সওজ কর্মীদের ছুটি বাতিল
ঈদুল ফিতরে সড়ক পথে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের (সওজ) সব কর্মীর ছুটি বাতিল করেছে সরকার। ১৫ জুন থেকে ঈদের তৃতীয় দিন পর্যন্ত সব ছুটি বাতিল করে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ থেকে এ বিষয়ে অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে। আদেশে বলা হয়েছে, আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করার লক্ষ্যে সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের সব গ্রেডের কর্মচারীদের ছুটি আগামী ১৫ জুন থেকে ঈদুল ফিতর পরবর্তী ৩ দিন পর্যন্ত বাতিল করা হল। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ১৬ বা ১৭ জুন দেশে মুসলমানদের সবেচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর পালিত হবে। ১৬ জুন ঈদ হলে ১৫, ১৬ ও ১৭ জুন সরকারি ছুটি, ১৭ জুন ঈদ হলে সেক্ষেত্রে সরকারি ছুটি আরও একদিন বাড়বে। সেক্ষেত্রে ১৮ জুনও ছুটি থাকবে। দেশে বিভিন্ন স্থানে ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তার খবর বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে এসেছে, এতে ঈদযাত্রায় ভোগান্তির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
শেখ হাসিনা ধরলা সেতু উদ্বোধন
দেশের উত্তরাঞ্চলের দ্বিতীয় বৃহত্তম সড়ক সেতু শেখ হাসিনা ধরলা সেতু উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রোববার বেলা পৌনে ১১টায় তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সেতুটির শুভ উদ্বোধন করেন তিনি। সেতুটি আজই সর্বসাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে স্থানীয় জনসাধারণের সঙ্গে কথা বলে সেতুটি উদ্বোধন ঘোষণা করেন। সেতুটি কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও রংপুরের জনগণের জন্য ঈদ উপহার হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন প্রধানমন্ত্রী। কুড়িগ্রাম এলজিইডির তত্ত্বাবধানে সম্পূর্ণ দেশীয় অর্থ ও প্রযুক্তিতে এই গার্ডার সেতুটির নির্মিত হয়েছে। ১৯১ কোটি টাকা ব্যয়ে ৯৫০ মিটার দীর্ঘ এই সেতুটি উত্তারাঞ্চলের দ্বিতীয় বৃহত্তম সড়ক সেতু। এই সেতুটি উত্তর ধরলার তিনটি ইউনিয়নসহ কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট জেলার আর্থসামাজিক উন্নয়নে বড় ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী। সেতুর সুবিধা পাবেন কমপক্ষে ২০ লাখ মানুষ। এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১২ সালের ২০ সেপ্টেম্বর এই সেতুটির নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন। সেতুটি নির্মাণ করছে সিমপ্লেক্স এবং নাভানা কনস্ট্রাকশন গ্রুপ। ৯৫০ মিটার দীর্ঘ ও ৯ দশমিক ৮০ মিটার চওড়া সেতুটির ১৯টি স্প্যান ও ৯৫টি গার্ডার রয়েছে। দৈর্ঘ্যে বঙ্গবন্ধু সেতুর পর এই সেতুর অবস্থান বলে নির্মাণকারী সংস্থা এলজিইডির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এলজিইডি সূত্রে আরো জানা গেছে, মূল সেতুর নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ১৩১ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। ফুলবাড়ী ও লালমনিরহাট অংশে দুই হাজার ৯১৯ মিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণ বাবদ ১৩ কোটি ৯ টাকা, তিন হাজার ৪৮০ মিটার নদী শাসনে ৪৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা, দুই কোটি ৩৩ লাখ টাকা ব্যয়ে জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে ১৩ একর।
মাদকবিরোধী অভিযানে গভীর নজর জাতিসংঘের
বাংলাদেশের মাদকবিরোধী অভিযানে গভীরভাবে দৃষ্টি রাখছে জাতিসংঘ। শনিবার জাতিসংঘের অফিস অন ড্রাগস অ্যান্ড ক্রাইমের (ইউএনওডিসি) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিবৃতিতে সদস্য দেশগুলোকে মাদক নিয়ন্ত্রণে ভারসাম্য এবং মানবাধিকার রক্ষার প্রতিশ্রুতি মেনে চলারও আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। মাদক নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে তিনটি আন্তর্জাতিক কনভেনশনেরও উল্লেখ করেছে ইউএনওডিসি। সংস্থাটির বিবৃতিতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক মান ও রীতিনীতির সঙ্গে সংগতি রেখে আইনি ব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক মান ও নীতি অনুসরণ, প্রমাণভিত্তিক প্রতিরোধ উন্নয়ন, পুনর্বাসন ও সমাজের সাথে আবারো সম্পৃক্ত হওয়ার লক্ষ্যকে সামনে রেখে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে সব দেশের সাথে কাজ করতে প্রস্তুত ইউএনওডিসি।
এতিম শিশুদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার বিতরণ
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধীতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর ছোট বোন শেখ রেহানা তার সঙ্গে ছিলেন। পরে তিনি দুস্থ শিশুদের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ করেন। শনিবার বেলা ১২টার দিকে বঙ্গবন্ধু সমাধিসৌধ কমপ্লেক্সে আনুষ্ঠানিকভাবে শিশুদের মাঝে উপহার বিতরণ করা হয়। বঙ্গবন্ধু সমাধিসৌধ কমপ্লেক্সে প্রতিষ্ঠিত শেখ রাসেল দুঃস্থ শিশু প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের এতিম শিশুদের মধ্যে ঈদের শুভেচ্ছা উপহার বিতরণ করেন শেখ হাসিনা। ওই কেন্দ্রের ৩শ শিশুকে এ উপহার দেয়া হয়। এর মধ্যে ১৫ শিশুর হাতে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি উপহার তুলে দেন। প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে ঈদের উপহার পাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় শিশুরা জানিয়েছে, এতিম বলে তাদের উপহার দেওয়ার মতো কেউ নেই। কিন্তু তাদেরই যে প্রধানমন্ত্রী ঈদ উপহার দেবেন, তারা সেটা কখনো ভাবেনি। এই উপহার তাদের কাছে ঈদের প্রকৃত আনন্দ পাওয়ার সমতুল্য। প্রধানমন্ত্রীর সাফল্য, সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে শিশুরা। উপহার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছোট বোন শেখ রেহানা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর চাচাতো ভাই শেখ সালাউদ্দিন জুয়েল, গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি চৌধুরী এমদাদুল হক, সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব আলী খান, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোখলেসুর রহমান সরকার প্রমুখ। এর আগে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধীতে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে তিনি ছোট বোন শেখ রেহানাকে সাথে নিয়ে বঙ্গবন্ধু ও পরিবারের নিহত সদস্যদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন। পরে বঙ্গবন্ধু ভবনে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে মত বিনিময় করেন। সকল কর্মসূচি শেষে ১টা ৫০ মিনিটে হেলিকাপ্টার যোগে ঢাকার উদ্দেশ্যে টুঙ্গিপাড়া ত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রী।
পরিবহন খাতের নৈরাজ্য মহামারি আকার ধারণ করেছে
পরিবহন খাতের নৈরাজ্য মহামারি আকার ধারণ করেছে বলে অভিযোগ করেছেন দেশের সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। পরিবেশকর্মী উত্তম দেবনাথ গাড়ি চাপায় নিহতের প্রতিবাদে শনিবার (২ জুন) দুপুরে রাজধানীর শাহবাগে ২৪ টি সংগঠন আয়োজিত এক মানববন্ধনে একথা বলেন তারা। এ সময় প্রতিনিধিরা বলেন, সুশাসন ও জবাবদিহিতার অভাবেই এখাতে নৈরাজ্য বন্ধ করা যাচ্ছে না। প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা বলেন, ‘কোনো একক সংগঠনের ওপর দায়িত্ব ছেড়ে দিলে হবে না। সচেতনতা প্রত্যেকের থাকতে হবে।’ গণস্বাক্ষরতা অভিযানের সভাপতি রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, ‘বিচারহীনতার সংস্কৃতি কি আমাদের জেকে বসবে? আমরা কি বিচার পাব না? প্রতিটি মানুষ ভ্যাট, ট্যাক্স দিয়ে সরকারকে অর্থের যোগান দিচ্ছে। আমরা কি দাবি করতে পারি না? এই নৈরাজ্য চলবে না। আমরা আর সড়কে আমাদের স্বজন, সহকর্মীদের হারাতে চাই না।’ বাপা সভাপতি সুলতানা কামাল বলেন, ‘জবাবদিহিতার মাধ্যমে আমরা এমন একটা জাতিতে পরিণত হয়েছি যে আমাদের মানসিক ভারসাম্য পর্যন্ত চলে যাচ্ছে। প্রতিটি মানুষ অন্যায় করছে বলেই প্রতিদিন সড়কে ১৫ থেকে ১৬ জন সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাচ্ছে। এরপর যখন সরকার মনে করবে সড়ক দুর্ঘটনা থামানো দরকার তখন আর এক প্রকার ‘বন্দুকযুদ্ধ’ শুরু হবে। কারণ সরকারের সমস্যা সমাধানের একটা পথ জানা আছে সেটা হলো বন্দুকযুদ্ধ বা ক্রসফায়ার।
মাদক ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করার আহ্বান
রাজধানীতে মাদক বা জঙ্গিবিরোধী অভিযানের নামে কোনো নিরীহ লোককে হয়রানি করলেই আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। শনিবার রাজধানীর পল্টন কমিউনিটি সেন্টারে ঈদের পোশাক বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। ডিএমপি কমিশনার বলেন, ডিএমপি এলাকায় মাদকবিরোধী বা জঙ্গিবিরোধী অভিযানের নামে কোনো নিরীহ লোককে হয়রানি করা যাবে না। যদি করা হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি বলেন, মাদক ব্যবসায়ীরা যেই হোক, তাদের যেকোনো মূল্যে বিচারের আওতায় আনা হবে। মাদকের সকল আস্তানা ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়া হবে। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক উল্লেখ করে ডিএমপি কমিশনার বলেন, আজ ১৬ রমজান, এখন পর্যন্ত ঢাকা শহরে কোনো ছিনতাই নেই, কোনো ডাকাতি নেই। কোনো দস্যুতা নেই, কোনো অজ্ঞানপার্টি বা মলম পার্টি নেই। গভীর রাত পর্যন্ত মানুষ শপিংমলে কেনাকাটা করছে। কারণ আমরা সারা রাত-দিন আপনাদের পাহারা দিচ্ছি। তিনি বলেন, বিশ্ব যেখানে জঙ্গি দমন করতে পারেনি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে বাংলাদেশ জঙ্গি দমন করতে পেরেছে। আমরা বলতে চাই, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বেই আমরা বাংলাদেশের মাটি থেকে এই মাদক নামের ক্যান্সারকে ধ্বংস করব। মাদক ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা তাদের ধরে নিয়ে আসব। আপনাদের কাছে অনুরোধ কেউ মাদকের সঙ্গে যুক্ত হবেন না, কেউ মাদক সেবন করবেন না।
ইয়াবা দিয়ে সাংবাদিককে ফাঁসানোর চেষ্টা :
হবিগঞ্জে সাংবাদিককে মারধরের পর ইয়াবা মামলায় ফাঁসানোর ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সহকারী পুলিশ সুপার রবিউল ইসলামকে প্রধান করে এ কমিটি গঠন করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে যুক্তরাজ্যভিত্তিক চ্যানেল এস-এর হবিগঞ্জ প্রতিনিধি সিরাজুল ইসলাম জীবনকে ধরে থানায় নিয়ে মারধর করে পুলিশ। এসময় তার কাছে দুই লক্ষ টাকা চাঁঁদা দাবি করে পুলিশ। চাদা দিতে রাজি না হলে তার চোখ মুখ বেধে ও পায়ুপথে গলিত মোম ঢেলে নির্যাতন করা হয়। এতে সে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। শুক্রবার বিকেলে জীবন ও তার ছোট ভাইকে হবিগঞ্জ কোর্টের হাজতে দেখতে যায় গণমাধ্যমকর্মীরা। সে সময় দেখা যায় জীবন দাঁড়াতে পারছেন না। তার শরীরের পেছনের অংশে রক্ত জমাট বেঁধে লাল হয়ে গেছে। এসময় সহকর্মীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন জীবন। জীবন সাংবাদিকদের বলেন, আমাকে ও আমার ভাইকে পুলিশ বাসায় বেধড়ক লাঠিপেটা করে চোখ বেঁধে থানায় নিয়ে আসে। তারপর থানা হাজতে নিয়ে এসে পুলিশ আমার কাছে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাদা দিতে রাজি না হলে চালানো হয় অকথ্য নির্যাতন। একপর্যায়ে আমাদের দুইভাইয়ের পায়ুপথে উত্তপ্ত গলানো মোম ঢেলে দেয়। এসময় পুলিশ আমাদেরকে এ নির্যাতনের বিষয়ে কাউকে কিছু না বলার কথা বলে এবং আরো সতর্ক করে বলে যদি কাউকে এ বিষয়ে বলি তাহলে ক্রসফায়ারে মেরে ফেলার হুমকি দেয় সদর থানার এসআই রকিবুল হাসান। তিনি বলেন, হবিগঞ্জ খোয়াই নদীর অবৈধ বালু উত্তোলন নিয়ে রিপোর্ট করায় তার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে স্থানীয় বালুখেকোরা। এ কারণে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতরা পুলিশকে ইন্ধন দেয়। এরপর হবিগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ইয়াছিনুল হকের নির্দেশে এসআই রকিবুল হাসান ২ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দেয়ায় আমাকে ও আমার ভাইর উপর পুলিশ অকথ্য নির্যাতন করেছে। তারপর পুলিশ আমরা দুই ভাইয়ের উপর ইয়াবা বিক্রির অভিযোগ তুলে। সিরাজুল ইসলাম জীবনের ছোট বোন মোছা. পারভীন আক্তার বলেন, গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টায় ৪/৫ জন পুলিশ আমাদের দোকানে যায়। তারপর ইয়াবা বিক্রির অভিযোগ তুললে আমার ভাই সাংবাদিক জীবন পুলিশের সাথে কথা বলতে চাইলে পুলিশ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। তারপর সদর থানা থেকে আরো দুই ভ্যান পুলিশ এসে আমার দুই ভাইকে হাতে হ্যান্ডকাফ লাগিয়ে বেধড়ক লাঠিপেটা করে। আমরা আটকাতে চাইলে পুলিশ আমাদেরও মারপিট করে। গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে গেলে আমাদের থানায় ঢুকতে দেয়া হয়নি। সাংবাদিক জীবনকে নির্যাতন ও তার কাছে চাঁদা দাবির বিষয়ে জানতে চাইলে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো.ইয়াছিনুল হক বলেন, এসআই রকিবুল হাসানের সঙ্গে কথা বলেন। তবে এসআই রকিবুল হাসান সাংবাদিক জীবনের সবগুলো অভিযোগ অস্বীকার করেন। এদিকে, সাংবাদিক সিরাজুল ইসলাম জীবনকে ইয়াবা বিক্রির মিথ্যা অভিযোগে গ্রেপ্তার করে অমানবিক নির্যাতন করায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন গণমাধ্যমকর্মীরা। গতকাল শুক্রবার দুপুরে হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবে এনিয়ে প্রতিবাদ সভা ও পরে সদর থানার সামনে রাস্তায় বসে বিক্ষোভ করে হবিগঞ্জে কর্মরত গণমাধ্যমকর্মীরা। এ বিষয়ে জেলার পুলিশ সুপার বিধান ত্রিপুরা জানান, সহকারী পুলিশ সুপার রবিউল ইসলামকে প্রধান করে এ কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে তিন কার্য দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সুত্র আমার সংবাদ
একরাম নিহতের ঘটনায় জড়িতদের ছাড় দেওয়া হবে না
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের টেকনাফে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ স্থানীয় কাউন্সিলর একরামুল হকের নিহত হওয়ার ঘটনা প্রসঙ্গে বলেছেন, পুরো ঘটনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় যদি কেউ জড়িত থাকে, তার যথোপযুক্ত বিচার হবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। আজ শনিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বিআরটিসির মহিলা বাস সার্ভিস উদ্বোধনের শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় সেতুমন্ত্রী ‘দোলন চাঁপা’ বাস সার্ভিস সম্পর্কে বলেন, বাসটিতে প্রাথমিক চিকিৎসা, সিসিটিভিসহ নিরাপদ ও আরামদায়ক ব্যবস্থা আছে। বাসগুলো মিরপুর সার্কেল থেকে আজিমপুর, মিরপুর ১২ থেকে মতিঝিল রুটে চলাচল করবে।
একরামুল হকের নিহত হওয়ার বিষয়টি তদন্ত করা হবে
টেকনাফ উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি ও পৌর কাউন্সিলর একরামুল হকের নিহত হওয়ার বিষয়টি তদন্ত করা হবে। আর এই বিষয়টি একজন ম্যাজিস্ট্রেট তদন্ত করবেন বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। শনিবার দুপুরে ধানমন্ডিতে নিজ বাসায় সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ওই ম্যাজিস্ট্রেট্রের দেয়া রিপোর্ট অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। কেউ যদি প্রলুব্ধ হয়ে এই ঘটনা ঘটিয়ে থাকেন তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। এদিকে একরামের পরিবারের থেকে কেউ আমাদের কাছে কোনো অভিযোগ করেননি বলে সাংবাদিকদের জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। একরামের মৃত্যু সম্পর্কে জানা গেছে, ২৯ মে দিবাগত রাত ১টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের নোয়াখালিয়াপাড়ায় র‌্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন টেকনাফ পৌরসভার তিনবার নির্বাচিত কাউন্সিলর একরামুল হক। তিনি টেকনাফ পৌরসভার কায়ুকখালী পাড়ার মৃত আবদুস সাত্তারের ছেলে। এছাড়াও তিনি টেকনাফ উপজেলা যুবলীগের ১৩ বছর দায়িত্বপালনকারী সাবেক সভাপতি, টেকনাফ বাস স্টেশন ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ও টেকনাফ মাইক্রো শ্রমিক ইউনিয়নের আহ্বায়ক ছিলেন। অপরদিকে, বন্দুকযুদ্ধে কাউন্সিলর একরামুল হক নিহত হবার ঘটনায় র‌্যাব-৭ কক্সবাজার ক্যাম্প থেকে ই-মেইলে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তার বাবার নাম উল্লেখ করা হয়েছে মোজাহার মিয়া ওরফে আবদুস সাত্তার। বাড়ি টেকনাফ পৌরসভার নাজিরপাড়া। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের তালিকাভুক্ত শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী, শীর্ষ গডফাদার, তার বিরুদ্ধে টেকনাফ থানায় মাদক আইনে মামলা রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয় প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে।

জাতীয় পাতার আরো খবর