আগামী ৮ আগস্ট থেকে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু
অনলাইন ডেস্ক: ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঘরমুখী মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে আগামী ৮ আগস্ট থেকে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হবে। আর ফিরতি টিকিট বিক্রি কার্যক্রম শুরু হবে ১৫ আগস্ট থেকে। তাছাড়া এবার ঈদ উপলক্ষে বিশেষ ৯ জোড়া ট্রেন দেওয়া হবে। বৃহস্পতিবার (২৬ জুলাই) রেল ভবনের সভাকক্ষে এ বিষয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রেলমন্ত্রী মো. মুজিবুল হক এসব তথ্য জানান। ঈদের আগাম টিকিট বিক্রি চলবে আগামী ১২ আগস্ট পর্যন্ত। ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টেশন থেকে টিকিট দেওয়া হবে। ৮ আগস্ট দেওয়া হবে ১৭ আগস্টের টিকিট। ৯ আগস্ট ১৮ আগস্টের টিকিট, ১০ আগস্ট ১৯ আগস্টের টিকিট, ১১ আগস্ট ২০ আগস্টের টিকিট এবং ১২ আগস্ট ২১ আগস্টের আগাম টিকিট দেওয়া হবে। অন্যদিকে ১৫ আগস্ট থেকে ঈদ ফেরত যাত্রীদের জন্য ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হবে। ফেরতি টিকিট রাজশাহী, খুলনা, রংপুর, দিনাজপুর ও লালমনিহাট স্টেশন থেকে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় সকাল ৮টা থেকে বিক্রি শুরু হবে। ফিরতি টিকিট ১৫ আগস্টে পাওয়া যাবে ২৪ আগস্টের টিকিট। একইভাবে ১৬, ১৭, ১৮ ও ১৯ আগস্ট যথাক্রমে পাওয়া যাবে ২৫, ২৬, ২৭, ২৮ আগস্টের টিকিট। সংবাদ সম্মেলনে রেলওয়ে মহাপরিচালক আমজাদ হোসেনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিতি ছিলেন।
দুই দিনব্যাপী সিসিক নির্বাচনে ৩ হাজার ২শ' কর্মকর্তার প্রশিক্ষণ শুরু
সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) নির্বাচনে ভোটগ্রহণে প্রিজাইডিং, সহকারী প্রিজাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তাদের দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ জুলাই) সকাল ৯টা থেকে নগরের মদন মোহন কলেজে প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। প্রশিক্ষণ চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। একইভাবে পরদিন শুক্রবারও (২৭ জুলাই) প্রশিক্ষণ চলবে। অনলাইন ডেস্ক: দু দিনে ৩ হাজার ২শ জন কর্মকর্তা নির্বাচনে ভোটগ্রহণ বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেবেন। তাদের মধ্যে প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ১৩৪ জন, সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ৯২৬ জন এবং পোলিং কর্মকর্তা ১ হাজার ৮৫২ জন। এছাড়া ২৮৮ জন অতিরিক্ত হিসেবে প্রশিক্ষণ নেবেন। দু দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালায় নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম, নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব মুখলেছুর রহমান, কমিশনের অন্য কর্মকর্তারা, আঞ্চলিক নির্বাচনী কর্মকর্তাসহ অন্তত ৩৪ জন প্রশিক্ষক হিসেবে থাকবেন। সিসিক নির্বাচনে তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা প্রলয় কুমার সাহা বলেন, দু দিনের প্রশিক্ষণে প্রথমদিনে অর্ধেকের বেশি নির্বাচনী কর্মকর্তারা প্রশিক্ষণে অংশ নিয়েছেন। বাকিরা পরদিন প্রশিক্ষণ নেবেন। এছাড়া ৩ হাজার ২শ কর্মকর্তার মধ্যে অতিরিক্ত হিসেবে ২৮৮ জনকে রাখা হয়েছে যাতে কারও অসুবিধা বা অসুস্থ হলে তাৎক্ষণিক তার পরিবর্তে দায়িত্ব দেওয়া যায়।
আর্টিজান মামলা এখন মহানগর আদালতে
অনলাইন ডেস্ক: রাজধানীর গুলশানের হলি আর্টিজানে হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলা বিচারের জন্য ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে বদলি হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (২৬ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নুরুন্নাহার ইয়াসমিন মামলাটি বদলির জন্য চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) মো. সাইফুজ্জামান হিরোর কাছে পাঠিয়েছেন। তিনি মহানগর আদালতে মামলাটি বদলি করবেন বলে জানান সংশ্লিষ্ট গুলশান থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা (জিআরও) রকিবুল ইসলাম। গত ২৩ জুলাই ২১ জনকে চিহ্নিত করে জীবিত আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট জমা দেয় পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। এ নিয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সিটিটিসি ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম জানান, অভিযুক্ত ২১ জনের মধ্যে ১৩ জন বিভিন্ন সময়ে নিহত হয়েছে আর জীবিত আছে আট জন। এর মধ্যে ছয়জন কারাগারে ও দুইজন পলাতক। বিভিন্ন অভিযানে নিহত আট আসামি হলেন- তামিম আহমেদ চৌধুরী, নুরুল ইসলাম মারজান, তানভীর কাদেরী, মেজর (অব.) জাহিদুল ইসলাম ওরফে মুরাদ, রায়হান কবির তারেক, সারোয়ান জাহান মানিক, বাশারুজ্জামান ওরফে চকলেট ও মিজানুর রহমান ওরফে ছোট মিজান। আর হলি আর্টিজানে সেনাবাহিনীর অপারেশন থান্ডারবোল্টে ঘটনাস্থলেই নিহত পাঁচজন হলেন- রোহান ইবনে ইমতিয়াজ, মীর সামেহ মোবাশ্বের, নিবরাস ইসলাম, শফিকুল ইসলাম ওরফে উজ্জ্বল ও খায়রুল ইসলাম ওরফে পায়েল। জীবিত অভিযুক্ত আটজনের মধ্যে কারাগারে রয়েছেন- রাজীব গান্ধী, মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান, রাকিবুল হাসান রিগ্যান, হাতকাটা সোহেল মাহফুজ, হাদিসুর রহমান সাগর, রাশেদ ইসলাম ওরফে আবু জাররা ওরফে র‌্যাশ। তাছাড়া পলাতক দুই আসামি হচ্ছেন- শরিফুল ইসলাম ওরফে খালেদ ও মামুনুর রশীদ ওরফে রিপন। অন্যদিকে হামলার পরদিন সকালে হলি আর্টিজান বেকারি থেকে গ্রেফতার নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সাবেক শিক্ষক হাসনাত করিমের নাম অভিযোগপত্রে আসেনি। হলি আর্টিজানে জিম্মি সংকট তৈরির পর হাসনাতকে ওই রেস্তোরাঁর ছাদে জঙ্গিদের সঙ্গে আলাপরত অবস্থায় দেখা যায়, এমন একটি ছবিও ওই সময় প্রকাশিত হয় সংবাদমাধ্যমসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও। ২০১৬ সালের ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে (স্প্যানিশ রেস্তোরাঁ) হামলা চালানো হয়। এতে ১৭ বিদেশিসহ ২০ জনকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করে জঙ্গিরা। জঙ্গিদের আক্রমণের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে তাদের ওপর গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। সে হামলায় ডিবি পুলিশের সহকারী কমিশনার (এসি) রবিউল ইসলাম ও বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাউদ্দিন আহমেদ নিহত হন। পরে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে যৌথ বাহিনী অভিযান চালিয়ে সেখান থেকে ১৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করে। অভিযানে পাঁচ জঙ্গির সবাই নিহত হয়। হলি আর্টিজান হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডিয়ান নাগরিক তামিম আহমেদ চৌধুরীকে। ২০১৬ সালের ২৭ আগস্ট নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়ায় জঙ্গিবিরোধী এক অভিযানে দুই সহযোগীসহ নিহত হন তামিম। রায়হান কবির তারেক ২০১৬ সালের ২৬ জুলাই কল্যাণপুরের জঙ্গি আস্তানায় পুলিশের অভিযানে আট সহযোগীসহ নিহত হন। সেনাবাহিনী থেকে অবসরপ্রাপ্ত মেজর জাহিদুল ইসলাম ওরফে মুরাদ ২০১৬ সালের ২ সেপ্টেম্বর মিরপুরের রূপনগরে সিটিটিসি’র জঙ্গিবিরোধী অভিযানে নিহত হন। হামলাকারীদের আশ্রয়দাতা তানভীর কাদেরী ২০১৬ সালের ১০ সেপ্টেম্বর আজিমপুরে এক অভিযানে নিহত হন। হামলার পরিকল্পনায় অন্যতম সহযোগী সরোয়ার জাহান মানিক ২০১৬ সালের ৮ অক্টোবর আশুলিয়ায় র‌্যাবের অভিযান চলাকালে পালাতে গিয়ে পাঁচ তলা থেকে নিচে পড়ে নিহত হন। নুরুল ইসলাম মারজান ২০১৭ সালের ৬ জানুয়ারি মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ এলাকায় সিটিটিসি ইউনিটের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে এক সহযোগীসহ নিহত হন। বাশারুজ্জামান ওরফে চকোলেট ও মিজানুর রহমান ওরফে ছোট মিজান ২০১৭ সালের ২৬ ও ২৭ এপ্রিল চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে সিটিটিসি’র অভিযানে নিহত হন।
বরিশাল সিটি নির্বাচনে গ্রেফতার না করার নির্দেশ হাইকোর্টের
অনলাইন ডেস্ক: শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে গ্রেফতার সংক্রান্ত আপিল বিভাগের নির্দেশনা ভঙ্গ করে বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি) নির্বাচনে রাজনৈতিক দলের নেতা, সমর্থক ও নির্বাচন প্রচারকারীদের গ্রেফতার বা হয়রানি না করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার (২৬ জুলাই) এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের হাইকোর্ট রুলসহ এ আদেশ দেন। আবেদনের পক্ষে আদালতে শুনানি করেন আইনজীবী সগীর হোসেন লিয়ন। সগীর হোসেন লিয়ন বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে বরিশাল সিটি নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে গ্রেফতার বিষয়ে আপিল বিভাগের নির্দেশনা ভঙ্গ করে সিটি করপোরেশন এলাকায় কোনো নেতা, সমর্থক ও নির্বাচন প্রচারকারীকে গ্রেফতার ও হয়রানি না করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। তাছাড়া, বরিশালের বিএনপির নেতা, কর্মী, সমর্থক, ভোটের প্রচারণাকারীদের মহানগর পুলিশ কর্তৃক গণগ্রেফতার, হয়রানি করা কেন অবৈধ ও আইনগত কর্তৃত্ব বর্হিভূত ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। চার সপ্তাহের মধ্যে স্বরাষ্ট্র সচিব, নির্বাচন কমিশন, পুলিশের মহাপরিদর্শক, বরিশালের পুলিশ কমিশনার ও পুলিশের সুপারকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। আগে বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি) নির্বাচন ঘিরে দলের নেতাকর্মীদের নির্বিচারে গ্রেফতারের অভিযোগ তুলে হাইকোর্টে রিট করেন বিএনপির মেয়রপ্রার্থী মো. মজিবর রহমান সরওয়ার।
ফেসবুক ব্যবহারে বয়স নির্ধারণের প্রস্তাব:
অনলাইন ডেস্ক: কোমলমতি শিশু-কিশোরদের নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয় রোধে ফেসবুক এবং অন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের জন্য ন্যূনতম বয়স নির্ধারণের প্রস্তাব এসেছে জেলা প্রশাসক সম্মেলনে। নরসিংদী ও ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের দেওয়া প্রস্তাবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়ে তা বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছে। জেলা প্রশাসক সম্মেলন উপলক্ষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো প্রস্তাবনা থেকে কার্যপত্র প্রস্তুত করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের জন্য ন্যূনতম বয়স নির্ধারণের প্রস্তাবের পক্ষে যুক্তি দেখিয়ে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের যথেচ্ছ ব্যবহারের ফলে শিশু-কিশোরদের নৈতিকতা ও মূল্যবোধের অবক্ষয় হচ্ছে। স্বাভাবিক মানসিক ও শারীরিক বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে। সঠিক সামাজিকায়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অংশে প্রস্তাবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ তা বাস্তবায়নের সুপারিশে বলেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের জন্য ন্যূনতম বয়স নির্ধারণ করা যেতে পারে। তাছাড়া সরকারি ই-মেইলে স্পেস বৃদ্ধি ও বুকমার্ক করার সুবিধা সৃষ্টির সুপারিশ করেছে খুলনা জেলা প্রশাসক। যুক্তিতে বলা হয়, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সরকারি ই-মেইলের জন্য বরাদ্দ করা স্পেস মাত্র এক গিগাবাইট। এটি সচল রাখতে পুরনো ই-মেইল ডিলেট করতে হয়। ফলে অনেক সময় তাৎক্ষণিকভাবে ই-মেইলে পাঠানো প্রয়োজনীয় তথ্য উদ্ধার করা সম্ভব হয় না। সুপারিশে খুলনা জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, সরকারি ই-মেইলে স্পেস বৃদ্ধি ও বুকমার্ক করার সুবিধা সৃষ্টি করা যেতে পারে। জেলা পর্যায়ে একটি কম্পিউটার/ডিজিটাল সামগ্রী মেরামত কেন্দ্র স্থাপন, প্রত্যেক জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ কম্পিউটার ল্যাব স্থাপনের সুপারিশ করেছেন ডিসিরা। ডাক বিভাগের প্রস্তাবনায় বাগেরহাট জেলা প্রশাসক সমুদ্র তীরবর্তী এলাকা মোবাইল নেটওয়ার্কের আওতায় আনার প্রস্তাব করেছেন। তিনি যুক্তি দেখিয়েছেন, নেটওয়ার্ক না থাকায় সমুদ্রগামী লোকজনের সঙ্গে তাদের পরিবারের যোগাযোগ রক্ষা করা সম্ভব হয় না। প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় তাদের সতর্ক করা সম্ভব না হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে জীবনহানি হয়। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সুপারিশে বলেছে, সমুদ্র তীরবর্তী এলাকা মোবাইল নেটওয়ার্কের আওতায় আনা যেতে পারে। বান্দরবান জেলা প্রশাসক পার্বত্য জেলায় দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবা দিতে প্রস্তাব করেছেন। এতে সায় দিয়েছে মন্ত্রিপিরষদ বিভাগ।অালোকিত বাংলাদেশ
বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে গ্রাজুয়েশন লাভ করেছে : প্রধানমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের উত্তোরণের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এবং ক্ষুধাও দারিদ্রমুক্ত দেশ প্রতিষ্ঠা করতে শিক্ষিত জনগোষ্ঠী গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি বলেছেন,আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন সফল পদক্ষেপের ফলে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে গ্রাজুয়েশন লাভ করেছে, তার ধারবাহিকতা বজায় রাখতে হবে। শেখ হাসিনা বলেন,এই ধারবাহিকতা বজায় রাখার জন্য এবং ক্ষুধাও দারিদ্র মুক্ত দেশ গড়তে সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো শিক্ষিত জনগোষ্ঠী। এই শিক্ষিত জনগোষ্ঠী সৃষ্টি করাই আমাদের লক্ষ্য। প্রধানমন্ত্রী দুপুরে তাঁর তেজগাঁওস্থ কার্যালয়ে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃতি শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণ পদক-২০১৭ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এসব কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ১ম স্থান অধিকারকারী ১৬৩ জন শিক্ষার্থীর মাঝে স্বর্ণপদক বিতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল মান্নান। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব সোহরাব হোসাইন অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক দিল আফরোজা বেগম অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের শিক্ষার্থী ইশরাত জাহান প্রিয়া এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী সজন ধর স্বর্ণপদক প্রাপ্তদের পক্ষে নিজস্ব অনুভুতি ব্যক্ত করে বক্তৃতা করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্য হিসেবে অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম এবং ড. সৌমিত্র শেখর তাঁদের রচিত বাংলা ভাষা ও সাহিত্য শীর্ষক গ্রন্থটিও প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, মুখ্য সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক, পদস্থ সরকারী কর্মকর্তাবৃন্দ,জাতীয় অধ্যাপক বৃন্দ, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং উপ-উপাচার্যবৃন্দ, শিক্ষাবিদ, শিক্ষক, গবেষক এবং পদক প্রাপ্ত মেধাবী শিক্ষার্থীবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। দেশের উন্নয়নে গণতান্ত্রিক ধারা বজায় রাখার পাশাপাশি সরকারের ধারাবাহিকতা থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন,‘ ’৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত দেশের যতটুকু অগ্রগতি হয়েছিল, ২০০১র পর যারা ক্ষমতায় এসেছিল তারা বাংলাদেশকে অনেক ক্ষেত্রে পিছিয়ে দেয়। তিনি বলেন,আমি আশাবাদী আজকে যতটুকুই অর্জন করেছি, দিন-রাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে বিশ্বে বাংলাদেশকে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছি। অর্থনৈতিকভাবে আমরা স্বাবলম্বী হয়েছি। আজকে আমরা এগিয়ে যাব। আর পিছিয়ে যাব না।’ উচ্চশিক্ষার প্রসারে তাঁর সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টির জন্য প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট ও গঠন করে দিয়েছি। এখানে আমরা প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত শিক্ষা সহায়তা (বৃত্তি-উপবৃত্তি) দিতে পারছি। তিনি বলেন, ২০০৯ সালের জানুয়ারি মাস থেকে ২০১৭ সালের জুন মাস পর্যন্ত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং সরকারি কলেজের ৩৬৪ জন শিক্ষক পিএইচ.ডি. ফেলোশিপ অ্যাওয়ার্ড এবং সরকারি কলেজের ২২৩ জন শিক্ষক এম.ফিল ফেলোশিপ অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন। এ ছাড়াও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ৩৩ জন শিক্ষক পোস্ট-ডক্টোরাল ফেলোশিপ অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১৬ সাল থেকে পিএইচ.ডি. ফেলোশিপ ভাতা মাসিক ১০ হাজার টাকা হতে বৃদ্ধি করে ১৫ হাজার টাকায় উন্নীত করা হয়েছে এবং পোস্ট-ডক্টোরাল ফেলোশিপ ভাতা মাসিক ১৫ হাজার টাকা হতে বৃদ্ধি করে ২০ হাজার টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। বর্তমানে ৮৪টি পাবলিক-প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় ও আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক ও গবেষকগণ ইউজিসি ডিজিটাল লাইব্রেরির মাধ্যমে বিশ্বের ১৩টি সুপ্রতিষ্ঠিত প্রকাশকের ৩৪ হাজারেরও অধিক ই-রিসোর্স এক্সেস সুবিধা পাচ্ছেন বলেও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন। সরকার প্রধান বলেন, শিক্ষার মান উন্নয়নে আমরা ২০১০ সালে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন পাস করেছি। বর্তমানে দেশে ৪৬টি পাবলিক ও ১০৩টি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়সহ মোট বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ১৪৯টি। তিনি বলেন, আমরা উচ্চশিক্ষার প্রসারে ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে ৬টি এবং ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত ১৩টি নতুন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছি। এর মধ্যে -৪টি নতুন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও ৯টি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামি-আরবি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়, বেসরকারি বিজিএমইএ ফ্যাশন ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মত বিভিন্ন বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের সকল বিভাগে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা তাঁর সরকারের পরিকল্পনায় রয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমরাই প্রথম দেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করি। সম্প্রতি রাজশাহী ও চট্টগ্রামে নতুন দুটি মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় চালু করা হয়েছে। এ ছাড়া সিলেটে আরও একটি মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, উচ্চশিক্ষার গুণগতমান নিশ্চিত করতে জাতীয় সংসদে অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল আইন পাস হয়েছে এবং শিগগিরই এর কার্যক্রম শুরু হবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে মানসমৃদ্ধ করা এবং তাদের তদারকি, নিয়ন্ত্রণ ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য ‘উচ্চশিক্ষা কমিশন’ প্রতিষ্ঠার কাজও শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তাঁর সরকার গবেষণাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে একে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে এ খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করেছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন,যারা মেধাবী তাদের মেধা ও মননের বিকাশে আমাদের সুযোগ করে দিতে হবে । যুদ্ধ-বিধ্বস্ত দেশ পুণর্গঠণকালেই উচ্চশিক্ষার বিকাশে জাতির পিতার বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন প্রতিষ্ঠা, কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন গঠনসহ বিভিন্ন পদক্ষেপও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে স্বর্ণপদক জয়ী মেধাবীদের অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে দেশ ও জাতিকে তোমরা যথাযথ ও সঠিক নেতৃত্ব দিবে। তোমাদের মেধা, জ্ঞান ও কর্মের ফলে দেশের উন্নয়নে অধিক গতি সঞ্চারিত হবে। শেখ হাসিনা বলেন, এই ছেলে-মেয়েরাই আগামীতে দেশের কর্ণধার হবে। এরাইতো আমাদের মত মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে উচ্চপর্যায়ের সরকারী-বেসরকারী বিভিন্ন খাতে কাজ করবে। তিনি এ সময় ১৬৩ শিক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ৬২ জন ছেলে শিক্ষার্থী হওয়ায় এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষায় ছেলেদের ফল আশানুরূপ না হওয়ায় মেয়েদের পাশাপাশি ছেলেদের ও অধিকহারে পাঠে মনোনিবেশের আহবান জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এক সময় আমাদের দেশে মেয়েরা সত্যই অবহেলিত ছিল। বাবা-মা, অভিভাবক মনে করতেন মেয়েদের লেখাপড়া শিখিয়ে কি হবে, দু’দিন পরে বিয়ে দিতে হবে। বিয়ের খরচ আছে। লেখাপড়া শিখেতো পরের ঘরেই চলে যাবে। এই মানসিকতার যে পরিবর্তন হয়েছে সেটাই সবথেকে বড় কথা। জাতির পিতা বলেছিলেন সোনার বাংলা গড়তে হলে সোনার ছেলে চাই উল্লেখ করে বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, জাতির পিতা ছেলে-মেয়ে উভয়ের কথাই এখানে বলেছিলেন। কারণ, বঙ্গবন্ধু তাঁদের ব্যক্তিগত লেখাপড়ার বিষয়টাকে সবচেয়ে গুরুত্ব দিতেন। প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে আগত কৃতি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে এ সময় বলেন, সেই সোনার ছেলে-মেয়েই এখানে উপস্থিত। প্রধানমন্ত্রী তাঁর নেতৃত্বে দেশের আথর্-সামাজিক উন্নয়নের খন্ডচিত্র তুলে ধরে ২০২১ সালের মধ্যে ক্ষুধা ও দারিদ্র মুক্ত মধ্যম আয়ের এবং ২০৪১ সাল নাগাদ উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা তাঁর রাজনৈতিক অঙ্গীকারও এ সময় পুণর্ব্যক্ত করেন। শেখ হাসিনা বলেন, আমরা স্বল্প মেয়াদি পরিকল্পনার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও প্রহণ করেছি। ২০১০ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত প্রেক্ষিত পরিকল্পনা নেয়া হয়েছিল। এখন ২০২১ সাল থেকে ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে আমরা কিভাবে দেখতে চাই, কেমন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই-সেই পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ ইতোমধ্যে আমরা শুরু করেছি। তিনি বলেন, একটি মানুষও গৃহহারা থাকবে না, কেউ বিনা চিকিৎসায় মারা যাবে না, কেউ অশিক্ষার অন্ধকারে থাকবে না। প্রতিটি গ্রাম হবে শহর। শহরের সব নাগরিক সুবিধা গ্রামের মানুষ পাবে, প্রত্যেকটি অঞ্চল উন্নত হবে-সেভাবেই দেশকে গড়ে তুলবো। সেই পরিকল্পনা নিয়েই আমরা কাজ করে যাচিছ।
নিয়ন্ত্রণে আছে দেশে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি :শিল্পমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক: শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি যাতে বর্তমানের মতো নিয়ন্ত্রণে থাকে সেজন্য জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বুধবার (২৫ জুলাই) জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের তৃতীয় অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে এ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। আমির হোসেন আমু বলেন, ‘দেশে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এভাবে যেন পরবর্তী সময়েও নিয়ন্ত্রণে থাকে ডিসিদের সে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’ মাদক নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী জিরো টলারেন্স অব্যাহত রাখতে ডিসিদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত যেই হোক কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী যে নির্দেশ দিয়েছেন সেটা যেন বাস্তবায়ন হয়। শিল্পমন্ত্রী বলেন, অধিবেশনে শিল্প মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম আমরা তুলে ধরেছি। বিভিন্ন জেলার দু-একটি সারের গুদামের ব্যাপারে তারা (ডিসিরা) অবহিত করেছেন, আমরা সেগুলো দেখব। এছাড়া সুগার মিলগুলো যেন পুরো বছর চালু থাকে, সেজন্য আমরা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। তিনি বলেন, আখের মৌসুম মাত্র তিন মাসের। তাই মিলগুলো যেন চালু থাকে, সেজন্য আমরা কাঁচামাল এনে রিফাইন করে সুগার বিটে রূপান্তরিত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করছি। শিল্পমন্ত্রী বলেন, ডিসিদের আরও বলা হয়েছে, আগামী আখ মৌসুমে আখ দিয়ে যেন গুড় না করা হয়, আখগুলো যেন সরাসরি সুগার মিলে যায় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে আমির হোসেন আমু বলেন, দেশে সার বিতরণে কোনো সমস্যা নেই। সার বিতরণ অত্যন্ত সুষ্ঠুভাবে হচ্ছে। অন্দোলনের নামে বিএনপি-জামায়াতের অবরোধ, জ্বালাও-পোড়াও, ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেও আমরা সারাদেশে সার যথাসময়ে পৌঁছে দিয়েছি।
১৯ খনি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা
অনলাইন ডেস্ক: দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়ায় কয়লা খনিতে ১ লাখ ৪৪ হাজার মেট্রিক টন কয়লা গায়েবের ঘটনায় বিদায়ী ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ ১৯ জনকে আসামি করে মঙ্গলবার (২৪ জুলাই) পার্বতীপুর থানায় মামলা করা হয়েছে। রাত ১২টায় বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মোহাম্মদ আনিছুর রহমান বাদী হয়ে এই মামলা করেন। দুর্নীতি দমন প্রতিরোধ আইনের ৫ (২) এবং ৪০৯ ধারায় পার্বতীপুর থানায় মামলাটি করা হয়েছে। মামলা নং-৩০। পার্বতীপুর মডেল থানার ওসি হাবিবুল হক প্রধান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এছাড়া মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পার্বতীপুর মডেল থানার ওসি (তদন্ত) ফখরুল ইসলাম মামলার তদন্ত শুরু করেছেন। মামলার আসামিরা হলেন- সাময়িক বরখাস্তকৃত বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির মহাব্যবস্থাপক (মাইন অপারেশন) নুর-উজ-জামান চৌধুরী, উপ-মহাব্যবস্থাপক (স্টোর) একেএম খালেদুল ইসলাম, সদ্য বিদায়ী ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী হাবিব উদ্দিন আহমেদ, সদ্য বিদায়ী কোম্পানি সচিব ও মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) আবুল কাশেম প্রধানীয়া, ব্যবস্থাপক (এক্সপ্লোরেশন) মোশাররফ হোসেন সরকার, ব্যবস্থাপক (জেনারেল সার্ভিসেস) মাসুদুর রহমান হাওলাদার, ব্যবস্থাপক (প্রোডাকশন ম্যানেজমেন্ট) অশোক কুমার হালদার, ব্যবস্থাপক (মেইনটেনেন্স অ্যান্ড অপারেশন) আরিফুর রহমান, ব্যবস্থাপক (ডিজাইন, কন্সট্রাকশন অ্যান্ড মেইনটেনেন্স) জাহিদুল ইসলাম, উপ-ব্যবস্থাপক (সেফটি ম্যানেজমেন্ট) একরামুল হক, উপ-ব্যবস্থাপক (কোল হ্যান্ডলিং ম্যানেজমেন্ট) মুহাম্মদ খলিলুর রহমান, উপ-ব্যবস্থাপক (মেইনটেনেন্স অ্যান্ড অপারেশন) মোর্শেদুজ্জামান, উপ-ব্যবস্থাপক (প্রোডাকশন ম্যানেজমেন্ট) হাবিবুর রহমান, উপ-ব্যবস্থাপক (মাইন ডেভেলপমেন্ট) জাহেদুর রহমান, সহকারী ব্যবস্থাপক (ভেল্টিলেশন ম্যানেজমেন্ট) সত্যেন্দ্রনাথ বর্মন, ব্যবস্থাপক (নিরাপত্তা) সৈয়দ ইমাম হাসান, উপ-মহাব্যবস্থাপক (মাইন প্লানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট) জোবায়ের আলী, প্রাক্তন মহাব্যবস্থাপক (অর্থ ও হিসাব) আব্দুল মান্নান পাটোয়ারী এবং মহাব্যবস্থাপক (অর্থ ও হিসাব) গোপাল চন্দ্র সাহা। মামলায় জানানো হয়, খনি উন্নয়নের সময় (২০০১) থেকে ১৯ জুলাই ২০১৮ পর্যন্ত মোট ১ কোটি ১ লাখ ৬৬ হাজার ৪২ দশমিক ৩৩ মেট্রিক টন কয়লা উৎপাদন করা হয়। উৎপাদিত কয়লা থেকে পার্শ্ববর্তী তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রে ৬৬ লাখ ৮৭ হাজার ২৯ দশমিক ২৯ মেট্রিক টন কয়লা সরবরাহ, বেসরকারি ক্রেতাদের কাছে ডিও’র মাধ্যমে ৩৩ লাখ ১৯ হাজার ২৮০ দশমিক ৩৭ মেট্রিক টন কয়লা বিক্রি এবং কয়লা খনির বয়লারে ১২ হাজার ৮৮ দশমিক ২৭ মেট্রিক টন কয়লা ব্যবহার করা হয়। কয়লার উৎপাদন, বিক্রি ও ব্যবহার হিসাব করলে ১৯ জুলাই কোল ইয়ার্ডে রেকর্ডভিত্তিক কয়লার মজুদ দাঁড়ায় ১ লাখ ৪৭ হাজার ৬৪৪ দশমিক ৪০ মেট্রিক টন। কিন্তু বাস্তবে মজুদ ছিল প্রায় ৩ হাজার মেট্রিক টন কয়লা। অর্থাৎ ১ লাখ ৪৪ হাজার ৬৪৪ দশমিক ৪০ মেট্রিক টন কয়লা ঘাটতি রয়েছে যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ২৩০ কোটি টাকা বলে জানানো হয়। মামলায় বলা হয়, এই ঘটনায় চারজনের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। বাকি ১৫ জন আসামি অনেক আগে থেকেই তৎকালীন ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের যোগসাজসে সংঘটিত কয়লা চুরির ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে অনুমিত হয়। মজুদকৃত কয়লার হিসাবের গড়মিলের বিষয়টি দুর্নীতি দমন প্রতিরোধ আইনের ৫ (২) এবং ৪০৯ ধারা অনুযায়ী এজাহারভূক্ত করে তদন্ত সাপেক্ষে দোষিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।
প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা ১৮ নভেম্বর
অনলাইন ডেস্ক: প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা-২০১৮ শুরু হবে আগামি ১৮ নভেম্বর। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বুধবার ‘প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা ২০১৮’-এর জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় সমাপনী পরীক্ষা শুরুর সময় পরিবর্তন আনা হয়েছে। পরীক্ষা বেলা ১১টার পরিবর্তে সকাল সাড়ে ১০টায় শুরু হয়ে শেষ হবে বেলা ১টায়। তবে, বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত ২০ মিনিটের পরিবর্তে ৩০ মিনিট সময় বরাদ্দ থাকবে। এছাড়াও সরকারি ছুটি এবং খ্রিষ্টীয় ধর্মাবলম্বী সেভেন্থ-ডে অ্যাডভেন্টিস্ট সম্প্রদায়ভুক্ত পরীক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে সময়সূচিতে শনিবার পরীক্ষা রাখা হয়নি। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ এসব কথা জানানো হয়। এতে বলা হয়, পূর্বে এক উপজেলার খাতা অন্য উপজেলার শিক্ষক দ্বারা মূল্যায়ন করা হলেও এ বছর নিজ নিজ উপজেলায় পরীক্ষার্থীদের খাতা মূল্যায়ন করা হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ মূল্যায়ন কমিটির আহবায়ক ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সদস্য সচিব থাকবেন। কেন্দ্রীয়সহ বিভিন্ন পর্যায়ে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হবে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ আসিফ-উজ-জামান, অতিরিক্ত সচিব ড. এ এফ এম মনজুর কাদির ও অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) হাসিবুল আলম, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. আবু হেনা মোস্তফা কামাল, এনসিটিবি’র চেয়ারম্যান অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র সাহা, নেপের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. ইউসুফ আলী, বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা পরীবিক্ষণ ইউনিটের মহাপরিচালক এ.কে.এম আনোয়ার হোসেন ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. মাহামুদ-উল-হক সভায় উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় পাতার আরো খবর