শুক্রবার, এপ্রিল ২৭, ২০১৮

গভীর উদ্বেগ চীনের যুক্তরাষ্ট্র-উ. কোরিয়ার সংলাপ নিয়ে

দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার সমঝোতা সংলাপ অত্যাসন্ন। এ অবস্থায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে চীন। তারা মনে করছে এর মাধ্যমে উত্তর কোরিয়াকে চীনের বলয় থেকে বের করে নিচ্ছে নেতা কিম জং উন। উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে চীনের সম্পর্ক রক্তের। কোরিয়ান যুদ্ধের সময় উত্তর কোরিয়াকে রক্ষা করতে গিয়ে মাও সেতুংয়ের ছেলে সহ কমপক্ষে এক লাখ ৩০ হাজার চীনা সেনা নিহত হয়েছেন। তারপরও দেশ দুটির মধ্যে সম্পর্ক অতোটা স্বাভাবিক নয়। ব্যবসা বাণিজ্য ও কূটনৈতিক সমর্থনের জন্য বেইজিংয়ের ওপর নির্ভর করে পিয়ংইয়ং। তা হলেও বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, অনেক বেশি বড় দেশ চীনের ওপর লিটল ব্রাদারসুলব মনোভাব পোষণ করে থাকে উত্তর কোরিয়া। সেই উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন এখন বিশ্ব রাজনীতির মঞ্চে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তাকে নিয়ে বৈঠক করবেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে ইন। ফলে এতদিনের রকেট ম্যান এখন বড় মাপের একজন রাজনীতিকের তকমা পেতে চলেছেন। প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে ইন ও ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সম্মেলনে যোগ দেয়ার জন্য এখন প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। এতেই চীনের উদ্বেগ বেড়েছে। তারা মনে করছে এর মাধ্যমে উত্তর কোরিয়া তাদের বলয় থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে। কিম জং উনকে আলোচনার টেবিলে ফেরত আনতে চীনের অর্থনৈতিক চাপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে এক্ষেত্রে বেইজিং এটা ভেবে উদ্বিগ্ন যে, কিম জং উন হয়তো এমন চুক্তি করতে যাচ্ছেন, যাতে তাদের পুরনো শত্রুরা ঘনিষ্ঠ হবে। বেইজিংয়ে টিঙ্গহুয়া কারনেজ সেন্টার ফর গ্লোবাল পলিসির পারমাণবিক নীতি বিষয়ক বিশেষজ্ঞ তোং ঝাও বলেছেন, চীনা সম্প্রদায়ের মধ্যে চরম একটি উৎকণ্ঠা রয়েছে। তা হলো, হয়তো পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জনকারী উত্তর কোরিয়াকে নিজেদের মিত্র বলে মেনে নেবে যুক্তরাষ্ট্র। না হয় তাদেরকে একটি বন্ধুপ্রতীম দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেবে। এমন যদি হয় তাহলে তাতে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার টান টান কূটনৈতিক সম্পর্কে আরো টান ধরতে পারে। কারণ, বাণিজ্যে করআরোপ নিয়ে এরই মধ্যে চীনের প্রেসিডেন্ট সি জিনপিং ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হয়ে গেছে।...

কিউবার নতুন প্রেসিডেন্ট কানেল,ক্যাস্ট্রো যুগের অবসান

কিউবার নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন মিগুয়েল দিয়াজ কানেল। এর মাধ্যমে দেশটিতে দীর্ঘ ক্যাস্ট্রো যুগের অবসান হলো। বুধবার কিউবার পার্লামেন্টের সদস্যরা ভোটদানের মাধ্যমে ৫৭ বছর বয়সী ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট কানেলকে ক্যাস্ট্রোর উত্তরাধিকার হিসেবে নির্বাচন করেন। এর আগে শারীরিক অসুস্থতার কারণে প্রেসিডেন্টের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন রাউল ক্যাস্ট্রো। পদত্যাগ করলেও, কিউবার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা রাউল ক্যাস্ট্রোর হাতেই থাকছে। ২০০৬ সালে ফিদেল ক্যাস্ট্রো ক্ষমতা ছাড়লে সমাজতান্ত্রিক কিউবার দায়িত্ব গ্রহণ করেন তার ভাই রাউল ক্যাস্ট্রো। কিউবায় দীর্ঘ ৬০ বছর ধরে শাসন করেন ফিদেল ক্যাস্ট্রো ও তার ভাই রাউল ক্যাস্ট্রো।...

বাংলাদেশিসহ ছয়দিনে গ্রেফতার ২২৫ অভিবাসী যুক্তরাষ্ট্রে !

যুক্তরাষ্ট্রে গত ছয়দিনে বাংলাদেশিসহ ৫২টি দেশের ২'শ ২৫ জন অবৈধ অভিবাসীসহ বিভিন্ন অপরাধীকে গ্রেফতার করেছেন দেশটির ইমিগ্রেশন এন্ড কাস্টমস এন্সফোর্সমেন্ট আ.ই.স। মঙ্গলবার নিউইয়র্ক, লংআইল্যান্ড, এবং হাডসন ভ্যালি এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব অভিবাসীদের গ্রেফতার করা হয় বলে জানান কাস্টমস কর্মকর্তারা। আটকৃতরা অবৈধ অস্ত্র বহন, যৌন নির্যাতন ও পাসপোর্ট জালিয়াতির মতো একাধিক অপরাধে অভিযুক্ত। নিউইয়র্ক আই.সি.এ'র এক কর্মকর্তা সংবাদ সম্মেলনে জানান, স্থানীয় প্রশাসনের নীতিমালার কারণে বহিষ্কারাভিযানে নানা বাধা সত্ত্বেও কর্মকর্তাদের কঠোর পরিশ্রমে এ অভিযান সফলভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।...

গাল্ফ শিল্ড-১ এর যৌথ সামরিক মহড়া পরিদর্শন করেছেন সৌদিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সৌদি আরবের দাম্মামে ২৪ দেশের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত গাল্ফ শিল্ড-১ এর যৌথ সামরিক মহড়া পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার স্থানীয় সময় দুপুরে সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ আল-জুবাইলে সামরিক মহড়ার সমাপনী পর্বে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে যোগ দেন তিনি। এই মহড়ায় ২৪টি দেশের সামরিক বাহিনীর পাশাপাশি যোগ দেয় বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীও। এই যৌথ সামরিক মহড়ার সমাপনী কুচকাওয়াজ উপলক্ষে সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ এর আমন্ত্রণে সৌদি আরবে যান প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানান সৌদি বাদশাহ। কর্মসূচি অনুযায়ী স্থানীয় সময় সোমবার দুপুর ১টা থেকে বিকেল পর্যন্ত এই মহড়া পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। এদিকে, সৌদি আরবের কর্মসূচি শেষে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় কমনওয়েলথ এর সরকার প্রধানদের সম্মেলনে যোগ দিতে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার পর প্রধানমন্ত্রী সৌদি এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইটে লন্ডনের উদ্দেশে রওয়ানা হয়েছেন বলে জানা গেছে।...

ধরার পরেই তদবির আসা শুরু হয়-ভেজালকারীদের তো আমরা ধরতেই পারি

রমজান উপলক্ষে পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা নির্বিঘ্ন রাখতে সড়ক-মহাসড়কে পুলিশের বিশেষ কার্যক্রম থাকবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। গতকাল রাজধানীতে নিত্যপণ্যের দাম ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঢাকা চেম্বার আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি একথা বলেন। অসাধু চক্র নিয়ন্ত্রণে কেবল রোজা নয় সারা বছরই পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানান ব্যবসায়ীরা। বিশ্বের মুসলিম অধ্যুষিত দেশগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায় রমজান এলেই নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার পরিবর্তে কমে যায়। অথচ বাংলাদেশে এ চিত্র পুরোটাই উল্টো। পণ্যের দামের লাগাম টানতে যেনো সব প্রচেষ্টাই বিফলে যায়। এমন পরিস্থিতিতে আসন্ন রমজানে ভোগ্য পণ্যের দাম ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে করণীয় ঠিক করতে মতবিনিময় সভার আয়োজন করে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক ড. জিয়া রহমান বলেন, সারাদেশে সিন্ডিকেট চক্রের দৌরাত্ম্য কমাতে সরকারি খাদ্য কর্মকর্তাদের বিচারিক ক্ষমতা দেয়া উচিত। অধ্যাপক ড. জিয়া রহমান বলেন, '২০০৯ সালে আমরা ভোক্তা আইন পেয়েছি। কিন্তু এগুলো কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ। শুধু পুলিশ-প্রশাসনের সীমিত লোক দিয়ে তা প্রয়োগ করা সম্ভব না হলে, খাদ্য কর্মকর্তাদের পাওয়ার দিতে হবে।' ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, অসাধু চক্র নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘ মেয়াদী পদক্ষেপ না নিয়ে রমযানের এক থেকে দুই মাস আগে তোড়জোড় শুরু করে সরকার। এতে ভোক্তারা তেমন সুফল পায় না। এদিকে, ভেজাল পণ্যের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালাতে গেলে বিভিন্ন মহলের তদবিরের কারণে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হয় না বলে নিজেই স্বীকার করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।...

গাজীপুর ও খুলনা নির্বাচন গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে ইসি

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা বলেছেন, সংসদ নির্বাচন অতি সন্নিকটে। সেই সাথে ঢাকার পাশে সব থেকে বড় গাজীপুর ও খুলনায়ও নির্বাচন হবে। তাই নির্বাচনগুলোকে কমিশন অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। বৃহস্পতিবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বৈঠকের শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে এসব কথা বলেন সিইসি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশ্য করে সিইসি বলেন, বিগত দিনে আপনাদের সহযোগিতায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনসহ অন্যান্য নির্বাচন সফল হয়েছে। এই নির্বাচনও সফল হবে বলে আশা করছি। আপনাদের পরামর্শও প্রত্যাশা করছি। সিইসির সভাপতিত্বে নির্বাচন ভবনের সম্মেলন কক্ষে বেলা ১১টায় শুরু হওয়া বৈঠকে চার নির্বাচন কমিশনার, ইসি সচিব, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত রয়েছেন।...

শীর্ষ সন্ত্রাসী বাবা আরিফ নিহত,মুন্সীগঞ্জের বন্দুকযুদ্ধে

মুন্সীগঞ্জের কাটাখালী হায়দ্রাবাদ গ্রামের কাছে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে শীর্ষ সন্ত্রাসী, মাদক বিক্রেতা ও ১২ মামলার আসামি সাইফুল ইসলাম ওরফে বাবা আরিফ (৩৭) নিহত হয়েছে। বুধবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে ওই এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত সাইফুল ইসলাম ওরফে বাবা আরিফ মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার মিরেশ্বরাই গ্রামের জুলহাস ব্যাপারীর ছেলে। মুন্সীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসাইন জানান, বুধবার রাত ১০টার দিকে ১১০ পিস ইয়াবাসহ দূর্গাবাড়ি গ্রাম থেকে আরিফকে গ্রেফতার করা হয়। পরে রাত আড়াইটার দিকে তাকে নিয়ে অভিযানে গেলে তার সঙ্গীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে পুলিশের এসআই আসলাম ও এএসআই কালাম আহত হন। এসময় আরিফ পালানোর চেষ্টা করলে সে গুলিবিদ্ধ হয়। পরে তাদের উদ্ধার করে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আরিফকে মৃত ঘোষণা করেন। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সীগঞ্জ জেনাররেল হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। এদিকে, ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ দুই রাউন্ড গুলি ভর্তি একটি পিস্তল, দুটি রামদা ও একটি রড উদ্ধার করা হয় বলেও জানান ওসি।...

চকরিয়ার জীবন জব্বারের বলিখেলায় চ্যাম্পিয়ন

চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক আব্দুল জব্বারের ১০৯তম বলীখেলার (কুস্তি প্রতিযোগিতা) কুমিল্লার শাহজালাল বলিকে হারিয়ে শিরোপা অর্জন করেছেন চকরিয়ার তারেকুল ইসলাম জীবন বলি। খেলার ২০ মিনিটের মাথা তারা একজন আরেকজনকে পরাস্থ করেন এ শিরোপা জিতে জীবন বলি । বুধবার (২৫ এপ্রিল) বিকেল ৪টা ২৫ মিনিটে চট্টগ্রামের লালদিঘি মাঠে ঐতিহ্যবাহী আব্দুল জব্বারে বলি খেলার ১০৯ তম আসর শুরু হয়। চুরান্ত পর্যায়ের প্রতিযোগীতার ফাইনাল শুরু হয় ৫টা ৩২ মিনিটে। ফাইনালে মুখোমুখি হন জীবন বলি এবং শাহজালাল বলি। লালদীঘির ময়দানে বালি দিয়ে তৈরি চার ফুট উঁচু বলীখেলার গ্রাউন্ডে চলে এ লড়াই। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তরিকুল ইসলাম জীবন বলেন, `আমি দোকানে চাকরি করি। জব্বারের বলি খেলায় পাঁচবার অংশ নিয়ে আমি চ্যাম্পিয়ন হয়েছি। আমি খুশি।’ প্রতিবারের মতো এবারও সাধারণ, চ্যালেঞ্জিং ও চ্যাম্পিয়ন- এই তিনটি বাউটে সারাদেশ থেকে আসা ১৫ থেকে ৬০ বছর বয়সী ১০২ জন বলী অংশ নেন। এর আগে বুধবার (২৫ এপ্রিল) বিকেল চারটা বলীখেলার উদ্বোধন করেন সিএমপির ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কমিশনার মো. মাসুদুল হাসান। এবছরও খেলা পরিচালনা করেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর আবদুল মালেক। তাকে সহায়তা করেন ইকবাল বালি, জাহাঙ্গীর ও লেদু। বলিখেলার ১০৯ তম আসরে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। বিশেষ অতিথি ছিলেন স্পন্সর বাংলালিংক ডিজিটাল কমিউনিকেশন্স লিমিটেডের রিজিওনাল ডিরেক্টর সৌমেন মিত্র। আরো উপস্থিত ছিলেন জব্বারের বলীখেলা ও বৈশাখী মেলা কমিটির সভাপতি কাউন্সিলর জহরলাল হাজারী ও সাধারণ সম্পাদক শওকত আনোয়ার বাদলসহ আয়োজক কমিটির অন্যান্য সদস্যরা।...

