প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট পেল ইইউ কমিশন

১৭জুলাই২০১৯,বুধবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) কমিশনের প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন জার্মানির প্রতিরক্ষামন্ত্রী উরসুলা ফন ডার লেন। গতকাল মঙ্গলবার ইইউ সদস্যদের গোপন ব্যালটে অল্প ভোটের ব্যবধানে উরসুলা প্রসিডেন্ট পদে বিজয়ী হন বলে বিবিসিতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়। চলতি বছরের ১ নভেম্বর কমিশনের বর্তমান প্রেসিডেন্ট জ্য ক্লদ ইউনকার স্থলাভিষিক্ত হবেন উরসুলা ফন ডার লেন। বিবিসি জানায়, কমিশনের সদস্যদের মোট ৭৪৭ ভোটের মধ্যে উরসুলা পান ৩৮৩ ভোট। চার সদস্য এদিন অনুপস্থিত ছিলেন। অর্ধেকেরও বেশি ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন তিনি। কমিশন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পরপরই এক বক্তব্যে উরসুলা বলে, আমার প্রতি যে আস্থা আপনারা দেখিয়েছেন, তা সারা ইউরোপের স্বার্থের প্রশ্নে আপনাদের আস্থা। পূর্ব থেকে পশ্চিম, উত্তর থেকে দক্ষিণব্যাপী এক সংঘবদ্ধ, শক্তিশালী ইউরোপের প্রতি আস্থা। এটি এক বিশাল দায়িত্ব। এ মুহূর্ত থেকে আমার কাজ শুরু হলো। আমরা যেন একসঙ্গে গঠনমূলক কাজ করতে পারি, বলেন নবনির্বাচিত কমিশন প্রেসিডেন্ট। সমাজকল্যাণমূলক কাজে আরো বড় পরিসরে ইইউর ভূমিকা নিশ্চিত করা, দারিদ্র্য মোকাবিলা ও নারী অধিকার নিয়ে কাজ করার ব্যাপারে প্রতিশ্রুতি দেন সাবেক এই নারী চিকিৎসক। প্রয়োজনে ইইউ থেকে যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে যাওয়ার নির্ধারিত সময়সীমা আরো বাড়ানোর ব্যাপারেও প্রতিশ্রুতি দেন উরসুলা। এ ছাড়া জলবায়ু সমস্যা মোকাবিলায় ইউরোপের ইতিবাচক ভূমিকা নিশ্চিত করা এবং অনিয়মিত অভিবাসন রোধে সীমান্ত এলাকায় সেনাসংখ্যা বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। একই সঙ্গে অভিবাসন প্রসঙ্গে মানবিক কারণে শরণার্থীদের অধিকার সংরক্ষণের ব্যাপারেও জোর দেন উরসুলা। আইনের খসড়া প্রস্তুত করা, নিয়মনীতি নির্ধারণসহ প্রয়োজনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোনো দেশকে জরিমানা করার কাজ করে থাকে ইইউ কমিশন। ...

রোহিঙ্গা ইস্যুতে আজ আসছে আইসিসি প্রতিনিধিদল

১৬জুলাই২০১৯,মঙ্গলবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: রোহিঙ্গা ইস্যুতে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলতে ডেপুটি প্রসিকিউটর জেমস কার্কপ্যাট্রিক স্টুয়ার্টের নেতৃত্বে আজ মঙ্গলবার আসছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রতিনিধিদল। সরকারি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সংবাদ সংস্থা ইউএনবি জানিয়েছে, আইসিসি প্রতিনিধিদলটি এখানে আইন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক ছাড়াও পরিস্থিতি সরেজমিন পর্যবেক্ষণে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পও পরিদর্শন করবে। আইসিসি প্রসিকিউটর এরই মধ্যে তাঁর বিচারকদের নির্বাসন, অন্যান্য অমানবিক কাজ এবং রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগের তদন্ত অনুমোদন করার অনুরোধ করেছেন। আইসিসির মতে, মিয়ানমার রোম সনদে স্বাক্ষর না করলেও রোহিঙ্গাদের বিতাড়নে যে অপরাধ হয়েছে, তার ক্ষতিকর প্রভাব পড়েছে স্বাক্ষরকারী দেশ বাংলাদেশের ওপর। তাই রোম সনদ অনুযায়ী এ বিষয়ে আদালত ক্ষমতার প্রয়োগ করতে পারবে। এর আগে গত বছরের আগস্টে জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়, গণহত্যার উদ্দেশ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংস ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য মিয়ানমারের উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তাদের বিচারের মুখোমুখি করা উচিত। তবে এ রকম অভিযোগ বরাবরের মতোই অস্বীকার করে আসছে মিয়ানমার সরকার। তারা ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে। প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের আগস্ট থেকে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর ধর্ষণ, হত্যা, নির্যাতন, অগ্নিসংযোগসহ ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে বাধ্য হয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা।...

এরশাদের মৃত্যুতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতার শোক

১৫জুলাই২০১৯,সোমবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ থাকার পর বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ গতকাল রোববার সকালে মারা যান। বাংলাদেশ তথা দক্ষিণ এশিয়ার সক্রিয় প্রবীণতম রাজনীতিকের জীবনাবসানের পর শোক জানান ভারতীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক। এরই ধারাবাহিকতায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিও শোক জানিয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তার শোকবার্তায় লিখেন, বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের প্রয়াণে আমি গভীর শোক প্রকাশ করছি। আজ (রোববার) সকাল পৌনে ৮টায় ঢাকার হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর। এরশাদের সঙ্গে নিজের সুসম্পর্কের কথা উল্লেখ করে মমতা আরও লিখেন, আদতে কোচবিহারের বাসিন্দা মুহম্মদ এরশাদের সঙ্গে আমার অত্যন্ত সুসম্পর্ক ছিল। প্রয়াত এরশাদ বাংলাদেশের জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশের সংসদের বিরোধী দলনেতা ছিলেন। তার প্রয়াণে রাজনৈতিক জগতে অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হল। আমি মুহম্মদ এরশাদের পরিবার-পরিজন ও অনুরাগীদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি । ১৯৩০ সালে জন্ম হয় হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের। কেউ কেউ বলেন, তার জন্ম অবিভক্ত ভারতের কোচবিহারের দিনহাটায়। পরে তার পরিবার পূর্ব পাকিস্তানে চলে যায়। তবে নিজের আত্মজীবনীতে এরশাদ লিখেছেন- তার জন্ম কুড়িগ্রামে মামার বাড়িতে। আর জাতীয় পার্টি জানাচ্ছে, এরশাদের জন্ম ১৯৩০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি রংপুর জেলায়। তবে তার পৈত্রিক ভিটা রয়েছে ভারতের কোচবিহার জেলার দিনহাটায়। সেখানেই তার বাল্যজীবন কেটেছে।...

ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৩ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প

১৪জুলাই২০১৯,রবিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ইন্দোনেশিয়ায় ৭ দশমিক ৩ মাত্রার শক্তিশালী একটি ভূমিকম্প আঘাত করেছে। দেশটির পশ্চিম নুসা তেনগারা প্রদেশের সুম্বাওয়ায় ওই ভূমিকম্পটি আঘাত করেছে। সুম্বাওয়া ছাড়াও মাতারাম, বিমা ও ওয়েনগাপুসহ বেশ কয়েকটি শহরে কম্পন অনুভূত হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া, জলবায়ু ও জিওফিজিক্যাল সংস্থা (বিএমকেজি) জানিয়েছে, স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৩৯ মিনিটে সুম্বাওয়ার দক্ষিণপশ্চিমে ওই ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। তবে ভূমিকম্পটির তীব্রতা অনেক হলেও সেখানে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি বলে জানিয়েছে বিএমকেজি। ...

সাংবাদিক কন্যা রুপা চৌধুরীকে অভিনন্দন

১৭জুলাই২০১৯,বুধবার,মোঃ সোহেল,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম:চট্টগ্রাম অফিস:সাংবাদিক মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন চৌধুরীর বড় মেয়ে রুপা চৌধুরী চট্টগ্রাম আগ্রাবাদ মহিলা কলেজ থেকে এইচ.এস.সি ২০১৯ এর ফাইনাল পরিক্ষায় গ্রেড-এ পাওয়ায় চট্টগ্রামের বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের পক্ষ থেকে তাকে অভিনন্দন জানান। তার পিতা সাংবাদিক মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন চৌধুরী দির্ঘদিন যাবত সততা,নিরপেক্ষতা ও দক্ষতার সহিত দেশের সুনামধন্য বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় কর্মরত ছিলেন। তিনি বর্তমানে ঢাকা থেকে প্রকাশিত জাতীয় দৈনিক সবুজ নিশান পত্রিকার চট্টগ্রাম বিভিাগীয় প্রধান,দৈনিক সংবাদের কাগজ পত্রিকার সম্পাদক ও অনলাইন নিউজ পোর্টাল নিউজ একাত্তর ডট কম এর সম্পাদক হিসেবে কর্মরত আছেন। কলামিস্ট,প্রাবন্ধীক,সংগঠক ও সাংবাদিক মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন চৌধুরীর দুই মেয়ে এক ছেলের মধ্যে রুপা চৌধুরী সকলের বড়। সাংবাদিক কন্যা রুপা চৌধুরী এইচ.এস.সি ২০১৯ ইং পরিক্ষায় গ্রেড- এ পাওয়ায় জাতীয় দৈনিক সবুজ নিশান,দৈনিক সংবাদের কাগজ ও নিউজ একাত্তর ডট কম পত্রিকা পরিবারের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানানো হয়। ...

গত ২৪ ঘন্টায় ডিএমপির মাদক বিরোধী অভিযানে গ্রেফতার ৭৮

১৬জুলাই২০১৯,মঙ্গলবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম:রাজধানীতে মাদক বিক্রি ও সেবনের দায়ে ৭৮ জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশর বিভিন্ন থানা ও গোয়েন্দা পুলিশ।ডিএমপি নিউজ । গ্রেফতারের সময় তাদের হেফাজত হতে ১,৯৭৭ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৫৮২ গ্রাম ৭৮৩ পুরিয়া হেরোইন, ১৮২ গ্রাম ৩৯ পুরিয়া গাঁজা, ৪৫০বোতল ফেন্সিডিল ও ৭৩ পিস নেশাজাতীয় ইনজেকশন উদ্ধার করা হয়। ১৫ জুলাই, ২০১৯ সকাল ছয়টা থেকে আজ সকাল ছয়টা পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ৫৭টি মামলা রুজু হয়েছে।...

সহোদরসহ ৫ জনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ

১৬জুলাই২০১৯,মঙ্গলবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম:খুলনায় চাঞ্চল্যকর ও লোমহর্ষক এক্সিম ব্যাংক কর্মকর্তা পারভীন সুলতানাকে গণধর্ষণের পর এবং তার বৃদ্ধ বাবা ইলিয়াস চৌধুরীসহ জোড়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পাঁচ আসামিকে ফাঁসিতে ঝুঁলিয়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড এবং লাশ গুমের চেষ্টার অভিযোগে আরো ৭ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। খুলনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩ এর বিচারক মোহা. মহিদুজ্জামান আজ মঙ্গলবার দুপুরে জনাকীর্ণ আদালতে এ রায় ঘোষণা করেন।রায়ে ধর্ষণের মামলায়ও পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড ও প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, খুলনা মহানগরীর লবণচরা থানার বুড়ো মৌলভীর দরগাহ রোডের বাসিন্দা শেখ আব্দুল জলিলের ছেলে সাইফুল ইসলাম পিটিল (৩০) ও তার ভাই মো. শরিফুল ইসলাম (২৭), মো. আবুল কালামের ছেলে মো. লিটন (২৮), অহিদুল ইসলামের ছেলে আবু সাঈদ (২৫) এবং মৃত সেকেন্দারের ছেলে মো. আজিজুর রহমান পলাশ (২৬)।...

ট্রেনের ধাক্কায় মাইক্রোবাসের ৮ যাত্রী নিহত

১৫জুলাই২০১৯,সোমবার,স্টাফ রিপোর্টার,নিউজ একাত্তর ডট কম: সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় ট্রেনের ধাক্কায় মাইক্রোবাসের ৮ যাত্রী নিহত হয়েছেন। সোমবার (১৫ জুলাই) সন্ধায় ঢাকা-ঈশ্বরদী রেল সড়কের উল্লাপাড়া উপজেলার পঞ্চক্রোশী এলাকার অরক্ষিত রেল ক্রসিংয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের নাম ও পরিচয় জানা যায়নি। বিষয়টি নিশ্চিত করে উল্লাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেওয়ান কৌশিক আহমেদ জানান, ৮ জন নিহতের সংবাদ পেয়েছি আমরা। বিস্তারিত এখনও জানা যায়নি। উল্লাপাড়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোশারফ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের উদ্ধার করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি বলেও জানান তিনি। এদিকে, দুর্ঘটনার পর রাজশাহীর সঙ্গে সারা দেশের ট্রেন যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।- আলোকিত বাংলাদেশ ...

জয়পুরহাটে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মা-মেয়ের করুণ মৃত্যু

১৫জুলাই২০১৯,সোমবার,স্টাফ রিপোর্টার,নিউজ একাত্তর ডট কম: কাপড় শুকানোর তার যে বিদ্যুতের সংস্পর্শে এসেছিল, তা জানতেন না স্বপ্না বেগম (৩৪)। আজ সোমবার সকালে রোদে কাপড় শুকাতে গেলে তারের সংস্পর্শে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে কাতরাতে থাকেন তিনি। এ সময় তাঁর শিশুসন্তান শিমু আকতার (৪) মায়ের চিৎকারে ছুটে গিয়ে জড়িয়ে ধরে। এ সময় মায়ের সঙ্গে সেও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পড়ে। তারপর মা-মেয়ে দুজনেরই করুণ মৃত্যু হয়। সকাল সোয়া ৭টার দিকে জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার মোলামগাড়িহাট গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল লতিফ খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। নিহত স্বপ্না বেগম উপজেলার মোলামগাড়িহাট গ্রামের কৃষক ফরিদুল সোনারের স্ত্রী। শিমু আকতার তাঁদের একমাত্র সন্তান ছিল। কালাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও নিহতদের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ফরিদুল সোনারের বাড়ির ভেতরে রোদে কাপড় শুকানোর জন্য মোটা জিআই (লোহার তার) তার টানানো ছিল। গতকাল রাতে বৃষ্টির সময় ওই তারের সঙ্গে পাশের খোলা বৈদ্যুতিক ছেঁড়া তারের স্পর্শ হলে তারটিতে বিদ্যুতের সংযোগ ঘটে। আজ সকালে বাড়ির ভেজা কাপড় শুকানোর জন্য স্বপ্না বেগম ওই তারে কাপড় শুকানোর সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে কাতরাতে থাকেন। তাঁর চিৎকারে শিশুসন্তান শিমু দৌড়ে গিয়ে মাকে জড়িয়ে ধরলে মা ও মেয়ে দুজনই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হয়। এ সময় পরিবারের লোকজন চিৎকার করলে প্রতিবেশীরা ছুটে গিয়ে মা ও মেয়েকে উদ্ধার করে কালাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। এ সময় চিকিৎসক তাঁদের দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।...

স্বর্ণের দাম প্রতি ভরিতে বাড়ছে ২ হাজার ৪১ টাকা

৪জুলাই২০১৯,বৃহস্পতিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম:দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ছে। বৃহস্পতিবার থেকে স্বর্ণের দাম ভরিতে দুই হাজার ৪১ টাকা বাড়বে। আজ বুধবার বিকালে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানায় বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি। এর আগে গত ১৮ জুন থেকে প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণ (১১.৬৬৪ গ্রাম) বিক্রি হচ্ছিল ৫০ হাজার ১৫৫ টাকা। বাজুসের ঘোষণা অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার থেকে প্রতি গ্রাম ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম পড়বে ৪ হাজার ৪৭৫ টাকা। অর্থাৎ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের (১১.৬৬৪ গ্রাম) দাম হবে ৫২ হাজার ১৯৬ টাকা। ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণার পর দিন ১৪ জুন স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছিল বাজুস। তখন প্রতি ভরি সোনায় সর্বোচ্চ এক হাজার ১৬৬ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। অবশ্য এর ৩ দিনের মাথায় ১৮ জুন সংগঠনটি প্রতি ভরি সোনায় সর্বোচ্চ ১ হাজার ১৬৬ টাকা কমানোর ঘোষণা দেয়। নতুন ঘোষণা অনুযায়ী ২২, ২১ ও ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণ প্রতি ভরিতে বাড়ছে ২ হাজার ৪১ টাকা। তবে অপরিবর্তিত রয়েছে সনাতন পদ্ধতির সোনা ও রুপার দাম।...

২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে যা আছে

১৩জুন২০১৯,বৃহস্পতিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: ২০১৯-২০ অর্থবছরে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সম্মানী ভাতা ১০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১২ হাজার টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে জাতীয় বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ৭৪ হাজার ৩৬৭ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে। এ বরাদ্দ জাতীয় বাজেটের শতকরা ১৪ দশমিক ২১ ভাগ এবং জিডিপির শতকরা ২ দশমিক ৫৮ ভাগ। গত অর্থবছরে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দের পরিমাণ ছিলো ৬৪ হাজার ৪০৪ কোটি টাকা। প্রতিবন্ধী ছাত্র-ছাত্রীদের উপবৃত্তির সংখ্যা ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ জনে বাড়ানো এবং উপবৃত্তির হার বাড়িয়ে প্রাথমিক স্তরে ৭০০ টাকা থেকে ৭৫০ টাকা, মাধ্যমিক স্তরে ৭৫০ টাকা থেকে ৮০০ টাকা এবং উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে ৮৫০ টাকা থেকে ৯০০ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এবারের বাজেটে বড় আকারের ব্যয় মেটাতে মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৮১০ কোটি টাকা। এটি জিডিপির ১৩ দশমিক ১ শতাংশের সমান। এরমধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আদায় করবে ৩ লাখ ২৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা, এনবিআর বহির্ভূত কর আদায় ধরা হয়েছে ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। কর ছাড়া আদায় বা প্রাপ্তি ধরা হয়েছে ৩৭ হাজার ৭১০ কোটি টাকা। বিদায়ী অর্থবছরে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য হচ্ছে ৩ লাখ ৩৯ হাজার ২৮০ কোটি টাকা। নতুন বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৩৮ হাজার ৫৩০ কোটি টাকা বেশি ধরা হয়েছে। মোবাইল: মোবাইল গ্রাহকের কথা বলার ওপর করহার বাড়ছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে চলমান ৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে একজন গ্রাহক ১০০ টাকা রিচার্জ করলে তা থেকে প্রায় ২৭ টাকা কর বাবদ নিয়ে যাবে সরকার, যা এখন ২২ টাকা। ফলে গ্রাহক যত বেশি কথা বলবে, তত বেশি কর পাবে সরকার। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে এই বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী। বাজেট প্রস্তাবে তিনি এ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেন। এর আগে বাজেটে মন্ত্রিসভা অনুমোদন দেয় এবং পরে ওই প্রস্তাবে সই করবেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। এটি দেশের ৪৮তম ও বর্তমান সরকারের তৃতীয় মেয়াদের প্রথম বাজেট। অর্থমন্ত্রী হিসেবে আ হ ম মুস্তফা কামালের প্রথম বাজেট। যদিও গত সরকারের পরিকল্পনামন্ত্রী হিসেবে অনেক বাজেট প্রণয়নে পরোক্ষভাবে জড়িত ছিলেন তিনি। বর্তমানে মোবাইল সেবার ওপর ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট), ৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক এবং তার সঙ্গে ১ শতাংশ সারচার্জসহ মোট করের পরিমাণ প্রায় ২২ শতাংশ। প্রস্তাবিত বাজেটে বিদ্যমান করের সঙ্গে বাড়তি ৫ শতাংশ যোগ হচ্ছে। বাড়তি করহার পাস হলে মোবাইল সেবায় মোট করহার দাঁড়াবে প্রায় ২৭ শতাংশ। ফলে গ্রাহকের কথা বলার খরচ আরও বেড়ে যাবে। এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, মোবাইল সেবার বাইরে এখন প্রতি সিম সংযোজন এবং প্রতিস্থাপনে ১০০ টাকা নির্ধারিত কর দিতে হয়। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে সিমকে প্রথমবারের মতো করের আওতায় আনা হয়। তবে প্রথমদিকে নির্ধারিত কর ছিল ৩০০ টাকা। ক্রমান্বয়ে তা কমিয়ে আনা হয়। গ্রাহকের সংখ্যা বাড়াতে নিজেরাই এই কর দেয় মোবাইল অপারেটররা। যদিও এই কর প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছে মোবাইল অপারেটররা। বিড়ি-সিগারেটের দাম: নতুন অর্থবছরের (২০১৯-২০) প্রস্তাবিত বাজেটে বাড়ছে বিড়ি-সিগারেটসহ তামাকজাত দ্রব্যের সম্পূরক শুল্ক। ফলে বাড়বে বিড়ি-সিগারেটসহ তামাকজাত পণ্যের দাম। প্রস্তাবিত বাজেটে বলা হয়েছে, সিগারেটের নিম্নস্তরের ১০ শলাকার দাম ৩৭ টাকা। যাতে প্রস্তাব করা হয়েছে ৫৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ। মধ্যম স্তরের ১০ শলাকার দাম ৬৩ টাকা এবং ৬৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক। আর উচ্চ স্তরের ১০ শলাকার দাম ৯৩ টাকা ও ১২৩ টাকা। আর এতে থাকছে ৬৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্কের প্রস্তাব। হাতে তৈরি ফিল্টারবিহীন বিড়ির ২৫ শলাকার দাম ১৪ টাকা এবং ৩৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক। ফিল্টারযুক্ত বিড়ির ২০ শলাকার দাম ১৭ টাকা ও ৪০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ১০ গ্রাম জর্দার দাম ৩০ টাকা ও ৫০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক এবং প্রতি ১০ গ্রাম গুলের দাম ১৫ টাকা এবং ৫০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক নির্ধারণের জন্য বাজেটে প্রস্তাব করা হয়েছে। পেনশন: প্রস্তাবিত বাজেটে দেশের সবার জন্য পেনশনের ব্যবস্থা রাখার কথা বলেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবে বলা হয়, সরকারি যে পেনশন ব্যবস্থা রয়েছে, তাতে জনসংখ্যার খুব সামান্য একটি অংশ এই সুবিধার আওতায় রয়েছে। দেশের সংগঠিত ও অসংগঠিত ক্ষেত্রের সব কর্মীকে ক্রমান্বয়ে পেনশন সুবিধার আওতায় আনতে শিগগিরই ইউনিভার্সাল পেনশন অথরিটি গঠন করবে সরকার। সেই সঙ্গে পেনশনভোগীদের সবাইকে ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) পদ্ধতির আওতায় আনা হবে। অর্থমন্ত্রী বলেন, ইএফটি পদ্ধতিতে ২৭ হাজার পেনশনভোগী তাঁদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মধ্যমে পেনশনের টাকা পাচ্ছেন। আগামী অর্থবছরে সব পেনশনভোগী এই পদ্ধতির আওতায় চলে আসবেন। এদিকে দেশের ইতিহাসে ১২তম দায়িত্বশীল ব্যক্তি হিসেবে জাতীয় সংসদে বাজেট পেশ করছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) বিকেল ৩টা ৭ মিনিটে অর্থমন্ত্রী তার বাজেট বক্তব্য শুরু করার জন্য স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর কাছ থেকে অনুমতি গ্রহণ করেন। এ সময় স্পিকার অর্থমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন যে, আপনি চাইলে বসে বাজেট বক্তব্য উপস্থাপন করতে পারেন। আওয়ামী লীগের সাংসদ শেখ ফজলুল করিম সেলিম পাশ থেকে অর্থমন্ত্রীকে বাজেট বক্তব্য কীভাবে উপস্থাপন করতে হয়, সে বিষয়ে পরামর্শ দিচ্ছিলেন। এরপর, অর্থমন্ত্রী তার আসনে বসে বাজেট বক্তব্য দেওয়া শুরু করেন। অর্থমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর সংগ্রাম ও বাংলাদেশের জন্ম ইতিহাস নিয়ে একটি প্রামাণ্য চিত্র উপস্থাপন করেন। এরপর তিনি এবারের বাজেটকে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাজেট বলে অভিহিত করেন। তার আগে সাদা পাঞ্জাবির ওপর মুজিব কোট পরে তিনি সংসদে প্রবেশ করেন। ...

এইচএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ

১৭জুলাই২০১৯,বুধবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষায় এবার পাসের হার ৭৩.৯৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪৭ হাজার ৫৮৬ জন শিক্ষার্থী। আজ বুধবার সকালে ফলাফলের সার-সংক্ষেপ গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে তুলে দেওয়ার আগে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এ তথ্য জানান এরপরে দুপুর ১২টার দিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ফলাফলের বিস্তারিত তুলে ধরবেন শিক্ষামন্ত্রী। পরীক্ষার্থীরা বেলা ১টার পর নিজেদের ফল জানতে পারবে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষা কেন্দ্র, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ইন্টারনেট বা মোবাইলের মাধ্যমে শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট থেকে। গত ১ এপ্রিল এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয়। আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাবোর্ড মিলিয়ে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১৩ লাখ ৫১ হাজার ৫০৫ জন। এরমধ্যে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে শুধু এইসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৭৪৭ জন। তত্ত্বীয় পরীক্ষা শেষ হয় ১১ মে আর ১২ থেকে ২১ মের মধ্যে শেষ হয় ব্যবহারিক পরীক্ষা। গত বছর এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৬৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ। আর মোট জিপিএ-৫ পেয়েছিল ২৯ হাজার ২৬২ জন।...

আগামীকাল এইচএসসির ফল প্রকাশ: যেভাবে যাবে জানা

১৬জুলাই২০১৯,মঙ্গলবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম:এইচএসসি ও সমপর্যায়ের পরীক্ষার ফল আগামীকাল বুধবার প্রকাশ হচ্ছে। ওইদিন সকালে শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যানদের নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ফলাফলের অনুলিপি হস্তান্তর করবেন। এরপর দুুপুরে সাড়ে ১২টায় সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে সারাদেশের ফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করবেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দিপু মনি। দুপুর ১টা থেকে ফল জানতে পারবে শিক্ষার্থীরা। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক তপন কুমার সরকার সাংবাদিকদেরকে জানিয়েছেন, তারা ফল প্রকাশের জন্য এখন প্রস্তুত। বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টায় শিক্ষামন্ত্রী সংবাদ সম্মেলন করবেন, এরপরই ১টা থেকে ফল জানতে পারবে সকলে। গত কয়েক বছর ধরে লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে পাবলিক পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হচ্ছে। গত ১ এপ্রিল এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়। এবার আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ড মিলিয়ে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১৩ লাখ ৫১ হাজার ৫০৫ জন। এর মধ্যে আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিল ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৭৪৭ জন। যেভাবে ফল জানা যাবে: পরীক্ষার্থীরা সমন্বিত ওয়েবসাইট www.educationboardresults.gov.bd এবং সংশ্লিষ্ট বোর্ডের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল সংগ্রহ করতে পারবে। আটটি সাধারণ শিক্ষাবোর্ডের এইসএসসি পরীক্ষার্থী মোবাইলের মাধ্যমে ফল পেতে HSC লিখে স্পেস দিয়ে বোর্ডের প্রথম তিন অক্ষর স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে ২০১৯ লিখে ১৬২২২ নম্বরে এসএমএস পাঠাতে হবে। ফিরতি এসএমএসে ফল জানা যাবে। মাদ্রাসা বোর্ডের শিক্ষার্থীদের ফল জানতে HSC লিখে স্পেস দিয়ে MAD স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে ২০১৯ লিখে ১৬২২২ নম্বরে এসএমএস পাঠাতে হবে। ফিরতি এসএমএসে ফল পাওয়া যাবে। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ফল জানতে HSC লিখে স্পেস দিয়ে TEC লিখে স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে ২০১৯ লিখে ১৬২২২ নম্বরে এসএমএস পাঠাতে হবে। ফিরতি এসএমএসে ফল জানিয়ে দেয়া হবে। এছাড়াও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ই-মেইলে ফল জানিয়ে দেয়া হবে। তবে বোর্ড থেকে ফলাফলের কোনো হার্ডকপি সরবরাহ করা হবে না। বিশেষ প্রয়োজনে জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) দপ্তর থেকে ফলাফলের হার্ডকপি সংগ্রহ করা যাবে।...

নাটকীয় জয়ে বিশ্বকাপ গেল ইংল্যান্ডে

১৫জুলাই২০১৯,সোমবার,ক্রীড়া ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম:দীর্ঘ ২৩ বছর পর বিশ্বকাপ গেল নতুন ঘরে। অস্ট্রেলিয়া শুনতে শুনতে যাদের বিরক্ত চলে আসছিল, তাদের এবার হাঁফ ছেড়ে বাঁচার পালা। বিশ্বকাপ গেল ক্রিকেটের জন্মভূমিতে। বিশ্বকাপের এগারটি আসরে তিনবার ফাইনাল খেললেও কোনোবার শিরোপা জেতেনি তারা। ১৯৭৯ তে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হার, ১৯৮৭ তে অস্ট্রেলিয়া আর ১৯৯২ তে পাকিস্তানের কাছে হারের পর ২৭ বছর ধরে সেমি-ফাইনালেও উঠতে পারেনি ইংলিশরা। আজ সেই সব আক্ষেপের ইতি টানল তারা। লর্ডসে টস জয়ী নিউজিল্যান্ড সিদ্ধান্ত নেয় আগে ব্যাট করার। অথচ ম্যাচ শুরুর আগেই হয়েছে বৃষ্টি। তাতেও সিদ্ধান্ত বদলায়নি কিউই অধিনায়কের। আগে ব্যাট করতে নেমে দিক হারিয়েছিল নিউজিল্যান্ডের ব্যাটাররা। দুই উদ্বোধনীর জুটি থেকে আসেনি বড় সংগ্রহ। টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই ধুকতে থাকা মার্টিন গাপটিলের উপর ফাইনাল ম্যাচেও বিশ্বাস রেখেছিল কিউই ম্যানেজমেন্ট। সেটার মর্যাদা দিতে পারেনি গাপটিল। মাত্র ১৯ রানে ক্রিস ওকসের বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়ে ফেরেন সাজঘরে। আরেক ওপেনার তখন কেন উইলিয়ামসনকে নিয়ে লড়াই করছেন ইংলিশ বোলারদের সঙ্গে। এই জুটি থেকে আসে ৭৪ রান। গোটা আসরে দলকে টেনে আনা উইলিয়ামসন আজ বড় কিছু দিতে পারেননি দলকে। মাত্র ৩০ রান করে ক্যাচ তুলে বিদায় নেন লিয়াম প্লাঙ্কেটের বলে। এরমধ্যে হ্যানরি নিকোলস তুলে নেন অর্ধশতক। তবে এগোতে পারেননি বেশিদূর। ৫৫ রানের মাথায় বোল্ড করে বিদায় করেন প্লাঙ্কেট। নিকোলসের বিদায়ের চাপ সামলে আর ঘুরে দারাতে পারেনি নিউজিল্যান্ড। টম ল্যাথাম ৪৭ রান করলেও বাকি ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৪১ রা তুলতে পারে কিউইরা। ইংলিশদের হয়ে সমান ৩টি করে উইকেট নেন প্লাঙ্কেট ক্রিস ওকস। একটি করে উইকেট নেন জোফরা আর্চার আর মার্ক উড। স্বাগতিকদের সামনে লক্ষ্যটা মামুলিই হয়ে গেল বটে। ইংলিশরা যখন এই লক্ষ্য তাড়া করতে নামে তখন ২৪১ রান যেন ৩৪১ রানে ঠেকে! যে জেসন রয়ের উপর নির্ধিদায় আস্থা রাখা যায়, সেই রয়ও আজ ১৭ রানে ফেরেন ম্যাট হ্যানরির বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে। চাপের শুরু এখানেই। জো রুট মাত্র ৭ রান করে বিদায় নেন কলিন ডি গ্র্যান্ডওমের বলে ল্যাথামের হাতে ক্যাচ দিয়ে। জনি বেরিষ্টোও আজ হতাশ করে লর্ডসের কানায় কানায় ভরা গ্যালারির হাজারো মানুষকে। মাত্র ৩৬ রানে ফেরেন লকি ফার্গুসনের বলে বোল্ড হয়ে। এউইন মরগ্যানের ৯ রানে বিদায় যেন মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ার মতো। দলীয় রান তখন ৮৬ রান। এখান থেকেই ইংলিশদের ঘুরে দাঁড় করান আরেক নিউজিল্যান্ড বংশোদ্ভূত বেন স্টোকস আর জস বাটলার। দুইজনের জুটি থেমে ১১০ রানের জুটি গড়ে দলীয় ১৯৬ রানের মাথায়। জস বাটলার বিদায় নেন ৬০ বলে ৫৯ রান করে ফার্গুসনের বলে ক্যাচ দিয়ে। এরপর যেন স্টোকস একা হাতে নিজের পৈতৃক ভূমিকে হারানোর জন্য বদ্ধপরিকর হয়ে পড়েন। যার হাতে ২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা হারিয়েছিল ইংল্যান্ড সেই স্টোকসের কাছেই যে আরও বড় অর্জন অপেক্ষা করছে সেটা কে জানত। শেষ পর্যন্ত লড়াই করে ৯৮ বলে ৮৪ রানের ইনিংস খেলে নাটকীয়ভাবে ম্যাচ টাই করেন স্টোকস। সুপার ওভারে ম্যাচ গড়ালে আগে ব্যাট করে ট্রেন্ট বোল্টের ওভারে ১৫ তোলে বেন স্টোকস (৮) আর জেসন রয় (৭)। ১৬ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে জোফরা আর্চারের ওভার মোকাবেলা করতে হয় কিউই দুই ব্যাটসম্যান মার্টিন গাপটিল আর জিমি নিশামকে। আর্চারের প্রথম ডেলিভারিতেই আসে ওয়াইডে ১রান, প্রথম বলে দুই রান নেন নিশাম। দ্বিতীয় বলে নিশামের লেগ প্রান্ত দিয়ে ছয়। পরের বলে আবারও আসে দুই রান। পঞ্চম বলে আসে ১ রান। শেষ বলে লাগে দুই রান। এখানেই ঝামেলা পাকায় দুই কিউ ব্যাটসম্যান। শেষ বলে দুই রান নিতে গিয়ে দ্বিতীয়বার প্রান্ত বদলের সময় রান আউট হয়ে যান গাপটিল। এখানেই হেরে যায় নিউজিল্যান্ড। নিউজিল্যান্ডের হয়ে ৩টি করে উইকেট নেন লকি ফার্গুসন ও জিমি নিশাম। ১টি করে উইকেট নেন ম্যাট হেনরি ও গ্র্যান্ডওম। এই ম্যাচকে নাটকীয় জয় বললেও বোধহয় ভুল হবে। অভিনন্দন ইংল্যান্ড। অভিনন্দন পাওয়ার দাবিদার নিউজিল্যান্ডও।...

টস জিতে ব্যাটিংয়ে নিউজিল্যান্ড

১৪জুলাই২০১৯,রবিবার,ক্রীড়া ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বহুল প্রতীক্ষার ফাইনাল। লর্ডসে চোখ সবার। সেই চোখ শুরুতে খানিক ঝাপসা করে দিয়েছিল বৃষ্টি। এখন আর নেই বৃষ্টির চোখ রাঙ্গানি। একটু দেরিতে হলেও শুরু হয়েছে ম্যাচ। দীর্ঘ ২৩ বছর পর ক্রিকেট পেতে যাচ্ছে নতুন চ্যাম্পিয়ন। কার হাতে উঠবে বিশ্বকাপের শিরোপা? শেষ হাসি হাসবে কে। তার আগে লর্ডসে টস জিতে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিউজিল্যান্ড। বৃষ্টির সম্ভাবনা না থাকলেও হুট করেই বৃষ্টি নামে সকালে। পিচে আছে ঘাসও। দুইয়ে মিলে সুবিধাটা নিতেই চাইবে টসে হেরে বোলিং পাওয়া এউইন মরগ্যান। ইংল্যান্ড: জেসন রয়, জনি বেরিস্টো, জো রুট, ইয়ন মরগ্যান (অধিনায়ক), বেন স্টোকস, জস বাটলার (উইকেট-রক্ষক), ক্রিস ওকস, লিয়াম প্লাঙ্কেট, জোফরা আর্চার, আদিল রশিদ ও মার্ক উড। নিউজিল্যান্ড: মার্টিন গাপটিল, হেনরি নিকোলস, কেন উইলিয়ামসন (অধিনায়ক), রস টেলর, জিমি নিশাম, টম ল্যাথাম (উইকেট-রক্ষক), কলিন ডি গ্র্যান্ডওম, মিচেল স্যান্টনার, ম্যাট হেনরি, ট্রেন্ট বোল্ট ও লকি ফার্গুসন।...

স্বপ্নে দেখা রাজকন্যা ছবির মধ্য দিয়ে বড় পর্দায় যাত্রা শুরু নিশাত সালওয়ারের

১৪জুলাই২০১৯,রবিবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: এবার বড় পর্দায় নায়িকা হিসেবে কাজ শুরু করলেন মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ প্রতিযোগিতার প্রথম রানারআপ নিশাত নাওয়ার সালওয়া। মোস্তাফিজুর রহমান মানিক পরিচালিত স্বপ্নে দেখা রাজকন্যা ছবির মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্র জগতে যাত্রা শুরু হলো তার। চলচ্চিত্রটিতে তার বিপরীতে নায়ক হিসেবে দেখা যাবে হ্যান্ডসাম দ্য আল্টিমেট ম্যানর দ্বিতীয় আসরের চ্যাম্পিয়ন এ কে আজাদকে। এরইমধ্যে গত ১২ জুলাই থেকে রাজধানীর উত্তরায় মহরত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ছবিটির শুটিং শুরু হয়েছে। এতে অংশ নেন নায়িকা সালওয়া, নায়ক একে আজাদ-সহ অন্য কলাকুশলীরা। এ প্রসঙ্গে নিশাত নাওয়ার সালওয়া বললেন,প্রথমবারের মতো চলচ্চিত্রে কাজ করছি। ভালো লাগছে। আমি নিজের যোগ্যতা ও মেধার সর্বোচ্চটা ঢেলে দিয়ে দর্শকের মনে জায়গা করে নেয়ার চেষ্টা করবো। প্রথম ছবি, প্রথম অনুভূতি সত্যিই অন্যরকম। আশা করছি দর্শকদের ভালো লাগার মতো কিছু দিতে পারবো । ...

মুক্তি পাচ্ছে না ত্রিভুজ প্রেমের কাহিনী নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্র ভালোবাসা ডটকম

১১জুলাই২০১৯,বৃহস্পতিবার,বিনোদন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: মুক্তি পাচ্ছে না ত্রিভুজ প্রেমের কাহিনী নিয়ে নির্মিত হয়েছে চলচ্চিত্র -ভালোবাসা ডটকম। ২০১৫ সালে ছবির শুটিং শুরু হয়। সেন্সর বোর্ডে ছাড়পত্র পায় ২০১৬ সালে। মাঝে তিন বছর বিরতি নিয়ে আগামী কাল শুক্রবার মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল মোহাম্মদ আসলাম পরিচালিত এই চলচ্চিত্রটি। মোহাম্মদ আসলাম বলেন, আমরা ছবিটি মুক্তির জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। সারা দেশে বেশ কিছু সিনেমা হলও বুকিং পেয়েছিলাম। তবে ঢাকার ভেতরে তেমন সিনেমা হল পাচ্ছি না। বেশির ভাগ সিনেমা হলে ঈদের সময় শাকিব খানের মুক্তি পাওয়া দুটি চলচ্চিত্র চলবে। তাছাড়া কলকাতার একটি চলচ্চিত্র মুক্তি পাচ্ছে। মূলত ঢাকায় কম সিনেমা হল পাওয়ায় আমরা এখনই চলচ্চিত্রটি মুক্তি দিচ্ছি না। আসলাম আরো বলেন, ছবিটি আমি শুরু করেছিলাম ২০১৫ সালে। টানা শুটিংয়ের মধ্য দিয়ে ছবির শুটিংও শেষ করেছিলাম। ২০১৬ সালে ছবিটি সেন্সর ছাড়পত্র পায়। তবে প্রযোজক হঠাৎ অসুস্থ হওয়ায় আর ছবিটি মুক্তি দিতে পারিনি। ছবির মূল চরিত্রে অভিনয় করেছেন অভি, নিঝুম রুবিনা ও রাহা। এ ছাড়া ছবিতে অভিনয় করেছেন ডন, অমিত হাসান, রেহানা জলি, রেবেকা, সিরাজ হায়দার প্রমুখ। নিহাল মুভিজ প্রযোজিত এ সিনেমার গল্পে দেখা যাবে, কলেজপড়ুয়া এক ছেলের প্রেমে পড়ে একই কলেজের দুই ছাত্রী নিঝুম ও রাহা। তাদের প্রেম নিয়ে ঘটতে থাকে নানা ঘটনা। -ভালোবাসা ডটকম- সিনেমায় মোট ছয়টি গান ব্যবহার করা হয়েছে। গানগুলোর কথা লিখেছেন সুদীপ কুমার দীপ, সংগীতায়োজন করেছেন কাজী জামাল। কণ্ঠ দিয়েছেন কনা, ন্যানসি, পড়শী, ডলি সায়ন্তনী, রাজিব ও এস আই টুটুল।- এনটিভি ...

শত বছরের পুরোনো দুর্গাবাড়ী

বাঙালি হিন্দু সমাজের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয়া দুর্গোৎসব। আর এই পুজোয় আপনিও ঘুরে আসতে পারেন সিলেটের শত বছরের পুরোনো দুর্গাবাড়ী থেকে। আর খরচের কথা ভাবছেন, মাত্র ৮০০ টাকা।শোনা যায় কলকাতার পাথরঘাটা নামক স্থানের এক সম্ভ্রান্ত জমিদার এই দুর্গাবাড়ী প্রতিষ্ঠান করেন। এই ব্যাপারে ব্রজেন্দ্র নারায়ণ চৌধুরী সম্পাদিত স্মৃতি প্রতিতি নামক বই এ উল্লেখ আছে। ব্রজেন্দ্র নারায়ণ চৌধুরী ছিলেন সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের প্রতিষ্ঠাতা। স্বদেশি আন্দোলনে অনেক বীর এখানে এসে মায়ের পায়ে নিজের রক্ত দিয়ে প্রতিজ্ঞা করতেন নিজের আদর্শ থেকে এক চুলও বিচ্যুত হবেন না। স্বদেশকে পরাধীনতা থেকে মুক্ত করেই তবে ঘরে ফিরবেন।টিলার ওপর মূল মন্দির অবস্থিত। অর্ধশত সিঁড়ি ডিঙিয়ে আপনাকে পৌঁছাতে হবে মূল মন্দিরে। মূল মন্দিরে স্থাপিত দুর্গা প্রতিমা শত বছর ধরে পুজিত হয়ে আসছেন। পাশেই আছে আপনার বসার জন্য জায়গা। এর সাথেই আছে শিব মন্দির। টিলার থেকে দূরের দৃশ্য আপনাকে অভিভূত করবে। পূজার সময় ধূপ-ধূনার মোহনীয় গন্ধ আপনাকে নিয়ে যাবে এক অন্য জগতে।কীভাবে যাবেন,দুর্গাবাড়ী মন্দির যেতে হলে আপনাকে বাস/টেনে করে আসতে হবে সিলেট শহরে। প্রতিদিন ঢাকা থেকে সিলেটের উদ্দেশে বাস/ট্রেন ছাড়ে, ভাড়া পড়বে ৩২০ টাকা থেকে এক হাজার ২০০ টাকা। সিলেট শহরের যেকোনো প্রান্ত থেকে দুর্গাবাড়ী যাব বললেই আপনাকে নিয়ে যাবে শত বছরের পুরোনো দুর্গাবাড়িতে। রিকশা/সিএনজি ভাড়া নেবে ৮০ থেকে ১৫০ টাকা।...

ঈদের ছুটিতে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে

বর্ষা মৌসুম তারপরও ঈদের ছুটিতে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে ছুটে আসছেন পর্যটকরা। তাদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত কক্সবাজার। সৈকত শহরের ৪ শতাধিক হোটেল-মোটেল-গেষ্টহাউজ ও কটেজ কর্তৃপক্ষের প্রস্তুতিও শেষ। আর পর্যটকদের নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশও। রমজানে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার পর্যটক শূন্য থাকলেও ঈদের ছুটিতে ভ্রমণ পিপাসুদের ঢল নামে এই সৈকতে। বর্ষা মৌসুম হওয়ায় প্রথমে পর্যটকের সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল কক্সবাজারে। তবে সব আশঙ্কাকে উড়িয়ে দিয়ে এরই মধ্যে হোটেল-মোটেল-গেস্ট হাউস ও কটেজের প্রায় ৮০ শতাংশ কক্ষ বুকড হয়ে গেছে। আর ব্যবসায়ীরাও নতুন সাজে সাজিয়েছেন তাদের প্রতিষ্ঠান। হোটেল কর্তৃপক্ষও পর্যটকদের নানান সুযোগ-সুবিধা দেয়াসহ শেষ করছে যাবতীয় প্রস্তুতি। তারা আশা , প্রতি বছরেই মতো এবারও ঈদের ছুটিতে ভালো ব্যবসা হবে। বর্ষা মৌসুম তাই সাগর উত্তাল থাকবে। এক্ষেত্রে অনাকাঙ্কিত দুর্ঘটনা এড়াতে পর্যটকদের সমুদ্রে স্নান ও নিরাপত্তায় কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানালেন হোটেল ওনার্স এসোসিয়েশনের এ নেতা। কক্সবাজার হোটেল ওনার্স এসোসিয়েশনের মুখপাত্র মো. সাখাওয়াত হোসাইন জানান, 'সমুদ্র উত্তাল থাকবে। এখানে লাইফগার্ড ও পুলিশ ট্যুরিস্টদের তৎপরতাটা বৃদ্ধি করলে আমার মনে হয়, যারা কক্সবাজারে আসবেন তারা নিবিঘ্নে এখান থেকে ফিরতে পারবেন।' আর ট্যুরিস্ট পুলিশের এ কর্মকর্তা জানালেন, ঈদের ছুটিতে পর্যটকরা যাতে স্বাচ্ছন্দ্যে কক্সবাজার ভ্রমণ করতে পারে সেজন্য সব ধরণের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।...

পাঁচ দিনব্যাপী ডিসি সম্মেলন শুরু হচ্ছে রোববার

১২জুলাই২০১৯,শুক্রবার,বিশেষ প্রতিনিধি ,নিউজ একাত্তর ডট কম:দেশে প্রথমবারের মতো পাঁচ দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন শুরু হচ্ছে। ৩৩৩ প্রস্তাব নিয়ে ডিসি সম্মেলন শুরু হবে রোববার। এই প্রথম স্পিকার, প্রধান বিচারপতি, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের জন্য থাকছে আলাদা আলাদা সেশন। প্রতি বছরের মতো এবারো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিসি সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে সকাল ৯টায় সম্মেলন উদ্বোধন হবে। গতকাল সচিবালয়ে ,জেলা প্রশাসক সম্মেলন-২০১৯ নিয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম এ তথ্য জানান। এর আগে সাধারণত তিন দিনব্যাপী ডিসি সম্মেলন হতো। এবার ডিসি সম্মেলন ১৪ জুলাই শুরু হয়ে শেষ হবে ১৮ জুলাই। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সরকারের নীতিনির্ধারক ও জেলা প্রশাসকদের মধ্যে সরাসরি মতবিনিময় এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেয়ার জন্য প্রতি বছর ডিসি সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এবার জেলা প্রশাসক সম্মেলনে প্রথমবারের মতো প্রধান বিচারপতি, তিন বাহিনী প্রধান, জাতীয় সংসদের স্পিকারের সঙ্গে ডিসিদের বৈঠক হবে। তিনি বলেন, এবার সম্মেলনে মোট ২৯টি অধিবেশন হবে। এর মধ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সঙ্গে কার্য অধিবেশন ২৪টি। এ ছাড়া একটি উদ্বোধন অনুষ্ঠান, একটি মুক্ত আলোচনা, প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ, স্পিকারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ, প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও একটি সমাপনী অনুষ্ঠান হবে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ছাড়া মোট ৫৪টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ অংশগ্রহণ করবে। কার্য অধিবেশন গুলোতে মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতিনিধি হিসেবে মন্ত্রী, উপদেষ্টা, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী, সিনিয়র সচিব ও সচিবরা উপস্থিত থাকবেন। অধিবেশন গুলো হবে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে। কার্য অধিবেশনগুলোতে সভাপতিত্ব করবেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। এবার ডিসি সম্মেলন উপলক্ষে জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারদের কাছ থেকে ৩৩৩টি প্রস্তাব পাওয়া গেছে জানিয়ে শফিউল আলম বলেন, জেলা প্রশাসকদের তাৎক্ষণিক যদি কোনো প্রস্তাব থাকে সেটি অধিবেশনে উপস্থাপন হতে পারে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, এ বছর সবচেয়ে বেশিসংখ্যক প্রস্তাব পাওয়া গেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ-সংক্রান্ত। এ বিভাগ-সংক্রান্ত প্রস্তাব ২৯টি। এরপর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় (২৬টি প্রস্তাব) ও ভূমি মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত (২০টি) প্রস্তাব পাওয়া গেছে। ১৬ জুলাই সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে বিকেল ৪টা থেকে ৫টা পর্যন্ত প্রধান বিচারপতির কার্যভার পালনরত বিচারপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে দিকনির্দেশনা নেবেন জেলা প্রশাসকরা। ১৮ জুলাই বিকেল ৪টা থেকে ৫টা পর্যন্ত ডেপুটি স্পিকারের (স্পিকার না থাকায়) সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ডিসিরা দিকনির্দেশনা গ্রহণ করবেন বলে জানিয়েছেন শফিউল আলম। ১৭ জুলাই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে সকাল পৌনে ৯টা থেকে পৌনে ১০টা পর্যন্ত তিন বাহিনী প্রধানের সঙ্গে ডিসিরা বৈঠক করবেন। ডিসি সম্মেলনের প্রধান আলোচ্য বিষয়গুলো তুলে ধরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ভূমি ব্যবস্থাপনা, আইনশৃঙ্খলা, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, ত্রাণ পুনর্বাসন কার্যক্রম, স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসৃজন, দারিদ্র বিমোচন, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কার্যক্রম, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার, শিক্ষার মানোন্নয়ন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ, পরিবেশ সংরক্ষণ ও দূষণ রোধ, ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন এবং উন্নয়ন কার্যক্রমের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও সমন্বয়। এ বিষয়গুলো মূলত আলোচনায় স্থান পাবে।...

১লা জানুয়ারি থেকে ৩০শে জুন পর্যন্ত সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২,৩২৯

৪জুলাই২০১৯,বৃহস্পতিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম:গত ছয় মাসে সারা দেশে ২,১৫৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২,৩২৯ জন নিহত ও ৪,৩৬১ জন আহত হয়েছেন। নিহতের তালিকায় ২৯১ নারী ও ৩৮১ শিশু রয়েছে। চলতি বছরের ১লা জানুয়ারি থেকে ৩০শে জুন পর্যন্ত জাতীয় মহাসড়ক, আন্ত:জেলা সড়ক ও আঞ্চলিক সড়কসহ সারা দেশে এসব দুর্ঘটনা ঘটে। গণমাধ্যমকর্মীদের সংগঠন শিপিং এন্ড কমিউনিকেশন রিপোর্টার্স ফোরামের (এসসিআরএফ) জরিপ ও পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এই পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়েছে। গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ২২টি বাংলা ও ইংরেজি জাতীয় দৈনিক, ১০টি আঞ্চলিক সংবাদপত্র এবং আটটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও সংবাদ সংস্থার তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, জানুয়ারিতে ৩৮৩টি দুর্ঘটনায় ৫৩ নারী ও ৭১ শিশুসহ ৪১১ জনের প্রাণহানি এবং ৭২৫ জন আহত হয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে ৪০১টি দুর্ঘটনায় নিহত ও আহত হয়েছে যথাক্রমে ৪১৫ জন ও ৮৮৪ জন। এই মাসে নিহতের তালিকায় ৫৮ নারী ও ৬২ শিশু রয়েছে। মার্চে ৩৮৪টি দুর্ঘটনায় ৪৬ নারী ও ৮২ শিশুসহ ৩৮৬ জন নিহত ও ৮২০ জন আহত হয়েছে। এপ্রিলে দুর্ঘটনা ঘটেছে ৩২৭টি। এতে ৩৪০ জন নিহত ও ৬১০ জন আহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ৩৮ নারী ও ৫৩ শিশু রয়েছে। মে মাসে ২৯৭টি দুর্ঘটনায় ৪৭ নারী ও ৪৪ শিশুসহ ৩৩৮ জন নিহত হয়েছে। এ সময়ে আহত হয়েছে ৫০৪ জন। জুনে দুর্ঘটনার সংখ্যা ৩৬৭। এতে ৪৩৯ জন নিহত ও ৮১৮ জন আহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যা যথাক্রমে ৪৯ ও ৬৯।...

দেশজুড়ে জনগণের মধ্যে নীরব আতঙ্ক বিরাজ করছে:রিজভী

১৬জুলাই২০১৯,মঙ্গলবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম:দেশে আইন শৃঙ্খলার ভয়াবহ অবনতি হয়েছে উল্লেখ করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সন্ত্রাস উইপোকার মতো রাষ্ট্র-সমাজকে ভেতর থেকে খেয়ে ফেলছে। সন্ত্রাসের নিরবচ্ছিন্নতা ও প্রসারে দেশজুড়ে জনগণের মধ্যে নীরব আতঙ্ক বিরাজ করছে। কুমিল্লার ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশে কি ভয়ংকর পরিস্থিতি হলে একজন বিচারক এজলাসে তার নিজের নিরাপত্তা নিয়ে এমন আতঙ্কবোধ করছেন। আজ মঙ্গলবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। রিজভী বলেন, গতকাল কুমিল্লা আদালতে বিচারকের খাস কামরায় কী ভয়াবহ নজিরবিহীন নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটেছে! আদালতের বিচারক, কর্মকর্তা, পুলিশ, আইনজীবী ও বিচার প্রার্থীদের সামনে একজন আসামি আরেকজন আসামিকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। তিনি বলেন, ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ তৃতীয় আদালতের বিচারক বেগম ফাতেমা ফেরদৌস সাংবাদিকদের বলেছেন, এই হত্যার শিকার আমিও হতাম কিম্বা এটির শিকার আমার কোনো সহযোগী বা কোনো আইনজীবীও হতে পারতেন। আমাদের নিরাপত্তা কোথায়? আমাদের আসলে কোনো নিরাপত্তাই নেই। রিজভী বলেন, সন্ত্রাস উইপোকার মতো রাষ্ট্র-সমাজকে ভেতর থেকে খেয়ে ফেলছে। দেশে কি ভয়ংকর পরিস্থিতি হলে একজন বিচারক এজলাসে তার নিজের নিরাপত্তা নিয়ে এমন আতঙ্কবোধ করছেন। আর সন্ত্রাসের নিরবচ্ছিন্নতা ও প্রসারে দেশজুড়ে জনগণের মধ্যে নীরব আতঙ্ক বিরাজ করছে। দেশজুড়ে কেবল গুম, খুন, ধর্ষণ, হামলা-মামলা, নারী-শিশুদের ওপর পাশবিক নির্যাতন, প্রকাশ্য দিবালোকে কুপিয়ে হত্যা, আগুনে পুড়িয়ে লোমহর্ষক কায়দায় হত্যাসহ দেশ ভরে উঠেছে অনাচার অবিচারের মহামারিতে। আর অবৈধ সরকার ব্যস্ত ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখতে। তিনি বলেন, প্রশাসন, বিচার ও আইনী ব্যবস্থায় গণবিরোধী প্রতারণামূলক নীতি কার্যকর আছে বলেই এই সকল সরকারী যন্ত্র ক্ষমতাসীনদের পক্ষে কাজ করে আসছে। তাই এই যন্ত্রই ২৯ ডিসেম্বর মধ্যরাতে ভোট বাক্স ভর্তিতে সহযোগিতা করে এবং জনগণকে ভোট কেন্দ্রের ত্রিসীমানায় ঢুকতে না দিয়ে অবৈধভাবে গদি দখলে সরকারকে সহযোগিতা করে কৃপাধন্য হয়েছে। ফলে তারা আর সরকারের আদেশ নির্দেশ তোয়াক্কা করছে না। তারাও এই অবৈধ সরকারকে রক্ষার ব্রত নিয়ে ভোট বঞ্চিত জনগণের প্রতিপক্ষ হিসাবে কাজ করছে। এই রাষ্ট্র কার্যত অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত হচ্ছে উল্লেখ করে বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, এখন পরিস্থিতি দেখে মনে হয় দেশে কোন সরকারই নেই। তাই আমি এই ব্যর্থ সরকারের প্রতি আহবান জানাবো-ক্ষমতা জোর করে বেশী দিন ধরে রাখা যায় না, জোর জবরদস্তির পরিণতি বড় করুণ এবং ভয়ংকর, তাই ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিন।...

রুক্ষ শুষ্ক ত্বকের পরিচর্যায় অ্যালোভেরা

১৩জুলাই২০১৯,শনিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: রুক্ষ শুষ্ক ত্বকের পরিচর্যায় অ্যালোভেরা কার্যকারি উপাদান। ত্বকের যত্নে অনেকেই নিয়মিত অ্যালোভেরার রস বা অ্যালোভেরা জেল ব্যবহার করে থাকেন। কিন্তু অ্যালোভেরাও যে ওজন কমাতে পারে সে খবর কয়জন জানে? অ্যালোভেরায় রয়েছে অ্যালোইন নামের প্রোটিন। যা সরাসরি ফ্যাট না কমালেও শরীরে জমে থাকা টক্সিন দূর করতে সাহায্য করে। তবে একটা বিষয়ে সতর্ক থাকবে হবে সবাইকে। অ্যালোভেরার রস বেশি পরিমাণে শরীরে গেলে পেটের সমস্যা, ডায়রিয়া হতে পারে। তাই অ্যালোভেরার রস খান সঠিক পরিমাণে। কি পরিমাণ অ্যালোভেরার রস আমাদের শরীরে প্রয়োজন তা জানা থাকা দরকার। এক গ্লাস পানিতে ৫০ মিলিলিটার অ্যালোভেরা রস মিশিয়ে দিনের যে কোনও সময় খেতে পারেন। ব্লাড সুগার, হজমের সমস্যা, পাকস্থলির সমস্যা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে সাহায্য করে এই রস। দ্রুত শরীরের বাড়তি ওজন কমানোর ক্ষেত্রে অ্যালোভেরার রস অত্যন্ত কার্যকরী। তবে সাবধান! গর্ভবতী মহিলাদের জন্য অ্যালোভেরার রস অনেক বড় ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়াতে পারে। ইন্ডিয়ান জার্নাল অফ ডার্মাটোলজি তে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, গর্ভবতী মহিলা বা নতুন মায়েদের ক্ষেত্রে মারাত্মক ক্ষতিকর এই রস। কারণ অ্যালোভেরার রস জরায়ু বা ইউটেরাসের সংকোচন ঘটায়। এ ছাড়াও অন্ত্রনালীতে নানা সমস্যার সৃষ্টি করে।...

যেসব নারীকে বিয়ে করা হারাম

১২জুলাই২০১৯,শুক্রবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম:যেসব নারীকে বিয়ে করা হারাম নিম্নে বর্ণিত ১৩ প্রকার নারীকে বিয়ে করা হারাম: ১. আপন মা, বাবা ও দাদা-নানার স্ত্রীরা এবং তাদের কামভাব নিয়ে স্পর্শকৃত নারী। এরূপ ঊর্ধ্বতন সব দাদা-নানার স্ত্রীরা। ২. মেয়ে এবং ছেলে ও মেয়ের ঘরের সব নাতনি। ৩. সহোদরা, বৈপিত্রেয়-বৈমাত্রেয় ফুফু। ৪. সহোদরা, বৈপিত্রেয়-বৈমাত্রেয় খালা। ৫. সহোদরা, বৈপিত্রেয়-বৈমাত্রেয় বোন ও তাদের সন্তানাদি। ৬. সহোদরা, বৈপিত্রেয়-বৈমাত্রেয় ভ্রাতৃকন্যা ও তাদের সন্তানাদি। ৭. দুধমাতা, তার মাতা, দাদি, নানিএমনিভাবে ওপরের সব নারী। ৮. স্ত্রীর মেয়ে, যদি স্ত্রীর সঙ্গে সহবাস হয়ে থাকে। ৯. পুত্রবধূ, আপন ছেলের হোক বা দুধছেলের হোক। ১০. আপন শাশুড়ি, দাদিশাশুড়ি, নানিশাশুড়ি এবং ওপরে যারা রয়েছে। ১১. দুই বোন একত্রীকরণ, এমনিভাবে ফুফু ও তার ভাতৃকন্যা, খালা ও তার ভাগ্নিকন্যাকে একসঙ্গে বিয়ের মধ্যে রাখা। ১২. উল্লিখিত রক্ত সম্পর্কের কারণে যারা হারাম হয়েছে, দুধ সম্পর্কের কারণেও তারা সবাই হারাম হয়। ১৩. যে মেয়ে অপরের বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ রয়েছে। এ ছাড়া অন্য সব নারীকে বিয়ে করা হালাল। (দেখুন : সুরা : নিসা, আয়াত ২৩-২৪) স্ত্রীর বর্তমানে শালিকে বিয়ে করা অবৈধ কোনো নারী কারো বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ থাকাকালীন তার বোনের সঙ্গে বিয়ে সম্পূর্ণ হারাম। প্রথম বোনের সঙ্গে তালাক হয়ে গেলে মহিলার ইদ্দত শেষ হওয়ার পর অথবা বোন মারা গেলে তখন তার বোনের সঙ্গে বিয়ে বৈধ। (হিন্দিয়া : ১/২৭৭) পরস্পর লেগে থাকা যমজ দুই বোনের বিয়ের বিধান জন্মগতভাবে পরস্পর জড়ানো যমজ দুই বোনের জন্ম হলে দুই বোনকে এক ব্যক্তি একত্রে বিয়ে করতে যেমন পারবে না, তেমনি দুই বোনকে দুই ব্যক্তির কাছে বিয়ে দেওয়াও সম্ভব নয়। শুধু এক বোনকে একজন লোকের কাছে বিয়ে দিলেও পর্দার বিধান রক্ষা করে তাকে নিয়ে সংসার করা সম্ভব হবে না। তাই এ সমস্যার একমাত্র সমাধান হবে, অপারেশনের মাধ্যমে দুই বোনকে আলাদা করার চেষ্টা করা, যা বর্তমান যুগে ব্যয়বহুল হলেও সম্ভব। অতঃপর দুই বোনকে পৃথক দুই ব্যক্তির কাছে বিয়ে দেওয়া। আর পৃথক করা কোনোভাবে সম্ভব না হলে তাদের চিরকুমারী থাকা ছাড়া কোনো উপায় নেই। (বাদায়েউস সানায়ে: ২/২৬২; ইমদাদুল ফাতাওয়া: ২/২৩৯) চাচাতো ভাই-বোনের মেয়েকে বিয়ে করা বৈধ আপন ভাই বা বোনের মেয়েকে বিয়ে করা হারাম। তবে চাচাতো, মামাতো, খালাতো, ফুফাতো ভাই ও বোনের মেয়ে মুহাররমাতের অন্তর্ভুক্ত নয়, তাই তাদের বিয়ে করা জায়েজ হবে। (বিনায়া : ৪/৫০৮) দুধবোন ও তার মেয়েকে বিয়ে করা হারাম শরিয়তের আলোকে দুধবোনকে বিয়ে করা সম্পূর্ণ হারাম ও নিষেধ। বংশীয় সম্পর্কে সহোদর বোনের মেয়েকে বিয়ে করা যেমন হারাম, দুধবোনের মেয়ে বিয়ে করাও তেমনি হারাম। (বুখারি, হাদিস: ২৬৪৫; বাদায়েউস সানায়ে: ৪/২) প্রাপ্তবয়স্ক স্বামী স্ত্রীর দুধ পান করলে স্ত্রী হারাম হবে না সাবালক স্বামীর নিজ স্ত্রীর দুধ পান করা শরিয়তে নিষিদ্ধ ও গর্হিত কাজ। তবে এর দ্বারা বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্ন হবে না। সহবাসের সময় উত্তেজনা বৃদ্ধির লক্ষ্যে স্ত্রীর স্তন মুখে নিতে পারবে, তবে দুধ যেন ভেতরে না যায় তা খেয়াল রাখতে হবে। (আদ্দুররুল মুখতার: ৩/২২৫) পালিত মেয়েকে বিয়ে করা বৈধ যদি কারো পালিত মেয়ে ওই ব্যক্তির স্ত্রীর অথবা কোনো মাহরামের দুধ দুই বছর বয়সের মধ্যে পান করে না থাকে, তাহলে ওই ব্যক্তির সঙ্গে বিয়ে জায়েজ। এ ক্ষেত্রে পর্দা করাও ফরজ। (সুরা : আহজাব, আয়াত ৩৩; ফাতাওয়ায়ে দারুল উলুম দেওবন্দ: ৭/২৪৪) কামভাব নিয়ে পুত্রবধূকে স্পর্শ করা ও তাকানো শ্বশুরের জন্য পুত্রবধূর দিকে কুদৃষ্টিতে তাকানো মারাত্মক গুনাহ ও হারাম। যদি শ্বশুর কামভাব নিয়ে পুত্রবধূর খালি শরীরে বা পাতলা কাপড়ের ওপর দিয়ে স্পর্শ করে, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে ছেলের জন্য ওই পুত্রবধূ হারাম হয়ে যাবে। তবে শর্ত হলো, স্পর্শের বিষয়টি স্বীকারোক্তি বা সাক্ষীর মাধ্যমে প্রমাণিত হতে হবে অথবা ছেলে ওই কথার দাবিকারীকে প্রবল ধারণামতে সত্য মনে করতে হবে। এ অবস্থায় উভয়ে পৃথক হয়ে যেতে হবে। (বাদায়েউস সানায়ে: ২/২৬০, রদ্দুল মুহতার ৩/৩৩) জামাতা-শাশুড়ি পরস্পর কামভাব নিয়ে দেখা বা স্পর্শ করা বাহ্যিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের দিকে কামভাব নিয়ে তাকালে গুনাহ হলেও হুরমাতে মুসাহারাত সাব্যস্ত হয় না। বরং খোলামেলা কোনো অঙ্গ কামভাবে স্পর্শ করার দ্বারা হারাম সাব্যস্ত হয় তথা স্ত্রী চিরতরে হারাম হয়ে যায়। (মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, হাদিস: ১০৮৩২) অবৈধ শয্যাসঙ্গিনীর মেয়েকেও বিয়ে করা হারাম যার সঙ্গে অবৈধ শারীরিক সম্পর্ক হয়েছে তার মেয়েকে বিয়ে করাও অবৈধ। কেননা ওই মেয়ের সঙ্গে এখন তার কন্যার সম্পর্ক হয়ে গেছে। (বাদায়েউস সানায়ে: ২/২৬০) তালাক গ্রহণ ছাড়া অন্যজনের সঙ্গে বিয়ে আগের স্বামীর তালাক প্রদান ছাড়া অন্য কোনো বিয়ে শরিয়তের দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য নয়। ওই বিয়ে বাতিল বলে গণ্য হবে। তেমনি আগের স্বামীর ইদ্দত চলাকালেও বিয়ে বাতিল হবে। (তাফসিরুল জালালাইন, পৃষ্ঠা ১০৪; রদ্দুল মুহতার : ৩/৫১৯) ইহুদি-খ্রিস্টান মেয়ে বিয়ে করা বর্তমান যুগের ইহুদি-খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী বলে যারা পরিচিত, নির্ভরযোগ্য মতানুসারে তারা ইহুদি-খ্রিস্টানদের মূলনীতির অবিশ্বাসী। বর্তমানে বাস্তব আহলে কিতাব নেই বললেই চলে। এ ছাড়া বর্তমানে তাদের নারীদের বিয়ে করা অনেক ফিতনার কারণ হয়ে থাকে বিধায় তাদের বিয়ে করা বৈধ নয়। তবে এ ধরনের নারীদের সঙ্গে বিয়ে হয়ে গেলে তার ব্যাপারে খোঁজ নিতে হবে যে সে প্রকৃত অর্থে মুসা (আ.) ও ঈসা (আ.)-এর আনীত ধর্মে বিশ্বাসী কি না। তাওরাত বা ইঞ্জিলে বিশ্বাসী কি না। এবং আল্লাহকে বিশ্বাস করে কি না। যদি সত্যিই তা হয় তাহলে তাকে দাওয়াতের মাধ্যমে মুসলমান বানানোর চেষ্টা করার শর্তে ওই বিয়েকে বাতিল বলা যাবে না। আর যদি প্রমাণিত হয় যে সে নাস্তিকতায় বিশ্বাসী, তাহলে এই বিয়ে বাতিল বলে গণ্য হবে। (রদ্দুল মুহতার: ৩/৪৫; ফাতাওয়া দারুল উলুম: ৭/২৬১) হিন্দু-মুসলিম বিয়ের বিধান শরিয়তের দৃষ্টিতে মুসলিম পুরুষ কোনো হিন্দু মহিলাকে, তেমনি মুসলিম নারী হিন্দু পুরুষকে বিয়ে করতে পারে না, যতক্ষণ তারা ইসলাম গ্রহণ না করে। ইসলাম গ্রহণ ছাড়া বিয়ে অবৈধ। এ ধরনের বিয়ে শরিয়তে বিয়ে বলে গণ্য হবে না। আল্লাহ তাআলা বলেন, তোমরা মুশরিককে বিয়ে কোরো না, যতক্ষণ তারা ঈমান না আনে। (সুরা: বাকারা, আয়াত: ২২১)।...

সকল ধর্মের মানুষের ঘরেই আলো ছড়ায় ঈদ

৪জুন২০১৯,মঙ্গলবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: রমজানের ঈদ এবং কোরবানির ঈদ নিয়ে প্রতিবছরই সংবাদপত্রে লেখা বেরোয়। একটি সংযমের মাস, অন্যটি ত্যাগের উৎসব। এই সংযম ও ত্যাগ নিয়ে আমিও কতবার লিখেছি, তার সীমা সংখ্যা নেই। নজরুল তো এই দুই ঈদ নিয়ে একটি গান, একটি কবিতাই লিখে ফেলেছেন। রমজানের ঈদ নিয়ে তিনি লিখেছিলেন গান, রমজানের ওই রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ। কোরবানির ঈদ নিয়ে লিখেছিলেন কবিতা, ওরে হত্যা নয় আজ সত্যাগ্রহ শক্তির উদ্বোধন। এই গান ও কবিতা দুটিই একসময় প্লাবন সৃষ্টি করেছিল দেশে। দুই ঈদ সম্পর্কেই নজরুল লিখেছিলেন, সারাদিন উপবাসে থেকে ইফতার ও সেহিরতে যথেচ্ছ পান ভোজন করাটা ত্যাগ এবং সংযম কোনোটাই নয়। গরিব প্রতিবেশীকে অনাহার অর্ধাহারে রেখে নিজে ইফতারি-সেহিরর নামে পোলাও-কোর্মা খাওয়াটা সংযম নয়, বরং ভণ্ডামি। কোরবানির ঈদ সম্পর্কে তিনি লিখেছিলেন, বনের পশুকে নয়, তুই আগে মনের পশুকে হত্যা কর। তা না পারলে কেবল পশু হত্যা কোনো কাজ দেবে না। রমজানের ঈদের নাম ঈদুল ফিতর। অর্থাৎ ফিতরের ঈদ। এই ঈদ বা উৎসব গরিব প্রতিবেশীকে শরিক না করে পালন করা যায় না। এ জন্য একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ গরিব প্রতিবেশীকে দিতে হয়। ইসলামে ফিতরা, জাকাত ইত্যাদি প্রবর্তন করা হয়েছিল গরিবদের প্রতি ধনীদের দায়িত্ব পালনের জন্য। দুই ঈদের আরো একটি উদ্দেশ্য ছিল সমাজে শ্রেণি ব্যবধান ঘোচানো। গরিব আর ধনী, অভিজাত আর অনভিজাত পাশাপাশি বসে নামাজ পড়ছে, নামাজ শেষে মনিব আর চাকর কোলাকুলি করছে। দেড় হাজার বছর আগে এটি ছিল একটি বৈপ্লবিক ব্যবস্থা। বর্তমানে আরো উন্নত যুগের উন্নত সামাজিক ব্যবস্থার সময়েও এই দৃশ্য বিরল। নারীরা ঘোড়ায় চড়ে পুরুষের পাশাপাশি যুদ্ধ করে এই দৃশ্য দেখা ইসলামের প্রথম যুগেই সম্ভব ছিল। মোল্লাবাদের আবির্ভাবের ফলে ইসলামের এই মৌলিক আদর্শ, নারীমুক্তি, দাসমুক্তি, শ্রেণি সাম্য, আর্থিক সাম্য, অন্য ধর্মের প্রতি সম্মান ও সহিষ্ণুতা প্রায় বিলুপ্তির পথে। ইসলামকে তার প্রকৃত আদর্শে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য পরবর্তীকালে যেসব সংস্কারক চেষ্টা করেছিলেন, যেমন ইমাম আবু হানিফা, ইমাম শাফেয়ি, ইমাম মালেক, ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল প্রমুখ সংস্কারকের বেশির ভাগকেই উগ্র মোল্লাবাদীরা হত্যা করেছিল। বাংলাদেশের সৌভাগ্য, সেই প্রাচীনকালে ব্রাহ্মণ্য শাসনের অত্যাচার-উত্পীড়নে অতিষ্ঠ এবং বর্ণবিভাগে বিভাজিত দেশটিতে প্রধানত পারস্য থেকে আগত ধর্ম প্রচারকরা ইসলাম প্রচার করেছেন। উত্পীড়িত মানুষ তাকে স্বাগত জানিয়েছে। শ্রেণি বিভক্তিতে পীড়িত অস্পৃশ্য নিম্ন শ্রেণির হিন্দু ও বৌদ্ধরা দলে দলে ইসলাম গ্রহণ করেছে। তাদের অস্পৃশ্যতা দূর হয়েছে। মানবাধিকার ফিরে পেয়েছে। পণ্ডিত মোতাহার হোসেন চৌধুরীর মতে, বাঙালির স্থানীয় কালচার তার জাতীয় কালচার। ইসলাম যে বহিরাগত কালচার সঙ্গে করে এনেছে, তা ধর্মীয় কালচার। এ দুইয়ের মিলনে-মিশ্রণে যে বাঙালি কালচার গড়ে উঠেছে, তা ধর্মনিরপেক্ষ কালচার। এই কালচারের প্রভাবে ধর্মীয় উগ্রতা কখনো প্রশ্রয় পায়নি। মিলন ও ভালোবাসায় সুফিবাদ, মরমি বৈষ্ণববাদ ইত্যাদি গড়ে উঠেছে। ব্রিটিশ আমলেও বাঙালি হিন্দু-মুসলমানের প্রধান উৎসব ছিল রমজানের ঈদ ও সর্বজনীন দুর্গাপূজা। রমজানের ঈদ ও দুর্গাপূজা উপলক্ষে শরৎকালে সরকারি অফিস-আদালত, স্কুল-কলেজ এক মাস ছুটি থাকত। শহরে কর্মরত মানুষ ছুটিতে গ্রামে ফিরে আসত। ঈদ ও পূজা উপলক্ষে হিন্দু ও মুসলমানের মধ্যে মিলন ঘটত। পাকিস্তান আমলে সামাজিক জীবন ও রাজনীতিতে ধর্ম ও সাম্প্রদায়িকতার বিভেদ বেড়ে ওঠে। দুই সম্প্রদায়ের বাঙালি জীবনেই তার ছাপ পড়ে। বাংলাদেশ হিন্দু-মুসলমানের মিলিত সংগ্রামের পর স্বাধীনতা লাভ করায় অসাম্প্রদায়িক জাতীয়তার ভিত্তি শক্ত হবে; রমজানের ঈদ, দুর্গাপূজা, বৈশাখী উৎসব, ভাষা দিবস প্রভৃতি জাতীয় উৎসবে রূপান্তরিত হবে আশা করা হচ্ছিল। কিন্তু বাধা পড়ে উগ্র ওয়াহাবিবাদ, মওদুদীবাদ ইত্যাদি মতবাদের আবির্ভাবের ফলে। এই ওয়াহাবিবাদ থেকেই কট্টর জঙ্গিবাদ বা পলিটিক্যাল ইসলাম জন্ম নেয়। তা শুধু জাতীয় উৎসবগুলোকেই ধর্মীয় করেনি, জাতীয় রাজনীতিকেও ধর্মীয় কালচার দ্বারা প্রভাবিত করে যেসব ধর্মীয় উৎসব জনগণের মিলিত উৎসবে পরিণত হয়েছিল, তাতেও বিভাজন ঘটায়। বাঙালির সমাজ এখন বিভাজিত সমাজ। তার হাজার বছরের মিশ্র সংস্কৃতি এখন ধর্মীয় সংস্কৃতি দ্বারা আচ্ছন্ন। স্বাধীনতাযুদ্ধে বাঙালি মুসলমান যতটা স্বদেশে ফিরেছিল, বিএনপি-জামায়াতের শাসন এবং মোল্লাবাদের উত্থানে ততটাই স্বদেশবিমুখ হয়েছে। এ অবস্থাকেই কবি শামসুর রাহমান বলেছিলেন, অদ্ভুত উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ। এই উটের পিঠ থেকে স্বদেশকে নামাতে সময় লেগেছে ২১ বছর। এই যুদ্ধ চলেছে ২১ বছরের বেশি এবং এখনো চলছে। বাংলাদেশে রমজানের খুশির চাঁদ এখন খণ্ডিত। দুর্গাপূজার মণ্ডপ পুলিশ পাহারায় রাখতে হয়। এই অবস্থা থেকে জাতীয় উৎসবগুলোকে মুক্ত করতে হবে। আমাদের কৈশোরে রমজানের ঈদে হিন্দু ও বৌদ্ধরাও উৎসবে যোগ দিত। তারা নামাজ পড়তে আসত না। আসত উৎসবের খাওয়াদাওয়ায় যোগ দিতে। অনুরূপ আমরাও দুর্গা ও সরস্বতীর পূজার উৎসবের অংশে যোগ দিতাম। বৌদ্ধ পূর্ণিমার উৎসবে মেতে উঠতাম। বাঙালির সংস্কৃতি, সমাজ ছিল মিশ্র ও মিলিত। তার উৎসবও তাই। বাংলাদেশে তার হাজার বছরের লোকায়ত সমাজ ও সভ্যতা ফিরিয়ে আনতে হবে। না হলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অসম্পূর্ণ থাকবে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলার বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না। পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায় একাধিকবার গড়ের মাঠে রমজানের ঈদের নামাজের বিশাল জামাতে যোগ দেওয়ার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। দেখেছি, মুখ্যমন্ত্রী ডা. বিধান রায়, সিদ্ধার্থ শঙ্কর রায় এই ঈদের জামাতে আসতেন। এখন আসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁরা নামাজ পড়তে আসেন না। নামাজের আগে যে খুতবা পাঠ হয়, সেই সময় খতিবের পাশে বসেন। খুতবা পাঠ শেষ হলে মুসলমানদের ঈদ মোবারক জানান। তাদের সমস্যা ও অভিযোগ দূর করার প্রতিশ্রুতি দেন। বাংলাদেশেও দুর্গাপূজায়, বুদ্ধপূর্ণিমায় বা উপজাতীয়দের কোনো ধর্মীয় উৎসবে যে দলের সরকারই ক্ষমতায় থাকুক, তারা যায়। যুদ্ধাপরাধী মতিউর রহমান নিজামী যখন মন্ত্রী, তিনিও পুলিশসহ দুর্গাপূজার মণ্ডপে গেছেন। সেটা ছিল লোক-দেখানো যাওয়া। একদিকে মন্ত্রী গেছেন পূজামণ্ডপে, অন্যদিকে তাঁর দলের লোকেরা মন্দিরে হামলা করেছে, মূর্তি ভেঙেছে। এইচ এম এরশাদের আমলে তো সরকারের নিযুক্ত গুণ্ডারা মন্দির ও মূর্তি ভেঙেছে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে। অতঃপর বিশ্বজনমতের নিন্দা ও চাপের মুখে আবার সরকারি খরচে ভাঙা মন্দির মেরামত করেছে। এই অবস্থা ভারতেও দেখা গেছে। মহররমের মিছিলে হামলা হয়েছে। ঈদের জামাতে বোমা মারা হয়েছে। মসজিদ ভাঙা হয়েছে। গরু কোরবানির জন্য সংখ্যালঘু মানুষ হত্যা করা হয়েছে। ভারতে ৭০০ বছরের পুরনো বাবরি মসজিদ ভাঙা হয়েছে। বাংলাদেশে পাকিস্তানি হানাদাররা হাজার বছরের প্রাচীন রমনা কালীমন্দির ভেঙেছে। একদিকে ভারতে দাপট দেখাচ্ছে হিংস্র হিন্দুত্ববাদ এবং বাংলাদেশে দাপট দেখাচ্ছে উগ্র ইসলামী জঙ্গিবাদ। অথচ কোনো ধর্মেই হিংসাকে প্রশ্রয় দেওয়া হয়নি। ধর্মে হিংসা ঢুকিয়েছে মোল্লাবাদীরা এবং উদ্দেশ্যপূর্ণ রাজনীতিকরা। একে রুখতে হলে ধর্মের পবিত্র অনুষ্ঠানগুলোকে মোল্লাবাদীদের খপ্পরমুক্ত করতে হবে। রমজানের ঈদ, দুর্গাপূজার মতো উৎসবগুলোকে সাম্প্রদায়িক মিলনের কেন্দ্র করে তোলার জন্য সরকারকেই উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। আওয়ামী লীগের শাসনামলে অবশ্য সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অনেকটাই ফিরে আসে। সংখ্যালঘুদের পূজা-পার্বণও অনেকটা হামলামুক্ত হয়। কিন্তু বড় কাজ হবে এই উৎসবগুলোকে সব ধর্মের মানুষের সম্মিলিত উৎসব করে তোলা। ইউরোপে যেমন খ্রিস্ট ধর্মের ক্রিসমাস উৎসব সব ধর্ম-বর্ণের মানুষই পালন করে। রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন, আনন্দময়ীর আগমনের বাজনা যেন হিন্দুর ঘরেই সীমাবদ্ধ না থাকে, সকল ধর্মের মানুষের ঘরেই বেজে উঠে। আর নজরুল বলেছিলেন, রমজানের ঈদের চাঁদ যেন কেবল মুসলমানের ঘরে আলো না ছড়িয়ে সকল ধর্মের মানুষের ঘরেই আলো ছড়ায়। এবারের রমজানের ঈদে আমাদের সবার প্রার্থনা হোক, এই চাঁদ যেন সব বিভেদ-বিবাদের মেঘ সরিয়ে ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে সবার ঘরে আনন্দের আলো ছড়ায়। সবার জন্য রইল ঈদ মোবারক।-আবদুল গাফফার চৌধুরী ...

এসএসসি পরীক্ষা নিয়ে ভাবনা

১১মে,শনিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম:এসএসসি পরীক্ষা নিয়ে ভাবনা ( মুহম্মদ জাফর ইকবাল)১. এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। প্রায় একুশ লাখ ছেলেমেয়ে পরীক্ষা দিয়েছিল, এর মাঝে প্রায় বিরাশি শতাংশ পাস করেছে। সময়মতো পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে সময়মতো পরীক্ষার ফল ঘোষণা করা হয়েছে। মনে আছে একটা সময় ছিল যখন হরতালের পর হরতাল দিয়ে আমাদের জীবনটাকে একেবারে এলোমেলো করে দেওয়া হতো! আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষার রুটিন দেওয়ার সময় রুটিনের নিচে লিখে রাখতাম অনিবার্য কারণে পরীক্ষা নেওয়া না গেলে অমুক দিন পরীক্ষা নেওয়া হবে। আমরা যারা একটু বেশি দুঃসাহসী ছিলাম তারা সারাদিন হরতাল শেষে সন্ধ্যাবেলাও পরীক্ষা নিয়েছি। হঠাৎ করে ইলেকট্রিসিটি চলে গেলে যেন পরীক্ষা নিতে পারি সেজন্য মোমবাতি রেডি রাখতাম। শুধু মুখ ফুটে কোনও একটা রাজনৈতিক দলকে উচ্চারণ করতে হতো অমুকদিন হরতাল, ব্যস সারাদেশ অচল হয়ে যেতো! মনে আছে, আমি অনেকবার রাজনৈতিক দলের কাছে অনুরোধ করতাম, হরতালের সময় যেরকম হাসপাতাল অ্যাম্বুলেন্সকে হরতালমুক্ত রাখা হতো সেরকম স্কুল কলেজ এবং পরীক্ষা যেন হরতালমুক্ত রাখা হয়! কিন্তু কে আমাদের কথা শুনবে? সেই হরতাল দেশ থেকে উঠে গেছে। আমার মাঝে মাঝে নিজেকে চিমটি কেটে দেখতে হয় সত্যিই এটা ঘটেছে নাকি স্বপ্ন দেখছি! এভাবে আরও কিছুদিন কেটে গেলে ছোট ছেলেমেয়েদের একদিন বোঝাতে হবে হরতাল জিনিসটি কী! শুধু যে হরতাল উঠে গেছে, তা নয়, মনে হচ্ছে শেষ পর্যন্ত প্রশ্নফাঁস থেকেও আমরা মুক্তি পেয়েছি। এই মাত্র কদিন আগেও মায়েরা রাত জেগে বসে থাকতেন, ফেসবুক থেকে ফাঁস হয়ে যাওয়া প্রশ্ন ডাউনলোড করে সেটা সমাধান করিয়ে নিজের বাচ্চাদের হাতে তুলে দিতেন মুখস্থ করার জন্য। (হয়তো বাবারাও কিংবা অন্য আত্মীয়-স্বজনও এটা করেছেন, কিন্তু আমার কাছে যেসব তথ্য এসেছে সেখানে মায়েদের কথাটাই বেশি এসেছে, তাই মায়েদের কথা বলছি এবং সুস্থ স্বাভাবিক মায়েদের কাছে অগ্রিম ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি এরকম কুৎসিত একটা বাক্য লেখার জন্য।) প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে আমার ক্ষোভটা একটু বেশি, কারণ মনে আছে আমি এটা নিয়ে চেঁচামেচি শুরু করার পর হঠাৎ করে আবিষ্কার করেছিলাম আমার এই বিশাল নাটক করার পরও আমার সাথে কেউ নেই! আমি মোটামুটি একা। কোনোভাবেই শিক্ষা মন্ত্রণালয় কিংবা বোর্ডগুলোকে একবারও স্বীকার করানো যায়নি যে, আসলেই দেশে পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস হচ্ছে। যতক্ষণ পর্যন্ত সমস্যাটির অস্তিত্ব স্বীকার করা না হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত সেই সমস্যাটির সমাধান হবে কেমন করে? শেষপর্যন্ত মন্ত্রণালয় যখন স্বীকার করতে শুরু করল যে আসলেই প্রশ্নফাঁস হচ্ছে তখন মোটামুটি ম্যাজিকের মতো সমস্যাটি দূর হয়ে গেলো! পরীক্ষার খাতা দেখার ব্যাপারেও একটা শৃঙ্খলা এসেছে, চোখ বন্ধ করে বেশি নম্বর দেওয়ার প্রক্রিয়াটাও মনে হয় বন্ধ হয়েছে, বাকি আছে শুধু প্রশ্নের মান। আগের থেকে যথেষ্ট উন্নত হয়েছে কিন্তু এখনো মনে হয় মানসম্মত প্রশ্ন করা শুরু হয়নি, শিক্ষকরা সৃজনশীল প্রশ্ন করতে পারেন না বলে অভিযোগ আছে। এখনও মাঝে মাঝেই গাইড বই থেকে পরীক্ষায় প্রশ্ন চলে আসে। সে কারণে গাইড বইয়ের প্রকাশক এবং কোচিং ব্যবসায়ীদের অনেক আনন্দ। ভালো প্রশ্ন করা খুব সহজ কাজ নয়, একজনকে এই দায়িত্ব দিলেই সেটা হয়ে যায় না। কিন্তু যেহেতু একটা প্রশ্ন প্রায় বিশ লাখ ছেলেমেয়ে ব্যবহার করে সেই প্রশ্নটি অনেক মূল্যবান, তার জন্য অনেক কাঠখড় পোড়ানো দরকার। এ রকম প্রশ্নগুলো যারা করেন তাদের যে সম্মানী দেওয়া হয়, সেটা রীতিমতো হাস্যকর। আমি সুযোগ পেলেই শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত গুরুত্বপূর্ণ মানুষদের বলি প্রশ্ন করার জন্য হোটেল সোনারগাঁয়ে একটা সুইট ভাড়া করতে, প্রশ্নকর্তারা সেখানে থাকবেন ভাবনাচিন্তা করে সুন্দর প্রশ্ন করে সেটা টাইপ করে একেবারে ক্যামেরা রেডি করে দিয়ে বাড়ি যাবেন। গুরুত্বপূর্ণ মানুষেরা আমার কথা বিশ্বাস করেন না। তারা ভাবেন আমি ঠাট্টা করছি। আমি কিন্তু ঠাট্টা করে কথাগুলো বলি না, সত্যি সত্যি বলি। স্কুল-কলেজের শিক্ষক হলেই তাদের হেলাফেলা করা যাবে সেটা আমি বিশ্বাস করি না। যখন তারা বিশ লাখ ছেলেমেয়ের জন্য প্রশ্ন করছে তখন তারা মোটেও হেলাফেলা করার মানুষ না। তারা অনেক গুরুত্বপূর্ণ মানুষ। পরীক্ষার মানসম্মত প্রশ্ন করা হলে অনেক বড় একটা কাজ হবে। সবাই পরীক্ষায় ভালো নম্বর পেতে চায়, মানসম্মত প্রশ্ন হলে শুধু তারাই ভালো নম্বর পাবে যারা বিষয়টা জানে। কোচিং সেন্টার থেকে ভালোভাবে পরীক্ষা দেওয়ার টেকনিক শিখে লাভ হবে না। সেজন্য ভালো প্রশ্ন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ভালো প্রশ্ন করার পরও আরো একটা বিষয় থেকে যায়। আমরা যখন এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছিলাম তখন সকালে এক পেপার বিকালে আরেক পেপার পরীক্ষা দিয়েছি! প্রত্যেকদিন পরীক্ষা, মাঝে কোনও গ্যাপ নেই। পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর ঝড়ের গতিতে পরীক্ষা শেষ! এটা নিয়ে যে আপত্তি করা যায় সেটাও আমরা জানতাম না। খুব যে কষ্ট হয়েছে কিংবা পরীক্ষার পর অর্ধেক ছেলেমেয়ে পাগল হয়ে গেছে সে রকম কিছু শুনিনি। সেই বিষয়টা ধীরে ধীরে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা যায়। (আমার এই বক্তব্য শুনে পরীক্ষার্থীরা চাপাতি হাতে নিয়ে আমাকে খুঁজবে সেরকম একটা আশংকা আছে, তারপরও বলছি!) পরীক্ষা লেখাপড়া নয়, শুধু পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য দিনের পর দিন কাটিয়ে দেওয়ার মাঝে কোনও আনন্দ নেই। ঝটপট পরীক্ষা শেষ করে বাকি সময়টা নির্ভেজাল আনন্দের মাঝে কাটানো হচ্ছে জীবনকে উপভোগ করা। বাচ্চাদের কেন জীবন উপভোগ করতে শেখাব না? ২. প্রতিবছর এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ হওয়ার পর আমরা পত্রপত্রিকায় এবং টেলিভিশনে পরীক্ষার্থীদের আনন্দোজ্জ্বল ছবি দেখতে পাই। এই বয়সটিতে সবকিছুকেই রঙিন মনে হয় তাই পরীক্ষার পর তাদের আনন্দ এবং উচ্ছ্বাসটিও হয় অনেক বেশি স্বতঃস্ফূর্ত, অনেক বেশি তীব্র। দেখতে খুব ভালো লাগে। কিন্তু প্রতিবছরই এই আনন্দে উদ্ভাসিত ছেলেমেয়েগুলোর ছবি দেখার সময় আমি এক ধরনের আশঙ্কা অনুভব করি। এই বয়সটি তীব্র আবেগের বয়স, আমি নিশ্চিতভাবে জানি অসংখ্য ছেলেমেয়ের তীব্র আনন্দের পাশাপাশি কিছু ছেলেমেয়ে রয়েছে যাদের পরীক্ষার ফলটি তাদের মনমতো হয়নি। সেজন্য কয়দিন মন খারাপ করে থেকে আবার নতুন উৎসাহ নিয়ে জীবন শুরু করে দিলে আমার কোনও আপত্তি ছিল না। কিন্তু সেটি হয় না, প্রতিবছরই দেখতে পাই পরীক্ষার ফল বের হওয়ার পর বেশকিছু ছেলেমেয়ে একেবারে আত্মহত্যা করে ফেলে। এই বছর এখন পর্যন্ত পাঁচটি ছেলেমেয়ের খবর পেয়েছি যারা আত্মহত্যা করেছে। সারাদেশে এরা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। এদের মাঝে ছেলে আছে, তবে মেয়েদের সংখ্যা বেশি। এসএসসি পরীক্ষার্থী আছে সেরকম দাখিল পরীক্ষার্থী আছে। পরীক্ষায় পাস করতে পারেনি সেজন্য আত্মহত্যা করেছে যেরকম আছে, যথেষ্ট ভালো করেছে কিন্তু শেষ পর্যন্ত জিপিএ ফাইভ হয়নি বলে আত্মহত্যা করেছে সেরকম ঘটনাও ঘটেছে। কী ভয়ঙ্কর একটি ঘটনা। একজন মানুষের জীবন কত বড় একটি ব্যাপার সেই জীবনটি থেকে কত কী আমরা আশা করতে পারি, সেই জীবনটিকে একটি কিশোর কিংবা কিশোরী শেষ করে দিচ্ছে কারণ তার পরীক্ষার ফল ভালো হয়নি, এটি আমরা কেমন করে গ্রহণ করব? যখনই এরকম একটি ঘটনার কথা পত্রপত্রিকায় দেখি আমার বুকটি ভেঙে যায়। শুধু মনে হয়, আহা আমি যদি তার সঙ্গে একটুখানি কথা বলতে পারতাম। মাথায় হাত বুলিয়ে বলতে পারতাম জীবনটা কত বড়, তুচ্ছ একটা পরীক্ষার তুচ্ছ একটা ফলকে পিছনে ফেলে জীবনে কত বড় একটা কিছু করে ফেলা যায়। পৃথিবীতে সেরকম কত উদাহরণ আছে। প্রত্যেকটা মানুষকেই জীবনে কত ঘাত-প্রতিঘাত সহ্য করতে হয়, একজন মানুষের জীবনে যতটুকু সাফল্য তার থেকে ব্যর্থতা অনেক বেশি। সেই ব্যর্থতা এলে কি কখনো হাল ছেড়ে দিতে হয়? ভবিষ্যতে আরও কত সুন্দর জীবন অপেক্ষা করছে আমরা সেটি কি কল্পনা করতে পারি? কিন্তু আমার কখনো এই অভিমানী ছেলেমেয়েগুলোর সঙ্গে দেখা হয় না। তাদের মাথায় হাত বুলিয়ে সান্ত্বনা দেওয়ার সুযোগ হয় না। শুধু পত্র-পত্রিকায় খবরগুলো দেখে দীর্ঘশ্বাস ফেলি। আমি আশা করে থাকি আমাদের দেশের ছেলেমেয়েরা এবং তাদের মা-বাবারা বুঝতে পারবেন যে পরীক্ষার এই একটি ফল পৃথিবীর বিশাল কর্মযজ্ঞের তুলনায় কিছুই না। পরীক্ষায় মনের মতো ফল না করেও একটি চমৎকার জীবন হওয়া সম্ভব। শুধু ডাক্তার ও ইঞ্জিনিয়ার হওয়াই জীবন নয়, ডাক্তার ও ইঞ্জিনিয়ার না হয়ে এই পৃথিবীর অসংখ্য মানুষ আশ্চর্যরকম সুখী হয়ে জীবন কাটিয়েছে, তারা পরিবারকে দিয়েছে, সমাজকে দিয়েছে, দেশকে দিয়েছে এমনকী পৃথিবীকে দিয়েছে। লেখাপড়ার সত্যিকার উদ্দেশ্যটি মনে হয় আমরা আমাদের ছেলেমেয়েদেরকে কিংবা তাদের মা-বাবাদের এখনো বোঝাতে পারিনি! ৩. আত্মহত্যার খবর পড়ে যখন মন খারাপ করে বসে থাকি তখন তার পাশাপাশি অদম্য মনোবলের একজনের কাহিনি পড়ে আবার মনটি আনন্দে ভরে ওঠে। তামান্না আখতার নামে একটি কিশোরী জন্ম নিয়েছে দুই হাত এবং একটি পা ছাড়া। সে সেই ছেলেবেলা থেকে অসাধারণ লেখাপড়া করে এসেছে, এসএসসিতেও তার মনের মতো পরীক্ষার ফল হয়েছে। আমার আনন্দ সেখানে নয়, আমার আনন্দ তার স্বপ্নের কথা পড়ে। সে বড় হয়ে প্রথমে ডাক্তার হতে চেয়েছিল এখন সিভিল সার্ভিসের কর্মকর্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখছে! আমি মাঝে মাঝে নতুন সিভিল সার্ভিস কর্মকর্তাদের সামনে বক্তৃতা দেই। যদি বেঁচে থাকি তাহলে এমন তো হতেও পারে যে সেরকম কোনও একটি সভায় হঠাৎ করে দেখব সামনে একটি হুইল চেয়ারে মাথা উঁচু করে তামান্না বসে আছে। স্বপ্ন দেখতে দোষ কী? আরও একটি আনন্দের ব্যাপার হয়েছে। আমি সবসময়েই বলে থাকি আমাদের দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি যে এখানে ছেলেরা এবং মেয়েরা সমানভাবে লেখাপড়া করে যাচ্ছে। আমি মোটামুটিভাবে বিশ্বাস করি মেয়েরা যখন জীবনের সবক্ষেত্রে ছেলেদের সমান সমান হয়ে যায় তখন এই দেশটি নিয়ে আমাদের আর কোনও দুর্ভাবনা করতে হবে না। এবারে এসএসসি পরীক্ষার ফল দেখে মনে হলো আমরা সেদিকে আরও একধাপ এগিয়ে গেছি! মেয়েরা এর মাঝে ছেলেদের থেকে ভালো করতে শুরু করেছে। লেখক : অধ্যাপক, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট...

পাঁচ দিনব্যাপী ডিসি সম্মেলন শুরু হচ্ছে রোববার

১২জুলাই২০১৯,শুক্রবার,বিশেষ প্রতিনিধি ,নিউজ একাত্তর ডট কম:দেশে প্রথমবারের মতো পাঁচ দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন শুরু হচ্ছে। ৩৩৩ প্রস্তাব নিয়ে ডিসি সম্মেলন শুরু হবে রোববার। এই প্রথম স্পিকার, প্রধান বিচারপতি, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের জন্য থাকছে আলাদা আলাদা সেশন। প্রতি বছরের মতো এবারো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিসি সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে সকাল ৯টায় সম্মেলন উদ্বোধন হবে। গতকাল সচিবালয়ে ,জেলা প্রশাসক সম্মেলন-২০১৯ নিয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম এ তথ্য জানান। এর আগে সাধারণত তিন দিনব্যাপী ডিসি সম্মেলন হতো। এবার ডিসি সম্মেলন ১৪ জুলাই শুরু হয়ে শেষ হবে ১৮ জুলাই। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সরকারের নীতিনির্ধারক ও জেলা প্রশাসকদের মধ্যে সরাসরি মতবিনিময় এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেয়ার জন্য প্রতি বছর ডিসি সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এবার জেলা প্রশাসক সম্মেলনে প্রথমবারের মতো প্রধান বিচারপতি, তিন বাহিনী প্রধান, জাতীয় সংসদের স্পিকারের সঙ্গে ডিসিদের বৈঠক হবে। তিনি বলেন, এবার সম্মেলনে মোট ২৯টি অধিবেশন হবে। এর মধ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সঙ্গে কার্য অধিবেশন ২৪টি। এ ছাড়া একটি উদ্বোধন অনুষ্ঠান, একটি মুক্ত আলোচনা, প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ, স্পিকারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ, প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও একটি সমাপনী অনুষ্ঠান হবে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ছাড়া মোট ৫৪টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ অংশগ্রহণ করবে। কার্য অধিবেশন গুলোতে মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতিনিধি হিসেবে মন্ত্রী, উপদেষ্টা, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী, সিনিয়র সচিব ও সচিবরা উপস্থিত থাকবেন। অধিবেশন গুলো হবে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে। কার্য অধিবেশনগুলোতে সভাপতিত্ব করবেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। এবার ডিসি সম্মেলন উপলক্ষে জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারদের কাছ থেকে ৩৩৩টি প্রস্তাব পাওয়া গেছে জানিয়ে শফিউল আলম বলেন, জেলা প্রশাসকদের তাৎক্ষণিক যদি কোনো প্রস্তাব থাকে সেটি অধিবেশনে উপস্থাপন হতে পারে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, এ বছর সবচেয়ে বেশিসংখ্যক প্রস্তাব পাওয়া গেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ-সংক্রান্ত। এ বিভাগ-সংক্রান্ত প্রস্তাব ২৯টি। এরপর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় (২৬টি প্রস্তাব) ও ভূমি মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত (২০টি) প্রস্তাব পাওয়া গেছে। ১৬ জুলাই সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে বিকেল ৪টা থেকে ৫টা পর্যন্ত প্রধান বিচারপতির কার্যভার পালনরত বিচারপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে দিকনির্দেশনা নেবেন জেলা প্রশাসকরা। ১৮ জুলাই বিকেল ৪টা থেকে ৫টা পর্যন্ত ডেপুটি স্পিকারের (স্পিকার না থাকায়) সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ডিসিরা দিকনির্দেশনা গ্রহণ করবেন বলে জানিয়েছেন শফিউল আলম। ১৭ জুলাই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে সকাল পৌনে ৯টা থেকে পৌনে ১০টা পর্যন্ত তিন বাহিনী প্রধানের সঙ্গে ডিসিরা বৈঠক করবেন। ডিসি সম্মেলনের প্রধান আলোচ্য বিষয়গুলো তুলে ধরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ভূমি ব্যবস্থাপনা, আইনশৃঙ্খলা, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, ত্রাণ পুনর্বাসন কার্যক্রম, স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসৃজন, দারিদ্র বিমোচন, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কার্যক্রম, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার, শিক্ষার মানোন্নয়ন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ, পরিবেশ সংরক্ষণ ও দূষণ রোধ, ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন এবং উন্নয়ন কার্যক্রমের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও সমন্বয়। এ বিষয়গুলো মূলত আলোচনায় স্থান পাবে।


সকল ধর্মের মানুষের ঘরেই আলো ছড়ায় ঈদ

৪জুন২০১৯,মঙ্গলবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: রমজানের ঈদ এবং কোরবানির ঈদ নিয়ে প্রতিবছরই সংবাদপত্রে লেখা বেরোয়। একটি সংযমের মাস, অন্যটি ত্যাগের উৎসব। এই সংযম ও ত্যাগ নিয়ে আমিও কতবার লিখেছি, তার সীমা সংখ্যা নেই। নজরুল তো এই দুই ঈদ নিয়ে একটি গান, একটি কবিতাই লিখে ফেলেছেন। রমজানের ঈদ নিয়ে তিনি লিখেছিলেন গান, রমজানের ওই রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ। কোরবানির ঈদ নিয়ে লিখেছিলেন কবিতা, ওরে হত্যা নয় আজ সত্যাগ্রহ শক্তির উদ্বোধন। এই গান ও কবিতা দুটিই একসময় প্লাবন সৃষ্টি করেছিল দেশে। দুই ঈদ সম্পর্কেই নজরুল লিখেছিলেন, সারাদিন উপবাসে থেকে ইফতার ও সেহিরতে যথেচ্ছ পান ভোজন করাটা ত্যাগ এবং সংযম কোনোটাই নয়। গরিব প্রতিবেশীকে অনাহার অর্ধাহারে রেখে নিজে ইফতারি-সেহিরর নামে পোলাও-কোর্মা খাওয়াটা সংযম নয়, বরং ভণ্ডামি। কোরবানির ঈদ সম্পর্কে তিনি লিখেছিলেন, বনের পশুকে নয়, তুই আগে মনের পশুকে হত্যা কর। তা না পারলে কেবল পশু হত্যা কোনো কাজ দেবে না। রমজানের ঈদের নাম ঈদুল ফিতর। অর্থাৎ ফিতরের ঈদ। এই ঈদ বা উৎসব গরিব প্রতিবেশীকে শরিক না করে পালন করা যায় না। এ জন্য একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ গরিব প্রতিবেশীকে দিতে হয়। ইসলামে ফিতরা, জাকাত ইত্যাদি প্রবর্তন করা হয়েছিল গরিবদের প্রতি ধনীদের দায়িত্ব পালনের জন্য। দুই ঈদের আরো একটি উদ্দেশ্য ছিল সমাজে শ্রেণি ব্যবধান ঘোচানো। গরিব আর ধনী, অভিজাত আর অনভিজাত পাশাপাশি বসে নামাজ পড়ছে, নামাজ শেষে মনিব আর চাকর কোলাকুলি করছে। দেড় হাজার বছর আগে এটি ছিল একটি বৈপ্লবিক ব্যবস্থা। বর্তমানে আরো উন্নত যুগের উন্নত সামাজিক ব্যবস্থার সময়েও এই দৃশ্য বিরল। নারীরা ঘোড়ায় চড়ে পুরুষের পাশাপাশি যুদ্ধ করে এই দৃশ্য দেখা ইসলামের প্রথম যুগেই সম্ভব ছিল। মোল্লাবাদের আবির্ভাবের ফলে ইসলামের এই মৌলিক আদর্শ, নারীমুক্তি, দাসমুক্তি, শ্রেণি সাম্য, আর্থিক সাম্য, অন্য ধর্মের প্রতি সম্মান ও সহিষ্ণুতা প্রায় বিলুপ্তির পথে। ইসলামকে তার প্রকৃত আদর্শে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য পরবর্তীকালে যেসব সংস্কারক চেষ্টা করেছিলেন, যেমন ইমাম আবু হানিফা, ইমাম শাফেয়ি, ইমাম মালেক, ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল প্রমুখ সংস্কারকের বেশির ভাগকেই উগ্র মোল্লাবাদীরা হত্যা করেছিল। বাংলাদেশের সৌভাগ্য, সেই প্রাচীনকালে ব্রাহ্মণ্য শাসনের অত্যাচার-উত্পীড়নে অতিষ্ঠ এবং বর্ণবিভাগে বিভাজিত দেশটিতে প্রধানত পারস্য থেকে আগত ধর্ম প্রচারকরা ইসলাম প্রচার করেছেন। উত্পীড়িত মানুষ তাকে স্বাগত জানিয়েছে। শ্রেণি বিভক্তিতে পীড়িত অস্পৃশ্য নিম্ন শ্রেণির হিন্দু ও বৌদ্ধরা দলে দলে ইসলাম গ্রহণ করেছে। তাদের অস্পৃশ্যতা দূর হয়েছে। মানবাধিকার ফিরে পেয়েছে। পণ্ডিত মোতাহার হোসেন চৌধুরীর মতে, বাঙালির স্থানীয় কালচার তার জাতীয় কালচার। ইসলাম যে বহিরাগত কালচার সঙ্গে করে এনেছে, তা ধর্মীয় কালচার। এ দুইয়ের মিলনে-মিশ্রণে যে বাঙালি কালচার গড়ে উঠেছে, তা ধর্মনিরপেক্ষ কালচার। এই কালচারের প্রভাবে ধর্মীয় উগ্রতা কখনো প্রশ্রয় পায়নি। মিলন ও ভালোবাসায় সুফিবাদ, মরমি বৈষ্ণববাদ ইত্যাদি গড়ে উঠেছে। ব্রিটিশ আমলেও বাঙালি হিন্দু-মুসলমানের প্রধান উৎসব ছিল রমজানের ঈদ ও সর্বজনীন দুর্গাপূজা। রমজানের ঈদ ও দুর্গাপূজা উপলক্ষে শরৎকালে সরকারি অফিস-আদালত, স্কুল-কলেজ এক মাস ছুটি থাকত। শহরে কর্মরত মানুষ ছুটিতে গ্রামে ফিরে আসত। ঈদ ও পূজা উপলক্ষে হিন্দু ও মুসলমানের মধ্যে মিলন ঘটত। পাকিস্তান আমলে সামাজিক জীবন ও রাজনীতিতে ধর্ম ও সাম্প্রদায়িকতার বিভেদ বেড়ে ওঠে। দুই সম্প্রদায়ের বাঙালি জীবনেই তার ছাপ পড়ে। বাংলাদেশ হিন্দু-মুসলমানের মিলিত সংগ্রামের পর স্বাধীনতা লাভ করায় অসাম্প্রদায়িক জাতীয়তার ভিত্তি শক্ত হবে; রমজানের ঈদ, দুর্গাপূজা, বৈশাখী উৎসব, ভাষা দিবস প্রভৃতি জাতীয় উৎসবে রূপান্তরিত হবে আশা করা হচ্ছিল। কিন্তু বাধা পড়ে উগ্র ওয়াহাবিবাদ, মওদুদীবাদ ইত্যাদি মতবাদের আবির্ভাবের ফলে। এই ওয়াহাবিবাদ থেকেই কট্টর জঙ্গিবাদ বা পলিটিক্যাল ইসলাম জন্ম নেয়। তা শুধু জাতীয় উৎসবগুলোকেই ধর্মীয় করেনি, জাতীয় রাজনীতিকেও ধর্মীয় কালচার দ্বারা প্রভাবিত করে যেসব ধর্মীয় উৎসব জনগণের মিলিত উৎসবে পরিণত হয়েছিল, তাতেও বিভাজন ঘটায়। বাঙালির সমাজ এখন বিভাজিত সমাজ। তার হাজার বছরের মিশ্র সংস্কৃতি এখন ধর্মীয় সংস্কৃতি দ্বারা আচ্ছন্ন। স্বাধীনতাযুদ্ধে বাঙালি মুসলমান যতটা স্বদেশে ফিরেছিল, বিএনপি-জামায়াতের শাসন এবং মোল্লাবাদের উত্থানে ততটাই স্বদেশবিমুখ হয়েছে। এ অবস্থাকেই কবি শামসুর রাহমান বলেছিলেন, অদ্ভুত উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ। এই উটের পিঠ থেকে স্বদেশকে নামাতে সময় লেগেছে ২১ বছর। এই যুদ্ধ চলেছে ২১ বছরের বেশি এবং এখনো চলছে। বাংলাদেশে রমজানের খুশির চাঁদ এখন খণ্ডিত। দুর্গাপূজার মণ্ডপ পুলিশ পাহারায় রাখতে হয়। এই অবস্থা থেকে জাতীয় উৎসবগুলোকে মুক্ত করতে হবে। আমাদের কৈশোরে রমজানের ঈদে হিন্দু ও বৌদ্ধরাও উৎসবে যোগ দিত। তারা নামাজ পড়তে আসত না। আসত উৎসবের খাওয়াদাওয়ায় যোগ দিতে। অনুরূপ আমরাও দুর্গা ও সরস্বতীর পূজার উৎসবের অংশে যোগ দিতাম। বৌদ্ধ পূর্ণিমার উৎসবে মেতে উঠতাম। বাঙালির সংস্কৃতি, সমাজ ছিল মিশ্র ও মিলিত। তার উৎসবও তাই। বাংলাদেশে তার হাজার বছরের লোকায়ত সমাজ ও সভ্যতা ফিরিয়ে আনতে হবে। না হলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অসম্পূর্ণ থাকবে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলার বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না। পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায় একাধিকবার গড়ের মাঠে রমজানের ঈদের নামাজের বিশাল জামাতে যোগ দেওয়ার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। দেখেছি, মুখ্যমন্ত্রী ডা. বিধান রায়, সিদ্ধার্থ শঙ্কর রায় এই ঈদের জামাতে আসতেন। এখন আসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁরা নামাজ পড়তে আসেন না। নামাজের আগে যে খুতবা পাঠ হয়, সেই সময় খতিবের পাশে বসেন। খুতবা পাঠ শেষ হলে মুসলমানদের ঈদ মোবারক জানান। তাদের সমস্যা ও অভিযোগ দূর করার প্রতিশ্রুতি দেন। বাংলাদেশেও দুর্গাপূজায়, বুদ্ধপূর্ণিমায় বা উপজাতীয়দের কোনো ধর্মীয় উৎসবে যে দলের সরকারই ক্ষমতায় থাকুক, তারা যায়। যুদ্ধাপরাধী মতিউর রহমান নিজামী যখন মন্ত্রী, তিনিও পুলিশসহ দুর্গাপূজার মণ্ডপে গেছেন। সেটা ছিল লোক-দেখানো যাওয়া। একদিকে মন্ত্রী গেছেন পূজামণ্ডপে, অন্যদিকে তাঁর দলের লোকেরা মন্দিরে হামলা করেছে, মূর্তি ভেঙেছে। এইচ এম এরশাদের আমলে তো সরকারের নিযুক্ত গুণ্ডারা মন্দির ও মূর্তি ভেঙেছে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে। অতঃপর বিশ্বজনমতের নিন্দা ও চাপের মুখে আবার সরকারি খরচে ভাঙা মন্দির মেরামত করেছে। এই অবস্থা ভারতেও দেখা গেছে। মহররমের মিছিলে হামলা হয়েছে। ঈদের জামাতে বোমা মারা হয়েছে। মসজিদ ভাঙা হয়েছে। গরু কোরবানির জন্য সংখ্যালঘু মানুষ হত্যা করা হয়েছে। ভারতে ৭০০ বছরের পুরনো বাবরি মসজিদ ভাঙা হয়েছে। বাংলাদেশে পাকিস্তানি হানাদাররা হাজার বছরের প্রাচীন রমনা কালীমন্দির ভেঙেছে। একদিকে ভারতে দাপট দেখাচ্ছে হিংস্র হিন্দুত্ববাদ এবং বাংলাদেশে দাপট দেখাচ্ছে উগ্র ইসলামী জঙ্গিবাদ। অথচ কোনো ধর্মেই হিংসাকে প্রশ্রয় দেওয়া হয়নি। ধর্মে হিংসা ঢুকিয়েছে মোল্লাবাদীরা এবং উদ্দেশ্যপূর্ণ রাজনীতিকরা। একে রুখতে হলে ধর্মের পবিত্র অনুষ্ঠানগুলোকে মোল্লাবাদীদের খপ্পরমুক্ত করতে হবে। রমজানের ঈদ, দুর্গাপূজার মতো উৎসবগুলোকে সাম্প্রদায়িক মিলনের কেন্দ্র করে তোলার জন্য সরকারকেই উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। আওয়ামী লীগের শাসনামলে অবশ্য সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অনেকটাই ফিরে আসে। সংখ্যালঘুদের পূজা-পার্বণও অনেকটা হামলামুক্ত হয়। কিন্তু বড় কাজ হবে এই উৎসবগুলোকে সব ধর্মের মানুষের সম্মিলিত উৎসব করে তোলা। ইউরোপে যেমন খ্রিস্ট ধর্মের ক্রিসমাস উৎসব সব ধর্ম-বর্ণের মানুষই পালন করে। রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন, আনন্দময়ীর আগমনের বাজনা যেন হিন্দুর ঘরেই সীমাবদ্ধ না থাকে, সকল ধর্মের মানুষের ঘরেই বেজে উঠে। আর নজরুল বলেছিলেন, রমজানের ঈদের চাঁদ যেন কেবল মুসলমানের ঘরে আলো না ছড়িয়ে সকল ধর্মের মানুষের ঘরেই আলো ছড়ায়। এবারের রমজানের ঈদে আমাদের সবার প্রার্থনা হোক, এই চাঁদ যেন সব বিভেদ-বিবাদের মেঘ সরিয়ে ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে সবার ঘরে আনন্দের আলো ছড়ায়। সবার জন্য রইল ঈদ মোবারক।-আবদুল গাফফার চৌধুরী

দুর্নীতি দমনে প্রয়োজন সরকার ও জনগণের সমন্বিত পদক্ষেপ

১৬জুলাই২০১৯,মঙ্গলবার,নিউজ একাত্তর ডট কম:আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই বিধি রাখা হয়েছে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত হলে কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে গ্রেপ্তার করতে হবে। ফলে দুদক-এর কাজে এসেছে চ্যালেঞ্জ।মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ যে, তিনি সহজ-সরল ভাষায় বলেছেন, দুর্নীতি করব না, করতেও দেব না। ১২ জুন (২০১৯) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি দুর্নীতির প্রতি তার সরকারের 'জিরো টলারেন্স' নীতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। তার মতে, দুর্নীতি ও অপরাধ যে করবে এবং যে প্রশ্রয় দেবে- তারা সবাই অপরাধী। ঘুষ নেয়া যেমন অপরাধ, দেয়াটাও সমান অপরাধ। অপরাধী যে দলেরই হোক, কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও অপরাধ করে ছাড় পাচ্ছে না। তিনি মনে করেন, কেবল আইন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দিয়ে দুর্নীতি ও অপরাধ দমন করা সম্ভব নয়; এ জন্য সামাজিক সচেতনতাও সৃষ্টি করতে হবে। টানা তৃতীয়বার ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের কল্যাণ এবং দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়তে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছে। এ জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) শক্তিশালী করা, জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার এবং আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে দুর্নীতির পরিধি ক্রমান্বয়ে শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। দুদক এখন শক্তিশালী একটি সংস্থা। দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে বিভিন্ন দপ্তরে প্রতিনিয়ত তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালনা করছে। এতে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দুর্নীতির প্রবণতা কমে এসেছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরে দুর্নীতির মাত্রাও ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাচ্ছে। উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ১৮ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগ ঘোষিত সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ শীর্ষক নির্বাচনী ইশতেহারের ২১টি বিশেষ অঙ্গীকারের মধ্যে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স প্রদর্শনের কথা বলা হয়েছিল। ইশতেহার ঘোষণাকালে লিখিত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, আমি নিজে এবং দলের পক্ষ থেকে আমাদের যদি কোনো ভুলভ্রান্তি হয়ে থাকে, সেগুলো ক্ষমাসুন্দর চোখে দেখার জন্য দেশবাসী আপনাদের প্রতি সনির্বন্ধ অনুরোধ জানাচ্ছি। আমি কথা দিচ্ছি, অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা আরো সুন্দর ভবিষ্যৎ নির্মাণ করব। প্রকৃতপক্ষে আওয়ামী লীগের অঙ্গীকার অনুসারে টেকসই বিনিয়োগ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য দরকার স্বচ্ছ প্রশাসন। আর সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকা ও সমৃদ্ধির সব সুযোগ এবং সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে তখনই যখন জবাবদিহিতামূলক সরকার রাষ্ট্র পরিচালনা করবে। এ জন্য দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ। দুর্নীতি দমনে রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও আইনের প্রয়োগ মুখ্য হলেও তা শুধু সরকারের দায় নয়, জনগণেরও দায় রয়েছে। আমরা মনে করি, দুর্নীতি দমনে প্রয়োজন সরকার ও জনগণের সমন্বিত পদক্ষেপ। দুর্নীতি দমন কমিশনকে কর্মপরিবেশ ও দক্ষতার দিক থেকে যুগোপযোগী ও আধুনিকায়ন করা হবে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলো সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পর্যালোচনা, পর্যবেক্ষণ ও তদারকি ভবিষ্যতে আরো জোরদার করা হবে।শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের সদিচ্ছার প্রমাণ রয়েছে ৫ জানুয়ারি (২০১৪) জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের পূর্বে ঘোষিত নির্বাচনী ইশতেহারেও। আমাদের এবারের অগ্রাধিকার : সুশাসন, গণতন্ত্রায়ন শীর্ষক উপবিভাগের ১.৮ অনুচ্ছেদে দুর্নীতি প্রতিরোধ সম্পর্কে বলা হয়েছিল, দুর্নীতি প্রতিরোধে, আইনি, রাজনৈতিক, সামাজিক এবং প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ জোরদার করা হবে। দুর্নীতি দমন কমিশনের ক্ষমতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি করে প্রতিষ্ঠানটির কার্যকারিতা আরও বাড়ানো হবে। ঘুষ, অনোপার্জিত আয়, কালো টাকা, চাঁদাবাজি, ঋণখেলাপি, টেন্ডারবাজি ও পেশিশক্তি প্রতিরোধ এবং দুর্নীতি-দুর্বৃত্তায়ন নির্মূলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নিজেদের সম্পদ, আয়-রোজগার সম্পর্কে সর্বস্তরের নাগরিকদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বিগত মহাজোট সরকারের নেতৃত্ব দেয়ার সময় লক্ষ্য করেছেন জনগণের প্রত্যাশা আসলে কী? জনগণ শেখ হাসিনার পাশে দুর্নীতিবাজদের দেখতে পছন্দ করে না। একারণে তার মন্ত্রী পরিষদে পূর্বের অনেকেই ঠাঁই পাননি। উপরন্তু দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বিগত সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য তদন্ত শুরু করলে সরকারপ্রধান হস্তক্ষেপ না করে নীরবে তা পর্যবেক্ষণ করেছেন। একথা ঠিক যে সরকার প্রধান নির্লোভ হলেও তার নির্ভরযোগ্য বা আশপাশের অনেকেই ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুর্নীতিতে মেতে উঠতে পারেন; জনগণের প্রত্যাশা ধূলিস্যাৎ করে নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারেন। অথচ সরকার অতীতের ভুলত্রুটি শুধরে, জনগণের সেবা নিশ্চিত ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করে আগামী পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকার লক্ষ্যে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। এই প্রত্যাশা ফলপ্রসূ করতে হলে জনগণ যে আশা-ভরসা নিয়ে আওয়ামী লীগকে ভোট দেয়, সেটা রক্ষা করতে হবে। কোনো ধরনের অন্যায়কে ভবিষ্যতে সরকার প্রশ্রয় দিলে তা হবে আত্মঘাতী। এ জন্য কারও বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার অঙ্গীকার প্রশংসার দাবিদার।মনে রাখা দরকার বিএনপি-জামায়াত আমলে আমরা দুর্নীতিবিরোধী বয়ান শুনে শুনে আতঙ্কিত হয়েছি। এমনকি দুর্নীতি নিয়ে আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্রের সর্বস্তরে অনেক মুখরোচক কথা চালু রয়েছে। কথাবার্তায় আমরা প্রায় সবাই দুর্নীতিবিরোধী হয়ে ওঠার চেষ্টা করি। কিন্তু দুর্নীতির বিরুদ্ধে যে সামাজিক সচেতনতা তৈরি করা দরকার সেই প্রচেষ্টা গ্রহণ করি না। এমনকি দুর্নীতির নীতিগত উৎসাহদাতা অনেক আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে যারা প্রায়শ বলে থাকে দুর্নীতির কারণে এ দেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আমাদের অবশ্যই দুর্নীতির স্রষ্টাদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। কারণ প্রতিনিয়ত মুক্তবাজার, বেসরকারিকরণ, বাজার উন্মুক্তকরণ, শিক্ষা-স্বাস্থ্যসহ সরকারি সেবাগুলোর ওপর ব্যক্তিমালিকানা প্রতিষ্ঠার জন্য উন্নয়ন সহযোগী আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান চাপ প্রয়োগ করছে। এমনকি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানসমূহকে অকার্যকর করার জন্য এবং দেশের রাজনীতিকে কলঙ্কিত করতে রাজনীতিবিদদের ক্রয়-বিক্রয়ে মেতে উঠছে অনেকেই- এ সম্পর্কেও রাজনৈতিক দলকে সতর্ক থাকতে হবে। অনেক গবেষকই বলে থাকেন মুক্তবাজারের প্রতিযোগিতাকে অবাধ করার অর্থই হলো দুর্নীতিকে উৎসাহিত করা। মুক্তবাজার নিজেই দুর্নীতির স্রষ্টা, এটাকে বজায় রেখে যারা ব্যক্তি দুর্নীতিবাজ ধরার প্রচেষ্টা চালায়, তারা অনেকটা জল ঘোলা করে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের পথ খুঁজে ফেরেন। তারা চায় অর্থনৈতিক সক্ষমতায় দরিদ্র রাষ্ট্রগুলোতে নামমাত্র পুতুল সরকার বজায় রেখে বিশ্বব্যাপী ধনী রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব নিরঙ্কুশ করতে। ১/১১-এর সময় দেশ থেকে দুর্নীতিবাজ রাজনীতিবিদদের হঠানোর যে হঠকারি আয়োজন হয়েছিল, সে ঘটনাও মনে রাখা দরকার। এ ছাড়া ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গড়ে তুলতে হবে এমনভাবে যেন তারা মনে না করে টাকা থাকলেই সমাজ সম্মান করবে। কারণ লেখাপড়ার উদ্দেশ্য যদি ভালো চাকরি পাওয়া হয় তাহলে সমাজ ও রাষ্ট্র থেকে দুর্নীতি কখনো উচ্ছেদ করা সম্ভব নয়। দলের ইশতেহারে বলা হয়েছে, দুর্নীতি দমন কমিশনকে কর্মপরিবেশ ও দক্ষতার দিক থেকে যুগোপযোগী ও আধুনিকায়ন করা হবে। কিন্তু আমরা জানি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই বিধি রাখা হয়েছে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত হলে কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে গ্রেপ্তার করতে হবে। ফলে দুদক-এর কাজে এসেছে চ্যালেঞ্জ। আওয়ামী লীগ সরকার স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন পুনর্গঠন করেছে। দুর্নীতির তদন্ত, অনুসন্ধান, জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দুদক প্রয়োজনে মন্ত্রী, আমলাসহ যে কোনো ক্ষমতাধর ব্যক্তিকে তলব করে জিজ্ঞাসাবাদের নজির স্থাপন করেছে। দুর্নীতি ও অনিয়মের উৎসমুখগুলো বন্ধ করার লক্ষ্যে অনলাইনে টেন্ডারসহ বিভিন্ন সেবা খাতে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে দুর্নীতির সর্বগ্রাসী প্রকোপ কমেছে। মন্ত্রিসভার কোনো সদস্য অনিয়ম ও দুর্নীতি করলে প্রধানমন্ত্রী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন- এ প্রত্যাশা সব প্রতিষ্ঠানের। অতীতের অনিশ্চয়তা, সংকটের চক্রাবর্ত এবং অনুন্নয়নের ধারা থেকে বের করে এনে প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় শান্তি, গণতন্ত্র ও উন্নয়নের গতিপথে পুনঃস্থাপিত করতে হলে তো দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলতেই হবে। মনে রাখতে হবে, দুর্নীতি প্রতিরোধে ও রাষ্ট্রপরিচালনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবদানই অনন্য। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দীর্ঘ সংগ্রামের চালিকাশক্তি ছিল একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ সমাজের স্বপ্ন। কিন্তু রাষ্ট্রের ৪৭ বছরের ইতিহাসে সেই স্বপ্ন বারবার বাধাগ্রস্ত হয়েছে, পথভ্রষ্ট হয়েছে এবং মুখ থুবড়ে পড়েছে। জাতির পিতার শাহাদাত, সামরিক শাসন এবং স্বৈরাচারী, গণবিরোধী ও স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির ক্ষমতা দখল জনগণের সেই স্বপ্নের বাস্তবায়নকে বারবার দূরে সরিয়ে দিয়েছে। জনগণের জীবনে এ ধরনের শাসনের কুফল প্রতিফলিত হয়েছিল অনুন্নয়নে, বৃহৎ জনগোষ্ঠীর দারিদ্র্যে, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের অবদমনে, রাষ্ট্রীয় অব্যবস্থাপনায়, দুর্নীতিতে এবং সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে শুদ্ধাচারের অভাবে। ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে জনগণের বিপুল ম্যান্ডেট নিয়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা গ্রহণের পর আওয়ামী লীগ সরকার এই দুঃশাসনের বিরুদ্ধে, অব্যবস্থার বিরুদ্ধে এবং রাষ্ট্রীয় দুর্নীতির বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছিল। এই যুদ্ধকে শেখ হাসিনা চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও তার শাসনামলে একই ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছিলেন। ১৯৭৪ সালের ২৫ ডিসেম্বরে জাতির উদ্দেশে প্রদত্ত ভাষণে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, সুখী ও সমৃদ্ধিশালী দেশ গড়তে হলে দেশবাসীকে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে উৎপাদন বাড়াতে হবে। কিন্তু একটি কথা ভুলে গেলে চলবে না- চরিত্রের পরিবর্তন না হলে এই অভাগা দেশের ভাগ্য ফেরানো যাবে কি না সন্দেহ। স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি ও আত্মপ্রবঞ্চনার ঊর্ধ্বে থেকে আমাদের সবাইকে আত্মসমালোচনা, আত্মসংযম ও আত্মশুদ্ধি করতে হবে। শেখ হাসিনাও তার রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় সব কাজে আত্মশুদ্ধি ও চরিত্রনিষ্ঠার ওপর সবিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন, নেশন মাস্ট বি ইউনাইটেড অ্যাগেইনস্ট করাপশন। পাবলিক ওপিনিয়ন মবিলাইজ না করলে শুধু আইন দিয়ে করাপশন বন্ধ করা যাবে না। স্বাধীনতার পর থেকেই দুর্নীতি দমন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিভিন্ন সময় বহুবিধ আইন, বিধি-বিধান প্রণয়ন করা হয়েছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর আরো কিছু নতুন আইন প্রণয়ন করেছে, প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার উন্নয়নে বেশ কিছু নতুন প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছে এবং এগুলোর ব্যবস্থাপনা ও পদ্ধতির উন্নয়ন সাধন করা হয়েছে। রূপকল্প-২০২১ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রণীত বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিত পরিকল্পনা-২০১০-২০২১ শীর্ষক দলিলে দুর্নীতি দমনকে একটি আন্দোলন হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে। এই আন্দোলনে সবাইকে অংশীদার হতে উদ্যোগও নেয়া হচ্ছে। এ ছাড়া দুর্নীতি দমনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম যেসব আইন গত মহাজোট সরকারের সময় প্রণীত হয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল: 'সন্ত্রাসবিরোধী আইন-২০০৯', 'তথ্য অধিকার আইন-২০০৯', 'ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন- ২০০৯', 'সরকারি অর্থ ও বাজেট ব্যবস্থাপনা আইন-২০০৯', 'জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন-২০০৯', 'চার্টার্ড সেক্রেটারিজ আইন,-২০১০', 'জনস্বার্থ-সংশ্লিষ্ট তথ্য প্রকাশ (সুরক্ষা প্রদান) আইন-২০১১', 'মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন-২০১২', 'মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন-২০১২', 'প্রতিযোগিতা আইন-২০১২' ইত্যাদি। এসব আইন প্রণয়নের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রের সর্বস্তরে দুর্নীতিমুক্ত রাখার প্রত্যয় ঘোষিত হয়েছে। 'মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন-২০১২'-এর আওতাধীন অপরাধও দুর্নীতি হিসেবে বিবেচিত। কিন্তু দুর্নীতিকে কেবল আইনি ব্যবস্থার মাধ্যমে দমন করা সম্ভব নয়, তার জন্য প্রয়োজন সামগ্রিকভাবে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ গ্রহণ ও সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা। এ জন্য সরকারি কর্মকর্তা, বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন, সুশীল সমাজ ও নাগরিকগোষ্ঠীর সম্মিলিত প্রয়াস দরকার। দুর্নীতি নির্মূলের জন্য 'ফৌজদারি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও আন্তর্জাতিক আইনের মাধ্যমে দুর্নীতির প্রতিকার ছাড়াও দুর্নীতির ঘটনা যাতে না ঘটে তার জন্য প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে এই কনভেনশনে। আগামী এক দশকে এ দেশে ক্ষুধা, বেকারত্ব, অশিক্ষা, বঞ্চনা ও দারিদ্র্য থাকবে না। দেশে বিরাজ করবে সুখ, শান্তি, সম্প্রীতি ও সমৃদ্ধি। সংবিধানের প্রস্তাবনা অনুযায়ী গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে এমন এক শোষণমুক্ত সমাজতান্ত্রিক সমাজের প্রতিষ্ঠা হবে, যেখানে সব নাগরিকের জন্য আইনের শাসন, মৌলিক মানবাধিকার এবং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সাম্য, স্বাধীনতা ও সুবিচার নিশ্চিত হবে। এই লক্ষ্য পূরণে সুশাসন প্রতিষ্ঠা রাষ্ট্রের অবশ্য কর্তব্য এবং সেই সুশাসন প্রতিষ্ঠায় দুর্নীতি দমন একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং অপরিহার্য পরাকৌশল। ১২ জুন সংসদে বলা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে, আওয়ামী লীগের ইশতেহারে বর্ণিত বক্তব্য। সেখানে বলা হয়েছে, কেবল আইন প্রয়োগ ও শাস্তি প্রদানের মাধ্যমে দুর্নীতি নির্মূল করা সম্ভব নয়, তার জন্য প্রয়োজন রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক ক্ষেত্রে একটি আন্দোলন গড়ে তোলা, যাতে নাগরিকরা চরিত্রনিষ্ঠ হয়, রাষ্ট্রীয় ও ব্যক্তিমালিকানাধীন ও সুশীল সমাজের প্রতিষ্ঠানসমূহে শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠা পায়। দুর্নীতি প্রতিরোধে মানুষকে নৈতিক জীবন যাপনে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। লেখকঃ মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন চৌধুরী, সাংবাদিক,প্রাবন্ধিক,কলামিষ্ট ও সম্পাদক নিউজ একাত্তর ডট কম।

আজকের মোট পাঠক

32805

নিউজ একাত্তর ডট কম

সম্পাদক : মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন চৌধুরী

নির্বাহী সম্পাদক : আহাম্মদ হোসেন ভুইয়া

একটি পপুলার মিডিয়া পাবলিকেশন এর প্রকাশনা | রেজি নং: চ-১২৪২৭/১৭

সম্পাদকীয় ও বানিজ্যিক কার্যালয় : ৪১৬/সি,খিলগাও ঢাকা ০২৪৩১৫০৪৮৮, ০১৮২৪২৪৫৫০৪, ০১৭৭৮৮৮৮৪৭২

চট্টগ্রাম কার্যালয় : ১৯/২০/২১ বি ৩য় তলা, হানিমুন টাওয়ার,পাহাড়তলী,চট্টগ্রাম।

ই-মেইল : newsekattor@gmail.com, editorekattor@gmail.com, কপিরাইট ©newsekattor.com কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত