ঈদের দিনেই আফগানিস্তানে বোমা হামলা

আফগানিস্তানের নানগারহার প্রদেশের বাতিকোট জেলায় যুদ্ধবিরতি পালনকারী তালেবান ও আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর একটি জমায়েতে বোমার বিস্ফোরণে অন্তত ২৬ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৫০ জনের বেশি। পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে তালেবান ও আফগান বাহিনী যখন যুদ্ধবিরতি পালন করছে তখন এই হামলার ঘটনা ঘটলো। নানগারহার প্রদেশের বাতিকোট জেলায় শনিবারের এ হামলার কারণ এখনও অজানা। বোমা হামলায় তালেবান যোদ্ধা ও বেসামরিক লোকজন হতাহত হয়েছেন। উগ্রবাদী সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট বা আইএস এ হামলার দায়িত্ব স্বীকার করেছে। তবে এ সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানায়নি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীটি। এদিকে আফগান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াইস আহমাদ বারমাক তালেবান নেতাদের সঙ্গে শনিবার রাজধানী কাবুলে সাক্ষাৎ করেছেন। এছাড়া বাতিকোট জেলায় আফগান নিরাপত্তা বাহিনী ও তালেবান যোদ্ধারা ঈদের দ্বিতীয় দিনে একসঙ্গে নামাজ পড়েছে। কয়েকদিন আগেও এমন দৃশ্য আফগানিস্তানে কল্পনা করা যেত না। নামাজের পাশাপাশি তালেবান যোদ্ধা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা এক অপরের সঙ্গে কোলাকুলি করেন। তালেবানের এক সদস্য বলেন, আমরা এখানে এসেছি আমাদের পুলিশ ও সেনাবাহিনীর ভাইদেরকে শুভেচ্ছা জানাতে। আমরা এখন যুদ্ধবিরতি পালন করছি। সবাই যুদ্ধের কারণে ক্লান্ত। যদি আমাদের নেতারা যুদ্ধবিরতি অব্যাহত রাখার নির্দেশ দেন তাহলে আমরা তা চিরদিনের জন্য পালন করে যাবো।...

ড্রোন হামলায় মোল্ল্লাহ রেডিও নিহত

পাকিস্তানের মালালা ইউসুফজাইকে যে গুলি চালিয়েছিল, সেই পাক তালিবান নেতা ফজলুল্লাহর মৃত্যু হল মার্কিন ড্রোন হামলায়। ভয়েস অফ আমেরিকা শুক্রবার এই খবর নিশ্চিত করেছে। তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তানের প্রধান ফজলুল্লাহ ‘মুল্লাহ রেডিয়ো’ নামে পরিচিত। মার্কিন ড্রোন হামলায় মৃত অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির কথা বলতে গিয়ে এদিন মার্কিন আধিকারিক জানিয়েছেন, বুধবার গভীর রাতে ফজলুল্লাহকে টার্গেট করে হামলা চালানো হয়। তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তানের প্রধান ফজলুল্লাহ ‘মুল্লাহ রেডিয়ো’ নামে পরিচিত। মার্কিন ফোর্সেস-আফগানিস্তানের মুখপাত্র মার্টিন ও’ডনেল জানিয়েছেন, ‘আফগানিস্তান ও পাকিস্তান সীমান্তের কুনার প্রদেশে গত ১৩ জুন সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান চালিয়েছিল আমেরিকা। একটি কুখ্যাত সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের এক শীর্ষ নেতাকে টার্গেট করা হয়েছিল।’ তবে ফজলুল্লাহকেই আমেরিকা টার্গেট করেছিল কি না তা স্পষ্টভাবে জানাননি তিনি। মার্কিন ড্রোন হামলায় ফজলুল্লাহের মৃত্যুর খবর এর আগেও ছড়িয়েছে। ২০১০ সালের পর থেকে চারবার তাঁর মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে এসেছে। ওয়াশিংটন ডিসির শীর্ষ আধিকারিক মাইকেল কুগেলম্যান এ কথা টুইটেও জানিয়েছেন। আমেরিকার দাবি, ২০১২ সালে কিশোরী মালালাকে হত্যার পরিকল্পনার মাথা ছিল ফজলুল্লাহ। তিনিই নাকি স্কুল বাস থামিয়ে তাতে চড়ে জিজ্ঞেস করেন, ‘মালালা কে?’ মালালা পরিচয় দিলে তাঁর মাথায় গুলি চালায় ফজলুল্লাহ।...

সিঙ্গাপুরে ঐতিহাসিক বৈঠকে যেসব বিষয়ে সম্মত হলেন দুই নেতা

সিঙ্গাপুরে ঐতিহাসিক বৈঠকের পর কিছু বিষয়ে যৌথ ঘোষণা দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কিম জং উন। গতকাল বৈঠক শেষে তাদের স্বাক্ষর করা এক যৌথ ঘোষণায় বলা হয়, দুই দেশের মানুষের শান্তি এবং সমৃদ্ধির কথা চিন্তা করে যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়া নতুন করে সম্পর্ক স্থাপন করবে। কোরিয়া উপদ্বীপে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করবে। গত ২৭ এপ্রিল দেওয়া ঘোষণা অনুযায়ী কোরিয়া পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের কাজ সম্পন্ন করতে কাজ করে যাবে। যুদ্ধবন্দীদের নিয়ে ব্যবস্থা নিতে একমত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও কোরিয়া। একই সঙ্গে যাদের পরিচয় পাওয়া গেছে, তাদের দ্রুত পুনর্বাসন করা হবে। ট্রাম্প ও কিম দুজনই তাদের এই যৌথ ঘোষণায় উল্লিখিত বিষয়গুলো পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়নের জন্য কাজ করবেন বলে অঙ্গীকার করেন। এই ঐতিহাসিক চুক্তির ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সঙ্গে কয়েক দশক ধরে চলে আসা উত্তর কোরিয়ার দ্বন্দ্বের অবসান ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই বৈঠকের ফল নিয়ে খুব দ্রুতই দুই দেশের সরকার আবারও আলোচনায় বসবে বলেও তারা জানান।...

ট্রাম্প-উনের মধ্যে বিশদ চুক্তি স্বাক্ষর

শেষ পর্যন্ত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উন ‘বিশদ’ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন। মঙ্গলবার সিঙ্গাপুরের সানতোসা দ্বীপের কাপেলা হোটেলে দু্ই নেতার মধ্যে এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। তাৎক্ষনিকভাবে চুক্তির বিষয় জানা যায়নি। তবে ট্রাম্প বলেছেন, অতি শিগগিরই উত্তর কোরিয়া পারমাণবিক অস্ত্র নিরস্ত্রীকরণ শুরু করবে বলে তিনি আশা করছেন। দীর্ঘ দিনের বৈরি দেশ দুটির মধ্যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা শুরুর প্রথম ধাপেই অচলাবস্থা কেটে যাওয়ায় ধারণা করা হচ্ছে এর মাধ্যমে হয়তো উত্তর-পূর্ব এশিয়ার নিরাপত্তা মানচিত্রে পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। এর আগে ১৯৭২ সালে প্রায় একইভাবে প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন বেইজিং সফরকালে চীনের ক্ষমতার পালাবদল ঘটেছিল। ট্রাম্প চুক্তিটিকে ‘বিশদ চিঠি’ বলে মন্তব্য করেছেন। তবে তিনি এ বিষয়ে সুষ্পষ্ট কোনো বক্তব্য দেননি। ট্রাম্প বৈঠকের আগে বলেছিলেন, তার অতীতকে পেছনে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বিশ্ব এক বিশাল পরিবর্তনকে দেখবে।’ উনের সঙ্গে ‘বিশেষ সম্পর্কের বন্ধনে আবদ্ধ’ হয়েছেন উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেছেন, উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে এই সম্পর্ক হবে অনেক ব্যতিক্রম। তিনি বলেছেন, ‘জনগণ অনেক বেশি সন্তুষ্ট হবে এবং তারা অনেক বেশি আনন্দিত হবে এবং আমরা বিশ্বের অনেক বিপজ্জনক একটি সমস্যাকে মোকাবেলা করছি।’ কিমকে হোয়াইট হাউজে আমন্ত্রণ জানাবেন কিনা জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেছেন, ‘অবশ্যই, আমি আমন্ত্রণ জানাব।’...

শিল্প ও সেবা খাতের হিস্যা দিন দিন বাড়ছে

বর্তমানের দেশে ৬ কোটি ৩৫ লাখ শ্রমশক্তি রয়েছে। এরমধ্যে পুরুষ ৪ কোটি ৩৫ লাখ ও নারী ২ কোটি শ্রম শক্তি রয়েছে। কর্মক্ষম জনশক্তির মধ্যে ৬ কোটি ৮ লাখ বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত রয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০১৮ প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করে আরো বলা হয়, উচ্চতর জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জণে সামিষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পাশাপাশি মূল্য, মজুরি ও কর্মসংস্থান এই তিনিটি সূচক খুবই গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক। ২০১৮ অর্থ বছরের মার্চ ২০১৮ পর্যন্ত গড় মূল্যস্ফীতির হার দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৮৪ শতাংশ। মূল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে রাখার লক্ষ্যে সরকার খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক সতর্ক মুদ্রানীতি গ্রহণ করা হয়েছে। কর্মক্ষম শ্রমশক্তির মধ্যে বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত শ্রমশক্তির মধ্যে ৪০ দশমিক ৬ শতাংশ কৃষিতে, ৩৯ শতাংশ সেবা খাতে এবং ২০ দশমিক ৪ শতাংশ শিল্প খাতে নিয়োজিত রয়েছেন। শ্রম শক্তি জরিপ ২০১৬-১৭ অনুযায়ী কর্মে নিয়োজিতদের মধ্যে আত্মকর্মসংস্থানে নিয়োজিত প্রায় প্রায় ৪৪ দশমিক ৩ শতাংশ। চাকরিজীবী ও পারিবারিক শ্রমে নিয়োজিত যথাক্রমে ৩৯ দশমিক ১ শতাংশ ও ১১ দশমিক ৫ শতাংশ। পারিবারিক শ্রমে নিয়োজিতদের মধ্যে পুরুষ ১৭ লাখ ও নারী ৫৩ লাখ। অর্থনৈতিক সমীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও তাদের প্রেরিত অর্থ বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধিসহ দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিরাট অবদান রাখছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে ৬ লাখ ৯২ হাজার কর্মী বিদেশ গেছেন। এছাড়া ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৯ লাখ ৫ হাজার কর্মী ১২,৭৬৯ দশমিক ৪৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিটেন্স দেশে পাঠিয়েছেন। চলতি ৯ মাসে ১০,৭৬১ দশমিক ৬১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দেশে প্রেরিত হয়েছে । যা পূর্ববর্তী অর্থ বছরের তুলনায় ১৭ দশমিক ০৪ শতাংশ বেশি। দেশের দক্ষ শ্রম শক্তি বৃদ্ধিতে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগে ৫৩ হাজার ৫৪ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্থাব করা হয়েছে। এরমধ্যে ৩৮৯টি উপজেলায় কারিগরি ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ২৩টি উপজেলায় চারটি মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটসহ ২৩টি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এবং প্রতিটি বিভাগে একটি করে প্রকৌশল মহাবিদ্যালয় ৩৫টি মডেল মাদ্রাসা স্থাপন ও ৫২টি মাদ্রাসায় অনার্স কোর্স চালু করা হবে। দেশে প্রতি বছর ২০ লাখ নতুন শ্রমশক্তি যুক্ত হচ্ছে। এর মধ্যে ১৬ লাখ দেশের অভ্যন্তরে এবং চার লাখ বিদেশে কর্মসংস্থান হয়। দেশের সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী প্রতিবছর ১৬ লাখ কর্মীর কর্মসংস্থান করতে হচ্ছে। শিল্প ও সেবা খাতের হিস্যা দিন দিন বাড়ছে। কৃষি খাতের উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি অব্যাহত থাকায় কৃষিতেও শ্রমিকের মজুরি বাড়ছে। বাসস...

ময়মনসিংহে নারী মাদক ব্যবসায়ীর গুলিবিদ্ধ লাশ

ময়মনসিংহ সদর উপজেলায় মাদক সম্রাজ্ঞী রেহেনার গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার (১৭ জুন) ভোরে সদর উপজেলার গন্দ্রপা এলাকা থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, রোববার ভোরে এক নারীর লাশ পড়ে থাকতে দেখে এলাকাবাসী। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে ওই নারীর গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করে। পরে লাশ সনাক্ত করা হয়। স্থানীয় সূত্র জানায়, ময়মনসিংহ নগরীর ক্যান্টনমেন্টে সিনেমা হলের পেছনে জমজমাট মাদকের কারবার করতেন রেহেনা। তার বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওসি আশিকুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, বিষয়টির বিস্তারিত জানা নেই। তবে মাদকের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে নিজেদের মধ্যকার দুপক্ষের সংঘর্ষে রেহেনার মৃত্যু হতে পারে।...

মৌলভীবাজারে বন্যা মোকাবেলায় সেনাবাহিনী

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের বন্যার সার্বিক পরিস্থিতির ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। মনু নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে যেকোনো মুহূর্তে প্রতিরক্ষা বাঁধ (গাইড ওয়াল) উপচিয়ে বন্যার পানি প্রবেশ করতে পারে। বন্যায় তলিয়ে যাওয়া এলাকায় আটকা পড়া মানুষ উদ্ধারে কুলাউড়া, কমলগঞ্জ ও রাজনগরে সেনাবাহিনী কাজ করছে। গেলো কয়েকদিন থেকে ভারতের উত্তর ত্রিপুরা এলাকায় বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় মনু, কুশিয়ারা ও ধলাই নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। মনু ও ধলাই নদীর এ পর্যন্ত ২২টি স্থানে প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে বন্যার পানি প্রবেশ করে কুলাউড়া, কমলগঞ্জ, রাজনগর ও সদর উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত করেছে। তলিয়ে গেছে এসব এলাকার বাড়িঘরসহ রাস্তাঘাট। পানিবন্দী রয়েছে জেলায় প্রায় ৫শ’ গ্রামের ৩ লাখ মানুষ। শহরের বাসা বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে মালামাল নিরাপদ স্থানে অনেকেই সরিয়ে নিচ্ছেন। শহরের গুরুত্বপূর্ণ এম সাইফুর রহমান সড়ক দিয়ে সকল প্রকার যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।...

চট্টগ্রামের পটিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২

পটিয়া উপজেলার শাহগদি মার্কেট এলাকায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক এলাকায় যাত্রীবাহী বাস ও মিনিবাসের সংঘর্ষে এক নারীসহ ২ জন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (১৫ জুন) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার এ দুর্ঘটনা ঘটে। পটিয়া প্রতিনিধি :নিহত দুজনের পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি। নিহত নারীর বয়স আনুমানিক ৫০ ও পুরুষের বয়স ৪০ বছর। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ২৫ জন। হতাহতরা সবাই মিনিবাসের যাত্রী। আহত লোকজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১২ জনকে পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা আবু ইউসুফ ওহীদুল্লাহ জানান, হাসপাতালে আনার পর দুজনকে মৃত ঘোষণা করা হয়। আহত ২৫ জন চিকিৎসা নিচ্ছেন। পরে ১২ জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়েছে। পটিয়া ক্রসিং হাইওয়ের পুলিশ ফাঁড়ির ট্রাফিক ইন্সপেক্টর এ বি এম মিজানুর রহমান বলেন, বেলা ১১টার দিকে বান্দরবান থেকে ঢাকাগামী হানিফ চেয়ার কোচের সঙ্গে চট্টগ্রাম থেকে পটিয়াগামী একটি মিনিবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে এই দুর্ঘটনা ঘটে। হতাহতরা সবাই মিনিবাসের যাত্রী।...

আজ পহেলা আষাঢ়,বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে

গত কয়েকদিন ধরে সারাদেশে কমবেশি বৃষ্টি ছিল, এ যেন বর্ষা মৌসুমেরই আগমনী বার্তা। বর্ষার দুই মাস আষাঢ়-শ্রাবণ প্রকৃতির রূপও বদলে দেয়। তবে দিন তারিখ হিসেবে আজ পহেলা আষাঢ়। নদ-নদীতে যেমন নতুন করে প্রাণ আসে, তেমনি গাছে ফোটে কদম, বকুল নানা রকমের ফুল। কদমকে তো আষাঢ়ের প্রতীকই ভাবা হয়। বাঙালি সাহিত্যিকদের লেখায়ও বর্ষা যোগ করেছে ভিন্ন মাত্রা। রবী ঠাকুরের ভাষায়— ‘আবার এসেছে আষাঢ় আকাশও ছেয়ে… আসে বৃষ্টিরও সুবাসও বাতাসও বেয়ে…’ তবে হঠাৎ বর্ষা যেমন আনন্দের, বর্ষার নির্মম নৃত্য তেমনই হঠাৎ বিষাদে ভরিয়ে তোলে জনপদ। যেমন— হঠাৎ করে আসা বৃষ্টি যেমন নগরবাসীকে স্বস্তি এনে দেয়, আবার জলাবদ্ধতার কারণে সেই বৃষ্টিই হয়ে দাঁড়ায় দুর্ভোগের কারণ। তবুও বর্ষা বাঙালি জীবনে নতুনের আবাহন। সবুজের সমারোহে, মাটিতে নতুন পলির আস্তরণে আনে জীবনেরই বারতা। সুজলা, সুফলা, শস্য শ্যামলা বাঙলা মায়ের নবজন্ম এই বর্ষাতেই। সারাবছরের খাদ্য-শস্য-বীজের উন্মেষতো ঘটবে বর্ষার ফেলে যাওয়া অফুরন্ত সম্ভাবনার পলিমাটি থেকেই। আষাঢ় মাসের প্রথম দিনে দেশের বেশ কিছু স্থানে বৃষ্টি হতে পারে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। শুক্রবার (১৫ জুন) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে— রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায়, ঢাকা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়া ও বিজলী চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি, অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। দেশের অনত্র আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। সেই সঙ্গে সিলেট বিভাগে মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশের ওপরে মোটামুটি সক্রিয় রয়েছে। বর্ষাকে নিয়ে নানা মিথ রয়েছে, বিশেষ করে দেশের নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীর বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে। কক্সবাজারের রাখাইন সম্প্রদায় বর্ষাকে বরণ করে ভিন্ন রকমভাবে। প্রতিবছর তারা কক্সবাজরর সমুদ্র সৈকতে মাসব্যাপী বর্ষাবরণ উৎসবের আয়োজন করে থাকে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে রাখাইন সম্প্রদায়ের লোকেরা এ বর্ষাবরণ উৎসবে যোগ দেন। বর্ষা ঋতু তার বৈশিষ্ট্যের কারণে স্বতন্ত্র। বর্ষা ঋতু কাব্যময়, প্রেমময়। বর্ষার প্রবল বর্ষণে নির্জনে ভালোবাসার সাধ জাগে, চিত্তচাঞ্চল্য বেড়ে যায়। শত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার ভিড়েও কোথায় যেন মেলে এক চিলতে বিশুদ্ধ সুখ। কদম ফুলের মতো তুলতুলে নরম, রঙিন স্বপ্ন দুই চোখের কোণে ভেসে ওঠে, ঠিক যেমন করে আকাশে সাদা মেঘ ভেসে বেড়ায়। পুষ্প-বৃক্ষে, পত্র-পল্লবে, নতুন প্রাণের সঞ্চার করে, নতুন সুরের বার্তা নিয়ে সবুজের সমারোহ নিয়ে এসেছে বর্ষা। গ্রীষ্মের ধুলোমলিন জীর্নতাকে ধুয়ে ফেলে গাঢ় সবুজের সমারোহে প্রকৃতি সাজবে পূর্ণতায়। আষাঢ়ের প্রথমদিনে আজও রয়েছে আকাশেও মেঘের ঘনঘটা। সূত্র-বাংলাট্রিবিউন...

শিল্প ও সেবা খাতের হিস্যা দিন দিন বাড়ছে

বর্তমানের দেশে ৬ কোটি ৩৫ লাখ শ্রমশক্তি রয়েছে। এরমধ্যে পুরুষ ৪ কোটি ৩৫ লাখ ও নারী ২ কোটি শ্রম শক্তি রয়েছে। কর্মক্ষম জনশক্তির মধ্যে ৬ কোটি ৮ লাখ বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত রয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০১৮ প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করে আরো বলা হয়, উচ্চতর জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জণে সামিষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পাশাপাশি মূল্য, মজুরি ও কর্মসংস্থান এই তিনিটি সূচক খুবই গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক। ২০১৮ অর্থ বছরের মার্চ ২০১৮ পর্যন্ত গড় মূল্যস্ফীতির হার দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৮৪ শতাংশ। মূল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে রাখার লক্ষ্যে সরকার খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক সতর্ক মুদ্রানীতি গ্রহণ করা হয়েছে। কর্মক্ষম শ্রমশক্তির মধ্যে বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত শ্রমশক্তির মধ্যে ৪০ দশমিক ৬ শতাংশ কৃষিতে, ৩৯ শতাংশ সেবা খাতে এবং ২০ দশমিক ৪ শতাংশ শিল্প খাতে নিয়োজিত রয়েছেন। শ্রম শক্তি জরিপ ২০১৬-১৭ অনুযায়ী কর্মে নিয়োজিতদের মধ্যে আত্মকর্মসংস্থানে নিয়োজিত প্রায় প্রায় ৪৪ দশমিক ৩ শতাংশ। চাকরিজীবী ও পারিবারিক শ্রমে নিয়োজিত যথাক্রমে ৩৯ দশমিক ১ শতাংশ ও ১১ দশমিক ৫ শতাংশ। পারিবারিক শ্রমে নিয়োজিতদের মধ্যে পুরুষ ১৭ লাখ ও নারী ৫৩ লাখ। অর্থনৈতিক সমীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও তাদের প্রেরিত অর্থ বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধিসহ দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিরাট অবদান রাখছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে ৬ লাখ ৯২ হাজার কর্মী বিদেশ গেছেন। এছাড়া ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৯ লাখ ৫ হাজার কর্মী ১২,৭৬৯ দশমিক ৪৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিটেন্স দেশে পাঠিয়েছেন। চলতি ৯ মাসে ১০,৭৬১ দশমিক ৬১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দেশে প্রেরিত হয়েছে । যা পূর্ববর্তী অর্থ বছরের তুলনায় ১৭ দশমিক ০৪ শতাংশ বেশি। দেশের দক্ষ শ্রম শক্তি বৃদ্ধিতে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগে ৫৩ হাজার ৫৪ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্থাব করা হয়েছে। এরমধ্যে ৩৮৯টি উপজেলায় কারিগরি ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ২৩টি উপজেলায় চারটি মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটসহ ২৩টি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এবং প্রতিটি বিভাগে একটি করে প্রকৌশল মহাবিদ্যালয় ৩৫টি মডেল মাদ্রাসা স্থাপন ও ৫২টি মাদ্রাসায় অনার্স কোর্স চালু করা হবে। দেশে প্রতি বছর ২০ লাখ নতুন শ্রমশক্তি যুক্ত হচ্ছে। এর মধ্যে ১৬ লাখ দেশের অভ্যন্তরে এবং চার লাখ বিদেশে কর্মসংস্থান হয়। দেশের সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী প্রতিবছর ১৬ লাখ কর্মীর কর্মসংস্থান করতে হচ্ছে। শিল্প ও সেবা খাতের হিস্যা দিন দিন বাড়ছে। কৃষি খাতের উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি অব্যাহত থাকায় কৃষিতেও শ্রমিকের মজুরি বাড়ছে। বাসস...

যেসব পণ্যের দাম কমছে, বাড়ছে

জাতীয় সংসদে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট পেশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। আজ বৃহস্পতিবার প্রস্তাবিত বাজেট অনুসারে বেশ কিছু পণ্যের দাম বাড়তে পারে। আবার কিছু পণ্যের দাম কমতে পারে। বাজেটে মোবাইল ও ব্যাটারি চার্জার আমদানিতে শুল্ক বাড়ানো হয়েছে। ২০০০ ভোল্ট পর্যন্ত ইউপিএসও আইপিএস আমদানিতে শুল্ক বাড়ছে। ভোল্টেজ স্ট্যাবিলাইজার আমদানিতে শুল্ক বাড়ছে। ল্যাম্প হোল্ডারের দাম বাড়বে। পুরোনো গাড়ির অবচয় সুবিধা বছরভিত্তিক ৫ শতাংশ হারে কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। বাইসাইকেল তৈরি সরঞ্জামে আমদানি শুল্ক বেড়েছে। এনার্জি ড্রিংকের ক্ষেত্রে সম্পূরক শুল্ক ২৫ থেকে বাড়িয়ে ৩৫ শতাংশ করা হয়েছে।প্রসাধন সামগ্রী যেমন- সানস্ক্রিন,নগ বা পায়ের প্রসাধন সামগ্রীর ওপর ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।সেভিং সামগ্রী,শরীরের দুর্গন্ধ ও ঘাম দূরীকরণে ব্যবহৃত সামগ্রী (আতর ব্যতীত), সুগন্ধযুক্ত বাথ সল্ট ও অন্যান্য গোসল সামগ্রীতে সম্পূরক শুল্কহার ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে। এছাড়া সিগারেট পেপার, বিড়ির পেপারের ওপর সম্পূরক শুল্ক ২০ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। সিরামিকের বাথটাব, জিকুজি শাওয়ার, শাওয়ার ট্রের সম্পূরক শুল্ক ২০ থেকে বাড়িয়ে ৩০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। বিদ্যুতের ব্যবহার কমানোর জন্য আলট্রা ভায়োলেট, ফিলামেন্ট ল্যাম্পের ব্যবহার কমানোর জন্য সম্পূরক শুল্ক ১০ শতাংশ করা হয়েছে। পলিথিনের ব্যবহার কমানোর জন্য পলিথিন ব্যাগ, প্লাস্টিক ব্যাগ ও মোড়কের ওপর ৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।তামাকজাত পণ্যের রপ্তানির ওপর ২৫ শতাংশ রপ্তানি শুল্ক প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছে। মধু, চুইংগাম, সুগার কনফেকশনারি, চকলেট, কোকোযুক্ত খাবার, বাদাম, সিরিয়াল, ওটস, খুচরা মোড়কে সরাসরি বিক্রির জন্য আমদানিতে শুল্কহার ২৫ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। রেফ্রিজারেটর তৈরির উপকরণ রেফ্রিজারেন্ট, প্রিন্টেড স্টিল শিট, কপার টিউব, আমদানি শুল্ক কমানো হয়েছে। হাইড্রলিক ব্রেক ফ্লুইড ও হাইড্রলিক ট্রান্সমিশনসহ অন্যান্য পণ্যে আমদানি শুল্ক ১০ থেকে ১৫ করা হয়েছে। কাশ্মীরি ছাগল ও অন্য প্রাণীর লোম থেকে তৈরি সামগ্রীতে ৪৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। চুলের ক্লিপ ও চুল পড়া রোধক সামগ্রীর সম্পূরক শুল্ক শূন্য থেকে ২০ শতাংশ করা হয়েছে। বাজেটে ১৮০০ সিসি পর্যন্ত হাইব্রিড মোটরগাড়ি আমদানিতে সম্পূরক শুল্ক ৪৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের মধ্যে কার্বন রডের শুল্ক কমেছে। মোটরসাইকেল উপকরণ আমদানিতে রেয়াতি সুবিধা প্রদান করা হয়েছে।ওষুধশিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক কমানো হয়েছে ও অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। ক্যানসার নিরোধক ওষুধ প্রস্তুতের জন্য আমদানি পর্যায়ে কতিপয় উপকরণের রেয়াতি সুবিধা প্রদান করা হয়েছে।ওষুধশিল্পের উৎপাদনের ব্যবহৃত কাঁচামালের রাসায়নিকে রেয়াতি সুবিধা দেওয়া হয়েছে। পোলট্রি ফিডের প্রয়োজনীয় উপকরণ সয়াবিন ওয়েল, ফ্লাওয়ারের ওপর শুল্ক হ্রাস করে শূন্য করা হয়েছে তবে রেগুলেটরি ডিউটি ৫ শতাংশ করা হয়েছে।ফিশিং নেট আমদানিতে শুল্ক প্রণোদনা প্রদানের প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া গুঁড়া দুধ প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের কাঁচামাল ফিল্ড মিল্ক পাউডার বাল্ক আমদানিতে শুল্ক ১০ শতাংশ কমানো হয়েছে। দেশীয় মুদ্রণশিল্প রক্ষায় মুদ্রণশিল্পের কাঁচামালে শুল্ক ১০ শতাংশ হ্রাস করা হয়েছে। কর্নফ্লাওয়ার, অ্যালুমিনিয়ামের তার আমদানিতে শুল্ক হ্রাস করা হয়েছে। বল পয়েন্ট কলমের কালি আমদানি পর্যায়ে ভ্যাট প্রত্যাহার করা হয়েছে। ছবি ছাপানোর পণ্যসামগ্রীতে শুল্ক কমানো হয়েছে। ফ্লাক্স ফাইবারে আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে। সিগারেট, বিড়ি, জর্দাসহ সব ধরনের তামাকজাত পণ্য প্রস্তুতকারী ব্যবসা থেকে অর্জিত আদায় অপরিবর্তিত আছে ও অ্যালুমিনিয়ামের তারে রেগুলেটরি ডিউটি বাড়ছে।...

একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির ফল প্রকাশ

দেশের সব সরকারি-বেসরকারি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য মনোনীত শিক্ষার্থীদের প্রথম তালিকা বা ফলাফল প্রকাশ করেছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটি। শনিবার দিবাগত রাত ১২টার পর এ তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক অধ্যাপক মো. হারুন-আর-রশিদ। এবার প্রথম তালিকায় ১২ লাখ ৩৮ হাজার ২৫২ জনকে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য মনোনীত করা হয়েছে। যদিও আবেদন করেছিল প্রায় ১৩ লাখ শিক্ষার্থী। আবেদনকারীদের মধ্যে ৯৪ শতাংশ শিক্ষার্থী প্রথম তালিকায় স্থান পেয়েছেন, অন্যরা দ্বিতীয় এবং তৃতীয় তালিকায় আসবে। সবাই ভর্তির জন্য কলেজ পাবেন বলেও জানিয়েছেন ঢাকা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক অধ্যাপক মো. হারুন-আর-রশিদ। ভর্তির জন্য মনোনীত শিক্ষার্থীদের বাকি দুটি তালিকা যথাক্রমে আগামী ২১ জুন এবং ২৫ জুন প্রকাশ করা হবে। ফল প্রকাশ করে কলেজে ভর্তির ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ১১ থেকে ১৮ জুনের মধ্যে মোবাইল ব্যাংকিং চার্জ বাদে ১৮৫ টাকা রেজিস্ট্রেশন ফি রকেট, টেলিটক অথবা শিওরক্যাশ- এর মাধ্যমে জমা দিয়ে ভর্তির প্রাথমিক নিশ্চায়ন করতে হবে। আর ২৭ থেকে ৩০ জুন নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে হবে। বিগত কয়েক বছরের মত এবারও মাধ্যমিকের ফলের ভিত্তিতে একাদশ শ্রেণিতে অনলাইনে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হচ্ছে।...

জেএসসি-জেডিসিতে কমলো ২০০ নম্বর

এ বছর অষ্টম শ্রেণির শিক্ষা সমাপনী জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) এবং জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষা থেকে নম্বর ও বিষয় কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটির (এনসিসিসি) সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সভা শেষে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব সোহরাব হোসাইন সাংবাদিকদের বলেন, শিক্ষা বোর্ডগুলোর চেয়ারম্যানদের সংগঠন আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটির সুপারিশের আলোকে জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা থেকে সাতটি বিষয়ে মোট ৬৫০ নম্বরের পরীক্ষা নেয়ার প্রস্তাব করেছে। সেটি আমরা বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বর্তমানে চতুর্থ বিষয়সহ ১০টি বিষয়ে মোট ৮৫০ নম্বরের পরীক্ষা হয়। এরমধ্যে বাংলা প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র মিলে ১৫০ নম্বরে এবং ইংরেজি প্রথম ও দ্বিতীয় পত্রে ১৫০ নম্বরে পরীক্ষা হতো। সেখান থেকে বাংলায় ৫০ এবং ইংরেজিতে ৫০ কমিয়ে ১০০ নম্বরে পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। আর চতুর্থ বিষয় ১০০ নম্বরকে শ্রেণিকক্ষে ধারাবাহিক মূল্যায়নে নেয়া হয়। ফলে এখন থেকে জেএসসিতে ২০০ নম্বর কমে ৬৫০ নম্বরে পরীক্ষা হবে। আর জেডিসিতে আগে ১০৫০ নম্বরের পরীক্ষা হতো। এখন থেকে ৮৫০ নম্বর পরীক্ষা হবে। সর্বমোট ২০০ নম্বর কমানো হয়েছে জেএসসি ও জেডিসিতে। শিক্ষাসচিব বলেন, জেএসসিতে বাংলা প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র মিলে ১০০ নম্বরের একটি পরীক্ষা হবে। ইংরেজিতেও দুই পত্র মিলে ১০০ নম্বরের পরীক্ষা হবে। এখন দুই পত্রের জন্য দুটি পরীক্ষা হয়, দুটি পত্র মিলিয়ে মোট নম্বর থাকে ১৫০। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চতুর্থ বিষয়ের পরীক্ষা এখন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই ধারাবাহিকভাবে মূল্যায়ন করা হবে। তবে গণিত, ধর্ম, বিজ্ঞান, বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ের পরীক্ষা আগের মতো আগের নম্বরে অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ করা হয়েছে শিক্ষার্থীদের উপর লেখাপড়ায় চাপ দেয়া হচ্ছে। এসব বিষয় আমলে নিয়ে জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষায় বিষয় ও নম্বর কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে এখানে শিখন ফলাফল অক্ষুণ্ন রেখে নম্বর এবং বিষয় কমানো হয়েছে, যাতে একজন শিক্ষার্থী সঠিক শিক্ষাটা আয়ত্ব করতে পারে। শিক্ষার লক্ষ্য যেন ব্যাহত না হয়। বিভিন্ন বোর্ড চেয়ারম্যানদের সুপারিশের ভিত্তিতে বিষয় এবং নম্বর কমানো হয়েছে। সে অনুযায়ী সিলেবাসও তৈরি করা হবে। যেহেতু বিষয় এবং নম্বর কমানো হয়েছে তাই শিক্ষার্থীদের উপর এর কোনো চাপ পড়বে না। শিক্ষাসচিব বলেন, ২০১৯ সালে আমরা কারিকুলামে হাত দেবো। তখন আরও বড় আকারে বিষয় কমবে। কারণ তখন আমরা সবকিছু ভাবনা চিন্তায় রেখেই কারিকুলাম করবো। যাতে শিক্ষার্থীরা চাপে না পড়ে। চলতি বছরে জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষায় এমসিকিউ থাকবে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে শিক্ষাসচিব বলেন, হঠাৎ করে এমসিকিউ বাদ দেয়া যাবে না। তবে আমরা সিস্টেমে পরিবর্তন আনবো। হয়তো শিক্ষার্থীদের একলাইন লেখা লাগতে পারে। সভায় উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পযায়ের কর্মকর্তা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচায অধ্যাপক আক্তারুজ্জামান, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক মাহাবুবুর রহমান, বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান প্রমুখ।...

আর্জেন্টিনা ও আইসল্যান্ড ১-১ গোলে ড্র

শুক্রবার রাতেই আগে কত কি কীর্তি গড়লেন বর্তমান সময়ের দুই সেরা ফুটবলারের একজন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। স্পেনের বিপক্ষে পর্তুগিজ এই তারকার হ্যাট্রিকের প্রথমটি গোলটি ছিল স্পটকিক থেকে। আর তৃতীয়টি ছিল অসাধারণ এক ফ্রি-কিক থেকে। শনিবার মস্কোর স্পার্তাকে আইসল্যান্ডের বিপক্ষে একই রকম সুযোগ পেয়েছিলেন আরেক বিশ্বসেরা ফুটবলার লিওনেল মেসি। পেয়েছিলেন পেনাল্টি শ্যুট। করেছিলেন বেশ কয়েকটি ফ্রি-কিকও। কিন্তু গোলের দেখা পাননি তিনি। সবচেয়ে বেশি মূল্য অবশ্য দিতে হয়েছে পেনাল্টি শ্যুট মিসের জন্য। এই গোলটি করতে পারলে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারত আর্জেন্টিনা। কিন্তু তার বদলে পুচকে আইসল্যান্ডের বিপক্ষে ১-১- গোলের ড্র নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। এদিন ম্যাচের ১৯ মিনিটেই সার্জিও আগুয়েরোর গোলে ১-০ তে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। কিন্তু পিছিয়ে পড়ার ৪ মিনিটের মধ্যেই সেটি শোধ করে ১-১ গোলে সমতায় ফেরে আইসল্যান্ড। বিশ্বকাপে দেশের হয়ে প্রথম গোলটি করে আলফ্রেড ফিনবোগাসন। ম্যাচের ফলাফল ড্র হলেও ম্যাচ জুড়ে আধিপত্য ছিল আর্জেন্টিনারই। পুরো ম্যাচে আর্জেন্টিনার অর্ধে বল গিয়েছে আতে গোনা কয়েকবার। কিন্তু লিওনেল মেসিদের রুখে দিতে মরিয়া আইসল্যান্ড প্রতিপক্ষকে গোল দিতে খুব একটা আগ্রহ দেখায়নি এদিন। যদিও বেশ কিছু ভালো আক্রমণও তারা করেছিল। এদিন আইসল্যান্ডের বিপক্ষে ১১ শট নিয়েছেন মেসি। কিন্তু একটিও আইসল্যান্ডের জাল খুঁজে পায়নি। তবে মেসিদের রুখে দেওয়ার বড় কৃতিত্ব নিতে পারেন আইসল্যান্ডের গোলকিপার হ্যানেস থর হ্যালডরসন। তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে বেশ কিছু গোল থেকে রক্ষা পায় আইসল্যান্ড। এদিন ম্যাচের ১৭তম মিনিটেই এগিয়ে যেতে পারত আর্জেন্টিনা। কিন্তু মেসির দূরপাল্লার শট আটকে দেন হ্যালডরসন। তবে তার দুই মিনিট পর আইসল্যান্ডের ডিফেন্সের জমাট বরফ ভাঙেন সার্জিও আগুয়েরো। ডি-বক্সের ভেতর থেকে বাঁ পায়ে শটে গোল করেন তিনি। বিশ্বকাপে এটি তার প্রথম গোল। কিন্তু ২৩তম মিনিটে গোল করে আর্জেন্টিনার হাসি মুছে দেন আলফ্রেড ফিনবোগাসন। বিশ্বকাপে দেশের হয়ে প্রথম গোল করে অনন্য এক ইতিহাসে নাম লেখান তিনি। ১-১ গোলে সমতায় ফেরে আইসল্যান্ড। গোল খেয়ে আক্রমণের ধার বাড়িয়ে দেয় মেসিরা। কিন্তু কোনভাবেই গোলের দেখা পায় না। এর মধ্যে ম্যাচের ৬৫ মিনিটে পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা। স্পটকিক নেন মেসি নিজে। কিন্তু ডান পাশে ঝাঁপিয়ে পড়ে মেসির পেনাল্টি শট রুখে দেন আইসল্যান্ডের গোলকিপার। জাতীয় দলের জার্সি গায়ে এ নিয়ে চতুর্থবারের মতো পেনাল্টি শ্যুট মিস করলেন মেসি। এরপর বাকি সময়টা একের পর এক আক্রমণ করেও গোলের দেখা না পাওয়ায় ১-১ গোলে ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় মেসিদের।...

সৌদিকে উড়িয়ে স্বাগতিক রাশিয়ার শুভ সূচনা

২১তম বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ হিসেবে রাশিয়ায় রঙ লেগেছিল অনেক আগে থেকেই। বৃহস্পতিবার মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামে বর্ণিল উদ্বোধণী অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে সেই রঙ ছড়িয়ে পড়লো পুরো বিশ্ব জুড়ে। কিন্তু আসল পর্ব তো শুরু মাঠের লড়াই দিয়ে। যেখানে স্বাগতিক রাশিয়ার শুরুটা হলো মনে রাখার মতো। সৌদি আরবকে ৫-০ গোলে রীতিমতো উড়িয়ে দিয়েছে দলটি। আয়োজক রাশিয়ার বিশ্বকাপ উৎসবের শুরুটা শতভাগ বর্ণিল না বলে উপায় কি! বিশ্বকাপের ম্যাচ নিয়ে যতোটা আকর্ষণ থাকে সবার, রাশিয়া-সৌদি আরব ম্যাচ আসলে সেই আকর্ষণের মানদন্ডে ছিল না। কিন্তু তারপরও বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ বলে কথা। রাশিয়ার জন্য সৌদি আরব মোটেও সহজ প্রতিপক্ষও ছিল না। ম্যাচের ফলটি তাই গুরুত্বপূর্ণ ছিল খুব। রাশিয়া হোঁচট খেলে যে ২১তম বিশ্বকাপের শুরুটা রঙই হারাতো। স্বাগতিকদের গোমরা মুখে শুরু হতো বিশ্বকাপ। কিন্তু ইতিহাস বলছে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে স্বাগতিক দেশ কখনো হারেনি। রাশিয়া বিশ্বকাপেও তার ব্যতিক্রম কিছু হয়নি। বরং রুশ খেলোয়াড়রা এমন এক উপলক্ষকে রাঙালেন দারুণভাবে। তাদের দাপুটে খেলার কাছে ভেঙে পড়ল সৌদির সব পরিকল্পনা। পাঁচ পাঁচ বার সৌদি আরবের জালে বল প্রবেশ করালেন রাশিয়ান খেলোয়াড়রা। প্রথমার্ধে ২-০ গোলে লিড নেওয়া পর দ্বিতীয়ার্ধে করলেন আরো তিন গোল। জোড়া গোল করেছেন ডেনিস চেরিশিভ। বাকী গোল তিনটি এসেছে ইউরি গাজিনস্কি, আর্টেম জুবা ও রোমান জোবনিনের পা থেকে। এবারের বিশ্বকাপে প্রথম গোল করে ইতিহাসে নাম লিখেন ইউরি গাজিনস্কি।...

ঈদে শাকিব বুবলির বুম বুম

মুক্তির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সাড়া ফেলেছে শাকিব খান আর শবনম বুবলি অভিনীতি আসন্ন চলচ্চিত্রের একটি গান। শুক্রবার ইউটিউবে প্রকাশের পর থেকে ‘সুপার হিরো’ চলচ্চিত্রের ‘বুম বুম’ গানটি এরই মধ্যে সাড়ে ৬ লাখ বারের বেশি ভিউ হয়েছে। বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া মিলিয়ে শুটিং করা এ চলচ্চিত্রের প্রথম প্রকাশ হওয়া গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন প্রতীক হাসান ও শাওরীন। সংগীত পরিচালনা করেছেন নাভেদ পারভেজ। গানটি প্রকাশ হয়ে সাড়া ফেললেও এখনও চলচ্চিত্র মুক্তির দিনক্ষণ চূড়ান্ত হয়নি। একাধিক সূত্র বলছে, আসন্ন ঈদে ছবিটি মুক্তির প্রস্তুতি চলছে। শাকিব-বুবলি জুুটির নতুন এ চলচ্চিত্রি নিয়ে ভীষণ আশাবাদী সংশ্লিষ্টরা। ‘সুপার হিরো’তে শাকিব খান বুবলী ছাড়া আরও অভিনয় করেছেন তারিক আনাম খান, শম্পা রেজা, তাসকিন রহমান।...

বেবী নাজনীন এর ভালোবাসা মরে না গান এখন বাজারে

ব্লাক ডায়মন্ড বেবী নাজনীন এবং এই প্রজন্মের জনপ্রিয় শিল্পী ইমরানের একটি দ্বৈত গানের সিঙ্গেল ট্র্যাক মুক্তি পাচ্ছে এবার ঈদের গানের বাজারে। কবির বকুলের কথা এবং সুরে ‘ভালোবাসা মরে না… মরে যায় জীবন… শিরোনামের রোমান্টিক এই গানটি আজকালের মধ্যেই সাউন্ডটেক ইউটিউব চ্যানেলসহ ডিজিটাল সব মাধ্যমেই মুক্তি দেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার সুলতান মাহমুদ বাবুল। গানটি সব মহলের শ্রোতাকেই আকৃষ্ট করবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেন প্রকাশক এবং গানের গীতিকার ও সুরকার কবির বকুল। এর সঙ্গীত আয়োজন করেছেন ইয়ং ট্যালেন্ট সৈয়দ সুজন। উল্লেখ্য, বেবী নাজনীনের সাথে চলচ্চিত্র এবং অডিও মাধ্যমে একাধিক গান করেছেন ইমরান। এই প্রসঙ্গে বেবী নাজনীন বলেন, ইমরান অনেক ভালো গান করে । ওর জন্য শুভকামনা। এদিকে বেবী নাজনীন সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকটি সিঙ্গেল ট্র্যাকে কণ্ঠ দিয়েছেন। তার নতুন এই গানগুলোর গীতিকার ও নির্মাতা জিয়া খান, নীহার আহমেদ, প্লাবন কোরেশী এবং জাহিদ বাশার পঙ্কজ ও আবু বকর। গানগুলো একটি একটি করে ডিজিটাল মাধ্যমে মুক্তি দেয়া হবে। গেল বৈশাখে আহমেদ রিজভীর লেখা নাজির মাহমুদের সুর এবং মুসফিক লিটুর সঙ্গীত আয়োজনে সাউন্ডটেক বেবী নাজনীনের শেষ সিঙ্গেল ট্র্যাকটি রিলিজ করে।...

ঈদের ছুটিতে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে

বর্ষা মৌসুম তারপরও ঈদের ছুটিতে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে ছুটে আসছেন পর্যটকরা। তাদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত কক্সবাজার। সৈকত শহরের ৪ শতাধিক হোটেল-মোটেল-গেষ্টহাউজ ও কটেজ কর্তৃপক্ষের প্রস্তুতিও শেষ। আর পর্যটকদের নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশও। রমজানে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার পর্যটক শূন্য থাকলেও ঈদের ছুটিতে ভ্রমণ পিপাসুদের ঢল নামে এই সৈকতে। বর্ষা মৌসুম হওয়ায় প্রথমে পর্যটকের সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল কক্সবাজারে। তবে সব আশঙ্কাকে উড়িয়ে দিয়ে এরই মধ্যে হোটেল-মোটেল-গেস্ট হাউস ও কটেজের প্রায় ৮০ শতাংশ কক্ষ বুকড হয়ে গেছে। আর ব্যবসায়ীরাও নতুন সাজে সাজিয়েছেন তাদের প্রতিষ্ঠান। হোটেল কর্তৃপক্ষও পর্যটকদের নানান সুযোগ-সুবিধা দেয়াসহ শেষ করছে যাবতীয় প্রস্তুতি। তারা আশা , প্রতি বছরেই মতো এবারও ঈদের ছুটিতে ভালো ব্যবসা হবে। বর্ষা মৌসুম তাই সাগর উত্তাল থাকবে। এক্ষেত্রে অনাকাঙ্কিত দুর্ঘটনা এড়াতে পর্যটকদের সমুদ্রে স্নান ও নিরাপত্তায় কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানালেন হোটেল ওনার্স এসোসিয়েশনের এ নেতা। কক্সবাজার হোটেল ওনার্স এসোসিয়েশনের মুখপাত্র মো. সাখাওয়াত হোসাইন জানান, 'সমুদ্র উত্তাল থাকবে। এখানে লাইফগার্ড ও পুলিশ ট্যুরিস্টদের তৎপরতাটা বৃদ্ধি করলে আমার মনে হয়, যারা কক্সবাজারে আসবেন তারা নিবিঘ্নে এখান থেকে ফিরতে পারবেন।' আর ট্যুরিস্ট পুলিশের এ কর্মকর্তা জানালেন, ঈদের ছুটিতে পর্যটকরা যাতে স্বাচ্ছন্দ্যে কক্সবাজার ভ্রমণ করতে পারে সেজন্য সব ধরণের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।...

শংখ নদীতে ডুবে ২ পর্যটকের মৃত্যু:বান্দরবানে

বান্দরবানে বেড়াতে এসে গোসল করতে নেমে শংখ নদীতে ডুবে দুই পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার দুপুর ২টায় রুমা বাজার সংলগ্ন বড়ুয়া পাড়া ঘাটে এ ঘটনা ঘটে। রুমা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সামসুল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, পানিতে ডুবে মারা যাওয়া শান্তনু সরকার (২৬) এবং জুনায়েদ আহসান জুয়েলের (২৪) মরদেহ উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়েছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, শান্তনু সরকার ঢাকার ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সিএসই বিভাগের প্রভাষক এবং জুনায়েদ আহসান জুয়েল ঢাকা টেক্সটাইল ইউনিভার্সিটির ছাত্র। অন্য আরো দুই বন্ধুসহ তারা চার বন্ধু গত বৃহষ্পতিবার বান্দরবানের রুমা উপজেলায় বগালেক পর্যটন কেন্দ্রে থাকেন। শনিবার সেখান থেকে রুমা উপজেলা সদরে পৌঁছে ওই ৪ বন্ধু শংখ নদীর বড়ুয়া পাড়া ঘাটে নামে। এক পর্যায়ে তারা ডুবতে শুরু করলে দুইজন সাঁতরে তীরে আসতে পারলেও শান্তনুকে রক্ষা করতে গিয়ে জুনায়েদও পানিতে তলিয়ে যায়।...

সবাইকে ঈদ মুবারক

নাড়ীর টানে ছুটছে মানুষ শিকড়ের কাছে। এই ছুটে যাওয়ার মধ্যে কোন ক্লান্তি নেই, শ্রান্তি নেই। প্রিয় মাটি ও মানুষের সাথে মিলিত হওয়ার আনন্দ মুছিয়ে দিচ্ছে সকল কষ্ট। ঈদে বাড়তি ভাড়া, অতিরিক্ত যাত্রী, সীমাহীন যানজটের ঝক্কি থাকে প্রতি বছরই। তার উপর সড়ক পথের বেহাল অবস্থা। এ নিয়ে সরকারী মহল থেকে প্রতিবছরই আশ্বাসবাণী ধ্বণিত হয় কিন্তু কাজের কাজ হয়না তেমন । আমাদের প্রত্যাশা, শিকড়মুখো মানুষগুলো যেন নিরাপদে ঈদ যাপন করে ফিরে আসতে পারে । সবাইকে ঈদ মুবারক । মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন চৌধুরী সম্পাদক / প্রকাশক সাপ্তাহিক সংবাদের কাগজ নিউজ একাত্তর ডট কম চেয়ারম্যান , পপুলার মিডিয়া পাবলিকেশন লি:...

৬৪ জেলার নিয়ন্ত্রণে ৩৬০০ শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী

৩৬০০ শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ৬৪ জেলা নিয়ন্ত্রণ করছেন। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা, নিজস্ব তথ্য প্রমাণ, ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের মতামত এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতায় খুবই নিখুঁতভাবে মাদক ব্যবসায়ীদের এ তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে। সমাজের শত্রু এ সব মাদক ব্যবসায়ীকে ধরতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে দিনরাত কাজ করছে। অভিযানে গুলি বিনিময়কালে প্রায় প্রতিদিনই শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীরা নিহত হচ্ছে। র‌্যাব-পুলিশের অভিযানে গুলি বিনিময়কালে গতকাল শনিবার পর্যন্ত মারা গেছে ১৩৪ শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী। এর মধ্যে র‌্যাবের অভিযানে নিহত হয় ৩৩ জন, পুলিশের অভিযানে ১০১ জন নিহত হয়েছে। গত ৪ মে র‌্যাব মাদক নির্মূল অভিযান শুরু করেছে। অন্যদিকে পুলিশের অভিযান শুরু হয় পয়লা রজমান থেকে। ৩৬০০ শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীর মধ্যে ঢাকা নিয়ন্ত্রণকারী হলেন ৫০ জন। এদের মধ্যে একজন ইতিমধ্যে মারা গেছেন রাজধানীর ৫০ জনের অধীনস্থ রয়েছে এলাকাভিত্তিক ১৩৮৪ জন মাদক ব্যবসায়ী। এ তালিকা মহানগর পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার কাছে রয়েছে। এ তালিকা ধরেই রাজধানীতে মাদকবিরোধী অভিযান চলছে। টেকনাফ থেকে ইয়াবার বড় বড় চালান ঢাকার এ শীর্ষ ৫০ ব্যবসায়ীর কাছে আসে। পরে তাদের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে ইয়াবা পৌঁছে যায়। তারা বিভিন্ন জেলায় চাহিদা অনুযায়ী ইয়াবা সরবরাহ করেন। এ দিকে র‌্যাব এ পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা করেছে ৮৩৮টি। এতে গ্রেফতার করা হয়েছে ১০২৬ মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীকে। র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ জানান, অত্যন্ত নিখুঁতভাবে সারাদেশের মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা করা হয়েছে। নিজস্ব তথ্য প্রমাণের পাশাপাশি স্থানীয় জনসাধারণের সহযোগিতা ও গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে ৩৬০০ মাদক ব্যবসায়ীর তালিকা ধরে অভিযান চালাচ্ছে র‌্যাব। অভিযান যাতে কোনো ধরনের প্রশ্নবিদ্ধ না হয় সেজন্য খুবই সতর্ক রয়েছে র‌্যাব। এ দিকে অভিযানকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর একশ্রেণির কর্মকর্তা তৎপর। যারা মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত উেকাচ গ্রহণ করতো; আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সেসব অসাধু কর্মকর্তা এখন অভিযান ব্যর্থ করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। অপরদিকে জামায়াত-শিবির ও বিএনপি ঘরোয়া কর্মকর্তারা অভিযানকে প্রশ্নবিদ্ধ করে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষূণ্ন করতে তৎপর রয়েছে। কোনো কোনো সংস্থার পক্ষ থেকে এমন মন্তব্য করা হয়েছে। এ সংস্থার পক্ষ থেকে ঘুষখোর কর্মকর্তা ও সরকারবিরোধী কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করতে ইতোমধ্যে কার্যক্রম শুরু করেছে। দেশব্যাপী মাদকবিরোধী অভিযানের মধ্যেই রাজধানী ঢাকাসহ দেশের জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন পর্যায়ে ফাঁস হয়ে গেছে মাদক কারবারীদের নামের তালিকা। মাদক কারবারীর তালিকা ফাঁস করে দিয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মাদক কানেকশনের সঙ্গে সম্পৃক্ত একশ্রেণির দুর্নীতিবাজ, অসত্ কর্মকর্তা। এ কারণে মাদকবিরোধী অভিযান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে। মাদকের ব্যবসা করতে হলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীসহ প্রশাসনকে উৎকোচ দিতেই হয়। তবে এ উৎকোচের পরিমাণ জনপ্রতি মাসে কোটি টাকার বেশি। স্থানীয় প্রশাসন, রেঞ্জ, জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়, গোয়েন্দা বিভাগ ও মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একশ্রেণির কর্মকর্তার নিয়মিত উেকাচ গ্রহণের ফলেই দেশব্যাপী মাদকের দ্রুত বিস্তার ঘটেছে, যা থেকে প্রতি মাসে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নিচ থেকে অনেক উপরে যায়; যা কাঁচা টাকা হিসেবে পরিচিত। এখন অভিযানের কারণে ওই টাকা আসা বন্ধ হয়ে গেছে। এ কারণে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের মাথা খারাপ হয়ে গেছে। অতীতে বিভিন্ন সময় অভিযান হলেও কখনো মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে এত কঠোর অবস্থান দৃশ্যমান হয়নি।...

খালেদা জিয়ার সাক্ষাৎ পেলেন পরিবারের ২০ সদস্যে

বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া কারাগারে ঈদ পালন করছেন। এর আগে ১/১১ সরকারের সময় রোজার ঈদ ও কোরবানির ঈদ সংসদ ভবন এলাকার সাব জেলে কাটিয়েছিলেন তিনি। এবার রোজার ঈদ কাটছে নজিম উদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দূর্নীতি মামলায় দুর্নীতির মামলায় ৭৩ বছর বয়সী খালেদা জিয়া দণ্ড পেয়ে চার মাসেরও বেশি সময় ধরে পুরান ঢাকার ওই কারাগারে আছেন। এদিকে শনিবার দুপুরের দিকে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন পরিবারের ২০ সদস্য। স্বজনদের মধ্যে খালেদা জিয়ার বড় বোন সেলিমা ইসলাম, ভাই শামিম এস্কান্দার, ভাইয়ের স্ত্রী কানিজ ফাতেমা এবং তাদের ছেলে অভি এস্কান্দার, খালেদা জিয়ার ভাগ্নে মামুনসহ অন্যান্যরা ছিলেন। তারা খালেদা জিয়াকে খাবার, নতুন কাপড় এবং ফুল দেন। কারা সূত্র জানায়, ঈদ উপলক্ষে কারাবন্দিদের জন্য সাধারণত বিশেষ খাবারের আয়োজন করে কারা কর্তৃপক্ষ। একই আয়োজন ছিল কারাবন্দি খালেদা জিয়ার জন্যও। ঈদের দিন সকালে তার জন্য সেমাই-মুড়ি, পায়েস, ফিন্নি ছিল। দুপুরে ছিল পোলাও, মুরগি-গরুর মাংস, রাতে পোলাও মাছ-মাংস দেয়া হবে। তবে খালেদা জিয়া সাধারণত সকাল ও রাতে রুটি খান। মিষ্টি জাতীয় খাবার তার পছন্দ না হলেও ঈদের দিন সেমাই-পায়েস একটু করে খেয়েছেন। এছাড়া দুপুরে কারা কর্তৃপক্ষ তাকে বিশেষ খাবার সরবরাহ করলেও তিনি পরিবারের দেয়া খাবারই খেয়েছেন। রাতে কারা কর্তৃপক্ষের সরবরাহকৃত সবজি-ডাল ও মুরগির মাংস দিয়ে রুটি খাবেন বলে কারাসূত্রে জানা গেছে। কারাসূত্র জানায়, খালেদা জিয়া খাবারের ক্ষেত্রে খুব সচেতন। তিনি তৈলাক্তযুক্ত খাবার খুব কম খান। মুরগির মাংস খান। গরুর মাংস দুয়েক পিস খান। এছাড়া মাছ যদি খান, তাহলে শিং, পাবদা ও রুই মাছ খান। সকালে ও রাতে রুটি খান। সূত্র জানায়, খালেদা জিয়ার স্বাস্থের অবস্থা আগের মতোই রয়েছে। উন্নতি বা অবনতি বলা যাবে না। টেম্পারেচার বেশি থাকা ও রোজা রাখায় খালেদা জিয়ার শরীর একটু দূর্বল। তবে এটি দুশ্চিন্তার মতো নয়। চার থেকে পাঁচদিনের মধ্যে শরীরের দূর্বলতা কেটে যাবে। ...

খালেদা জিয়ার সাথে দেখা করতে পারেননি বিএনপি নেতারা

ঈদের দিনে আজ শনিবার কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপরসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সাথে দেখা করতে গিয়ে বিফল হয়ে ফিরেছন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বিএনপি নেতারা। পুলিশের বাধার কারণে কারাগারের সামনেই পৌঁছতে পারেননি বলে জানিয়েছেন বিএনপি নেতারা। এই বিষয়ে ডিএমপির লালবাগ বিভাগের উপ-কমিশনার ইব্রাহিম খান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “যাদের যাওয়ার অনুমতি আছে তারা যাবেন, যাদের অনুমতি নেই, তারা যাবেন না।” তিনি বলেন, আমরা কাউকে আটকাইনি, তবে সেখানে যাতে গ্যাদারিং না হয়, সেজন্য নিরাপত্তার স্বার্থে আমাদের ব্যবস্থা নিতে হয়। অনুমতির বিষয়ে কারা কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। চার মাস ধরে কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে ঈদের দিন দেখা করতে যাবেন বলে আগেই জানিয়েছিলেন দলটির নেতারা। সেই অনুযায়ী, শনিবার দুপুর ১২টার দিকে মহাসচিব ফখরুলসহ স্থায়ী কমিটির সদস্যরা নাজিম উদ্দিন সড়কের পুরনো কারাগারের সামনে উপস্থিত হন। তবে কারাগারের মূল ফটক থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে পুলিশ ব্যারিকেডে তারা আটকা পড়েন। নেতাদের সঙ্গে প্রায় দুই শ' বিএনপি কর্মীও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। পুলিশের বাধার মুখে তারা সেখানে অবস্থান নিয়ে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। পরে তারা ফিরে আসেন। বিএনপি মহাসচিব সাক্ষাতের আবেদনের অনুলিপি দেখিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, “তিন দিন আগে আমরা সাক্ষাতের জন্য আবেদন করেছিলাম। নিয়ম আছে, ঈদের দিন বন্দির সঙ্গে দেখা করার। কিন্তু পুলিশ আমাদেরকে এখানে আটকিয়ে রেখেছে। জেল গেইটের কাছেও যেতে দিচ্ছে না। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।” দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, “পুলিশ আমাদের যেতে দিল না। এটা তাদের কাজ নয়। পুলিশের দায়িত্ব ছিল আমাদেরকে জেল কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছিয়ে দেওয়া।” স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, “আমরা অনেকবার জেল খেটেছি, অনেক বছর জেলে থেকেছি। দেখেছি ঈদের দিন আত্মীয়-স্বজন, কাছের মানুষদের দেখা-সাক্ষাৎ করার সুযোগ থাকে। এবার যে অমানবিক আচরণ করা হয়েছে, এরকম অতীতে আর কখনও দেখিনি।” সেখানে বিএনপি নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান, বরকতউল্লাহ বুলু, আবদুল আউয়াল মিন্টু, এজেডএম জাহিদ হোসেন, আহমেদ আজম খান, জয়নুল আবদিন ফারুক, শিরীন সুলতানা, আফরোজা আব্বাস, সুলতানা আহমেদ প্রমুখ। বিএনপি নেতারা এর আগে কারাবন্দি চেয়ারপারসনের সাক্ষাৎ পেলেও বিফল হওয়ার ঘটনাও রয়েছে। খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে আলোচনার মধ্যে কারা মহাপরিদর্শক সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিন সম্প্রতি বলেছিলেন, ঈদের দিন স্বজনরা বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পাবেন, খাবারও নিতে পারবেন। ‘আন্দোলন জোরদার হবে’ খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আন্দোলনে ‘পর্যায়ক্রমে’ জোরদার করা হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল। সকালে শেরে বাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরে ফুল দিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে একথা জানান তিনি। কারাগারে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার আগে জিয়ার সমাধিতে যান তারা। ফখরুল বলেন, “আমাদের দেশনেত্রীকে সরকার মিথ্যা মামলায় অন্যায়ভাবে কারাগারে বন্দি করে রেখেছে। আমরা আজকে ভরাক্রান্ত হৃদয়ে ঈদ উদযাপন করছি। “আমরা আন্দোলনের মধ্যে আছি। আমাদের নেত্রী যে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের কথা বলে গেছেন, সেই নিয়মতান্ত্রিক শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে আমরা প্রত্যেকটি স্তরে জোরদার করছি। আমরা মনে করি, আন্দোলনের মাধ্যমে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে আমরা মুক্ত করতে পারব।” ফখরুল বলেন, “বিএনপির কাছে এখন মূল চ্যালেঞ্জ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা। আমরা দেশনেত্রীকে মুক্ত করে একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের মাধ্যমে জনগনের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে পারব।...

জেনে নিন কেন হিন্দু বিয়েতে সাত পাকে ঘোরা হয় ?

বিয়ে মানে দুটো মনের মিলন, দুটো পরিবারের মিলন। বিয়েতে অনেক নিয়ম কানুন মানা হয়। এক এক ধর্মের এক এক নিয়ম। হিন্দু মতে বিয়ে মানেই, শুভদৃষ্টি, সাত পাকে ঘোরা, খই পোড়ানো, সিঁদুর দান। তবে এই সমস্ত রীতি কিন্তু শুধুই ধর্মীয় কারণে নয়। এর পিছনে আরও অনেক কারণ রয়েছে। হিন্দু মতে বিয়েতে আমরা দেখতে পাই, আগুনের কুন্ডলীর চারপাশে বর-বউকে ঘুরতে। একে সাত পাকে বাঁধা পড়া বলা হয়। বলা হয়, এর মাধ্যমে অগ্নিদেবতাকে বিয়েতে সাক্ষী হিসেবে রাখা হয়। শুধু আগুনের চারপাশে ঘোরাই নয়, এই সময়ে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতিও দিতে হয় একে অপরকে। প্রথম প্রতিশ্রুতি- প্রথমে বর তাঁর বউ এবং তাঁর ভাবী সন্তানদের যত্ন নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।বিনিময়ে কনেও প্রতিশ্রুতি দেন যে তিনি তাঁর স্বামী এবং তাঁর পরিবারের যত্ন নেবেন। দ্বিতীয় প্রতিশ্রুতি- এবার বর প্রতিশ্রুতি দেন যে তিনি তাঁর স্ত্রীকে সবরকম পরিস্থিতি থেকে রক্ষা করবেন।বিনিময়ে কনেও প্রতিশ্রুতি দেন যে তিনি স্বামীর সবরকম যন্ত্রণায় পাশে থাকবেন। তৃতীয় প্রতিশ্রতি- এবার বর প্রতিশ্রুতি দেন যে তিনি তাঁর পরিবারের জন্য রোজগার করবেন এবং তাঁদের দেখভাল করবেন।একই প্রতিশ্রুতি এবার কনেও করেন। চতুর্থ প্রতিশ্রুতি- স্ত্রীর কাছে তাঁর পরিবারের সমস্ত দায়িত্ব তুলে দেওয়া এবং একইসঙ্গে স্ত্রীর সমস্ত মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন বর।স্ত্রী তাঁর সমস্ত দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করার প্রতিশ্রুতু দেন। পঞ্চম প্রতিশ্রুতি- যে কোনও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে স্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করার প্রতিশ্রুতি দেন বর।স্বামীকে সমর্থন করার প্রতিশ্রুতি দেন স্ত্রী। ষষ্ট প্রতিশ্রুতি- স্ত্রীর প্রতি সত্য থাকার প্রতিশ্রুতি দেন স্বামী।স্ত্রীও স্বামীর প্রতি সত্য থাকার প্রতিশ্রুতি দেন। সপ্তম প্রতিশ্রুতি- শুধু স্বামী হিসেবেই নয়, বন্ধু হিসেবেও সারাজীবন স্ত্রীর সঙ্গে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন বর।বিনিময়ে স্ত্রীও স্বামীর সঙ্গে জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।বাংলা রিপোর্ট...

রমজানে স্বাস্থ্য ঠিক রাখার উপায়

রমজানে খাবার গ্রহণের ক্ষেত্রে সচেতনতা ও সতর্কতা মানুষের স্বাস্থ্যগত সমস্যা মোকাবেলা করতে পারে। পুষ্টিবিদদের মতামতের আলোকে জেনে নিন রমজানে স্বাস্থ্য ঠিক রাখার উপায়:ভাজাপোড়া খাবার না খাওয়া অনেকে মনে করেন ইফতারে ভাজা পোড়া না থাকলে ইফতারই হবে না। কিন্তু দিনভর অভুক্ত থাকার পর ভাজাপোড়া, তৈলাক্ত, গরম খাবার পেটে নানা ধরনের সমস্যা তৈরি করতে পারে। পেট জ্বালাপোড়া করতে পারে।সেহরি খাওয়ার অভ্যাস করা ফজরের আজানের কিছু আগে সেহরি খাওয়ার অভ্যাস করুন। এটাই সঠিক অভ্যাস। এ সময়ে সেহরি খাওয়ার ফলে ফজরের নামাজটাও পড়া হয়ে যাবে। তাছাড়া দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাবারও এটি।শীতল স্থানে অবস্থান করা দিনের সবচেয়ে গরম সময়টিতে শীতল স্থানে থাকার চেষ্টা করুন। হতে পারে অফিস, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা বাড়ি। শারীরিক পরিশ্রমের মাত্রা যথাসম্ভব কমিয়ে আনুন। সম্ভব হলে নিয়মিত বিরতিতে বিশ্রাম নিন।পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা নিয়মিত হাত ধোঁয়ার অভ্যাস করুন। পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন থাকুন। কারো সর্দি-কাশি বা হাঁচি হলে সাবধান থাকুন। কারণ এর মাধ্যমে আপনার শরীরে ভাইরাস জ্বর বা এ জাতীয় কোনো রোগের জীবাণু সংক্রমণ ঘটতে পারে। আর ধূমপানের অভ্যাস থাকলে তা ত্যাগ করুন।পর্যাপ্ত ঘুমপর্যাপ্ত ঘুমের দিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে। কেননা সাত থেকে আট ঘণ্টার কম ঘুম আপনার রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতাকে কমিয়ে দেবেধীরে ধীরে খাবার খানসারাদিন খাবার না খাওয়ায় রোজার মাসে শরীরের পুষ্টির চাহিদা থাকে আলাদা। তাই ইফতারে একসঙ্গে অনেক কিছু খাবেন না। ধীরে ধীরে খান। কিছু খেজুর এবং পানি দিয়ে ইফতার শুরু করুন এবং ধীরে ধীরে অন্য খাবারগুলো খান...

দেশের বেসরকারি চিকিৎসাসেবা নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ছে :টিআইবি

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) বলেছে, দেশের বেসরকারি চিকিৎসাসেবা খাতে বাণিজ্যিকীকরণের প্রবণতা প্রকট আকার ধারণ করেছে। ঘাটতি রয়েছে বেসরকারি চিকিৎসাসেবায় সরকারের যথাযথ মনোযোগের । এতে একদিকে এটি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ছে, অন্যদিকে কিছু ব্যক্তির এ খাত থেকে বিধিবহির্ভূত সুযোগ-সুবিধা আদায়ের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। আজ বুধবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবি কার্যালয়ে বেসরকারি চিকিৎসাসেবা : সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায় শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। গবেষণায় দেশের বিভিন্ন জেলায় নিবন্ধিত ১১৬টি (হাসপাতাল ৬৬টি এবং রোগনির্ণয় কেন্দ্র ৫০টি) বেসরকারি চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠান থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। গবেষণায় বেসরকারি চিকিৎসা খাত সংশ্লিষ্ট আইন ও নীতি পর্যালোচনা, প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা, এসব প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসাসেবা, বেসরকারি চিকিৎসাসেবার বিপণন ব্যবস্থা, তথ্যের স্বচ্ছতা, তদারকির বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন টিআইবির নির্বাহী ব্যবস্থাপনা উপদেষ্টা সুমাইয়া খায়ের, টিআইবির গবেষণা ও পলিসি পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল হাসান। গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন টিআইবির প্রোগ্রাম ম্যানেজার তাসলিমা আক্তার এবং ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার মো. জুলকারনাইন। ফলাফলে দেখা যায়, গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত ১১৬টির মধ্যে ৯৭টি প্রতিষ্ঠান পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেয়নি। এ ছাড়া বেসরকারি চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রধান আইন দ্য মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অরডিন্যান্স ১৯৮২ প্রণয়নের পর এখন পর্যন্ত হালনাগাদ করা হয়নি। এ আইনের কোনো বিধিমালাও করা হয়নি। দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় বেসরকারি চিকিৎসাসেবা আইনের খসড়া নিয়ে কাজ করা হলেও তা এখনো আইন হিসেবে প্রণয়ন করা হয়নি। অনুষ্ঠানে টিআইবির ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতি সুলতানা কামাল বলেন, বেসরকারি চিকিৎসা খাতে তদারকির চিহ্ন দেখতে পাই না। সরকার এ ক্ষেত্রে পুরো উদাসীন। সেখানে কি স্বার্থের দ্বন্দ্ব আছে সরকারের? কোনো ধরনের জবাবদিহির সম্মুখীন না হয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। যাঁরা তদারকের দায়িত্বে আছেন, তাঁরা তাঁদের কাজ গুরুত্বসহকারে নিচ্ছেন না। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণকারী খানার প্রায় সাড়ে ৬৩ শতাংশ বেসরকারি প্রতিষ্ঠান হতে সেবা নেয়। কিন্তু বাংলাদেশে বেসরকারি চিকিৎসাসেবা উচ্চ মুনাফাভিত্তিক খাত। মালিকেরা বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানকে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিয়েছে। তদারকির অভাব থাকায় সেবাগ্রহীতাদের জিম্মি করে উচ্চ মুনাফা আদায়ের সুযোগ রয়েছে।...

ম্যানিটোবায় কানাডার বাংলাদেশ হাইকমিশনের বিশেষ কন্স্যুলার সেবা প্রদান

ম্যানিটোবাস্থ বাংলাদেশিদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন কানাডা-বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন (সিবিএ) এবং অটোয়াস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনের যৌথ ব্যবস্থাপনায় ম্যানিটোবায় বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসী ও অভিবাসীদের জন্য তিনদিনব্যপী বিশেষ কন্স্যুলার সেবা প্রদান করা হয়। কানাডায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার জনাব মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে ছয় সদস্যবিশিষট কন্স্যুলার সেবা প্রদানকারী দল ৪ ডিসেম্বত হতে ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত ম্যানিটোবাস্থ বাংলাদেশীদের প্রত্যক্ষ সহায়তা দেন। এই সর্বাংগীন সেবা কার্যক্রমের মধ্যে ছিল হাতে লেখা পাসপোর্ট প্রতিস্থাপন, নতুন মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট প্রাপ্তি ও নবায়ন, এবং নাগরিকত্ব, জন্ম-নিবন্ধন ও ভোটার কার্ড এর আবেদনপত্র গ্রহণ, ফরম পুরণের খুঁটিনাটি সরাসরি তত্ত্বাবধান, প্রয়োজনীয় পরামর্শ দান, এবং আবেদনকারীদের ছবি ও আঙ্গুলের ছাপ গ্রহণ বা বায়োমেট্রিক তথ্য নিবন্ধন। সিবিএ সভাপতি মিসেস নাসরিন মাসুদ-এর নেতৃত্বে সংগঠনেরসকল নির্বাহীবৃন্দ সহযোগে একদল স্বেচ্ছাসেবি কন্স্যুলার সেবাসংশ্লিষ্ট যাবতীয় কর্মকান্ড তত্ত্ববধান করেন। আড়াইশত জনেরও অধিক বাংলাদেশি এই প্রত্যক্ষ সেবাসমূহ গ্রহণ করেন। ম্যানিটোবায় অবস্থানকালে হাইকমিশনার এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের দায়িত্বে নিযুক্ত প্রথম সচিব মহোদয় স্থানীয় বণিক ও ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ কৃষিপণ্য উৎপাদন ও রপ্তানীসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়াদি আলোচিত হয়। বাংলাদেশকে অযুত সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিমূখী দেশ হিসেবে উপস্থাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশে কানাডিয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের সুবিধাদিও আলোচিত হয়। ম্যানিটোবার বাংলাদেশিদের উৎসাহ-উদ্দীপনা ও প্রাণপ্রাচুর্যে আয়োজনটিশতভাগসফল হয়। ভবিষ্যতে সাহিত্য-সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন প্রবাসী কর্মকান্ডে হাইকমিশন আরো বর্ধিত কলেবরে সেবা প্রদানের অংগীকার করেন। (ড. হেলাল মহিউদ্দীন, গবেষণা ফেলো, সেইন্ট পলস কলেজ, ম্যানিটোবা বিশ্ববিদ্যালয়) Press Release ...

সবাইকে ঈদ মুবারক

নাড়ীর টানে ছুটছে মানুষ শিকড়ের কাছে। এই ছুটে যাওয়ার মধ্যে কোন ক্লান্তি নেই, শ্রান্তি নেই। প্রিয় মাটি ও মানুষের সাথে মিলিত হওয়ার আনন্দ মুছিয়ে দিচ্ছে সকল কষ্ট। ঈদে বাড়তি ভাড়া, অতিরিক্ত যাত্রী, সীমাহীন যানজটের ঝক্কি থাকে প্রতি বছরই। তার উপর সড়ক পথের বেহাল অবস্থা। এ নিয়ে সরকারী মহল থেকে প্রতিবছরই আশ্বাসবাণী ধ্বণিত হয় কিন্তু কাজের কাজ হয়না তেমন । আমাদের প্রত্যাশা, শিকড়মুখো মানুষগুলো যেন নিরাপদে ঈদ যাপন করে ফিরে আসতে পারে । সবাইকে ঈদ মুবারক । মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন চৌধুরী সম্পাদক / প্রকাশক সাপ্তাহিক সংবাদের কাগজ নিউজ একাত্তর ডট কম চেয়ারম্যান , পপুলার মিডিয়া পাবলিকেশন লি:


দেশের বেসরকারি চিকিৎসাসেবা নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ছে :টিআইবি

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) বলেছে, দেশের বেসরকারি চিকিৎসাসেবা খাতে বাণিজ্যিকীকরণের প্রবণতা প্রকট আকার ধারণ করেছে। ঘাটতি রয়েছে বেসরকারি চিকিৎসাসেবায় সরকারের যথাযথ মনোযোগের । এতে একদিকে এটি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ছে, অন্যদিকে কিছু ব্যক্তির এ খাত থেকে বিধিবহির্ভূত সুযোগ-সুবিধা আদায়ের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। আজ বুধবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবি কার্যালয়ে বেসরকারি চিকিৎসাসেবা : সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায় শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। গবেষণায় দেশের বিভিন্ন জেলায় নিবন্ধিত ১১৬টি (হাসপাতাল ৬৬টি এবং রোগনির্ণয় কেন্দ্র ৫০টি) বেসরকারি চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠান থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। গবেষণায় বেসরকারি চিকিৎসা খাত সংশ্লিষ্ট আইন ও নীতি পর্যালোচনা, প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা, এসব প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসাসেবা, বেসরকারি চিকিৎসাসেবার বিপণন ব্যবস্থা, তথ্যের স্বচ্ছতা, তদারকির বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন টিআইবির নির্বাহী ব্যবস্থাপনা উপদেষ্টা সুমাইয়া খায়ের, টিআইবির গবেষণা ও পলিসি পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল হাসান। গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন টিআইবির প্রোগ্রাম ম্যানেজার তাসলিমা আক্তার এবং ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার মো. জুলকারনাইন। ফলাফলে দেখা যায়, গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত ১১৬টির মধ্যে ৯৭টি প্রতিষ্ঠান পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেয়নি। এ ছাড়া বেসরকারি চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রধান আইন দ্য মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অরডিন্যান্স ১৯৮২ প্রণয়নের পর এখন পর্যন্ত হালনাগাদ করা হয়নি। এ আইনের কোনো বিধিমালাও করা হয়নি। দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় বেসরকারি চিকিৎসাসেবা আইনের খসড়া নিয়ে কাজ করা হলেও তা এখনো আইন হিসেবে প্রণয়ন করা হয়নি। অনুষ্ঠানে টিআইবির ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতি সুলতানা কামাল বলেন, বেসরকারি চিকিৎসা খাতে তদারকির চিহ্ন দেখতে পাই না। সরকার এ ক্ষেত্রে পুরো উদাসীন। সেখানে কি স্বার্থের দ্বন্দ্ব আছে সরকারের? কোনো ধরনের জবাবদিহির সম্মুখীন না হয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। যাঁরা তদারকের দায়িত্বে আছেন, তাঁরা তাঁদের কাজ গুরুত্বসহকারে নিচ্ছেন না। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণকারী খানার প্রায় সাড়ে ৬৩ শতাংশ বেসরকারি প্রতিষ্ঠান হতে সেবা নেয়। কিন্তু বাংলাদেশে বেসরকারি চিকিৎসাসেবা উচ্চ মুনাফাভিত্তিক খাত। মালিকেরা বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানকে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিয়েছে। তদারকির অভাব থাকায় সেবাগ্রহীতাদের জিম্মি করে উচ্চ মুনাফা আদায়ের সুযোগ রয়েছে।

সৌদি আরবে মেয়েদের কোনও নিরাপত্তা নেই

তসলিমা নাসরিন :ছোটবেলায় মা আমাকে তার স্বপ্নগুলো বলতো। মা’র স্বপ্নের মধ্যে সবচেয়ে বড় স্বপ্ন ছিল একবার স্বচক্ষে সৌদি আরব দেখা। পৃথিবীর সবচেয়ে পবিত্র দেশ, মা মনে করতো সৌদি আরব। ওই দেশে জন্মেছেন আল্লাহর প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)। ওই দেশে ইসলাম ধর্মের জন্ম। ওই দেশের ভাষা কোরআনের ভাষা। ওই দেশে কাবা শরিফ, রওজা শরিফ। মা মক্কা-মদিনার কথা বলতে বলতে আবেগে কাঁদতো। ওই পবিত্র দেশটির, ছোটবেলায় আমার মনে হতো, সব নিখুঁত; কোনও ভুল নেই, কোনও ত্রুটি নেই। যত বড় হচ্ছিলাম, যত চারদিক দেখছিলাম, পৃথিবীটাকে জানছিলাম, মা’র স্বপ্নের ওই দেশটি সম্পর্কে আমার মধুর মধুর ধারণাগুলো ধীরে ধীরে ভেঙে পড়ছিল। সৌদি আরবে গণতন্ত্র নেই, আছে রাজতন্ত্র। রাজপরিবার দেশটিকে নিয়ে যা ইচ্ছে তাই করবে, কারও বাধা দেওয়ার অধিকার নেই। দেশটিতে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়, নারীর অধিকার বলতে প্রায় কিছুই নেই। পাবলিক প্লেসে টেনে নিয়ে গিয়ে পাবলিককে দেখিয়ে তরবারির এক কোপে অভিযুক্তদের মুণ্ডু কেটে ফেলে সরকারি জল্লাদেরা। মুণ্ডুটা রাস্তার এক পাশ থেকে আরেক পাশে ফুটবলের মতো গড়িয়ে চলে যায়। উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে পাবলিক। এই বীভৎসতা দেখা যায় না। সৌদি আরবে বাকস্বাধীনতা নেই, মত প্রকাশের স্বাধীনতা তো নেই-ই। সৌদি মুক্তচিন্তক রাউফ বাদাবিকে আজও জেলে ভরে রাখা হয়েছে। পুরুষগুলোর যত খুশি উপপত্নী। মেয়েদের কপালে দুটো চুল এসে পড়লে ধর্ম পুলিশ দোররা মারবে। মেয়েরা গাড়ি চালাতে পারবে না। মেয়েরা প্রতিবাদ করতে পারবে না। মেয়েরা ধর্ষণের শিকার হলে মেয়েদেরই শাস্তি দেওয়া হবে। কোনও অমুসলমানের মক্কা আর মদিনায় যাওয়ার অধিকার নেই। অধিকার নেই সৌদি নাগরিকত্ব পাওয়ার, অধিকার নেই গির্জা মন্দির গড়ার। এই সৌদি আরবের তেলের খনিতে পঞ্চাশ-ষাট দশকে একসময় সৌদি শ্রমিকরা কাজ করতো। তারপর এলো প্রতিবেশী আরব দেশ থেকে শ্রমিক, তাও এক সময় বন্ধ হলো। আশির দশকের শুরু থেকে শুরু হলো এশিয়া থেকে শ্রমিক নেওয়া। এই শ্রমিকরা শ্রমিক হিসেবে তো নয়ই, মানুষ হিসেবেও সামান্য মর্যাদা পায় না সৌদি আরবে। নারী শ্রমিকরা যৌন হেনস্থা, শারীরিক এবং মানসিক অত্যাচার, আরও নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। শ্রমিকের অধিকার আর নিরাপত্তার তো প্রশ্ন ওঠে না। কী করে সৌদি পুরুষেরা গৃহকর্মীদের পেটায়, কী করে যৌন নির্যাতন করে— সেসবের চিত্র গুগল আর ইউটিউব ঘাঁটলেই মেলে। বাংলাদেশের মেয়েরা যৌন নির্যাতনের শিকার এত বেশি হয়েছে যে আর আরবমুখো হতে চায় না। ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, শ্রীলঙ্কার মেয়েদের আর সৌদি আরবে শ্রমিক হিসেবে পাঠানো হচ্ছে না। কিন্তু বাংলাদেশের মেয়েদের নেওয়ার জন্য সমন পাঠিয়েছে সৌদি আরব। তারা মেয়ে-শ্রমিক চাইছে। মেয়ে-শ্রমিক না বলে আসলে ওদের ক্রীতদাসী বলা উচিত। সৌদি পুরুষেরা অত্যাচারী প্রভুর মতোই আচরণ করে গৃহশ্রমিকদের সঙ্গে। সেদিনও একটি ভিডিওতে দেখলাম এক বাঙালি মেয়েকে জনসমক্ষে পিটিয়ে চ্যাংদোলা করে এক দশাসই সৌদি পুরুষ তার গাড়িতে ওঠালো। মেয়েটি দুজন বাঙালি পুরুষের কাছে কাঁদছিল যেন তাকে বাঁচায়। না, কেউ তাকে বাঁচাতে চেষ্টা করেনি। বরং সৌদি পুরুষটিকেই সাহায্য করেছে মেয়েটিকে গায়ের জোরে গাড়িতে ওঠানোর জন্য। পুরুষ- শ্রমিকেরাও মেয়ে-শ্রমিকের পক্ষ না নিয়ে পুরুষ-মালিকের পক্ষ নেয়। শ্রেণির চেয়েও হয়তো বড় হয়ে ওঠে লিঙ্গ! অদ্ভুত একটা দেশ বটে। শ্রমিকদের কাজ করিয়ে টাকা পয়সা না দিলেও সৌদি নাগরিকদের কোনও শাস্তি হয় না। ধর্ষণ করলেও হয় না, নির্যাতন করলেও না। মালিকদের কোনও আন্তর্জাতিক শ্রমিক আইন মানতে হয় না, যত খুশি বর্বর হওয়ার অধিকার তাদের আছে। শ্রমিকেরা বন্দী জীবন থেকে বেরিয়ে নিজ দেশে ফেরত যাওয়ার জন্য অস্থির হয়ে ওঠে, কিন্তু অনেক সময় খাঁচা থেকে বেরোনোর বা শেকল ছেঁড়ার কোনও ক্ষমতা তাদের থাকে না। সৌদি আইন শ্রমিকের পক্ষে যায় না, অত্যাচারিতা, ধর্ষিতদের পক্ষে যায় না। সৌদি আইন থাকে পুরুষের পক্ষে, ধনীর, শাসকের, মালিকের পক্ষে। সৌদি আরব দুই লাখ শ্রমিক চেয়েছে বাংলাদেশের কাছে। বাংলাদেশ থেকে মাসে দশ হাজার মেয়ে-শ্রমিক সৌদি আরবে পাঠানোর আয়োজন চলছে। সৌদি আরবে কোনও নিরাপত্তা মেয়েদের নেই। সৌদি মেয়েরাই নিরাপত্তা পায় না, শ্রমিক মেয়েরা কী করে পাবে! মেয়ে-শ্রমিকেরা কয়েক মাস পর পর দেশে ফিরে আসতে বাধ্য হচ্ছে, কেউ কেউ গর্ভবতী হয়ে ফিরে আসছে। সামান্য টাকা পয়সার জন্য জলজ্যান্ত নরকে মেয়েদের আর পাঠানোর চেষ্টা না করাই ভালো। সৌদি পুরুষেরা যখন গৃহশ্রমিকদের মারে, মারে পা দিয়ে, পায়ের জুতো দিয়ে, চাবুক দিয়ে। ভেবে অবাক হই, মুসলমানেরা মুসলমানের দেশে পরাধীন, অথচ খ্রিস্টান-নাস্তিকদের দেশে তারা তুলনায় বেশি স্বাধীন, তাদের মানবাধিকার বেশি সম্মানিত, তাদের নিরাপত্তা বেশি জোটে। মুসলমানরা মুসলমানের ভাই, এ কথা বারবার ভুল প্রমাণিত হয়। অধিকাংশ ধনী-মুসলমানদের কোনও আগ্রহ নেই দরিদ্র-মুসলমানের দারিদ্র্য ঘোচানোর। সৌদি আরব গরিব মুসলিম দেশের শুভাকাঙ্ক্ষী কখনো ছিল না, এখনো নয়। শ্রমিক তারা নেয় বটে, শ্রমিকের স্বার্থে নয়, নেয় নিজেদের স্বার্থে। নিজেরা নোংরা কাজ, ছোট কাজ, করতে চায় না বলে নেয়। সৌদি আরবের নারী বিদ্বেষী পুরুষেরা নিজেদের নারীকেও অসম্মান করে, বহিরাগত নারীকেও অসম্মান করে। নারীরা সৌদি আরবে ততদিন নিরাপদ নয় যতদিন সৌদি পুরুষের মধ্যে নারী বিদ্বেষ থাকবে, যতদিন নারীকে তারা যৌনবস্তু বলে ভাববে। অদূর ভবিষ্যতে সৌদি পুরুষদের মানসিকতা আমূল বদলে যাওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই। যে নারীরা সৌদি আরবে শ্রমিক হিসেবে যায়, তারা শ্রমিক, তারা পতিতা নয়। অথচ তাদের পতিতার মতো ব্যবহার করতে চায় পুরুষেরা। স্ত্রী ঘুমিয়ে গেলে পরিচারিকার ঘরে শুতে আসে গৃহকর্তা। পরিচারিকা রাজি না হলে তার ওপর চলে শারীরিক অত্যাচার। কোথায় বাংলাদেশের সরকার সৌদি সরকারকে বলে দেবে আমরা মেয়ে পাঠাবো না, তা নয়, বলছে মেয়েরা বাংলাদেশে আরও বেশি নির্যাতিত। তার মানে, মেয়েরা যেহেতু বাংলাদেশেও নির্যাতিত, সুতরাং সৌদি আরবে নির্যাতিত হলে কোনও অসুবিধে নেই। পুরুষেরা সাধারণত তাদের নারী বিদ্বেষ জনসমক্ষে আড়াল করে, কিন্তু বাংলাদেশের পুরুষদের এসব প্রকাশ করতে এতটুকু লজ্জা হয় না। সৌদি আরবের নারীবিদ্বেষী পুরুষেরা বাইরের লোক, বাংলাদেশের নারী বিদ্বেষী পুরুষেরা ঘরের লোক। ঘরে যারা মেয়েদের নির্যাতন করে, বাইরেও মেয়েরা নির্যাতিত হলে তাদের কিছু যায় আসে না। আমি ঘরের অত্যাচার মেনে নিয়ে বাইরের অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছি না। আমি ঘর এবং বাইরের দু’রকম অত্যাচারের বিরুদ্ধেই লড়তে চাইছি। লেখক : নির্বাসিত লেখিকা

আজকের মোট পাঠক

32711

নিউজ একাত্তর ডট কম

সম্পাদক : মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন চৌধুরী

নির্বাহী সম্পাদক : নুরুল ইসলাম ভুইয়া

একটি পপুলার মিডিয়া পাবলিকেশন এর প্রকাশনা

সম্পাদকীয় ও বানিজ্যিক কার্যালয় : ৪১৬/সি,খিলগাও ঢাকা। ফোন : ০৩১-২৭৭১১৮৮, ০১৮২৪২৪৫৫০৪, ০১৭৭৮৮৮৮৪৭২

চট্টগ্রাম কার্যালয় : ১০/১১ বি ৩য় তলা, হানিমুন টাওয়ার,পাহাড়তলী,চট্টগ্রাম।

ই-মেইল : newsekattor@gmail.com, editorekattor@gmail.com, কপিরাইট ©newsekattor.com কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত