করোনা মোকাবিলায় অনিয়ম সহ্য করা হবে না
0১এপ্রিল,বুধবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম:দেশে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের মতো বৈশ্বিক মহামারি ঠেকাতে সরকারের পরিচালিত কার্যক্রমে কোনো অনিয়ম হলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার যে ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী, তার কঠোর ও নির্মোহ প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। আজ গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংস্থাটি বলছে, এ ধরনের সংকট মোকাবিলায় সফল হতে হলে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও কার্যকর দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের কোনো বিকল্প নেই, প্রধানমন্ত্রীর হুঁশিয়ারিতে তারই প্রতিফলন ঘটেছে। টিআইবি বলছে, এই ঘোষণার বাস্তবায়নের মূল দায়িত্ব এখন সকল পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতা-কর্মী-সুবিধাভোগী, প্রশাসন, পুলিশসহ আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার হাতে। অন্যদিকে জরুরি প্রয়োজনে ত্বরান্বিত করার বাধ্যবাধকতা সত্ত্বেও ক্রয়খাতে জবাবদিহিতা এবং খাদ্য ও নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহে গতিশীলতা নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়েছে টিআইবি। করোনা ভাইরাস-উদ্ভূত জাতীয় দুর্যোগ বিষয়ে ২৮শে মার্চ গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিবৃতির প্রেক্ষিতে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে এমন ঘোষণাই প্রত্যাশিত ছিলো উল্লেখ করে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সুদৃঢ় অবস্থান যেমন আশাব্যঞ্জক, তেমনি এর কার্যকর বাস্তবায়নের দায়িত্ব তার দলের সকল পর্যায়ের নেতা-কর্মী, সমর্থক ও সুবিধাভোগীর ওপর। তাদের প্রতি এখন দেশবাসীর প্রত্যাশা, এই ঘোষণার প্রতি তারা শুধু শ্রদ্ধাশীল থাকবেন তা-ই নয়, বরং এই মহাদুর্যোগের সুযোগ নিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার থেকে দূরে থেকে তারা সকল প্রকার অনিয়ম-দুর্নীতি, আত্মসাৎ, অপচয় এবং রাজনৈতিক সুবিধা অর্জনের অপচর্চাকে সক্রিয়ভাবে প্রতিহত করবেন। মাদারিপুরের শিবচর, হবিগঞ্জের বাহুবল ও ভোলায় সরকারি সহায়তার চাল ও ভোজ্য তেল নিয়ে অনিয়মের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের যে দৃষ্টান্ত সংবাদমাধ্যমে এসেছে তা উল্লেখ করে ড. জামান বলেন, জড়িতরা শাসক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বা অন্যভাবে প্রভাবশালী হবার পরও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক ও পুলিশ সদস্য যেভাবে কঠোর অবস্থান নিতে পেরেছেন তাতে আমরা স্বস্তি পেয়েছি। কিন্তু এর ঠিক বিপরীতে অভিযোগ উঠেছে, চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে দোকান খোলা রাখার অভিযোগে ব্যবস্থা নেয়ার নাম করে ক্যাশবাক্স থেকে টাকা নেয়ার সময় হাতে-নাতে ধরা পড়েছেন পুলিশ বাহিনীর সদস্য। আমরা সীতাকুণ্ডের ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন হিসেবেই দেখতে চাই এবং আশা করতে চাই শিবচর, ভোলা ও বাহুবলের দৃষ্টান্ত সকল প্রশাসনিক ও সেনাসদস্যসহ আইনপ্রয়োগে নিয়োজিতদের জন্য মডেল হবে। কোনো ব্যত্যয় হলে সরকার ও প্রশাসন পরিচয় ও অবস্থান নির্বিশেষে কঠোরভাবে প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নিবেন। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, বাংলাদেশে সুশাসনের ঘাটতি এবং বিশেষ করে প্রশাসন ও আইনপ্রয়োগে নিয়োজিত সংস্থার দুর্নীতি-প্রবণতা সর্বজন বিদিত। অন্যদিকে বর্তমান প্রেক্ষিতে এই সংস্থাসমূহের হাতে বর্ধিত দায়িত্ব ও ক্ষমতার পাশাপাশি বর্ধিত সম্পদ অর্পিত হবে এটাই স্বাভাবিক। স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে যারা দুর্নীতিপ্রবণ তারা এই দুর্যোগের সময় আরো বেশি অনৈতিকতায় নিমজ্জিত হবেন এই ঝুঁকি বিবেচনায় সরকারের উচিত হবে করোনা সংকট মোকাবিলায় গৃহীত সকল কার্যক্রমের বাস্তাবায়নের মূলধারায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণকে শীর্ষ প্রাধান্য দেয়া। দুর্যোগ মোকাবিলায় ও এর আর্থ-সামাজিক প্রভাব ব্যবস্থাপনায় সরকারের ক্রয় ও বিতরণ কার্যক্রমও যৌক্তিকভাবে ব্যাপক বৃদ্ধি পাবে এবং অনেক ক্ষেত্রে তা ত্বরান্বিত করতে হচ্ছে বা হবে। তবে এ জাতীয় সকল কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে; কোনো অবস্থাতেই যেন এ সকল কার্যক্রম কোনো মহলের অতিরিক্ত মুনাফা ও অনৈতিকভাবে সম্পদ বিকাশের সুযোগে রূপান্তরিত না হয় তা নিশ্চিত করতে হবে, বলেন ড. জামান। খাদ্যপণ্য, নিত্যপ্রয়োজনীয় ও পচনশীল সামগ্রীর সরবরাহ-চেইন সচল রাখতে পুলিশ এবং প্রয়োজনে বেসামরিক প্রশাসনের কর্তৃত্বাধীন সেনাবাহিনীর সহায়তায় সীমিত পরিসরে যোগাযোগ ব্যবস্থা সক্রিয় রাখতে হবে। অন্যথায় ভোক্তাদের এ ধরনের পণ্যের সংকটের পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলে কৃষিনির্ভর জনগণের দুর্ভোগ আশঙ্কাজনকভাবে বাড়বে।
দেশের ৩ হাজার কারাবন্দিকে জামিন দেওয়া হবে
0১এপ্রিল,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব থেকে কারাগার সংরক্ষিত রাখতে দেশের ৩ হাজার কারাবন্দিকে জামিন দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। করোনায় সৃষ্ট দুর্যোগের কারণে কারাবন্দির সংখ্যা কমাতেই দেশের ৬৮ কারাগারে ছোটখাটো অপরাধ ও জামিনযোগ্য ধারায় বিচারাধীন ৩ হাজারের বেশি কারাবন্দিকে জামিন দিতেই এ উদ্যোগ বলে কারা সূত্রে জানা গেছে। বর্তমানে দেশের সব কারাগারে বন্দি ধারণক্ষমতা ৪১ হাজার ৩১৪ জন। এর বিপরীতে বর্তমানে ৮৯ হাজারের বেশি বন্দি আটক রয়েছেন। কয়েকদিন পূর্বে যা ৯০ হাজার ছাড়িয়ে যায়। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অপরাধের কারণে এসব বন্দি আদালতে বিচারাধীন অবস্থায় মাসের পর মাস কারা প্রকোষ্ঠে দিন কাটাচ্ছেন। অধিক বন্দির কারণে সরকারের বিশেষ নির্দেশে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা বিভাগ কারা অধিদফতরের এসব বন্দির তালিকা তৈরি করে পাঠাতে নির্দেশ দিয়েছে বলে জানা গেছে। ইতোমধ্যে কারা কর্তৃপক্ষ হাজতিদের এ তালিকা তৈরি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবও পাঠিয়েছে। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মাহবুবুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে সারাদেশের বিভিন্ন কারাগার থেকে এসব হাজতিকে ছেড়ে দেয়া হবে। কারাগার নিরাপদ রাখতেই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক ও পাবলিক হেলথ বিশেষজ্ঞ কর্নেল আবরার হোসেন জানান, মন্ত্রণালয়ের আদেশে কোভিড-১৯ ভাইরাসের কারণে এ প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। জামিনযোগ্য ছোটখাটো অপরাধে যারা কারাগারে আছেন, এ রকম তিন হাজারের সামান্য বেশি হাজতির নাম প্রস্তাব আকারে মন্ত্রণালয়ে দেয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেলে ওই প্রস্তাব যাবে আইন মন্ত্রণালয়ে। সেখানে আপত্তি না থাকলে পাঠানো হবে আদালতে। তিনি বলেন, শেষ পর্যন্ত বিচারকই সিদ্ধান্ত নেবেন জামিন দেয়া যায় কিনা। মুক্তির বিষয়টি বিচারকদের হাতে, আমাদের হাতে নয়। কারা সূত্র জানায়, জামিনের উদ্যোগ নেয়া এমন বন্দির সংখ্যা প্রায় ৩ হাজার ১০০ এর মতো। তবে একইসঙ্গে বিভিন্ন মেয়াদে সাজাপ্রাপ্ত যার বেশিরভাগ অংশ তথা যেসব বন্দির কমপক্ষে ২০ বছর কারাবাস অতিক্রান্ত হয়েছে কিন্তু কারাভ্যন্তরে থাকাবস্থায় কোনো ধরনের অন্যায় আচরণ করেননি এমন বন্দি ও জেলকোড অনুযায়ী সরকারের কাছে আবেদন করে রাষ্ট্রের ক্ষমা পেতে পারেন কারা কর্তৃপক্ষ এমন বন্দিদের তালিকাও তৈরি করছে বলে জানা গেছে। উল্লেখ্য, করোনার এমন পরিস্থিতিতে দেশের বিভিন্ন কারাগারে মোট ৪০ বন্দিকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। মঙ্গলবার করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা ও সুরক্ষা সেবা বিভাগের গৃহীত পদক্ষেপের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতের কারা অধিদফতরের বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে বলা হয়, সর্বশেষ ২৮ মার্চের তথ্য অনুযায়ী দেশের কারাগারে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কোনো পজিটিভ কেস নেই। তবে অধিকতর সতর্কতার অংশ হিসেবে যদি কারো ঠান্ডা, কাশি, জ্বর, শ্বাসকষ্ট ইত্যাদি লক্ষণ দেখা গেলে তাদেরকে পৃথক কক্ষে রাখা হচ্ছে। বিভিন্ন কারাগারে মোট ৪০ বন্দিকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। দেশের কারাগারগুলোতে করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, করোনা আক্রান্তদের কোনো পজিটিভ কেস পাওয়া গেলে সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় বন্দিদের জন্য বিভাগভিত্তিক কিশোরগঞ্জ, মাদারীপুর, পিরোজপুর, সিলেট, ফেনী ও দিনাজপুর জেলা কারাগারে আইসোলেশন সেন্টার গঠন করা হয়েছে। করোনার সম্ভাব্য সংক্রমণ এড়াতে কারাগারে বন্দিদের আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সাক্ষাৎ সীমিত করা হয়েছে জানিয়ে বলা হয়, বন্দিরা যেন আত্মীয়-পরিজন নিয়ে উদ্বিগ্ন না হন সেজন্য জরুরি টেলিফোনে কথা বলার সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। বন্দি ও স্টাফদের বিদেশ ফেরত আত্মীয়-স্বজনকে কারা এলাকায় প্রবেশ থেকে বিরত রাখা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, কারা এলাকায় প্রবেশকারী সকলকে স্বাস্থ্যবিধি ও পরিচ্ছন্নতার নিয়ম কানুন মেনে চলতে বাধ্য করা হয়েছে। হ্যান্ডওয়াশ ও হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ডিউটিতে প্রবেশের আগে কর্মরত সকলের হাত ও বুট জুতা জীবাণুমুক্ত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে রোগটিতে বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ছয়জনে। বুধবার দুপুরে করোনাভাইরাসের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে মহাখালীর স্বাস্থ্য অধিদফতরের সরাসরি অনলাইন ব্রিফিংয়ে যুক্ত হয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, প্রাণঘাতী এ ভাইরাসে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন তিনজন। এ নিয়ে মোট আক্রান্ত হলেন ৫৪। দেশে আক্রান্তদের মধ্যে এ পর্যন্ত ২৬ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
ছুটির প্রজ্ঞাপন জারি
0১এপ্রিল,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে চলমান বিশেষ ছুটি আরো ৭ দিন বাড়ানো হয়েছে। সাধারণ ছুটির মেয়াদ ৯ই এপ্রিল পর্যন্ত বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। তবে এতে বলা হয়েছে, ১০ ও ১১ই এপ্রিল (শুক্র ও শনিবার) সাপ্তাহিক ছুটিও এর সঙ্গে যুক্ত থাকবে। এর মানে হলো ১১ই এপ্রিল পর্যন্ত ছুটি। আজ বুধবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব কাজী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ জারি করা হয়। মানুষের জীবন-জীবিকার স্বার্থে রিকশা-ভ্যানসহ যানবাহন, রেল, বাস পর্যায়ক্রমে চালু করা হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, জরুরি সেবার ( বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস, ফায়ার সার্ভিস, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট) ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা প্রযোজ্য হবে না। এ ছাড়া কৃষি পণ্য, সার, কীটনাশক, খাদ্য, শিল্প পণ্য, চিকিৎসা সরঞ্জামাদি, জরুরি ও নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহন এবং কাঁচাবাজার, খাবার, ওষুধের দোকান, ও হাসপাতাল এই ছুটির মধ্যে পড়বে না। জরুরি প্রয়োজনে অফিসগুলো খোলা রাখা যাবে। প্রয়োজনে ওষুধশিল্প, উৎপাদন ও রপ্তানিমুখী শিল্প কারখানা চালু রাখতে পারবে। এ ছাড়া মানুষের প্রয়োজন বিবেচনায় ছুটিকালীন বাংলাদেশ ব্যাংক সীমিত আকারে ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু রাখার বিষয়ে নির্দেশনা দেবে। এর আগে মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছুটির মেয়াদ ৯ই এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানোর কথা বলেছিলেন। এছাড়া গত ২৩শে মার্চ সরকার ২৬ শে মার্চ থেকে ৪ঠা এপ্রিল পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করে। সেটির ধারাবাহিকতায় এখন ছুটি বাড়ল।
দুঃসময়ে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার অপতৎপরতা থেকে বিরত থাকুন
0১এপ্রিল,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা ভাইরাস সংকট পরিস্থিতিতে সরকারের সমালোচনা করে রাজনৈতিক ফায়দা লোটা থেকে বিএনপিকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। একইসঙ্গে বিএনপিকে জনগণের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।বুধবার (০১ এপ্রিল) নিজের সরকারি বাসভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের এ আহ্বান জানান।সেতুমন্ত্রী বলেন, করোনা ভাইরাসের এই সংকটে বিএনপি নেতারা দেশবাসীর পাশে না দাঁড়িয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সরকারের সমালোচনা করে চলেছে। বিএনপি নেতাদের বলব, এই দুঃসময়ে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার অপতৎপরতা থেকে বিরত থাকুন। জনগণের পাশে থেকে দেশের সংকটময় পরিস্থিতি মোকাবিলা করুন।তিনি বলেন, দেশের এই সংকট মুহূর্তে সরকারের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছেন। কিন্তু বিএনপি জনগণের পাশে না দাঁড়িয়ে রাজনৈতিকভাবে ফয়দা লোটার চেষ্টা করছে।সংবাদ সম্মেলনে পদ্মাসেতুর কাজের সর্বশেষ অগ্রগতি প্রসঙ্গে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, মূল সেতুর কাজ ৮৬ দশমিক ৭৫ শতাংশ এবং প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি হয়েছে ৭৮.৫ শতাংশ।
সরকারকে সহযোগিতায় যতদিন প্রয়োজন সেনাবাহিনী মাঠে থাকবে
0১এপ্রিল,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: কভিড মোকাবিলায় সরকারকে সহযোগিতায় যতদিন প্রয়োজন সেনাবাহিনী মাঠে থাকবে বলে জানিয়েছেন সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে কাজ করে যাচ্ছে সেনাবাহিনী। বুধবার দেশের অর্থনীতিতে কভিড প্রভাব মোকাবিলায় করণীয় নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে এক বৈঠকে তিনি এ কথা জানান। সরকারের চাহিদা অনুযায়ী আরও সেনা মোতায়ন করা হবে বলেও জানান সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ। এ সময়ে বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি জানান, স্বাস্থ্যবিধি মেনে পোশাক কারখানা চালু রাখা যাবে। পাশাপাশি পোশাক শিল্পের জন্য সরকারের ৫ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা ২ শতাংশ সুদে দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, পোশাক কারখানা বন্ধের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো নির্দেশনা নেই। তবে যারা কারখানা চালু রাখবেন, তাদের অবশ্যই শ্রমিকদের জন্য প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা নিতে হবে। এদিকে, কভিড প্রতিরোধে সরকারের নির্দেশনা মানাতে রাজধানীতে আজ আরো কড়াকড়ি অবস্থান নিয়েছে সেনা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে নানা প্রয়োজনে সকাল থেকে সড়কে রিক্সা ও অন্যান্য ব্যক্তিগত যানবাহন চলাচল করতে দেখা যাচ্ছে। কেউ অপ্রয়োজনে বের হয়েছে সন্দেহ হলে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। গাড়িতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি যাত্রী গাদাগাদি করে নেয়া হচ্ছে কিনা তাও তল্লাশি করছেন সেনা ও পুলিশ সদস্যরা। জরুরী কাজ ছাড়া কেউ বের হলেই তাকে বাসায় ফেরত পাঠানো হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন কাঁচাবাজার এলাকায় টহল জোরদার করেছে সেনাবাহিনী। নির্দিষ্ট দূরত্ব মেনে কেনাকাটা করতে বাধ্য করা হচ্ছে ক্রেতাদের। মাইকিং করে বুঝানো হচ্ছে কভিড সংক্রমণের ঝুঁকি। রাজধানীর অঘোষিত এই লকডাউন পরিস্থিতিতে জীবিকা সংকটে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ। বিভিন্ন জায়গায় তাদের জন্য ত্রাণ সহায়তা দেয়ার সময় দেখা দিচ্ছে জটলা, বিশৃঙ্খলা।
বাড়িভাড়া সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনা করার আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর
0১ এপ্রিল,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি শিল্পখাতের শ্রমিকদের বাড়িভাড়া সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনা করার জন্য আজ মঙ্গলবার বাড়ি মালিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। মন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসজনিত সংকটের ফলে বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী শিল্পখাত সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে। এসব শিল্পের শ্রমিকগণ সমস্যায় পরেছেন। এমতাবস্থায়, শ্রমিক ভাই-বোনদের সমস্যার কথা চিন্তা করে বাড়িভাড়া সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনার জন্য বাড়ি মালিকদের প্রতি অনুরোধ করছি। তিনি বলেন, আমরা সহানুভূতিশীল হলে খেটে খাওয়া শ্রমিক ভাই-বোনরা কিছুটা স্বস্তিতে বর্তমান সংকট উত্তরণে সক্ষম হবেন এবং আগামীতে রপ্তানি খাতে বেশি অবদান রাখবেন বলে আমি বিশ্বাস করি। বাসস
আসছে কালবৈশাখী
0১ এপ্রিল,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসে বিপর্যস্ত বাংলাদেশসহ গোটা বিশ্ব। এরইমধ্যে গত কয়েকদিন ধরে দেশের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে তাপদাহ। যা ক্রমান্বয়ে আরো বাড়বে। একই সঙ্গে আগামী ৩ এপ্রিল (শুক্রবার) থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বজ্রবৃষ্টিসহ কালবৈশাখী হওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। মঙ্গলবার আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বর্তমানে দেশের মধ্যাঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া তাপদাহ আরো বাড়তে পারে। দিনের বেলা সরাদেশেই বাড়বে এই তাপমাত্রা। আর রাতের বেলাও তাপমাত্রা বেশি থাকবে দেশের উত্তরাঞ্চলে। এদিকে, গত ৩০ মার্চ দেশের সর্বোচ্চ ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় পার্বত্যাঞ্চলের জেলা রাঙামাটিতে। এছাড়া রাজধানী ঢাকায় ছিল ৩৪ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগামী দুই দিনও একই তাপদাহ বিরাজ করবে এবং এরপরই বজ্রবৃষ্টিসহ কালবৈশাখী শুরু হবে বলে জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক সামছুদ্দিন আহমেদ বলেন, সাধারণত চৈত্র মাসে এ ধরনের আবহাওয়া বিরাজ করে। কিন্তু এবার কিছুটা দেরিতে ঋতু পরিবর্তন হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আগামী ৩ এপ্রিল থেকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত রাজধানী ঢাকাসহ ফরিদপুর, চুয়াডাঙ্গা ও ঈশ্বরদী অঞ্চলের ওপর দিয়ে স্বল্প পরিসরে বজ্রবৃষ্টির সঙ্গে কালবৈশাখী বইয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে, বজ্রবৃষ্টি হলেও তাপদাহ একই থাকবে বলেও জানান এই আবহাওয়াবিদ।