শনিবার, এপ্রিল ১৭, ২০২১
করোনার এই দুর্যোগে ঐক্যের কোন বিকল্প নেই:ওবায়দুল কাদের
০১মে,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন,করোনার এই দুর্যোগে ঐক্যের কোন বিকল্প নেই। ঐক্যবদ্ধভাবে এই দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে চলমান কার্যক্রমকে সম্মিলিত প্রয়াসে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। ওবায়দুল কাদের আজ সকালে তাঁর সরকারি বাসভবনে ব্রিফিংকালে এসব কথা বলেন। সামনে থেকে করোনা যুদ্ধে যারা সাহসীকতার পরিচয় দিচ্ছেন তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন,করোনা যোদ্ধাদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তার বিষয়টি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনায় নিয়েছে সরকার। তিনি বলেন, সকলের সম্মিলিত প্রয়াসে অচিরেই করোনার কালো মেঘ কেটে যাবে ইনশাআল্লাহ। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন,সাহস হারানোর কোন কারণ নেই, আমাদের রয়েছে শেখ হাসিনার মতো একজন সাহসী ও সৎ নেতৃত্ব। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন,করোনা সংক্রমণ বিষয়ে টেস্টিং ক্যাপাসিটি বৃদ্ধি করা হয়েছে, সেক্ষেত্রে ২৯টি বেসরকারি হাসপাতালকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। মহান মে দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দেশের সকল শ্রমজীবী মানুষদের আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান ওবায়দুল কাদের।
ভাইরাসে আক্রান্ত পুলিশের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৭৭ জনে
০১মে,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস এখন পর্যন্ত প্রাণ কেড়েছে চার পুলিশ সদস্যের। গত ২৪ ঘন্টায় এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ১৩৯ জন পুলিশ সদস্য। সারা দেশে সর্বমোট আক্রান্ত পুলিশের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৭৭ জনে। যা গতকাল ছিলো ৫৩৮। গত ২৩শে এপ্রিল আক্রান্তের সংখ্যা ছিলো ২১৮। ২৮শে এপ্রিল ছিলো ৩৯২ জন। এভাবে প্রতিদিনই পুলিশে বাড়ছে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা। কোয়ারেন্টাইনে আজ পর্যন্ত রয়েছেন ১ হাজার ১শ ৫৪ জন। গতকাল কোয়ারেন্টাইনে ছিলেন ১ হাজার ১শ১৭ জন। এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ৫২ জন। পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য। এ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন ঢাকায় কর্মরত পুলিশ সদস্যরা। এ নিয়ে মাঠ পর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের মধ্যে আতঙ্কও দেখা দিয়েছে। তবে কর্মকর্তারা বলছেন, আতঙ্ক নয় বরং সবাইকে সচেতন করা হচ্ছে। প্রত্যেকের কাছে সুরক্ষা সামগ্রী দেয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে যে চার পুলিশ সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন তাদের চার জনই ঢাকায় কর্মরত ছিলেন। এরমধ্যে একজন ছিলেন পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চে। ডিএমপিতে এ পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৩২৮ পুলিশ সদস্য। পুলিশের পরিবহন, প্রোটেকশন, উন্নয়ন, গোয়েন্দা, স্পেশাল অ্যাকশন গ্রুপ, আটটি অপরাধ বিভাগসহ ২২টি বিভাগের সদস্যরা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তের তালিকায় একজন অতিরিক্ত উপ কমিশনার থেকে শুরু করে বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, কনস্টেবলসহ ১২ জন নারী সদস্যও রয়েছেন। সচেতনতার বিষয়ে ডিএমপির থানা পুলিশের এক সদস্য বলেন, ইচ্ছে থাকলেও নিজেকে সবসময় সুরক্ষিত রাখা যায় না। উদহারণ দিতে গিয়ে তিনি জানান, কোথাও কোনো লাশ পড়ে থাকলে সেটা মর্গে নিয়ে যেতে এখন কেউ এগিয়ে আসবে না। পুলিশকেই লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে নিয়ে যেতে হচ্ছে। এছাড়াও হাট-বাজার বসার সময় নিয়ন্ত্রন, ত্রাণ বিতরণে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, মানুষের চলাফেরার ক্ষেত্রে সরকারি নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে গিয়ে কাছাকাছি যেতে হয় পুলিশ সদস্যদের। কোথাও কোনো অপরাধ মূলক কর্মকা- ঘটলে পুলিশকেই যেতে হয়। কিছু না ঘটলেও দিনে রাতে বাইরে ডিউটি করতে হয়। সবকিছু করতে গিয়ে করোনা ভাইরাস থেকে নিজেকে সুরক্ষা দেয়া কঠিন হয়ে যায় বলে মনে করেন মাঠ পর্যায়ের পুলিশ সদস্যরা। সূত্রমতে, ঢাকার পরেই আক্রান্তের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে গাজীপুর, গোপালগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জ। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ সদস্যরা আক্রান্ত হয়েছেন। এসব বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি সোহেল রানা বলেন, পুলিশ সদস্যরা ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করছেন। ইতিমধ্যে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে জীবন উৎসর্গ করেছেন চার সদস্য। পুলিশ সদর দপ্তর এই চার সদস্যের পরিবারের পাশে রয়েছে। তিন জানান, করোনায় আক্রান্ত পুলিশ সদস্যদের চিকিৎসায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। এমনকি প্রত্যেকের প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সামগ্রীর ব্যবস্থা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। গত ২৯শে এপ্রিল রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান কনস্টেবল জসিম উদ্দিন (৪০)। তিনি ওয়ারী ফাঁড়িতে দায়িত্ব পালনের সময় করোনায় সংক্রমিত হন। পুলিশের মধ্যে প্রথম করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান তিনি। তারপর দিন করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আবদুল খালেক ও ট্রাফিক কনস্টেবল আশেক মাহমুদ। আজ সকালে মারা যান স্পোশাল ব্রাঞ্চের এসআই নাজির উদ্দীন। তিনি রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এ নিয়ে চার পুলিশ সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।
একদিনে আরও ৫৭১ জন আক্রান্ত, মোট ৮২৩৮
০১মে,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বিশ্বব্যাপী মহামারি রূপ নেয়া করোনাভাইরাসে প্রতিদিনই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে আরও ৫৭১ জনের শরীরে করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে দেশে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ৮ হাজার ২৩৮ জনে। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৭০ জনে। করোনা ভাইরাস নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনে শুক্রবার (১ মে) দুপুরে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা। তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫ হাজার ৯৫৮টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে পরীক্ষা করা হয়েছে ৫ হাজার ৫৭৩টি। তাদের মধ্যে আরও ৫৭১ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। ফলে মোট করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৮ হাজার ২৩৮ জন। সব মিলিয়ে নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৭০ হাজার ২৩৯টি। আক্রান্তদের মধ্যে মারা গেছেন আরও দুজন। ফলে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭০ জনে। এছাড়া সুস্থ হয়েছেন আরও ১৪ জন। ফলে মোট সুস্থ হয়েছেন ১৭৪ জন। ডা. নাসিমা সুলতানা আরও জানান, যারা মারা গেছেন, তাদের একজন পুরুষ, একজন নারী। একজন ষাটোর্ধ্ব ও একজন পঞ্চাশোর্ধ্ব। ব্রিফিংয়ের শুরুতে সারাদেশে করোনাভাইরাস শনাক্তকরণে যেসব প্রতিষ্ঠান বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করছে তাদের নাম উল্লেখ করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। আজ মহান মে দিবস। কর্মক্ষেত্রে বঞ্চনা আর শ্রমঘণ্টা কমানোর দাবি নিয়ে আন্দোলনের ফসল হিসেবেই শ্রমিকদের কর্মঘণ্টা নির্ধারিত হয়েছিল ৮ ঘণ্টায়। শ্রমিকদের বিশ্রামের প্রয়োজন রয়েছেন এমন দাবিই ছিল তখন। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে কর্মহীন আর লকডাউনে ঘরে বসে থাকতে থাকতে আজ যেন শ্রমিকরা অনেকটাই ক্লান্ত। যে দেশে কর্মঘণ্টা কমানোর দাবিতে আন্দোলন হয়েছিল সেখানেই আজ আন্দোলন হচ্ছে কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি করতে দিতে। করোনার কারণে লকডাউন হওয়ায় বিশ্বের বেশিরভাগ দেশেই জরুরি প্রয়োজনীয় প্রতিষ্ঠান বাদে সব কিছুই এখন বন্ধ। আর এই বন্ধের কারণে বেশিরভাগেরই আয়ের পথও বন্ধ হয়ে গেছে। তাই এর বিরুদ্ধে বিভিন্ন জায়গায় যেই আন্দোলন হচ্ছে তার মাত্রাটা যুক্তরাষ্ট্রে যেন একটু বেশিই। কারণ দেশটির মিশিগান প্রদেশে গতকাল সাধারণ জনতা লকডাউন খুলে দেয়ার জন্য বিক্ষোভ করেছেন বন্দুক উঁচিয়ে। আর বিক্ষোভের মাত্রাও ছিল ভয়ংকর। কারণ তারা বন্দুক নিয়ে বিক্ষোভ করতে করতে ঢুকে পড়েছিলেন আইনপ্রনেতাদের ভবনে। তবে কোনো ধরণের হতাহতের ঘটনা ছাড়াই সেই বিক্ষোভ দমাতে সক্ষম হয় পুলিশ। প্রতিবছর এই দিনে দেশে শ্রমিকরা নানা কর্মসূচি পালন করলেও এবার স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে বাতিল করা হয়েছে সব ধরণের সভা সমাবেশ। শ্রমিকরাও সেভাবেই পালন করছেন দিনটি। সরকারি ছুটির এই দিনটিতে কাজ থেমে নেই চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে কর্মরতদের। প্রতিদিনের মতো আজও তারা করোনার আপডেট নিয়ে হাজির হয়েছেন সাধারণের সামনে। শত বিতর্ক থাকলেও সংস্থাটি নিয়মিতই জানিয়ে যাচ্ছে করোনার সর্বশেষ পরিস্থিতি। মনে করিয়ে দিচ্ছে, করোনা থেকে বাঁচতে কী কী করতে হবে সবাইকে। শুধু বাংলাদেশেই নয়, বিশ্বের প্রতিটি দেশের স্বাস্থ্য সংস্থাসহ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও বারবার করণীয় বাতলে দিলেও থেমে নেই করোনার বিস্তার। প্রতিদিনই বাড়ছে এতে সংক্রমণের সংখ্যা। এই সংখ্যা এখন ছাড়িয়ে গেছে ৩৩ লাখ। এর এতে মৃত্যু হয়েছে ২ লাখ ৩৪ হাজারেরও বেশি মানুষের। এতে সবচেয়ে বেশি সংক্রমিত যুক্তরাষ্ট্রে গেল ২৪ ঘণ্টায়ই প্রাণ হারিয়েছেন দুই সহস্রাধিক মানুষ। তবে আশার বাণী হলো, এখন পর্যন্ত মোট আক্রান্তদের প্রায় সাড়ে ১০ লাখ মানুষ সুস্থ হয়ে উঠেছেন।
মামার থাপ্পড়ে ভাগ্নের মৃত্যু
০১মে,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: রাজধানীর কদমতলীতে মামার থাপ্পড়ে রাব্বী (১২) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কদমতলীর জনতাবাগ এলাকা থেকে রাব্বীকে অচেতন অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ব্যাপারে কদমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন মীর বলেন, শিশু রাব্বী কদমতলী জনতাবাগ চৌরাস্তায় তার মামার কাছে থাকতো। সেখানে তার মামার চায়ের দোকানে কাজ করতো রাব্বী। তিনি আরো জানান, এলাকাবাসীর কাছ থেকে জানা গেছে যে বিকেলে চায়ের দোকানে রাব্বীর মামা তাকে চড়-থাপ্পড় মারে। তার কিছুক্ষণ পর অচেতন হয়ে পড়ে রাব্বী। পরে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনার পর থেকে রাব্বীর মামা পলাতক রয়েছে। বিষয় তদন্ত চলছে। মরদেহের ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।
মহান মে দিবস আজ
০১মে,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আজ শুক্রবার, মহান মে দিবস। প্রতি বছর অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও বর্ণাঢ্য Raily ও আলোচনা সভাসহ নানা কর্মসূচি এই দিনে পালন করা হতো। কিন্তু এ বছর প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের কারণে দিবসটির সব কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে। এরপরও দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি অ্যাডভোকেট আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক পৃথক বাণী দিয়েছেন। এছাড়া গণমাধ্যমগুলোও প্রকাশ করেছে বিশেষ ক্রোড়পত্র। প্রসঙ্গত, ১৮৮৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের উপযুক্ত মজুরি আর দৈনিক ৮ ঘণ্টা কাজের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন ওই শহরের হে মার্কেটের শ্রমিকরা। কিন্তু আন্দোলনরত শ্রমিকদের দমাতে মিছিলে এলোপাতাড়ি গুলি চালায় পুলিশ। এতে ১১ শ্রমিক নিহত হন। এ ঘটনায় আহত ও গ্রেপ্তার হন আরো বহু শ্রমিক। পরে প্রহসনমূলক বিচারের মাধ্যমে গ্রেপ্তারকৃত শ্রমিকদের মধ্যে ছয়জনকে ফাঁসি দেওয়া হয়। এতে বিক্ষোভ আরো প্রকট আকার ধারণ করলে সারাবিশ্বে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তী সময়ে আন্দোলনরত শ্রমিকদের দাবি মেনে নিতে বাধ্য হয় যুক্তরাষ্ট্র সরকার। এরপর ১৮৮৯ সালের ১৪ জুলাই ফ্রান্সে আন্তর্জাতিক শ্রমিক সম্মেলনে অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ১ মে কে শ্রমিক দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। পরের বছর ১৮৯০ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী পহেলা মে- মে দিবস বা আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস হিসেবে পালন হয়ে আসছে।
করোনায় আরও এক পুলিশের মৃত্যু
০১মে,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: মহামারি আকার ধারণ করা করোনাভাইরাসে আরও এক পুলিশ সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে রাজারবাগের কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের সুপার হাসান উল হায়দার। তিনি জানান, মৃত্যুবরণকারী পুলিশের নাম নাজের উদ্দীন। তার বয়স ৫৫ বছর। তিনি বিশেষ শাখায় (এসবি) উপ-পরিদর্শক (এসআই) হিসেবে দায়িত্বরত করতেন। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি। এছাড়া নাজের উদ্দীন অ্যাজমা ও হাইপারটেনশনে ভুগছিলেন বলে জানান হাসপাতালের সুপার হাসান উল হায়দার।
আজ থেকে চালু হচ্ছে বিশেষ পার্সেল ট্রেন
০১মে,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আজ শুক্রবার (১ মে) থেকে চালু হচ্ছে বিশেষ পার্সেল ট্রেন। করোনা ভাইরাস (কোভিড -১৯) সংক্রমণ পরিস্থিতিতে কৃষি ও পচনশীল পণ্য পরিবহনে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ৩০ এপ্রিল রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের পরিপ্রেক্ষিতে লকডাউন অবস্থায় কৃষকের উৎপাদিত পণ্য, শাকসবজি ও পচনশীল সামগ্রী পরিবহনের জন্য বাংলাদেশ রেলওয়ে ঢাকা চট্টগ্রাম-ঢাকা, ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ-ঢাকা এবং খুলনা-ঢাকা-খুলনা রুটে তিন জোড়া পার্সেল বিশেষ ট্রেন পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা ১ মে থেকে কার্যকর হবে। চট্টগ্রাম-ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের ট্রেনটি চট্টগ্রাম থেকে ছাড়বে প্রতিদিন সকাল ১০টায়, ঢাকায় পৌঁছবে রাত সাড়ে ৮টায়। ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ-ঢাকা রুটের ট্রেনটি দেওয়ানগঞ্জ থেকে ছাড়বে প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টায় এবং ঢাকায় পৌঁছবে রাত সোয়া ৩টায়। খুলনা-ঢাকা-খুলনা রুটে খুলনা থেকে ছাড়বে বিকেল ৫টায়, ঢাকায় পৌঁছবে রাত সাড়ে ৩টায়। এটি সপ্তাহের শুক্র, রবি ও মঙ্গলবার চলাচল করবে। অন্য দুটি রুটের ট্রেন সপ্তাহের ৭ দিনই চলাচল করবে বলে রেল মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে গত ২৫ মার্চ থেকে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
আর্থিক সহায়তা পেয়ে প্রধানমন্ত্রীর ভূয়সী প্রশংসা করলেন কওমি মাদ্রাসার নেতৃবৃন্দ
৩০এপ্রিল,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনাভাইরাস পরিস্থিতির মধ্যে পবিত্র রমজান উপলক্ষে কওমি মাদ্রাসাগুলোকে ৮ কোটি ৩১ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন কওমি মাদরাসার নেতৃবৃন্দ। কওমি মাদ্রাসার রংপুর বিভাগীয় সমন্বয়কারী ও আল জামিয়াতুল কারিমিয়া নুরুল উলুম মাদ্রাসার সহ-অধ্যক্ষ মাওলানা মো. ইউনুস আলী অনুদান পাওয়ার পরে আজ বিকেলে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আগের বারের মতো, করোনাভাইরাস পরিস্থিতির মধ্যে এবারো দেশের মাদ্রাসাগুলোর জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন, যা আমাদের মনোবলকে চাঙ্গা করেছে। তিনি বলেন, রংপুর বিভাগের মোট ৭০৩ টি মাদ্রাসা ইতোমধ্যে ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারের মাধ্যমে অনুদান পেয়ে গেছে। আলী বলেন, আমরা প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘজীবন ও সুস্বাস্থ্য কামনা করছি এবং প্রার্থনা করি যাতে দ্রুত কোভিড-১৯ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। তিনি বলেন, তারা (কওমি মাদরাসা নেতারা) প্রার্থনা করছেন যাতে প্রধানমন্ত্রী পরিস্থিতিটি দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করতে পারেন। কওমি মাদরাসাগুলোকে আর্থিক সহায়তা দেয়ায় প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করে খুলনা দারুল উলুম মাদ্রাসার সিনিয়র মুহাদ্দিস ও খুলনা কওমি উলামা পরিষদের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা নাসির উদ্দিন কাসেমী বলেন, মাদ্রাসার শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য এটি প্রধানমন্ত্রীর এক মহৎ দৃষ্টিভঙ্গি। তিনি আরও বলেন, এটি কেবল বাংলাদেশ নয়, সমগ্র বিশ্বের জন্য একটি অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইসলামের সেবায় নিজেকে নিবেদিত করেছেন উল্লেখ করে কাসেমী বলেন, অতীতে যারা রাষ্ট্র ক্ষমতায় ছিলেন তাদের কেউই বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর মতো ইসলামের সেবা করেননি। তিনি প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘায়ূ ও সুস্বাস্থ্য কামনা করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তাঁর পিতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পদচিহ্ন অনুসরণ করে ইসলামের সম্প্রসারণের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছেন। খুলনা মহানগরীর আল মাহাদ আস-সালাদী মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগ (আর্থিক সহায়তা প্রদান) কওমি মাদ্রাসায় জড়িত সবাইকে অনুপ্রাণিত করবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইসলামী স্টাডিজ ও আরবি স্নাতকোত্তর ডিগ্রির মর্যাদার সঙ্গে কওমি মাদ্রাসায় দাওরা-ই হাদীস সনদকে স্বীকৃতি দিয়ে মাদ্রাসা শিক্ষায় বৈষম্যের অবসান করেছেন। মাওলানা মামুন আরও বলেন, তিনি (প্রধানমন্ত্রী) ইসলামের বিস্তারের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। এই বিপদের দিনে কওমি মাদ্রাসাগুলোর জন্য ৮ কোটি ৩১ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসা করে রাজশাহীর জামেয়া ইসলামিয়া শাহ মুখদুমের অধ্যক্ষ মুফতি শাহাদাত আলী বলেন, এটি দেশের কোন সরকারের কওমি মাদরাসার জন্য আর্থিক সহায়তা নিয়ে এগিয়ে আসার ক্ষেত্রে ইতিহাসে প্রথম ঘটনা। তিনি বলেন, এ কারণেই কওমি মাদ্রাসাগুলোর পক্ষ থেকে আন্তরিকভাবে স্বীকৃতি ও প্রশংসা পাওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সঠিক ব্যক্তি। মুফতি আলী বলেন, আমরা ইতোমধ্যে আমার মাদ্রাসার জন্য ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ পেয়েছি এবং যা আমরা শিক্ষার্থীদের কল্যাণে অর্থ ব্যয় করব। কেবল দরিদ্র ও অসহায় শিশুরা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার জন্য কওমি মাদ্রাসায় আসে উল্লেখ করে মুফতি আলী বলেন, সুতরাং, এই সহায়তা তাদের শিক্ষার ক্ষেত্রে আরো উৎসাহিত করবে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক বরকুল্লাহ বিন দুরুল হুদা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক সহায়তা কওমি মাদ্রাসা শিক্ষাকে এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যেতে সহায়তা করবে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (পিএমও) সূত্রে জানা গেছে, পবিত্র রমজান উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের ৬,৯৫৯ টি কওমি মাদ্রাসাকে ৮ কোটি ৩১ লাখ ২৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন। সূত্র জানায়, মাদ্রাসাগুলোর মধ্যে ৭০৩ টি রংপুর বিভাগে, রাজশাহী বিভাগে ৭০৪, খুলনা বিভাগে ১,০১১, বরিশাল বিভাগে ৪০২, ময়মনসিংহ বিভাগে ৩৯৭, ঢাকা বিভাগে ১,৭৮০, চট্টগ্রাম বিভাগে ১,৪৮১ এবং ৪৮১ টি সিলেট বিভাগে অবস্থিত।
করোনা রোগী চিকিৎসায় ২০০০ চিকিৎসক, ৫০৫৪ জন নার্স নিয়োগ
৩০এপ্রিল,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা রোগীদের চিকিৎসায় জরুরি প্রয়োজনে দুই হাজার চিকিৎসক ও পাঁচ হাজার ৫৪ জন নার্স নিয়োগের সুপারিশ করেছে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। ৩৯তম (বিশেষ) বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে পদ স্বল্পতায় ক্যাডার পদ না পাওয়াদের মধ্য থেকে বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারের সহকারী সার্জন পদে দুই হাজার জনকে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়। আর সিনিয়র স্টাফ নার্স পদে পাঁচ হাজার ৫৪ জন প্রার্থীকে নিয়োগে সুপারিশ করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কোভিড ১৯ এ আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিতে ৩৯তম বিসিএস পরীক্ষা উত্তীর্ণ কিন্তু সুপারিশ প্রাপ্ত নন এমন ৮১০৭ প্রার্থীর মধ্যে থেকে বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারে সহকারী সার্জন পদে ২ হাজার প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন সাময়িক সুপারিশ করেছে। এছাড়াও সিনিয়র স্টাফ নার্স ৫০৫৪ প্রার্থীকে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে। ফলাফল পিএসসি ওয়েবসাইট (www.bpsc.gov.bd) এবং টেলিটকের ওয়েবসাইটে (http://bpsc.teletalk.com.bd)-তে পাওয়া যাবে।

জাতীয় পাতার আরো খবর