আজ বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের শাহাদত বার্ষিকী
অনলাইন ডেস্ক: স্বাধীনতা সংগ্রামের সাতজন বীরশ্রেষ্ঠ’র মধ্যে অনন্য ও অন্যতম বৈমানিক মতিউর রহমানের ৪৭ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী আজ সোমবার। ১৯৭১ সালের ২০ আগস্ট মুক্তিবাহিনীর ব্যবহারের জন্য শত্রু বাহিনীর ঘাঁটি থেকে বিমান ছিনিয়ে আনার সময় তিনি প্রাণদান করেন। শৈশব থেকেই তার মেধার পরিচয় ও স্বীকৃতির নিদর্শন মিলতে থাকে। ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণী পর্যন্ত পড়ার পর তিনি ভর্তি হন পাকিস্তান বিমান বাহিনী পাবলিক স্কুলে। কৃতিত্বের সাথে ম্যাট্রিকুলেশন পাশ করে ১৯৬১ সালে তিনি পাকিস্তান বিমান বাহিনীতে যোগ দেন। কর্মজীবনের বিভিন্ন ধাপে তিনি জেনারেল ডিউটি পাইলট, ফ্লাইং অফিসার, ফ্লাইট লেফট্যানেন্ট, ফ্লাইং ইন্সট্রাক্টর এবং জেট ফ্লাইং ইন্সট্রাক্টর হিসেবে কাজ করেন। ১৯৭১ সালের জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে মতিউর দুই মাসের ছুটি নিয়ে সপরিবারে ঢাকা আসেন৷ ২৫ মার্চ কালরাতের নৃশংসতার প্রতিবাদ হিসেবে তিনি ভৈরবে একটি ট্রেনিং ক্যাম্প খোলেন যেখানে যুদ্ধ করতে আসা বাঙালি যুবকরা প্রশিক্ষণ নিতে থাকে৷মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করা অস্ত্র দিয়ে গড়ে ওঠে একটি প্রতিরোধ বাহিনী৷ ১৪ এপ্রিল তাদের ঘাঁটির ওপর পাকিস্তানি বিমান বাহিনীর এফ-৮৬ স্যাবর জেট বোমাবর্ষণ করে৷এমন আক্রমণের আশঙ্কা মতিউর আগেও করেছিলেন তাই ঘাঁটি পরিবর্তনের কারণে ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পায় তার বাহিনী। মতিউর রহমান ৯ মে সপরিবারে করাচি ফিরে যান ও কর্মক্ষেত্রে যোগ দেন৷ ১৯৭১ সালের ২০ আগস্ট, শুক্রবার- ফ্লাইট শিডিউল অনুযায়ী মতিউরের এক ছাত্র রশীদ মিনহাজের উড্ডয়নের দিন। করাচির মৌরীপুর বিমান ঘাঁটিতে মিনহাজের কাছ থেকে একটি জঙ্গি বিমান ছিনতাই করেন মতিউর। কিন্তু মিনহাজ ক্লোরোফর্মের প্রভাবে অজ্ঞান হওয়ার পূর্ব মুহুর্তে এ ঘটনা কন্ট্রোল টাওয়ারে জানিয়ে দিলে অপর চারটি জঙ্গি বিমান মতিউরের বিমানকে ধাওয়া করে। এ সময় রশীদের সঙ্গে মতিউরের ধস্তাধস্তি চলতে থাকে এবং এক পর্যায়ে রশীদ ইজেক্ট সুইচ চাপলে মতিউর বিমান থেকে ছিটকে পড়েন। মতিউরের সঙ্গে প্যারাসুট না থাকায় তিনি প্রাণ হারান। উল্লেখ্য, মিনহাজ রশীদকেও পাকিস্তান সরকার সম্মানসূচক খেতাব দান করে। একই ঘটনায় দুই বিপরীত ভূমিকার জন্য দু’জনকে দু’দেশের সর্বোচ্চ সম্মানসূচক খেতাব প্রদানের এমন ঘটনা বিরল। বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনাস্থল থেকে আধ মাইল দূরে খুঁজে পাওয়া যায় মতিউরের মৃতদেহ। মতিউরকে করাচির মাসরুর বেসের চতুর্থ শ্রেণীর কবরস্থানে সমাহিত করে কর্তৃপক্ষ। শাহাদতের ৩৫ বছর পর ২৪শে জুন ২০০৬ মতিউরের দেহাবশেষ পাকিস্তান থেকে দেশে এনে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবর স্থানে পুনঃসমাহিত করা হয়।
১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের ষড়যন্ত্রে খালেদা জিয়াও জড়িত
অনলাইন ডেস্ক: ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার ষড়যন্ত্রে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সঙ্গে তার স্ত্রী খালেদা জিয়াও জড়িত ছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার (১৬ আগস্ট) বিকেলে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় শোকদিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত স্মরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। বঙ্গবন্ধু খুনিদের বিচার বন্ধে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি এবং জিয়াউর রহমান তাদের দূতাবাসে চাকরিসহ বিভিন্নভাবে পুরস্কৃত করার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতার আত্মস্বীকৃত খুনিদের ভোট চুরি করে পার্লামেন্টে বসিয়েছিলো জিয়ার স্ত্রী (খালেদা জিয়া)। তার অর্থ কি দাঁড়াচ্ছে জিয়াউর রহমান একাই নয়, তার স্ত্রীও ১৫ আগস্টের হত্যার ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, খুনিরা খুনিই হয়। এই খুনিরা ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা চালিয়েছে। বার বার আমাকে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছে। কাজেই এদের হাতে দেশের ক্ষমতা গেলে দেশের কি উন্নতি হবে, দেশের মানুষ কি ন্যায় বিচার পাবে? জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রক্ষমতায় আসা এবং বিএনপির প্রতিষ্ঠার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, অন্যায়ের মধ্যে দিয়ে যাদের ক্ষমতা দখল তারা কখনও ন্যায় বিচার করতে পারে না। ১৫ আগস্ট বাঙালি জাতির জন্য সবচেয়ে কলঙ্কজনক দিন হিসেবে উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, জাতির পিতা বেঁচে থাকলে, তার হাতে রাষ্ট্র ক্ষমতা যদি থাকতো তবে স্বাধীনতার ১০ বছরের মধ্যে বাঙালি জাতি ক্ষুধা দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত জাতি হিসেবে গড়ে উঠতো, উন্নত জাতি হিসেবে বিশ্বে মর্যাদা পেতো। বাংলানিউজ
সংসদ নির্বাচনের শতকরা ৮০ ভাগ প্রস্তুতি শেষ:ইসি সচিব
অনলাইন ডেস্ক: সংসদ নির্বাচনের শতকরা ৮০ ভাগ প্রস্তুতি শেষ হয়েছে উল্লেখ করে নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, সংসদ নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে নতুন করে কোনও সংলাপ হচ্ছে না। বৃহস্পতিবার (১৬ আগস্ট) দুপুরে আগারগাঁওস্থ নির্বাচন কমিশন ভবনে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি। এক প্রশ্নের জবাবে হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, ইতিমধ্যে জাতীয় নির্বাচনের শতকরা ৮০ ভাগ প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এখন কমিশন যে নির্দেশনা দেবে তা বাস্তবায়ন করব। নির্বাচন কমিশন প্রস্তুতি হিসেবে যা যা করা দরকার তার সব প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন বলেছে জাতীয় নির্বাচন নিয়ে আলাদা একটি সভা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং সামনে কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে সেগুলোর চেকলিস্ট তৈরি করার নির্দেশনা দিয়েছে। ইসি সচিব বলেন, নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে সংসদ নির্বাচনের তফসিল এবং ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে ভোট হবে এটা ধরে নিয়ে কাজ করছি। বাকিটা কমিশন বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তাই নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপের কোনও সম্ভাবনা নেই। নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ বিষয়ে তিনি বলেন, সংসদের প্রথম অধিবেশন ২৯ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই হিসেবে ৩০ জানুয়ারি থেকে আমাদের কাউন্টডাউন শুরু হবে। নির্বাচন কমিশন সেভাবে প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। সেই হিসেবে অক্টোবরের শেষে অথবা নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে তফসিল ঘোষণার সব প্রস্তুতি রয়েছে। তবে নির্বাচনের তারিখের বিষয়ে আলোচনা হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে ডিসেম্বরের শেষার্ধ্বে অথবা জানুয়ারির প্রথম দিকে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, ভোটার তালিকার কাজ এরইমধ্যে শেষ হয়েছে। আমাদের ৪২ হাজার ভোটকেন্দ্র আছে, আরো পাঁচ হাজার কেন্দ্র বাড়তে পারে। এগুলোর খসড়া তালিকা জেলা-উপজেলায় প্রকাশ করা হয়েছে। যারা স্টেকহোল্ডার আছে তাদের যদি কোনো আপত্তি থাকে সে বিষয়ে শুনানি গ্রহণ করা হবে, সেগুলো সরেজমিনে তদন্ত করে তারা নিষ্পত্তি করে আমাদের কাছে গেজেট নোটিশ পাঠাবে। এ ছাড়া নির্বাচন সামগ্রী কেনার যে বিষয়টি রয়েছে ইতিমধ্যে যারা টেন্ডার আহ্বান করেছে তাদের আমরা কার্যাদেশ দিয়েছি। তারা সহসাই আমাদের মালামালগুলো সরবরাহ করবে। ইসি সচিব বলেন, আজকে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে যে, সার্কভুক্ত ৮টি দেশের প্রধান নির্বাচন কমিশনারদের নিয়ে গঠিত সংগঠন ফেম্বোসা (ফোরাম অব ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বডিজ অব সাউথ এশিয়া) সম্মেলন আগামী ৫ ও ৬ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকার অনুষ্ঠানটির উদ্বোধন করবেন। তফসিল ঘোষণার আগে এ সম্মেলন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে হেলালুদ্দীন বলেন, আয়োজক দেশ হিসেবে আমরা এ সম্মেলনকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছি। যেহেতু সার্কভুক্ত দেশগুলো এখানে অংশ নেবে ফলে আমরা তাদের অভিজ্ঞতাগুলো গ্রহণ করতে পারি। কোন দেশে কীভাবে নির্বাচন হচ্ছে, নির্বাচনের পদ্ধতিগুলো কী, জনগণকে সম্পৃক্ত করে রাজনৈতিক দলগুলোকে সম্পৃক্ত করে কীভাবে নির্বাচন করা যায় সে বিষয়গুলো নিয়ে এখানে আলোচনা হবে।
মার্শা বার্নিকাটের গাড়ি বহরে হামলার ঘটনায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে
অনলাইন ডেস্ক: ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাটের গাড়ি বহরে হামলার বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষারকারী বাহিনী তদন্ত করছে। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে বৃহস্পতিবার (১৬ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো একটি নোটে জানানো হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, গত ৪ আগস্ট রাজধানীর মোহাম্মদপুরে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাটের গাড়ি বহর অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে দুর্ঘটনার শিকার হয়। ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার ফলে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। ঘটনার পরে পুলিশের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ফলে মার্কিন দূতাবাস সন্তোষ প্রকাশ করেছে। নোটে উল্লেখ করা হয়, মার্কিন রাষ্ট্রদূতের গাড়ি বহরে অনাকাঙ্ক্ষিত এ ঘটনায় বাংলাদেশ নিন্দা জানায়। একই সঙ্গে বাংলাদেশে অবস্থানরত সব কূটনীতিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বাংলাদেশ প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। মার্শা বার্নিকাটের গাড়ি বহরে হামলার বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষারকারী বাহিনী তদন্ত করছে। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
মিরপুরের সেই টিনশেড বাড়িতে গুপ্তধনের অস্তিত্ব মেলেনি
অনলাইন ডেস্ক: রাজধানীর মিরপুরের সেই টিনশেড বাড়িতে গুপ্তধনের সন্ধানে অনেক খোঁড়াখুঁড়ি ও তৎপরতা চালানো হলেও এমন কিছুর অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। বাড়িটিতে আসলেই গুপ্তধন আছে কি-না তা জানতে বৃহস্পতিবার (১৬ আগস্ট) দুপুর দেড়টার দিকে সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করেন ঢাকা জেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাজওয়ার আকরামের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ বিভাগ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) প্রকৌশলীরা। পরে মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দাদন ফকির বাংলানিউজকে বিষয়টি জানান। এরপর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাজওয়ার আকরামও জানান, প্রকৌশলীরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখেছেন বাড়িটিতে কোনো গুপ্তধন আছে কি-না, আদতে এমন কিছুর অস্তিত্ব মেলেনি। তাদের এ বক্তব্যের পর বাড়িটিতে অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়।
চিরনিদ্রায় শায়িত সাংবাদিক গোলাম সারওয়ার
অনলাইন ডেস্ক: চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন দেশের প্রথিতযশা সাংবাদিক সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার। বৃহস্পতিবার (১৬ আগস্ট) বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়। খবর সমকাল’র আজ দুপুরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে দুপুর ১টার দিকে গোলাম সারওয়ারের মরদেহ নেওয়া হয় তার পাঁচ দশকের আড্ডাস্থল জাতীয় প্রেস ক্লাবে। সেখানে সমকাল সম্পাদকের চতুর্থ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর প্রথমে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের পক্ষ থেকে গোলাম সারওয়ারের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। তার পরপরই প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয় কিংবদন্তিতুল্য এই সাংবাদিকের প্রতি। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর গোলাম সারওয়ারকে ঢাকা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। এরপর সম্পাদক পরিষদের পক্ষ থেকে সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি গোলাম সারওয়ারের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। পরে বিএনপির পক্ষে একটি প্রতিনিধিদলও গোলাম সারওয়ারের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে। এরপর একে একে গোলাম সারওয়ারের দীর্ঘদিনের সহকর্মীরা তার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর পর্যায়ক্রমে সাংবাদিকদের নানা সংগঠনসহ বিভিন্ন সংগঠন এবং গোলাম সারওয়ারের দীর্ঘদিনের সহকর্মীরা তার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করে। এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ১১টার দিকে সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ারের মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেওয়া হয়। সেখানে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের ব্যবস্থাপনায় জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, র‌্যাব মহাপরিচক বেনজির আহমেদ, বেসরকারি সংগঠন ‘নিজেরা করি’র খুশী কবিরসহ সর্বস্তরের মানুষ শেষ শ্রদ্ধা জানান সাংবাদিকতার বাতিঘর গোলাম সারওয়ারকে। গত ২৯ জুলাই অসুস্থ হয়ে রাজধানীর একটি হাসপাতালে ভর্তি হন ৭৫ বছর বয়সী সম্পাদক গোলাম সারওয়ার। অবস্থার অবনতি ঘটলে গত ৩ আগস্ট সিঙ্গাপুর নেওয়া হয় তাকে। গত ১৩ আগস্ট সোমবার বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ২৫ মিনিটে সিঙ্গাপুরের জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক গোলাম সারওয়ার। গত মঙ্গলবার রাত ১০টা ৫০ মিনিটে বাংলাদেশ সম্পাদক পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি গোলাম সারওয়ারের মরদেহ সিঙ্গাপুর থেকে দেশে নিয়ে আসা হয়। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মধ্যরাতে মরদেহ নেওয়া হয় তার উত্তরার বাসভবনে। এরপর রাতে মরদেহ রাখা হয় বারডেম হাসপাতালের হিমঘরে। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ারের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছে সর্বস্তরের মানুষ—সমকাল বুধবার দুপুরে গোলাম সারওয়ারের মরদেহ হেলিকপ্টারে ঢাকা থেকে তার জন্মস্থান বরিশালের বানারীপাড়া নেওয়া হয়। বানারীপাড়া মডেল ইনস্টিটিউশন মাঠে তার প্রথম জানাজায় মানুষের ঢল নামে। শোকার্ত মানুষ তাদের প্রিয় দুলালের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। শেষ শ্রদ্ধা জানান প্রিয় সন্তানকে। বানারীপাড়া থেকে বুধবার বিকেল ৫টার দিকে প্রায় চার দশকের আবাসস্থল উত্তরায় শেষবারের মতো ফেরেন গোলাম সারওয়ার। সেখানে বেদনাবিধুর পরিবেশে মসজিদের ভেতর তার দ্বিতীয় জানাজায় অংশ নেন মুসল্লিরা। জানাজা শেষে রাতে আবারও গোলাম সারওয়ারের মরদেহ বারডেমের হিমঘরে রাখা হয়। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ারের প্রতি শ্রদ্ধা জানান তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু—সমকাল বৃহস্পতিবার সকালে গোলাম সারওয়ারের মরদেহ নেওয়া হয় তার প্রিয় কর্মস্থল সমকাল কার্যালয়ে। সেখানে সমকাল পরিবারের সদস্যরা প্রিয় অভিভাবককে শেষ শ্রদ্ধা জানান। সকাল সোয়া ৯টার দিকে সমকাল কার্যালয়-সংলগ্ন বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের ওসমানী হল মাঠে গোলাম সারওয়ারের তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর সকাল পৌনে ১১টার দিকে লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেওয়া হয়। সেখানে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের ব্যবস্থাপনায় সর্বস্তরের মানুষ শেষ শ্রদ্ধা জানান গোলাম সারওয়ারকে। বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে সহকর্মীদের শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় সিক্ত হওয়ার পর বাদ আসর মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে শেষ শয্যায় শায়িত হবেন তিনি।
সমকাল পরিবারের শেষ শ্রদ্ধা গোলাম সারওয়ারের কফিনে
অনলাইন ডেস্ক: যে দৈনিকে কাজ করতে করতেই মৃত্যুর ইচ্ছা ছিল, সেই সমকাল কার্যালয়ে পত্রিকাটির প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক গোলাম সারওয়ারের মরদেহ। আজ বৃহস্পতিবার (১৬ আগস্ট) সকাল পৌনে ৯টায় সমকাল কার্যালয়ে আনা হয় পত্রিকাটির প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক গোলাম সারওয়ারের মরদেহ। তাকে আনা হয় তার প্রিয় কর্মস্থল সমকালের তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল কার্যালয়ে। তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন সমকাল পরিবারের সদস্যরা। সকাল ১০টায় সমকাল কার্যালয় সংলগ্ন বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের ওসামানী হল মাঠে গোলাম সারওয়ারের তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। সদ্য প্রয়াত সমকাল সম্পাদক ও বাংলাদেশ সম্পাদক পরিষদের সভাপতি গোলাম সারওয়ারকে বৃহস্পতিবার আসরের নামাজের পর মিরপুরের বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হবে। আগে বেলা ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে তার মরদেহ রাখা হবে শ্রদ্ধা জানানোর জন্যে। সেখানে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের ব্যবস্থাপনায় সর্বস্তরের মানুষ সাংবাদিক সমাজের শিক্ষকখ্যাত কিংবদন্তিতুল্য গোলাম সারওয়ারের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাবেন। এরপর দুপুর ১টায় তার মরদেহ নেওয়া হবে জাতীয় প্রেসক্লাবে। সেখানে তার সহকর্মীরা গোলাম সারওয়ারকে শেষ বিদায় জানাবেন। রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা গোলাম সারওয়ারকে তার প্রিয়স্থান প্রেসক্লাব চত্বরে বিদায়ী রাষ্ট্রীয় সম্মাননা জানানো হবে। এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সমকালের প্রধান প্রতিবেদক লোটন একরাম জানিয়েছেন, বাদ জোহর প্রেস ক্লাবে তার চতুর্থ জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। গত ২৯ জুলাই অসুস্থ হয়ে রাজধানীর একটি হাসপাতালে ভর্তি হন ৭৫ বছর বয়সী গোলাম সারওয়ার। তার অবস্থার অবনিত হলে গত ৩ আগস্ট সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়। গত ১৩ আগস্ট বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ২৫ মিনিটে সিঙ্গাপুরের জেনারেল হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন চিকিৎসাধীন গোলাম সারওয়ার। পরে মঙ্গলবার (১৪ আগস্ট) রাত ১০টা ৫০ মিনিটে সিঙ্গাপুর থেকে দেশে আসে একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক গোলাম সারওয়ারের মরদেহ। বিমানবন্দর থেকে মঙ্গলবার মধ্যরাতে মরদেহ নেওয়া হয় তার উত্তরার বাসভবনে। সেখান থেকে রাত পৌনে ১টায় মরদেহ নেওয়া হয় বারডেমের হিমঘরে। বুধবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে গোলাম সারওয়ারের মরদেহ হেলিকপ্টারে করে নিয়ে যাওয়া হয় তার জন্মস্থান বরিশালের বানারীপাড়ায়। সেখানে তার প্রথম জানাজার পর বিকলেই মরদেহ ঢাকায় ফিরিয়ে আনা হয়। বাদ আসর উত্তরা-৪ নম্বর সেক্টর জামে মসজিদে তার দ্বিতীয় জানাজার পর মরদেহ রাখা হয় বারডেমের হিমঘরে।
তিন বিচারপতির রক্ত দান শোক দিবসে
অনলাইন ডেস্ক: জাতীয় শোক দিবসে হাইকোর্টের তিন বিচারপতির রক্তদানের মধ্যে দিয়ে দিনব্যাপী রক্তদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। বুধবার বেলা ১১ টার দিকে সুপ্রিম কোর্ট অডিটরিয়ামে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন রক্তদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এ সময় প্রধান বিচারপতি রক্তদাতাদেরকে নিজ হাতে জুস পান করান। প্রথমেই রক্তদান করেন হাইকোর্টের বিচারপতি মো. খসরুজ্জামান, বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামান ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলম। এছাড়া হাইকোর্ট বিভাগের ডেপুটি রেজিস্ট্রার (বিচার ও প্রশাসন) মো. আক্তারুজ্জামান ভূঁইয়াসহ সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা রক্তদান করবেন। রক্তদান কর্মসূচির উদ্বোধনের সময় প্রধান বিচারপতি বলেন, জাতির পিতা যে সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখেছিলেন, আমাদের দায়িত্ব হবে সে লক্ষে কাজ করে জাতির পিতার স্বপ্ন পূরণ করা। তাহলেই তার বিদেহী আত্মা শান্তি পাবে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন- আপিল বিভাগের বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার। রক্তদান কর্মসূচিতে সহযোগিতা করছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের টান্সফিউশন মেডিসিন বিভাগ।
শোকাবহ ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস আজ
অনলাইন ডেস্ক: শোকাবহ ১৫ আগস্ট আজ। জাতীয় শোক দিবস। স্বাধীনতার স্থপতি, মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৩তম শাহাদতবার্ষিকী। ১৯৭৫ সালের শোকাবহ এই কালোদিবসে সেনাবাহিনীর কিছুসংখ্যক বিপথগামী সদস্য ধানমণ্ডির বাসভবনে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে। ঘাতকরা শুধু বঙ্গবন্ধুকেই হত্যা করেনি, তাদের হাতে একে একে প্রাণ হারিয়েছেন বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, বঙ্গবন্ধুর সন্তান শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শিশু শেখ রাসেলসহ পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজি জামাল। পৃথিবীর এই জঘন্যতম হত্যাকাণ্ড থেকে বাঁচতে পারেননি বঙ্গবন্ধুর অনুজ শেখ নাসের, ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাত, তার ছেলে আরিফ, মেয়ে বেবি ও সুকান্ত, বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে যুবনেতা ও সাংবাদিক, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক শেখ ফজলুল হক মণি, তার অন্তঃস্বত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনি এবং আবদুল নাঈম খান রিন্টু ও কর্নেল জামিলসহ পরিবারের ১৬ জন সদস্য ও ঘনিষ্ঠজন। এ সময় বঙ্গবন্ধুর দুইকন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বিদেশে থাকায় প্রাণে রক্ষা পান। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। ১৫ আগস্টকে সামনে রেখে এ মাসের প্রথম দিন থেকেই আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক সংগঠন বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে। এবারও সরকারিভাবে পালিত হচ্ছে দিবসটির বিভিন্ন কর্মসূচি। দিবসটিকে এরইমধ্যে সরকারি ছুটি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ১৫ আগস্ট সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি ভবনসহ বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশনসমূহে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে। সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করবেন এবং সশস্ত্র বাহিনী গার্ড অব অনার প্রদান করবে। এছাড়া ফাতেহা পাঠ ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। পরে ঢাকার বনানী কবরস্থানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির পিতার পরিবারের শাহাদত বরণকারী সদস্য ও অন্য শহিদদের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ, ফাতেহা পাঠ এবং দোয়া করবেন। সকাল ১০টায় গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। সেখানে ফাতেহা পাঠ, সশস্ত্র বাহিনীর গার্ড অব অনার প্রদান এবং মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি সমাধিস্থলে বিশেষ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, তথ্য মন্ত্রণালয়, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও বিভাগ, অধিদপ্তর ও সংস্থা জাতীয় কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিজ নিজ কর্মসূচি পালন করবে। জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে সারা দেশে মসজিদসমূহে বাদ জোহর বিশেষ মোনাজাত এবং মন্দির, গির্জা, প্যাগোডা ও অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সুবিধাজনক সময়ে বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ বেসরকারি টেলিভিশন ও রেডিও বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করবে। জাতীয় দৈনিক ও সাময়িকীতে ক্রোড়পত্র প্রকাশ, পোস্টার মুদ্রণ ও বিতরণ এবং বঙ্গবন্ধুর ওপর প্রামাণ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জাতীয় শোক দিবসের পোস্টার স্থাপিত হবে। এ ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিশু একাডেমি এবং বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর জাতীয় শোক দিবস ও বঙ্গবন্ধুর জীবনী ভিত্তিক বক্তৃতার আয়োজন করবে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় শোক দিবসে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় কর্মসূচির সাথে সংগতি রেখে তারা কর্মসূচি পালন করবে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠন টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতার সমাধিস্থলে এবং ঢাকায় ধানমণ্ডি বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা করবে। দেশের সব সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় শোক দিবস পালনের জন্য জাতীয় কর্মসূচির সাথে সামঞ্জস্য রেখে নিজ নিজ কর্মসূচি পালন করবে। তথ্য মন্ত্রণালয় ও এর আওতাধীন সংস্থা ও দপ্তরের মাধ্যমে জাতীয় কর্মসূচির সঙ্গে সংগতি রেখে আলোকচিত্র প্রদর্শনী, নিরীক্ষা, নবারুণ, সচিত্র বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ কোয়ার্টারলির বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ, স্মরণিকা ও বিশেষ নিবন্ধ প্রকাশ, আলোচনা সভা ও অন্যান্য কার্যক্রম গ্রহণ করবে। গণযোগযোগ অধিদপ্তর প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে শব্দযন্ত্র সরবরাহ করবে। বাংলাদেশ টেলিভিশন বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী ও কারাগারের রোজনামচা গ্রন্থ দুটির পাঠ আগস্টে মাসব্যাপী প্রচারের ব্যবস্থা করবে এবং কিউরেটর বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে। দুই দিনব্যাপী আওয়ামী লীগের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ১৫ আগস্ট সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে বঙ্গবন্ধু ভবন এবং কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সংগঠনের সব স্তরের কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ ও কালো পতাকা উত্তোলন। সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক স্মৃতি-বিজড়িত ধানমণ্ডির বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ। সকাল ৭টা ৩০মিনিটে বনানী কবরস্থানে ১৫ আগস্টের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন, মাজার জিয়ারত, ফাতেহা পাঠ, মোনাজাত ও মিলাদ মাহফিল। সকাল ১০টায় টুঙ্গীপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন, ফাতেহা পাঠ, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল। এতে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের পক্ষে জাতীয় নেতারা উপস্থিত থাকবেন। দিনের অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে বাদ জোহর দেশের সব মসজিদে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল এবং সুবিধামতো সময়ে মন্দির, প্যাগোডা, গির্জা, উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা। দুপুরে অস্বচ্ছল, এতিম ও দুঃস্থ মানুষদের মাঝে খাদ্য বিতরণ। বাদ আছর বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া শোকদিবসের পরের দিন বিকেল ৪টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র আলোচনা সভার আয়োজন করেছে দলটি। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ১৯৭৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর স্বঘোষিত প্রেসিডেন্ট খন্দকার মোস্তাক আহমেদ বিচারের হাত থেকে খুনিদের রক্ষা করতে ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স জারি করেন। পরবর্তী সময়ে জিয়াউর রহমান ১৯৭৯ সালে ইনডেমনিটিকে আইন হিসেবে অনুমোদন করেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সুদীর্ঘ ২১ বছর পর ক্ষমতায় আসলে ১৯৯৬ সালের ১৪ আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার তিন প্রধান আসামি লে. কর্নেল সৈয়দ ফারুক রহমান, সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী তাহের উদ্দিন ঠাকুরকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই বছরের ২ অক্টোবর বঙ্গবন্ধুর একান্ত সহকারী (পিএ) এ এফ এম মোহিতুল ইসলাম ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সংঘটিত নারকীয় হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় থানায় একটি এফআইআর করেন। ১৯৯৬ সালের ১৪ নভেম্বর খুনিদের বিচারের হাতে ন্যস্ত করতে পার্লামেন্টে ইনডেমনিটি আইন বাতিল করা হয়। ১৯৯৭ সালের ১৫ জানুয়ারি সিআইডি এই মামলায় ২০ জনকে অভিযুক্ত করে মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে চার্জশিট দাখিল করে এবং একই বছরের ১২ মার্চ ছয় আসামির উপস্থিতিতে আদালতে বিচার শুরু হয়। ১৯৯৭ সালের ১৯ জুন পর্যন্ত বিচারক বিব্রত হওয়াসহ স্বাধীনতা-বিরোধী চক্রের নানা বাধার কারণে আটবার বিচার কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়। এভাবে দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে ১৯৯৮ সালের ৮ নভেম্বর মামলার রায়ে বিচারক কাজী গোলাম রসুল ১৫ জন সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। অন্যদিকে ২০০০ সালের ১৪ ডিসেম্বর হাইকোর্ট বেঞ্চ ২৪ দিনের শুনানি শেষে বিভক্ত রায় প্রদান করে। বিচারক এম রুহুল আমিন অভিযুক্ত ১৫ আসামির মধ্যে ১০ জনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ বজায় রাখেন। কিন্তু অপর বিচারক এ বি এম খায়রুল হক অভিযুক্ত ১৫ জনকেই সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। পরবর্তী সময়ে ২০০১ সালের অক্টোবরের সংসদ নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় আসলে বিচারকাজ বন্ধ থাকে। দীর্ঘ ছয় বছর পর ২০০৭ সালের ২৩ আগস্ট রাষ্ট্রপক্ষের মুখ্য আইনজীবী বর্তমান সরকারের আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সুপ্রিম কোর্টে সংক্ষিপ্ত বিবৃতি প্রদান করেন এবং ২৩ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগের তিন সদস্যের একটি বেঞ্চ ২৭ দিনের শুনানি শেষে ৫ আসামিকে নিয়মিত আপিল করার অনুমতিদানের লিভ টু আপিল মঞ্জুর করেন। ২০০৯ সালের ১২ নভেম্বর- ২৯ দিনের শুনানির পর চূড়ান্ত আপিল শুনানি শেষ হয় এবং আদালত ১৯ নভেম্বর রায়ের তারিখ নির্ধারণ করেন। ওই দিন (১৯ নভেম্বর) বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পাঁচ সদস্যের বেঞ্চে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রেখে মৃত্যুদ্বণ্ড প্রাপ্ত ৫ আসামির দায়ের করা আপিল আবেদন খারিজ করা হয়। ২০১০ সালের ২৭ জানুয়ারি আপিলের রায়ের বিরুদ্ধে আসামিদের রিভিউ খারিজ হয়ে গেলে ২৮ জানুয়ারি ৫ আসামির ফাঁসির রায় কার্যকর করে জাতিকে দায়মুক্ত করা হয়।

জাতীয় পাতার আরো খবর