গাজীপুরের শ্রীপুরে বিদ্যুৎ বন্ধ হয়ে যায় আকাশে মেঘ দেখলেই

গাজীপুরের শ্রীপুরের ৭০ হাজার বিদ্যুৎ গ্রাহক নিয়মিত লোডশেডিংয়ে অভ্যস্ত হয়ে থাকলেও বৈশাখী হাওয়ায় দুর্ভোগ যেন মাত্রা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। আকাশে মেঘের ঘনঘটা দেখা দিলেই বন্ধ করে দেওয়া হয় বিদ্যুৎ, যার প্রভাবে বিভ্রাটে পড়ে কষ্ট পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষের। পল্লীবিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, ময়মনসিংহ পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির-২ এর মাওনা জোনাল অফিস ও শ্রীপুর জোনাল অফিসের অধীনে শ্রীপুরে বিদ্যুৎ সঞ্চালন করা হয়। এই এলাকায় বিদ্যুৎ লাইন রয়েছে ১৬ কিলোমিটার এবং গ্রাহক রয়েছে ৭০ হাজার। ২৩টি ফিডারের মাধ্যমে দীর্ঘ এলাকার বিতরণব্যবস্থার জন্য রয়েছে ২২ জন লাইনম্যান। প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় স্বল্পসংখ্যক জনবল দিয়ে কাজ করতে গিয়ে নানা ধরনের সমস্যা হয়। বিশেষ করে কালবৈশাখী ঝড়ের আশংকায় গ্রামীণ এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ করা হয়। পরে তা চালু করতে অনেক সময় লেগে যায়। এভাবে প্রতিদিনই শ্রীপুরের বিভিন্ন এলাকায় ঝড় হওয়ায় বিভ্রাটে পড়ছে সাধারণ লোকজন। মাওনা উত্তরপাড়া গ্রামের দিদারুজ্জামান অভিযোগ করেন, প্রতি বছর ঝড় বৃষ্টির মৌসুম এলেই আমাদের এই সমস্যা দেখা দেয়। যা চলে পুরো বর্ষাকাল জুড়েই। এবারও গত এক সপ্তাহ ধরে এই সমস্যা তৈরি হচ্ছে। দীর্ঘদিনের এই সমস্যা হতে মুক্তির কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। একই এলাকার স্কুল শিক্ষক আজাহারুল ইসলাম জানান, আমাদের এলাকাটি শিল্প এলাকায় হওয়ায় সবাই বিদ্যুৎ ব্যবস্থার মাধ্যমে খাবারের পানি উত্তোলন করে থাকে। কিন্তু ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় আমাদের অনেক কষ্ট করতে হয়। বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল থাকায় শ্রীপুরের এলাকাগুলোতে এখন টিউবওয়েলের ব্যবহার নেই। আকাশের মেঘের ঘনঘটনায় ব্যবসা বাণিজ্যের অন্যতম স্থান মাওনা চৌরাস্তায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা খুবই অপ্রতুল। এই এলাকার ব্যবসায়ীরাও বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা জেনারেটরের সাহায্য নিচ্ছেন। মোবাইল মার্কেটের ব্যবসায়ী শেখ সোহাগ জানান, গত কয়েকদিন ধরে বিদ্যুতের সরবরাহ ভালো না থাকায় তিনি মোবাইল মেরামত করতে পারছেন না, এতে তার আয়ে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। শ্রীপুর সড়কের টিউবওয়েল স্থাপনকারী প্রতিষ্ঠানের পরিচালক সোহেল মিয়া জানান, তিনি উপজেলার গাজীপুর গ্রামের মফিজউদ্দিন নামের এক গ্রাহকের কাছে একটি টিউবওয়েল বিক্রি করছেন। গত দুই দিন বিদ্যুৎ ব্যবস্থা খারাপ থাকায় তার কারিগর ফিরে এসেছে। মাওনা সিটি হাসপাতালের ল্যাব ইনচার্জ দেলোয়ার হোসেন জানান, গত কয়েকদিনের বিদ্যুতের এই অবস্থার জন্য তার ল্যাবের মেশিনের চরম ক্ষতি হয়েছে। অনেক জরুরি রোগীকেও ফেরত দিতে হয়েছে। লোহাগাছ গ্রামের তাজউদ্দিন আহমেদ জানান, রাতে বিদ্যুৎ যায় সকালে আসে, আবার দুপুরে যায় পরদিন আসে এই আমাদের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা। তবে দীর্ঘসময় বিদ্যুৎ না থাকলেও বিল ঠিকই আসে। আসলে আমাদের বলার মতো কোনো জায়গা নেই। মাওনা জোনাল অফিসের উপমহাব্যবস্থাপক কামাল পাশা জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগের ওপর কারো হাত নেই। ঝড়ে বিভিন্ন বিদ্যুৎ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত থাকায় তা চালু করতে সময় ব্যয় হয়ে যায়। এজন্য হয়ত কারো সমস্যা হতে পারে তবে কর্তৃপক্ষের কোনো ধরনের গাফিলতি নেই।...

ধরার পরেই তদবির আসা শুরু হয়-ভেজালকারীদের তো আমরা ধরতেই পারি

রমজান উপলক্ষে পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা নির্বিঘ্ন রাখতে সড়ক-মহাসড়কে পুলিশের বিশেষ কার্যক্রম থাকবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। গতকাল রাজধানীতে নিত্যপণ্যের দাম ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঢাকা চেম্বার আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি একথা বলেন। অসাধু চক্র নিয়ন্ত্রণে কেবল রোজা নয় সারা বছরই পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানান ব্যবসায়ীরা। বিশ্বের মুসলিম অধ্যুষিত দেশগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায় রমজান এলেই নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার পরিবর্তে কমে যায়। অথচ বাংলাদেশে এ চিত্র পুরোটাই উল্টো। পণ্যের দামের লাগাম টানতে যেনো সব প্রচেষ্টাই বিফলে যায়। এমন পরিস্থিতিতে আসন্ন রমজানে ভোগ্য পণ্যের দাম ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে করণীয় ঠিক করতে মতবিনিময় সভার আয়োজন করে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক ড. জিয়া রহমান বলেন, সারাদেশে সিন্ডিকেট চক্রের দৌরাত্ম্য কমাতে সরকারি খাদ্য কর্মকর্তাদের বিচারিক ক্ষমতা দেয়া উচিত। অধ্যাপক ড. জিয়া রহমান বলেন, '২০০৯ সালে আমরা ভোক্তা আইন পেয়েছি। কিন্তু এগুলো কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ। শুধু পুলিশ-প্রশাসনের সীমিত লোক দিয়ে তা প্রয়োগ করা সম্ভব না হলে, খাদ্য কর্মকর্তাদের পাওয়ার দিতে হবে।' ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, অসাধু চক্র নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘ মেয়াদী পদক্ষেপ না নিয়ে রমযানের এক থেকে দুই মাস আগে তোড়জোড় শুরু করে সরকার। এতে ভোক্তারা তেমন সুফল পায় না। এদিকে, ভেজাল পণ্যের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালাতে গেলে বিভিন্ন মহলের তদবিরের কারণে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হয় না বলে নিজেই স্বীকার করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।...

বেতন-ভাতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে শ্রমিকরা অসন্তোষ থাকবে না

বেতন-ভাতার পাশাপাশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে তৈরি পোশাক কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ থাকবে না বলে মন্তব্য করেছেন, সিপিডি'র গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। সোমবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ আয়োজিত সংলাপে একথা বলেন তিনি। এসময় গোলাম মোয়াজ্জেম আরো বলেন, দেশে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা দিনদিন বাড়ছে। উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা ধরে রাখতে শিক্ষিত তরুণদের অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে আরো বেশি সম্পৃক্ত করতে হবে। তার মতে, সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে বেড়েছে বেতন বৈষম্য। এ অবস্থায় সর্বনিম্ন মজুরি নির্ধারণে 'জাতীয় মজুরী বোর্ড' গঠনের সুপারিশ করেন সংলাপে অংশ নেয়া বক্তারা। ...

২৩ এপ্রিলের পরীক্ষা পেছাল এইচএসসির

ভুলবশত একটি কেন্দ্রে ভূগোল দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের প্যাকেট খুলে ফেলায় ওই পরীক্ষা পিছিয়ে দিয়েছে সরকার। ভূগোল দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষার নির্ধারিত দিন ছিল ২৩ এপ্রিল সোমবার। ওই পরীক্ষা ১৪ মে নেওয়া হবে বলে রোববার আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক জানান। তিনি জানান, ময়মনসিংহের একটি কেন্দ্রে আজ ভুলবশত সোমবারের ভূগোল দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্নের একটি প্যাকেট খুলে ফেলা হয়। এজন্য সারা দেশে ওই পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। আগামী ১৪ মে ওই পরীক্ষা নেওয়া হবে। এইচএসসিতে রোববার ভূগোল (তত্ত্বীয়) প্রথম পত্রের পরীক্ষা হয়েছে।...

৭ মে এর মধ্যে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হবে

আগামী ৩ থেকে ৭ মের মধ্যে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হতে পারে বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেছেন, ৩ থেকে ৭ মের মধ্যে ফল প্রকাশের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সার-সংক্ষেপ পাঠানো হয়েছে। ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ৩ মে বৃহস্পতিবার, ওই দিন ফল না হলে ৬ বা ৭ মে হতে পারে। তবে বিষয়টি নির্ভর করছে প্রধানমন্ত্রীর উপর। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে থেকে যেদিন সময় দেওয়া হবে সেদিন ফল প্রকাশ করা হবে। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক তপন কুমার সরকার বলেন, ৩ থেকে ৭ মের মধ্যে ফল প্রকাশের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় যেদিন সময় নির্ধারণ করে দেবে সেদিনই ফল প্রকাশ করা হবে। নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষামন্ত্রী বোর্ডের চেয়ারম্যানদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ফলের অনুলিপি তুলে দেন। পরে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী। এরপর শিক্ষার্থীরা অনলাইন ও এসএমএসে ফল জানতে পারেন। গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এসএসসি ও সমমানের তত্ত্বীয় বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ব্যবহারিক পরীক্ষা ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়ে ৪ মার্চ শেষ হয়। সারা দেশে তিন হাজার ৪১২টি কেন্দ্রে মোট ২০ লাখ ৩১ হাজার ৮৮৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে ১০ লাখ ২৩ হাজার ২১২ জন ছাত্র ও ছাত্রীর সংখ্যা ১০ লাখ ৮ হাজার ৬৮৭ জন। এবার এসএসসিতে মোট পরীক্ষার্থী ১৬ লাখ ২৭ হাজার ৩৭৮ জন, মাদরাসা বোর্ডের অধীন দাখিল পরীক্ষায় দুই লাখ ৮৯ হাজার ৭৫২ জন এবং কারিগরিতে এক লাখ ১৪ হাজার ৭৬৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। বিগত কয়েক বছর থেকে তত্ত্বীয় বিষয়ের পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে ফল প্রকাশ করে আসছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।...

মুস্তাফিজ সাকিবকে নিয়ে যা বললেন

আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে পঞ্চম বোলার হিসেবে ৩০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন সাকিব আল হাসান। তবে বাঁহাতি বোলার হিসেবে তিনিই প্রথম ৩০০ উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়লেন! এর ফলে ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ততম ফরম্যাটে ৪০০০ রানের পাশাপাশি ৩০০ উইকেটের মালিক এখন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। আইপিএলে যে ম্যাচে সাকিব ৩০০ উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়েন সেই ম্যাচে তারই প্রতিপক্ষ ছিল কাটার মাস্টার মুস্তাফিজুর রহমানের দল মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। তবে দল হারলেও জাতীয় দল সতীর্থকে অভিনন্দন জানাতে ভুলেননি মুস্তাফিজ। টুইটারে মুস্তাফিজ লেখেন, মাঠে আরেকটা কঠিন দিন গেল, তবে খুব ভালো লাগছে সাকিব ভাইয়ের কীর্তিতে। বাঁহাতি স্পিনার হিসেবে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে প্রথম ৩০০ উইকেট আর দ্বিতীয় অলরাউন্ডার হিসেবে একই সঙ্গে ৪ হাজার রান! চালিয়ে যান।...

৩০০ উইকেটের মাইলফলক র্স্পশ টি-টোয়েন্টিতে সাকিবের

টাইগার অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ৩০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করলেন। জাতীয় দলসহ বিশ্বের বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে মোট ২৬০ ম্যাচে এই রের্কড গড়লেন তিনি। মঙ্গলবার আইপিএলের চলতি আসরে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বিপক্ষে সানরাইর্জাস হায়দরাবাদের হয়ে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের অধিনায়ক রোহিত শর্মাকে আউট করে বিশ্বের পঞ্চম বোলার হিসেবে এমন রের্কড গড়েন সাকিব আল হাসান। এ তালিকায় ৪১৭ উইকেট নিয়ে সবার উপরে রয়েছেন ওয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের অলরাউন্ডার ডোয়েন ব্র্যাভো। এরপর শ্রীলঙ্কার লাসিথ মালিঙ্গা (৩৪৮), সুনীল নারাইন (৩২৫) এবং পাকিস্তানের শহীদ আফ্রিদি।...

একসঙ্গে প্রথমবার

দীপ্ত টিভির জনপ্রিয় সিরিয়াল পালকীতে নাম ভূমিকায় অভিনয় করে দারুণ পরিচিতি পান অভিনেত্রী স্নিগ্ধা মোমিন। এরপর তাকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। এই অভিনেত্রী এখন বিভিন্ন সিরিয়াল ও খণ্ড নাটকের কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। অভিনয় করছেন এই সময়ের জনপ্রিয় অভিনেতাদের সঙ্গে জুটি বেঁধে। তারই ধারাবাহিকতায় প্রথমবারের মতো তিনি জুটি বাঁধলেন জনপ্রিয় অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরীর সঙ্গে। আসছে ঈদে তাদের দেখা যাবে প্রতি শনিবার নেওয়াজের চাচা মারা যান শিরোনামের একটি খণ্ড নাটকে। তারা ছাড়াও এই নাটকে আরো অভিনয় করেছেন আবুল হায়াত ও ঊর্মিলা শাবন্তী কর। এরইমধ্যে নাটকটির শুটিং শেষ হয়েছে। শাহজাহান সৌরভের চিত্রনাট্য ও সংলাপে এটি নির্মাণ করেছেন গোলাম সোহরাব দোদুল। এটিতে নেওয়াজ চরিত্রে অভিনয় করেছেন চঞ্চল চৌধুরী। স্নিগ্ধা মোমিন চরিত্রে থাকছেন সিঁথি। গল্পে দেখা যাবে, প্রতি শনিবারে সিঁথির সঙ্গে নেওয়াজের দেখা করতে হয়। কারণ শনিবার ছাড়া সিঁথি বাসা থেকে বের হতে পারে না। এদিকে সিঁথির সঙ্গে দেখা করার জন্য অফিসের বসের কাছে নেওয়াজকে একেক শনিবারে একেকটি কারণ দেখাতে হয়। তবে অফিসে নেওয়াজ প্রতি শনিবারে সমস্যা দেখান তার চাচাকে নিয়ে। অবশেষে একদিন সত্যি সত্যি তার চাচা একটি দুর্ঘটনায় পড়েন। নাটকটি প্রসঙ্গে স্নিগ্ধা মোমিন বলেন, অনেক মজার একটি গল্পের নাটক এটি। এটিতে চঞ্চল ভাইয়ের কাজের অভিজ্ঞতাও বেশ ভালো। তার সঙ্গে কাজ করে অনেক কিছু শিখেছি। এছাড়া এটি কমেডি গল্পের নাটক হলেও দর্শক শেষে ভালো একটি ম্যাসেজ পাবেন।...

সেন্সর ছাড়পত্র পেলো বিনা কর্তনে 'চালবাজ'

ভারতের পর এবার বাংলাদেশে মুক্তি পেতে যাচ্ছে শাকিব ও শুভশ্রীর নতুন ছবি চালবাজ। সোমবার বিকালে ছবিটি বিনা কর্তনে সেন্সর ছাড়পত্র পেয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সেন্সরবোর্ডের সদস্য নাসির উদ্দিন দিলু। তিনি বলেন, ছবিটি ভালো লেগেছে। এটি দেখার পর বোর্ডের সবার সিদ্ধান্তে বিনা কর্তনে ছাড়পত্র দেয়া হয়। এদিকে তিনদিন আগে লন্ডন থেকে ঢাকায় ফিরেছেন শাকিব খান। তিনি সেন্সর ছাড়পত্রের খবর জানার পর বলেন, ছবিটি পহেলা বৈশাখে মুক্তি পেলে আরও ভালো হতো। অনেক সুন্দর গল্পের ছবি এটি। ছবির কাহিনীতে রোমান্স, কমেডি, অ্যাকশন সবই রয়েছে। আমার বিশ্বাস, দর্শক ছবিটি দেখলে পছন্দ করবে। ভারতের একশর বেশি প্রেক্ষাগৃহে এরইমধ্যে গত সপ্তাহে মুক্তি পেয়েছে চালবাজ। আর বাংলাদেশে ২৭শে এপ্রিল ছবিটি মুক্তি পাচ্ছে। চালবাজ ছবিটি প্রযোজনা করেছে কলকাতার এস কে মুভিজ। পরিচালনা করেছেন কলকাতার পরিচালক জয়দ্বীপ মুখার্জি। আর ভারত থেকে ছবিটি বাংলাদেশের দর্শকদের জন্য আমদানি করেছে এন ইউ ট্রেডার্স। সাফটা চুক্তির ভিত্তিতে চালবাজ বাংলাদেশে মুক্তি পেতে যাচ্ছে আর বাংলাদেশের ছবি অজান্তে ভালোবাসা ভারতের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে। শাকিব খান-শুভশ্রী ছাড়াও চালবাজ ছবিতে অভিনয় করেছেন রজতাভ দত্ত, খরাজ মুখোপাধ্যায়, কাজী হায়াত, হাসান ইমাম, আশিষ বিদ্যার্থী প্রমুখ। উল্লেখ্য, এর আগে শাকিব খান ও শুভশ্রী অভিনীত নবাব ছবিটি মুক্তি পেয়ে বেশ সাড়া ফেলে।...

শংখ নদীতে ডুবে ২ পর্যটকের মৃত্যু:বান্দরবানে

বান্দরবানে বেড়াতে এসে গোসল করতে নেমে শংখ নদীতে ডুবে দুই পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার দুপুর ২টায় রুমা বাজার সংলগ্ন বড়ুয়া পাড়া ঘাটে এ ঘটনা ঘটে। রুমা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সামসুল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, পানিতে ডুবে মারা যাওয়া শান্তনু সরকার (২৬) এবং জুনায়েদ আহসান জুয়েলের (২৪) মরদেহ উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়েছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, শান্তনু সরকার ঢাকার ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সিএসই বিভাগের প্রভাষক এবং জুনায়েদ আহসান জুয়েল ঢাকা টেক্সটাইল ইউনিভার্সিটির ছাত্র। অন্য আরো দুই বন্ধুসহ তারা চার বন্ধু গত বৃহষ্পতিবার বান্দরবানের রুমা উপজেলায় বগালেক পর্যটন কেন্দ্রে থাকেন। শনিবার সেখান থেকে রুমা উপজেলা সদরে পৌঁছে ওই ৪ বন্ধু শংখ নদীর বড়ুয়া পাড়া ঘাটে নামে। এক পর্যায়ে তারা ডুবতে শুরু করলে দুইজন সাঁতরে তীরে আসতে পারলেও শান্তনুকে রক্ষা করতে গিয়ে জুনায়েদও পানিতে তলিয়ে যায়।...

সেন্টমার্টিনে আটকা পড়েছেন সাত শতাধিক পর্যটক

বৈরী আবহাওয়ার কারণে কক্সবাজারের সেন্টমার্টিনে বেড়াতে গিয়ে আটকা পড়েছেন সাত শতাধিক পর্যটক। এ ছাড়া ভ্রমণে আসা প্রায় তিন হাজার পর্যটক সেন্টমার্টিনে যেতে পারেননি। বঙ্গোপসাগর নিম্নচাপের প্রভাবে বৈরী আবহাওয়ায় উপকূলে ৩ নম্বর সতর্কতা সংকেত জারি থাকায় শনিবার সকালে টেকনাফ থেকে কোনো জাহাজ সেন্টমার্টিন যায়নি। ফলে পর্যটকরা ফিরতে পারছেন না। তবে আটকাপড়া পর্যটকরা নিরাপদে আছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। আটকে পড়া এই পর্যটকরা শুক্রবার সকালে সেন্টমার্টিন ভ্রমণে গিয়েছিলেন। কক্সবাজার আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সহকারী আবহাওয়াবিদ উজ্জ্বল কান্তি পাল বলেন, নিম্নচাপটি আরও উত্তর-উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হয়ে গভীর নিম্নচাপ আকারে একই এলাকায় অবস্থান করছে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগরে গভীর সঞ্চারণশীল মেঘমালার সৃষ্টি হচ্ছে। এ কারণে আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে ৩ নম্বর সতর্কতা সংকেত জারি করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাগর ও নাফ নদীতে মাছ শিকার ও পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। সেনমার্টিনে আটকে পড়া ঢাকার পেট্রোবাংলার ব্যবস্থাপক (সাধারণ) জিয়াউর করিম মুঠোফোনে বলেন, শুক্রবার সকালে ১৭ জন বন্ধু মিলে সেন্টমার্টিন দ্বীপে ভ্রমণে আসি। শনিবার সকালে জানতে পারি বৈরী আবহাওয়ার কারণে টেকনাফ থেকে কোনো জাহাজ সেন্টমার্টিন যাচ্ছে না। ফলে দ্বীপে আটকা পড়েছি সবাই। আমাদের মতো দ্বীপে আরও শত শত পর্যটক আটকা পড়েছে। পর্যটকবাহী জাহাজ কেয়ারি সিন্দাবাদের ব্যবস্থাপক মো. শাহ আলম বলেন, সাগর উত্তাল ও বৈরী আবহাওয়ার জাহাজ চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে ভ্রমণে আসা প্রায় সাত শতাধিক পর্যটক দ্বীপে আটকা পড়েছেন। তারা বিভিন্ন হোটেল-মোটেলে নিরাপদে আছেন। সাগর স্বাভাবিক হয়ে গেলে সেন্টমার্টিনে আটকে পড়া পর্যটকদের ফিরিয়ে আনা হবে। শনিবার দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে প্রায় পাচঁ শতাধিক পর্যটক সেন্টমার্টিন যেতে পারেননি উল্লেখ করে শাহ আলম জানান, এতে যাত্রীদের টিকিটের টাকা ফেরত দিতে হয়েছে। সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুর আহমদ জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় হঠাৎ আবহাওয়া খারাপ হওয়ায় শনিবার সকাল থেকে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন রুটে জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে সেন্টমার্টিনে হাজার খানেক পর্যটক আটকা পড়ে। এর মধ্যে শনিবার সকালেই ঝুঁকি নিয়ে ট্রলারে করে প্রায় তিনশ পর্যটক টেকনাফ ফিরে গেছেন। এরপরও দ্বীপে সাত শতাধিক পর্যটক আটকা পড়েছেন। তাদের যাতে খাবারসহ কোনো ধরনের অসুবিধা না হয়, সে ব্যাপারে খেয়াল রাখা হচ্ছে। টেকনাফ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শেখ আশরাফুজ্জামান বলেন, সেন্টমার্টিনে আটকেপড়া পর্যটকরা যেন হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় তারা টেকনাফ ফিরতে পারেনি। টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদ হোসেন সিদ্দিকী বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সেন্টমার্টিনে আটকেপড়া পর্যটকদের খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। তারা সবাই নিরাপদে আছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তাদের ফিরিয়ে আনা হবে।...

ঐতিহাসিক ৭ মার্চ

উত্তাল মার্চের সপ্তম দিন আজ। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অমর ভাষণের সেই ঐতিহাসিক দিন। দিনটি বাঙালির ইতিহাসে অবিস্মরণীয় ও গৌরবের। বীর বাঙালি ঐতিহাসিক ৭ মার্চ দিনটিকে বিশেষ মর্যাদায় পালন করে। ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর ইউনেস্কো ৭ মার্চের বঙ্গবন্ধুর ভাষণকে বিশ্ব ঐতিহ্য দলিল হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। প্যারিসে ইউনেস্কোর প্রধান কার্যালয়ে সংস্থাটির মহাপরিচালক ইরিনা বুকোভা এ ঘোষণা দেন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বিশ্বের আন্তর্জাতিক রেজিস্টার স্মৃতিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এটি ইউনেস্কোর তৈরি বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ প্রামাণ্য ঐতিহ্যের একটি তালিকা। ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। দিনটি উপলক্ষে আওয়ামী লীগ নানা কর্মসূচি পালন করবে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আজ দুপুর ২টায় রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এক জনসভা অনুষ্ঠিত হবে। আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণ দেবেন। ইউনেস্কোর নিজস্ব ওয়েবসাইটে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বিশ্ব ঐতিহ্য স্মরণিকা হিসেবে নির্বাচনের কারণ সম্পর্কে বলা হয়েছে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক প্রদত্ত। তিনি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের জনগণের স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এর আগে ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদে আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছিল। কিন্তু ওই সময় পাকিস্তানের সামরিক শাসক আওয়ামী লীগ নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরে অস্বীকৃতি জানায়। ওই ভাষণ কার্যকরভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিল। ২০১৭ সালের ১৮ নভেম্বর বিকালে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নাগরিক সমাবেশে ঢাকায় নিযুক্ত ইউনেস্কোর কান্ট্রি ডিরেক্টর বিট্রিচ কালদুল বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণকে ডকুমেন্টারি হেরিটেজ হিসেবে মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টারে যুক্ত করে নিয়েছে ইউনেস্কো। এজন্য ইউনেস্কোও গর্বিত। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণটি ঐতিহাসিক নথি ও প্রামাণ্য দলিল হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। একটি ভাষণের মাধ্যমে একটি জাতিকে একত্রিত করার ইতিহাসের দলিল এটি। একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট। ভাষণটির ওপর অনেক পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব অপরিসীম। ১৯৭১ সালের এই দিনে তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) সমবেত লাখো মানুষকে উদ্দেশ করে বঙ্গবন্ধু বলেন- এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। পাকিস্তানি শাসকদের অত্যাচার-শোষণের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক আন্দোলনে সাড়া দেয়া জনতার কাছে বঙ্গবন্ধুর এ ঘোষণা ছিল শতভাগ প্রত্যাশিত। ভাষণে বঙ্গবন্ধু কৌশলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা দিলেও ঘোষণার মর্মার্থ বুঝতে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী খানিক দ্বিধায় পড়ে। তবে নতুন দেশের স্বপ্নে বিভোর বাঙালি জাতি ঠিকই বুঝে নেয় বঙ্গবন্ধুর ভাষণের তাৎপর্য। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করার আহ্বানের অধীর অপেক্ষায় ছিল বাঙালি জাতি। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ সেই অপেক্ষার অবসান ঘটায়। বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ডাক বিদ্যুৎগতিতে ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে। ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, ৭ মার্চ বিকাল ৩টা ১৯ মিনিটে বঙ্গবন্ধু রেসকোর্স ময়দানে উপস্থিত হন। লাখো মানুষের উপস্থিতিতে ময়দান ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। উপস্থিত জনতাকে বঙ্গবন্ধু যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দেন। বঙ্গবন্ধু বলেন, এরপর যদি একটি গুলি চলে, এরপর যদি আমার লোককে হত্যা করা হয়- তোমাদের কাছে আমার অনুরোধ রইল, প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোল। তোমাদের যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করতে হবে। আমি যদি তোমাদের হুকুম দিবার নাও পারি, তোমরা সব বন্ধ করে দেবে। ... রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরও দেব। এই দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব ইনশাআল্লাহ। ওইদিন একই মঞ্চে বঙ্গবন্ধুর ভাষণের আগে বক্তব্য রাখেন আ স ম আবদুর রব, নূরে আলম সিদ্দিকী, শাজাহান সিরাজ, আবদুল কুদ্দুস মাখন, আবদুর রাজ্জাক প্রমুখ। বঙ্গবন্ধুর এই ১৯ মিনিটের ভাষণ মুক্তিযুদ্ধের ৯ মাস দারুণ অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল। আজও অনেকের কাছে বঙ্গবন্ধুর ওই ভাষণ অফুরান অনুপ্রেরণার উৎস। একাত্তরের এই ঐতিহাসিক দিনে কেবল বঙ্গবন্ধুর তরফেই নয়, কমিউনিস্ট বিপ্লবীদের পূর্ববাংলা সমন্বয় কমিটি স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গেরিলা যুদ্ধের আহ্বান জানায়। সংগঠনটির প্রচারপত্রে আহ্বান জানানো হয়-আঘাত হানো সশস্ত্র বিপ্লব শুরু করো জনতার স্বাধীন পূর্ববাংলা কায়েম করো। পূর্ব পাকিস্তান ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-ন্যাপ (মুজাফফর) পাকিস্তানের শাসনতন্ত্রের জন্য ১৭ দফা প্রস্তাব দেয়। ওই প্রস্তাবে বিচ্ছিন্ন হওয়ার অধিকারসহ আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারও দাবি করা হয়। আওয়ামী লীগের কর্মসূচি : ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে আওয়ামী লীগের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- আজ সকাল সাড়ে ৬টায় রাজধানীর ধানমন্ডির বঙ্গবন্ধু ভবনসহ দলীয় সব কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং সকাল ৭টায় বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে দলের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন। এছাড়া দিনটি উপলক্ষে দুপুর ২টায় রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভায় আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান অতিথির ভাষণ দেবেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণের স্মৃতিবিজড়িত ৭ মার্চ পালন করতে আওয়ামী লীগ ঘোষিত সব কর্মসূচি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের জন্য সংগঠনের সর্বস্তরের নেতাকর্মী এবং সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনসহ সর্বস্তরের জনগণ ও দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।...

আবার মুখোমুখি দেশের বড় দুই রাজনৈতিক দল , টান টান উত্তেজনা

আগামীকাল ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়কে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে টান টান উত্তেজনা চলছে। দুর্নীতির মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাজা হবে নাকি তিনি খালাস পাবেন, আর সাজা হলে কেমন হবে পরিস্থিতি তা নিয়ে সর্বমহলে আলোচনা আছে। এ অবস্থায় দীর্ঘদিন পর আবার মুখোমুখি দেশের দুই বড় রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। ৮ ফেব্রুয়ারি মাঠ দখলে মরিয়া উভয় দল। পাল্টাপাল্টি প্রস্তুতি চলছে দুই পক্ষেই। রায় নেতিবাচক হলে প্রতিবাদ কর্মসূচির প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। আর রাজপথে কোনো ধরনের সহিংসতা করতে না দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে আওয়ামী লীগ। ওইদিন গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলারও ঘোষণা দিয়েছে সরকারি দল। যে কোন অরাজক পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্কতায় থাকবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বিএনপির নেতা-কর্মীদের ধারণা, দুর্নীতি মামলায় দলের চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে নেতিবাচক রায় হবে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপিকে বাইরে রাখতেই সরকার এ পথে হাঁটছে বলে তারা মনে করে। সে কারণে রায় নেতিবাচক হলেই আন্দোলনে যাবে বিএনপি। এ জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে কার পরামর্শে দল চলবে সেসব সিদ্ধান্তও হয়েছে। আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকেই গুলশান বিএনপি নেত্রীর বাড়ি থেকে পুরান ঢাকার বকশীবাজারের বিশেষ আদালত পর্যন্ত রাজপথে থাকবে দলটির নেতা-কর্মীরা। এ জন্য দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের দায়িত্ব বণ্টন করে দেওয়া হয়েছে। সহযোগী সংগঠনগুলোকেও সেভাবে প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। গুলশান থেকে বকশীবাজার পর্যন্ত খালেদা জিয়া যে পথ দিয়ে আদালতে যাবেন সে পথে মানববন্ধনের মাধ্যমে নেতা-কর্মীরা ঢাকার শক্তি জানান দেবেন। তবে কোনো ধরনের উসকানি দেবে না তারা। আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র জানায়, দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার সাজা হবে বলে মনে করেন তারা। সে কারণে ওইদিন রাজপথে বিএনপি ব্যাপক সহিংসতা করতে পারে বলে তাদের কাছে খবর আছে। তাই ওইদিন সকাল থেকে রাজধানীর পাড়া-মহল্লায় সতর্ক থাকবে আওয়ামী লীগ, সহযোগী সংগঠন ও ১৪ দলের নেতা-কর্মীরা। তারা পরিস্থিতির আলোকেই ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এ জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে রাজধানীর সকল থানাসহ এবং সারাদেশে পুলিশ সুপারদের প্রয়োজনীয় নিদের্শনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে। এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ৮ ফেব্রুয়ারিকে ঘিরে সব ধরনের নৈরাজ্য পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত আছে। কোনো নাশকতা ও নৈরাজ্য করতে দেওয়া হবে না। এদেশের মানুষ তা সহ্য করবে না। এদিকে কেন্দ্রীয় ১৪ দল বৈঠক করে খালেদা জিয়ার রায়ের দিন মাঠে সতর্ক থাকার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। বৈঠক শেষে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও সংগঠনের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ১৪ দলের নেতা-কর্মীরা সতর্ক থাকবে। শুধু ৮ ফেব্রুয়ারি নয়, নির্বাচন পর্যন্ত সজাগ ও সতর্ক থাকবে তারা। ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ ইতিমধ্যে বর্ধিত সভা করে তারা রাজপথে সক্রিয় থাকার কথা জানান দিয়েছেন। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আজ গুলিস্তানের দলীয় কার্যালয়ে বর্ধিত সভার আয়োজন করেছে। একইভাবে আজ আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর সঙ্গে দলের সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের যৌথ সভার আয়োজন করা হয়েছে। সভা থেকে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারির করণীয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। কারা কোথায় এবং কীভাবে অবস্থান করবেন সেটা নির্দেশনা দেওয়া হবে। রাজনীতির অন্দরমহলে আলোচনা হচ্ছে, বকশীবাজারের আদালত থেকে কোন দিকে যাবেন খালেদা জিয়া। নানা আলোচনা। নানা মত। খালেদা জিয়া খালাস পেলে বিকল্পের আলোচনা নেই। তিনি সোজা গুলশানে যেতে পারবেন। অন্য কোথাও যাওয়াও তারই মর্জি। রায় বিপক্ষে গেলে গন্তব্য কোন দিকে হবে। বাংলাদেশের প্রচলিত বিচার ব্যবস্থায় সাধারণত কারও দণ্ড হলে কারাগারে না গিয়ে আপিলের সুযোগ নেই। তৃণমূল অবশ্য খালেদা জিয়ার বিপক্ষে রায় গেলে হার্ডলাইনে যাওয়ার পক্ষে। ঢাকার বাইরের নেতাদের কেউ কেউ ইতিমধ্যে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করে তাদের মনোভাবের কথা জানিয়েছেন। সূত্রমতে, রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংস, জ্বালাও পোড়াও করা শুরু করে তাহলে স্থানীয় জনগণ, পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে আওয়ামী লীগ। বিএনপিকে রাজপথে সহিংসতা করতে দেবে না তারা। মূলত জাতীয় নির্বাচনের আগে বিএনপিকে সাংগঠনিক শক্তি দেখানোর সুযোগ দিতে নারাজ ক্ষমতাসীন দল। ...

পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন তারেক রহমান,সারেন্ডার করেননি: রিজভী

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান রাজনৈতিক আশ্রয়ের জন্য যুক্তরাজ্যের হোম ডিপার্টমেন্টে তার পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন, কিন্তু সারেন্ডার করেননি। বৃহস্পতিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এ সময় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, তারেক রহমান ব্রিটেনের আইন মোতাবেক সেখানে বসবাস করছেন। এ কথাটি আমি এবং আমার দলের পক্ষ থেকে আপনাদের কাছে বারবার উপস্থাপন করা হয়েছে। রিজভী আরও বলেন, তারেক রহমান বাংলাদেশের নাগরিকত্ব বর্জন করেননি। যুক্তরাজ্যের অভিবাসন আইনে শত শত দেশের নাগরিকরা যেভাবে পলিটিক্যাল অ্যাসাইলাম নিয়ে অবস্থান করেন, সেভাবেই তিনি সেখানে অবস্থান করছেন। এ সময় বিএনপির মুখপাত্র প্রশ্ন রেখে বলেন, আওয়ামী লীগপ্রধান শেখ হাসিনার কাছে জানতে চাই- আপনি কিভাবে দিল্লিতে নির্বাসিত জীবন কাটিয়েছিলেন? রাজনৈতিক আশ্রয়ে কিভাবে ছিলেন? আপনার ছোট বোন শেখ রেহানা কিভাবে ব্রিটেনে অবস্থান করেছিলেন? রিজভীর অভিযোগ, সরকার তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতে ব্যর্থ হয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমকে দিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ কাগজপত্র উপস্থাপন করাচ্ছে। কিন্তু শাহরিয়ার আলম দেশের মানুষের সমালোচনার মুখে নিজের ফেসবুক থেকে উপস্থাপিত কাগজপত্র সরিয়ে ফেলেছেন বলে দাবি করেন এ বিএনপি নেতা। সংবাদ সম্মেলনে বুধবার গ্রেফতার বগুড়ার শাহজাহানপুর উপজেলা ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রেজা ও গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা যুবদল সভাপতি জাকির হোসেন জুয়েলের মুক্তি দাবি করা হয়।...

বাকশাল চালুর ইঙ্গিত হানিফের বক্তব্যে: রিজভী

শেখ হাসিনা যতদিন জীবিত আছেন, ততদিন পর্যন্ত আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে ক্ষমতায় থাকবে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফের এই বক্তব্য স্বীকৃত স্বৈরাচারী সরকারেরই যথার্থ প্রতিধ্বনি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, তার এই বক্তব্য গণতন্ত্রকে চিরদিনের জন্য নির্বাসনে পাঠিয়ে বাকশাল পুরোদমে চালু রাখার ইঙ্গিতবাহী। তারা যে দেশকে গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে চায়, তার বক্তব্য সেটিরই বহি:প্রকাশ। বৃহস্পতিবার সকালে নয়া পল্টনে দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে রুহুল কবির রিজভী এসব বলেন। এসময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কিভাবে দিল্লিতে নির্বাসিত জীবন কাটিয়েছিলেন? রাজনৈতিক আশ্রয়ে কিভাবে ছিলেন? তার ছোট বোন শেখ রেহানা কিভাবে ব্রিটেনে অবস্থান করেছিলেন? জাতির সামনে এর জবাব দেয়ার আহ্বান জানান রিজভী। তিনি বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে সরকারি ষড়যন্ত্রের যেন শেষ নেই। তারেক রহমানকে নিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের বক্তব্যে সাধারণ মানুষের মাঝে সমালোচনার ঝড় বইছে। সমালোচনার মুখে তিনি তার ফেসবুকে পোস্ট দেওয়া সকল ডকুমেন্টস সরিয়ে নিয়ে এখন বলছেন, তার ফেসবুক হ্যাকড হয়েছে। মূলত প্রশ্নবিদ্ধ কাগজপত্র উপস্থাপন করে তিনি সবার কাছে হাসির পাত্রে পরিণত হয়েছেন। বিএনপির এই নেতা বলেন, তারেক রহমান ব্রিটেনের আইন মোতাবেক সেখানে বসবাস করছেন যা দলের পক্ষ থেকে বার বার উপস্থাপন করা হয়েছে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে নানাভাবে ষড়যন্ত্র ও তদ্বির করে ব্যর্থ হয়ে তার কেবিনেটের প্রতিমন্ত্রীকে দিয়ে জাতির সামনে প্রশ্নবিদ্ধ কাগজপত্র উপস্থাপন করাচ্ছেন। দেশের মানুষের সমালোচনা ও প্রত্যাখানের মুখে শাহরিয়ার আলম তার ফেসবুক থেকে উপস্থাপিত কাগজপত্র সরিয়ে ফেলেছেন। বিনা ভোটের সরকারকে সবসময় জাল জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েই চলতে হয়। আমি পরিষ্কার ভাষায় আবারো বলতে চাই- তারেক রহমান বাংলাদেশের নাগরিকত্ব বর্জন করেননি। যুক্তরাজ্যের অভিবাসন আইনে শত শত দেশের নাগরিকরা যেভাবে পলিটিক্যাল অ্যাসাইলাম নিয়ে অবস্থান করেন সেভাবেই তিনি সেখানে অবস্থান করছেন। তিনি যুক্তরাজ্যের হোম ডিপার্টমেন্টে পলিটিক্যাল এসাইমেন্টের জন্য তার পাসপোর্টটি জমা দিয়েছেন, সারেন্ডার করেননি। রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেছেন, শেখ হাসিনা যতদিন জীবিত আছেন, ততদিন পর্যন্ত শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে ক্ষমতায় থাকবে, শেখ হাসিনা ততদিন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী থাকবেন। ২০১৮ সাল নয়, ২০২৪ সালে নয়, ২০২৯ সালের পরে তাদের ক্ষমতায় আসার জন্য ভাবনা করতে হবে। আওয়ামী লীগ নেতার এই বক্তব্য স্বীকৃত স্বৈরাচারী সরকারেরই যথার্থ প্রতিধ্বনি। এই বক্তব্যে গণতন্ত্রকে চিরদিনের জন্য নির্বাসনে পাঠিয়ে বাকশাল পুরোদমে চালু রাখার ইঙ্গিতবাহী। তারা যে দেশকে গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে চায়, তার বক্তব্য সেটিরই বহি:প্রকাশ। তিনি বলেন, দেশজুড়ে বেকারত্ব, রাজনৈতিক মতপ্রকাশে স্বাধীনতাহরণ, লুটপাট ও দমননীতির বেপরোয়া উত্থানকে আরো দীর্ঘায়িত করা। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে বেআইনী কারাবাসে আটকে রেখে তাকে যথাযথ চিকিৎসা না দিয়ে তার অসুস্থতা তীব্র থেকে তীব্রতর করার এক ভয়ঙ্কর মাস্টারপ্ল্যানের যে অংশ, তা হানিফ সাহেবের বক্তব্যে ফুটে উঠেছে। দেশনেত্রীর অসুস্থতা নিয়ে মানুষের উদ্বিগ্ন মনকে অন্যদিকে নিবদ্ধ করার জন্যই সরকারের নানা কারসাজির মধ্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নাগরিকত্ব নিয়ে উদ্ভট, ভুয়া ও হাস্যকর প্রশ্ন তোলা আরেকটি কারসাজি। তিনি বলেন, হানিফ সাহেবের বক্তব্যে কী প্রমাণ হলো আপনারা সদলবলে ভারতে গিয়েছিলেন কী ক্ষমতায় টিকে থাকতে দেনদরবার করতে? বিভিন্ন মাধ্যমে সরকার জেনে গেছে যে, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ ২০/২২টির বেশি আসন পাবে না। তাই একতরফা নির্বাচনের পক্ষে নাক গলাতে তারা দৌড়ঝাপ শুরু করে দিয়েছে। দেশকে গণতন্ত্রহীন করে আওয়ামী সরকার সন্ত্রাসবাদের মাধ্যমে গোটা দেশকে নিয়ন্ত্রণ করছে। হানিফ সাহেবের বক্তব্যে জাতির সামনে ভয়ঙ্কর তথ্য বেরিয়ে আসলো, গণতন্ত্র বিধ্বংসী আওয়ামী লীগের পকিল্পনার বহিঃপ্রকাশ ঘটলো। কিন্তু জনগণ এবার আর বিন্দুমাত্র ছাড় দেবে না। রিজভী বলেন, গতকাল বগুড়ায় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নি:শর্ত মুক্তির দাবিতে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হেলালুজ্জামান তালুকদা লালুর নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা লিফলেট বিতরণের এক পর্যায়ে বগুড়ার শাহজাহানপুর উপজেলা ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রেজাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা যুবদল সভাপতি জাকির হোসেন জুয়েলকেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আমি তাদেরকে গ্রেফতারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে তাদের নি:শর্ত মুক্তি দাবি করছি।...

পায়ের গন্ধ দূর করবেন কীভাবে?

ছোট থেকে বড় অনেকেই পায়ে মোজা পরতে ভয় পান। কারণ কিছুক্ষণ পায়ে পরে থাকলেই মোজা থেকে কটু গন্ধ বেরয়। এমনকী এও দেখা গিয়েছে, মোজা না পরলেও পায়ে গন্ধ হচ্ছে অনেকের। গন্ধ হয়ে থাকে জুতো। প্রতিদিন রোদে না শুকিয়ে নিলে পায়ে পরা যায় না। খেয়াল করলে দেখা যাবে এই সব মানুষের পায়ের সঙ্গে হাতের তালুও ঘামে। বস্তুত, এই ঘাম বেরনোর সঙ্গেই রয়েছে শরীরে দুর্গন্ধ হওয়ার মূল যোগাযোগ। #ঘাম কেন হয়? ঘাম হল আমাদের শরীর থেকে বেরনো তরল পদার্থ। ত্বকের নিচে থাকা এক্রাইন গ্রন্থি থেকে ঘাম নির্গত হয়। দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘর্মগ্রন্থির যথেষ্ট ভূমিকা রয়েছে। দেহের উষ্ণতার তুলনায় বাইরে পরিবেশের তাপমাত্রা বেড়ে গেলে আমরা ঘামতে শুরু করি। এভাবেই শরীর ঠান্ডা হয়। মানবশরীরে প্রায় ৪০ লক্ষ এক্রাইন গ্রন্থি ছড়িয়ে রয়েছে। মজার ব্যাপার হল, সারা শরীরে ঘর্মগ্রন্থি ছড়িয়ে থাকলেও হাত পায়ের তালুতে ঘর্মগ্রন্থির ঘনত্ব সবচাইতে বেশি। কারও কারও ক্ষেত্রে হাতের এবং পায়ের তালু বেশি ঘামে। এইসব মানুষের হাত ও পায়ের তালুর এক্রাইন গ্রন্থি কোনও কারণ ছাড়াই বেশি পরিমাণে ঘাম নিঃসরণ করে। এই ধরনের সমস্যাকে বলে পামোপ্লান্টার হাইপারহাইড্রোসিস। বাচ্চা থেকে বড় সবাই এই অসুখে ভুগতে পারেন। দেখা গিয়েছে, আবেগ, মানসিক চাপ নানা কারণে হাত এবং পায়ের তালু ঘামতে থাকে। অফিসের একটু কঠিন কাজ পড়ে গেলে, টেনশন হলে, বাড়ির বাইরে হঠাৎ কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতিতে পড়লে হাতের ও পায়ের তালু ঘামার সঙ্গে হাত কাঁপার সমস্যাও হয়। ছাত্রছাত্রীদের ক্ষেত্রে হাত ঘামার কারণে পরীক্ষার খাতা ভিজে যায়। বড়দের ক্ষেত্রে জরুরি কাগজে সই করার সময় কাগজ ভিজে নষ্ট হয়ে যায়। এমনকী যাদের হাতের তালু ঘামার সমস্যা থাকে তাদের সেনাবাহিনীতেও নেওয়া হয় না। কারণ ঘামের কারণে হাত থেকে অস্ত্র পিছলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। দেখা গিয়েছে যাঁদেরই বেশি ঘাম হয়, তাঁরা শরীর থেকে খুব খারাপ গন্ধ হওয়ার অভিযোগ জানান। #কেন হয় দুর্গন্ধ? আসলে শরীর থেকে ঘাম বেরলে বিশেষ ধরনের ব্যাকটেরিয়া বংশবৃদ্ধি করতে থাকে। এই ব্যাকটেরিয়ার নাম স্ট্যাফাইলোকক্কাস হোমিনিস। এই ব্যাকটেরিয়াই দুর্গন্ধের মূল উৎস। তাই যাঁদের পা বেশি ঘামে তারা মোজা পরলে পায়ে আর মোজায় বেশ দুর্গন্ধ হয়। # চিকিৎসা: এই ধরনের সমস্যার চটজলদি সমাধান নেই। তবে নানাভাবে চিকিৎসা করার সুযোগও রয়েছে। রোগীর অবস্থা বুঝে চিকিৎসক অ্যালুমিনিয়াম হেক্সাহাইড্রেট লোশন, ফর্ম্যালডিহাইড এবং গ্লুটারালডিহাইড দ্রবণ, বটুলিনিয়াম টক্সিন জাতীয় ইঞ্জেকশন ও আয়নটোফোরেসিস পদ্ধতিতে চিকিৎসা করার কথা ভাবেন। এমনকী দরকার পড়লে অপারেশনও রয়েছে। #লোশন: প্রতিদিন রাতে পা শুকনো করে মুছে নিয়ে তারপর অ্যালুমিনিয়াম হেক্সাহাইড্রেট লোশন মাখতে হবে। সকালে উঠে পা ধুয়ে ফেললেই চলে। রোগীকে একটানা বেশ কিছুদিন ধরে এইভাবে লোশন দিয়ে চিকিৎসা করতে হতে পারে। সাধারণত যে পথে ঘাম বেরিয়ে ত্বকে আসে, সেই কূপের মুখ বন্ধ করে দেয় লোশন। তবে পায়ের ফাটা অংশে এই লোশন ব্যবহার করা যাবে না। সেক্ষেত্রে পায়ে নানা ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেওয়ার আশঙ্কা থাকে। # দ্রবণ: রোগীরা চাইলে ফর্ম্যালডিহাইড এবং গ্লুটারালডিহাইড দ্রবণে হাত এবং পা ডুবিয়ে রাখতে পারেন। এভাবে ত্বকের উপরে আক্রান্ত জায়গাগুলির চিকিৎসা করা যায়। # আয়নটোফোরেসিস: একটি যন্ত্র এবং ট্যাপ কলের জলের সাহায্যে মৃদু বিদ্যুৎ তরঙ্গ (১৫ থেকে ২০ মিলি অ্যাম্পেয়ার) প্রয়োগ করা হয় ত্বকের উপরিভাগে। পর পর ১০ দিন ৩০ মিনিট করে এই চিকিৎসা চালাতে হয়। এরপর সপ্তাহে ১ বা ২ দিন এই চিকিৎসা করালেই চলে। এর সঙ্গে অ্যান্টিকোলিনার্জিক ওষুধও দেওয়া হতে পারে। # বটুলিনাম টক্সিন: হাত ও পায়ের ঘাম ও দুর্গন্ধ বাগে আনতে বটুলিনাম টক্সিন ইঞ্জেকশন দেওয়া যায়। ভয় পাওয়ার কিছু নেই। এই চিকিৎসা প্রায় ব্যথাহীন। ক্ষুদ্রাকৃতি সুঁচের সাহায্যে হাত পায়ের তালুতে ইঞ্জেকশনের সাহায্যে ওষুধ পুরে দেওয়া হয়। # মুখে খাওয়ার ওষুধ: মুখে খাওয়ার অ্যান্টিকোলিনার্জিক ওষুধ রয়েছে। ওষুধগুলি ঘাম নিঃসরণ রোধ করে। তবে এই ওষুধগুলির কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে। নিয়মিত এই ওষুধ সেবনে রোগীর মুখ ও চোখে চোখ শুষ্কভাব দেখা যায়। হতে পারে কোষ্ঠকাঠিন্য। কারও কারও ক্ষেত্রে ইউরিন করতেও সমস্যা দেখা দেয়। দুঃশ্চিন্তা কমানোর যে সমস্ত ওষুধ রয়েছে সেগুলি খেলেও সমস্যা কিছুটা কমে, তবে এই ধরনের ওষুধের প্রতি রোগীর আসক্ত হয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। #অপারেশন: রোগীর শোচনীয় অবস্থা না হলে এবং সব ধরনের চিকিৎসা ব্যর্থ হলে তারপর অপারেশনের কথা ভাবেন চিকিৎসক। তবে সার্জারি করালে রোগীর সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়। এই অপারেশনের নাম সার্জিকাল সিমপ্যাথেকটমি। বড়সড় কাটাছেঁড়া করতে হয় না। মিনিমালি ইনভেসিভ এন্ডোস্কোপিক পদ্ধতিতে সার্জারি করা হয় বলে রোগীর শরীরে সামান্য ক্ষত তৈরি হয়। রোগী খুব দ্রুত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেন। ঘরোয়া উপায় #পায়ের দুর্গন্ধের কারণ কী? # শরীরের অত্যধিক ঘাম এবং মৃত কোষ হল ব্যাকটেরিয়ার খাবার। সেই খাবার খেয়ে ব্যাকটেরিয়া একধরনের রাসায়নিক নিঃসরণ করে। এই রাসায়নিকই দুর্গন্ধের উৎস। সারা শরীরের অন্যান্য অংশের থেকে পায়ে বেশি দুর্গন্ধ হওয়ার কারণ হল পা বেশি ঢাকাঢাকিতে থাকে। দেখবেন, বেশিরভাগ মানুষেরই মোজা খোলার পর পা থেকে দুর্গন্ধ বেরচ্ছে। মোজা এবং ঢাকা জুতো পরার কারণে পায়ে বায়ু চলাচলে সমস্যা হয়ে অতিরিক্ত ঘাম তৈরি হয়। তবে এছাড়াও নির্দিষ্ট অঞ্চলে রক্ত সঞ্চালন কম হওয়াও অত্যধিক ঘামের অন্যতম কারণ। ডায়াবেটিস মেলিটাস, হার্টের রোগ ইত্যাদি বিভিন্ন সমস্যা থেকে পায়ে স্বাভাবিক রক্তসঞ্চালন ব্যহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। প্রাচীন আয়ুর্বেদ শাস্ত্র অনুযায়ী, বায়ু, পিত্ত এবং কফ হল শরীরের চালিকাশক্তির উৎস। শরীরে এগুলির অসামঞ্জস্যতা নানাবিধ সমস্যা ডেকে আনে। এখানে সমস্যার মূলে রয়েছে পিত্ত। আয়ুর্বেদ মতে, পিত্ত প্রকৃতির মানুষের ঘাম বেশি হয়। পিত্ত প্রকৃতির মানুষের লক্ষণগুলি হল—এরা গরম সহ্য করতে পারেন না। অম্ল জাতীয় খাদ্য খান (টক)। অন্যান্যদের তুলনায় একটু বেশিই চনমনে থাকেন ইত্যাদি। এছাড়াও পিত্ত বৃদ্ধিকারক আহার (খাদ্য) এবং বিহারের (জীবনযাপন) মাধ্যমেও অনেকের শরীরে পিত্ত বৃদ্ধি পায়। আবার শরীর গঠনের সাতটি ধাতুর মধ্যে মেদ ধাতুর (ফ্যাট) পরিমাণ বেশি থাকলেও অতিরিক্ত ঘাম হয়। # শীতে পায়ে দুর্গন্ধের সমস্যা বাড়ে কেন? #এভাবে শীত বলে নির্দিষ্ট কোনও ঋতুকে দায়ী করা ঠিক নয়। আসলে সমস্যাটা হল ঘামের। বেশিরভাগ মানুষ সারা বছর খোলা জুতো পরেন। মোজাও পরেন না। ফলে পায়ে ভেন্টিলেশনের কোনও সমস্যা হয় না। তাই দুর্গন্ধও থাকে না। অথচ শীত আসতেই শুরু হয় মোজা এবং পা ঢাকা জুতোর ব্যবহার। সেখান থেকে ঘাম। ঘাম থেকে দুর্গন্ধ। তাই শীত বলে আলাদা করে বলা যায় না। যাঁদের বেশি ঘাম হয়, তাঁরা সারা বছরই এই সমস্যায় ভুগতে পারেন। # চিকিৎসা কী? # চিকিৎসার প্রথম ধাপ হল শরীরের সেই নির্দিষ্ট জায়গার যত্ন। এটা দুভাবে করা যেতে পারে। প্রথমটি হল, পায়ের ভেন্টিলেশন নিশ্চিত করা। আর দ্বিতীয়টি অবশ্যই সেই জায়গার ব্যাকটেরিয়া নিধন। এবার এমন কয়েকটি আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা পদ্ধতি সম্বন্ধে জেনে নেওয়া যাক # জলে কয়েকটি নিম পাতা ফেলে ফুটিয়ে ফেলুন। এবার সেই জল সহনযোগ্য ঊষ্ণতায় এলে পা দুটিকে ভালো করে পরিষ্কার করতে হবে। নিমের অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ক্ষমতা জীবাণু নিধনে বিশেষভাবে কার্যকরী # অগ্নেয়গিরি থেকে উঠে আসা লাভা জমে পাথরে (ভলক্যানিক রক) পরিণত হয়। এই পাথরের নাম জিওলাইট। বাজারে প্যাকেটের মধ্যে জিওলাইট ভরে বিক্রি করা হয়। এই পাউচ প্যাকেটটি মোজার মধ্যে ভরে ব্যবহার করলেও পায়ের দুর্গন্ধ দূর হয় # গরম জলে চা মিশিয়ে তার মধ্যে দুটি পা আধঘণ্টা চুবিয়ে রাখলেও উপকার পাবেন। চায়ে উপস্থিত ট্যানিন নামক পদার্থটি ভালো অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ক্ষমতাসম্পন্ন # স্নান করার মোটামুটি আধঘণ্টা আগে পায়ে চন্দনাদি তেল ভালো করে মালিশ করে নিলেও পায়ে দুর্গন্ধের সমস্যা প্রতিহত করা সম্ভব # পায়ে ব্রাহ্মী তেল লাগালেও দুর্গন্ধ দূর হয় # এক্ষেত্রে আয়ুর্বেদের পঞ্চকর্ম থেরাপির অন্তর্গত বিরেচন (পারগেশন) অত্যন্ত ফলপ্রসূ। এই পদ্ধতিতে বিভিন্ন উপায়ে শরীরে ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রেখে প্রায় ৩০ বার মলত্যাগ করানো হয় # আমলকী হল পিত্তনাশক ফল। তাই প্রতিদিন ১ চামচ বা ৩ থেকে ৬ গ্রাম আমলকী চূর্ণ (পাউডার) ঘি-এর সঙ্গে মিশিয়ে খেলে শরীরের পিত্তবৃদ্ধিজনিত সমস্যা নিয়ন্ত্রণে আসে # প্রতিদিন ১ চামচ ত্রিফলা চূর্ণ (হরীতকী, আমলকী ও বহেরা) ঘি মিশিয়ে খেলে ভালো ফল পাবেন # বিভিন্ন যোগ ব্যায়ামের মধ্যে পিত্তনাশক হিসাবে প্রাণায়াম করা খুবই উপকারী। তাই নিয়মিত প্রাণায়াম করুন # এছাড়াও নিয়মকরে ব্যবহৃৎ মোজা ও জুতো পরিষ্কার করতে হবে। চেষ্টা করুন খোলা জুতো পরার। মোজা সুতির কাপড়ের হলেই ভালো। দিনের শেষে পা ভালো করে পা ধুয়ে নিন। পায়ের গন্ধ দূর করবেন কীভাবে? ...

মোবাইলে বেশি কথা বললে কী কী ক্ষতি হতে পারে

নানা সমীক্ষা থেকে জানা যাচ্ছে, মোবাইলের রেডিয়েশনের ফলে শুধু শরীর নয়, ক্ষতি হয় মনেরও। আমাদের অজান্তেই মোবাইলের অদৃশ্য তরঙ্গ পাল্টে দেয় দেহ-মনের রসায়ন। মোবাইল ব্যবহারের করার আগে বেশ কিছু সাবধানতা গ্রহণ করা অবশ্য কর্তব্য। * মোবাইল ফোন থেকে শরীরে সমস্যা তৈরি হয় কীভাবে? ** মোবাইল ফোনের এক প্রান্তের বার্তা অন্য প্রান্তে পৌঁছানোর কাজটি ইলেকট্রোম্যাগনেটিক রেডিয়েশনের মাধ্যমে হয়। সমস্যা হল, এই ইলেকট্রোম্যাগনেটিক রেডিয়েশন মানব শরীরেও গৃহীত হয়। সাধারণত মোবাইলের ইলেকট্রোম্যাগনেটিক রেডিয়েশেনের মাত্রা ৪৫০ থেকে ৩৮০০ মেগাহার্টজের মধ্যে থাকে। এবার প্রশ্ন হল, ঠিক কতটা পরিমাণ ইলেকট্রোম্যাগনেটিক রেডিয়েশন শরীরে গৃহীত হলে সমস্যা সৃষ্টি করে? উত্তর হল, ঠিক যতটা পরিমাণ রেডিয়েশন থেকে শরীরের কেমিক্যাল বন্ড ভেঙে যায় বা শরীরের মধ্যে আয়োনাইজিং এফেক্ট তৈরি হয়। বিষয়টিকে একটু বুঝিয়ে বলি, আসলে আমাদের শরীরের সমস্তটাই রাসায়নিক পদ্ধতিতে একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত। মাত্রাতিরিক্ত ইলেকট্রোম্যাগনেটিক রেডিয়েশন শরীরের রাসায়নিক বন্ধন ভেঙে ফেলতে সক্ষম। আবার রেডিয়েশনের মাধ্যমে শরীরে আয়োনাইজিং এফেক্ট তৈরি হলেও কোষের মধ্যে হঠাৎ পরিবর্তন আসে। তৈরি হয় নানাবিধ শারীরিক সমস্যা। মোবাইলের ইলেকট্রোম্যাগনেটিক রেডিয়েশন মানুষের ক্ষতি করতে পারে বলে প্রাথমিক পর্যায়ে মোবাইলের স্রষ্টারা বিশ্বাসই করতেন না। তাঁদের যুক্তি ছিল, মোবাইল থেকে এতই সামান্য পরিমাণে রেডিয়েশন উৎপন্ন হয় যে তা শরীরে কোনও ক্ষতিকর প্রভাব সৃষ্টি করতে পারে না। তবে বর্তমানে বিভিন্ন গবেষণায় অত্যধিক মোবাইল ব্যবহারের বিভিন্ন ক্ষতিকর শারীরিক প্রভাবগুলি নিয়ে নানা মতামত উঠে আসছে। * কী কী সমস্যা হয়? ** বিভিন্ন গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী মোবাইল ফোন থেকে মানবশরীরে ঘটে যাওয়া নেতিবাচক প্রভাবগুলিকে দুভাবে চিহ্নিত করা যায়। প্রথমটি হল ছোটদের উপর প্রভাব। আর দ্বিতীয়টি প্রাপ্তবয়স্কদের উপর প্রভাব। এবার ছোটদের উপর ক্ষতিকর প্রভাবের প্রশ্নে বলি, প্রাপ্ত বয়স্কদের তুলনায় ছোটদের শরীরে ৬০ শতাংশ বেশি হারে ইলেকট্রোম্যাগনেটিক রেডিয়েশন গৃহীত হয় বলে গবেষণায় দেখা গিয়েছে। এর কারণ হিসাবে বলা হয়েছে, ছোটদের মস্তিষ্কের হাড় এবং সফ্ট টিস্যু সরু এবং পাতলা হওয়ার জন্যই প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ রেডিয়েশন গৃহীত হয়। তাই এটা সহজেই অনুমেয় যে মোবাইল ফোন ব্যবহারের ক্ষতিকর প্রভাব বড়দের তুলনায় ছোটদের অনেক বেশি। ছোটদের মধ্যে অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহারের মুখ্য সমস্যা হল লার্নিং ইম্পেয়ারমেন্ট। জটিল এই সমস্যায় ছোটদের নতুন কিছু শেখার আগ্রহ এবং ক্ষমতা দুই-ই কমে আসে । * অনেক বাচ্চাই শুয়ে-বসে বিভিন্ন ভুল শারীরিক কায়দায় মোবাইল ব্যবহার করে। এভাবে ব্যবহারে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ব্যথা হওয়ায় আশঙ্কা থাকে * দীর্ঘক্ষণ মোবাইল স্ক্রিনে চোখ রাখার জন্য মাথা ব্যথার সমস্যা হওয়ারও আশঙ্কা থাকে * রাতে মোবাইল ব্যবহারে ঘুমের সমস্যা হয় * ক্লান্তি এবং দুর্বলতাও আসতে পারে * দুশ্চিন্তা এবং মানসিক চাপ বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা থাকে * কান গরম হয়ে আসে। বড়দের ক্ষেত্রে তালিকার প্রথমেই রয়েছে মাথা ব্যথা। পাশাপাশি দীর্ঘ সময় মোবাইলের ব্যবহারে ঘুমের সমস্যা, দুশ্চিন্তা এবং উত্তেজনা বৃদ্ধির মতো সমস্যাও হামেশাই ঘটে। এছাড়াও মোবাইলের ব্যবহার অনেকক্ষেত্রেই দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। মোবাইল কানে রাস্তা পারাপার, রেললাইন পার বা গাড়ি চালালে যে কোনও মুহূর্তে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। আবার বেশ কিছু গবেষণায় মোবাইল ফোনের বেশি ব্যবহারের সঙ্গে ক্যান্সার এবং প্রজননের অক্ষমতার দিকেও নির্দেশ করা হয়েছে। এখানে বলা দরকার, ইতিমধ্যেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা হু মোবাইল রেডিয়েশনকে প্রোবাবেল কার্সিনোজেনিক হিসাবে বর্ণনা করেছে। অর্থাৎ মোবাইলের রেডিয়েশন থেকে ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার একটা আশঙ্কা রয়েছে বলেই সংস্থার মতামত। তবে এই বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনও প্রমাণ এখনও পর্যন্ত নেই। অপরদিকে কোনও শক্তিশালী প্রমাণ না মেলায় প্রজনন ক্ষমতা হ্রাসজনিত সমস্যাটিকেও তেমন কোনও গুরুত্ব দেওয়া হয় না। * কী করলে ভালো হয়? ** বিভিন্ন গবেষণার ফলাফল থেকে এটা পরিষ্কার যে সুস্থ শরীরে বাঁচতে মোবাইল ফোনের ব্যবহার কমানোই একমাত্র উপায়। তবে ঠিক কতটা কমালে ভালো হয়? উত্তরে বলা যায়, একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের সারা দিনে ৩০ মিনিটের বেশি মোবাইল ফোনে কথা বলা উচিত নয়। আর বয়স ১৮ বছরের নীচে হলে মোবাইল ফোনে কথা বলার সময়টা সারাদিনে ২০ মিনিটের মধ্যে রাখাই শ্রেয় * মোবাইল কেনার আগে অবশ্যই মোবাইলের স্পেসিফিক অ্যাবসর্পশন রেট বা সার ভ্যালু সম্বন্ধে জেনে নিন। বর্তমানে সরকারি নিয়ম মতো সব মোবাইল ফোনেই এই ভ্যালু উল্লেখিত থাকে * ফোনটিকে শরীর থেকে অন্তত ২০ সেন্টিমিটার দূরে সরিয়ে রাখলে রেডিয়েশনের প্রভাব কম পড়ে * মোবাইল টাওয়ারের সিগন্যাল কম থাকলে মোবাইলের রেডিয়েশনের প্রভাব অনেকাংশে বেড়ে যায়। তাই এমন সময় মোবাইল ব্যবহার না করাই ভালো * রাতে মোবাইল ফোন ব্যবহার ঘুমের সমস্যার প্রধান কারণ। তাই কোনওভাবেই রাতে মোবাইল ফোন ব্যবহার করা যাবে না। ঘুমানোর সময় মোবাইল ফোন শরীর থেকে অনেকটা দূরে রেখে শোওয়াই ভালো। পারলে ঘুমের সময় মোবাইল বন্ধ বা সাইলেন্ট মোডে রাখুন * মোবাইল ব্যবহার করার সময়ে সঠিক দেহভঙ্গি বজায় রেখে কথা বলুন। বেঁকে-টেরে বসে বা শুয়ে কথা না বলাই ভালো * দীর্ঘক্ষণ মোবাইল ফোন কানে নিয়ে কথা বলার বদলে হেডফোন ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে হেডফোনের বেশি ব্যবহার আবার কানের নানাবিধ ক্ষতি করে। তাই এক্ষেত্রেও মেপেবুঝে চলতে হবে * মোবাইলে চোখ রেখে বা কথা বলতে বলতে অন্য কাজ না করাই ভালো * মোবাইলে ব্যবহার করতে করতে রাস্তায় হাঁটা, রেললাইন পারাপার, রাস্তা পার, গাড়ি চালানো একদমই উচিত নয় * ছোটদের উপর মোবাইলের খারাপ প্রভাবকে লক্ষ করে বলা যায়, বয়সের গণ্ডি ১৮ না পেরনো পর্যন্ত মোবাইল না ব্যবহার করাই ভালো। ...

দেশের বেসরকারি চিকিৎসাসেবা নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ছে :টিআইবি

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) বলেছে, দেশের বেসরকারি চিকিৎসাসেবা খাতে বাণিজ্যিকীকরণের প্রবণতা প্রকট আকার ধারণ করেছে। ঘাটতি রয়েছে বেসরকারি চিকিৎসাসেবায় সরকারের যথাযথ মনোযোগের । এতে একদিকে এটি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ছে, অন্যদিকে কিছু ব্যক্তির এ খাত থেকে বিধিবহির্ভূত সুযোগ-সুবিধা আদায়ের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। আজ বুধবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবি কার্যালয়ে বেসরকারি চিকিৎসাসেবা : সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায় শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। গবেষণায় দেশের বিভিন্ন জেলায় নিবন্ধিত ১১৬টি (হাসপাতাল ৬৬টি এবং রোগনির্ণয় কেন্দ্র ৫০টি) বেসরকারি চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠান থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। গবেষণায় বেসরকারি চিকিৎসা খাত সংশ্লিষ্ট আইন ও নীতি পর্যালোচনা, প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা, এসব প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসাসেবা, বেসরকারি চিকিৎসাসেবার বিপণন ব্যবস্থা, তথ্যের স্বচ্ছতা, তদারকির বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন টিআইবির নির্বাহী ব্যবস্থাপনা উপদেষ্টা সুমাইয়া খায়ের, টিআইবির গবেষণা ও পলিসি পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল হাসান। গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন টিআইবির প্রোগ্রাম ম্যানেজার তাসলিমা আক্তার এবং ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার মো. জুলকারনাইন। ফলাফলে দেখা যায়, গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত ১১৬টির মধ্যে ৯৭টি প্রতিষ্ঠান পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেয়নি। এ ছাড়া বেসরকারি চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রধান আইন দ্য মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অরডিন্যান্স ১৯৮২ প্রণয়নের পর এখন পর্যন্ত হালনাগাদ করা হয়নি। এ আইনের কোনো বিধিমালাও করা হয়নি। দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় বেসরকারি চিকিৎসাসেবা আইনের খসড়া নিয়ে কাজ করা হলেও তা এখনো আইন হিসেবে প্রণয়ন করা হয়নি। অনুষ্ঠানে টিআইবির ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতি সুলতানা কামাল বলেন, বেসরকারি চিকিৎসা খাতে তদারকির চিহ্ন দেখতে পাই না। সরকার এ ক্ষেত্রে পুরো উদাসীন। সেখানে কি স্বার্থের দ্বন্দ্ব আছে সরকারের? কোনো ধরনের জবাবদিহির সম্মুখীন না হয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। যাঁরা তদারকের দায়িত্বে আছেন, তাঁরা তাঁদের কাজ গুরুত্বসহকারে নিচ্ছেন না। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণকারী খানার প্রায় সাড়ে ৬৩ শতাংশ বেসরকারি প্রতিষ্ঠান হতে সেবা নেয়। কিন্তু বাংলাদেশে বেসরকারি চিকিৎসাসেবা উচ্চ মুনাফাভিত্তিক খাত। মালিকেরা বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানকে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিয়েছে। তদারকির অভাব থাকায় সেবাগ্রহীতাদের জিম্মি করে উচ্চ মুনাফা আদায়ের সুযোগ রয়েছে।...

ম্যানিটোবায় কানাডার বাংলাদেশ হাইকমিশনের বিশেষ কন্স্যুলার সেবা প্রদান

ম্যানিটোবাস্থ বাংলাদেশিদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন কানাডা-বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন (সিবিএ) এবং অটোয়াস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনের যৌথ ব্যবস্থাপনায় ম্যানিটোবায় বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসী ও অভিবাসীদের জন্য তিনদিনব্যপী বিশেষ কন্স্যুলার সেবা প্রদান করা হয়। কানাডায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার জনাব মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে ছয় সদস্যবিশিষট কন্স্যুলার সেবা প্রদানকারী দল ৪ ডিসেম্বত হতে ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত ম্যানিটোবাস্থ বাংলাদেশীদের প্রত্যক্ষ সহায়তা দেন। এই সর্বাংগীন সেবা কার্যক্রমের মধ্যে ছিল হাতে লেখা পাসপোর্ট প্রতিস্থাপন, নতুন মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট প্রাপ্তি ও নবায়ন, এবং নাগরিকত্ব, জন্ম-নিবন্ধন ও ভোটার কার্ড এর আবেদনপত্র গ্রহণ, ফরম পুরণের খুঁটিনাটি সরাসরি তত্ত্বাবধান, প্রয়োজনীয় পরামর্শ দান, এবং আবেদনকারীদের ছবি ও আঙ্গুলের ছাপ গ্রহণ বা বায়োমেট্রিক তথ্য নিবন্ধন। সিবিএ সভাপতি মিসেস নাসরিন মাসুদ-এর নেতৃত্বে সংগঠনেরসকল নির্বাহীবৃন্দ সহযোগে একদল স্বেচ্ছাসেবি কন্স্যুলার সেবাসংশ্লিষ্ট যাবতীয় কর্মকান্ড তত্ত্ববধান করেন। আড়াইশত জনেরও অধিক বাংলাদেশি এই প্রত্যক্ষ সেবাসমূহ গ্রহণ করেন। ম্যানিটোবায় অবস্থানকালে হাইকমিশনার এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের দায়িত্বে নিযুক্ত প্রথম সচিব মহোদয় স্থানীয় বণিক ও ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ কৃষিপণ্য উৎপাদন ও রপ্তানীসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়াদি আলোচিত হয়। বাংলাদেশকে অযুত সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিমূখী দেশ হিসেবে উপস্থাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশে কানাডিয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের সুবিধাদিও আলোচিত হয়। ম্যানিটোবার বাংলাদেশিদের উৎসাহ-উদ্দীপনা ও প্রাণপ্রাচুর্যে আয়োজনটিশতভাগসফল হয়। ভবিষ্যতে সাহিত্য-সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন প্রবাসী কর্মকান্ডে হাইকমিশন আরো বর্ধিত কলেবরে সেবা প্রদানের অংগীকার করেন। (ড. হেলাল মহিউদ্দীন, গবেষণা ফেলো, সেইন্ট পলস কলেজ, ম্যানিটোবা বিশ্ববিদ্যালয়) Press Release ...

ঐতিহাসিক ৭ মার্চ

উত্তাল মার্চের সপ্তম দিন আজ। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অমর ভাষণের সেই ঐতিহাসিক দিন। দিনটি বাঙালির ইতিহাসে অবিস্মরণীয় ও গৌরবের। বীর বাঙালি ঐতিহাসিক ৭ মার্চ দিনটিকে বিশেষ মর্যাদায় পালন করে। ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর ইউনেস্কো ৭ মার্চের বঙ্গবন্ধুর ভাষণকে বিশ্ব ঐতিহ্য দলিল হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। প্যারিসে ইউনেস্কোর প্রধান কার্যালয়ে সংস্থাটির মহাপরিচালক ইরিনা বুকোভা এ ঘোষণা দেন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বিশ্বের আন্তর্জাতিক রেজিস্টার স্মৃতিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এটি ইউনেস্কোর তৈরি বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ প্রামাণ্য ঐতিহ্যের একটি তালিকা। ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। দিনটি উপলক্ষে আওয়ামী লীগ নানা কর্মসূচি পালন করবে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আজ দুপুর ২টায় রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এক জনসভা অনুষ্ঠিত হবে। আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণ দেবেন। ইউনেস্কোর নিজস্ব ওয়েবসাইটে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বিশ্ব ঐতিহ্য স্মরণিকা হিসেবে নির্বাচনের কারণ সম্পর্কে বলা হয়েছে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক প্রদত্ত। তিনি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের জনগণের স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এর আগে ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদে আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছিল। কিন্তু ওই সময় পাকিস্তানের সামরিক শাসক আওয়ামী লীগ নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরে অস্বীকৃতি জানায়। ওই ভাষণ কার্যকরভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিল। ২০১৭ সালের ১৮ নভেম্বর বিকালে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নাগরিক সমাবেশে ঢাকায় নিযুক্ত ইউনেস্কোর কান্ট্রি ডিরেক্টর বিট্রিচ কালদুল বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণকে ডকুমেন্টারি হেরিটেজ হিসেবে মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টারে যুক্ত করে নিয়েছে ইউনেস্কো। এজন্য ইউনেস্কোও গর্বিত। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণটি ঐতিহাসিক নথি ও প্রামাণ্য দলিল হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। একটি ভাষণের মাধ্যমে একটি জাতিকে একত্রিত করার ইতিহাসের দলিল এটি। একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট। ভাষণটির ওপর অনেক পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব অপরিসীম। ১৯৭১ সালের এই দিনে তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) সমবেত লাখো মানুষকে উদ্দেশ করে বঙ্গবন্ধু বলেন- এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। পাকিস্তানি শাসকদের অত্যাচার-শোষণের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক আন্দোলনে সাড়া দেয়া জনতার কাছে বঙ্গবন্ধুর এ ঘোষণা ছিল শতভাগ প্রত্যাশিত। ভাষণে বঙ্গবন্ধু কৌশলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা দিলেও ঘোষণার মর্মার্থ বুঝতে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী খানিক দ্বিধায় পড়ে। তবে নতুন দেশের স্বপ্নে বিভোর বাঙালি জাতি ঠিকই বুঝে নেয় বঙ্গবন্ধুর ভাষণের তাৎপর্য। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করার আহ্বানের অধীর অপেক্ষায় ছিল বাঙালি জাতি। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ সেই অপেক্ষার অবসান ঘটায়। বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ডাক বিদ্যুৎগতিতে ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে। ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, ৭ মার্চ বিকাল ৩টা ১৯ মিনিটে বঙ্গবন্ধু রেসকোর্স ময়দানে উপস্থিত হন। লাখো মানুষের উপস্থিতিতে ময়দান ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। উপস্থিত জনতাকে বঙ্গবন্ধু যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দেন। বঙ্গবন্ধু বলেন, এরপর যদি একটি গুলি চলে, এরপর যদি আমার লোককে হত্যা করা হয়- তোমাদের কাছে আমার অনুরোধ রইল, প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোল। তোমাদের যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করতে হবে। আমি যদি তোমাদের হুকুম দিবার নাও পারি, তোমরা সব বন্ধ করে দেবে। ... রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরও দেব। এই দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব ইনশাআল্লাহ। ওইদিন একই মঞ্চে বঙ্গবন্ধুর ভাষণের আগে বক্তব্য রাখেন আ স ম আবদুর রব, নূরে আলম সিদ্দিকী, শাজাহান সিরাজ, আবদুল কুদ্দুস মাখন, আবদুর রাজ্জাক প্রমুখ। বঙ্গবন্ধুর এই ১৯ মিনিটের ভাষণ মুক্তিযুদ্ধের ৯ মাস দারুণ অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল। আজও অনেকের কাছে বঙ্গবন্ধুর ওই ভাষণ অফুরান অনুপ্রেরণার উৎস। একাত্তরের এই ঐতিহাসিক দিনে কেবল বঙ্গবন্ধুর তরফেই নয়, কমিউনিস্ট বিপ্লবীদের পূর্ববাংলা সমন্বয় কমিটি স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গেরিলা যুদ্ধের আহ্বান জানায়। সংগঠনটির প্রচারপত্রে আহ্বান জানানো হয়-আঘাত হানো সশস্ত্র বিপ্লব শুরু করো জনতার স্বাধীন পূর্ববাংলা কায়েম করো। পূর্ব পাকিস্তান ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-ন্যাপ (মুজাফফর) পাকিস্তানের শাসনতন্ত্রের জন্য ১৭ দফা প্রস্তাব দেয়। ওই প্রস্তাবে বিচ্ছিন্ন হওয়ার অধিকারসহ আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারও দাবি করা হয়। আওয়ামী লীগের কর্মসূচি : ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে আওয়ামী লীগের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- আজ সকাল সাড়ে ৬টায় রাজধানীর ধানমন্ডির বঙ্গবন্ধু ভবনসহ দলীয় সব কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং সকাল ৭টায় বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে দলের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন। এছাড়া দিনটি উপলক্ষে দুপুর ২টায় রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভায় আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান অতিথির ভাষণ দেবেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণের স্মৃতিবিজড়িত ৭ মার্চ পালন করতে আওয়ামী লীগ ঘোষিত সব কর্মসূচি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের জন্য সংগঠনের সর্বস্তরের নেতাকর্মী এবং সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনসহ সর্বস্তরের জনগণ ও দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।


দেশের বেসরকারি চিকিৎসাসেবা নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ছে :টিআইবি

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) বলেছে, দেশের বেসরকারি চিকিৎসাসেবা খাতে বাণিজ্যিকীকরণের প্রবণতা প্রকট আকার ধারণ করেছে। ঘাটতি রয়েছে বেসরকারি চিকিৎসাসেবায় সরকারের যথাযথ মনোযোগের । এতে একদিকে এটি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ছে, অন্যদিকে কিছু ব্যক্তির এ খাত থেকে বিধিবহির্ভূত সুযোগ-সুবিধা আদায়ের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। আজ বুধবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবি কার্যালয়ে বেসরকারি চিকিৎসাসেবা : সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায় শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। গবেষণায় দেশের বিভিন্ন জেলায় নিবন্ধিত ১১৬টি (হাসপাতাল ৬৬টি এবং রোগনির্ণয় কেন্দ্র ৫০টি) বেসরকারি চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠান থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। গবেষণায় বেসরকারি চিকিৎসা খাত সংশ্লিষ্ট আইন ও নীতি পর্যালোচনা, প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা, এসব প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসাসেবা, বেসরকারি চিকিৎসাসেবার বিপণন ব্যবস্থা, তথ্যের স্বচ্ছতা, তদারকির বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন টিআইবির নির্বাহী ব্যবস্থাপনা উপদেষ্টা সুমাইয়া খায়ের, টিআইবির গবেষণা ও পলিসি পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল হাসান। গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন টিআইবির প্রোগ্রাম ম্যানেজার তাসলিমা আক্তার এবং ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার মো. জুলকারনাইন। ফলাফলে দেখা যায়, গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত ১১৬টির মধ্যে ৯৭টি প্রতিষ্ঠান পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেয়নি। এ ছাড়া বেসরকারি চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রধান আইন দ্য মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অরডিন্যান্স ১৯৮২ প্রণয়নের পর এখন পর্যন্ত হালনাগাদ করা হয়নি। এ আইনের কোনো বিধিমালাও করা হয়নি। দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় বেসরকারি চিকিৎসাসেবা আইনের খসড়া নিয়ে কাজ করা হলেও তা এখনো আইন হিসেবে প্রণয়ন করা হয়নি। অনুষ্ঠানে টিআইবির ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতি সুলতানা কামাল বলেন, বেসরকারি চিকিৎসা খাতে তদারকির চিহ্ন দেখতে পাই না। সরকার এ ক্ষেত্রে পুরো উদাসীন। সেখানে কি স্বার্থের দ্বন্দ্ব আছে সরকারের? কোনো ধরনের জবাবদিহির সম্মুখীন না হয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। যাঁরা তদারকের দায়িত্বে আছেন, তাঁরা তাঁদের কাজ গুরুত্বসহকারে নিচ্ছেন না। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণকারী খানার প্রায় সাড়ে ৬৩ শতাংশ বেসরকারি প্রতিষ্ঠান হতে সেবা নেয়। কিন্তু বাংলাদেশে বেসরকারি চিকিৎসাসেবা উচ্চ মুনাফাভিত্তিক খাত। মালিকেরা বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানকে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিয়েছে। তদারকির অভাব থাকায় সেবাগ্রহীতাদের জিম্মি করে উচ্চ মুনাফা আদায়ের সুযোগ রয়েছে।

ধণীর সন্তান সুকান্ত গরিবেরটি ক্যবলাক্যান্ত

ধণীর সন্তান সুকান্ত গরিবেরটি ক্যবলাক্যান্ত টোকাই ও বলা যায়। তেমনি গরিবের বউ সকলের ভাবি, ধণীর বউ ম্যাডাম। হায়রে বিধি কেমন তোমার বিধান মানুষে মানুষে হেথা আজ কত ব্যবধান। আসলে এখানে ছোটর নেই কোন স্থান, রবীন্দ্রনাথ বলেছেন,তের চৌদ্দ বছরের ছেলেরা বলাই আমিতো বলি ভালই, কেন তা পরে বলবো। কবি গুরু বলেন,তাদের কাচামাখা কথা ন্যাকামি আর আধাপাখা কথা জ্যাটামি সব দোষ যেন তাদের। আহারে বাঙ্গালী আসলে আমরা যেন সবাই কাঙ্গালী তাই দিন বন্ধু মিত্রনিল দর্পন নাটকে বলেছেন কাঙ্গালির কথা বাসি হলে ফলে। কত বাসী? পুরান চালের ভাত বাড় পুরান কথা তর্কে সার, অত টাইম কারো নাই। তবে সব্জি দুয়েক বেলায় বাসী হলে মজে ভালো তাই মজাও হয় ভালো। এখন আবার প্রেশার কুকারের যুগ চাপ দিয়ে তরকারি মজিয়ে ফেলে তাই বাসী হওয়ার আর দরকার হয় না। তাই তো যুক যার মুল্লুক তার- আর কথাটি সার্থক দেখুন না,বস ভুল করলে হয় অভিঞ্জতা আর কর্মি করলে অঞ্জতা। বসের কথা বানী কর্মির কথা পানি। আসলে ছোট যেন সব জায়গায় অবহেলিত। এটি ঠিক না, আমরা দেখি ইশফের গল্পে ক্ষুদ্র ইদুর বিশাল সিংহকে বাচিঁয়েছে,পিপড়ে ঘুঘুকে বাঁচিয়েছে। আবার ভিখারির ছেলেকে রাজা হতে দেখেছি এবং রাজার ছেলেকে দেখেছি ভিখারি হতে। তাই ছোট বলে কখনো অবহেলা করতে নেই। যেহেতু গরিবের বউ একাধটু ঠাট্টা-মশকারা তো সবাই করবে। তাই বলে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য মোটেই উচিত না। সকলকে আবশ্যক জ্ঞান করা ভালো। এক সময় আমাদের দেশে একটি গান বড় চাউর হয়েছিল, রিক্সাওয়ালা বলে কাকে তুমি আজ ঘৃণা কর। এর পর হতে দেখলাম মানুষের রুচিতে ধীরে ধীরে পরিবর্তন আসতে শুরু করে। অনেক খানদানি লোক দেখলাম বিউটি পার্লারের নাম দিয়ে নাপিতের কাজ করছে, পল্ট্রি নাম দিয়ে মুরগী দোকান, ডেইরি নাম দিয়ে গোয়ালার কাম,এমনকি মিট শপ নাম দিয়ে কসাই কাজ পর্যন্ত করছেন। অথচ এক সময় ছিলো খানদানি লোকেরা ডাক্তারি করতেন না আর আজ ডাক্তারি হলো এক নম্বর পেশা!যুগে যুগে অবশ্য নেশা পরিবর্তন আসে পেশার পরিবর্তন আসে, তেমনি রুচির ও পরিবর্তন আসে কিন্তু ছোটকে অবহেলা-এটি এখনো তেমন পরিবর্তন হয়নি। কথায় বলে ছোটর জায়গা যেখানে সেখানে,বড়র জায়গা নেই কোনখানে। কথাটি কত টুকু ঠিক জানি না। তবে আমরা দেখি সব খানে বড়রাই আগে জায়গা করে নেই। আরো বলে, বড় হবি তো আগে ছোট হ! এখন কত ছোট হবো, ইজ্জত-সম্মান সব ফেলে দিয়ে? একটি কৌতুক মনে পড়ে গেল ঃ মালিক ভৃত্যকে বলেছেন, বুঝলি গেঁদা; বড় হতে গেলে নিজেকে আগে ছোট হতে হয়। গেঁদা; কত ছোট? মালিক; যত ছোট হলে নিজেকে তোর আর মানুষ বলে মনে হবে না। গেঁদা; তাহলে কী বলে মনে হবে? মালিক; মনে হবে তুই আস্থ একটা পশু! গেঁদা; তা কেমনে? মালিক; তাতো তুই ঠিক করবি। গেঁদা; পড়লো মহাভাবনায়। তার পর একদিন পুরো দিগম্বর হয়ে মালিকের সামনে হাজির! মালিক বিষ্মিত হয়ে, এটি কি? গেঁদা; কেন, আপনি বলেছেন পশু হতে তাই পশু হয়েছি, একমাত্র পশুরাই তো কাপড় পড়ে না! তেমন বড় অবশ্য আমরা হতে চাই না, কারণ এতে সম্মান নেই। পৃথিবিতে অর্থ আয়ের অনেক উপায় আছে তাই বলে বউ বেটি ভাড়া দিয়ে অর্থ আয় কারো কাম্য নয় বড় হওয়ার ও তেমন অনেক উপায় আছে তবে তা সম্মানের সহিত হতে হবে। তাই বড় হওয়ার জন্যে ছোট অবশ্যই হবো তবে তা সম্মানের সাথে।

আজকের মোট পাঠক

32649

নিউজ একাত্তর ডট কম

সম্পাদক : মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন চৌধুরী

নির্বাহী সম্পাদক : নুরুল ইসলাম ভুইয়া

একটি পপুলার মিডিয়া পাবলিকেশন এর প্রকাশনা

সম্পাদকীয় ও বানিজ্যিক কার্যালয় : ৪১৬/সি,খিলগাও ঢাকা। ফোন : ০৩১-২৭৭১১৮৮, ০১৮২৪২৪৫৫০৪, ০১৭৭৮৮৮৮৪৭২

চট্টগ্রাম কার্যালয় : ১০/১১ বি ৩য় তলা, হানিমুন টাওয়ার,পাহাড়তলী,চট্টগ্রাম।

ই-মেইল : newsekattor@gmail.com, editorekattor@gmail.com, কপিরাইট ©newsekattor.com কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত