আজ বিশ্ব বাবা দিবস,
কাটে না সময় যখন আর কিছুতে বন্ধুর টেলিফোনে মন বসে না জানালার গ্রিলটাতে ঠেকাই মাথা মনে হয় বাবার মতো কেউ বলে না আয় খুকু আয়, আয় খুকু আয়। হেমন্ত মুখোপাধ্যায় ও শ্রাবন্তী মজুমদারের গাওয়া এই গানটি সন্তানদের মনে করিয়ে দেয় বাবা আসলে কী? তিনি বটবৃক্ষ, নিদাঘ সূর্যের তলে সন্তানের অমল-শীতল ছায়া তিনি বাবা। আজ বিশ্ব বাবা দিবস। জুন মাসের তৃতীয় রোববার প্রতি বছর বিশ্বের ৫২টি দেশে দিবসটি পালিত হয়। এ বছর তৃতীয় রোববার হিসেবে ১৭ জুন পালিত হচ্ছে দিবসটি। ইতিহাস থেকে জানা যায়, বিংশ শতাব্দীর প্রথমদিকে থেকে বাবা দিবস পালন শুরু হয়। আসলে মায়েদের পাশাপাশি বাবারাও যে তাদের সন্তানের প্রতি দায়িত্বশীল- এটা বোঝানোর জন্যই এই দিবসটি পালন করা হয়ে থাকে। পৃথিবীর সব বাবার প্রতি শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা প্রকাশের ইচ্ছা থেকে যার শুরু। ধারণা করা হয়, ১৯০৮ সালের ৫ জুলাই, আমেরিকার পশ্চিম ভার্জেনিয়ার ফেয়ারমন্টের এক গির্জায় এই দিনটি প্রথম পালিত হয়। আবার, সনোরা স্মার্ট ডড নামের ওয়াশিংটনের এক ভদ্রমহিলার মাথাতেও বাবা দিবসের আইডিয়া আসে। যদিও তিনি ১৯০৯ সালে, ভার্জিনিয়ার বাবা দিবসের কথা একেবারেই জানতেন না। ডড এই আইডিয়াটা পান গির্জার এক পুরোহিতের বক্তব্য থেকে, সেই পুরোহিত আবার মাকে নিয়ে অনেক ভালো ভালো কথা বলছিলেন। তার মনে হয়, তাহলে বাবাদের নিয়েও তো কিছু করা দরকার। ডড আবার তার বাবাকে খুব ভালবাসতেন। তিনি সম্পূর্ণ নিজ উদ্যোগেই পরের বছর, অর্থ্যাৎ ১৯১০ সালের ১৯ জুন থেকে বাবা দিবস পালন করা শুরু করেন। বাবা দিবস বেশ টানাপোড়েনের মধ্য দিয়েই পালিত হতো! আসলে মা দিবস নিয়ে মানুষ যতটা উৎসাহ দেখাতো, বাবা দিবসে মোটেও তেমনটা দেখাতো না, বরং বাবা দিবসের বিষয়টি তাদের কাছে বেশ হাস্যকরই ছিল। ধীরে ধীরে অবস্থা পাল্টায়, ১৯১৩ সালে আমেরিকান সংসদে বাবা দিবসকে ছুটির দিন ঘোষণা করার জন্য একটা বিল উত্থাপন করা হয়। ১৯২৪ সালে তৎকালীন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ক্যালভিন কুলিজ বিলটিতে পূর্ণ সমর্থন দেন। অবশেষে ১৯৬৬ সালে প্রেসিডেন্ট লিন্ডন বি. জনসন বাবা দিবসকে ছুটির দিন হিসেবে ঘোষণা করেন। বিশ্বের বেশিরভাগ দেশে জুন মাসের তৃতীয় রোববার বাবা দিবস হিসেবে পালিত হয়। সূত্র: জাগো নিউজ
বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে দর্শনার্থীদের ভিড়
ঈদকে কেন্দ্র করে বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে দর্শনার্থীদের ভিড়ে মুখর অন্যান্য বছরগুলোর মতই। পরিবার ও বন্ধুদের সাথে নিয়ে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে জড়ো হন নানা বয়সী মানুষ। একইভাবে জমে ওঠে রাজশাহীর পদ্মার পাড় এবং খুলনার অন্যতম বিনোদন কেন্দ্র রূপসা সেতু এলাকা। চট্টগ্রাম: ঈদের দিনে চট্টগ্রাম নগরীর পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে জমে ওঠে আনন্দ প্রিয় মানুষের ভিড়। উৎসবের আনন্দ উপভোগ করতে সমুদ্রের কাছাকাছি ছুটে আসেন তারা। সৈকতে নেমে জলকেলিতে মেতে ওঠে শিশু-কিশোররা। স্পিডবোটে দাপিয়ে উপভোগ করছেন নির্মল আনন্দ। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষীবাহিনী। রাজশাহী: রাজশাহীর বড় কুটির পদ্মার পাড়ে জড়ো হন হাজারো মানুষ। ঈদের বিকেলটা পরিবার ও বন্ধু-স্বজনদের সাথে নিয়ে পদ্মা নদীর পাড়ে হাজির হন তারা। আবহাওয়া ভালো থাকায় দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসেন নানা বয়সী মানুষ। এ সময় ঘুরে ঘুরে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করেন তারা। পদ্মারপাড় ছাড়াও শহরের অন্যান্য বিনোদন কেন্দ্রগুলোতেও ছিলো দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড়। খুলনার রূপসা ব্রিজকে কেন্দ্র করে ঢল নামে বিনোদন প্রিয় মানুষের। তরুণ-তরুণীসহ নানা বয়সী মানুষের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে রূপসা নদীর পাড়। এ সময় অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যদিয়ে রূপসা ব্রিজ এলাকায় বিনোদন কেন্দ্র গড়ে তোলার দাবি জানান তারা।
উন্নয়নের পথে হাঁটছে দেশ
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশ আজ অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী। বাংলাদেশের গণতন্ত্র সুরক্ষিত। বাংলাদেশের জনগণের মৌলিক অধিকার আমরা নিশ্চিত করতে পেরেছি। মানুষের মৌলিক অধিকার পূরণ করে উন্নয়নের পথে হাঁটছে দেশ।এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে ইনশাল্লাহ এগিয়ে যাবে। শনিবার (১৬ জুন) দুপুরে গণভবনে ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা বিনিময়ের সময় এ কথা বলেন শেখ হাসিনা। খুশির এই দিনে বিচারপতি, কূটনীতিক, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বসহ সর্বস্তরের মানুষ শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রীকে। দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন- উন্নয়নের এই ধারা অব্যাহত রাখতে হবে।
গণভবনে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করলেন প্রধানমন্ত্রী
মুসলমানদের অন্যতম বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে বেলা ১১টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত একই স্থানে বিচারক ও বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন সরকারপ্রধান। ঈদের দিন সকাল সাড়ে ৯টা থেকে এই শুভেচ্ছা বিনিময় শুরু হয়েছে। বেলা ১১টা পর্যন্ত দলীয় নেতা-কর্মীসহ সব শ্রেণি ও পেশার মানুষের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়ে উপস্থিত আছেন মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, সংসদ সদস্যবৃন্দ, আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ এবং প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যরা।
বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির শুভেচ্ছা বিনিময়
পবিত্র ঈদুল ফিতরের উপলক্ষে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ ও রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। শনিবার সকালে বঙ্গভবনে তিনি এ শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ সময় মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। রাজনৈতিক দলের নেতা ছাড়াও বিভিন্ন ধর্মীয় নেতা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও সিনিয়র সাংবাদিকরা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। কুশল বিনিময় শেষে রাষ্ট্রপতি ঈদ উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানান। এর আগে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ সকালে হাইকোর্ট সংলগ্ন রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেন। একই সময় মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, প্রধান বিচারপতি, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, সংসদ সদস্য, রাজনীতিবিদ এবং উর্ধ্বতন বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা নামাজ আদায় করেন। ঈদগাহে পৌঁছার পর রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন ও অন্যান্য কর্মকর্তারা স্বাগত জানান। বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম মুহাম্মদ মিজানুর রহমান ঈদের প্রধান জামাতে ইমামতি করেন। ঈদের নামাজ শেষে দেশের শান্তি ও অগ্রগতি, জনগণের কল্যাণ এবং মুসলিম উম্মাহর বৃহত্তর ঐক্য কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মোনাজাতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ১৫ আগস্টে শহীদ তার পরিবারের অন্যান্য সদস্য, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ এবং দেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সকল শহীদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করা হয়।
দেশের সবচেয়ে বড় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয় শোলাকিয়ায়
কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহে দেশের সর্ববৃহৎ ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে সকাল ১০টায়। এবছর এই ঈদগাহে ঈদুল ফিতরের ১৯১তম জামাত সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হয়। জামাতে ইমামতি করেন বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসউদ। ২০১৬ সালে ঈদুল ফিতরের নামাজ শুরুর ঘণ্টাখানেক আগে ঈদগাহের বাইরে জঙ্গি হামলার ঘটনাকে মাথায় রেখে এবছরও গ্রহণ করা হয় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ওই হামলায় দুইজন পুলিশ কনস্টেবল, এক গৃহবধূ ও এক জঙ্গি নিহত হন। এই জামাতে আনুমানিক তিন লাখ লোক নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে সমগ্র মুসলিম উম্মাহসহ দেশ ও জাতির কল্যাণ, সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
সারাদেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত
যথাযোগ্য মর্যাদা, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আনন্দ-উচ্ছ্বাসের মধ্যদিয়ে আজ শনিবার রাজধানীসহ সারাদেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হচ্ছে। পবিত্র রমজান মাসে সিয়াম সাধনার পর দেশের মুসলিম সম্প্রদায় তাদের বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর উদযাপন করছে। আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ধর্মপ্রাণ লাখো কোটি মানুষ ঈদগাহ, মসজিদ ও খোলা মাঠে আজ ঈদের নামাজ আদায় করেছেন। ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল সাড়ে আটটায় সুপ্রিমকোর্ট প্রাঙ্গণস্থ জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে। দ্বিতীয় বৃহত্তর জামাত অনুষ্ঠিত হয় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে সকাল সাতটায়। এছাড়া সকাল ৮টা, ৯টা, ১০টা ও পৌনে ১১টায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে আরো ৪টি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় ঈদগাহে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুুল হামিদ, মন্ত্রিপরিষদের সদস্যগণ, সংসদ সদস্যরা, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পেরেশনের মেয়র, উর্ধ্বতন রাজনৈতিক নেতারা, সরকারি ও সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং বিভিন্ন মুসলিম দেশের কূটনীতিকরা জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে নামাজ আদায় করেন। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মুকাররমের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ মিজানুর রহমান ঈদের প্রধান জামাতে ইমামতি করেন। ঈদের নামাজ শেষে দেশের শান্তি ও অগ্রগতি, জনগণের কল্যাণ এবং মুসলিম উম্মাহর বৃহত্তর ঐক্য কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। ঈদের নামাজ আদায়ের পর রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ মুসল্লীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সকাল ৮টায় অনুষ্ঠিত হয় ঈদুল ফিতরের জামাত। সেখানে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ আ.স.ম ফিরোজ এমপি, স্বাস্থ্য মন্ত্রী মো. নাসিম এমপি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ পার্লামেন্টারি পার্টির সেক্রেটারি নূর-ই-আলম চৌধুরী এমপি, মন্ত্রীপরিষদের সদস্যরা, হুইপরা, জাতীয় সংসদের স্থায়ী কমিটির সভাপতি, সংসদ সদস্যরা, জাতীয় সংসদের সিনিয়র সচিব ড. মো. আবদুর রব হাওলাদার, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা ও এলাকার জনগণ ঈদের জামাতে শরীক হন। নামাজ শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ, সুখ-শান্তি, সমৃদ্ধি ও জাতীয় অগ্রগতি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। পরে জাতীয় সংসদের স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এমপি মুসল্লীদের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে অনুষ্ঠিত ৫টি ঈদ জামাতের প্রথমটিতে ইমামতি করেন বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মুফতি মুহিবুল্লাহিল বাকী নদভী, দ্বিতীয় জামায়াতে বায়তুল মুকাররম মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মহিউদ্দিন কাসেম, তৃতীয় জামায়াতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মুহাদ্দিস মুফতি মাওলানা ওয়ালিয়ুর রহমান খান, চতুর্থ জামায়াতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সহকারী পরিচালক মাওলানা জুবাইর আহাম্মদ আল আযহারী এবং পঞ্চম ও সর্বশেষ জামায়াতে তেজগাঁও রেলওয়ে জামে মসজিদের খতিব ড. মাওলানা মুশতাক আহমাদ ইমামতি করেন। এদিকে ঢাকা দক্ষিণ ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে মহানগরীর মোট ৪০৯টি ঈদ জামাতের আয়োজন করা হয়। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র কার্যালয়ের কর্মকর্তা উত্তম কুমার রায় জানান, ডিএসসিসি’র ৫৭টি ওয়ার্ডের প্রত্যেকটিতে ৪টি করে এবং জাতীয় ঈদগাহ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মাঠসহ মোট ২৩০টি স্থানে ঈদ জামাতের আয়োজন করা হয়েছে। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা এসএম মামুন জানান, এই সিটি কর্পোরেশনের ৩৬টি ওয়ার্ডের মোট ১৭৯টি ঈদ জামাতের আয়োজন করা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ মসজিদুল জামিআয় ঈদের দু’টি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল ৮টায় এবং দ্বিতীয় জামাত হয় সকাল ৯টায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হল মেইন গেইট সংলগ্ন মাঠে ও শহীদুল্লাহ হল লনে সকাল ৮টায় পৃথক দু’টি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে সকাল ৮টায় ঈদ জামাতের আয়োজন করা হয়। মিরপুর ১১ নম্বর সেকশনের ‘সি’ ব্লকের মসজিদ বায়তুল ফালাহ কমপ্লেক্সে ঈদুল ফিতরের দু’টি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। প্রথমটি সকাল সাড়ে সাতটায় ও দ্বিতীয়টি সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত হয়। প্রতি বছরের মতো এবারও কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় দেশের সর্ববৃহৎ ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল ১০টায়। দুই বছর আগে ঈদুল ফিতরে এ জামাতকে লক্ষ্য করে জঙ্গি হামলা হওয়ার পরও কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল, দেশের সবচেয়ে বড় ঈদের জামাত। তাই এবার ঈদ জামাতে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এবার ১৯১তম ঈদুল ফিতরের জামাতে ইমামতি করেন ইসলাহুল মুসলিমিন পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা ফরিদউদ্দিন মাসউদ। পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের নেতা রওশন এরশাদ পৃথক বাণীতে দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। ধর্মীয় বৃহত্তম এ উৎসব উপলক্ষে আজ বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথকভাবে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের প্রতিনিধি এবং সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। ঈদ উপলক্ষে আজ সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে বনানী-ঢাকা গেট হতে বঙ্গভবন পর্যন্ত প্রধান সড়ক এবং সড়ক দ্বীপসমূহে জাতীয় পতাকা এবং বাংলা ও আরবিতে ‘ঈদ মোবারক’ খচিত ব্যানার লাগানো হয়েছে। নির্দিষ্ট সরকারি ভবনসমূহে আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলো ঈদের বিশেষ অনুষ্ঠানমালা সম্প্রচার করছে। জাতীয় দৈনিক পত্রিকাগুলো ইতোমধ্যে বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করেছে। ঈদ উপলক্ষে আজ দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশু সদন, ছোটমণি নিবাস, সামাজিক প্রতিবন্ধী কেন্দ্র, আশ্রয়কেন্দ্র, ভবঘুরে কল্যাণ কেন্দ্র ও দুস্থ কল্যাণ কেন্দ্রসমূহে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে। এ ছাড়া মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে রাষ্ট্রীয়নীতির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ চলচ্চিত্র প্রদর্শন, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের বিনা টিকেটে সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন সকল শিশুপার্কে প্রবেশের ব্যবস্থা এবং বিনোদন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। দেশের সব বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহ জাতীয় কর্মসূচির আলোকে ঈদুল ফিতর উদ্যাপন করছে। বিভাগীয় শহরগুলোতে, যেমন- চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট ও বরিশালে যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হচ্ছে। এ ছাড়া জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়নসহ সারাদেশে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হচ্ছে। বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসসমূহে যথাযথ মর্যাদায় ঈদুল ফিতর উদযাপিত হচ্ছে। ঈদে ঢাকা মহানগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মহানগরীতে র‌্যাব ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। এদিকে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে শুক্রবার থেকে ৩ দিনের সরকারি ছুটি শুরু হয়েছে। আগামীকাল রবিবার এ ছুটি শেষ হবে। ঈদ উপলক্ষে ‘আমরা ঢাকাবাসী’র উদ্যোগে আগামীকাল নগরীর শিশু একাডেমী প্রাঙ্গণ থেকে বিকাল ৩টায় ঈদ আনন্দ র‌্যালি বের করা হবে। বাসস
সাজানো হয়েছে বিনোদন কেন্দ্রগুলোকে
ঈদের সাজে এবারও সাজানো হয়েছে রাজধানীর বিনোদন কেন্দ্রগুলোকে। নগরীর দুই তৃতীয়াংশ মানুষ ঢাকা ছেড়েছেন। যারা ঢাকায় আছেন, তারাও ঈদের সকালে সেমাই খেয়ে বেরিয়ে পড়বেন। ব্যস্ত নগরীর রাস্তাগুলো অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে ঈদে থাকে নীরব। সেই নীরবতায় নতুন পোশাক পরে ঘুরে বেড়ান সবাই। আর এই ঘুরে বেড়ানোর তালিকায় স্থান পায় ঢাকা ও এর আশপাশের বিনোদনকেন্দ্রগুলো। ঈদের এক সপ্তাহ চলে বেড়ানোর ধুম। পরিবার নিয়ে সারাদিন কাটে এইখানে সেখানে। আর এ উপলক্ষে ঈদ শিশু কিশোরদের টানতে বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে রাখা হয় বিশেষ আয়োজন। সাজানো হয় জমকালোভাবে। এবার বিনোদন কেন্দ্রগুলোর জন্য আবহাওয়া অফিস দিয়েছে নতুন বার্তা, এবার ঈদে ঢাকায় চমতকার আবহাওয়া থাকবে। বর্ষার দ্বিতীয়দিন হলেও আজ বৃষ্টি খুব একটা হবেনা। তবে মেঘলা থাকতে পারে আকাশ। জানা গেছে, ঈদের সময় ঢাকা চিড়িয়াখানায় দর্শনার্থীর সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। প্রতিদিনের মতোই সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খোলা থাকবে চিড়িয়াখানা। প্রবেশমূল্য ৩০ টাকা। ঈদের পরদিন জাতীয় জাদুঘর ও এর আওতাধীন স্বাধীনতা জাদুঘর বিকেল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকবে এগুলো। এ দিন শিক্ষার্থী, শিশু-কিশোর, প্রতিবন্ধী ও সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য কোনো টিকিট লাগবে না। গ্যালারি প্রদর্শন ছাড়া জাদুঘরের বিনা টিকিটে শিশুতোষ চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হবে। শাহবাগে অবস্থিত কেন্দ্রীয় শিশু পার্কটিকে ঈদ উপলক্ষে সাজানো হয়েছে নতুন করে। রং নষ্ট হয়ে যাওয়া রাইডগুলোতে লাগানো হয়েছে নতুন রং। রাইডগুলোর ছোটখাটো যান্ত্রিক ত্রæটিগুলো মেরামত করা হয়েছে। এবারও আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করেছে শিশু পার্ক কর্তৃপক্ষ। ঈদের প্রথম চার দিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকবে পার্ক। প্রবেশমূল্য ১৫ টাকা। তবে ঈদে সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা বিনা টিকিটে প্রবেশ ও রাইডগুলো চড়ার সুযোগ পাবে। এবারের ঈদে স্টার সিনেপ্লেক্সে বিদেশি চারটি মুভি এবং একটি বাংলা মুভি প্রদর্শিত হবে। মুভিগুলো হলো স্বপ্নজাল, ডেডপুল-২, রেনেগাডস, সলো : এ স্টার ওয়ার্স স্টোরি ও অ্যাভেঞ্জার্স : ইনফিনিটি ওয়ার্স। শ্যামলীর শিশু মেলায় আছে ৪০টির মতো রাইড। পরিবারের সবার চড়ার মতো আছে ১২টি রাইড। ঈদের প্রথম সাত দিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত এটি খোলা থাকবে। প্রবেশমূল্য জনপ্রতি ৫০ টাকা। বিশ্বমানের বিনোদনসেবা, চমৎকার ল্যান্ডস্কেপিং ও উত্তেজনাকর সব রাইডস নিয়ে তৈরি ফ্যান্টাসি কিংডম, ঈদের প্রথম সাত দিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। সাঁতার কাটা যাবে ওয়াটার কিংডমে। সাভারের নবীনগরের নন্দন পার্ক ঈদের পরদিন থেকে চার দিন পর্যন্ত নানা আয়োজন রয়েছে। ঈদ উপলক্ষে মডার্ন ডান্স, ডিজে এবং ফায়ার ডান্সের ব্যবস্থা থাকছে। পার্কটি খোলা থাকবে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। ঈদ উপহার থাকবে সবার জন্য। হাতিরঝিল ঘুরে দেখার জন্য রয়েছে চক্রাকার বাস সার্ভিসও। তা ছাড়া লেকে ঘুরে বেড়ানোর জন্য রয়েছে ওয়াটার বাস। আশপাশে বেশ কিছু রেস্টুরেন্টও রয়েছে খাওয়া-দাওয়ার জন্য। লালবাগের কেল্লা খোলা থাকবে সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। টিকিটের মূল্য ৩০ টাকা। শ্যামপুরে প্রায় সাত একর জায়গার ওপর গড়ে উঠেছে বুড়িগঙ্গা ইকো পার্ক। পুরান ঢাকার ইসলামপুরে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে মোগল আমলের ঐতিহ্য নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে আহসান মঞ্জিল। খোলা থাকবে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত। ঢাকার উত্তরায় অবস্থিত দিয়াবাড়ী এখন ভ্রমণপিপাসুদের কাছে প্রিয় একটি নাম। তা ছাড়া চিড়িয়াখানা, জাতীয় জাদুঘর, শিশু পার্ক, শিশু মেলা, ফ্যান্টাসি কিংডম, নন্দন পার্ক, বুড়িগঙ্গা ইকো পার্ক, যমুনা ফিউচার পার্ক, ওয়ান্ডারল্যান্ড পার্ক, লালবাগ কেল্লা, আহসান মঞ্জিল, হাতিরঝিল ও ৩০০ ফুটসংলগ্ন পূর্বাচল বাজার এখন প্রধান বিনোদনকেন্দ্র ঢাকাবাসীর কাছে।আমাদের সময়