আমরা একটি জনবান্ধব পুলিশি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে অঙ্গীকারবদ্ধ
থানায় সেবার মান উন্নত করার লক্ষ্যে পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী। তিনি জনগণের জন্য পুলিশি সেবা সহজ করা হচ্ছে। আজ রবিবার সকালে রাজধানীর মিরপুরে পুলিশ স্টাফ কলেজের (পিএসসি) ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স সেন্টারে ‘ইনোভেশন ইন পাবলিক সার্ভিস’ শীর্ষক পাঁচ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই প্রকল্প প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে সহায়তা দিচ্ছে। আইজিপি বলেন, ‘সমাজে প্রতিনিয়ত পরিবর্তন ঘটছে। জনগণের প্রত্যাশা ও চাহিদা বাড়ছে। জনগণকে সর্বোত্তম সেবা প্রদানের লক্ষ্যে পুলিশিংয়ের ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। আমরা একটি জনবান্ধব পুলিশি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে অঙ্গীকারবদ্ধ।’ তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে পুলিশি সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছানোর মাধ্যমে সরকারের ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ বাস্তবায়নে পুলিশ নিরন্তর কাজ করছে বলে জানান আইজিপি। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে অনলাইন পুলিশ ক্লিয়ারেন্স, ই-ট্রাফিকিং প্রসিকিউশন, বিডি পুলিশ হেল্পলাইন ইত্যাদি প্রযুক্তিগত সেবা চালুর মাধ্যমে জনগণকে পুলিশি সেবা প্রদান সহজ করা হয়েছে। জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’ কার্যক্রমের উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, এ সেবা চালুর ফলে জনগণ দ্রুত পুলিশি সহায়তা, ফায়ার সার্ভিস ও অ্যাম্বুলেন্স সেবা পাচ্ছে। ইতোমধ্যে ‘৯৯৯’ কার্যক্রম জনগণের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। জনগণের সেবাপ্রাপ্তি সহজ ও দ্রুততম সময়ে দেয়ার লক্ষ্যে ইনোভেশন প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে জানিয়ে আজিপি আশা প্রকাশ করেন, প্রশিক্ষণার্থী পুলিশ কর্মকর্তারা প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান কাজে লাগিয়ে জনগণকে দ্রুততম সময়ে উন্নত সেবা দিতে সক্ষম হবেন। কর্মশালায় বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের ৩৫ জন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং সহকারী পুলিশ সুপার অংশ নিচ্ছেন। পিএসসির রেক্টর (অতিরিক্ত আইজিপি) ড. এম সাদিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত আইজিপি (এইচআরএম) মো. মহসিন হোসেন এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গর্ভনেন্স ইনোভেশন ইউনিটের মহাপরিচালক মো. আবদুল হালিম। এ ছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই প্রকল্পের লিড ফ্যাসিলিটেটর মো. সানাউল হক, পুলিশ স্টাফ কলেজের অনুষদ সদস্যবৃন্দ প্রমুখ।
রাষ্ট্রপতি চাইলে ক্ষমা করে দিতে পারেন
কারামুক্তির জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাইতে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে পরামর্শ দিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি চাইলে ক্ষমা করে দিতে পারেন। রোববার দুপুরে শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার রূপনারায়ণকুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় চত্বরে ঈদ উপলক্ষে উপহার সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন কৃষিমন্ত্রী। মতিয়া চৌধুরী বিএনপিকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আপনারা যদি ছাড়া পাইতে চান, মুক্তি চান, রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমার আবেদন করবেন, ক্ষমা ভিক্ষা করবেন। রাষ্ট্রপতি যদি করেন তাহলে হবে, নাহলে হবে না। কাজেই আমাদের দুইষা কোনো লাভ নাই, শেখ হাসিনার দোষ দিয়া কোনো লাভ নাই।’ খালেদা জিয়ার বিচার প্রক্রিয়ার কথা উল্লেখ করে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘রাজনীতির বিচার না, চুরির বিচার হচ্ছে। চুরি আমার গ্রামের রহিমন-করিমনরা করলে সেই চুরিতে সাজা হবে, আর আপনি একেবারে বঙ্গের লাট, আপনে চুরি করলে আপনেরে শাস্তি দেওন যাইতো না। আর শাস্তি তো দিছে কোর্টে।’ এ সময় কৃষিমন্ত্রীর সঙ্গে শেরপুরের জেলা প্রশাসক ড. মল্লিক আনোয়ার হোসেন, পুলিশ সুপার ও অতিরিক্ত ডিআইজি রফিকুল হাসান গনি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তরফদার সোহেল রহমানসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রী উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের অষ্টম ও নবম শ্রেণির মেধাবী প্রথম ১০ জনের মাঝে মোট ১৬৭টি থ্রি-পিস, ১৩৫টি শাড়ি বিতরণ করা হয়। দশম শ্রেণির মেধাবী প্রথম দশজন করে মোট ১৩৫ জন শিক্ষার্থীর মাঝে প্রণোদনার ৫০০ টাকা করে করা হয়। এসব ছাড়াও মন্ত্রী গরিব ও দুঃস্থদের মাঝে তিন হাজার ৯০০ শাড়ি, ৮৫০টি ট্রাউজার-গেঞ্জি সেট, পাঁচটি শার্ট ও খেজুর বিতরণ করেন।
কেউই এই উন্নয়নের ধারাবাহিকতাকে রুখতে পারবে না
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ২০৪১ সাল নাগাদ বাংলাদেশ উন্নত সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হবে। কেউ এই অগ্রগতিকে রুখতে পারবে না। আজ রবিবার ধরলা নদীর ওপর দ্বিতীয় সেতু উদ্বোধনকালে এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, অবশ্যই একটি উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে ওঠার আমাদের স্বপ্ন সফল হবে এবং কেউই এই উন্নয়নের ধারাবাহিকতাকে রুখতে পারবে না। আমি হয়তো আমার জীবদ্দশায় তা দেখে যেতে পাববো না, কিন্তু নতুন প্রজন্ম আমাদের এই কাজের সুফল ভোগ করবে। আজ সকালে তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় তাঁর নামে নবনির্মিত শেখ হাসিনা ধরলা সেতুর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এই সেতু এই এলাকার জনগণের আর্থসামাজিক উন্নয়ন এবং ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসারে ভূমিকা রাখবে। এটি লালমনিরহাট ও রংপুর জেলা এবং নাগেশ্বরী ও ভুরুঙ্গামারী উপজেলাকে সংযুক্ত করবে। আওয়ামী লীগ জনগণকে দেয়া ওয়াদা রাখে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী স্মরণ করেন, এই ধরলা নদীর ওপর প্রথম সেতুটিও আওয়ামী লীগ ১৯৯৬-২০০১ সাল মেয়াদে সরকারে থাকার সময়ই নির্মাণ করেছিল। কিন্তুু, মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় প্রধানমন্ত্রী সেতুটির উদ্বোধন করে যেতে না পারায় বিএনপি এর সাফল্যে দাবিদার হয়ে যায়। শেখ হাসিনা বলেন, ধরলার প্রথম সেতু আমি উদ্বোধন করে যেতে পারিনি। তা পরবর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের মাস-দুয়েকের মধ্যে উদ্বোধন করে। কিন্তু তারা তখন বলে আগের সরকার কোনো উন্নয়ন করেনি। অথচ আমাদের করা সেতুই তারা উদ্বোধন করেছে। যদিও পরবর্তীতে ওই সেতু দিয়ে যাতে আমি চলাচল করতে না পারি সেজন্য পাথর ফেলে তা বন্ধ করেও রাখা হয়েছিল। বহুল প্রতীক্ষিত এই সেতুটি স্থানীয় জনগণের জন্য পবিত্র ঈদুল ফিতরের উপহার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী এর রক্ষণাবেক্ষণে যত্নবান হওয়ার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ধরলার দ্বিতীয় সেতুটি কুড়িগ্রাম, রংপুর ও লালমনিরহাটের মানুষকে আমি ঈদ উপহার হিসেবে দিয়েছি। এটি আপনারা রক্ষণাবেক্ষণ করবেন। বাসস।
বিআরটিসির ঈদ স্পেশাল সার্ভিস শুরু
আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বিগত বছরের মতো এ বছরও বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট করপোরেশন (বিআরটিসি) ঘরমুখো মানুষের সহজ ও আরামদায়ক যাত্রা নিশ্চিতের লক্ষ্যে আগামী ১৩ জুন থেকে ঈদ স্পেশাল সার্ভিস এর আয়োজন করা হয়েছে। আগামী ৫ জুন হতে বিআরটিসির সংশ্লিষ্ট ডিপো হতে অগ্রিম টিকেট বিক্রয় শুরু হবে বলে এক সরকারি তথ্য বিবরণীতে জানানো হয়েছে। রাজধানীর মতিঝিল, জোয়ারসাহারা, কল্যাণপুর, মোহাম্মদপুর, গাবতলী, মিরপুর, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী বাস ডিপো ও ঢাকা ফুলবাড়িয়ার সিবিএস-২ হতে বিভিন্ন রুটের (ঢাকা হতে) আগাম টিকেট বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়েছে। তথ্য বিবরণীতে জানানো হয়েছে, মতিঝিল ডিপোর নিয়ন্ত্রণে ঢাকা-নাগরপুর, দাউদকান্দি, বাজিতপুর, খুলনা, দিনাজপুর, নেত্রকোনা রুট; কল্যাণপুর ডিপোর নিয়ন্ত্রণে রংপুর, পঞ্চগড়, কুড়িগ্রাম, গাইবান্দা, কুষ্টিয়া, রাজশাহী, নওগাঁ, শেরপুর, জামালপুর, নেত্রকোনা, নাগরপুর, গোবিন্দগঞ্জ, রানীসংকর, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর রুট। গাবতলী ডিপোর নিয়ন্ত্রণে রংপুর, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও রুট। জোয়ারসাহারা ডিপোর নিয়ন্ত্রণে বিশ্বরোড-পাঁচদোনা, রংপুর, নওগাঁ, জয়পুরহাট, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ ও বগুড়া রুট। মিরপুর ডিপোর নিয়ন্ত্রণে রংপুর, কুষ্টিয়া, কুড়িগ্রাম, দিনাজপুর ও নওগাঁ রুট এবং মোহাম্মদপুর ডিপোর নিয়ন্ত্রণে রংপুর রুট। এছাড়া, গাজীপুর ডিপোর নিয়ন্ত্রণে বিশ্বরোড-পাঁচদোনা, কিশোরগঞ্জ, টাঙ্গাইল, জামালপুর, নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ, রংপুর, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও রুট; নারায়ণগঞ্জ ডিপোর নিয়ন্ত্রণে ঢাকা-মাওয়া, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা-মেঘনা উপজেলা, বিশ্বরোড-পাঁচদোনা রুট; কুমিল্লা ডিপোর নিয়ন্ত্রণে ঢাকা-গৌরিপুর, ঢাকা-কুমিল্লা-বরুরা রুট এবং নরসিংদী ডিপোর নিয়ন্ত্রণে ঢাকা-নরসিংদী, ঢাকা-ভৈরব রুটে যাত্রী সাধারণকে বিআরটিসির ঈদ-স্পেশাল সার্ভিসের সেবা গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।বাসস
মাদকবিরোধী অভিযান ,রাজধানীতে আটক ৯৬ জন
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদক সেবন ও বিক্রির দায়ে ৭০ জনকে আটক করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। শনিবার (০২ জুন) দিবাগত রাত থেকে শুরু করে রোববার (০৩ জুন) পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় বিভিন্ন এলাকায় মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে তাদের আটক করা হয় বলে জানিয়েছেন ডিএমপি উপ-কমিশনার মো.মাসুদুর রহমান। তিনি জানান, তাদের কাছ থেকে ৫ হাজার ৯৪৭ পিস ইয়াবা, ৮০৭ পুরিয়া হেরোইন, গাঁজা, ফেন্সিডিল, মদ ও ইনজেকশন পাওয়া গেছে। তিনি আরও জানান, তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ৫৩টি মামলা করা হয়েছে। এদিকে, রাজধানীর তেজগাঁও ও মোহাম্মদপুরে অভিযান চালিয়ে আরও ২৬ জন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র‌্যাব-২ এর সদস্যরা। শনিবার দিবাগত রাতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয় বলে জানিয়েছেন র‌্যাবের মিডিয়া উইংয়ের সহকারি পরিচালক এএসপি মিজানুর রহমান। তিনি জানান, দেশজুড়ে চলমান মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানের ধারাবাহিকতায় তেজগাঁও ও মোহাম্মদপুর এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় ২৬ জন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়। তবে আটককৃতদের নাম-পরিচয় জানাতে পারেন নি তিনি।
মাদকবিরোধী অভিযান চলবে
কোনো ধরনের আন্তর্জাতিক চাপ বা জাতিসংঘের পর্যবেক্ষণ কোনো সমস্যা নয়, মাদকবিরোধী অভিযান চলবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। রোববার (৬ জুন) দুপুরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে মেট্রোরেলের একটি চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে এ কথা বলেন তিনি। সেতুমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মাদকবিরোধী অভিযান জাতিসংঘ পর্যবেক্ষণ করছে। তবে মাদক নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত এ অভিযান চলবে। কোনো আন্তর্জাতিক চাপের কাছে সরকার নতি স্বীকার করবে না। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অপরাধ প্রমাণিত হলে কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদিও ছাড় পাবে না। মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে বিএনপির সমালোচনার জবাবে ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, তাদের রাজনীতি জনগণের কাছ থেকে সংকুচিত হয়েছে। যে কারণে হতাশা থেকে তারা আবোল-তাবোল বকছে। এই অভিযানে সরকারের জনপ্রিয়তা আরো বেড়ে গেছে। এর আগে শুক্রবার জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ বিষয়ক দপ্তর অফিস ফর ড্রাগস অ্যান্ড ক্রাইম (ইউএনওডিসি) জানায়, তারা বাংলাদেশে চলমান মাদকবিরোধী অভিযানের বিষয়ে পর্যবেক্ষণ শুরু করেছে। পাশাপাশি মাদক নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে মানবাধিকার সংশ্লিষ্ট কৌশল অবলম্বনের জন্য সব সদস্য দেশের প্রতি আহ্বান জানায় সংস্থাটি।
জিসেভেন আউটরিচ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ
জিসেভেন আউটরিচ সম্মেলনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো।আগামী ৯ জুন অনুষ্ঠেয় ওই আউটরিচ সম্মেলনে বিশ্বের কয়েকজন নেতার সঙ্গে শেখ হাসিনাকেও এ আমন্ত্রণ জানানো হয়।কানাডার প্রধানমন্ত্রীর দফতরের ওয়েবসাইটে এক বিজ্ঞপ্তিতে এতথ্য জানানো হয়েছে। ওই আউটরিচ সেশনে কয়েকটি দেশের সরকারপ্রধান ছাড়াও আন্তর্জাতিক কয়েকটি সংস্থার প্রধানকিও আমন্ত্রণ জানিয়েছে কানাডা। এবার আউটরিচ সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য সমুদ্রকে দূষণ থেকে রক্ষা করা এবং উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের প্রতিকূলতা মোকাবেলার সক্ষমতা বৃদ্ধি। এর আগে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের আমন্ত্রণে ইসেশিমায় অনুষ্ঠিত জি-সেভেন সম্মেলনের আউটরিচ মিটিংয়ে যোগ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
যেকোনো মূল্যে রাজধানী থেকে মাদক নির্মূল করা হবে
যেকোনো মূল্যে রাজধানী থেকে মাদক নির্মূল করা হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে আমরা আজকে মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেমেছি। মাদক ব্যবসায়ী যেই হোক, যত বড় ক্ষমতাশালীই হোক, যে দলেরই হোক, যে পেশার হোক, এমনটি আমার পুলিশ বাহিনীর হলেও তাকে কোনো ছাড় দেয়া হবে না। যেকোনো মূল্যে যেকোনো কিছুর বিনিময়ে এই ঢাকা শহর থেকে মাদককে নির্মূল করা হবে। মাদকের ব্যবসা করে কেউ পার পাবে না। রোববার দুপুরে আজিমপুর গভর্নমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজে অসহায় ও দুঃস্থদের মধ্যে ঈদবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। ডিএমপি কমিশনার বলেন, ঢাকা মহানগরীতে মাদকের কোনো আখড়া থাকতে দেয়া হবে না। সব আখড়া গুড়িয়ে দেয়া হবে। এসময় মাদক ব্যবসায়ী ও তাদের আখড়াগুলোর তথ্য পুলিশকে দেয়ার জন্য সাধারণ জনগণের প্রতি আহ্বান জানান ডিএমপি কমিশনার। তিনি বলেন, আসুন আমরা একসঙ্গে মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করি। যেমনটি আমরা করেছিলাম জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে। যে সন্তান হতে পারতো দেশ ও সমাজের সম্পদ, মাদকের কারণে সে হয়ে ওঠে সমাজ, দেশ ও পরিবারের বোঝা। মাদকের বিরুদ্ধে যে অভিযান চলছে, সে অভিযানে সবাইকে সহযোগিতা করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। মাদক ব্যবসায়ী ও তাদের আখড়া সম্পর্কে পুলিশকে আপনারা তথ্য দিন, আপনাদের পরিচয় গোপন থাকবে। মাদকবিরোধী অভিযানে কাউকে হয়রানি করা হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করার হুশিয়ারি দিয়ে তিনি আরো বলেন, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও মাদক নির্মূলের নামে কোনো হয়রানি করা হলে কর্মকর্তা-কর্মচারী যেই হোক তাদের বিরুদ্ধে আমরা দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেব। আছাদুজ্জামান বলেন, আসন্ন ঈদ উপলক্ষে নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রস্তুতি আগে থেকেই নেয়া হয়েছে। এই রমজানে ছিনতাইকারী, অজ্ঞানপার্টি, টিকিট কালোবাজারিদের তৎপরতার কোনো তথ্য নেই। কারণ রমজান শুরুর দুইমাস আগে থেকেই আমরা পোশাকে ও সাদা পোশাকে এই অপরাধীদের দমনে মাঠে নেমেছি। আমরা বলতে চাই, জনগণের নিরাপত্তা কেউ যদি বিঘ্ন করে, তাহলে আমরা কঠোর হাতে তা দমন করব। জনগণের নিরাপত্তা দিতে আমরা বদ্ধপরিকর। তিনি বলেন, আবার ঈদের ছুটিতে প্রত্যেকটি পাড়া-মহল্লায় শপিং মলে বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থাও নেয়া হয়েছে। এছাড়াও ঈদের সময় আমরা বাস, ট্রেন, লঞ্চ টার্মিনালে আমরা নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিয়েছি, যাতে মানুষ নির্বিঘ্নে গ্রামের বাড়িতে যেতে পারে।

জাতীয় পাতার আরো খবর