রাজকীয় উপাধি হারালেন প্রিন্স হ্যারি-মেগান

১৯জানুয়ারী,রবিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: এই বসন্ত থেকেই যুক্তরাজ্যের ডিউক ও ডাচেস অব সাসেক্স উপাধি আর ব্যবহার করতে পারবেন না প্রিন্স হ্যারি এবং তার স্ত্রী মেগান মার্কেল। রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ এ বিষয়ে সম্মতি দিয়েছেন। রাজপরিবারের বরাত দিয়ে বিবিসি এ তথ্য প্রকাশ করেছে। শনিবার হ্যারি-মেগান দম্পতি জানান, যুক্তরাজ্যে তাদের ফ্রগমোর কটেজ সরকারি অর্থে সংস্কার করতে যে অর্থ ব্যয় হয়েছে, তা তারা শোধ করবেন। যুক্তরাজ্যে অবস্থানকালে তারা এখন থেকে ওই কটেজেই থাকবেন। জানুয়ারির শুরতে প্রিন্স হ্যারি ও তার স্ত্রী মেগান ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে রাজপদবী ছাড়ার ঘোষণা করেন। হ্যারির ব্রিটিশ রাজপরিবার ছাড়ার ঘোষণায় দুঃখপ্রকাশ করেছেন ব্রিটেনের রানি এলিজাবেথ। রয়েল প্যালেস সূত্র জানিয়েছে, হ্যারি ও মেগান তাদের সন্তান আর্চিকে নিয়ে বেশিরভাগ সময় উত্তর আমেরিকাতে অবস্থান করবেন। অর্থ উপার্জানের জন্য তারা নিজেদের মতো করে কাজ করতে পারবেন। তবে রানির সম্মানহানি হয় এমন কিছুর সঙ্গে জড়িত হবেন না। চলতি বসন্তের শেষেই এই আদেশ কার্যকর হবে। এক বছর পর তা পুন মূল্যায়ন করা হবে। প্রসঙ্গত, শৈশব থেকেই প্রিন্স হ্যারি কিছুটা স্বাধীন জীবনযাপনে অভ্যস্ত ছিলেন। ২০১৬ সালে হলিউড অভিনেত্রী মেগান মার্কেলের সঙ্গে হ্যারির প্রণয় হয়। এরপর থেকেই ব্রিটেনের ট্যাবলয়েডগুলো হ্যারি-মেগানের মুখরোচক সব সংবাদ ছাপিয়ে তাদের পিছনে লেগে ছিল। কিছুদিন আগে বড় ভাই উইলিয়ামের সঙ্গে হ্যারির সম্পর্কের অবনতি হয়েছে এমনটা আভাস দেয় সংবাদপত্রগুলো। হ্যারি ও মেগান দম্পতি তাদের প্রথম সন্তান আর্চির নামেও ব্রিটিশ রাজপরিবারের পদবি ব্যবহার থেকে বিরত থাকেন।...

কেরালার পর পাঞ্জাব বিধানসভায় সিএএ বিরোধী প্রস্তাব পাস

১৮জানুয়ারী,শনিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ভারতের পাঞ্জাব বিধানসভায় সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন বা সিএএ বিরোধী প্রস্তাব পাস হয়েছে। বিধানসভার বিশেষ অধিবেশনে গতকাল শুক্রবার ওই প্রস্তাব পাস হয়। পাঞ্জাবের মন্ত্রী ব্রহ্ম মহিন্দ্র বিধানসভায় প্রস্তাবটি পেশ করেন। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকার যে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন তৈরি করেছে তার বিরুদ্ধে এ নিয়ে দুটি রাজ্য বিধানসভা প্রস্তাব পাস করলো। এর আগে সিপিএম নেতৃত্বাধীন কেরালার এলডিএফ সরকার বিধানসভায় সিএএ প্রত্যাহারের দাবিতে প্রস্তাব পাস করেছিল। এবার পাঞ্জাবের কংগ্রেস সরকারও একই পথে হাঁটলো। কংগ্রেসশাসিত পাঞ্জাব সরকারের মন্ত্রী ব্রম্ম মহিন্দ্রা বিধানসভায় সিএএ বিরোধী প্রস্তাব পেশ করতে গিয়ে বলেন, নতুন নাগরিকত্ব আইন ঘিরে দেশজুড়ে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। দেশের সর্বত্র বিক্ষোভ চলছে। পাঞ্জাবেও সিএএ বিরোধী বিক্ষোভ হয়েছে, তবে তা হয়েছে শান্তিপূর্ণভাবে। এবং এতে সমাজের সব অংশের মানুষ অংশগ্রহণ করেছে। পাঞ্জাব বিধানসভায় পেশ করা প্রস্তাবে বলা হয়, সিএএ দেশের সংবিধান এবং এর মূল চেতনার পরিপন্থী। এটি দেশের নির্দিষ্ট ধর্মের মানুষদের পরিচিতি নষ্ট করার প্রয়াস। এই আইনের মাধ্যমে অভিবাসী মানুষকে বিভক্ত করার চিন্তাভাবনা রয়েছে এবং এটি সাম্যের অধিকার বিরোধী। প্রস্তাবটিতে আরও বলা হয়েছে, জাতীয় নাগরিকপঞ্জি বা এনআরসি এবং জাতীয় জনসংখ্যা নিবন্ধন বা এনপিআর সম্পর্কে লোকদের সন্দেহ ও দ্বিধাদ্বন্দ্ব রয়েছে, এগুলো দূর করে একে পাস করা উচিত। সিএএ তেও পরিবর্তন করা উচিত বলেও প্রস্তাবে বলা হয়। পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ক্যাপ্টেন অমরিন্দর সিং সম্প্রতি বলেছিলেন, তার সরকার এই বিভাজনমূলক আইন কার্যকর করতে দেবে না। তিনি বলেন, এই আইনটি এনআরসি এবং এনপিআরের পাশাপাশি ভারতীয় সংবিধান লঙ্ঘন করে। অমরিন্দর সিং বলেন, তিনি সংখ্যালঘুদের নাগরিকত্ব দেয়ার বিরোধী নন, কিন্তু তিনি সিএএ তে মুসলিমসহ কিছু ধর্মীয় সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বৈষম্যের বিরোধী। মুখ্যমন্ত্রী অমরিন্দর সিং নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন সম্পর্কে সাফ জানান, ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ অবকাঠামো সবসময়ই শক্তিশালী ছিল। কিন্তু কেউ যদি এটিকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করেন তবে কংগ্রেসের পাশাপাশি এদেশের মানুষও এর বিরোধিতা করবে। বিজেপি এবং তার মিত্ররা এর পরিণতির কথা চিন্তা না করেই এই বুনিয়াদকে ধ্বংস করতে ব্যস্ত বলেও মুখ্যমন্ত্রী ক্যাপ্টেন অমরিন্দর সিং মন্তব্য করেন। ...

বিল গেটসের প্রশংসায় ভাসলেন বাংলাদেশি বাবা-মেয়ে

১৭জানুয়ারী,শুক্রবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস বাংলাদেশের শিশুমৃত্যু হ্রাস করার জন্য বাংলাদেশের বাবা-কন্যা মাইক্রোবায়োলজিস্টের দুজনের কাজের প্রশংসা করেছেন। বাবা মাইক্রোবায়োলজির অধ্যাপক ডা. সমির সাহার সঙ্গে বর্তমানে শিশু স্বাস্থ্য গবেষণা ফাউন্ডেশন (সিএইচআরএফ)-এ কাজ করছেন ডা. সেঁজুতি সাহা। গত মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) বিল গেটস তার ব্যক্তিগত ব্লগ গেটসনোটসে লিখেছেন, একসঙ্গে, বাবা-মেয়ের এই টিম বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্যের একটি গতিশীল জুটি। ইতিবাচক কাজে সমাজের রূপ বদলে দেয়ার স্বপ্ন নিয়ে যারা কাজ করেন তাদের নিয়ে নিয়মিত বিল গেটস হিরোস ইন দ্য ফিল্ড শিরোনামে ব্লগ লেখেন মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা। মঙ্গলবার বিল গেটস বাংলাদেশি এই বাবা-মেয়েকে বেছে নিয়েছেন তার এবারের নায়ক হিসেবে। তিনি লিখেন, নিম্ন আয়ের দেশগুলোর সঙ্গে সম্পদশালী দেশের স্বাস্থ্যসেবার পার্থক্য, যেখানে শিশু মৃত্যুর হার বেশি রয়েছে; সেসব কমিয়ে আনতে কাজ করছেন তারা। এক্ষেত্রে তারা উপাত্ত, রোগ নির্ণয়ের সর্বাধুনিক পদ্ধতি এবং সংক্রামক ব্যাধির বিরুদ্ধে টিকাদানকে কাজে লাগাচ্ছেন। তাদের এই গবেষণা শুধু বাংলাদেশেই নয় বরং একই ধরনের সমস্যার সম্মুখীন দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশেও তাদের কাজ ব্যবহৃত হচ্ছে, লিখেন গেটস। বাংলাদেশ এবং অন্যান্য দেশে শিশু মৃত্যুর হার হ্রাস করতে সিএইচআরএফ প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করেন ডা. সামির। গেটস বলেন, সিএইচআরএফ-র কাজ এবং শিশুদের জন্য সরকারের গৃহীত টিকাদান কর্মসূচি এবং স্বাস্থ্যসেবায় জোরালো সহায়তার কারণে বাংলাদেশে পাঁচ বছর বয়সের নিচের শিশু মৃত্যুহার কমেছে এবং সার্বিক স্বাস্থ্যসেবারও উন্নয়ন ঘটেছে। বাংলাদেশে এখন প্রায় ৯৮ শতাংশ টিকাদান কর্মসূচির আওতায় এসেছে বলেও জানান তিনি। ডা. সমিরের গেটস লিখেন, তিনি ঢাকা শিশু হাসপাতালের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের প্রধান। শিশুমৃত্যুর বড় দুই ঘাতক ব্যাধি মেনিনজাইটিস ও নিউমোনিয়া রোগের টিকা ব্যবহারে বাংলাদেশকে সহায়তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন তিনি। মাইক্রোসফটের এই সহ-প্রতিষ্ঠাতা আরও লিখেন, স্বাস্থ্যখাতের উন্নতি ঘটলেও বাংলাদেশের এখনও অনেক পথ পাড়ি দেয়ার রয়েছে। চলতি বছরে গোলকিপারস ইভেন্টে অংশ নিয়ে ডা. সেঁজুতি সাহা বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে এখনও যে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে সেসব গল্প তুলে ধরেছেন। শিশুদের চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ চিকিৎসা কেন্দ্র ঢাকা শিশু হাসপাতালে প্রত্যেক বছর ৬ হাজারের বেশি শিশু ভর্তি না হতে পেরে ফিরে যায়। কারণ হাসপাতালটি ৬৬৫ শয্যার। আর এসব আসন সবসময় পূর্ণ থাকে। ডা. সমির ও ডা. সেঁজুতির কাজের প্রশংসা করে নিজের ব্লগের ইতি টেনেছেন গেটস। তিনি লিখেন, এই বাবা-মেয়ের কাজের কল্যাণে বাংলাদেশ এমন এক ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, যেখানে সংক্রামক ব্যাধি খুব কম থাকবে এবং হাসপাতালের শয্যাগুলো ফাঁকা থাকবে। ...

যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর

১৬জানুয়ারী,বৃহস্পতিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: অবশেষে বাণিজ্যযুদ্ধ অবসানে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বিশ্বের দুই পরাশক্তি চীন ও যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার ওয়াশিংটনে দুই দেশের মধ্যে এ চুক্তি স্বাক্ষর হয়। একে বলা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-চীন প্রথম ধাপের বাণিজ্য চুক্তি। চুক্তি স্বাক্ষরের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিষয়টিকে মার্কিন অর্থনীতির জন্য রূপান্তরকারী হিসেবে উল্লেখ করেন। অন্যদিকে চীন এ চুক্তিকে উভয় দেশের জন্য উইন-উইন বলে অভিহিত করেছে। চুক্তির আওতায় মার্কিন পণ্যসামগ্রী আমদানির পরিমাণ বাড়াবে চীন। এরই মধ্যে আগামী দুই বছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাড়তি ২শ বিলিয়ন ডলারের পণ্য ও সেবা কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বেইজিং। এর বিপরীতে চীনের ওপর আরোপিত কিছু শুল্ক স্থগিত রাখবে ওয়াশিংটন। এই চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যকার অর্থনৈতিক সম্পর্ক কিছুটা স্বাভাবিক হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ...

রেডিসন ব্লু চট্টগ্রামের পরিবেশবান্ধব কাচের বোতল

১৯জানুয়ারী,রবিবার,প্রেস বিজ্ঞপ্তি,নিউজ একাত্তর ডট কম: আবহাওয়া, জলবায়ু ও পারিপার্শ্বিক পরিবেশের কল্যাণের উদ্দেশ্যে ব্যবসায়িক বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিবর্তনকে আপন করে নিতে সদা প্রস্তুত রেডিসন ব্লু চট্টগ্রাম বে ভিউ। এরই অংশ হিসেবে ১৮ জানুয়ারি হোটেলটি এর সকল রুম, রেস্টুরেন্ট এবং হল থেকে সরিয়ে নিয়েছে সকল ধরনের প্লাস্টিক বোতল এবং ব্যবহার করছে পরিবেশবান্ধব কাচের বোতল। ইতিমধ্যেই হোটেলটি সকল প্রকার প্লাস্টিক স্ট্র সরিয়ে নিয়েছে সকল রেস্টুরেন্ট থেকে এবং ব্যবহার করছে পরিবেশবান্ধব স্ট্র। হোটেলটির এ ধরনের কর্মকাণ্ডের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে রেডিসন ব্লু চট্টগ্রাম বে ভিউর ব্যবস্থাপনা পরিচালক রবিন এডওয়ার্ডস বলেন, রেডিসন হোটেল গ্রুপের মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে পৃথিবীকে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য আরো উত্তম উপায়ে গড়ে তুলতে এর সকল হোটেলই সারা পৃথিবীজুড়ে এ ধরনের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে থাকে। আমরা বিশ্বাস করি হোটেল এবং পর্যটন ব্যবসায়ের সাথে জড়িত সকল ছোট বড় ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান যদি একত্রিত হয়ে সমাজের এবং পরিবেশের কল্যাণে কাজ করতে পারে তবে আমাদের আশপাশের পরিবেশের উল্লেখযোগ্য কল্যাণ সম্ভব। দেশজুড়েই হোটেল এবং পর্যটন ব্যবসায় আরও বৃহত্তর কাঠামোয় রুপান্তরিত হচ্ছে যাকে কাজে লাগিয়ে পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। বিগত বছরগুলতেও রেডিসন ব্লু চট্টগ্রাম বে ভিউ অগণিত সমাজসেবামূলক কাজের মাধম্যে সমাজ ও পরিবেশের কল্যাণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার চেষ্টা করছে।- প্রেস বিজ্ঞপ্তি...

মেহগনি বাগানে বৃদ্ধের ঝুলন্ত মরদেহ

১৯জানুয়ারী,রবিবার,মাইনুল হাসান,সাভার,নিউজ একাত্তর ডট কম: সাভারে কাঞ্চন বেপারী নামের (৬০) এক ব্যক্তির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ রোববার দুপুরে সাভারের বনগাঁও ইউনিয়নের সাধাপুর পুরানবাড়ি এলাকার একটি মেহগনি বাগান থেকে মরদেহটি করা হয়। পুলিশ জানায়, সাধাপুর পুরানবাড়ি এলাকার মেহগনি বাগানের একটি গাছে রশিতে ঝুলন্ত অবস্থায় ওই ব্যক্তির মরদেহ দেখতে পায় স্থানীয়রা। পরে তারা সাভার মডেল থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে প্রেরণ করে। নিহত ওই ব্যক্তির বাড়ি সাভারের আমিনবাজারে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এ বিষয়ে সাভার মডেল থানার এসআই এখলাস উদ্দিন বলেন, মরদেহ উদ্ধারের পর লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে, তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর এটি হত্যা না আত্মহত্যা সেটি জানা যাবে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ...

কক্সবাজারের রামুতে পিকনিক বাস খাদে, ঢাবি শিক্ষার্থীসহ আহত ৩০

১৮জানুয়ারী,শনিবার,কক্সবাজার প্রতিনিধি,নিউজ একাত্তর ডট কম: কক্সবাজারের রামু উপজেলায় পিকনিকের বাস খাদে পড়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ (ঢাবি) রাজধানীর কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৩০ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। শনিবার ভোর সাড়ে ৫টায় কক্সবাজারের রামু উপজেলার রামু পুরনো বাইপাস লম্বা ব্রিজের রেলিং ভেঙে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ রাজধানীর কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী। তারা সেন্টমার্টিনে পিকনিকে যাচ্ছিলেন বলে জানা গেছে। পিকনিকে অংশ নেয়া ডাকসুর সদস্য মাহমুদুল হাসান জানান, ঢাকা থেকে দুটি বাসে ১১৭ শিক্ষার্থী শুক্রবার রাত ৯টার দিকে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে রওনা দেন। এই ট্যুরটি ছিল ঢাকার মির্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী) স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে। এখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২৫ শিক্ষার্থী ছিলেন। তবে দুর্ঘটনার শিকার বাসে ঢাবির ৪-৫ শিক্ষার্থী ছিলেন। বাকিরা ঢাকার কয়েকটি কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। শনিবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে একটি বাস রামু উপজেলা ব্রিজের রেলিং ভেঙে খাদে পড়ে যায়। এতে আহত হয়েছে ৩০-৪০ জন। এদের মধ্যে ৫-৬ শিক্ষার্থী হাসপাতালে ভর্তি আছেন। অন্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে এতে কারও মৃত্যু ঘটেনি। ডাকসুর ওই সদস্য বলেন, আমাদের ১৯ তারিখে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু দুর্ঘটনার কারণে ট্যুরটি বাতিল করা হয়েছে। ...

যশোরে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের ৩ জন নিহত

১৮জানুয়ারী,শনিবার,মাসুদুজ্জামান,যশোর,নিউজ একাত্তর ডট কম: যশোরে প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিদ্যুতের খুঁটিতে ধাক্কা লেগে একই পরিবারের তিনজন নিহত হয়েছেন। এতে শিশুসহ দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আজ শনিবার ভোরে যশোর শহরের বিমান অফিস মোড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- যশোর শহরের লোন অফিসপাড়ার ইয়াসিন আলীর মেয়ে ডা. তনিমা ইয়াসমিন পিয়াশা (২৫), তানজিলা ইয়াসমিন ইয়াশা (৩০) ও ইয়াসিন আলীর পুত্রবধূ তিথী (৩৫)। আহতরা হলেন, নিহত তিথীর শিশু সন্তান মনিরুল (০৪) ও নিহত পিয়াশার হবু স্বামী হৃদয় (৩০)। নিহতের স্বজনরা জানান, ডা. পিয়াশার আগামী বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) বিয়ে দিন নির্ধারিত ছিল। সেই বিয়ের দাওয়াত দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে শনিবার ভোরে তারা প্রাইভেটকার যোগে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে বিমান অফিস মোড়ে পৌঁছালে গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের একটি বৈদ্যুতিক পিলারে আঘাত করে। এতে প্রাইভেটকারটি দুমড়ে-মুচড়ে গিয়ে আরোহীরা গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কয়েক মিনিটের ব্যবধানে তিনজনের মৃত্যু হয়। এছাড়াও গুরুতর আহত মাশিয়াব ও কালুকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. কাজল কান্তি মল্লিক এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নিহত ডা. তনিমা ইয়াসমিন পিয়াশা এমবিবিএস কোর্স সম্পন্ন করে যশোর আদ-দ্বীন হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন। নিহতদের মরদেহ হাসপাতাল মর্গে রয়েছে। ...

রাজধানীতে পুলিশ সদস্যের আত্মহত্যা

১৭জানুয়ারী,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: রাজধানীর আব্দুল গণি রোডের পুলিশ কন্ট্রোল রুমের ভবনের তিন তলা থেকে লাফিয়ে পড়ে সুধাংশু কুমার বিশ্বাস (২৪) নামের এক পুলিশ কনস্টেবল আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) সকালে সুধাংশু ওই ভবন থেকে লাফ দেন। পরে গুরুতর অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে রাজারবাগ পুলিশ লাইন হাসপাতালে নেয়া হলে বেলা সাড়ে ১১টায় কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। জানা গেছে, সুধাংশু ঝিনাইদহ কালিগঞ্জের খরাসুনি গ্রামের শংকর কুমার বিশ্বাসের ছেলে। ২০১৫ সালে কনেস্টবল হিসেবে পুলিশ বাহিনীতে যোগদান করেন।ডিএমপির রমনা জোনের ডিসি সাজ্জাদুর রহমান জানান, সুধাংশুর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে সুধাংশু আত্মহত্যা করেছেন। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে বিস্তারিত জানা যাবে। ঘটনার তদন্ত চলছে। সুধাংশুর ফুপাত ভাই পিন্টু সরকার জানান, তিন বছর আগে সুধাংশু বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। কিন্তু স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মনোমালিন্যের জেরে ছয় মাস আগে অভিমান করে স্ত্রীর বাবার বাড়ি চলে যান। আর ফেরেননি। এ করণেই সুধাংশু আত্মহত্যা করে থাকতে পারে।...

বাংলাদেশকে পেঁয়াজ কেনার অনুরোধ করলো ভারত

১৫জানুয়ারী,বুধবার,অর্থনীতি ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ভারতের বিভিন্ন প্রদেশের সরকারের চাহিদার ভিত্তিতে পেঁয়াজ আমদানি করার পর বিপদে পড়েছে দেশটির ক্ষমতাসীন নরেন্দ্র মোদি নেতৃত্বাধীন সরকার। কেন্দ্রীয় সরকার পেঁয়াজ আমদানির পর ভারতের বেশিরভাগ রাজ্য সরকার তাদের চাহিদা প্রত্যাহার করে নেয়ায় এ বিপদ দেখা দিয়েছে। সোমবার ভারতের কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার রকিবুল হকের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে দেশীয় চাহিদার ভিত্তিতে আমদানিকৃত পেঁয়াজ রাজ্য সরকাররা কিনতে রাজি না হওয়ায় বাংলাদেশকে কিনে নেয়ার প্রস্তাব দেন ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী। বৈঠকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ভারতের জ্যেষ্ঠ এক সরকারি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে দেশটির ইংরেজি দৈনিক দ্য প্রিন্ট এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা বলেন, ভারত বিদেশ থেকে মোট ৩৬ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানির চুক্তি করেছে। ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশটিতে ১৮ হাজার টন পেঁয়াজ পৌঁছেছে। তিনি বলেন, বিভিন্ন প্রদেশের সরকার আমদানিকৃত পেঁয়াজের মাত্র ৩ হাজার টন নিয়েছে। অবশিষ্ট পেঁয়াজ মুম্বাইয়ের জওহরলাল নেহরু বন্দরে খালাসের অপেক্ষায়। চলতি মাসের শুরুর দিকে ভারতের ভোক্তা কল্যাণবিষয়ক মন্ত্রী রাম বিলাস পাসওয়ান জানান, আমদানিকৃত পেঁয়াজের মহারাষ্ট্র সরকার ১০ হাজার টন, আসাম ৩ হাজার টন, হরিয়ানা ৩ হাজার ৪৮০ টন, কর্ণাটক ২৫০ টন ও ওড়িশ্যা প্রদেশ সরকার ১০০ টন চাহিদা প্রত্যাহার করে নিয়েছে। গত নভেম্বর এবং ডিসেম্বরে পেঁয়াজের দাম প্রতি কেজি ১০০ রুপি পেরিয়ে যাওয়ার পর এসব রাজ্য এই নিত্যপণ্যটি আমদানি করতে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল। এখন তারা আমদানিকৃত পেঁয়াজের উচ্চমূল্য এবং স্বাদের ভিন্নতার অজুহাত দেখিয়ে সেগুলো নিতে রাজি হচ্ছে না। রাজ্যগুলো কেন্দ্রীয় সরকারের আমদানিকৃত পেঁয়াজ নিতে রাজি না হওয়ায় সেগুলো পচে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ওই কর্মকর্তা বলেন, ভারত এসব পেঁয়াজ প্রতি টন ৫০ হাজার থেকে ৫৯ হাজার (৬০০ থেকে ৭০০ ডলারে) টাকায় আমদানি করেছে। এখন বাংলাদেশকে এসব পেঁয়াজ প্রতি টন ৫৫০ থেকে ৫৮০ ডলারে কিনে নেয়ার প্রস্তাব দিয়েছে মোদি সরকার। ওই বৈঠকে বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার রকিবুল হক বলেন, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে চীন থেকে পেঁয়াজ আমদানি করেছে এবং নেপাল হয়ে আরও পেঁয়াজ দেশের বাজারে ঢোকার অপেক্ষায় আছে। সুতরাং বিনামূল্যে পরিবহনসহ ভারতের কিছু প্রণোদনা দেয়া উচিত। প্রায় তিন মাস আগে ভারত সফরে গিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নয়াদিল্লিতে প্রকাশ্যে নরেন্দ্র মোদি সরকারের সমালোচনা করেছিলেন। ওই সময় বাংলাদেশকে না জানিয়ে হঠাৎ পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দেয় ভারত। যে কারণে বাংলাদেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম প্রতি কেজি ২০০ টাকা ছাড়িয়ে যায়। চারদিনের ওই সফরে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, আমি আশা করেছিলাম ভারত পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দেয়ার আগে আমাদের অন্তত জানাবে। আমি রাঁধুনিকে বলেছি, আমার কোনো বিকল্প নেই। সুতরাং পেঁয়াজ ছাড়াই রান্না করতে হবে। আমি অনুরোধ করবো, আপনারা এ ধরনের পদক্ষেপ নেয়ার আগে দয়া করে আমাদের অবগত করবেন। ...

ইসলামী ব্যাংকের ব্যবসায় উন্নয়ন সম্মেলন ২০২০-এর উদ্বোধন

১১জানুয়ারী,শনিবার,অর্থনীতি ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড-এর তিন দিনব্যাপী ব্যবসায় উন্নয়ন সম্মেলন ১০ জানুয়ারি (শুক্রবার) হোটেল রয়েল টিউলিপ সী পার্ল বীচ রির্সোট, কক্সবাজারে উদ্বোধন করা হয়েছে। ব্যাংকের বোর্ড অব ডাইরেক্টরস-এর চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. নাজমুল হাসান, পিএইচডি প্রধান অতিথি হিসেবে এ সম্মেলন উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ব্যাংকের ম্যানেজিং ডাইরেক্টর ও সিইও মো. মাহবুব উল আলম। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ব্যাংকের এক্সিকিউটিভ কমিটির চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মো. সেলিম উদ্দিন, এফসিএ, এফসিএমএ, রিস্ক ম্যানেজমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব:) ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল মতিন, অডিট কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সোলায়মান, এফসিএ, পরিচালক মো. জয়নাল আবেদীন, প্রফেসর ডা. কাজী শহিদুল আলম, সৈয়দ আবু আসাদ, ডা. তানভীর আহমেদ, মো: কামরুল হাসান, প্রফেসর ড. মো. সালেহ জহুর, প্রফেসর ড. মো. ফসিহ উল আলম ও মো. নাছির উদ্দিন, এফসিএমএ এবং শরী আহ সুপারভাইজরি কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুস সামাদ। স্বাগত বক্তব্য দেন অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডাইরেক্টর মুহাম্মদ মুনিরুল মওলা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডাইরেক্টর মুহাম্মদ কায়সার আলী। অনুষ্ঠানে ডেপুটি ম্যানেজিং ডাইরেক্টর, প্রধান কার্যালয়ের উর্ধ্বতন নির্বাহী, জোনপ্রধান ও ৩৫৭ টি শাখার ব্যবস্থাপকগণ অংশ নেন। সম্মেলনে জানানো হয় ৩১ ডিসেম্বর ২০১৯ পর্যন্ত ইসলামী ব্যাংকের আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৪ হাজার ৭৯৮ কোটি টাকা যা গত বছরের তুলনায় ১২ হাজার ৬৯০ কোটি টাকা বেশি। একই সময়ে সাধারণ বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯০ হাজার ১৭৭ কোটি টাকা এবং গ্রাহক সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৪০ লাখ। ২০১৯ সালে ইসলামী ব্যাংক আমদানি, রপ্তানি বাণিজ্য ও রেমিট্যান্স আহরণ করেছে যথাক্রমে ৩৯ হাজার ৯৮৮ কোটি, ২৩ হাজার ৪৪৪ কোটি এবং ৩০ হাজার ৫৪৯ কোটি টাকা। চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. নাজমুল হাসান, পিএইচডি প্রধান অতিথির ভাষণে ২০১৯ সালে ব্যাংকের ব্যবসায়িক সাফল্যে সন্তোষ প্রকাশ করেন। ব্যাংকের অগ্রগতিকে আরও বেশি ত্বরান্বিত করতে অভ্যন্তরীণ গবেষনা ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা আধুনিকায়নের জন্য আহবান জানান। আগামী দিনের অর্থনৈতিক ও ব্যাংকিং সেক্টরের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় তিনি তরুণ নেতৃত্বকে আরো বেশি সুযোগ দেয়ার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন। ইসলামী ব্যাংকের প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক ব্যাংকিং সেবা জনপ্রিয় করতে তিনি ব্যাংক কর্মকর্তাদের প্রতি আহবান জানান। ম্যানেজিং ডাইরেক্টর ও সিইও মো. মাহবুব উল আলম সভাপতির ভাষণে বলেন, ইসলামী ব্যাংক বিগত বছর সমূহের ধারাবাহিকতায় এ বছরও ব্যবসায়িক বিভিন্ন সূচকে প্রথম স্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে সরকার ঘোষিত মুজিববর্ষের ক্ষনগণনার মুহুর্তে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন তথা দেশের অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে অগ্রণী ভুমিকা রাখার দৃঢ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। আর্থিক অন্তর্ভূক্তিমূলক ব্যাংকিয়ের মাধ্যমে বর্তমান সরকারের রুপকল্প ২০২১ ও ২০৪১ বাস্তবায়নেও ইসলামী ব্যাংক অগ্রণী ভুমিকা পালন করছে। তথ্য প্রযুক্তিসমৃদ্ধ পেপারলেস ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করে শহর ও গ্রামের সকল শ্রেণীপেশার মানুষের নিকট ইসলামী ব্যাংকের সেবা পৌঁছে দেয়ার জন্য তিনি সর্বস্তরের কর্মকর্তাদের প্রতি আহবান জানান। অন্যান্য বক্তারা বলেন, ২০১৯ সালে ইসলামী ব্যাংক ১০০০ এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট খোলার মাইলফলক অতিক্রম করেছে। উপশাখা ব্যাংকিংয়ের কার্যক্রমও দ্রুততার সাথে এগিয়ে যাচ্ছে। টানা ৮ বারের মতো বিশ্বব্যাপী এক হাজার ব্যাংকের তালিকায় ইসলামী ব্যাংক নিজেদের ক্রমোন্নতির ধারা অব্যাহত রাখায় বক্তারা ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান। তারা বলেন, বিশ্বসেরা সিবাফি অ্যাওয়ার্ড, স্ট্রংগেস্ট ব্যাংক অ্যাওয়ার্ড, সেরা করদাতা ও বাংলাদেশ ব্যাংক রেমিটেন্স অ্যাওয়ার্ড প্রমাণ করে ইসলামী ব্যাংক তার সক্ষমতা ও উৎকর্ষতা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি করছে। ...

আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত জাতি গঠনে কাজ করছে সরকার: শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি

১৭জানুয়ারী,শুক্রবার,শিক্ষা ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সফল অংশীদার হওয়ার লক্ষ্যে সরকার আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত, সুস্থ এবং সবল একটি জাতি গঠনে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, খেলাধুলার মাধ্যমে শিশুরা শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠে। শিশুদের মেধা বিকাশে সরকার সবসময় পাশে ছিল, আছে এবং থাকবে। শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) কুমিল্লার শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে ৪৯তম শীতকালীন জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা-২০২০ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মুহিবুল হাসান চৌধুরী এমপি। এছাড়া মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিভাগের সচিব মো. মাহাবুব হোসেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মুনশী শাহাবুদ্দীন আহমেদ, কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. আবদুস সালামসহ সব বোর্ড চেয়ারম্যান, কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মো. আবুল ফজল মীর ও জেলার পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম। বাংলাদেশ জাতীয় স্কুল ও মাদ্রাসা ক্রীড়া সমিতির বর্ণাঢ্য আয়োজনে ৬ দিনব্যাপী এই প্রতিযোগীতা শেষ হবে আগামি ২২ জানুয়ারি। কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের ব্যবস্থাপনায় সারা দেশের ৪টি অঞ্চলের মোট ৮০৮ জন প্রতিযোগি ইভেন্টগুলোতে অংশগ্রহণ করবেন। এ্যাথলেটিক্স, হকি, ক্রিকেট, বাস্কেটবল, ভলিবল, ব্যাডমিন্টন ও টেবিল টেনিস প্রতিযোগিতায় বকুল অঞ্চল (চট্টগ্রাম, সিলেট ও কুমিল্লা), গোলাপ অঞ্চল (খুলনা, বরিশাল), পদ্মা অঞ্চল (ঢাকা, ময়মনসিংহ) এবং চাঁপা অঞ্চলের (রাজশাহী, রংপুর) মাধ্যমিকের ছাত্র-ছাত্রীরা অংশগ্রহণ করবেন। কুমিল্লা নগরীর শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়াম, কুমিল্লা জিলা স্কুল, পুলিশ লাইন্স উচ্চ বিদ্যালয় ও নওয়াব ফয়জুন্নেছা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এসব খেলা অনুষ্ঠিত হবে। এ বছর শীতকালীন জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতার কেন্দ্রীয় বাজেট ৪৮ লক্ষ ৩ হাজার টাকা এবং সাংগঠনিক বাজেট ১১ লক্ষ ৪৩ হাজার টাকা।...

এক মাস সব কোচিং সেন্টার বন্ধ থাকবে: শিক্ষামন্ত্রী

১৬জানুয়ারী,বৃহস্পতিবার,শিক্ষা ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা উপলক্ষে আগামী ২৫ জানুয়ারি থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এক মাস দেশের সব কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। আজ বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার আইনশৃঙ্খলা নিরাপত্তা সংক্রান্ত কমিটির সভা শেষে তিনি এ নির্দেশনা দেন। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে যাচ্ছে। এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট ২০ লাখ ৪৭ হাজার ৭৭৯ জন অংশগ্রহণ করবে। তার মধ্যে ১০ লাখ ২২ হাজার ৩৩৬ জন ছাত্র ও ১০ লাখ ২৩ হাজার ৪১৬ জন ছাত্রী রয়েছে। এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে আয়োজন করতে মাসব্যাপী দেশের সব কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ...

গভীর রাতে রাস্তায় ঘুরে ঘুরে কম্বল বিতরণ করলেন সাকিব

১৯জানুয়ারী,রবিবার,ক্রীড়া ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সাকিব আল হাসান, বাংলাদেশ ক্রিকেটের অন্যতম বড় তারকা। বর্তমানে জাতীয় দলের বাইরেও থাকলেও মানবতার সেবা থেকে নিজেকে দূরে রাখেননি তিনি। শীতে যখন গোটা দেশ জবুথবু, তখন গভীর রাতে রাস্তায় ঘুরে ঘুরে শীতার্তদের গায়ে কম্বল জড়িয়ে দিলেন বিশ্বের অন্যতম সেরা এই অলরাউন্ডার। সম্প্রতি নিজ জেলা মাগুরার রাস্তায় রাতের আঁধারে ঘুরে ঘুরে ফুটপাতে ঘুমন্ত মানুষদের গায়ে কম্বল জড়িয়ে দেন দেশসেরা এই অলরাউন্ডার, নেন তাদের খোঁজ-খবর। সাকিবের এই উদ্যোগকে এরই মধ্যে অনেকে স্বাগত জানিয়েছে। প্রসঙ্গত, জুয়াড়ির কাছ থেকে ম্যাচ পাতানোর তথ্য পেয়েও গোপন করায় এক বছরের জন্য সব ধরণের ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ হন সাকিব। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের জার্সি গায়ে ২২ গজ মাতাচ্ছেন সাকিব। ২০০৬ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হারারেতে একদিনের ক্রিকেটে অভিষেক হওয়ার পর অদ্যাবধি খেলেছেন ২০৬টি ওয়ানডে ম্যাচ। যেখানে রান করেছেন ৬ হাজার ৩২৩। বল হাতে নিয়েছেন ২৬০ উইকেট। ওয়ানডের পাশাপাশি ক্রিকেটের বাকি দুই ফরম্যাট টি২০ ও টেস্টেও তিনি সমানভাবে উজ্জ্বল। এখন পর্যন্ত ৫৬ টেস্টে অংশ নিয়ে করেছেন তিন হাজারের বেশি রান। পাশাপাশি ঝুলিতে পুরেছেন ২১০ উইকেট। আর টি২০ তে ৭৬ ম্যাচ খেলা সাকিবের রান ১ হাজার ৮৯৪। বিপরীতে উইকেট শিকার করেছেন ৯২টি। ...

যে কারণে পাকিস্তান যাচ্ছেন না মুশফিক

১৮জানুয়ারী,শনিবার,ক্রীড়া ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: পাকিস্তান সফরে যাচ্ছেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন জাতীয় দলের উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম। মুশফিকুর রহিম বৃহস্পতিবার রাতে প্রধান নির্বাচককে ফোন করে জানান যে, পাকিস্তান সফরে যেতে চান না তিনি। তবে কী কারণে মুশফিক পাকিস্তান যাচ্ছেন না তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন। শুক্রবার বিপিএলের ফাইনাল শেষে মুশফিক বলেন, কারণটা পারিবারিক। বিসিবি এটা মেনে নিয়েছে (না যাওয়ার সিদ্ধান্ত)। অফিসিয়ালি চিঠিও দিয়েছি। পরিবারে যারা আছেন, তারা ভয়ে শঙ্কিত। এমন অবস্থায় আমি মানসিকভাবে ঠিক থেকে গিয়ে খেলতে পারিনা। তিনি বলেন, বাংলাদেশ দলের একটা সিরিজে বিশ্রাম নিতে হবে, এটার চেয়ে বড় পাপ আমার জন্য হতে পারে না। আমার কিন্তু সুযোগ ছিল পিএসএলের মতো বড় টুর্নামেন্টে খেলার। প্রথমেই না করে দিয়েছি। কারণ, জানি পুরো পিএসএল পাকিস্তানে হবে। তখনই বলেছি যেহেতু পরিবারও আমাকে অনুমতি দিচ্ছে না। পাকিস্তানের অবস্থা হয়ত আগের চেয়ে অনেক বেটার। আরও দুই-তিনটা বছর ধীরে ধীরে যদি অন্য দেশও যায়, তখন হয়ত আত্মবিশ্বাস আসবে। মুশফিক আরও বলেন, পাকিস্তানে আগেও সফর করেছি। ২০০৮ সালে সন্ত্রাসী হামলার আগে। পাকিস্তান ক্রিকেটীয় সুযোগ সুবিধার দিক থেকে অনেক ভালো একটা জায়গা। উপমহাদেশের ক্রিকেট বিচারে অসাধারণ। উইকেটও অনেক ভালো। অবশ্যই অনেক মিস করব। যদি আগামী ২-৩ বছর ধারাবাহিকভাবে পাকিস্তানের অবস্থা ভালো থাকে, তাহলে না যাওয়ার কোনো কারণ থাকবে না।...

মাহিনের- বর্ডার লাইন

১৯জানুয়ারী,রবিবার,বিনোদন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: মডেল, অভিনেত্রী ও উপস্থাপিকা মাহিন সাবিন রাফী। ছোটবেলা থেকেই নাচ, গান আর অভিনয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত মাহিন। নাচ শিখেছেন তিনি সালাহ উদ্দিন সুজনের কাছে আর সঙ্গীতে তালিম নিয়েছেন মনোঞ্জন দাসের কাছে। অভিনয়ে তার পথচলাটা শুরু আজ থেকে প্রায় এক দশক আগে নাগরিক নাট্যাঙ্গনর সাথে সম্পৃক্ত হয়ে। এই দলের হয়ে তিনি মঞ্চে শামুক কাল নাটকে অভিনয় করেছেন। পাশাপাশি একসময় এটিএন বাংলা, মোহনা টিভি, জিটিভিতে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের উপস্থাপনা করে উপস্থাপক হিসেবেও বেশ প্রশংসা পান। তবে ২০১৫ সালে উচ্চতর শিক্ষার জন্য বাবার কর্মস্থল প্যারিসে চলে যান তিনি। সেখানেই পড়াশোনার পাশাপাশি জড়িয়ে আছেন সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সাথে। তারই ধারাবাহিকতায় কিছুদিন আগেই প্যারিসে বর্ডার লাইন শিরোনামের একটি চলচ্চিত্রে কাজ করার ব্যাপারে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। নয়ন মামুনের পরিচালনায় নির্মিত হতে যাচ্ছে চলচ্চিত্রটি। এদিকে গতকাল (১৮ জানুয়ারি) দেশে ফিরেছেন এই অভিনেত্রী। দেশে ফিরে তিনি বললেন,'আজ ১৯ জানুয়ারি আমার জন্মদিন। নিজের জন্মদিনটা প্রিয় দেশে সবার সঙ্গে করতেই একটু আগেই চলে এলাম। আমি এবার দু'মাস দেশে থাকবো। এরমধ্যে কিছু কাজও করব। আশা করছি আবারও দর্শকদের ভালোবাসায় সিক্ত হতে পারবো আমি। উল্লেখ্য, সিলেটের মেয়ে মাহিন অভিনীত দেবাশীষ চক্রবর্তী পরিচালিত তুই যে আমার ধারাবাহিকটি বেশ আলোচিত হয়েছিল। অন্যদিকে শ্যামল মাওলার বিপরীতে তাজু কামরুলের নির্দেশনায় 'সংকল্প' নামে আর্ট ফিল্মেও মাহিনের অভিনয় বেশ প্রশংসিত হয়। ...

মূকাভিনেতা পার্থ প্রতিম মজুমদারের জন্মদিন আজ

১৮জানুয়ারী,শনিবার,বিনোদন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দেশের প্রখ্যাত মূকাভিনয় শিল্পী পার্থ প্রতিম মজুমদারের জন্মদিন আজ। ১৯৫৪ সালের আজকের এইদিনে পাবনা জেলার কালাচাঁদপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। মূকাভিনয় বা মাইম শিল্পী হিসেবে দেশের পাশাপাশি বিশ্বেও তিনি প্রতিষ্ঠিত। সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে ফ্রান্স সরকারের পক্ষ থেকে শেভালিয়র উপাধি পেয়েছেন তিনি। পার্থ প্রতিম মজুমদারের মূল নাম প্রেমাংশু কুমার বিশ্বাস। তার বাবার নাম হিমাংশু কুমার বিশ্বাস ও মা সুশ্রিকা বিশ্বাস। কণ্ঠশিল্পী বাপ্পা মজুমদারের বাবা পাবনার জমিদার ও প্রখ্যাত উচ্চাঙ্গসঙ্গীতশিল্পী ওস্তাদ বারীণ মজুমদার ছিলেন তার দুঃসম্পর্কের আত্মীয়। মুক্তিযুদ্ধের সময় বারীণ মজুমদারের মেয়ে হারিয়ে যায়। তখন মেয়ে-হারানো বারীণ মজুমদারের অনুরোধে পার্থ ঢাকায় আসেন। তখন থেকেই তিনি পার্থ প্রতিম মজুমদার নামে পরিচিত। পার্থের পড়াশোনা শুরু বাড়ি থেকে খানিক দূরে জুবিলী স্কুলে। প্রাথমিক শিক্ষা শেষের পর বড় ভাইয়েরা তাকে কাকা শুধাংশু কুমার বিশ্বাসের তত্ত্বাবধানে কলকাতা শহর থেকে ২২ কিলোমিটার দূরে চন্দননগরে পাঠিয়ে দেন। সেখানে ড. শীতল প্রসাদ ঘোষ আদর্শ বিদ্যালয়ে পড়ার সময় পরিচয় হয় মূকাভিনয় শিল্পী যোগেশ দত্তের সঙ্গে। পার্থ ১৯৬৬-১৯৭২ সাল পর্যন্ত কলকাতার যোগেশ দত্ত মাইম একাডেমিতে শিক্ষা গ্রহণ করেন। ১৯৭২ সালে ভারতের চন্দননগর থেকে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। ১৯৭৬ সালে ঢাকা মিউজিক কলেজ থেকে স্নাতক হন। ১৯৮১ ও ১৯৮২ সালে মডার্ন কর্পোরাল মাইমের উপর ইকোল দ্য মাইমএ শিক্ষা গ্রহণ করেন। এরপর ১৯৮২-১৯৮৫ সাল পর্যন্ত বিখ্যাত মূকাভিনয় শিল্পী মারসেল মার্সোর কাছে ইকোল ইন্টারন্যাশনালি দ্য মাইমোড্রামা দ্য প্যারিস এ মাইমের উপর উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ করেন। পার্থ প্রতিম মজুমদার পৃথিবীর অনেক দেশে মূকাভিনয় প্রদর্শন করেন। ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রথমবারের মতো মূকাভিনয় প্রদর্শন করেন। পরে ১৯৭৫-১৯৮১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে প্রায় ৪৮ বার মাইম প্রদর্শন করেন। এ ছাড়া ঢাকার ড্রামাটিক আর্টস স্কুলে মাইমের শিক্ষকতার পাশাপাশি বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন থিয়েটার গ্রুপের ছেলেমেয়েদের নিয়ে কর্মশালা পরিচালনা করেন। ১৯৮২-১৯৮৫ সালে তিনি প্যারিসের বিভিন্ন থিয়েটারে ২৬টি শো করেন। এ ছাড়া লন্ডনে ২টি, গ্রিসে ২টি ও স্পেনে ২টি শো করেন। ১৯৮৪ সালের জুলাই মাসে মারসেল মার্সোর সঙ্গে আমেরিকা যান এবং সেখানে মার্সোর নির্দেশনায় ইকোল ইন্টারন্যাশনাল দ্য মাইমোড্রামা দ্য প্যারিস-মারসেল মার্সো নামে একটি শো করেন। ১৯৮৫ সালের জুলাইয়ে মারসেল মার্সোর কোম্পানি ও থিয়েটার দ্য লা স্পেহয়ার এর সঙ্গে যৌথভাবে ইতালিতে মাসব্যাপী লে কারগো দ্য ক্রেপুসকুল ও আবিম নামে দুটি মাইমোড্রামা প্রদর্শন করেন। ১৯৮৬ সালে মারসেল মার্সোর তত্ত্বাবধানে পার্থ প্রতিম মজুমদার মাইমের তত্ত্ব বিষয়ক গবেষণা কাজের জন্য চুক্তিবদ্ধ হন। এ ছাড়া তিনি বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মাইম প্রদর্শন করেন। তার মূকাভিনয় নিয়ে কিছু ভিডিও নির্মিত হয়েছে। পার্থ বিজ্ঞাপন ও চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন। বর্তমানে তিনি ফ্রান্সে বসবাস করছেন। পার্থ প্রতিম মজুমদার অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা লাভ করেছেন। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল- কলকাতা যোগেশ মাইম একাডেমি থেকে মাস্টার অব মাইম উপাধি (১৯৮৭), একক মূকাভিনেতা হিসেবে এথেন্স, নিউইয়র্ক, ডেনমার্ক, সুইডেনসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ (১৯৮৮), লন্ডনে অনুষ্ঠিত বেঙ্গলি লেটারেচার ফেস্টিভালে একমাত্র বাঙালী অতিথি শিল্পী (১৯৮৯), বার্দোতে ও ননত শহরের মেয়র কর্তৃক মেডেল প্রাপ্তি (১৯৯১), নিউইয়র্কের ফোবানা সম্মেলনে বিশেষ সম্মাননা (২০০০), ফ্রান্সের জাতীয় থিয়েটারের মোলিয়ার এ্যাওয়ার্ড (২০০৯), একুশে পদক (২০১০) ও ফ্রান্স সরকারের শেভালিয়র (নাইট) উপাধি (২০১১)।...

