রাস্তায় জুমআর নামাজের প্রতিবাদে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির আন্দোলন

২৬জুন২০১৯,বুধবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: শুক্রবার রাস্তায় জুমআর নামাজের প্রতিবাদে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি পাল্টা আন্দোলন শুরু করেছে। এরই অংশ হিসেবে প্রতি মঙ্গলবার রাস্তা আটকে হনুমান চালিশা পাঠের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিজেপি। ইতোমধ্যেই গতকাল হাওড়ার বালিখালে রাস্তা আটকে হনুমান চালিশা পাঠও করেন দলীয় নেতাকর্মীরা। প্রতি শুক্রবার মসজিদে মসজিদে জুমআর নামাজ আদায় করেন মুসলমান ধর্মাবলম্বীরা। অনেক সময় মসজিদে জায়গা না হলে রাস্তায় বসেও নামাজ পড়ে ন মুসল্লি। এর জেরে রাস্তায় যানজট লেগে যায়। মানুষজনকে ব্যাপক ভোগান্তি পোহাতে হয়। তাই অনেকে রাস্তায় বসে নামাজের প্রতিবাদও করেছেন। আর এবার সেই বিষয়টিকেই ইস্যু করে মাঠ গরম করতে চাইছে বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শুক্রবারের নামাজে পাল্টা হিসেবে মঙ্গলবার রাস্তায় বসে হনুমান চালিশা পাঠ করবেন বিজেপি কর্মী সমর্থকরা। কলকাতাসহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের হনুমান মন্দিরের সামনে বসেই হনুমান চালিশা পাঠ করবেন তারা। গতকাল হাওড়ার বালিখালের কাছে রীতিমতো রাস্তা আটকে হনুমান চালিশা পাঠ করেন বেশ কয়েকজন বিজেপি কর্মী সমর্থক। এ বিষয়ে হাওড়া জেলা বিজেপি যুব মোর্চার সভাপতি ওপি সিং বলেন, প্রতি শুক্রবার নামাজের জন্য গ্র্যান্ড ট্যাংক রোডসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা অবরুদ্ধ হয়ে যায়। রোগী মারা যাচ্ছেন। অফিস যাত্রীরা সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন না। তা সত্ত্বেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির পক্ষ থেকে কোনও পদক্ষেপই নেয়া হয়নি। তাই এর প্রতিবাদে আমরা মঙ্গলবার কলকাতাসহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের হনুমান মন্দির লাগোয়া রাস্তায় বসে হনুমান চালিশা পাঠের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। লোকসভা নির্বাচনের পর থেকে একাধিক ইস্যুতে তৃণমূল-বিজেপি দ্বন্দ্বে রাজ্যের রাজনৈতিক ময়দান সরব হয়ে উঠেছে। অনেকেই বলছেন, এই বাদানুবাদে নতুন সংযোজন হচ্ছে রাস্তা আটকে নামাজ আদায়ে বিজেপির বিরোধিতা। আর মুসলিমদের ধর্মীয় রীতি নিয়ে বিজেপি রাজ্যে বিশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি করতে চাইছে বলে অভিযোগ করেছে তৃণমূল।...

সেই মুসলিম যুবককে পিটিয়ে হত্যায় গ্রেফতার ৫

২৫জুন২০১৯,মঙ্গলবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ভারতে এক মুসলিম যুবককে পিটিয়ে হত্যার দায়ে পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ ছাড়া এ ঘটনায় দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। খবর এনডিটিভি। ভারতের পূর্বাঞ্চলের প্রদেশ ঝাড়খণ্ডে ২৪ বছর বয়সী তাবরেজ আনসারি গত ১৮ জুন নির্যাতিত হওয়ার পর ২২ জুন মারা যান। গত কয়েক বছরে ঝাড়খণ্ডে বেশ কয়েকটি গণপিটুনির ঘটনা ঘটেছে। আর এসব গণপিটুনির শিকার হয়েছেন মুসলিমরা। তাবরেজ আনসারির বিরুদ্ধে মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগ এনে তাকে গণপিটুনি দেয়া হয়; যার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, এক ব্যক্তি তাবরেজকে একটি কাঠের লাঠি দিয়ে নৃশংসভাবে পেটাচ্ছেন। আক্রান্ত যুবক ছেড়ে দেয়ার আকুতি নিয়ে হাত জোড় করলেও তাতে কোনো ভ্রূক্ষেপ নেই নির্যাতনকারীর। অন্য আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, জোর করে তাবরেজকে বলানো হচ্ছে- জয় শ্রী রাম ও জয় হনুমান। তাবরেজের স্বজনদের অভিযোগ, তাবরেজের সঠিক চিকিৎসার জন্য পুলিশকে অনুরোধ করেও লাভ হয়নি। তার সঙ্গে কাউকে দেখাও করতে দেয়া হয়নি। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার বহু আগেই তাবরেজের মৃত্যু হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন স্বজনরা। বিবিসিকে তাবরেজের স্ত্রী শাহিস্তা পারভিন জানান, তার স্বামীকে সারারাত একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা হয় এবং পর দিন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তিনি বলেন, হিন্দু দেবতাদের প্রশংসা করতে অস্বীকৃতি জানানোর পরই তাকে নির্যাতন করা শুরু হয়। তাবরেজের স্ত্রী আরও বলেন, ওকে নির্দয়ের মতো মারা হয়েছে। কারণ ও মুসলিম। আমার কেউ নেই। কোনো শ্বশুর-শাশুড়িও নেই। আমি কী করে বাঁচব? আমি ন্যায়বিচার চাই। তবে ঝাড়খণ্ডের পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছে।...

ভারতে হামলা চালাতে পারে আইএস

২১জুন২০১৯,শুক্রবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম:গত মার্চ মাসেই শ্রীলংকায় এক প্রাণঘাতী হামলা চালিয়েছে জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস। খ্রিস্টানদের ধর্মীয় উপাসনালয় ও অভিজাত হোটেল লক্ষ্য করে চালানো ওই হামলায় প্রাণ হারান ২৫০ জনের বেশি মানুষ। ভারতীয় গোয়েন্দারা বলছেন, এবার ভারতে হামলা চালাতে পারে জঙ্গি দলটি। গোয়েন্দা ও পুলিশ সূত্রের বরাত দিয়ে এমনটি দাবি করা হয়েছে আনন্দবাজার পত্রিকার এক প্রতিবেদনে।বৃহস্পতিবার প্রকাশিত প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, ইতিমধ্যে আইএসের সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে কেরালা পুলিশকে সতর্ক করেছে দেশটির গোয়েন্দা বিভাগ। এ বিষয়ে পাঠানো এক চিঠিতে গোয়েন্দারা বলেছে, ভারত মহাসাগরীয় এলাকায় শ্রীলংকা ও ভারতের দিকে নজর পড়েছে আইএসের। এই দুই দেশে বড় ধরণের হামলার ছক কষছে তারা। আনন্দবাজার জানায়, সম্প্রতি কেরালা পুলিশ বিভাগের তিন শীর্ষ কর্মকর্তাকে চিঠি পাঠয়েছে গোয়েন্দারা। চিঠিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন যৌথ বাহিনীর অভিযানে ইরাক ও সিরিয়ায় নিজেদের ঘাঁটি হারিয়েছে আইএস।তবে জঙ্গিবাদ বন্ধ করে দেয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই তাদের। ভারত ও শ্রীলংকায় নতুন করে নাশকতার ছক কষছে তারা।দুই সপ্তাহ আগে এমন একটি চিঠি প্রকাশ পায় স্থানীয় গণমাধ্যমে। তাতে বলা হয়েছিল, কেরালার কোচিতে অবস্থিত সরকারি কার্যালয় ও একটি জনপ্রিয় শপিং মলে হামলা হতে পারে। সেখানকার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের দাবি, কেরালা, তামিলনাড়ু, অন্ধ্রপ্রদেশ ও কাশ্মীরের মতো প্রদেশগুলোতে হামলা চালানো হতে পারে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে আইএসের সক্রিয়তা সম্ভাব্য হামলার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেও দাবি করেন তারা।গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে আরো দাবি করা হয়, মেসেঞ্জার অ্যাপ টেলিগ্রামের মাধ্যমে এতদিন যাবত তথ্য আদান-প্রদান করত আইএস। কিন্তু তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় সম্প্রতি তারা চ্যাটসিকিয়ুর, সিগন্যাল ও সাইলেন্ট টেক্সটের মতো তুলনামূলক নিরাপদ অ্যাপ ব্যবহার করছে।কেরালার পুলিশ সূত্রের বরাত দিয়ে আনন্দবাজার জানায়, গত কয়েক বছরে ওই প্রদেশ থেকে প্রায় ১০০জন আইএসে যোগ দিয়েছে। তাদের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়েছিল আরো কয়েক হাজার মানুষ। প্রদেশের ২১টি কাউন্সেলিং সেন্টারে তাদের মধ্যে তিন হাজার জনকে স্বাভাবিক জ্ঞানে ফেরানো গেছে। তবে নজরদারির মধ্যে রয়েছে তারা। গোয়েন্দাদের সতর্কবার্তা পেয়ে রাজ্যের নিরাপত্তা কঠোর করা হয়েছে। নজরদারি চলছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতেও।...

পুনরায় নির্বাচনে লড়াইয়ের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ট্রাম্পের

১৯জুন২০১৯,বুধবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: পুনরায় নির্বাচন করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আরো চার বছরের জন্য তাঁকে নির্বাচিত করতে সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাতে লাখো সমর্থকের জনসভায় নির্বাচনে অংশগ্রহণের ব্যাপারে নিজের যুক্তি তুলে ধরেন ট্রাম্প। এ সময় তিনি ফ্লোরিডাকে নিজের সেকেন্ড হোম বলেও উল্লেখ করেন। নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়ে প্রতিপক্ষ ডেমোক্র্যাটদের সমালোচনায় মুখর হয়ে ওঠেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ডেমোক্র্যাটদের উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, আপনারা তো নিজের দেশকেই ছিন্নভিন্ন করছেন। গত নির্বাচনে ট্রাম্পের নির্বাচনী স্লোগান ছিল আমেরিকাকে আবারও মহান করে তুলুন। সেই স্লোগানের রেশ ধরে ট্রাম্প গতকাল মঙ্গলবার রাতে অরল্যান্ডোর জনসভায় বলেন, আমরা আমেরিকাকে আবারও মহান করব। গত নির্বাচনের সময় নিজের প্রথম নির্বাচনী জনসভার কথা স্মরণ করে ট্রাম্প বলেন, আমরা একসঙ্গে একটি ভেঙে পড়া রাজনৈতিক অবস্থানকে পুনরুজ্জীবিত করে জনগণের নির্বাচিত এবং জনগণের জন্য সরকারকে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করেছি। ট্রাম্প আরো বলেন, যত দিন আপনারা এই সরকারকে ক্ষমতায় রাখবেন, আমরা তরতর করে সামনে এগিয়ে যাব। এর আগে কখনোই আমরা সামনে এমন উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ দেখিনি। পুনরায় নির্বাচন করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণার ঠিক আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর দেশে অবৈধভাবে বসবাসরত লাখো মানুষকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেন। ডেমোক্র্যাটরা অবৈধ অভিবাসীদের বৈধ করার পাঁয়তারা করছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি। নির্বাচনী ঘোষণার ঠিক একদিন আগে ট্রাম্প টুইট করে জানান, যুক্তরাষ্ট্রে অনুপ্রবেশ করা লাখো অবৈধ এলিয়েনকে (ভিন গ্রহের প্রাণী) বিতাড়িত করার প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে ট্রাম্পের টুইটের ব্যাখ্যায় জানান, এ কার্যক্রমে ১০ লাখের অধিক মানুষের ওপর নজর দেওয়া হবে। তাঁদের বিষয়ে ফেডারেল আদালত চূড়ান্ত বিতাড়ন আদেশ দিয়েছেন, কিন্তু তাঁরা দেশে অবাধে রয়ে গেছেন। অভিযান চালানোর আগে যুক্তরাষ্ট্রে তা নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঘোষণা দেওয়া অস্বাভাবিক ঘটনা। ট্রাম্প প্রশাসনের কেউ কেউ মনে করেন, গণগ্রেপ্তারের মতো শক্তি প্রদর্শন করা হলে তা যুক্তরাষ্ট্রে আসতে চাওয়া অবৈধ অভিবাসীদের বার্তা দেবে। সোমবার মেক্সিকোর একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, তিন সপ্তাহ আগে প্রতিদিন প্রায় চার হাজার ২০০ অভিবাসী যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তে জড়ো হতেন। এখন তা কমে প্রায় দুই হাজার ৬০০ হয়েছে। বর্তমানে কতটা গ্রহণযোগ্য ট্রাম্প? মার্কিন গবেষণা প্রতিষ্ঠান গ্যালাপের জরিপ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পদে ট্রাম্পের গ্রহণযোগ্যতার মাত্রা কখনোই ৪৬ শতাংশের ওপরে উঠেনি। আর গত মাসে সেটি নেমে গেছে ৪০ শতাংশে। অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক নির্বাচনী জরিপ সংস্থা রাসমুসেনের জরিপ অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট পদে ট্রাম্পের গ্রহণযোগ্যতার মাত্রা ৪৮ শতাংশ। তবে পুনরায় প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিসেবে ডেমোক্রেটিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে বেশ পিছিয়ে আছেন ট্রাম্প। ডোনাল্ড ট্রাম্পের পছন্দের গণমাধ্যম হিসেবে পরিচিত ফক্স নিউজের একটি জরিপ অনুযায়ী, জো বাইডেন ও বার্নি স্যান্ডার্সের চেয়ে যথাক্রমে ১০ ও ৯ শতাংশ পিছিয়ে আছেন ট্রাম্প। অবশ্য ট্রাম্প দাবি করছেন, ১৭টি সুইং স্টেটে এগিয়ে আছেন তিনি। এদিকে শোনা গেছে, আগামী বছরের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে হারছেন এমন তথ্য ফাঁস হওয়ায় নির্বাচনী প্রচারের সঙ্গে জড়িত বেশ কয়েকজন ভাড়াটে প্রচারকারীকে বরখাস্ত করেছেন ট্রাম্প।...

Ranks Khan প্লাজায় যাচ্ছে কে কে অটোমোবাইলস

২৭জুন২০১৯,বৃহস্পতিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: নগরের শেখ মুজিব রোডে নির্মাণাধীন ১৬ তলা বিলাসবহুল বাণিজ্যিক ভবন খান প্লাজায় যাচ্ছে অটোমোবাইল কোম্পানি কে কে অটোমোবাইলস। এ উপলক্ষে গতকাল নগরীর আগ্রাবাদ Ranks প্লাজায় কে কে অটোমোবাইলসের সাথে Ranks এফসি প্রপার্টিজের বিক্রয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন Ranks এফসির সিইও প্রকৌশলী তানভীর শাহরিয়ার রিমন এবং কে কে অটোমোবাইলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাসরিন আক্তার। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কে কে অটোমোবাইলসের চেয়ারম্যান আনোয়ার সাদাত, Ranks এফসির এজিএম (সেলস) মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, সিনিয়র ম্যানেজার মীর মোয়াজ্জেম হোসেন, ডেপুটি ম্যানেজার রায়হান উদ্দিন, সারা আলী প্রমুখ। প্রসঙ্গত, Ranks এফসির নির্মাণাধীন এই স্থাপনায় ইতোমধ্যে ভূগর্ভস্থ শোর পাইল, শিট পাইল এবং সার্ভিস পাইল সম্পন্ন হয়েছে। যৌথভাবে এই ভবনের আর্কিটেকচারাল ডিজাইন করেছেন স্থপতি মোস্তফা খালিদ পলাশ এবং ইনস্পেস আর্কিটেকটস। এর অবকাঠামোগত নকশা করেছেন প্রকৌশলী সাইদ হোসেন (স্বাধীন)। প্রকল্পটি ২০২১ সালের মধ্যে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।...

রিফাতের শ্বশুরকে মর্গ থেকে বের করে দিল বন্ধুরা

২৭জুন২০১৯,বৃহস্পতিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে শত শত লোকের উপস্থিতিতে স্ত্রীর সামনে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার স্বামী শাহ নেয়াজ রিফাত শরীফের (২৫) মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। একই সঙ্গে মেয়ের জামাইয়ের মরদেহ আনতে মর্গে গিয়ে তোপের মুখে পড়েছেন নিহত রিফাতের শ্বশুর মোজ্জাম্মেল হোসেন। এ সময় মোজ্জাম্মেল হোসেনকে হাসপাতালের মর্গ থেকে বের করে দেন রিফাতের বন্ধুরা। বৃহস্পতিবার বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রিফাত শরীফের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। বেলা ১১টা থেকে ১১টা ৪০মিনিট পর্যন্ত রিফাতের মরদেহের ময়নাতদন্ত হয়। বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক চিকিৎসক জামিল হোসেনের নেতৃত্বে ফরেনসিক বিভাগের প্রভাষক চিকিৎসক মাইদুল হোসেন ও ফরেনসিক বিভাগের প্রভাষক চিকিৎসক তন্নী নিহত রিফাতের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করেন। বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক চিকিৎসক জামিল হোসেন বলেন, রিফাত শরীফের শরীরে মারাত্মক আঘাত করা হয়েছে। তার গলায়, মাথায়, বুকের ওপর তিনটি বড় ক্ষত রয়েছে। তার গলার রগ কেটে গেছে। গলার রগ কেটে প্রচুর রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ভারী অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষত করা হয়েছে। তার ডান হাত এবং বাম হাতে দুটি বড় ক্ষত রয়েছে। রিফাতের শরীরে সাত থেকে আটটি বড় আঘাত রয়েছে। যেসব আঘাতে বড় ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। এসব ক্ষত থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়ে রিফাত মারা যায়। এদিকে, মেয়ের জামাইয়ের মরদেহ আনতে মর্গে গিয়ে তোপের মুখে পড়েছেন নিহত রিফাতের শ্বশুর মোজ্জাম্মেল হোসেন। এ সময় মোজ্জাম্মেল হোসেনকে হাসপাতালের মর্গ থেকে বের করে দেন রিফাতের বন্ধুরা। বেলা পৌনে ১২টার দিকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গের সামনে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হাসপাতালের মর্গের সামনে আসেন রিফাতের শ্বশুর মোজ্জাম্মেল হোসেন। এ সময় স্থানীয় সাংবাদিকরা তাকে ঘিরে ধরেন। কয়েকজন সাংবাদিক তার কাছে জামাই রিফাত হত্যার কারণ জানতে চান। তখন তিনি স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান এটি নারীঘটিত ঘটনা হলেও আমার মেয়ের সঙ্গে খুনিদের কোনো পরিচয় ছিল না। আমার মেয়েকে খুনিরা উত্ত্যক্ত করতো। জামাই এ ঘটনার প্রতিবাদ করেছিল বলেই তাকে খুন করা হয়েছে। এ সময় রিফাতের কয়েকজন বন্ধু মোজ্জাম্মেল হোসেনের ওপর চড়াও হন। সেই সঙ্গে মোজ্জাম্মেল হোসেনকে মিথ্যাবাদী উল্লেখ করে সেখান থেকে তাড়িয়ে দেন রিফাতের বন্ধুরা। এ সময় রিফাতের কয়েকজন বন্ধু মোজ্জাম্মেল হোসেনের দিতে তেড়ে যান। এ ঘটনার কারণ জানতে চাইলে নিহত রিফাতের ঘনিষ্ঠ বন্ধু মঞ্জুরুল আলম জন, বিল্লাল হোসেন, নাজমুলসহ কয়েজনজন জানান, মিন্নির বাবা সাংবাদিকদের মিথ্যা বলছেন। তার মেয়ের সঙ্গে খুনিদের পরিচয় ছিল। বিষয়টি আমরা আগে থেকেই জানতাম। নয়নের সঙ্গে মিন্নির আগে থেকে সম্পর্ক আছে, সেটিও আড়াল করেছেন মিন্নির বাবা। এসব বিষয় তদন্ত করলে সব সত্য বেরিয়ে আসবে। মিন্নির বাবা সবই জানেন এবং মিন্নিও অনেক বিষয় জানেন।...

রিফাতের খুনির সঙ্গে স্ত্রীর ছবি ভাইরাল

২৭জুন২০১৯,বৃহস্পতিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: গতকাল বুধবার বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে প্রকাশ্যে খুন হন রিফাত নামের এক যুবক। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কল্যাণে সেই খুনের ভিডিও অল্প সময়ের মধ্যেই ভাইরাল হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, স্বামীকে বাঁচাতে প্রাণপনে লড়ে যাচ্ছেন স্ত্রী। আজ (বৃহস্পতিবার) ফেসবুকে আরেকটি স্থিরচিত্র ভাইরাল হয়। যেখানে দেখা যায়, রিফাতের খুনী নয়ন বন্ডের সঙ্গে রিফাতের স্ত্রী দাঁড়ালো। তার হাতে ফুল, সামনে দাঁড়িয়ে থাকা অন্য আরেকজন যুবক রিফাতের স্ত্রীকে মিস্টি খাইয়ে দিচ্ছে। প্রকাশ্য দিবালোকে শত শত মানুষের উপস্থিতিতে রিফাত শরীফকে (২৫) কুপিয়ে হত্যাকরীদের মধ্যে অন্যতম একজন রিফাত ফরাজী (২৫)। বরগুনা পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের ধানসিঁড়ি রোডের মো. দুলাল ফরাজীর বড় ছেলে তিনি। নিহত রিফাতের পরিবার জানায়, স্ত্রীর সামনে রিফাতকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। রিফাতের সঙ্গে দুই মাস আগে পুলিশ লাইন্স সড়কের আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি নামের এক মেয়ের বিয়ে হয়। বিয়ের পর নয়ন নামে এক যুবক মিন্নিকে তার প্রেমিকা দাবি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপত্তিকর পোস্ট দিতে থাকে। সেই সঙ্গে রিফাতের স্ত্রীর সঙ্গে নয়নের পরকীয়া সম্পর্ক আছে বলেও দাবি করে নয়ন। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার নয়নকে নিষেধ করে রিফাত। এরপরও শোনেনি নয়ন। এক পর্যায়ে প্রতিবাদ করে রিফাত। সেই জেরেই তাকে খুন করা হয়। রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ বলেন, নয়ন প্রতিনিয়ত আমার পুত্রবধূকে উত্ত্যক্ত করত এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর পোস্ট দিত। এর প্রতিবাদ করায় আমার ছেলেকে নয়ন তার দলবল নিয়ে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে। আমার একমাত্র ছেলেকে যারা দিনে-দুপুরে কুপিয়ে হত্যা করেছে, তাদের বিচার চাই। নিহত রিফাতের ঘনিষ্ঠ বন্ধু মঞ্জুরুল আলম জন বলেন, পরকীয়ার জেরে একবার রিফাত শরীফকে মিথ্যা অভিযোগে পুলিশ দিয়ে গ্রেপ্তার করিয়েছিল নয়ন বন্ড। মঞ্জুরুল আলম জন আরও বলেন, বুধবার সকালে স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে বরগুনা সরকারি কলেজে নিয়ে যান রিফাত। কলেজ থেকে ফেরার পথে মূল ফটকে নয়নসহ কয়েকজন রিফাতের ওপর হামলা চালায়। তখন ধারালো অস্ত্র দিয়ে রিফাতকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে নয়ন ও তার সহযোগীরা। রিফাতের স্ত্রী মিন্নি দুর্বৃত্তদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু কিছুতেই হামলাকারীদের থামানো যায়নি। তারা তাকে উপর্যুপরি কুপিয়ে রক্তাক্ত করে চলে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন রিফাতকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে রিফাতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি বলেন, বরগুনা পৌরসভার ধানসিঁড়ি সড়কের আবু বকর সিদ্দিকের ছেলে নয়ন বন্ড ও তার প্রতিবেশী দুলাল ফরাজীর দুই ছেলে রিফাত ফরাজী ও রিশান ফরাজী এবং রাব্বি আকন আমার স্বামীর ওপর হামলা চালায়। আমার সামনে ওই সন্ত্রাসীরা রিফাতকে কুপিয়ে হত্যা করে। আমি শত চেষ্টা করেও আমার স্বামীকে বাঁচাতে পারিনি। বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবীর মোহাম্মদ হোসেন বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ভিডিও ফুটেজ দেখে আসামি শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দ্রুত খুনিদের গ্রেপ্তার করবে পুলিশ।- আলোকিত বাংলাদেশ ...

স্ত্রীর সামনেই স্বামীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার ১

২৭জুন২০১৯,বৃহস্পতিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে স্ত্রীর উপস্থিতিতেই স্বামী রিফাত শরীফকে (২৫) কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ বৃহস্পতিবার সকালের দিকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ওই যুবকের নাম চন্দন। তিনি মামলার চার নম্বর আসামি। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বরগুনা পুলিশ সুপার (এসপি) মারুফ হোসেন রিফাত জানান, প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় ১২ জনকে আসামি করে থানায় মামলা করা হয়। এদের মধ্যে চার নম্বর আসামি চন্দনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। গতকাল বুধবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে শত শত লোকের উপস্থিতিতে স্ত্রীর সামনে রিফাত শরীফকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। নিহত রিফাত শরীফের বাড়ি বরগুনা সদর উপজেলার ৬নং বুড়িরচর ইউনিয়নের বড় লবণগোলা গ্রামে। ওইদিন সকাল ১০টার দিকে নয়নের নেতৃত্বে ৪-৫ জন সন্ত্রাসী রিফাতকে দা দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় ফেলে যায়। এ সময় বারবার সন্ত্রাসীদের হাত থেকে স্বামীকে বাঁচাতে চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি। এক পর্যায়ে গুরুতর অবস্থায় রিফাতকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার রক্তক্ষরণ বন্ধ না হওয়ায় চিকিৎসকরা তাকে বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেল ৪টার দিকে রিফাত মারা যান। বর্তমানে রিফাতের মরদেহ বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। এ ঘটনায় বুধবার রাতে নিহত রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেন।-আলোকিত বাংলাদেশ ...

টেকনাফে বন্দুকযুদ্ধে ৩ মানবপাচারকারী নিহত

২৫জুন২০১৯,মঙ্গলবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: কক্সবাজারের টেকনাফে পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে তিনজন নিহত হয়েছেন। পুলিশের দাবি, নিহতরা মানবপাচারকারী চক্রের সদস্য। আজ মঙ্গলবার ভোররাতে উপজেলার সদর ইউনিয়নের মহেশখালিয়া পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশের তিন সদস্য আহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন- টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নের গোলাপাড়ার আব্দুর শুক্কুরের ছেলে কুরবান আলী (৩০), টেকনাফ পৌরসভার কায়ুকখালী পাড়ার আলী হোসেনের ছেলে আব্দুল কাদের (২৫) এবং একই এলাকার সুলতান আহমদের ছেলে আব্দুর রহমান (৩০)। আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন- এএসআই মোহাম্মদ সায়েফ, কনস্টেবল মং বাবু ও মোহাম্মদ শুক্কুর। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ জানান, মঙ্গলবার ভোররাতে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের মহেশখালিয়া পাড়ায় মানবপাচার মামলার তিনজন আসামি অবস্থান করছে-এমন খবরে পুলিশের একটি দল অভিযান চালায়। ঘটনাস্থলে উপস্থিতি টের পেয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে মানবপাচারকারী চক্রের সংঘবদ্ধ সদস্যরা অতর্কিত গুলি ছুড়তে থাকে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে।...

২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে যা আছে

১৩জুন২০১৯,বৃহস্পতিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: ২০১৯-২০ অর্থবছরে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সম্মানী ভাতা ১০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১২ হাজার টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে জাতীয় বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ৭৪ হাজার ৩৬৭ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে। এ বরাদ্দ জাতীয় বাজেটের শতকরা ১৪ দশমিক ২১ ভাগ এবং জিডিপির শতকরা ২ দশমিক ৫৮ ভাগ। গত অর্থবছরে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দের পরিমাণ ছিলো ৬৪ হাজার ৪০৪ কোটি টাকা। প্রতিবন্ধী ছাত্র-ছাত্রীদের উপবৃত্তির সংখ্যা ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ জনে বাড়ানো এবং উপবৃত্তির হার বাড়িয়ে প্রাথমিক স্তরে ৭০০ টাকা থেকে ৭৫০ টাকা, মাধ্যমিক স্তরে ৭৫০ টাকা থেকে ৮০০ টাকা এবং উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে ৮৫০ টাকা থেকে ৯০০ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এবারের বাজেটে বড় আকারের ব্যয় মেটাতে মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৮১০ কোটি টাকা। এটি জিডিপির ১৩ দশমিক ১ শতাংশের সমান। এরমধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আদায় করবে ৩ লাখ ২৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা, এনবিআর বহির্ভূত কর আদায় ধরা হয়েছে ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। কর ছাড়া আদায় বা প্রাপ্তি ধরা হয়েছে ৩৭ হাজার ৭১০ কোটি টাকা। বিদায়ী অর্থবছরে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য হচ্ছে ৩ লাখ ৩৯ হাজার ২৮০ কোটি টাকা। নতুন বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৩৮ হাজার ৫৩০ কোটি টাকা বেশি ধরা হয়েছে। মোবাইল: মোবাইল গ্রাহকের কথা বলার ওপর করহার বাড়ছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে চলমান ৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে একজন গ্রাহক ১০০ টাকা রিচার্জ করলে তা থেকে প্রায় ২৭ টাকা কর বাবদ নিয়ে যাবে সরকার, যা এখন ২২ টাকা। ফলে গ্রাহক যত বেশি কথা বলবে, তত বেশি কর পাবে সরকার। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে এই বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী। বাজেট প্রস্তাবে তিনি এ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেন। এর আগে বাজেটে মন্ত্রিসভা অনুমোদন দেয় এবং পরে ওই প্রস্তাবে সই করবেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। এটি দেশের ৪৮তম ও বর্তমান সরকারের তৃতীয় মেয়াদের প্রথম বাজেট। অর্থমন্ত্রী হিসেবে আ হ ম মুস্তফা কামালের প্রথম বাজেট। যদিও গত সরকারের পরিকল্পনামন্ত্রী হিসেবে অনেক বাজেট প্রণয়নে পরোক্ষভাবে জড়িত ছিলেন তিনি। বর্তমানে মোবাইল সেবার ওপর ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট), ৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক এবং তার সঙ্গে ১ শতাংশ সারচার্জসহ মোট করের পরিমাণ প্রায় ২২ শতাংশ। প্রস্তাবিত বাজেটে বিদ্যমান করের সঙ্গে বাড়তি ৫ শতাংশ যোগ হচ্ছে। বাড়তি করহার পাস হলে মোবাইল সেবায় মোট করহার দাঁড়াবে প্রায় ২৭ শতাংশ। ফলে গ্রাহকের কথা বলার খরচ আরও বেড়ে যাবে। এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, মোবাইল সেবার বাইরে এখন প্রতি সিম সংযোজন এবং প্রতিস্থাপনে ১০০ টাকা নির্ধারিত কর দিতে হয়। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে সিমকে প্রথমবারের মতো করের আওতায় আনা হয়। তবে প্রথমদিকে নির্ধারিত কর ছিল ৩০০ টাকা। ক্রমান্বয়ে তা কমিয়ে আনা হয়। গ্রাহকের সংখ্যা বাড়াতে নিজেরাই এই কর দেয় মোবাইল অপারেটররা। যদিও এই কর প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছে মোবাইল অপারেটররা। বিড়ি-সিগারেটের দাম: নতুন অর্থবছরের (২০১৯-২০) প্রস্তাবিত বাজেটে বাড়ছে বিড়ি-সিগারেটসহ তামাকজাত দ্রব্যের সম্পূরক শুল্ক। ফলে বাড়বে বিড়ি-সিগারেটসহ তামাকজাত পণ্যের দাম। প্রস্তাবিত বাজেটে বলা হয়েছে, সিগারেটের নিম্নস্তরের ১০ শলাকার দাম ৩৭ টাকা। যাতে প্রস্তাব করা হয়েছে ৫৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ। মধ্যম স্তরের ১০ শলাকার দাম ৬৩ টাকা এবং ৬৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক। আর উচ্চ স্তরের ১০ শলাকার দাম ৯৩ টাকা ও ১২৩ টাকা। আর এতে থাকছে ৬৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্কের প্রস্তাব। হাতে তৈরি ফিল্টারবিহীন বিড়ির ২৫ শলাকার দাম ১৪ টাকা এবং ৩৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক। ফিল্টারযুক্ত বিড়ির ২০ শলাকার দাম ১৭ টাকা ও ৪০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ১০ গ্রাম জর্দার দাম ৩০ টাকা ও ৫০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক এবং প্রতি ১০ গ্রাম গুলের দাম ১৫ টাকা এবং ৫০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক নির্ধারণের জন্য বাজেটে প্রস্তাব করা হয়েছে। পেনশন: প্রস্তাবিত বাজেটে দেশের সবার জন্য পেনশনের ব্যবস্থা রাখার কথা বলেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবে বলা হয়, সরকারি যে পেনশন ব্যবস্থা রয়েছে, তাতে জনসংখ্যার খুব সামান্য একটি অংশ এই সুবিধার আওতায় রয়েছে। দেশের সংগঠিত ও অসংগঠিত ক্ষেত্রের সব কর্মীকে ক্রমান্বয়ে পেনশন সুবিধার আওতায় আনতে শিগগিরই ইউনিভার্সাল পেনশন অথরিটি গঠন করবে সরকার। সেই সঙ্গে পেনশনভোগীদের সবাইকে ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) পদ্ধতির আওতায় আনা হবে। অর্থমন্ত্রী বলেন, ইএফটি পদ্ধতিতে ২৭ হাজার পেনশনভোগী তাঁদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মধ্যমে পেনশনের টাকা পাচ্ছেন। আগামী অর্থবছরে সব পেনশনভোগী এই পদ্ধতির আওতায় চলে আসবেন। এদিকে দেশের ইতিহাসে ১২তম দায়িত্বশীল ব্যক্তি হিসেবে জাতীয় সংসদে বাজেট পেশ করছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) বিকেল ৩টা ৭ মিনিটে অর্থমন্ত্রী তার বাজেট বক্তব্য শুরু করার জন্য স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর কাছ থেকে অনুমতি গ্রহণ করেন। এ সময় স্পিকার অর্থমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন যে, আপনি চাইলে বসে বাজেট বক্তব্য উপস্থাপন করতে পারেন। আওয়ামী লীগের সাংসদ শেখ ফজলুল করিম সেলিম পাশ থেকে অর্থমন্ত্রীকে বাজেট বক্তব্য কীভাবে উপস্থাপন করতে হয়, সে বিষয়ে পরামর্শ দিচ্ছিলেন। এরপর, অর্থমন্ত্রী তার আসনে বসে বাজেট বক্তব্য দেওয়া শুরু করেন। অর্থমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর সংগ্রাম ও বাংলাদেশের জন্ম ইতিহাস নিয়ে একটি প্রামাণ্য চিত্র উপস্থাপন করেন। এরপর তিনি এবারের বাজেটকে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাজেট বলে অভিহিত করেন। তার আগে সাদা পাঞ্জাবির ওপর মুজিব কোট পরে তিনি সংসদে প্রবেশ করেন। ...

আরও আড়াই লাখ টন ধান কিনবে সরকার

১১জুন২০১৯,মঙ্গলবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: দাম পড়ে যাওয়ার কৃষকদের কাছ থেকে আরও আড়াই লাখ মেট্রিক টন বোরো ধান কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার (১১ জুন) সচিবালয়ে এক তাৎক্ষণিক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন। খাদ্যমন্ত্রী বলেন, এবার বোরোর ফলন অনেক উদ্বৃত্ত হয়ে গেছে। দেশের খাদ্য গুদামগুলোর ধারণ ক্ষমতা ১৯ লাখ ৬০ হাজার মেট্রিক টন। আর এখন গুদামে আছে ১৪ লাখ মেট্রিক টন খাদ্যশষ্য। সোমবার প্রধানমন্ত্রী দিক নির্দেশনা দিয়েছেন, আমরা আরও আড়াই লাখ মেট্রিক টন ধান কৃষকের কাছ থেকে কিনব। এতেও বাজার না উঠলে (ধানের) পরিমাণ আরও বাড়াব, যেন কৃষক নায্যমূল্য পান। এই আড়াই লাখ টনের বাইরে প্রয়োজনে আরও এক বা দুই লাখ মেট্রিক টন ধান কৃষকের কাছ থেকে কেনা হবে বলে জানান কৃষিমন্ত্রী রাজ্জাক। এবছর বোরো মৌসুমে সরকার ১০ লাখ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল, দেড় লাখ টন আতপ চাল এবং দেড় লাখ টন বোরো ধান এবং ৫০ হাজার মেট্রিক টন গম কেনার সিদ্ধান্ত নেয়। ঠিক হয়, ২৫ এপ্রিল থেকে প্রতিকেজি ধান ২৬ টাকা এবং প্রতি কেজি চাল ৩৬ টাকায় কিনবে সরকার। কিন্তু সরকারিভাবে ধান-চাল ক্রয় শুরু হতে দেরির কারণে ফড়িয়ারা সেই সুযোগ নেয়। তারা ইচ্ছামতো দাম নির্ধারণ করলে ধান নিয়ে অসহায় অবস্থায় পড়েন কৃষকরা। উৎপাদন খরচ না ওঠায় অসন্তোষ থেকে পাকা ধানে কৃষকের আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। এই পরিস্থিতিতে কৃষকদের বাঁচাতে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে মন্ত্রণালয়কে বেশি ধান কেনার ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করে খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। পাশাপাশি চাল আমদানি নিরুৎসাহিত করতে শুল্ক বাড়ানো হয়। খাদ্যমন্ত্রী জানান, এখন পর্যন্ত কৃষকের কাছ থেকে ৩০ হাজার টন বোরো ধান কেনা হয়েছে। এক লাখ ২০ হাজার টন ধান কেনা এখনও বাকি আছে। আরও দেড় লাখ টন ধান কেনার সিদ্ধান্ত হওয়ায় এবার সব মিলিয়ে মোট চার লাখ টন বোরো ধান কৃষকের কাছ থেকে কিনবে সরকার।...

এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল ২০ থেকে ২২ জুলাইয়ের মধ্যে

২৬জুন২০১৯,বুধবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের সম্ভব্য তিনটি তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী ২০, ২১ বা ২২ জুলাই ফল প্রকাশ করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব দিয়েছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড। এ বিষয়ে জানতে চাইলে আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের সভাপতি অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক বলেন, নিয়ম অনুযায়ী এইচএসসি পরীক্ষা শেষে ৬০ দিনের মধ্যে ফল প্রকাশ করা হয়। সেই হিসেবে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের জন্য ২০ থেকে ২২ জুলাই- তিনটি তারিখ প্রস্তাব করা হয়েছে।প্রধানমন্ত্রী সময় দিয়ে যে তারিখে সম্মতি দেবেন, সেদিনই ফল প্রকাশ করা হবে। তিনি আরও বলেন, প্রতিবছরের মতো এবছরও প্রধানমন্ত্রীর কাছে ফলাফলের অনুলিপি তুলে দেয়া হবে। পরে সংবাদ সম্মেলন করে ফলের বিস্তারিত তুলে ধরা হবে। এরপর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ফল প্রকাশ করা হবে। ...

পাবলিক পরীক্ষায় পাসের নম্বর বাড়ল

১৭জুন২০১৯,সোমবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: এবার পাবলিক পরীক্ষায় পাসের নম্বর ৩৩ থেকে বাড়িয়ে ৪০ নির্ধারণ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। আর এই উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন মহল থেকে বলার চেষ্টা করা হচ্ছে, দেশে শিক্ষার মান পড়ে যাচ্ছে। তবে সরকার মনে করে এ তথ্য সঠিক নয়। এ জন্য পাস নম্বর বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া পৃথিবীর বহু উন্নত দেশে পাস নম্বর ৪০ নির্ধারিত রয়েছে। ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ২০০১ সাল থেকে পাবলিক পরীক্ষায় গ্রেডিং সিস্টেম চালু করা হয়। এ পদ্ধতি চালুর পর থেকে প্রতি বছর পাবলিক পরীক্ষায় পাসের হার বাড়ছে। পাশাপাশি নতুন এই ব্যবস্থায় উত্তরপত্রে শিক্ষকদের নম্বর দেওয়ার প্রবণতাও আগের থেকে বেড়েছে। পরীক্ষার্থীরা এখন পরীক্ষায় আগের থেকে বেশি নম্বর পাচ্ছে। এসব বিষয় মাথায় রেখে পরীক্ষায় পাস নম্বর ৪০ করার চিন্তা-ভাবনা করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এসএসসি, এইচএসসি, জেএসসি ও প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় পাসের হার প্রতি বছর বাড়ছে। এ কারণে শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অভিযোগ করে আসছেন, পাসের হার ও জিপিএ-৫ বাড়লেও শিক্ষার মান সেই অর্থে বাড়ছে না। এসব কারণে কয়েক বছর ধরে শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নানা ধরনের প্রশ্ন তুলে আসছেন। ...

পাকিস্তানের জয়ে চাপ বাড়ল বাংলাদেশের

২৭জুন২০১৯,বৃহস্পতিবার,ক্রীড়া ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ১৯৯২ বিশ্বকাপের পথেই হাঁটছে পাকিস্তান! সেবার দলটির প্রথম ছয় ম্যাচের ফলের সঙ্গে হুবহু মিল রয়েছে এবার। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সপ্তম ম্যাচেও সাদৃশ্যটা বজায় রাখলেন সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ৯২ বিশ্বকাপে নিজেদের সপ্তম ম্যাচে দাপুটে জয় তুলে নিয়ে সেমিফাইনালে খেলার আশা বাঁচিয়ে রেখেছিলেন ইমরান খান বাহিনী। এজবাস্টনেও ঠিক একই পথে হাঁটলেন সরফরাজ আহমেদ ব্রিগেড। কিউইদের ৬ উইকেটে হারিয়ে সেমিতে খেলার স্বপ্ন জিইয়ে রাখলেন তারা। এ জয়ে কাণ্ডারির ভূমিকা পালন করেন বাবর আজম। দারুণ ব্যাটিংয়ে তুলে নেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারে দশম সেঞ্চুরি। ইনিংসের শেষ পর্যন্ত ব্যাটিং করে ১২৭ বলে ১০১ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। সেঞ্চুরিয়ান বাবরকে যোগ্য সঙ্গ দেন হারিস সোহেল। ৭৬ বলে ৬৮ রানের ঝলমলে ইনিংস খেলেন তিনি। তাতে আরামসে নিউজিল্যান্ডের দেয়া ২৩৮ রানের টার্গেট টপকে যায় পাকিস্তান। বল হাতে মাত্র ২৮ রান খরচায় ৩ উইকেট নিয়ে কিউইদের অল্প রানে বেঁধে রাখেন শাহীন আফ্রিদি। স্বভাবতই দুই কিউই জেমস নিশামের হার না মানা লড়াকু ৯৭ এবং কলিন ডি গ্র্যান্ডহোমের ৬৪ রানের ইনিংসটি কার্যত কোনো কাজেই আসেনি। দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার পর দুর্দান্ত কামব্যাক করেছে পাকিস্তান। একপেশে জয়ে সাত ম্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের ছয়ে উঠে এসেছে আনপ্রেডিক্টেবল দলটি। তাদের (-০.৯৭৬) সমান পয়েন্ট নিয়ে রানরেটে এগিয়ে থাকায় টেবিলের পাঁচে বাংলাদেশ (-০.১৩৩)। তবে পাকিস্তানের এ জয়ে টাইগারদের ওপর চাপ কিছুটা হলেও বাড়ল। দুদলেরই পয়েন্ট সমান, হাতেও রয়েছে সমান দুটি করে ম্যাচ। অর্থাৎ সেমিতে ওঠার দৌড়ে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করতে হবে উভয় দলকে। ...

ইতিহাস গড়ে এক লাফে পাঁচে বাংলাদেশ

১৮ জুন২০১৯,মঙ্গলবার,ক্রীড়া ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ইশ, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে যদি বৃষ্টি না আসতো! নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে যদি আরও ২৫-৩০ রান করতে পারতাম! বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা হয়তো আফসোস করছেন, আর কপাল চাপরাচ্ছেন। এই দুই দলের বিপক্ষে যদি অধিনায়কের ভাবনা অনুযায়ী হতো বাংলাদেশ স্বাগতিক ইংল্যান্ডের উপরেই অবস্থান করতো। প্রকৃতির লীলা খেলার কাছে আফসোস করে কীইবা হবে। যা হওয়ার তা হয়ে গেছে। এখন সামনে এগোনোর পালা। প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে জয়। দ্বিতীয় ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আক্ষেপের হার। তৃতীয় ম্যাচে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের কাছে বিব্রতকর হারে দিশেহারা হয়ে পড়ে বাংলাদেশ শিবির। তার মধ্যে বাতিল হয় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচ। দ্বীপরাষ্ট্রটির বিপক্ষে বাংলাদেশ নিশ্চিত পয়েন্ট ধরে রেখেছিল! এতে আরও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন মাশরাফীরা। দরকার ছিল একটি জয়ের। এই একটি জয়ই বদলে দিতে পারে সব। গতকাল সোমবার টনটনে ক্যারিবীয়দের সঙ্গে জয় পাল্টেও দিয়েছে সব! নানা আলোচনা-সমালোচনা, কত জল্পনা-কল্পনা সব ধুলোয় নিঃশেষ হয়ে গেছে একটি মাত্র জয়ে। এই জয়ে বাংলাদেশ পয়েন্ট টেবিলে আট নম্বর থেকে এক লাফে উঠে আসে পাঁচ নম্বরে। বাংলাদেশের সামনে আছে ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, ভারত ও অস্ট্রেলিয়া। পাঁচ ম্যাচে দুই জয় ও এক হারে বাংলাদেশের পয়েন্ট পাঁচ। টাইগাররা একটি পয়েন্ট পেয়েছে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাতিল হওয়া ম্যাচটি থেকে। এই ম্যাচটি যদি হতো পয়েন্ট টেবিলে মাশরাফীদের অবস্থান আরও উঁচুতে থাকতো। তবে সবচেয়ে আনন্দের বিষয় হচ্ছে ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে পাওয়া জয়ে বাংলাদেশ ফিরে এসেছে বিশ্বকাপের কক্ষপথে। ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে বাংলাদেশ শুধু জয়ই পায়নি, ইতিহাসও সৃষ্টি করেছে। রান তাড়া করে (৩২১) বিশ্বকাপ ইতিহাসে টাইগারদের সবচেয়ে বড় জয়। বিশ্বকাপের ইতিহাসে রান তাড়া করে জয়গুলোর মধ্যে এটি দ্বিতীয় জয়। টনটনে সাকিবের অপরাজিত সেঞ্চুরি (১২৪*) সঙ্গে লিটন দাসের ঝোড়ো হাফসেঞ্চুরিতে (৯৪*) ইতিহাস গড়তে পারে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের সামনে এখন আফগানিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, ভারত ও পাকিস্তান। সেমিফাইনালে যেতে হলে বাংলাদেশকে তিনটি দলকে হারাতেই হবে। যদি দুটি ম্যাচ জেতে তাহলে জটিল সমীকরণের সামনে পড়তে হবে। সেক্ষেত্রে শেষ চারে যাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে যাবে। তবে ক্রিকেট মাঠের খেলা, মাঠে সেরাটা দিতে পারলে বদলে যাবে কাগজ-কলমের সব হিসেব-নিকেশ। বাংলাদেশের পরবর্তী খেলা চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। স্মিথ-ওয়ার্নারদের বিপক্ষে খেলতে নামার আগে সাকিবদের টনিক হিসেবে কাজ করবে ক্যারিবীয়দের পক্ষে পাওয়া এই জয়। আগামী বৃহস্পতিবার চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রলিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামবে টাইগাররা। সাকিব-লিটনরা এমন ফর্ম ধরে রাখতে পারলে অজিদের হারানোও অসম্ভব কিছু হবে না! ...

ন ডরাই ,মুক্তি পাবে অক্টোবরে

২১ জুন২০১৯,শুক্রবার,বিনোদন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম:বৃহস্পতিবার ছিল বিশ্ব সার্ফিং দিবস। আর প্রথমবারের মত সার্ফিং নিয়ে সিনেমা নির্মিত হয়েছে বাংলাদেশে। ছবিটি প্রযোজনা করেছে স্টার সিনেপ্লেক্স। গতকাল সন্ধ্যায় রাজধানীর স্টার সিনেপ্লেক্সে ছিল এ ছবির বাংলা নাম ও অফিসিয়াল পোস্টার উন্মোচন অনুষ্ঠান। ছবির নামে দেখা গেল আঞ্চলিকতার রেশ আর পোস্টারে পাওয়া পগল ভিন্নতার স্বাদ। ইংরেজি নাম ডেয়ার টু সার্ফ হলেও এ ছবির বাংলা নাম রাখা হয়েছে ন ডরাই। এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ছবির পরিচালক তানিম রহমান অংশু, দুই মূল অভিনয়শিল্পী সুনেরা বিনতে কামাল, শরীফুল রাজ, ছবির প্রযোজক ও স্টার সিনেপ্লেক্সের চেয়ারম্যান মাহবুব রহমানসহ অনেকে। ছবির চিত্রনাট্য লিখেছেন কলকাতার শ্যামল সেনগুপ্ত।অনুষ্ঠান শেষে ন ডরাই ছবির টিজারও দেখানো হয়। স্টার সিনেপ্লেক্সের চেয়ারম্যান মাহবুব রহমান জানান, ছবিটি আন্তর্জাতিকভাবে বিভিন্ন উৎসবে প্রদর্শীত হবার পাশাপাশি আগামী অক্টোবরে দেশের প্রেক্ষাগৃহেও মুক্তি পাবে। ...

বাঁচানো গেলো না কণ্ঠশিল্পী অভিকে

২০জুন২০১৯,বৃহস্পতিবার,বিনোদন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: রাজধানীর বংশালে মকিম বাজার কবরস্থানে দুর্বৃত্তদের হামলায় আহত কণ্ঠশিল্পী মোহাম্মদ উল্লাহ অভি নিরব মারা গেছেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার রাত সাড়ে ৭টায় তার মৃত্যু হয়। ঢামেক পুলিশ ক্যাম্পের পুলিশ পরিদর্শক মো. বাচ্চু মিয়া এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক মর্গে রাখা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) সকাল আটটায় মকিম বাজার কবরস্থানের মধ্যে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে অভির বন্ধু আঁখির কাজের মেয়ে পরিবারকে খবর দেয়। পরে বংশাল থানা পুলিশের সহযোগিতায় প্রথমে তাকে মিটফোর্ড হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখান থেকে পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেন স্বজনরা।...

শত বছরের পুরোনো দুর্গাবাড়ী

বাঙালি হিন্দু সমাজের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয়া দুর্গোৎসব। আর এই পুজোয় আপনিও ঘুরে আসতে পারেন সিলেটের শত বছরের পুরোনো দুর্গাবাড়ী থেকে। আর খরচের কথা ভাবছেন, মাত্র ৮০০ টাকা।শোনা যায় কলকাতার পাথরঘাটা নামক স্থানের এক সম্ভ্রান্ত জমিদার এই দুর্গাবাড়ী প্রতিষ্ঠান করেন। এই ব্যাপারে ব্রজেন্দ্র নারায়ণ চৌধুরী সম্পাদিত স্মৃতি প্রতিতি নামক বই এ উল্লেখ আছে। ব্রজেন্দ্র নারায়ণ চৌধুরী ছিলেন সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের প্রতিষ্ঠাতা। স্বদেশি আন্দোলনে অনেক বীর এখানে এসে মায়ের পায়ে নিজের রক্ত দিয়ে প্রতিজ্ঞা করতেন নিজের আদর্শ থেকে এক চুলও বিচ্যুত হবেন না। স্বদেশকে পরাধীনতা থেকে মুক্ত করেই তবে ঘরে ফিরবেন।টিলার ওপর মূল মন্দির অবস্থিত। অর্ধশত সিঁড়ি ডিঙিয়ে আপনাকে পৌঁছাতে হবে মূল মন্দিরে। মূল মন্দিরে স্থাপিত দুর্গা প্রতিমা শত বছর ধরে পুজিত হয়ে আসছেন। পাশেই আছে আপনার বসার জন্য জায়গা। এর সাথেই আছে শিব মন্দির। টিলার থেকে দূরের দৃশ্য আপনাকে অভিভূত করবে। পূজার সময় ধূপ-ধূনার মোহনীয় গন্ধ আপনাকে নিয়ে যাবে এক অন্য জগতে।কীভাবে যাবেন,দুর্গাবাড়ী মন্দির যেতে হলে আপনাকে বাস/টেনে করে আসতে হবে সিলেট শহরে। প্রতিদিন ঢাকা থেকে সিলেটের উদ্দেশে বাস/ট্রেন ছাড়ে, ভাড়া পড়বে ৩২০ টাকা থেকে এক হাজার ২০০ টাকা। সিলেট শহরের যেকোনো প্রান্ত থেকে দুর্গাবাড়ী যাব বললেই আপনাকে নিয়ে যাবে শত বছরের পুরোনো দুর্গাবাড়িতে। রিকশা/সিএনজি ভাড়া নেবে ৮০ থেকে ১৫০ টাকা।...

ঈদের ছুটিতে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে

বর্ষা মৌসুম তারপরও ঈদের ছুটিতে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে ছুটে আসছেন পর্যটকরা। তাদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত কক্সবাজার। সৈকত শহরের ৪ শতাধিক হোটেল-মোটেল-গেষ্টহাউজ ও কটেজ কর্তৃপক্ষের প্রস্তুতিও শেষ। আর পর্যটকদের নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশও। রমজানে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার পর্যটক শূন্য থাকলেও ঈদের ছুটিতে ভ্রমণ পিপাসুদের ঢল নামে এই সৈকতে। বর্ষা মৌসুম হওয়ায় প্রথমে পর্যটকের সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল কক্সবাজারে। তবে সব আশঙ্কাকে উড়িয়ে দিয়ে এরই মধ্যে হোটেল-মোটেল-গেস্ট হাউস ও কটেজের প্রায় ৮০ শতাংশ কক্ষ বুকড হয়ে গেছে। আর ব্যবসায়ীরাও নতুন সাজে সাজিয়েছেন তাদের প্রতিষ্ঠান। হোটেল কর্তৃপক্ষও পর্যটকদের নানান সুযোগ-সুবিধা দেয়াসহ শেষ করছে যাবতীয় প্রস্তুতি। তারা আশা , প্রতি বছরেই মতো এবারও ঈদের ছুটিতে ভালো ব্যবসা হবে। বর্ষা মৌসুম তাই সাগর উত্তাল থাকবে। এক্ষেত্রে অনাকাঙ্কিত দুর্ঘটনা এড়াতে পর্যটকদের সমুদ্রে স্নান ও নিরাপত্তায় কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানালেন হোটেল ওনার্স এসোসিয়েশনের এ নেতা। কক্সবাজার হোটেল ওনার্স এসোসিয়েশনের মুখপাত্র মো. সাখাওয়াত হোসাইন জানান, 'সমুদ্র উত্তাল থাকবে। এখানে লাইফগার্ড ও পুলিশ ট্যুরিস্টদের তৎপরতাটা বৃদ্ধি করলে আমার মনে হয়, যারা কক্সবাজারে আসবেন তারা নিবিঘ্নে এখান থেকে ফিরতে পারবেন।' আর ট্যুরিস্ট পুলিশের এ কর্মকর্তা জানালেন, ঈদের ছুটিতে পর্যটকরা যাতে স্বাচ্ছন্দ্যে কক্সবাজার ভ্রমণ করতে পারে সেজন্য সব ধরণের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।...

হিন্দু মুসলমানের এই বিদ্বেষের অবসান কবে হবে?

২১জুন২০১৯,শুক্রবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: উপমহাদেশের রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীরা নির্বাচনে জিতে সাংসদ হিসেবে কাজ শুরু করার প্রাক্কালে আল্লাহ, ভগবান, ঈশ্বরের নামে শপথ করেন যে অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে কর্তব্য পালন করবেন। যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থা আরও ভয়াবহ। ওখানে বাইবেল, কোরআন ইত্যাদি ধর্মগ্রন্থের ওপর হাত রেখে সাংসদদের শপথ করতে হয়। সাংসদদের ব্যক্তিগত ধর্ম-বিশ্বাস রাষ্ট্র পরিচালনায় আদৌ কি কোনও ভূমিকা রাখে? ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে ভারতের উচিত ধর্মীয় বিশ্বাসের চেয়ে সংবিধানে বিশ্বাসের ওপর গুরুত্ব দেওয়া। যে সাংসদ রাষ্ট্রের সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, যে সাংসদ জনগণের সেবা করতে চান, কারণ তিনি দেশকে ভালোবাসেন, সমাজের উন্নতি চান, মানুষের সুশিক্ষা, সুস্বাস্থ্য এবং সুনিরাপত্তা চান, তাঁর কারও নামে শপথ করতে হয় না, তিনি দেশ ও দশের সেবায় নিজেই ঝাঁপিয়ে পড়েন কোনও রকম শপথ ছাড়াই। যাঁরা ঝাঁপিয়ে পড়েন, আদর্শের কারণেই পড়েন। কথার খেলাপ করলে ঈশ্বর শাস্তি দেবেন, এই ভয়ে কেউ জনগণের সেবা করেন না। যাঁরা ঈশ্বরের নামে শপথ করে সাংসদ হিসেবে কাজ শুরু করেন, তারা কি তাঁদের শপথ ভাঙেন না? অহরহই ভাঙেন। এমন নয় যে তারা এমনই গোঁড়া ধার্মিক যে শপথ করেছেন কখনও অন্যায় করবেন না, তাই অন্যায় করবেন না। তাঁরা কিন্তু বারবারই ঈশ্বরের নামে করা শপথ ভেঙে তাদের ঈশ্বরকে অপমান করছেন বারবার, শপথকে অর্থহীন করছেনই। শপথ প্রক্রিয়ায় ধর্ম বা ঈশ্বরকে আনারই তো দরকার নেই, বিশেষ করে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে। এখনও যে-সব দেশে রাজতন্ত্র বজায় আছে, এখনও সেসব দেশে রাজা রানীকে সেবা করার শপথ নেন সাংসদগণ। কোথাও কোথাও রাষ্ট্রপতিকে মেনে চলার শপথ নেওয়া হয়। ধর্ম থেকে রাষ্ট্রকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করেও ইউরোপের কিছু কিছু দেশ এখনও ঈশ্বরের নামে শপথ নিচ্ছে। অথবা দেশ সেবার জন্য ঈশ্বরের সাহায্য চাইছে। ভালো যে পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোতে আজকাল শপথ নিতে গেলে ঈশ্বরের নামে শপথ নিতে হয় না। ওদিকে বেশির ভাগ মুসলিম রাষ্ট্রে আল্লাহর নামে শপথ নেওয়া হয়। সেদিন ভারতের নতুন সাংসদগণ শপথ করার সময় নিজ নিজ ধর্ম বিশ্বাসের স্লোগান দিলেন। রাজনীতি ক্রমশ স্লোগানসর্বস্ব হয়ে উঠছে। কেউ বললেন, জয় শ্রীরাম, কেউ বললেন আল্লাহু আকবর। সংসদকে কি অন্তত ব্যক্তিগত ধর্ম বিশ্বাস থেকে আলাদা করা যায় না? ভারতে বিভিন্ন লোকের বিভিন্ন ভগবান। কেউ রামে বিশ্বাস করেন তো কেউ গণেশে, কেউ দুর্গায়, কেউ হনুমানে। কিন্তু সর্বত্র ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে উত্তর ভারতীয় হিন্দু মৌলবাদীদের স্লোগান। সংসদকে ধর্ম থেকে দূরে রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ। ভারতীয় উপমহাদেশ ধর্মের কারণে বিভক্ত হয়েছে, এখনও ধর্মীয় মৌলবাদ আর সন্ত্রাস বড় একটি সমস্যা। পাকিস্তানে, বাংলাদেশে ধর্মীয় মৌলবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে বলে সংখ্যালঘু, অসাম্প্রদায়িক মানুষ এবং নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতই নষ্ট হচ্ছে। ভারতের কাশ্মীরে মুসলিম সন্ত্রাসীদের নিয়ে সমস্যা চলছেই, নতুন উপদ্রপ মুসলিম কট্টরপন্থিদের ধরনে গড়ে ওঠা হিন্দু কট্টরপন্থি। তারা মানুষের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থানের অধিকার, সুশিক্ষা, সুস্বাস্থ্যের অধিকার, সকলের সর্বত্র নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার, স্বাধীনভাবে নিজের মত প্রকাশ করার অধিকার দাবি করে স্লোগান দেওয়ার চেয়ে ধর্মের স্লোগান দিতে বেশি আগ্রহী। এ কারণে রাজনীতিকরাও ভোটদাতাদের সন্তুষ্ট করার জন্য ধর্মের সেবা করতেও আগ্রহী হয়ে পড়েন। অথবা রাজনীতিকরাই জনগণকে উৎসাহ দেন ধর্মকে সবার ওপরে স্থান দেওয়ার জন্য। এতে করে জনহিতকর কাজের দায়িত্বও কমে যায় সরকারের, শুধু ধর্মের গোড়ায় জল ঢাললেই, দেখেছে বেশ জনপ্রিয় হওয়া যায়। কিছু কিছু রাজনৈতিক দল সংখ্যালঘুর দেখভাল করতে গিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুর কথা ভুলেই গিয়েছিল। তাদেরও যে অস্তিত্ব আছে, তারাও যে জনতা, তারাও যে ভোটার, ভুলেই গিয়েছিল। এবার হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে তাদের ভুলে গেলে তারাও একদিন না একদিন রুখে ওঠে। রাজনৈতিক দলগুলোকে সেই ভুলে যাওয়ার খেসারত দিতে হয়েছে। হিন্দুর স্বার্থ রক্ষা করার প্রশ্ন উঠলেই হিন্দুত্ববাদী বলে গালি দেওয়ার একটি রেওয়াজ শুরু হয়েছে, কিন্তু যে হিন্দুরা চায় তাদের ঘাড়ের ওপর চড়ে মুসলিম মৌলবাদীদের তোষণ বন্ধ হোক, তারা হিন্দু রাষ্ট্র কায়েম করার জন্য তো আদা-জল খেয়ে লাগেনি। ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র না চেয়ে যারা হিন্দু রাষ্ট্র চাইছে, তাদের বরং হিন্দু মৌলবাদী বলা যায়। যদি হিন্দু রাষ্ট্র কায়েমের জন্য হিন্দু মৌলবাদীরা সন্ত্রাসী হয়ে উঠতো, অহিন্দুদের নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার জন্য খুন খারাবি করতো, তাহলে শুধু তাদের হিন্দুরাষ্ট্রবাদী বলা মানায়, তার আগে নয়। তাছাড়া হিন্দুদের বিরুদ্ধে বৈষম্য যদি যুগের পর যুগ ঘটতে থাকে, এক সময় বৈষম্যের বিরুদ্ধে রুখে ওঠার অর্থ এই নয় যে, হিন্দু রাষ্ট্র কায়েম করে মুসলমানদের মেরে ফেলো অথবা নির্বাসনদ- দাও। তারা নিতান্তই হিন্দুত্ববাদী। আজ যে জয় শ্রীরামের স্লোগান উঠছে উত্তর ভারতে, এমনকী চিরকালের ধর্মনিরপেক্ষ পশ্চিমবঙ্গে, তারও কারণ রাজনীতিকদের দীর্ঘকাল যাবৎ সাধারণ হিন্দু জনতার স্বার্থের কথা না ভেবে শুধু মোল্লা মৌলভীদের স্বার্থের কথা ভাবা। সাধারণ হিন্দুদের এই প্রতিক্রিয়াকে হিন্দুত্ববাদ বলে গালি দেওয়া উচিত নয়। আজও উপমহাদেশের সর্বত্র হিন্দু মুসলমানের সহাবস্থান শান্তিপূর্ণ করা সম্ভব হচ্ছে না। এটি যতদিন না করা সম্ভব হচ্ছে, ততদিন ধর্ম নিয়ে হিন্দু এবং মুসলমান দুই সম্প্রদায়ই মেতে থাকবে। এতে কারও সত্যিকার মঙ্গল হবে কিনা আমার সন্দেহ। যে দল হিন্দুদের অবহেলা করবে না, যে দলের কাছে হিন্দু ভোটের মূল্য আছে, সে দল আজ ভারতে তুমুল জনপ্রিয় এবং ক্ষমতায়। সবাই যে ভালোবেসে এই দলকে ভোট দিয়েছে তা নয়। ভোট দিয়েছে অন্য দলগুলোর বিরুদ্ধে যে দলগুলো এতকাল মোল্লা তোষণে বুঁদ হয়ে থেকেছে। ভারতেই একমাত্র দেখেছি বেশির ভাগ রাজনৈতিক দলই সংখ্যাগুরুর ভোট পাওয়ার চেয়ে সংখ্যালঘুর ভোট পাওয়ার পেছনে বেশি দৌড়োয়। হিন্দুদের মধ্য থেকে যে প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেল, তা রাজনীতিকদের টনক নড়িয়েছে যথেষ্ট। মানুষ হিসেবে সংখ্যাগুরু, সংখ্যালঘু, হিন্দু মুসলমান বৌদ্ধ খ্রিস্টান ইহুদি শিখ নাস্তিক সংশয়বাদী সাদা কালো ধনী গরিব সকলকে সমান মূল্য দেওয়া উচিত। ধর্ম, ধন, শ্রেণি বা জাত দেখে মূল্য কম বেশি করা খুব বড় অপরাধ। এই অপরাধ সব রাজনীতিকই করছেন। কিন্তু তাঁরা কখনও স্বীকার করবেন না যে করছেন। পাকিস্তানে খ্রিস্টান এবং হিন্দুরা মোটেও নিরাপদ নয়। ভারতে আজকাল কিছু হিন্দুর মধ্যে মুসলিম-ঘৃণা বাড়ছে। গরু খাওয়ার অপবাদ দিয়ে তারা কিছু মুসলমানকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে। হিন্দু মুসলমানের এই বিদ্বেষের অবসান কবে হবে? যে বিদ্বেষ কমানোর জন্য এত বড় দেশকে দু-টুকরো করা হলো, আজ সত্তর বছর হয়ে গেল দেশ ভাগ হয়েছে, তারপরও বিদ্বেষ কমেনি বিন্দুমাত্র! পরস্পরের প্রতি এই ঘৃণা এবং বিদ্বেষ কি কৃত্রিমভাবে সৃষ্টি করা, নাকি এই বিদ্বেষ একেবারেই মৌলিক বিদ্বেষ, যার আদৌ কোনও সমাধান নেই! এভাবে হিন্দু মুসলমান যদি পরস্পরের জাতশত্রু হয়েই থেকে যায় যুগের পর যুগ, তাহলে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে আর যা কিছুই প্রতিষ্ঠিত হোক, শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে না। কিন্তু কোনও ঘৃণা কোনও দিনই শেষ হওয়ার নয়, কোনও বিদ্বেষের কোনও দিনই ইতি ঘটবে না এ আমি বিশ্বাস করি না। পৃথিবীতে বার বারই মানুষ প্রমাণ করেছে যে কোনও বিদ্বেষেরই ইতি ঘটে। ছোটবেলায় রাস্তার মিছিলে হেঁটে হেঁটে আমিও আর সবার মতো বলতাম, অন্ন চাই, বস্ত্র চাই, বাঁচার মতো বাঁচতে চাই। সবার জন্য স্বাস্থ্য বা সবার জন্য শিক্ষার ব্যবস্থা না হলে মানবো না, মানবো না স্লোগান দিয়ে শহর কাঁপাতাম। সময় বদলে গেছে। আজকাল অধিকারের দাবির চেয়ে ধর্মের দাবি বা ধর্মের স্লোগান বেশি উচ্চারিত হচ্ছে। ধর্ম গেলানোর মতো সহজ কাজ আর কিছুই নয়। কঠিন কাজ হলো জনগণের জীবনযাপনের মান উন্নত করা, জনগণকে শিক্ষিত এবং সচেতন করা, জনগণকে কাজ দেওয়া, কাজ করার পরিবেশ দেওয়া, যাবতীয় বৈষম্য দূর করা। রাজনীতিকদের সহজ কাজটি করতে না দিয়ে বরং কঠিন কাজটিই করতে দেওয়া উচিত।তসলিমা নাসরিন...

বাংলাদেশের গণমাধ্যম খুব বেশি স্বাধীন নয়,ফ্রিডম হাউজের প্রতিবেদন

৮জুন২০১৯,শনিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম:রাজনৈতিক স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা সংস্থা ফ্রিডম হাউজ সমপ্রতি বিশ্বজুড়ে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এই পর্যবেক্ষণ সংস্থা বিশ্বের দেশগুলোতে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর ০ থেকে ৪ পয়েন্ট ধরে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে। এতে বাংলাদেশ পেয়েছে ১ পয়েন্ট। অপরদিকে গণমাধ্যমের সবথেকে বেশি স্বাধীনতা নিশ্চিতকারী দেশগুলো পেয়েছে ৪ পয়েন্ট। এর মধ্যে রয়েছে সুইডেন, যুক্তরাষ্ট্র, বৃটেন, উরুগুয়েসহ মোট ২৬টি দেশ। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারত পেয়েছে ২ পয়েন্ট, পাকিস্তান ১ পয়েন্ট, নেপাল ২ পয়েন্ট, ভুটান ২ পয়েন্ট, আফগানিস্তান ২ পয়েন্ট, মালদ্বীপ ১ পয়েন্ট ও শ্রীলঙ্কা ২ পয়েন্ট। বাংলাদেশের বিষয়ে এই প্রতিবেদনে বলা হয়, এদেশের গণমাধ্যম খুব বেশি স্বাধীন নয়। এতে চিত্রগ্রাহক শহিদুল আলমকে গ্রেপ্তারের কথা উল্লেখ করা হয়। বলা হয়, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের খবর প্রচার করায় ও তাদের পক্ষে কথা বলায় শহিদুল আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। বাংলাদেশে ব্লগার হত্যা ও তাদের লেখালেখির ওপর কড়াকড়ির সমালোচনা করেছে ফ্রিডম হাউজ। সংস্থাটির দাবি, বাংলাদেশের সাংবাদিকরা সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা হারানো, গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের ভয়ে সেলফ-সেন্সরশিপের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। ফ্রিডম হাউজের গবেষণা ও বিশ্লেষণ বিভাগের জ্যেষ্ঠ পরিচালক সারাহ রেপুচ্চি গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে নিম্নমুখী রাস্তার সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি এ গবেষণায় উঠে আসা প্রধান দিকগুলো নিয়ে আলোচনা করেছেন। এতে তিনি লিখেছেন, গত এক দশকে বিশ্বব্যাপী গণমাধ্যমের স্বাধীনতা উল্লেখযোগ্য মাত্রায় সংকুচিত হয়েছে। বিশ্বের প্রভাবশালী গণতন্ত্রগুলোতে পপুলিস্ট নেতাদের উত্থান হয়েছে। যারা মুক্ত গণমাধ্যমের গলা চিপে ধরছে। তবে, বিশ্বব্যাপী গণমাধ্যমের স্বাধীনতা শুধু সংকুচিতই হয়নি কিছু দেশে এ অবস্থার উন্নতিও লক্ষ্য করা গেছে বলে জানিয়েছে ফ্রিডম হাউজ। এসব দেশের মধ্যে রয়েছে- ইথিওপিয়া, মালয়েশিয়া, আর্মেনিয়া, ইকুয়েডর ও গাম্বিয়া। এই ৫টি দেশকে অন্ধকারে আলোর পথযাত্রী হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন সারাহ রেপুচ্চি। এ ছাড়া, আরব বসন্তের পর মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা পূর্বের তুলনায় বেড়েছে বলে জানিয়েছে ফ্রিডম হাউজ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বে কর্তৃত্ববাদী সরকার ও প্রভাবশালী মহলের চাপেই গণমাধ্যমের স্বাধীনতা দিনদিন হুমকির মুখে পড়ছে। সাংবাদিকরা নানান ধরনের বাধার মুখোমুখি হচ্ছেন। তাদের ওপর গ্রেপ্তার ও নির্যাতন বাড়ছে বলেও জানানো হয়েছে ওই প্রতিবেদনে। তবে দুর্বল গণতন্ত্র ও নতুন গণতন্ত্রের দেশগুলোতে সবথেকে বেশি চাপের মুখে রয়েছেন তারা। এ ছাড়া চীন ও আফ্রিকার কয়েকটি দেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে শোচনীয় বলে উল্লেখ করেছে ফ্রিডম হাউজ। তাদের তালিকায় চীন পেয়েছে শূন্য পয়েন্ট। সংস্থাটির দাবি, চীন ও আফ্রিকার কয়েকটি দেশের সরকার তাদের গণমাধ্যমগুলোকে নিজস্ব মতামত চাপিয়ে দিচ্ছে। চীনে সরকারের মতবাদ প্রকাশে সাংবাদিকদের ওপর চাপ দেয়া হচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে এ প্রতিবেদনে। এ ছাড়া চীনের প্রতি সংবাদ সেন্সরের অভিযোগও আনে ফ্রিডম হাউজ। ইউরেশিয়া অঞ্চলের দেশগুলোর বিষয়ে বলা হয়েছে, ২০১৪ সালের তুলনায় এ অঞ্চলের দেশগুলোতে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ১১ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাংবাদিকদের নানা সুবিধা থাকা সত্ত্বেও তারা কিছুটা চাপ অনুভব করেন বলে এই প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়। এ নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।...

সিএমএইচর ক্রিটিক্যাল ইউনিটে ভর্তি এরশাদ

২৬জুন২০১৯,বুধবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: রক্তে হিমোগ্লোবিন ও লিভারের সমস্যায় শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। আজ বুধবার সকালে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ক্রিটিক্যাল ইউনিটে তাকে ভর্তি করা হয়। জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও এরশাদের ছোট ভাই জি এম কাদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, সম্প্রতি সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরে রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল থেকেই চিকিৎসা নিচ্ছিলেন তিনি। তবে এরশাদের ব্যক্তিগত কর্মকর্তারা জানান, স্যার রুটিন চেকআপের জন্য নিয়মিত সিএমএইচে যান। সেখানে তার চিকিৎসা হয়। যখন খারাপ লাগে তখনই উনি সিএমএইচে যান। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এরশাদের রক্তে হিমোগ্লোবিন উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা জানান চিকিৎসকরা।...

বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় ভাঙচুর

২৫জুন২০১৯,মঙ্গলবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় ভাঙচুর করেছে বিক্ষুব্ধ ছাত্রদল নেতাকর্মীরা। মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। জানা যায়, দুপুরের দিকে বিক্ষুব্ধ ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা কার্যালয়ে প্রবেশ করতে গেলে বাধা পেয়ে এই ভাঙচুর চালায়। তারা কার্যালয়ের টেবিল ও সিসি ক্যামেরা ভাঙচুর করে। এ সময় বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের কয়েকজন আহত হয়। আহত মাহবুব ইমতিয়াজ নামের বিক্ষুব্ধ ছাত্রদলের কর্মী অভিযোগ করে বলেন, ডাকসুর জিএস প্রার্থী অনিক এবং এজিএস প্রার্থী সোহেল তার ওপর ভাঙা কাঁচ নিক্ষেপ করে। এতে তিনিসহ কয়েকজন রক্তাক্ত হন। এদিকে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের প্রধান ফটকে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের অবস্থানের ফলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবুসহ শতাধিক নেতাকর্মী অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। এর আগে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারসহ বয়সসীমা তুলে দিয়ে নিয়মিত কমিটির দাবিতে আন্দোলন শুরু করেছে বিক্ষুব্ধ ছাত্রদল নেতাকর্মীরা। এসময় হাজারো নেতাকর্মীর একটি মিছিল নিয়ে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আসেন তারা। কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন।-আলোকিত বাংলাদেশ...

ধর্ষণ প্রতিরোধক শাড়ি এখন বাজারে!

১৬মে,বৃহস্পতিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে উন্নত হচ্ছে সমাজ। কিন্তু মানসিকতায় বিশেষ পরিবর্তন আসেনি। তাই তো আজও মহিলাদের ধর্ষিতা হওয়ার জন্য দায়ি করা হয় তাঁর পোশাককে। পোশাকই নাকি সমাজে ধর্ষকের জন্ম দেয়। সমাজের সেই সব মানুষের চিন্তাধারায় সজোরে ধাক্কা দিতে বাজারে এল নতুন এক পোশাক। যা ধর্ষণ প্রতিরোধ করতে সক্ষম যে কোনও পরিস্থিতিতে। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছিল দিল্লির ঘটনার একটি ভিডিও। যেখানে এক মহিলাকেই স্পষ্ট বলতে শোনা গিয়েছে, খাটো পোশাকের মেয়েদের ধর্ষণ করা উচিত। আরও মজার বিষয় হল, মহিলার সপক্ষে অনেকেই সুর চড়িয়ে বলেন, খাটো পোশাক সত্যিই ধর্ষণের অন্যতম কারণ। অর্থাৎ তাঁদের মতে, মহিলারা আরও মার্জিত-ঢাকা পোশাক পরলেই ধর্ষণ সমস্যার সমাধান হবে। হায়! যদি এমনটাই হত, তবে তিন মাসের শিশুর ধর্ষণের খবর কি আর শিরোনামে উঠে আসত? কিংবা বোরখা পরিহিতার গায়ে কি কখনও যৌন হেনস্থার আঁচ লাগত? সেসব প্রশ্নের উত্তর অবশ্য অধরা। এ প্রসঙ্গ আপাতত থাক। তবে খাটো পোশাকের পালটা দিতে তরুণদের একটি দল হাজির করেছে সুপার সংস্কারি শাড়ি। নিজেদের ওয়েবসাইটে এই অদ্ভুত শাড়ির কথা ব্যাখ্যা করেছে তারা। তবে পুরোটাই মজা করে। তাঁদের মতে, পোশাকই যদি ধর্ষণের কারণ হয়, তবে এমন শাড়িই মহিলাদের পরা উচিত। তাহলেই মুশকিল আসান। মূলত দিল্লির ওই ঘটনার বিরোধিতা করতেই এমন উদ্যোগ। ওয়েবসাইটটিতে শাড়ির বিবরণে লেখা রয়েছে, এই পোশাকে রয়েছে ধর্ষণ-প্রতিরোধক প্রযুক্তি। শাড়িটি পরলে ধর্ষক ওই মহিলাকে দেখতেই পাবেন না। যৌনপিপাসুদের হাত থেকে বাঁচতে এই অত্যাধুনিক শাড়ি অবশ্যই নিজের কালেকশনে রাখুন। যখন আপনাকে দেখাই যাবে না, তখন ধর্ষণের কোনও আশঙ্কাও থাকবে না। যদিও বাস্তবে এ শাড়িতে এমন কিছুই নেই। আসলে মজার ছলেই সমাজের সেই সব মুখোশ পরা মানুষদের কটাক্ষ করতে চেয়েছে তরুণদের এই দল। হিংসাত্মক পথে না হেঁটে প্রতিবাদ জানিয়েছে হাস্যরসের মাধ্যমে৷ ওয়েবসাইটে বলা আছে, শাড়িগুলি অনলাইনে অর্ডারও করা যাবে। ১০০, ২০০, ৫০০ টাকা নানা মূল্যের শাড়ি রয়েছে। তবে নিছকই ব্যবসার জন্য শাড়িগুলি তারা বিক্রি করছে না। এই অর্থ সমাজের পিছিয়ে পড়া মেয়েদের শিক্ষার জন্য ব্যবহার করা হবে। যাতে হিংসার বিরুদ্ধে নিজেরাই রুখে দাঁড়াতে পারে তারা। তাই এই অর্থকে অনুদান বলতেই আগ্রহী ওই তরুণরা।...

মনে হয় তিনি স্বর্গে বাস করছেন

১০ মে,শুক্রবার ,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম : এশিয়ার সবচেয়ে মোটা নারী তকমাপ্রাপ্ত ভারতের মুম্বাইয়ের অমিতা রজনী নিজের ওজন ৩০০ কেজি থেকে ২১৪ কেজিই কমিয়ে ফেলেছেন। দেখতে কদাকার স্থুলকায় নারী থেকে তিনি এখন স্লিমফিট সুন্দরী।চার বছরে দুটি অস্ত্রোপচার এবং লাইফস্টাইল পরিবর্তনের মাধ্যমে তিনি তার ওজন কমিয়েছেন। ৩০০ কেজি থেকে কমে তার ওজন এখন মাত্র ৮৬ কেজি। ভারতের মুম্বাইয়ের এই নারীর চিকিৎসক বেরিয়াট্রিক সার্জন ডা. শশাঙ্ক শাহ জানিয়েছেন, ৪২ বছরের অমিতাই ছিলেন এশিয়ার সবচেয়ে মোটা নারী।দেশটির একটি গণমাধ্যমে দেয়া সাক্ষাত্কারে অমিতা রজনী বলেন, অস্ত্রোপচারের আগে তার জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছিল। পোশাক বদলানো বা সামান্য একটু হাঁটার জন্যও প্রয়োজন হতো সাহায্যের। টানা ৮ বছর শয্যাশায়ী ছিলেন তিনি।অমিতা বলেছেন, এই আট বছরে একদিনও বাড়ির বাইরে বের হননি, দেখেননি সূর্যের আলো। তাকে দেখলেই তার ভাইয়ের ৬ মাস বয়সী ছেলে কাঁদতে শুরু করতো। এখানেই শেষ নয়; মুটিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি কিডনির জটিলতা, ২ ডায়াবেটিস এবং শ্বাসকষ্ট ছিল তার।ভারতের লীলাবতী এবং হিন্দুজা হাসপাতালে দুবার বেরিয়াট্রিক সার্জারি হয় তার। অস্ত্রোপচারের পর ৩০ দিন চিকিৎসকরা পর্যবেক্ষণে রেখেছিলেন তাকে। এ সময় ফিজিওথেরাপি এবং ব্রিদিং এক্সারসাইজও চলতো।অমিতা জানিয়েছেন, এখন মনে হয় তিনি স্বর্গে বাস করছেন। সুস্থ হওয়ার পর ঘুরে দেখেছেন ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত।...

সকল ধর্মের মানুষের ঘরেই আলো ছড়ায় ঈদ

৪জুন২০১৯,মঙ্গলবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: রমজানের ঈদ এবং কোরবানির ঈদ নিয়ে প্রতিবছরই সংবাদপত্রে লেখা বেরোয়। একটি সংযমের মাস, অন্যটি ত্যাগের উৎসব। এই সংযম ও ত্যাগ নিয়ে আমিও কতবার লিখেছি, তার সীমা সংখ্যা নেই। নজরুল তো এই দুই ঈদ নিয়ে একটি গান, একটি কবিতাই লিখে ফেলেছেন। রমজানের ঈদ নিয়ে তিনি লিখেছিলেন গান, রমজানের ওই রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ। কোরবানির ঈদ নিয়ে লিখেছিলেন কবিতা, ওরে হত্যা নয় আজ সত্যাগ্রহ শক্তির উদ্বোধন। এই গান ও কবিতা দুটিই একসময় প্লাবন সৃষ্টি করেছিল দেশে। দুই ঈদ সম্পর্কেই নজরুল লিখেছিলেন, সারাদিন উপবাসে থেকে ইফতার ও সেহিরতে যথেচ্ছ পান ভোজন করাটা ত্যাগ এবং সংযম কোনোটাই নয়। গরিব প্রতিবেশীকে অনাহার অর্ধাহারে রেখে নিজে ইফতারি-সেহিরর নামে পোলাও-কোর্মা খাওয়াটা সংযম নয়, বরং ভণ্ডামি। কোরবানির ঈদ সম্পর্কে তিনি লিখেছিলেন, বনের পশুকে নয়, তুই আগে মনের পশুকে হত্যা কর। তা না পারলে কেবল পশু হত্যা কোনো কাজ দেবে না। রমজানের ঈদের নাম ঈদুল ফিতর। অর্থাৎ ফিতরের ঈদ। এই ঈদ বা উৎসব গরিব প্রতিবেশীকে শরিক না করে পালন করা যায় না। এ জন্য একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ গরিব প্রতিবেশীকে দিতে হয়। ইসলামে ফিতরা, জাকাত ইত্যাদি প্রবর্তন করা হয়েছিল গরিবদের প্রতি ধনীদের দায়িত্ব পালনের জন্য। দুই ঈদের আরো একটি উদ্দেশ্য ছিল সমাজে শ্রেণি ব্যবধান ঘোচানো। গরিব আর ধনী, অভিজাত আর অনভিজাত পাশাপাশি বসে নামাজ পড়ছে, নামাজ শেষে মনিব আর চাকর কোলাকুলি করছে। দেড় হাজার বছর আগে এটি ছিল একটি বৈপ্লবিক ব্যবস্থা। বর্তমানে আরো উন্নত যুগের উন্নত সামাজিক ব্যবস্থার সময়েও এই দৃশ্য বিরল। নারীরা ঘোড়ায় চড়ে পুরুষের পাশাপাশি যুদ্ধ করে এই দৃশ্য দেখা ইসলামের প্রথম যুগেই সম্ভব ছিল। মোল্লাবাদের আবির্ভাবের ফলে ইসলামের এই মৌলিক আদর্শ, নারীমুক্তি, দাসমুক্তি, শ্রেণি সাম্য, আর্থিক সাম্য, অন্য ধর্মের প্রতি সম্মান ও সহিষ্ণুতা প্রায় বিলুপ্তির পথে। ইসলামকে তার প্রকৃত আদর্শে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য পরবর্তীকালে যেসব সংস্কারক চেষ্টা করেছিলেন, যেমন ইমাম আবু হানিফা, ইমাম শাফেয়ি, ইমাম মালেক, ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল প্রমুখ সংস্কারকের বেশির ভাগকেই উগ্র মোল্লাবাদীরা হত্যা করেছিল। বাংলাদেশের সৌভাগ্য, সেই প্রাচীনকালে ব্রাহ্মণ্য শাসনের অত্যাচার-উত্পীড়নে অতিষ্ঠ এবং বর্ণবিভাগে বিভাজিত দেশটিতে প্রধানত পারস্য থেকে আগত ধর্ম প্রচারকরা ইসলাম প্রচার করেছেন। উত্পীড়িত মানুষ তাকে স্বাগত জানিয়েছে। শ্রেণি বিভক্তিতে পীড়িত অস্পৃশ্য নিম্ন শ্রেণির হিন্দু ও বৌদ্ধরা দলে দলে ইসলাম গ্রহণ করেছে। তাদের অস্পৃশ্যতা দূর হয়েছে। মানবাধিকার ফিরে পেয়েছে। পণ্ডিত মোতাহার হোসেন চৌধুরীর মতে, বাঙালির স্থানীয় কালচার তার জাতীয় কালচার। ইসলাম যে বহিরাগত কালচার সঙ্গে করে এনেছে, তা ধর্মীয় কালচার। এ দুইয়ের মিলনে-মিশ্রণে যে বাঙালি কালচার গড়ে উঠেছে, তা ধর্মনিরপেক্ষ কালচার। এই কালচারের প্রভাবে ধর্মীয় উগ্রতা কখনো প্রশ্রয় পায়নি। মিলন ও ভালোবাসায় সুফিবাদ, মরমি বৈষ্ণববাদ ইত্যাদি গড়ে উঠেছে। ব্রিটিশ আমলেও বাঙালি হিন্দু-মুসলমানের প্রধান উৎসব ছিল রমজানের ঈদ ও সর্বজনীন দুর্গাপূজা। রমজানের ঈদ ও দুর্গাপূজা উপলক্ষে শরৎকালে সরকারি অফিস-আদালত, স্কুল-কলেজ এক মাস ছুটি থাকত। শহরে কর্মরত মানুষ ছুটিতে গ্রামে ফিরে আসত। ঈদ ও পূজা উপলক্ষে হিন্দু ও মুসলমানের মধ্যে মিলন ঘটত। পাকিস্তান আমলে সামাজিক জীবন ও রাজনীতিতে ধর্ম ও সাম্প্রদায়িকতার বিভেদ বেড়ে ওঠে। দুই সম্প্রদায়ের বাঙালি জীবনেই তার ছাপ পড়ে। বাংলাদেশ হিন্দু-মুসলমানের মিলিত সংগ্রামের পর স্বাধীনতা লাভ করায় অসাম্প্রদায়িক জাতীয়তার ভিত্তি শক্ত হবে; রমজানের ঈদ, দুর্গাপূজা, বৈশাখী উৎসব, ভাষা দিবস প্রভৃতি জাতীয় উৎসবে রূপান্তরিত হবে আশা করা হচ্ছিল। কিন্তু বাধা পড়ে উগ্র ওয়াহাবিবাদ, মওদুদীবাদ ইত্যাদি মতবাদের আবির্ভাবের ফলে। এই ওয়াহাবিবাদ থেকেই কট্টর জঙ্গিবাদ বা পলিটিক্যাল ইসলাম জন্ম নেয়। তা শুধু জাতীয় উৎসবগুলোকেই ধর্মীয় করেনি, জাতীয় রাজনীতিকেও ধর্মীয় কালচার দ্বারা প্রভাবিত করে যেসব ধর্মীয় উৎসব জনগণের মিলিত উৎসবে পরিণত হয়েছিল, তাতেও বিভাজন ঘটায়। বাঙালির সমাজ এখন বিভাজিত সমাজ। তার হাজার বছরের মিশ্র সংস্কৃতি এখন ধর্মীয় সংস্কৃতি দ্বারা আচ্ছন্ন। স্বাধীনতাযুদ্ধে বাঙালি মুসলমান যতটা স্বদেশে ফিরেছিল, বিএনপি-জামায়াতের শাসন এবং মোল্লাবাদের উত্থানে ততটাই স্বদেশবিমুখ হয়েছে। এ অবস্থাকেই কবি শামসুর রাহমান বলেছিলেন, অদ্ভুত উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ। এই উটের পিঠ থেকে স্বদেশকে নামাতে সময় লেগেছে ২১ বছর। এই যুদ্ধ চলেছে ২১ বছরের বেশি এবং এখনো চলছে। বাংলাদেশে রমজানের খুশির চাঁদ এখন খণ্ডিত। দুর্গাপূজার মণ্ডপ পুলিশ পাহারায় রাখতে হয়। এই অবস্থা থেকে জাতীয় উৎসবগুলোকে মুক্ত করতে হবে। আমাদের কৈশোরে রমজানের ঈদে হিন্দু ও বৌদ্ধরাও উৎসবে যোগ দিত। তারা নামাজ পড়তে আসত না। আসত উৎসবের খাওয়াদাওয়ায় যোগ দিতে। অনুরূপ আমরাও দুর্গা ও সরস্বতীর পূজার উৎসবের অংশে যোগ দিতাম। বৌদ্ধ পূর্ণিমার উৎসবে মেতে উঠতাম। বাঙালির সংস্কৃতি, সমাজ ছিল মিশ্র ও মিলিত। তার উৎসবও তাই। বাংলাদেশে তার হাজার বছরের লোকায়ত সমাজ ও সভ্যতা ফিরিয়ে আনতে হবে। না হলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অসম্পূর্ণ থাকবে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলার বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না। পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায় একাধিকবার গড়ের মাঠে রমজানের ঈদের নামাজের বিশাল জামাতে যোগ দেওয়ার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। দেখেছি, মুখ্যমন্ত্রী ডা. বিধান রায়, সিদ্ধার্থ শঙ্কর রায় এই ঈদের জামাতে আসতেন। এখন আসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁরা নামাজ পড়তে আসেন না। নামাজের আগে যে খুতবা পাঠ হয়, সেই সময় খতিবের পাশে বসেন। খুতবা পাঠ শেষ হলে মুসলমানদের ঈদ মোবারক জানান। তাদের সমস্যা ও অভিযোগ দূর করার প্রতিশ্রুতি দেন। বাংলাদেশেও দুর্গাপূজায়, বুদ্ধপূর্ণিমায় বা উপজাতীয়দের কোনো ধর্মীয় উৎসবে যে দলের সরকারই ক্ষমতায় থাকুক, তারা যায়। যুদ্ধাপরাধী মতিউর রহমান নিজামী যখন মন্ত্রী, তিনিও পুলিশসহ দুর্গাপূজার মণ্ডপে গেছেন। সেটা ছিল লোক-দেখানো যাওয়া। একদিকে মন্ত্রী গেছেন পূজামণ্ডপে, অন্যদিকে তাঁর দলের লোকেরা মন্দিরে হামলা করেছে, মূর্তি ভেঙেছে। এইচ এম এরশাদের আমলে তো সরকারের নিযুক্ত গুণ্ডারা মন্দির ও মূর্তি ভেঙেছে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে। অতঃপর বিশ্বজনমতের নিন্দা ও চাপের মুখে আবার সরকারি খরচে ভাঙা মন্দির মেরামত করেছে। এই অবস্থা ভারতেও দেখা গেছে। মহররমের মিছিলে হামলা হয়েছে। ঈদের জামাতে বোমা মারা হয়েছে। মসজিদ ভাঙা হয়েছে। গরু কোরবানির জন্য সংখ্যালঘু মানুষ হত্যা করা হয়েছে। ভারতে ৭০০ বছরের পুরনো বাবরি মসজিদ ভাঙা হয়েছে। বাংলাদেশে পাকিস্তানি হানাদাররা হাজার বছরের প্রাচীন রমনা কালীমন্দির ভেঙেছে। একদিকে ভারতে দাপট দেখাচ্ছে হিংস্র হিন্দুত্ববাদ এবং বাংলাদেশে দাপট দেখাচ্ছে উগ্র ইসলামী জঙ্গিবাদ। অথচ কোনো ধর্মেই হিংসাকে প্রশ্রয় দেওয়া হয়নি। ধর্মে হিংসা ঢুকিয়েছে মোল্লাবাদীরা এবং উদ্দেশ্যপূর্ণ রাজনীতিকরা। একে রুখতে হলে ধর্মের পবিত্র অনুষ্ঠানগুলোকে মোল্লাবাদীদের খপ্পরমুক্ত করতে হবে। রমজানের ঈদ, দুর্গাপূজার মতো উৎসবগুলোকে সাম্প্রদায়িক মিলনের কেন্দ্র করে তোলার জন্য সরকারকেই উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। আওয়ামী লীগের শাসনামলে অবশ্য সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অনেকটাই ফিরে আসে। সংখ্যালঘুদের পূজা-পার্বণও অনেকটা হামলামুক্ত হয়। কিন্তু বড় কাজ হবে এই উৎসবগুলোকে সব ধর্মের মানুষের সম্মিলিত উৎসব করে তোলা। ইউরোপে যেমন খ্রিস্ট ধর্মের ক্রিসমাস উৎসব সব ধর্ম-বর্ণের মানুষই পালন করে। রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন, আনন্দময়ীর আগমনের বাজনা যেন হিন্দুর ঘরেই সীমাবদ্ধ না থাকে, সকল ধর্মের মানুষের ঘরেই বেজে উঠে। আর নজরুল বলেছিলেন, রমজানের ঈদের চাঁদ যেন কেবল মুসলমানের ঘরে আলো না ছড়িয়ে সকল ধর্মের মানুষের ঘরেই আলো ছড়ায়। এবারের রমজানের ঈদে আমাদের সবার প্রার্থনা হোক, এই চাঁদ যেন সব বিভেদ-বিবাদের মেঘ সরিয়ে ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে সবার ঘরে আনন্দের আলো ছড়ায়। সবার জন্য রইল ঈদ মোবারক।-আবদুল গাফফার চৌধুরী ...

এসএসসি পরীক্ষা নিয়ে ভাবনা

১১মে,শনিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম:এসএসসি পরীক্ষা নিয়ে ভাবনা ( মুহম্মদ জাফর ইকবাল)১. এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। প্রায় একুশ লাখ ছেলেমেয়ে পরীক্ষা দিয়েছিল, এর মাঝে প্রায় বিরাশি শতাংশ পাস করেছে। সময়মতো পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে সময়মতো পরীক্ষার ফল ঘোষণা করা হয়েছে। মনে আছে একটা সময় ছিল যখন হরতালের পর হরতাল দিয়ে আমাদের জীবনটাকে একেবারে এলোমেলো করে দেওয়া হতো! আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষার রুটিন দেওয়ার সময় রুটিনের নিচে লিখে রাখতাম অনিবার্য কারণে পরীক্ষা নেওয়া না গেলে অমুক দিন পরীক্ষা নেওয়া হবে। আমরা যারা একটু বেশি দুঃসাহসী ছিলাম তারা সারাদিন হরতাল শেষে সন্ধ্যাবেলাও পরীক্ষা নিয়েছি। হঠাৎ করে ইলেকট্রিসিটি চলে গেলে যেন পরীক্ষা নিতে পারি সেজন্য মোমবাতি রেডি রাখতাম। শুধু মুখ ফুটে কোনও একটা রাজনৈতিক দলকে উচ্চারণ করতে হতো অমুকদিন হরতাল, ব্যস সারাদেশ অচল হয়ে যেতো! মনে আছে, আমি অনেকবার রাজনৈতিক দলের কাছে অনুরোধ করতাম, হরতালের সময় যেরকম হাসপাতাল অ্যাম্বুলেন্সকে হরতালমুক্ত রাখা হতো সেরকম স্কুল কলেজ এবং পরীক্ষা যেন হরতালমুক্ত রাখা হয়! কিন্তু কে আমাদের কথা শুনবে? সেই হরতাল দেশ থেকে উঠে গেছে। আমার মাঝে মাঝে নিজেকে চিমটি কেটে দেখতে হয় সত্যিই এটা ঘটেছে নাকি স্বপ্ন দেখছি! এভাবে আরও কিছুদিন কেটে গেলে ছোট ছেলেমেয়েদের একদিন বোঝাতে হবে হরতাল জিনিসটি কী! শুধু যে হরতাল উঠে গেছে, তা নয়, মনে হচ্ছে শেষ পর্যন্ত প্রশ্নফাঁস থেকেও আমরা মুক্তি পেয়েছি। এই মাত্র কদিন আগেও মায়েরা রাত জেগে বসে থাকতেন, ফেসবুক থেকে ফাঁস হয়ে যাওয়া প্রশ্ন ডাউনলোড করে সেটা সমাধান করিয়ে নিজের বাচ্চাদের হাতে তুলে দিতেন মুখস্থ করার জন্য। (হয়তো বাবারাও কিংবা অন্য আত্মীয়-স্বজনও এটা করেছেন, কিন্তু আমার কাছে যেসব তথ্য এসেছে সেখানে মায়েদের কথাটাই বেশি এসেছে, তাই মায়েদের কথা বলছি এবং সুস্থ স্বাভাবিক মায়েদের কাছে অগ্রিম ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি এরকম কুৎসিত একটা বাক্য লেখার জন্য।) প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে আমার ক্ষোভটা একটু বেশি, কারণ মনে আছে আমি এটা নিয়ে চেঁচামেচি শুরু করার পর হঠাৎ করে আবিষ্কার করেছিলাম আমার এই বিশাল নাটক করার পরও আমার সাথে কেউ নেই! আমি মোটামুটি একা। কোনোভাবেই শিক্ষা মন্ত্রণালয় কিংবা বোর্ডগুলোকে একবারও স্বীকার করানো যায়নি যে, আসলেই দেশে পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস হচ্ছে। যতক্ষণ পর্যন্ত সমস্যাটির অস্তিত্ব স্বীকার করা না হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত সেই সমস্যাটির সমাধান হবে কেমন করে? শেষপর্যন্ত মন্ত্রণালয় যখন স্বীকার করতে শুরু করল যে আসলেই প্রশ্নফাঁস হচ্ছে তখন মোটামুটি ম্যাজিকের মতো সমস্যাটি দূর হয়ে গেলো! পরীক্ষার খাতা দেখার ব্যাপারেও একটা শৃঙ্খলা এসেছে, চোখ বন্ধ করে বেশি নম্বর দেওয়ার প্রক্রিয়াটাও মনে হয় বন্ধ হয়েছে, বাকি আছে শুধু প্রশ্নের মান। আগের থেকে যথেষ্ট উন্নত হয়েছে কিন্তু এখনো মনে হয় মানসম্মত প্রশ্ন করা শুরু হয়নি, শিক্ষকরা সৃজনশীল প্রশ্ন করতে পারেন না বলে অভিযোগ আছে। এখনও মাঝে মাঝেই গাইড বই থেকে পরীক্ষায় প্রশ্ন চলে আসে। সে কারণে গাইড বইয়ের প্রকাশক এবং কোচিং ব্যবসায়ীদের অনেক আনন্দ। ভালো প্রশ্ন করা খুব সহজ কাজ নয়, একজনকে এই দায়িত্ব দিলেই সেটা হয়ে যায় না। কিন্তু যেহেতু একটা প্রশ্ন প্রায় বিশ লাখ ছেলেমেয়ে ব্যবহার করে সেই প্রশ্নটি অনেক মূল্যবান, তার জন্য অনেক কাঠখড় পোড়ানো দরকার। এ রকম প্রশ্নগুলো যারা করেন তাদের যে সম্মানী দেওয়া হয়, সেটা রীতিমতো হাস্যকর। আমি সুযোগ পেলেই শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত গুরুত্বপূর্ণ মানুষদের বলি প্রশ্ন করার জন্য হোটেল সোনারগাঁয়ে একটা সুইট ভাড়া করতে, প্রশ্নকর্তারা সেখানে থাকবেন ভাবনাচিন্তা করে সুন্দর প্রশ্ন করে সেটা টাইপ করে একেবারে ক্যামেরা রেডি করে দিয়ে বাড়ি যাবেন। গুরুত্বপূর্ণ মানুষেরা আমার কথা বিশ্বাস করেন না। তারা ভাবেন আমি ঠাট্টা করছি। আমি কিন্তু ঠাট্টা করে কথাগুলো বলি না, সত্যি সত্যি বলি। স্কুল-কলেজের শিক্ষক হলেই তাদের হেলাফেলা করা যাবে সেটা আমি বিশ্বাস করি না। যখন তারা বিশ লাখ ছেলেমেয়ের জন্য প্রশ্ন করছে তখন তারা মোটেও হেলাফেলা করার মানুষ না। তারা অনেক গুরুত্বপূর্ণ মানুষ। পরীক্ষার মানসম্মত প্রশ্ন করা হলে অনেক বড় একটা কাজ হবে। সবাই পরীক্ষায় ভালো নম্বর পেতে চায়, মানসম্মত প্রশ্ন হলে শুধু তারাই ভালো নম্বর পাবে যারা বিষয়টা জানে। কোচিং সেন্টার থেকে ভালোভাবে পরীক্ষা দেওয়ার টেকনিক শিখে লাভ হবে না। সেজন্য ভালো প্রশ্ন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ভালো প্রশ্ন করার পরও আরো একটা বিষয় থেকে যায়। আমরা যখন এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছিলাম তখন সকালে এক পেপার বিকালে আরেক পেপার পরীক্ষা দিয়েছি! প্রত্যেকদিন পরীক্ষা, মাঝে কোনও গ্যাপ নেই। পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর ঝড়ের গতিতে পরীক্ষা শেষ! এটা নিয়ে যে আপত্তি করা যায় সেটাও আমরা জানতাম না। খুব যে কষ্ট হয়েছে কিংবা পরীক্ষার পর অর্ধেক ছেলেমেয়ে পাগল হয়ে গেছে সে রকম কিছু শুনিনি। সেই বিষয়টা ধীরে ধীরে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা যায়। (আমার এই বক্তব্য শুনে পরীক্ষার্থীরা চাপাতি হাতে নিয়ে আমাকে খুঁজবে সেরকম একটা আশংকা আছে, তারপরও বলছি!) পরীক্ষা লেখাপড়া নয়, শুধু পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য দিনের পর দিন কাটিয়ে দেওয়ার মাঝে কোনও আনন্দ নেই। ঝটপট পরীক্ষা শেষ করে বাকি সময়টা নির্ভেজাল আনন্দের মাঝে কাটানো হচ্ছে জীবনকে উপভোগ করা। বাচ্চাদের কেন জীবন উপভোগ করতে শেখাব না? ২. প্রতিবছর এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ হওয়ার পর আমরা পত্রপত্রিকায় এবং টেলিভিশনে পরীক্ষার্থীদের আনন্দোজ্জ্বল ছবি দেখতে পাই। এই বয়সটিতে সবকিছুকেই রঙিন মনে হয় তাই পরীক্ষার পর তাদের আনন্দ এবং উচ্ছ্বাসটিও হয় অনেক বেশি স্বতঃস্ফূর্ত, অনেক বেশি তীব্র। দেখতে খুব ভালো লাগে। কিন্তু প্রতিবছরই এই আনন্দে উদ্ভাসিত ছেলেমেয়েগুলোর ছবি দেখার সময় আমি এক ধরনের আশঙ্কা অনুভব করি। এই বয়সটি তীব্র আবেগের বয়স, আমি নিশ্চিতভাবে জানি অসংখ্য ছেলেমেয়ের তীব্র আনন্দের পাশাপাশি কিছু ছেলেমেয়ে রয়েছে যাদের পরীক্ষার ফলটি তাদের মনমতো হয়নি। সেজন্য কয়দিন মন খারাপ করে থেকে আবার নতুন উৎসাহ নিয়ে জীবন শুরু করে দিলে আমার কোনও আপত্তি ছিল না। কিন্তু সেটি হয় না, প্রতিবছরই দেখতে পাই পরীক্ষার ফল বের হওয়ার পর বেশকিছু ছেলেমেয়ে একেবারে আত্মহত্যা করে ফেলে। এই বছর এখন পর্যন্ত পাঁচটি ছেলেমেয়ের খবর পেয়েছি যারা আত্মহত্যা করেছে। সারাদেশে এরা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। এদের মাঝে ছেলে আছে, তবে মেয়েদের সংখ্যা বেশি। এসএসসি পরীক্ষার্থী আছে সেরকম দাখিল পরীক্ষার্থী আছে। পরীক্ষায় পাস করতে পারেনি সেজন্য আত্মহত্যা করেছে যেরকম আছে, যথেষ্ট ভালো করেছে কিন্তু শেষ পর্যন্ত জিপিএ ফাইভ হয়নি বলে আত্মহত্যা করেছে সেরকম ঘটনাও ঘটেছে। কী ভয়ঙ্কর একটি ঘটনা। একজন মানুষের জীবন কত বড় একটি ব্যাপার সেই জীবনটি থেকে কত কী আমরা আশা করতে পারি, সেই জীবনটিকে একটি কিশোর কিংবা কিশোরী শেষ করে দিচ্ছে কারণ তার পরীক্ষার ফল ভালো হয়নি, এটি আমরা কেমন করে গ্রহণ করব? যখনই এরকম একটি ঘটনার কথা পত্রপত্রিকায় দেখি আমার বুকটি ভেঙে যায়। শুধু মনে হয়, আহা আমি যদি তার সঙ্গে একটুখানি কথা বলতে পারতাম। মাথায় হাত বুলিয়ে বলতে পারতাম জীবনটা কত বড়, তুচ্ছ একটা পরীক্ষার তুচ্ছ একটা ফলকে পিছনে ফেলে জীবনে কত বড় একটা কিছু করে ফেলা যায়। পৃথিবীতে সেরকম কত উদাহরণ আছে। প্রত্যেকটা মানুষকেই জীবনে কত ঘাত-প্রতিঘাত সহ্য করতে হয়, একজন মানুষের জীবনে যতটুকু সাফল্য তার থেকে ব্যর্থতা অনেক বেশি। সেই ব্যর্থতা এলে কি কখনো হাল ছেড়ে দিতে হয়? ভবিষ্যতে আরও কত সুন্দর জীবন অপেক্ষা করছে আমরা সেটি কি কল্পনা করতে পারি? কিন্তু আমার কখনো এই অভিমানী ছেলেমেয়েগুলোর সঙ্গে দেখা হয় না। তাদের মাথায় হাত বুলিয়ে সান্ত্বনা দেওয়ার সুযোগ হয় না। শুধু পত্র-পত্রিকায় খবরগুলো দেখে দীর্ঘশ্বাস ফেলি। আমি আশা করে থাকি আমাদের দেশের ছেলেমেয়েরা এবং তাদের মা-বাবারা বুঝতে পারবেন যে পরীক্ষার এই একটি ফল পৃথিবীর বিশাল কর্মযজ্ঞের তুলনায় কিছুই না। পরীক্ষায় মনের মতো ফল না করেও একটি চমৎকার জীবন হওয়া সম্ভব। শুধু ডাক্তার ও ইঞ্জিনিয়ার হওয়াই জীবন নয়, ডাক্তার ও ইঞ্জিনিয়ার না হয়ে এই পৃথিবীর অসংখ্য মানুষ আশ্চর্যরকম সুখী হয়ে জীবন কাটিয়েছে, তারা পরিবারকে দিয়েছে, সমাজকে দিয়েছে, দেশকে দিয়েছে এমনকী পৃথিবীকে দিয়েছে। লেখাপড়ার সত্যিকার উদ্দেশ্যটি মনে হয় আমরা আমাদের ছেলেমেয়েদেরকে কিংবা তাদের মা-বাবাদের এখনো বোঝাতে পারিনি! ৩. আত্মহত্যার খবর পড়ে যখন মন খারাপ করে বসে থাকি তখন তার পাশাপাশি অদম্য মনোবলের একজনের কাহিনি পড়ে আবার মনটি আনন্দে ভরে ওঠে। তামান্না আখতার নামে একটি কিশোরী জন্ম নিয়েছে দুই হাত এবং একটি পা ছাড়া। সে সেই ছেলেবেলা থেকে অসাধারণ লেখাপড়া করে এসেছে, এসএসসিতেও তার মনের মতো পরীক্ষার ফল হয়েছে। আমার আনন্দ সেখানে নয়, আমার আনন্দ তার স্বপ্নের কথা পড়ে। সে বড় হয়ে প্রথমে ডাক্তার হতে চেয়েছিল এখন সিভিল সার্ভিসের কর্মকর্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখছে! আমি মাঝে মাঝে নতুন সিভিল সার্ভিস কর্মকর্তাদের সামনে বক্তৃতা দেই। যদি বেঁচে থাকি তাহলে এমন তো হতেও পারে যে সেরকম কোনও একটি সভায় হঠাৎ করে দেখব সামনে একটি হুইল চেয়ারে মাথা উঁচু করে তামান্না বসে আছে। স্বপ্ন দেখতে দোষ কী? আরও একটি আনন্দের ব্যাপার হয়েছে। আমি সবসময়েই বলে থাকি আমাদের দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি যে এখানে ছেলেরা এবং মেয়েরা সমানভাবে লেখাপড়া করে যাচ্ছে। আমি মোটামুটিভাবে বিশ্বাস করি মেয়েরা যখন জীবনের সবক্ষেত্রে ছেলেদের সমান সমান হয়ে যায় তখন এই দেশটি নিয়ে আমাদের আর কোনও দুর্ভাবনা করতে হবে না। এবারে এসএসসি পরীক্ষার ফল দেখে মনে হলো আমরা সেদিকে আরও একধাপ এগিয়ে গেছি! মেয়েরা এর মাঝে ছেলেদের থেকে ভালো করতে শুরু করেছে। লেখক : অধ্যাপক, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট...

হিন্দু মুসলমানের এই বিদ্বেষের অবসান কবে হবে?

২১জুন২০১৯,শুক্রবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: উপমহাদেশের রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীরা নির্বাচনে জিতে সাংসদ হিসেবে কাজ শুরু করার প্রাক্কালে আল্লাহ, ভগবান, ঈশ্বরের নামে শপথ করেন যে অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে কর্তব্য পালন করবেন। যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থা আরও ভয়াবহ। ওখানে বাইবেল, কোরআন ইত্যাদি ধর্মগ্রন্থের ওপর হাত রেখে সাংসদদের শপথ করতে হয়। সাংসদদের ব্যক্তিগত ধর্ম-বিশ্বাস রাষ্ট্র পরিচালনায় আদৌ কি কোনও ভূমিকা রাখে? ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে ভারতের উচিত ধর্মীয় বিশ্বাসের চেয়ে সংবিধানে বিশ্বাসের ওপর গুরুত্ব দেওয়া। যে সাংসদ রাষ্ট্রের সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, যে সাংসদ জনগণের সেবা করতে চান, কারণ তিনি দেশকে ভালোবাসেন, সমাজের উন্নতি চান, মানুষের সুশিক্ষা, সুস্বাস্থ্য এবং সুনিরাপত্তা চান, তাঁর কারও নামে শপথ করতে হয় না, তিনি দেশ ও দশের সেবায় নিজেই ঝাঁপিয়ে পড়েন কোনও রকম শপথ ছাড়াই। যাঁরা ঝাঁপিয়ে পড়েন, আদর্শের কারণেই পড়েন। কথার খেলাপ করলে ঈশ্বর শাস্তি দেবেন, এই ভয়ে কেউ জনগণের সেবা করেন না। যাঁরা ঈশ্বরের নামে শপথ করে সাংসদ হিসেবে কাজ শুরু করেন, তারা কি তাঁদের শপথ ভাঙেন না? অহরহই ভাঙেন। এমন নয় যে তারা এমনই গোঁড়া ধার্মিক যে শপথ করেছেন কখনও অন্যায় করবেন না, তাই অন্যায় করবেন না। তাঁরা কিন্তু বারবারই ঈশ্বরের নামে করা শপথ ভেঙে তাদের ঈশ্বরকে অপমান করছেন বারবার, শপথকে অর্থহীন করছেনই। শপথ প্রক্রিয়ায় ধর্ম বা ঈশ্বরকে আনারই তো দরকার নেই, বিশেষ করে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে। এখনও যে-সব দেশে রাজতন্ত্র বজায় আছে, এখনও সেসব দেশে রাজা রানীকে সেবা করার শপথ নেন সাংসদগণ। কোথাও কোথাও রাষ্ট্রপতিকে মেনে চলার শপথ নেওয়া হয়। ধর্ম থেকে রাষ্ট্রকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করেও ইউরোপের কিছু কিছু দেশ এখনও ঈশ্বরের নামে শপথ নিচ্ছে। অথবা দেশ সেবার জন্য ঈশ্বরের সাহায্য চাইছে। ভালো যে পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোতে আজকাল শপথ নিতে গেলে ঈশ্বরের নামে শপথ নিতে হয় না। ওদিকে বেশির ভাগ মুসলিম রাষ্ট্রে আল্লাহর নামে শপথ নেওয়া হয়। সেদিন ভারতের নতুন সাংসদগণ শপথ করার সময় নিজ নিজ ধর্ম বিশ্বাসের স্লোগান দিলেন। রাজনীতি ক্রমশ স্লোগানসর্বস্ব হয়ে উঠছে। কেউ বললেন, জয় শ্রীরাম, কেউ বললেন আল্লাহু আকবর। সংসদকে কি অন্তত ব্যক্তিগত ধর্ম বিশ্বাস থেকে আলাদা করা যায় না? ভারতে বিভিন্ন লোকের বিভিন্ন ভগবান। কেউ রামে বিশ্বাস করেন তো কেউ গণেশে, কেউ দুর্গায়, কেউ হনুমানে। কিন্তু সর্বত্র ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে উত্তর ভারতীয় হিন্দু মৌলবাদীদের স্লোগান। সংসদকে ধর্ম থেকে দূরে রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ। ভারতীয় উপমহাদেশ ধর্মের কারণে বিভক্ত হয়েছে, এখনও ধর্মীয় মৌলবাদ আর সন্ত্রাস বড় একটি সমস্যা। পাকিস্তানে, বাংলাদেশে ধর্মীয় মৌলবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে বলে সংখ্যালঘু, অসাম্প্রদায়িক মানুষ এবং নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতই নষ্ট হচ্ছে। ভারতের কাশ্মীরে মুসলিম সন্ত্রাসীদের নিয়ে সমস্যা চলছেই, নতুন উপদ্রপ মুসলিম কট্টরপন্থিদের ধরনে গড়ে ওঠা হিন্দু কট্টরপন্থি। তারা মানুষের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থানের অধিকার, সুশিক্ষা, সুস্বাস্থ্যের অধিকার, সকলের সর্বত্র নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার, স্বাধীনভাবে নিজের মত প্রকাশ করার অধিকার দাবি করে স্লোগান দেওয়ার চেয়ে ধর্মের স্লোগান দিতে বেশি আগ্রহী। এ কারণে রাজনীতিকরাও ভোটদাতাদের সন্তুষ্ট করার জন্য ধর্মের সেবা করতেও আগ্রহী হয়ে পড়েন। অথবা রাজনীতিকরাই জনগণকে উৎসাহ দেন ধর্মকে সবার ওপরে স্থান দেওয়ার জন্য। এতে করে জনহিতকর কাজের দায়িত্বও কমে যায় সরকারের, শুধু ধর্মের গোড়ায় জল ঢাললেই, দেখেছে বেশ জনপ্রিয় হওয়া যায়। কিছু কিছু রাজনৈতিক দল সংখ্যালঘুর দেখভাল করতে গিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুর কথা ভুলেই গিয়েছিল। তাদেরও যে অস্তিত্ব আছে, তারাও যে জনতা, তারাও যে ভোটার, ভুলেই গিয়েছিল। এবার হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে তাদের ভুলে গেলে তারাও একদিন না একদিন রুখে ওঠে। রাজনৈতিক দলগুলোকে সেই ভুলে যাওয়ার খেসারত দিতে হয়েছে। হিন্দুর স্বার্থ রক্ষা করার প্রশ্ন উঠলেই হিন্দুত্ববাদী বলে গালি দেওয়ার একটি রেওয়াজ শুরু হয়েছে, কিন্তু যে হিন্দুরা চায় তাদের ঘাড়ের ওপর চড়ে মুসলিম মৌলবাদীদের তোষণ বন্ধ হোক, তারা হিন্দু রাষ্ট্র কায়েম করার জন্য তো আদা-জল খেয়ে লাগেনি। ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র না চেয়ে যারা হিন্দু রাষ্ট্র চাইছে, তাদের বরং হিন্দু মৌলবাদী বলা যায়। যদি হিন্দু রাষ্ট্র কায়েমের জন্য হিন্দু মৌলবাদীরা সন্ত্রাসী হয়ে উঠতো, অহিন্দুদের নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার জন্য খুন খারাবি করতো, তাহলে শুধু তাদের হিন্দুরাষ্ট্রবাদী বলা মানায়, তার আগে নয়। তাছাড়া হিন্দুদের বিরুদ্ধে বৈষম্য যদি যুগের পর যুগ ঘটতে থাকে, এক সময় বৈষম্যের বিরুদ্ধে রুখে ওঠার অর্থ এই নয় যে, হিন্দু রাষ্ট্র কায়েম করে মুসলমানদের মেরে ফেলো অথবা নির্বাসনদ- দাও। তারা নিতান্তই হিন্দুত্ববাদী। আজ যে জয় শ্রীরামের স্লোগান উঠছে উত্তর ভারতে, এমনকী চিরকালের ধর্মনিরপেক্ষ পশ্চিমবঙ্গে, তারও কারণ রাজনীতিকদের দীর্ঘকাল যাবৎ সাধারণ হিন্দু জনতার স্বার্থের কথা না ভেবে শুধু মোল্লা মৌলভীদের স্বার্থের কথা ভাবা। সাধারণ হিন্দুদের এই প্রতিক্রিয়াকে হিন্দুত্ববাদ বলে গালি দেওয়া উচিত নয়। আজও উপমহাদেশের সর্বত্র হিন্দু মুসলমানের সহাবস্থান শান্তিপূর্ণ করা সম্ভব হচ্ছে না। এটি যতদিন না করা সম্ভব হচ্ছে, ততদিন ধর্ম নিয়ে হিন্দু এবং মুসলমান দুই সম্প্রদায়ই মেতে থাকবে। এতে কারও সত্যিকার মঙ্গল হবে কিনা আমার সন্দেহ। যে দল হিন্দুদের অবহেলা করবে না, যে দলের কাছে হিন্দু ভোটের মূল্য আছে, সে দল আজ ভারতে তুমুল জনপ্রিয় এবং ক্ষমতায়। সবাই যে ভালোবেসে এই দলকে ভোট দিয়েছে তা নয়। ভোট দিয়েছে অন্য দলগুলোর বিরুদ্ধে যে দলগুলো এতকাল মোল্লা তোষণে বুঁদ হয়ে থেকেছে। ভারতেই একমাত্র দেখেছি বেশির ভাগ রাজনৈতিক দলই সংখ্যাগুরুর ভোট পাওয়ার চেয়ে সংখ্যালঘুর ভোট পাওয়ার পেছনে বেশি দৌড়োয়। হিন্দুদের মধ্য থেকে যে প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেল, তা রাজনীতিকদের টনক নড়িয়েছে যথেষ্ট। মানুষ হিসেবে সংখ্যাগুরু, সংখ্যালঘু, হিন্দু মুসলমান বৌদ্ধ খ্রিস্টান ইহুদি শিখ নাস্তিক সংশয়বাদী সাদা কালো ধনী গরিব সকলকে সমান মূল্য দেওয়া উচিত। ধর্ম, ধন, শ্রেণি বা জাত দেখে মূল্য কম বেশি করা খুব বড় অপরাধ। এই অপরাধ সব রাজনীতিকই করছেন। কিন্তু তাঁরা কখনও স্বীকার করবেন না যে করছেন। পাকিস্তানে খ্রিস্টান এবং হিন্দুরা মোটেও নিরাপদ নয়। ভারতে আজকাল কিছু হিন্দুর মধ্যে মুসলিম-ঘৃণা বাড়ছে। গরু খাওয়ার অপবাদ দিয়ে তারা কিছু মুসলমানকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে। হিন্দু মুসলমানের এই বিদ্বেষের অবসান কবে হবে? যে বিদ্বেষ কমানোর জন্য এত বড় দেশকে দু-টুকরো করা হলো, আজ সত্তর বছর হয়ে গেল দেশ ভাগ হয়েছে, তারপরও বিদ্বেষ কমেনি বিন্দুমাত্র! পরস্পরের প্রতি এই ঘৃণা এবং বিদ্বেষ কি কৃত্রিমভাবে সৃষ্টি করা, নাকি এই বিদ্বেষ একেবারেই মৌলিক বিদ্বেষ, যার আদৌ কোনও সমাধান নেই! এভাবে হিন্দু মুসলমান যদি পরস্পরের জাতশত্রু হয়েই থেকে যায় যুগের পর যুগ, তাহলে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে আর যা কিছুই প্রতিষ্ঠিত হোক, শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে না। কিন্তু কোনও ঘৃণা কোনও দিনই শেষ হওয়ার নয়, কোনও বিদ্বেষের কোনও দিনই ইতি ঘটবে না এ আমি বিশ্বাস করি না। পৃথিবীতে বার বারই মানুষ প্রমাণ করেছে যে কোনও বিদ্বেষেরই ইতি ঘটে। ছোটবেলায় রাস্তার মিছিলে হেঁটে হেঁটে আমিও আর সবার মতো বলতাম, অন্ন চাই, বস্ত্র চাই, বাঁচার মতো বাঁচতে চাই। সবার জন্য স্বাস্থ্য বা সবার জন্য শিক্ষার ব্যবস্থা না হলে মানবো না, মানবো না স্লোগান দিয়ে শহর কাঁপাতাম। সময় বদলে গেছে। আজকাল অধিকারের দাবির চেয়ে ধর্মের দাবি বা ধর্মের স্লোগান বেশি উচ্চারিত হচ্ছে। ধর্ম গেলানোর মতো সহজ কাজ আর কিছুই নয়। কঠিন কাজ হলো জনগণের জীবনযাপনের মান উন্নত করা, জনগণকে শিক্ষিত এবং সচেতন করা, জনগণকে কাজ দেওয়া, কাজ করার পরিবেশ দেওয়া, যাবতীয় বৈষম্য দূর করা। রাজনীতিকদের সহজ কাজটি করতে না দিয়ে বরং কঠিন কাজটিই করতে দেওয়া উচিত।তসলিমা নাসরিন


সকল ধর্মের মানুষের ঘরেই আলো ছড়ায় ঈদ

৪জুন২০১৯,মঙ্গলবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: রমজানের ঈদ এবং কোরবানির ঈদ নিয়ে প্রতিবছরই সংবাদপত্রে লেখা বেরোয়। একটি সংযমের মাস, অন্যটি ত্যাগের উৎসব। এই সংযম ও ত্যাগ নিয়ে আমিও কতবার লিখেছি, তার সীমা সংখ্যা নেই। নজরুল তো এই দুই ঈদ নিয়ে একটি গান, একটি কবিতাই লিখে ফেলেছেন। রমজানের ঈদ নিয়ে তিনি লিখেছিলেন গান, রমজানের ওই রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ। কোরবানির ঈদ নিয়ে লিখেছিলেন কবিতা, ওরে হত্যা নয় আজ সত্যাগ্রহ শক্তির উদ্বোধন। এই গান ও কবিতা দুটিই একসময় প্লাবন সৃষ্টি করেছিল দেশে। দুই ঈদ সম্পর্কেই নজরুল লিখেছিলেন, সারাদিন উপবাসে থেকে ইফতার ও সেহিরতে যথেচ্ছ পান ভোজন করাটা ত্যাগ এবং সংযম কোনোটাই নয়। গরিব প্রতিবেশীকে অনাহার অর্ধাহারে রেখে নিজে ইফতারি-সেহিরর নামে পোলাও-কোর্মা খাওয়াটা সংযম নয়, বরং ভণ্ডামি। কোরবানির ঈদ সম্পর্কে তিনি লিখেছিলেন, বনের পশুকে নয়, তুই আগে মনের পশুকে হত্যা কর। তা না পারলে কেবল পশু হত্যা কোনো কাজ দেবে না। রমজানের ঈদের নাম ঈদুল ফিতর। অর্থাৎ ফিতরের ঈদ। এই ঈদ বা উৎসব গরিব প্রতিবেশীকে শরিক না করে পালন করা যায় না। এ জন্য একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ গরিব প্রতিবেশীকে দিতে হয়। ইসলামে ফিতরা, জাকাত ইত্যাদি প্রবর্তন করা হয়েছিল গরিবদের প্রতি ধনীদের দায়িত্ব পালনের জন্য। দুই ঈদের আরো একটি উদ্দেশ্য ছিল সমাজে শ্রেণি ব্যবধান ঘোচানো। গরিব আর ধনী, অভিজাত আর অনভিজাত পাশাপাশি বসে নামাজ পড়ছে, নামাজ শেষে মনিব আর চাকর কোলাকুলি করছে। দেড় হাজার বছর আগে এটি ছিল একটি বৈপ্লবিক ব্যবস্থা। বর্তমানে আরো উন্নত যুগের উন্নত সামাজিক ব্যবস্থার সময়েও এই দৃশ্য বিরল। নারীরা ঘোড়ায় চড়ে পুরুষের পাশাপাশি যুদ্ধ করে এই দৃশ্য দেখা ইসলামের প্রথম যুগেই সম্ভব ছিল। মোল্লাবাদের আবির্ভাবের ফলে ইসলামের এই মৌলিক আদর্শ, নারীমুক্তি, দাসমুক্তি, শ্রেণি সাম্য, আর্থিক সাম্য, অন্য ধর্মের প্রতি সম্মান ও সহিষ্ণুতা প্রায় বিলুপ্তির পথে। ইসলামকে তার প্রকৃত আদর্শে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য পরবর্তীকালে যেসব সংস্কারক চেষ্টা করেছিলেন, যেমন ইমাম আবু হানিফা, ইমাম শাফেয়ি, ইমাম মালেক, ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল প্রমুখ সংস্কারকের বেশির ভাগকেই উগ্র মোল্লাবাদীরা হত্যা করেছিল। বাংলাদেশের সৌভাগ্য, সেই প্রাচীনকালে ব্রাহ্মণ্য শাসনের অত্যাচার-উত্পীড়নে অতিষ্ঠ এবং বর্ণবিভাগে বিভাজিত দেশটিতে প্রধানত পারস্য থেকে আগত ধর্ম প্রচারকরা ইসলাম প্রচার করেছেন। উত্পীড়িত মানুষ তাকে স্বাগত জানিয়েছে। শ্রেণি বিভক্তিতে পীড়িত অস্পৃশ্য নিম্ন শ্রেণির হিন্দু ও বৌদ্ধরা দলে দলে ইসলাম গ্রহণ করেছে। তাদের অস্পৃশ্যতা দূর হয়েছে। মানবাধিকার ফিরে পেয়েছে। পণ্ডিত মোতাহার হোসেন চৌধুরীর মতে, বাঙালির স্থানীয় কালচার তার জাতীয় কালচার। ইসলাম যে বহিরাগত কালচার সঙ্গে করে এনেছে, তা ধর্মীয় কালচার। এ দুইয়ের মিলনে-মিশ্রণে যে বাঙালি কালচার গড়ে উঠেছে, তা ধর্মনিরপেক্ষ কালচার। এই কালচারের প্রভাবে ধর্মীয় উগ্রতা কখনো প্রশ্রয় পায়নি। মিলন ও ভালোবাসায় সুফিবাদ, মরমি বৈষ্ণববাদ ইত্যাদি গড়ে উঠেছে। ব্রিটিশ আমলেও বাঙালি হিন্দু-মুসলমানের প্রধান উৎসব ছিল রমজানের ঈদ ও সর্বজনীন দুর্গাপূজা। রমজানের ঈদ ও দুর্গাপূজা উপলক্ষে শরৎকালে সরকারি অফিস-আদালত, স্কুল-কলেজ এক মাস ছুটি থাকত। শহরে কর্মরত মানুষ ছুটিতে গ্রামে ফিরে আসত। ঈদ ও পূজা উপলক্ষে হিন্দু ও মুসলমানের মধ্যে মিলন ঘটত। পাকিস্তান আমলে সামাজিক জীবন ও রাজনীতিতে ধর্ম ও সাম্প্রদায়িকতার বিভেদ বেড়ে ওঠে। দুই সম্প্রদায়ের বাঙালি জীবনেই তার ছাপ পড়ে। বাংলাদেশ হিন্দু-মুসলমানের মিলিত সংগ্রামের পর স্বাধীনতা লাভ করায় অসাম্প্রদায়িক জাতীয়তার ভিত্তি শক্ত হবে; রমজানের ঈদ, দুর্গাপূজা, বৈশাখী উৎসব, ভাষা দিবস প্রভৃতি জাতীয় উৎসবে রূপান্তরিত হবে আশা করা হচ্ছিল। কিন্তু বাধা পড়ে উগ্র ওয়াহাবিবাদ, মওদুদীবাদ ইত্যাদি মতবাদের আবির্ভাবের ফলে। এই ওয়াহাবিবাদ থেকেই কট্টর জঙ্গিবাদ বা পলিটিক্যাল ইসলাম জন্ম নেয়। তা শুধু জাতীয় উৎসবগুলোকেই ধর্মীয় করেনি, জাতীয় রাজনীতিকেও ধর্মীয় কালচার দ্বারা প্রভাবিত করে যেসব ধর্মীয় উৎসব জনগণের মিলিত উৎসবে পরিণত হয়েছিল, তাতেও বিভাজন ঘটায়। বাঙালির সমাজ এখন বিভাজিত সমাজ। তার হাজার বছরের মিশ্র সংস্কৃতি এখন ধর্মীয় সংস্কৃতি দ্বারা আচ্ছন্ন। স্বাধীনতাযুদ্ধে বাঙালি মুসলমান যতটা স্বদেশে ফিরেছিল, বিএনপি-জামায়াতের শাসন এবং মোল্লাবাদের উত্থানে ততটাই স্বদেশবিমুখ হয়েছে। এ অবস্থাকেই কবি শামসুর রাহমান বলেছিলেন, অদ্ভুত উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ। এই উটের পিঠ থেকে স্বদেশকে নামাতে সময় লেগেছে ২১ বছর। এই যুদ্ধ চলেছে ২১ বছরের বেশি এবং এখনো চলছে। বাংলাদেশে রমজানের খুশির চাঁদ এখন খণ্ডিত। দুর্গাপূজার মণ্ডপ পুলিশ পাহারায় রাখতে হয়। এই অবস্থা থেকে জাতীয় উৎসবগুলোকে মুক্ত করতে হবে। আমাদের কৈশোরে রমজানের ঈদে হিন্দু ও বৌদ্ধরাও উৎসবে যোগ দিত। তারা নামাজ পড়তে আসত না। আসত উৎসবের খাওয়াদাওয়ায় যোগ দিতে। অনুরূপ আমরাও দুর্গা ও সরস্বতীর পূজার উৎসবের অংশে যোগ দিতাম। বৌদ্ধ পূর্ণিমার উৎসবে মেতে উঠতাম। বাঙালির সংস্কৃতি, সমাজ ছিল মিশ্র ও মিলিত। তার উৎসবও তাই। বাংলাদেশে তার হাজার বছরের লোকায়ত সমাজ ও সভ্যতা ফিরিয়ে আনতে হবে। না হলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অসম্পূর্ণ থাকবে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলার বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না। পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায় একাধিকবার গড়ের মাঠে রমজানের ঈদের নামাজের বিশাল জামাতে যোগ দেওয়ার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। দেখেছি, মুখ্যমন্ত্রী ডা. বিধান রায়, সিদ্ধার্থ শঙ্কর রায় এই ঈদের জামাতে আসতেন। এখন আসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁরা নামাজ পড়তে আসেন না। নামাজের আগে যে খুতবা পাঠ হয়, সেই সময় খতিবের পাশে বসেন। খুতবা পাঠ শেষ হলে মুসলমানদের ঈদ মোবারক জানান। তাদের সমস্যা ও অভিযোগ দূর করার প্রতিশ্রুতি দেন। বাংলাদেশেও দুর্গাপূজায়, বুদ্ধপূর্ণিমায় বা উপজাতীয়দের কোনো ধর্মীয় উৎসবে যে দলের সরকারই ক্ষমতায় থাকুক, তারা যায়। যুদ্ধাপরাধী মতিউর রহমান নিজামী যখন মন্ত্রী, তিনিও পুলিশসহ দুর্গাপূজার মণ্ডপে গেছেন। সেটা ছিল লোক-দেখানো যাওয়া। একদিকে মন্ত্রী গেছেন পূজামণ্ডপে, অন্যদিকে তাঁর দলের লোকেরা মন্দিরে হামলা করেছে, মূর্তি ভেঙেছে। এইচ এম এরশাদের আমলে তো সরকারের নিযুক্ত গুণ্ডারা মন্দির ও মূর্তি ভেঙেছে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে। অতঃপর বিশ্বজনমতের নিন্দা ও চাপের মুখে আবার সরকারি খরচে ভাঙা মন্দির মেরামত করেছে। এই অবস্থা ভারতেও দেখা গেছে। মহররমের মিছিলে হামলা হয়েছে। ঈদের জামাতে বোমা মারা হয়েছে। মসজিদ ভাঙা হয়েছে। গরু কোরবানির জন্য সংখ্যালঘু মানুষ হত্যা করা হয়েছে। ভারতে ৭০০ বছরের পুরনো বাবরি মসজিদ ভাঙা হয়েছে। বাংলাদেশে পাকিস্তানি হানাদাররা হাজার বছরের প্রাচীন রমনা কালীমন্দির ভেঙেছে। একদিকে ভারতে দাপট দেখাচ্ছে হিংস্র হিন্দুত্ববাদ এবং বাংলাদেশে দাপট দেখাচ্ছে উগ্র ইসলামী জঙ্গিবাদ। অথচ কোনো ধর্মেই হিংসাকে প্রশ্রয় দেওয়া হয়নি। ধর্মে হিংসা ঢুকিয়েছে মোল্লাবাদীরা এবং উদ্দেশ্যপূর্ণ রাজনীতিকরা। একে রুখতে হলে ধর্মের পবিত্র অনুষ্ঠানগুলোকে মোল্লাবাদীদের খপ্পরমুক্ত করতে হবে। রমজানের ঈদ, দুর্গাপূজার মতো উৎসবগুলোকে সাম্প্রদায়িক মিলনের কেন্দ্র করে তোলার জন্য সরকারকেই উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। আওয়ামী লীগের শাসনামলে অবশ্য সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অনেকটাই ফিরে আসে। সংখ্যালঘুদের পূজা-পার্বণও অনেকটা হামলামুক্ত হয়। কিন্তু বড় কাজ হবে এই উৎসবগুলোকে সব ধর্মের মানুষের সম্মিলিত উৎসব করে তোলা। ইউরোপে যেমন খ্রিস্ট ধর্মের ক্রিসমাস উৎসব সব ধর্ম-বর্ণের মানুষই পালন করে। রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন, আনন্দময়ীর আগমনের বাজনা যেন হিন্দুর ঘরেই সীমাবদ্ধ না থাকে, সকল ধর্মের মানুষের ঘরেই বেজে উঠে। আর নজরুল বলেছিলেন, রমজানের ঈদের চাঁদ যেন কেবল মুসলমানের ঘরে আলো না ছড়িয়ে সকল ধর্মের মানুষের ঘরেই আলো ছড়ায়। এবারের রমজানের ঈদে আমাদের সবার প্রার্থনা হোক, এই চাঁদ যেন সব বিভেদ-বিবাদের মেঘ সরিয়ে ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে সবার ঘরে আনন্দের আলো ছড়ায়। সবার জন্য রইল ঈদ মোবারক।-আবদুল গাফফার চৌধুরী

আন্দোলন-সংগ্রামে আওয়ামী লীগের ভূমিকা প্রত্যুজ্জ্বল

২১জুন২০১৯,শুক্রবার,মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন চৌধুরী,নিউজ একাত্তর ডট কম:২৩ জুন, উপমহাদেশের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। আওয়ামী, একটি উর্দু শব্দ। এই শব্দটি এসেছে উর্দু ,আওয়াম, শব্দটি হতে। আওয়াম শব্দের অর্থ জনগন, এর আরো দুইটি প্রতিশব্দ আছে, জনতা ও জাতীয়, আর লীগ অর্থ 'দল'। গণতান্ত্রিকভাবে জন্ম নেওয়া মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী এই দলটি উপমহাদেশের রাজনীতিতে অবিভাজ্য ও অবিচ্ছেদ্য সত্তা হিসেবে নিজেদের অপরিহার্যতা প্রমাণ করেছে। এ দেশের প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী প্রচীনতম রাজনৈতিক সংগঠন আওয়ামী লীগের ভূমিকা প্রত্যুজ্জ্বল। আওয়ামী লীগ মানেই বাঙালি জাতীয়তাবাদের মূলধারা। আওয়ামী লীগ মানেই সংগ্রামী মানুষের প্রতিচ্ছবি। বাংলাদেশের কাদা-মাটি গায়ে মাখা খেটে খাওয়া মানুষের কাফেলা। আওয়ামী লীগ মানেই জাতির অর্জন, সমৃদ্ধি আর সম্ভাবনার স্বর্ণালি দিন। অতীতের মতো বাংলাদেশের ভবিষ্যতেও আওয়ামী লীগের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে যুক্ত। ৪৭-এর দেশ বিভাগ, ৫২-র ভাষা আন্দোলন, ৬২-র ছাত্র আন্দোলন, ৬৬-র ছয় দফা, ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ৭০-এর যুগান্তকারী নির্বাচন আর ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা আন্দোলন সহ সবখানেই সরব উপস্থিতি ছিল আওয়ামী লীগের।১৯৪৯ সালে দেশের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী দল আওয়ামী লীগের যাত্রা শুরু। এই বছরের ২৩ জুন পুরান ঢাকার কেএম দাস লেনের ঐতিহাসিক রোজ গার্ডেনে তত্কালীন পাকিস্তানের প্রথম প্রধান বিরোধী দল হিসেবে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা লাভ করে। প্রথম কাউন্সিলে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এবং শামসুল হককে দলের যথাক্রমে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। তখন তরুণ নেতা শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন কারাগারে বন্দী। বন্দী অবস্থায় তাকে সর্বসম্মতিক্রমে প্রথম কমিটির যুগ্ম সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। ১৯৫৩ সালে ময়মনসিংহে দলের দ্বিতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী সভাপতি এবং শেখ মুজিবুর রহমান সাধারণ সম্পাদক হন।১৯৫৫ সালের ২১-২৩ অক্টোবর ঢাকার সদরঘাটের রূপমহল সিনেমা হলে দলের তৃতীয় কাউন্সিল অধিবেশনে আওয়ামী লীগ অসাম্প্রদায়িক সংগঠনে পরিণত হয়। মুসলিম শব্দটি বাদ দিয়ে দলের নতুন নামকরণ হয় পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ। পরে কাউন্সিল অধিবেশনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে মওলানা ভাসানী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বহাল থাকেন। ৫৭ সালে কাগমারী সম্মেলনে দলের আন্তর্জাতিক নীতির প্রশ্নে সোহরাওয়ার্দী-ভাসানীর মতপার্থক্যের কারণে প্রথমবারের মতো আওয়ামী লীগ ভেঙে যায়। ভাসানীর নেতৃত্বে গঠিত হয় ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ)। আর মূল দল আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন মওলানা আবদুর রশীদ তর্কবাগীশ ও সাধারণ সম্পাদক শেখ মুজিবুর রহমান বহাল থাকেন। ১৯৫৮ সালে পাকিস্তানে সামরিক শাসন জারি হলে আওয়ামী লীগের কর্মকান্ড স্থগিত করা হয়। ১৯৬৪ সালে দলটির কর্মকান্ড পুনরুজ্জীবিত করা হয়। এতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে তর্কবাগীশ ও শেখ মুজিবুর রহমান অপরিবর্তিত থাকেন।১৯৬৬ সালের কাউন্সিলে দলের সভাপতি পদে নির্বাচিত হন শেখ মুজিবুর রহমান। তার সঙ্গে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন তাজউদ্দীন আহমদ। এর পরে ১৯৬৮ ও ১৯৭০ সালের কাউন্সিলে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক অপরিবর্তিত থাকেন। এই কমিটির মাধ্যমেই পরিচালিত হয় মহান মুক্তিযুদ্ধ। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রথম কাউন্সিলে সভাপতি হন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন প্রয়াত রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান। ১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধু স্বেচ্ছায় সভাপতির পদ ছেড়ে দিলে সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয় পঁচাত্তরে কারাগারে ঘাতকদের হাতে নিহত জাতীয় নেতাদের অন্যতম এএইচএম কামরুজ্জামানকে। সাধারণ সম্পাদক পদে বহাল থাকেন মো. জিল্লুর রহমান। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট আসে আওয়ামী লীগের ওপর মরণাঘাত। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলে আওয়ামী লীগের রাজনীতি আবারো স্থগিত করা হয়। ১৯৭৬ সালে ঘরোয়া রাজনীতি চালু হলে আওয়ামী লীগকেও পুনরুজ্জীবিত করা হয়। এতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক করা হয় যথাক্রমে মহিউদ্দিন আহমেদ ও বর্তমান সংসদের উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীকে। ১৯৭৭ সালে এই কমিটি ভেঙে করা হয় আহ্বায়ক কমিটি। এতে দলের আহ্বায়ক করা হয় সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দীনকে। ১৯৭৮ সালের কাউন্সিলে দলের সভাপতি করা হয় আবদুল মালেক উকিলকে এবং সাধারণ সম্পাদক হন আব্দুর রাজ্জাক। এরপরই শুরু হয় আওয়ামী লীগের উত্থানপর্ব, উপমহাদেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল হিসেবে গড়ে তোলার মূল প্রক্রিয়া। সঠিক নেতৃত্বের অভাবে দলের মধ্যে সমস্যা দেখা দিলে নির্বাসনে থাকা বঙ্গবন্ধুকন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। দেশে ফেরার আগেই ১৯৮১ সালের কাউন্সিলে শেখ হাসিনাকে আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়।বঙ্গবন্ধু কন্যা বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন থেকে সাধারণ মানুষের ন্যায্য অধিকার আদায়ের জন্য সংগ্রাম করে যাচ্ছেন তখন থেকেই এরশাদ সরকারসহ বর্তমানে জনগণের দ্বারা নিগৃহীত দল বিএনপি বারবার শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে সশস্ত্র হামলা চালিয়েছে।১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে প্রত্যাবর্তনের পর থেকে তার উপর চালানো হয় নারকীয় হত্যাচেষ্টা। ২০০০ সালে শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে তার জনসভাস্থলে ৭৬ ও ৮৪ কেজি ওজনের বোমা পুঁতে রাখা হয়। ২০০৪ সালে ২১ আগস্ট করা হয় নৃশংস গ্রেনেড হামলা। আল্লাহ্ তা'আলার অশেষ রহমতে শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা বারবার ব্যর্থ হয়।তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নাটকীয়তায় ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই তাকে কারাবরণ করতে হয় এবং ২০০৮ সালের ১১ জুন তিনি কারামুক্ত হন। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নির্বাচনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করে। ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণ করেন।২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে টানা ২য় বারের মতো জয়লাভ করে। শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশ কে পিছনে তাকাতে হয়নি। এরপর থেকে আজ অবধি চলমান বাংলাদেশের জয়রথ।ক্ষমতাগ্রহণের পরেই মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে যুদ্ধাপরাধী রাজাকারদের বিচার করে দেশকে কলঙ্কমুক্ত করেন। এবং মুক্তিযোদ্ধাদের পুনর্বাসনের যথাযথ ব্যবস্থা ও ভাতা প্রদান করেন।দীর্ঘদিন চলমান সমুদ্রসীমার সমস্যার সমাধানে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করেন এবং বিজয় লাভ করেন। ভারত-মায়ানমারের সমুদ্রসীমার দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধান করেন।দীর্ঘদিনের ছিটমহলবাসীদের আশা আঙ্খংক্ষা পূরণ করেন। বাংলাদেশ ও ভারতের মাঝে ১৬২টি ছিটমহল বিনিময় চুক্তি সম্পন্ন হয়। তাদের নিজস্ব পরিচয় দেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন।বিশ্বব্যাংক এর দুর্নীতির অভিযোগ এনে পদ্মা সেতু নির্মাণে অর্থায়ন না করায় শেখ হাসিনা বিশ্বব্যাংক এর বিরুদ্ধে মামলা করেন এবং এতে দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু করার দুঃসাহসী সিদ্ধান্ত নেন। যা এখন বাস্তব এবং দক্ষিণাঞ্চলের ২১টি জেলার মাঝে যোগাযোগ স্থাপন করেছে।শিক্ষাব্যবস্থায় গুরুত্ব দিয়েছেন সবচেয়ে বেশি। বছরের প্রথমদিনে ১ম থেকে ৯ম শ্রেণি পর্যন্ত বিনামূল্যে বই দিচ্ছেন। প্রাইমারি স্কুলের বাচ্চাদের টিফিনের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। ছাত্রীদের উপবৃত্তির ব্যবস্থা করেছেন। শিক্ষাব্যবস্থা সেশনজট মুক্ত করেছেন পুরোপুরিভাবে। তথ্য-প্রযুক্তি নির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলেছেন।হাতের নাগালেই এখন সব পাওয়া যাচ্ছে। বিভিন্ন অঞ্চলে শতশত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করেছেন। বর্তমানে স্বাক্ষরতার হার বেড়েছে । প্রতিটা উপজেলা একটি করে মডেল মসজিদ নির্মাণ করেছেন, ধর্মের প্রতি অনুরাগী করে গড়ে তোলার জন্য কয়েকহাজার মাদ্রাসা নির্মাণ করেছেন।শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে কোটা ব্যবস্থা বাতিল করেছেন। আগের চেয়ে বেকারত্বের হার অনেক কমে গিয়েছে।লিঙ্গ সমতা প্রতিষ্ঠা করেছেন। নারীদের জন্য বিভিন্ন ক্ষেত্রে সুযোগ সৃষ্টি করে এগিয়ে এনেছেন। সামরিক বাহিনীসহ সকল ক্ষেত্রে নারীদের যুক্ত করে বৈষম্য দূর করেছেন। নারীদের মাতৃত্বকালীন ছুটি বাড়িয়ে করেছেন ৬মাস, যা আগে ছিল ২ মাস।কৃষিক্ষেত্রে কৃষকদের জন্য কৃষি ভর্তুকি প্রদানের ব্যবস্থা করেন।কৃষকদের সেবার জন্য অনলাইন সেবা চালু করেছেন।চিকিৎসাব্যবস্থায় উন্নতি হয়েছে ব্যাপক। নতুন মেডিকেল কলেজ স্থাপন করেছেন। অনলাইনে চিকিৎসা সেবা চালু করেছেন। প্রত্যেক ডাক্তারকে পাশ করার পর ১ম ২ বছর প্রত্যন্ত অঞ্চলে চিকিৎসা সেবা বাধ্যতামূলক করেছেন। শিশুমৃত্যু হার কমে গেছে।শতভাগ জনগোষ্ঠীকে বিদ্যুৎ এর আওতাধীন আনার কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন। রুপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করেছেন।শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতায় আসার পর মাথাপিছু আয় বেড়েছে।যোগাযোগ ব্যবস্থায় অবদান ছিল অবিস্মরণীয়। পদ্মা সেতুসহ ঢাকা শহরকে যানজট মুক্ত করতে ঢাকা শহরকে ফ্লাইওভারের মোড়কে সাজানো, বিভিন্ন মহাসড়ককে ৪ লেনে উন্নীতকরণ, ব্রীজ-কালভার্ট নির্মাণ, মেট্রোরেল চালু, পদ্মাসেতুতে রেল সংযোগ, কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণ, ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেস রেলওয়ে ও এলিভেটেড এক্সপ্রেস ওয়ে, ঢাকা-আশুলিয়া এক্সপ্রেস ওয়ে নির্মাণসহ ব্যাপক উন্নতি সাধিত হয়েছে।প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় বাংলাদেশ অন্য দেশগুলোর জন্য আদর্শ। বিগত সময়ে বন্যা, ঘূর্ণিঝড় সহ সকল দুর্যোগ মোকাবেলায় এই সরকার শতভাগ সফল। দুর্যোগপূর্ণ এলাকায় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, সতর্কতা জারি ও দুর্যোগ সংগঠিত হওয়ার পূর্বেই নিরাপদে আশ্রয়কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া ও দুর্যোগ মোকাবেলাসহ সকল কাজে সফল এই সরকার।পোশাক রফতানিতে বাংলাদেশ ২য় অবস্থানে চলে এসেেেছ। পায়রা গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণ দেশের অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলেছে। 'বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১' উৎক্ষেপণের মাধ্যমে বাংলাদেশ ৫৭তম স্যাটেলাইট ক্ষমতাধর দেশে পরিনত হয়েছে । সবুজায়নের লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশ অনেকদূর এগিয়ে গেছে। পরিবেশ উন্নয়ন কর্মসূচী, আন্তঃপরিবেশ ও টেকসই উন্নয়নের স্বীকৃতি হিসেবে শেখ হাসিনা 'চ্যাম্পিয়ন অব দ্য আর্থ-২০১৫' নির্বাচিত হয়েছেন।প্রায় ১০লাখ রোহিঙ্গাকে মানবিক আশ্রয় দিয়ে ও লালনপালন করে সারাবিশ্বের কাছে বাংলাদেশের মাথা উঁচু করেছেন। যার স্বীকৃতিতে তিনি মাদার অব হিউম্যানিটি উপাধিতে ভূষিত হয়েছেন।বাংলাদেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে ও উন্নত, সমৃদ্ধশালী ও ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে শেখ হাসিনার বিকল্প একমাত্র শেখ হাসিনা-ই। সম্প্রতি বাজেট অধীবেশনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন,আগামী এক দশকে এ দেশে ক্ষুধা, বেকারত্ব, অশিক্ষা, বঞ্চনা ও দারিদ্র্য থাকবে না। দেশে বিরাজ করবে সুখ, শান্তি, সম্প্রীতি ও সমৃদ্ধি। আমরা আজ বর্তমান সরকারীদল আওয়ামীলিগের প্রতিষ্টা বাষীকিতে আশা করছি ,সংবিধানের প্রস্তাবনা অনুযায়ী গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে এমন এক শোষণমুক্ত সমাজতান্ত্রিক সমাজের প্রতিষ্ঠা হবে, যেখানে সব নাগরিকের জন্য আইনের শাসন, মৌলিক মানবাধিকার এবং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সাম্য, স্বাধীনতা ও সুবিচার নিশ্চিত হবে। লেখকঃ মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন চৌধুরী, সম্পাদক নিউজ একাত্তর ডট কম।

আজকের মোট পাঠক

32708

নিউজ একাত্তর ডট কম

সম্পাদক : মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন চৌধুরী

নির্বাহী সম্পাদক : আহাম্মদ হোসেন ভুইয়া

একটি পপুলার মিডিয়া পাবলিকেশন এর প্রকাশনা | রেজি নং: চ-১২৪২৭/১৭

সম্পাদকীয় ও বানিজ্যিক কার্যালয় : ৪১৬/সি,খিলগাও ঢাকা ০২৪৩১৫০৪৮৮, ০১৮২৪২৪৫৫০৪, ০১৭৭৮৮৮৮৪৭২

চট্টগ্রাম কার্যালয় : ১৯/২০/২১ বি ৩য় তলা, হানিমুন টাওয়ার,পাহাড়তলী,চট্টগ্রাম।

ই-মেইল : newsekattor@gmail.com, editorekattor@gmail.com, কপিরাইট ©newsekattor.com কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত