রোহিঙ্গাদের সমাবেশ স্বদেশে ফেরার দাবি
অনলাইন ডেস্ক: গত বছরের এইদিনে নিজ দেশের সেনাবাহিনীর নির্মম নির্যাতনে প্রাণ হারান অসংখ্য রোহিঙ্গা নারী, পুরুষ ও শিশু। জীবন বাঁচাতে সেদিন থেকে বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে শুরু করে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গারা। আর সেই দিনকে তাদের জীবনের কালোদিবস হিসেবে ঘোষণা করেছে বাস্তুচ্যুত এই জনগোষ্ঠী। সেদিনের ঘটনার বিচার চেয়ে ও নিরাপদে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার দাবি জানিয়ে কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কের উখিয়ার কুতুপালং বাজারের সামনের প্রধান সড়কে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে রোহিঙ্গারা। শনিবার (২৫ আগস্ট) বেলা ১০টায় দু’হাজারের মতো রোহিঙ্গা ওই মিছিলে অংশ নেয়। একই সময়ে কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বিভিন্ন ব্লকে মিছিলের পাশাপাশি সমাবেশ চলছে বলে জানা গেছে। মিছিলে নাগরিক অধিকার ফিরিয়ে দিয়ে নিরাপদ প্রত্যাবাসনের দাবি জানানো হয়। এছাড়া মিয়ানমারের সামরিক জান্তা সরকারের আন্তর্জাতিক আদালতের বিচারের মুখোমুখি করার আহ্বানও জানানো হয়। ওই মিছিলে অংশ নেওয়া হোসেন নামের এক রোহিঙ্গা শরণার্থী বলেন, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমার সেনার গুলিতে প্রাণ হারিয়েছে আমার বাবা। আমার বোনকে ধর্ষণ করে হত্যা করা হয়েছে। আমার মা এদেশের পালিয়ে আসার পথে মারা গেছে। সব হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছি। তারপরও আমি আমার দেশে ফিরে যেতে চাই। এই কারণে আমি বিক্ষোভে অংশ নিয়েছি। বিক্ষোভটি কারা আয়োজন করেছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নায্য অধিকার আদায়ের জন্য কোনো কিছুই আয়োজন করতে হয় না। এখানে সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে এসেছে। বিক্ষোভ মিছিলে থাকা শাহ আলম নামের আরেক রোহিঙ্গা বলেন, আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্যই আমরা আজকের এই বিক্ষোভ করেছি। আমরা কি চাই তাই জানানোর জন্যই আমাদের এই প্রয়াস। তিনি আরও বলেন, আমরা যুদ্ধ চাই না, শান্তি চাই। নিজ দেশে ফিরে যেতে চাই। আর সেজন্য আন্তর্জাতিক মহলের সহযোগিতা চাই। আমরা সেদিন ঘটনার জন্য দোষীদের বিচার চাই। এদিকে কালোদিবস উপলক্ষে কুতুপালং ক্যাম্পের ব্লক-৩ এ আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে রোহিঙ্গা নেতারা বলেন, বাংলাদেশ সরকারকে ধন্যবাদ আমাদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য। কিন্তু আমরা কতদিন এদেশে থাকবো? আমরা দিনে দিনে এদেশের বোঝাতে পরিণত হচ্ছি। তাই আমরা স্বদেশে ফিরে যেতে চাই। আন্তর্জাতিক মহলকে অনুরোধ জানিয়ে নেতারা আরো বলেন, মিয়ানমারের উপর চাপ প্রয়োগ করুন যাতে সরকার দ্রুত আমাদের নিয়ে যায়। নিরাপদ প্রত্যাবাসন বিলম্ব করতে মিয়ানমার সামরিক জান্তা টালবাহানা শুরু করেছে। বিশ্বমোড়লরা কেন মিয়ানমার সরকার ও সেনাবাহিনীর বিষয়ে নিশ্চুপ এটি আমাদের মাথায় ঢুকছে না।
রাজধানী ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছে কর্মজীবী মানুষ
অনলাইন ডেস্ক: প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদ উদযাপন শেষে রাজধানী ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছেন কর্মজীবী মানুষ। ঈদের ছুটি কাটিয়ে রাজধানীবাসী কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করলেও এখনো যাত্রীদের কর্মস্থলে ফেরার সেই বাড়তি চাপ শুরু হয়নি। এদিকে আজও অনেককে বাড়ি যেতে দেখা গেছে। ভোর থেকে সদরঘাটে পৌঁছেছে প্রায় অর্ধ শতাধিক লঞ্চ। এর মধ্যে বরিশাল থেকে ১৩টি লঞ্চ এসেছে। কিন্তু ফিরতি যাত্রায় যাত্রীর পরিমাণ কম ছিল বলে জানান কির্তনখোলা ২ লঞ্চের সুপারভাইজার শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, রোটেশন অনুযায়ী বরিশাল থেকে ১৩টি লঞ্চ ছেড়ে আসলেও তেমন যাত্রী হয়নি। আমাদের লঞ্চে আজ প্রায় ৮০০ লোক এসেছে কিন্তু এই চাপ যখন বাড়বে তখন এর তিনগুণ যাত্রী হবে। আশা করা যাচ্ছে আজ ও আগামীকাল এই চাপ হবে। মা ও ছোট ভাইকে সঙ্গে নিয়ে ঈদের ছুটি কাটিয়ে বরিশাল থেকে ঢাকা ফিরেছেন শাহজাহান। তিনি বলেন, যাওয়ার সময় ভিড় ছিল। আসার সময় ভিড় নাই। অনেক সময় লঞ্চে যাত্রীর কারণে হাঁটার জায়গাও থাকে না। কিন্তু আজ তেমন ভিড় ছিল না। যে যার মতো জায়গা নিয়ে শুয়ে-বসে ঢাকায় ফিরেছে। আরেক যাত্রী গোলাম মোস্তফা সপরিবারে ঢাকায় ফিরেছেন পটুয়াখালী থেকে। তিনি বলেন, যে রকম ভিড় হবে ভেবেছিলাম, তা ছিল না। পটুয়াখালী থেকেও বেশি লোক ওঠেনি। আমাদের অনেকেই বাড়ি থেকে আসেনি। অনেকে বেশি ছুটি নিয়ে গেছে। আবার ঢাকায় যারা দিন মজুরের কাজ করে এমন লোকেরা আসবে আরো কয়েকদিন পরে। কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার তাড়াহুড়ো যাদের ছিল, তারা আগেই ঢাকায় পৌঁছেছেন বলেও মন্তব্য করেন মোস্তফা।
আইভি রহমান ছিলেন দলের জন্য একজন নিবেদন প্রাণ: দীপু মনি
অনলাইন ডেস্ক: বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ডাঃ দীপু মনি, এমপি বলেছেন, আইভি রহমান ছিলেন দলের জন্য একজন নিবেদন প্রাণ। তিনি একজন অসাধারণ গুণের মানুষও ছিলেন। তিনি আমাদের সকলের হৃদয়ের মাঝে আছেন। তিনি সব সময় নারীদের জন্য কাজ করেছেন এবং নারীদের জন্য রক্ত দিয়েছেন। শুক্রবার (২৪ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টায় চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে জেলা মহিলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত আইভি রহমানের ১৪তম মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দীপু মনি আরো বলেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় আমাদের অনেকেই আহত হয়েছেন। তারা এখনো ওই যন্ত্রণা ভোগ করছেন। এটি ছিল বিএনপি-জামায়াতের ষড়যন্ত্র। বিএনপি, জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি কোনো রাজনীতিই নয়। তারা এখনো নানাভাবে ষড়যন্ত্র করছে। তারা বিগত দিনে আন্দোলনের নামে মানুষ হত্যা করেছে, মানুষকে পুড়িয়ে মেরেছে। তাদের কোনো ষড়যন্ত্রেই কাজ হবে না। আবারও শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হবেন। ক্ষমতাসীন দলের এই নেত্রী আরো বলেন, আজকের এই দিনে আমরা পরম শ্রদ্ধার সাথে আইভি রহমানকে স্মরণ করছি। তার রুহের মাহফেরাত কামনা করছি। চাঁদপুর জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপিকা মাসুদা নুর খানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আব্দুর রশিদ সর্দার, সাংগঠনিক সম্পাদক তাফাজ্জল হোসেন এসডু পাটওয়ারী, জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক মাহফুজুর রহমান টুটুল ও জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আতাউর রহমান পারভেজ।
একদিনে ১২ জনসহ বাংলাদেশি ৮৩ হাজীর মৃত্যু
অনলাইন ডেস্ক: পবিত্র হজ পালনকালে একদিনে (২৪ আগস্ট) ১২ হাজীর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে বাংলাদেশি মৃত হাজীর সংখ্যা দাঁড়ালো ৮৩ জনে। বাংলাদেশ হজ ম্যানেজমেন্ট পোর্টালের নিয়মিত হজ বুলেটিনের ২৩ আগস্ট সংখ্যায় বলা হয়, ওইদিন পর্যন্ত ৭১ হাজির মৃত্যু হয়েছে। সে হিসাবে শুধু ২৪ আগস্ট মৃত্যু হয়েছে ১২ জনের। বাংলাদেশ হজ মেডিকেল টিমের প্রধান ডা মো. জাকির হোসেন এ তথ্যের সত্যতা স্বীকার করে জানান, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে এদের অধিকাংশেরই মৃত্যু হয়েছে। তবে তাদের মধ্য কতজন পুরুষ আর কতজন নারী তা নিশ্চিতভাবে জানাতে পারেননি ডা মো. জাকির হোসেন। ডা. মো. জাকির হোসেন খান বলেন, মৃতদের অধিকাংশ বয়োবৃদ্ধ ও বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন। উল্লেখ্য, এ বছর বাংলাদেশ থেকে এক লাখ ২৭ হাজার ৭৯৮ জন হজযাত্রী সৌদি আরবে যান। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় সাত হাজার ১৯৮ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় এক লাখ ২০ হাজার জন। হজযাত্রীদের প্রথম ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে ২৭ আগস্ট ও শেষ ফিরতি ফ্লাইটটি দেশে পৌঁছাবে আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর।
আজ বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের শাহাদত বার্ষিকী
অনলাইন ডেস্ক: স্বাধীনতা সংগ্রামের সাতজন বীরশ্রেষ্ঠ’র মধ্যে অনন্য ও অন্যতম বৈমানিক মতিউর রহমানের ৪৭ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী আজ সোমবার। ১৯৭১ সালের ২০ আগস্ট মুক্তিবাহিনীর ব্যবহারের জন্য শত্রু বাহিনীর ঘাঁটি থেকে বিমান ছিনিয়ে আনার সময় তিনি প্রাণদান করেন। শৈশব থেকেই তার মেধার পরিচয় ও স্বীকৃতির নিদর্শন মিলতে থাকে। ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণী পর্যন্ত পড়ার পর তিনি ভর্তি হন পাকিস্তান বিমান বাহিনী পাবলিক স্কুলে। কৃতিত্বের সাথে ম্যাট্রিকুলেশন পাশ করে ১৯৬১ সালে তিনি পাকিস্তান বিমান বাহিনীতে যোগ দেন। কর্মজীবনের বিভিন্ন ধাপে তিনি জেনারেল ডিউটি পাইলট, ফ্লাইং অফিসার, ফ্লাইট লেফট্যানেন্ট, ফ্লাইং ইন্সট্রাক্টর এবং জেট ফ্লাইং ইন্সট্রাক্টর হিসেবে কাজ করেন। ১৯৭১ সালের জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে মতিউর দুই মাসের ছুটি নিয়ে সপরিবারে ঢাকা আসেন৷ ২৫ মার্চ কালরাতের নৃশংসতার প্রতিবাদ হিসেবে তিনি ভৈরবে একটি ট্রেনিং ক্যাম্প খোলেন যেখানে যুদ্ধ করতে আসা বাঙালি যুবকরা প্রশিক্ষণ নিতে থাকে৷মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করা অস্ত্র দিয়ে গড়ে ওঠে একটি প্রতিরোধ বাহিনী৷ ১৪ এপ্রিল তাদের ঘাঁটির ওপর পাকিস্তানি বিমান বাহিনীর এফ-৮৬ স্যাবর জেট বোমাবর্ষণ করে৷এমন আক্রমণের আশঙ্কা মতিউর আগেও করেছিলেন তাই ঘাঁটি পরিবর্তনের কারণে ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পায় তার বাহিনী। মতিউর রহমান ৯ মে সপরিবারে করাচি ফিরে যান ও কর্মক্ষেত্রে যোগ দেন৷ ১৯৭১ সালের ২০ আগস্ট, শুক্রবার- ফ্লাইট শিডিউল অনুযায়ী মতিউরের এক ছাত্র রশীদ মিনহাজের উড্ডয়নের দিন। করাচির মৌরীপুর বিমান ঘাঁটিতে মিনহাজের কাছ থেকে একটি জঙ্গি বিমান ছিনতাই করেন মতিউর। কিন্তু মিনহাজ ক্লোরোফর্মের প্রভাবে অজ্ঞান হওয়ার পূর্ব মুহুর্তে এ ঘটনা কন্ট্রোল টাওয়ারে জানিয়ে দিলে অপর চারটি জঙ্গি বিমান মতিউরের বিমানকে ধাওয়া করে। এ সময় রশীদের সঙ্গে মতিউরের ধস্তাধস্তি চলতে থাকে এবং এক পর্যায়ে রশীদ ইজেক্ট সুইচ চাপলে মতিউর বিমান থেকে ছিটকে পড়েন। মতিউরের সঙ্গে প্যারাসুট না থাকায় তিনি প্রাণ হারান। উল্লেখ্য, মিনহাজ রশীদকেও পাকিস্তান সরকার সম্মানসূচক খেতাব দান করে। একই ঘটনায় দুই বিপরীত ভূমিকার জন্য দু’জনকে দু’দেশের সর্বোচ্চ সম্মানসূচক খেতাব প্রদানের এমন ঘটনা বিরল। বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনাস্থল থেকে আধ মাইল দূরে খুঁজে পাওয়া যায় মতিউরের মৃতদেহ। মতিউরকে করাচির মাসরুর বেসের চতুর্থ শ্রেণীর কবরস্থানে সমাহিত করে কর্তৃপক্ষ। শাহাদতের ৩৫ বছর পর ২৪শে জুন ২০০৬ মতিউরের দেহাবশেষ পাকিস্তান থেকে দেশে এনে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবর স্থানে পুনঃসমাহিত করা হয়।
১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের ষড়যন্ত্রে খালেদা জিয়াও জড়িত
অনলাইন ডেস্ক: ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার ষড়যন্ত্রে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সঙ্গে তার স্ত্রী খালেদা জিয়াও জড়িত ছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার (১৬ আগস্ট) বিকেলে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় শোকদিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত স্মরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। বঙ্গবন্ধু খুনিদের বিচার বন্ধে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি এবং জিয়াউর রহমান তাদের দূতাবাসে চাকরিসহ বিভিন্নভাবে পুরস্কৃত করার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতার আত্মস্বীকৃত খুনিদের ভোট চুরি করে পার্লামেন্টে বসিয়েছিলো জিয়ার স্ত্রী (খালেদা জিয়া)। তার অর্থ কি দাঁড়াচ্ছে জিয়াউর রহমান একাই নয়, তার স্ত্রীও ১৫ আগস্টের হত্যার ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, খুনিরা খুনিই হয়। এই খুনিরা ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা চালিয়েছে। বার বার আমাকে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছে। কাজেই এদের হাতে দেশের ক্ষমতা গেলে দেশের কি উন্নতি হবে, দেশের মানুষ কি ন্যায় বিচার পাবে? জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রক্ষমতায় আসা এবং বিএনপির প্রতিষ্ঠার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, অন্যায়ের মধ্যে দিয়ে যাদের ক্ষমতা দখল তারা কখনও ন্যায় বিচার করতে পারে না। ১৫ আগস্ট বাঙালি জাতির জন্য সবচেয়ে কলঙ্কজনক দিন হিসেবে উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, জাতির পিতা বেঁচে থাকলে, তার হাতে রাষ্ট্র ক্ষমতা যদি থাকতো তবে স্বাধীনতার ১০ বছরের মধ্যে বাঙালি জাতি ক্ষুধা দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত জাতি হিসেবে গড়ে উঠতো, উন্নত জাতি হিসেবে বিশ্বে মর্যাদা পেতো। বাংলানিউজ
সংসদ নির্বাচনের শতকরা ৮০ ভাগ প্রস্তুতি শেষ:ইসি সচিব
অনলাইন ডেস্ক: সংসদ নির্বাচনের শতকরা ৮০ ভাগ প্রস্তুতি শেষ হয়েছে উল্লেখ করে নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, সংসদ নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে নতুন করে কোনও সংলাপ হচ্ছে না। বৃহস্পতিবার (১৬ আগস্ট) দুপুরে আগারগাঁওস্থ নির্বাচন কমিশন ভবনে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি। এক প্রশ্নের জবাবে হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, ইতিমধ্যে জাতীয় নির্বাচনের শতকরা ৮০ ভাগ প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এখন কমিশন যে নির্দেশনা দেবে তা বাস্তবায়ন করব। নির্বাচন কমিশন প্রস্তুতি হিসেবে যা যা করা দরকার তার সব প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন বলেছে জাতীয় নির্বাচন নিয়ে আলাদা একটি সভা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং সামনে কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে সেগুলোর চেকলিস্ট তৈরি করার নির্দেশনা দিয়েছে। ইসি সচিব বলেন, নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে সংসদ নির্বাচনের তফসিল এবং ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে ভোট হবে এটা ধরে নিয়ে কাজ করছি। বাকিটা কমিশন বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তাই নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপের কোনও সম্ভাবনা নেই। নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ বিষয়ে তিনি বলেন, সংসদের প্রথম অধিবেশন ২৯ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই হিসেবে ৩০ জানুয়ারি থেকে আমাদের কাউন্টডাউন শুরু হবে। নির্বাচন কমিশন সেভাবে প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। সেই হিসেবে অক্টোবরের শেষে অথবা নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে তফসিল ঘোষণার সব প্রস্তুতি রয়েছে। তবে নির্বাচনের তারিখের বিষয়ে আলোচনা হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে ডিসেম্বরের শেষার্ধ্বে অথবা জানুয়ারির প্রথম দিকে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, ভোটার তালিকার কাজ এরইমধ্যে শেষ হয়েছে। আমাদের ৪২ হাজার ভোটকেন্দ্র আছে, আরো পাঁচ হাজার কেন্দ্র বাড়তে পারে। এগুলোর খসড়া তালিকা জেলা-উপজেলায় প্রকাশ করা হয়েছে। যারা স্টেকহোল্ডার আছে তাদের যদি কোনো আপত্তি থাকে সে বিষয়ে শুনানি গ্রহণ করা হবে, সেগুলো সরেজমিনে তদন্ত করে তারা নিষ্পত্তি করে আমাদের কাছে গেজেট নোটিশ পাঠাবে। এ ছাড়া নির্বাচন সামগ্রী কেনার যে বিষয়টি রয়েছে ইতিমধ্যে যারা টেন্ডার আহ্বান করেছে তাদের আমরা কার্যাদেশ দিয়েছি। তারা সহসাই আমাদের মালামালগুলো সরবরাহ করবে। ইসি সচিব বলেন, আজকে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে যে, সার্কভুক্ত ৮টি দেশের প্রধান নির্বাচন কমিশনারদের নিয়ে গঠিত সংগঠন ফেম্বোসা (ফোরাম অব ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বডিজ অব সাউথ এশিয়া) সম্মেলন আগামী ৫ ও ৬ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকার অনুষ্ঠানটির উদ্বোধন করবেন। তফসিল ঘোষণার আগে এ সম্মেলন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে হেলালুদ্দীন বলেন, আয়োজক দেশ হিসেবে আমরা এ সম্মেলনকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছি। যেহেতু সার্কভুক্ত দেশগুলো এখানে অংশ নেবে ফলে আমরা তাদের অভিজ্ঞতাগুলো গ্রহণ করতে পারি। কোন দেশে কীভাবে নির্বাচন হচ্ছে, নির্বাচনের পদ্ধতিগুলো কী, জনগণকে সম্পৃক্ত করে রাজনৈতিক দলগুলোকে সম্পৃক্ত করে কীভাবে নির্বাচন করা যায় সে বিষয়গুলো নিয়ে এখানে আলোচনা হবে।
মার্শা বার্নিকাটের গাড়ি বহরে হামলার ঘটনায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে
অনলাইন ডেস্ক: ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাটের গাড়ি বহরে হামলার বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষারকারী বাহিনী তদন্ত করছে। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে বৃহস্পতিবার (১৬ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো একটি নোটে জানানো হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, গত ৪ আগস্ট রাজধানীর মোহাম্মদপুরে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাটের গাড়ি বহর অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে দুর্ঘটনার শিকার হয়। ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার ফলে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। ঘটনার পরে পুলিশের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ফলে মার্কিন দূতাবাস সন্তোষ প্রকাশ করেছে। নোটে উল্লেখ করা হয়, মার্কিন রাষ্ট্রদূতের গাড়ি বহরে অনাকাঙ্ক্ষিত এ ঘটনায় বাংলাদেশ নিন্দা জানায়। একই সঙ্গে বাংলাদেশে অবস্থানরত সব কূটনীতিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বাংলাদেশ প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। মার্শা বার্নিকাটের গাড়ি বহরে হামলার বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষারকারী বাহিনী তদন্ত করছে। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
মিরপুরের সেই টিনশেড বাড়িতে গুপ্তধনের অস্তিত্ব মেলেনি
অনলাইন ডেস্ক: রাজধানীর মিরপুরের সেই টিনশেড বাড়িতে গুপ্তধনের সন্ধানে অনেক খোঁড়াখুঁড়ি ও তৎপরতা চালানো হলেও এমন কিছুর অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। বাড়িটিতে আসলেই গুপ্তধন আছে কি-না তা জানতে বৃহস্পতিবার (১৬ আগস্ট) দুপুর দেড়টার দিকে সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করেন ঢাকা জেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাজওয়ার আকরামের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ বিভাগ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) প্রকৌশলীরা। পরে মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দাদন ফকির বাংলানিউজকে বিষয়টি জানান। এরপর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাজওয়ার আকরামও জানান, প্রকৌশলীরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখেছেন বাড়িটিতে কোনো গুপ্তধন আছে কি-না, আদতে এমন কিছুর অস্তিত্ব মেলেনি। তাদের এ বক্তব্যের পর বাড়িটিতে অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়।

জাতীয় পাতার আরো খবর