ভোটার আকর্ষণের বাজেট
বাজেট ঘোষণার পর এখন পর্যন্ত বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। ২০১৮-১৯ সালের বাজেট বিষয়ে বিএনপির বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা গণমাধ্যমে বলেছেন, এবারের বাজেট নির্বাচনমুখী বাজেট। এই বাজেট বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না। লোক দেখানো এবং ভোটার আকর্ষণই এই বাজেটের মূল লক্ষ্য। আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০১৮-১৯ সালের বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। চার লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়। গত অর্থবছরে চার লাখ ২৬৬ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছিল। বাজেট বিষয়ে এক প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘সরকার বাজেট থেকে কত টাকা চুরি করবে, সেটা তো দেয়নি। সরকার কত টাকা আত্মসাৎ করবে, কত টাকা খাবে, কত টাকা কে কীভাবে পকেটস্থ করবে—সেটা বলেনি।’ তিনি বলেন, গরিবের পকেট কাটবে আর নিজেদের পকেট ভরবে, এই বাজেটের উদ্দেশ্য এটাই। বিএনপির আরেক স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, এই বাজেট বাস্তবসম্মত নয়। এটি ভোটের বাজেট। জনগণকে ধোঁকা দিয়ে, প্রত্যাশা দিয়ে একটি বড় বাজেট করেছে। সরকার গত বছরের বাজেট বাস্তবায়ন করতে পারেনি। ব্যাপক কাটছাঁট করেছে। গত বছরের সংশোধিত বাজেটে যে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছিল, সেই লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হয়নি। এবার আরও ৬৪ হাজার কোটি টাকা বেশি, এই লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব না। বিএনপির অপর স্থায়ী কমিটির সদস্য মাহবুবুর রহমান বলেন , এই বাজেটে বেশ ভালো-ভালো কথা আছে। প্রতিশ্রুতি আছে। কিন্তু এটা বাস্তবায়ন কতটুকু সম্ভব, তা নিয়ে সন্দেহ আছে। তিনি বলেন, সশস্ত্র বাহিনী খাতে বরাদ্দ যথেষ্ট মনে হয়নি। কারণ সশস্ত্র বাহিনী এখন বড় হয়ে গেছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য সশস্ত্র বাহিনীর জন্য বরাদ্দ বাড়ানো প্রয়োজন ছিল। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই বাজেটকে ঢাউস বাজেট বলাই যায়। এই বাজেটের মূল উদ্দেশ্য নির্বাচন। এই বাজেট বাস্তবায়ন করা কতটুকু সম্ভব হবে, আমি জানি না। সামনে নির্বাচন রেখে এই বাজেট দেওয়া হয়েছে।
বের হলো ৭ সোনার বার
বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে ভারতে পাচারের সময় সাত পিস (৭শ গ্রাম) সোনার বারসহ লাভলু ব্যাপারী (২৫) নামে এক পাসপোর্টযাত্রীকে আটক করেছেন কাস্টম কর্মকর্তারা। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ওই যাত্রী চেকপোস্ট কাস্টমস-ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ভারতে প্রবেশ করার সময় তার শরীর তল্লাশি করে পায়ুপথ থেকে সোনার বারগুলো উদ্ধার করা হয়। আটক লাভলু শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার বিকে নগর গ্রামের আব্দুল মান্নান ব্যাপারীর ছেলে। বেনাপোল কাস্টমস হাউসের ডেপুটি কমিশনার জাকির হোসেন বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, সোনার একটি বড় চালান চেকপোস্ট দিয়ে ভারতে পাচার হবে। এ ধরনের সংবাদের ভিত্তিতে বিকেল থেকে নজরদারি বাড়ানো হয়। সন্ধ্যার দিকে কাস্টম-ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে ভারতে প্রবেশ করার সময় লাভলুর গতিবিধি সন্দেহজনক হওয়ায় তাকে আটক করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে বিষয়টি অস্বীকার করে সে। পরে ক্লিনিকে নিয়ে এক্সরে করিয়ে সোনার বার রয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া যায়। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় জুস ও পানি খাইয়ে পায়ুপথ থেকে সোনার বার বের করা হয়। তিনি আরো বলেন, জব্দকৃত সোনার বারের ওজন ৭০০ গ্রাম যার মূল্য ৩২ লাখ টাকা। এসব সোনা কাস্টম গোডাউনে জমা ও এ ব্যাপারে বেনাপোল পোর্ট থানায় মামলা করা হয়েছে।
স্বপ্নের উচ্চবিলাসী বাজেট
বাংলাদেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেওয়ার স্বপ্ন দেখছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তার স্বপ্ন পূরণে সম্ভাব্য সবকিছুই পরিকল্পনা করছেন তিনি। তার প্রতিফলনও বাজেট প্রস্তাবে রাখার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু প্রস্তাবিত বাজেট পাস হওয়ার ৬ মাসের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন থাকায় সবই নির্বাচনকেন্দ্রিক হয়ে তা জনতুষ্টি আর অতুষ্টিতে পরিণত হয়েছে। তাই আশা আর স্বপ্ন একই সূতায় বাধা সম্ভব হবে না জীবনের শেষ বাজেট দেওয়া এই অর্থমন্ত্রীর। কারণ তার এই বাজেটে চালের দাম বাড়ার স্পষ্ট আভাস রয়েছে। ব্যক্তির কর হারও অপরিবর্তিত রেখেছেন তিনি। অপরদিকে বাড়ছে পোশাকের কর হার, কমছে কর্পোরেট কর। এ বাজেট গরিবের জন্য যেমন বোঝা হবে, তেমনি ব্যবসায়ীদের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেবে। দেশকে মধ্যম আয়ে পরিণত করার জন্য আগামীর পথে এগিয়ে নেওয়ার স্বপ্ন সামনে রেখে ভোটের বছরে ৪ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকার বাজেট জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করেছেন এই প্রবীণ মন্ত্রী। দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ১২ বার বাজেট দেওয়ার রেকর্ড স্পর্শ করা মুহিত বিশাল এই ব্যয়ের প্রায় ৭৩ শতাংশ অর্থ রাজস্ব খাত থেকে আদায়ের লক্ষ্য ঠিক করেছেন। যা বাস্তবায়ন আকাশ কুসুম স্বপ্ন। তবে অর্থমন্ত্রী নিজেই বলতেন, স্বপ্ন দেখতে না জানলে বড় কিছু করা যায় না। স্বপ্ন বাস্তবায়নে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কতটা যে অক্ষম তা বারবারই প্রমাণ হয়েছে। তাই অক্ষম এনবিআর অর্থমন্ত্রীর স্বপ্ন বাস্তবায়নে কতটা সক্ষম হবে তা নিয়েই সন্দিহান অর্থনীতিবিদরা। তাদের মতে, স্বপ্ন বাস্তবায়নে এনবিআরের যতটা দক্ষতার প্রয়োজন তা এই প্রতিষ্ঠানের নেই। কর্মকর্তাদের মধ্যে সততারও অভাব রয়েছে।অর্থমন্ত্রী দাবি করেছেন দ্রুততম সময়ে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের রূপরেখা বাস্তবায়নে তাদের সরকারের ঈর্ষণীয় সক্ষমতা ইতোমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে। এটি শুধু তাদের দাবি নয়, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সত্য। ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ বলে একদিন যে দেশকে অবজ্ঞা করা হয়েছে, সে দেশ বিশ্ববাসীর কাছে এখন এক ‘উন্নয়ন-বিস্ময়’; বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অগ্রযাত্রা এখন বিশ্বের রোল মডেল। মন্ত্রীর এই কথা সত্য, তবে ব্যর্থতাগুলো তিনি কৌশলে এড়িয়ে গেছেন বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা। তাদের মতে, ব্যর্থতা না এড়িয়ে তা প্রকাশ করলে উন্নয়নের জন্য সহায়ক ভূমিকা পালন করতো। মুহিত বলেন, ২০১৭ সালে দ্রুততর প্রবৃদ্ধি অর্জনকারী শীর্ষ দশটি দেশের তালিকায় বাংলাদেশও রয়েছে। দারিদ্র্যমুক্ত ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার স্বপ্নের পুরোপুরি বাস্তবায়নে আমাদের পাড়ি দিতে হবে আরও খানিকটা পথ। বিপুল কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে পুরোপুরি কাজে লাগানোর জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি ও দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রমে আরও গতি সঞ্চার করার কথা বলেছেন তিনি। তাই উচ্চ প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি যোগাযোগ-বিদ্যুৎ-জ্বালানি অবকাঠামো বিনির্মাণ ও বিনিয়োগ-বান্ধব পরিবেশ সৃজনের জন্য তাদের আয়োজন ও প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার কথাও বলেছেন। তবে বাস্তবতা হচ্ছে, বিদ্যুৎ-জ্বালানির জন্য অনেক শিল্পকারখানা বন্ধ হওয়ার উপক্রম। অনেক প্রতিষ্ঠান চালুও করা হচ্ছে না এরই বিদ্যুৎ-জ্বালানির অভাবে। এমনকি বাসাবাড়িতে ইফতার সেহরির সময়ও বিদ্যুৎ থাকছে না। ফলে বিদ্যুৎ-জ্বালানি ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব না, আর উন্নয়ন না হলে জিডিপিও বাড়বে না বলেই সংশ্লিষ্টরা বলছেন। তিনি বলেন, আমরা এখন এই মজবুত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আমাদের প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ২০২১-২০৪১ প্রণয়নের কাজ শুরু করেছি। এছাড়াও একটি সমন্বিত দীর্ঘমেয়াদি ‘বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০’-এর খসড়াও প্রণয়ন করছেন বলে জানিয়ে বলেন, সারা পৃথিবী আমাদের সফল উন্নয়ন কৌশল ও কার্যক্রমের স্বীকৃতি ইতোমধ্যেই দিয়েছে। প্রবীণ এই অর্থমন্ত্রী তার বাজেট প্রস্তাবে বলেন, শ্রমবাজারে প্রতি বছর প্রায় ২০ লক্ষ শ্রমশক্তি যুক্ত হয়। কর্মক্ষম এই জনশক্তির জন্য দেশের অভ্যন্তরে এবং প্রবাসে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, তাদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং মানসম্মত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তারা আন্তরিকভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি স্বীকার করেছেন, দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হলো বর্ধিত বিনিয়োগ। কিন্তু বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ এখনো নিশ্চিত করতে পারেননি। তিনি বলেছেন, তারা সরকারি খাতে বিনিয়োগ ক্রমান্বয়ে বাড়াচ্ছেন। তবে, এ বিনিয়োগের মূল উদ্দেশ্য হলো বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করা। বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ-গ্যাস-পানির সংযোগ প্রাপ্তি, বিনিয়োগ প্রস্তাব প্রক্রিয়াকরণ, নিষ্কন্টক জমির প্রাপ্যতা ইত্যাদি বিষয়গুলো নিয়ামক ভূমিকা পালন করে থাকে। এসব সেবা সহজলভ্য করে বৃহৎ ও রপ্তানিমুখী শিল্পের বিকাশ ও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করার উদ্দেশ্যে সম্ভাবনাময় এলাকাসমূহে অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার জন্য তারা ২০১০ সালে ‘বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল আইন’ প্রণয়ন করেন। সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে এ পর্যন্ত মোট ৭৬টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আর অর্থনেতিক প্রবৃদ্ধির সুফল সবার কাছে পৌঁছতে বৈষম্য কমিয়ে, বিদ্যমান সরকারি পেনশন কার্যক্রমের বাইরে বেসরকারি পর্যায়ে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক খাতে কর্মরত সব কর্মজীবী মানুষের জন্য সর্বজনীন পেনশনব্যবস্থা চালুর কথা বলেছেন। সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতা ও ভাতা বাড়ানো হচ্ছে। প্রস্তাবিত বাজেটে চাল আমদানিতে শুল্ক রেয়াতি সুবিধা প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফলে সকল প্রকার চাল আমদানিতে আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ ও সম্পূরক শুল্ক ৩ শতাংশ প্রযোজ্য হবে। ফলে আমদানি করা চালের দাম বাড়বে। যা সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হবে। তবে সরকারি কর্মচারীরা বাড়তি বেতন পাওয়ায় তাদের ওপর এর প্রভাব অনেকটাই কম পড়বে। নতুন অর্থবছরে সাধারণ করদাতাদের করমুক্ত আয়ের সীমা আগের মতই ২ লাখ ৫০ হাজার টাকাই থাকছে। অপরদিকে ব্যাংক, বিমা ও আর্থিকপ্রতিষ্ঠানের কর্পোরেট কর কমানোর প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। আবার নতুন বাজেটে তৈরি পোশাকের সাধারণ কারখানার করহার ১৫ শতাংশ ও তৈরি পোশাকের তালিকাভুক্ত কোম্পানির করহার ১২ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। উভয় ক্ষেত্রে গত বছর একক আয়কর হার ছিল ১২ শতাংশ। গতকাল ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করা হয়েছে। এটি দেশের ৪৭তম ও আওয়ামী লীগ সরকারের ১৮তম এবং অর্থমন্ত্রীর ১২তম বাজেট প্রস্তাব। ‘সমৃদ্ধ আগামীর পথযাত্রায় বাংলাদেশ’ নাম দিয়ে এবারের বাজেট উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে টানা দশবার বাজেট পেশ করেন মুহিত। দুপুর সাড়ে ১২টার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ ভবনে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জন্য এই বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে মন্ত্রী, সচিবসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। এরপর মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পাওয়া প্রস্তাবিত বাজেটে সম্মতিসূচক স্বাক্ষর করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। বাজেট অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। এবার মূল বাজেটের যে আকার মুহিত ধরেছেন, তা বাংলাদেশের মোট জিডিপির ১৮ দশমিক ৩ শতাংশ। গতবছর প্রস্তাবিত বাজেট ছিল জিডিপিরি ১৮ শতাংশ। সে হিসেবে এবার দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। অবশ্য এক বছরের ব্যবধানে দেশের জিডিপিও বড় হয়েছে। যদিও ব্যাংক লুটের ঘটনায় অর্থনীতি ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে। ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকার এই বাজেটের মধ্যে উন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৭৯ হাজার ৬৬৯ কোটি টাকা। এরমধ্যে ১ লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকা যাবে সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি)। আর অনুন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ৮২ হাজার ৪১৫ কোটি টাকা, যা বিদায়ী অর্থবছরের সংশোধিত অনুন্নয়ন বাজেটের চেয়ে ৩৪ শতাংশ বেশি। চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের মূল বাজেট ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট ৩ লাখ ৭১ হাজার ৪৯৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ আগামী বাজেটের আকার সংশোধিত বাজেট থেকে প্রায় ৯৩ হাজার কোটি টাকা বেশি। বিশাল এই বাজেটে ব্যয় মেটাতে সরকারি অনুদানসহ আয়ের পরিমাণ ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৪৩ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ৯৬ হাজার ২০১ কোটি টাকা। এনবিআর-বহির্ভূত কর ৯ হাজার ৭২৭ কোটি টাকা। কর ব্যতীত রাজস্ব প্রাপ্তি ৩৩ হাজার ৩৫২ কোটি টাকা। বৈদেশিক অনুদান ৪ হাজার ৫১ কোটি টাকা। মোট ঘাটতি ১ লাখ ২১ হাজার ২৪২ কোটি টাকা। সরকারের অর্থায়নে অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থা থেকে ঋণ ধরা হয়েছে ৭১ হাজার ২২৬ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে যা আছে ৬০ হাজার ৩৫২ কোটি টাকা। এদিকে, নিট ঋণ ধরা হয়েছে ৫০ হাজার ১৬ কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ ঋণ ৭১ হাজার ২২৬ কোটি টাকা। বাজেটে জিডিপি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭ দশমিক ৮ শতাংশ। মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। বাজেটে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বিদ্যুৎ খাতে। নতুন বাজেটে ঘাটতি মেটাতে অর্থমন্ত্রী বৈদেশিক উৎস থেকে মোট ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছেন ৬০ হাজার ৫৮৫ কোটি টাকা। সেখান থেকে ১০ হাজার ৫৬৯ কোটি টাকা বিদেশি ঋণ পরিশোধ বাবদ খরচ হবে। সরকারের নিট বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ দাঁড়াবে ৫০ হাজার ১৬ কোটি টাকা। ঘাটতির বাকি ৭১ হাজার ২২৬ কোটি টাকা নেওয়া হবে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে। এরমধ্যে ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া হবে ৪২ হাজার ২৯ কোটি টাকা, সঞ্চয়পত্র থেকে নেওয়া হবে ২৬ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা। বাকি তিন হাজার কোটি টাকা অন্যান্য উৎস থেকে। *বাজেট ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি * উন্নয়ন ১ লাখ ৭৯ হাজার ৬৬৯ কোটি *অনুন্নয়ন ২ লাখ ৮২ হাজার ৪১৫ কোটি *আয় ৩ লাখ ৪৩ হাজার ৩৩১ কোটি *রাজস্ব ২ লাখ ৯৬ হাজার ২০১ কোটি *ঘাটতি ১ লাখ ২১ হাজার ২৪২ কোটি *অভ্যন্তরীণ ঋণ ৭১ হাজার ২২৬ কোটি *বৈদেশিক ঋণ ৬০ হাজার ৫৮৫ কোটি *জিডিপি ৭ দশমিক ৮ শতাংশ *মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৬ শতাংশ
বন্দুকযুদ্ধে নিহত ৩
রংপুর, ঠাকুরগাঁও এবং দিনাজপুরে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে কথিত বন্দুকযুদ্ধে তিনজন মারা গেছেন। পুলিশের দাবি নিহতরা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। ঠাকুরগাঁও: রাণীশংকৈল উপজেলার নেকমরদ এলাকায় পুলিশের সাথে কথিত বন্দুকযুদ্ধে শামীম হোসেন (৪২) নামে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আড়াইটায় ঠাকুরগাঁও জেলার নেকমরদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত শামীম হোসেন রাণীশংকৈল উপজেলার নেকমরদ এলাকার মৃত আব্দুল সাত্তারের ছেলে বলে জানা যায়। পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে উপজেলার নেকমরদ এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় শামীমসহ কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ী পুলিশের উপস্থিতি বুঝতে পেরে তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এসময় পুলিশ মাদক ব্যবসায়ীদের লক্ষ্য করে পাল্টাগুলি চালায়। উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি গুলি বর্ষণের ফলে শামীম হোসেন (৪২) নামে এক মাদক ব্যবসায়ী ঘটনাস্থলে নিহত হন। পরে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে মর্গে পাঠায়। রাণীশংকৈল থানার ওসি আব্দুল মান্নান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় মাদক ব্যবসায়ীরা হামলা করলে পুলিশও পাল্টা হামলা করে ও শামীম হোসেন নামের এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়। শামীমের বিরুদ্ধে রাণীশংকৈল থানায় মাদকের একাধিক মামলা রয়েছে। রংপুর: সিটি করপোরেশনের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কুকরুল আমেরতল তিন রাস্তার মোড়ে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে ‌‌'বন্দকযুদ্ধে' একজন নিহত হয়েছেন। নিহত আবু মুসা বিষকালাই (২৭) ওই ওয়ার্ডের হনুমানতলা বস্তির আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে। তার নামে কোতোয়ালি থানায় মাদক ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ১১টি মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। রংপুর সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুর রহমান বলেন, মাদক কেনাবেচার খবর পেয়ে কুকরুল আমেরতল এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি করে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়।এতে ঘটনাস্থলেই মুসা মারা যান। দিনাজপুর: সদর উপজেলার খাড়িপাড়া এলাকায় বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে গোলাগুলির খবর পেয়ে সেখানে অভিযান চালায় পুলিশ। পরে ঘটনাস্থল থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়। দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে লাশ পাঠানো হয়েছে। দুইদল মাদক বিক্রেতাদের মধ্যে গোলাগুলিতে ওই ব্যক্তি নিহত হয়েছে বলে দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার ওসি রেদওয়ানুর রহিম জানান।
শবে কদরের ছুটি ২ জুনের পরিবর্তে ১৩ জুন নির্ধারণ
আসছে শবে কদরের ছুটি পুনঃনির্ধারণ করেছে সরকার। শবে কদরের ছুটি ছিল ১২ জুন। ১২ জুনের পরিবর্তে ছুটি থাকবে ১৩ জুন। বাংলাদেশের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় শবে কদরের নতুন ছুটির তারিখ পুনঃনির্ধারণ করে মঙ্গলবার এই আদেশ জারি করে। সরকারি ওই আদেশে বলা হয়, দ্য নেগোশিয়েবল ইন্সট্রুমেন্টস অ্যাক্ট- ১৮৮১ এর ২৫ ধারার বিশ্লেষণে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে নির্বাহী আদেশে শবে কদরের ছুটি পুনঃনির্ধারণ করা হলো। আদেশে আরো বলা হয়, যে সকল অফিসের সময় সূচি ও ছুটি তাদের নিজস্ব আইন-কানুন দ্বারা নির্ধারিত হয়ে থাকে সে সকল অফিস, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের চাকরি সরকার কর্তৃক অত্যাবশ্যক চাকরি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অফিস, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান নিজস্ব আইন-কানুন অনুযায়ী জনস্বার্থ বিবেচনা করে এ ছুটি ঘোষণা করবে। সরকারি ওই আদেশে আরও বলা হয়, ২০১৮ সালের ছুটির বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী, ১৭ মে থেকে রোজা শুরু হবে এমনটা ধরে ১২ জুন নির্বাহী আদেশে শবে কদরের সরকারি ছুটি নির্ধারিত ছিল। কিন্তু গত ১৮ মে থেকে রোজা শুরু হওয়ায় ১২ জুন শবে কদরের রাতে ইবাদত বন্দেগী করবেন ধর্মপ্রাণ মসুলমানরা। এজন্য শবে কদরের ছুটি পুনঃনির্ধারণ করে ১৩ জুন করা হয়েছে।
১৫ জুন চাঁদ দেখা না গেলে চাঁদপুর রুটের ট্রেন ছাড়বে পরদিন
আগামী ১৫ জুন ঈদের চাঁদ দেখা না গেলে চট্টগ্রাম-চাঁদপুর রুটের বিশেষ ট্রেন ছাড়বে পরদিন বেলা সাড়ে ১১টায়। বুধবার (০৬ জুন) সকালে চট্টগ্রাম রেল স্টেশনের ম্যানেজার মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, অগ্রিম টিকিট বিক্রির শেষ দিনে বুধবার (৬ জুন) আগামী ১৫ জুনের (শুক্রবার) টিকিট দেওয়া হচ্ছে। চট্টগ্রাম থেকে বিভিন্ন গন্তব্যের ১২টি ট্রেনের ৯ হাজার ৫২২৫টি টিকিটের মধ্যে কাউন্টারে আছে ৬ হাজার ৬৩৬টি। বাকিগুলো অনলাইনে এবং কোটায় দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, অগ্রিম টিকিট বিক্রির পঞ্চম দিন মঙ্গলবার চট্টগ্রাম-চাঁদপুর রুটের দুইটি বিশেষ ট্রেনের ৬০০ টিকিট ছাড়া সব বিক্রি হয়েছে। ওই বিশেষ ট্রেনে টিকিট ছিল ৮৯০টি। রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) চিফ ইন্সপেক্টর সত্যজিৎ দাশ বলেন, এবার টিকিট নিয়ে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। টিকিট নিতে আসা সবাইকে বিনামূল্যে একটি ছোট ফরম দেওয়া হয়েছে। যাতে টিকিট ক্রয়কারীর নাম, মোবাইল ফোন নম্বর, যাত্রীর নাম, মোবাইল নম্বর, ক্রয় ও যাত্রার তারিখ, ট্রেনের নাম, শ্রেণি, টিকিট সংখ্যা, ভ্রমণকারীর বয়স ইত্যাদি লিখতে হচ্ছে। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করে টিকিট দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি কাউন্টারে অপারেটরের পেছনে একজন কর্মকর্তা বসে সবকিছু নজরদারি করছেন। সন্দেহ হলেই টিকিট দেওয়া হচ্ছে না।
তথ্যপ্রযুক্তি আইনে সংগীতশিল্পী আসিফ গ্রেপ্তার
তথ্যপ্রযুক্তি আইনে দায়ের করা একটি মামলায় মঙ্গলবার দিবাগত রাতে সংগীতশিল্পী আসিফ আকবরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (এসএস) মোল্যা নজরুল ইসলাম জানান, তেজগাঁও থানায় গীতিকার, সুরকার ও গায়ক শফিক তুহিনের দায়ের করা মামলায় আসিফ আকবরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বুধবার তাকে আদালতে তোলা হতে পারে। তিনি আরও জানান, সোমবার সন্ধ্যায় দায়ের করা মামলায় আসিফ ছাড়াও অজ্ঞাত চার পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। এজাহারে অভিযোগ করা হয়, ১ জুন রাত ৯টার দিকে চ্যানেল ২৪ এর সার্চ লাইট নামের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের মাধ্যমে শফিক তুহিন জানতে পারেন, আসিফ আকবর তার অনুমতি ছাড়া তার সংগীতকর্মসহ অন্যান্য গীতিকার, সুরকার ও শিল্পীদের ৬১৭টি গান সবার অজান্তে বিক্রি করেছেন। মামলার এজাহারে আরও বলা হয়, বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ করে জানা যায়, আসিফ আকবর আর্ব এন্টারটেইনমেন্টের চেয়ারম্যান হিসেবে অন মোবাইল প্রাইভেট লিমিটেড কনটেন্ট প্রোভাইডার, নেক্সনেট লিমিটেড গাক মিডিয়া বাংলাদেশ লিমিটেড ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে গানগুলো ডিজিটাল রূপান্তরের মাধ্যমে ট্রু-টিউন, ওয়াপ-২, রিংটোন, পিআরবিটি, ফুলট্রেক, ওয়াল পেপার, অ্যানিমেশন, থ্রি-জি কন্টেন্ট ইত্যাদি হিসেবে বাণিজ্যিক ব্যবহার করে অসাদুভাবে ও প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। এজাহারে তিনি বলেন, এরপর শফিক তুহিন গত ২ জুন রাত ২টা ২২ মিনিটে তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে অনুমোদন ছাড়া গান বিক্রির এই ঘটনা উল্লেখ করে একটি পোস্ট দেন। তার ওই পোস্টের নিচে আসিফ আকবর নিজের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে অশালীন মন্তব্য ও হুমকি দেন। পরের লাইভ ভিডিওতে আসিফ অবমাননাকর, অশালীন ও মিথ্যা-বানোয়াট বক্তব্য দেন। এছাড়া শফিক তুহিনকে শায়েস্তা করবেন বলে হুমকি দেন। এতে শফিক তুহিনের মানহানি হয়েছে
রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের উপর চাপ অব্যাহত রাখুন: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের উপর চাপ অব্যাহত রাখতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উপর তাঁর আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব সম্প্রদায়কে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা নাগরিকদের বাংলাদেশ থেকে ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের উপর চাপ অব্যাহত রাখতে হবে। খবর বাসস’র আজ ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটির (আইআরসি) প্রেসিডেন্ট ও সিইও ডেভিড মিলিব্যান্ড প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর জাতীয় সংসদ কার্যালয়ে সাক্ষাত করতে গেলে শেখ হাসিনা এ আহ্বান জানান। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও আইআরসি প্রধানের মধ্যে মূলতঃ রোহিঙ্গা ইস্যুতে আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার ব্যাপারে বাংলাদেশ মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনা করছে। তিনি মিলিব্যান্ডকে জানান, যে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের কারণে কক্সবাজারের স্থানীয় মানুষ দুর্ভোগের শিকার হয়েছে এবং এতে পরিবেশেরও ক্ষতি হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিরাপদ স্থানে রোহিঙ্গাদের সরিয়ে নেয়ার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তাদের জন্য স্বাস্থ্য সেবা দেয়া হচ্ছে এবং তাদের স্থানান্তরের লক্ষ্যে ভাষাণচর নামের একটি দ্বীপের উন্নয়ন কাজ চলছে। আইআরসি প্রেসিডেন্ট প্রধানমন্ত্রীকে জানান যে, রোহিঙ্গাদের অবস্থা দেখতে তিনি একটি টিম নিয়ে বাংলাদেশে এসেছেন। ব্রিটিশ লেবার পার্টির রাজনীতিক মিলিব্যান্ড ১১ লাখ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় মিলিব্যান্ড বলেন, রোহিঙ্গাদের জন্য সীমান্ত খুলে দেয়া হচ্ছে তাৎপর্যপূর্ণ এক মানবিক দৃষ্টান্ত এবং যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি একটি সংকেত। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের সাহায্যে আইআরসি’র একটি টিম বাংলাদেশে কাজ করছে এবং তাদের এই সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। এই কার্যক্রমে আমরা বাংলাদেশ থেকে ১শ’ স্টাফ নিয়োগ করবো। প্রধানমন্ত্রী ও আইআরসি প্রধান আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে আসন্ন বর্ষায় ভূমিধস হবে রোহিঙ্গাদের জন্য প্রধান সমস্যা। মিলিব্যান্ড রোহিঙ্গাদের নিবন্ধনে সহায়তা করার জন্য বাংলাদেশ সরকারকে ধন্যবাদ জানান। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী, প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী ও মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। ১৯৩৩ সালে আলবার্ট আইনস্টাইনের অনুরোধে প্রতিষ্ঠিত আইআরসি শরণার্থী এবং যুদ্ধ, নিপীড়ন বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে বাস্তুচ্যুতদের সহায়তায় কাজ করছে। সংস্থা বর্তমানে শরণার্থীদের পুনর্বাসন ও আত্মনির্ভরশীল করতে ৪০টিরও বেশি দেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ২৮টি সিটিতে কাজ করছে।
নিরীহ কাউকে হয়রানির অভিযোগ পেলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হবে
ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া জানিয়েছেন, মাদক ব্যবসায়ের সঙ্গে যত বড় প্রভাবশালীই জড়িত থাকুক না কোনো কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। মঙ্গলবার (০৫ জুন) সকালে রাজধানীর পল্টনে ঈদ বস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি। এ সময় মাদক বিরোধী অভিযানে নিরীহ কাউকে হয়রানির অভিযোগ পেলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হবে বলেও হুঁশিয়ার করেন তিনি। ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, আমরা নির্দেশনার আলোকে ঢাকা মহানগরীতে প্রত্যেকটি মাদকের আখড়া ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছি, দেব এবং আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। আজকেও রমনা, নয়াটোলা এসব এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অনেক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে। মাদকের আস্তানা গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে। প্রত্যেকটি এলাকায় যারা মাদকের ব্যবসা করে তাদেরকে চিহ্নিত করে গ্রেফতারের কাজ চলমান রয়েছে। আছাদুজ্জামান মিয়া আরো বলেন, যারা মাদকের ব্যবসা করে, অর্থলগ্নি করে, ঘর ভাড়া দেয়, আস্তানার জায়গা দেয় তাদেরকে শাস্তি দেয়া হবে। কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। ঢাকা শহরের কোনো মাদকের আস্তানা থাকবে না। তিনি আরো বলেন, আমাদের মধ্য কোনো পুলিশ কর্মকর্তা মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকলে সে যত বড় পদেই থাকুক না কেন, তাকেও কোমরে দড়ি বেঁধে হুড়হুড় করে টেনে নিয়ে আসা হবে। এসময় মাদক বিরোধী অভিযানে নিরীহ কাউকে হয়রানির অভিযোগ পেলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হবে বলেও তিনি জানান।

জাতীয় পাতার আরো খবর