শুধু বিশেষ পরিস্থিতিতে ভার্চ্যুয়াল আদালত অবলম্বন করা হবে
০৫জুলাই,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: শুধু অস্বাভাবিক বা বিশেষ কোন পরিস্থিতির জন্য ভার্চ্যুয়াল কোর্ট প্রথা অবলম্বন করা হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি বলেন, ভার্চ্যুয়াল কোর্ট সম্পর্কিত অধ্যাদেশটি স্থায়ী আইনে পরিণত হলেও সেটার ব্যবহার হবে বিশেষ পরিস্থিতিতে। রোববার (০৫ জুলাই) রাজধানীর বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট ভবন মিলনায়তনে সহকারী জজদের অনলাইন প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে যুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখেন আইন সচিব মো. গোলাম সারওয়ার। সভাপতিত্ব করেন বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক বিচারপতি খোন্দকার মুসা খালেদ। আইনমন্ত্রী বলেন, ভার্চ্যুয়াল আদালত সুচারুভাবে পরিচালনার জন্য বিচারকদের পাশাপাশি আইনজীবীদেরও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। তথ্য-প্রযুক্তি নির্ভর এই পৃথিবীতে ভার্চ্যুয়াল কোর্ট প্রথা চালু হবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন, ভার্চ্যুয়াল কোর্ট স্বাভাবিক বিচার ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ বদলিয়ে বিকল্প হিসেবে কাজ করার জন্য নয়। সংবিধান, সিআরপিসি (ফৌজদারি কার্যবিধি), সিপিসি (দেওয়ানি কার্যবিধি) এবং সাক্ষ্য আইন অনুযায়ী আদালতের কাজ স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে যে প্রচলিত পদ্ধতিতে পরিচালনা করা হয় সেটাই বলবৎ থাকবে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তি সেবার সঙ্গে বিচারক ও বিচার বিভাগের কর্মকর্তাদের সমানতালে এগিয়ে নিতে চায়। একই সঙ্গে সরকারি আইনি সেবার মানোন্নয়নের মাধ্যমে ডিজিটাল পদ্ধতিতে এমন একটি রাষ্ট্র গড়ে তুলতে চায় যেখানে সকল মানুষ তার আইনগত অধিকার প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রীয় সেবাসমূহ সহজেই গ্রহণ করতে পারবেন। মন্ত্রী বলেন, দেশে করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর বিচারকার্যক্রমকে সচল রাখার লক্ষ্যে সরকার দ্রুততম সময়ে আদালত কর্তৃক তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার অধ্যাদেশ, ২০২০ তথা ভার্চ্যুয়াল কোর্ট পরিচালনা আইন প্রণয়ন করে যা বিচার বিভাগকে আধুনিক ও গতিশীল করার জন্য একটি যুগান্তকারী আইন। আনিসুল হক বলেন, এই আইন দেশের বিচার বিভাগকে নতুন যুগে প্রবেশ করিয়েছে। সরকার বিগত ৯ মে ভার্চ্যুয়াল আদালত পরিচালনা সংক্রান্ত অধ্যাদেশ জারির পরের দিনই ভার্চ্যুয়াল আদালত গঠন করা হয় এবং ১১ মে থেকে সীমিত পরিসরে বিচার কার্যক্রম চালু করা হয়। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ১১ মে থেকে ২ জুলাই পর্যন্ত ৩৫ কার্যদিবসে সারা দেশের অধস্তন আদালতের বিজ্ঞ বিচারকগণ ভার্চ্যুয়াল শুনানির মাধ্যমে মোট ৯৫ হাজার ৫২৩টি জামিন আবেদন নিষ্পত্তি করেছেন এবং একই সময়ে ৪৯ হাজার ৭৬২ জন আসামির জামিন মঞ্জুর করেছেন। এটি সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল বাংলাদেশ হওয়ার কারণে। এটি সম্ভব হয়েছে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের পূর্ণ সহযোগিতার কারণে। এ বছরের পহেলা জানুয়ারি সহকারী জজ ও জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ে চারমাস মেয়াদি বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্স শুরু করা হয়। ৮ মার্চ বাংলাদেশে করোনাজনিত রোগ কোভিড-১৯ প্রথম শনাক্ত হওয়ার পর ২৩ মার্চ কোর্সটি স্থগিত ঘোষণা করা হয়। অনলাইনের মাধ্যমে সেই কোর্স সম্পন্ন করতে রোববার পুনরায় তা উদ্বোধন করেন আইনমন্ত্রী।
বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে সেনাবাহিনীর ফ্রি-মেডিকেল ক্যাম্পেইন
০৫জুলাই,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে সেনাবাহিনী প্রধান, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এর দিক নির্দেশনায় এরিয়া সদর দপ্তর সাভার এবং ৯ পদাতিক ডিভিশনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ৩ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারির তত্ত্বাবধানে ধামরাই উপজেলার বাইশাকান্দা ইউনিয়নের আবুল বাশার কৃষি কলেজ প্রাঙ্গণে বিনামূল্যে গর্ভবতী মায়েদের স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ৩ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফ আহমেদ চিশতী, পিএসসি, জি এবং ১১ ফিল্ড এ্যাম্বুলেন্স এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফখরুল আলম, বিএসপি, এমপিএইচ। এ আয়োজনের মাধ্যমে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে সেনাবাহিনীর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক কর্তৃক স্থানীয় প্রায় ১৮০ জন গর্ভবতী মায়ের স্বাস্থ্য পরীক্ষা (নাড়ীর গতি, রক্তচাপ, ওজন, ফিটাল মুভমেন্ট, অক্সিজেন সম্পৃক্ততা) এবং ল্যাব পরীক্ষা (রক্তের গ্রুপ, কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট, কোভিড-১৯ আরটি-পিসিআর পরীক্ষা, সুগার পরীক্ষা এবং ইউরিন পরীক্ষা) সহ তাদের প্রয়োজনীয় সহায়ক ও উপহার সামগ্রীর বক্স (ম্যাক্সি, হরলিক্স এবং স্যানিটারি প্যাড) বিনামূল্যে প্রদান করা হয়। বর্তমানে দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের চলমান পরিস্থিতিতে অসহায়, দুঃস্থ এবং নিম্ন আয়ের মানুষদেরকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদানের এই মানবিক কার্যক্রম সর্ব স্তরের মানুষের মধ্যে অত্যন্ত ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। উল্লেখ্য, এরিয়া সদর দপ্তর সাভার এবং ৯ পদাতিক ডিভিশনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় গত ১৩ জুন মানিকগঞ্জ, ১৬ জুন নরসিংদী, ১৮ জুন গাজীপুর এবং ২২ জুন শরীয়তপুরে একই কর্মসূচীর মাধ্যমে যথাক্রমে ৯০ জন, ৮৪ জন, ৫৭ জন ও ২২০ জন গর্ভবতী মায়েদের বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও উপহার সামগ্রী প্রদান করা হয়। করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় Operation Covid Shield এর আওতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৯ পদাতিক ডিভিশন অসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে গত ২৪ মার্চ হতে নিজ দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করে আসছে। সেনাসদস্যরা দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় ৮টি পূর্ণাঙ্গ জেলা (নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারিপুর, মুন্সিগঞ্জ ও শরীয়তপুর) ও ঢাকা জেলার ৫টি উপজেলা (সাভার, ধামরাই, কেরাণীগঞ্জ, নবাবগঞ্জ ও দোহার) এ নিয়মিত টহল কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। টহল কার্যক্রমের পাশাপাশি অসামরিক প্রশাসনের সদস্যদের নিয়ে বিভিন্ন অঞ্চলে সাধারণ জনগণের মাঝে সচেতনতামূলক কার্যক্রম, বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা, মাস্ক বিতরণসহ বিভিন্ন আয়োজনের মাধ্যমে ত্রাণ বিতরণ করে আসছে। এ সকল আয়োজনের মাধ্যমে- সম্প্রীতির বাজার, সম্প্রীতির ইফতার এবং ঈদ বাজার অন্যতম।
তদবিরে পুলিশে বদলি নয়: আইজিপি
০৪জুলাই,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বাংলাদেশ পুলিশে বদলির জন্য তদবির কালচারকে চিরতরে বিদায় করতে চান বাহিনীর মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ। তিনি বলেন, পুলিশ অফিসার এবং বাহিনীর জন্য বাস্তবসম্মত বদলি ও পদায়ন নীতিমালা প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নের মাধ্যমে তদবির কালচার বিদায় করা হবে। আজ শনিবার (৪ জুলাই) বিকেলে রাজারবাগে বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়ামে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) আয়োজিত বিশেষ অপরাধ ও আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় আইজিপি এ কথা বলেন। ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ডিএমপির সব থানার ওসিসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সন্তানদের লেখাপড়ার সুবিধার কথা বিবেচনা করে অধিকাংশ পুলিশ অফিসার এবং সদস্য ঢাকার বাইরে যেতে চান না উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, ইতোমধ্যে গতানুগতিক ধারা পাল্টে পুলিশ বাহিনীতে বদলিতে নতুনত্ব আনা হয়েছে। এ সংকট নিরসনের লক্ষ্যে ঢাকার বাইরে বিভাগীয় শহরে মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের উদ্যোগ নেয়ার কথা বলেন আইজিপি। এছাড়া বিভাগীয় পর্যায়ে পুলিশের চাকরিকে আকর্ষণীয় করতে বিভাগীয় শহরগুলোতে পুলিশ সদস্যদের জন্য মানসম্মত চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করারও প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। বেনজীর আহমেদ বলেন, করোনাভাইরাসের এ সময়ে গত তিন মাসে পুলিশ বদলে গেছে। পুলিশ জনগণের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে। জনগণের অকুণ্ঠ সমর্থন ও বিশ্বাস অর্জন করেছে। করোনায় পুলিশ জনগণের পাশে গিয়ে যেভাবে সেবা দিয়েছে, এর বেশিরভাগই পুলিশের কাজ ছিল না, এজন্য পুলিশকে বলাও হয়নি, নির্দেশও দেয়া হয়নি। কিন্তু পুলিশ এ কাজটি করেছে একান্তই নিজের দায়িত্ববোধ থেকে। স্বাধীনতা যুদ্ধের পর পুলিশ এতো সম্মান, এতো মর্যাদা আর কখনো পায়নি, গত তিন মাসে তা পেয়েছে। এখন জনগণ পুলিশের পক্ষে কথা বলছে, পুলিশের জন্য লিখছে, যারা কথায় কথায় পুলিশের সমালোচনা করতেন, তারাও আজ পুলিশের পক্ষে হৃদয় উজাড় করে বলছেন, পুলিশকে সমর্থন করেছেন। যে সম্মান-মর্যাদা আমরা গত তিন মাসে পেয়েছি তা টাকা দিয়ে কেনা যায় না, মানুষের ভালোবাসা পেতে হলে মানুষের সাথে থাকতে হয়, তাদের কাছে যেতে হয়, মানুষকে ভালোবাসতে হয়। দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করে পুলিশপ্রধান বলেন, জনগণের পুলিশ হতে হলে এ বাহিনীকে সব ধরনের দুর্নীতিমুক্ত হতে হবে। পুলিশে কোনো দুর্নীতিবাজের ঠাঁই নেই। মাদকের সাথে কোনো পুলিশ সদস্যের সম্পর্ক থাকবে না। পুলিশকে হতে হবে মাদকমুক্ত। পুলিশের নিষ্ঠুরতা বন্ধ করে আইনি সক্ষমতাকে কাজে লাগাতে হবে। পুলিশকে যেতে হবে জনগণের দোরগোড়ায়। পুলিশ অফিসার এবং ফোর্সেরও সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করার কথা বলেন তিনি। করোনা আক্রান্ত পুলিশ সদস্যদের সর্বোচ্চ চিকিৎসায় গৃহীত পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালকে মাত্র দুই সপ্তাহে ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতাল থেকে ৫০০ শয্যার কোভিড হাসপাতালে পরিণত করা হয়েছে। করোনা পরীক্ষার জন্য মাত্র ১২ দিনে পিসিআর মেশিন স্থাপন করা হয়েছে। ঢাকায় একটি হাসপাতাল ভাড়া করা হয়েছে। ঢাকার বাইরে বিভাগীয় হাসপাতাল আধুনিকায়ন করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, পুলিশ সদস্যদের সংক্রমণের ঝুঁকি এড়ানোর জন্য আবাসন ব্যবস্থা এবং ডিউটিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। ফলে পুলিশ সদস্যদের আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা কমেছে এবং মৃত্যুর হার হ্রাস পেয়েছে। আইজিপি আশা প্রকাশ করে বলেন, আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকলে, ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে আরও ভালো কিছু করা সম্ভব। আসুন, আমরা পরিবর্তিত হই, দেশকে পরিবর্তন করি, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তুলি। আইজিপি বক্তব্যের শুরুতে করোনায় দায়িত্ব পালনকালে জীবন উৎসর্গকারী ৪৬ পুলিশ সদস্যের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনাও জানান। আইজিপি এসব পরিবারের অংশ হিসেবে সুখে-দুঃখে তাদের সাথে থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে কমিটি
০৪জুলাই,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যান-২১০০ বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ডেল্টা গভর্নেন্স কাউন্সিল গঠন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এই কাউন্সিলের চেয়ারপারসন। পরিকল্পনামন্ত্রীকে কাউন্সিলের ভাইস-চেয়ারম্যান করা হয়েছে। সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ডেল্টা প্ল্যান গভর্নেন্স কাউন্সিলের সদস্য রয়েছেন কৃষিমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী, খাদ্যমন্ত্রী, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী, ভূমিমন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী, নৌপরিবহন মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী, পানিসম্পদ মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য কমিটির সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। কাউন্সিলর কার্যপরিধি হিসেবে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যান-২১০০ বাস্তবায়নে নীতি নির্ধারণ, সিদ্ধান্ত গ্রহণ, কৌশলগত পরামর্শ ও দিক-নির্দেশনা প্রদান, বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যান হালনাগাদকরণ দিক-নির্দেশনা প্রদান, বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যান-২১০০ এর বিনিয়োগে পরিকল্পনা প্রণয়নে নীতি নির্ধারণ ও নির্দেশনা প্রদান এবং ডেল্টা ফান্ড গঠন ও ব্যবহারে দিক-নির্দেশনা প্রদান। এ কাউন্সিল বছরে ন্যূনতম একটি সভা করবে। প্রয়োজনে এ কাউন্সিল নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত (কো-অপট) করতে পারবে। বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ এ কাউন্সিলকে সাচিবিক সহায়তা প্রদান করবে। জানা গেছে, বন্যা, নদী ভাঙন, নদী ব্যবস্থাপনা, নগর ও গ্রামে পানি সরবরাহ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও নিষ্কাশন ব্যবস্থাপনার দীর্ঘমেয়াদী কৌশল হিসেবে ২০১৮ সালের ৪ সেপ্টেম্বর আলোচিত বদ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০ অনুমোদন দেয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি)। ডেল্টা প্ল্যান নামে পরিচিত শত বছরের এ মহাপরিকল্পনার অধীনে আপাতত ২০৩০ সালের মধ্যে বাস্তবায়নের জন্য ৮০টি প্রকল্প নেবে সরকার।
রাজধানীতে ৮ প্রতিষ্ঠানকে ভোক্তা অধিকারের জরিমানা
০৪জুলাই,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: রাজধানীতে জাতীয় ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তরের তদারকিমূলক অভিযানে ৮ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়েছে। শনিবার (০৪ জুলাই) দিনব্যাপী এসব অভিযান পরিচালিত হয়েছে। অধিদপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কারওরান বাজার, শান্তিনগর, রামপুরা বাজার, মালিবাগ বাজার ও খিলগাঁও বাজারে তদারকি করা হয়। তদারকিকালে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করা, অধিকমূল্যে পণ্য বিক্রয়, নকল স্যানিটাইজার বিক্রিসহ ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন বিরোধী বিভিন্ন অপরাধে ৮টি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয়। এছাড়াও সংশ্লিষ্ট পাইকারি ব্যবসায়ীদের ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন মেনে ব্যবসা পরিচালনার জন্য মাইকিং করে সচেতন করা হয়। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের নির্দেশনায় এসব অভিযানে নেতৃত্ব দেন প্রধান কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. মাসুম আরেফিন, বিকাশ চন্দ্র দাস ও সহকারী পরিচালক মাগফুর রহমান। এ প্রসঙ্গে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) বাবলু কুমার সাহা ব্যবসায়ীদের পণ্যের ক্যাশ মেমো সংরক্ষণ করতে, পণ্যের মূল্য তালিকা দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন করতে এবং নকল ও ভেজাল স্যানিটাইজার পণ্য বিক্রয় থেকে বিরত থাকার জন্য আহ্বান জানান।
ঈদের আগে বেতন-ভাতা পরিশোধের আহ্বান কাদেরের
০৪জুলাই,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ঈদের আগেই শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করতে মালিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, তৈরি পোশাক শিল্প ও অন্যান্য শিল্প সমূহে ঈদের আগেই শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধে মালিকরা বরাবরের মতো এবারও সহমর্মিতার নজির স্থাপন করবেন বলে বিশ্বাস করি। বুধবার (৪ জুলাই) সংসদ ভবন এলাকায় সরকারি বাস ভবন থেকে নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন ওবায়দুল কাদের। করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে তৈরি পোশাক শিল্প ও অন্যান্য শিল্প সমূহে ঈদের আগে পর্যায়ক্রমে ছুটি দিতে বিজেএমইএ এবং বিকেএমইএ'র প্রতি আহ্বান জানান তিনি৷ ওবায়দুল কাদের বলেন, ঈদুল আজহার তিনদিন আগে থেকে সড়ক মহাসড়কে পণ্যবাহী ট্রাক,কাভার্ডভ্যান বন্ধ রাখতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি৷ তবে কৃষি, শিল্প ও রপ্তানিমুখী পণ্য, চিকিৎসা সরঞ্জাম, ত্রাণ, জ্বালানি, ওষুধ, খাদ্যদ্রব্য, পচনশীল পণ্যসহ জরুরি সার্ভিস এর আওতামুক্ত থাকবে। ঈদের আগে পরে ৮ দিন সড়ক-মহাসড়ক সংলগ্ন সিএনজি স্টেশনগুলো ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে। সড়কে ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচলে বিরত থাকতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সড়ক পরিবহন মন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে ফিটনেসবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, পশুর হাটের অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে গাইডলাইন তৈরি করতে হবে৷ সড়ক-মহাসড়কের উপরে কিংবা আশপাশে পশুর হাট বসানো যাবে না৷ প্রয়োজনে এ বছর কম সংখ্যক হাট বসানোর বিষয়টি বিবেচনায় আনতে হবে। এ ক্ষেত্রে অনলাইনে পশু বেচা-কেনার বিষয়টিও বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, ধর্মীয় অনুভূতির পাশাপাশি কোরবানির ঈদ কেন্দ্রিক অর্থনীতির সাথে অনেক মানুষের জীবন ও জীবিকা সংযুক্ত। পশুপালন, অ্যানিম্যাল ফার্মিং,পশুর চামড়া রপ্তানিসহ ঈদ-অর্থনীতি দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক প্রবাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। জীবনের পাশাপাশি অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে শেখ হাসিনা সরকারের যে অবস্থান তা এগিয়ে নিতে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলারও আহ্বান জানাচ্ছি। ভাড়াটিয়াদের সাথে বাড়িওয়ালাদের অমানবিক আচরণ এবং শিক্ষার্থীদের মালপত্র ফেলে দেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, সংকটে অনেকের আয় কমেছে, হারিয়েছে চাকরি, আবার কেউ কেউ পরিবার নিয়ে কষ্টে জীবন যাপন করছেন, এমন পরিস্থিতিতে একে অপরের প্রতি সমব্যথী হতে হবে। তিনি আরও বলেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ঋণখাতের অধিকাংশ ঋনগ্রহীতা প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠী। করোনার আকস্মিক অভিঘাত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আয় ও জীবনযাপনে ফেলেছে নেতিবাচক প্রভাব ৷ অনেকেই সঞ্চয় ভেঙে চলছে, অন্য দিকে ঋণ গ্রহীতাদের অনেকে ঋণের কিস্তি দিতে হিমশিম খাচ্ছে। এ অবস্থায় তাদের ওপর কিস্তি শোধের বাড়তি চাপ—জীবনযুদ্ধ থেকে তাদের ছিটকে দিতে পারে, ভেঙে দিতে পারে মনোবল। এদের প্রতি সমব্যথী হতে হবে।
মিশর থেকে ফিরলেন ৪১ বাংলাদেশি
৪জুলাই,শনিবার, নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি চার্টার্ড ফ্লাইটে করোনায় দীর্ঘদিন মিশরে আটকে পড়া ৪১ বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন। শনিবার (৪ জুলাই) সকাল সাড়ে ৭টায় ফ্লাইটটি যাত্রী নিয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। মিশরে বিভিন্ন কাজে গিয়ে করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে আটকা পড়েন এসব বাংলাদেশি। সরকার তাদের ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স চার্টার্ড ফ্লাইট পরিচালনা করে। জানা গেছে, কোভিড-১৯ নেগেটিভ সার্টিফিকেট নিয়ে অাসায় এসব নাগরিককে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে না। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের উপ-মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) তাহেরা খন্দকার বাংলানিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

জাতীয় পাতার আরো খবর