করোনার দ্বিতীয় ঢেউ, লকডাউনে ফিরেছে ইউরোপ

২৬,অক্টোবর,সোমবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: চলতি গ্রীষ্মের শুরুতে ইউরোপের অনেক দেশই ভেবেছিল যে জীবন-যাত্রা হয়তো আবারও স্বাভাবিক গতিতে ফিরে যাবে। প্যারিসের মিউজিয়াম এবং বার্সেলোনার ক্যাফেগুলোও খুলে দেওয়া হয়েছিল। যদিও আগের মতো চিরচেনা রূপে দেখা যায়নি, সবক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধতা রাখা হয়েছে। জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, ডেনমার্কের লোকজন ছুটি কাটাতে ভূমধ্যসাগরের বিভিন্ন বীচে ঘুরে বেরিয়েছেন। চলতি বছরের আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে যখন শিশুরা স্কুলে ফিরতে শুরু করে তখন থেকেই নতুন করে কোভিড-১৯ সংক্রমণ বাড়তে শুরু করে। ফলে বিভিন্ন দেশের সরকার বেশ উদ্বিগ্ন হলেও কঠোর সামাজিক-দূরত্বের মতো বিধি-নিষেধ পুনরায় জারি করার বিষয়ে অনেক দেশেরই কোনো পরিকল্পনা ছিল না। ইকোনমিস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপীয় দেশগুলোর রাষ্ট্রপ্রধানদের এমন সিদ্ধান্তের জন্যই তাদের চরম মূল্য দিতে হয়েছে। ইউরোপজুড়ে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়েছে। অনেক দেশেই করোনা সংক্রমণ আগের সব রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। বিভিন্ন দেশে করোনার পরীক্ষা-নিরীক্ষা বাড়িয়ে দেওয়ায় সংক্রমণ বাড়ছে বলে জানানো হয়েছে। তবে মৃত্যুহার এখনও কিছুটা কম আছে। হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। বেশিরভাগ দেশই এই গ্রীষ্মকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারেনি। সে কারণেই এখন তাদের ভুগতে হচ্ছে। অনেক দেশই এখন আবার নতুন করে কড়াকড়ি ও বিধি-নিষেধ জারি করতে বাধ্য হয়েছে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রেস্টুরেন্ট-বার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কারফিউ ও জরুরি অবস্থাও জারি করেছে বেশ কিছু দেশ। তবে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে ইউরোপে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে স্পেন। করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে কারফিউয়ের পাশাপাশি দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। দেশটিতে রোববার থেকেই রাত্রিকালীন কারফিউ কার্যকরের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। রাত ১১ থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত কারফিউ জারি থাকবে বলে জানানো হয়েছে। জরুরি অবস্থা জারির কারণে স্থানীয় প্রশাসন এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে লোকজনের ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। দেশজুড়ে ১৫ দিনের জন্য জরুরি অবস্থা এবং কারফিউ জারি করা হয়েছে। তবে এই সময়সীমা আরও বাড়ানো হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নতুন বিধি-নিষেধের কারণে গণজমায়েত বা ব্যক্তিগত সাক্ষাতেও কিছু সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে। সর্বোচ্চ ছয়জন একসঙ্গে সমবেত হতে পারবেন। ওয়ার্ল্ডোমিটারের পরিসংখ্যান বলছে, স্পেনে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ১১ লাখ ১০ হাজার ৩৭২। এর মধ্যে মারা গেছে ৩৪ হাজার ৭৫২ জন। সংক্রমণে স্পেনের কাছাকাছি রয়েছে ফ্রান্স। দেশটিতে করোনার দৈনিক সংক্রমণ অর্ধলাখ ছাড়িয়ে গেছে। যা আগের সব রেকর্ড ভেঙেছে। দেশটিতে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ৫২ হাজার ১০ জন। এখন পর্যন্ত দেশটিতে এটাই সর্বোচ্চ আক্রান্তের সংখ্যা। পাবলিক হেলথ ফ্রান্স (এসপিএফ) জানিয়েছে, দেশটিতে গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছে আরও ১১৬ জন। দেশটিতে করোনা মহামারি শুরুর পর এখন পর্যন্ত সংক্রমণে মৃত্যু হয়েছে ৩৪ হাজার ৭৬১ জনের। শুক্রবার সপ্তম দেশ হিসেবে দশ লাখ করোনার সংক্রমণ ছাড়িয়েছে ফ্রান্সে। সংক্রমণ ঠেকাতে রাজধানী প্যারিসসহ দেশজুড়ে আবারও রাত্রিকালীন কারফিউ জারি করেছে দেশটির সরকার। ফ্রান্সে দৈনিক গড় মৃত্যু টানা দশদিন ধরে বাড়ছেই। সম্প্রতি ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সতর্ক করেছেন যে, করোনার প্রভাব আগামী গ্রীষ্ম পর্যন্ত থাকবে। এক বিবৃতিতে বলেন, তার দেশের লোকজনকে কমপক্ষে আগামী বছরের মাঝামাঝি পর্যন্ত করোনাভাইরাসের সঙ্গে লড়াই করতে হবে। ওয়ার্ল্ডোমিটারের পরিসংখ্যান বলছে, ফ্রান্সে এখন পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৫০৭। এর মধ্যে মারা গেছে ৩৪ হাজার ৭৬১ জন। তবে ইতোমধ্যেই সুস্থ হয়ে উঠেছে ১১ লাখ ৩২২ জন। গত ৩১ ডিসেম্বর চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে প্রথম করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। সে সময় ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে ইতালি এবং স্পেন ছিল করোনায় সবচেয়ে বিপর্যস্ত। বর্তমানে বেলজিয়াম এবং নেদারল্যান্ডেও করোনা উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বেলজিয়ামের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ফ্রাংক ভানদেনব্রুক সতর্ক করে বলেছেন, আমরা হয়তো একটি বিপর্যয়ের খুব কাছাকাছি রয়েছি। দেশটিতে সব ধরনের রেস্টুরেন্ট ও বার বন্ধ রাখা হয়েছে। এছাড়া মধ্যরাত থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করা হয়েছে। দেশটিতে এখন পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৩ লাখ ২১ হাজার ৩১। এর মধ্যে মারা গেছে ১০ হাজার ৮১০ জন। এদিকে, নেদারল্যান্ডেও সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। চলতি সপ্তাহে দেশজুড়ে চার সপ্তাহের জন্য রেস্টুরেন্ট বন্ধ ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে ঘরের বাইরে মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। দেশটিতে এখন পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ২ লাখ ৯১ হাজার ২৫৪। এর মধ্যে মারা গেছে ৭ হাজার ৪৬ জন। ইউরোপে প্রথমদিকে করোনা মহামারি ছড়িয়ে পড়ার পর ইতালির অবস্থা ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ। দেশটি যেন এক মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছিল। মাঝে কিছুদিন সংক্রমণ কিছুটা কম থাকলেও নতুন করে আবারও বাড়তে শুরু করেছে। দেশটিতে এখন পর্যন্ত মোট করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৫ লাখ ২৫ হাজার ৭৮২। অপরদিকে সংক্রমণে মৃত্যু হয়েছে ৩৭ হাজার ৩৩৮ জনের। পোল্যান্ডে রেড জোন লকডাউন জারি করা হয়েছে। দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং রেস্টুরেন্টে আংশিক নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। সম্প্রতি দেশটির প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেজ দুদা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তবে ৪৮ বছর বয়সী এই প্রেসিডেন্টের অবস্থা ভালো রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন তার মুখপাত্র। দেশটিতে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় নতুন করে বিধি-নিষেধ জারি করা হয়েছে। সেখানে পাঁচজনের বেশি মানুষের সমবেত হওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আনা হয়েছে। এছাড়া ছোট শিশুদের অবশ্যই প্রাপ্ত বয়স্ক কারও সঙ্গে বের হতে হবে। অপরদিকে, ৭০ বছরের বেশি বয়সীদের বাড়ির বাইরে বের হওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। এখন পর্যন্ত দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২ লাখ ৫৩ হাজার ৬৮৮। অপরদিকে মারা গেছে ৪ হাজার ৪৩৮ জন। জার্মানিতে করোনা সংক্রমণ কমিয়ে আনতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হলেও বার্লিনে সংক্রমণ বাড়ছেই। করোনার সংক্রমণ যেসব এলাকায় বেশি সেখানে রেস্টুরেন্ট এবং বার আগেই বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মাস্ক ব্যবহারেও নির্দেশনা জারি হয়েছে। দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৪ লাখ ৩৭ হাজার ৬৩৭। এর মধ্যে মারা গেছে ১০ হাজার ১৩৮ জন। তবে ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি মৃত্যু দেখেছে যুক্তরাজ্য। দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা ৮ লাখ ৭৩ হাজার ৮শ। এর মধ্যে মারা গেছে ৪৪ হাজার ৮৯৬ জন। লাতিন আমেরিকার পর দ্বিতীয় অঞ্চল হিসেবে মহামারি করোনায় আড়াই লাখ মৃত্যু ছাড়িয়েছে ইউরোপে। পরিস্থিতি বেশ উদ্বেগজনক বলে সতর্ক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। গত বৃহস্পতিবার ইউরোপে প্রথমবারের মতো একদিনে দুই লাখের বেশি সংক্রমণ শনাক্ত হয়। এ ছাড়া চলতি সপ্তাহে দৈনিক সর্বোচ্চ করোনা সংক্রমণের রেকর্ড হয়েছে ইউরোপের দক্ষিণাঞ্চলীয় বেশিরভাগ দেশে। ফলে নতুন করে বিধিনিষেধ আরোপ করতে বাধ্য হচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন। বিশ্বে মহামারি করোনায় মোট মৃত্যুর ১৯ শতাংশ এবং মোট শনাক্ত সংক্রমণের ২২ শতাংশই ইউরোপে। ওই অঞ্চলে এ পর্যন্ত শনাক্ত ৮০ লাখের বেশি কোভিড-১৯ রোগীর মধ্যে যে আড়াই লাখ মারা গেছে এর মধ্যে দুই তৃতীয়াংশই কয়েকটি দেশে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেছেন, ভ্যাকসিনের ওপর নির্ভর করতে পারে না ব্রিটেন আর তাই মহামারির বিস্তার ঠেকাতে কিংবা লাগাম টানতে বিধি-নিষেধসহ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ...

চীনের ধুলায় করোনা আসতে পারে, সতর্ক থাকতে বলল উ. কোরিয়া

২৫,অক্টোবর,রবিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: চীন থেকে এশিয়ান ডাস্ট বা ইয়েলো ডাস্ট করোনা ভাইরাস নিয়ে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করছে উত্তর কোরিয়া। এ কারণে এরইমধ্যে দেশটি নিজেদের নাগরিকদের সতর্ক করে ঘরে থাকতে আহ্বান জানিয়েছে। এই সতর্কতার পরে রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ের রাস্তাগুলো বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) কার্যত খালি ছিল বলে জানা গেছে। বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, গোপনীয়তা রক্ষা করে চলা উত্তর কোরিয়া নিজেদের করোনা ভাইরাস মুক্ত বলে দাবি করছে। কিন্তু গত জানুয়ারি থেকেই দেশটি উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে কঠোর সীমান্ত বন্ধ এবং চলাচলে নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে। চীনের সিজনাল ধুলা এবং করোনা ভাইরাসের মধ্যে কোনো লিঙ্ক আছে কি-না জানা নেই কারও। এরপরও উত্তর কোরিয়ার বাড়তি সতর্কতায় সংশ্লিষ্টদের অনেকেই ইতিবাচক বলে জানা গেছে। যদিও এই দুইয়ের মধ্যে কোনো লিঙ্কের পরামর্শ দেওয়ার জন্য এরাই একমাত্র দেশ নয়। তবে বিবিসির একটি টিম বের করেছে, তুর্কমেনিস্তানেও ভাইরাস এবং ক্ষতিকর ধুলার কারণে নাগরিকরা মাস্ক পরছেন। তারা শুধু একটি প্রাদুর্ভাব মোকাবিলা করার চেষ্টা অস্বীকার করছেন। প্রতিবেদন বলছে, ক্ষতিকারক ভাইরাসের আক্রমণ থেকে রক্ষার জন্যও উত্তর কোরিয়ায় এ সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্র-নিয়ন্ত্রিত কোরিয়ান সেন্ট্রাল টেলিভিশন (কেসিটিভি) বুধবার (২১ অক্টোবর) আবহাওয়া সংক্রান্ত বিশেষ সম্প্রচারে বলেছে, হলুদ ধুলার প্রবাহ বাড়তে পারে। পরের দিন বৃহস্পতিবার এই প্রবাহ বেশি বাড়তে পারে। এজন্য দেশব্যাপী বাইরে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতেও ঘোষণা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। হলুদ ধুলা সাধারণত মঙ্গোলিয়ান এবং চীনা মরুভূমির বালিকে বোঝায়। যা বছরের একটা নির্দিষ্ট সময়ে উত্তর এবং দক্ষিণ কোরিয়ায় গিয়ে প্রবাহিত হয়। এটি বিষাক্ত ধুলার সঙ্গে মিশে গেছে। যা বছরের পর বছর ধরে উভয় দেশেই স্বাস্থ্য উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলছে। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম যুক্তি দেখিয়েছে, করোনা ভাইরাসকে বায়ুবাহিত সংক্রমণের সঙ্গে সংযুক্ত করলে এবং গবেষণা মেলালে হলুদ ধলার প্রবাহকে গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া উচিত। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোলও জানিয়েছিল, করোনা ভাইরাস কয়েক ঘণ্টা বাতাসে থাকতে পারে। তবে কাউকে এভাবে সংক্রমিত করা অত্যন্ত বিরল বলেও উল্লেখ করেছেন অনেক গবেষক। এদিকে, উত্তর কোরিয়ায় করোনা ভাইরাস আক্রান্ত শনাক্ত কোনো রোগী এখন নেই দাবি করা সত্ত্বেও গভীর উদ্বেগে রয়েছে দেশটি। উচ্চ সতর্কতা এবং কঠোর বিধিনিষেধ নিশ্চিত করার জন্য দেশটির নেতা কিম জং উন বার বার উচ্চস্তরের বৈঠক করছেন।...

