সাউথ জার্সি মেট্রো আ.লীগের সভায় চার নেতাকে স্মরণ

নিউজার্সি অঙ্গরাজ্যের আটলান্টিক সিটিতে আয়োজিত এক সভায় বক্তারা বলেছেন, বাঙালি জাতির জীবনে ৩ নভেম্বর এক বেদনা বিধুর দিন। ১৯৭৫ সালের এ দিন কুচক্রী মহল বাঙালি জাতিকে নেতৃত্ব শূন্য করতে জন্য জাতির শ্রেষ্ঠ চার সন্তান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিশ্বস্ত সহচর ও মহান মুক্তিযুদ্ধে সফল নেতৃত্বদানকারী সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমেদ, ক্যাপটেন মনসুর আলী ও এ এইচ এম কামরুজ্জামানকে কারা অভ্যন্তরে নির্মমভাবে হত্যা করে। জাতির এই শ্রেষ্ঠ সন্তানদের স্মরণে নিউজার্সি অঙ্গরাজ্যের আটলান্টিক সিটিতে সাউথ জার্সি মেট্রো আওয়ামী লীগ স্থানীয় মি. স্টিক রেস্টুরেন্টে ৮ নভেম্বর দোয়া ও আলোচনা সভার আয়োজন করে। সভার শুরুতে চার নেতার রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়। পরে আলোচনায় অংশ নেন অতিথিরা। আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, পঁচাত্তরের পনেরই আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর বাঙালি জাতিকে নেতৃত্ব শূন্য করার অপচেষ্টার অংশ হিসেবে ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর খুনি মোশতাক চক্রের দোসরেরা জেলখানার অভ্যন্তরে জাতীয় চার নেতাকে নৃশংসভাবে হত্যা করে। খুনি চক্র তাঁদের হত্যা করলেও তাঁদের আদর্শকে হত্যা করতে পারেনি। তাইতো তাঁদের আদর্শ অন্তরে ধারণ করে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সোনার বাংলা গড়ার পথে দেশ এগিয়ে চলেছে। সোনার বাংলা গড়ার মাধ্যমে তাঁদের হত্যার বদলা নেওয়া হবে। আলোচনা সভায় সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আহসান হাবীবের সভাপতিত্বে ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক অভিজিৎ চৌধুরী লিটনের সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশ নেন সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর হোসেন ভূঁইয়া, আওয়ামী লীগ নেতা মো. শাহজাহান, আবুল হোসেন, শামসুল ইসলাম শাহজাহান, গোলাম হাফিজ, শহীদ খান, শেখ সেলিম, ফরহাদ সিদ্দিক, রওশনউদদীন, জয়ন্ত সিনহা প্রমুখ।...

ফিলাডেলফিয়া ম্যারাথনে অংশ নিচ্ছে বেঙ্গল রানার্স ক্লাব

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির নতুন নতুন আবিষ্কারের ফলে স্বাস্থ্যের প্রতি মানুষের সচেতনতা দিন দিন বাড়ছে। উন্নত দেশগুলোর প্রতিটি শহরে জিমনেসিয়ামে উপচে পড়া ভিড়। জিমে যাওয়ার পাশাপাশি নানা ধরনের শরীর চর্চা করে থাকে মানুষ। নিঃসন্দেহে এই তালিকায় দৌড় একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। দৈহিক সুস্থতার পাশাপাশি বিষণ্নতা দূর করে মনো জগৎকে প্রফুল্ল রাখতে দৌড় বা শরীর চর্চার ভূমিকা অপরিসীম। তাই দৌড় নিয়ে আয়োজন করা হচ্ছে নানা ইভেন্টের। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশিরাও পিছিয়ে নেই। আমেরিকানদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নানা দৌড় প্রতিযোগিতায় নিয়মিত অংশ নিচ্ছে প্রবাসী বাংলাদেশিরা। দৌড়ের অভ্যাসকে সবার মধ্যে ছড়িয়ে দিতে এখানে অনেকেই কাজ করছে। এর মধ্যে সাউথ জার্সির বেঙ্গল রানার্স ক্লাব অন্যতম। স্বাস্থ্য সচেতনতার বিষয়টিকে মূল লক্ষ্য করে দৌড়কে বাংলাদেশিদের ম্যধে জনপ্রিয় করার লক্ষ্যে উত্তর আমেরিকার সাউথ জার্সির প্রবাসী বাংলাদেশিরা প্রতিষ্ঠা করেন বেঙ্গল রানার্স ক্লাব বা বিআরসি। পেশায় চিকিৎসক মশিউল চৌধুরী ও স্থানীয় বাংলাদেশিদের আগ্রহে ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় বেঙ্গল রানার্স ক্লাব। মশিউল চৌধুরী বলেন, ‘প্রচলিত লাতিন প্রবাদ আছে, সুস্থ দেহে সুন্দর মনের বাস। বেঙ্গল রানার্স ক্লাব এই প্রবাদে বিশ্বাস করে। শরীর চর্চা, হাঁটা, দৌড়ের মাধ্যমে শারীরিক এবং মানসিক দুই ভাবেই ভালো থাকা যায়। আমাদের সেই ভালো থাকার চেষ্টা করাটা জরুরি।’ এই চিকিৎসক বলেন, মূলত ২০১৩ সালে বাংলাদেশে সাভারে তৈরি পোশাক কারখানায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের সাহায্যার্থে অর্থ সংগ্রহের লক্ষ্যে সাউথ জার্সির কুপার নদীর পার্কে প্রবাসীদের নিয়ে আয়োজন করা হয় পাঁচ কিলোমিটার দৌড় প্রতিযোগিতার। এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায় বিআরসি। সেই থেকে বিআরসি দৌড়ের পাশাপাশি জনকল্যাণমূলক কাজ করে যাচ্ছে। বিআরসি সদস্যরা প্রতি রোববার সকালে সাউথ জার্সির কুপার নদীর পার্কে মিলিত হয়। তাঁরা নির্মল প্রাকৃতিক পরিবেশে চার থেকে আট মাইল দৌড় বা হাঁটায় অংশ নেয়। এ ছাড়া বিআরসি প্রতি তিন মাস পর পর ফিলাডেলফিয়া শহরের দর্শনীয় স্থানগুলোতে আয়োজন করে ফ্রেন্ডস অ্যান্ড ফ্যামিলি রানিং ইভেন্টের যাতে শিশুরাও অংশ নেয়। নিয়মিত দৌড়ের পাশাপাশি এই সংগঠনের সদস্যরা প্রতি বছর আমেরিকার শীর্ষস্থানীয় ‘ফিলাডেলফিয়া ম্যারাথন’-এ অংশ নেন। এতে শুধু আমেরিকানরাই নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে হাজার হাজার প্রতিযোগী অংশ নেন। বিআরসি মনে করে, এই অংশগ্রহণের মাধ্যমে আমেরিকানদের সঙ্গে মিশে আমরা নিজেদের মূলধারার সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত করতে পারি। মশিউল বলেন, এই ইভেন্টে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি হিসেবে সারা বছর ধরে দৌড়বিদদের নিয়মিত কঠোর অনুশীলন তাঁদের মানসিক শক্তিকে দৃঢ় করে। দীর্ঘ ২৬ দশমিক ২, ১৩ দশমকি ১ বা ৮ মাইল ট্র্যাকে থেকে ফিনিশ লাইনে পৌঁছানোর লক্ষ্যে স্থির থাকার অভ্যাস যেমন আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়, তেমনি বাড়িয়ে দেয় সহিষ্ণুতা যা জীবনের অন্য ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। বেঙ্গল রানার্স ক্লাবের আরেকটি লক্ষ্য ম্যারাথনকে কেন্দ্র করে সেবামূলক কাজে সহায়তায় তহবিল সংগ্রহ করে বিভিন্ন দাতব্য প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া।...

স্মার্ট ছাতা!

রোদ-বৃষ্টিতে ছাতার মতো বন্ধু কি আর হয়? ছাতা নিয়ে কোথাও গিয়ে ভুল করে ফেলে আসার ঘটনাও কম নয়। কিন্তু প্রযুক্তির ছোঁয়ায় এখন ছাতাও হয়ে যাচ্ছে স্মার্ট। ওই ছাতা ভুলে ফেলে এলে অবস্থান জানাতে পারবে তা। এমনকি আবহাওয়ার পূর্বাভাসও দিতে পারবে। এ ছাতার নাম ‘দ্য ওয়েদারম্যান’। যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ওয়েদারম্যান নামের কোম্পানি থেকে এ ছাতা তৈরিতে কাজ করেছেন। তাঁদের একজন আবহাওয়াবিদ রিক রিচমুথ। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তিনি। গত বৃহস্পতিবার এই ছাতার উদ্বোধন করেছেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা। ছাতাটিতে আছে বিশেষ ব্লুটুথ ট্র্যাকার, যা স্মার্টফোনের অ্যাপে আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেখাতে পারে। রিয়েল টাইমে আবহাওয়ার সতর্কতা ও নোটিফিকেশন জানাতে পারে। ব্লটুথ ৪.১ প্রযুক্তির ট্র্যাকার চিপ থাকায় ছাতার অবস্থান জানার সুবিধা পাওয়া যাবে। এ ছাতা এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে ঘণ্টায় ৫৫ মাইল বেগের ঝড় সামলাতে পারে। ছাতাটি সম্পর্কে রিক রিচমুথ বলেন, আমি টেকসই ছাতার খোঁজ করছিলাম, কিন্তু সব সময় কোনো না কোনো সমস্যা পেয়েছি। একটা ভালো ছাতার প্রয়োজনীয়তা থেকেই ওয়েদারম্যান তৈরি শুরু করি। দুটি মডেলের ছাতার দাম ৫৯ ও ৬৫ মার্কিন ডলার। কয়েকটি রঙে বিক্রি হচ্ছে এ স্মার্ট ছাতা। তথ্যসূত্র: সিনেট।...

উ. কোরিয়ার ওপর বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা সিঙ্গাপুরের

উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছে সিঙ্গাপুর। গত ৭ নভেম্বর এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে দেশটির শুল্ক বিভাগ। গতকাল শুক্রবার বিবিসি অনলাইনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। গত সেপ্টেম্বরে উত্তর কোরিয়া ষষ্ঠবারের মতো পরমাণু অস্ত্রের পরীক্ষা চালালে দেশটির ওপর কঠোর বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র। দেশ দুটি আশা করছে যে এ নিষেধাজ্ঞার কারণে বাধাগ্রস্ত হবে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক আগ্রাসী কর্মসূচি। এবার বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা দিল সিঙ্গাপুর। অবশ্য দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক অব্যাহত থাকবে। ২০১৬ সালের হিসাব অনুযায়ী উত্তর কোরিয়ার অষ্টম বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার সিঙ্গাপুর। অবশ্য যা উত্তর কোরিয়ার মোট বাণিজ্যের মাত্র শূন্য দশমিক ২ শতাংশ। দেশটির বেশির ভাগ বাণিজ্য চীনের সঙ্গে। দেশটি পিয়ংইয়ংয়ের সবচেয়ে শক্তিশালী সমর্থকও। যদিও গত আগস্টে উত্তর কোরিয়া থেকে লৌহ, সিসা, কয়লা ও সামুদ্রিক খাবার আমদানি নিষিদ্ধ করে চীন। বাণিজ্যে নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি ৮ নভেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে এবং নির্দেশ অমান্যকারীর জরিমানা ও শাস্তি স্বরূপ সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।...

পাঁচ রপ্তানিকারক পেল এইচএসবিসি পদক

পাঁচ রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানকে পদক দিয়েছে বহুজাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান দি হংকং অ্যান্ড সাংহাই ব্যাংকিং করপোরেশন (এইচএসবিসি)। গতকাল শুক্রবার রাতে রাজধানীর র‍্যাডিসন হোটেলে এক অনুষ্ঠানে ‘এইচএসবিসি এক্সপোর্ট এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড’ শীর্ষক এ পুরস্কার দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ ও বিশেষ অতিথি বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার এলিসন ব্লেইক পুরস্কার জয়ী প্রতিষ্ঠানের কর্ণধারদের হাতে পদক তুলে দেন। ২০১০ সাল থেকে এ পুরস্কার দিয়ে আসছে এইচএসবিসি। এবারের পদক পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হলো স্কয়ার ফ্যাশনস লিমিটেড, তারাশিমা অ্যাপারেল লিমিটেড, এনভয় টেক্সটাইল, সীমার্ক (বিডি) লিমিটেড ও ক্ল্যাসিক্যাল হ্যান্ডমেড প্রোডাক্টস বাংলাদেশ। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, পণ্য রপ্তানির দেশের সংখ্যা, রপ্তানি আয়ের পরিমাণ, প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থা, সুষ্ঠু ব্যবসায়িক পরিচালন নীতি এবং আরও কিছু গুণগত বিষয় বিবেচনায় নিয়ে বিচারক প্যানেল বিজয়ী প্রতিষ্ঠান বাছাই করেন। জুরি বোর্ডের প্রধান ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন। এবার বছরের সেরা রপ্তানিকারক তৈরি পোশাক শিল্প গ্রুপে (যাদের বার্ষিক রপ্তানি আয় ১০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি) স্কয়ার ফ্যাশনস লিমিটেড পুরস্কার পেয়েছে। ২০০২ সালে উৎপাদনে আসা প্রতিষ্ঠানটি ২৫টি ব্র্যান্ডের জন্য পণ্য তৈরি করে, যেগুলো ৭৫টি দেশে রপ্তানি হয়। স্কয়ার ফ্যাশনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তপন চৌধুরী পদক গ্রহণ করেন। বছরের সেরা রপ্তানিকারক তৈরি পোশাক শিল্প গ্রুপে (যাদের বার্ষিক রপ্তানি আয় ১০০ মিলিয়ন ডলারের কম) শ্রেণিতে পুরস্কার পেয়েছে তারাশিমা অ্যাপারেল লিমিটেড। এ প্রতিষ্ঠানটি ৪০ দেশে পণ্য রপ্তানি করে। তারাশিমা অ্যাপারেলসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মিশান আলী পদক গ্রহণ করেন। বছরের সেরা রপ্তানিকারক-সরবরাহ ব্যবস্থা ও পশ্চাদমুখী শিল্প খাতে (যাদের বার্ষিক রপ্তানি আয় ১০ মিলিয়ন ডলার বা তার বেশি) শ্রেণিতে পুরস্কার পেয়েছে এনভয় টেক্সটাইল। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান কুতুবউদ্দিন আহমেদ পুরস্কার গ্রহণ করেন। বছরের সেরা রপ্তানিকারক, সনাতন ও উদীয়মান (যাদের বার্ষিক রপ্তানি আয় ১০ মিলিয়ন ডলার বা তার বেশি তবে পোশাক শিল্প ও টেক্সটাইল ব্যতীত) শ্রেণিতে পুরস্কার পেয়েছে সি ফুড রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান সীমার্ক (বিডি) লিমিটেড। সীমার্ক গ্রুপের চেয়ারম্যান ইকবাল আহমেদ ওবিই এ পদক গ্রহণ করেন। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে বছরের সেরা রপ্তানিকারকের (বার্ষিক রপ্তানি আয় ১০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত, তবে তৈরি পোশাক শিল্প ও টেক্সটাইল ব্যতীত) পুরস্কার পেয়েছে গৃহসজ্জা সামগ্রী তৈরিকারক প্রতিষ্ঠান ক্ল্যাসিক্যাল হ্যান্ডমেড প্রোডাক্টস বাংলাদেশ। নীলফামারীর এ প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক তৌহিদ বিন আব্দুস সালাম পদক গ্রহণ করেন। বিজয়ী প্রতিষ্ঠানগুলোকে অভিনন্দন জানিয়ে বক্তব্য দেন এইচএসবিসি বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী ফ্রাঁন্সওয়া দ্য ম্যারিকো ও এইচএসবিসি বাংলাদেশের উপপ্রধান নির্বাহী এবং করপোরেট ব্যাংকিং প্রধান মাহবুবউর রহমান।...

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অপহৃত ছাত্রী উদ্ধার

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে হলের সামনে থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া ছাত্রীকে ঢাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। আজ শনিবার বেলা দুইটা নাগাদ তাঁকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান জানান। প্রক্টর বলেন, ঢাকা পুলিশের সহায়তায় রাজশাহী পুলিশের একটি দল তাঁকে উদ্ধার করে। তাঁর সঙ্গে তাঁর সাবেক স্বামীও রয়েছে। বর্তমানে তাঁদের রাজশাহীতে নিয়ে আসার প্রক্রিয়া চলছে। অপহৃত ওই ছাত্রীকে ফিরিয়ে আনতে আজ বেলা ১১টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে মানববন্ধন করছেন শিক্ষার্থীরা। বেলা দুইটা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সময় বেঁধে তারা। এর মধ্যে পাওয়া না গেলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলে আন্দোলনরত ছাত্রীরা হুমকি দেন। একই সঙ্গে তাঁরা ক্যাম্পাসে ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ সাত দফা দাবি জানান। ওই সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ওই ছাত্রীর সন্ধান পুলিশ পেয়েছে। তাঁকে উদ্ধার করে নিয়ে আসার প্রক্রিয়া শুরু করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের তাপসী রাবেয়া হল থেকে বের হয়ে পরীক্ষা দিতে যাওয়ার সময় অপহৃত হন বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ বর্ষের ওই ছাত্রী। একটি সাদা মাইক্রোবাসে করে ওই ছাত্রীর ‘সাবেক স্বামী’ সোহেল রানাসহ তিন-চারজন যুবক তাঁকে জোর করে তুলে নিয়ে যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শী ছাত্রীরা অভিযোগ করেছেন। এ ঘটনায় গতকাল সন্ধ্যায় নগরের মতিহার থানায় অপহরণ মামলা করেছেন ওই ছাত্রীর বাবা।...

মৃত্যুতেও ছিন্ন হয়নি দুজনের বন্ধুত্ব

রাত তিনটার দিকে হঠাৎ মুঠোফোনের রিং বেজে ওঠে। ঘুমজড়ানো কণ্ঠে ‘হ্যালো’ বলতেই ওপাশ থেকে পরিচিত একজন আশীষ দাশকে জানান, ‘বিদ্যুৎ মারা গেছে।’ বাবার বুকভাঙা চিৎকারে জেগে ওঠে পুরো পরিবার। বিদ্যুৎ-এর বন্ধু অপু দাশের পরিবার রাত সোয়া দুইটার দিকে দুঃসংবাদটি পায়। অপুর পরিবারের সদস্যরা অবশ্য কাঁদছিল তাঁদের ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে। ভোরের দিকে দুই পরিবারই জানতে পারে বিদ্যুৎ-অপু কেউ নেই। সড়ক দুর্ঘটনায় একসঙ্গে প্রাণ গেছে তাঁদের। তাঁদের আরেক বন্ধু বাপ্পীও ওই সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন। চট্টগ্রাম শহরের একটি হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা চলছে। তিনজনই দরজি দোকান চালাতেন। ৩০ বছরের এই তিন তরুণ চট্টগ্রাম শহরের ঘাটফরহাদবেগ এলাকার বাসিন্দা। এক পাড়ায় বেড়ে ওঠা এই তিন যুবক সবসময় একসঙ্গে ঘুরতেন। বৃহস্পতিবার রাতেও তাঁরা পরিবারের অগোচরে মোটরসাইকেল নিয়ে একসঙ্গে সীতাকুণ্ডে যাচ্ছিলেন। গতকাল শুক্রবার বিকেলে ঘাটফরহাদবেগের কাটাপাহাড়ের বাসায় কথা হয় অপুর বাবা অশোক দাশের সঙ্গে। পুরো বাড়িটি নিস্তব্ধ। ছেলের সৎকার শেষ করে শ্মশান থেকে ফিরেছেন একটু আগে। একটি চেয়ারে বসে নীরবে চোখের পানি ফেলছেন অপুর মা শ্যামলী দাশ। অশোক দাশ বললেন ‘কাল (বৃহস্পতিবার) রাতে দোকান বন্ধ করে ছেলে আমাকে বলল, বাবা আমি একটু বের হব। কোথায় যাবে বলেনি। রাতে পুলিশ ফোন করে মৃত্যুর খবর দিল...’ মোটরসাইকেলটি অপুর। প্রায় সাত-আট বছর ধরে তিন বন্ধু সুযোগ পেলেই মোটরসাইকেল নিয়ে ঘুরতে বের হতেন। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের টেরিয়াল বাজার এলাকায় বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। তাঁদের কারও মাথায় হেলমেট ছিল না। গাড়ির ধাক্বায় ঘটনাস্থলেই অপু ও বিদ্যুৎ মারা যান। বিদ্যুতের বাবা আশীষ দাশ বলেন, দুই বন্ধু একসঙ্গে থাকত। মারা গেলও একসঙ্গে......

হাসপাতালই শিশুটির বাড়ি!

জাহাজভাঙা কারখানায় কাজ করতে গিয়ে যখন বাবার দুই পা ভেঙে যায়, তখন রিফানের বয়স ছিল ৭ দিন। সেই থেকে আহত বাবার সঙ্গে হাসপাতালেই থাকছে রিফান। মাঝখানে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে তিন মাস বাড়িতে ছিলেন বাবা। ওই কটা দিনই বাড়িতে ছিল রিফান। বাবা ফের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় আবার হাসপাতালে এসেছে শিশুটি। মো. রিফান। এখন ১১ মাসে পড়েছে শিশুটি। এর আট মাসই বাবা-মায়ের সঙ্গে হাসপাতালে কেটেছে তার। এভাবেই বড় হচ্ছে সে। তার বাবার নাম ফারুক হোসেন। চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারি স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড নামের একটি জাহাজভাঙা কারখানায় কাজ করতে গিয়ে গত ২ জানুয়ারি আহত হন তিনি। রাতে লোহার খণ্ডের সঙ্গে হুইন্স মেশিনের হুক লাগিয়ে ফারুক ফিরছিলেন উপকূলের দিকে। হঠাৎ হুক খুলে গিয়ে তাঁর দুই পায়ে আঘাত করে। পরে অন্য শ্রমিকেরা তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলার ভাটিয়ারির বাংলাদেশ শিপব্রেকিং অ্যাসোসিয়েশন (বিএসবিএ) হাসপাতালে ভর্তি করেন। খবর শুনেই রিফানকে নিয়ে ফারুকের স্ত্রী রোজিনা খাতুন ছুটে আসেন হাসপাতালে। সেই থেকে শুরু। মো. ফারুক হোসেন আট মাস ধরে চিকিৎসাধীন। ফারুকের বাড়ি জামালপুরের সরিষাবাড়ি উপজেলার মালিপাড়া গ্রামে। স্ত্রীকে নিয়ে সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীতেই বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতেন তিনি। দুর্ঘটনার পর থেকে ফারুককে দেখাশোনার জন্য স্ত্রী রোজিনা ছেলেকে নিয়ে হাসপাতালে রয়েছেন। ভাড়া বাসাও এখন ছেড়ে দিয়েছেন। হাসপাতালই এখন বাড়ি। বিএসবিএ হাসপাতালের তিনতলার ১ নম্বর বেডে গত বুধবার বিকেলে ফারুকের সঙ্গে দেখা হয় এই প্রতিবেদকের। তাঁর পায়ের কাছে শিশু রিফান গড়াগড়ি করছিল। অবুঝ শিশুটি জানেই না, সে হাসপাতালে, না বাড়িতে! হাসপাতালে শত ব্যস্ততায় রিফানের ঠিকঠাক যত্ন নিতে পারছেন না মা রোজিনা। তিনি বলেন, একটু পরপরই ওষুধ কিনতে বা চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলতে যেতে হয়। খাবারের বন্দোবস্তও করতে হয়। এর ফাঁকে ফাঁকে সামলান ছেলেকে। যখনই ছেলে কেঁদে ওঠে, তখনই বুঝতে পারেন তার খিদে পেয়েছে। ফারুক হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, গত জানুয়ারি থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত তিনি বিএসবিএর দ্বিতীয় তলার ৬ নম্বর বেডে ভর্তি ছিলেন। চিকিৎসায় ডান পা সুস্থ হয়েছে। কিন্তু বাঁ পা এখনো ভাঙা এবং ঘা শুকায়নি। ফারুকের দাবি, গত ১৭ জুলাই পর্যন্ত মালিকপক্ষ তাঁর চিকিৎসা খরচ ও বেতন দিয়েছে। কিন্তু হাসপাতাল ছাড়ার পর বেতন বন্ধ রয়েছে। ফারুকের স্ত্রী রোজিনা খাতুন বলেন, বাড়িতে থাকা অবস্থায় মাসের বেতনের জন্য কারখানার ব্যবস্থাপককে ফোন দিলেও কাজ হয়নি। টাকার অভাবে বাঁ পায়ের চিকিৎসা করতে না পারায় ক্ষত বাড়তে থাকে। এখন আবারও হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে ফারুককে। এ বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত বিএসবিএ হাসপাতালে ছিলেন রিফানের বাবা। এরপর সপরিবারে জামালপুরে নিজের বাড়ি চলে যান তিনি। গত মাসের ৮ তারিখ থেকে আবার একই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ফারুক। গত ৩১ অক্টোবর ফারুকের বাঁ পায়ে অস্ত্রোপচার হয়েছে। কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপমহাপরিদর্শক মো. আবদুল হাই খান প্রথম আলোকে বলেন, শ্রম আইন অনুসারে কর্মস্থলে কোনো শ্রমিক দুর্ঘটনায় আহত হলে চিকিৎসার ব্যয় মালিকপক্ষ বহন করবে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার পর প্রথম দুই মাস পূর্ণ বেতন পাবেন। পরবর্তী দুই মাস বেতনের দুই-তৃতীয়াংশ পাবেন, পরের ছয় মাস অর্ধেক বেতন পাবেন। এরপর আইন অনুযায়ী যা প্রাপ্য, তা পাবেন। ফারুকের চিকিৎসক মঈন উদ্দীন মজুমদার প্রথম আলোকে বলেন, ফারুক পুরোপুরি সুস্থ হতে আরও কয়েক মাস লাগবে। মালিকপক্ষ যথেষ্ট আন্তরিক। তাঁর যথাযথ চিকিৎসা করা হচ্ছে। কারখানার মালিক নাঈম উদ্দীন প্রথম আলোকে বলেন, এ পর্যন্ত ফারুকের চিকিৎসা ব্যয় বাবদ পাঁচ-ছয় লাখ টাকা দিয়েছেন। বেতনও দিয়েছেন। এখন হাসপাতালে যাঁরা আছেন, তাঁরা খোরাকির টাকা (খাওয়ার খরচ) পাবেন। গত বুধবারই ফারুককে অর্ধেক মাসের বেতন বাবদ কিছু টাকা দেওয়া হয়েছে।...

এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে আগুন দেয় ছাত্রলীগ

সিলেটের এমসি কলেজের ঐতিহ্যবাহী ছাত্রাবাসে অগ্নিসংযোগকারী হিসেবে ২৯ জনকে চিহ্নিত করেছে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি। এঁদের অধিকাংশই ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী। বাকিরাও সরকারি দলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তাঁদের সবার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। ২০১২ সালের ৮ জুলাই সন্ধ্যায় ছাত্রশিবির ও ছাত্রলীগের সংঘর্ষের জের ধরে কলেজের ঐতিহ্যবাহী ছাত্রাবাসে আগুন দেওয়া হয়। এতে ৪২টি কক্ষ ভস্মীভূত হয়। ঘটনার পাঁচ বছর পর গত বুধবার সিলেটের মহানগর বিচারিক হাকিম আদালতে বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। পরদিন বৃহস্পতিবার এ প্রতিবেদনের শুনানি শেষে সিলেটের অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর বিচারিক হাকিম উম্মে সরাবন তহুরা দায়ী ২৯ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী মোহাম্মদ আলী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিল করতে আদালতের নির্দেশনা ২৯ জনের ঠিকানা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট থানায় কাল রোববার পাঠানো হবে বলে তিনি জানান। বিচার বিভাগীয় তদন্তে যে ২৯ জনকে দায়ী করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে ওই সময় সিলেট সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও বর্তমানে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক দেবাংশু দাস মিঠুর নাম রয়েছে সবার আগে। এরপর পর্যায়ক্রমে দায়ী করা হয়েছে জেলা ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত সভাপতি পংকজ পুরকায়স্থ, আবু সরকার (বহিরাগত, শ্রমিক লীগের সাবেক সভাপতি), জাহাঙ্গীর আলম (জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক), মৃদুল কান্তি সরকার, কামরুল ইসলাম, আলমগীর হোসেন (ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ও বর্তমানে আইনজীবী ও বিশ্বনাথ উপজেলার রামপাশা ইউপি চেয়ারম্যান), বাবলা, মো. আতিকুর রহমান, লায়েক আহম্মেদ, সিদ্দিক আহম্মেদ ইউসুফ, জহিরুল ইসলাম, আক্তারুল ইসলাম, জসিম উদ্দিন, আসাদুজ্জামান শাহিন, মোহাম্মদ বিন মামুন বুলবুল, আউলাদ, আছরাফ আহমেদ শিপন, নজরুল ইসলাম, অলিউল্লাহ ওরফে ওলিউর রহমান, খুরশেদ আলম, বাছিদ ওরফে আবদুল বাছিদ, আবদুস সালাম, ইমতিয়াজ রফিক চৌধুরী, আবদুল্লাহ ফারুক, কয়েছ ওরফে কয়েছুজ্জামান তালুকদার, আবু রেহান, রুবেল ও জ্যোতির্ময় দাস সৌরভকে। ঘটনাক্রম পাঁচ বছর আগে ওই ছাত্রাবাস পোড়ানোর ঘটনায় দেশে-বিদেশে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ও শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এমসি কলেজের ছাত্র হওয়ায় ঘটনার পরপরই তাঁরা সরেজমিন পরিদর্শন করে অগ্নিসংযোগকারীদের শনাক্ত করার নির্দেশ দেন। পোড়া ছাত্রাবাস পরিদর্শনে গিয়ে কেঁদে ফেলেন শিক্ষামন্ত্রী। সিলেট নগরের টিলাগড় এলাকায় ১৮৯২ সালে রাজা গিরিশচন্দ্র রায় তাঁর পিতামহ মুরারি চাঁদের (এমসি) নামে এই কলেজ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ব্রিটিশ আমলে ১৯২০ সালে ৬০০ শতক জায়গার ওপর আসাম ঘরানার স্থাপত্যরীতির সেমিপাকা কাঠামোর ছাত্রাবাস নির্মাণ করা হয়েছিল। এ স্থাপত্যরীতির ফলে ছাত্রাবাসটি দেশে-বিদেশে ‘হেরিটেজ’ হিসেবে সমাদৃত ছিল। অবশ্য ঘটনার দুই বছরের মাথায় অবিকল আগের কাঠামোয় ছাত্রাবাস পুনর্নির্মাণ করে শিক্ষাপ্রকৌশল অধিদপ্তর। বর্তমানে ছাত্রাবাসে থাকছেন ছাত্ররা। অগ্নিকাণ্ডের পরপরই ছাত্রাবাসে আগুন দেওয়ার জন্য ছাত্রলীগ ও ছাত্রশিবির পরস্পরকে দায়ী করেছিল। ছাত্রাবাস থেকে ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের তাড়াতে ছাত্রলীগের ছেলেরা সেখানে আগুন লাগিয়ে দেন বলে অভিযোগ ছিল শিবিরের। আবার ছাত্রলীগের পাল্টা অভিযোগ ছিল, ছাত্রাবাস ছেড়ে যাওয়ার সময় শিবিরই আগুন দিয়ে পালিয়েছে। ছাত্রাবাস যখন আগুনে পুড়ছিল, তখন পাশ দিয়ে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করছিলেন। এই নিয়ে প্রথম সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছিল প্রথম আলোয়। ২০১২ সালের ১৫ জুলাই প্রথম আলোর প্রথম পাতায় ‘বিক্ষোভকারীরাই আগুন দিয়েছে ছাত্রাবাসে!’ শিরোনামে প্রতিবেদন ছাপা হলে এ নিয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ওই অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ছাত্রাবাসটির তত্ত্বাবধায়ক বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে নগরের শাহপরান থানায় মামলা করেন। পরে ছাত্রলীগের নেতা দেবাংশু দাশ মিঠু, পঙ্কজ পুরকায়স্থসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে শিবিরের দুই কর্মী আদালতে পৃথক দুটি নালিশি মামলা করেন। আদালত তিনটি অভিযোগ একীভূত করে তদন্তের নির্দেশ দেন পুলিশকে। অগ্নিসংযোগকারী শনাক্ত করতে শাহপরান থানার পুলিশ ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) দুই দফা তদন্তের পর সর্বশেষ পুলিশের বিশেষায়িত বাহিনী পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) অধিকতর তদন্ত শুরু করে। পিবিআই তদন্ত শেষে গত ৩১ মে সন্দেহভাজন অগ্নিসংযোগকারীদের (ছাত্রলীগের নেতা) বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ না পেয়ে তাঁদের অব্যাহতির সুপারিশ করে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন (ফাইনাল রিপোর্ট) দেয়। চূড়ান্ত প্রতিবেদনের শুনানি শেষে আদালত বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিলে মুখ্য মহানগর বিচারিক হাকিম মো. সাইফুজ্জামান হিরোর নেতৃত্বে বিচার বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়। আদালতসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিচার বিভাগীয় তদন্ত কার্যক্রমের শুরুতে ২০ জুন সর্বশেষ তদন্তকারী সংস্থা হিসেবে পিবিআই সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সারোয়ার জাহানের সাক্ষ্য নেওয়া হয়। এর পরে পর্যায়ক্রমে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাক্ষ্য নেওয়া হয়। এ ছাড়া অগ্নিকাণ্ডের আগে ছাত্রলীগ ও ছাত্রিশিবির কর্মীদের মধ্যে ফুটবল খেলা নিয়ে বচসার জের ধরে ছাত্রলীগের যে কর্মী শিবির কর্মীদের হাতে আহত হয়েছিলেন, তাঁরও সাক্ষ্য রয়েছে। তদন্তের সাক্ষ্য পর্যালোচনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি উল্লেখ করেছে, ছাত্রাবাস পোড়ানোর ঘটনায় মামলার বাদীসহ ইতিপূর্বে গৃহীত জবানবন্দি প্রদানকারীদের পুনরায় জবানবন্দি গ্রহণের জন্য নোটিশ করা হলে মোট পাঁচজন সাক্ষী উপস্থিত হয়ে জবানবন্দি প্রদান করেন। এ সম্পর্কে পর্যালোচনায় বলা হয়, সাক্ষীদের মৌখিক সাক্ষ্য, ভিডিও ফুটেজ, স্থিরচিত্র, জেলা প্রশাসন গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পর্যালোচনায় এটাই প্রতীয়মান হয় যে এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ছাত্রলীগ ও ছাত্রশিবিরের দ্বন্দ্বের কারণেই সংঘটিত হয়। প্রথমত ছাত্রলীগের কর্মী উজ্জ্বল আহমদকে ছাত্রশিবিরের কর্মীরা গুরুতর জখম করায় তাৎক্ষণিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। তৎপ্রেক্ষিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। মৌখিক ও দালিলিক সাক্ষ্য বিচার বিশ্লেষণে এটা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ প্রথম আলোকে বলেন, এঁরা এখন ছাত্রলীগের কেউ না। যাঁদের নাম এসেছে পাঁচ বছর আগেই তাঁদের অনেকে সংগঠন থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন। আর কেউ সাবেক হয়ে গেছেন। এঁদের দায়ভার সংগঠন নিতে পারে না।...

পাঁচ রপ্তানিকারক পেল এইচএসবিসি পদক

পাঁচ রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানকে পদক দিয়েছে বহুজাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান দি হংকং অ্যান্ড সাংহাই ব্যাংকিং করপোরেশন (এইচএসবিসি)। গতকাল শুক্রবার রাতে রাজধানীর র‍্যাডিসন হোটেলে এক অনুষ্ঠানে ‘এইচএসবিসি এক্সপোর্ট এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড’ শীর্ষক এ পুরস্কার দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ ও বিশেষ অতিথি বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার এলিসন ব্লেইক পুরস্কার জয়ী প্রতিষ্ঠানের কর্ণধারদের হাতে পদক তুলে দেন। ২০১০ সাল থেকে এ পুরস্কার দিয়ে আসছে এইচএসবিসি। এবারের পদক পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হলো স্কয়ার ফ্যাশনস লিমিটেড, তারাশিমা অ্যাপারেল লিমিটেড, এনভয় টেক্সটাইল, সীমার্ক (বিডি) লিমিটেড ও ক্ল্যাসিক্যাল হ্যান্ডমেড প্রোডাক্টস বাংলাদেশ। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, পণ্য রপ্তানির দেশের সংখ্যা, রপ্তানি আয়ের পরিমাণ, প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থা, সুষ্ঠু ব্যবসায়িক পরিচালন নীতি এবং আরও কিছু গুণগত বিষয় বিবেচনায় নিয়ে বিচারক প্যানেল বিজয়ী প্রতিষ্ঠান বাছাই করেন। জুরি বোর্ডের প্রধান ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন। এবার বছরের সেরা রপ্তানিকারক তৈরি পোশাক শিল্প গ্রুপে (যাদের বার্ষিক রপ্তানি আয় ১০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি) স্কয়ার ফ্যাশনস লিমিটেড পুরস্কার পেয়েছে। ২০০২ সালে উৎপাদনে আসা প্রতিষ্ঠানটি ২৫টি ব্র্যান্ডের জন্য পণ্য তৈরি করে, যেগুলো ৭৫টি দেশে রপ্তানি হয়। স্কয়ার ফ্যাশনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তপন চৌধুরী পদক গ্রহণ করেন। বছরের সেরা রপ্তানিকারক তৈরি পোশাক শিল্প গ্রুপে (যাদের বার্ষিক রপ্তানি আয় ১০০ মিলিয়ন ডলারের কম) শ্রেণিতে পুরস্কার পেয়েছে তারাশিমা অ্যাপারেল লিমিটেড। এ প্রতিষ্ঠানটি ৪০ দেশে পণ্য রপ্তানি করে। তারাশিমা অ্যাপারেলসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মিশান আলী পদক গ্রহণ করেন। বছরের সেরা রপ্তানিকারক-সরবরাহ ব্যবস্থা ও পশ্চাদমুখী শিল্প খাতে (যাদের বার্ষিক রপ্তানি আয় ১০ মিলিয়ন ডলার বা তার বেশি) শ্রেণিতে পুরস্কার পেয়েছে এনভয় টেক্সটাইল। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান কুতুবউদ্দিন আহমেদ পুরস্কার গ্রহণ করেন। বছরের সেরা রপ্তানিকারক, সনাতন ও উদীয়মান (যাদের বার্ষিক রপ্তানি আয় ১০ মিলিয়ন ডলার বা তার বেশি তবে পোশাক শিল্প ও টেক্সটাইল ব্যতীত) শ্রেণিতে পুরস্কার পেয়েছে সি ফুড রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান সীমার্ক (বিডি) লিমিটেড। সীমার্ক গ্রুপের চেয়ারম্যান ইকবাল আহমেদ ওবিই এ পদক গ্রহণ করেন। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে বছরের সেরা রপ্তানিকারকের (বার্ষিক রপ্তানি আয় ১০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত, তবে তৈরি পোশাক শিল্প ও টেক্সটাইল ব্যতীত) পুরস্কার পেয়েছে গৃহসজ্জা সামগ্রী তৈরিকারক প্রতিষ্ঠান ক্ল্যাসিক্যাল হ্যান্ডমেড প্রোডাক্টস বাংলাদেশ। নীলফামারীর এ প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক তৌহিদ বিন আব্দুস সালাম পদক গ্রহণ করেন। বিজয়ী প্রতিষ্ঠানগুলোকে অভিনন্দন জানিয়ে বক্তব্য দেন এইচএসবিসি বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী ফ্রাঁন্সওয়া দ্য ম্যারিকো ও এইচএসবিসি বাংলাদেশের উপপ্রধান নির্বাহী এবং করপোরেট ব্যাংকিং প্রধান মাহবুবউর রহমান।...

যন্ত্রে তৈরি জাজিমের বাজার বড় হচ্ছে

একজন মানুষ দিনে যদি আট ঘণ্টা ঘুমায়, তাহলে তাঁর জীবনের তিন ভাগের এক ভাগ সময় কাটে বিছানায়। সেই বিছানাকে আরামদায়ক করার পেছনে ব্যয় করতেও মানুষ পিছপা হয় না। বাংলাদেশের মানুষ একসময় ধুনকরদের দিয়ে জাজিম-তোশক তৈরি করে বিছানা সাজাত। এখন জাজিম-তোশকের বাজার দখল করছে আধুনিক কারখানায় যন্ত্রে তৈরি জাজিম বা ম্যাট্রেস। দেশের ব্যবসায়ীরা বলছেন, মানুষের আয় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বড় হচ্ছে যন্ত্রে তৈরি ম্যাট্রেসের বাজার। শুধু রাজধানী ঢাকার উচ্চ আয়ের মানুষেরা নয়, জেলা-উপজেলা শহরের বাসিন্দারাও এখন ম্যাট্রেস কিনছেন। এ বাজারে আধিপত্যের পুরোটুকুই দেশি কোম্পানির। অভিজাত আবাসিক হোটেল বাদে দেশে যত ম্যাট্রেস বিক্রি হয়, তার পুরোটাই দেশীয় উৎপাদকেরা সরবরাহ করেন। এ খাতের উদ্যোক্তারা বলছেন, দেশে এখন ২০টির মতো কোম্পানি ম্যাট্রেস উৎপাদন করছে। বছরে তাদের মোট বিক্রির পরিমাণ প্রায় দেড় শ কোটি টাকা। এ বাজার বছরে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ হারে বাড়ছে। মানুষের আয় যত বাড়বে, বাজারের আকার তত বাড়বে বলে মনে করেন খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। দেশের শীর্ষস্থানীয় ম্যাট্রেস উৎপাদক প্রতিষ্ঠান আখতার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে এম রিফাতুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, একসময় ম্যাট্রেস শুধু অভিজাত শ্রেণির মানুষেরা ব্যবহার করতেন। এখন দাম কমে সাধারণ মানুষের নাগালে এসেছে। তাই এটি এখন আর অভিজাত পণ্য নেই। তিনি বলেন, এখন জাজিমের পরিবর্তে ম্যাট্রেসের ব্যবহার খুব বেড়েছে। পরিবর্তনটি এসেছে গত পাঁচ বছরে। এ সময় মূলত ম্যাট্রেসের দাম কমেছে, বাজার বেড়েছে। দেশীয় বাজারে আধিপত্য থাকলেও দেশি কোম্পানিগুলো রপ্তানি বাজারে নেই। ম্যাট্রেস রপ্তানিতে ঝক্কি অনেক বেশি। একটি কনটেইনারে খুব কম পরিমাণ ম্যাট্রেস ধরে। এতে জাহাজভাড়া অনেক বেশি পড়ে যায়। তাই কোম্পানিগুলো রপ্তানি বাজারে সুবিধা করতে পারছে না বলে জানান এ খাতের উদ্যোক্তারা। তবে আসবাবপত্রের সঙ্গে সামান্য কিছু ম্যাট্রেস বিদেশে যায় বলে জানান তাঁরা। অবশ্য ম্যাট্রেসের বৈশ্বিক বাজার বেশ বড়। যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য বাজার গবেষণাপ্রতিষ্ঠান রিসার্চমজের এক সমীক্ষা অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ম্যাট্রেসের বৈশ্বিক বাজারের আকার দাঁড়াবে ৪ হাজার ৩০০ কোটি মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশের এখনকার মোট রপ্তানি আয়ের চেয়ে ৯০০ কোটি ডলার বেশি। গত ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৪৮৩ কোটি ডলার।...

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি ইউনিটের ফল প্রকাশ

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৭-২০১৮ শিক্ষাবর্ষে প্রথম বর্ষে অনুষ্ঠিত তিনটি ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার মধ্যে দুটি ইউনিটের ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। আজ সোমবার দুপুরে ‘বি’ ইউনিটের অধীন কলা ও মানবিক স্কুল, আইন স্কুল এবং চারুকলা ইনস্টিটিউটের ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল ও গতকাল রোববার সন্ধ্যায় ‘সি’ ইউনিটের অধীন ব্যবস্থাপনা ও ব্যবসায় প্রশাসন স্কুল এবং সমাজবিজ্ঞান স্কুলের ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। দুটি ইউনিটের বিস্তারিত ফল খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট (www.ku.ac.bd এবং kuadmission.online ) এ পাওয়া যাচ্ছে। বাকি ‘এ’ ইউনিটের অধীন বিজ্ঞান প্রকৌশল ও প্রযুক্তিবিদ্যা স্কুল এবং জীববিজ্ঞান স্কুলের ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল দু-এক দিনের মধ্যে প্রকাশিত হবে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। গত ১১ নভেম্বর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক দিনেই তিনটি ইউনিটেরই ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।...

হাতেকলমে ব্যবসা শিক্ষা

পাঠ্যবইয়ের পড়া, পরীক্ষা, ক্লাস তো অনেক হলো! এবার হাতেকলমে ব্যবসা সম্পর্কে ধারণা পেতে প্যারামাউন্ট টেক্সটাইলের গাজীপুরের ফ্যাক্টরি কমপ্লেক্সে গিয়েছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের (আইবিএ) প্রথম বর্ষের একদল শিক্ষার্থী। সবাই বিবিএ পড়ছেন। ‘ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকাউন্টিং টু’ কোর্সের ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জনের জন্য শিল্প খাতে ‘গো ফর গ্রিন’ বা সবুজায়নের গুরুত্ব সম্পর্কে ধারণা পাওয়াই ছিল এই সফরের উদ্দেশ্য। ভবিষ্যতে একটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে পেশাজীবন শুরু করতে চান তাবাসসুম খান। তিনি বলছিলেন, ‘ক্লাসের পড়াশোনা তো শুধু বই আর খাতায় থাকে। বড় শিল্প খাতগুলো কীভাবে চলছে, সেটা জানাই বরং বেশি প্রয়োজন।’ সুযোগটা পেয়ে তাই তাবাসসুমের পাশাপাশি তাঁর বন্ধু নাফিসা নাওয়াল খান চৌধুরী, আদনান শফিক আর কিদওয়া আরিফরাও ভীষণ খুশি। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছিলেন আইবিএর অধ্যাপক মোহাম্মদ আবদুল মোমেন। তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের সরাসরি ব্যবসা দুনিয়ার সঙ্গে পরিচিত করতেই এই উদ্যোগ। আমাদের দেশের শিল্পায়নে মেধাবী শিক্ষার্থীরা যেন ভবিষ্যতে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, সে জন্যই এই আয়োজন।’...

কোহলির সেঞ্চুরির ফিফটিতে জয়ের হাতছানি ভারতের!

বিরাট কোহলির ক্যারিয়ার সাফল্যে মোড়া। তাঁর সাফল্যের মুকুটে প্রতিনিয়তই যোগ হচ্ছে নতুন নতুন রত্ন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ইতিহাসের দ্রুততম সময়ে ৫০তম সেঞ্চুরি তুলে নিলেন ভারত-অধিনায়ক। সেঞ্চুরির ‘ফিফটি’ করতে তিনি খেলেছেন ৩৪৮টি ইনিংস। কোহলির সঙ্গে এখানে অবশ্য ‘খেলা’ অমীমাংসিতই থাকছে হাশিম আমলার। প্রোটিয়া ব্যাটসম্যানও নিজের আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরির ‘ফিফটি’ করতে খেলেছেন ৩৪৮টি ইনিংস। কলকাতা টেস্টের পঞ্চম দিনে হঠাৎ করেই চালকের আসনে চলে এসেছে ভারত। সেটি যে অধিনায়ক কোহলির সেঞ্চুরির সুবাদেই, তা না বললেও চলছে। পঞ্চম দিনের উইকেটেও দারুণ স্বচ্ছন্দে ১১৯ বলে ১০৪ রানের ইনিংস খেলে অপরাজিত ছিলেন। এর আগে গতকাল দুই ওপেনার লোকেশ রাহুল (৭৯) ও শিখর ধাওয়ানের (৯৪) দ্রুতগতির দুটি ইনিংসেই ৩৫২ রানে ইনিংস ঘোষণা করতে পেরেছেন কোহলি। গতকাল দুই ওপেনারের গড়ে দেওয়া ভিত্তিটা আজ অবশ্য ভেস্তে যেতে বসেছিল। মাত্র ২১ রানের মধ্যে ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল ভারত। আড়াই শ ছাড়ানোর আগেই পঞ্চম উইকেট হারিয়ে ফেলা ভারত তখন বেশ বিপদেই। অন্য প্রান্ত থেকে কোনো সহযোগিতা ছাড়াই একাই দলকে টেনে নিয়েছেন কোহলি। দলকে লিড এনে দিয়েছেন ২৩০ রানের। বোলাররাও মান রেখেছেন কোহলির এই ইনিংসে। এ টেস্ট ড্র করতে হলে কমপক্ষে ৪৭ ওভার ব্যাট করতে হবে শ্রীলঙ্কাকে। আর জিততে চাইলে এর মাঝেই তুলে নিতে হবে ২৩১ রান। নবম ওভারেই ১৪ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলা শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ ১৮ ওভারে ৪ উইকেটে ৬২।...

এক পায়েই খেলছেন ‘ডানা ভাঙা দেবদূত’

হে য়িয়ি তখন ১২ বছরের দুরন্ত কিশোর। চোখে ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন, জাদুকরি দুটি পায়ে সেই স্বপ্নের প্রতিফলন। একদিন নজরে পড়ে গেলেন এক ফরাসি স্কাউটের। ২০০৮ সালের সেই সময়ে য়িয়ির কাছে ব্যাপারটা ছিল মেঘ না চাইতেই বৃষ্টি! কিন্তু সেই বৃষ্টি এসেছিল ঝড় হয়ে। বাঁ পা ভীষণ ভোগাচ্ছিল। মাঝেমধ্যে ব্যথা অনুভব করতেন। তাই ধরনা দিলেন ডাক্তারের কাছে। নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ধরা পড়ল ‘অস্টিওসারকোমা’—মানে, ক্যানসার! শিশু-কিশোরদের এ রোগটা বেশি হয়ে থাকে। ডাক্তারের পরামর্শ, বেশি দিন বেঁচে থাকার ইচ্ছে থাকলে বাঁ পা কেটে ফেলতে হবে। এ অবস্থায় ফ্রান্সে গিয়ে পেশাদার ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন ধাওয়া করার চেয়ে জীবনের মূল্য অনেক বেশি। য়িয়ি তাই বাঁ পা কেটে ফেললেন, কেটে গেল তাঁর ইউরোপে খেলার স্বপ্ন ঘুড়ির সুতো। কিন্তু খেলা থামেনি। বাঁকানো পা নিয়ে জন্মানোয় ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি গারিঞ্চাকে বলা হতো ‘বাঁকানো পায়ের দেবদূত’। আর এক পা না থাকায় চায়নিজ ফুটবলভক্তদের কাছে ক্রাচের য়িয়ি এখন, ‘ডানা ভাঙা দেবদূত’। কেউ বলেন ‘এক পায়ে বলের রাজা’, কারও কাছে আবার ‘জাদুকর ছেলেটা’! পা হারিয়ে ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন বিসর্জনকারীদের জন্য ২১ বছরের এই ছেলে এখন সত্যিই এক অনুপম উদাহরণ। এক পায়ের স্ট্রাইকার কিক নিচ্ছেন গোলে। ছবি: এএফপি চায়নিজ ফুটবলভক্তদের কাছে য়িয়ির ভিডিও ভীষণ সাড়া ফেলেছেন। ভিডিওটি দেখার সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে ৪০ লাখ এবং তা বেড়েই চলছে। সেই ভিডিওতে শারীরিকভাবে সক্ষম প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়দের বোকা বানানো ছাড়াও এক পায়ে গোলও করেন ‘ক্রাচের স্ট্রাইকার’ য়িয়ি! বক্সের মধ্যে বল পেয়ে এক পা দিয়েই রিসিভ করেন দারুণভাবে। আলতো ছোঁয়ায় একটু সামনে নিয়েই চকিত শট এবং গোল। আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, ক্রাচে ভর দিয়েই বাইলাইন দিয়ে দুরন্ত বেগে ছুটছেন য়িয়ি। দিয়েছেন নিখুঁত পাসও। চায়নিজ ফুটবলের কিছু উৎসাহী ভক্তের মত, জাতীয় দলের বেহাল দশা কাটানোর জবাব হতে পারেন য়িয়ি। কিন্তু জাতীয় দল দুর অস্ত, চীনের অপেশাদার লিগেও তিনি খেলার অনুমতি পাননি। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ গুয়াডংয়ে মাঝেমধ্যে ‘খ্যাপ’ খেলার ডাক পান। য়িয়ির কাছে ওটুকুই প্রতিযোগিতামূলক ফুটবল। অপেশাদার লিগের আয়োজকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন বেশ কয়েক দফা। কিন্তু আয়োজকেরা তাঁর অনুরোধে কর্ণপাত করেননি। সংবাদ সংস্থা এএফপির কাছে য়িয়ির অনুযোগ, ‘আমি কাউকে আঘাত করি না। শুধু আয়োজকদের সঙ্গে একবার ঝামেলা হয়েছিল। অপেশাদার ম্যাচ সবাই খেলতে পারে। সবাই পারলে আমার কী সমস্যা?’ য়িয়ি প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে খেলার সুযোগ পান কালেভদ্রে। সেসব ম্যাচে মাঠে নামলে তাঁকে ফুটবল খেলার সঙ্গে আরও অনেক কিছুর মোকাবিলা করতে হয়। এই যেমন প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়দের আঘাত করার ‘টার্গেট’ হওয়া থেকে নিজেকে বাঁচানো কিংবা কটূক্তিতে কান না দেওয়ার চেষ্টা। য়িয়ির ভাষায়, ‘তাদের ভাবখানা এমন যে পারলে আমাকে ম্যাচের প্রথম কয়েক মিনিটের মধ্যেই বের করে দেয়! চিৎকার করে বলে, এখানে কী করছ?’...

বারী সিদ্দিকী লাইফ সাপোর্টে

প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী বারী সিদ্দিকীর শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাঁকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে লাইফ সাপোর্ট দিয়ে রাখা হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, তাঁর দুটি কিডনি অকার্যকর। তিনি বহুমূত্র রোগেও ভুগছেন। এ ছাড়া গতকাল শুক্রবার রাতে তিনি হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হন। এরপর তাঁকে যখন হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়, তখন তিনি অচেতন ছিলেন। তাঁকে দ্রুত নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়। আজ শনিবার সকালে বারী সিদ্দিকীর ছেলে সাব্বির সিদ্দিকী প্রথম আলোকে বলেন, ‘বছর দুয়েক যাবৎ বাবা কিডনির সমস্যায় ভুগছেন। গত বছর থেকে সপ্তাহে তিন দিন কিডনির ডায়ালাইসিস করছেন তিনি। গতকাল সন্ধ্যায় শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরে যান। সেখান থেকে রাত ১০টা নাগাদ বাসায় ফেরেন। তখনো তিনি স্বাভাবিক ছিলেন। কোনো অসুস্থতার কথা বলেননি। গভীর রাতে হঠাৎ তিনি গুরুতর হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হন। মুহূর্তেই অচেতন হয়ে পড়েন।’ সাব্বির সিদ্দিকী জানান, বারী সিদ্দিকীর অবস্থা ক্রমেই অবনতি হচ্ছে। চিকিৎসকেরা কোনো আশার কথা বলতে পারছেন না। তিনি বারী সিদ্দিকীর জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন। বারী সিদ্দিকীর অন্যতম শিষ্য জলের গানের শিল্পী রাহুল আনন্দ বলেন, ‘গুরুজির অসম্ভব মনের জোর। অনেক দিন থেকে কিডনির সমস্যায় ভুগছেন। কিন্তু দেখে কিংবা কথা বলে তা বোঝার উপায় ছিল না। তিনি গান গেয়ে গেছেন। এই তো সেদিন হ‌ুমায়ূন আহমেদের জন্মদিন উপলক্ষেও টিভি চ্যানেলে তিনি গান গেয়েছেন, কথা বলেছেন।’ দীর্ঘদিন সংগীতের সঙ্গে জড়িত থাকলেও সবার কাছে বারী সিদ্দিকী শিল্পী হিসেবে পরিচিতি পান ১৯৯৯ সালে। ওই বছর হ‌ুমায়ূন আহমেদের ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’ ছবিটি মুক্তি পায়। এই ছবিতে তিনি ছয়টি গান গেয়েছেন। তাঁর জনপ্রিয় হওয়া গানগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘শুয়াচান পাখি আমি ডাকিতাছি তুমি ঘুমাইছ নাকি’, ‘পুবালি বাতাসে’, ‘আমার গায়ে যত দুঃখ সয়’, ‘ওলো ভাবিজান নাউ বাওয়া’, ‘মানুষ ধরো মানুষ ভজো’। এরপর তিনি চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক করেছেন। তাঁর গাওয়া গান নিয়ে বেরিয়েছে অডিও অ্যালবাম।...

ফাইনাল ফোরটি থেকে বাদ জেসিয়া

মিস ওয়ার্ল্ড ২০১৭ প্রতিযোগিতার সেমিফাইনালে ‘ফাইনাল ফোরটি’র সঙ্গে লড়তে হয়েছে ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ জেসিয়া ইসলামকে। কিন্তু শেষরক্ষা হলো না। সেমিফাইনাল থেকে বাদ পড়েছেন তিনি। আজ শনিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় চীনের সানাইয়া শহরে শুরু হবে ৬৭তম মিস ওয়ার্ল্ডের চূড়ান্ত অনুষ্ঠান। আড়াই ঘণ্টার এই অনুষ্ঠান ডিজাইন করছে বেইজিং রাইজ। উপস্থাপনা করবেন টিম ভিনসেন্ট, মেগান ইয়ং ও স্টিভ ডগলাস। নতুন মিস ওয়ার্ল্ডকে মুকুট পরিয়ে দেবেন বর্তমান বিশ্বসুন্দরী স্টেফানি দেল ভালে। চীনের সানাইয়া সিটি এরেনায় ৬৭তম মিস ওয়ার্ল্ড চূড়ান্ত অনুষ্ঠানের মঞ্চকে ঘিরে থাকবে কঠোর নিরাপত্তা। এরই মধ্যে দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন জেসিয়া ইসলাম। জানা গেছে, আগামীকাল রোববার ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেবেন জেসিয়া। ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ আয়োজনের আয়োজক প্রতিষ্ঠান অন্তর শোবিজের চেয়ারম্যান স্বপন চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘এবারই প্রথম মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ আয়োজনের মাধ্যমে আমরা মূল প্রতিযোগিতায় প্রতিযোগী পাঠিয়েছি। শুরুতেই ফাইনাল ফোরটিতে বাংলাদেশের প্রতিযোগী পৌঁছাতে পেরেছে, এটা খুবই ইতিবাচক দিক। আমরা আশা করছি, ভবিষ্যতে যাঁরা এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার স্বপ্ন দেখছেন, তাঁদের জন্য জেসিয়া অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবেন। তাঁরা তখন ফাইনাল টোয়েন্টিতে যাওয়ার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করবেন।’ আজ চূড়ান্ত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ‘৬৭তম মিস ওয়ার্ল্ড’ নির্বাচিত করবেন বিচারকেরা।...

আকাশে তারকা বিমান

তারকাদের আছে নানা রঙের শখ। কেউ শখে দ্বীপ কেনেন, কেউ নৌকা, কেউবা গাড়ি আবার কেউ কেনেন ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য বিমান। বিমানের মালিক কয়েকজন তারকার কথা থাকছে। ক্রুজের দামি বিমান ক্রুজের দামি বিমান মিশন ইম্পসিবল, জ্যাক রিচারসহ অনেক চলচ্চিত্রে বিমানের অ্যাকশন দৃশ্যে দামি দামি বিমান ধ্বংস করেছেন টম ক্রুজ। সেই টম ক্রুজ গালফস্ট্রিম ফোর-এসপি নামের একটি বিমানের মালিক। ক্রুজের বিমানের দাম শুনলে চমকে যেতে পারেন—মাত্র ৩ কোটি ৮০ লাখ ডলার। সেলিন ডিওনের বিমান-প্রেম সেলিন ডিওনের বিমান-প্রেম কানাডিয়ান গায়িকা সেলিন ডিওনের শখের একটি জেট আছে। বোমবারডিয়ার গ্লোবাল এক্সপ্রেস জেট মডেলের একটি বিমানের মালিক এই গায়িকা। গেল কয়েক বছর ধরে বিমানে চড়ে ইনস্টাগ্রামে ছবি দেওয়া শখে পরিণত হয়ে গেছে এই তারকার। বৈমানিক জোলি! বৈমানিক জোলি! হলিউড অভিনয়শিল্পী অ্যাঞ্জেলিনা জোলি সাইরাস এসআর ২২ মডেলের একটি জেট বিমানের মালিক। শুধু মালিকই নন, জোলি একজন লাইসেন্সধারী বৈমানিকও বটে। মাঝেমধ্যেই সন্তানদের নিয়ে নাকি জোলি আকাশে উড়তে পছন্দ করেন। বাচ্চাদের নিয়ে ককপিটে মাঝেমধ্যেই বসেন তিনি।...

পাঁচ মাসের গ্রাম

রাসমেলা দেখব বলে দুবলার চরের পথে পা বাড়িয়েছিলাম। খুলনা থেকে প্রায় ছয় ঘণ্টা লঞ্চে যাওয়ার পর চরে পৌঁছালাম ১ নভেম্বর। সুন্দরবন-লাগোয়া দুবলার চরের বালুতে পা ফেলার আগেই নাকে এল শুঁটকির গন্ধ। ঘণ্টাখানেক পর অবশ্য উৎকট গন্ধ নাক-সওয়া হয়ে গেল।মসজিদের কাজ তখনো চলছিলরাস উৎসব আয়োজনের ফাঁকেই জেলে গ্রাম ঘুরে বেড়ানো। অস্থায়ী এই গ্রামটি তখনো পুরোপুরি তৈরি হয়নি। ঘর তৈরির কাজ চলছে। কেউ কেউ বানাচ্ছেন মাছ শুকানো চাতাল, গড়ে উঠছে দোকান, হোটেল, উপাসনালয়সহ জীবনযাত্রার সবকিছুই। গ্রামের বাসিন্দারা এই চরে থাকবেন মাস পাঁচেক। এ সময় বসবাসের জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছু গড়ে নিচ্ছেন নিজেদের মতো। এবার মৌসুম শুরু হয়েছে ২৩ অক্টোবর, ইলিশ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পরদিন। দুবলার চরের মন্দিরচরের জেলে, মাছশ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা খুলনা, যশোর, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, ভোলাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে এসেছেন। এখানে সবাই যাঁর যাঁর কাজে ব্যস্ত, কথা বলার সময় নেই কারও যেন। ভোর থেকেই তুমুল ব্যস্ততা শুরু হয় তাঁদের। ট্রলারে মাছ ধরে নিয়ে আসেন জেলে। এরপর তা নদীর পানিতেই ধুয়ে আলাদা করা হয়। নানা জাতের মাছ আলাদা করার পর তা শ্রমিকেরা নিয়ে যান চাতালে। সেখানে মাছ কেটে প্রক্রিয়াজাত করে আলাদা চাতালে শুকাতে দেওয়া হয়। চার থেকে পাঁচ দিন লাগে মাছ শুকাতে। এরপর ব্যবসায়ীরা কিনে নিয়ে যান। মাছ ধরছেন জেলেরাকার্তিক চন্দ্র বিশ্বাস নামের এক শ্রমিক আটজনের দলের সঙ্গে এসেছেন। তাঁর বাড়ি খুলনার পাইকগাছায়। তাঁর কাছেই জানা গেল, প্রতি দলে ৮ থেকে ১০ জন করে থাকেন তাঁরা। গ্রামে জেলে, শ্রমিক ও ব্যবসায়ী মিলে প্রায় ১২ থেকে ১৫ হাজার মানুষ বসবাস করেন এই সময়টায়। প্রত্যেক জেলে এই পাঁচ মাসে ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা আয় করেন। ...

ক্রেতাকে বুঝেশুনে মালামাল কিনতে হবে

একটি ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে রড ও সিমেন্টের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। ভালো মানের রডের কোনো বিকল্প নেই। দেশে উৎপাদিত রড ও সিমেন্টের গুণগত মান অনেক ভালো। তারপরও ক্রেতাকে ভবন নির্মাণের মালামাল বুঝেশুনে কিনতে হবে। প্রয়োজনে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক অধ্যাপক শামিম বসুনিয়া প্রথম আলোকে এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, মানুষ কীভাবে ভালো-মন্দ বুঝবে, তার সহজ উপায় আছে। যেমন যে রড চাপ পড়লে ভাঙে না, বরং পরিমাণমতো লম্বা হয়, এমন রড ভালো। বহুতল ভবনে এমন রডের ব্যবহার দরকার। অন্যথায় ভূমিকম্পের সামান্য ঝাঁকিতেই ভবন ধসে পড়তে পারে। শামিম বলেন, মজবুত ভবন নির্মাণে রড, সিমেন্ট, কংক্রিট ও বালু—এসব উপাদান ভালো করে মেশাতে হয়। মেশানো যত ভালো হবে, ভবনও তত মজবুত হবে। ঢালাইয়ের সময় এটা খেয়াল রাখা দরকার। এ ছাড়া ঢালাইয়ের পর নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ভবনের ছাদ ও দেয়ালে পানি দিতে হয়। তা করা না হলে ভূমিকম্পে ভবনধসের আশঙ্কা থাকে। তাই সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানকে আইন মেনে চলতে হবে। পরে যে কাজের জন্য ভবন তৈরি করা হয়েছে, সেই কাজের জন্য নিরাপদ কি না, তা নিশ্চিত করার সনদ (অকুপেন্সি সার্টিফিকেট) নিতে হবে। এই প্রকৌশলী বলেন, স্থাপনা বা বহুতল ভবন নির্মাণ করতে হলে যথাযথভাবে ‘বিল্ডিং কোড’ মানার বিধান আছে। এই কোডে সব ধরনের ভবনে আলো-বাতাস চলাচল ও নিরাপত্তাব্যবস্থা, ভারবহনের ক্ষমতা, নির্মাণপ্রক্রিয়া ইত্যাদি সম্পর্কে বিস্তারিত নীতিমালা উল্লেখ করা আছে। কিন্তু সরকারের সঠিক নজরদারির অভাবে মানুষ তা মানছে না। শহর-গ্রামে যে যার মতো করে ভবন নির্মাণ করছে। ঢাকাসহ দেশের বড় শহরগুলোতে এই প্রবণতা বেশি। এতে বড় ধরনের ভূমিকম্প হলে ভবনধসের আশঙ্কা থাকে। তাই এই বিষয়টিতে সরকারকে গুরুত্ব দিতে হবে। প্রয়োজনে আইন প্রয়োগ করতে হবে। শামিম বসুনিয়া বলেন, ‘বছরখানেক আগে দেশে কয়েকটি বড় ভূমিকম্প হয়েছিল। তখন “বিল্ডিং কোড” নিয়ে হইচই শুরু হয়। ভূমিকম্প-পরবর্তী করণীয় নিয়েও নানা পদক্ষেপ ও পরিকল্পনা নেয় সরকার। কিন্তু ভূমিকম্পে যাতে আমাদের কোনো ক্ষয়ক্ষতি না হয়, এই দিকে কারও খেয়াল নেই। পুরান ঢাকার নবাবপুরে ভূমিকম্পে একসঙ্গে চার থেকে পাঁচটি বহুতল ভবন ধসে পড়লে পরবর্তী সময়ে উদ্ধারসক্ষমতা আমাদের নেই। কারণ, এই এলাকা অনেক ঘনবসতি। একটি ভবনের সঙ্গে আরেকটি লাগোয়া। সড়কগুলোও অনেক সরু। তাই উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করা অনেক কঠিন হবে।’ শামিম বসুনিয়ার মতে, একটি বহুতল ভবন নির্মাণের আগে একজন অভিজ্ঞ প্রকৌশলী নিয়োগ দিতে হবে। তাঁকে দিয়ে ভবনের নকশা তৈরি ও যথাযথ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করতে হবে। স্তম্ভের সঙ্গে ভবনের বিমগুলো মজবুত করে বাঁধতে বা সংযোগ দিতে হবে। কারণ, ভূমিকম্পের ঝাঁকুনিতে বিম ও স্তম্ভের সংযোগে ত্রুটির কারণেই অধিকাংশ ভবন ধসে পড়ে। এর সঙ্গে কংক্রিট ও বালু ভালোও হওয়া দরকার। তাই একজন ভবনমালিকের দায়িত্ব বিল্ডিং কোড মেনে ভবন নির্মাণ করা।...

অঞ্চল ও সড়কের সংযুক্তি উন্নয়নে চীনা কোম্পানিগুলো উচ্চ প্রযুক্তি যুক্ত করেছে

তথ্য নেটওয়ার্কের বিস্তার এদিকে চীনের রাজধানীতে একটি উচ্চ-প্রযুক্তি কেন্দ্র গড়ে তোলা বিশেষ করে জোংগুয়ানকুন সমর্থিত চীনা কোম্পানিগুলো, অন্যান্য দেশের সঙ্গে তাদের টেলিকমিউনিকেশন এবং তথ্য প্রযুক্তি দক্ষতা বিনিময়ের চেষ্টা করছে। ২০১৫ সালে, চীনের দাতাং টেলিকম ইকুয়েডোরের ইয়াচায় সিটি অব নলেজে সঙ্গে একটি ফোর জি টিডি-এলটিই ল্যাবরেটরি নির্মাণের জন্য সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করে। ফোর জি টিডি-এলটিই চীনের নিজস্ব তৈরি চতুর্থ প্রজন্মের টেলিযোগাযোগ প্রযুক্তি। সর্বশেষ জিএসএমএ ইনটেলিজেন্স ডাটায় দেখা যায় যে যে ল্যাটিন আমেরিকাতে ২০১৪ সালে ফোর জি সংযোগের সংখ্যা দ্বিগুণ বেড়েছে, আগের বছরে যার সংখ্যা ছিল ৫১ মিলিয়ন, এটি বাজারের দ্রুত চাহিদা বৃদ্ধিরই ইঙ্গিত দেয়। চুক্তি অনুযায়ী ডেটং ইকোডোরিয়ানদের ফোর জি টেলিকমিউনিকেশন নেটওয়ার্কের জন্য প্রস্ত্তত করতে দেশটির পেশাদার দলকে প্রশিক্ষণ দিয়ে তৈরি করতে যাচ্ছে। এছাড়াও, টেলিযোগাযোগ বাহক, বিক্রেতারা, পরিষেবা সরবরাহকারীদের এবং কম্পোনেন্ট নির্মাতাদের জন্য কাস্টমাইজড সমাধান দেয়ায় নিয়োজিত বেইজিং জিনবেই টেকনোলোজি গ্রুপ সামপ্রতিক বছরগুলিতে কম্বোডিয়া, রাশিয়া, ইউক্রেন এবং তানজানিয়ায় পাবলিক নেটওয়ার্কে প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি প্রদানকারী হিসেবে টেলিকমিউনিকেশন অপারেটরদের সাথে সহযোগিতা করেছে। এছাড়াও, বেইজিংভিত্তিক টিভি নেটওয়ার্ক প্রদানকারী সিদা টাইমস-এখন আফ্রিকাতে দ্রুত ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল টিভি অপারেটর হয়ে উঠেছে। এটি এখন কেনিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো আফ্রিকার ২০টি দেশে ব্যবসা করছে এবং এর গ্রাহক সংখ্যা আট মিলিয়নেরও বেশি। ই-কমার্স ও ফিন্যান্সের জন্য নতুন ভোর মোবাইল টেলিকমিউনিকেশন টেকনোলজি ব্যাপকভাবে ব্যবহার করে, ইলেক্ট্রনিক বাণিজ্যে নতুন যুগের সূচনা হয়েছে এবং কিছু চীনা সংস্থা এক্ষেত্রে এগিয়ে চলেছে। চীনের ই-কমার্স জায়ান্ট আলিবাবা গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা জ্যাক মা, এ বছরের শুরুর দিকে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় একটি ই-কমার্স হাব প্রতিষ্ঠার জন্য একটি প্রস্তাব করেছেন। পরিকল্পনা অনুসারে আলিবাবা দেশীয় ক্ষদ্র ও মাঝারি আকারের উদ্যোগ (এসএমই) এবং আঞ্চলিক মুক্ত বাণিজ্য বৃদ্ধির জন্য দেশে একটি ডিজিটাল মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল উন্নয়নে মালয়েশিয়া সরকারের সাথে কাজ করতে চায়। এটি ইলেক্ট্রনিক ওয়ার্ল্ড ট্রেড পস্ন্যাটফর্ম (ইডবিস্নউটিপি) নির্মাণের ধারণা প্রচারের জন্য মা-এর প্রচেষ্টার অংশ। তাং জু শেন হলেন মালয়েশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় মেলাকায় অবস্থিত একটি তাৎক্ষণিক কফি উৎপাদন ফার্মের বিক্রয় পরিচালক, যার নাম আক চেং কফি। এই ব্যবসাটির শুরু হয় ১৯৫৫ সালে, এটি সবচেয়ে জনপ্রিয় স্থানীয় কফি ব্র্যান্ডের একটি। আইক চেয়ং কফির চীন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার পাশাপাশি অন্যান্য ইউরোপীয় এবং এশীয় ডজনখানেক দেশে এর পণ্য বিক্রি করে। তাং অভিযোগ করেছেন যে সামপ্রতিক বছরগুলিতে বাণিজ্য প্রতিরক্ষাবাদ তার কোম্পানির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে, কিছু দেশে কফি পণ্যের ওপর ৩০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। তিনি বিশ্বাস করেন যে ইলেক্ট্রনিক ওয়ার্ল্ড ট্রেড পস্ন্যাটফর্ম (ইডবিস্নউটিপি) ইন্টারনেটের এই যুগোপযোগী ট্রেডিং সিস্টেম বিশ্বব্যাপী চালু করতে পারে, যা উন্নয়নশীল অর্থনীতি এবং ছোট ও মাঝারি আকারের উদ্যোগ (এসএমই) এর জন্য বিশ্ব বাজার সহজতর করে তুলতে সক্ষম হবে। এছাড়াও বেইজিং-এর জোনগুয়ানকান, ইন্টারনেট আন্তঃসীমান্ত-সীমান্ত বাণিজ্য এবং বড় ডাটা সংস্থা আইজেডপি টেকনোলজিস, আধুনিক যুগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ইউরোপ থেকে আফ্রিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যের আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ীদেরকে আরও চৌকষ সেবা দানের জন্য ব্যবহার করছে। কোম্পানি খুব কম ফি’র প্রতিশ্রম্নতি দিয়ে প্রধানত চীনা ইউয়ান ও স্থানীয় মদ্রায় এবং ভিসা পেমেন্ট কার্ডের মাধ্যমে সরাসরি পেমেন্ট প্রদানের উপর জোর দিয়ে থাকে। আইজেডপি ডাটা মাইনিংএ সক্ষম একটি বিগ ডাটা পস্নাটফর্মও স্থাপন করেছে। অভিন্ন উন্নয়নের পথে প্রাচীন সিল্ক রোড রুটে এশিয়া ও ইউরোপের সাথে সংযুক্ত একটি বাণিজ্য ও নেটওয়ার্ক অবকাঠামো নির্মাণের লক্ষ্যে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং এর ২০১৩ সালে গৃহীত সিল্ক রোড অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং ২১ শতকের মেরিটাইম সিল্ক রোড নিয়ে গঠিত অঞ্চল ও সড়কের সংযুক্তি উদ্যোগ নেন। এ পর্যন্ত, চীন এই কর্মসূচিতে ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি বিনিয়োগ করেছে। এটি ১০০টিরও বেশি দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সমর্থন লাভ করেছে এবং ৪০টিরও বেশি সদস্য চীনের সহযোগিতার চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। উচ্চ প্রযুক্তির হাব উন্নয়ন ও পরিচালনার নিয়োজিত সরকারের প্রশাসনিক অঙ্গ জোনগুয়ানকুন প্রশাসনিক কমিটি বছরের পর বছর ধরে চীনা প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর অঞ্চল ও সড়কের সংযুক্তি উদ্যোগের আওতায় বিদেশি বাজারে প্রবেশ উৎসাহিতকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। কমিটির আন্তর্জাতিক ব্যবসা পরিচালক জেং জিয়াডং, সিনহুয়াকে বলেন, সুষম বিজয় অর্জনের জন্য প্রযুক্তিগত সহযোগিতা তার প্রতিষ্ঠানের অন্যতম অগ্রাধিকার। জিয়োমি ইন্দোনেশিয়ার সেল ফোন বিক্রি করতো, কোম্পানিটি এখন সেখানে একটি কারখানা নির্মাণ করছে। এটি ২০১৭ সালের হিসাবে দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশটির স্মার্টফোন পণ্যের ১০০ শতাংশ স্থানীয়করণের পরিকল্পনা করেছে। এর বিনিয়োগের পদক্ষেপ স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য প্রচুর কাজের সুযোগ করে দেবে। ইকুয়েডোরে, ডাটং কোম্পানির গৃহীত কর্মসূচি কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দেশটিকে সহায়তা করবে এবং এর শিল্পের উন্নয়নে সাহাঘ্য করবে। পরিশেষে, এই প্রকল্পটি দেশটির এবং দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের টেলিযোগাযোগ উন্নয়নের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। সুইজারল্যান্ডের দাভোসের স্কিইং রিসর্টে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে তার বক্তৃতায়, জি বলেন, এটি চীনের নেয়া উদ্যোগ হলেও এর সুফল সীমান্ত অতিক্রম করে বিস্তার লাভ করেছে। বস্টন কনসাল্টিং গ্রুপ (বিসিজি)-র চেয়ারম্যান হান্স-পল বুয়ের্কনার চলতি বছরের শুরুতে এই ফোরামে বলেন, আন্তঃ সংযোগের অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে, অঞ্চল ও সড়কের সংযুক্তি উদ্যোগ অনেক দেশে অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য একটি ভালো ভিত্তি তৈরি করেছে। বুয়ের্কনার বলেন, বিশেষ করে, পাশাপাশি আরও বেশি সংখ্যক ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় এটি আরো বেশি সংখ্যক মানুষকে একসঙ্গে নিয়ে আসবে এবং আরো বেশি সংখ্যক চাকরির আরও সুযোগ করে দেবে।...

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি ইউনিটের ফল প্রকাশ

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৭-২০১৮ শিক্ষাবর্ষে প্রথম বর্ষে অনুষ্ঠিত তিনটি ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার মধ্যে দুটি ইউনিটের ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। আজ সোমবার দুপুরে ‘বি’ ইউনিটের অধীন কলা ও মানবিক স্কুল, আইন স্কুল এবং চারুকলা ইনস্টিটিউটের ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল ও গতকাল রোববার সন্ধ্যায় ‘সি’ ইউনিটের অধীন ব্যবস্থাপনা ও ব্যবসায় প্রশাসন স্কুল এবং সমাজবিজ্ঞান স্কুলের ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। দুটি ইউনিটের বিস্তারিত ফল খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট (www.ku.ac.bd এবং kuadmission.online ) এ পাওয়া যাচ্ছে। বাকি ‘এ’ ইউনিটের অধীন বিজ্ঞান প্রকৌশল ও প্রযুক্তিবিদ্যা স্কুল এবং জীববিজ্ঞান স্কুলের ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল দু-এক দিনের মধ্যে প্রকাশিত হবে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। গত ১১ নভেম্বর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক দিনেই তিনটি ইউনিটেরই ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।...

এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে আগুন দেয় ছাত্রলীগ

সিলেটের এমসি কলেজের ঐতিহ্যবাহী ছাত্রাবাসে অগ্নিসংযোগকারী হিসেবে ২৯ জনকে চিহ্নিত করেছে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি। এঁদের অধিকাংশই ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী। বাকিরাও সরকারি দলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তাঁদের সবার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। ২০১২ সালের ৮ জুলাই সন্ধ্যায় ছাত্রশিবির ও ছাত্রলীগের সংঘর্ষের জের ধরে কলেজের ঐতিহ্যবাহী ছাত্রাবাসে আগুন দেওয়া হয়। এতে ৪২টি কক্ষ ভস্মীভূত হয়। ঘটনার পাঁচ বছর পর গত বুধবার সিলেটের মহানগর বিচারিক হাকিম আদালতে বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। পরদিন বৃহস্পতিবার এ প্রতিবেদনের শুনানি শেষে সিলেটের অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর বিচারিক হাকিম উম্মে সরাবন তহুরা দায়ী ২৯ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী মোহাম্মদ আলী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিল করতে আদালতের নির্দেশনা ২৯ জনের ঠিকানা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট থানায় কাল রোববার পাঠানো হবে বলে তিনি জানান। বিচার বিভাগীয় তদন্তে যে ২৯ জনকে দায়ী করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে ওই সময় সিলেট সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও বর্তমানে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক দেবাংশু দাস মিঠুর নাম রয়েছে সবার আগে। এরপর পর্যায়ক্রমে দায়ী করা হয়েছে জেলা ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত সভাপতি পংকজ পুরকায়স্থ, আবু সরকার (বহিরাগত, শ্রমিক লীগের সাবেক সভাপতি), জাহাঙ্গীর আলম (জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক), মৃদুল কান্তি সরকার, কামরুল ইসলাম, আলমগীর হোসেন (ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ও বর্তমানে আইনজীবী ও বিশ্বনাথ উপজেলার রামপাশা ইউপি চেয়ারম্যান), বাবলা, মো. আতিকুর রহমান, লায়েক আহম্মেদ, সিদ্দিক আহম্মেদ ইউসুফ, জহিরুল ইসলাম, আক্তারুল ইসলাম, জসিম উদ্দিন, আসাদুজ্জামান শাহিন, মোহাম্মদ বিন মামুন বুলবুল, আউলাদ, আছরাফ আহমেদ শিপন, নজরুল ইসলাম, অলিউল্লাহ ওরফে ওলিউর রহমান, খুরশেদ আলম, বাছিদ ওরফে আবদুল বাছিদ, আবদুস সালাম, ইমতিয়াজ রফিক চৌধুরী, আবদুল্লাহ ফারুক, কয়েছ ওরফে কয়েছুজ্জামান তালুকদার, আবু রেহান, রুবেল ও জ্যোতির্ময় দাস সৌরভকে। ঘটনাক্রম পাঁচ বছর আগে ওই ছাত্রাবাস পোড়ানোর ঘটনায় দেশে-বিদেশে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ও শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এমসি কলেজের ছাত্র হওয়ায় ঘটনার পরপরই তাঁরা সরেজমিন পরিদর্শন করে অগ্নিসংযোগকারীদের শনাক্ত করার নির্দেশ দেন। পোড়া ছাত্রাবাস পরিদর্শনে গিয়ে কেঁদে ফেলেন শিক্ষামন্ত্রী। সিলেট নগরের টিলাগড় এলাকায় ১৮৯২ সালে রাজা গিরিশচন্দ্র রায় তাঁর পিতামহ মুরারি চাঁদের (এমসি) নামে এই কলেজ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ব্রিটিশ আমলে ১৯২০ সালে ৬০০ শতক জায়গার ওপর আসাম ঘরানার স্থাপত্যরীতির সেমিপাকা কাঠামোর ছাত্রাবাস নির্মাণ করা হয়েছিল। এ স্থাপত্যরীতির ফলে ছাত্রাবাসটি দেশে-বিদেশে ‘হেরিটেজ’ হিসেবে সমাদৃত ছিল। অবশ্য ঘটনার দুই বছরের মাথায় অবিকল আগের কাঠামোয় ছাত্রাবাস পুনর্নির্মাণ করে শিক্ষাপ্রকৌশল অধিদপ্তর। বর্তমানে ছাত্রাবাসে থাকছেন ছাত্ররা। অগ্নিকাণ্ডের পরপরই ছাত্রাবাসে আগুন দেওয়ার জন্য ছাত্রলীগ ও ছাত্রশিবির পরস্পরকে দায়ী করেছিল। ছাত্রাবাস থেকে ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের তাড়াতে ছাত্রলীগের ছেলেরা সেখানে আগুন লাগিয়ে দেন বলে অভিযোগ ছিল শিবিরের। আবার ছাত্রলীগের পাল্টা অভিযোগ ছিল, ছাত্রাবাস ছেড়ে যাওয়ার সময় শিবিরই আগুন দিয়ে পালিয়েছে। ছাত্রাবাস যখন আগুনে পুড়ছিল, তখন পাশ দিয়ে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করছিলেন। এই নিয়ে প্রথম সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছিল প্রথম আলোয়। ২০১২ সালের ১৫ জুলাই প্রথম আলোর প্রথম পাতায় ‘বিক্ষোভকারীরাই আগুন দিয়েছে ছাত্রাবাসে!’ শিরোনামে প্রতিবেদন ছাপা হলে এ নিয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ওই অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ছাত্রাবাসটির তত্ত্বাবধায়ক বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে নগরের শাহপরান থানায় মামলা করেন। পরে ছাত্রলীগের নেতা দেবাংশু দাশ মিঠু, পঙ্কজ পুরকায়স্থসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে শিবিরের দুই কর্মী আদালতে পৃথক দুটি নালিশি মামলা করেন। আদালত তিনটি অভিযোগ একীভূত করে তদন্তের নির্দেশ দেন পুলিশকে। অগ্নিসংযোগকারী শনাক্ত করতে শাহপরান থানার পুলিশ ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) দুই দফা তদন্তের পর সর্বশেষ পুলিশের বিশেষায়িত বাহিনী পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) অধিকতর তদন্ত শুরু করে। পিবিআই তদন্ত শেষে গত ৩১ মে সন্দেহভাজন অগ্নিসংযোগকারীদের (ছাত্রলীগের নেতা) বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ না পেয়ে তাঁদের অব্যাহতির সুপারিশ করে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন (ফাইনাল রিপোর্ট) দেয়। চূড়ান্ত প্রতিবেদনের শুনানি শেষে আদালত বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিলে মুখ্য মহানগর বিচারিক হাকিম মো. সাইফুজ্জামান হিরোর নেতৃত্বে বিচার বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়। আদালতসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিচার বিভাগীয় তদন্ত কার্যক্রমের শুরুতে ২০ জুন সর্বশেষ তদন্তকারী সংস্থা হিসেবে পিবিআই সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সারোয়ার জাহানের সাক্ষ্য নেওয়া হয়। এর পরে পর্যায়ক্রমে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাক্ষ্য নেওয়া হয়। এ ছাড়া অগ্নিকাণ্ডের আগে ছাত্রলীগ ও ছাত্রিশিবির কর্মীদের মধ্যে ফুটবল খেলা নিয়ে বচসার জের ধরে ছাত্রলীগের যে কর্মী শিবির কর্মীদের হাতে আহত হয়েছিলেন, তাঁরও সাক্ষ্য রয়েছে। তদন্তের সাক্ষ্য পর্যালোচনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি উল্লেখ করেছে, ছাত্রাবাস পোড়ানোর ঘটনায় মামলার বাদীসহ ইতিপূর্বে গৃহীত জবানবন্দি প্রদানকারীদের পুনরায় জবানবন্দি গ্রহণের জন্য নোটিশ করা হলে মোট পাঁচজন সাক্ষী উপস্থিত হয়ে জবানবন্দি প্রদান করেন। এ সম্পর্কে পর্যালোচনায় বলা হয়, সাক্ষীদের মৌখিক সাক্ষ্য, ভিডিও ফুটেজ, স্থিরচিত্র, জেলা প্রশাসন গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পর্যালোচনায় এটাই প্রতীয়মান হয় যে এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ছাত্রলীগ ও ছাত্রশিবিরের দ্বন্দ্বের কারণেই সংঘটিত হয়। প্রথমত ছাত্রলীগের কর্মী উজ্জ্বল আহমদকে ছাত্রশিবিরের কর্মীরা গুরুতর জখম করায় তাৎক্ষণিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। তৎপ্রেক্ষিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। মৌখিক ও দালিলিক সাক্ষ্য বিচার বিশ্লেষণে এটা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ প্রথম আলোকে বলেন, এঁরা এখন ছাত্রলীগের কেউ না। যাঁদের নাম এসেছে পাঁচ বছর আগেই তাঁদের অনেকে সংগঠন থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন। আর কেউ সাবেক হয়ে গেছেন। এঁদের দায়ভার সংগঠন নিতে পারে না।...

শীতল হাওয়ায় সারা বেলা...

শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। দীর্ঘ সময় শীতাতপনিয়ন্ত্রিত ঘরে খানিকটা হয়তো স্বস্তিতে থাকছেন আপনি। তবে এতে কিন্তু আপনার ত্বকে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। স্বাভাবিক আর্দ্রতা হারিয়ে গিয়ে ত্বকে শুষ্ক ভাব চলে আসে। এর স্বাভাবিক কোমলতাও নষ্ট হতে পারে। শীতের আগে থেকে হয়তো বাতাসে শীতল ভাব কমিয়ে দেওয়া হয়। তারপরও এ সময় শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের সঙ্গে সারা দিন কাটালে ত্বকের জন্য বাড়তি কিছু কাজ যত্ন নিয়ে করতে হবে। বিশেষজ্ঞদের অন্তত সেটাই মত। ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চর্মরোগ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এস এম বখতিয়ার কামাল বলেন, ‘শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের ব্যবহারে ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি সহজেই ত্বকে বয়সের ছাপ পড়তে দেখা যায়। অল্প বয়সেই বলিরেখা হতে দেখা যায়। এ ছাড়া যাঁদের ত্বকে একজিমা, সোরিয়াসিসের মতো রোগ রয়েছে, তাঁদের বেলায় এসব রোগের উপসর্গ বেড়ে যেতে পারে।...

ক্রেতাকে বুঝেশুনে মালামাল কিনতে হবে

একটি ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে রড ও সিমেন্টের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। ভালো মানের রডের কোনো বিকল্প নেই। দেশে উৎপাদিত রড ও সিমেন্টের গুণগত মান অনেক ভালো। তারপরও ক্রেতাকে ভবন নির্মাণের মালামাল বুঝেশুনে কিনতে হবে। প্রয়োজনে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক অধ্যাপক শামিম বসুনিয়া প্রথম আলোকে এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, মানুষ কীভাবে ভালো-মন্দ বুঝবে, তার সহজ উপায় আছে। যেমন যে রড চাপ পড়লে ভাঙে না, বরং পরিমাণমতো লম্বা হয়, এমন রড ভালো। বহুতল ভবনে এমন রডের ব্যবহার দরকার। অন্যথায় ভূমিকম্পের সামান্য ঝাঁকিতেই ভবন ধসে পড়তে পারে। শামিম বলেন, মজবুত ভবন নির্মাণে রড, সিমেন্ট, কংক্রিট ও বালু—এসব উপাদান ভালো করে মেশাতে হয়। মেশানো যত ভালো হবে, ভবনও তত মজবুত হবে। ঢালাইয়ের সময় এটা খেয়াল রাখা দরকার। এ ছাড়া ঢালাইয়ের পর নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ভবনের ছাদ ও দেয়ালে পানি দিতে হয়। তা করা না হলে ভূমিকম্পে ভবনধসের আশঙ্কা থাকে। তাই সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানকে আইন মেনে চলতে হবে। পরে যে কাজের জন্য ভবন তৈরি করা হয়েছে, সেই কাজের জন্য নিরাপদ কি না, তা নিশ্চিত করার সনদ (অকুপেন্সি সার্টিফিকেট) নিতে হবে। এই প্রকৌশলী বলেন, স্থাপনা বা বহুতল ভবন নির্মাণ করতে হলে যথাযথভাবে ‘বিল্ডিং কোড’ মানার বিধান আছে। এই কোডে সব ধরনের ভবনে আলো-বাতাস চলাচল ও নিরাপত্তাব্যবস্থা, ভারবহনের ক্ষমতা, নির্মাণপ্রক্রিয়া ইত্যাদি সম্পর্কে বিস্তারিত নীতিমালা উল্লেখ করা আছে। কিন্তু সরকারের সঠিক নজরদারির অভাবে মানুষ তা মানছে না। শহর-গ্রামে যে যার মতো করে ভবন নির্মাণ করছে। ঢাকাসহ দেশের বড় শহরগুলোতে এই প্রবণতা বেশি। এতে বড় ধরনের ভূমিকম্প হলে ভবনধসের আশঙ্কা থাকে। তাই এই বিষয়টিতে সরকারকে গুরুত্ব দিতে হবে। প্রয়োজনে আইন প্রয়োগ করতে হবে। শামিম বসুনিয়া বলেন, ‘বছরখানেক আগে দেশে কয়েকটি বড় ভূমিকম্প হয়েছিল। তখন “বিল্ডিং কোড” নিয়ে হইচই শুরু হয়। ভূমিকম্প-পরবর্তী করণীয় নিয়েও নানা পদক্ষেপ ও পরিকল্পনা নেয় সরকার। কিন্তু ভূমিকম্পে যাতে আমাদের কোনো ক্ষয়ক্ষতি না হয়, এই দিকে কারও খেয়াল নেই। পুরান ঢাকার নবাবপুরে ভূমিকম্পে একসঙ্গে চার থেকে পাঁচটি বহুতল ভবন ধসে পড়লে পরবর্তী সময়ে উদ্ধারসক্ষমতা আমাদের নেই। কারণ, এই এলাকা অনেক ঘনবসতি। একটি ভবনের সঙ্গে আরেকটি লাগোয়া। সড়কগুলোও অনেক সরু। তাই উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করা অনেক কঠিন হবে।’ শামিম বসুনিয়ার মতে, একটি বহুতল ভবন নির্মাণের আগে একজন অভিজ্ঞ প্রকৌশলী নিয়োগ দিতে হবে। তাঁকে দিয়ে ভবনের নকশা তৈরি ও যথাযথ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করতে হবে। স্তম্ভের সঙ্গে ভবনের বিমগুলো মজবুত করে বাঁধতে বা সংযোগ দিতে হবে। কারণ, ভূমিকম্পের ঝাঁকুনিতে বিম ও স্তম্ভের সংযোগে ত্রুটির কারণেই অধিকাংশ ভবন ধসে পড়ে। এর সঙ্গে কংক্রিট ও বালু ভালোও হওয়া দরকার। তাই একজন ভবনমালিকের দায়িত্ব বিল্ডিং কোড মেনে ভবন নির্মাণ করা।...

দেশের মতো আমেরিকায়ও উদ্যোক্তা শাহ নেওয়াজ

সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন নিউইয়র্কের ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতা জেবিবিএর জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি শাহ নেওয়াজ। শিল্প উদ্যোক্তা হিসেবে একাধিক শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন বাংলাদেশে। আমেরিকায় এসেও একই পথ অনুসরণ করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও কমিউনিটি সেবায় কাজ করছেন। ২০০৫ সালে আমেরিকায় আসেন শাহ নেওয়াজ। এখানে শুরু হয় নতুন জীবনসংগ্রাম। নানা চড়াই উৎরাই পেরিয়ে একাধিক প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। দেশের সেরা বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে মাস্টার্স, আইবিএ থেকে এমবিএ এবং দ্য ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট থেকে পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন ডিপ্লোমা ইন পার্সোনাল ম্যানেজমেন্টে ডিগ্রি লাভ করেন। অধ্যয়ন শেষে বাংলাদেশে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো কোম্পানিসহ একাধিক বহুজাতিক কোম্পানি ও শিল্প প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে উদ্যোক্তা হিসেবে ঢাকায় তৈরি করেন তৈরি পোশাক কারখানা ভেনাস গ্রুপ ইউএসএ মোড লিমিটেড। ক্রেতাদের হাতে উন্নতমানের পণ্য সহজে পৌঁছানোর জন্য সাদিয়া শপিং মল প্রতিষ্ঠা করেন। ২০০৭ সাল থেকে কমিউনিটি সেবায় ভিন্ন কমিউনিটি ও বাংলাদেশিদের জন্য নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে চালু করেন এনওয়াই ইনস্যুরেন্স। পাশাপাশি চালু করেন হোমকেয়ার ও বেইজ সার্ভিস সেবা। এসব প্রতিষ্ঠানে তিনি ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন পদে কর্মরত আছেন ১৪ জন কর্মচারী । এদিকে শাহ নেওয়াজ একাধিক সামাজিক প্রতিষ্ঠানেরও নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনি একাধারে নিউইয়র্ক বাংলাদেশ লায়ন্স ক্লাবের প্রেসিডেন্ট, একাধিক পথ মেলার উদ্যোক্তা, এ ছাড়া অসংখ্য সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। বর্তমানে তিনি বাঙালি অধ্যুষিত জ্যাকসন হাইটসে ব্যবসায়ীদের জনপ্রিয় সংগঠন জ্যাকসন হাইটস বিজনেস অ্যাসোসিয়েশনের (জেবিবিএ) নির্বাচিত জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি। ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে জেবিবিএর নির্বাচন হবে। সেই নির্বাচনে তিনি সভাপতি পদপ্রার্থী। গতবারের নির্বাচনে তিনি সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন।...

ক্রেতাকে বুঝেশুনে মালামাল কিনতে হবে

একটি ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে রড ও সিমেন্টের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। ভালো মানের রডের কোনো বিকল্প নেই। দেশে উৎপাদিত রড ও সিমেন্টের গুণগত মান অনেক ভালো। তারপরও ক্রেতাকে ভবন নির্মাণের মালামাল বুঝেশুনে কিনতে হবে। প্রয়োজনে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক অধ্যাপক শামিম বসুনিয়া প্রথম আলোকে এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, মানুষ কীভাবে ভালো-মন্দ বুঝবে, তার সহজ উপায় আছে। যেমন যে রড চাপ পড়লে ভাঙে না, বরং পরিমাণমতো লম্বা হয়, এমন রড ভালো। বহুতল ভবনে এমন রডের ব্যবহার দরকার। অন্যথায় ভূমিকম্পের সামান্য ঝাঁকিতেই ভবন ধসে পড়তে পারে। শামিম বলেন, মজবুত ভবন নির্মাণে রড, সিমেন্ট, কংক্রিট ও বালু—এসব উপাদান ভালো করে মেশাতে হয়। মেশানো যত ভালো হবে, ভবনও তত মজবুত হবে। ঢালাইয়ের সময় এটা খেয়াল রাখা দরকার। এ ছাড়া ঢালাইয়ের পর নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ভবনের ছাদ ও দেয়ালে পানি দিতে হয়। তা করা না হলে ভূমিকম্পে ভবনধসের আশঙ্কা থাকে। তাই সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানকে আইন মেনে চলতে হবে। পরে যে কাজের জন্য ভবন তৈরি করা হয়েছে, সেই কাজের জন্য নিরাপদ কি না, তা নিশ্চিত করার সনদ (অকুপেন্সি সার্টিফিকেট) নিতে হবে। এই প্রকৌশলী বলেন, স্থাপনা বা বহুতল ভবন নির্মাণ করতে হলে যথাযথভাবে ‘বিল্ডিং কোড’ মানার বিধান আছে। এই কোডে সব ধরনের ভবনে আলো-বাতাস চলাচল ও নিরাপত্তাব্যবস্থা, ভারবহনের ক্ষমতা, নির্মাণপ্রক্রিয়া ইত্যাদি সম্পর্কে বিস্তারিত নীতিমালা উল্লেখ করা আছে। কিন্তু সরকারের সঠিক নজরদারির অভাবে মানুষ তা মানছে না। শহর-গ্রামে যে যার মতো করে ভবন নির্মাণ করছে। ঢাকাসহ দেশের বড় শহরগুলোতে এই প্রবণতা বেশি। এতে বড় ধরনের ভূমিকম্প হলে ভবনধসের আশঙ্কা থাকে। তাই এই বিষয়টিতে সরকারকে গুরুত্ব দিতে হবে। প্রয়োজনে আইন প্রয়োগ করতে হবে। শামিম বসুনিয়া বলেন, ‘বছরখানেক আগে দেশে কয়েকটি বড় ভূমিকম্প হয়েছিল। তখন “বিল্ডিং কোড” নিয়ে হইচই শুরু হয়। ভূমিকম্প-পরবর্তী করণীয় নিয়েও নানা পদক্ষেপ ও পরিকল্পনা নেয় সরকার। কিন্তু ভূমিকম্পে যাতে আমাদের কোনো ক্ষয়ক্ষতি না হয়, এই দিকে কারও খেয়াল নেই। পুরান ঢাকার নবাবপুরে ভূমিকম্পে একসঙ্গে চার থেকে পাঁচটি বহুতল ভবন ধসে পড়লে পরবর্তী সময়ে উদ্ধারসক্ষমতা আমাদের নেই। কারণ, এই এলাকা অনেক ঘনবসতি। একটি ভবনের সঙ্গে আরেকটি লাগোয়া। সড়কগুলোও অনেক সরু। তাই উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করা অনেক কঠিন হবে।’ শামিম বসুনিয়ার মতে, একটি বহুতল ভবন নির্মাণের আগে একজন অভিজ্ঞ প্রকৌশলী নিয়োগ দিতে হবে। তাঁকে দিয়ে ভবনের নকশা তৈরি ও যথাযথ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করতে হবে। স্তম্ভের সঙ্গে ভবনের বিমগুলো মজবুত করে বাঁধতে বা সংযোগ দিতে হবে। কারণ, ভূমিকম্পের ঝাঁকুনিতে বিম ও স্তম্ভের সংযোগে ত্রুটির কারণেই অধিকাংশ ভবন ধসে পড়ে। এর সঙ্গে কংক্রিট ও বালু ভালোও হওয়া দরকার। তাই একজন ভবনমালিকের দায়িত্ব বিল্ডিং কোড মেনে ভবন নির্মাণ করা।


ক্রেতাকে বুঝেশুনে মালামাল কিনতে হবে

একটি ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে রড ও সিমেন্টের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। ভালো মানের রডের কোনো বিকল্প নেই। দেশে উৎপাদিত রড ও সিমেন্টের গুণগত মান অনেক ভালো। তারপরও ক্রেতাকে ভবন নির্মাণের মালামাল বুঝেশুনে কিনতে হবে। প্রয়োজনে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক অধ্যাপক শামিম বসুনিয়া প্রথম আলোকে এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, মানুষ কীভাবে ভালো-মন্দ বুঝবে, তার সহজ উপায় আছে। যেমন যে রড চাপ পড়লে ভাঙে না, বরং পরিমাণমতো লম্বা হয়, এমন রড ভালো। বহুতল ভবনে এমন রডের ব্যবহার দরকার। অন্যথায় ভূমিকম্পের সামান্য ঝাঁকিতেই ভবন ধসে পড়তে পারে। শামিম বলেন, মজবুত ভবন নির্মাণে রড, সিমেন্ট, কংক্রিট ও বালু—এসব উপাদান ভালো করে মেশাতে হয়। মেশানো যত ভালো হবে, ভবনও তত মজবুত হবে। ঢালাইয়ের সময় এটা খেয়াল রাখা দরকার। এ ছাড়া ঢালাইয়ের পর নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ভবনের ছাদ ও দেয়ালে পানি দিতে হয়। তা করা না হলে ভূমিকম্পে ভবনধসের আশঙ্কা থাকে। তাই সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানকে আইন মেনে চলতে হবে। পরে যে কাজের জন্য ভবন তৈরি করা হয়েছে, সেই কাজের জন্য নিরাপদ কি না, তা নিশ্চিত করার সনদ (অকুপেন্সি সার্টিফিকেট) নিতে হবে। এই প্রকৌশলী বলেন, স্থাপনা বা বহুতল ভবন নির্মাণ করতে হলে যথাযথভাবে ‘বিল্ডিং কোড’ মানার বিধান আছে। এই কোডে সব ধরনের ভবনে আলো-বাতাস চলাচল ও নিরাপত্তাব্যবস্থা, ভারবহনের ক্ষমতা, নির্মাণপ্রক্রিয়া ইত্যাদি সম্পর্কে বিস্তারিত নীতিমালা উল্লেখ করা আছে। কিন্তু সরকারের সঠিক নজরদারির অভাবে মানুষ তা মানছে না। শহর-গ্রামে যে যার মতো করে ভবন নির্মাণ করছে। ঢাকাসহ দেশের বড় শহরগুলোতে এই প্রবণতা বেশি। এতে বড় ধরনের ভূমিকম্প হলে ভবনধসের আশঙ্কা থাকে। তাই এই বিষয়টিতে সরকারকে গুরুত্ব দিতে হবে। প্রয়োজনে আইন প্রয়োগ করতে হবে। শামিম বসুনিয়া বলেন, ‘বছরখানেক আগে দেশে কয়েকটি বড় ভূমিকম্প হয়েছিল। তখন “বিল্ডিং কোড” নিয়ে হইচই শুরু হয়। ভূমিকম্প-পরবর্তী করণীয় নিয়েও নানা পদক্ষেপ ও পরিকল্পনা নেয় সরকার। কিন্তু ভূমিকম্পে যাতে আমাদের কোনো ক্ষয়ক্ষতি না হয়, এই দিকে কারও খেয়াল নেই। পুরান ঢাকার নবাবপুরে ভূমিকম্পে একসঙ্গে চার থেকে পাঁচটি বহুতল ভবন ধসে পড়লে পরবর্তী সময়ে উদ্ধারসক্ষমতা আমাদের নেই। কারণ, এই এলাকা অনেক ঘনবসতি। একটি ভবনের সঙ্গে আরেকটি লাগোয়া। সড়কগুলোও অনেক সরু। তাই উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করা অনেক কঠিন হবে।’ শামিম বসুনিয়ার মতে, একটি বহুতল ভবন নির্মাণের আগে একজন অভিজ্ঞ প্রকৌশলী নিয়োগ দিতে হবে। তাঁকে দিয়ে ভবনের নকশা তৈরি ও যথাযথ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করতে হবে। স্তম্ভের সঙ্গে ভবনের বিমগুলো মজবুত করে বাঁধতে বা সংযোগ দিতে হবে। কারণ, ভূমিকম্পের ঝাঁকুনিতে বিম ও স্তম্ভের সংযোগে ত্রুটির কারণেই অধিকাংশ ভবন ধসে পড়ে। এর সঙ্গে কংক্রিট ও বালু ভালোও হওয়া দরকার। তাই একজন ভবনমালিকের দায়িত্ব বিল্ডিং কোড মেনে ভবন নির্মাণ করা।

রোহিঙ্গা সংকট : দায় না থাকলেও ভোগান্তি বাংলাদেশকেই বহন করতে হচ্ছে

বাংলাদেশের কোনো দায় না থাকলেও ভোগান্তি সর্বাংশে বাংলাদেশকেই বহন করতে হচ্ছে। প্রতিদিন নতুন নতুন ঘটনা ঘটছে; পাশাপাশি মিয়ানমার থেকে আসছে দলে দলে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নারী-পুরুষ, শিশু-বৃদ্ধ। রোহিঙ্গা সংকট সারাবিশ্বে আলোচিত এবং ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে সচেতন মানুষের মনে। তেমনি আলোড়ন তৈরি হয়েছে স্থানীয় জনগণের বিবেকে। তবে সরেজমিন অবস্থা পরিদর্শন করে বোঝা যায়, স্থানীয় জনগণের মনে নজিরবিহীন অবস্থার প্রতিক্রিয়া হিসেবে যে মানবিক সহমর্মী চেতনা রোহিঙ্গাদের প্রতি তৈরি হয়েছে তা দীর্ঘস্থায়ী হবে বলে মনে হয় না। গত ২ অক্টোবর উখিয়া-টেকনাফের কুতুপালং এবং বালুখালী রোহিঙ্গাদের অস্থায়ী শিবির সরেজমিন পরিদর্শন করে যে অভিজ্ঞতা হয়েছে তাতে খুব সহজেই জনগণের সহানুভূতি পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যায়। দলে দলে রোহিঙ্গাদের আগমন বাংলাদেশে বহুমাত্রিক সংকট তৈরি করেছে এবং ভবিষ্যতে এই সংকটের নতুন মাত্রা বাংলাদেশ সমস্যাকে আরও ঘনীভূত করবে। ইতোমধ্যেই স্থানীয় মানুষের মনে রোহিঙ্গা সমস্যার মিশ্র অনুভূতি তৈরি হয়েছে। সহসাই তাদের মনোভাবে চরম কোনো পরিবর্তন দেখা গেলে, অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। উখিয়া বাসস্ট্যান্ড বা বাজার থেকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের দিকে টেম্পোতে বা বাসে করে যাওয়ার সময় রাস্তার বাম দিকে দেখা যায় ছোট ছোট টিলাগুলোতে থাক থাক করে মাটি কাটা। কোনো গাছপালা নেই, যেখানে কিছুদিন আগেও ছিল সবুজের ছড়াছড়ি। প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশে এসেই রোহিঙ্গারা এই টিলাসহ নানা জায়গায় অস্থায়ী আবাস তৈরি করেছিল। পরে সেখান থেকে তাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে নিয়ন্ত্রিত কুতুপালং বালুখালী ক্যাম্প এলাকায়। সে জায়গাতেও এক সময় সবুজের সমারোহে সৌন্দর্যের আকর্ষণ ছিল। সেইসব এখন স্বপ্নের গল্পের মতো। স্থানীয়দের আশঙ্কা, এসব পাহাড়ি এলাকার যেসব জায়গায় রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী অস্থায়ী আবাস গড়ে তুলেছে অধিকাংশই বর্ষা-বৃষ্টিতে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়বে। প্রাকৃতিকভাবে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা হচ্ছে না। আমরা সম্প্রতি দেখলাম বন্যহাতির আক্রমণে ৪ জন রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়েছে। যেখানে রোহিঙ্গাদের জন্য অস্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে সেই এলাকার বনাঞ্চল, পাহাড়ি টিলা স্থানীয়ভাবে বন্যহাতির চলাচলের বা বিচরণের অন্যতম স্থান ছিল। মানুষের আবাসনের কারণে বন্যহাতির চলাচল ও জীবনযাপনের প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি হয়েছে। হাতির পাল যেকোনো সময় নেমে এসে আরো বড় রকমের দুর্ঘটনা তৈরি করতে পারে। এ-তো গেল প্রাকৃতিক ভারসাম্যের কথা, স্থানীয় জনসংখ্যা রোহিঙ্গা জনসংখ্যার চাপে এমনিতেই কোণঠাসা। তুলনামূলকভাবে স্থানীয় লোকজনের চেয়ে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সংখ্যা অনেক বেশি। আগে থেকেই সেখানে অনেক রোহিঙ্গার বসবাস। সরকারি-বেসরকারি নানা সূত্র থেকে জানা যায়, প্রায় ৫ লাখ। গত ২৬ আগস্ট থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত আরো পাঁচ থেকে ছয় লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।

আজকের মোট পাঠক

২৭৬৯২

নিউজ একাত্তর ডট কম

সম্পাদক : মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন চৌধুরী

নির্বাহী সম্পাদক : নুরুল ইসলাম ভুইয়া

একটি পপুলার মিডিয়া পাবলিকেশন এর প্রকাশনা

সম্পাদকীয় ও বানিজ্যিক কার্যালয় : ৪১৬/সি,খিলগাও ঢাকা। ফোন : ০১৮২৪২৪৫৫০৪, ০১৭৭৮৮৮3৮৪৭২

চট্টগ্রাম কার্যালয় : ১০/১১ বি ৩য় তলা, হানিমুন টাওয়ার,পাহাড়তলী,চট্টগ্রাম।

ই-মেইল : newsekattor@gmail.com, editorekattor@gmail.com, কপিরাইট ©newsekattor.com কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত