ্চিত। তারা নিজের পায়ে কুড়াল মারবে না। আমি উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখছি। সোমবার রাতে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিঅার) ট্যাক্স কার্ড ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। ২০১৭-১৮ করবর্ষের জন্য ৬৫৬ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে শীর্ষ করদাতা হিসেবে নির্বাচিত করে এনবিআর। গত ১ নভেম্বর এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে অর্থ মন্ত্রণালয়। ৩৬ ক্যাটাগরিতে কেন্দ্রীয়ভাবে সেরা ১৪১ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের হাতে ট্যাক্স কার্ড তুলে দেয়া হয় এ অনুষ্ঠানে। এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান ও এফবিসিসিআই সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন। অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা আশা করেছিলাম, আমাদের যে অভ্যন্তরীণ সম্পদ আছে তার তুলনায় বাজেটের আকার ২৩ থেকে ২৪ শতাংশ করা গেলে বিরাট পরিবর্তন আসবে। এখনো চেষ্টা করছি। এটা করতেই থাকবো। অর্থ প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, এনবিঅার করদাতাদের উদ্বুদ্ধ করতে যে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার এতে স্বাগত জানায়। এতে করে কর প্রদান অারও সহজ ও গ্রহণযোগ্য হবে। বিশেষ সম্মাননা ক্যাটাগরিতে সেরা করদাতা সম্মাননা পেলেন পেয়েছেন একুশে টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রধান সম্পাদক মনজুরুল আহসান বুলবুল। সাংবাদিক ক্যাটাগরিতে সেরা করদাতা হিসেবে সম্মাননা পেয়েছেন দৈনিক প্রথম আলোর সম্পাদক ও প্রকাশক মতিউর রহমান, ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহ্ফুজ আনাম, চট্টগ্রামের দৈনিক আজাদীর সম্পাদক মোহাম্মদ আবদুল মালেক, বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক নঈম নিজাম ও চ্যানেল আইয়ের পরিচালক ও বার্তা প্রধান শাইখ সিরাজ। সিনিয়র সিটিজেন ক্যাটাগরিতে ট্যাক্স কার্ড পেয়েছেন গোলাম দস্তগীর গাজী, তপন চৌধুরী, ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার বদরুল হাসান, স্যামুয়েল এস চৌধুরী ও অনিতা চৌধুরী। অন্যদিকে তরুণ ক্যাটাগরিতে কার্ড পেয়েছেন গাজী গোলাম মর্তুজা, নাফিস সিকদার, মো. আমজাদ খান, মো. হাসান ও মো. জুলফিকার হোসেন মাসুদ রানা। গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা ক্যাটাগরিতে কার্ড পাওয়া ব্যক্তিরা হলেন লে. জেনারেল (অব.) আবুল সালেহ মো. নাসিম, মো. নাসির উদ্দিন মৃধা, ইদ্রিস আলী মিয়া, এস এম আবদুল ওয়াহাব ও মো. আতাউর রউফ। প্রতিবন্ধী ক্যাটাগরিতে কার্ড পেয়েছেন সুকর্ণ ঘোষ, কাজী আখতার হোসেন ও ডা. মামুনুর রশিদ। নারী ক্যাটাগরিতে কার্ড পেয়েছেন রুবাইয়াত ফারজানা হোসেন, রত্না পাত্র, পারভীন হাসান, নিশাত ফারজানা চৌধুরী, মাহমুদা আলী শিকদার। ব্যবসায়ী ক্যাটাগরিতে কার্ড পেয়েছেন মো. কাউছ মিঞা, মো. নুরুজ্জামান খান, কামরুল আশরাফ খান, সৈয়দ আবুল হোসেন ও আবদুল কাদির মোল্লা। বেতনভোগী ক্যাটাগরিতে এই কার্ড পেয়েছেন লায়লা হোসেন, মো. ইউসুফ, হোসনে আরা হোসেন, খাজা তাজমহল, এম এ হায়দার হোসেন। পেশাজীবীদের মধ্যে চিকিৎসক ক্যাটাগরিতে অধ্যাপক ডা. এ কে এম ফজলুল হক, অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত, ডা জাহাঙ্গীর কবির, অধ্যাপক ডা. মো. নূরুল ইসলাম ও ডা. এন এ এম মোমেনুজ্জামান; আইনজীবী ক্যাটাগরিতে ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস, আহসানুল করিম, অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম, কাজী মো. তানজীবুল আলম ও ব্যারিস্টার নিহাদ কবীর; প্রকৌশলী ক্যাটাগরিতে মো. আনোয়ার হোসেন, হাফিজুর রহমান ও হামিদুল হক; স্থপতি ক্যাটাগরিতে ফয়েজ উল্লাহ, হাসান সামস্ উদ্দীন ও ইকবাল হাবিব এবং অ্যাকাউন্ট্যান্ট ক্যাটাগরিতে মোক্তার হোসেন, এ বি এম লুৎফুল হাদী ও বিমলেন্দু চক্রবর্তী এই ট্যাক্স কার্ড পেয়েছেন। নতুন করদাতা হিসেবে ট্যাক্স কার্ড পেয়েছেন মনিকা রফিকুলোভনা, তাফিজুল ইসলাম পিয়াল, রানা মালিক, ছিয়াতুন নেছা, সেলিনা আক্তার, সাইফুল ইসলাম ও রাসেল রায়; খেলোয়াড় ক্যাটাগরিতে সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল ও মাশরাফি বিন মর্তুজা; অভিনেতা-অভিনেত্রী ক্যাটাগরিতে মাহফুজ আহমেদ, এম এ জলিল অনন্ত ও এস এ আবুল হায়াত; শিল্পী ক্যাটাগরিতে তাহসান রহমান খান, রুনা লায়লা ও এস ডি রুবেল এবং অন্যান্য ক্যাটাগরিতে সদর উদ্দিন খান, আবু মো. জিয়াউদ্দিন খান ও নজরুল ইসলাম মজুমদার পেয়েছেন ট্যাক্স কার্ড। এর বাইরে প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে ব্যাংকিং খাতে ইসলামী ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক, দি হংকং অ্যান্ড সাংহাই ব্যাংকিং করপোরেশন লি. (এইচএসবিসি), সাউথইস্ট ব্যাংক ও পূবালী ব্যাংক। অ-ব্যাংকিং আর্থিক খাতে আইডিএলসি ফাইন্যান্স লি, ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফাইন্যান্স ফান্ড লি. ও উত্তরা ফিন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লি। টেলিযোগাযোগ খাতে গ্রামীণফোন, প্রকৌশল খাতে বিএসআরএম স্টিলস লি, পিএইচপি কোল্ড রোলিং মিলস লি, পিএইচপি নফ কন্টিনিউয়াস গ্যালভানাইজিং মিলস লি। খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতে নেসলে বাংলাদেশ লি., অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ লি., ট্রান্সকম বেভারেজেস লি.। জ্বালানি খাতে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লি., সিলেট গ্যাস ফিল্ড লি., শেভরন বাংলাদেশ ব্লকস থারটিন অ্যান্ড ফোরটিন লি.। পাট শিল্প খাতে জনতা জুট মিলস লি., সুপার জুট মিলস লি., ওআইয়ান জুট মিলস লি. এবং স্পিনিং ও টেক্সটাইল খাতে কোটস বাংলাদেশ লি., এপেক্স টেক্সটাইল প্রিন্টিং মিলস লি., বাদশা টেক্সাটাইল লি., স্কয়ার টেক্সটাইল লি., এনভয় টেক্সটাইল লি., ফখরুদ্দিন টেক্সটাইল মিলস লি., স্কয়ার ফ্যাশান ইয়ার্নস লি. পেয়েছে ট্যাক্স কার্ড। প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে আরও ট্যাক্স কার্ড পাওয়া প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে ওষুধ ও রসায়ন খাতে ইউনিলিভার বাংলাদেশ লি., স্কয়ার ফার্মাসিটিক্যালস লি., রেনাটা ফার্মাসিউটিক্যালস লি., ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস লি.। প্রিন্ট ও ইলেট্রনিক মিডিয়া খাতে ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লি., ট্রান্সক্রাফট লি., মিডিয়া ওয়ার্ল্ড লি. ও মিডিয়া স্টার লি.। আবাসন খাতে স্পেসজিরো লি., বে ডেভেলপমেন্টস লি. ও স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার্স লি.। চামড়া শিল্প খাতে বাটা সু, অ্যাপেক্স ফুটওয়্যার ও লালমাই ফুটওয়্যার। তৈরি পোশাক শিল্প খাতে রিফাত গার্মেন্টস লি., জিএমএস কম্পোজিট, দ্যাটস ইট স্পোর্টস ওয়্যার, ফোর এইচ ফ্যাশন, কেডিএস গার্মেন্ট, অ্যাপেক্স লেনজারি এবং অন্যান্য খাতের মধ্যে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো, মেটলাইফ, লাফার্জহোলসিম ও নিটল মোটরস লি.। এছাড়াও ফার্ম ক্যাটাগরিতে ওয়ালটন মাইক্রোটেক করপোরেশন, এস এন করপোরেশন, ওয়ালটন প্লাজা ও এ এস বি এস ট্যাক্স কার্ড পেয়েছে। সম্মাননা হিসেবে পাওয়া ট্যাক্স কার্ডের মেয়াদ থাকবে এক বছর। কার্ডপ্রাপ্তরা বিভিন্ন ধরনের রাষ্ট্রীয় সুবিধা পাবেন। কার্ডধারীরা রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণসহ সড়ক, বিমান ও নদীপথে ভ্রমণে অগ্রাধিকারভিত্তিতে টিকেট পাবেন। একইসঙ্গে হোটেল-রেঁস্তোরায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সেবা পাবেন। তারা সুযোগ পাবেন বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহারের। ট্যাক্স কার্ডধারী ব্যক্তি ও তার পরিবার চিকিৎসায় হাসপাতালে অগ্রাধিকারভিত্তিতে শয্যা সুবিধা পাবেন।...

প্রাথমিক শিক্ষা হচ্ছে আলোকিত জাতি গঠনের প্রধান ভিত্তি :মিসেস রিজিয়া রেজা চৌধুরী

চট্টগ্রাম-১৫ সাতকানিয়া লোহাগাড়া আসনের সংসদ সদস্য প্রফেসর ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী’র সহধর্মিনী ও কেন্দ্রীয় মহিলা আওয়ামীলীগের সদস্য মিসেস রিজিয়া রেজা চৌধুরী বলেন, গত এক দশকে শিক্ষার সর্বস্তরেই চোখে পড়ার মতো অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। শিক্ষার এই ব্যাপক অগ্রগতি ও সক্ষমতা অর্জন অর্থনীতির ভিত্কেও করেছে মজবুত ও টেকসই এবং দেশকে বিশ্বের বুকে দিয়েছে পৃথক পরিচিতি। সরকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন সাধন করেছে। তিনি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা হচ্ছে আলোকিত জাতি গঠনের প্রধান ভিত্তি। বঙ্গবন্ধু ৩৭ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে প্রাথমিক শিক্ষার ভিত তৈরী করেছিলেন, আর পূর্ণতা দিয়েছেন তাঁর সুযোগ্য কন্যা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রাথমিক শিক্ষার অগ্রগতি সাধনে ভৌত অবকাঠামোসহ বহুমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছেন। যার সুফল জাতি ইতিমধ্যে পেতে শুরু করেছে। তিনি সাতকানিয়া-লোহাগাড়ার অবকাঠামোগত উন্নয়নে গত ৫ বছরে ২ হাজার কোটি টাকার উন্নয়নের কথা উল্লেখ করে বলেন, উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার স্বার্থে আগামী নির্বাচনে আওয়ামীলীগকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করতে আওয়ামীলীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতা কর্মীদের ক্ষুদ্র মতপার্থক্যতা ভুলে ঐক্যবদ্ধ থাকার কোন বিকল্প নেই। তিনি গত ১৩ নভেম্বর ২০১৮ ইং সাতকানিয়া পৌরসভা ৮নং ওয়ার্ডের গোয়াজর পাড়া দক্ষিণ ঢেমশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবনের ভিত্তির প্রস্তর স্থাপন, মা সমাবেশ, পুরস্কার বিতরন ও বিদায় অনুষ্ঠানে উপরোক্ত কথাগুলো বলেন। স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি ফয়েজ আহমদ লিটনের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মাঝে বক্তব্য রাখেন পরিচালনা কমিটির সহসভাপতি মোহাম্মদ নুরুল হক, প্রধান শিক্ষিকা খালেদা আক্তার, কাউন্সিলর শিকু আরা ব্গেম প্রমুখ।প্রেস বিজ্ঞপ্তি ...

প্রতিবাদ বিজ্ঞপ্তি

সম্প্রতি কয়েকটি অনলাইন পোর্টালে (সন্ত্রাসী ভাইদের রক্ষায় পেশকার ভাইয়ের ক্যারিশমা) নামক প্রকাশিত সংবাদটির আমি আবুল কালাম আজাদের দৃষ্টি গোচর হওয়ায় আমি উক্ত প্রকাশিত সংবাটির তিব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। উক্ত সংবাদে উল্লেখিত ঘটনাবলী বা বিষয়াবলী সম্পূর্ন কাল্পনিকজনক অভান্তর,উদ্দেশ্য প্রনোদিত,মনগড়া,ভুল তথ্য নির্ভর , প্রভাবিত ও মান হানিজনক বটে। উক্ত সংবাদে আমাকে হেয় করা,আমার ভাইদেরকে সন্ত্রাসী বানানো সম্পূর্ন অসৎ উদ্দেশ্য হাসিলের ও বিজ্ঞ আদালতে বিচারাধীন মামলায় অবৈধ হস্তক্ষেপের লক্ষন। মূলত আমার গ্রামের বাড়ীতে আমাদের পৈতৃক জায়গা সম্পত্তি নিয়ে দির্ঘদিন যাবত এলাকার কিছু ভূমিদস্যু ও সন্ত্রসীদের সাথে আমাদের বিরোধের কারনে উক্ত সন্ত্রাসীদের সন্ত্রসী হামলায় আমার এক ভাই আবদুস ছালাম সিকদার ২০১২ ইং সালে মারাত্বক আহত হলে ও আমার আপন ভাই মোঃ আলমগীরের স্কুল পড়য়া মেয়েকে উক্ত ভূমিদস্যু ও সন্ত্রসীরা অপহরন করিয়া নিয়ে যাবার পর ধর্ষন করার কারনে সংশ্লিষ্ট থানা ও বিজ্ঞ আদালতে একাধিক মামলা মোকদ্দমার সৃষ্টি হয়। উক্ত মামলা গুলো এখনো বিজ্ঞ আদালতে বিচারাধিন রয়েছে। এলাকার ভূমিদস্যু ও সন্ত্রাসীদের দ্বারায় তাদের অসৎ উদ্দেশ্যে আমার ভাইদের বিরুদ্ধে রুজুকৃত মিথ্যা মামলা হইতে আমার ভাইগন আইনগত ভাবে খালাশ পেয়েছেন। বিজ্ঞ আদালতের নথী গায়েব বা তদবির বাজী করা সম্পূর্ন কাল্পনিক। বর্তমান সময়ে সরকারের তথ্য প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে মুষ্ঠিমেয় কিছু ভুইফোর ও অনিবন্ধীত অনলাইন পোর্টালের সাংবাদিক পরিচয় দেয়া ব্যক্তিদের হয়রানীতে চট্টগ্রামের আদালত ভবনের কর্মকর্তা কর্মচারীরা অতিষ্ঠ। উক্ত কথিত সাংবাদিকদের অনৈতিক দাবী না মেটালে তারা যে কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে মনগড়া ও তথ্য বিহিন সংবাদ প্রকাশ করে সম্মান নষ্ট করে থাকেন। উক্ত প্রকাশিত সংবাদটি ও ঠিক একই রকম এবং আমার প্রতিপক্ষ দ্বারা প্রভাবিত হয়ে উক্ত মিথ্যা সংবাদটি প্রকাশ করা হয়েছে। আমি আমার চাকুরী জীবনে যথটুকু সম্ভব সততা ও স্বচ্চতার মাধ্যমে দায়ীত্ব পালন করেছি এবং আমার পরিবার সহ যে কোন ব্যক্তির অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছি। অতএব, আমি ইতি মধ্যে বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালে প্রকাশিত সংবাদের তিব্র প্রতিবাদ জানাই। উক্ত সংবাদে উল্লেখিত ঘটনাবলীর যাবতীয় কাগজ পত্র আমার কাছে রক্ষিত আছে। বিজ্ঞাপন ...

প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে চট্টগ্রামে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির আনন্দ মিছিল

বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারিদের জন্য বৈশাখী ভাতা ও ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট দেয়ার ঘোষণায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়ে মঙ্গলবার (১৩ নভেম্বর) সকালে চট্টগ্রাম মহানগরীতে আন্দরকিল্লাস্থ চত্বরে আনন্দ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ শিক্ষক সিমিতি চট্টগ্রাম আঞ্চলিক শাখা। আজ মঙ্গলবার (১৩ নভেম্বর) সকালে নগরীর আন্দরকিল্লাস্থ চত্বরে এ সমাবেশ হয়েছে। সমাবেশ শেষে আনন্দ মিছিলে মহানগর ও জলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষকরা অংশগ্রহণ করেন। বাশিস, চট্টগ্রাম আঞ্চলিক শাখার সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ লকিতুল্লাহর সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন বাশিস কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি রনজিৎ কুমার নাথ। মুখ্য আলোচক ছিলেন চট্টগ্রাম আঞ্চলিক শাখার সাধারণ সম্পাদক অঞ্চল চৌধুরী। সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শিমুল মহাজনের সঞ্চালনায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আঞ্চলিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে শান্তিরঞ্জন চক্রবর্ত্তী, আকম শহীদুল্লাহ মানিক, সৃষ্টিব্রত পাল, মহানগরীর সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ কানুনগো, দেবেশ দাস, ভানু দে, বিচিত্রা চৌধুরী, উপজেলা/থানা নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন উত্তম দাশ, আব্দুল মালেক, আমির হোসেন, মাকসুদুল করিম, মুকুল ভট্টাচার্য, মোঃ আহসান প্রমুখ। সভায় শিক্ষক নেতৃবৃন্দ বর্তমান শিক্ষা বান্ধব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানান। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষনায় শিক্ষক সমিতির দীর্ঘ আন্দোলনের ফসল। তিনি সঠিক সময়ে এ ঘোষণা প্রদান করেছেন। বক্তারা প্রধানমন্ত্রীর এ ঘোষণা শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণে এক ধাপ এগিয়ে গেলো বলে উল্লেখ করেন। তাছাড়া জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০ বাস্তবায়ন ও মাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণ নির্বাচনি ইশতেহারে সংযোজনের আহ্বান জানান। আন্দরকিল্লা চত্বরে সমাবেশ শেষে আনন্দ মিছিল নগরীর রাজপথ প্রদক্ষিণ শেষে প্রেস ক্লাব চত্বরে সম্পন্ন হয়। প্রেস বিজ্ঞপ্তি ...

মানুষের কল্যাণই বড় সমাজসেবা :ড. নিছার উদ্দীন আহমেদ মঞ্জু

চট্টগ্রাম সাহিত্য পাঠচক্রের উদ্যোগে ফুলকলির জেনারেল ম্যানেজার সমাজসেবক এম,এ,সবুরের মাতা মরিয়ম খাতুন স্মরণ এক স্মরণ আলোচনা, দোয়া মাহফিল ও দুঃস্থ পরিবারের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ অনুষ্ঠান সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক ডাঃ জামাল উদ্দীনের সভাপতিত্বে সম্প্রতি বিকেলে নগরীর তনজিমুল মোছলেমিন এতিমখানায় অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র ড. নিছার উদ্দীন আহমেদ মঞ্জু। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট কেন্দ্রীয় কমিটির শিল্প ও বাণিজ্য সম্পাদক আলহাজ্ব মোঃ আজাদ খান, সাবেকমন্ত্রী জহুর আহমদ চৌধুরীর কনিষ্ঠ সন্তান শরফুদ্দীন চৌধুরী রাজু, তনজিমুল মোছলেমিন এতিমখানার তত্ত্বাবধায়ক হাফেজ মোঃ আমানউল্লাহ, লেখক এম,এ,সবুর, রাজনীতিবিদ জসিম উদ্দীন চৌধুরী, চট্টগ্রাম সাহিত্য পাঠচক্রের সাধারণ সম্পাদক আসিফ ইকবাল, জাকির হোসেন, মোঃ রানা প্রমুখ। দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন হাফেজ ফজলুল হক। সভায় প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে মরহুম মরিয়ম খাতুন আজ আমাদের মাঝে নেই কিন্তু তার পরকালের আত্মার মাগফেরাত কামনার জন্য আমাদেরকে ভালো ও কল্যাণমূলক কাজ করতে হবে। তিনি বলেন মরহুমা মরিয়ম খাতুন তাঁর সুযোগ্য সন্তানরা রেখে গেছেন। যারা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠিত ও শিক্ষিত। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন মরহুমের স্বজন আজকে সেলাই মেশিন বিতরণের মত যে মহৎ উদ্যোগ নিয়েছে তা ভবিষ্যতে আর বৃহত্তরভাবে করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি আরো বলেন, মানুষের কল্যাণই বড় সমাজসেবা, বড় কর্ম। সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য এভাবে আমাদেরকে বিশেষ সংগঠনসমূহকে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি সেলাই মেশিন বিতরণের মহৎ উদ্যোগের জন্য চট্টগ্রাম সাহিত্য পাঠচক্র ধন্যবাদ ও এরকম কার্যক্রম চালু রাখার আহবান জানান। সভা শেষে একজন দুঃস্থ এতিম পরিবারের মাঝে একটি সেলাই মেশিন বিতরণ করেন প্রধান অতিথিসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ।প্রেস বিজ্ঞপ্তি ...

আমি উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখছি :অর্থমন্ত্রী

অনলাইন :অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, আমাদের ভোটাররা সচেতন। তারা যে ভুল করবে না, সে ব্যাপারে আমি খুবই নিশ্চিত। তারা নিজের পায়ে কুড়াল মারবে না। আমি উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখছি। সোমবার রাতে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিঅার) ট্যাক্স কার্ড ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। ২০১৭-১৮ করবর্ষের জন্য ৬৫৬ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে শীর্ষ করদাতা হিসেবে নির্বাচিত করে এনবিআর। গত ১ নভেম্বর এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে অর্থ মন্ত্রণালয়। ৩৬ ক্যাটাগরিতে কেন্দ্রীয়ভাবে সেরা ১৪১ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের হাতে ট্যাক্স কার্ড তুলে দেয়া হয় এ অনুষ্ঠানে। এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান ও এফবিসিসিআই সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন। অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা আশা করেছিলাম, আমাদের যে অভ্যন্তরীণ সম্পদ আছে তার তুলনায় বাজেটের আকার ২৩ থেকে ২৪ শতাংশ করা গেলে বিরাট পরিবর্তন আসবে। এখনো চেষ্টা করছি। এটা করতেই থাকবো। অর্থ প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, এনবিঅার করদাতাদের উদ্বুদ্ধ করতে যে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার এতে স্বাগত জানায়। এতে করে কর প্রদান অারও সহজ ও গ্রহণযোগ্য হবে। বিশেষ সম্মাননা ক্যাটাগরিতে সেরা করদাতা সম্মাননা পেলেন পেয়েছেন একুশে টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রধান সম্পাদক মনজুরুল আহসান বুলবুল। সাংবাদিক ক্যাটাগরিতে সেরা করদাতা হিসেবে সম্মাননা পেয়েছেন দৈনিক প্রথম আলোর সম্পাদক ও প্রকাশক মতিউর রহমান, ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহ্ফুজ আনাম, চট্টগ্রামের দৈনিক আজাদীর সম্পাদক মোহাম্মদ আবদুল মালেক, বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক নঈম নিজাম ও চ্যানেল আইয়ের পরিচালক ও বার্তা প্রধান শাইখ সিরাজ। সিনিয়র সিটিজেন ক্যাটাগরিতে ট্যাক্স কার্ড পেয়েছেন গোলাম দস্তগীর গাজী, তপন চৌধুরী, ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার বদরুল হাসান, স্যামুয়েল এস চৌধুরী ও অনিতা চৌধুরী। অন্যদিকে তরুণ ক্যাটাগরিতে কার্ড পেয়েছেন গাজী গোলাম মর্তুজা, নাফিস সিকদার, মো. আমজাদ খান, মো. হাসান ও মো. জুলফিকার হোসেন মাসুদ রানা। গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা ক্যাটাগরিতে কার্ড পাওয়া ব্যক্তিরা হলেন লে. জেনারেল (অব.) আবুল সালেহ মো. নাসিম, মো. নাসির উদ্দিন মৃধা, ইদ্রিস আলী মিয়া, এস এম আবদুল ওয়াহাব ও মো. আতাউর রউফ। প্রতিবন্ধী ক্যাটাগরিতে কার্ড পেয়েছেন সুকর্ণ ঘোষ, কাজী আখতার হোসেন ও ডা. মামুনুর রশিদ। নারী ক্যাটাগরিতে কার্ড পেয়েছেন রুবাইয়াত ফারজানা হোসেন, রত্না পাত্র, পারভীন হাসান, নিশাত ফারজানা চৌধুরী, মাহমুদা আলী শিকদার। ব্যবসায়ী ক্যাটাগরিতে কার্ড পেয়েছেন মো. কাউছ মিঞা, মো. নুরুজ্জামান খান, কামরুল আশরাফ খান, সৈয়দ আবুল হোসেন ও আবদুল কাদির মোল্লা। বেতনভোগী ক্যাটাগরিতে এই কার্ড পেয়েছেন লায়লা হোসেন, মো. ইউসুফ, হোসনে আরা হোসেন, খাজা তাজমহল, এম এ হায়দার হোসেন। পেশাজীবীদের মধ্যে চিকিৎসক ক্যাটাগরিতে অধ্যাপক ডা. এ কে এম ফজলুল হক, অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত, ডা জাহাঙ্গীর কবির, অধ্যাপক ডা. মো. নূরুল ইসলাম ও ডা. এন এ এম মোমেনুজ্জামান; আইনজীবী ক্যাটাগরিতে ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস, আহসানুল করিম, অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম, কাজী মো. তানজীবুল আলম ও ব্যারিস্টার নিহাদ কবীর; প্রকৌশলী ক্যাটাগরিতে মো. আনোয়ার হোসেন, হাফিজুর রহমান ও হামিদুল হক; স্থপতি ক্যাটাগরিতে ফয়েজ উল্লাহ, হাসান সামস্ উদ্দীন ও ইকবাল হাবিব এবং অ্যাকাউন্ট্যান্ট ক্যাটাগরিতে মোক্তার হোসেন, এ বি এম লুৎফুল হাদী ও বিমলেন্দু চক্রবর্তী এই ট্যাক্স কার্ড পেয়েছেন। নতুন করদাতা হিসেবে ট্যাক্স কার্ড পেয়েছেন মনিকা রফিকুলোভনা, তাফিজুল ইসলাম পিয়াল, রানা মালিক, ছিয়াতুন নেছা, সেলিনা আক্তার, সাইফুল ইসলাম ও রাসেল রায়; খেলোয়াড় ক্যাটাগরিতে সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল ও মাশরাফি বিন মর্তুজা; অভিনেতা-অভিনেত্রী ক্যাটাগরিতে মাহফুজ আহমেদ, এম এ জলিল অনন্ত ও এস এ আবুল হায়াত; শিল্পী ক্যাটাগরিতে তাহসান রহমান খান, রুনা লায়লা ও এস ডি রুবেল এবং অন্যান্য ক্যাটাগরিতে সদর উদ্দিন খান, আবু মো. জিয়াউদ্দিন খান ও নজরুল ইসলাম মজুমদার পেয়েছেন ট্যাক্স কার্ড। এর বাইরে প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে ব্যাংকিং খাতে ইসলামী ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক, দি হংকং অ্যান্ড সাংহাই ব্যাংকিং করপোরেশন লি. (এইচএসবিসি), সাউথইস্ট ব্যাংক ও পূবালী ব্যাংক। অ-ব্যাংকিং আর্থিক খাতে আইডিএলসি ফাইন্যান্স লি, ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফাইন্যান্স ফান্ড লি. ও উত্তরা ফিন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লি। টেলিযোগাযোগ খাতে গ্রামীণফোন, প্রকৌশল খাতে বিএসআরএম স্টিলস লি, পিএইচপি কোল্ড রোলিং মিলস লি, পিএইচপি নফ কন্টিনিউয়াস গ্যালভানাইজিং মিলস লি। খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতে নেসলে বাংলাদেশ লি., অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ লি., ট্রান্সকম বেভারেজেস লি.। জ্বালানি খাতে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লি., সিলেট গ্যাস ফিল্ড লি., শেভরন বাংলাদেশ ব্লকস থারটিন অ্যান্ড ফোরটিন লি.। পাট শিল্প খাতে জনতা জুট মিলস লি., সুপার জুট মিলস লি., ওআইয়ান জুট মিলস লি. এবং স্পিনিং ও টেক্সটাইল খাতে কোটস বাংলাদেশ লি., এপেক্স টেক্সটাইল প্রিন্টিং মিলস লি., বাদশা টেক্সাটাইল লি., স্কয়ার টেক্সটাইল লি., এনভয় টেক্সটাইল লি., ফখরুদ্দিন টেক্সটাইল মিলস লি., স্কয়ার ফ্যাশান ইয়ার্নস লি. পেয়েছে ট্যাক্স কার্ড। প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে আরও ট্যাক্স কার্ড পাওয়া প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে ওষুধ ও রসায়ন খাতে ইউনিলিভার বাংলাদেশ লি., স্কয়ার ফার্মাসিটিক্যালস লি., রেনাটা ফার্মাসিউটিক্যালস লি., ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস লি.। প্রিন্ট ও ইলেট্রনিক মিডিয়া খাতে ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লি., ট্রান্সক্রাফট লি., মিডিয়া ওয়ার্ল্ড লি. ও মিডিয়া স্টার লি.। আবাসন খাতে স্পেসজিরো লি., বে ডেভেলপমেন্টস লি. ও স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার্স লি.। চামড়া শিল্প খাতে বাটা সু, অ্যাপেক্স ফুটওয়্যার ও লালমাই ফুটওয়্যার। তৈরি পোশাক শিল্প খাতে রিফাত গার্মেন্টস লি., জিএমএস কম্পোজিট, দ্যাটস ইট স্পোর্টস ওয়্যার, ফোর এইচ ফ্যাশন, কেডিএস গার্মেন্ট, অ্যাপেক্স লেনজারি এবং অন্যান্য খাতের মধ্যে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো, মেটলাইফ, লাফার্জহোলসিম ও নিটল মোটরস লি.। এছাড়াও ফার্ম ক্যাটাগরিতে ওয়ালটন মাইক্রোটেক করপোরেশন, এস এন করপোরেশন, ওয়ালটন প্লাজা ও এ এস বি এস ট্যাক্স কার্ড পেয়েছে। সম্মাননা হিসেবে পাওয়া ট্যাক্স কার্ডের মেয়াদ থাকবে এক বছর। কার্ডপ্রাপ্তরা বিভিন্ন ধরনের রাষ্ট্রীয় সুবিধা পাবেন। কার্ডধারীরা রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণসহ সড়ক, বিমান ও নদীপথে ভ্রমণে অগ্রাধিকারভিত্তিতে টিকেট পাবেন। একইসঙ্গে হোটেল-রেঁস্তোরায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সেবা পাবেন। তারা সুযোগ পাবেন বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহারের। ট্যাক্স কার্ডধারী ব্যক্তি ও তার পরিবার চিকিৎসায় হাসপাতালে অগ্রাধিকারভিত্তিতে শয্যা সুবিধা পাবেন।...

৪০তম বিসিএসের আবেদন প্রক্রিয়া শেষ হচ্ছে আজ

অনলাইন ডেস্ক: ৪০তম বিসিএসের অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া আজ (বৃহস্পতিবার) শেষ হচ্ছে। সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। অনলাইনে bpsc.teletalk.com.bd বা bpsc.gov.bd ওয়েবসাইটের বিপিএসসি-১ ফরম পূরণ করে আবেদন করতে হবে। অনলাইন আবেদন শেষে ৭২ ঘন্টার মধ্যে টেলিটক মোবাইলের মাধ্যমে আবেদন ফি জমা দিতে হবে। আবেদন ফি জমা দেয়ার সময় শেষ হবে ১৮ নভেম্বর সন্ধ্যা ৬টায়। বিভিন্ন ক্যাডারে এক হাজার ৯০৩টি শূন্য পদে নিয়োগের জন্য সেপ্টেম্বরে ৪০তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে সরকারি কর্ম কমিশন। এর মধ্যে সাধারণ ক্যাডারে ৪৬৫ জন, প্রফেশনাল/ টেকনিক্যাল ক্যাডারে ৫৬৮ জন, শিক্ষা ক্যাডারে ৮৭০ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয় ৩০ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায়। এবার আবেদনের জন্য প্রায় দেড় মাস সময় পেয়েছেন প্রার্থীরা। ইতিমধ্যে যারা অনলাইনে আবেদনের সময় ভুল করেছেন তাদের নতুন করে আবেদনের সুযোগ দেয়া হয়েছে। তাদেরও আজ সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে।...

৪ অক্টোবরের-রবিবারের জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা শুক্রবার

অনলাইন ডেস্ক: অনিবার্য কারণে আগামীকাল রবিবারের (৪ অক্টোবর) অষ্টম শ্রেণির জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। রবিবার জেএসসি-জেডিসিতে যেসব পরীক্ষা ছিল, তা আগামী শুক্রবার নেওয়া হবে। সেদিন সকাল নয়টা থেকে পরীক্ষা নেয়া হবে। গত বৃহস্পতিবার শুরু হয় জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা। সারাদেশে এবার ২৬ লাখ ৭০ হাজার ৩৩৩ জন পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে ১৪ লাখ ৪৬ হাজার ৬০১ জন ছাত্রী এবং ১২ লাখ ২৩ হাজার ৭৩২ জন ছাত্র। এবার ছাত্রীর সংখ্যা বেড়েছে ২ লাখ ২২ হাজার ৮৬৯ জন। ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত দুই হাজার ৯০৩টি কেন্দ্রে পরীক্ষা নিচ্ছে তারা। কিন্তু পরীক্ষা শুরুর প্রথম দিনেই সারা দেশে ৪৩ হাজার ৬৪২ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। আর প্রথম দিন বহিষ্কার করা হয় ১৯ জন পরীক্ষার্থীকে।...

জিম্বাবুয়েকে ২১৮ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে সিরিজ ১-১ সমতায় বাংলাদেশ

অনলাইন ডেস্ক: মেহেদী হাসান মিরাজের দারুণ বোলিংয়ে ঢাকা টেস্টে জিম্বাবুয়েকে ২১৮ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে দুই ম্যাচের সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ করেছে বাংলাদেশ। ৪৪৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করা জিম্বাবুয়ে পঞ্চম দিনের দ্বিতীয় সেশনের শুরুতে ২২৪ রান তুলে থামে। পেসার রেগিস চাকাভা ইনজুরিতে থাকায় ব্যাট হাতে নামতে পারেননি। ফলে সফরকারীরা ৯ উইকেট হারানোর পরই জয় নিশ্চিত হয়ে যায় বাংলাদেশের। বড় লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে দুই উইকেটে ৭৬ রান সংগ্রহ করে চতুর্থ দিনের খেলা শেষ করেছিল জিম্বাবুয়ে। আজ পঞ্চম দিনে ৭ উইকেট প্রয়োজন ছিল বাংলাদেশের। প্রথম সেশনে মোস্তাফিজুর রহমান আর তাইজুল ইসলাম একটি করে উইকেট নেন। মোস্তাফিজ ফেরান শন উইলিয়ামসকে (১৩)। সিকান্দার রাজার (১২) উইকেটটি নেন তাইজুল। মধ্যাহ্ন বিরতির পর এক স্পেলেই জিম্বাবুয়েকে গুঁড়িয়ে দেন মিরাজ। পিটার মুর (১৩), ডোনাল্ড তিরিপানো (০) আর ব্র্যান্ডন মাভুতা (০) আর কাইল জারভিসকে (০) তুলে নিয়ে বাংলাদেশকে বড় জয় এনে দেন এই অফস্পিনার। ৫ উইকেট নিয়ে স্বাগতিকদের পক্ষে সফল বোলার তিনিই। এছাড়া তাইজুল নিয়েছেন ২ উইকেট। মুশফিকুর রহিমের অনবদ্য ডাবল সেঞ্চুরি আর মুমিনুল হকের সেঞ্চুরিতে ৭ উইকেটে ৫২২ রান তুলে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করেছিল বাংলাদেশ। জবাবে ব্রেন্ডন টেলরের শতকের পরও ৩০৪ রানে অলআউট হয়ে ফলোঅনে পড়ে জিম্বাবুয়ে। তবে তাদের দ্বিতীয়বার ব্যাটিংয়ে না পাঠিয়ে লিটন-ইমরুলকে ব্যাট হাতে পাঠিয়ে দেন টাইগার অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। নিজে তুলে নেন ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টেস্ট সেঞ্চুরি। এরপর ৬ উইকেটে ২২৪ রান তুলে দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করেন তিনি। সংক্ষিপ্ত স্কোর বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ৫২২/৭ ডি. জিম্বাবুয়ে প্রথম ইনিংস: ৩০৪ বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস: ২২৪/৬ ডি. জিম্বাবুয়ে দ্বিতীয় ইনিংস: ২২৪ (টেলর ১০৬*, ব্রায়ান চারি ৪৩, মাসাকাদজা ২৫, উইলিয়ামস ১৩; মেহেদী মিরাজ ৫/৩৮, তাইজুল ২/৯৩, মোস্তাফিজ ১/১৯) ফল: বাংলাদেশ ২১৮ রানে জয়ী সিরিজ: ১-১ সমতায় শেষ।...

আজ জিম্বাবুয়ে শিবিরে প্রথম আঘাতটা হেনেছেন মোস্তাফিজুর রহমান

অনলাইন ডেস্ক: ঢাকা টেস্টে ৪৪৩ রানের লক্ষ্যে পঞ্চম ও শেষ দিনে ব্যাট করছে জিম্বাবুয়ে। আজ জিম্বাবুয়ে শিবিরে প্রথম আঘাতটা হেনেছেন মোস্তাফিজুর রহমান। শন উইলিয়ামসকে ফিরিয়ে ২৯ রানের তৃতীয় উইকেট জুটি ভেঙেছেন তিনি। বাঁহাতি পেসারের গুড লেংথ বল ডিফেন্ড করতে চেয়েছিলেন উইলিয়ামস। কিন্তু ব্যাট বলের লাইনে নিতে পারেননি। বল আঘাত করে অফ স্টাম্পে। ম্যাচে মোস্তাফিজের এটি প্রথম উইকেট। উইলিয়ামস ৩৩ বলে ১৩ রান করে ফেরার সময় জিম্বাবুয়ের স্কোর ৩ উইকেটে ৯৯ রান। ব্রেন্ডন টেলরের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন সিকান্দার রাজা। জয়ের জন্য বাংলাদেশের চাই আর ৭ উইকেট। সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে ৪৪৩ রানের বড় লক্ষ্য তাড়ায় চতুর্থ দিন শেষে জিম্বাবুয়ের সংগ্রহ ছিল ২ উইকেটে ৭৬ রান। জয়ের জন্য শেষ দিনে ৩৬৭ রান করতে হবে জিম্বাবুয়েকে, বাংলাদেশের চাই ৭ উইকেট। চোট পাওয়া টেন্ডাই চাতারা প্রথম ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নামেননি। দ্বিতীয় ইনিংসেও তিনি ব্যাটিংয়ে না নামলে বাংলাদেশের ৬ উইকেট নিলেই জয় নিশ্চিত হবে। ব্রেন্ডন টেলর ৪ ও শন উইলিয়ামস ২ রান নিয়ে শেষ দিনে ব্যাটিংয়ে নেমেছেন। মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দিনের খেলা শুরু হয়েছে সকাল সাড়ে নয়টায়। চতুর্থ দিন শেষে বাংলাদেশ ১ম ইনিংস : ৫২২/৭ ডিক্লে. জিম্বাবুয়ে ১ম ইনিংস : ৩০৪ বাংলাদেশ ২য় ইনিংস : ২২৪/৬ ডিক্লে. জিম্বাবুয়ে ২য় ইনিংস : (লক্ষ্য ৪৪৩) ৭৬/২।...

হিরো আলম এমপি হতে চাইলে সবার মাথা ব্যাথা বেড়ে যায় !

অনলাইন ডেস্ক: অন্য সেলিব্রেটিরা এমপি হতে চাইলে কারও মাথা ব্যাথা হয় না, কিন্ত হিরো আলম এমপি হতে চাইলে সবার মাথা ব্যাথা বেড়ে যায়। অনেকেই আমাকে বিভিন্ন কথা বলবে। তাদের কথা শুনলে আমি এমপিও হতে পারব না মন্ত্রীও হতে পারব না। ফেসবুক লাইভে এমনটাই ক্ষোভ প্রকাশ করেন হিরো আলম বলেন, স্বপ্ন দেখা সহজ বাস্তব করা কঠিন। তিনি বলেন, আমি একদিক দিয়ে দুর্বল সেটা হলো আমার চেহারা। আমি দেখতে খারাপ। বড় বড় সেলিব্রেটিরা চেহারা সুন্দর বলেই কি তারা এই জায়গায় আসতে পারবে আমার চেহারা সুন্দর না বলে কি আমি এমপি মন্ত্রী পদে আসতে পারবনা। আমাদের মিডিয়ায় কেউ সিলিব্রেটি হলে, তাকে নিয়ে কথা হবেই। আমি হিরো এটা আমার একটা পরিচয়, আবার রাজনীতি আমার আরেকটা পরিচয়। কেউ এটা নেগেটিভলি নেবে আবার কেউ পজেটিভলি নেবে সেটা তাদের ব্যাপার। আবার অনেকে বলে হিরো আলম ঠিকমত কথা বলতে পারেনা সে কেন এমপি হবে। আমি তাদের বলতে চাই আপনারা যেভাবে সুযোগ সুবিধা পেয়েছেন হিরো আলম সেইভাবে সুযোগ সুবিধা পেলে আজ আপনাদের মত ভাল প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া করত। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আলোচিত হিরো আলম জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন ফরম কিনেছেন তিনি। মনোনয়নপত্র কিনে আবারো ব্যাপকভাবে আলোচনায়ে এসেছেন কেবল ব্যবসায়ী থেকে উঠে এসে বলিউড অভিনেতা বনে যাওয়া আশরাফুল হোসেন আলম ওরফে হিরো আলম। এর আগে গতকাল সোমবার তিনি বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনে সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পাটির লাঙল মার্কায় নির্বাচন করার জন্য মনোনয়নপত্র কেনেন। জানা গেছে, মঙ্গলবার দলের কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে সেই মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন তিনি।...

কঙ্কনি রীতি মেনে বিয়ে করলেন রণবীর-দীপিকা

অনলাইন ডেস্ক: ইতালির লেক কোমোয় গতকাল বুধবার কঙ্কনি রীতি মেনে বিয়ে করলেন দীপিকা পাড়ুকোন এবং রণবীর সিং। ক্যামেরার ঝলকানি রুখতে আঁটোসাঁটো নিরাপত্তা ব্যবস্থার আয়োজন করেছিলেন পাত্র-পাত্রী। তবে ফটো সাংবাদিকদের নজর এড়ায় কে? শেষমেশ সামনে এল বেশ কিছু ছবি। তাতে ফুটে উঠেছে দীপিকা-রণবীরের বিয়ের কিছু মুহূর্ত। বিয়ের মূল অনুষ্ঠানের দিকে এগিয়ে চলেছেন অতিথিরা। কড়া নিরাপত্তার মোড়কে বিয়ের অনুষ্ঠানটি সারতে স্থানীয় ইতালীয় নিরাপত্তা সংস্থাকেই বেছে নিয়েছেন দীপিকা-রণবীরের পরিবার। তবে অতিথিদের মোবাইল ফোনের ক্যামেরা স্টিকার দিয়ে আটকে দেওয়া হয়েছে, যাতে কেউ গোপনে ছবি তুলতে না পারেন। বলিউড ফোটোগ্রাফার ভাইরাল ভয়ানি একটি ছবি শেয়ার করেছেন তাঁর ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইলে। যে ছবিতে বোট থেকে নেমেই বিয়ের আসরের দিকে হেঁটে যাচ্ছেন দীপিকার মা উজালা পাড়ুকোন এবং বোন অনিশা পাড়ুকোন। শাল মুড়ি দিয়ে বিয়ের আসরে হেঁটে-চলে বেড়াচ্ছেন কন্যার বাবা প্রকাশ পাড়ুকোন। পাত্র রণবীর সিংয়ের দিদি ঋতিকা ভবনানিকেও দেখা গিয়েছে খোশমেজাজে মূল অনুষ্ঠানের দিকে এগিয়ে যেতে। গোটা পাত্রপক্ষ বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য অপেক্ষায় রয়েছেন ইতালির লেক কোমোয় ভিলা দেল বালবিয়ানেলোতে। পাত্র রণবীরও রয়েছেন এ ছবিতে। রয়েছেন রণবীরের বাবা জগজিৎ সিং ভবনানিও। বিয়ের পর খোশমেজাজে নবদম্পতি। বিয়ের ঠিক পরেই দীপিকা এবং রণবীরের এই ছবিটিই সামনে এসেছে। পাত্র রণবীরের পরনে সোনার কাজ করা শেরওয়ানি। তবে পাত্রী দীপিকার একটিও ছবি এখনও পর্যন্ত চোখে পড়েনি।...

শত বছরের পুরোনো দুর্গাবাড়ী

বাঙালি হিন্দু সমাজের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয়া দুর্গোৎসব। আর এই পুজোয় আপনিও ঘুরে আসতে পারেন সিলেটের শত বছরের পুরোনো দুর্গাবাড়ী থেকে। আর খরচের কথা ভাবছেন, মাত্র ৮০০ টাকা।শোনা যায় কলকাতার পাথরঘাটা নামক স্থানের এক সম্ভ্রান্ত জমিদার এই দুর্গাবাড়ী প্রতিষ্ঠান করেন। এই ব্যাপারে ব্রজেন্দ্র নারায়ণ চৌধুরী সম্পাদিত স্মৃতি প্রতিতি নামক বই এ উল্লেখ আছে। ব্রজেন্দ্র নারায়ণ চৌধুরী ছিলেন সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের প্রতিষ্ঠাতা। স্বদেশি আন্দোলনে অনেক বীর এখানে এসে মায়ের পায়ে নিজের রক্ত দিয়ে প্রতিজ্ঞা করতেন নিজের আদর্শ থেকে এক চুলও বিচ্যুত হবেন না। স্বদেশকে পরাধীনতা থেকে মুক্ত করেই তবে ঘরে ফিরবেন।টিলার ওপর মূল মন্দির অবস্থিত। অর্ধশত সিঁড়ি ডিঙিয়ে আপনাকে পৌঁছাতে হবে মূল মন্দিরে। মূল মন্দিরে স্থাপিত দুর্গা প্রতিমা শত বছর ধরে পুজিত হয়ে আসছেন। পাশেই আছে আপনার বসার জন্য জায়গা। এর সাথেই আছে শিব মন্দির। টিলার থেকে দূরের দৃশ্য আপনাকে অভিভূত করবে। পূজার সময় ধূপ-ধূনার মোহনীয় গন্ধ আপনাকে নিয়ে যাবে এক অন্য জগতে।কীভাবে যাবেন,দুর্গাবাড়ী মন্দির যেতে হলে আপনাকে বাস/টেনে করে আসতে হবে সিলেট শহরে। প্রতিদিন ঢাকা থেকে সিলেটের উদ্দেশে বাস/ট্রেন ছাড়ে, ভাড়া পড়বে ৩২০ টাকা থেকে এক হাজার ২০০ টাকা। সিলেট শহরের যেকোনো প্রান্ত থেকে দুর্গাবাড়ী যাব বললেই আপনাকে নিয়ে যাবে শত বছরের পুরোনো দুর্গাবাড়িতে। রিকশা/সিএনজি ভাড়া নেবে ৮০ থেকে ১৫০ টাকা।...

ঈদের ছুটিতে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে

বর্ষা মৌসুম তারপরও ঈদের ছুটিতে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে ছুটে আসছেন পর্যটকরা। তাদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত কক্সবাজার। সৈকত শহরের ৪ শতাধিক হোটেল-মোটেল-গেষ্টহাউজ ও কটেজ কর্তৃপক্ষের প্রস্তুতিও শেষ। আর পর্যটকদের নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশও। রমজানে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার পর্যটক শূন্য থাকলেও ঈদের ছুটিতে ভ্রমণ পিপাসুদের ঢল নামে এই সৈকতে। বর্ষা মৌসুম হওয়ায় প্রথমে পর্যটকের সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল কক্সবাজারে। তবে সব আশঙ্কাকে উড়িয়ে দিয়ে এরই মধ্যে হোটেল-মোটেল-গেস্ট হাউস ও কটেজের প্রায় ৮০ শতাংশ কক্ষ বুকড হয়ে গেছে। আর ব্যবসায়ীরাও নতুন সাজে সাজিয়েছেন তাদের প্রতিষ্ঠান। হোটেল কর্তৃপক্ষও পর্যটকদের নানান সুযোগ-সুবিধা দেয়াসহ শেষ করছে যাবতীয় প্রস্তুতি। তারা আশা , প্রতি বছরেই মতো এবারও ঈদের ছুটিতে ভালো ব্যবসা হবে। বর্ষা মৌসুম তাই সাগর উত্তাল থাকবে। এক্ষেত্রে অনাকাঙ্কিত দুর্ঘটনা এড়াতে পর্যটকদের সমুদ্রে স্নান ও নিরাপত্তায় কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানালেন হোটেল ওনার্স এসোসিয়েশনের এ নেতা। কক্সবাজার হোটেল ওনার্স এসোসিয়েশনের মুখপাত্র মো. সাখাওয়াত হোসাইন জানান, 'সমুদ্র উত্তাল থাকবে। এখানে লাইফগার্ড ও পুলিশ ট্যুরিস্টদের তৎপরতাটা বৃদ্ধি করলে আমার মনে হয়, যারা কক্সবাজারে আসবেন তারা নিবিঘ্নে এখান থেকে ফিরতে পারবেন।' আর ট্যুরিস্ট পুলিশের এ কর্মকর্তা জানালেন, ঈদের ছুটিতে পর্যটকরা যাতে স্বাচ্ছন্দ্যে কক্সবাজার ভ্রমণ করতে পারে সেজন্য সব ধরণের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।...

চট্টগ্রামের ১৬ সংসদীয় আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মনোনয়ন নিয়েছেন যারা

অনলাইন :একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬ সংসদীয় আসনে আওয়ামী লীগের ২২৫ এবং বিএনপির ৯৭ জন এ পর্যন্ত মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলা কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।সূত্র : মানবজমিন।আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা উপকমিটির সদস্য আরশেদুল আলম বাচ্চু জানান, চট্টগ্রামের ১৬ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীর সংখ্যা ২২৫ জন। যা প্রতিটি আসনে গড়ে ১৪ জনে পৌছেছে। এরমধ্যে আওয়ামী লীগের সবচেয়ে বেশি মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী-বাকলিয়া) আসনে। এখানে মনোনয়ন প্রত্যাশীর সংখ্যা ২৬ জন। এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন ৫ জন। এরা হলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন, একই আসনে ২০০৮ সালে বিএনপির প্রার্থী ও নির্বাহী কমিটির সদস্য শামসুল আলম, তাঁর ছেলে মো. শোয়েব রিয়াদ, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, মহানগর মহিলা দলের সিনিয়র সহ সভাপতি বেগম ফাতেমা বাদশা। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, নগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি, সিডিএ চেয়ারম্যান মো. আবদুচ ছালাম, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সহসভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী, পিপি অ্যাডভোকেট এম এ নাসের, কাউন্সিলর তারেক সোলায়মান সেলিম, কোতোয়ালি থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাসান মনসুর রয়েছেন। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের বাকলিয়া-কোতোয়ালীর ১৫ থেকে ২৩ ও ৩১ থেকে ৩৫ নং ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত আসনটি চট্টগ্রামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদার আসন হিসেবে বিবেচিত। এরপর চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) সংসদীয় আসনে বিএনপির মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন ১১ জন। এরা হলেন- বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, শহীদ সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর স্ত্রী ফারহাত কাদের চৌধুরী, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা গোলাম আকবর খোন্দকার, সাবেক এমপি ও মহিলা কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি বেগম নুরী আরা ছাফা, ফটিকছড়ি উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ ছালাউদ্দিন, চট্টগ্রাম পেশাজীবী সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সিভিল সার্জন ডা. খুরশীদ জামিল চৌধুরী, সাবেক পিজিআর প্রধান কর্নেল (অব.) আজিমুল্লাহ বাহার চৌধুরী, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সাবেক বিচারপতি ফয়সল মাহমুদ ফয়জী, বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক কাদের গণি চৌধুরী, সরোয়ার আলমগীর, চসিকের কাউন্সিলর জেসমিনা খানম ও শিল্পপতি রফিকুল আলম চৌধুরী। এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন এ টি এম পেয়ারুল ইসলাম, প্রয়াত সংসদ সদস্য রফিকুল আনোয়ারের মেয়ে খাদিজাতুল আনোয়ার সনি, তরুণ আইনজীবী ব্যারিস্টার তানজীব উল আলমসহ ২৫ জন। চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া আংশিক) আসনে বিএনপির মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ডা. মোহসিন জিল্লুর করিম, যুব বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক এহছানুল মৌলা, সাতকানিয়া উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি সালাউদ্দিন, মোক্তার আহমেদ ও চন্দনাইশ পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি নুরুল আনোয়ার চৌধুরী। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম চৌধুরী, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমানসহ ২৩ জন। চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া ও বোয়ালখালীর শ্রীপুর-খরণদ্বীপ ইউপি) আসনে বিএনপির মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, তাঁর ভাতিজা শহীদ সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরী, অধ্যাপক ইউনুছ চৌধুরী, কুতুব উদ্দিন বাহার, ইলিয়াছ চৌধুরী, আবু আহমেদ হাসনাত, মোহাম্মদ আইয়ুব, জসিম উদ্দিন চৌধুরী, উত্তর জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক এস এ মুরাদ চৌধুরী ও এডভোকেট রেজাউল করিম রেজাসহ ১১ জন। আর আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য ড. হাছান মাহমুদ, বিএমএ নেতা ডা. ফয়সল ইকবাল চৌধুরী, প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা সাদেক চৌধুরীর ছোট ভাই ওসমান গণি চৌধুরীসহ চার জন। চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন দলটির ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, গোলাম আকবর খোন্দকার, হুম্মাম কাদের চৌধুরী, উত্তর জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জসিম সিকদার ও এডভোকেট ফরিদা আকতার। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী, ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটনসহ চার জন। চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন, তাঁর পুত্র ব্যরিস্টার মীর হেলাল উদ্দিন, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা এস এম ফজলুল হক, ব্যরিস্টার শাকিলা ফারজানা, নগর বিএনপির সহ-সভাপতি সৈয়দ আজম উদ্দিন। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এম এ সালাম ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইউনূস গণি চৌধুরী, নগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সদস্য মাহমুদ সালাহউদ্দিন চৌধুরীসহ ১০ জন। চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং) আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ও সাবেক যুবদল নেতা কাজী বেলাল উদ্দীন, নগর যুবদলের সভাপতি মোশারফ হোসেন দিপ্তী। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য ডা. আফছারুল আমিন, বিএনপির সাবেক মেয়র এম মনজুর আলম, নগর যুবলীগের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন বাচ্চু এবং যুগ্ম আহ্বায়ক ফরিদ মাহমুদসহ ১৬ জন। চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসন থেকে বিএনপির মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য এম এ লতিফ, নগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি খোরশেদ আলম সুজন ও আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চুসহ ১৭ জন। চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও) আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মোরশেদ খান, মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি আবু সুফিয়ান ও এরশাদ উল্লাহ। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমেদ, সিডিএ চেয়ারম্যান মো. আবদুচ ছালামসহ ১৭ জন। চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা) আসনে বিএনপির মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আলহাজ আলী আব্বাস, আবু মোহাম্মদ নিপার, মোস্তাফিজুর রহমান ও দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সম্পাদক সালাউদ্দিন সুমন। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ওয়াসিকা আয়শা খানসহ চার জন। চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুন্ড-কাট্টলী) আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও দলের যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরী, নগর যুবদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন দিপ্তি, আহমেদুল আলম চৌধুরী রাসেল, সাবেক সচিব ও আইজিপি এ আই ওয়াই বি সিদ্দিকী, এ কে এম আবু তাহের বিএসসি, উত্তর জেলা কৃষক দলের সভাপতি ইসহাক কাদের চৌধুরী, পারভেজ মুন্না, মোহাম্মদ ফেরদৌস মুন্না ও দিদারুল আলম দিদার। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য দিদারুল আলম, উত্তর জেলা যুবলীগের সভাপতি এস এম আল মামুন, কেন্দ্রীয় কৃষকলীগের সদস্য মোস্তফা কামাল, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল বাকের ভূঁইয়াসহ ১৭ জন। চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গাজী শাহজাহান জুয়েল, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সৈয়দ সাদাত আহমদ, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও সাবেক পটিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ইদ্রিস মিয়া, এনামুল হক এনাম ও দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সাইফুদ্দীন সালাম মিঠু। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য শামসুল হক চৌধুরী, যুবলীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বদিউল আলম, সাবেক সংসদ সদস্য চেমন আরা তৈয়ব, বিজিএমইএ নেতা মোহাম্মদ নাছিরসহ ৯ জন। চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি শেখ মো. মহিউদ্দীন, প্রচার সম্পাদক নাজমুল মোস্তফা আমিন, স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক মুজিবুর রহমান, দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আবদুল গফফার চৌধুরী এবং তাঁর ছেলে তরুণ আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ ওসমান চৌধুরী, দক্ষিণ জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক জান্নাতুল নাঈম চৌধুরী রিকু। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামউদ্দিন নদভী, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপপ্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি আবু সুফিয়ান, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাঈনুদ্দিন হাসান চৌধুরীসহ ১৮ জন। চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ জাফরুল ইসলাম চৌধুরী, সহ সভাপতি এডভোকেট ইফতেখার হোসেন চৌধুরী মহসিন, সাবেক পৌর মেয়র ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক কামরুল ইসলাম হোসাইনী, মহিলা দল নেত্রী মাহমুদা সুলতানা চৌধুরী ঝর্ণা প্রমুখ। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী, দৈনিক পূর্বদেশের সম্পাদক মুজিবুর রহমান, শিল্পপতি আবদুল্লাহ কবির লিটনসহ ১২ জন । চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনের জন্য বিএনপির মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন সাবেক এমপি এম. এ জিন্নাহ, মেজর জেনারেল (অব.) জেড এ খান, মুক্তিযোদ্ধা দলের কেন্দ্রীয় নেতা মনিরুল ইসলাম ইউসুফ, উপজেলা বিএনপি আহ্বায়ক নুরুল আমিন, উপজেলা চেয়ারম্যান নুরুল আমিন, মেজর (অব.) নুরুল মোস্তফা, সাহেদুল ইসলাম চৌধুরী, আতিকুল ইসলাম লতিফী, সাবেক ছাত্রদল নেতা সরোয়ার উদ্দিন সেলিম, ড. এম এম এমরান চৌধুরী, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শহীদুল ইসলাম চৌধুরী, ফখরুল ইসলাম ও আজিজুর রহমান চৌধুরী। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি গিয়াস উদ্দিন ও সদস্য মাহবুব উর রহমান রুহেল এবং ব্যবসায়ী নিয়াজ মোর্শেদ এলিটসহ ৯ জন। চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য মোস্তফা কামাল পাশা, উত্তর জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি ফোরকান উদ্দিন রিজভী, উপজেলা বিএনপি সদস্য নুরুল মোস্তফা খোকন, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা কামাল পাশা বাবুল, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন, এডভোকেট আবদুল হামিদ ও কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য আশরাফ উদ্দিন জনি। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য মাহফুজুর রহমান মিতাসহ ১৪ জন।...

চট্টগ্রামের ১৬ সংসদীয় আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মনোনয়ন নিয়েছেন যারা

অনলাইন :একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬ সংসদীয় আসনে আওয়ামী লীগের ২২৫ এবং বিএনপির ৯৭ জন এ পর্যন্ত মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলা কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।সূত্র : মানবজমিন।আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা উপকমিটির সদস্য আরশেদুল আলম বাচ্চু জানান, চট্টগ্রামের ১৬ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীর সংখ্যা ২২৫ জন। যা প্রতিটি আসনে গড়ে ১৪ জনে পৌছেছে। এরমধ্যে আওয়ামী লীগের সবচেয়ে বেশি মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী-বাকলিয়া) আসনে। এখানে মনোনয়ন প্রত্যাশীর সংখ্যা ২৬ জন। এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন ৫ জন। এরা হলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন, একই আসনে ২০০৮ সালে বিএনপির প্রার্থী ও নির্বাহী কমিটির সদস্য শামসুল আলম, তাঁর ছেলে মো. শোয়েব রিয়াদ, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, মহানগর মহিলা দলের সিনিয়র সহ সভাপতি বেগম ফাতেমা বাদশা। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, নগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি, সিডিএ চেয়ারম্যান মো. আবদুচ ছালাম, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সহসভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী, পিপি অ্যাডভোকেট এম এ নাসের, কাউন্সিলর তারেক সোলায়মান সেলিম, কোতোয়ালি থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাসান মনসুর রয়েছেন। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের বাকলিয়া-কোতোয়ালীর ১৫ থেকে ২৩ ও ৩১ থেকে ৩৫ নং ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত আসনটি চট্টগ্রামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদার আসন হিসেবে বিবেচিত। এরপর চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) সংসদীয় আসনে বিএনপির মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন ১১ জন। এরা হলেন- বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, শহীদ সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর স্ত্রী ফারহাত কাদের চৌধুরী, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা গোলাম আকবর খোন্দকার, সাবেক এমপি ও মহিলা কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি বেগম নুরী আরা ছাফা, ফটিকছড়ি উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ ছালাউদ্দিন, চট্টগ্রাম পেশাজীবী সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সিভিল সার্জন ডা. খুরশীদ জামিল চৌধুরী, সাবেক পিজিআর প্রধান কর্নেল (অব.) আজিমুল্লাহ বাহার চৌধুরী, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সাবেক বিচারপতি ফয়সল মাহমুদ ফয়জী, বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক কাদের গণি চৌধুরী, সরোয়ার আলমগীর, চসিকের কাউন্সিলর জেসমিনা খানম ও শিল্পপতি রফিকুল আলম চৌধুরী। এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন এ টি এম পেয়ারুল ইসলাম, প্রয়াত সংসদ সদস্য রফিকুল আনোয়ারের মেয়ে খাদিজাতুল আনোয়ার সনি, তরুণ আইনজীবী ব্যারিস্টার তানজীব উল আলমসহ ২৫ জন। চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া আংশিক) আসনে বিএনপির মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ডা. মোহসিন জিল্লুর করিম, যুব বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক এহছানুল মৌলা, সাতকানিয়া উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি সালাউদ্দিন, মোক্তার আহমেদ ও চন্দনাইশ পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি নুরুল আনোয়ার চৌধুরী। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম চৌধুরী, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমানসহ ২৩ জন। চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া ও বোয়ালখালীর শ্রীপুর-খরণদ্বীপ ইউপি) আসনে বিএনপির মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, তাঁর ভাতিজা শহীদ সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরী, অধ্যাপক ইউনুছ চৌধুরী, কুতুব উদ্দিন বাহার, ইলিয়াছ চৌধুরী, আবু আহমেদ হাসনাত, মোহাম্মদ আইয়ুব, জসিম উদ্দিন চৌধুরী, উত্তর জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক এস এ মুরাদ চৌধুরী ও এডভোকেট রেজাউল করিম রেজাসহ ১১ জন। আর আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য ড. হাছান মাহমুদ, বিএমএ নেতা ডা. ফয়সল ইকবাল চৌধুরী, প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা সাদেক চৌধুরীর ছোট ভাই ওসমান গণি চৌধুরীসহ চার জন। চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন দলটির ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, গোলাম আকবর খোন্দকার, হুম্মাম কাদের চৌধুরী, উত্তর জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জসিম সিকদার ও এডভোকেট ফরিদা আকতার। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী, ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটনসহ চার জন। চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন, তাঁর পুত্র ব্যরিস্টার মীর হেলাল উদ্দিন, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা এস এম ফজলুল হক, ব্যরিস্টার শাকিলা ফারজানা, নগর বিএনপির সহ-সভাপতি সৈয়দ আজম উদ্দিন। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এম এ সালাম ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইউনূস গণি চৌধুরী, নগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সদস্য মাহমুদ সালাহউদ্দিন চৌধুরীসহ ১০ জন। চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং) আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ও সাবেক যুবদল নেতা কাজী বেলাল উদ্দীন, নগর যুবদলের সভাপতি মোশারফ হোসেন দিপ্তী। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য ডা. আফছারুল আমিন, বিএনপির সাবেক মেয়র এম মনজুর আলম, নগর যুবলীগের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন বাচ্চু এবং যুগ্ম আহ্বায়ক ফরিদ মাহমুদসহ ১৬ জন। চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসন থেকে বিএনপির মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য এম এ লতিফ, নগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি খোরশেদ আলম সুজন ও আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চুসহ ১৭ জন। চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও) আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মোরশেদ খান, মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি আবু সুফিয়ান ও এরশাদ উল্লাহ। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমেদ, সিডিএ চেয়ারম্যান মো. আবদুচ ছালামসহ ১৭ জন। চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা) আসনে বিএনপির মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আলহাজ আলী আব্বাস, আবু মোহাম্মদ নিপার, মোস্তাফিজুর রহমান ও দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সম্পাদক সালাউদ্দিন সুমন। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ওয়াসিকা আয়শা খানসহ চার জন। চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুন্ড-কাট্টলী) আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও দলের যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরী, নগর যুবদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন দিপ্তি, আহমেদুল আলম চৌধুরী রাসেল, সাবেক সচিব ও আইজিপি এ আই ওয়াই বি সিদ্দিকী, এ কে এম আবু তাহের বিএসসি, উত্তর জেলা কৃষক দলের সভাপতি ইসহাক কাদের চৌধুরী, পারভেজ মুন্না, মোহাম্মদ ফেরদৌস মুন্না ও দিদারুল আলম দিদার। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য দিদারুল আলম, উত্তর জেলা যুবলীগের সভাপতি এস এম আল মামুন, কেন্দ্রীয় কৃষকলীগের সদস্য মোস্তফা কামাল, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল বাকের ভূঁইয়াসহ ১৭ জন। চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গাজী শাহজাহান জুয়েল, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সৈয়দ সাদাত আহমদ, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও সাবেক পটিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ইদ্রিস মিয়া, এনামুল হক এনাম ও দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সাইফুদ্দীন সালাম মিঠু। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য শামসুল হক চৌধুরী, যুবলীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বদিউল আলম, সাবেক সংসদ সদস্য চেমন আরা তৈয়ব, বিজিএমইএ নেতা মোহাম্মদ নাছিরসহ ৯ জন। চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি শেখ মো. মহিউদ্দীন, প্রচার সম্পাদক নাজমুল মোস্তফা আমিন, স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক মুজিবুর রহমান, দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আবদুল গফফার চৌধুরী এবং তাঁর ছেলে তরুণ আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ ওসমান চৌধুরী, দক্ষিণ জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক জান্নাতুল নাঈম চৌধুরী রিকু। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামউদ্দিন নদভী, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপপ্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি আবু সুফিয়ান, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাঈনুদ্দিন হাসান চৌধুরীসহ ১৮ জন। চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ জাফরুল ইসলাম চৌধুরী, সহ সভাপতি এডভোকেট ইফতেখার হোসেন চৌধুরী মহসিন, সাবেক পৌর মেয়র ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক কামরুল ইসলাম হোসাইনী, মহিলা দল নেত্রী মাহমুদা সুলতানা চৌধুরী ঝর্ণা প্রমুখ। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী, দৈনিক পূর্বদেশের সম্পাদক মুজিবুর রহমান, শিল্পপতি আবদুল্লাহ কবির লিটনসহ ১২ জন । চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনের জন্য বিএনপির মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন সাবেক এমপি এম. এ জিন্নাহ, মেজর জেনারেল (অব.) জেড এ খান, মুক্তিযোদ্ধা দলের কেন্দ্রীয় নেতা মনিরুল ইসলাম ইউসুফ, উপজেলা বিএনপি আহ্বায়ক নুরুল আমিন, উপজেলা চেয়ারম্যান নুরুল আমিন, মেজর (অব.) নুরুল মোস্তফা, সাহেদুল ইসলাম চৌধুরী, আতিকুল ইসলাম লতিফী, সাবেক ছাত্রদল নেতা সরোয়ার উদ্দিন সেলিম, ড. এম এম এমরান চৌধুরী, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শহীদুল ইসলাম চৌধুরী, ফখরুল ইসলাম ও আজিজুর রহমান চৌধুরী। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি গিয়াস উদ্দিন ও সদস্য মাহবুব উর রহমান রুহেল এবং ব্যবসায়ী নিয়াজ মোর্শেদ এলিটসহ ৯ জন। চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য মোস্তফা কামাল পাশা, উত্তর জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি ফোরকান উদ্দিন রিজভী, উপজেলা বিএনপি সদস্য নুরুল মোস্তফা খোকন, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা কামাল পাশা বাবুল, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন, এডভোকেট আবদুল হামিদ ও কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য আশরাফ উদ্দিন জনি। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য মাহফুজুর রহমান মিতাসহ ১৪ জন।...

ঐক্যফ্রন্ট একটি কমন প্রতীকে নির্বাচন করবে আর সেই প্রতীক হবে ধানের শীষ: মাহমুদুর রহমান

অনলাইন ডেস্ক: শরিক দল বিএনপির প্রতীক ধানের শীষ প্রতীকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। বৃহস্পতিবার দুপুরে ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠক জোটের আরেক শরিক দল নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না সাংবাদিকদের এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। চলমান রাজনীতি ও নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে আলোচনা করতে রাজধানীর মতিঝিলে ঐক্যফ্রন্টের গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেনের চেম্বারে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ঐক্যফ্রন্ট একটি কমন প্রতীকে নির্বাচন করবে। আর সেই প্রতীক হবে ধানের শীষ। গতকাল দুপুরে নয়াপল্টনে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা প্রসঙ্গে মান্না বলেন, নির্বাচন কমিশনের অসতর্কতায় নয়া পল্টনে গতকালের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মান্না আরও বলেন, সরকার যেকোন উপায়ে নির্বাচনকে নিজেদের পক্ষে নেয়ার চেষ্টা করছে। আসন বন্টন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে, সিদ্ধান্ত হয়নি। বৈঠকে ড. কামাল হোসেন, জোটের মুখপাত্র ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক রতনসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।...

দলের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করতে আ.লীগের বৈঠক আজ

অনলাইন ডেস্ক: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করতে আজ বৈঠকে বসবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। আজ বুহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টায় দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বুধবার রাতে আওয়ামী লীগের দপ্তর থেকে এ সংক্রান্ত বৈঠকের তথ্য জানানো হয়। তাদের পাঠানো এক বার্তায় বলা হয়, বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টায় আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে মনোনয়ন বোর্ডের বৈঠক হবে। এতে সভাপতি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা। জানা গেছে, এ বৈঠকে আওয়ামী লীগ তার দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করবে। জোটের আসনগুলো নিয়েও আলোচনা হবে এতে। এর আগে চারদিনে চার হাজারেরও বেশি মনোনয়ন ফরম বিক্রি করে দলটি।...

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে হরেক রকম বিয়ে

অনলাইন ডেস্ক : বলেন, কবুল। কাজী সাহেবের কথার উত্তর বের হয় না মেয়ের মুখ থেকে। কথার বদলে ঘোমটার আড়াল থেকে হাতের ওপরে টপটপ করে পানি ঝরতে দেখা যায়। বোঝা যায়, কনে কাঁদছে। কাজী সাহেব আবার বলেন, বলেন মা কবুল। সবাই কান খাঁড়া করে থাকে। মেয়ে কবুল বলছে কিনা। মা, ভাবী, ননদ, পাড়াপড়শি নারীকূল সবাই মিলে কনেকে বলতে থাকে,বল মা কবুল, বল। অবশেষে আরো খানিক চোখের পানি ঝরিয়ে লজ্জার মাথা খেয়ে মেয়েটি বলল কবুল। সবাই বলে ওঠেন আলহামদুলিল্লাহ। মুসলিম বিয়ের রীতিতে সবচেয়ে ক্লাইমেক্স বোধহয় এটাই। এত আয়োজন, আত্মীয়-স্বজনের আনন্দ, খাওয়া-দাওয়ার জৌলুস সবকিছুর কেন্দ্রে দুটি ছেলে-মেয়ের ধর্মীয়ভাবে সামাজিক বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া। ছেলে-মেয়ের কাছে এরচেয়ে রোমান্টিক আনন্দের মুহূর্ত আর হয় না। একটি বিয়ের জন্য কত প্রস্তুতি; কত স্বপ্ন যে মিশে থাকে। মা-বাবার এক রকম আবেগ, ভাই-বোনদের আবেগ ভিন্ন আর বর কনের কথা না হয় বাদই দিলাম। তারাই এ আয়োজনের প্রধান দুই চরিত্র। বিয়ে ছেলে-মেয়ের মনে এমন এক রোমান্সের জন্ম দেয়; যা তাদের কল্পনার আবেশে ভাসিয়ে নিয়ে যায়। রবীন্দ্রনাথের গানের কথায় সমাজ সংসার মিছে সব, মিছে এ জীবনের কলরব, কেবল আঁখি দিয়ে আঁখির সুধা পিয়ে হূদয় দিয়ে হূদি অনুভব। বিয়ে আমাদের সমাজের সবচেয়ে আনন্দমুখর ঘটনা। দুটি ছেলে-মেয়ের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে দুটি পরিবার তাদের আত্মীয়-স্বজন বন্ধুদের সম্মিলনের এমন সামাজিক উত্সব আর নেই। এ উপমহাদেশে দুটি ছেলে-মেয়ের বিয়ের পাকা কথার সময় থেকেই শুরু হয়ে যায় আনন্দ আয়োজন। প্রথমে এনগেজমেন্ট, এরপর গায়ে হলুদ তারপর বিয়ে। সবশেষে বউভাত দিয়ে শেষ হয় বিয়ের অনষ্ঠান। এ সবরে ফাঁকে আরো কত শত আচার যে রয়েছে তার শেষ নেই। যেমন বর যখন আসে তখন গেট ধরার রেওয়াজ রয়েছে। রয়েছে বিয়ের পরে মুখ দেখানোর রেওয়াজ। এত দিনের আনন্দের পর মেয়েকে বিদায় দেয়ার সময় মা-বাবা, আত্মীয়-স্বজনের কান্না দুঃখের আবহ তৈরি করে। এ যাত্রা আনন্দের যাত্রা, একইসঙ্গে অপরিচিত পরিবিশে একটি মেয়ের অনিশ্চিত ভবিষ্যত্ যাত্রাও। বিয়ে যখন উত্সব ছেলে-মেয়ের বিয়ের পাঞ্জাবি কেমন হবে, হলুদে মেয়ের সাজ, হলুদে আসা মেয়েদের অনুষ্ঠানের থিম রঙের সঙ্গে মিলিয়ে শাড়ি দেয়ার চল হয়েছে এখন। হলুদের স্টেজ, হলুদে গানের রিহার্সাল তো শুরু হয়ে যায় ১০ দিন আগে থেকেই। গায়ে হলুদের পরে ডিজে পার্টির চল হয়েছে এখন। হলুদের পরেই আসে বিয়ে। মেয়ের পোশাক, ছেলের পাঞ্জাবি, শেরওয়ানির ডিজাইন, মেয়ের শাড়ির রং কি হবে এ নিয়েই তো আলোচনা চলে দুই সপ্তাহ। এরপর মার্কেটে মার্কেটে ঘোরা। পছন্দের শাড়ি আর মেলে না। যদিও মেলে এরপর তার সঙ্গে ম্যাচিং গয়না খোঁজা চলে আরো কিছুদিন। এ সবের পাশাপাশি রয়েছে বিয়ের কার্ড। কার্ড যেন বিয়ের সমস্ত বিয়ের পরিবারের রুচির ছাপ নিয়ে আত্মীয়দের সামনে হাজির হয। তাই কার্ডটি হওয়া চাই স্পেশাল। এরপর রয়েছে বিয়ের দিন খাবারে মেন্যু আর ছেলে পক্ষের বউ ভাতের অনুষ্ঠানের খাবার নির্বাচন। আয়োজন কি আর কম। এ সব তো গেল কিন্তু বিয়ে তো হবে একদিন। কিন্তু সেই স্মৃতিকে ধরে রাখতে হবে জন্ম জন্মান্তরের জন্য। সেজন্য চাই বিয়ের এলবাম। ওয়েডিং ডায়েরি করবার জন্য এখন বিশেষ ফটোগ্রাফাররাও তৈরি হয়ে রয়েছে। শুধু আপনার ডাক দেবার অপেক্ষা। বিয়ের অনুষ্ঠানের জৌলুস দিন দিনে এমন বাড়ছে যারা দুই দশক আগে বিয়ে করেছেন তাদের তো রীতিমত হাপিত্যেশ করতে শোনা যায়। ইশ, আমাদের সময় যদি এ সব আয়োজন থাকত। কিন্তু হায় তা হবার কী আর উপায় আছে! সামাজিক বন্ধন বিয়ে শুধু আমাদের সমাজেই নয়; সব দেশে সব সমাজেই খুব গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। বিয়েকে ঘিরে দুটি মানুষের মধ্যে যে সম্পর্কের সূচনা হয় তার সঙ্গে অন্য কোনো সামাজিক বন্ধনের তুলনায় হয় না। কিন্তু এ বিয়ের মূল উদ্দেশ্য কী? বিয়ে কেন হয়? বিয়ের প্রয়োজনীয়তাই বা কেন? ধর্ম মতে, যখন থেকে মানুষের সৃষ্টি তখন থেকেই বিয়ে প্রথার চালু। তবে, নৃবিজ্ঞানীদের মতে, অতি আদিমকালে বিয়ে বলতে কিছু ছিল না। কালক্রমে সামাজিক প্রয়োজনে ও শৃঙ্খলা বিধানে বিয়ে প্রথা চালু হয়। বিয়ে নিয়ে অনেক মজার মজার কৌতুক প্রচলিত রয়েছে। বিয়ের ক্ষণস্থায়িত্ব নিয়ে এমন এক কৌতুক রয়েছে। এক চিত্রতারকা ঘন ঘন স্বামী বদলাতেন। একবার নতুন স্বামী নিয়ে এসে তিনি আগের কোনো পক্ষের সন্তানের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিলেন। সন্তানটি ছুটে গিয়ে অটোগ্রাফ বই নিয়ে এসে নতুন বাবাকে বলল, জলদি একটা সই দিন। কবে আবার হুট করে বাতিল হয়ে যাবেন সই নেয়ার সময় পাব না। আরেকটি কৌতুক এমন- ঘন ঘন বিয়ে করা এক তারকা সদ্যবিবাহিত স্বামীর ঘরে এসে দেখলেন সবকিছু তার চেনা চেনা লাগছে। তিনি স্বামীকে জিগ্যেস করলেন, আচ্ছা, তোমার সঙ্গে কি আমার আগেও বিয়ে হয়েছিল? এই ক্ষণস্থায়ী ও বহু বিয়ে নিয়ে যেমন অনেক কথা রয়েছে এর বিপরীতে রয়েছে সম্পর্কের চিরস্থায়ী বন্ধনে বিশ্বাস। ইসলাম ধর্মে বিয়ে অত্যন্ত পবিত্র সম্পর্ক হিসেবে বলা হয়েছে। হিন্দু সমাজে বিয়ে হচ্ছে জন্ম জন্মান্তরের বন্ধন। সাধারণভাবে বললে, বিয়ে হচ্ছে সন্তান জন্ম দেয়ার মধ্যদিয়ে মানুষ সৃষ্টির ধারাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। বিয়ে সমাজের প্রাচীনতম প্রতিষ্ঠান। এ প্রথাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে প্রধানত ধর্ম। বিয়ে নিয়ে জারি করা হয়েছে রীতিনীতি ধর্মীয় অনুশাসন। বৈদিক যুগ থেকেই বিয়ে নারী-জীবনের প্রধান প্রাপ্তি ও পরম সার্থকতা বলে বিবেচিত। ইসলাম ধর্মে বিবাহ একটি আইনগত, সামাজিক এবং ধর্মীয় বিধান। ইসলামে বিবাহ বলতে স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে সামাজিকভাবে স্বীকৃত ও ধর্মীয়ভাবে নির্ধারিত একটি চুক্তি বোঝায়। এই চুক্তির মাধ্যমেই একজন পুরুষ ও একজন নারীর মধ্যে স্বামী-স্ত্রী সম্পর্ক স্থাপিত হয়ে তাদের দাম্পত্য জীবন শুরু হয়। মুসলিম বিবাহের চুক্তিপত্রে (যা কাবিননামা নামে পরিচিত) উল্লেখ করতে হয় বরের পক্ষ থেকে স্ত্রীকে দেয়া মোহরানার পরিমাণ। স্ত্রীকে দেয়া অর্থকে বলা হয় দেনমোহর। তাত্ক্ষণিকভাবে দেনমোহর পরিশোধ স্বামীর জন্য বাধ্যতামূলক যদিও স্ত্রী এ দায়িত্ব থেকে স্বামীকে স্বেচ্ছায় মওকুফ করে দিতে পারেন বা পরে দেয়ার অনুমতি দিতে পারেন। মুসলিম আইন অনুসারে দেনমোহর হচ্ছে স্ত্রীর একটি বিশেষ অধিকার। বিয়েতে পণপ্রথা হিন্দু ধর্মে একটি স্বীকৃত রীতি। বর্তমানে যৌতুক একটি বড় সামাজিক ব্যাধি। বাংলার হিন্দু পরিবারগুলোর মধ্যে প্রাচীনকাল থেকেই বাল্যবিবাহ প্রচলিত ছিল। ১৮৭২ সালে হিন্দু বিবাহ আইন পাস হলে বিবাহের সর্বনিম্ন বয়স মেয়েদের ১৪ এবং ছেলেদের ১৮ ধার্য করা হয়েছিল। বহুবিবাহ প্রাচীনকাল থেকে এ দেশে প্রচলিত ছিল। তবে, ১৯০১ সালের আদমশুমারিতে দেখা যায়, ধনী মুসলমান পরিবার ছাড়া সকল পরিবারে দ্বিতীয় স্ত্রী বিরল। ১৯৬১ সালের পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ একটি মাইলফলক। এতে পুরুষের বহুবিবাহের প্রবণতাকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা ছিল। পারিবারিক আইনে যখন দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে প্রথম স্ত্রীর অনুমতি প্রয়োজন হয় তখন থেকে দ্বিতীয় বিয়ের হার কমতে থাকে। হিন্দুবিবাহ একটি ধর্মীয় আচারিক বা আধ্যাত্মিক বিষয় এবং এ জন্য কোনো আনুষ্ঠানিক লিখিত দলিলের প্রয়োজন হয় না। হিন্দু পরিবারে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা কয়েকদিন ধরে চলে। বিয়ের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মাঙ্গলিক আচার-অনুষ্ঠানগুলো ছিল: শুভদৃষ্টি, মাল্যদান, মন্ত্রপাঠ, যজ্ঞসম্পাদন, কন্যাদান, অগ্নিপ্রদক্ষিণ, সপ্তপদীগমন এবং স্বস্তিবচন। হিন্দু সমাজে পাত্র-পাত্রীর কোষ্ঠী বিচার করে দেখার রীতি আছে। যদিও আধুনিক ছেলে-মেয়েরা এগুলো এখন খুব একটা মানে না। বিয়ের খাবার বিয়ের খাবারের লোভ সামাল দেয়া মুশকিল। অসুস্থ মানুষও এই একদিন খাই; বলে পাত পাড়েন বিয়ের অনুষ্ঠানে। আগের দিনে হিন্দু বিয়ে বাড়িতে মেঝেতে বসিয়ে কলাপাতায় খেতে দেয়া হতো। একদিকে থাকত লবণ আর লেবু। কলাপাতার বাইরে পানির জন্য মাটির গ্লাস আর দই ও ক্ষীর দেয়ার বাটি। ভোজনপর্ব শুরু হতো গরম লুচি, বেগুন পটল ভাজা, এরপরে আসত কুমড়ার ছক্কা, শীতকালে বাঁধাকপির তরকারি, ডাল, ধোঁকা, আলুর দম, মাছের কালিয়া, চাটনি, পাঁপড় ভাজা, মিষ্টি। মিষ্টিরও ছিল নানা রকমফের। অবস্থাপন্ন বাড়িতে যুক্ত হতো পোলাও, মাংস। মেয়েদের খাওয়ানো হতো আলাদা স্থানে। সেখানে পরিবেশনও করত মেয়েরা। আর এ সময় বাড়ির কর্তা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখতেন সবার পাতে খাবার ঠিকমত পড়েছে কিনা। সবাই খেয়ে শান্তি পেয়েছেন কি না। আর মুসলিমদের বিয়েতে পোলাও, বিরিয়ানি, বোরহানি, চিকেন সবজি, চাটনি, দই মিষ্টি এসব খাওয়ানোর চল বেশ আগে থেকেই। দেশে দেশে বিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন সমাজে বিয়ের জন্য রয়েছে বিভিন্ন রীতি। কখনো এক সমাজের বিয়ের রীতি অন্য সমাজের বিপরীত। কোনো সমাজের বিয়ের রীতি আবার আরেক সমাজে হাসির কারণ। বাংলাদেশ: বাংলাদেশে ঘটক ছেলের পক্ষ থেকে মেয়ের বাড়িতে প্রস্তাব নিয়ে যাওয়ার চল রয়েছে তবে, মেয়ের বাড়ি থেকে প্রস্তাব যাওয়ার চল খুব কম। আগে থেকে ইতিবাচক ইশারা না পেলে সাধারণত মেয়ের বাড়ি থেকে প্রস্তাব যাওয়ার চল নেই। ছেলে পক্ষ মেয়ের বাড়িতে এসে নানাভাবে মেয়েকে প্রশ্ন করার চল রয়েছে বাংলাদেশসহ উপমহাদেশে। যেটা আধুনিক শিক্ষিত পরিবারে অনেকটা কমে এলেও সাধারণ পরিবারগুলোতে এভাবে মেয়ে দেখানো ও তাকে প্রশ্ন করার চল রয়েছে। তবে, যৌতুক প্রথা আইনিভাবে নিষিদ্ধ হলেও সামাজিকভাবে যৌতুক প্রথা দূর হয়নি। ফ্রান্স: সাদা রং ফ্রান্সের বিয়ের অনুষ্ঠানের প্রধান রং। সাজগোজের অলঙ্কার, ফুল, কনের কাপড় সবই সেখানে সাদা হয়ে থাকে। এ থেকে বোঝা যায়, ফরাসিদের চোখে বিয়ে হচ্ছে শান্তি ও পবিত্রতার প্রতীক। যুক্তরাজ্য: পবিত্রতার প্রতীক হিসেবে ঐতিহ্যবাহী ব্রিটিশ-রীতির বিয়ে অনুষ্ঠানে কনে পদ্মফুল হাতে রাখে। ব্রিটিশদের চোখে এই ফুল সৌভাগ্যের প্রতীক। ব্রিটিশদের বিয়ের অনুষ্ঠান সাধারণত দুপুরে আয়োজিত হয়। তাদের বিয়ের কেক তৈরিতে নানা রকম ফল ব্যবহার করা হয়। এ কেককে তাদের প্রথম সন্তানের জন্ম পর্যন্ত রেখে দেওয়া হয়। গ্রিস: এ দেশে কনেরা নিজের হাত মোজার ভেতরে কিছু মিষ্টি ক্যান্ডি রাখে। এ ব্যতিক্রমী ঘটনার কারণ, নিজের বিবাহিত জীবনকে আরো মধুর করে তোলা। এছাড়া গ্রিকরা ঐতিহ্যবাহী রাউন্ড ডান্সের গোলাকার নৃত্যের মাধ্যমে বিয়ের অনুষ্ঠানে অতিথিদের অভ্যর্থনা জানায়। কঙ্গো: বিয়ের দিন যখন চারিদিক আনন্দমুখর হয়ে থাকবে, তখন বর কিংবা কনের মোটেও হাসা চলবে না। নিজেদের আনন্দকে গোপন রেখে তাদের অবশ্যই গাম্ভীর্য ধরে রাখতে হবে। যদি পুরো অনুষ্ঠানের মধ্যে কোনো সময় বর কিংবা কনে হেসে দেয় তবে ধরে নেওয়া হয় তারা বিয়ের ব্যাপারে একনিষ্ঠ নয়। চীন: কনের পরিবার একজন সৌভাগ্যবতী মহিলাকে ভাড়া করবে কনেকে শ্বশুরবাড়ি নিয়ে যাওয়ার জন্য, এটি চীনে বিয়ের অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য। শুধু এটুকুই নয়, কনে যাবে সুসজ্জিত পালকিতে চড়ে এবং তার পরিচারিকারা একপ্রকার হালকা ছাতার সাহায্যে তাকে ঢেকে রাখবে এবং কিছু পরিচারিকা পালকিতে চাল ছিটাবে। ট্র্যাডিশনাল চীনা মানুষেরা এই রীতিকে সুস্বাস্থ্য ও সৌভাগ্যের প্রতীক মনে করে। জার্মানি: বর এবং কনের প্রথম গৃহস্থালী কাজ হবে ভাঙা চীনামাটির বাসনের স্তূপ পরিষ্কার করা, যা বিয়ের দিন উপস্থিত অতিথিরা মাটিতে ছুঁড়ে ফেলে। মনে করা হয় এটি নববিবাহিতদের খারাপ আত্মার হাত থেকে সুরক্ষিত রাখবে। এছাড়াও এটি নববিবাহিতদের একসাথে কাজ করা এবং যে কোনো সমস্যা একসাথে মোকাবেলা করা শেখায়। জাপান: জাপানে বিয়েতে কনেরা ঐতিহ্যবাহী শিনতো অনুষ্ঠানে পা থেকে মাথা পর্যন্ত সাদা পোশাক পরিধান করে থাকে। এমনকি তাদের মেকআপও হবে সাদা। ঐতিহ্যবাহী কিমোনো পোশাকের সাথে তারা মাথায় সাদা রঙের হুড পরিধান করে। সাদা রঙ কনের মনের শুভ্রতা প্রকাশ করে এবং মাথার হুড কনের কথিত হর্ন অফ জেলাসি অর্থাত্ হিংসের শিং ঢেকে রাখে যা তারা তার শাশুড়ির প্রতি অনুভব করে। রাশিয়া: নববিবাহিত রাশিয়ান দম্পতিদের একপ্রকার মিষ্টি জাতীয় রুটি খেতে দেওয়া হয় যা গম থেকে তৈরি। বর অথবা কনের মধ্যে যে সবচেয়ে বড় রুটির অংশটি খেতে পারবে তাকেই বাড়ির কর্তা হিসেবে ধরে নেওয়া হবে। এ দেশে বিয়ের অনুষ্ঠানে স্বামী ও স্ত্রীকে দাঁড়িয়ে গভীরভাবে চুমু খাবে। শুধু একবার নয় অনুষ্ঠান চলার সময় বহুবার। তাদের ধারণা বিয়ের সময় যত চুমু খাবে তাদের সম্পর্ক ততই মধুর হবে। পাকিস্তান: কনের বোন এবং মেয়ের বন্ধুরা বরের জুতো নিয়ে লুকিয়ে রাখে, যদি বর তার জুতো ফেরত চায় তবে তাকে একটি মোটা অংকের টাকা দিয়ে জুতো জোড়া ফেরত নিতে হবে, নয়ত খালি পায়েই তাকে পুরো বিয়ের অনুষ্ঠান পার করতে হবে। বলা বাহুল্য আমাদের দেশেও এই রীতিটি কম বেশি প্রচলিত আছে। ফিলিপাইন: বিয়ের অনুষ্ঠানে ফিলিপিনো নবদম্পতিরা একজোড়া কবুতর উড়িয়ে দেয়, যার একটি মেয়ে ও অন্যটি ছেলে। নবদম্পতির জন্য এই কবুতর জোড়া তাদের বিবাহিত জীবনের শান্তির প্রতীক হিসেবে গণ্য হয়। ভেনেজুয়েলা: বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে বর ও কনের সাথে কথা বলার জন্য অপেক্ষা করা একদমই বৃথা, কারণ বিয়ের অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার আগেই বর ও কনে সেখান থেকে পালিয়ে যাবে। বিয়ের অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার আগে কারও কাছে ধরা না পড়ে এভাবে পালিয়ে যাওয়াকে সৌভাগ্য হিসেবে ধরা হয়। আর যে ব্যক্তি তাদের অনুপস্থিতি প্রথম ধরতে পারবে তার জন্যও এটি সৌভাগ্যের প্রতীক। পেরু: পেরুতে বিয়ের জন্য তৈরি বিশেষ কেকে একটি নকল বিয়ের আংটি দেয়া থাকে। কেক পরিবেশনের সময় যে আংটিসহ কেকের অংশটি পাবে তাকে সৌভাগ্যবান মনে করা হবে এবং ধারণা করা হয় পরবর্তী বিয়েটি তারই হতে যাচ্ছে।...

কীভাবে তারুণ্য ধরে রাখবে নারীরা ? জেনে নেন

অনলাইন :সময়ের স্রোতে বাড়তে থাকে প্রত্যেকের বয়স। বয়স বাড়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কমতে থাকে আপনার চেহারার লাবণ্য।তবে নারীদের ক্ষেত্রে এটি বেশি ঘটে থাকে। তাই বেশির ভাগ নারীরা যেমন বয়স কমাতে চান আবার লুকাতেও চান। তবে আপনি চাইলেই চেহারায় ধরে রাখতে পারেন তারুণ্য। বয়স বাড়লেও তার ছাপ পড়বে না চেহারায়। আসুন জেনে নেই কীভাবে তারুণ্য ধরে রাখবে নারীরা ময়েশ্চারাইজার বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্বকের ওপরের স্তরে আর্দ্রতা রক্ষাকারী মলিকিউলের পরিমাণ ক্রমশ কমতে থাকে। তাই সারা দিনে অন্তত দুই থেকে তিনবার ময়েশ্চারাইজার লাগান। হাইড্রেটিং সিরাম ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখার ব্যাপারে খুবই কাজের। পানিপান তারুণ্য ধরে রাখতে পানি খাওয়ার পরিমাণ বাড়িয়ে দিন। খাবারে রাখুন ফল, সালাদের মতো জিনিস। ত্বকের শুকনোভাব নিয়ে আর ভাবতে হবে না। চোখের কালো দাগ বয়স ত্রিশে পার হতে না হতেই চোখের নিচে কালো দাগ পড়তে থাকে। চোখের কোলে কালির সমস্যাও দেখা দেয় অন্যতম হাতিয়ার রেটিনল সমৃদ্ধ আই ক্রিম। রেটিনলে এ ভিটামিনের পরিমাণ অত্যন্ত বেশি হওয়ায় চোখের চারপাশের সংবেদনশীল ত্বকে বয়সের ছাপ পড়তে দেয় না। তবে দিনের বেলায় রোদের মধ্যে কখনও আই ক্রিম লাগাবেন না। সবসময় রাতে শুতে যাওয়ার আগে আই ক্রিম লাগান। দিনের বেলা ফাউন্ডেশন নয় দিনের বেলা ফাউন্ডেশনের বদলে এসপিএফ যুক্ত বিবি ক্রিম ব্যবহার করুন। পাউডার-বেসড মেকআপের বদলে নিয়ে আসুন লিকুইড মেকআপ। ত্বকে আর্দ্রতা ধরে রাখতে লিকুইড মেকআপ আদর্শ! ঠোঁট আর চোখের মেকআপ কেনার সময়ও লিকুইড প্রোডাক্ট ব্যবহার করতে পারলে ভালো হয়। ঘুমানোর আগে অবশ্যই মেকআপ তুলে নেবেন। সূর্যরশ্মি এড়িয়ে চলুন গরমের দিনে ফুলস্লিভ জামাকাপড় পরে বাইরে বের হওয়া উচিত। গাড়িতে বসে থাকাকালীন এমনভাবে স্কার্ফ জড়িয়ে নিন, যাতে গাল ও ত্বকের কোনো অংশ সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। প্রসাধনী পরিবর্তন নয় লোশন, ক্রিম, সিরাম এগুলো অতিদ্রুত পাল্টানো ত্বকের জন্য ভালো নয়। অ্যান্টি-এজিং ক্রিম ব্যবহার করলে অন্তত চার সপ্তাহ সময় দিতে হবে, যাতে ত্বক সেটার সঙ্গে মানিয়ে নেয়ার সুযোগ পায়। ভালো ব্র্যান্ডের প্রসাধনী ত্বকের জন্য ভালোমানের ও ব্র্যান্ডের প্রসাধনী ও উপকরণ ব্যবহারের কোনো বিকল্প নেই। ত্বকের কোনো সমস্যা দেখা দিলে অবশ্যই বিশষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে ও সে অনুযায়ী ত্বকের জন্য পণ্য ব্যবহার করতে হবে। হাসিখুশি থাকুন অতিরিক্ত রাগ, দুশ্চিন্তা, ক্ষোভ, ভীতি ত্বকের ওপর ভয়াবহ প্রভাব ফেলে। এতে করে ত্বকে বলিরেখা পড়তে পারে। চোখের নিচে কালির ও ত্বক কুঁচকে যাওয়ার অন্যতম কারণ স্ট্রেস। সবসময় চেষ্টা করুন ফুরফুরে মেজাজে থাকতে।...

আচার বিক্রেতা হিরো আলমের স্বপ্ন এবার সংসদ সদস্য হওয়া

অনলাইন :স্যোসাল মিডিয়ায় ভাইরাল তিনি। সেখান থেকে এখন হচ্ছেন খবরের শিরোনাম। দেশের গণমাধ্যম ছাড়াও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম তাকে নিয়ে ফিচার প্রকাশ করছে। তিনি হিরো আলম। অনলাইন ভিডিও প্লাটফর্ম ইউটিউবে বাংলা ছবির বিভিন্ন গানের ভিডিও বানিয়ে এবং তাতে অভিনয় করে এসেছেন আলোচনায়। ঢাকাই চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন তিনি। ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপ এবং পেজে তাকে নিয়ে ট্রোল হলেও স্বপ্ন পূরণে থেমে নেই তার যাত্রা। প্রতিনিয়তই কিছু না কিছু নিয়ে আলোচনায় থাকছেন তিনি । হচ্ছেন খবরের শিরোনাম। সম্প্রতি বগুড়া-৪ আসনে এমপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে জাতীয় পার্টি থেকে কিনেছেন মনোনয়নপত্র। স্বপ্ন এবার সংসদ সদস্য হওয়া! সে স্বপ্ন পূরণের পথেই ছুটছেন তিনি। হিরো আলমকে নিয়ে অনেকে হাস্যরস ও ট্রোল করলেও তিনি কিন্তু তার গতিতেই এগিয়ে যাচ্ছেন। তার এ এগিয়ে যাওয়ার পিছনে রয়েছে অনেক গল্প। রয়েছে সংগ্রাম। জানিয়েছেন তিনি তার সেই সংগ্রামের কথা। হিরো আলম তখন ছোট। সবে সপ্তম শ্রেণিতে পড়েন। বাবা অন্যত্র বিয়ে করায় সেই ছোট বয়সেই ধরতে হয় সংসারের হাল। ফলে চুকে যায় লেখাপড়ার পাট। গ্রামে-গঞ্জে ঘুরে ঘুরে মায়ের বানানো আচার-চানাচুর বিক্রি করা শুরু করেন। দিনশেষে মা আনোয়ারা বেগমের হাতে অর্জিত টাকা তুলে দিতেন। আর সন্ধ্যার পর এরুলিয়া বাজারে একটি সিডি ভাড়া দেওয়ার দোকানে বসতেন। এভাবেই কেটে যায় টানা তিন বছর। পরে একদিন দোকানের মালিক শহীদুল ইসলাম চলে যান মালয়েশিয়ায়। দোকানের মালপত্র বিক্রি করে দেন দোকানের কর্মচারি হিরো আলমের কাছে। সেই শুরু হয় নতুন পথ চলা। হিরো আলমের ভাষায়, 'মালিক চলে যাওয়ার আগে আমাকে বলেন দোকান বিক্রি করে দিবেন। আমি মায়ের সঙ্গে আলাপ করে ১৬ হাজার টাকায় দোকানের সব মালপত্র কিনে নেই। দোকানে পেয়েছিলাম, একটা সাদাকালো টেলিভিশন, একশ' সিডি ও কিছু ভিসিআরের ক্যাসেট। সেই সিডির দোকানে ভালো আয়-রোজগার শুরু হয়। পরে আচার-চানাচুর বিক্রি বাদ দেই। স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথ খুঁজি। কী ছিল সেই স্বপ্ন? জানতে চাইলে হিরো আলম বলেন, 'মেরিনা সিনেমা হলে গিয়ে ছবি দেখতাম। নায়ক নায়িকারা নাচতেন। আমি সেই গানগুলোতে নাচার স্বপ্ন দেখতাম। পরে টাকা-পয়সা খরচ করে একটা কমেডি গানের ভিডিওতে মডেল হন আলম। সেই গান বের হয় ভিডিও ক্যাসেটে। ভিডিওর সেই সিডি ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। আলম মনে মনে বেশ খুশি, কারণ টিভিপর্দায় তাকে দেখা যাচ্ছে। কিন্তু গ্রামের অনেকেই খুশি হতে পারছিলেন না আলমের এইসব 'পাগলামো'তে। আলম বলেন,গ্রামের লোকজন আমাকে গালি দিতো। আমি কেন এমন জোকারগিরি করছি। কেন এমন ফালতু জিনিস বানাচ্ছি। মুরুব্বিদের অনেকে আমাকে ডেকে নিয়ে বলতেন, এইসব করে কী হবে? তার চেয়ে বরং টাকা খবচ করে হিরো হও। আমার মাথায় এটা বসে গেলো। টাকা যেহেতু খরচ করছি; হিরো হওয়ার পিছনেই করবো। এরপর স্থানীয় এক এনজিও থেকে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে এলাকায় ডিশ সংযোগের ব্যবসা শুরু করেন আলম। পাশাপাশি বানান বিভিন্ন গানের মিউজিক ভিডিও। তাতে মডেল হন নিজেই। ডিশে সেই গান প্রচার করেন। এভাবে একে একে প্রায় ছয়শ' মিউজিক ভিডিও করে ফেলেন আলম। শুধু আলম থেকে হয়ে উঠেন হিরো আলম।] এরপর ২০০৯ সালে পাশের গ্রামের সুমী নামের এক তরুণীকে বিয়ে করেন। সুমী এসএসসি পাস। আবির ও আলো নামে দুই সন্তান রয়েছে তাদের। সংসার আর ব্যবসা নিয়েই ব্যস্ত হয়ে পড়েন হিরো আলম। পাশাপাশি কিছু মিউজিক ভিডিও করেন। সেগুলো নিজের ক্যাবল চ্যানেলেই প্রচার করেন। গ্রামের মানুষ এবার তাকে বাহবা দেয়। সেই বাহবা থেকে উৎসাহ পান আলম। ২০১৬ সাল। বছরটা হিরো আলমের জন্য অনেক গুরুত্বের। কারণ এ বছরের মাঝামাঝি হুট করেই ফেসবুকে আলমের কয়েকটি মিউজিক ভিডিও ভাইরাল হয়। সেই ভিডিও কেবল বাংলাদেশেই নয়, ভারতেও হৈচৈ ফেলে দেয়। আলমকে খুঁজে বের করে প্রতিবেদন প্রকাশ করে বিভিন্ন গণমাধ্যম। ওই বছরে গুগলে তাকেই সবচেয়ে বেশি খোঁজে মানুষ। আলমের এই জনপ্রিয়তা নজরে আসে চলচ্চিত্র নির্মাতাদেরও। ঢাকার কয়েকজন উঠতি নির্মাতা তাকে নিয়ে কয়েকটি মিউজিক ভিডিও এবং স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। আলম বলেন,প্রথম যখন মিউজিক ভিডিও বানাই তখন কেউই আমার সঙ্গে মডেল হতে চাইত না। দ্বিগুণ টাকা দিয়ে তাদের নিতাম। এখন অনেকেই আমার সঙ্গে অভিনয়ের সুযোগ চায়। সিনেমার পর্দায় নায়কের মারামারি দেখে একদিন অবাক হয়েছিলাম, এখন আমি নিজে নায়ক হয়ে মারামারি করি, লোকে সেটা দেখছে। এই যে এমপি হতে মনোনয়ন পেপার নিয়েছি সবাই আলোচনা-সমালোচনা করছে- এটাই আমার প্রাপ্তি। হিরো আলম আরও বলেন, 'এলাকার মানুষের ভালোবাসা আর আর্শিবাদ আমার সঙ্গে রয়েছে। আর আমার রয়েছে ইচ্ছাশক্তি। আমার বিশ্বাস মনোয়ন পেলে আমি বিজয়ী হবো। এখন আমার মনোনয়নপত্র নেওয়া নিয়ে যারা হাসছেন, তারা শুরু থেকেই আমার সব কাজে হাসছেন। আমি তো থেমে থাকিনি। থাকলে আজকে দেশ-বিদেশের মানুষ আমাকে চিনতো না।...

জয় বাংলা এবং আওয়ামী লীগ

সিরাজুল আলম খান :জয় বাংলা এমন একটি স্লোগান যা বাংলাদেশের সশস্ত্র যুদ্ধের সময় জনগণকে তাঁদের স্বাধীনতার লক্ষ্যে প্রবল উদ্দীপক ও তেজোদীপ্ত করেছিলো। এর আগে বাঙালি আর কখনো এতো তীব্র, সংহত ও তাৎপর্যপূর্ণ স্লোগান দেয়নি, যার একটি পদেই প্রকাশ পেয়েছে রাজনীতি, দেশ, দেশপ্রেম, সংস্কৃতি, ভাষার সৌন্দর্য ও জাতীয় আবেগ। জয় বাংলা স্লোগান ছিলো সশস্ত্র যুদ্ধকালীন সময়ে বাঙালির প্রেরণার উৎস। যুদ্ধে সফল অপারেশন শেষে কিংবা যুদ্ধ জয়ের পর অবধারিতভাবে স্বাধীনতা সংগ্রামীরা চিৎকার করে জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে চারপাশের জনগণকে বিজয়ের বার্তা পৌঁছে দিতো। কখন, কীভাবে কিংবা কী বিশেষ প্রয়োজনে এ জয় বাংলাস্লোগানটির উৎপত্তি হয়েছিলো, তার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস তুলে ধরা হলো- সোমবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৬৯। সেদিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের একটি সভা ছিলো। মধুর ক্যান্টিনের সে সভায় ১৭ মার্চ শিক্ষা দিবস যৌথভাবে পালনের জন্য কর্মসূচি প্রণয়ন নিয়ে প্রাসঙ্গিক আলোচনা করছিলেন। সেদিন, সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদর আহূত সভায় আলোচনার এক পর্যায়ে তৎকালীন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে (তৎকালীন জিন্নাহ হল, যা বর্তমানে সূর্যসেন হল) প্রথম বর্ষের ছাত্র ও ছাত্রলীগ নেতা আফতাব উদ্দিন আহমেদ এবং দর্শন বিভাগে (ইকবাল হল, যা বর্তমানে সার্জেন্ট জহুরুল হক হল) ছাত্র ও ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক চিশতি শাহ হেলালুর রহমান (৭১ সালে শহীদ) জয় বাংলা স্লোগানটি উচ্চারণ করেন। সভা চলাকালীন সময়ে অনেকটা আকস্মিকভাবেই সকলকে চমকে দিয়ে চিৎকার করে জয় বাংলা স্লোগান দেন ছাত্রলীগ নেতা আফতাব উদ্দিন আহমেদ, পরক্ষণেই সেই স্লোগানের প্রত্যুত্তর দেন তৎকালীন ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক চিশতি শাহ হেলালুর রহমান। সঙ্গে সঙ্গেই আরো সাত-আটজন কর্মী প্রতিধ্বনি দিলো, জয় বাংলা। সেদিনের সেই সভায় আফতাব বেশ কয়েকবার জয় বাংলা স্লোগানটি দেন এবং শেষের দিকে উপস্থিত সংখ্যাগরিষ্ঠ কর্মীরাও এর প্রত্যুত্তর দেন। এরপর এভাবেই কিছুক্ষণ ওই স্লোগান চললো। বলা হয়ে থাকে সেটাই এ বাংলার বুকে জয় বাংলা স্লোগানের সর্বপ্রথম উচ্চারণ। আর এ দুই ছাত্রনেতাই ছিলেন নিউক্লিয়াস বা স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ-এর সদস্য। যদিও তার বেশ আগেই ১৯৬২ সালে গঠিত গোপন সংগঠন নিউক্লিয়াসর নেতৃবৃন্দ এবং ছাত্রলীগকর্মীরা যেকোনো আন্দোলনে স্বকীয়তা আর স্বাধীনতা প্রকাশ করার জন্য এবং আত্মপ্রত্যয় সৃষ্টির লক্ষ্যে জয় বাংলাকে প্রতীকী স্লোগান হিসেবে উচ্চারণ করতেন। এছাড়াও স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদতখন হাতে লেখা তিন পাতার একটি পত্রিকায় কয়েকটি সংখ্যা প্রকাশ করে যার নাম ছিলো জয় বাংলা। রবিবার, ১১/১৮ জানুয়ারি (তবে নিশ্চিতভাবে ১৮ জানুয়ারি-ই হবে), ১৯৭০। সেদিন, ঢাকা শহরের পল্টনে আওয়ামী লীগের জনসভায় সিরাজুল আলম খান সর্বপ্রথম জয় বাংলা স্লোগানটি উচ্চারণ করেছিলেন। স্লোগানটি ছিলো বাংলা শব্দ। জয়+বাংলা= জয় বাংলা অর্থাৎ বাংলাদেশ ও বাংলা ভাষার জয়। বাংলার জয়ের কথা বলা হচ্ছে, তাই এ স্লোগান সকলের ভালো লেগেছিলো। সকলেই জয় বাংলা স্লোগানকে গভীর আন্তরিকতার সঙ্গে গ্রহণ করেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানেরও এ স্লোগান বেশ মনে ধরে। এরপর ৭০-এর ৭ জুন ঢাকার রেসকোর্স ময়দানের বিশাল এক জনসভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার ভাষণে প্রথম যুক্ত করেন এ স্লোগানটি এবং উচ্চারণ করেন জয় বাংলা। আমাদের অস্তিত্বে জয় বাংলা শব্দের / স্লোগানের/ ধ্বনির ব্যবহার ও কার্যকারিতা আরো ব্যাপকভাবে বিস্তৃত। জয় বাংলা স্লোগানের উৎপত্তি এবং জাতীয় স্লোগানে পরিণত হবার রয়েছে এক ইতিহাস। সংক্ষেপে তা হলো- নিউক্লিয়াসর পক্ষ থেকে বিভিন্ন স্লোগান নির্ধারণের জন্য তিনটি সেলকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিলো। এর মধ্যে একটি সেল জিয়ে সিন্ধ বা জিও সিন্ধ (জয় সিন্ধু)-এর মতো করে জয় বাংলা শব্দটি কাজে লাগানো যায় কি না সিরাজুল আলম খান এর কাছে উপস্থাপন করা হয়। এ সেলটির মূল দায়িত্বে ছিলেন তৎকালীন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আফতাব উদ্দীন আহমেদ (পরবর্তীতে ড. আফতাব আহমেদ)। সুবিধা মতো সময়ে জয় বাংলা স্লোগানের বিষয়টি নিউক্লিয়াস র বিবেচনায় আসে। নিউক্লিয়াসর সদস্যদের প্রত্যেকেরই ভেটো (Veto) দেয়ার সুযোগ ছিলো। এ ভেটো(Veto) প্রয়োগের কারণে প্রায় ৮-১০ দিন সময় লাগে জয় বাংলাকে অনুমোদন দানের ক্ষেত্রে। পাশাপাশি বলে দেয়া হয়েছিলো স্লোগানটিকে সতর্কতার সঙ্গে ব্যবহার করার জন্য। যেন আর দশটা স্লোগানের মতো জয় বাংলাকে যত্রতত্র ব্যবহার না করা হয়। তুমি কে? আমি কে? বাঙালি-বাঙালি তোমার আমার ঠিকানা পদ্মা-মেঘনা-যমুনা পি- না ঢাকা? ঢাকা-ঢাকা ছয় দফা-ছয় দফা, না হলে এক-দফা এগার দফা-এগার দফা, নাহলে এক-দফাবীর বাঙালি অস্ত্র ধরো, বাংলাদেশ স্বাধীন করোস্বাধীন করো স্বাধীন করো, বাংলাদেশ স্বাধীন করো। এ স্লোগানগুলো নিউক্লিয়াস সেলর মাধ্যমে স্লোগান হিসেবে গ্রহণ করা হয়, যা পরবর্তীতে জনপ্রিয়তা অর্জন করে। এসব কোনো সাধারণ স্লোগান নয়, যেন একেকটি ঐশী বাণী। স্বাধীনতাকামী বাঙালির প্রাণের স্পন্দন স্বাধীনতার বীজমন্ত্র মুক্তি ও বিজয়ের মূলমন্ত্র সশস্ত্র যুদ্ধের অনুপ্রেরণা এবং এগারোশো বছরের পরাধীনতার শেকল ভেঙে বাঙালির কাক্সিক্ষত স্বাধীনতার স্বপ্ন বাস্তবায়নের এক শক্তিশালী অস্ত্র। জয় বাংলা স্লোগানের বিষয়ে ছাত্রলীগের দুয়েকজন এবং আওয়ামী লীগের সবাই (বঙ্গবন্ধু ছাড়া) ঘোর আপত্তি করতো। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটিতেও জয় বাংলার বিষয়ে আলাপ আলোচনা হয় এবং তাঁরা জয় বাংলাকে নিয়ে ভারত ঘেঁষা রাজনীতি করা হচ্ছে এ যুক্তি তুলে ধরেন। শুধু কমিটিতেই নয়, আওয়ামী লীগ সভার সকলেই জয় বাংলার বিরুদ্ধে অবস্থান নেন (তাজউদ্দিন আহমদ ছাড়া)। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বের বৃহত্তর অংশই জয় বাংলা স্লোগানের সরাসরি বিরোধিতা করেন এবং তাঁরা এ স্লোগানের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর কাছে অভিযোগও করেন। //এ ব্যাপারে বঙ্গবন্ধুর সরাসরি উত্তর ছিলো, এ বিষয় নিয়ে তোমাদের মাথা ঘামাবার দরকার নেই। আওয়ামী লীগের বৃহত্তর অংশ এ আবদারমূলক রাজনীতির //প্রতি বঙ্গবন্ধুর কোনো রকম সমর্থন না পেয়ে ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করেছিলো। তাঁরা জয় বাংলা স্লোগানকে ভারতের জয় হিন্দ ও সিন্ধুর জিয়ে সিন্ধ বা জিও সিন্ধ এর সঙ্গে মিশিয়ে এক ধরনের বিদ্রুপ করতো। আর সুযোগ পেলে জয় বাংলা স্লোগান দেয়া ছাত্রলীগ কর্মীদের ওপর চড়াও হতো। রবিবার, ৪ জানুয়ারি ১৯৭০। সেদিন, ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনে সৈয়দ নজরুল ইসলাম ছিলেন প্রধান অতিথি। অনুষ্ঠানের শুরুতে জয় বাংলা স্লোগান দেয়া শুরু হলে দুয়েকজন আপত্তি করেন এবং এ স্লোগানটি বন্ধ করার জন্য সৈয়দ নজরুল ইসলামকে অনুরোধ জানান। তা সত্ত্বেও জয় বাংলা স্লোগান বারবার উচ্চারিত হতে থাকে। সৈয়দ নজরুল ইসলাম তাঁর বক্তব্য প্রদানকালে জয় বাংলার পক্ষে বিপক্ষে অবস্থান পরিষ্কার করলেন না। বিষয়টি বুঝতে পেরে নিউক্লিয়াস নেতৃবৃন্দ চার-পাঁচজন মিলে একটি গ্রুপ হয়ে সন্ধ্যার পর থেকে শুরু করে রাত ১২/১টা পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের হল-হোস্টেলে জয় বাংলা স্লোগান দিতো। তখন রাতের অন্ধকারে হাতে লেখা পোস্টার লাগানো হতো ঢাকা শহরের প্রায় সর্বত্র (সে সময়কালে বৃহত্তর ঢাকার লোকসংখ্যা ছিলো দশ লাখের মতো, আজকের ঢাকা দিয়ে সেদিনের ঢাকাকে বোঝা একেবারেই অসম্ভব; বর্তমানে বৃহত্তর ঢাকার লোকসংখ্যা হলো দুই কোটি বিশ লাখ)। তখন ক্ষুদ্রাকার মিছিল করে জয় বাংলা স্লোগান দেয়া হতো। জয় বাংলা স্লোগানে মুখরিত মানুষ আন্দোলিত পুরো ঢাকা শহর। বিষয়টি বঙ্গবন্ধু পর্যন্ত পৌঁছানো হলো। তখন আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি হিসেবে কে এম ওবায়দুর রহমানকে বঙ্গবন্ধুর কাছে পাঠানো হয়। কে এম ওবায়দুর রহমান বঙ্গবন্ধুর কাছে জয় বাংলাকে তুলে ধরেন গুরুতর আপত্তিমূলক স্লোগান হিসেবে। সিরাজুল আলম খান ওই সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন। বঙ্গবন্ধু তখন কোনো সিদ্ধান্ত না দিয়ে পরবর্তীতে বিষয়টি সুরাহা করবেন বলে জানান। আসলে বিষয়টি ছিলো অত্যন্ত জটিল। তবে স্বাধীনতার প্রশ্নে জয় বাংলা স্লোগানের গুরুত্ব বিবেচনায় আসে। এ বিষয়ে কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেয়ার দায়িত্ব নিউক্লিয়াসর পক্ষ থেকে সিরাজুল আলম খানকে দেয়া হয়। রবিবার, ১১/১৮ জানুয়ারি (তবে নিশ্চিতভাবে ১৮ জানুয়ারি-ই হবে), ১৯৭০। সেদিন, পল্টন ময়দানে আওয়ামী লীগের জনসভা হওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। ওই দিনটিতে কৌশলগতভাবে জয় বাংলা কে জনগণের কাছে প্রথমবারের মতো তুলে ধরার সিদ্ধান্ত নেয় নিউক্লিয়াস। গাজী গোলাম মোস্তফাকে (সাধারণ সম্পাদক, ঢাকা শহর আওয়ামী লীগ) নিউক্লিয়াসর প্রতি পরোক্ষ একজন সহযোগী হিসেবে অতি নিপুণভাবে গড়ে তোলা হয়েছিলো। সভা উপলক্ষে পল্টনে আওয়ামী লীগের অন্যসব জনসভার চাইতে পাঁচ ফুট উঁচু করে বিশেষভাবে মঞ্চ নির্মাণ করার জন্য গাজী গোলাম মোস্তফাকে অনুরোধ জানানো হয়। ১৯৬৪-৬৫ সালে ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন সৈয়দ মজহারুল হক বাকি। ছাত্র রাজনীতির পর তিনি বিজ্ঞাপনী নামে একটি বিজ্ঞাপন প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে ছিলেন, যার অফিস ছিলো জিন্নাহ এভিনিউতে (বর্তমানে বঙ্গবন্ধু এভিনিউ)। কামাল আহমেদ ছিলেন যশস্বী খ্যাতিসম্পন্ন একজন অংকন শিল্পী (বর্তমানে তিনি কানাডা প্রবাসী) তবে তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না এবং একই বয়স না হলেও (কামাল আহমেদ ছিলেন সিরাজুল আলম খান-এর চেয়ে ৪-৫ বছরের বড়) সিরাজুল আলম খান-এর সঙ্গে তাঁর সখ্যা ছিলো। শিল্পী কামাল আহমেদকে আনা হলো বিজ্ঞাপনী প্রতিষ্ঠানে। সে সময় রবিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন ছিলো। সৈয়দ মজহারুল হক বাকি ও কামাল আহমেদকে সিরাজুল আলম খান (দৈর্ঘে প্রায় ৪ ফুট লম্বা পাশে ১০ ফুট চওড়া) কাঠের উপরে জয় বাংলা শব্দটি লেখার জন্য বলেন। লেখার পর এ কাঠটিকে দুভাগে ভাগ করা হয়। তখন বেলা তিনটে, পাঁচটায় জনসভা শুরু হবে। সে সময়কালে শহর আওয়ামী লীগের সক্রিয় সদস্য পনর-বিশ জনের বেশি ছিলো না। বাকিরা সবাই খ্যাতিমান এডভোকেট আব্দুস সালাম খান (সম্পর্কে বঙ্গবন্ধুর মামা)-র নেতৃত্বাধীন ছয় দফার বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা পিডিএম (Peoples Democratic Movement-PDM)-এ চলে যায়। সে সময় থেকে শুরু করে পরবর্তী সকল জনসভায় এবং অন্যান্য সাংগঠনিক কাজে ব্যস্ত থাকতে হতো নিউক্লিয়াস সদস্যদের। তখনই নিউক্লিয়াসর রাজনৈতিক উইং হিসেবে বিএলএফ (BLF-Bangladesh Liberation Force) গঠন করা হয়। এসব সময়ে ঢাকা শহরের সব স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় এবং তখনকার ঢাকা শহরের অন্তর্ভুক্ত ৪২টি ওয়ার্ডে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠনের পাশাপাশি বিএলএফ (BLF)-এর সদস্য সংখ্যা খুব দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পেতে থাকে। গোটা বাংলাদেশেও তখন একই অবস্থা। শুধুমাত্র ঢাকা শহরেই তখন বিএলএফর সংখ্যা প্রায় সাড়ে তিন (৩.৫০) হাজার। আর জেলা-থানা (বর্তমানে উপজেলা) পর্যায়ে আড়াই (২.৫) হাজার। এ সংখ্যা গণআন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থান এবং সশস্ত্র সংগ্রামকালে বৃদ্ধি পেয়ে সাত (৭) হাজারে উন্নীত হয়। জনসভাসমূহে লোক সমাগম, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্ব বিএলএফ (BLF)-র সদস্যদের উপর দেয়া হয়। মূল দায়িত্বে ছিলেন কাজী আরেফ এবং মনিরুল ইসলাম (মার্শাল মনি)। অন্যান্য জনসভার মতো কবিয়াল শফি আহমেদ এখানেও তাঁর জনপ্রিয় কবিগান প্রায় একঘণ্টা ব্যাপী গেয়ে শুনালেন। রবিবার, ১৮ জানুয়ারি, ১৯৭০। দিনটি ছিলো স্বাধীনতার লক্ষ্যে পৌঁছানোর এমন এক সন্ধিক্ষণ, যার দায়িত্ব বর্তিয়ে ছিলো নিউক্লিয়াসর পক্ষ থেকে সিরাজুল আলম খান-এর উপর। সাধারণত সিরাজুল আলম খান সরাসরি কোনো দায়িত্বে থাকতেন না। তিনি যেসব দায়িত্বে থাকতেন তা হলো, রণনীতি ও রণকৌশল প্রণয়ন এবং জটিল বিষয়ে ও ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত দানের ব্যাপারে। সে দিনের গুরুত্বের কারণেই সিরাজুল আলম খান-এর উপরে এ দায়িত্ব দেয়া হয়। বেলা তিনটের দিকে কাঠের দুই অংশের এক অংশ আগেই বেশ উঁচু করে নির্মাণ করা মঞ্চের মাঝামাঝি জায়গায় শামিয়ানায় আটকানো হার্ডবোর্ডের ওপর লাগিয়ে দেয়া হয়। বাকি অংশ লাগানো হয় পাশাপাশি করে জনসভা শুরু হওয়ার দশ-পনেরো (১০-১৫) মিনিট আগে। জয় বাংলা লেখাটি রঙতুলিতে মাস্টারপিস (masterpiece) হিসেবে কাঠের খণ্ডে লিখেছিলেন শিল্পী কামাল আহমেদ। বেলা চারটে নাগাদ জনসভায় আগত মানুষের দ্বারা পল্টন ময়দানের আউটার স্টেডিয়াম ছিলো কানায় কানায় ভরপুর। যেসব খুঁটিতে মাইক হর্ণ (সরশব যড়ৎহ) লাগানো হয়েছিলো, প্রত্যেকটি খুঁটির গোড়ায় দুজন করে বিএলএফ (BLF) সদস্য ছিলেন। আর তাঁদের হাতে দেয়া হয়েছিলো একটি চিরকুট। নির্দেশ ছিলো সিরাজুল আলম খান যখন মঞ্চ থেকে স্লোগান দেবেন সে মুহূর্তে এ চিরকুট খোলা হবে। প্রায় ১০০টি মাইক হর্ণ লাগানো বাঁশের খুঁটির গোড়ায় ছাড়াও গোটা পল্টনের বিশেষ বিশেষ জায়গায়ও বিএলএফ(BLF) সদস্যদের দায়িত্ব ভাগ করে দেয়া হয়েছিলো। নিচে, মঞ্চের সামনে, পিছনে এবং চারপাশে বিএলএফ(BLF) সদস্যরা বিশেষ নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন। সেদিন, আওয়ামী লীগের জনসভায় পুরো পল্টন জুড়ে ছিলো প্রচুর জনসমাগম। একমাত্র মসজিদটি ছাড়া তখনকার আউটার স্টেডিয়ামে আর কোনো স্থাপনা ছিলো না। পেছনে ডিআইটির দিকে বাস্কেটবল খেলার জন্য ছোটো ছোটো কাঠের গ্যালারির (স্টেডিয়াম) মতো কয়েকটি স্থাপনা ছিলো মাত্র। সেসময় পল্টন ময়দানে এক লক্ষের মতো লোকসমাগম হতে পারতো। তেমনই লোকে লোকারণ্য অবস্থায় ১৯৭০ সালের ১৮ জানুয়ারির জনসমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয়। সে মুহূর্তে ঢাকা শহরের লাখো মানুষের জনস্রোত যেন মিশে গিয়েছিলো পল্টন ময়দান (আউটার স্টেডিয়াম)। সভার বক্তৃতা মঞ্চটি ছিলো বিশেষভাবে নির্মিত বেশ কিছুটা উঁচু। মঞ্চের শামিয়ানায় আটকানো হার্ডবোর্ডের ওপর লাগানো কাঠের খণ্ডে উজ্জ্বল লাল রঙের দুটি শব্দ জয় বাংলা জ্বল জ্বল করছিলো। বেশ কিছুটা উঁচু করে মঞ্চ তৈরি করার কারণে দর্শকরা দূর থেকেও তা স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছিলেন। সভার শুরুতে তাজউদ্দীন আহমদ বক্তব্য রাখলেন। সভাপতি ছিলেন বঙ্গবন্ধু। মঞ্চে উপবিষ্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমদ, খন্দকার মোশতাক আহমেদ, ক্যাপ্টেন মনসুর আলী ও গাজী গোলাম মোস্তফা ছাড়া আর কোনো আওয়ামী লীগ নেতা ছিলেন না। তবে আওয়ামী লীগ করতেন না কিন্তু তৎকালীন আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের প্রধান কাজে সদা ব্যস্ত থাকতেন এমন একজন ব্যক্তির সেই মঞ্চে উপস্থিতি সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। আর সেই ব্যক্তিটি ছিলেন সিরাজুল আলম খান। গাজী গোলাম মোস্তফার উপর একটি দায়িত্ব দেয়া হয়েছিলো, যেভাবে হোক বঙ্গবন্ধুকে স্লোগান দেয়ার জন্য সিরাজুল আলম খানকে অনুরোধ করা। তাজউদ্দীন আহমদের বক্তব্যের পর বঙ্গবন্ধু মঞ্চে বসা অবস্থায় বললেন, সিরাজ স্লোগান দে। কথাটি বঙ্গবন্ধু দুবার বললেন। সিরাজুল আলম খানও এ মুহূর্তটির জন্য অপেক্ষা করছিলেন। যেনো অনেকটা যাদু দেখানোর মতো ভঙ্গিতে সিরাজুল আলম খান মাইকের সামনে এলেন। এসে অত্যন্ত আবেগ মিশ্রিত বলিষ্ঠ কণ্ঠে বললেন, আজকের এ দিনটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে বাংলাদেশের জন্য। প্রিয় ভাই-বোনেরা আপনারা দেখছেন ওই উপরে জ্বল জ্বল করছে দুটি শব্দ জয় বাংলা। আসুন, সাত কোটি মানুষের পক্ষ হয়ে আমরা সকলকে জানিয়ে দিতে চাই, বাঙালি আমাদের পরিচয়। আসুন, যার কণ্ঠে যতো জোর আছে সবটুকু দিয়ে আমরা একই সঙ্গে বলে উঠি, জয় বাংলা। আজ থেকে জয় বাংলাকে আমাদের ভবিষ্যৎ আন্দোলনের স্লোগান হিসেবে ব্যবহার করা হবে। আসুন, আমরা সবাই কণ্ঠে কণ্ঠ মিলিয়ে আওয়াজ তুলি জয় বাংলা। তিনি আবারো বললেন, জয় বাংলা। তখন লক্ষ কণ্ঠের সমস্বরে আকাশ থেকে বাজ পড়ার মতো কানফাটা আওয়াজে জয় বাংলা স্লোগানের ধ্বনি পল্টনকে মুখরিত করে তোলে। প্রত্যেক খুঁটির গোড়ায় চিরকুট ইতিমধ্যে খোলা হয়ে গেছে। নির্দেশ ছিলো জয় বাংলাকে প্রতিধ্বনিত করে জয় বাংলা বলা। পল্টনেই শুধু নয়, ফিরে যাবার মুহূর্তেও সকলের মুখে মুখে ধ্বনিত হচ্ছিলো জয় বাংলা! আত্মপ্রত্যয়ের এক শব্দ জয় বাংলা বাঙালি জাতির পরিচয়ের এক শব্দ জয় বাংলা যেনো একটি ব্যক্ত আবেগের শব্দ জয় বাংলা! সেই থেকে বাংলাদেশের জনগণ প্রথম জানালো তাদের আগামী দিনের স্লোগান জয় বাংলা। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, নিউক্লিয়াস (স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ)-এর সিদ্ধান্ত অনুসারে আনুষ্ঠানিকভাবে এটাই প্রথম জনসম্মুখে জয় বাংলা স্লোগানের উদ্বোধন। তাজউদ্দীন আহমদের পর একে একে বক্তৃতা দিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম, খন্দকার মোশতাক আহমেদ, ক্যাপ্টেন মনসুর আলী। সভাপতি হিসেবে এবার বক্তব্য দিবেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাও ঘোষণা করলেন সিরাজুল আলম খান। আবারো সিরাজুল আলম খান মাইকের সামনে গেলেন। ঘোষণা দিয়ে বঙ্গবন্ধুকে বক্তব্য দেয়ার জন্য আহ্বান জানালেন। এ সিরাজুল আলম খান যেন অতি পরিচিত সিরাজুল আলম খান নয়। নতুন পরিচিতি। নতুন অভিব্যক্তি। নতুন প্রকাশভঙ্গি। নতুন প্রাণশক্তি। নতুন রাজনীতির সূর্যোদয়ের আহ্বান। সিরাজুল আলম খান বঙ্গবন্ধুকে বক্তব্য দেবার আহ্বানের সময় জয় বাংলা ধ্বনি দিলেন। আবারো দিলেন, তখন সভা থেকে লক্ষ কন্ঠের প্রতিধ্বনি অনুরণিত হয়ে আকাশে গর্জনের মতো শোনা গেল। গর্জনের শব্দের তীব্রতা মুহুর্মুহু প্রতিধ্বনি হলো। সে গর্জন শেষ বিকেলের শীতল বাতাস বয়ে নিয়ে গেল গোটা ঢাকা শহরে। লক্ষাধিক বাঙালির বাঁধভাঙ্গা আবেগ আর প্রত্যাশায় এ যেনো এক নবজাগরণের ইঙ্গিত। বঙ্গবন্ধু বক্তৃতা করছেন সে সুযোগে মঞ্চে বসা খন্দকার মোশতাক আহমেদ সিরাজুল আলম খানকে কাছে ডেকে নিয়ে বললেন, ভাইডি কামডা সাইরে দিসো। তুমি বলেই পারলা। আর কেউ পারতো না! জানো সিরাজ, পৃথিবীর ইতিহাসে আর একজন মানুষ রাশিয়া বিপ্লবের স্লোগান হিসেবে দিয়েছিলো, জমি, রুটি, স্বাধীনতা! জানো সে লোকটা ক্যাডা? লেনিন, লেনিন। ইতোমধ্যে বঙ্গবন্ধুর বক্তৃতা শেষ। জনসভার লক্ষাধিক মানুষের কণ্ঠে একই শব্দ এবং আওয়াজ জয় বাংলা। মনে হচ্ছিলো সারা ঢাকা যেন নতুনভাবে জেগেছে। পাখির ডাকে নয়, গগণবিদারী গর্জনের শব্দে। আর সে শব্দ হলো জয় বাংলা। জয় বাংলা কোনো দল বা ব্যক্তির স্লোগান নয়, এ স্লোগান ছিলো বাঙালির আত্মপরিচয়ের স্লোগান, স্বাধীনতাকামী জনগণের ঐক্যের স্লোগান, অর্জিত সাহসের স্লোগান, শত্রুমুক্ত করে স্বাধীন সার্বভৌমত্ব অর্জনের স্লোগান। জয় বাংলা শুধু একটি স্লোগান নয়, একটি ইতিহাস সংগ্রাম আর ভবিষ্যতের নাম। এ স্লোগান ৭১-এ বাঙালি জাতিকে করেছিলো ঐক্যবদ্ধ আর সশস্ত্র যুদ্ধকে করেছিলো ত্বরান্বিত। এ স্লোগান কণ্ঠে নিয়ে বাঙালিরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিলো সশস্ত্র সংগ্রামে। রণাঙ্গনে বুলেটের চেয়েও শক্তিশালী ছিলো এ জয় বাংলা। এগারশবছর ধরে যে বাঙালিদের নিরস্ত্র করে রাখা হয়েছিলো স্বাধীনতা সংগ্রামের শেষ পর্যায়ে সে বাঙালিদের হাতে রাইফেল তুলে নেয়ার জন্যও জয় বাংলাস্লোগান ছিলো বীজমন্ত্র। এ বীজমন্ত্রই প্রতিটি সশস্ত্র যোদ্ধা এবং জনগণকে বীর বাঙালি অস্ত্র ধরো, বাংলাদেশ স্বাধীন করো-স্লোগানের মাধ্যমে উজ্জীবিত করেছিলো। জয় বাংলা মানে- সে সকল মানুষের জয়, যারা এ বাংলার মাটি ও মানুষকে শোষণ-নির্যাতন থেকে মুক্ত করার প্রত্যয়ে যুগে যুগে লড়াই করে হটিয়ে দিয়েছে- সেন, আর্য, সুলতান, মুঘল, পাঠান, মারাঠি, পর্তুগিজ, দিনেমার, ওলন্দাজ, ফিরিঙ্গি, বর্গি, ইংরেজ, নীলকর, কাবুলিওয়ালা, জমিদার-জোতদার, পাকিস্তানিসহ বিদেশি পরাশক্তিকে। আর বুঝিয়ে দিয়েছে জয় বাংলা শুধু সাধারণ একটি স্লোগান নয়, জয় বাংলা বাঙালির মটো (motto)। আন্দোলন-সংগ্রাম এমন কি সশস্ত্র যুদ্ধের কোথাও কোনোদিন বাঙালিরা বলেননি বাংলাদেশ জিন্দাবাদ কিংবা বাংলাদেশ চিরজীবী হোক। সময়ের ব্যবধানে সে জয় বাংলা আজ ষোল-সতের (১৬/১৭) কোটি মানুষের প্রিয় স্লোগান/ধ্বনি। বঙ্গবন্ধু তাঁর ৭ মার্চের ভাষণে জয় বাংলা স্লোগান দিয়েই বক্তব্য শেষ করেছিলেন। আজকাল দুয়েকজন আহাম্মক অতি পা-িত্য জাহির করার মধ্য দিয়ে বাঙালি বিরোধী কিছু কথা বলার চেষ্টা করছেন। তা হলো-বঙ্গবন্ধু নাকি জয় বাংলা বলার পর জয় পাকিস্তান উচ্চারণ করেছিলেন। এরা পঞ্চম বাহিনীর লোক (5th columnist) লোক। এরা পাকিস্তান থাকতে পাকিস্তানিদের দালালি করতো। মার্চ মাসের আগের দিন পর্যন্ত এরা পাকিস্তানি হয়েই কাজ করতো। সর্বশেষ না পেরে এরা বাঙালি বন্ধু হয়ে উঠেন। ৭ মার্চে বঙ্গবন্ধু কেন জয় পাকিস্তান শব্দ উচ্চারণ করবেন? ওই সময় গোটা আন্দোলন ছিলো নিউক্লিয়াস-বিএলএফ-এর হাতে। এ নিউক্লিয়াস-বিএলএফ-এর মাধ্যমেই গোটা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করা হয়েছিলো। বঙ্গবন্ধু ছিলেন স্বাধীনতাকামী জনগণের নেতা। আহাম্মকরা তাদেরকে যতোই চতুর মনে করুন না কেনো, তারা আসলে সার্কাসের ভাঁড়। লেখক: তাত্ত্বিক, রাজনৈতিক গবেষক ও মুক্তিযুদ্ধকালীন নিউক্লিয়াস-এর সদস্য সূত্র: মানবজমিন...

চট্টগ্রামের ১৬ সংসদীয় আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মনোনয়ন নিয়েছেন যারা

অনলাইন :একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬ সংসদীয় আসনে আওয়ামী লীগের ২২৫ এবং বিএনপির ৯৭ জন এ পর্যন্ত মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলা কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।সূত্র : মানবজমিন।আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা উপকমিটির সদস্য আরশেদুল আলম বাচ্চু জানান, চট্টগ্রামের ১৬ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীর সংখ্যা ২২৫ জন। যা প্রতিটি আসনে গড়ে ১৪ জনে পৌছেছে। এরমধ্যে আওয়ামী লীগের সবচেয়ে বেশি মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী-বাকলিয়া) আসনে। এখানে মনোনয়ন প্রত্যাশীর সংখ্যা ২৬ জন। এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন ৫ জন। এরা হলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন, একই আসনে ২০০৮ সালে বিএনপির প্রার্থী ও নির্বাহী কমিটির সদস্য শামসুল আলম, তাঁর ছেলে মো. শোয়েব রিয়াদ, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, মহানগর মহিলা দলের সিনিয়র সহ সভাপতি বেগম ফাতেমা বাদশা। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, নগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি, সিডিএ চেয়ারম্যান মো. আবদুচ ছালাম, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সহসভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী, পিপি অ্যাডভোকেট এম এ নাসের, কাউন্সিলর তারেক সোলায়মান সেলিম, কোতোয়ালি থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাসান মনসুর রয়েছেন। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের বাকলিয়া-কোতোয়ালীর ১৫ থেকে ২৩ ও ৩১ থেকে ৩৫ নং ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত আসনটি চট্টগ্রামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদার আসন হিসেবে বিবেচিত। এরপর চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) সংসদীয় আসনে বিএনপির মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন ১১ জন। এরা হলেন- বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, শহীদ সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর স্ত্রী ফারহাত কাদের চৌধুরী, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা গোলাম আকবর খোন্দকার, সাবেক এমপি ও মহিলা কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি বেগম নুরী আরা ছাফা, ফটিকছড়ি উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ ছালাউদ্দিন, চট্টগ্রাম পেশাজীবী সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সিভিল সার্জন ডা. খুরশীদ জামিল চৌধুরী, সাবেক পিজিআর প্রধান কর্নেল (অব.) আজিমুল্লাহ বাহার চৌধুরী, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সাবেক বিচারপতি ফয়সল মাহমুদ ফয়জী, বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক কাদের গণি চৌধুরী, সরোয়ার আলমগীর, চসিকের কাউন্সিলর জেসমিনা খানম ও শিল্পপতি রফিকুল আলম চৌধুরী। এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন এ টি এম পেয়ারুল ইসলাম, প্রয়াত সংসদ সদস্য রফিকুল আনোয়ারের মেয়ে খাদিজাতুল আনোয়ার সনি, তরুণ আইনজীবী ব্যারিস্টার তানজীব উল আলমসহ ২৫ জন। চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া আংশিক) আসনে বিএনপির মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ডা. মোহসিন জিল্লুর করিম, যুব বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক এহছানুল মৌলা, সাতকানিয়া উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি সালাউদ্দিন, মোক্তার আহমেদ ও চন্দনাইশ পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি নুরুল আনোয়ার চৌধুরী। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম চৌধুরী, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমানসহ ২৩ জন। চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া ও বোয়ালখালীর শ্রীপুর-খরণদ্বীপ ইউপি) আসনে বিএনপির মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, তাঁর ভাতিজা শহীদ সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরী, অধ্যাপক ইউনুছ চৌধুরী, কুতুব উদ্দিন বাহার, ইলিয়াছ চৌধুরী, আবু আহমেদ হাসনাত, মোহাম্মদ আইয়ুব, জসিম উদ্দিন চৌধুরী, উত্তর জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক এস এ মুরাদ চৌধুরী ও এডভোকেট রেজাউল করিম রেজাসহ ১১ জন। আর আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য ড. হাছান মাহমুদ, বিএমএ নেতা ডা. ফয়সল ইকবাল চৌধুরী, প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা সাদেক চৌধুরীর ছোট ভাই ওসমান গণি চৌধুরীসহ চার জন। চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন দলটির ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, গোলাম আকবর খোন্দকার, হুম্মাম কাদের চৌধুরী, উত্তর জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জসিম সিকদার ও এডভোকেট ফরিদা আকতার। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী, ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটনসহ চার জন। চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন, তাঁর পুত্র ব্যরিস্টার মীর হেলাল উদ্দিন, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা এস এম ফজলুল হক, ব্যরিস্টার শাকিলা ফারজানা, নগর বিএনপির সহ-সভাপতি সৈয়দ আজম উদ্দিন। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এম এ সালাম ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইউনূস গণি চৌধুরী, নগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সদস্য মাহমুদ সালাহউদ্দিন চৌধুরীসহ ১০ জন। চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং) আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ও সাবেক যুবদল নেতা কাজী বেলাল উদ্দীন, নগর যুবদলের সভাপতি মোশারফ হোসেন দিপ্তী। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য ডা. আফছারুল আমিন, বিএনপির সাবেক মেয়র এম মনজুর আলম, নগর যুবলীগের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন বাচ্চু এবং যুগ্ম আহ্বায়ক ফরিদ মাহমুদসহ ১৬ জন। চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসন থেকে বিএনপির মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য এম এ লতিফ, নগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি খোরশেদ আলম সুজন ও আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চুসহ ১৭ জন। চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও) আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মোরশেদ খান, মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি আবু সুফিয়ান ও এরশাদ উল্লাহ। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমেদ, সিডিএ চেয়ারম্যান মো. আবদুচ ছালামসহ ১৭ জন। চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা) আসনে বিএনপির মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আলহাজ আলী আব্বাস, আবু মোহাম্মদ নিপার, মোস্তাফিজুর রহমান ও দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সম্পাদক সালাউদ্দিন সুমন। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ওয়াসিকা আয়শা খানসহ চার জন। চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুন্ড-কাট্টলী) আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও দলের যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরী, নগর যুবদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন দিপ্তি, আহমেদুল আলম চৌধুরী রাসেল, সাবেক সচিব ও আইজিপি এ আই ওয়াই বি সিদ্দিকী, এ কে এম আবু তাহের বিএসসি, উত্তর জেলা কৃষক দলের সভাপতি ইসহাক কাদের চৌধুরী, পারভেজ মুন্না, মোহাম্মদ ফেরদৌস মুন্না ও দিদারুল আলম দিদার। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য দিদারুল আলম, উত্তর জেলা যুবলীগের সভাপতি এস এম আল মামুন, কেন্দ্রীয় কৃষকলীগের সদস্য মোস্তফা কামাল, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল বাকের ভূঁইয়াসহ ১৭ জন। চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গাজী শাহজাহান জুয়েল, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সৈয়দ সাদাত আহমদ, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও সাবেক পটিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ইদ্রিস মিয়া, এনামুল হক এনাম ও দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সাইফুদ্দীন সালাম মিঠু। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য শামসুল হক চৌধুরী, যুবলীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বদিউল আলম, সাবেক সংসদ সদস্য চেমন আরা তৈয়ব, বিজিএমইএ নেতা মোহাম্মদ নাছিরসহ ৯ জন। চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি শেখ মো. মহিউদ্দীন, প্রচার সম্পাদক নাজমুল মোস্তফা আমিন, স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক মুজিবুর রহমান, দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আবদুল গফফার চৌধুরী এবং তাঁর ছেলে তরুণ আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ ওসমান চৌধুরী, দক্ষিণ জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক জান্নাতুল নাঈম চৌধুরী রিকু। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামউদ্দিন নদভী, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপপ্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি আবু সুফিয়ান, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাঈনুদ্দিন হাসান চৌধুরীসহ ১৮ জন। চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ জাফরুল ইসলাম চৌধুরী, সহ সভাপতি এডভোকেট ইফতেখার হোসেন চৌধুরী মহসিন, সাবেক পৌর মেয়র ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক কামরুল ইসলাম হোসাইনী, মহিলা দল নেত্রী মাহমুদা সুলতানা চৌধুরী ঝর্ণা প্রমুখ। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী, দৈনিক পূর্বদেশের সম্পাদক মুজিবুর রহমান, শিল্পপতি আবদুল্লাহ কবির লিটনসহ ১২ জন । চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনের জন্য বিএনপির মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন সাবেক এমপি এম. এ জিন্নাহ, মেজর জেনারেল (অব.) জেড এ খান, মুক্তিযোদ্ধা দলের কেন্দ্রীয় নেতা মনিরুল ইসলাম ইউসুফ, উপজেলা বিএনপি আহ্বায়ক নুরুল আমিন, উপজেলা চেয়ারম্যান নুরুল আমিন, মেজর (অব.) নুরুল মোস্তফা, সাহেদুল ইসলাম চৌধুরী, আতিকুল ইসলাম লতিফী, সাবেক ছাত্রদল নেতা সরোয়ার উদ্দিন সেলিম, ড. এম এম এমরান চৌধুরী, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শহীদুল ইসলাম চৌধুরী, ফখরুল ইসলাম ও আজিজুর রহমান চৌধুরী। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি গিয়াস উদ্দিন ও সদস্য মাহবুব উর রহমান রুহেল এবং ব্যবসায়ী নিয়াজ মোর্শেদ এলিটসহ ৯ জন। চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য মোস্তফা কামাল পাশা, উত্তর জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি ফোরকান উদ্দিন রিজভী, উপজেলা বিএনপি সদস্য নুরুল মোস্তফা খোকন, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা কামাল পাশা বাবুল, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন, এডভোকেট আবদুল হামিদ ও কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য আশরাফ উদ্দিন জনি। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য মাহফুজুর রহমান মিতাসহ ১৪ জন।


আচার বিক্রেতা হিরো আলমের স্বপ্ন এবার সংসদ সদস্য হওয়া

অনলাইন :স্যোসাল মিডিয়ায় ভাইরাল তিনি। সেখান থেকে এখন হচ্ছেন খবরের শিরোনাম। দেশের গণমাধ্যম ছাড়াও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম তাকে নিয়ে ফিচার প্রকাশ করছে। তিনি হিরো আলম। অনলাইন ভিডিও প্লাটফর্ম ইউটিউবে বাংলা ছবির বিভিন্ন গানের ভিডিও বানিয়ে এবং তাতে অভিনয় করে এসেছেন আলোচনায়। ঢাকাই চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন তিনি। ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপ এবং পেজে তাকে নিয়ে ট্রোল হলেও স্বপ্ন পূরণে থেমে নেই তার যাত্রা। প্রতিনিয়তই কিছু না কিছু নিয়ে আলোচনায় থাকছেন তিনি । হচ্ছেন খবরের শিরোনাম। সম্প্রতি বগুড়া-৪ আসনে এমপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে জাতীয় পার্টি থেকে কিনেছেন মনোনয়নপত্র। স্বপ্ন এবার সংসদ সদস্য হওয়া! সে স্বপ্ন পূরণের পথেই ছুটছেন তিনি। হিরো আলমকে নিয়ে অনেকে হাস্যরস ও ট্রোল করলেও তিনি কিন্তু তার গতিতেই এগিয়ে যাচ্ছেন। তার এ এগিয়ে যাওয়ার পিছনে রয়েছে অনেক গল্প। রয়েছে সংগ্রাম। জানিয়েছেন তিনি তার সেই সংগ্রামের কথা। হিরো আলম তখন ছোট। সবে সপ্তম শ্রেণিতে পড়েন। বাবা অন্যত্র বিয়ে করায় সেই ছোট বয়সেই ধরতে হয় সংসারের হাল। ফলে চুকে যায় লেখাপড়ার পাট। গ্রামে-গঞ্জে ঘুরে ঘুরে মায়ের বানানো আচার-চানাচুর বিক্রি করা শুরু করেন। দিনশেষে মা আনোয়ারা বেগমের হাতে অর্জিত টাকা তুলে দিতেন। আর সন্ধ্যার পর এরুলিয়া বাজারে একটি সিডি ভাড়া দেওয়ার দোকানে বসতেন। এভাবেই কেটে যায় টানা তিন বছর। পরে একদিন দোকানের মালিক শহীদুল ইসলাম চলে যান মালয়েশিয়ায়। দোকানের মালপত্র বিক্রি করে দেন দোকানের কর্মচারি হিরো আলমের কাছে। সেই শুরু হয় নতুন পথ চলা। হিরো আলমের ভাষায়, 'মালিক চলে যাওয়ার আগে আমাকে বলেন দোকান বিক্রি করে দিবেন। আমি মায়ের সঙ্গে আলাপ করে ১৬ হাজার টাকায় দোকানের সব মালপত্র কিনে নেই। দোকানে পেয়েছিলাম, একটা সাদাকালো টেলিভিশন, একশ' সিডি ও কিছু ভিসিআরের ক্যাসেট। সেই সিডির দোকানে ভালো আয়-রোজগার শুরু হয়। পরে আচার-চানাচুর বিক্রি বাদ দেই। স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথ খুঁজি। কী ছিল সেই স্বপ্ন? জানতে চাইলে হিরো আলম বলেন, 'মেরিনা সিনেমা হলে গিয়ে ছবি দেখতাম। নায়ক নায়িকারা নাচতেন। আমি সেই গানগুলোতে নাচার স্বপ্ন দেখতাম। পরে টাকা-পয়সা খরচ করে একটা কমেডি গানের ভিডিওতে মডেল হন আলম। সেই গান বের হয় ভিডিও ক্যাসেটে। ভিডিওর সেই সিডি ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। আলম মনে মনে বেশ খুশি, কারণ টিভিপর্দায় তাকে দেখা যাচ্ছে। কিন্তু গ্রামের অনেকেই খুশি হতে পারছিলেন না আলমের এইসব 'পাগলামো'তে। আলম বলেন,গ্রামের লোকজন আমাকে গালি দিতো। আমি কেন এমন জোকারগিরি করছি। কেন এমন ফালতু জিনিস বানাচ্ছি। মুরুব্বিদের অনেকে আমাকে ডেকে নিয়ে বলতেন, এইসব করে কী হবে? তার চেয়ে বরং টাকা খবচ করে হিরো হও। আমার মাথায় এটা বসে গেলো। টাকা যেহেতু খরচ করছি; হিরো হওয়ার পিছনেই করবো। এরপর স্থানীয় এক এনজিও থেকে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে এলাকায় ডিশ সংযোগের ব্যবসা শুরু করেন আলম। পাশাপাশি বানান বিভিন্ন গানের মিউজিক ভিডিও। তাতে মডেল হন নিজেই। ডিশে সেই গান প্রচার করেন। এভাবে একে একে প্রায় ছয়শ' মিউজিক ভিডিও করে ফেলেন আলম। শুধু আলম থেকে হয়ে উঠেন হিরো আলম।] এরপর ২০০৯ সালে পাশের গ্রামের সুমী নামের এক তরুণীকে বিয়ে করেন। সুমী এসএসসি পাস। আবির ও আলো নামে দুই সন্তান রয়েছে তাদের। সংসার আর ব্যবসা নিয়েই ব্যস্ত হয়ে পড়েন হিরো আলম। পাশাপাশি কিছু মিউজিক ভিডিও করেন। সেগুলো নিজের ক্যাবল চ্যানেলেই প্রচার করেন। গ্রামের মানুষ এবার তাকে বাহবা দেয়। সেই বাহবা থেকে উৎসাহ পান আলম। ২০১৬ সাল। বছরটা হিরো আলমের জন্য অনেক গুরুত্বের। কারণ এ বছরের মাঝামাঝি হুট করেই ফেসবুকে আলমের কয়েকটি মিউজিক ভিডিও ভাইরাল হয়। সেই ভিডিও কেবল বাংলাদেশেই নয়, ভারতেও হৈচৈ ফেলে দেয়। আলমকে খুঁজে বের করে প্রতিবেদন প্রকাশ করে বিভিন্ন গণমাধ্যম। ওই বছরে গুগলে তাকেই সবচেয়ে বেশি খোঁজে মানুষ। আলমের এই জনপ্রিয়তা নজরে আসে চলচ্চিত্র নির্মাতাদেরও। ঢাকার কয়েকজন উঠতি নির্মাতা তাকে নিয়ে কয়েকটি মিউজিক ভিডিও এবং স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। আলম বলেন,প্রথম যখন মিউজিক ভিডিও বানাই তখন কেউই আমার সঙ্গে মডেল হতে চাইত না। দ্বিগুণ টাকা দিয়ে তাদের নিতাম। এখন অনেকেই আমার সঙ্গে অভিনয়ের সুযোগ চায়। সিনেমার পর্দায় নায়কের মারামারি দেখে একদিন অবাক হয়েছিলাম, এখন আমি নিজে নায়ক হয়ে মারামারি করি, লোকে সেটা দেখছে। এই যে এমপি হতে মনোনয়ন পেপার নিয়েছি সবাই আলোচনা-সমালোচনা করছে- এটাই আমার প্রাপ্তি। হিরো আলম আরও বলেন, 'এলাকার মানুষের ভালোবাসা আর আর্শিবাদ আমার সঙ্গে রয়েছে। আর আমার রয়েছে ইচ্ছাশক্তি। আমার বিশ্বাস মনোয়ন পেলে আমি বিজয়ী হবো। এখন আমার মনোনয়নপত্র নেওয়া নিয়ে যারা হাসছেন, তারা শুরু থেকেই আমার সব কাজে হাসছেন। আমি তো থেমে থাকিনি। থাকলে আজকে দেশ-বিদেশের মানুষ আমাকে চিনতো না।

২০০১-২০০৬ এর বাংলাদেশ ও বর্তমান বাংলাদেশ

মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন চৌধুরী :অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১ অক্টোবর,২০০১ সালে ।১৯৯৬ সালে চালু হওয়া তত্ত্ববধায়ক সরকারের অধীনে এটি ছিল দ্বিতীয় নির্বাচন । এইসময় তত্ত্ববধায়ক সরকারের প্রধান ছিলেন বিচারপতি লতিফুর রহমান । নির্বাচনে বাংলাদেশ এ বিজয়ী হয়ে বিএনপি ও চারদলীয় জোট বেগম খালেদা জিয়াকে প্রধানমন্ত্রী করে সরকার গঠন করে ।উক্ত সরকারের নির্বাচনী ইশতিহারে প্রায় ৩২ টি সুনির্দিষ্ট বিষয়ের শতাধিক অঙ্গীকারের মধ্যে মাত্র হাতে গোনা কয়েকটি পূরণ হয়েছিল । দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন উর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ,বিদ্যুত সমস্যার সমাধান,আইনশৃংখলা পরিস্থিতির উন্নত,দুর্নীতি দমন,বিচার বিভাগ পৃথক করার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সরকার সিদ্ধান্তহীন থেকেছে ।মূলত দেশের মানুষ তখন প্রত্যাশিত আলোর থেকে বেশি থেকেছে অন্ধকারেই ।সেইসময় নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যের উর্ধ্বগতিতে দিশেহারা ছিল সীমিত আয়ের মানুষ ।দেশের উত্তর অঞ্চলে দেখা দিয়েছিল মঙ্গা ।সারাদেশে উদ্বেগজনক হারে ক্ষুদার্ত ও দারিদ্র মানুষের সংখ্যা বেড়ে গিয়েছিল ।সেইসময় দারিদ্রের হার ছিল দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৬৯ ভাগ ।মানুষের মাথাপিছু আয় ছিল খুবই নগণ্য পর্যায়ের ।অনবরত লোডশেডিং আর দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতিতে মানুষের জীবনে দীর্ঘশ্বাস বেড়ে গিয়েছিল ।দিন এনে দিন খেতে হতো সাধারন মানুষদের ।বিএনপি জোট সরকারের আমলে বাংলাদেশের কৃষিখাতে ধস নেমে গিয়েছিল ।সার সরবরাহ এবং সারের আকাশচুম্বি দাম কৃষকদের কপাল পুড়িয়েছিল ।বিএনপি জোট সরকারের আমলে তত্কলীন কৃষিমন্ত্রী (মতিউর রহমান নিজামী,২০০১ থেকে ২০০৩ এবং এম কে আনোয়ার ২০০৩ থেকে ২০০৬ ) বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্মসূচী (বিএডিসি) এর নাজুক অবস্থা করেছিল ।সারের দাবিতে আন্দোলনরত কৃষকদের উপর গুলি চালানো হয়েছিল, রাজশাহী,কুষ্টিয়াসহ সারাদেশে প্রায় ১৮ জন সাধারন কৃষক উক্ত গুলিতে মারা গিয়েছিল ।জোট সরকারের আমলে এ দেশে সবচেয়ে বেশি প্রসার লাভ করেছে জঙ্গি,সন্ত্রাসী মৌলবাদ ।ইসলাম কায়েমের নামে সমগ্র বাংলাদেশে নারকীয় হত্যা,বোমা ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালিয়েছে ব্যাপকহারে জন্ম নেওয়া মৌলবাদীরা ।এসময় খুন,ডাকাতি ও সংখ্যালগুদের উপর হামলা, ধর্ষণ ও নির্যাতন ছিল নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার ।ব্যাঙের ছাতার মতো দেশব্যাপী জঙ্গি ও সন্ত্রাসের উত্থান ঘটেছিল ।জোট সরকারের আমলে সাংসদ আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যাকান্ড সারাদেশে অস্থিরতার সৃষ্টি করেছিল ।নিহত হয়েছিল ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারজন শিক্ষক । বাংলাদেশের ইতিহাসে বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ডের শুরু হয় জোট সরকারের আমলে বাংলাদেশ।বিএনপি জোট সরকারের আমলে জন্ম নিয়েছিল কুখ্যাত বাংলা ভাই,শায়খ আব্দুর রহমান,মুফতি হান্নানসহ অসংখ্য বক-ধার্মিক ।এদের পৃষ্ঠপোষক -তায় ছিল বিএনপি জোট সরকার ।এদের সাহায্যে তত্কালীন বিরোধীদলীয় এবং আওয়ামীলীগের সভানেত্রী বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট এক ভয়াভহ গ্রেনেড হামলা চালিয়েছিল বিএনপি জোট সরকার ।জঘণ্য সেই হামলায় অল্পের জন্য শেখ হাসিনা বেঁচে গেলেও তার একটি কান বধির হয়ে যায়,সেই স্মৃতি আজো তাকে তাড়িয়ে বেড়ায় ।ঐ হামলায় শেখ হাসিনাকে বাঁচাতে গিয়ে মারা গিয়েছিলেন পরবর্তীতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হওয়া প্রয়াত জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমান ।তাত্ক্ষণিকভাবে সেই হামলায় ২৪ জন এবং মোট প্রায় ৫০০ জন আহত হয়েছিল ।বিএনপি জোট আমলে পৃষ্ঠপোষকতা পেয়ে ফুলেফেঁপে উঠেছিল জঙ্গি সংগঠন জামাতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি) ।২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট এই জঙ্গিগোষ্ঠী জেএমবি সারাদেশে সবকটি জেলায় (মুন্সীগঞ্জ বাদে) একসাথে একসময় সিরিজ বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছিল যা বাংলাদেশের ইতিহাসে এক জঘন্যতম ঘটনা ছিল ।বিএনপি জোট সরকার বাংলাদেশের চিরশত্রু রাজাকারদের গাড়িতে জাতীয় পতাকা তুলে দিয়েছে যা চরমভাবে বাংলাদেশ নামক ভূখন্ডকে কলঙ্কিত করেছে ।লাগো মানুষের রক্ত দিয়ে গড়া সংসদ ভবনে রাজাকারদের প্রবেশ ঘটিয়ে বিএনপি জাতি ও মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সাথে নিকৃষ্টতম বেঈমানী করেছে ।শুধু কি তাই ?বিএনপির পৃষ্টপোষকতায় রাজাকারগোষ্ঠী এই দেশে কোটি কোটি টাকার ব্যবসা গড়ে তুলেছে যা থেকে আয়কৃত অর্থ দিয়ে জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালিত হতো ।নিজামী,সাঈদী,মীর কাসিমসহ আরো অনেক স্বাধীনতাবিরোধী ব্যক্তি ও গোষ্ঠী বিএনপি জোট সরকারের ছত্রছায়ায় থেকে বাংলাদেশের সাধারন মানুষের সম্পদ লুন্ঠনে ব্যস্ত ছিল ।বিএনপি জোট আমলে দুর্নীতিরোধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ঘটিত হলেও বিএনপি জোট সরকারেরই উচ্চপর্যায়ের অনেক মন্ত্রী দুর্নীতিবাজ ছিল ।সেইসময় বাংলাদেশ বিশ্ব দুর্নীতি তালিকায় পরপর কয়েকবার এক নম্বর স্থানে ছিল যাস্বাধীন বাংলাদেশের গৌরবের ইতিহাসকে চরমভাবে কলঙ্কিত করেছিল ।দশ ট্রাক অস্ত্র পাচার ছিল বিএনপি জোট আমলের একটি অন্যতম ন্যাক্কারজনক ঘটনা ।২০০৪ সালে ১ এপ্রিল মধ্যরাতে চট্টগ্রামের সিইউএফএল জেটিঘাটে খালাসের সময় পুলিশ সদস্যরা আটক করে ১০ ট্রাক সমপরিমাণ অস্ত্র ।পরবর্তীতে ঘটনার অনুসন্ধানে জানা যায় যে,ভারতীয় বিদ্রোহী সংগঠন উলফার পরেশ বড়ুয়া এই দশ ট্রাক অস্ত্র পাচারের সাথে যুক্ত ছিলেন ।এ ব্যাপারে তিনি কয়েকবার বাংলাদেশেও এসেছিলেন । এ মামলায় বিএনপি জোট আমলে তত্কালীন শিল্পমন্ত্রী মতিউর রহমান নিজামী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লুত্ফজ্জামান বাবরের সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হয় । ৩০ জানুয়ারী,২০১৪ সালে এ মামলার রায়ে এ দুজনসহ মোট ১৪ জনকে ফাঁসির দন্ডাদেশ দেওয়া হয় । কথিত আছে যে,তত্কালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লুত্ফজ্জামান বাবরের শোকেসে দেশ বিদেশের প্রায় ৩০০০ হাজার দামী শার্ট ছিল ।তিনি এক বারের বেশি কোন শার্ট পরতেন না ।সেইসময় কেন বাংলাদেশ দুর্নীতিতে কয়েকবার প্রথম ছিল এই বিলাসীতার চিত্র থেকেই বুঝা যায় ।বিএনপি জোট আমলে ব্যাপকহারে নির্যাতনের স্বীকার হয়েছে বাংলার শান্তিপ্রিয় সংখ্যালঘু সম্প্রদয় ।সবচেয়ে বেশি নির্যাতনের স্বীকার হয়েছে হিন্দু জনগোষ্ঠী ।সংখ্যালঘু পল্লীগুলোয় ৫ সংস্রাধিক হামলার ঘটনায় দোষীদের চিহ্নিত করা হলেও বিএনপি জোট সরকারের কাউকে শাস্তির আওতায় আনেনি ।জামায়াতের জঙ্গী সংগঠন শিবিরের অসংখ্য নেতা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর নির্যাতন চালিয়েছে ।হত্যা,ধর্ষণ,গণধর্ষণের এক জঘন্য বিকৃত ইতিহাস রচনা করেছিল জামায়াত শিবির সংগঠন ।বিএনপি জোট আমলে শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি জামায়াত শিবির এবং মৌলবাদীগোষ্ঠীর রাহুগ্রস্থ ছিল ।প্রথাবিরোধী লেখক হুমায়ূন আজাদের উপর বাংলা একাডেমীতে নৃশংস হামলা চালিয়েছিল মৌলবাদীরা ।রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষক পরিচালিত এই মৌলবাদী সন্ত্রাসীরা বাংলা সাহিত্য,সংস্কৃতি ও ভাষাকে গলাটিপে রেখেছিল ।আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসিবিএনপি জোট আমলে আমাদের প্রিয় এই জাতীয় সঙ্গীতকে ম্লান করে রাখা হয়েছিল ।জাতীয় সংগীতের স্থানে মৌলবাদীরা স্বপ্ন দেখতো পাক সার জমিন সাদ বাদ এর ।১৯৭১ সালে এক সাগর রক্তের বিনিময়ে পাওয়া এই বাংলাদেশকে ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত মিনি পাকিস্তান করে রাখা হয়েছিল ।মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতাকে ভুলুন্ঠিত করা হয়েছিল ।মুক্তিযোদ্ধা ও স্বাধীনতা স্বপক্ষের মানুষগুলি ছিল নির্যাতিত ।২০০১ থেকে ২০০৬ এ ৫ বছরে ধর্মীয় মৌলবাদী সন্ত্রাসীদের দাপটে,লুটপাট,দখলে বিপর্যস্ত ছিল ৫৬ হাজার বর্গমাইলের এই দেশটি ।তথাপি, প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বেশকিছু উদ্যোগ সাধারন মানুষের মন জয় করে নিয়েছিল ।তার মধ্যে একটি ছিল,গরীব-দুঃখীদের মাঝে দেশী ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল বিতরণ ।এই উদ্যোগটা বাংলাদেশের সাধারন মানুষের কাছে ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছিল ।ছাগল পালনে অনেক মানুষ আশার আলো খুঁজে পেয়েছিল,সংসারে স্বচ্ছলতা খুঁজে পেয়েছিল । বিএনপি জোট আমলে অর্থমন্ত্রী হিসেবে প্রয়াত সাইফুর রহমান প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন বটে কিন্তু সরকারের উচ্চপর্যায়ে এবং তৃণমলে দুর্নীতির কারনে সম্পদ ও বাজেটের অসম বন্টণের জন্য সাধারন মানুষ অর্থনৈতিক ও আর্থসামাজাকিভাবে কখনোই আলোর মুখ দেখেনি ।বিএনপি জোট আমলে অপরাধ দমনে গঠিন হয়েছিল রেপিড একশন ব্যাটালিয়ন (RAB)।দুই একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ব্যতিত এই ব্যাটালিয়ন সেই থেকে এখন পর্যন্ত অপরাধ দমনে প্রশংসনীয় অবদান রেখে চলেছে ।বিএনপি জোট আমলে বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় পরিবর্তন এসেছিল ।বিভাগীয় শহরগুলিতে যাতায়তের প্রধান প্রধান সড়ককে বেশ উন্নত করা হয়েছিল । কিন্তু এই উন্নয়ন ও উন্নতি কখনোই সাধারন মানুষের মন জয় করতে পারেনি সরকারের উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের অসততা ও জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাসী কার্যক্রমের জন্য ।বাংলাদেশের শত্রু রাজাকারদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হওয়ার কারনে মানুষ বিএনপির দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় ।যার প্রতিফলন আমরা দেখতে পাই ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ।সাধারন মানুষ এ নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয় এনে দিয়েছিল আওয়ামীলীগ কে ।মানুষের সেই ভালবাসা ও বিশ্বাসকে পুঁজি করে ২০০৮ থেকে এই ২০১৮ পর্যন্ত আওয়ামীলীগ বাংলাদেশের উন্নয়নের সারথি হয়ে চলছে । সব মিলিয়ে বলা যায় যে,২০০১ থেকে ২০০৬ এই ৫ বছরে বিএনপি জোট সরকার কিছু উন্নয়ন ও পদক্ষেপ ব্যতিত সার্বিকভাবে বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশিত আশা-আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটাতে ব্যর্থ হয়েছে । শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বদলে যাওয়া বাংলাদেশঃ বন্ধুর পথ পাড়ি দিয়ে সব সূচকে অগ্রগতি, সাফল্য আর উন্নয়নের ফানুস উড়িয়েই টানা দ্বিতীয় মেয়াদের ক্ষমতার চার বছর পূর্ণ করল শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার। ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি দ্বিতীয় এবং ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে ১২ জানুয়ারি তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। এই সময়ে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুত্তি, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীসহ বিভিন্ন খাতের উন্নয়ন দেশের ভেতর-বাইরে প্রশংসিত হয়েছে। বিশ্বের বুকে বাংলাদেশ এখন শুধু উন্নয়নের রোল মডেলই নয়, একটি মানবিক রাষ্ট্র হিসেবেও প্রশংসিত। কথিত তলাবিহীন ঝুড়ির বাংলাদেশ আজ ১০ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেয়ার পাশাপাশি খাদ্য, বস্ত্র-চিকিৎসার দায়িত্ব নেয়। বিশ্লেষকরা মনে করেন, এ সবকিছুই সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ়চেতা ও সাহসী নেতৃত্বের কারণে। উন্নয়নের অগ্রযাত্রা: সরকারের টানা নয় বছরে দেশের রাজনীতিসহ সবকিছুর নিয়ন্ত্রণ শেখ হাসিনার হাতে থাকলেও সে পথ মসৃণ ছিল না। জ্বালাও-পোড়াও, জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতাসহ দেশি-বিদেশি নানা ষড়যন্ত্র, বাধা ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এগোতে হয়েছে। বর্তমান সরকারের সময়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ, যোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি, ক্রীড়া, পরিবেশ, কৃষি, খাদ্য, টেলিযোগাযোগ, সংস্কৃতি, সামাজিক নিরাপত্তা, মানবসম্পদ উন্নয়ন এমন কোনো খাত নেই যে খাতে অগ্রগতি সাধিত হয়নি। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে গত কয়েক বছরে দেশে অবকাঠামো উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, পুষ্টি, মাতৃত্ব এবং শিশু স্বাস্থ্য, প্রাথমিক শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন ইত্যাদি ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। যা দেশের গণ্ডি পেরিয়ে প্রশংসিত হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলেও। এগিয়ে সব সূচকে: দেশ আর্থ-সামাজিক সূচকসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রত্যাশাজনক সাফল্য অর্জন করেছে এবং মাথাপিছু আয় বৃদ্ধিসহ এখন মেগা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের কাজ অব্যাহতভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। বর্তমান সরকারের প্রবৃদ্ধি ৫.৫৭ থেকে ৭.২৮ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। মাথাপিছু আয় ৮৪৩ থেকে ১ হাজার ৬১০ মার্কিন ডলার, বিনিয়োগ ২৬.২৫ শতাংশ থেকে ৩০.২৭ শতাংশ, রফতানি ১৬.২৩ থেকে ৩৪.৮৫ বিলিয়ন ডলার, রেমিট্যান্স ১০.৯৯ থেকে ১২.৭৭ বিলিয়ন ডলার, রিজার্ভ ১০.৭৫ থেকে ৩৩.৪১ বিলিয়ন ডলার এবং এডিপি ২৮৫ বিলিয়ন টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ১০৭ বিলিয়ন টাকা। সাহসী সিদ্ধান্ত বড় প্রকল্পে: নিজস্ব অর্থে পদ্মার ওপর ৬ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণ করার সাহস দেখাচ্ছে বাংলাদেশ। বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন থেকে সরে যাওয়ার পর বিশাল এ প্রকল্প হাতে নেয়ার ঘটনা অনেক দেশ ও সংস্থার সন্দেহ ও বিস্ময় প্রকাশ করলেও সে স্বপ্ন এখন দৃশ্যমান। এক লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা খরচ করে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করছে বাংলাদেশ। গত বছরের ৩০ নভেম্বরের পর থেকে দেশ এখন বিশ্বের ৩১টি পারমাণবিক শক্তিধর দেশের তালিকায়। ২০৪১ সালে উন্নত দেশে উন্নীত হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে দ্বিতীয় পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগও চলমান। রয়েছে মহাকাশ জয়ের লক্ষ্য। দেশের প্রথম স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ আগামী মার্চে মহাকাশে উৎক্ষেপণ করার সম্ভাবনা রয়েছে। দুই হাজার ৯৬৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ উপগ্রহ সফলভাবে মহকাশে গেলে বিশ্বের ৫৭তম দেশ হিসেবে নিজস্ব স্যাটেলাইটের মালিক হবে বাংলাদেশ। বছরে সাশ্রয় হবে ১৪ মিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ ছাড়াও ব্যবহার করবে সার্কভুক্ত অন্যান্য দেশ, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, মিয়ানমার, তাজিকিস্তান, কিরগিজস্তান, উজবেকিস্তান, তুর্কমিনিস্তান ও কাজাখস্তানের কিছু অংশ। এ ছাড়া মেট্রোরেল, এলিভেটেট এক্সপ্রেসহ আরো কিছু বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সরকার। দেশের প্রথম ৬ লেনের ফ্লাইওভার নির্মাণ কাজ নির্ধারিত সময়ের আগেই সম্পন্ন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৪ জানুয়ারি ফেনী জেলার মহিপালে এই ফ্লাইওভার উদ্বোধন করেন। দেশের আইটি খাতের নতুন সম্ভাবনা যশোরে শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক প্রধানমন্ত্রী ১০ ডিসেম্বর উদ্বোধন করেছেন। মাতারবাড়িতে ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিপিজিসিবিএল) সুমিতোমোর নেতৃত্বাধীন জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। আন্তর্জাতিক অর্জন: বর্তমান সরকারের শাসন আমলেই কোনো রকম যুদ্ধ-সংঘাত বা বৈরিতা ছাড়াই দুই প্রতিবেশী ভারত ও মিয়ানমারের বিপক্ষে সমুদ্র বিজয় নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। বঙ্গোপসাগরে এক লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটারের বেশি টেরিটরিয়াল সমুদ্র, ২০০ নটিক্যাল মাইল এলাকায় একচ্ছত্র অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং চট্টগ্রাম উপকূল থেকে ৩৫৪ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত মহীসোপান এলাকার প্রাণিজ ও অপ্রাণিজ সম্পদের ওপর সার্বভৌম অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এ ছাড়া স্বাধীনতার পরপর ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে যে স্থল সীমান্ত চুক্তি হয়েছিল সম্প্রতি তা বাস্তবায়নের মাধ্যমে ছিটমহল সমস্যার সমাধান করা বাংলাদেশের বড় অর্জন বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। সর্বশেষ রোহিঙ্গা ইস্যুতেও আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসা পেয়েছে বাংলাদেশ। জাতিসংঘসহ বিশ্বের প্রায় সকল দেশ ও সংস্থা এই ইস্যুতে বাংলাদেশের ভূয়সী প্রশংসা করে পাশে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পেয়েছেন মাদার অফ হিউম্যানিটি উপাধি। তলাহীন ঝুড়ির বাংলাদেশ আজ ১০ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেয়ার পাশাপাশি খাদ্য, বস্ত্র-চিকিৎসার দায়িত্বও পালন করছে। শেখ হাসিনার স্বীকৃতি: পিপলস অ্যান্ড পলিটিকস, বিশ্বের পাঁচজন সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানকে চিহ্নিত করেছেন, যাদের দুর্নীতি স্পর্শ করেনি, বিদেশে কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নেই, উল্লেখ করার মতো কোনো সম্পদও নেই। বিশ্বের সবচেয়ে সৎ এই পাঁচজন সরকারপ্রধানের তালিকায় তৃতীয় স্থানে আছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ ছাড়াও কাজের অবদানের জন্য তাকে নানা পুরস্কারে ভূষিত করা হয় আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার পক্ষ থেকে। ২০১৪ সালে ইউনেস্কো তাকে শান্তির বৃক্ষ ও ২০১৫ সালে ওমেন ইন পার্লামেন্টস গ্লোবাল রফারাম নারীর ক্ষমতায়নের জন্য তাকে রিজিওনাল লিডারশিপ পুরস্কার এবং গ্লোবাল সাউথ-সাউথ ডেভলপমেন্ট এক্সপো-২০১৪ ভিশনারি পুরস্কারে ভূষিত করে। বাংলাদেশের কৃষির উন্নয়নে অব্যাহত সমর্থন, খাদ্য উৎপাদনে সয়ম্ভরতা অর্জন এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নয়নে অবদানের জন্য আমেরিকার কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় ২০১৫ সালে তাকে সম্মাননা সনদ প্রদান করে। জাতিসংঘ পরিবেশ উন্নয়ন কর্মসূচি দেশে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিবেশ এবং টেকসই উন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখার জন্য লিডারশিপ ক্যাটাগরিতে শেখ হাসিনাকে তাদের সর্বোচ্চ পুরস্কার চ্যাম্পিয়ন অব দ্যা আর্থ-২০১৫ পুরস্কারে ভূষিত করেছে। টাইম ম্যাগাজিনের বিবেচনায় বিশ্বের প্রভাবশালী ১০ নারী নেত্রীর একজন মনোনীত হয়েছিলেন শেখ হাসিনা। একজন জাতীয়তাবাদী নেতা হিসেবে শেখ হাসিনা সবসময় নিজেকে প্রমাণ করেছেন। মধ্যপ্রাচ্যের শীর্ষস্থানীয় দৈনিক খালিজ টাইমস রোহিঙ্গাদের সংকট মোকাবিলায় শেখ হাসিনার মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির জন্য তাকে নিউ স্টার অব দ্য ইস্ট বা পূর্বের নতুন তারকা হিসেবে আখ্যায়িত করে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও ডিজিটাল বাংলাদেশ: মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িতদের বিচার কাজে সফলতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ। টানা দুই মেয়াদের ক্ষমতায় বিভিন্ন প্রভাবশালী দেশ ও গোষ্ঠীর চাপ সত্ত্বেও শীর্ষস্থানীয় অপরাধীদের বিচার শেষে রায় কার্যকর করা হয়েছে। এই বিচার করতে পারা স্বাধীন বাংলাদেশকে কলঙ্কমুক্ত করার ক্ষেত্রে বড় সাফল্য। সেই সঙ্গে গত কয়েক বছরে ডিজিটাইজেশনে বাংলাদেশের অগ্রগতি বিশ্বে উদাহরণ সৃষ্টি করছে। ভূমি ব্যবস্থা ডিজিটাইজেশনের ফলে মানুষের দুর্ভোগ কমছে। ই-টেন্ডারিং, ই-জিপির ফলে দুর্নীতি কমছে। ১০ টাকায় কৃষক ও স্কুলের শিক্ষার্থীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ, মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু করার ঘটনাও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদাহরণ হিসেবে কাজে লাগছে। মসৃণ ছিল না এই যাত্রা: প্রথম মেয়াদ শেষ করা ও টানা দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু ও তার চার বছরে অনেক সফলতা আসলেও এই যাত্রা মসৃণ ছিল না। এই সময়ে পিছু ছাড়েনি ষড়যন্ত্র। সামনে এসেছে নিত্যনতুন চ্যালেঞ্জ। বিএনপি-জামায়াতের চরম রাজনৈতিক সহিংসতা মোকাবিলা করে দেশ যখন স্থিতিশীল পরিবেশে অর্থনৈতিকসহ নানা ক্ষেত্রে ইতিবাচক ধারায়, ঠিক তখনই আবার নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে এসেছে জঙ্গিবাদ। তবে এসব চ্যালেঞ্জের বেশিরভাগই স্বাভাবিকভাবে সৃষ্ট নয়, বরং ষড়যন্ত্রমূলকও। সরকারকে বিপাকে ফেলে চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ড-অগ্রযাত্রা স্তিমিত করে দেয়াই ছিল উদ্দেশ্য। গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় ভয়াবহ জঙ্গি হামলা, কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ঈদের জামাতে জঙ্গি হামলা, মসজিদ-মন্দিরে হামলা, সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা, অগ্নিসংযোগ এবং সবশেষ এক নারী জঙ্গির আত্মঘাতীর ঘটনা সেটিই প্রমাণ করে। তবে সব ষড়যন্ত্র আর চ্যালেঞ্জ প্রজ্ঞার সঙ্গে মোকাবিলা করেই পথ চলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। লেখক :মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন চৌধুরী, সম্পাদক, নিউজ একাত্তর ডট কম

আজকের মোট পাঠক

33185

নিউজ একাত্তর ডট কম

সম্পাদক : মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন চৌধুরী

নির্বাহী সম্পাদক : আহাম্মদ হোসেন ভুইয়া

একটি পপুলার মিডিয়া পাবলিকেশন এর প্রকাশনা | রেজি নং: চ-১২৪২৭/১৭

সম্পাদকীয় ও বানিজ্যিক কার্যালয় : ৪১৬/সি,খিলগাও ঢাকা। ফোন : ০৩১-২৭৭১১৮৮, ০১৮২৪২৪৫৫০৪, ০১৭৭৮৮৮৮৪৭২

চট্টগ্রাম কার্যালয় : ১৯/২০/২১ বি ৩য় তলা, হানিমুন টাওয়ার,পাহাড়তলী,চট্টগ্রাম।

ই-মেইল : [email protected], [email protected], কপিরাইট ©newsekattor.com কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত