মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের পর জিডিপি প্রবৃদ্ধি ১০ শতাংশ হবে : পরিকল্পনামন্ত্রী
পদ্মা সেতুসহ মেগা প্রকল্পসমূহ বাস্তবায়নের পর দেশে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ১০ শতাংশ হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেন, ‘পদ্মা সেতুসহ মেগা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হলে ১০ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি কেউ আটকাতে পারবে না। আগামী ২০২৮-২৯ সালে আমরা এই লক্ষ্য অর্জন করতে সক্ষম হবো।’ মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলানগর এনইসি সম্মেলনকক্ষে বার্ষিক কর্ম সম্পাদন চুক্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী এসব কথা বলেন। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় ও কমিশনের সংস্থাগুলোর মধ্যে এই চুক্তি সই হয়। মুস্তাফা কামাল বলেন, এটা নিছক একটি চুক্তি নয়, এটা কেবলমাত্র আনুষ্ঠানিকতা নয়, নিজের বিবেকের কাছে নিজের পরীক্ষা। তবে এ কথা সত্য যে কাজ করার জন্য অনেক লোকের প্রয়োজন হয় না। আকাশে লাখ তারা রয়েছে কিন্তু একটি চাঁদের আলোয় সারা পৃথিবী আলোকিত হয়। কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমাদের গতানুগতিক ধারা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। আগামীতে শিক্ষা ও রাজস্ব খাতের ব্যাপক সংস্কার করা হবে। শিক্ষাকে যুগোপযোগী ও বাস্তসম্মত করা হবে। রাজস্ব আদায় এমন হতে হবে যাতে বেশি লোক করের আওতায় আসে এবং করের হার কম হবে। তিনি ব্যাখ্যা দেন, করহার কম হলেএকদিকে যারা কর দেন তাদের উপর চাপ কমবে, অন্যদিকে সরকারের রাজস্ব আদায় বাড়বে। করের হার কমিয়েও রাজস্ব আদায় ১৫ শতাংশে নিয়ে যাওয়া সম্ভব বলে তিনি মত দেন। পরিকল্পনামন্ত্রী প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি বাড়াতে লাইন মিনিস্ট্রিগুলোকে যথাযথ দায়িত্ব পালনের পরামর্শ দেন। পরিকল্পনা সচিব মো. জিয়াউল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য ড.শামসুল আলম, এ.এন. সামসুদ্দিন আজাদ চৌধুরী, শামীমা নার্গিস ও জুয়েনা আজিজ এবং পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব সৌরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী প্রমুখ বক্তব্য দেন। বাসস
আপনারা বারবার আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েও ব্যার্থ
আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং দলের অন্যতম মুখপাত্র ড. হাছান মাহমুদ বিএনপি নেতাদের প্রতি প্রশ্ন রেখে বলেছেন, এতদিন আপনাদের রাজনীতি ছিলো খালেদা জিয়ার হাঁটু ও কোমর ব্যাথা পর্যন্ত। এখন কি বিএনপিরও হাঁটু ব্যাথা শুরু হয়ে গেছে? কারণ আপনারা জনবিচ্ছিন্ন হয়ে বারবার আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েও ব্যার্থ হচ্ছেন! মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের তৃতীয় তলায় কনফারেন্স লাউঞ্জে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট আয়োজিত ‘বঙ্গবন্ধু মানেই স্বাধীনতা, আওয়ামী লীগ মানেই মুক্তি, শেখ হাসিনা মানেই শক্তি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সেনাবাহিনীর ওপর অাস্থা না থাকায় বেগম জিয়া সিএইচএমএস হাসপাতালে যেতে চান না মন্তব্য করে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যেহেতু কারাবন্দী, তাই তার চিকিৎসা দিতে সরকার বদ্ধপরিকর। কিন্তু খালেদা জিয়াকে সিএইচএমএস হাসপাতালে চিকিৎসার কথা বলা হলে তিনি রাজি হননি। কারণ তার সেনাবাহিনীর ওপর কোনো আস্থা নেই। আগামী নির্বাচনে সেনাবাহিনী থাকবে কি থাকবে না এ বিষয়ে সাবেক বন ও পরিবেশ মন্ত্রী বলেন, বিএনপি নেতারা বারবার বলছেন আগামী নির্বাচনে সেনাবাহিনীকে রাখতে হবে। সেই কথার সূত্র ধরে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক যখন বললেন এটা নির্বাচন কমিশন ভেবে দেখবেন। তখনই বিএনপি নেতারা বললেন এর মধ্যেও কোনো কারণ আছে। আসলে বিএনপি কখন কোনটা করবে তার খেই হারিয়ে ফেলেছে। ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বিএনপি ভারতে গিয়েছিল। কিন্তু ভারত বলে দিয়েছে আপনাদের সঙ্গে জঙ্গিরা আছে, তাই আপনাদের সঙ্গে আমরা নেই। অর্থাৎ ভারতের কাছ থেকে তারা খালি হাতে ফিরে এসেছে। আয়োজক সংগঠনের উপদেষ্টা লায়ন চিত্তরঞ্জন দাসের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন, খাদ্যমন্ত্রী এ্যাড. কামরুল ইসলাম এমপি, আওয়ামী লীগ নেতা এ্যাডভোকেট বলরাম পোদ্দার, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কন্ঠশিল্পী মনোরঞ্জন ঘোষাল, অরুন সরকার রানাসহ প্রমুখ।
মৌলভীবাজারে বন্যাকবলিতদের মাঝে সমাজকল্যাণমন্ত্রীর ত্রাণ বিতরণ
সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন আজ সকালে মৌলভীবাজারের সদর উপজেলার সৈয়ারপুর ও খলিলপুরের বন্যা কবলিত প্রায় ৭০০ ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে নিজ ও স্থানীয় ত্রাণ সহায়তা তহবিল থেকে সহায়তা প্রদান করেছেন। এ সময় তিনি বলেন, সরকারের ত্রাণ ভান্ডারে পর্যাপ্ত পরিমান ত্রাণ সামগ্রী মজুদ রয়েছে। বন্যাকালীন সময়ের দুরাবস্থা ও বন্যা পরবর্তী ক্ষয়-ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে ও পরবর্তী পুনর্বাসনে সরকারের সব ধরনের পরিকল্পনা রয়েছে। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন, মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দা সায়রা মহসীন, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান, পৌর মেয়র ফজলুর রহমান, জেলা প্রশাসক মো. তোফায়েল ইসলাম, জেলা পুলিশ সুপার শাহজালাল ও বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।বাসস
প্রধানমন্ত্রীর গণসংবর্ধনা আগামী ২১ জুলাই
প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার গণসংবর্ধনার তারিখ পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানিয়ে বলা হয়, আগামী ৭ জুলাইয়ের পরিবর্তে ২১ জুলাই শনিবার বিকেল ৩টায় ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এই গণসংবর্ধনা দেয়া হবে। বাংলাদেশের উন্নয়নশীল দেশে পদার্পণ, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ, অস্ট্রেলিয়া থেকে ‘গ্লোবাল উইমেনস লিডারশিপ এ্যাওয়ার্ড’ অর্জন ও ভারতের নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডি লিট ডিগ্রি পাওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে এই সংবর্ধনা জানাবে আওয়ামী লীগ।বাসস
গত ৮ অর্থবছরে ৩৯৮৭,৫৫,০২,৫৩৪ টাকা ভূমি উন্নয়ন কর আদায় হয়েছে
ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ বলেছেন, গত ৮ অর্থবছরে ৩ হাজার ৯৮৭ কোটি ৫৫ লাখ ২ হাজার ৫৩৪ টাকা ভূমি উন্নয়ন কর আদায় করা হয়েছে। তিনি আজ সংসদে সরকারি দলের দিদারুল আলমের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, এর মধ্যে ২ হাজার ৩৭৮ কোটি ৪১ লাখ ৯১ হাজার ৩৪ টাকা সাধারণ এবং ১ হাজার ৬০৯ কোটি ১৩ লাখ ১১ হাজার ৫শ’ টাকা সংস্থা কর আদায় হয়েছে। তিনি বলেন, ২০০৯-১০ অর্থবছরে ১৯৩ কোটি, ১৬ লাখ ২ হাজার ২৪৭ টাকা সাধারণ এবং ৩৩ কোটি ১১ লাখ ১৬ হাজার ৩৬৭ টাকা সংস্থা কর আদায় করা হয়েছে, ২০১০-১১ অর্থবছরে ২১১ কোটি, ৬ লাখ ১৭ হাজার ৬৮৯ টাকা সাধারণ এবং ৩৩ কোটি ৩৫ লাখ ৪৭ হাজার ২৩২ টাকা সংস্থা কর আদায় করা হয়েছে, ২০১১-১২ অর্থবছরে ২৪২ কোটি, ৫৯ লাখ ৮৪ হাজার ৫৫১ টাকা সাধারণ এবং ৪০ কোটি ৪ লাখ ৯৬ হাজার ৭৫৭ টাকা সংস্থা কর আদায় করা হয়েছে, ২০১২-১৩ অর্থবছরে ২৬০ কোটি, ৬৬ লাখ ৭৬ হাজার ৯৩৫ টাকা সাধারণ এবং ৩৩ কোটি ৬৫ লাখ ৭৪ হাজার ২৪৮ টাকা সংস্থা কর আদায় করা হয়েছে। তিনি বলেন, এছাড়া ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ২৮৪ কোটি, ৯৩ লাখ ২৪ হাজার ১৮৪ টাকা সাধারণ এবং ৭২ কোটি ২ লাখ ৪৫ হাজার ১৮ টাকা সংস্থা কর আদায় করা হয়েছে, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৩০২ কোটি, ৫৪ লাখ ১৪ হাজার ৫৩৯ টাকা সাধারণ এবং ৭৭ কোটি ৯৩ লাখ ২৬ হাজার ৪৪৩ টাকা সংস্থা কর আদায় করা হয়েছে, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৪৩৬ কোটি, ৯ লাখ ৭৫ হাজার ৪১০ টাকা সাধারণ এবং ৯১ কোটি ৮৬ লাখ ৮৮ হাজার ৮১০ টাকা সংস্থা কর আদায় করা হয়েছে। ভূমিমন্ত্রী বলেন, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৪৪৭ কোটি, ৩৫ লাখ ৯৫ হাজার ৪৭৯ টাকা সাধারণ এবং ১ হাজার ২২৭ কোটি ১৩ লাখ ১৬ হাজার ৬২৫ টাকা সংস্থা কর আদায় করা হয়েছে।বাসস
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির অংশ নেয়া উচিত
আন্দোলনের অলীক স্বপ্ন না দেখে, আগামী জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে বিএনপি নেতাদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম। তিনি বলেন, ‘আন্দোলনের খেলা না খেলে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত হন। এটা আপনাদের (বিএনপি) প্রতি আমার অনুরোধ থাকবে। যে কোন পরিস্থিতিতেই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির অংশ নেয়া উচিত এবং তারা নির্বাচনে আসবে।’ মোহাম্মদ নাসিম আজ মঙ্গলবার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন কেন্দ্র (নিটোর) হাসপাতালের বর্ধিত ভবনের অগ্রগতি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন। মোহাম্মদ নাসিম বলেন, নির্বাচনে অংশগ্রহণ ছাড়া একটি রাজনৈতিক দল বাঁচতে পারে না। বিএনপি নির্বাচনে না এসে অনেক দুর্বল হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার জন্য দেশের সর্বোচ্চ উন্নতমানের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু তিনি তা গ্রহণ করেন নি। এক্ষেত্রে আমাদের করার কিছু নেই। জনসংখ্যা ও দুর্ঘটনার কারণে নিটোর হাসপাতালে শয্যা সংখ্যার তুলনায় রোগীর চাপ কয়েকগুণ বেশি উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, রোগীর চাপ সামলাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে অর্থোপেডিক হাসপাতালের নতুন ১৪ তলা ভবন নির্মাণ কাজ প্রায় কাজ শেষ পর্যায়ে। আর এশিয়ার বৃহত্তম এই হাসপাতাল আগামী সেপ্টেম্বর মাসে উদ্বোধন করা হবে। মোহাম্মদ নাসিম বলেন, হাসপাতালের কাজ প্রায় শেষের দিকে। আশা করছি, এ বছরের সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রীর জন্মের মাসেই আমরা এই সম্প্রসারিত ভবনের উদ্বোধন বা এখানকার স্বাস্থ্যসেবা চালু করতে পারব। তিনি বলেন, এই হাসপাতাল আগে থেকেই ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট ছিলো। এখন বর্ধিত হয়ে তা এক হাজার শয্যায় উন্নীত করা হচ্ছে। এখানে উন্নত প্রযুক্তিসম্পন্ন যন্ত্রপাতি থাকবে যার মাধ্যমে আরও উন্নতমানের চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হবে। এছাড়া এই হাসপাতালে ব্যবহৃত পানি পুনরায় ব্যবহারে (রিসাইক্লিং) ব্যবস্থা থাকছে। যে পানি খাওয়া ছাড়া অন্যান্য কাজে ব্যবহার করা যাবে। হাসপাতাল ভবন পরিদর্শনকালে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন,স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক, গৃহায়ন ও গণপূর্ত সচিব মোঃ শহীদ উল্লা খন্দকার, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব সিরাজুল হক খান, নিটোরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল গণি মোল্লা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এরআগে মন্ত্রী বর্ধিত ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালটির নির্মাণ কাজ পরিদর্শন করেন এবং সংশ্লিষ্টদের দ্রুত উদ্বোধনের জন্য প্রস্তুত করার নির্দেশ দেন। এদিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মহাখালীতে নির্মাণাধীন ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব ডাইজেস্টিভ ডিজিজেস রিসার্চ ও হাসপাতালের নির্মাণ কাজ পরিদর্শন করেন।বাসস
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের প্রতিটি মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন
প্রধান তথ্য কমিশনার মরতুজা আহমেদ বলেছেন, তথ্য অধিকার আইন-২০০৯ জনগণের অধিকার প্রয়োগের সুযোগ করে দিয়েছে। এর মাধ্যমে সকল ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। তথ্য অধিকার আইনকে একটি সামগ্রিক আইন হিসাবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এ আইন অন্য কোন আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়। জনস্বার্থে এ আইনের প্রয়োগ ও বাস্তবায়নে গণমাধ্যম কর্মীদের এগিয়ে আসতে হবে।’ আজ মঙ্গলবার দুপুরে সিলেটে বাংলাদেশ বেতারের সভাকক্ষে ‘তথ্য অধিকার আইন-২০০৯’ বিষয়ে বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস), বিভাগীয় তথ্য অফিস ও স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধান তথ্য কমিশনার বলেন, আগে তথ্য গোপনের একটা প্রবণতা ছিল। এখন আর সেটা নেই। তথ্য অধিকার আইনের ফলে সরকারি ও বেসরকারি দফতরের কর্মকর্তাগণ তথ্য প্রদানে বাধ্য। তিনি বলেন, ‘তথ্য অধিকার আইন একমাত্র আইন যা প্রজাতন্ত্রের মালিক হিসেবে জনগণ সকল কর্তৃপক্ষের উপর প্রয়োগ করতে পারে। তাই তথ্য অধিকার আইন সম্বন্ধে জনগণকে এবং তথ্য প্রদানকারি কর্মকর্তাদের ভালভাবে জানতে হবে।’ তথ্য অধিকার আইনের প্রয়োগ যত বাড়বে স্বচ্ছতা তত নিশ্চিত হবে, দুর্নীতি রোধ হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মরতুজা আহমেদ বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ক্ষুধা, দারিদ্র্যমুক্ত ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখেছিলেন। জাতির পিতার সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে রূপকল্প-২০২১ ও ২০৪১ বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের প্রতিটি মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি জনগণের কল্যাণে কাজ করেন সেটা বিশ^ব্যাপি স্বীকৃত।’ বাংলাদেশ বেতার, সিলেট-এর আঞ্চলিক পরিচালক মো. ফখরুল আলমের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন সিলেট আঞ্চলিক তথ্য অফিসের উপ-পরিচালক জুলিয়া জেসমিন মিলি, বাংলাদেশ টেলিভিশনের সিলেট প্রতিনিধি আজিজ আহমদ সেলিম, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) সিলেট প্রতিনিধি মকসুদ আহমদ মকসুদ, সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি হাবিবুর রহমান তালুকদার, সিলেট জেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি তাপস দাশ পুরকায়স্ত, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সমরেন্দ্র বিশ্বাস সমর প্রমুখ।বাসস
এ দেশে কোনো ষড়যন্ত্র টিকবে না
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, পর্দার আড়ালে বিএনপি কী করছে, এর সবই সরকারের জানা আছে। এ দেশে কোনো ষড়যন্ত্র টিকবে না। মঙ্গলবার দুপুরে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে যৌথ সভা শেষে তিনি এ কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, ইল্যান্ডের বৈঠক। আরো অনেক জায়গায় তারা ঘুরে বেড়াচ্ছে। ঢাকাতেও এখানে ওখানে গভীর রাতে বৈঠক চলছে। তারা মনে করছে, আমরা জানি না। সব খবরই জানা আছে। এবার কোনো ষড়যন্ত্র টিকবে না। দেশের জনগণ প্রতিহত করবে। সম্প্রতি বিএনপির একটি প্রতিনিধিদল অনেকটাই গোপনে ভারত সফর করে এসেছে। সে দেশের গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর নেতারা বলে এসেছেন, তারা ভারতের সঙ্গে নতুন সম্পর্ক চান। সেইসঙ্গে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানে ভারতের সহযোগিতাও চেয়েছে দলটি। বিএনপির প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি দেশ ছেড়েছিলেন ব্যাংকক যাওয়ার কথা বলে। তার সঙ্গে গিয়েছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। কথা ছিল, তিনি থাইল্যান্ডে চিকিৎসা করাবেন। তবে পরে সেখান থেকে ফখরুল যান যুক্তরাজ্যে, নানা বিষয়ে আলোচনা করেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সঙ্গে। আর খসরু যান ভারতে। বিএনপি নেতাদের এই সফর নিয়ে কাদের বলেন, নির্বাচনী এলাকায় না গিয়ে বিদেশে গিয়ে ধর্ণা দিচ্ছে, নালিশ করছে, কূটনীতিকদের কাছে যাচ্ছে। এটা তাদের রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব। গত নির্বাচনে বিএনপির অংশ না নেয়ার বিষয়ে এক প্রশ্নে আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, এটা কি আওয়ামী লীগের দোষ? শেখ হাসিনার দোষ? তারা নিজেরা সবকিছু উপেক্ষা করে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছে। তারা সরে গেলে দেশের সাংবিধানিক ধারাকে আমরা জলাঞ্জলি দিতে পারি না। এটা হচ্ছে বাস্তবতা। সেতুমন্ত্রী জানান, আগামী নির্বাচনেও বিএনপি অংশ নেবে কিনা এটা নিয়ে তাদের মাথাব্যথা নেই। আর আওয়ামী লীগ তাদের নির্বাচনে আসার পথে বাধা নয়।
বিশ্বের সেরা ১০ পোশাক কারখানার ৭টি বাংলাদেশে: তোফায়েল
ইউনাইটেড স্টেটস গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিল (ইউএসজিবিসি) কর্তৃক প্রত্যায়িত বিশ্বের সেরা ১০ পোশাক কারখানার মধ্যে ৭টি বাংলাদেশে অবস্থিত। এ পর্যন্ত ৬৭টি কারখানাকে ইউএসজিবিসি কর্তৃক সবুজ কারখানা হিসেবে প্রত্যয়ন করা হয়েছে। আরও প্রায় ৩০০টি সবুজ পোশাক কারখানা নির্মাণাধীন রয়েছে। বললেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। সোমবার (১৮ জুন) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে টেবিলে উত্থাপিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকার দলীয় সংসদ সদস্য এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের লিখিত জবাবে এ তথ্য জানান তিনি। তোফায়েল আহমেদ বলেন, শ্রম আইন ও শ্রম বিধিমালা অনুসারে গ্রিন ফ্যাক্টরি সম্পর্কিত প্রত্যক্ষ কোন বিধান নেই। তবে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতরের জানুয়ারি, ২০১৭ থেকে ডিসেম্বর, ২০১৭ পর্যন্ত কমপ্লায়েন্স প্রতিবেদন অনুসারে ‘এ’ গ্রেডভুক্ত তৈরি পোশাক কারখানা ৪৩৬ এবং ‘বি’ গ্রেডভুক্ত তৈরি পোশাক কারখানার সংখ্যা ২২৮টি। তিনি বলেন, তৈরি পোশাক কারখানাসমূহ পরিবেশবান্ধব ও পর্যায়ক্রমে গ্রিন ফ্যাক্টরির ধারণাভুক্ত করে কমপ্লায়েন্স নিশ্চিতকরণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তিনি আরও বলেন, বিশ্বের ২১টি মিশনে বাণিজ্যিক উইং রয়েছে। এর মধ্যে ৯টি মিশন চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রথম চার মাসের লক্ষ্য অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছে। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো হতে উক্ত মিশনসমূহের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা তথা কমার্শিয়াল কাউন্সিলর/প্রথম সচিব/ইকোনোমিক কাউন্সিলরদেরকে স্ব স্ব বাজার বিশ্লেষণ করে ব্যর্থতার কারণ জানানোর জন্য লেখা হয়েছে, যাতে আমরা পরবর্তীতে উপযুক্ত পদক্ষেপ নিতে করতে পারি। এর মধ্যে কিছু জবাব পাওয়া গেছে এবং সে অনুযায়ী সরকারের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ঝুঁকি মোকাবেলায় ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন করতে সরকারের নানাবিধ পরিকল্পনা রয়েছে। ডব্লিউটিও সেল কর্তৃক প্রতি বছর ঝুঁকি মোকাবেলা বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়ে থাকে। চলতি অর্থবছরে ব্যবসায়ী, বাণিজ্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ঝুঁকি মোকাবেলার জন্য ৬টি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এবং একাধিক কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে।

জাতীয় পাতার আরো খবর