ঘুরে আসুন গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকত

মো:ইরফান চৌধুরী,পর্যটন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বাংলাদেশের চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় নদীর মোহনায় অবস্থিত গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকত। এই সৈকতটি স্থানীয় মানুষজনের কাছে মুরাদপুর সৈকত নামেই বেশি পরিচিত। গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকতটি সীতাকুণ্ড জেলার সীতাকুণ্ড বাজার থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। প্রকৃতি ও গঠনগত দিক থেকে এই সৈকতটি আমাদের দেশের অন্যান্য সমুদ্র সৈকত থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। এর একদিকে যেমন দিগন্ত জোড়া জলরাশি, আর অন্যদিকে কেওড়া বন দেখা যায়। কেওড়া বনের মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া খালের চারদিকে কেওড়া গাছের শ্বাসমূলগুলো স্পষ্ট দেখা যায়। এই বন সমুদ্রের অনেকটা গভীর পর্যন্ত চলে গেছে। এই সৈকতের পরিবেশ অনেকটা সোয়াম্প ফরেস্ট ও ম্যানগ্রোভ বনের মত। পুরো সৈকত জুড়ে সবুজ গালিচার বিস্তীর্ণ ঘাস একে আর সব সমুদ্র সৈকত থেকে করে তুলেছে ভিন্ন। এই সৈকতের সবুজের মাঝ দিয়ে এঁকে বেঁকে চলে গেছে সরু নালা। নালাগুলো জোয়ারের সময় পানিতে ভরে ওঠে। আকাশের উড়ন্ত পাখি, সমুদ্রের ঢেউ আর বাতাসের মিতালীর অনন্য অবস্থান দেখা যায় এই গুলিয়াখালি সমুদ্র সৈকতে। অল্প পরিচিত এই সৈকতে মানুষজনের আনাগোনা কম বলে আপনি পাবেন নিরবিলি পরিবেশ। সাগরের মতো অতটা ঢেউ বা গর্জন না থাকলেও এই নিরবিলি পরিবেশের গুলিয়াখালি সমুদ্র সৈকত আপনার কাছে ধরা দিবে ভিন্নভাবেই। চাইলে জেলেদের বোটে সমুদ্রে ঘুরে আসতে পারেন। এক্ষেত্রে দরদাম করে বোট ঠিক করে নিতে হবে। যেভাবে যাবেন: চট্রগ্রামের অলংকার মোড়, এঁকে খান মোড়, কদমতলী থেকে সীতাকুণ্ড যাওয়ার বাস ও মেক্সি পাওয়া যায়। পছন্দ মতো জায়গা থেকে যেতে পারবেন সীতাকুণ্ড বাজারে। এরপর সীতাকুন্ডের বাস স্ট্যান্ড ব্রীজের নিচ থেকে সরাসরি সিএনজি/অটো নিয়ে গুলিয়াখালি বীচের বাঁধ পর্যন্ত চলে যেতে পারবেন। যাওয়া-আসা সহ রিজার্ভ করে নিতে পারেন। সন্ধ্যা হয়ে গেলে অনেক সময় ফিরে আসার সময় সিএনজি/অটো পাওয়া যায় না। ...

শত বছরের পুরোনো দুর্গাবাড়ী

বাঙালি হিন্দু সমাজের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয়া দুর্গোৎসব। আর এই পুজোয় আপনিও ঘুরে আসতে পারেন সিলেটের শত বছরের পুরোনো দুর্গাবাড়ী থেকে। আর খরচের কথা ভাবছেন, মাত্র ৮০০ টাকা।শোনা যায় কলকাতার পাথরঘাটা নামক স্থানের এক সম্ভ্রান্ত জমিদার এই দুর্গাবাড়ী প্রতিষ্ঠান করেন। এই ব্যাপারে ব্রজেন্দ্র নারায়ণ চৌধুরী সম্পাদিত স্মৃতি প্রতিতি নামক বই এ উল্লেখ আছে। ব্রজেন্দ্র নারায়ণ চৌধুরী ছিলেন সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের প্রতিষ্ঠাতা। স্বদেশি আন্দোলনে অনেক বীর এখানে এসে মায়ের পায়ে নিজের রক্ত দিয়ে প্রতিজ্ঞা করতেন নিজের আদর্শ থেকে এক চুলও বিচ্যুত হবেন না। স্বদেশকে পরাধীনতা থেকে মুক্ত করেই তবে ঘরে ফিরবেন।টিলার ওপর মূল মন্দির অবস্থিত। অর্ধশত সিঁড়ি ডিঙিয়ে আপনাকে পৌঁছাতে হবে মূল মন্দিরে। মূল মন্দিরে স্থাপিত দুর্গা প্রতিমা শত বছর ধরে পুজিত হয়ে আসছেন। পাশেই আছে আপনার বসার জন্য জায়গা। এর সাথেই আছে শিব মন্দির। টিলার থেকে দূরের দৃশ্য আপনাকে অভিভূত করবে। পূজার সময় ধূপ-ধূনার মোহনীয় গন্ধ আপনাকে নিয়ে যাবে এক অন্য জগতে।কীভাবে যাবেন,দুর্গাবাড়ী মন্দির যেতে হলে আপনাকে বাস/টেনে করে আসতে হবে সিলেট শহরে। প্রতিদিন ঢাকা থেকে সিলেটের উদ্দেশে বাস/ট্রেন ছাড়ে, ভাড়া পড়বে ৩২০ টাকা থেকে এক হাজার ২০০ টাকা। সিলেট শহরের যেকোনো প্রান্ত থেকে দুর্গাবাড়ী যাব বললেই আপনাকে নিয়ে যাবে শত বছরের পুরোনো দুর্গাবাড়িতে। রিকশা/সিএনজি ভাড়া নেবে ৮০ থেকে ১৫০ টাকা।...

জাতির পিতার মহাপ্রত্যাবর্তন

১০জানুয়ারী ,শুক্রবার,মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন চৌধুরী,নিউজ একাত্তর ডট কম: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আজ। ১৯৭২ সালের এই দিনে স্বাধীন স্বভূমে পা রেখেছিলেন স্বাধীনতার স্বপ্নদ্রষ্টা। কোটি বাঙালির আবেগমথিত এই দিনটি এবার হাজির হয়েছে অন্য মহিমায়। আগামী ১৭ই মার্চ জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী। বেঁচে থাকলে শতবর্ষে পা রাখতেন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি। বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক শততম জন্মবার্ষিকীকে স্মরণীয় করে রাখতে বছরজুড়ে পালিত হবে নানা কর্মসূচি। বছরটিকে ঘোষণা করা হয়েছে মুজিববর্ষ হিসেবে। শুধু কর্মসূচিতেই নয়, মুজিববর্ষে আওয়ামী লীগ ও সরকার জনগণের প্রতি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানাতে চায় বঙ্গবন্ধুর প্রতি। দল এবং সরকারের পক্ষ থেকে এমন প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলা হচ্ছে এই বছরে কর্মসূচি পালনের পাশাপাশি দল এবং সরকারকে আরো জনবান্ধব করার উদ্যোগ নেয়া হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, একটি জাতির দ্রষ্টা এবং স্থপতি হিসেবে বঙ্গবন্ধুকে এখনো পরিপূর্ণ সম্মান দেয়া যায়নি। সকল বিতর্কের ঊর্ধ্বে রেখে জাতির পিতা হিসেবে তাকে সর্বোচ্চ স্থানে প্রতিষ্ঠা করাই হওয়া উচিত জন্মশতবার্ষিকীর অঙ্গীকার। বিশ্লেষকদের মূল্যায়ন, মাত্র ১৩১৫ দিনের মেয়াদকালে বঙ্গবন্ধু অনেক কিছুরই সূচনা করেছিলেন। একটি যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ গঠনে নিয়েছিলেন সময়উপযোগী নানা উদ্যোগ। তিনি তার কাজের মাধ্যমে একটি কল্যাণ রাষ্ট্র গড়ার সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে ছিলেন। মানুষের জন্য একটি রাষ্ট্র গড়তে চেয়েছিলেন। সমাজে বিদ্যমান বৈষম্য দূর করতে চেয়েছিলেন। অনিয়ম দুর্নীতির অচলায়ন ভাঙার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। রাজনৈতিক বিভেদ-বৈষম্য দূর করতে চেয়েছিলেন। স্বল্প সময়ে তিনি যে স্বপ্নের সিঁড়ির ভিত্তি গড়েছিলেন এতোদিনে তা কতোদূর পৌঁছেছে এটিই এখন মূল্যায়নের বড় বিষয়। দীর্ঘ সংগ্রাম আর পিচ্ছিল পথ পাড়ি দিয়ে বঙ্গবন্ধু জাতিকে মুক্তির মোহনায় একত্রিত করতে পেরেছিলেন। স্বাধীনতার আকাঙ্খা জাগিয়ে তুলেছিলেন প্রাণে প্রাণে। অবিসংবাদিত এ নেতার ডাকে তাই মরণপণ যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিল স্বাধীনতাকামী মানুষ। পাকিস্তানের কারাগারে থাকা বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে মুক্তিযুদ্ধ ধীরে ধীরে ধাবিত হয়েছে চূড়ান্ত পর্বে। নয় মাসের সংগ্রাম শেষে উদিত হয় স্বাধীনতার লাল সূর্য। ১৯৭২ সালে দেশে ফিরে বঙ্গবন্ধু দেশগড়ার যে কাজ শুরু করেছিলেন তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টের কালো রাতে বিভৎস হত্যাকাণ্ডে থমকে যায় জনকের স্বপ্নযাত্রা। বঙ্গবন্ধুকে সেদিন স্বপরিবারে হত্যা করে ঘাতকরা পৃথিবীর নৃশংসতম ঘটনার অবতারণা করে। কিন্তু তারা যে উদ্দেশ্য নিয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটায় তা সফল হয়নি। মাঝে কিছু ব্যত্যয় হলেও বঙ্গবন্ধুর দেখানো পথ ধরেই এগোচ্ছে বাংলাদেশ। বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু সময় এবং সীমানা পেরিয়ে পরিণত হয়েছেন মহাকালের মহান নেতায়। ঐতিহাসিক ৭ই মার্চে দেয়া তার ভাষণ পৃথিবীর ইতিহাসে সর্বকালের সেরা ভাষণের একটি। জন্মশতবর্ষে এই মহান নেতা নতুন মহিমায় উদ্ভাসিত হবেন জাতীয় জীবনে। মুজিব বর্ষের নানা কর্মসূচিতে তাকে স্মরণ করবেন বিশ্বনেতারা। আজ থেকেই শুরু হবে মুজিব বর্ষের ক্ষণ গণনা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কেন্দ্রীয়ভাবে বিকালে তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দরে মুজিব বর্ষের কাউন্টডাউন অনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। এরপর প্রতিটি জেলা, উপজেলা ও সকল পাবলিক প্লেসে একইসঙ্গে কাউন্টডাউন শুরু হবে। সারা দেশের ১২টি সিটি করপোরেশনের ২৮টি পয়েন্টে, বিভাগীয় শহরগুলো, ৫৩ জেলা ও দুই উপজেলা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ রাজধানীতে মোট ৮৩টি পয়েন্টে কাউন্টডাউন ঘড়ি বসানো হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী উদযাপনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জাতীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে একটি বাস্তবায়ন কমিটিও গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার, প্রধান বিচারপতি, সংসদের বিরোধীদলীয় নেতাসহ রাজনীতিক ও বিভিন্ন পেশার বিশিষ্টজনরা। প্রধানমন্ত্রীর সাবেক মুখ্য সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরীকে জাতীয় কমিটির সদস্য সচিবের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এছাড়া জাতীয় অধ্যাপক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে গঠিত হয়েছে বাস্তবায়ন কমিটি। জাতির পিতার শততম জন্মবার্ষিকী স্মরণীয় করে রাখতে সরকারের পাশাপাশি দলীয়ভাবেও কর্মসূচি নিয়েছে আওয়ামী লীগ। বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে আতশবাজির মাধ্যমে শুরু হবে মুজিব বর্ষের ক্ষণ গণনা। এছাড়া দেশ-বিদেশে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, স্বল্পদৈর্ঘ চলচ্চিত্র, প্রমাণ্যচিত্র প্রদর্শনী, বঙ্গবন্ধুর নামে আন্তর্জাতিক পুরস্কার প্রবর্তন, গ্রিন ফ্যাক্টরি অ্যাওয়ার্ড এবং হাতে হাত রেখে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের প্রতিকৃতি গড়ে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড হিসেবে অন্তর্ভুক্তকরণ। এছাড়া কনসার্টসহ নানা আনন্দ আয়োজন ও রক্তদানসহ সেবাধর্মী কর্মসূচি থাকবে বছরজুড়ে। ১৭ই মার্চ মূল অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান এবং বঙ্গবন্ধুর সময়ের রাজনৈতিক, সামাজিক ব্যক্তিত্বকে। তাদের মধ্যে আছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ড. মাহাথির মোহাম্মদ, ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগিয়েল ওয়াংচুক, জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি মুন, জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেল, কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোসহ বিশ্বনেতারা। জন্মশতবার্ষিকীর মূল আয়োজন শুরু হবে ১৭ই মার্চ সূর্যোদয়ের সময়ই। সকালে ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন স্থানে সেনাবাহিনীর তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে শুরু হবে মূল অনুষ্ঠান। এদিন ঢাকা ও গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় একই সঙ্গে অনুষ্ঠান শুরু হবে। সকালে টুঙ্গিপাড়ায় থাকবে জাতীয় শিশু দিবসের নানান আয়োজন। এরপর বিকালে রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে হবে মূল অনুষ্ঠান। প্রকাশ করা হবে জন্মশতবার্ষিকীর বিভিন্ন স্যুভেনির, স্মারক বক্তৃতা, দেশি-বিদেশি শিল্পীদের সমন্বয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সারা দেশেই এদিন আয়োজন করা হবে আনন্দ RAILLY। সাজানো হবে গুরুত্বপূর্ণ সব স্থাপনা, সড়কদ্বীপ। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ১৭ই মার্চের মূল আয়োজনে থাকবেন বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান, বঙ্গবন্ধুর সমসাময়িক সময়ের রাজনৈতিক, সামাজিক ব্যক্তিত্বরা। স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আজ: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আজ। পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে ১৯৭২ সালের এদিন বেলা ১টা ৪১ মিনিটে জাতির এই অবিসংবাদিত নেতা সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে প্রত্যাবর্তন করেন। তিনি পাকিস্তান থেকে প্রথমে লন্ডন যান। তারপর দিল্লী হয়ে ঢাকায় ফেরেন। ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চের প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করে বঙ্গবন্ধু সর্বস্তরের জনগণকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানান। স্বাধীনতা ঘোষণার অব্যবহিত পর পাকিস্তানের সামরিক শাসক ইয়াহিয়া খানের নির্দেশে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে আটক রাখা হয়। স্বাধীনতাকামী এই নেতাকে কারাগারে তাকে হত্যার ভয় দেখানো হয়। কিন্তু তিনি কিছুতেই দমে যাননি। আপসহীন এ নেতা অটল ছিলেন বাংলাদেশকে স্বাধীন করার প্রতিজ্ঞায়। ১৯৭২ সালের ৭ই জানুয়ারি ভোর রাতে বঙ্গবন্ধুকে কারাগার থেকে মুক্ত করে বিমানে পাঠিয়ে দেয়া হল লন্ডনে। তখন তার সঙ্গে ড. কামাল হোসেনও ছিলেন। সকাল সাড়ে ৬টায় তারা পৌঁছান লন্ডনের হিথরো বিমানবন্দরে। বেলা ১০টার পর থেকে তিনি কথা বলেন, ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী এডওয়ার্ড হিথ, তাজউদ্দিন আহমদ ও ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীসহ অনেকের সঙ্গে। ব্রিটেনের বিমান বাহিনীর একটি বিশেষ বিমানে করে পরের দিন ৯ই জানুয়ারি দেশের পথে যাত্রা করেন বঙ্গবন্ধু। ১০ই জানুয়ারি দিল্লিতে অবতরণ করে ওই বিমান। সেখানে ভারতের রাষ্ট্রপতি ভিভি গিরি, প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী, পুরো মন্ত্রিসভা, রাজনৈতিক দলের নেতারা রাজকীয় অভ্যর্থনা জানান বঙ্গবন্ধুকে। বঙ্গবন্ধু ঢাকা এসে পৌঁছেন ১০ই জানুয়ারি দুপুরের পর। ১৬ ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয়ের পর বাঙালি জাতি বঙ্গবন্ধুকে প্রাণঢালা সংবর্ধনা জানাতে অধির অপেক্ষায় ছিল। আনন্দে আত্মহারা লাখ লাখ মানুষ ঢাকা বিমান বন্দর থেকে তৎকালীন রেসকোর্স ময়দান (সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) পর্যন্ত তাকে স্বতঃস্ফূর্ত সংবর্ধনা জানায়। লাখো মানুষের ভিড় ঠেলে বঙ্গবন্ধুকে বহন করা গাড়ি বহর উদ্যানে পৌঁছতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। বিকাল পাঁচটায় রেসকোর্স ময়দানে প্রায় ১০ লাখ লোকের উপস্থিতিতে তিনি ভাষণ দেন। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দাঁড়িয়ে বঙ্গবন্ধু তার ঐতিহাসিক ধ্রুপদি ভাষণে বলেন, যে মাটিকে আমি এত ভালবাসি, যে মানুষকে আমি এত ভালবাসি, যে জাতিকে আমি এত ভালবাসি, আমি জানতাম না সে বাংলায় আমি যেতে পারবো কিনা। আজ আমি বাংলায় ফিরে এসেছি বাংলার ভাইয়েদের কাছে, মায়েদের কাছে, বোনদের কাছে। বাংলা আমার স্বাধীন, বাংলাদেশ আজ স্বাধীন। বঙ্গবন্ধু তার এই স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে আখ্যা দিয়েছিলেন অন্ধকার থেকে আলোপথে যাত্রা হিসেবে। এদিকে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়, বঙ্গবন্ধু ভবন ও সারাদেশে সংগঠনের সকল কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন। সকাল ৭ টায় বঙ্গবন্ধু ভবনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে প্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন। এছাড়া জন্মশতবর্ষ পালনের ক্ষণ গণনা কর্মসূচিতেও অংশ নেবেন দলের নেতারা।...

মহৎ হৃদয়ের অধিকারী ছিলেন বঙ্গবন্ধু

বিশেষ প্রতিবেদন,নিউজ একাত্তর ডট কম: (মহৎ গুণ না থাকলে একটা জাতিকে যে নেতৃত্ব দেওয়া যায় না, তার প্রকৃত উদাহরণ স্বয়ং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। স্কুলের ছাত্রজীবন থেকেই তিনি মহৎ কাজের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ছোটবেলায় মানুষের দুঃখকষ্টে পাশে দাঁড়াতে কখনই কার্পণ্য করেননি বঙ্গবন্ধু। এমনই কয়েকটি ঘটনা যা বঙ্গবন্ধু স্বয়ং লিখেছেন নিজের ডায়রিতে। যা পরবর্তীতে অসমাপ্ত আত্মজীবনী গ্রন্থে প্রকাশ পেয়েছে। এই গ্রন্থ থেকে পাঠকদের উদ্দেশে তা তুলে ধরা হলো...)। ১৯৩৬ সালে আবার আমার চক্ষু খারাপ হয়ে পড়ে। গ্লুকোমা নামে একটা রোগ হয়। ডাক্তারদের পরামর্শে আব্বা আমাকে নিয়ে আবার কলকাতায় রওয়ানা হলেন চিকিৎসার জন্য। এই সময় আমি মাদারীপুর হাইস্কুলে সপ্তম শ্রেণীতে ভর্তি হয়েছিলাম লেখাপড়া করার জন্য। দশ দিনের মধ্যে দুইটা চক্ষুই অপারেশন করা হল। আমি ভাল হলাম। তবে কিছুদিন লেখাপড়া বন্ধ রাখতে হবে, চশমা পরতে হবে। তাই ১৯৩৬ সাল থেকেই চমশা পরছি। ১৯৩৭ সালে আবার আমি লেখাপড়া শুরু করলাম। এবার আর পুরানো স্কুলে পড়ব না, কারণ আমার সহপাঠীরা আমাকে পিছনে ফেলে গেছে। আমার আব্বা আমাকে গোপালগঞ্জ মিশন স্কুলে ভর্তি করিয়ে দিলেন। আমার আব্বাও আবার গোপালগঞ্জ ফিরে এলেন। এই সময় আব্বা কাজী আবদুল হামিদ এমএসসি মাস্টার সাহেবকে আমাকে পড়াবার জন্য বাসায় রাখলেন। তাঁর জন্য একটা আলাদা ঘরও করে দিলেন। গোপালগঞ্জের বাড়িটা আমার আব্বাই করেছিলেন। মাস্টার সাহেব গোপালগঞ্জে একটা মুসলিম সেবা সমিতি গঠন করেন, যার দ্বারা গরিব ছেলেদের সাহায্য করতেন। মুষ্টি ভিক্ষার চাল উঠাতেন সকল মুসলমান বাড়ি থেকে। প্রত্যেক রবিবার আমরা থলি নিয়ে বাড়ি বাড়ি থেকে চাউল উঠিয়ে আনতাম এবং এই চাল বিক্রি করে তিনি গরিব ছেলেদের বই এবং পরীক্ষার ও অন্যান্য খরচ দিতেন। ঘুরে ঘুরে জায়গিরও ঠিক করে দিতেন। আমাকেই অনেক কাজ করতে হত তাঁর সাথে। হঠাৎ যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা যান। তখন আমি এই সেবা সমিতির ভার নেই এবং অনেক দিন পরিচালনা করি। আর একজন মুসলমান মাস্টার সাহেবের কাছেই টাকা পয়সা জমা রাখা হত। তিনি সভাপতি ছিলেন আর আমি ছিলাম সম্পাদক। যদি কোন মুসলমান চাউল না দিত আমার দলবল নিয়ে তার উপর জোর করতাম। ১৮৪৩ সালে দুর্ভিক্ষ শুরু হয়েছে। গ্রাম থেকে লাখ লাখ লোক শহরের দিকে ছুটেছে স্ত্রী-পুত্রের হাত ধরে। খাবার নাই, কাপড় নাই। ইংরেজ যুদ্ধের জন্য সমস্ত নৌকা বাজেয়াপ্ত করে নিয়েছে। ধান, চাল সৈন্যদের খাওয়াবার জন্য গুদাম জব্দ করেছে। যা কিছু ছিল ব্যবসায়ীরা গুদামজাত করেছে। ফলে এক ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এই সময় শহীদ সাহেব লঙ্গরখানা খোলার হুকুম দিলেন। আমিও লেখাপড়া ছেড়ে দুর্ভিক্ষপীড়িতদের সেবায় ঝাঁপিয়ে পড়লাম। অনেকগুলি লঙ্গরখানা খুললাম। দিনে একবার করে খামার দিতাম। মুসলিম লীগ অফিসে, কলকাতা মাদ্রাসায় এবং আরও অনেক জায়গায় লঙ্গরখানা খুললাম। দিনভর কাজ করতাম, আর রাতে কোনোদিন বেকার হোস্টেলে ফিরে আসতাম, কোনদিন লীগ অফিসের টেবিলে শুয়ে থাকতাম। রিলিফের কাজ করার জন্য গোপালগঞ্জ ফিরে আসি। গোপালগঞ্জ মহকুমার একদিকে যশোর জেলা, একদিকে খুলনা জেলা, আর একদিকে বরিশাল জেলা। বাড়িতে এসে দেখি ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। মানুষ সবই প্রায় না খেতে পেয়ে কঙ্কাল হতে চলেছে। গোপালগঞ্জের মুসলমানরা ব্যবসায়ী এবং যথেষ্ট ধান হয় এখানে। খেয়ে পরে মানুষ কোনোমতে চলতে পারত। অনেকেই আমাকে পরামর্শ দিল, যদি একটা কনফারেন্স করা যায় আর সোহরাওয়ার্দী সাহেব ও মুসলিম লীগ নেতাদের আনা যায় তবে চোখে দেখলে এই তিন জেলার লোকে কিছু বেশি সাহায্য পেতে পারে এবং লোকদের বাঁচাবার চেষ্টা করা যেতে পারে। আমাদের সহকর্মীদের নিয়ে বসলাম। আলোচনা হল, সকলে বলল, এই অঞ্চলে কোনোদিন পাকিস্তানের দাবির জন্য কোনো বড় কনফারেন্স হয় নাই। তাই কনফারেন্স হলে তিন জেলার মানুষের মধ্যে জাগরনের সৃষ্টি হবে। এতে দুইটা কাজ হবে মুসলিম লীগের শক্তিও বাড়বে আরও জনগণও সাহায্য পাবে। সকল এলাকা থেকে কিছু সংখ্যক কর্মীকে আমন্ত্রণ করা হল। আলোচনা করে ঠিক হল, সম্মেলনের দক্ষিণ বাংলা পাকিস্তান কনফারেন্স নাম দেয়া হবে এবং তিন জেলার লোকদের দাওয়াত করা হবে। আমি কলকাতায় রওয়ানা হয়ে গেলাম, নেতৃবৃন্দকে নিমন্ত্রণ করার জন্য। যখন সোহরাওয়ার্দী সাহেবকে দাওয়াত করতে গেলাম, দেখি খাজা শাহাবুদ্দীন সেখানে উপস্থিত আছেন। শহীদ সাহেব বললেন, আমি খুবই ব্যস্ত, তুমি বুঝতেই পারো, নিশ্চয়ই চেষ্টা করব যেতে। শাহাবুদ্দীন সাহেবকে নিমন্ত্রণ কর উনিও যাবেন। এছাড়া ১৯৪০ সালে অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী শেরে বাংলা একে ফজলুল হক এবং সরবরাহ বিভাগের মন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী একত্রে গোপালগঞ্জ মিশন স্কুল পরিদর্শনে আগমন করলে ছাত্রদের দাবি-দাওয়া নিয়ে শেখ মুজিবুর রহমান একাই তাঁদের মোকাবেলা করেন। অন্যতম দাবি ছিল অবিলম্বে ছাত্রাবাসের ছাদ মেরামত। এই দাবিতে শেখ মুজিব অনঢ় থাকায় প্রধানমন্ত্রী ফজলুল হক তাৎক্ষণিকভাবে ১২শ টাকা মঞ্জুর করেন। ...

নির্বাচন কমিশন অযোগ্য: ফখরুল

১৯জানুয়ারী,রবিবার,রাজনীতি ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: নির্বাচন পরিচালনা করতে এই কমিশন একেবারেই ব্যর্থ এবং অযোগ্য। বললেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, পূজার দিনে তারা সিটি নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করেছিল। যেখানে নির্বাচনী কেন্দ্র সেখানে পূজা হয়। এতে করে বড় ধরনের সমস্যা হতে পারতো। নির্বাচন কমিশনের অযোগ্যতার কারণেই এ সমস্যা হয়েছে। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তার মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন। ইভিএমে নির্বাচন করা মানে দেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেয়ার আরেকটা অপকৌশল বলেও মন্তব্য করেন তিনি। জিয়াউর রহমান খুব অল্প সময়ে বাংলাদেশের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। মির্জা ফখরুল বলেন, খুব অল্প সময়ের মধ্যে জিয়াউর রহমান দেশের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে একটি মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হয়।- আরটিভি অনলাইন ...

বিএনপি সব সময় দিবাস্বপ্ন দেখে : ওবায়দুল কাদের

১৮জানুয়ারী,শনিবার,রাজনীতি ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি সব সময় দিবাস্বপ্ন দেখে। তারা ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায়। তাই বিভিন্নভাবে টালবাহানা ও ষড়যন্ত্র করছে। তারা ছুতো খুঁজছে, কীভাবে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করা যায়। আজ শনিবার দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপি বলেছিল, তারা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে। তারা বলেছিল, বিএনপির পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। ফলাফল কী হয়েছে তা জাতি দেখেছে। এবারও দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আগে তারা বলছে, তাদের প্রার্থীদের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপির স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে পরিণত হবে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, আওয়ামী লীগ ১১ বছর ধরে ক্ষমতায়। সরকার দলীয় প্রার্থী ছাড়া অন্য কাউকে ভোট দিলে সিটি করপোরেশনের উন্নয়ন হবে না বলে নগরবাসী জানে। তারা জানে তাদের (বিএনপি) প্রার্থীকে ভোট দিলে কোনো উন্নয়ন হবে না। সরস্বতী পূজার দিন নির্বাচনের ভোটগ্রহণের তারিখ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তন করার দাবিতে হিন্দু সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীরা অনশন করছে। শেষে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। তবে তারিখের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার এখনও অনড় অবস্থানে আছে, সে অধিকার তাদের আছে। আমরা কোনো সিদ্ধান্ত তাদের ওপর চাপিয়ে দিতে পারি না। তাদের বিরুদ্ধেও আমরা যেতে পারি না। তারা যদি মনে করে, ধর্মীয় অনুভূতির বিষয়টি বিবেচনায় হিন্দু সম্প্রদায়ের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তাছাড়া আমরা আগেও বলেছি, সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তন করলে আওয়ামী লীগ বা সরকারের কোনো আপত্তি নেই। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন, মির্জা আজম, সাখাওয়াত হোসেন শফিক, দফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক আব্দুস সবুর, উপ-দফতর সম্পাদক সায়েম খান প্রমুখ।- একুশে টেলিভিশন...

যে দেশে নারীর বয়স বাড়ে না,প্রাকৃতিকভাবেই সুন্দরী

১৭জানুয়ারী,শুক্রবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: নিজেকে অন্যদের তুলনায় সুন্দর দেখাতে কে না চায়? নারী-পুরুষ সবাই চায় যৌবনে পাওয়া সৌন্দর্য জীবনভর অটুট থাকুক। এই চাওয়াকে পাওয়ায় রূপ দিতে তাদের চেষ্টারও অন্ত নেই। যে কারণে দেশে-বিদেশে রূপচর্চা কেন্দ্রগুলোতে ভিড় ক্রমেই বাড়ছে। এ ক্ষেত্রে পুরুষের তুলনায় নারী একটু এগিয়ে। আপন সৌন্দর্য ধরে রাখতে তারা যুগ যুগ ধরেই বিভিন্ন পন্থা ব্যবহার করছে। অনেকে কাড়ি কাড়ি টাকা খরচ করতেও দ্বিধা করছে না। কিন্তু পৃথিবীর এমন একটি দেশ আছে যেখানে নারীর রূপ-সৌন্দর্য ধরে রাখতে খুব বেশি কসরত করতে হয় না। প্রাকৃতিকভাবেই সেই দেশের নারীরা সুন্দরী। জন্ম থেকেই তারা অপরূপ! তাদের সৌন্দর্য বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে লোপ পায় না। অর্থাৎ বয়স বাড়লেও তাদের ষোড়শী তন্বী তরুণীর মতোই দেখায়। দেশটির নাম তাইওয়ান। দেশটির জনসংখ্যা প্রায় ২ কোটি ৩৮ লাখ। পার্শ্ববর্তী দেশ চীনে পুরুষের তুলনায় নারীর সংখ্যা অপ্রতুল হলেও তাইওয়ানে পুরুষের তুলনায় নারীর সংখ্যা বেশি। এখানকার নারীদের সৌন্দর্য বয়সের কারণে হেরফের হয় না। এজন্য তাদের মেকআপ বা কৃত্রিম ব্যবস্থার সাহায্য নিতে হয় না। তারা প্রাকৃতিকভাবেই ষোড়শী। তবে প্রাকৃতিকভাবে পাওয়া এই সৌন্দর্য ধরে রাখতে তাইওয়ানের নারীরা বেশ কিছু রীতি পালন করে। নেহায়েত বিশ্বাস থেকে উদ্বুদ্ধ হলেও রীতিগুলো নারীদের জীবনাচারকে প্রভাবিত করে। প্রথমত তারা রোদ এড়িয়ে চলে। ভর দুপুরে কিংবা প্রখর রোদে যত গুরুত্বপূর্ণ কাজ থাকুক না কেন তারা ঘরের বাইরে যায় না। সামাজিক বিশ্বাস তারা রোদে গেলে কালো হয়ে যাবে। সৌন্দর্য ধরে রাখতে তাদের অদ্ভুত আরও একটি বিশ্বাস হচ্ছে বৃষ্টিতে না ভেজা। তাইওয়ানের অধিকাংশ নারী বিশ্বাস করে বৃষ্টিতে ভিজলে তাদের সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যাবে। এ কারণে তাদের বৃষ্টিতে ভিজতে তীব্র আপত্তি।বিজনেস বাংলাদেশ । নিজেদের সুস্থ-সতেজ রাখতে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে তারা প্রচুর পরিশ্রম করে। সবাই দিনে কমপক্ষে ১০ ঘণ্টা কাজ করে। নিয়মিত বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলায় অংশগ্রহণ করে। তাছাড়া তাইওয়ানে যোগাযোগের সব রকম আধুনিক ব্যবস্থা থাকলেও তারা দ্রুত গতির যান এড়িয়ে সাইকেল ও স্কুটার ব্যবহার করে। ফলে তারা অন্য দেশের মানুষের তুলনায় অনেক বেশি সুস্থ থাকে। শরীর সুস্থ থাকলে মনও ভালো থাকে। মন ভালো থাকলে শারীরিক সৌন্দর্যে তার ছাপ পড়ে।...

ঠাণ্ডা নাকি গরম দুধ উপকারী

নকশা ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দুধে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, ভিটামিন-১২, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ফসফরাস। যা হাড়-দাঁত মজবুত করে। শক্ত করে পেশি। শরীরে পুষ্টি জুগিয়ে সুস্থ রাখে ওষুধ ছাড়াই। তাই প্রত্যেকের নিয়মিত খাদ্য তালিকায় দুধ রাখা উচিত। কিন্তু দুধ গরম খাবেন না ঠাণ্ডা? কোনটা বেশি উপকারী শরীরের জন্য? ঠাণ্ডা দুধ অম্বল ও ওজন কমায় সহজে। আবার ভালো ঘুম বা হজমশক্তি বাড়াতে গরম দুধের প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞদের মতে একেক জনের জন্য একেক রকম দুধ উপকারী। জেনে নিন ঠাণ্ডা নাকি গরম কোন দুধ আপনার জন্য উপকারী। হজমশক্তি বাড়ায় গরম দুধ। দুধ বা দুধ থেকে তৈরি খাবার যাদের হজম হয় না তাদের খেতে হবে ঈষদুষ্ণ দুধ। ঠাণ্ডা দুধ তুলনায় ভারী। হজম করা কষ্ট। আর গরম দুধে ল্যাক্টোজের পরিমাণ কম থাকে। তাই এই দুধ সহজে হজম হয়। ঘুম আনবে দুধ। রাতে ঘুমানোর আগে এক গ্লাস গরম দুধ মানেই এর মধ্যে থাকা সেরেটোনিন, মেলাটোনিনের গুণে মাথা থাকবে ঠাণ্ডা। যারা ঘুমের সমস্যায় ভোগেন তারা অবশ্যই ঘুমানোর আগে গরম দুধ খাবেন। অম্বল কমায় ঠাণ্ডা দুধ। যারা সবসময় গ্যাস-অম্বলে ভোগেন তাদের জন্য ঠাণ্ডা দুধ ভীষণ উপকারী। এতে বুক-পেট জ্বালাও কমে। তাই খাবার পর রোজ আধা গ্লাস ঠাণ্ডা দুধ খান। ওষুধ ছাড়াই এই সমস্যার সমাধান পাবেন। শরীরে পানির ঘাটতি মেটে ঠাণ্ডা দুধে। ঠাণ্ডা লাগার সমস্যা না থাকলে সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে ঠাণ্ডা দুধ খাওয়ার অভ্যাস করুন। এতে শরীরে পানির ঘাটতি মিটবে। তবে রাতে ভুলেও ঠাণ্ডা দুধ খাবেন না। এতে পেটের সমস্যা দেখা দিতে পারে। সূত্র : এনডিটিভি ...

একজন সমাজ কর্মী হিসাবে জনগনের পাশে থাকতে চাই: কাউন্সিলর মোহাম্মদ জাবেদ

১৯জানুয়ারী,রবিবার,কমল চক্রবর্তী,বিশেষ প্রতিনিধি,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ২৩ নং উত্তর পাঠানটুলী বর্তমান কাউন্সিলর মোহাম্মদ জাবেদ এলাকার উন্নয়ন ও আগামী নির্বাচন নিয়ে তার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। শনিবার ১৮ই জানুয়ারি সকালে তার নিজ কার্যালয়ে নিউজ একাত্তরকে দেয়া একান্ত এক সাক্ষাৎকারে তিনি তার নানা কর্মকাণ্ড ও এলাকার উন্নয়ন চিত্র তথা আগামী নির্বাচনে বিজয়ী হলে তিনি এলাকা উন্নয়নে কি কি কাজ করবেন তা সবিস্তর তুলে ধরেন। তিনি জানান, তিনি তার এলাকায় অভাবনীয় উন্নয়ন করেছেন। বিগত পাঁচ বছরে আমি জনগণকে যে ওয়াদা করেছিলেন তা পূরণ করেছেন। এর আগে যারা কাজ করেছেন তাদের চেয়ে অনেক বেশি কাজ তিনি একা করেছেন। তিনি একজন সমাজ কর্মী হিসাবে জনগনের পাশে থাকতে চান। কাউন্সিলর মোহাম্মদ জাবেদ জানিয়েছেন, তিনি আগামী নির্বাচনে আবারও প্রার্থী হবেন এবং তিনি আশাবাদী এলাকায় যে সকল কাজ করেছেন তাতে এলাকার জনগন তাকে পুনরায় আবার কাউন্সিলর হিসাবে নির্বাচিত করবে। তিনি আরো জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে চট্টগ্রামের উন্নয়ন শুরু হয়ে গেছে। তারই ধারাবাহিকতায় এলাকার প্রতিটি রাস্তা পাকাকরনের কাজ করেছেন। ময়লা আবর্জনা অপসারন ডাস্টবিন বসানো হয়েছে। সেইসাথে ডোর টু ডোর ময়লা অপসারনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। উল্লেখ যোগ্য কাজ গুলোর মধ্যে ড্রেনের উপর কালভাট নির্মাণ করেছেন। রাস্তায় এলইডি বাল্ব স্থাপন করেছেন। চট্টগ্রাম শহরের প্রথম এলইডি বাল্ব স্থাপন আমার ওয়ার্ড থেকেই শুরু হয়েছে। তাছাড়া আমার নির্বাচনী এলাকায় প্রায় ৪৫ কোটি টাকার কাজ হয়েছে। এরমধ্যে সাড়ে তিন কোটি টাকা ব্যায়ে পোস্তার পাড় ডিগ্রি কলেজ ভবনের কাজ করেছেন। চার কোটি টাকা ব্যায়ে সিটি কর্পোরেশন সরকারী প্রাথমিক স্কুল ছয় তলা ভবন নির্মাণ। প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যায়ে দেওয়ান হাট ডিগ্রী কলেজের ফ্লোর নির্মাণ করা হয়েছে। তিনি জানান, তার এলাকায় কোন সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি নেই বললেই চলে। তাছাড়া এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও বেশ ভালো। মাদকের সমস্যাও তেমন একটা নেই। তিনি মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স। কাউকে ছাড় দেয়া হবে না সে যেই হোক না কেন। প্রতিটি মোড়ে মোড়ে সি সি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে, যা সরাসরি থানা থেকে এবং আমার এখান থেকে মনিটরিং করা হচ্ছে। যেখানে সরাসরি লাইভ দেখানো হচ্ছে ফলে পুলিশ সহজে আসামি সনাক্ত করতে পারে। সুতরাং আমার ওয়ার্ডে মাদক ও সন্ত্রাস এর কোন সুযোগ নেই। তাছাড়া আমি নির্বাচন কালীন সময়ে ওয়াদা করেছিলাম এলাকার জন্য একটি অ্যাম্বুলেন্স এর ব্যবস্থা করবো। আমি আমার নিজের অর্থায়নে একটি অ্যাম্বুলেন্স এর ব্যবস্থা করেছি। যা এলাকার জনগন বিনামুল্যে ব্যবহারের সুযোগ পাবে এবং এটি ২৪ ঘন্টা সেবা প্রদান করবে। তিনি জানান, তার এলাকায় জলাবদ্ধতার সমস্যা আছে। তার এলাকায় দুইটি ছড়া আছে লালমিয়া ছড়া ও নাছির খান ছড়া । বাটালী পাহাড় থেকে পাহাড়ি ঢলের পানি এই দুই ছড়া দিয়ে নামে। ফলে ঢলের পানির সাথে আসা বালিতে একদিকে ছড়া ভরাট হয়ে যায় অন্যদিকে এলাকার ড্রেনগুলো ভরাট হয়ে যায়। এরফলে এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্ট হয়। জলাবদ্ধতা নিরসনে সিডিএ ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী যৌথভাবে মেগা প্রকল্প হাতে নিয়েছে। তবে তিনি আশাবাদী মেগা প্রকল্পের কাজ শেষ হলে জলাবদ্ধতা আর থাকবেনা। আগামী নির্বাচনে বিজয়ী হলে তিনি অসমাপ্ত কাজ গুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শেষ করবেন। এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে সর্বাত্মক কাজ করে যাবেন। এলাকাবাসীর প্রয়োজনে ও এলাকার উন্নয়নে যা যা করার দরকার তা করে যাবেন। প্রতিবেদকের সাথে কথা হয় ২৩ নং উত্তর পাঠানটুলী ওয়ার্ডের কয়েকজন এলাকাবাসীর সাথে এখানে তাদের মতামত তুলে ধরা হলঃ ২৩ নং উত্তর পাঠানটুলী ওয়ার্ডের চৌমুহনী এলাকার স্থানীয় এক বাসিন্দা কবির আহম্মেদ সিদ্দিকি (৫৮) জানান, বর্তমান কাউন্সিলর এলাকায় অনেক উন্নয়ন করেছেন। রাস্তা ঘাটেরও বেশ উন্নয়ন করেছেন। এলাকার প্রতিটি রাস্তা পাকাকরনের কাজ করছেন। তবে জলাবদ্ধতার সমস্যা থেকে আমরা মুক্তি পাই নাই, যা বর্ষা মৌসুমে আমাদের খুব ভোগান্তিতে ফেলে। ব্যক্তি হিসাবে এলাকায় উনার ভালো গ্রহণযোগ্যতাও আছে। মাদকের সমস্যা তেমন নেই এখানে সন্ত্রাসী কাজ করে কেউ পার পাবে না। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও বেশ ভালো প্রতিটি মোড়ে মোড়ে সি সি ক্যামেরা বসানো আছে। উনি আবার নির্বাচিত হবেন এতে কোন সন্দেহ নেই। ২৩ নং উত্তর পাঠানটুলী ওয়ার্ডের সুলতান কলোনী এলাকার হোটেল ব্যবসায়ী মোঃ ইলিয়াস হোসেন (৪৯) জানান, বর্তমান কাউন্সিলর জাবেদ ভাই ব্যক্তি হিসাবে ভালো। এলাকায় ওনার গ্রহণযোগ্যতা আছে। মাদকের সমস্যা নেই বললেই চলে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও বেশ ভালো। ...

এলাকার জনগনের সুখে দুঃখে পাশে থাকতে চাইঃকাউন্সিলর হাজী জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী

১৬জানুয়ারী,বৃহস্পতিবার,কমল চক্রবর্তী,বিশেষ প্রতিনিধি,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ৩৬ নং গোসাইলডাঙা বর্তমান কাউন্সিলর হাজী জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এলাকার উন্নয়ন ও আগামী নির্বাচন নিয়ে তার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। আজ বৃহস্পতিবার ১৬ই জানুয়ারী দুপুরে তার নিজ কার্যালয়ে নিউজ একাত্তরকে দেয়া একান্ত এক সাক্ষাৎকারে তিনি তার নানা কর্মকাণ্ড ও এলাকার উন্নয়ন চিত্র তথা আগামী নির্বাচনে বিজয়ী হলে তিনি এলাকা উন্নয়নে কি কি কাজ করবেন তা সবিস্তর তুলে ধরেন। তিনি জানান,তিনি টানা চার বারের নির্বাচিত কাউন্সিলর। এলাকার জনগনের জন্য কাজ করতে পারাটাই আমার একমাত্র লক্ষ্য। আমি সব সময় এলাকার জনগনের সুখে দুঃখে পাশে থাকতে চাই। কাউন্সিলর হাজী জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানিয়েছেন, জনগন চাইলে তিনি আগামী নির্বাচনে আবারও প্রার্থী হবেন এবং তিনি আশাবাদী এলাকায় যে সকল কাজ করেছেন তাতে এলাকার জনগন তাকে পুনরায় আবার কাউন্সিলর হিসাবে বেছে নিবে বলে তিনি আশা করেন। তিনি আরো জানান, এলাকার প্রতিটি রাস্তা পাকাকরনের কাজ করেছেন। তবে ওয়াসার খোঁড়া খুড়িতে রাস্তা ঘাট অনেকটা নষ্ট হয়ে গেছে। যার কারনে বেশীর ভাগ রাস্তায় ধুলাবালি লেগে থাকে। এই সাময়িক অসুবিধার জন্য তিনি এলাকার জনগনের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা গুলো পুনরায় মেরামত করা হবে। ময়লা আবর্জনা অপসারনের ডাস্টবিন বসানো হয়েছে।সেইসাথে ডোর টু ডোর ময়লা অপসারনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। উল্লেখ যোগ্য কাজ গুলোর মধ্যে নিমতলা ডিসি রোড এর কাজ ,যেটা চলমান আছে। বড় বড় কাল্ভারট নির্মাণ করেছেন। তাছাড়া ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ওনার পিতার নামে নির্মিত হচ্ছে আব্দুল নবী চৌধুরী ব্রিজ। ইতিমধ্যে এর দরপত্র চুরান্ত করা হয়েছে। যেটি দিয়ে এলাকার জনগন গোসাইলডাঙা থেকে নিমতলা পর্যন্ত সরাসরি চলাচল করতে পারবে। বারিক বিল্ডিং বহুমুখি স্কুল কে বহুতল ভবনে উন্নতি করন করেছেন। দ্বি-তলা থেকে ৫ম তলায় উন্নতি করন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এটিকে ৭ তলায় উন্নিত করন করা হবে এবং এটিকে মহিলা কলেজে রুপান্তর করবেন। তিনি জানান, তার এলাকায় কোন সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি নেই বললেই চলে। তাছাড়া এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও বেশ ভালো। মাদকের সমস্যাও তেমন একটা নেই। দুই একজন আছে যারা অসাধু কিছু পুলিশের পশ্রয়ে করে থাকে। তবে আমি মাদক পুরোপুরি নির্মূলে বদ্ধপরিকর। জলাবদ্ধতার সমস্যা কিছুটা আছে তবে তা নিরসন হয়ে যাবে। ক্রসিং এলাকায় সুইচ গেট নির্মাণ করার কাজ শেষ হলে জলাবদ্ধতা কমে যাবে বলে মনে করেন। আগামী নির্বাচনে বিজয়ী হলে তিনি অসমাপ্ত কাজ গুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শেষ করবেন। ব্যপক ভাবে রাস্তার আলোকায়নের ব্যবস্থা করবেন। চট্টগ্রাম বন্দরে অনেক বিদেশী জাহাজ আসে। সেই সাথে অনেক বিদেশী নাগরিক আসে এলাকায় বাজার করতে ওদের কথা চিন্তা করে ফকির হাট এলাকায় একটি দশ তলা বিশিষ্ট মার্কেট করা হবে। যা ২০২০-২০২১ সালের মধ্যে কাজ শুরু করার চিন্তা ধারা আছে। জিআরবি স্কুলকে সম্প্রসারণ করে ছেলেদের জন্য একটি কলেজ করার পরিকল্পনা আছে। তদুপরি তিনি এই বার নির্বাচিত হলে বেশ কিছু কাজ হাতে নিবেন যা এলাকাবাসীর জন্য সারপ্রাইজ হয়ে থাকবে। প্রতিবেদকের সাথে কথা হয় ৩৬ নং গোসাইলডাঙা ওয়ার্ডের কয়েকজন এলাকাবাসীর সাথে এখানে তাদের মতামত তুলে ধরা হলঃ ৩৬ নং গোসাইলডাঙা ওয়ার্ডের স্থানীয় এক বাসিন্দা ফরিদ আহমেদ (৫৪) জানান, বর্তমান কাউন্সিলর এলাকায় অনেক উন্নয়ন করেছেন। রাস্তা ঘাটেরও বেশ উন্নয়ন করেছেন। এলাকার প্রতিটি রাস্তা পাকাকরনের কাজ করছেন। তবে জলাবদ্ধতার একটু সমস্যা আছে। ব্যক্তি হিসাবে ওনি ভালো এলাকায় ওর গ্রহণযোগ্যতাও আছে। মাদকের সমস্যা তেমন নেই। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও বেশ ভালো। ওনাকে যে কোন সময় পাশে পাওয়া যায়। ওনি আবার নির্বাচিত হবেন এতে কোন সন্দেহ নেই। ৩৬ নং গোসাইলডাঙা ওয়ার্ডের ফকির হাট এলাকার এক ব্যবসায়ী পংকজ দে (৪৭) জানান,বর্তমান কাউন্সিলর ব্যক্তি হিসাবে ওনি ভালো এলাকায় ওনার গ্রহণযোগ্যতা আছে। মাদকের সমস্যা তেমন নেই। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও বেশ ভালো। ওনাকে যে কোন সময় পাশে পাওয়া যায়। আমি আশা করি তিনি আবার নির্বাচিত হবেন। তিনি এলাকার মানুষের খুব আপনজন। ৩৬ নং গোসাইলডাঙা ওয়ার্ডের স্থানীয় গোসাইলডাঙা এলাকার এক ব্যবসায়ী মফিজুর রহমান (৪৫) জানান,বর্তমান কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী আমাদের খুব কাছের লোক। বিপদে আপদে ওনাকে সব সময় কাছে পাওয়া যায়। এলাকায় অনেক উন্নয়ন মুলক কাজ করেছেন। এলাকার জনগনের জন্য অনেক জনসেবা মুলক কাজ করেন। আজকে বিকালেও এলাকার গরীব মানুষদের মাঝে কম্বল বিতরন করেছেন। তাছাড়া তিনি বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সাথেও জড়িত। আমরা ওনাকে আমাদের কাউন্সিলর হিসাবে আবার নির্বাচিত করবো। -------------------------------- ...

জাতির পিতার মহাপ্রত্যাবর্তন

১০জানুয়ারী ,শুক্রবার,মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন চৌধুরী,নিউজ একাত্তর ডট কম: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আজ। ১৯৭২ সালের এই দিনে স্বাধীন স্বভূমে পা রেখেছিলেন স্বাধীনতার স্বপ্নদ্রষ্টা। কোটি বাঙালির আবেগমথিত এই দিনটি এবার হাজির হয়েছে অন্য মহিমায়। আগামী ১৭ই মার্চ জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী। বেঁচে থাকলে শতবর্ষে পা রাখতেন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি। বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক শততম জন্মবার্ষিকীকে স্মরণীয় করে রাখতে বছরজুড়ে পালিত হবে নানা কর্মসূচি। বছরটিকে ঘোষণা করা হয়েছে মুজিববর্ষ হিসেবে। শুধু কর্মসূচিতেই নয়, মুজিববর্ষে আওয়ামী লীগ ও সরকার জনগণের প্রতি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানাতে চায় বঙ্গবন্ধুর প্রতি। দল এবং সরকারের পক্ষ থেকে এমন প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলা হচ্ছে এই বছরে কর্মসূচি পালনের পাশাপাশি দল এবং সরকারকে আরো জনবান্ধব করার উদ্যোগ নেয়া হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, একটি জাতির দ্রষ্টা এবং স্থপতি হিসেবে বঙ্গবন্ধুকে এখনো পরিপূর্ণ সম্মান দেয়া যায়নি। সকল বিতর্কের ঊর্ধ্বে রেখে জাতির পিতা হিসেবে তাকে সর্বোচ্চ স্থানে প্রতিষ্ঠা করাই হওয়া উচিত জন্মশতবার্ষিকীর অঙ্গীকার। বিশ্লেষকদের মূল্যায়ন, মাত্র ১৩১৫ দিনের মেয়াদকালে বঙ্গবন্ধু অনেক কিছুরই সূচনা করেছিলেন। একটি যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ গঠনে নিয়েছিলেন সময়উপযোগী নানা উদ্যোগ। তিনি তার কাজের মাধ্যমে একটি কল্যাণ রাষ্ট্র গড়ার সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে ছিলেন। মানুষের জন্য একটি রাষ্ট্র গড়তে চেয়েছিলেন। সমাজে বিদ্যমান বৈষম্য দূর করতে চেয়েছিলেন। অনিয়ম দুর্নীতির অচলায়ন ভাঙার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। রাজনৈতিক বিভেদ-বৈষম্য দূর করতে চেয়েছিলেন। স্বল্প সময়ে তিনি যে স্বপ্নের সিঁড়ির ভিত্তি গড়েছিলেন এতোদিনে তা কতোদূর পৌঁছেছে এটিই এখন মূল্যায়নের বড় বিষয়। দীর্ঘ সংগ্রাম আর পিচ্ছিল পথ পাড়ি দিয়ে বঙ্গবন্ধু জাতিকে মুক্তির মোহনায় একত্রিত করতে পেরেছিলেন। স্বাধীনতার আকাঙ্খা জাগিয়ে তুলেছিলেন প্রাণে প্রাণে। অবিসংবাদিত এ নেতার ডাকে তাই মরণপণ যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিল স্বাধীনতাকামী মানুষ। পাকিস্তানের কারাগারে থাকা বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে মুক্তিযুদ্ধ ধীরে ধীরে ধাবিত হয়েছে চূড়ান্ত পর্বে। নয় মাসের সংগ্রাম শেষে উদিত হয় স্বাধীনতার লাল সূর্য। ১৯৭২ সালে দেশে ফিরে বঙ্গবন্ধু দেশগড়ার যে কাজ শুরু করেছিলেন তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টের কালো রাতে বিভৎস হত্যাকাণ্ডে থমকে যায় জনকের স্বপ্নযাত্রা। বঙ্গবন্ধুকে সেদিন স্বপরিবারে হত্যা করে ঘাতকরা পৃথিবীর নৃশংসতম ঘটনার অবতারণা করে। কিন্তু তারা যে উদ্দেশ্য নিয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটায় তা সফল হয়নি। মাঝে কিছু ব্যত্যয় হলেও বঙ্গবন্ধুর দেখানো পথ ধরেই এগোচ্ছে বাংলাদেশ। বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু সময় এবং সীমানা পেরিয়ে পরিণত হয়েছেন মহাকালের মহান নেতায়। ঐতিহাসিক ৭ই মার্চে দেয়া তার ভাষণ পৃথিবীর ইতিহাসে সর্বকালের সেরা ভাষণের একটি। জন্মশতবর্ষে এই মহান নেতা নতুন মহিমায় উদ্ভাসিত হবেন জাতীয় জীবনে। মুজিব বর্ষের নানা কর্মসূচিতে তাকে স্মরণ করবেন বিশ্বনেতারা। আজ থেকেই শুরু হবে মুজিব বর্ষের ক্ষণ গণনা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কেন্দ্রীয়ভাবে বিকালে তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দরে মুজিব বর্ষের কাউন্টডাউন অনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। এরপর প্রতিটি জেলা, উপজেলা ও সকল পাবলিক প্লেসে একইসঙ্গে কাউন্টডাউন শুরু হবে। সারা দেশের ১২টি সিটি করপোরেশনের ২৮টি পয়েন্টে, বিভাগীয় শহরগুলো, ৫৩ জেলা ও দুই উপজেলা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ রাজধানীতে মোট ৮৩টি পয়েন্টে কাউন্টডাউন ঘড়ি বসানো হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী উদযাপনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জাতীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে একটি বাস্তবায়ন কমিটিও গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার, প্রধান বিচারপতি, সংসদের বিরোধীদলীয় নেতাসহ রাজনীতিক ও বিভিন্ন পেশার বিশিষ্টজনরা। প্রধানমন্ত্রীর সাবেক মুখ্য সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরীকে জাতীয় কমিটির সদস্য সচিবের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এছাড়া জাতীয় অধ্যাপক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে গঠিত হয়েছে বাস্তবায়ন কমিটি। জাতির পিতার শততম জন্মবার্ষিকী স্মরণীয় করে রাখতে সরকারের পাশাপাশি দলীয়ভাবেও কর্মসূচি নিয়েছে আওয়ামী লীগ। বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে আতশবাজির মাধ্যমে শুরু হবে মুজিব বর্ষের ক্ষণ গণনা। এছাড়া দেশ-বিদেশে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, স্বল্পদৈর্ঘ চলচ্চিত্র, প্রমাণ্যচিত্র প্রদর্শনী, বঙ্গবন্ধুর নামে আন্তর্জাতিক পুরস্কার প্রবর্তন, গ্রিন ফ্যাক্টরি অ্যাওয়ার্ড এবং হাতে হাত রেখে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের প্রতিকৃতি গড়ে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড হিসেবে অন্তর্ভুক্তকরণ। এছাড়া কনসার্টসহ নানা আনন্দ আয়োজন ও রক্তদানসহ সেবাধর্মী কর্মসূচি থাকবে বছরজুড়ে। ১৭ই মার্চ মূল অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান এবং বঙ্গবন্ধুর সময়ের রাজনৈতিক, সামাজিক ব্যক্তিত্বকে। তাদের মধ্যে আছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ড. মাহাথির মোহাম্মদ, ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগিয়েল ওয়াংচুক, জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি মুন, জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেল, কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোসহ বিশ্বনেতারা। জন্মশতবার্ষিকীর মূল আয়োজন শুরু হবে ১৭ই মার্চ সূর্যোদয়ের সময়ই। সকালে ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন স্থানে সেনাবাহিনীর তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে শুরু হবে মূল অনুষ্ঠান। এদিন ঢাকা ও গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় একই সঙ্গে অনুষ্ঠান শুরু হবে। সকালে টুঙ্গিপাড়ায় থাকবে জাতীয় শিশু দিবসের নানান আয়োজন। এরপর বিকালে রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে হবে মূল অনুষ্ঠান। প্রকাশ করা হবে জন্মশতবার্ষিকীর বিভিন্ন স্যুভেনির, স্মারক বক্তৃতা, দেশি-বিদেশি শিল্পীদের সমন্বয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সারা দেশেই এদিন আয়োজন করা হবে আনন্দ RAILLY। সাজানো হবে গুরুত্বপূর্ণ সব স্থাপনা, সড়কদ্বীপ। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ১৭ই মার্চের মূল আয়োজনে থাকবেন বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান, বঙ্গবন্ধুর সমসাময়িক সময়ের রাজনৈতিক, সামাজিক ব্যক্তিত্বরা। স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আজ: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আজ। পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে ১৯৭২ সালের এদিন বেলা ১টা ৪১ মিনিটে জাতির এই অবিসংবাদিত নেতা সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে প্রত্যাবর্তন করেন। তিনি পাকিস্তান থেকে প্রথমে লন্ডন যান। তারপর দিল্লী হয়ে ঢাকায় ফেরেন। ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চের প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করে বঙ্গবন্ধু সর্বস্তরের জনগণকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানান। স্বাধীনতা ঘোষণার অব্যবহিত পর পাকিস্তানের সামরিক শাসক ইয়াহিয়া খানের নির্দেশে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে আটক রাখা হয়। স্বাধীনতাকামী এই নেতাকে কারাগারে তাকে হত্যার ভয় দেখানো হয়। কিন্তু তিনি কিছুতেই দমে যাননি। আপসহীন এ নেতা অটল ছিলেন বাংলাদেশকে স্বাধীন করার প্রতিজ্ঞায়। ১৯৭২ সালের ৭ই জানুয়ারি ভোর রাতে বঙ্গবন্ধুকে কারাগার থেকে মুক্ত করে বিমানে পাঠিয়ে দেয়া হল লন্ডনে। তখন তার সঙ্গে ড. কামাল হোসেনও ছিলেন। সকাল সাড়ে ৬টায় তারা পৌঁছান লন্ডনের হিথরো বিমানবন্দরে। বেলা ১০টার পর থেকে তিনি কথা বলেন, ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী এডওয়ার্ড হিথ, তাজউদ্দিন আহমদ ও ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীসহ অনেকের সঙ্গে। ব্রিটেনের বিমান বাহিনীর একটি বিশেষ বিমানে করে পরের দিন ৯ই জানুয়ারি দেশের পথে যাত্রা করেন বঙ্গবন্ধু। ১০ই জানুয়ারি দিল্লিতে অবতরণ করে ওই বিমান। সেখানে ভারতের রাষ্ট্রপতি ভিভি গিরি, প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী, পুরো মন্ত্রিসভা, রাজনৈতিক দলের নেতারা রাজকীয় অভ্যর্থনা জানান বঙ্গবন্ধুকে। বঙ্গবন্ধু ঢাকা এসে পৌঁছেন ১০ই জানুয়ারি দুপুরের পর। ১৬ ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয়ের পর বাঙালি জাতি বঙ্গবন্ধুকে প্রাণঢালা সংবর্ধনা জানাতে অধির অপেক্ষায় ছিল। আনন্দে আত্মহারা লাখ লাখ মানুষ ঢাকা বিমান বন্দর থেকে তৎকালীন রেসকোর্স ময়দান (সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) পর্যন্ত তাকে স্বতঃস্ফূর্ত সংবর্ধনা জানায়। লাখো মানুষের ভিড় ঠেলে বঙ্গবন্ধুকে বহন করা গাড়ি বহর উদ্যানে পৌঁছতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। বিকাল পাঁচটায় রেসকোর্স ময়দানে প্রায় ১০ লাখ লোকের উপস্থিতিতে তিনি ভাষণ দেন। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দাঁড়িয়ে বঙ্গবন্ধু তার ঐতিহাসিক ধ্রুপদি ভাষণে বলেন, যে মাটিকে আমি এত ভালবাসি, যে মানুষকে আমি এত ভালবাসি, যে জাতিকে আমি এত ভালবাসি, আমি জানতাম না সে বাংলায় আমি যেতে পারবো কিনা। আজ আমি বাংলায় ফিরে এসেছি বাংলার ভাইয়েদের কাছে, মায়েদের কাছে, বোনদের কাছে। বাংলা আমার স্বাধীন, বাংলাদেশ আজ স্বাধীন। বঙ্গবন্ধু তার এই স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে আখ্যা দিয়েছিলেন অন্ধকার থেকে আলোপথে যাত্রা হিসেবে। এদিকে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়, বঙ্গবন্ধু ভবন ও সারাদেশে সংগঠনের সকল কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন। সকাল ৭ টায় বঙ্গবন্ধু ভবনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে প্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন। এছাড়া জন্মশতবর্ষ পালনের ক্ষণ গণনা কর্মসূচিতেও অংশ নেবেন দলের নেতারা।


একজন সমাজ কর্মী হিসাবে জনগনের পাশে থাকতে চাই: কাউন্সিলর মোহাম্মদ জাবেদ

১৯জানুয়ারী,রবিবার,কমল চক্রবর্তী,বিশেষ প্রতিনিধি,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ২৩ নং উত্তর পাঠানটুলী বর্তমান কাউন্সিলর মোহাম্মদ জাবেদ এলাকার উন্নয়ন ও আগামী নির্বাচন নিয়ে তার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। শনিবার ১৮ই জানুয়ারি সকালে তার নিজ কার্যালয়ে নিউজ একাত্তরকে দেয়া একান্ত এক সাক্ষাৎকারে তিনি তার নানা কর্মকাণ্ড ও এলাকার উন্নয়ন চিত্র তথা আগামী নির্বাচনে বিজয়ী হলে তিনি এলাকা উন্নয়নে কি কি কাজ করবেন তা সবিস্তর তুলে ধরেন। তিনি জানান, তিনি তার এলাকায় অভাবনীয় উন্নয়ন করেছেন। বিগত পাঁচ বছরে আমি জনগণকে যে ওয়াদা করেছিলেন তা পূরণ করেছেন। এর আগে যারা কাজ করেছেন তাদের চেয়ে অনেক বেশি কাজ তিনি একা করেছেন। তিনি একজন সমাজ কর্মী হিসাবে জনগনের পাশে থাকতে চান। কাউন্সিলর মোহাম্মদ জাবেদ জানিয়েছেন, তিনি আগামী নির্বাচনে আবারও প্রার্থী হবেন এবং তিনি আশাবাদী এলাকায় যে সকল কাজ করেছেন তাতে এলাকার জনগন তাকে পুনরায় আবার কাউন্সিলর হিসাবে নির্বাচিত করবে। তিনি আরো জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে চট্টগ্রামের উন্নয়ন শুরু হয়ে গেছে। তারই ধারাবাহিকতায় এলাকার প্রতিটি রাস্তা পাকাকরনের কাজ করেছেন। ময়লা আবর্জনা অপসারন ডাস্টবিন বসানো হয়েছে। সেইসাথে ডোর টু ডোর ময়লা অপসারনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। উল্লেখ যোগ্য কাজ গুলোর মধ্যে ড্রেনের উপর কালভাট নির্মাণ করেছেন। রাস্তায় এলইডি বাল্ব স্থাপন করেছেন। চট্টগ্রাম শহরের প্রথম এলইডি বাল্ব স্থাপন আমার ওয়ার্ড থেকেই শুরু হয়েছে। তাছাড়া আমার নির্বাচনী এলাকায় প্রায় ৪৫ কোটি টাকার কাজ হয়েছে। এরমধ্যে সাড়ে তিন কোটি টাকা ব্যায়ে পোস্তার পাড় ডিগ্রি কলেজ ভবনের কাজ করেছেন। চার কোটি টাকা ব্যায়ে সিটি কর্পোরেশন সরকারী প্রাথমিক স্কুল ছয় তলা ভবন নির্মাণ। প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যায়ে দেওয়ান হাট ডিগ্রী কলেজের ফ্লোর নির্মাণ করা হয়েছে। তিনি জানান, তার এলাকায় কোন সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি নেই বললেই চলে। তাছাড়া এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও বেশ ভালো। মাদকের সমস্যাও তেমন একটা নেই। তিনি মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স। কাউকে ছাড় দেয়া হবে না সে যেই হোক না কেন। প্রতিটি মোড়ে মোড়ে সি সি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে, যা সরাসরি থানা থেকে এবং আমার এখান থেকে মনিটরিং করা হচ্ছে। যেখানে সরাসরি লাইভ দেখানো হচ্ছে ফলে পুলিশ সহজে আসামি সনাক্ত করতে পারে। সুতরাং আমার ওয়ার্ডে মাদক ও সন্ত্রাস এর কোন সুযোগ নেই। তাছাড়া আমি নির্বাচন কালীন সময়ে ওয়াদা করেছিলাম এলাকার জন্য একটি অ্যাম্বুলেন্স এর ব্যবস্থা করবো। আমি আমার নিজের অর্থায়নে একটি অ্যাম্বুলেন্স এর ব্যবস্থা করেছি। যা এলাকার জনগন বিনামুল্যে ব্যবহারের সুযোগ পাবে এবং এটি ২৪ ঘন্টা সেবা প্রদান করবে। তিনি জানান, তার এলাকায় জলাবদ্ধতার সমস্যা আছে। তার এলাকায় দুইটি ছড়া আছে লালমিয়া ছড়া ও নাছির খান ছড়া । বাটালী পাহাড় থেকে পাহাড়ি ঢলের পানি এই দুই ছড়া দিয়ে নামে। ফলে ঢলের পানির সাথে আসা বালিতে একদিকে ছড়া ভরাট হয়ে যায় অন্যদিকে এলাকার ড্রেনগুলো ভরাট হয়ে যায়। এরফলে এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্ট হয়। জলাবদ্ধতা নিরসনে সিডিএ ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী যৌথভাবে মেগা প্রকল্প হাতে নিয়েছে। তবে তিনি আশাবাদী মেগা প্রকল্পের কাজ শেষ হলে জলাবদ্ধতা আর থাকবেনা। আগামী নির্বাচনে বিজয়ী হলে তিনি অসমাপ্ত কাজ গুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শেষ করবেন। এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে সর্বাত্মক কাজ করে যাবেন। এলাকাবাসীর প্রয়োজনে ও এলাকার উন্নয়নে যা যা করার দরকার তা করে যাবেন। প্রতিবেদকের সাথে কথা হয় ২৩ নং উত্তর পাঠানটুলী ওয়ার্ডের কয়েকজন এলাকাবাসীর সাথে এখানে তাদের মতামত তুলে ধরা হলঃ ২৩ নং উত্তর পাঠানটুলী ওয়ার্ডের চৌমুহনী এলাকার স্থানীয় এক বাসিন্দা কবির আহম্মেদ সিদ্দিকি (৫৮) জানান, বর্তমান কাউন্সিলর এলাকায় অনেক উন্নয়ন করেছেন। রাস্তা ঘাটেরও বেশ উন্নয়ন করেছেন। এলাকার প্রতিটি রাস্তা পাকাকরনের কাজ করছেন। তবে জলাবদ্ধতার সমস্যা থেকে আমরা মুক্তি পাই নাই, যা বর্ষা মৌসুমে আমাদের খুব ভোগান্তিতে ফেলে। ব্যক্তি হিসাবে এলাকায় উনার ভালো গ্রহণযোগ্যতাও আছে। মাদকের সমস্যা তেমন নেই এখানে সন্ত্রাসী কাজ করে কেউ পার পাবে না। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও বেশ ভালো প্রতিটি মোড়ে মোড়ে সি সি ক্যামেরা বসানো আছে। উনি আবার নির্বাচিত হবেন এতে কোন সন্দেহ নেই। ২৩ নং উত্তর পাঠানটুলী ওয়ার্ডের সুলতান কলোনী এলাকার হোটেল ব্যবসায়ী মোঃ ইলিয়াস হোসেন (৪৯) জানান, বর্তমান কাউন্সিলর জাবেদ ভাই ব্যক্তি হিসাবে ভালো। এলাকায় ওনার গ্রহণযোগ্যতা আছে। মাদকের সমস্যা নেই বললেই চলে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও বেশ ভালো।

আওয়ামী লীগের ইতিহাস মানে বাঙালি জাতির সংগ্রাম ও গৌরবের ইতিহাস

১৯ডিসেম্বর,বৃহস্পতিবার,মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন চৌধুরী,নিউজ একাত্তর ডট কম: বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এক ও অভিন্ন এবং বাঙালি জাতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। আওয়ামী লীগের ইতিহাস মানে বাঙালি জাতির সংগ্রাম ও গৌরবের ইতিহাস। এ রাজনৈতিক দলটি এদেশের সুদীর্ঘ রাজনীতি এবং বাঙালি জাতির আন্দোলন-সংগ্রামের গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক। প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী এ দলটির নেতৃত্বেই এদেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়। রোজগার্ডেনে জন্মগ্রহণের পর থেকে নানা লড়াই, সংগ্রাম, চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে দলটি এখন রাষ্ট্র ক্ষমতায়। আওয়ামী লীগের ইতিহাস থেকে জানা যায়, এ দেশের অসাম্প্রদায়িক, প্রগতিশীল ও তরুণ মুসলিম লীগ নেতাদের উদ্যোগে ১৯৪৯ সালের ২৩-২৪ জুন পুরনো ঢাকার কেএম দাস লেনের বশির সাহেবের রোজ গার্ডেনের বাসভবনে একটি রাজনৈতিক কর্মী সম্মেলনের মাধ্যমে পাকিস্তানের প্রথম বিরোধীদল পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়। মুসলিম লীগের প্রগতিশীল নেতা-কর্মীরা সংগঠন থেকে বেড়িয়ে গিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন আওয়ামী মুসলিম লীগ। প্রথম সম্মেলনে সভাপতি নির্বাচিত হন মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এবং সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন প্রথম কমিটির যুগ্ম-সম্পাদক। ১৯৬৬ সালের সম্মেলনের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আসেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। পরে তিনি হয়ে ওঠেন বাঙালির একচ্ছত্র নেতা, স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি ও জাতির জনক। ৬৯-এর গণআন্দোলনের মধ্য দিয়ে পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শাসক-শোষক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বাঙালির যে জাগরণ ও বিজয় সূচিত হয়, সেই আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিল আওয়ামী লীগ এবং এই আন্দোলনের পথ ধরেই বাঙালি জাতি স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা, ৩ নভেম্বর জেলখানায় জাতীয় চার নেতাকে হত্যার পর নেতৃত্ব শূন্যতায় পড়ে আওয়ামী লীগ। এর পর দলের মধ্যে ভাঙনও দেখা দেয়। ১৯৮১ সালে বঙ্গবন্ধু কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আওয়ামী লীগের হাল ধরেন। তার নেতৃত্বে দ্বিধা-বিভক্ত আওয়ামী লীগ আবার ঐক্যবদ্ধ হয়। তিন দশক ধরে তাঁর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ পরিচালিত হচ্ছে। এই সময়ে আন্দোলন-সংগ্রামের পাশাপাশি তিন বার রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হতে পেরেছে দলটি। আবার ৬৭ বছরের মধ্যে প্রায় ৫০ বছরই আওয়ামী লীগকে থাকতে হয়েছে রাষ্ট্র ক্ষমতার বাইরে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু সরকারের সাড়ে তিন বছর এবং ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ৫ বছর, ২০০৯ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকার পরিচালনা করছে। ২০০১ সালের নির্বাচনে পরাজয়ের পর অনেকটা সুসংহত হতে সক্ষম হয়ে জোটসরকার বিরোধী আন্দোলনে সফলতার পরিচয়ও দিয়েছিল দলটি। কিন্তু এই আন্দোলনের শেষ পর্যায়ে ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারির পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দেশ জুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্ব নিলে আবারো নতুন সংকটের মুখে পড়ে যায় দলটি। দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনাসহ প্রথম সারির অসংখ্য নেতারা গ্রেফতার এবং একাংশের সংস্কার তৎপরতায় কিছুটা সংকটে পড়ে দলীয় কার্যক্রম। তবে সকল প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবেলা করেই ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নির্বাচনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ও মহাজোট ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করে। ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি গঠিত হয় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার। দ্বিতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন শেখ হাসিনা। পরে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি বিএনপি-জামায়াত জোটের শত প্রতিকূলতাকে মোকাবেলা করে নির্বাচনের বিজয়ী হয়ে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে এবং তৃতীয় বারের মত প্রধানমন্ত্রী হন শেখ হাসিনা। সর্বশেষ ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে এবং শেখ হাসিনা চতুর্থবারের মত প্রধানমন্ত্রী হন। নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী ২০২১ সালের মধ্যে ক্ষুধা, দারিদ্র্যমুক্ত, আধুনিক বিজ্ঞান ও তথ্য-প্রযুক্তি নির্ভর সুখী, সমৃদ্ধ ডিজটাল বাংলাদেশ গড়াসহ বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় নিয়ে কাজ করছে দলটি। আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম বলেন, আওয়ামী লীগ শুধু দেশের পুরনো ও সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দলই নয়, এটি হচ্ছে গণতন্ত্র ও অসাম্প্রদায়িক ভাবাদর্শের মূলধারাও। প্রতিষ্ঠাকাল থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত নানা আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ আমাদের সমাজ-রাজনীতির এ ধারাকে নিরবচ্ছিন্নভাবে এগিয়ে নিচ্ছে। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকেই এই দলের নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশকে অসাম্প্রদায়িক দেশ হিসেবে গড়ে তোলার কাজ প্রথম শুরু করেন। পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধুর কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অসাম্প্রদায়িক দেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছেন। লেখকঃ মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন চৌধুরী, সাংবাদিক,কলামিষ্ট ,সম্পাদক নিউজ একাত্তর ডট কম ও চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান,দৈনিক আজকের বিজনেস বাংলাদেশ ।

আজকের মোট পাঠক

33277
O relaxamento vascular leva a um aumento na perfusão sanguínea, após o que os sintomas da hiperplasia prostática benigna são reduzidos.cialis tadalafil buy online White or white with a slightly yellowish tinge with a characteristic odor.cost of cephalexinIt is difficult and slow to dissolve in water, almost insoluble in alcohol. Cialis super active aumenta la producción de esperma, aumenta el deseo sexual.Cialis super active Sin Receta En EspañaCialis Super Asset lo ayudará en una situación difícil. Complications with prolonged use: rarely - psychoses that resemble alcoholic ones; hepatitis, gastritisCheap no Prescription disulfiramdetoxification therapy, administration of analeptics, and symptomatic therapy are necessary Nolvadex helps reduce the level of sex hormones in the blood of men and women Nolvadex online which ensures its therapeutic effect in this pathology.

নিউজ একাত্তর ডট কম

সম্পাদক : মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন চৌধুরী

নির্বাহী সম্পাদক : আহাম্মদ হোসেন ভুইয়া

একটি পপুলার মিডিয়া পাবলিকেশন এর প্রকাশনা | রেজি নং: চ-১২৪২৭/১৭

সম্পাদকীয় ও বানিজ্যিক কার্যালয় : ৪১৬/সি,খিলগাও ঢাকা ০২৪৩১৫০৪৮৮, ০১৮২৪২৪৫৫০৪, ০১৭৭৮৮৮৮৪৭২

চট্টগ্রাম কার্যালয় : ১৯/২০/২১ বি ৩য় তলা, হানিমুন টাওয়ার,পাহাড়তলী,চট্টগ্রাম।

ই-মেইল : newsekattor@gmail.com, editorekattor@gmail.com, কপিরাইট ©newsekattor.com কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত