শুক্রবার, এপ্রিল ২৭, ২০১৮
ফের আন্দোলন চলতি মাসের মধ্যে গেজেট না হলে
সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারে চলতি মাসের মধ্যেই প্রজ্ঞাপন জারি করা না হলে ফের আন্দোলনে নামার হুশিয়ারি দিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতারা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে এ হুশিয়ারি দেয়া হয়। এতে সংগঠনটির যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদে কোটা বাতিলের ঘোষণা দিয়েছেন। আমাদের দাবি, এ মাসের মধ্যে কোটা বাতিলের গেজেট প্রকাশ করতে হবে। তা না হলে দাবি আদায়ে আমরা আবারও আন্দোলনে নামতে বাধ্য হব বলে জানান তিনি। রাশেদ খান আরও বলেন, নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। এ ব্যাপারে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা আমাদের আশ্বস্ত করেছেন যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো সাধারণ শিক্ষার্থীকে হয়রানি করা হবে না। তিনি বলেন, কিন্তু কোটা সংস্কার আন্দোলন ও ভিসির বাসভবনে ভাঙচুরের ঘটনায় অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে মামলা করা হয়েছে। এতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের হয়রানি হওয়ার আশঙ্কা আছে। তাই এক সপ্তাহের মধ্যে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে করা সব মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। কোটা সংস্কার আন্দোলনকে বিতর্কিত করার চেষ্টা চলছে উল্লেখ করে সংগঠনের আরেক আহ্বায়ক নুরুল হক নুর বলেন, দৈনিক ইত্তেফাকের পর গত ২১ এপ্রিল দৈনিক জনকণ্ঠ কোটা আন্দোলন নিয়ে বিভ্রান্তিকর সংবাদ ছাপিয়েছে। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টার মধ্যে দৈনিক জনকণ্ঠ তার প্রকাশিত সংবাদের জন্য দুঃখপ্রকাশ না করলে সারা দেশের সব ছাত্রসমাজ দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকাকে বর্জন করবে। পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করে নুরুল হক বলেন, ক্যাম্পাসের পরিবেশ স্বাভাবিক ও সাধারণ ছাত্রদের নিরাপত্তার স্বার্থে আগামী ৩০ এপ্রিল ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে মতবিনিময়সভা করা হয়েছে। দেশের অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও এ কর্মসূচি পালন করা হবে।
তারেক রহমান পাসপোর্ট ছাড়া লন্ডনে অবস্থান করছেন,দন্ডপ্রাপ্ত কেউ পাসপোর্ট পাবেন না: ডিজি
দন্ডপ্রাপ্ত কেউ পাসপোর্ট পাবেননা। একই সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্র ছাড়া পাসপোর্ট তৈরি করা সম্ভব নয়। পাসপোর্ট অধিদপ্তরের ডিজি মেজর জেনারেল মো. মাসুদ রেজওয়ান এ কথা বলেন। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে দশটায় পাসপোর্ট অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে ডিজি বলেন, দেশের নাগরিকদের সঙ্গে পাসপোর্টের কোন সম্পর্ক নেই। বাংলাদেশের অনেক নাগরিক রয়েছেন যাদের কোন পাসপোর্ট নেই। তিনি বলেন, তারেক রহমান ২০১৪ সালে পাসপোর্ট সারেন্ডার করেছেন। তবে এর কারণ আমার জানা নেই। তবে তারেক রহমানের পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আমার কাছে কোন আবেদনও আসেনি। ডিজি বলেন, ২০০৮ সালে তারেক রহমান দেশ ত্যাগ করেন। ২০১০ সাল পর্যন্ত তার মেয়াদ ছিল। ২০১৪ সালে তারেক রহমান তার পাসপোর্ট সারেন্ডার করেন। তিনি এখন লন্ডনে পাসপোর্ট ছাড়া অবস্থান করছেন। পাসপোর্ট আইন অনুযায়ী ফৌজদারি মামলায় দন্ডপ্রাপ্ত কেউ পাসপোর্ট পাবেন না। অ্যাম্বেসিতে আবেদন করলেও পাসপোর্ট পাবেন না। আগে তাকে জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করতে হবে। এ জন্য তাকে দেশে আসতে হবে। ডিজি বলেন, তারেক রহমান ট্রাভেল পাস নিয়ে দেশে আসতে পারবেন।
তারেক রহমানের নাম ভোটার তালিকাতে নেই
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছবিসহ ভোটার তালিকায় নাম নেই। এছাড়া বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) কার্ডও নেই তার। এসম্পর্কে নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, ২০০৭-২০০৮ সালে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়ন করা হয়। সেসময় তারেক রহমান জেলে ছিলেন। তবে তার নাম ভোটার তালিকায় আন্তর্ভূক্ত হয়েছিল কিনা জানা নেই। তবে ছবিসহ ভোটার তালিকা শুরুর সময় ইসি’র জনসংযোগ পরিচালকের দায়িত্বে থাকা এস এম আসাদুজ্জামান বুধবার সাংবাদিকদের জানান, ওই সময়ে তারেক রহমান ভোটার হননি। আর যেহেতু ভোটার তালিকায় নাম উঠেনি তাই, জাতীয় পরিচয়পত্রও পাননি। ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি লন্ডন চলে যান। সেসময় তিনি চাননি বলেই ভোটার তালিকায় নাম উঠেনি। তবে যোগ্য বাংলাদেশি যে কারও যে কোনো সময় ভোটার হওয়ার সুযোগ রয়েছে বলেও জানান তিনি। এদিকে তারেক রহমান ভোটার না হলেও তার মা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ২০০৮ সালের ২৯ নভেম্বর ক্যান্টনমেন্টের ঠিকানায় ভোটার হন। এদিকে যুক্তরাজ্যে তারেক রহমানের জমা দেয়ার পাসপোর্টের একটি কটি দেখিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেছেন, তার হিসেবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এখন আর বাংলাদেশের নাগরিক নন। তবে বিএনপি তা প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, তারেক রাজনৈতিক আশ্রয় লাভের জন্য তার পাসপোর্ট যুক্তরাজ্য সরকারকে জমা দিয়েছেন। তিনি বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ছাড়েননি। তবে ভোটার হয়েছিলেন কি না এমন বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে এখনো কিছু জানানো হয়নি।
কোটা আন্দোলনের নেপথ্য কথা-চার নেতার মুখে
বেনজির এক ছাত্র বিক্ষোভ। স্বতঃস্ফূর্ত। লাখ লাখ ছাত্রের জমায়েত। ছিল না সুনির্দিষ্ট কোনো নেতৃত্ব। আন্দোলনের ফল অবশ্য এখনো পরিষ্কার নয়। শুরুতে ছাত্রলীগ এ আন্দোলনে তেমন কোনো বাধা না দিলেও এখন এই সংগঠনের নেতাকর্মীদের হাতে নানামুখী নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন কোটা আন্দোলনে যুক্তরা। হুমকি আর ভয়ভীতির মধ্যে দিন কাটছে আন্দোলনের নেতাদের। তিন নেতাকে ডিবি পুলিশ তুলে নিয়ে ছেড়েও দিয়েছে। কিন্তু এ ঘটনায় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছেন তারা। কিন্তু প্রশ্ন হলো- কীভাবে গড়ে উঠলো এই আন্দোলন। আন্দোলনের মঞ্চ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের চার নেতার সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলেছে মানবজমিন। পেছনের দিনের ঘটনার বয়ানের পাশাপাশি তারা কথা বলেছেন ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে। আন্দোলনকারীদের সমন্বয়ক হাসান আল মামুন বলেন, ফেব্রুয়ারির শুরু থেকেই আলোচনা শুরু করলেও প্রথম জমায়েত হই ১৭ই ফেব্রুয়ারি। বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ আকবর আলি খানের কোটা নিয়ে বক্তব্য শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন পেজে শেয়ার হয়। এরপর থেকেই মূলত আলোচনা করতে থাকে শিক্ষার্থীরা। ১৭ই ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি ও পাবলিক লাইব্রেরি থেকে শিক্ষার্থীরা বের হয়ে শাহবাগে যায়। মানববন্ধন করবে। কিন্তু পুলিশ বাধা দেয়। পরে রাজু ভাস্কর্যে মানববন্ধন করি। তিনি বলেন, আন্দোলনে অর্থ সহায়তা আসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে। যারা লাইব্রেরিতে পড়ে এবং গ্রুপে যারা আছে তারা ৫ টাকা, ১০ টাকা দিয়ে সহায়তা করে। ওই টাকা দিয়ে ব্যানার করি। পুরো আন্দোলনটা এভাবেই পরিচালনা করি। মামুন বলেন, মানববন্ধনের পর আমরা কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে সভা করি। ৪/৫ জন ছিল। পরে কমিটি হয়। কমিটি করার সময় আমরা সতর্ক থেকেছি যেন জামায়াত-শিবিরের কেউ না ঢুকে পড়ে। কারণ আমরা জানতাম এক সময় আন্দোলনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য এভাবে ব্লেইম দেবে। প্রথমদিকে ছাত্রলীগ থেকে সমর্থন দেয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির দিন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির কয়েকজন নেতা হঠাৎ করে লাইব্রেরির সামনে বাধা দেয়। আমাকে মধুর ক্যান্টিনে নিয়ে যায়। বলা হয়, নেত্রী তো দাবি মেনেই নিছে। আবার আন্দোলন কেন? শূন্য পদ থেকে তো মেধাবীদের নিয়োগ দেয়া হবে। নেত্রীর আশ্বাসে আমরা শান্ত হই। হঠাৎ করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হলো, শূন্য পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটাধারীদের প্রাধান্য দেয়া হবে। কোটাধারীদের মধ্য থেকে পাওয়া না গেলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের থেকে নেয়া হবে। পরে আমরা সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগের চেষ্টা করি। প্রতিটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্মারকলিপি দেই। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও দেখা করার চেষ্টা করি। কিন্তু পারিনি। আমরা সবাইকে বোঝাতে চেষ্টা করি এটা সময়ের দাবি। এটা প্রয়োজন। মামুন আরো বলেন, এরপর হাইকোর্টের মোড়ে পুলিশ আমাদের ওপর টিয়ারশেল মারে। আমরা একটা ইটও ছুড়িনি। একটা গাছের পাতাও ছিঁড়িনি। ৮ই এপ্রিল শাহবাগ মোড়ে বসার পেছনে একটা কারণ ছিল। সেদিন জাতীয় সংসদের অধিবেশন ছিল। আমরা চেয়েছি সেখানে এ বিষয়টি উঠুক। সবাই আলোচনা করুক। আমাদের একটা আশ্বাস দিক। কয়েকজন সংসদ সদস্যের সঙ্গেও আলোচনা করি। সংসদে উপস্থাপনের জন্য বলি। কিন্তু তারা করেননি। পুলিশকে বলেছি, আমাদের আশ্বাস দেয়া হোক। কোটা সংস্কার করা হবে। এর মধ্যে আমরা অ্যাম্বুলেন্সসহ রোগীদের গাড়ি পারাপারের সুযোগ দেই। পরে সাড়ে ৭টার পর পুলিশ অ্যাটাক করলো। এমন ভাবে করলো ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। আমি ১০০টি রাবার বুলেট সংগ্রহ করি যেগুলো বিস্ফোরিত হয়নি। তিনি বলেন, আমরা এখন নিরাপদ নই। আমাদের নামে নানারকমের প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হচ্ছে। এসব অভিযোগের ভিত্তি নেই। বাংলাদেশে সবচেয়ে স্বচ্ছ একটা আন্দোলন করেছি। ভিসির বাসায় হামলার বিষয়েও আমরা জড়িত ছিলাম না। ভালো করে তদন্ত করলে সত্যটা বের হয়ে আসবে। যুগ্ম সমন্বয়ক মোহাম্মদ রাশেদ খান বলেন, ১৭ই ফেব্রুয়ারির পর বিভিন্ন কর্মসূচি দিয়েছি। ৮ই এপ্রিল কর্মসূচি দেয়ার আগে ১৪/১৫ দিনের একটা বিরতি দিই। বিরতি দেয়ার কারণ এই সময়টাতে দেশের মানুষকে আমরা আন্দোলন সম্পর্কে সচেতন করি। লিফলেট বিতরণ করি। পরে ৮ই এপ্রিল শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পুলিশ হামলা করে। ওইদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একটা অন্যরকম ইতিহাস তৈরি করেছে। এক ছাত্রের বিপদে আরেক ছাত্র এগিয়ে এসেছে। ছাত্রীরা এগিয়ে এসেছে। শাহবাগে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ টিয়ারশেল, গুলি ছুড়েছে এ খবর জানার পর হলে কেউ বসে থাকেনি। সবাই দলে বেঁধে শাহবাগে চলে এসেছে। যে তিন নেতাকে পুলিশ তুলে নিয়েছিল তাদের মধ্যে রাশেদ একজন। তিনি বলেন, গুম করার পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছিল। হাতকড়া পরানো হয়েছিল। কিন্তু মিড়িয়ায় প্রচার হওয়ার কারণে ছাড়া পেয়েছি। সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সুফিয়া কামাল হল থেকে ছাত্রীদের রাতের আঁধারে বের করে দিয়েছে হল প্রশাসন। এটা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে নারী নির্যাতন। যেটা বাংলাদেশে আগে হয়নি। ঘটনার প্রতিবাদে লাইব্রেরির সামনে প্রোগ্রাম করতে চেয়েছিলাম। সেখানে একটি মহল আগে থেকে অবস্থান নেয়। আমরা পরে বাধ্য হয়ে প্রোগ্রাম রাজু ভাস্কর্যে স্থানান্তর করি। সেখানেও বাধা দেয়। আন্দোলন করার অধিকার তো সংবিধানে স্বীকৃত। তারপরও কেন বাধা? একটি মহল আমাদের ভয়-ভীতি দেখাচ্ছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভয় দেখাচ্ছে। যাতে প্রোগ্রামে তারা না আসতে পারে। বিভিন্ন হল থেকে বের করে দিয়েছে। আতঙ্ক তৈরি করছে। ফেসবুকে একটা গ্রুপ খুলেছে। সেখানে আমাদের ছবি দিয়ে বলা হচ্ছে যেখানে পাওয়া যাবে সেখানে হামলা করা হবে। বিভিন্নভাবে গালিগালাজ করছে। রাশেদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করেছি। নিরাপত্তা চেয়েছি। কিন্তু প্রশাসন নিরাপত্তা দেয়ার ব্যবস্থা করেনি। বাইরে বের হলে কিছু লোক ফলো করে। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। অনিরাপদ রয়েছি। যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের নিরাপত্তা দিচ্ছে না তাই সরকারের কাছ থেকে আমরা নিরাপত্তা চাই। আমাদের আন্দোলন কোনো সরকার বিরোধী আন্দোলন ছিল না। সরকার বিরোধী কোনো স্লোগান দিইনি। রাজশাহী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের মারধর করা হয়েছে। প্রোগ্রাম করতে দেয়া হয়নি। তিনি বলেন, ফেসবুক আইডি খুলতে পারছি না। যে আইডি ছিল সেটি তারা রিপোর্ট করে, হ্যাকড করে নষ্ট করে দিয়েছে। পরে আইডি খোলার চেষ্টা করেছি। কিন্তু খোলার সঙ্গে সঙ্গেই তারা রিপোর্ট করে বন্ধ করে দেয়। সামাজিক মাধ্যমে যোগাযোগ করতে পারছি না। গেজেটের বিষয়ে রাশেদ বলেন, আমরা অপেক্ষা করছি। প্রধানমন্ত্রী দেশের বাইরে ছিলেন। তিনি দেশে এসেছেন। গেজেট প্রকাশের জন্য আমরা যথেষ্ট অপেক্ষা করেছি। দ্রুত গেজেট প্রকাশ না করলে কেন্দ্রীয় কমিটি বসে সিদ্ধান্ত নিয়ে জানানো হবে। মামলা উঠিয়ে নেয়ার জন্য আলটিমেটাম দেয়া আছে। কারণ অজ্ঞাতনামা মামলা দিয়ে রাঘব বোয়ালদের বাঁচিয়ে দিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের হয়রানি করবে। আলটিমেটাম শেষ হলে আমরা বসে সিদ্ধান্ত নেবো। আন্দোলনকে বানচাল করার জন্য ভিসির বাসায় হামলা চালানো হয়েছিল। এই হামলার সঙ্গে সাধারণ শিক্ষার্থীরা জড়িত না। আরেক যুগ্ম সমন্বয়ক নূরুল হক নূর গেজেট প্রকাশের বিষয়ে বলেন, আমরা চেয়েছি কোটা সংস্কার। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী কোটা বাতিল করে দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর ওপর আমাদের আস্থা আছে। তিনি এতদিন বাইরে ছিলেন। আশা করি দ্রুত গেজেট প্রকাশ করা হবে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটা আতঙ্ক কাজ করছে। কারণ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব, এইচ টি ইমামসহ আরো কয়েকজন বলেছেন, কোটা বাতিল হবে না। এটা সংস্কার করা হবে। যেখানে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন বাতিল করা হয়েছে সেখানে ওনারা এটা কিভাবে বলেন। এ নিয়ে সবার মধ্যে একটা দ্বিধা-দ্বন্দ্ব বা শঙ্কা রয়েছে। তবে আমরা বরাবরই বলে এসেছি মন্ত্রী বা সচিব কে কি বললো সেটা বিবেচনার বিষয় নয়। প্রধানমন্ত্রী যেহেতু বলেছেন তাই আমরা ধরে নিচ্ছি কোট পদ্ধতি বাতিল হচ্ছে। মামলা প্রত্যাহারের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা শুরু থেকেই বলে এসেছি সাধারণ শিক্ষার্থীরা ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িত নয়। ভিসির বাসায় হামলার ঘটনায় মিড়িয়াতে অসংখ্য নিউজ হয়েছে। প্রমাণ এসেছে। ভিডিও ফুটেজ রয়েছে। সেখানে অনেককে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের নামে মামলা দেয়া হোক। অজ্ঞাতনামা দিয়ে কোনো মামলা রাখা যাবে না। তিনি বলেন, ৮ই এপ্রিল রাতে পরিকল্পিতভাবে ক্যাম্পাসকে রণক্ষেত্র করা হয়েছে। বহিরাগত এনে রড, রামদা নিয়ে আক্রমণ করা হয়েছে শিক্ষার্থীদের ওপর। গুলি করা হয়েছে। যারা বহিরাগত নিয়ে এসেছে তাদের বিচার হওয়া উচিত। বহিরাগত কারা নিয়ে এসেছে সেটা মিড়িয়ায় এসেছে। এই বহিরাগতরাই ভিসির বাসায় হামলা চালিয়েছে। পুলিশের হামলার সময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েও পাননি বলে জানান নূর। তিনি বলেন, রাত ৯টার দিকে ভিসির বাসার সামনে যাই। হ্যান্ডমাইক দিয়ে ভিসি স্যারকে আহতদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে নির্যাতনের প্রতিবাদ জানাতে আহ্বান করি। আমরা বলেছি, স্যার আপনার সন্তানদের ওপর পুলিশ গুলি করছে, টিয়ারশেল মারছে। প্লিজ স্যার একটু আসেন। কিন্তু তিনি আসেননি। আমাদের সঙ্গে কথা বলেননি। ১৫ মিনিট বাসার সামনে অবস্থান করে পরে আমরা চলে আসি। অপর যুগ্ম সমন্বয়ক ফারুক হাসান বলেন, লাইব্রেরিতে যারা পড়তো তারাই এই আন্দোলন শুরু করে। পরে সবার মাঝে এটি ছড়িয়ে পড়ে। তিনি বলেন, আন্দোলনের এ পর্যায়ে এসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক কাজ করছে। অনেকে বলেছেন তাদের হুমকি দেয়া হয়েছে। ক্যাম্পাসে সবার মাঝে আতঙ্ক কাজ করছে। কেউ আগের মতো পড়াশোনা বা স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারছেন না। আমাদের তিনজনকে তুলে নেয়ার পর এই আতঙ্ক আরো বেড়েছে। যে কাউকেই তুলে নিয়ে যেতে পারে- এমন আতঙ্ক সবার মধ্যে কাজ করছে। তিনি আরো বলেন, মামলা প্রত্যাহারের আলটিমেটাম শেষ হলে কেন্দ্রীয় কমিটি বসে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানাবো।
গ্লোবাল উইমেনস লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড পাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
নারীর ক্ষমতায়ন, সমঅধিকার প্রতিষ্ঠা ও জাতীয় উন্নয়নে নারীকে মূল ধারায় সম্পৃক্ত করার স্বীকৃতি হিসেবে এ বছর ‘গ্লোবাল উইমেনস লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড’ পাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার সকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান মন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ২৭ এপ্রিল ‘গ্লোবাল সামিট অব উইমেন-২০১৮’-এ এই পুরস্কার দেওয়া হবে। ২৬ থেকে ২৮ এপ্রিলের এ সম্মেলনে যোগ দিতে অস্ট্রেলিয়া যাবেন প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ ছাড়া অস্ট্রেলিয়ায় ওই সফরে সিডনিতে কমনওয়েলথ হাউসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুলের সঙ্গে শিক্ষা, ক্রীড়া, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও বাণিজ্য, বিনিয়োগসহ দুদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা করবেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
প্রবাসেও ভোট হবে
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পরীক্ষামূলকভাবে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোট নেয়ার সুপারিশ করেছেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের পরিচালক। এর সুবিধা অসুবিধার বিষয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার কথা বলেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে এক সেমিনারে মূল প্রবন্ধে এ সুপারিশ করা হয়। সেমিনারের উদ্বোধন করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা। প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিকদের জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদান ও ভোটাধিকার প্রয়োগ শীর্ষক এ সেমিনারের আয়োজন করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়নের পর এটিএম শামসুল হুদার কমিশন ২০০৮ সালে এবং কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ নেতৃত্বাধীন কমিশন ২০১৪ সালে দুই দফা প্রবাসীদের ভোটাধিকার দেওয়ার বিষয়ে উদ্যোগ নেয়। কিন্তু পরে আর তা বাস্তবায়িত হয়নি। কে এম নূরুল হুদা নেতৃত্বাধীন বর্তমান কমিশন প্রবাসী ভোটার করতে নতুন করে উদ্যোগ নিয়েছে। তারই ধারবাহিকতায় এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে। ইসির জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক সাইদুল ইসলাম বলেন, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের জন্য নিবন্ধন প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে দূতাবাসে একটি কক্ষে লোকাল সার্ভার স্থাপন; প্রবাসীদের সংখ্যানুপাতে রেজিস্ট্রেশন টিম তৈরি করে কাজ এগিয়ে নেওয়া এবং নিবন্ধন কাজের জন্য যন্ত্রপাতি ও দক্ষ আইটি কর্মকর্তা নিয়োগে করতে হবে। জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক বলেন, প্রবাসে ভোটগ্রহণে প্রধান চ্যালেঞ্জ হচ্ছে- বিপুল সংখ্যক ভোটকেন্দ্র স্থাপন ও ব্যয়, ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা, সহিংসতা ঠেকানো, পোস্টাল ব্যালটের স্বচ্ছতা ও গোপনীয়তা রক্ষা। সাইদুল ইসলাম কয়েকটি সুপারিশ তুলেন ধরেন। তা হলো: প্রবাসেই ভোটদানের ব্যবস্থা, প্রাথমিকভাবে পোস্টাল ব্যালেটের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ, সচেতনতা বৃদ্ধিসহ আইনি কাঠামো তৈরি। জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক বলেন, পোস্টাল ভোট পদ্ধতিতে একজন প্রবাসী তার পছন্দমত যেকোনো জায়গা থেকে ভোট দিতে পারে। আবেদন করলে ওই ঠিকানায় আগে থেকে ব্যালেট সরবরাহ করা হয়। ভোট দেয়ার পর তা দেশে ডাকযোগে পাঠিয়ে দেয়া হয়। এ পদ্ধতি প্রবাসীদের জন্য ২০০৮ সাল থেকে চালু আছে।
তিন মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে জাতীয় পত্রিকার সম্পাদকরা
প্রস্তাবিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে সরকারের দুই মন্ত্রী ও এক প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বসেছে জাতীয় পত্রিকাগুলোর সম্পাদকদের সংগঠন সম্পাদক পরিষদ। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে এগারোটায় সচিবালয়ে আইন মন্ত্রনালয়ের সভাকক্ষে এই বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, ডাক টেলিযোগাযোগ এবং তথ্য যোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তফা জাব্বার এবং আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমদ পলক উপস্থিত আছেন। সম্পাদকদের মধ্যে আছেন নিউজ টুডের রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ, নিউ এজের নূরুল কবির, প্রথম আলোর মতিউর রহমান, ডেইলি স্টারের মাহফুজ আনাম, বাংলাদেশ প্রতিদিনের নঈম নিজাম, ইনকিলাবের এ এফ এম বাহাউদ্দিন এবং ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের এ এইচ এম মোয়াজ্জেম হোসেন। যুগান্তরের সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) সাইফুল আলম, সংবাদের খন্দকার মনিরুজ্জামান, বণিক বার্তার দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, কালের কণ্ঠের ইমদাদুল হক মিলন এবং নয়া দিগন্তের সম্পাদক আলমগীর মহিউদ্দিন বৈঠকে অংশ নিয়েছেন। গত ২৯ জানুয়ারি মন্ত্রিসভা প্রস্তাবিত আইনটিতে নীতিগত অনুমোদন দেয়। এই আইনটি পাস হলে বহুল আলোচিত তথ্য প্রযুক্তি আইনটির পাশাপাশি এর সমালোচিত ৫৭ ধারাও বিলোপ হবে। ৫৭ ধারা অনেক বেশি ব্যাপক এবং বিস্তৃত বলে অনলাইনে যে কোনো সমালোচনামূলক লেখনির বিরুদ্ধেই এই ধারা ব্যবহারের সুযোগ আছে বলে সমালোচনা আছে। প্রস্তাবিত আইনে ৫৭ ধারাকে আরও সুনির্দিষ্ট করে বিভিন্ন ধারায় সংযোগজ করা হয়েছে। তবে প্রস্তাবিত আইনের বিশেষ করে ৩২ ধারা নিয়ে গণমাধ্যম কর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই ধারাটির কারণে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে সমালোচনা করে আসছেন সাংবাদিকরা। এই ধারায় বলা আছে,যদি কোনো ব্যক্তি বেআইনি প্রবেশের মাধ্যমে কোন সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্বশাসিত বিধিবদ্ধ সংস্থার কোন গোপনীয় বা অতি গোপনীয় তথ্য-উপাত্ত কম্পিউটার বা ডিজিটাল ডিভাইস বা কম্পিউটার নেটওয়ারর্কে ধারণ, প্রেরণ, সংরক্ষণ করেন বা করতে সহায়তা করেন তাহলে সেটা হবে গুপ্তচরবৃত্তির অপরাধ। এই গুপ্তচরবৃত্তির সর্বোচ্চ শাস্তি ১৪ বছর জেল বা সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা জরিমানা। কেউ যদি এই অপরাধ দ্বিতীয়বার বা বারবার করেন, তাহলে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড ভোগ করতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকে অবশ্য নানা সময় এই ধারার কারণে সাংবাদিকরা স্বাধীন সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে বাধার সম্মুখীন হবেন না বলে আশ্বাস দেয়া হচ্ছে। আইনমন্ত্রী ও তথ্যমন্ত্রী একাধিকবার বলেছেন, প্রস্তাবিত আইনটি চূড়ান্ত নয়। এখানে সাংবাদিকদেরকে বিশেষ নিরাপত্তা দেয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন তারা। গত ৬ ফেব্রুয়ারি আদালত বিষয়ে সংবাদ সংগ্রহকারী সাংবাদিকদের সংগঠন 'ল রিপোর্টার ফোরাম এর সঙ্গে এর আলোচনায় আইনমন্ত্রী নিশ্চয়তা দেন, ৩২ ধারা স্বাধীন সাংবাদিকতায় বাধা হবে না। এই ধারায় কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হলে বিনা পয়সায় মামলা লড়ার ঘোষণাও দেন তিনি।
আরও দুই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদন পেল
অনুমোদন পেল আরও দুটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের অনুমোদন দিয়ে বুধবার আদেশ জারি করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ। নতুন দুই বিশ্ববিদ্যালয় হলো খুলনায় খানবাহাদুর আহছানউল্লা বিশ্ববিদ্যালয় এবং রাজশাহীতে আহছানিয়া মিশন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিবের রুটিন দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত সচিব মো. মহিউদ্দীন খান গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয় দুটি অনুমোদনের প্রস্তাব আগেই পাঠানো হয়েছিল। গতকাল মঙ্গলবার এই দুটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়। এ নিয়ে দেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা দাঁড়াল ৯৯টিতে। এ ছাড়া অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে আরও আটটি বিশ্ববিদ্যালয়। অনুমোদন পাওয়া দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ঢাকা আহছানিয়া মিশনের সভাপতি কাজী রফিকুল আলম। তিনি আহছানউল্লা ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির অনুমোদন নিয়ে ঢাকায় সেটি পরিচালনা করছেন। ২৩ শর্তে নতুন দুটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর আগে গত ২৯ জানুয়ারি জেড এন আর এফ ইউনিভার্সিটি অব ম্যানেজমেন্ট সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় নামে আরেকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এটি স্থাপন করা হবে রাজধানীর গুলশানে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোক্তা ড. এম. জুবায়দুর রহমান। মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন অনুমোদন পাওয়া বিশ্ববিদ্যলয়ের মধ্যে খুলনা খানবাহাদুর আহছানউল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঠিকানা দেখানো হয়েছে ১৪০ কেডিএ, খানবাহাদুর আহছানউল্লা সড়ক, ছোট বয়রা, সোনাডাঙ্গা, খুলনা। আর আহছানিয়া মিশন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ঠিকানা দেখানো হয়েছে ২১৬/১ তালাইমারি, পোস্ট- কাজলা, রাজশাহী। মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০১০-এর ৩৬ ধারা অনুযায়ী শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার প্রতিশ্রুতিতে একই আইনের ৭-এর ১ ও ২ ধারা অনুযায়ী ২৩টি শর্তে সাময়িকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় দুটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় দুটি স্থাপনের বিষয়ে নীতিগত সম্মতি দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর চূড়ান্ত অনুমোদন দিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে গত ২৯ মার্চ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিবের কাছে চিঠি পাঠানো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার মন্ত্রণালয় বিশ্ববিদ্যালয় দুটির অনুমোদন দেয়।
১ ঘণ্টা সময় বাঁচবে হবিগঞ্জ-ঢাকা সড়কে
এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল বলভদ্র নদীর উপর একটি ব্রিজ নির্মাণের। সবার দাবির মুখে অনেক প্রতিকূলতাকে জয় করে সেখানে একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হয়। এতে ঢাকার সঙ্গে সিলেটের সড়ক যোগাযোগ কমে যায় ৩৫ কিলোমিটার। ব্রিজটি ২০১৫ সালের ৮ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করেন। কিন্তু সড়কের অবস্থা ভাল না হওয়ায় সেই ব্রিজের সুফল থেকে বঞ্চিত ছিলেন এই এলাকার মানুষ। শুধু ছোট গাড়ি চলাচল করত এই সড়কে। অবশেষে এই আঞ্চলিক সড়কের সুফল পাওয়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। ওই সড়কের হবিগঞ্জ অংশের উন্নয়নে ১৪৬ কোটি টাকার কাজ শুরু হয়েছে। এই উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন করেন হবিগঞ্জ সদর-লাখাই আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. আবু জাহির। এতে ঢাকা-সিলেট সড়ক যোগাযোগে সময় বাঁচবে ১ ঘণ্টা। এলাকাবাসী জানান, অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে বলভদ্র নদীর উপর সেতু নির্মাণের মাধ্যমে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ৩৫ কিলোমিটার দূরত্ব কমিয়ে এনেছিলেন অ্যাডভোকেট মো. আবু জাহির। এবার শুরু হয়েছে রাস্তা উন্নয়নের কাজ। রাস্তাটি ব্যবহার করে হবিগঞ্জ তথা লাখাইবাসী ঢাকা গিয়ে দিনের কাজ দিনে শেষ করে ফিরতে পারবেন। হবিগঞ্জ-লাখাই সড়কে শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজসহ এ রাস্তা ব্যবহারে বাণিজ্যিকভাবে ব্যাপকভাবে এগিয়ে যাবে হবিগঞ্জ-লাখাই। হবিগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহিরুল ইসলাম জানান, হবিগঞ্জ অংশে ২৬.৫ কিলোমিটার সড়কের কাজ হবে। কাজ শেষ হবে ২০২০ সালে। এ কাজে সড়কের প্রস্থ হবে ১৮ মিটার। এ সময় ৪টি ব্রিজও নতুন করে নির্মাণ করা হবে। এই ব্রিজগুলোর সম্মিলিত দৈর্ঘ্য ১৬২ মিটার। হবিগঞ্জ অংশের চেয়ে সামান্য কম অর্থাৎ ২৫.১২৮ কিলোমিটার রাস্তা রয়েছে ব্রাহ্মণবাড়ীয়া অংশে। কিন্তু ব্রাহ্মণবাড়ীয়া সড়ক ও জনপথ বিভাগ এখনও ওই রাস্তার জন্য কোনো প্রকল্প গ্রহণ করেনি। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু এহতেশাম রাশেদ জানান, এখনও প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হয়নি। এর আগে ১শ কোটি টাকার একটি প্রাক্কলন করা হয়েছিল। এখনও যদি স্থানীয় সংসদ সদস্য ডিও লেটার দেন তাহলে প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হবে। হবিগঞ্জ-৩ আসনের এমপি অ্যাডভোকেট মো. আবু জাহির বলেন, হবিগঞ্জ-লাখাইর জনগণের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে বলভদ্র সেতু এনে দিয়েছি। এখন রাস্তাও নির্মাণ হচ্ছে। সেতুর স্থান নির্ধারণ নিয়ে এক সময় জটিলতা সৃষ্টি হলেও প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে সেই জটিলতা দূর করে সেতু নির্মাণ হয়েছে। অবশ্যই রাস্তাটি জনগণের ব্যবহারের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া অংশেরও কাজ হবে। এতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে চাপ কমবে এবং হবিগঞ্জের সঙ্গে ঢাকার সড়ক দূরত্ব হ্রাস পাবে।
২ মরদেহ উদ্ধার আশুলিয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে
রাজধানীর আশুলিয়ার জিরানী বাজার এলাকার একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে দুটি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। জিরানি বাজার এলাকার হাজী আনোয়ার মডার্ণ ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড ডক্টরস চেম্বার থেকে মঙ্গলবার (১৭ এপ্রিল) সকালে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়। আশুলিয়া থানার ওসি আব্দুল আউয়াল জানান, জিরানী বাজারের এলাকার হাজি আনোয়ার মডার্ন ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড ডক্টরস চেম্বার থেকে দুই জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে এখনো বলা যাচ্ছে না। তবে স্থানীয়দের কাছ থেকে জানতে পেরেছি মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে একজন ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কর্মচারী ছিলেন। পুলিশের এ কর্মকর্তা জানান, এ বিষয়ে বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে।
তিতুমীর কলেজের ছাত্র রাজীব হোসেন শেষ পর্যন্ত মারা গেলেন রাজীব
রাজধানীর কারওয়ান বাজারে দুই বাসের রেষারেষিতে ডান হাত হারানো তিতুমীর কলেজের ছাত্র রাজীব হোসেন মারা গেছেন। সোমবার দিবাগত রাত ১২টা ৪০ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) মারা যান তিনি। ঢামেক পুলিশ ফাঁড়ির এসআই বাচ্চু মিয়া সাংবাদিকদের জানান, রাত সাড়ে ১১টার দিকে তার অবস্থার অবনতি হয়। রাত ১২টা ৪০ মিনিটে তিনি মারা যান। রাজধানীর কারওয়ান বাজারে পান্থকুঞ্জ পার্কের সামনে দুই বাসের রেষারেষিতে গত ৩ এপ্রিল গুরুতর আহত হয়েছিলেন তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী রাজীব হোসেন। বিআরটিসি ও স্বজন পরিবহন বাসের চিপায় পড়ে তার ডান হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। গুরুতর আঘাত পান মাথায়। এরপর তাকে শমরিতা হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসা ব্যয় বেশি হওয়ায় তাকে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সরকারি তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছিল। রাজীব সুস্থ হলে তার সরকারি চাকরি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। শৈশবে বাবা মা হারানো পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বাঁশবাড়ি গ্রামের রাজীব ঢাকার মতিঝিলে খালা জাহানারা বেগমের বাসায় থেকে এসএসসি ও এইচএসসি পাস করেন। মহাখালীর তিতুমীর কলেজে স্নাতকে ভর্তি হওয়ার পর যাত্রাবাড়ীতে মেসে থেকে পড়াশোনা করছিলেন তিনি। এর পাশাপাশি তিনি একটি কম্পিউটারের দোকানেও কাজ করছিলেন। নিজের পড়াশোনার পাশাপাশি ছোট দুই ভাইয়ের খরচ চালাতে হতো তাকে। রাজীবের হাত বিছিন্ন করে ফেলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ৪ এপ্রিল বিআরটিসি বাসের চালক ওয়াহিদ (৩৫) ও স্বজন বাসের চালক খোরশেদকে (৫০) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ৫ এপ্রিল দুজনকে আদালতে তোলা হলে তাদের দুই দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়। ৮ এপ্রিল দুজনকে পাঠানো হয় কারাগারে। সোমবার দুই আসামির পক্ষ থেকে জামিন আবেদন করা হলেও নামঞ্জুর করেন আদালত।
মুজিবনগর দিবসের কর্মসূচি শুরু জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে
সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে মেহেরপুরে শুরু হয়েছে ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবসের কর্মসূচি। মঙ্গলবার (১৭ এপ্রিল) ভোর পৌনে ৬টার দিকে মুজিবনগর স্মৃতি কমপ্লেক্সের স্মৃতিসৌধে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন মেহেরপুর জেলা প্রশাসক পরিমল সিংহ। অনুষ্ঠানে এ সময় পুলিশ সুপার আনিছুর রহমান, ডিডি এলজি খাইরুল হাসান, মুজিবনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদা অাক্তারসহ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সকাল ৯টায় মুজিবনগর স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে বীর শহীদদের স্মরণ করবেন প্রধান অতিথি শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। এছাড়াও উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বীরেন শিকদারসহ বেশ কজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর। তাদের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর গার্ড অব অনার দেবেন পুলিশ, আনসার ও ভিডিপি, বিএনসিসি এবং গার্লস গাইড সদস্যরা। সকাল ১০টায় রয়েছে গীতিনাট্য জল, মাটি ও মানুষ। সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে শেখ হাসিনা মঞ্চে হবে আলোচন সভা। বিকেল ৫টায় হবে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। মুজিবনগর দিবস বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে অনন্য এক দিন। ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তৎকালীন কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকারের রাষ্ট্রপতি ও মন্ত্রিসভার সদস্যরা আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অনুপস্থিতিতে তার নির্দেশিত পথ অনুযায়ী এই মুজিবনগর সরকার সফলভাবে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করে। দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ চলতে থাকে। মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদ ও ২ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় অর্জিত হয়। বাংলাদেশ দখলদার মুক্ত হয় এবং বিশ্বের বুকে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের আত্মপ্রকাশ ঘটে।
জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠিত আওয়ামী লীগের
আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। সোমবার (১৬ এপ্রিল) আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা চেয়ারম্যান, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হোসেন তওফিক ইমাম (এইচটি ইমাম) কো-চেয়ারম্যান এবং সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সদস্য সচিব মনোনীত হয়েছেন। নির্বাচন পরিচালনা কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- উপদেষ্টা পরিষদ, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ ও আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকরা।
গাল্ফ শিল্ড-১,শীর্ষক কুচকাওয়াজে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
সৌদি বাদশা ও দুই পবিত্র মসজিদের হেফাজতকারী সালমান বিন আবদুল আজিজ আল-সৌদের আমন্ত্রণে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন এক বিশাল যৌথ সামরিক মহড়ার সমাপনী কুচকাওয়াজে অংশ নিতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ আল-জুবাইলে আজ সোমবার গাল্ফ শিল্ড-১ শীর্ষক এই কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হবে। এই কুচকাওয়াজে বাংলাদেশসহ ২৪টি দেশের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা অংশ নিচ্ছে। এই কুচকাওয়াজে অংশ নিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী দুই দিনের সরকারি সফরে গতকাল রোববার সন্ধ্যায় দাম্মাম পৌঁছেন। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ভিভিআইপি ফ্লাইটে প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীরা স্থানীয় সময় ৭টা ৩৫ মিনিটে দাম্মাম বাদশাহ ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। এ সময় সৌদি প্রতিমন্ত্রী ও মজলিশ আল শুরা বিষয়ক কেবিনেট সদস্য মোহাম্মদ বিন ফয়সাল আবু সাক এবং সৌদি আরবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহ বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা ও শান্তি রক্ষায় বন্ধু দেশগুলোর প্রতিরক্ষা সমন্বয় ও সহযোগিতায় সৌদি আরব মাসব্যাপী এ সামরিক মহড়ার আয়োজন করে। দেশটির সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে, বাদশাহ সালমান বন্ধু দেশগুলোর বেশ কয়েকজন নেতাকে নিয়ে মাসব্যাপী অনুষ্ঠিত এই সামরিক মহড়ার সমাপনী অনুষ্ঠান প্রত্যক্ষ করবেন। শনিবার এই সামরিক মহড়ার মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহ আল সুবাইয়ে বলেছেন, ২৪টি দেশের সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর অংশগ্রহণে সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই মহড়ার আয়োজন করেছে। গাল্ফ শিল্ড-১ শীর্ষক এই কুচকাওয়াজে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, বাংলাদেশ, বাহরাইন, কাতার, কুয়েত, মিশর, জর্ডান, সুদান, মৌরিতানিয়া, মালয়েশিয়া, পাকিস্তান, শাদ, জিবুতি, নাইজার, কমরোস, আফগানিস্তান, ওমান, গায়ানা, তুরস্ক ও বারকিনাফেশো যোগ দিয়েছে। গত ১৮ মার্চ এই মহড়া শুরু হয়। এতে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর ১৮ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল অংশ নিয়েছে। কমনওয়েলথ সরকার প্রধানদের শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ বিকেলে লন্ডনের উদ্দেশে দাম্মাম ত্যাগ করবেন।
বাংলাদেশের মানুষ এখন পুরোপুরি নির্বাচনের মুডে :ওবায়দুল কাদের
দেশের মানুষ আন্দোলনের মুডে নেই দাবি করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন,মানুষ এখন সিটি নির্বাচনের দিকে জড়িয়ে গেছেন। বাংলাদেশের মানুষ এখন পুরোপুরি নির্বাচনের মুডে। দুটি সিটি করপোরেশনে নির্বাচন হচ্ছে। মানে দুই বিভাগের ভোটাররা এর সঙ্গে জড়িয়ে গেছেন। এরপরে আরও পাঁচটি সিটি করপোরেশন নির্বাচন, সেমিফাইনাল চলছে এখন আর আন্দোলনে কাজ হবে না। সোমবার রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে এ মন্তব্য করেন তিনি। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের জোটসঙ্গী জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যন রোববার রংপুর পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে জেলা জাতীয় পার্টির সম্মেলনে জাতীয় নির্বাচনে দলের আসন বাড়ানোর বিষয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন তারও জবাব দেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন,কে কত আসন পাবে, সেটি বৈঠকে আলাপ-আলোচনা হবে। এসব বিষয় প্রকাশ্যে না বলাই ভালো। জোটের শরিক বলে ইচ্ছা মতো আসন চাইবে, এটা হতে পারে না। যেখানে যেখানে জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা জয়ী হওয়ার মতো থাকবেন, সেখানে অবশ্যই মনোনয়ন পাবেন। এ ছাড়া আওয়ামী লীগসহ জোটের সবার ক্ষেত্রে জয়ী হওয়ার মতো প্রার্থী ছাড়া কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হবে না। আগামী নির্বাচনে জাতীয় পার্টির সঙ্গে জোট থাকবে কিনা এই প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন,জোট হবে কিনা সেটি এই মুহূর্তে বলতে পারছি না। বসাবসি শুরু হয়ে যাবে। জেতার মতো প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হবে। আর সরকার গঠনের সময় মন্ত্রী দেওয়া না দেওয়া নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিদ্ধান্ত দেবেন। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিদর্শনের সময় মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের রাস্তায় দাঁড়িয়ে বাস, সিএনজি চালিত অটোরিকশা এবং মোটরসাইকেল থামিয়ে চালক ও যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় বিকাশ পরিবহন নামের একটি বাসের যাত্রীরা মন্ত্রীর কাছে বাড়তি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ করেন। এসময় যাত্রীরা ওবায়দুল কাদেরকে অভিযোগ করে বলেন, বাসটি সরকার নির্ধারিত ৩২ টাকার ভাড়া নিচ্ছে ৫০ টাকা। এ সময় মন্ত্রী বাসটি আটকের জন্য বিআরটিএর লোকজনকে নির্দেশ দেন। যদিও যাত্রী থাকার কারণে বাসটি ছেড়ে দেওয়া হয়। বাসের নম্বরের সাহায্যে বিআরটিএ পরবর্তীতে বাস মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করবে । সকাল সাড়ে সাতটা থেকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিআরটিএর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট-২ মো. মাজহারুল ইসলাম জানান,সকাল থেকে বিভিন্ন ধরনের ৪০টি গাড়িকে জরিমানা করা হয়েছে। এর মধ্যে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, বাস এবং মোটরসাইকেল আছে। ৪০টি গাড়িকে ৭২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
পুলিশই সবার নিরাপত্তার জন্য জীবন দিয়েছে :স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
মন্ত্রী হবার পর তার কাছে সব ক্রিস্টাল ক্লিয়ার হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি বলেছেন,মন্ত্রী হবার পর আমার কাছে সব ক্রিস্টাল ক্লিয়ার হয়ে গেছে। কিছু পুলিশ সদস্য যে চাঁদাবাজি করে এটি আমি অস্বীকার করব না। এর বিরুদ্ধে আপনাদেরকে বলতে হবে, তবেই অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রোববার (১৫ এপ্রিল) রাজধানীর মতিঝিলে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি মিলনায়তনে সংগঠনটির আয়োজনে আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে এলাকাভিত্তিক ও বিশেষায়িত ব্যবসায়ী সমিতিগুলোর সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। পুলিশ চাঁদাবাজি করে আবার এই পুলিশই সবার নিরাপত্তার জন্য জীবনও দিয়েছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন,আমরা যারা গাড়ি চালাই, আমরাই পুলিশকে চাঁদাবাজির সুযোগ করে দিচ্ছি। দেখা যায় যিনি গাড়ি চালাচ্ছেন, তার গাড়ির ফিটনেস, লাইসেন্স বা গাড়ির অন্য কাগজপত্র নেই। অথবা ওভারলোড। সব ঠিক থাকলে চাঁদাবাজির প্রশ্নই আসে না। সভা শেষে কোটা সংস্কার আন্দোলন প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন,ছাত্ররা কোনো কিছুর দাবি করতেই পারে। কিন্তু ঢাবির ভিসির বাসভবনে যে হামলা হয়েছে এটিসহ ফেসবুকে মিথ্যা, গুজব ও উস্কানিমূলক তথ্য প্রচারকারীদের বিরুদ্ধে আইসিটি আইনে একটি মামলাসহ ৫টি মামলা করা হয়েছে। মামলাগুলোর তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে বলা যাবে। মিয়ানমারের পক্ষ থেকে একটি রোহিঙ্গা পরিবার ফেরত নেওয়ার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, যেখানে ১১ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে রয়ে গেছে, তাদের মধ্যে একটি পরিবার ফেরত নেওয়ার বিষয়টি হাস্যকর। মিয়ানমারের সীমানায় নো ম্যান্স ল্যান্ডে ৬ হাজার রোহিঙ্গা রয়েছে। তাদের ফেরত নেওয়ার জন্য আমরা বারবার বলার পরেও তারা নিচ্ছেন না। সভায় ডিসিসিআই সভাপতি বলেন,প্রতি বছর রমজান মাসের পূর্বে দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি জনসাধারণের নিরবিচ্ছিন্ন সিয়াম পালনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্যানুযায়ী বলা যায়, গত বছর ২০১৭ এর এপ্রিল থেকে মে মাসের ব্যবধানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম গড়ে ১৭ দশমিক ৫১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল। এই মূল্যবৃদ্ধির মূলে রয়েছে প্রথাগত বাজার সরবরাহ প্রক্রিয়া, অতিরিক্ত মজুদকরণের মাধ্যমে বাজারে পণ্যদ্রব্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অপর্যাপ্ত ও সমন্বয়হীন বাজার মনিটরিং, পরিবহন খাতে চাঁদাবাজি, দুর্বিষহ যানজট এবং অতিরিক্ত পরিবহন ব্যয়। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০১৭ এর তথ্য অনুযায়ী দেশে প্রায় ২৩ দশমিক ৫ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমায় এবং ১২ শতাংশ মানুষ চরম দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে। এ অবস্থায় রমজানে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি মানুষের ক্রয় ক্ষমতা হ্রাস করে এবং সামাজিকভাবে ধনী-গরীবের অর্থনৈতিক বৈষম্য বৃদ্ধি করবে। তাছাড়া, বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে ২০১৮ সালে দেশে গড় মূদ্রাস্ফীতি ৫ দশমিক ৮২ শতাংশ এবং খাদ্যদ্রব্যের গড় মূদ্রাস্ফীতি ৭ দশমিক ১৩ শতাংশ। এ পরিস্থিতে আসন্ন রমজান মাসে খাদ্যদ্রব্যের দাম আরো বাড়লে মধ্যবিত্ত আয়-ব্যয়ে সমন্বয় করতে হিমশিম খাবে। তাই আসন্ন রমজানে বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল ও জনগণের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার প্রথম থেকেই ডিসিসিআই ও অন্য ব্যবসায়ী সংগঠনকে সঙ্গে নিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন স্তরের জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারে বলেও মত প্রকাশ করেন তিনি। এছাড়া মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে প্রতিটি বাজারে একটি করে বাজার তদারকি কমিটি এবং মূল্য নির্দেশক সাইনবোর্ড রাখা এবং উল্লিখিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করলে বাজার কমিটির আওতায় ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে বলেও জানান ডিসিসিআই সভাপতি। আবুল কাসেম আরও বলেন,রমজান মাসে খাদ্যদ্রব্যের চাহিদা বাড়ে। কিন্তু রমজানের পূর্বে বিগত বছরের চাহিদা অনুপাতে নিত্য প্রয়োজনীয় সম্ভাব্য পণ্য পর্যাপ্ত সরবরাহের ব্যবস্থা করলে মূল্যবৃদ্ধি রোধ করা যায়। অনেক ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাজারের দাম বৃদ্ধির অজুহাতে দ্রব্যের দাম বাড়ানো হয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমানে ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন পরিস্থিতি জটিল করে তুলতে পারে। অন্যদিকে বর্তমানে ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো দুই অঙ্কের উচ্চ সুদের হার এবং কোনো কোনো ব্যাংকের ১৬ শতাংশ থেকে ১৭ শতাংশ সুদ হার উৎপাদন খরচ বাড়াতে পারে। পাশাপাশি রয়েছে ঋণ পাওয়ার জটিলতা ও অপ্রয়োজনীয় সময়ক্ষেপণ। এসব কিছুর চাপ শেষ পর্যন্ত গিয়ে উৎপাদন খরচের সাথে যোগ হয় এবং ভোক্তাকেই তা বহন করতে হয়। এদিকে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলা-উপজেলা পর্যায়ে প্রশাসন, ব্যবসায়ী এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ কমিটির প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা, সারা দেশে টিসিবির পণ্যসামগ্রী ভোক্তা পর্যায়ে ন্যায্য মূল্যে বিক্রির কার্যক্রম জোরদার করা খুবই জরুরি। রমজানের নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য যেমন-ছোলা, চিনি, চাল, দুধ, ভোজ্য তেল, খেজুর, খেসারি প্রভৃতি বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এবং রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের মাধ্যমে রোজার মাসখানেক আগে এলসি খুলে বিভিন্ন শাখার মাধ্যমে বিতরণ করা যেতে পারে। এ সময় তিনি রমজান উপলক্ষে দ্রব্যমূল্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে করেকটি পদক্ষেপ গ্রহণেরও আহ্বান জানান। এগুলো হল-রমজানে আমদানি নির্ভর ভোগ্যপণ্য বন্দর থেকে কাস্টম হাউজ ও বন্দর কর্তৃপক্ষের সহায়তায় দ্রুত খালাসকরন, ঢাকায় পণ্যবাহী ট্রাক ও কার্ভাডভ্যান প্রবেশের ক্ষেত্রে সেতু অতিক্রম ও ফেরি পারাপারে টোল প্রদানে বিলম্ব হ্রাস করা, জাল টাকা সরবরাহকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা ও এটিএম বুথে ছেঁড়া বা জালটাকার নোট সরবরাহ বন্ধ করা, পরিবহন খাতে চাঁদাবাজি ও যানজট নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ, পণ্যদ্রব্যের অনিয়ন্ত্রিত মজুদ চিহ্নিত ও বন্ধকরনে বাজার তদারককারী সংস্থাকে সহায়তা প্রদান, দেশের সব বাজারে নিয়মিত মূল্য তালিকা হালনাগাদ করা এবং মূল্য তালিকা কার্যকর করা এবং দক্ষ ও পর্যাপ্ত বাজার মনিটরিং এর ব্যবস্থা করা, বন্দর এলাকা, পাইকারি বাজার ও বাস্ততম পাইকারি বাণিজ্যিক এলাকায় সাপ্তাহিক ছুটির দিন ও সান্ধ্যকালীন ব্যাংকিক সেবা প্রদান করা। সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জিয়া রহমান। ডিসিসিআইয়ের সভাপতি আবুল কাসেম খানের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন-কনজুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ এর সভাপতি গোলাম রহমান ও ডিসিসিআই এর ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি কামরুল ইসলামসহ ব্যবসায়ী নেতারা।

জাতীয় পাতার আরো খবর