শনিবার, এপ্রিল ১৭, ২০২১
দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসেছেন হাসিনা-সলিহ
১৮,মার্চ,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম মোহাম্মদ সলিহর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৈঠকে বসেছেন। প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব এম এম ইমরুল কায়েস জানান, মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৌঁছালে শেখ হাসিনা তাকে স্বাগত জানান। দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শুরুর আগে দুই সরকারপ্রধানের মধ্যে একান্ত বৈঠক হয়। এর আগে দুদিনের সফরে বুধবার ঢাকায় পৌঁছান মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট। বিকেলে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন তিনি।
বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ অভিন্ন সত্তা : পর্যটন প্রতিমন্ত্রী
১৭,মার্চ,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী বলেছেন, বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ অভিন্ন সত্তা। বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে বাংলাদেশ স্বাধীন হতো না, আমরা পেতাম না পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্তি। সারা বিশ্বের মুক্তিকামী মানুষের অনুপ্রেরণার নাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শততম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস-২০২১ উপলক্ষে বুধবার (১৭ মার্চ) রাজধানীর হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও আয়োজিত শিশুদের রচনা প্রতিযোগিতার পুরষ্কার বিতরণ, এতিম ও দুস্থ শিশুদের মাঝে খাবার বিতরণ এবং মুজিব কর্নার উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আজীবন গণমানুষের অধিকার নিশ্চিত করতে ও উন্নয়নে কাজ করেছেন। দেশের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে ও উন্নয়নের স্বার্থে তিনি উৎসর্গ করেছিলেন নিজেকে। এ দেশ ও দেশের মানুষকে তিনি স্থান দিয়েছেন সবকিছুর ঊর্ধ্বে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ আমাদের পথ চলার আলোকবর্তিকা। তার আদর্শকে জেনে নিজের মধ্যে ধারণ করতে হবে এবং সেই অনুযায়ী আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গড়ে তুলতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির পিতার আদর্শকে সমুন্নত রেখে তার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলার জন্য কাজ করছেন। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সফল বাস্তবায়ন হচ্ছে আজ বঙ্গবন্ধু কন্যার হাত ধরে। প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী ও বহুমাত্রিক নেতৃত্বের কারণেই আজ আমরা উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছি। বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোকাম্মেল হোসেন বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এদেশের মানুষের উন্নয়নে আজীবন সংগ্রাম করেছেন। আমাদের দিয়েছেন দেশ ও পতাকা। জাতির পিতার আদর্শের আলোকে আমাদের শিশুদের গড়ে তুলতে হবে যাতে তারা এদেশের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মিজানুর রহমান, হোটেল ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আলমগীর, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সুকেশ কুমার সরকার, বাংলাদেশ সার্ভিসেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুল কাইয়ুম, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে জেনারেল ম্যানেজার কেভিন ওয়ালেস, হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ের ভারপ্রাপ্ত জেনারেল ম্যানেজার আসিফ আহমেদ প্রমুখ।
বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
১৭,মার্চ,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০১তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার (১৭ মার্চ) সকালে রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের সামনে রক্ষিত জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে প্রথমে রাষ্ট্রপতি ও পরে প্রধানমন্ত্রী শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণের পর রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী এই মহান নেতার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এ সময় সশস্ত্র বাহিনীর একটি সুসজ্জিত চৌকস দল রাষ্ট্রীয় সালাম জানায় এবং বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে। এ সময় অন্যদের মধ্যে ছোট কন্যা ও প্রধানমন্ত্রীর ছোট বোন শেখ রেহানা, স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এবং প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিবকে এম শাখাওয়াত মুন বাংলানিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। শাখাওয়াত মুন জানান, পুষ্পস্তবক অর্পণের পর স্বাধীনতার মহান স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং ১৫ আগস্টের শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। মোনাজাতে দেশের অব্যাহত, শান্তি ও সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করা হয়। পরে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের ঐতিহাসিক বাড়িতে ৭৫-এর ১৫ আগস্টের কালরাতে বঙ্গবন্ধুর নিথর দেহ পড়ে থাকার স্মৃতি বিজড়িত সিঁড়িতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বাংলাদেশের স্থপতির জন্মদিন
১৭,মার্চ,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন বুধবার (১৭ মার্চ)। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানের পাশাপাশি এ দিন থেকে শুরু হচ্ছে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠান। বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল গোপালগঞ্জের নিভৃত গ্রাম টুঙ্গীপাড়ায় জন্ম নেওয়া শেখ মুজিবুর রহমান দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে একদিন বাংলাদেশের স্বাধীনতা এনে দেন। মানুষের মুক্তির জন্য নিজের জীবনকে উৎসর্গ করে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার মহান স্থপতি ও বিশ্বনেতায় পরিণত হন। গত বছর ছিল বাঙালির এই অবিসংবাদিত নেতার জন্মশতবার্ষিকী। বছরব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়। করোনা পরিস্থিতির কারণে মূল কর্মসূচি উদযাপন করা সম্ভব না হওয়ায় এ বছর ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর কর্মসূচি ও মুজিববর্ষের কর্মসূচি যৌথভাবে উদযাপিত হবে। এসব কর্মসূচিতে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান অংশ নিচ্ছেন। বাংলার রাখাল রাজা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। স্বাধীনতার মহানায়ক বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন জাতীয় শিশু দিবস হিসেবে উদযাপিত হয়ে আসছে। প্রায় দুইশ বছরের ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন-শোষণ থেকে স্বাধীনতার জন্য উত্তাল ভারতের অগ্নিগর্ভে জন্ম নেন শেখ মুজিব। পরাধীন ভারতে জন্ম নেওয়া শেখ মুজিব শৈশব থেকেই জমিদার, তালুকদার ও মহাজনদের অত্যাচার, শোষণ ও নির্যাতন দেখেছেন। মানুষের দুঃখ, কষ্ট দেখে তাদের মুক্তির সংগ্রামে ছাত্র জীবন থেকেই তিনি নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছিলেন। ব্রিটিশ শাসন-শোষণের হাত থেকে ১৯৪৭ সালে ভারতীয় উপমহাদেশ মুক্ত হলেও বাঙালির ওপর জেঁকে বসে পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শাসন-শোষণ, নিপীড়ন-নির্যাতন। ভ্রান্ত দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত পাকিস্তান রাষ্ট্র শুরু থেকেই বাঙালির ওপর নির্যাতনের স্টিম রোলার চালাতে থাকে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে তখন থেকেই প্রতিবাদী হয়ে ওঠে বাঙালি। দীর্ঘ আন্দোলন আর লড়াই-সংগ্রামের ধারাবাহিক পথ পেরিয়ে শেখ মুজিব বাঙালিকে স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাপিয়ে পড়তে উদ্বুদ্ধ করেন, যার বহিঃপ্রকাশ ঘটে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে। ৭১ এর ৭ মার্চ তিনি ঐতিহাসিক ভাষণে বাঙালিকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ার চূড়ান্ত নির্দেশ দেন। এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, তোমাদের যার কাছে যা কিছু আছে তাই নিয়েই প্রস্তুত থাক, আমি যদি হুকুম দেবার নাও পারি ঘরে ঘরে দূর্গ গড়ে তোলো। বঙ্গবন্ধুর এই চূড়ান্ত নির্দেশই জাতিকে সশস্ত্র যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে শক্তি ও সাহস জোগায়। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে গ্রেফতারের আগে ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে তিনি ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়ি থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা করেন। চার বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন পিতা শেখ লুৎফর রহমান ও মাতা সায়রা খাতুনের তৃতীয় সন্তন। ৭ বছর বয়সে তিনি পার্শ্ববর্তী গিমাডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। পরবর্তীতে তিনি মাদারীপুর ইসলামিয়া হাইস্কুল, গোপালগঞ্জ সরকারি পাইলট স্কুল ও পরে গোপালগঞ্জ মিশন স্কুলে লেখাপড়া করেন। ১৯৪২ সালে ম্যাট্রিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে উচ্চ শিক্ষার জন্য কলকাতার বিখ্যাত ইসলামিয়া কলেজে ভর্তি হন তিনি এবং এই কলেজের বেকার হোস্টেলে আবাসন গ্রহণ করেন। ১৯৪৬ সালে শেখ মুজিব বিএ পাশ করেন। তিনি ইসলামিয়া কলেজ ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন। এই সময়ে তিনি হোসেন সোহরাওয়ার্দী, আবুল হাশিমের মতো নেতাদের সংস্পর্শে আসেন। ১৯৪৬ সালে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় শান্তি স্থাপনে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে অসম সাহসী ভূমিকা পালন করেছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্তির পর তিনি পূর্ব বাংলায় চলে আসেন। এর পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে ভর্তি হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের আন্দোলনে সমর্থন দিয়ে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন শেখ মুজিব। ভ্রান্ত দ্বি-জাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা পাকিস্তান রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ পূর্ব বাংলা সফরে এসে উর্দুকে রাষ্ট্র ভাষা হিসেবে ঘোষণা দিলে তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্র সমাজ তথা বাঙালি জাতি প্রতিবাদ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে, আন্দোলন শুরু হয়। আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়ার কারণে শেখ মুজিবুর রহমানের ওপর নেমে আসে জেল-জুলুম নির্যাতন। রাজনৈতিক জীবনে এক যুগেরও অধিককাল তিনি কারাগারে কাটিয়েছেন। দুইবার তিনি ফাঁসির কাষ্ঠে মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছেন, ১৮ বার কারাবরণ করেছেন। পাকিস্তাানি শাসক চক্রের রক্ত চক্ষু উপেক্ষা করে সকল আন্দোলন-সংগ্রামের নেতৃত্ব দিয়ে জাতিকে মুক্তিযুদ্ধের জন্য তৈরি করেছেন। ৫২, ৫৪, ৬২, ৬৬ এর আন্দোলন আর ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান ৭০-এর নির্বাচনে বিজয় সবই জাতির সংগ্রামী ইতিহাসের একেকটি মাইলফলক। আর এই সংগ্রামের নেতৃত্ব ও বলিষ্ঠ ভূমিকায় ছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান। ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে কারাগার থেকে মুক্তির পর তিনি বঙ্গবন্ধু উপাধিতে ভূষিত হন। স্বাধীনতা যুদ্ধে বিজয় লাভের পর পাকিস্তানের বন্দিদশা থেকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মুক্তি লাভ করে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি স্বদেশ ভূমিতে ফিরে আসেন। দেশে এসেই যুদ্ধ-বিধ্বস্ত বাংলাদেশের পুনগর্ঠন ও পুনর্বাসনের পাশাপাশি রাষ্ট্র পরিচালনায় আত্মনিয়োগ করেন। তিনি বাঙালির অর্থনৈতিক মুক্তি অর্থাৎ দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দেন। স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের এই মহান স্থপতিকে মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় মানবতার শত্রু, স্বাধীনতাবিরোধী, দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে ঘাতক চক্র ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করে।
স্পিকারের সাথে কাতারের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ
১৬,মার্চ,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সাথে বাংলাদেশে নিযুক্ত কাতারের রাষ্ট্রদূত আহমেদ বিন মোহামেদ আল-দেহাইমি সোমবার (১৫ মার্চ) সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। স্পিকারের কার্যালয়ে সাক্ষাৎকালে তারা দ্বিপাক্ষিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা করেন। এ সময় তারা দুই দেশের কোভিড-১৯ পরিস্থিতি, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, মুজিব শতবর্ষ পালন ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। শিরীন শারমিন বলেন, কাতার বাংলাদেশের বন্ধুপ্রতীম রাষ্ট্র। মুসলিম ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে দুই দেশ দীর্ঘদিন সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে। তিনি ভবিষ্যতেও এ সম্পর্ক অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সাক্ষাৎকালে তারা দুই দেশের বর্তমান কোভিড-১৯ পরিস্থিতি এবং টিকা গ্রহণ নিয়ে আলোচনা করেন। এ সময় স্পিকার বলেন যে, বাংলাদেশ সফলতার সাথে কোভিড-১৯ পরিস্থিতি মোকাবেলা করে চলেছে এবং সরকার ধাপে ধাপে সকল জনগণের জন্য টিকা সরবরাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। রাষ্ট্রদূত আহমেদ বিন মোহামেদ আল-দেহাইমি বলেন, বঙ্গবন্ধুর মতো নেতা পাওয়া বাংলাদেশর জন্য গৌরবের বিষয়। বঙ্গবন্ধু বিশ্ববরেণ্য নেতাদের মধ্যে অন্যতম। স্পিকার বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ এখন গুরুত্বপূর্ণ সময় পার করছে। বঙ্গবন্ধুর কৌশলী নেতৃত্বেই বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছে। এ সময় রাষ্ট্রদূত স্পীকারকে মজলিস আস-শুরার শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন। এ সময় জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ঘর পাবেন ৩০ হাজার বীর মুক্তিযোদ্ধা
১৬,মার্চ,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: অসচ্ছল বীর মুক্তিযোদ্ধা, বীরাঙ্গনা, শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা, তাদের বিধবা স্ত্রী ও সন্তানদের ৩০ হাজার ঘর বা বীর নিবাস নির্মাণ করে দেবে সরকার। তাদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নসহ মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন উপলক্ষে উপহার হিসেবে বীর নিবাসগুলো দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ লক্ষ্যে অসচ্ছল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য আবাসন নির্মাণ শীর্ষক একটি প্রকল্প জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় মঙ্গলবার (১৬ মার্চ) অনুমোদন হতে যাচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় (মহানগর সংশ্লিষ্ট) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২০২৩ সালের জুন মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। এতে খরচ হবে ৪ হাজার ১২২ কোটি ৯৮ লাখ ৮৪ হাজার টাকা। পুরো অর্থই সরকারি কোষাগার থেকে খরচ করা হবে। দেশের ৬৪টি জেলার সব উপজেলা ও মহানগরে বাস্তবায়িত হবে প্রকল্পটি।
নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ- প্রত্যয় দেশে ফিরেছে
১৫,মার্চ,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল ডিফেন্স এক্সিবিশন ও নেভি ডিফেন্স এক্সিবিশনে সফলভাবে অংশগ্রহণ শেষে সোমবার (১৫ মার্চ) দেশে ফিরেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ প্রত্যয়। এ সময় কমান্ডার বিএন ফ্লিটের চিফ স্টাফ অফিসার ক্যাপ্টেন মোস্তফা জিল্লুর রহিম খান জাহাজটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানান। জাহাজটি বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনকালে ভারতের মুম্বাই এবং শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোতে যাত্রা বিরতি করে। ক্যাপ্টেন আহমেদ আমিন আব্দুল্লাহর নেতৃত্বে বানৌজা প্রত্যয় সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে গত ২০-২৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল ডিফেন্স এক্সিবিশন ও নেভি ডিফেন্স এক্সিবিশনে অংশগ্রহণ করে। প্রদর্শনীতে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নৌবাহিনীর জাহাজ, উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি, পর্যবেক্ষক, সমরবিশারদ এবং সামরিক ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন। এ প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ জাহাজের কর্মকর্তা ও নাবিকদের পেশাগত মানোন্নয়নের পাশাপাশি বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর সঙ্গে সামরিক সুসম্পর্ক জোরদার করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
১ এপ্রিল শুরু হচ্ছে জাতীয় সংসদের অধিবেশন
১৫,মার্চ,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আগামী ১ এপ্রিল থেকে শুরু হচ্ছে জাতীয় সংসদের দ্বাদশ অধিবেশন। বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনে এ অধিবেশন শুরু হবে। সোমবার (১৫ মার্চ) জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ১৪২৭ বঙ্গাব্দের ১৮ চৈত্র মোতাবেক ২০২১ সালের ১ এপ্রিল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় ঢাকার শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে একাদশ জাতীয় সংসদের দ্বাদশ (২০২১ সালের ২য়) অধিবেশন আহ্বান করেছেন। তিনি বাংলাদেশের সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের (১) দফায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ অধিবেশন আহ্বান করেন।
নিজের পায়ে চলতে হবে : প্রধানমন্ত্রী
১৫,মার্চ,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আগের সরকারগুলোর পরনির্ভরশীলতার সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগের চিন্তা হলো স্বাবলম্বী হয়ে আত্মমর্যাদা নিয়ে চলা। গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত মানুষকে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলা। উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে আমাদের নিজের পায়ে চলতে হবে। নিজেদের অর্থায়নে কাজ করতে হবে। সেজন্য বাংলাদেশ অবকাঠামো উন্নয়ন তহবিল গঠন করলাম। সোমবার (১৫ মার্চ) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ অবকাঠামো উন্নয়ন তহবিলের উদ্বোধন এবং তহবিল থেকে পায়রা বন্দরের রাবনাবাদ চ্যানেলের ক্যাপিটাল ও মেইনটেনেন্স ড্রেজিং শীর্ষক স্কিমে অর্থায়নের লক্ষ্যে ত্রিপক্ষীয় ঋণচুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নয়নশীল দেশে হিসেবে আমাদেরকে নিজের পায়ে চলতে হবে। নিজেদের অর্থায়নে কাজ করতে হবে। আমরা আমাদের দেশকে উন্নত করব, এটাই আমাদের লক্ষ্য। আর সে লক্ষ্য বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমাদের অনেক কাজ করার দরকার আছে। তিনি বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে আমাদের জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়ে। তবে এখানে অনেককে আমরা হারিয়েছি। সাথে সাথে এই কারোনায় আমরা আরেকটি বিষয় দেখতে পাচ্ছি, আমাদের রিজার্ভ বৃদ্ধি পেয়েছে, রেমিটেন্স বৃদ্ধি পেয়েছে। এই রিজার্ভের টাকা কিভাবে উন্নয়নে ব্যয় করতে পারি, সেটাই চিন্তা করছি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বার বার অন্যের কাছে হাত পাতা, আর ধার না করে নিজেদের অর্থ দিয়ে নিজেদের অব্কাঠোমো উন্নয়ন করা এবং যারা বিনিয়োগ করতে আসবে তাদের ঋণ নেবার বিষয়টি আমরা নিজেদের অর্থ থেকে ব্যয় করতে পারি। তাতে দেশেরও লাভ, আমাদেরও আত্মবিশ্বাস জন্মাবে। আমরা যে পারি, বিশ্বের কাছে দেখাতে পারি। তিনি বলেন, আমাদের ৬ মাসের আমদানির টাকাটা রাখতে হবে। দুর্যোগ-দুর্বিপাকের দেশ। যেকোনো সঙ্কটে খাদ্য ক্রয় যেন করতে পারি। ছয় মাসের টাকা রিজার্ভে রেখে বাকি টাকা বিনিয়োগ করতে পারি। এজন্য আমরা নিজস্ব তহবিল গঠন করার চিন্তা করেছি। এ থেকে বিনিয়োগকারীরা ঋণ নিতে পারবে। আর অবকাঠামো উন্নয়নে বিনিয়োগ করবো। শেখ হাসিনা বলেন, পায়রা বন্দর আমি নিজেই করছি। মংলা বন্দর চালু করেছি। মহেশখালীর মাতারবাড়ি বন্দর তৈরি হয়ে গেছে। সেটা আরও উন্নত হবে। আমাদের একটা গভীর সমুদ্র বন্দরও করতে হবে। ভৌগলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশের কতগুলো সুবিধা রয়েছে। ভারত, নেপাল ও ভুটানকে বন্দরগুলো ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছি। আরও অনেক দেশও ব্যবহার করতে পারবে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ অবকাঠামো উন্নয়ন তহবিল (বিআইডিএ) উদ্বোধন ঘোষণা করেন। পাশাপাশি এই তহবিল থেকে প্রথম ঋণচুক্তিও অবলোকন করেন। বিআইডিএফ থেকে পায়রা বন্দরের রাবনাবাদ চ্যানেলের ক্যাপিটাল ও মেইনটেনেন্স ড্রেজিং শীর্ষক স্কিমে অর্থায়নের লক্ষ্যে ত্রিপক্ষীয় ঋণচুক্তি স্বাক্ষর করে অর্থবিভাগ, পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং সোনালী ব্যাংক। এ সময় প্রধানমমন্ত্রী বলেন, আজকে আমাদের অত্যন্ত আনন্দের দিন। উন্নয়নের ক্ষেত্রে নিজেদের অর্থায়নের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারলাম। রাবনাবাদ চ্যানেলের ক্যাপিটাল ও মেইনটেনেন্স ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। এর মাধ্যমে আমাদের উন্নয়নের ছোঁয়া সারাদেশে পড়বে। আগের সরকারগুলোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, উন্নয়ন তখনই হবে, দেশকে যখন চিনতে পারবে, ভালোবাসতে পারবে। চিন্তা চেতনায় বিষয়টি আসবে। দেশটি সবসময় গণতান্ত্রিক ধারায় থাকেনি। তারপরও আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে নানান পদক্ষেপ নিয়েছি। আওয়ামী লীগ ছাড়া যারাই ক্ষমতায় আসছে, তাদের মাথায় ছিল অন্যের কাছে হাত পাতা। নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে। এটা তাদের চিন্তায় ছিল না। শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের দেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল। অনেকে বলেন, ম্যাজিকটা কি? আমি বলি, এটা কোনো ম্যাজিক নয়। ম্যাজিকটা হচ্ছে, দেশপ্রেম। দেশ ও দেশের মানুষের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধ। আমার চিন্তা দেশের মানুষকে দুপায়ে দাঁড় করিয়ে তাদের স্বাবলম্বী করে তোলা। এসময় বক্তব্য দেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল, নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির। এর আগে পায়রা বন্দরের ওপর নির্মিত একটি ভিডিও ডকুমেন্টারি উপস্থাপন করা হয়। পাশাপাশি দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির বর্তমান অবস্থা নিয়ে পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনা করেন অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিব আবদুর রউফ তালুকদার এবং আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারের নানা পদক্ষেপ ও উদ্যোগ তুলে ধরেন মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস।

জাতীয় পাতার আরো খবর