অধ্যাপক মোজাফফরের চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন প্রধানমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক: মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রবাসী মুজিবনগর সরকারের অন্যতম উপদেষ্টা, বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ও ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ) সভাপতি সাবেক সাংসদ অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন এই জাতীয় নেতার শারীরিক অবস্থার বেশকিছুটা উন্নতি হওয়ায় তার লাইফ সাপোর্ট খুলে দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (২৭ জুলাই) বিকেলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের অ্যাপোলো হাসপাতালে অধ্যাপক মোজাফফর আহমদকে দেখতে যান। সেখানে তিনি জানান, অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের চিকিৎসার ব্যয়ভারসহ সব রকমের দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রী নিয়েছেন। চিকিৎসকদেরও তিনি এমন কথা জানিয়েছেন। সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বেশকিছু সময় অধ্যাপক মোজাফফরের শয্যাপাশে কাটান এবং চিকিৎসকদের কাছ থেকে তার শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসার খোঁজ-খবর নেন। এ সময় অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের মেয়ে আইভি আহমদ এবং ন্যাপের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন সেখানে উপস্থিত ছিলেন। এর আগে অধ্যাপক মোজাফফরের শারীরিক অবস্থার উন্নতি ঘটায় বৃহস্পতিবার রাতে তার শরীর থেকে লাইফ সাপোর্ট খুলে দেওয়া হয়। তার জ্ঞানও ফিরে এসেছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার শারীরিক অবস্থার আরও উন্নতি হবে এবং তিনি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠবেন বলে আশাবাদী তারা। বর্তমান উন্নতি অব্যাহত থাকলে দু-একদিনের মধ্যে তাকে আইসিইউ থেকে কেবিনে স্থানান্তর করা যাবে। ৯৭ বছর বয়সী মোজাফফর আহমদ দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে ভুগছেন। বেশ কিছুদিন থেকেই তিনি রাজধানীর বারিধারায় মেয়ের বাসায় শয্যাশায়ী হয়ে দিন কাটাচ্ছিলেন। কয়েক দফায় হাসপাতালেও ভর্তি হতে হয়েছে তাকে। সর্বশেষ তার শারীরিক অবস্থার গুরুতর অবনতি হলে গত ২০ জুলাই সকালে অ্যাপোলো হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তির পর লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। সেখানে অধ্যাপক ডা. বোরহান উদ্দীনের অধীনে তার চিকিৎসা চলছে। পরিবারের পক্ষ থেকে অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের স্ত্রী আমিনা আহমদ এমপি তার আশু রোগমুক্তি ও সুস্থতা কামনায় দেশবাসীর দোয়া কামনা করেছেন।
দলের নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থেকে কাজ করার তাগিদ
অনলাইন ডেস্ক :আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থেকে কাজ করার তাগিদ দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন। বলেছেন, এক থাকতে পারলেই আওয়ামী লীগ টানা তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসতে পারবে। সহযোগী সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক লীগের ২৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ফরিদপুরে নিজ বাসভবনে কেক কাটেন ক্ষমতাসীন দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য। এ সময় তিনি এ কথা বলেন। মোশাররফ নিজে ফরিদপুর সদর আসন থেকে নির্বাচন করেন এবং গত দুটি নির্বাচনে তিনি সহজ জয় পেয়েছেন। আর ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর তিনি প্রথমে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং পরে এলজিআরডির দায়িত্ব পান। দুই মন্ত্রণালয়েই সাফল্যের প্রমাণ রেখেছেন তিনি। আগামী জাতীয় নির্বাচনেও ফরিদপুর সদর আসন থেকে ভোটে লড়বেন মোশাররফ এবং এ জন্য তিনি প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন এরই মধ্যে। বলেন, ‘আওয়ামী লীগ আমাদের সামাজিক মর্যাদা দিয়েছে। এক সময়ে আমাদের কর্মীরা মাথা উঁচু করে চলতে পারেনি, আজ তার পরিবর্তন হয়েছে। এই কারণেই দলের প্রয়োজনে সকলকে এক থাকতে হবে। এর ব্যত্যয় হলে দল কিন্তু কোনো নেতা বা কর্মীকে ছাড় দেবে না।’ আগামী জাতীয় নির্বাচনকে জাতির জন্য এবং আওয়ামী লীগের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে এলজিআরডিমন্ত্রী বলেন, ‘এই নির্বাচনে জয়ী হতে হলে আমাদের কর্মীদের মধ্যে ঐক্যবদ্ধ থাকার বিকল্প নেই।’ ফরিদপুর স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক শওকত আলী জাহিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান লোকমান হোসেন মৃধা, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুবল চন্দ্র সাহা, সদর উপজেলা চেয়ারম্যার খন্দকার মোহতেশাম হোসেন বাবর, পৌর মেয়র মাহতাব আলী মেথু, শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি নাজমুল ইসলাম খন্দকার লেভী, সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী বরকত ইবনে সালাম, কোতয়ালি আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক মোল্লা, স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ফাহাদ বিন ওয়াজেদ ফাইন, ফরিদপুর চেম্বার অব কর্মাসের সিনিয়র সহ-সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান প্রমুখ। পরে ফরিদপুর পৌরসভার বর্ধিত ২৭ ওয়ার্ডের দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে আগামী জাতীয় নির্বাচনে নেতা-কর্মীদের করণীয় বিষয়ক এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ২৭ ওয়ার্ডের তৃণমূল নেতাকর্মীরা তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করেন।
বিএনপির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সংলাপের প্রয়োজন নেই
অনলাইন ডেস্ক :বিএনপির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সংলাপের প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, বিএনপি সাথে ফোনে কথা বলতে পারি কিন্তু অনুষ্ঠানটি কোনো সংলাপ হবে না। শুক্রবার (২৭ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মেট্রোরেল প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি প্ররিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, রাজনীতি ওয়াকিং আন্ডারস্ট্যান্ডিং হতে পারে ফোনে কিন্তু তাদের সাথে কোনো সংলাপ হবে না। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কোনদিন আমার সাথে কথা বলেননি। আমার মা মারা গেছে তখন তিনি ফোনও করেনি। কিন্তু আমি তাকে ফোন করে কথা বলেছি তার মায়ের মৃত্যুর সময় থাকে সমবেদনা জানিয়েছি। আমাদের সাথে কথা বলে বিএনপি নেতা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের সঙ্কটে পড়তে পারেন এজন্যই তিনি কোন কথা বলেন না। এ সরকারের আমলে দেশের ব‍্যাপক উন্নতির কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, যখন হলি আর্টিজানে হামলা হয় তখন আমরা ভাবছিলাম মেট্রোরেলের কাজ থমকে যাবে। জাপানিরা আর কাজে যোগদান করবে না। কিন্তু তারা আমাদের কথা মতো আবার কাজ শুরু করেছে এবং খুব দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। কাজ সম্পন্ন হলে মানুষ সেবা পাবে। মাত্র ৩৭ মিনিটে ৬০ হাজার লোক যেতে পারবে। এটা বাংলাদেশের জন্য বড় অর্জন।
এমপি সুজার মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শোক
অনলাইন ডেস্ক :খুলনা-৪ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য এস এম মোস্তফা রশিদী সুজার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শুক্রবার পৃথক শোকবার্তায় তারা শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান এবং মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন। খবর বাসসের রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ শোকবার্তায় বলেন, ‘দেশবাসী তথা খুলনার জনগণ তাদের ঘনিষ্ঠ এক নেতাকে হারালো। তিনি এলাকার উন্নয়নে এবং দেশের গণতন্ত্র বিকাশে ব্যাপক অবদান রেখে গেছেন।’ তিনি বলেন, তার ইন্তেকালে দেশের রাজনৈতিক ক্ষেত্রে অপূরণীয় ক্ষতি হলো। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শোকবার্তায় বলেন, জনপ্রিয় এই আওয়ামী লীগ নেতা আজীবন জনগণের জন্য কাজ করেছেন। রাজনীতির পাশাপাশি খুলনার উন্নয়নে জন্য তিনি স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। জাতীয় সংসদের সাবেক হুইপ এস এম মোস্তফা রশিদী সুজা খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। দীর্ঘদিন কিডনি রোগে ভুগছিলেন এই সাংসদ। বৃহস্পতিবার রাতে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে তিনি মারা যান।
এমপি মোস্তফা রশিদী সুজা আর নেই
অনলাইন ডেস্ক :বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের মায়া কাটিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন খুলনার বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, জাতীয় সংসদের সাবেক হুইপ, খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম মোস্তফা রশিদী সুজা। বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবর রাত ১১টার দিকে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে, দুই মেয়ে ও নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। এমপি সুজার ভাই এস এম মোর্তজা রশিদ গণমাধ্যমকে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বর্ষীয়ান এই আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যুতে শোকে কাতর তার নির্বাচনী এলাকা খুলনা-৪ (রূপসা-দিঘলিয়া-তেরখাদা) সহ পুরো খুলনাবাসী। এদিকে এমপি সুজার মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। এছাড়া মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান, খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও কেসিসির নবনির্বাচিত মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক, খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য পঞ্চানন বিশ্বাস, খুলনা-৬ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শেখ মো. নূরুল হক, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান এমপি, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান এমপি, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শেখ হারুনুর রশীদ, শেখ হেলাল উদ্দিন এমপি, বাগেরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ডা. মোজাম্মেল হোসেন এমপি, সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা শেখ কামরুজ্জামান টুকুও তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন। এস এম মোস্তফা রশিদী সুজা দীর্ঘদিন কিডনী রোগে ভুগছিলেন। সম্প্রতি শ্রমিক লীগ নেতা আলম হাওলাদারের দেয়া কিডনী প্রতিস্থাপনের পর সুস্থ হয়ে সিঙ্গাপুর থেকে দেশে ফিরে আসেন এই প্রবীন রাজনীতিবিদ। এরপর তিনি আবারও অসুস্থ গত ১৮ জুলাই আবার চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়। খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফরিদ আহমেদ বলেন, সুজার একমাত্র ছেলে এস এম খালেদীন রশিদী সুকর্ন বাবার মরদেহ আনতে শুক্রবার সকালে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। সেখান থেকে কবে নাগাদ মরদেহ দেশে আসবে সেটি সুকর্ন সিঙ্গাপুরে যাওয়ার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে। তারপর জানাজা ও দাফনের সময় জানানো হবে। প্রয়াত এস এম মোস্তফা রশিদী সুজা ১৯৫৩ সালের ২ মার্চ বাগেরহাটের ফকিরহাটে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭৭ সালে তিনি প্রথম পৌর কমিশনার নির্বাচিত হন। একই সময়ে বর্তমান কেসিসি মেয়রও পৌর কমিশনার নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৮৬ সালে খুলনা-২ থেকে তিনি প্রথম এমপি নির্বাচন করেন। ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০১৪ সালে তিন দফায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এই জননন্দিত নেতা। ১৯৯১ সাল থেকে তিনি খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত তিনি জাতীয় সংসদের হুইপের দায়িত্ব পালন করেন। ২০০২ সালে যৌথ বাহিনীর ক্লিনহার্ট অপারেশনের সময় গ্রেফতার ও নির্যাতনের শিকার হন আওয়ামী লীগের প্রবীণ এই নেতা। ২০০৭ সালে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার তার নামে মামলা দিলে প্রবাস জীবন কাটান তিনি, যে কারণে ২০০৮ সালের নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেননি। পরে ওই মামলায় তিনি হাইকোর্ট থেকে খালাস পান। ১৯৭২ সালে শেখ কামাল আবাহনী ক্রীড়াচক্র গঠন করেন। মোস্তফা রশিদী সুজা এই ক্রীড়াচক্রের প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতাকালীন সভাপতি ইলিয়াস চৌধুরির মৃত্যুর পর তিনি আবাহনী ক্লাবের সভাপতি হন। তিনি একজন নাট্য অভিনেতাও ছিলেন। ছিলেন খুলনা নাট্য নিকেতনের সভাপতি। তেরখাদার চিত্রা মহিলা কলেজ, দিঘলিয়ার মোস্তফা রশিদী সুজা মহিলা কলেজ, রূপসা মহিলা কলেজ সহ অসংখ্য মাদ্রাসা, মসজিদ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেছেন এই জনপ্রতিনিধি।
দীর্ঘতম চন্দ্রগ্রহণ দেখা যাবে আজ মধ্যরাতে
অনলাইন ডেস্ক :শতাব্দীর দীর্ঘতম চন্দ্রগ্রহণ দেখা যাবে আজ শুক্রবার মধ্যরাতে। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে ছায়াচ্ছন্ন থাকবে চাঁদ। প্রায় পৌনে দুই ঘণ্টা (১ ঘণ্টা ৪৩ মিনিট) ধরে চাঁদ পুরোপুরি ঢেকে যাবে পৃথিবীর ছায়ায়। পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণের আগে ও পরে আরো দুইবার হবে আংশিক চন্দ্রগ্রহণ। পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ আর আগে-পরের দুটি আংশিক চন্দ্রগ্রহণ মিলিয়ে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা আলো-আঁধারিতে ঢাকা থাকবে চাঁদ। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের জলবায়ু মহাশাখা জানিয়েছে, শুক্রবার পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ সময় রাত ১১টা ১৩ মিনিট ৬ সেকেন্ডে শুরু হওয়া চন্দ্রগ্রহণ শেষ হবে ভোর ৫টা ৩০ মিনিট ২৪ সেকেন্ডে। কেন্দ্রীয় গ্রহণ হবে বাংলাদেশ সময় রাত ২টা ২১ মিনিট ৪৮ সেকেন্ডে এবং গ্রহণের সর্বোচ্চ মাত্রা হবে ১.৬১৪। আকাশ মেঘমুক্ত থাকলে বাংলাদেশ থেকে গ্রহণটি সম্পূর্ণ দেখা যাবে। এদিকে নরওয়েভিত্তিক ওয়েবসাইট টাইম অ্যান্ড ডেট ডটকম জানাচ্ছে, শুক্রবার বাংলাদেশ সময় রাত ১১টা ১৪ মিনিটে শুরু হবে আংশিক চন্দ্রগ্রহণ। চলবে রাত ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত। তারপর শুরু হবে শতাব্দীর দীর্ঘতম পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ। তা শেষ হবে রাত ৩টা ১৩ মিনিটে। এরপর আবার ৩টা ১৩ মিনিটে ফের শুরু হবে আংশিক গ্রাস, যা শেষ হবে রাত ৪টা ১৯ মিনিটে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের আকাশ থেকে শুক্রবার স্থানীয় সময় রাতে পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণটি দেখা যাবে। এটি হবে একুশ শতকের (২০০১-২১০০) সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ।
বিএনপির ষড়যন্ত্রে বায়তুল মোকাররমও রেহায় পায়নি
অনলাইন ডেস্ক :প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নির্যাতন করেই দল ও সরকার চালাতো বিএনপি। বিএনপি, জামাত ও জামাত ইলামী তারা ধর্মের নামে রাজনীতি করে। ধর্মের নামে রাজনীতি করেও তারা পবিত্র কোরআন শরীফ পুড়িয়েছিলো। শুক্রবার গণভবনে স্বেচ্ছাসেবক লীগের ২৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে গণভবনে তিনি এসব কথা বলেন এসময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা বিএনপির ষড়যন্ত্র দেখেছি, ২০১৩ সালের ষড়যন্ত্র। তাদের ষড়যন্ত্রে বায়তুল মোকাররমও রেহায় পায়নি। মসজিদের ভেতরে কোরআন শরীফ পড়া অবস্থায় মানুষ হত্যা করছে তারা। শত শত কোরআন শরীফ পুড়িয়েছে। তিনি বলেন,বিএনপির মাহমুদর রহমানের মতো উপদেষ্টার জন্য দুর্নীতি হয়েছে, তাদের দুর্নীতির কারণে তখন দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গিয়েছিলো। তিনি আরো বলেন, তাদেরই ক্যাডাররা যে বায়তুল মোকাররমের বাইরে বসে যে কোরআন শরীফ বিক্রি করে তারা জীবিকা অর্জন করে। তাদের শত শত কোরআন শরীফ পড়িয়ে দিয়েছিলো। তারা পাড়ে না এমন কোনো কাজ নেই। তিনি বলেন, ২০১৪ সালের নির্বাচন ঠেকানোর নামে তারা (বিএনপি) প্রিজাইডিং অফিসার ও সহপ্রিজাইডিং অফিসারকে হত্যা করেছে। পাওয়ার প্লান্টে আগুন দিয়ে ইঞ্জিনিয়ারকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে। সে সময় ২৭ জন পুলিশ বাহিনীর লোকজনকে হত্যা করেছিলো। তাদের হাতে শুধু রাজনৈতিক নেতা না শুধু কেউ রেহাই পায়নি।
বড় পুকুরিয়া কয়লা চুরিতে বিএনপি জড়িত :ড. হাছান মাহমুদ
অনলাইন ডেস্ক :বড় পুকুরিয়া কয়লা চুরিতে বিএনপি জড়িত। তারা যখন ক্ষমতায় ছিল তখন থেকেই কয়লা চুরি শুরু হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। শুক্রবার (২৭ জুলাই) জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট আয়োজিত শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়ন রাজধানী শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি। তিনি বলেন,বিএনপি যখন ২০০৫ সালে ক্ষমতায় ছিলেন তখন থেকেই বড় পুকুরিয়া কয়লা চুরি শুরু হয়েছে। তারা চোর ধরতে পারেনি, তার মানে তারা এ কয়লা চুরি সাথে জড়িত। এখন চুরের মার বড় গলা। বিএনপি নেতা রিজভী আহমেদর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় হাছান মাহমুদ বলেন, আপনাদের আমলে থেকেই শুরু হয়েছে। সরকার বরং এখন চোর ধরেছে। এজন্য সরকার কে ধন্যবাদ দেয়া উচিত। দুর্নীতি করার দায়ে খালেদা জিয়া কারাগারে আটক আছেন এটা তো সারা পৃথিবীর মানুষ জানে। কানাডার আদালতেও প্রমাণিত হয়েছে। তার ছেলে তারেক রহমান বাংলাদেশে দুর্নীতি করে লন্ডনে বসে ষড়যন্ত্র করছে। লন্ডনের সরকার তার সম্পাত্তির হিসাব চেয়েছে, তিনি বলেছেন জোয়া খেলে টাকা আয় করেছেন। যে জোয়া খেলে টাকা আয় করে, সে কি ভাল নেতা? রিজভী কে উদ্দেশ্য করে বলেন, থুথু ওপর দিকে ফেল্লে নিজের গায়ে পড়ে। বিএনপি সবসময় চোরের মার বড় গলায় কথা বলে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন কোনো আন্দোলন বেগমান হয় না উল্লেখ করে বলেন, বিএনপি কোনো আন্দোলনই মাঠে নেমে সফল করতে পারে না। তারা শুধু কার্যালয়ে মধ্যে মিথ্যা কথা বলতে পারে। বিএনপি আন্দোলন করতে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের ঢাকা ডেকেছে। আপনার আন্দোলন করেন আমরা ও চাই কিন্তু কোন জ্বালাও পোড়াও ভাংচুর করলে ছাড়া দেয়া হবে। বিএনপি রাজনৈতিক কোনো ইস্যু নেই মন্তব্য করে বলেন, বিএনপি রাজনৈতিক কোনো ইস্যু না পেয়ে, এখন তারা একটার পর একটা ষড়যন্ত্র লিপ্ত হচ্ছে, কখনো কোটা সংস্কার নিয়ে,আবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টের সোনা, এখন আবার বড়পুকুরিয়া কয়লা চুরির ঘটনায় কে ইস্যু তৈরি করতে চায়। তারা ষড়যন্ত্র আর পুরানো কোনো ইস্যু ছাড়া এবং মিথ্যা কথা ছাড়া রাজনৈতিক কর্মকান্ড নাই। অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ বলেন, আজ আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের জন্মদিন উপলক্ষে তাকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানান। দেশি-বিদেশি সকল ষড়যন্ত্রের কে প্রতিহত করে বাংলাদেশের কে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যতদিন শেখ হাসিনার হাতে থাকবে দেশ পথ হারাবে না বাংলাদেশ। আগামী নির্বাচনে জন্য সবাই কে ঐক্য হয়ে শেখ হাসিনা কে আবার ও ক্ষমতা আনতে হবে মন্তব্য করেন। নির্বাচনের জন্য সবাইকে প্রস্তুতি নিতে আহ্বান জানান। শেখ নওশের আলী সভাপতিত্বে এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হেদায়েত ইসলাম স্বপন, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আকতার হোসেন,বাংলাদেশে স্বাধীনতা পরিষদের সভাপতি মো. জিন্নাত আলী জিন্নাহ, সাধারণ সম্পাদক মো. শাহাদাত হোসেন টয়েল প্রমূখ।
নিজেদের জনগণের সেবক মনে করি: প্রধানমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক: জনপ্রতিনিধি হিসেবে মানুষের সেবা করা দায়িত্ব ও কর্তব্য বলে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, ‘যারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে জনপ্রতিনিধি হয়েছেন, তারা নিজ নিজ এলাকায় কাজ করে মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করবেন। আমরা নিজেদের জনগণের সেবক মনে করি এবং সেভাবেই কাজ করি।’ গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র এবং কাউন্সিলরদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁওয়ের কার্যালয়ে আজ বৃহস্পতিবার নবনির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিরদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মেয়র মো. জাহাঙ্গীর আলম এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী প্রকৌশলী খন্দকার মোশাররফ হোসেন কাউন্সিলরদের শপথ পাঠ করান। স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব জাফর আহমেদ খান অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং গাজীপুরের রাজনৈতিক নেতারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে নবনির্বাচিত মেয়র এবং ৭০ জন কাউন্সিলর শপথ গ্রহণ করেন। হাইকোর্টের নির্দেশে কাউন্সিলরদের ৬টি আসনের নির্বাচন স্থগিত রয়েছে। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণ ভোট দিয়েছে। আপনারা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হয়েছেন। সবাইকে একটা অনুরোধ করব, দেশের মানুষের সেবা করতে হবে।’ গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের নবনির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তার সরকার সব এলাকার সমউন্নয়নে বিশ্বাসী। কাজেই দলমত নির্বিশেষে যারাই নির্বাচিত হয়েছেন, আপনারা এলাকার মানুষের জন্য কাজ করতে পারবেন। আমরা পরিকল্পিত উন্নয়নের মাধ্যমে সে সুযোগ সৃষ্টি করেছি।’ সরকারের বিভিন্ন সফলতার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘সরকার দেশকে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত করতে সক্ষম হয়েছে এবং জনগণের ঘরে ঘরে এই উন্নয়নের সুফলকে পৌঁছে দিতে হবে।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘দেশকে ক্ষুধা মুক্ত করেছি, এখনও দারিদ্র্য মুক্ত করতে পারিনি। এই দেশকে আমরা দারিদ্র্য মুক্ত করে গড়ে তুলব। ইনশাল্লাহ ২০২১ সালে বাংলাদেশকে দারিদ্র্য মুক্ত করে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন করব।’ উল্লেখ্য, গত ২৬ জুন গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন হওয়ার পর মো. জাহাঙ্গীর আলম হয়েছেন এই মহানগরীর দ্বিতীয় নগরপিতা। এ সিটিতে এবারই প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে ভোট দিয়েছেন ভোটাররা। এই সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম নৌকা প্রতীক নিয়ে চার লাখ ১০ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির হাসান উদ্দিন সরকার ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পান এক লাখ ৯৭ হাজার ৬১১ ভোট।

জাতীয় পাতার আরো খবর