শিশু নিপীড়নের অভিযোগে অস্ট্রেলিয়ায় গ্রেফতার ৪৪

২৪,অক্টোবর,শনিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: শিশুদের আটকে রেখে যৌন নির্যাতনসহ নিপীড়নের ছবি ও ভিডিও বানিয়ে সেগুলো অনলাইনে পোস্ট করার কাজে জড়িত সন্দেহে ৪৪ জনকে গ্রেফতার করেছে অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশ (এএফপি)। সন্দেহভাজনদের গ্রেফতারের পাশাপাশি পুলিশ ১৬ শিশুকে উদ্ধার করেছে। খবর বিবিসি। অনলাইনে শিশু নিপীড়নের নানা ছবি ও ভিডিওর সূত্র ধরে প্রায় এক বছর ধরে তদন্তের পর পুলিশ এসব সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করেছে। অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে মোট ৩৫০টি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে, যার সবগুলোই শিশুদের আটকে রাখা ও নির্যাতন সম্পর্কিত। গ্রেফতারকৃতরা একটি ক্লাউড স্টোরেজ প্লাটফর্ম ব্যবহার করে শিশুদের নিপীড়নের ভিডিও ও ছবি আদান-প্রদান করত। পুলিশ কমিশনার রিস কারশউ জানান, গ্রেফতারকৃতরা সমাজের নানা খাতে কাজ করেন। তাদের কেউ কেউ নির্মাণ, কেউ পরিবহন, প্রশাসন ও সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। ...

আজ মরুভূমি, ১৭২ বছর আগে এখানেই বয়েছিল নদী

২৩,অক্টোবর,শুক্রবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: থর মরুভূমির মাঝে ১৭২ হাজার বছরের প্রাচীন লুপ্ত নদীর সন্ধান পেলেন গবেষকরা। তাদের দাবি, একদা এই নদীর তীর ধরেই ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করেছিল আদিম মানুষ। সম্প্রতি কোয়াটার্নারি সায়েন্স রিভিউ জার্নালে প্রকাশিত এক নিবন্ধে বলা হয়েছে, থর মরুভূমির মধ্য ভাগে নল গ্রামের কাছে এক খাদানে অবলুপ্ত সেই নদীর একাধিক চিহ্ন খুঁজে পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। গবেষকদলে ছিলেন জার্মানির দ্য ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউট ফর দ্য সায়েন্স অফ হিউম্যান হিস্ট্রি, তামিল নাডুর আন্না বিশ্ববিদ্যালয় এবং আইআইএসইআর কলকাতার বিজ্ঞানীরা। তাদের দাবি, প্রস্তরযুগে থর মরুভূমি অঞ্চলের চরিত্র একেবারেই ভিন্ন প্রকৃতির ছিল। রাজস্থানের বিকানেরে সেই আদিম নদীখাতের কিছু প্রমাণ পাওয়া গেছে। এই খাদান থেকে কাছাকাছি বর্তমান নদীর দূরত্ব ২০০ কিলোমিটারের বেশি। গবেষকরা জানিয়েছেন, একদা যেখানে বয়ে নদী, আজ সেখানেই রয়েছে বিস্তীর্ণ শুকনো মরুভূমি অঞ্চল। নদীখাত সরে যাওয়ার ফলেই এই প্রাকৃতিক পরিবর্তন ঘটেছে। গবেষকরা মনে করছেন, এ যাবৎ থর মরুভূমির মধ্যে দিয়ে কোনও নদীর বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হয়নি। এই নদীপথ ধরেই অতীতে একাধিক প্রজাতির পরিযোজন ঘটেছিল। উপগ্রহ চিত্র বিশ্লেষণ করে তাঁরা দেখেছেন, এক সময় থর মরুভূমির উপর দিয়ে বেশ কিছু নদীখাত বয়ে গিয়েছিল। তবে ঠিক কোন সময়ে এই অঞ্চল নদীমাত্রিক ছিল, তা এখনও সঠিক নির্ণয় করা যায়নি। আন্না বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হেমা অচ্যুথানের মতে, সাক্ষ্য-প্রমাণ জোগাড় করতে হলে মরুভূমির মধ্যভাগে খনন প্রয়োজন। তবে ইতোমধ্যে অবলুপ্ত নদীর বালি ও পাথরের সন্ধান পাওয়া গেছে মাটির নীচে। নদীর স্রোতে বয়ে আসা সেই পলি বিশ্লেষণ করে দেখেছেন গবেষকরা। প্রাথমিক অনুসন্ধান বলছে, নদীর বয়ে আনা কোয়ার্টজ পাথরের কুচি প্রায় ১৭২ ও ১৪০ হাজার বছর আগে সেখানে জমা হয়েছিল। অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, , ৯৫ থেকে ৭৮ হাজার বছর আগেও স্রোতস্বীনী ছিল এই নদী। এর পরেই নদীখাত শুকিয়ে যেতে থাকে। তবে ২৬,০০০ বছর আগে ফের একবার নদীর মরা খাতে স্রোত ফিরেছিল, সে প্রমাণও পাওয়া গেছে। ...

বোয়ালখালীতে অর্ধকোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে প্রয়াত সাংসদ বাদলের সমাধি

২৬,অক্টোবর,সোমবার,মো.এনামুল হক লিটন,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: দক্ষিণ চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে অর্ধকোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে চট্টগ্রাম-৮ সংসদীয় আসনের প্রয়াত সাংসদ মঈন উদ্দিন খান বাদলের সমাধী। উপজেলার ৫নং ইউনিয়নের সরোয়াতলীর নিজ গ্রামে ৫ কাঠা জমির উপর নির্মিত সমাধীর কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হতে চলেছে। গতকাল সরেজমিনে প্রয়াত সাংসদের গ্রামের বাড়ী সরোয়াতলীতে গিয়ে দেখা যায়, ৫ কাঠা জমির একপাশে কবরের চারপাশে এবং উপরে স্মৃতিসৌধের আদলে সমাধীর নির্মাণ কাজ অব্যাহত রয়েছে। জানতে চাওয়া হলে, সাংসদ বাদলের সহধর্মিনী সেলিনা খান বাদল সত্যের স্ফুরণে একজনের মহত্তকে সম্মান না জানালে সশ্রদ্ধ কৃতজ্ঞতা না জানালে আমার বিবেক আমাকে নীরবে দংশন করবে। তাই সাংসদ বাদলের স্মৃতি রক্ষায় আমি এসব উদ্যোগ নিয়েছি উল্লেখ করে বলেন, সমাধীর জন্য ব্যয় হচ্ছে প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা। এছাড়া পাশে থাকবে একটি লাইব্রেরী ও পাঠাগার। সেখানে সাংসদের সকল বই, ব্যবহৃত জিনিষপত্র থাকবে। এছাড়া সমাধির চারপাশে নান্দনিক ফুলের বাগান এবং মাঝামাঝিস্থানে একটি কৃঞ্চচূড়া থাকবে। সবমিলিয়ে প্রায় ৪০-৫০ লাখ টাকা খরচ পড়তে পারে। তাঁর প্রতি ভালোবাসা থেকেই আমার এই প্রয়াস। আগামী ৭ নভেম্বর চট্টগ্রাম-৮ সংসদীয় আসনের সাংসদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিশিষ্ট পার্লামেন্টিরিয়ান মঈন উদ্দিন খান বাদলের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী। মৃত্যুবার্ষিকীর আগেই আমি এই সমাধীর কাজ শেষ সম্পন্ন করতে ঢাকা থেকে ছুঁটে আসি। তবে লাইব্রেরী ও পাঠাগারসহ অন্যান্য কাজ সম্পাদন করতে আরো কিছু সময় লাগবে বলে জানান তিনি।...

নাসিরনগরে ১৪৫ পুজা মন্ডপে সরকারি অনুদান বিতরণ

২৫,অক্টোবর,রবিবার,ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি,নিউজ একাত্তর ডট কম: হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা উপলক্ষে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার ১৪৫টি পূজা মন্ডপে সরকারি অনুদান বিতরণ করা হয়েছে। স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ নাসিরনগর আসনের সংসদ সদস্য ও সমাজ কল্যান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য বদরুদ্দোজা মোঃ ফরহাদ হোসেন সংগ্রাম এসব অনুদানের ডিও বিতরণ করেন। এ সময় তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে সবাইকে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। আইনশৃংখলা বজায় রাখার পাশাপাশি সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি। এছাড়া কোন অশুভ শক্তি যেন এই আনন্দমুখর পরিবেশের বিঘ্ন ঘটাতে না পারে সে জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে সর্তক থাকতে হবে। উপজেলা নিবাহী কর্মকর্তা নাজমা আশরাফীর সভাপতিত্বে উপজেলা প্রকল্প বাস্তয়ন কর্মকর্তা সাইফুল ইসলামের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা চেয়ারম্যান ডা. রাফিউদ্দিন আহমেদ, পূজা উদযাপন কমিটির সাবেক সভাপতি কাজল জ্যোতি দত্ত, উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) অনাথ বন্ধু দাস, সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক নিমর্ল চৌধুরী। অনুষ্ঠানে উপজেলার ১৪৫টি পূজা মন্ডপে প্রত্যেকটি মন্দিরে ৫০০কেজি করে মোট ৭২৫০০ কেজি চাল বিতরণ করেন। এসময় আওয়ামী লীগের দলীয় নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিকসহ উপজেলার প্রতিটি পূজা মন্ডপের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকরা উপস্থিত ছিলেন। ...

টেকনাফে ৫০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার

২৪,অক্টোবর,শনিবার,টেকনাফ প্রতিনিধি,নিউজ একাত্তর ডট কম: কক্সবাজারের টেকনাফে বিজিবি অভিযান চালিয়ে ৫০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে এক মেইল বার্তায় এ তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন টেকনাফ বিজিবির ২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ ফয়সল হাসান খান। তিনি বলেন, বিজিবির বিশেষ টহল দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে টেকনাফের ছ্যুরিখাল এলাকা দিয়ে মিয়ানমার থেকে ইয়াবার একটি চালান বাংলাদেশে পাচার হবে। তাই প্রচণ্ড ঝড় ও ভারি বর্ষণের মধ্যেও বিজিবি অবস্থান নেয়। পরে ভোররাতে নাইট ভিশন ডিভাইস দ্বারা কয়েকজন দুষ্কৃতকারী ব্যক্তিকে ছ্যুরিখাল সংলগ্ন লবণের মাঠ দিয়ে প্রবেশ করতে দেখে। তখনই টহলদল অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের ধরার জন্য চ্যালেঞ্জ করে। কিন্তু বিজিবি টহলদলের উপস্থিতি টের পেয়ে দ্রুত অনুপ্রবেশকারীরা পালিয়ে যায়। এরপর টহলদল লবণ মাঠ তল্লাশি করে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের ফেলে যাওয়া একটি পলিথিনের ব্যাগ উদ্ধার করে। উদ্ধারকৃত ব্যাগের ভেতর ৫০ হাজার পিস ইয়াবা পাওয়া যায়। বিজিবি কর্মকর্তা বলেন, উদ্ধারকৃত মালিকবিহীন ইয়াবাগুলো বর্তমানে ব্যাটালিয়ন সদরের স্টোরে জমা রাখা হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনি কার্যক্রম গ্রহণ করে পরবর্তীতে তা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রতিনিধি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও মিডিয়া কর্মীদের উপস্থিতিতে ধ্বংস করা হবে। ...

ব্যাতিক্রমধর্মী শিক্ষকের ছোঁয়া পেলো একঝাঁক ছাত্রছাত্রী

২৪,অক্টোবর,শনিবার,সাবরিন জেরিন,মাদারীপুর,নিউজ একাত্তর ডট কম: নোবেল করোনা ভাইরাস সংক্রমণের প্রভাব সারাবিশ্বের দেশগুলোর মতো বাংলাদেশেও এর প্রভাব কম পড়েনি। তারমধ্যে শিক্ষা, অর্থনীতি ও স্বাস্থ্য অন্যতম । করোনার প্রভাবে সরকারের নির্দেশে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার সাথে সাথে ছাত্র ছাত্রীরা শিক্ষা থেকে বিমুখ হয়ে পড়ে। আর অন্যদিকে, ছাত্রছাত্রীদের লেখাপড়া থমকে দাড়ায় করোনার প্রভাবে। তার মধ্যে বেশিরভাগ ছাত্রছাত্রী চাকরি প্রত্যাশী। যারা বসেছিলো একটা চাকরি পেয়ে বাবা মায়ের মুখে হাসি ফোটাবে এবং সংসারের হাল ধরবে। করোনার এই পরিস্থিতির মাঝে যখন শিক্ষা থেকে বিমুখ হয়ে পড়ছে সেসময় সুমন হায়দার নামে একজন ব্যাতিক্রমধর্মী শিক্ষকের ছোঁয়া পেলো শিক্ষা বণ্ঞিত হাজার হাজার চাকরি প্রত্যাশী ছাত্রছাত্রীরা তথ্য সূত্রে জানা যায়, তিনি একজন সিনিয়র ইংরেজি লেকচার, বি.সি.এস কনফিডেন্স (লায়ন তাসলিমা গিয়াস পরিচালিত) যিনি মহামারী পরিস্থিতির মাঝেও বেকারত্ব ছাত্রছাত্রীদের পাশে দাড়িয়েছেন। যার কারনে আবারো ফিরে পেলো একঝাঁক ছাত্র ছাত্রী শিক্ষার আলো। এই সময় সুমন হায়দার বলেন, নোবেল করোনা ভাইরাস সংক্রমণের কারনে যেভাবে ছাত্রছাত্রীরা শিক্ষা থেকে বিমুখ হয়ে পড়ছে, এভাবে যদি তারা বিমুখ হয়ে পড়ে তাহলে একসময় শিক্ষার আলো নিভে যেতে পারে। ছিটকে পড়বে শতশত ছাত্র ছাত্রী। তাদের এই নিভে যাওয়া আলোকে আলোকিত করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যেখানে হাজার হাজার চাকরীপ্রত্যাশী ছাত্রছাত্রীরা নামে মাত্র অনলাইন খরচ দিয়ে সকল চারকীর ইংরেজি কোর্সটি ভালোভাবে সম্পর্ন করতে পেরেছে। এই বিষয়ে শিক্ষাবিদ নাজমুল করিম জানান, সুমন হায়দারের এই মহৎপ্রাণ যেন আবারো শিক্ষা দিয়ে গেলো বইয়ের পাতায় শিক্ষা থাকে না, শিক্ষা থাকে জীবনের পাতায়। সুমন হায়দারের এই মহৎপ্রাণ শিক্ষা আলোকিত করবে শতভাগ ছাত্র ছাত্রীদের জীবন।...

সাতকানিয়ায় অতিরিক্ত মদপানে একজনের মৃত্যু

২৪,অক্টোবর,শনিবার,সাতকানিয়া প্রতিনিধি,নিউজ একাত্তর ডট কম: সাতকানিয়ায় অতিরিক্ত মদপানে একজনের মৃত্যু হয়েছে। তার নাম ওসমান প্রকাশ কানা ওসমান (৫৫)। শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে স্থানীয়রা উপজেলার বাজালিয়া ইউনিয়নের বড়দুয়ারা হলুদিয়া এলাকায় সড়কের পাশে ওসমানের লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। নিহত ওসমান উত্তর বাজালিয়া ৬নং ওয়ার্ডের মৃত গুনু মিয়ার ছেলে। সাতকানিয়া থানার ওসি আনোয়ার হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নিউজ একাত্তরকে বলেন, সকালে স্থানীয় লোকজন সড়কের পাশে ওসমানের লাশ পড়ে থাকতে দেখে খবর দেয়। পরে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়। তিনি বলেন, ধারণা করা হচ্ছে অতিরক্তি মদপানে সে মারা গেছে। তবুও ময়নাতদন্ত করলে প্রকৃত রহস্য জানা যাবে। নিহত ওসমানের বিরুদ্ধে থানায় একটি মাদক মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও রয়েছে বলে জানান ওসি। ...

ইভ্যালিতে পাওয়া যাচ্ছে পিএইচপির বাইক

২৫,অক্টোবর,রবিবার,অর্থনীতি ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: পিএইচপি অটোমোবাইলস উৎপাদিত বাইক এখন থেকে কেনা যাবে অনলাইন ভিত্তিক মার্কেটপ্লেস ইভ্যালিতে। একই সাথে পিএইচপি অটোমোবাইলস উৎপাদিত প্রোটন ব্র্যান্ডের গাড়িও যুক্ত হতে যাচ্ছে ইভ্যালিতে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) এ উপলক্ষ্যে চট্টগ্রামে পিএইচপি অটোমোবাইলস কার্যালয়ে উভয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এক সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ইভ্যালির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন এবং পিএইচপি অটোমোবাইলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ আখতার পারভেজ নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেন। ইভ্যালির পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই চুক্তির আওতায় দেশিয় প্রতিষ্ঠান পিএইচপি এর উৎপাদিত ১২৫ সিসির পিএচপি সুপার এবং ১৫০ সিসির পিএইচপি মারবাকা ব্র্যান্ডের মোটরবাইক ইভ্যালিতেই অর্ডার করতে পারবেন গ্রাহকেরা। এবিষয়ে ইভ্যালির প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাসেল বলেন, পিএচপি দেশেই অটোমোবাইলস প্রস্তুত করছে। এর ফলে দেশের মানুষেরা সাশ্রয়ী মূল্য বাইক,গাড়ি কিনতে পারবেন। এমন একটি উদ্যোগের সাথে ইভ্যালিকে যুক্ত করতে পেরে আমরা আনন্দিত। তাদের ১০ হাজারের অধিক বাইক উৎপাদনের সক্ষমতা আছে। ইতোমধ্যে সাইক্লোন অফারে পিএইচপির বাইকের ওপর আকর্ষণীয় মূল্যছাড় দেওয়া হচ্ছে। আশা করছি পিএইচপিকে সাথে নিয়ে আমরা গ্রাহকদের দারুণ কিছু দিতে পারব। পিএচপি অটোমোবাইলস এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আখতার পারভেজ বলেন, পিএইচপি প্রেমীদের জন্য এটা একটা দারুণ সুযোগ এনে দিতে যাচ্ছে। ইভ্যালির মাধ্যমে পিএইচপির মোটরসাইকেল বিক্রয় ক্রেতার দ্বারগোড়ায় পৌঁছাবে বলে আমি বিশ্বাস করি। গ্রাহকেরা তাদের কাংখিত পণ্য সহজেই ইভ্যালি থেকেই পাবে। একই সাথে ইভ্যালিও পিএইচপির সাথে হওয়া এই পার্টনারশিপ উপভোগ করবে। বাইকের পাশাপাশি পিএইচপি উৎপাদিত প্রোটন ব্র্যান্ডের বিভিন্ন মডেলের গাড়িও ইভ্যালিতে পাওয়া হবে জানানো হয়েছে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে। সাগা, প্রিভি, পারসোনা এবং এক্স৭০ মডেলের গাড়িগুলো আকর্ষণীয় অফারে পাওয়া যাবে ইভ্যালিতেই। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মাঝে পরিচালক (টেকনিক্যাল) মামুনুর রশীদ, পরিচালক (মানবসম্পদ) সাবরিনা নাসরিন, হেড অব বিজনেস দেবাকর দে শুভ, পিএইচপি অটোমোবাইলস এর হেড অব মার্কেটিং মেসবাহ উদ্দিন আতিক উপস্থিত ছিলেন। ...

করোনার ধাক্কা সামলাতে পারছে না বাটা সু

২৪,অক্টোবর,শনিবার,অর্থনীতি ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: মহামারি করোনাভাইরাসের ধাক্কায় পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত বহুজাতিক কোম্পানি বাটা সু চলতি বছরের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে প্রথমবারের মতো লোকসানের খাতায় নাম লিখিয়েছে। সময় গড়ানোর সঙ্গে কোম্পানিটির লোকসানের পাল্লা আরও ভারী হয়েছে। কিছুতেই করোনার ধাক্কা সামলে উঠতে পারছে না বহুজাতিক এই কোম্পানিটি। আগের প্রান্তিকের ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকেও কোম্পানিটি বড় লোকসান করেছে। এতে চলতি বছরের ৯ মাসের কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৮৯ টাকার উপরে। কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ সভা শেষে প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মাধ্যমে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া মহামারি করোনাভাইরাস বাংলাদেশে প্রথম আঘাত হানে গত ৮ মার্চ। করোনার প্রকোপ ঠেকাতে ২৬ মার্চ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত টানা ৬৬ দিন সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছিল সরকার। ফলে চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিক ছিল দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য সবচেয়ে খারাপ সময়। এ সময়ে প্রায় সবধরনের প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটে। মুসলমানদের সব থেকে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতরের আগে করোনার প্রকোপে ঈদকেন্দ্রীক কেনাকাটায় ভাটা পড়ে। ফলে ঈদে ব্যবসা করা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর সব থেকে বেশি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বাটা সু কর্তৃপক্ষের বক্তব্যেও সেই চিত্রই উঠে আসে। এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে বড় লোকসানে পড়ার কারণ হিসেবে বাটা সু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, সাধারণত ব্যবসার ২৫ শতাংশ আসে ঈদকেন্দ্রীক এবং এই সময়ে উচ্চমূল্যের পণ্য বেশি বিক্রি হয়। যা উচ্চ মুনাফা দেয়। কিন্তু করোনার কারণে এ সুযোগ এবার হাতছাড়া হয়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এবার মাত্র ১৫ শতাংশ আয় হয়েছে। ডিএসইকে দেয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছিল ৫৩ টাকা ৭৪ পয়সা। ৩০ মের পর ধীরে ধীরে কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়ে আসলেও করোনার ধকল সামলে উঠতে পারেনি বাটা সু। ফলে জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৩৭ টাকা ৫৫ পয়সা। দ্বিতীয় প্রান্তিকের মতো তৃতীয় প্রান্তিকেও বড় লোকসান করায় ৯ মাসের হিসাবে কোম্পানিটি শেয়ারপ্রতি লোকসানে রয়েছে প্রায় ১০০ টাকা। বাংলাদেশ চামড়ার পণ্য নিয়ে দাপটের সঙ্গে ব্যবসা করা কোম্পানিটি এর আগে কখনও এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়নি। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৮৯ টাকা ২৩ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে শেয়ার প্রতি মুনাফা হয় ২৩ টাকা ৫১ পয়সা। এ ধরনের বড় লোকসানে পড়ার কারণ হিসেবে কোম্পানিটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কোভিড-১৯ এর কারণে সীমিত বিক্রি হওয়ায় এমন লোকসান হয়েছে। লোকসানের খাতায় নাম লেখানোর পাশাপাশি কোম্পানিটির সম্পদ মূল্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি সম্পদ মূল্য দাঁড়িয়েছে ২৭৫ টাকা ৪২ পয়সা, যা ২০১৯ সালের ডিসেম্বর শেষে ছিল ৩৬৪ টাকা ৬৫ পয়সা।...

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে নতুন সচিব

২৫,অক্টোবর,রবিবার,শিক্ষা ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে নতুন সচিব নিয়োগ পেয়েছেন জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক (সচিব) মো. হাসিবুল আলম। রোববার (২৫ অক্টোবর) এই নিয়োগ দিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে আদেশ জারি করা হয়েছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের দায়িত্ব চালিয়ে আসা মো. আকরাম-আল-হোসেন আগামী ৩১ অক্টোবর অবসরোত্তর ছুটিতে (পিআরএল) যাচ্ছেন। নতুন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব হাসিবুল আলম প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের যুগ্মসচিব, পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের দ্বিতীয় সচিব, ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। অপরদিকে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নতুন নির্বাহী পরিচালক (সচিব) হয়েছেন অতিরিক্ত সচিব দুলাল কৃষ্ণ সাহা। দুলাল কৃষ্ণকে সচিব পদে পদোন্নতির পর এই নিয়োগ দিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে আরেকটি আদেশ জারি করা হয়েছে।...

যত্রতত্র অনার্স-মাস্টার্স চালু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে বেকার তৈরির কারখানায় পরিণত করেছে

২২,অক্টোবর,বৃহস্পতিবার,শিক্ষা ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: যত্রতত্র অনার্স-মাস্টার্স চালু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে বেকার তৈরির কারখানায় পরিণত করেছে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শিক্ষা ভাবনাকে আমরা ধারণ করতে পারেনি। আমরা সস্তা জনপ্রিয়তার জন্য সার্টিফিকেট সর্বস্ব শিক্ষায় মনোনিবেশ করেছিলাম। যত্রতত্র অনার্স মাস্টার্স চালুর কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বেকার তৈরি করার কারখানায় পরিণত হয়েছে। বঙ্গবন্ধু ব্যবহারিক ও জীবনমুখী পড়াশোনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছিলেন। তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শুধু জাতির পিতা নয়, তিনি জাতির শিক্ষকও। মেহেরপুর জেলা প্রশাসনের আয়োজনে বুধবার (২১ অক্টোবর) রাতে মুজিববর্ষে শতঘণ্টা মুজিব চর্চার অংশ হিসেবে জাতির পিতার শিক্ষা ভাবনা শীর্ষক এক অনলাইন আলোচনা সভায় উপমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এসময় তিনি কৃষি ও কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত হতে যুব সমাজের প্রতি আহ্বান জানান। ছাত্রদের উদ্দেশে উপমন্ত্রী বলেন, ব্রিটিশরা বিএ, এমএ পাস করিয়ে আমাদের কেরানি বানিয়ে দিয়ে গেছে। তোমরা জমিতে গিয়ে শিখ কীভাবে ফসল ফলাতে হয়। মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেন, রাষ্ট্রীয়ভাবে বঙ্গবন্ধু মুজিবকে চর্চা করা উচিত ছিল কিন্তু বিগত সরকার সমূহ ইতিহাস থেকে বঙ্গবন্ধুর নাম পর্যন্ত মুছে ফেলার চেষ্টা করেছে। ৭ই মার্চের ভাষণকে মানব ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে ইউনেস্কো স্বীকৃতি দিয়েছে অথচ এক সময় সে ভাষণ পর্যন্ত শুনতে দেয়া হতো না। মেহেরপুর জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ মুনসুর আলম খানের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরো যুক্ত ছিলেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। ...

তামিম-মুশফিকদের পেছনে ফেলে সেরা ব্যাটসম্যান চট্টগ্রামের ছেলে ইরফান

২৬,অক্টোবর,সোমবার,স্পোর্টস ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: শ্রীলঙ্কা সফর বাতিল হয়ে যাওযায় খেলোয়াড়দের খেলার সুযোগ করে দেয়ার জন্য দেশের ক্রিকেট অভিভাবক সংস্থা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আয়োজিন করে বিসিবি প্রেসিডেন্ট কাপ নামে একটি ওয়ানডে টুর্নামেন্ট। রোববার (২৬ অক্টোবর) পর্দা নেমেছে যেটির। টুর্নামেন্টে জাতীয় দলের সব খেলোয়াড়ের পাশাপাশি সুযোগ পেয়েছিলেন জাতীয় দলের আশে-পাশে থাকা দলের (এ দল, এইচপি দল) বেশ কিছু খেলোয়াড়ও। তিন দলের ৪৫ জন খেলোয়াড়দের মধ্যে চট্টগ্রামের ছিলেন ছয়জন খেলোয়াড়। এরমধ্যে জাতীয় দলের ওয়ানডে ও টেস্ট অধিনায়ক তামিম ইকবাল ও মুমিনুল হকের সাথে জাতীয় তারকা নাঈম হাসান, ইয়াসির আলী রাব্বিদের সাথে সুযোগ পান উদীয়মান দুই তারকা ক্রিকেটার ইরফান শুক্কুর ও শাহাদাত হোসেন দিপু। বিসিবি প্রেসিডেন্ট কাপে প্রথম রাউন্ডে সবার ওপরে থাকলেও, শেষপর্যন্ত শিরোপা জিততে পারেনি নাজমুল শান্ত একাদশ। ফাইনাল ম্যাচে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে প্রেসিডেন্টস কাপের চ্যাম্পিয়ন হয়েছে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ একাদশ। হারলেও ফাইনালে মনোমুগ্ধকর ইনিংস খেলেন পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে ভালো খেলা চট্টগ্রামের ইরফান শুক্কুর। তাতেই জাতীয় দলের বাঘা বাঘা ব্যাটসম্যানদের পেছনে ফেলে টুর্নামেন্টের সেরা ব্যাটসম্যনের পুরষ্কার পান ইরফান শুক্কুর। তবে আসরের সেরা ব্যাটসম্যানের তালিকায় সবার ওপরের দুইটি নাম নাজমুল একাদশেরই। অদ্ভুত মিল, দুজনই আবার উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান। তারা হলেন নির্ভরতার প্রতীক মুশফিকুর রহীম ও সাম্প্রতিক সময়ে নিজের জাত চেনানো বাঁহাতি ব্যাটসম্যান ইরফান শুক্কুর। আসরে মুশফিক করেছেন ২১৯ রান, ইরফানের ব্যাট থেকে এসেছে ২১৪ রান। সন্দেহ নেই, প্রেসিডেন্টস কাপ খেলতে নামার আগে পুরো টুর্নামেন্টের বাকি সব খেলোয়াড়দের চেয়ে ভালো প্রস্তুতি ছিলো উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহীমের। যার প্রতিফলন দেখা গেছে মাঠেও। প্রথম ম্যাচে মাত্র ১ রানে আউট হয়ে গেলেও, পরের তিন ম্যাচে খেলেছেন যথাক্রমে ১০৩, ৫২ ও ৫১ রানের ইনিংস। পরে ফাইনাল ম্যাচে আউট হয়েছেন ১২ রান করে। পুরো আসরে মুশফিকের চেয়ে তো দূরে থাক, তার সমান তিনটি পঞ্চাশোর্ধ্ব রানের ইনিংসও খেলতে পারেননি আর কোনো ব্যাটসম্যান। পাঁচ ম্যাচে ৪৩.৮০ গড়ে ২১৯ রান করার মাধ্যমে যোগ্য হিসেবেই আসরের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন মুশফিক, পেয়েছেন ২ লাখ টাকার অর্থ পুরস্কার। তবে আসরের সেরা ব্যাটসম্যানের পুরস্কার কিন্তু পাননি মুশফিক। তার ব্যাট থেকে সর্বোচ্চ ২১৯ রান এলেও, সেরা ব্যাটসম্যান নির্বাচিত হয়েছেন ৫ রান কম করা ইরফান শুক্কুর। পুরো আসরে ৭১.৩৩ গড়ে ২১৪ রান করেছেন ইরফান। যেখানে দুইটি ফিফটি ছাড়াও ছিল একটি ৪৮ রানের অপরাজিত ইনিংস। মজার বিষয় হলো, নাজমুল একাদশের হয়ে টুর্নামেন্টের প্রথম ও শেষ ম্যাচেই শুধু ফিফটি পেরুতে পারেননি মুশফিক; ঠিক এ দুই ম্যাচেই দলের হাল ধরে সর্বোচ্চ রানের ইনিংস খেলেছেন ইরফান। দুটি ম্যাচেই চাপে ছিলো দল। প্রথম ম্যাচে দলকে জেতাতে পারলেও, শেষ ম্যাচে আর পারেননি ইরফান। একার লড়াইয়ে ৭৫ রানের ইনিংস খেললেও বাকিদের ব্যর্থতায় ফাইনালে পরাজিত দলেই থাকতে হয়েছে ইরফান-মুশফিকদের। বাংলাদেশ এ দল এবং এইচপি দলের হয়ে খেলা ইরফান যখনই সুযোগ পেয়েছেন তখনই নিজেকে মেলে ধরার চেষ্টা করেছেন। উইকেটের সামনে ব্যাট হাতে যেমন দুর্দান্ত সময় কাটছে ইরফানের তেমনি উইকেটের পেছনে উইকেটরক্ষক হিসেবেও বেশ ভাল করছেন এই বাঁহাতি। দীর্ঘ সময় পর ম্যাচ খেলতে নামা ক্রিকেটারদের বেশিরভাগই ব্যাট হাতে সফল হতে পারেননি। সেখানে ইরফান শুক্কুর তারকা না হয়েও সুযোগটাকে কাজে লাগান বেশ ভালভাবেই। স্বীকৃত ব্যাটসম্যানদের কারনে উপরে ব্যাট করার সুযোগ না পেয়েও (ব্যাট করেছেন সাত নম্বরে) ইরফান শুক্কুর করেন টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান। যদিও যে পজিশনে তিনি ব্যাট করতে নামেন সে অবস্থায় ইনিংস বড় করার সুযোগ থাকে কম। ...

এবার ঘরের মাঠেও জয় পেল না জুভেন্টাস

২৬,অক্টোবর,সোমবার,স্পোর্টস ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: মাঝে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ডায়নামো কিয়েভকে ২-০ গোলে হারিয়েছে ইতালিয়ান চ্যাম্পিয়ন ক্লাব জুভেন্টাস। এর আগে ও পরের ম্যাচের ভেন্যু বদল হলেও, পরিবর্তন হয়নি ম্যাচের ফলাফলে। দুই ম্যাচেই ১-১ গোলে ড্র করেছে ওল্ড লেডিরা। গত রোববার (১৮ অক্টোবর) ক্রতোনের মাঠে খেলতে গিয়ে ১-১ গোলে ড্র নিয়ে ঘরে ফিরেছিল জুভেন্টাস। মাঝে চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচটি জিতলেও, পরের রোববারের ম্যাচে আবার ১-১ গোলে ড্র করেছে তারা। তাও কি না নিজেদের ঘরের মাঠে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে ভিন্ন দুই মাঠে খেলা দুইটি ম্যাচেই জয়বঞ্চিত থাকল ইতালিয়ান সিরি 'আ'র টানা নয়বারের চ্যাম্পিয়নরা। সবশেষ জুভেন্টাসকে তাদেরই ঘরের মাঠে রুখে দিয়েছে তুলনামূলক দুর্বল দল ভেরোনা। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ায় দলের সঙ্গে নেই সবচেয়ে বড় তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। যে কারণে নিজেদের পরিকল্পনা ও ফরমেশনেও খানিক বদল আনতে বাধ্য হন জুভেন্টাস কোচ আন্দ্রে পিরলো। যা খুব একটা কাজে দেয়নি। ঘরের মাঠে খেলতে নামলেও প্রথমার্ধে কোনো গোল করতে পারেনি জুভেন্টাস। তবে প্রতিপক্ষ ভেরোনার রক্ষণে ভয় ঢোকানোর কাজটা ভালোভাবেই করেছেন পাওলো দিবালা, আলভারো মোরাতারা। শুধু পাননি গোলের দেখা। উল্টো দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের ৬০ মিনিটের সময় অতিথিদের এগিয়ে দেন ভেরোনায় লোনে খেলতে আসা আন্দ্রে ফাভিল্লি। এর আগে প্রথমার্ধেও একবার জালের ঠিকানা খুঁজে নিয়েছিল ভেরোনা। কিন্তু অফসাইডের কারণে বাতিল হয়ে যায় সেই গোল। পিছিয়ে পড়ে ম্যাচে ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে জুভেন্টাস। ম্যাচের ৭৬ মিনিটে দিবালার শট ফেরে ক্রসবারে লেগে। এর এক মিনিট পরেই সমতা ফেরান ডেজান কুলসেভস্কি। মোরাতার পাস থেকে গোলটি করেন বদলি হিসেবে নামা এ তরুণ মিডফিল্ডার। বাকি সময়ে আর গোল না হওয়ায় ১-১ ব্যবধানেই শেষ হয় ম্যাচ। টানা দ্বিতীয় ম্যাচ ড্র করে পাঁচ ম্যাচ শেষে মাত্র ৯ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের পাঁচ নম্বরে অবস্থান করছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা। শীর্ষে থাকা এসি মিলানের সংগ্রহ ৪ ম্যাচে পূর্ণ ১২ পয়েন্ট।...

চিত্রনায়ক রিয়াজের জন্মদিন আজ

২৬,অক্টোবর,সোমবার,বিনোদন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: চিত্রনায়ক রিয়াজ আহমেদ। ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় নায়ক। তিনি আসলেই বাংলার নায়ক। কারণ ক্যারিয়ারের শুরুতে এ নামটি দিয়েই তার পথ চলা শুরু। এরপর অসংখ্য হিট সিনেমা উপহার দিয়ে নিজেকে প্রকাশ করেছেন মানসম্পন্ন একজন হিরো হিসেবে। সেই সুনাম আজও পিছু ছাড়েনি রিয়াজের। আজ ২৬ অক্টোবর, নায়ক রিয়াজের জন্মদিন। নিউজ একাত্তর পরিবারের পক্ষ থেকে রিয়াজের জন্য অনেক অনেক শুভেচ্ছা। শুভ জন্মদিন রিয়াজ। ১৯৭২ সালে ফরিদপুর জেলা সদরের কমলাপুর মহল্লায় রিয়াজের জন্ম। তার ছেলেবেলা কেটেছে ফরিদপুর শহরের সিএনবি স্টাফ কোয়ার্টার্সের চৌহদ্দিতে। বাবা জাইনুদ্দিন আহমেদ সিদ্দিক ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা, মা আরজুমান্দ আরা বেগম গৃহিণী। সাত ভাই-বোনের মধ্যে রিয়াজ সবার ছোট। ১৯৯৫ সালে মুক্তি পায় রিয়াজ অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র- বাংলার নায়ক। পরের বছর খ্যাতনামা চলচ্চিত্রকার দিলীপ বিশ্বাসের অজান্তে ও মোহাম্মদ হোসেনের প্রিয়জন সিনেমায় অভিনয় করেন। প্রিয়জনই- একমাত্র চলচ্চিত্র যাতে রিয়াজ অকালপ্রয়াত সালমান শাহের সঙ্গে অভিনয় করেছেন। শাবনূর ও পূর্ণিমার সঙ্গে জুটি বেঁধে সাফল্য পেয়েছেন রিয়াজ। হুমায়ূন আহমেদের- দুই দুয়ারী, এসএ হক অলিকের- আকাশ ছোঁয়া ভালোবাসা ও হৃদয়ের কথা, মতিউর রহমান পানুর- মনের মাঝে তুমি, সুচন্দার- হাজার বছর ধরে, তৌকীর আহমেদের- দারুচিনি দ্বীপ ও গাজী মাহবুবের- প্রেমের তাজমহল, ওয়াজেদ আলী সুমনের- সুইট হার্ট, মেহের আফরোজ শাওনের- কৃষ্ণপক্ষ সহ অসংখ্য জনপ্রিয় ও প্রশংসিত সিনেমা উপহার দিয়েছেন তিনি। এছাড়া তিনি সালমান শাহ এর পরে চিত্রনায়িকা শাবনূরের সঙ্গে সেরা জুটি। তার সঙ্গে অভিনয় করা উল্লেখযোগ্য সিনেমা হচ্ছে- মন মানে না, ভালোবাসি তোমাকে, প্রেমের তাজমহল, ও প্রিয়া তুমি কোথায়, হৃদয়ের বন্ধন ও মোল্লাবাড়ীর বউ। তারা ৪০টিরও বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। রিয়াজ-শাবনূর জুটির সর্বশেষ চলচ্চিত্র শিরি ফরহাদ মুক্তি পায় ২০১৩ সালের ২২ মার্চ। অন্যদিকে ১৯৯৭ সালে মুক্তি পায় রিয়াজ-পূর্ণিমা জুটি অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র এ জীবন তোমার আমার। এ জুটির অন্যান্য সফল চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে মনের মাঝে তুমি, হৃদয়ের কথা, শাস্তি ও আকাশ ছোঁয়া ভালোবাসা। তারা ৩০টিরও বেশি সিনেমায় অভিনয় করেছেন। এছাড়াও বেশ কিছু চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। শুধু সিনেমাতেই নয়, নাটকেও বেশ জনপ্রিয় রিয়াজ। বর্তমানে বড় পর্দার চেয়ে ছোট পর্দায়ই বেশি দেখা যায় এই তারকাকে।...

প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে তৈরি গানের ভিডিওতে অপু বিশ্বাস

২৪,অক্টোবর,শনিবার,বিনোদন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রায় দেড় যুগ পর আবার গান-ভিডিওতে দেখা যাবে চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাসকে। শিমুল মাহমুদের পরিচালনায় ২২ নভেম্বর থেকে কক্সবাজারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে তৈরি গানটির শুটিং করবেন তিনি। শাহনাজ পারভীনের কথায় গানটির সংগীতায়োজন করেছেন আলমগীর। অপু বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমার আদর্শ। তাকে নিয়ে তৈরি হওয়া গানটির মডেল হতে পেরে আমি আনন্দিত। নিজেকে ধন্য মনে করছি। এমন সুযোগ বারবার আসে না। আমি পরিচালকের কাছে কৃতজ্ঞ এমন একটি গানে আমাকে মডেল হিসেবে পছন্দ করার জন্য। আশা করছি, গান-ভিডিওটি সবার ভালো লাগবে। চিত্রনায়িকা হওয়ার আগে মিউজিক ভিডিও করলেও পরবর্তী সময়ে অপু বিশ্বাসকে আর মিউজিক ভিডিওতে দেখা যায়নি। অনেক তারকা শিল্পীই প্রস্তাব দিয়েছিলেন তাদের গানে মডেল হওয়ার জন্য। কিন্তু চলচ্চিত্রে অভিনয় ছাড়া অন্য কিছু ভাবতে চাননি এই ঢালিউড কুইন। গত মাসে মা শেফালী বিশ্বাসের মৃত্যুর পর অনেক দিন দেশের বাড়ি বগুড়ায় ছিলেন অপু। অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে অনুদানের সিনেমা ছায়াবৃক্ষ- এ শুটিংয়ের কথা থাকলেও পরিচালক বন্ধন বিশ্বাসকে অনুরোধ করে সেটি পিছিয়ে দেন। নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ছায়াবৃক্ষ সম্পন্ন করে এই মিউজিক ভিডিওতে অংশ নেবেন তিনি। ...

অনিয়মের অভিযোগে চেয়ারম্যান কাউন্সিলর ও ইউপি সদস্যসহ ১১ জন বরখাস্ত

২জুন,মঙ্গলবার,ক্রাইম সোর্স প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ত্রাণ বিতরণসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে একদিনেই ১১ জনপ্রতিনিধিকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। আজ মঙ্গলবার এ বিষয়ে পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বিভাগটি। যাদের বরখাস্ত করা হয়েছে তাদের মধ্যে ৪জন ইউপি চেয়ারম্যান, একজন পৌরসভার কাউন্সিলর ও ৬জন ইউপি সদস্য রয়েছেন। কর্মস্থলে অনুপস্থিতি, দরিদ্র মানুষকে নগদ অর্থ সহায়তা ও ত্রাণ বিতরণে অনিয়মের অভিযোগে আরও ১১ জনপ্রতিনিধিকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। তাঁদের মধ্যে চারজন ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও ছয়জন ইউপি সদস্য এবং একজন পৌর কাউন্সিলর রয়েছেন। বরখাস্ত হওয়া চেয়ারম্যানেরা হলেন কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার সিংপুর ইউপির মো. আনোয়ারুল হক, একই জেলার বাজিতপুর উপজেলার হালিমপুর ইউপির হাজী মো. কাজল ভূইয়া, বরগুনা সদর উপজেলার এম বালিয়াতলী ইউপির মো. শাহনেওয়াজ এবং নলটোনা ইউপির হুমায়ুন কবীর। বরখাস্তের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সিংপুর ইউপির চেয়ারম্যান করোনোভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের সময় ত্রাণকাজে সহায়তা না করে সরকারি নির্দেশ অমান্য করে কর্মস্থলে অনুপস্থিত আছেন। বাজিতপুরের হালিমপুর ইউপি চেয়ারম্যানও দীর্ঘদিন ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত। এ ছাড়া করোনোভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়নে বিঘ্ন সৃষ্টি, এপ্রিল মাসের ভিজিডি খাদ্যশস্য বিতরণ না করা, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে দেওয়া নগদ অর্থ সহায়তা কর্মসূচির সুবিধাভোগীদের তালিকা প্রণয়নে ব্যর্থ হওয়া এবং কারণ দর্শানোর পরিপ্রেক্ষিতে নিজে জবাব প্রদান না দিয়ে অন্যের মাধ্যমে জবাব দেওয়া। বরগুনার এম বালিয়াতলী ইউপির চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে নিয়মবহির্ভূতভাবে মৎস্য ভিজিএফের চাল ৮০ কেজির জায়গায় ৬০ কেজি দেওয়া এবং তালিকার বাইরেও অন্যদের চাল দেওয়ার অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। নলটোনা ইউপির চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে জেলেদের তালিকা প্রণয়নে অনিয়ম, ভুয়া টিপসইয়ের মাধ্যমে চাল উত্তোলন করে আত্মসাৎ এবং ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। অন্যদিকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত হওয়া ইউপি সদস্যরা হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উপজেলার মজলিশপুর ইউপির ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য হারিছ মিয়া এবং ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য হাছান মিয়া, বরগুনা জেলার সদর উপজেলাধীন নলটোনা ইউপির ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. হারুন মিয়া, ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. হানিফ, ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য মোসা. রানী এবং ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য মোসা. ছাবিনা ইয়াসমিন। বরখাস্ত হওয়া পৌরসভার কাউন্সিলর হলেন চট্টগ্রাম জেলার বোয়ালখালী পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. সোলাইমান বাবুল।...

প্রায় ৪শ লোককে অবৈধভাবে বিদেশে পাঠায় চক্রের অন্যতম হোতা কামাল

১জুন,সোমবার,ক্রাইম সোর্স প্রতিবেদক,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: লিবিয়ায় ২৬ জন বাংলাদেশি নিহতের ঘটনায় মানব পাচারকারী চক্রের অন্যতম হোতা কামাল হোসেন ওরফে হাজী কামালকে গ্রেফতার করেছে RAB। প্রায় ৪শ লোককে অবৈধভাবে তিনি বিদেশে পাঠায়। RAB বলছে, তিনিই বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে মানবপাচারকারীর মূল হোতা। এরসঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিষয়ে অনুসন্ধান করছে RAB। বাংলাদেশ থেকে লিবিয়া হয়ে অবৈধ ভাবে ইতালিতে যাওয়া। তারা বিভিন্ন শ্রমিকদের যাওয়ার জন্য বিভিন্ন ভাবে প্রলোভন দেখানো হয়। এবং তাদের বিদেশে যাওয়ার পরই বাকি টাকা দেবে। এ ধরনের আশ্বাস দেয়া হয়। আমারা একাধিক দালাল পেয়েছি। তারা মাদারীপুর, শরিয়রতপুরসহ বিভিন্ন জেলার লোক রয়েছে। তারা প্রথমে বাইরুটে ঢাকা থেকে কলকাতা নেয়া হয়। এই হাজী কামালই সবার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তারা বাংলাদেশ থেকে ১০-১৫ দিন লাগে বেনগাজীতে যাওয়ার। এ চক্রটি লিবিয়াতে যাওয়ার পরই তারা টাকার জন্য পেশার দেয়া শুরু হয়। RAB জানায়, লিবিয়ার ত্রিপোলিতে কিছু কাজ করার সুযোগ রয়েছে। এই বেনগাজীতে পৌঁছানোর পরই তাদের পরিবারের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায় করা হয়। এরপর তাদের ত্রিপোলিতে নিয়ে যাওয়া হয়। ত্রিপোলিতে নিয়ে যাওয়ার জন্য আবারও পরিবারের কাছে ২ থেকে তিন লাখ টাকা দাবি করা হয়। সেখানে তাদের শুরুতে ভূমধ্যসাগরে বোট চালানোর প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। তিনি গত ১০-১২ বছরে ৪শ লোককে পাঠিয়েছেন। তার সঙ্গে যুক্ত আছেন ১৫-১৬ জন। আমরা পুরো সার্কিটের তথ্য পেয়েছি। তাদের বিরুদ্ধে এ অভিযান চলতে থাকবে। গত ২৮ মে লিবিয়ার মিজদা শহরে ২৬ জন বাংলাদেশি অভিবাসীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। মারা যাওয়া ২৬ জনসহ ৩৮ বাংলাদেশি ও কিছু সুদানি নাগরিক প্রায় ১৫ দিন ধরে ওই অপহরণকারী চক্রের হাতে আটক ছিলেন। ইতালিতে অভিবাসনের উদ্দেশে ওই ৩৮ জন বাংলাদেশ থেকে অবৈধ পথে লিবিয়ায় যান।...

কৃষক, শ্রমিক, মেহনতি মানুষের জন্য আজীবন সংগ্রমী মোস্তফা ভুঁইয়া

২২সেপ্টেম্বর,মঙ্গলবার,বিশেষ প্রতিবেদন,নিউজ একাত্তর ডট কম: মোঃ মোস্তফা ভুঁইয়া ১৯৫০ সালের মার্চ মাসের ৪ তারিখে নরসিংদী জেলার পলাশ উপজেলার বাস গ্রামে সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মরহুম ডাঃ মনিরুজ্জামান ভুঁইয়া, মাতার নাম মরহুমা রৌশনারা বেগম। তিনি তিন সন্তানের জনক। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক পুত্র, এক কন্যা, আত্মীয়স্বজন সহ অসংখ্য সহকর্মী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তিনি একসময় খাদ্য অধিদপ্তরে সরকারি কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি ১৯৭০ সালে ২১ শে ফেব্রুয়ারিতে চাকুরিতে যোগদান করেন। তার চাকুরি জীবন শুরু হয় পাকিস্তানের করাচিতে। তিনি ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় তৎকালিন পূর্ব পাকিস্তান যা বর্তমানে বাংলাদেশে ফিরে আসেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি পুনরায় খাদ্য অধিদপ্তরে যোগদান করেন। ২০০৮ সালে তিনি খাদ্য অধিদপ্তরে সহকারী পরিচালক হিসেবে অবসর গ্রহন করেন। তিনি প্রগতিশীল রাজনীতির সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন। ২০১১ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারী স্বদেশ পার্টিতে যাত্রা শুরু করেন। তিনি আমৃত্যু স্বদেশ পার্টির সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি সমাজসেবা, জনকল্যাণ, কৃষক, শ্রমিক, মেহনতি মানুষের অধিকার সংগ্রামে জড়িত ছিলেন। তিনি অন্যায়, অত্যাচার, শোষণ, নিপীড়ন, বঞ্চনা- লাঞ্ছনার বিরুদ্ধে একজন বলিষ্ট প্রতিবাদী ছিলেন। তিনি গত ২০২০ সালের ৮ আগস্ট জাতীয় হৃদরোগ হাসপাতালে রাত ৯টা ৪০ মিনিটে সবাইকে ছেড়ে না ফেরার দেশে পারি জমান। তার অসংখ্য রাজনৈতিক, সামাজিক, সহকর্মী শোকাহিত হৃদয়ে তাকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেছে। তার অভাব পূরণ হবার নয়। তার কর্মীরা এক মূহূর্তের জন্য তাকে ভুলতে পারে না। আমরা তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত, শান্তি, এবং জান্নাতুল ফেরদৌস কামনা করছি। ...

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সমীপে আকুল আবেদন

২০সেপ্টেম্বর,রবিবার,বিশেষ প্রতিবেদন,নিউজ একাত্তর ডট কম: সকল শিক্ষারর্থীদের কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন নিশ্চিত করার আগে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা হতে বিরত থাকুন। মার্চ ২০২০ হতে কোভিড-১৯ (করোনা) সংক্রমণ শুরু হয়। পর্যবেক্ষণ দেখা যায় শীত প্রধান অঞ্চলে কোভিড-১৯ সংক্রমণ অধিক। আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতে সংক্রমণ বেড়েই চলছে। আমাদের দেশ ঘনবসতি পূর্ণ জনবহুল দেশ। স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকারি বেসরকারি ব্যাক্তি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের প্রচার প্রচারণায় দেশবাসী সচেতন হয়েছে। দেশের মানুষ সতর্ক হয়েছে। স্বাস্থ্য সুরক্ষাবিধি মেনে চলছে। যার ফল আমরা প্রত্যক্ষ করছি। সামনে শীত মৌসুম। এ অবস্থায় কোভিড-১৯ সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কা একেবাড়ে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। বিভিন্ন মহল বিশিষের দাবীর মুখে একাধিক ব্যাক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জানা যায় সদাসয় সরকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন শ্রেণির পরিক্ষা ও ক্লাস শুরু করার তথ্য। অবশ্যই এই উদ্যেগ ভাল। কিন্তু এ মুহূর্তে তা কতটুকু যুক্তিযুক্ত। কোভিড-১৯ একটি সংক্রামক ও ছোঁয়াছে রোগ। এর চিকিৎসা ও প্রতিরোধ ব্যাবস্থা অত্যন্ত জটিল। তাই এর সংক্রমণ ঠেকাতে আমাদের দেশের সরকার শত চেষ্ঠার পর সম্পূর্ণ সফল হতে পারেনি। অবশ্য আংশিক সফলতা, যথাপোযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য অবশ্যই সরকারের সাধুবাদ। ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য। কৃতজ্ঞতাচিত্তে ধন্যবাদ জানাচ্ছিও। আমাদের দেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রতিটি শ্রেণিতে ছাত্র-ছাত্রী অনেক। এ অবস্থায় স্বাস্থ্য বিধি মেনে ক্লাস করা কোন অবস্থাতেই সম্ভব নয়। তাই সকল দিকে বিবেচনা করে, প্রতিটি ছাত্র-ছাত্রীর কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন নিশ্চিত না করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ক্লাস শুরু না করার জন্য বিনীত অনুরোধ করছি।- ...

নির্বাচন কমিশনকে ব্যর্থ বলা বিএনপির পুরোনো কৌশল: ওবায়দুল কাদের

১৫,অক্টোবর,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি আসন্ন উপনির্বাচনে আগে থেকেই ভরাডুবির আশঙ্কা করছে। তাই নানা অভিযোগ করছে তারা। ভোটের আগে অভিযোগ, ভোটের দিন সরে দাঁড়ানো এবং পরে নির্বাচন কমিশনকে ব্যর্থ বলা বিএনপির পুরোনো কৌশল। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) নিজ বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের সিরাজগঞ্জে এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লায় পণ্যবাহী যানবাহন চালকদের জন্য দুটি বিশ্রামাগার নির্মাণকাজ উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, নিরাপদ ও উন্নয়নবান্ধব সড়ক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা সরকারের অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্যে আইনগত কাঠামো শক্তিশালী করার অংশ হিসেবে সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ কার্যকর করা হয়েছে। নিরাপদ মহাসড়ক গড়ে তোলার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন মহাসড়কে ১২১টি দুর্ঘটনাপ্রবণ বাঁকের ঝুঁকি হ্রাস করা হয়েছে। সড়ক নিরাপত্তায় সংশ্লিষ্ট স্ অংশীজনের মাঝে সুদৃঢ় সমন্বয় গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তিনি বলেন, সমন্বয় যত দৃঢ় হবে মহাসড়ক তত নিরাপদ হবে। সড়ক নিরাপত্তায় জনসচেতনতা তৈরিতে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থাসমূহকে এগিয়ে আসতে হবে। ওবায়দুল কাদের জানান, মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করায় মুখোমুখি সংঘর্ষ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। জেলা ও আঞ্চলিক মহাসড়কে সিএনজি অটোরিকশাসহ নন-মোটরাইজড যানবাহনের চলাচল বন্ধে সংশ্লিষ্টদের আরও কঠোর হতে হবে। উল্লেখ্য, প্রায় ২২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ঢাকা-রংপুর, ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-খুলনা এবং ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে পণ্যবাহী গাড়িচালকদের জন্য চারটি বিশ্রামাগার নির্মাণ করা হবে। এসব বিশ্রামাগারে পার্কিং, গাড়ি চালকদের বিশ্রাম ও রাতযাপনের সুবিধা ছাড়াও গাড়ি মেরামত ও বিনোদনের ব্যবস্থা থাকবে। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মো. নজরুল ইসলাম, সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী কাজী শাহরিয়ার হোসেন, প্রকল্পের পরিচালক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ সড়ক ও জনপথ অধিদফতর এবং প্রকল্প কর্মকর্তারা এসময় ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত ছিলেন। ...

ক্ষমতাসীনদের মদদে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চলছে : ফখরুল

১৪,অক্টোবর,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ক্ষমতাসীনদের মদদে সারাদেশে বেআইনি সন্ত্রাসী কার্যকলাপ হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বুধবার (১৪ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ অভিযোগ করেন। বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ঢাকা-৫ সংসদীয় আসনের উপনির্বাচনের প্রাক্কালে ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় আওয়ামী সন্ত্রাসীদের আক্রমণ নিঃসন্দেহে সুপরিকল্পিত এবং সন্ত্রাস সৃষ্টি করে সুষ্ঠু নির্বাচনে ব্যাঘাত সৃষ্টির মাধ্যমে জনগণকে ভীত সন্ত্রস্ত করে সরকারদলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করারই নীলনকশা। এই হামলা সরকারি আধিপত্য বিস্তারেরই নগ্ন বহিঃপ্রকাশ। নির্বাচন, প্রশাসন, আইন-আদালতসহ সবকিছুর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবেই বর্তমান অবৈধ সরকার দলীয় সন্ত্রাসীদের দিয়ে এ ধরনের হামলা সংঘটিত করছে। তিনি বলেন, মানুষের মৌলিক অধিকারগুলোকে উপেক্ষা করে জনগণকে প্রান্তিক পর্যায়ে ঠেলে দিয়েছে বর্তমান সরকার। ক্ষমতাসীনদের মদদে সমাজের সর্বত্র চলছে বেআইনি সন্ত্রাসীদের আধিপত্য। চোখ রাঙানি দিয়ে সরকার জনগণকে শাসন করতে চায়। গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও ন্যায় বিচারকে নির্বাসনে পাঠানো হয়েছে, আর এজন্যই যেকোনো শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে ক্ষমতাসীনদের সন্ত্রাসীরা বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়ে রক্ত ঝরাচ্ছে। দেশের মানুষকে ভয় ও শঙ্কার মধ্যে ডুবিয়ে নির্বিঘ্নে দেশ শাসন করতে চায় বলেই বর্তমান সরকার দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন করতে চায় না। মির্জা ফখরুল বলেন কিন্তু মনুষ্যসমাজে কখনওই কোনো স্বৈরশাসক নিজেদের অবৈধ শাসনকে টিকিয়ে রাখতে পারেনি। গণতান্ত্রিক শক্তির উত্থানে স্বৈরাচারের পতন ঘটেছে দেশে-দেশে। বাংলাদেশেও স্বৈরাচারী শাসকের পতন অত্যাসন্ন। তিনি আরও বলেন, ঢাকা-৫ জাতীয় সংসদ শূন্য আসনে নির্বাচন উপলক্ষে যাত্রাবাড়ীতে ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে শান্তিপূর্ণ পথসভায় নেতাকর্মীদের ওপর হামলা এবং তাদেরকে আহত করার ঘৃণ্য ঘটনায় আমি ধিক্কার জানাচ্ছি, তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। হামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি করছি। হামলায় আহত নেতাকর্মীদের আশু সুস্থতা কামনা করছি। ...

জুমআর দিনজুড়ে যেসব আমল করবেন মুমিন

১৬,অক্টোবর,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সপ্তাহ ঘুরে ফিরে আসে জুমআ। এটি মুসলিম উম্মাহর ইবাদতের শ্রেষ্ঠ দিন। এ দিনজুড়ে রয়েছে অনেক আমল ও ইবাদত। প্রতিটি আমল ও ইবাদত সম্পর্কেই রয়েছে হাদিসের নির্দেশনা। কিন্তু বিশেষ একটি ইবাদত হলো সুরা কাহফ তেলাওয়াত করা। কিন্তু কোন সময়ে এ সুরাটি তেলাওয়াত করতে হয়? জুমআর দিন অযথা সময় নষ্ট না করে দ্রুত ইবাদত-বন্দেগিতে ধাবিত হওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে কুরআনুল কারিমে মহান আল্লাহ ঘোষণা করেন- হে ঈমানদরগণ! জুমআর দিনে যখন নামাজের আজান দেয়া হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের পানে দ্রুত ধাবিত হও এবং বেচাকেনা বন্ধ কর। এটা তোমাদের জন্যে উত্তম যদি তোমরা বুঝ। (সুরা জুমআ : আয়াত ৯) জুমআর দিন মুমিন বান্দার ইবাদত-বন্দেগির দিন। পুরো দিনজুড়ে বিভিন্ন মুহূর্তে আল্লাহ তাআলা বান্দার জন্য বিশেষ পুরস্করের ঘোষণা দিয়েছেন। আমলের বর্ণনা দিয়েছেন। এ দিনজুড়ে বিভিন্ন কাজের উপদেশও দিয়েছেন। যার প্রতিটিই ইবাদত ও আমলের শামিল। এসব আমলের সবই হাদিসে বর্ণিত। তা হলো- ১.গোসল করা। ২.ফজরের ফরজ নামাজে সুরা সাজদা ও সুরা দাহর/ইনসান তেলাওয়াত করা। ৩.উত্তম পোশাক পরা। ৪. সুগন্ধি ব্যবহার করা। ৫.আগেভাগে মসজিদে যাওয়া। ৬.সুরা কাহফ তেলাওয়াত করা। ৭.মসজিদে গিয়ে কমপক্ষে দুই রাকাআত সুন্নত নামাজ আদায় করা। ৮.ইমামের কাছাকাছি গিয়ে বসা। ৯.মনযোগ দিয়ে খোতবা শোনা। ১০.খোতবা চলাকালে কোনো কথা না বলা। ১১.দুই খোতবার মাঝের সময়ে বেশি বেশি দোয়া করা। অন্য সময়ে দোয়া করা। কারণ এদিন দোয়া কবুল হয়। ১২.রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উপর সারাদিন যথাসম্ভব বেশি দরূদ পাঠ করা। জুমআর দিনের বিশেষ আমল: জুমআর দিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রয়েছে আমলের হাতছানি। হাদিসের বিভিন্ন বর্ণনায় ফজর থেকে শুরু করে সন্ধ্যা পর্যন্ত পুরো দিনটিই আমলের নির্দেশনা রয়েছে। দিনের যে কোনো সময় সুরা কাহফ তেলাওয়াতের বর্ণনা যেমন রয়েছে, তেমনি এ সুরার তেলাওয়াতেরও রয়েছে বিশেষ ফজিলত ও মর্যাদা। হাদিসে এসেছে- হজরত ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি জুমআর দিন সুরা কাহফ তেলাওয়াত করবে; তার পায়ের তলদেশ থেকে আসমান পর্যন্ত একটি আলো উৎসারিত হবে, যা কেয়ামতের দিন তার আলোর কাজে দেবে। আর তার দুই জুমআর মাঝের (সগিরা গোনাহ) মাফ করে দেয়া হবে। (আত-তারগিব ওয়াত-তারহিব)। হজরত আবু সাঈদ খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি জুমআর দিন সুরা কাহফ পড়বে; তার জন্য তা দুই জুমআর মধ্যবর্তী সময়ে নুর হয়ে আলো দান করবে। (মুসতাদরাকে হাকেম, বায়হাকি)। হজরত আবু সাঈদ খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, যে ব্যক্তি জুমআর দিন সুরা কাহ্ফ পড়বে, তা তার জন্য তার ও কাবা ঘরের মধ্যবর্তী স্থানকে নুর দ্বারা আলোকিত করে তুলবে। (বায়হাকি)। সুরা কাহফ তেলাওয়াতের সময়: বৃহস্পতিবার সূর্য ডোবার পর থেকে শুক্রবার সন্ধ্যা হওয়ার আগ পর্যন্ত দীর্ঘ সময় জুমআর দিন হিসেবে পরিগণিত। এ সময়ের মধ্যে সুরা কাহফ তেলাওয়াত করলেই হাদিসে উল্লেখিত ফজিলত লাভ করবে মুমিন। সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে শুরু করে জুমআর দিন সকাল, নামাজে যাওয়ার প্রস্তুতি, খোতবা শোনা, জুমআ আদায় করা, দরূদ পড়া, আসর থেকে মাগরিব ইবাদত-বন্দেগিতে নিয়োজিত থাকা। সুরা কাহফ তেলাওয়াত করা। আল্লাহর কাছে দুনিয়া ও পরকালের কল্যাণে দোয়া করা এবং ক্ষমা প্রার্থণা করা। আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে জুমআর দিনব্যাপী উল্লেখিত আমল ও কাজে নিজেদের নিয়োজিত রাখার তাওফিক দান করুন। হাদিসের উপর আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।...

এবার দ্বিতীয় দফায় ওমরাহ করতে পারবেন আড়াই লাখ মানুষ

১৩,অক্টোবর,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আগামী ১৮ অক্টোবর থেকে শুরু হচ্ছে এবারের ওমরাহের দ্বিতীয় পর্ব। এ পর্বে প্রবাসীসহ সৌদি আবরের আড়াই লাখ নাগরিক ওমরাহ পালনের সুযোগ পাবেন। এই আড়াই লাখ নাগরিকসহ এই দফায় মোট ছয় লাখ মুসলিমকে মক্কার গ্র্যান্ড মসজিদে ইবাদত করার অনুমতি দিয়েছে সৌদি সরকার। তবে আগামী ১ নভেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া ওমরাহের তৃতীয় পর্বে সৌদির আবরের বাইরের দেশের নাগরিকরা ওমরাহ করার সুযোগ পাবেন। এ সময় থেকে প্রতিদিন ২০ হাজার মানুষ ওমরাহ পালন করতে পারবেন এবং মসজিদের ভেতরে ৬০ হাজার মানুষকে নামাজ পড়ার অনুমতি দেয়া হবে বলেও ঘোষণা করেছে সৌদি হজ ও ওমরাহ কর্তৃপক্ষ। সৌদির হজ ও ওমরাহ সম্পর্কিত জাতীয় কমিটির সদস্য হানি আল ওমাইরি জানিয়েছেন, এবার মুসল্লিরা আল রাওয়াদাহ আল শরিফা এবং মদিনায় মসজিদে নববির পুরোনো মসজিদ এলাকায় যাওয়ার সুযোগ পাবেন। তিনি আরও জানান, ওমরাহ পালনের অনুমতি গ্রহণের পাশাপাশি গ্র্যান্ড মসজিদ এবং রাওয়াদাহ শরিফ পরিদর্শনের ইতামারনা অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন করতে হবে। ওমরাহের জন্য মক্কার গ্র্যান্ড মসজিদ দিনে ১০ বার পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করা হয়। এছাড়া ওমরাহ পালনকারীদের প্রবেশ এবং বের হওয়ার সময় স্যানিটাইজার দিয়ে জীবাণুমুক্ত করে নেয়া হচ্ছে। মহামারি করোনাভাইরাসে পুরো বিশ্ব আক্রান্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পবিত্র নগরী মক্কায় ওমরাহ পালন স্থগিত করা হয়। করোনা পরবর্তী কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং নিয়ম ও শর্তপালন সাপেক্ষে গত ৪ অক্টোবর থেকে ওমরাহ পালন শুরু হয়। ইতোমধ্যে প্রথম ব্যাচ নিয়মতান্ত্রিকভাবে ওমরাহ সম্পন্ন করেছেন।...

ক্রসফায়ারের ঘটনা ঘটেছে বলেই দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে: শহীদুল হক

স্পেশাল প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: নারায়ণগঞ্জে ধর্ষণের পর খুন হওয়া মেয়েটি জীবিত ফেরার পর পুলিশের তদন্ত এবং রিমান্ডপ্রক্রিয়া আরো একবার প্রশ্নের মুখে। বিরাট প্রশ্ন ক্রসফায়ার বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নিয়েও। এসব প্রশ্ন নিয়েই পুলিশের সাবেক আইজি শহীদুল হকের মুখোমুখি হয়েছিলেন নিউজ একাত্তর একজন স্পেশাল প্রতিনিধি। প্রশ্ন : সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জে এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণের মামলায় তিনজন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে বলেছে, তারাই ওই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের পর হত্যা করে নদীতে লাশ ভাসিয়ে দিয়েছে। কিন্তু ওই ছাত্রী জীবিত ফিরে এসেছে। পুলিশের পুরো তদন্তব্যবস্থাই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে গেল না? শহীদুল হক : দেখুন, এখানে যে সঠিক তদন্ত হয়নি তা নিঃসন্দেহে বলা যায়। যে তিনজন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে তারা হয়তো পুলিশের ভয়েই এটা করেছে। এখন তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সত্য তথ্য বেরিয়ে আসবে। এ ক্ষেত্রে আমার অভিজ্ঞতা যা তা হলো, কোনো কোনো ক্ষেত্রে দেখা যায় বাদীপক্ষের চাপে বা বাদীপক্ষের কাছ থেকে অনৈতিক কোনো সুযোগ নিয়ে কাউকে মামলায় জড়িয়ে দেওয়া হয়। কাউকে কাউকে গ্রেপ্তারের ঘটনাও ঘটে। প্রশ্ন : ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার তদন্তে তো জজ মিয়ার ঘটনাও ঘটেছে। শহীদুল হক : সরকারের সঙ্গে আঁতাত করে, সরকারের চাপে জজ মিয়ার নাটক সাজানো হয়েছে। ওই ঘটনা পুলিশ বাহিনীর জন্য দুঃখজনক। তবে মনে রাখতে হবে, ওটা ছিল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। ২১ আগস্ট মামলায় প্রথমদিকে যা হয়েছে, তদন্ত কর্মকর্তা ভালো হলে তাঁর ওপর সরকারের চাপ থাকলে প্রয়োজন হলে তিনি চাকরি ছেড়ে দিতে পারতেন। তা কিন্তু করেননি। দুর্নীতিপরায়ণ দুই-চারজন তদন্ত কর্মকর্তার কারণেই মাঝে মাঝে পুলিশের ওপর দোষ চাপে। নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলি, আমি চাঁদপুরের এসপি পদে থাকার সময় সেখানে একজন ওসি ছিল, মিয়া মো. শরীফ। তাকে কোনোভাবেই বাগে আনা যাচ্ছিল না। এক প্রভাবশালীর ছত্রচ্ছায়ায় একের পর এক অপকর্ম করেই যাচ্ছিল। একপর্যায়ে তাকে বদলির আদেশ দেওয়া হলো। কিন্তু সে ওই প্রভাবশালী ব্যক্তির কাছে চলে গেল। এরপর একদিন তৎকালীন আইজি মহোদয় আমাকে ফোন করে বললেন, এটা নিয়ে যেন আমি আর কথা না বলি। কিন্তু আমি থেমে থাকিনি। আমি চাপের কাছে নতি স্বীকার করিনি। প্রশ্ন : কিন্তু এ রকম একজন-দুজনের কারণে তো গোটা পুলিশ বাহিনীর ওপরই দায় চলে আসছে। শহীদুল হক : এক-দুজনের কারণে গোটা বাহিনী কলঙ্কিত হতে পারে না। হয়ও না। দেশের মানুষ সচেতন। তারা সব বোঝে। দেখুন, করোনাভাইরাসের মতো মহামারির সময় এই পুলিশ বাহিনীর কর্মকাণ্ড সর্বমহলে প্রসংশিত হয়েছে। জঙ্গি দমনে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা সবাই দেখছে। পুলিশের এত ভালো কাজের মধ্যে দু-একটি ঘটনা গোটা বাহিনীর সাফল্যকে ম্লান করে দিতে পারে না। প্রশ্ন : প্রতিটি ক্রসফায়ারের ঘটনার পর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়, তা সব ঘটনার ক্ষেত্রে একই ধরনের। সত্যি বললে মানুষের কাছে এর কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই। হাসাহাসিই হয় অনেক ক্ষেত্রে। শহীদুল হক : আমি নিজেও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে বিশ্বাস করি না। কেউ অপরাধ করলে তাকে বিচারের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিত। তবে একটা কথা, আমাদের দেশে মাঝে মাঝে কিছু এনকাউন্টার বা ক্রসফায়ারের ঘটনা ঘটছে। এই ক্রসফায়ারের ঘটনার প্রেক্ষাপট জানতে হবে। দেশে অনেক বড় বড় সন্ত্রাসী ছিল, যাদের গ্রেপ্তার করে রাখা যেত না। কয়েক দিন কারাগারে থাকার পর জামিনে বেরিয়ে এসে আরো বড় বড় অপরাধ করত। আইন-শৃঙ্খলার চরম অবনতির প্রেক্ষাপটে ২০০৪ সালে শুরু হয় ক্রসফায়ারের ঘটনা। তখন বড় সন্ত্রাসীরা ক্রসফায়ারে নিহত হয়েছে। দেশের মানুষ ওটাকে ব্যাপকভাবে সমর্থন দিয়েছে। এভাবে দেখলে, সেই সময় ক্রসফায়ারের ঘটনা ঘটেছে বলেই দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। আরেকটা কথা, কোনো মামলায় অপরাধীকে গ্রেপ্তারের পর অভিযোগপত্র দেওয়া হয় আদালতে। কিন্তু আদালতে মামলা বছরের পর বছর পড়ে থাকে। বিচারের এই দীর্ঘসূত্রতার কারণেই আসামিরা জামিনে বেরিয়ে এসে আরো অপরাধ করে। দেশে যদি দ্রুত বিচারকাজ সম্পন্ন হতো এবং আসামিদের যদি জামিন না হতো তাহলে এই ক্রসফায়ারের ঘটনা ঘটত না বল মনে করি। প্রশ্ন : ক্রসফায়ারে নিরীহ মানুষ হত্যার অভিযোগ উঠছে। কখনো কখনো অর্থ নিয়ে বা অর্থের জন্য এ ধরনের ঘটনা ঘটছে এমনও আমরা দেখছি... শহীদুল হক : এ রকম দু-একটি ঘটনা যে ঘটছে না তা বলা যাবে না। এ কারণেই তো এটা নিয়ে এত কথা হচ্ছে। আমার কথা হলো, এ রকম নিরীহ মানুষ হত্যা করা হলে জড়িত আইন-শৃঙ্খল বাহিনীর সদস্যদের কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা দরকার। প্রশ্ন : দেখা যায়, আইন-শৃঙ্খল বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে বড়জোর দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করার ঘটনা ঘটে। এরপর আর কিছু হয় না। শহীদুল হক : এ কথা সত্য নয়। প্রথামিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়। এরপর তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে চাকরিচ্যুত, বেতন কমানো, পদের অবনমন ইত্যাদি ঘটনা ঘটে। এ রকম বহু ঘটনা আছে। যা কখনো মিডিয়ায় আসে না বলেই মানুষ প্রথমটুকুই দেখে মূল্যায়ন করে। পরেরটুকু দেখলে বা মিডিয়ায় এলে মানুষের ভুল ধারণা কেটে যাবে। ...

জামাল খানের উন্নয়নই আমার একমাত্র চাওয়া: কাউন্সিলর প্রার্থী শৈবাল দাশ সুমন

০১মার্চ,রবিবার,কমল চক্রবর্তী,বিশেষ প্রতিনিধি,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: আসন্ন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত কাউন্সিলর প্রার্থী শৈবাল দাশ সুমন এলাকার উন্নয়ন ভাবনা ও আগামী নির্বাচন নিয়ে তার পরিকল্পনার কথা নিউজ একাত্তর এর কাছে তুলে ধরেন। শনিবার ২৯শে ফেব্রুয়ারি বিকালে তার নিজ কার্যালয়ে নিউজ একাত্তরকে দেয়া একান্ত এক সাক্ষাৎকারে তিনি তার নানা কর্মকাণ্ড ও এলাকার উন্নয়ন নিয়ে তার চিন্তা ধারার কথা তথা আগামী নির্বাচনে বিজয়ী হলে তিনি এলাকার জন্য কি কি কাজ করবেন তা সবিস্তর ব্যক্ত করেছেন। দলীয় মনোনয়ন পেয়ে তিনি তার অনুভুতি ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, তিনি দলীয় মনোনয়ন পেয়ে অনেক খুশী যে তাকে আবারও মুল্যায়ন করেছেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশরত্ন প্রধানমন্ত্রীকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানান তাকে মনোনয়ন দেওয়ার জন্য। তার উপর আস্থা রাখার জন্য। তিনি প্রধানমন্ত্রীর আস্থার প্রতিদান দিবেন। তিনি মনে করেন এই মনোনয়ন এর মধ্য দিয়ে তার দায়বদ্ধতা আরও বেড়ে গেলো এবং কাজের গতি দ্বিগুন বেড়ে গেছে। কাউন্সিলর প্রার্থী শৈবাল দাশ সুমন জানান, আজকের এই নান্দনিক জামাল খানের রুপান্তর সম্ভব হয়েছে মানুষের সহযোগিতার জন্য। ওয়ার্ডবাসী তাদের মুল্যবান রায় দিয়ে আমাকে নির্বাচিত করেছে এবং আমার উপর আস্থা রেখেছেন। যার ফলে তিনি বিগত পাঁচ বছরে নগরীর জামাল খান ওয়ার্ডকে একটি নান্দনিক জামাল খানে রুপান্তর করতে সক্ষম হয়েছেন। এক সময় যে জামাল খানে একটু রাত হলেই ঘনিয়ে আসতো অন্ধকার, স্ট্রিট লাইট গুলো জ্বলত মিট মিট করে। গনি ব্যাকারী থেকে জামাল খান পর্যন্ত নেমে আসা নিরবতার কারনে বেড়ে যেত ছিনতাই আর নেশা খোরদের আনাগোনা। সেই জামাল খান আজ চট্টগ্রাম তথা বাংলাদেশের একটি আদর্শ ওয়ার্ডে রূপান্তরিত হয়েছে। ৪১ টি ওয়ার্ডের মধ্যে একটি অন্যতম ওয়ার্ড হিসাবে পরিচিত। চারিদিকে সবুজের সমারোহ তিরি করা হয়েছে, লাগানো হয়েছে বিচিত্র গাছ গাছালি ও ফুলের বাগান। সেই সাথে রয়েছে দর্শনার্থীদের জন্য বসার স্থান। সড়ক জুড়ে স্থাপন করা হয়েছে এলডি বাল্ব।পথচারীদের বিশ্রামের জন্য বসানো হয়েছে ছাউনি। জামাল খানের প্রতিটি দেয়ালে দেয়ালে বাংলার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সুনিপুণ কারুকাজ করা হয়েছে। যা ইতিহাস ঐতিহ্যের সাথে মানুষকে পরিচয় করিয়ে দেয়। গোল চক্করে স্থাপন করা হয়েছে রঙ্গিন ফোয়ারা যা জামাল খানের সৌন্দর্যকে অনেক খানি বাড়িয়ে দিয়েছে। বসানো হয়েছে লাইভ ফিশ একুরিয়াম( স্ট্রিট একুরিয়াম)। অতি সম্প্রতি দেয়ালে স্থাপন করা হয়েছে বাংলাদেশের প্রথম কাঁচের তৈরি বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল। তিনি এলাকার মাদক, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স। মাদক, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলবেন। যুবক সমাজকে মাদক ও সন্ত্রাস মুক্ত রাখতে কাজ করবেন। তার এলাকায় জলজট নেই তবে কিছুটা জলাবদ্ধতা আছে। তিনি আশা বাদী সিডিএ ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর যৌথ ভাবে জলাবদ্ধতা নিরসনে একটি প্রকল্পের কাজ করছে। এটির বাস্তবায়ন হলে জলাবদ্ধতা পুরোপুরি নিরসন করা যাবে। আগামী নির্বাচনে বিজয়ী হলে এই জামাল খানকে বিশ্বের একটি আধুনিক ওয়ার্ডে রুপান্তর করবেন। পার্কের আদলে গড়ে তুলবেন পুরো জামাল খানকে। জামাল খানে গড়ে তুলবেন একটি সমন্বিত বার্ড জোন ও একটি পাঠাগার। জামালখান কে তামাক মুক্ত ও ফুটপাত হকার মুক্ত রাখতে কাজ করে যাচ্ছেন। তাছাড়া এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আনসার নিয়োগের পরিকল্পনা ও রয়েছে। তিনি ২১ নং জালাল খানের ওয়ার্ড বাসীর কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন, তার শৈশব কৈশোর কেটেছে এই জামাল খানে। এই এলাকার সাথে তার আত্মার সম্পর্ক। আপনারা আমার পরম আত্মীয়। তাকে আবারও নির্বাচিত করে আরও একটিবার সুযোগ দেওয়ার জন্য যাতে এলাকাবাসীর সেবা করতে পারেন। সেই সাথে দলীয় নেতা কর্মীদের কাছে উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন তাকে সহযোগিতা করার জন্য। তিনি নির্বাচিত হলে সব সময় সুখে দুঃখে এলাকাবাসীর পাশে থাকবেন। অতীতের মত নিরলস ভাবে কাজ করে যাবেন এবং জনগনের ভালোবাসার প্রতিদান দিবেন। জামালখান বাসী আমরা সবাই একটা পরিবার। আপনারা যদি মনে করেন আমাকে বিগত পাঁচ বছরে আপনাদের কাছে পেয়েছেন তাহলে আমাকে আবার সেবা করার সুযোগ দিবেন। ...

কৃষক, শ্রমিক, মেহনতি মানুষের জন্য আজীবন সংগ্রমী মোস্তফা ভুঁইয়া

২২সেপ্টেম্বর,মঙ্গলবার,বিশেষ প্রতিবেদন,নিউজ একাত্তর ডট কম: মোঃ মোস্তফা ভুঁইয়া ১৯৫০ সালের মার্চ মাসের ৪ তারিখে নরসিংদী জেলার পলাশ উপজেলার বাস গ্রামে সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মরহুম ডাঃ মনিরুজ্জামান ভুঁইয়া, মাতার নাম মরহুমা রৌশনারা বেগম। তিনি তিন সন্তানের জনক। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক পুত্র, এক কন্যা, আত্মীয়স্বজন সহ অসংখ্য সহকর্মী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তিনি একসময় খাদ্য অধিদপ্তরে সরকারি কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি ১৯৭০ সালে ২১ শে ফেব্রুয়ারিতে চাকুরিতে যোগদান করেন। তার চাকুরি জীবন শুরু হয় পাকিস্তানের করাচিতে। তিনি ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় তৎকালিন পূর্ব পাকিস্তান যা বর্তমানে বাংলাদেশে ফিরে আসেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি পুনরায় খাদ্য অধিদপ্তরে যোগদান করেন। ২০০৮ সালে তিনি খাদ্য অধিদপ্তরে সহকারী পরিচালক হিসেবে অবসর গ্রহন করেন। তিনি প্রগতিশীল রাজনীতির সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন। ২০১১ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারী স্বদেশ পার্টিতে যাত্রা শুরু করেন। তিনি আমৃত্যু স্বদেশ পার্টির সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি সমাজসেবা, জনকল্যাণ, কৃষক, শ্রমিক, মেহনতি মানুষের অধিকার সংগ্রামে জড়িত ছিলেন। তিনি অন্যায়, অত্যাচার, শোষণ, নিপীড়ন, বঞ্চনা- লাঞ্ছনার বিরুদ্ধে একজন বলিষ্ট প্রতিবাদী ছিলেন। তিনি গত ২০২০ সালের ৮ আগস্ট জাতীয় হৃদরোগ হাসপাতালে রাত ৯টা ৪০ মিনিটে সবাইকে ছেড়ে না ফেরার দেশে পারি জমান। তার অসংখ্য রাজনৈতিক, সামাজিক, সহকর্মী শোকাহিত হৃদয়ে তাকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেছে। তার অভাব পূরণ হবার নয়। তার কর্মীরা এক মূহূর্তের জন্য তাকে ভুলতে পারে না। আমরা তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত, শান্তি, এবং জান্নাতুল ফেরদৌস কামনা করছি।


ক্রসফায়ারের ঘটনা ঘটেছে বলেই দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে: শহীদুল হক

স্পেশাল প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: নারায়ণগঞ্জে ধর্ষণের পর খুন হওয়া মেয়েটি জীবিত ফেরার পর পুলিশের তদন্ত এবং রিমান্ডপ্রক্রিয়া আরো একবার প্রশ্নের মুখে। বিরাট প্রশ্ন ক্রসফায়ার বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নিয়েও। এসব প্রশ্ন নিয়েই পুলিশের সাবেক আইজি শহীদুল হকের মুখোমুখি হয়েছিলেন নিউজ একাত্তর একজন স্পেশাল প্রতিনিধি। প্রশ্ন : সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জে এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণের মামলায় তিনজন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে বলেছে, তারাই ওই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের পর হত্যা করে নদীতে লাশ ভাসিয়ে দিয়েছে। কিন্তু ওই ছাত্রী জীবিত ফিরে এসেছে। পুলিশের পুরো তদন্তব্যবস্থাই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে গেল না? শহীদুল হক : দেখুন, এখানে যে সঠিক তদন্ত হয়নি তা নিঃসন্দেহে বলা যায়। যে তিনজন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে তারা হয়তো পুলিশের ভয়েই এটা করেছে। এখন তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সত্য তথ্য বেরিয়ে আসবে। এ ক্ষেত্রে আমার অভিজ্ঞতা যা তা হলো, কোনো কোনো ক্ষেত্রে দেখা যায় বাদীপক্ষের চাপে বা বাদীপক্ষের কাছ থেকে অনৈতিক কোনো সুযোগ নিয়ে কাউকে মামলায় জড়িয়ে দেওয়া হয়। কাউকে কাউকে গ্রেপ্তারের ঘটনাও ঘটে। প্রশ্ন : ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার তদন্তে তো জজ মিয়ার ঘটনাও ঘটেছে। শহীদুল হক : সরকারের সঙ্গে আঁতাত করে, সরকারের চাপে জজ মিয়ার নাটক সাজানো হয়েছে। ওই ঘটনা পুলিশ বাহিনীর জন্য দুঃখজনক। তবে মনে রাখতে হবে, ওটা ছিল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। ২১ আগস্ট মামলায় প্রথমদিকে যা হয়েছে, তদন্ত কর্মকর্তা ভালো হলে তাঁর ওপর সরকারের চাপ থাকলে প্রয়োজন হলে তিনি চাকরি ছেড়ে দিতে পারতেন। তা কিন্তু করেননি। দুর্নীতিপরায়ণ দুই-চারজন তদন্ত কর্মকর্তার কারণেই মাঝে মাঝে পুলিশের ওপর দোষ চাপে। নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলি, আমি চাঁদপুরের এসপি পদে থাকার সময় সেখানে একজন ওসি ছিল, মিয়া মো. শরীফ। তাকে কোনোভাবেই বাগে আনা যাচ্ছিল না। এক প্রভাবশালীর ছত্রচ্ছায়ায় একের পর এক অপকর্ম করেই যাচ্ছিল। একপর্যায়ে তাকে বদলির আদেশ দেওয়া হলো। কিন্তু সে ওই প্রভাবশালী ব্যক্তির কাছে চলে গেল। এরপর একদিন তৎকালীন আইজি মহোদয় আমাকে ফোন করে বললেন, এটা নিয়ে যেন আমি আর কথা না বলি। কিন্তু আমি থেমে থাকিনি। আমি চাপের কাছে নতি স্বীকার করিনি। প্রশ্ন : কিন্তু এ রকম একজন-দুজনের কারণে তো গোটা পুলিশ বাহিনীর ওপরই দায় চলে আসছে। শহীদুল হক : এক-দুজনের কারণে গোটা বাহিনী কলঙ্কিত হতে পারে না। হয়ও না। দেশের মানুষ সচেতন। তারা সব বোঝে। দেখুন, করোনাভাইরাসের মতো মহামারির সময় এই পুলিশ বাহিনীর কর্মকাণ্ড সর্বমহলে প্রসংশিত হয়েছে। জঙ্গি দমনে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা সবাই দেখছে। পুলিশের এত ভালো কাজের মধ্যে দু-একটি ঘটনা গোটা বাহিনীর সাফল্যকে ম্লান করে দিতে পারে না। প্রশ্ন : প্রতিটি ক্রসফায়ারের ঘটনার পর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়, তা সব ঘটনার ক্ষেত্রে একই ধরনের। সত্যি বললে মানুষের কাছে এর কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই। হাসাহাসিই হয় অনেক ক্ষেত্রে। শহীদুল হক : আমি নিজেও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে বিশ্বাস করি না। কেউ অপরাধ করলে তাকে বিচারের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিত। তবে একটা কথা, আমাদের দেশে মাঝে মাঝে কিছু এনকাউন্টার বা ক্রসফায়ারের ঘটনা ঘটছে। এই ক্রসফায়ারের ঘটনার প্রেক্ষাপট জানতে হবে। দেশে অনেক বড় বড় সন্ত্রাসী ছিল, যাদের গ্রেপ্তার করে রাখা যেত না। কয়েক দিন কারাগারে থাকার পর জামিনে বেরিয়ে এসে আরো বড় বড় অপরাধ করত। আইন-শৃঙ্খলার চরম অবনতির প্রেক্ষাপটে ২০০৪ সালে শুরু হয় ক্রসফায়ারের ঘটনা। তখন বড় সন্ত্রাসীরা ক্রসফায়ারে নিহত হয়েছে। দেশের মানুষ ওটাকে ব্যাপকভাবে সমর্থন দিয়েছে। এভাবে দেখলে, সেই সময় ক্রসফায়ারের ঘটনা ঘটেছে বলেই দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। আরেকটা কথা, কোনো মামলায় অপরাধীকে গ্রেপ্তারের পর অভিযোগপত্র দেওয়া হয় আদালতে। কিন্তু আদালতে মামলা বছরের পর বছর পড়ে থাকে। বিচারের এই দীর্ঘসূত্রতার কারণেই আসামিরা জামিনে বেরিয়ে এসে আরো অপরাধ করে। দেশে যদি দ্রুত বিচারকাজ সম্পন্ন হতো এবং আসামিদের যদি জামিন না হতো তাহলে এই ক্রসফায়ারের ঘটনা ঘটত না বল মনে করি। প্রশ্ন : ক্রসফায়ারে নিরীহ মানুষ হত্যার অভিযোগ উঠছে। কখনো কখনো অর্থ নিয়ে বা অর্থের জন্য এ ধরনের ঘটনা ঘটছে এমনও আমরা দেখছি... শহীদুল হক : এ রকম দু-একটি ঘটনা যে ঘটছে না তা বলা যাবে না। এ কারণেই তো এটা নিয়ে এত কথা হচ্ছে। আমার কথা হলো, এ রকম নিরীহ মানুষ হত্যা করা হলে জড়িত আইন-শৃঙ্খল বাহিনীর সদস্যদের কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা দরকার। প্রশ্ন : দেখা যায়, আইন-শৃঙ্খল বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে বড়জোর দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করার ঘটনা ঘটে। এরপর আর কিছু হয় না। শহীদুল হক : এ কথা সত্য নয়। প্রথামিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়। এরপর তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে চাকরিচ্যুত, বেতন কমানো, পদের অবনমন ইত্যাদি ঘটনা ঘটে। এ রকম বহু ঘটনা আছে। যা কখনো মিডিয়ায় আসে না বলেই মানুষ প্রথমটুকুই দেখে মূল্যায়ন করে। পরেরটুকু দেখলে বা মিডিয়ায় এলে মানুষের ভুল ধারণা কেটে যাবে।

মুজিব কোট কোনও অন্যায়কারী দুর্নীতিবাজের পরিধান নয়

১২সেপ্টেম্বর,শনিবার,নিউজ একাত্তর ডট কম: ফেসবুকে লোপা তালুকদার নামের এক নারীর মুজিব কোট পরিধেয় ছবি নিয়ে বেশ হইচই চলছে। তার ফেসবুক প্রোফাইলে কর্ম আর গুনের বিশাল ফিরিস্তি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সকল স্তরের উচ্চ পর্যায়ের মন্ত্রী নেতাদের সবার সাথে ছবি। যে কেউ দেখলেই ভাববেন লোপা তালুকদার কতটা ক্ষমতাধর। হয়তো তার কর্মগুণ ক্ষমতা সবই আছে। সে আলোচনা সাপেক্ষে বিষয়। তবে এমন করিৎকর্মা নারী আওয়ামী লীগের একটি অংগ সংগঠনের বিশেষ পদ ধারণ করে শিশু অপহরণ কেন করছে তা সত্যি চিন্তনীয়। বর্তমান সময়ে কেবল লোপা তালুকদার নয়, দেশে সংঘটিত দুর্নীতি বা অন্য অপরাধসমুহের হোতাদের খুঁজতে গিয়ে দেখা যায়, অপরাধীরা কোনও না কোনভাবে আওয়ামী লীগের সাথে জড়িত। সরকার হিসাবে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে দীর্ঘ সময় ধরে। আর এতে করে দলে পরগাছার পরিমান বৃদ্ধি পাওয়া অমূলক কিছু নয়। এ পরগাছাকে 'কাউয়া হাইব্রিড' নানা উপাধি দেয়া হয়। যে নামই দেয়া হোক না কেন এরা ক্রমশ মহীরুহ হয়ে উঠছে। কারণ এদের ছেঁটে ফেলার মত কোনও উদ্যোগ নেয়া হয় না। পাপিয়া, শাহেদ, সাবরিনার ঘটনার রেশ না কাটতেই মুজিব কোট পরিহিত লোপা তালুকদার আবার প্রশ্নবিদ্ধ করছে দলের কর্মকাণ্ডকে। বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের পরিচালক, সাংবাদিক, কবি সাহিত্যিক সব পদবীর ধারণ করার এ নারীর বিরুদ্ধে হত্যাসহ আরও মামলা আছে বলে গণমাধ্যমে আলোচিত হচ্ছে। আর জিনিয়াকে অপহরন কেন করা হয়েছে তা পুলিশের তদন্তে বের হয়ে আসবে বলে বিশ্বাস। এ মুহূর্তে যে প্রশ্নটি বারবার মানুষের সামনে আসছে তা হলো দলের ভেতরে অবস্থান করে যেসব দূর্নীতিবাজ, অসৎ ব্যক্তি বঙ্গবন্ধুর আর্দশকে জলাঞ্জলি দিচ্ছে এর প্রতিকার কি? হঠাৎ করে মুজিব কোট পরিধান করে আর্বিভূত এসব মানুষ কি জানে বঙ্গবন্ধুর মুজিব কোট শুধু ফ্যাশন নয়। এ কোট বাংলার ইতিহাসে কতটা জায়গা জুড়ে আছে। বলা হয়ে থাকে মুজিব কোটের ৬ টি বোতাম বাংলার মানুষের ছয় দফার প্রতীক। যে ছয় দফাকে সামনে রেখে বাঙালি স্বাধীনতার বীজ বপন করেছিল। প্রকৃত দেশ প্রেম থাকলে মুজিব কোট পরিধান করে অন্যায় করা যায় না। আর এ কোটের দেশ প্রেমের সাহস, প্রেরনাকে যারা উপেক্ষা করতে পারে তারা এ সমাজের কীট। এরা দেশের ক্ষতি করতে পিছপা হয় না তা অতীতে ও প্রমাণিত হয়েছে। এ দুর্ভাগা জাতি মুজিব কোটের মর্যাদা দিতে পারেনি সেই ১৯৭৫ সাল থেকে। খন্দকার মোশতাকের মুজিব কোট পরিহিত ছবিকে জাতি ভুলে যায় বলে শাহেদ, লোপারা আশ্রয় পায় আওয়ামী লীগে। মিথ্যা বুলি দিয়ে মিথ্যা লেবাসধারীরা আওয়ামী সরকারের অর্জনকে ম্লান করে দিচ্ছে। দেশের উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাওয়া বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করে চলেছেন। অথচ সে লড়াইয়ের পথকে রুদ্ধ করছে নিজের দলের ভেতর অনুপ্রবেশকারীরা। এ নব্য আওয়ামী প্রেমীদের মুখে এক, মনে আরেক রয়েছে বলে বাড়ছে দুর্নীতি, অন্যায় ও অপরাধ। এরা ব্যক্তি স্বার্থ হাসিল করতে মুজিব কোট পরে মুজিব প্রেমী হয়। নির্মম সত্য হলো মুজিব কোট পরিধান করলেই মুজিব প্রেমী হতে পারে না। নিজের ভেতরে মুজিব আর তার ইতিহাসকে ধারণ করতে হবে। এ কারণেই মুজিব কোটকে অন্যায় আর দুর্নীতির হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করা বন্ধ করতে হবে। তা না হলে আগামীতে দেশের মানুষ আওয়ামী সরকারের ভালোটুকু ভুলে গিয়ে মন্দটুকুই মনে রাখবে। সময়ের সাথে আজ অনেক কিছু বদলে গেছে, তা বাস্তবতাতে সুস্পষ্ট। তাই দলের ভেতর আওয়ামী লীগের আর্দশ আর বিশ্বাসকে যারা শেষ করে দিচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে পারে না সত্যিকারের দলের ত্যাগী নেতা কর্মীরা। কারণ তাদের যে মুজিব কোটের লেবাসে উচ্চ পর্যায়ের নেতা কিংবা হর্তাকর্তাদের সাথে ছবি বা যোগাযোগ নেই। বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশকে যারা আলাদা করে চিন্তা করতে পারে না কিংবা যারা নেত্রীর সাথে ছবি তোলার চেয়ে রাজপথের আন্দোলনকে মূল কাজ মনে করেছে আজ তারা মূল্যহীন। তাই লোপা তালুকদার, শাহেদদের পরনের মুজিব কোট লজ্জিত করে বঙ্গবন্ধুর আর্দশধারণকারী দেশপ্রেমীকে। লেখক: হাসিনা আকতার নিগার,কলামিস্ট।- বিডি-প্রতিদিন

আজকের মোট পাঠক

34915

নিউজ একাত্তর ডট কম

সম্পাদক : মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন চৌধুরী

নির্বাহী সম্পাদক : আহাম্মদ হোসেন ভুইয়া

একটি পপুলার মিডিয়া পাবলিকেশন এর প্রকাশনা | রেজি নং: চ-১২৪২৭/১৭

সম্পাদকীয় ও বানিজ্যিক কার্যালয় : ৪১৬/সি,খিলগাও ঢাকা ০২৪৩১৫০৪৮৮, ০১৮২৪২৪৫৫০৪, ০১৭৭৮৮৮৮৪৭২

চট্টগ্রাম কার্যালয় : ১৯/২০/২১ বি ৩য় তলা, হানিমুন টাওয়ার,পাহাড়তলী,চট্টগ্রাম।

ই-মেইল : newsekattor@gmail.com, editorekattor@gmail.com, কপিরাইট ©newsekattor.com কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত