আবারও ক্ষমতায় এলে উন্নয়নের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর
অনলাইন ডেস্ক :আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, নৌকা ক্ষমতায় আসলেই দেশের উন্নয়ন হয়। আবারও ক্ষমতায় এলে প্রতিশ্রুত সব উন্নয়নের ঘোষণা দেন তিনি।রোববার রংপুরের তারাগঞ্জ ও পীরগঞ্জে দুটি জনসভায় তিনি বলেন, দেশে আর মঙ্গা হবে না। এ ব্যাপারে সব ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।এ সময় বিএনপি-জামায়াত জোটের অপশাসনের কথাও তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার একটাই লক্ষ্য। আপনার ভালো থাকবেন। দু বেলা পেট ভরে ভাত খাবেন। ছেলেমেয়ে লেখাপড়া শিখবে। যুব সমাজের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিচ্ছি।তাদের আমরা ট্রেনিং দিয়ে দিচ্ছি। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে ট্রেনিং দিয়ে দিচ্ছি যাতে তারা কাজ করে খেতে পারে। কর্মসংস্থান ব্যাংক থেকে বিনা জামানতে দুই লাখ টাকা মাত্র দুই পার্সেন্ট সার্ভিস চার্জে ঋণের সুযোগ করে দিয়েছি। কৃষকরা ১০ টাকায় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে পারে। ভর্তুকির টাকা ব্যাংকে চলে যাচ্ছে।তিনি যোগ করে বলেন: কৃষকদের উপকারভোগী কার্ড দিয়েছি। এই কার্ড দিয়ে স্বল্পমূল্যে কৃষি উপকরণ কিনতে পারে। সার-বীজ সব সহজলভ্য করে দিয়েছি। কৃষক যাতে তার উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য পান তার ব্যবস্থাও করে দিয়েছি। দেশকে আমরা উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। একটি বাড়ি একটি খামার করে দিয়েছি। কোনও দিন যাতে খাদ্য নিরাপত্তায় ঘাটতি না হয়, মঙ্গা না হয় সেজন্যই একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প করে দিয়েছি।প্রায় ১৬ বছর পর নির্বাচনী সভা করতে রংপুরের তারাগঞ্জে আসছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাই শীত সকালের আড়মোড়া ভেঙে, নির্বাচনী উত্তাপ আর উষ্ণতায় সকাল থেকেই উৎসবমুখর তারাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ মাঠ। বিমানে ঢাকা থেকে সৈয়দপুরে নেমে সড়কপথে, দুপুর নাগাদ সভা মঞ্চে পৌঁছালে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানায় উপস্থিত জনতা। তাদের অভিবাদনের জবাব দিয়ে উন্নয়নের কথা বলেন অঞ্চলের পুত্রবধূ।রংপুর-২ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবুল কালাম মো. আহসানুল হক চৌধুরী ডিউককে পরিচয় করিয়ে দিয়ে তার জন্য ভোট চান প্রধানমন্ত্রী।এসময় উত্তরাঞ্চলের উন্নয়নে টানা দুই মেয়াদে তার সরকারের নেয়া উদ্যোগগুলোর কথা মনে করিয়ে দেওয়া পাশাপাশি বিএনপি-জামায়াত জোটের ধ্বংসাত্মক রাজনীতিরও সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী।নির্বাচন নিয়ে বিরোধী জোটের ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে দেশবাসীকে আহ্বানও জানান বঙ্গবন্ধুকন্যা।
অসুস্থ টেলি সামাদের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক :চলচ্চিত্রের শক্তিমান কমেডি অভিনেতা টেলি সামাদ ভীষণ অসুস্থ। তার খোঁজ খবর নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।আজ (রবিবার) সকালে বর্তমান শারীরিক অবস্থা জানার জন্য টেলি সামাদের কাছে ফোন করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চিকিৎসক জুলফিকার লেলিন। জনপ্রিয় এই অভিনেতা অসুস্থ থাকায় টেলি সামাদের মেয়ে সোহেলা সামাদ কাকলীর সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত ওই চিকিৎসক। টেলি সামাদের মেয়ে দুপুরে চ্যানেল আই অনলাইনকে এ খবর জানিয়েছেন।সোহেলা সামাদ কাকলী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সকাল ৯ টার দিকে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক লেলিন সাহেব হাসপাতলে ফোন করে বাবার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন। খুব আন্তরিকভাবে কথা বলেছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে সর্বোচ্চ চিকিৎসা প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর তরফ থেকে জানতে চাওয়া হয়েছে চিকিৎসার ব্যয়ভার বহনের জন্য আর্থিক সাহায্যের প্রয়োজন কিনা! আমি বলেছি, আর্থিক সহায়তা দিলে খুব উপকার হবে। এর আগে ১৬ দিন স্কয়ার হাসপাতালে বাবা ভর্তি ছিলেন। সেখানে অনেক অর্থ ব্যয় হয়েছে।সোহেলা সামাদ কাকলী আরও বলেন, বাবার জন্য এর আগে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সহায়তা চাইনি। উনি নিজেই কোনো সহায়তার প্রয়োজন কিনা জানতে চেয়েছেন। নির্বাচনী ব্যস্ততার মধ্যেও তিনি আমার বাবার কথা মনে করেছেন, এটা অনেক বড় পাওয়া। হাসপাতের ডাক্তারদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর তরফ থেকে। যদি উন্নতি চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে নেওয়ার প্রয়োজন পড়ে, আমার বিশ্বাস প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার ব্যবস্থা করবেন।৪ ডিসেম্বর অসুস্থ হয়ে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন টেলি সামাদ। তখন ডাক্তার বলেছিলেন, টেলি সামাদের খাদ্য নালীতে সমস্যা রয়েছে। শুধু তাই নয়, তার বুকে ইনফেকশন ছিল, ডায়াবেটিস ছিল। রক্তের প্লাটিলেটও কমে যাচ্ছিলো বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক। সেখানে ১৬ দিন চিকিৎসা নেওয়া পর বাসায় ফিরে আবার অসুস্থ হয়ে পড়েন চলচ্চিত্রের এক সময়কার দাপুটে অভিনেতা।সেজন্য তাকে গত ১৯ ডিসেম্বর রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। এখন সেখানেই তার চিকিৎসা চলছে। সর্বশেষ শারীরিক অবস্থার জানিয়ে সোহেলা সামাদ কাকলী বলেন, বাবার শারীরিক অবস্থা খুব ভালো না। অক্সিজেনের সমস্যা হচ্ছে, রক্তের হিমোগ্লোবিন কমে যাচ্ছে। এখনও আইসিইউতে রয়েছেন। বাবার সুস্থতা কামনায় পরিবারের পক্ষে দেশবাসীর কাছে দোয়া কামনা করছি।অভিনেতা টেলি সামাদ ১৯৭৩ সালে কার বউ সিনেমা দিয়ে চলচ্চিত্রে পা রাখেন। চার দশকে পাঁচ শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। টেলি সামাদ একসময় তুমুল ব্যস্ত ছিলেন অভিনয়ে। কিন্তু এখন আর কোনো ছবিতে কাজ করছেন না। তার অভিনীত সর্বশেষ ছবি মুক্তি পায় জিরো ডিগ্রী ( ২০১৫)। অসুস্থতার আগে তিনি সারাদিন বাসায় থাকেন। টিভি দেখতেন, ছবি আঁকতেন।
নৌকা মার্কায় ভোট চান জাহিদ হাসান
অনলাইন ডেস্ক :সিরাজগঞ্জে নৌকা প্রতীকে ভোট চেয়ে গণসংযোগ ও প্রচারণায় নেমেছেন টিভি ও চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেতা জাহিদ হাসান পুলক। শনিবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত সিরাজগঞ্জ শহরসহ সদর উপজেলার খোকশাবাড়ী ইউনিয়নে গুনেরগাঁতীসহ বিভিন্ন এলাকায় সরকারের উন্নয়ন চিত্র সম্বলিত লিফলেট হাতে নিয়ে মানুষের কাছে নৌকা মার্কায় ভোট চান এবং উঠান বৈঠক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।গণসংযোগ করতে করতে নিত্য রানী সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত উঠান বৈঠকে যোগ দেন সিরাজগঞ্জ-২ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক ডা. হাবিবে মিল্লাত মুন্না ও অভিনেতা জাহিদ হাসান।এ সময় জাহিদ হাসান বলেন, আওয়ামী লীগের রাজনীতির লক্ষ্যই হচ্ছে দেশের মানুষের জীবনমান উন্নত করা। যারা মানুষকে মানুষ মনে করে না, তারা কিভাবে আবার ধানের শীষে ভোট চায়? এটা আমরা বুঝি না। ধানের শীষে ভোট মানেই দুর্নীতি, এতিমের টাকা আত্মসাৎ, মানি লন্ডারিং। আর নৌকা মার্কা মানে স্বাধীনতা, মানুষের উন্নতি। দেশের মানুষ নৌকায় ভোট দিয়েছিলো বলেই তার সুফল এখন দেশবাসী পাচ্ছে। আওয়ামী লীগ সরকার পরিচালনা করে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য, নিজের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য নয়। এজন্য সিরাজগঞ্জ-২ আসনের নৌকার প্রার্থী অধ্যাপক ডা. হাবিবে মিল্লাত মুন্নাকে ৩০ ডিসেম্বর সারাদিন নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে নির্বাচিত করুন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে নৌকা মার্কায় ভোট দিন।এ সময় বক্তব্য দেন সিরাজগঞ্জ-২ আসনের বর্তমান সাংসদ ও জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. হাবিবে মিল্লাত মুন্না, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক রিয়াজ উদ্দিন, আওয়ামী লীগ নেতা সৈয়দ বেলাল হোসেন, খোকশাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ মোল্লা, খোকশাবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন প্রমুখ।
আগামীকাল মাঠে নামছে সেনাবাহিনী
অনলাইন ডেস্ক :আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ভোটকেন্দ্র ও ভোটগ্রহণের পরিবেশ সুষ্ঠু রাখতে এবং নির্বাচনী এলাকায় যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা রুখতে আগামীকাল সোমবার (২৪ডিসেম্বর) থেকে মাঠে নামছে সেনাবাহিনী। ২৪ ডিসেম্বর থেকে ২ জানুয়ারি পর্যন্ত তারা মাঠে থাকবে। নির্বাচনে ইনস্ট্রাকশন রিগার্ডিং ইন এইড টু দ্য সিভিল পাওয়ার অনুযায়ী কাজ করবেন সশস্ত্র বাহিনীর এ সদস্যরা। তারা জেলা/উপজেলা/মহানগর এলাকার সংযোগস্থলে ও অন্যান্য সুবিধাজনক স্থানে অবস্থান করবেন। তারা নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তার সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রয়োজন অনুযায়ী টহল ও অন্যান্য আভিযানিক কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের জারি করা এ সংক্রান্ত একটি পরিপত্রে সশস্ত্র বাহিনীর কর্মপরিধিতে বলা হয়েছে-নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত রিটার্নিং কর্মকর্তা সহায়তা চাইলে আইনশৃঙ্খলা বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে পুলিশসহ অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে তারা সহায়তা করবেন। পাশাপাশি রিটার্নিং কর্মকর্তার সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজন অনুযায়ী উপজেলা/থানায় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের নিয়োগ দেয়া হবে। রিটার্নিং কর্মকর্তা বা প্রিসাইডিং কর্মকর্তার চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে ভোটকেন্দ্রের ভেতরে বা ভোট গণনাকক্ষের শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করবেন সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা।
জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন হয় আ.লীগ ক্ষমতায় থাকলে: প্রধানমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক: আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলেই জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন হয় উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর দলকে পুনরায় নির্বাচিত করার জন্য দেশবাসীর কাছে নৌকায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের প্রার্থীদের বিজয়ী করার জন্য আমি আপনাদের কাছে নৌকা মার্কায় ভোট চাই, যাতে করে পুনরায় আপনাদের সেবা করার সুযোগ পাই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ রোববার দুপুরে তারাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ মাঠে আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় এ কথা বলেন। এর আগে তিনি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর-২ (বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ) আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আহসানুল হক চৌধুরী ডিউকের নির্বাচনী জনসভায় যোগ দিতে তারাগঞ্জে পৌঁছেন। ঢাকা থেকে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছার পর তিনি সড়কপথে তারাগঞ্জ এসে পৌঁছান। এ সময় রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে দলের নেতাকর্মীসহ লাখো জনতা শেখ হাসিনাকে শুভেচ্ছা জানান। এরপর পীরগঞ্জে ওই আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর নির্বাচনী জনসভায় ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। শেখ হাসিনা তাঁর ভাষণে বলেন, জনগণ নৌকা মার্কায় ভোট দিয়েছিল বলেই বাংলা ভাষায় কথা বলার সুযোগ পেয়েছে, আজকে স্বাধীনতা পেয়েছে। আর নৌকা যখন ক্ষমতায় আসে, মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন হয়। অতীতের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, এই এলাকা তারাগঞ্জ-বদরগঞ্জসহ সমগ্র বাংলাদেশ তিনি ঘুরে দেখেছেন দরিদ্র মানুষ, মানুষের দুর্দশা এবং হাহাকারের করুণ চিত্র। এইসব এলাকায় ছিল মঙ্গা। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেছে ২০০৮ সালে আর ২০০৯ সালে সরকার গঠন করেছে। সে থেকে এ পর্যন্ত আল্লাহর রহমতে কোনো মঙ্গা হয়নি। খাবারের কোনো কষ্ট হয়নি। আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ফসল উৎপাদন হচ্ছে, খাবারের ব্যবস্থা আমরা করতে পেরেছি। তিনি এ সময় তাঁর আগামী সরকারের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরে বলেন, একটি মানুষও অনাহারে থাকবে না। কারণ গৃহায়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা ঘরবাড়ি তৈরি করে দিচ্ছি। প্রতিটি মানুষ যাতে চিকিৎসা পায়, সে জন্য আমরা কমিউনিটি ক্লিনিক করে দিয়েছি। সেখান থেকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবাসহ ৩০ প্রকারের ওষুধ বিতরণ করা হচ্ছে। তাঁর সরকার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ করছে উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, ছেলেমেয়েদের জন্য বই আর মা-বাবাকে কিনতে হয় না, তাঁর সরকার এই দায়িত্ব নিয়েছে। দুই কোটির বেশি শিক্ষার্থীকে ট্রাস্ট ফান্ড করে বৃত্তি-উপবৃত্তি প্রদানের উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রায় এক কোটি ৪০ লাখ মায়ের মোবাইল ফোনে মাসের শুরুতে বৃত্তির টাকা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বয়স্ক এবং বিধবা-ভাতা, স্বামী পরিত্যক্তা ভাতা দিচ্ছি, যাতে করে কোনো মা-বোন কোনো ধরনের দুর্গতিতে পড়লে তাঁকে যেন কষ্ট করতে না হয়। এ সময় রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, পুল, ব্রিজ, সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ করে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং ২০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং যেসব স্থানে বিদ্যুতের লাইন নেই, সেখানে সোলার প্যানেল করে দিয়ে দেশের ৯৩ শতাংশ ঘর আলোকিত করার সরকারের সাফল্যও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। পুরো রংপুর এলাকা দুর্ভিক্ষপীড়িত ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, আজকে সেই দুর্দিন চলে গেছে। আজকে সুদিন এসে গেছে। এখন আর মঙ্গা ও দুর্ভিক্ষ নেই। প্রত্যেক মানুষের খাদ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা, বাসস্থান সবকিছুর ব্যবস্থাই আওয়ামী লীগ সরকার করে দিয়েছে। তিনি বলেন, তাঁর সরকার প্রতিটি উপজেলায় ফায়ার সার্ভিস স্টেশন করে দিচ্ছে, সারা দেশে ৫৬০টি মডেল মসজিদ কাম কালচারাল সেন্টারের আওতায় প্রতিটি উপজেলায় আধুনিক মসজিদ নির্মাণ করা হবে, প্রতিটি এলাকায় সুপেয় পানির ব্যবস্থা আমরা করে দিচ্ছি। সৈয়দপুর বিমানবন্দর এবং উত্তরা ইপিজেডও আমরা করে দিয়েছি। তিনি বলেন, আমার একটাই লক্ষ্য, আপনারা ভালো থাকবেন, দুবেলা পেট ভরে ভাত খাবেন, ছেলেমেয়ে লেখাপড়া শিখবে, সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে। তিনি এ সময় যুবসমাজের কর্মসংস্থানের জন্য বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ এবং কর্মসংস্থান ব্যাংক থেকে মাত্র ২ শতাংশ সার্ভিস চার্জে বিনা জামানতে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা প্রদানের কথাও উল্লেখ করেন। তাঁর সরকার ১০ টাকায় কৃষকদের জন্য ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার ব্যবস্থা করেছে এবং যেখানে তাদের ভর্তুকির টাকাও পৌঁছে যাচ্ছে উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, কৃষকদের কৃষি উপকরণ কার্ড দেওয়া হয়েছে। এ কার্ড দিয়ে স্বল্প মূল্যে তাঁরা কৃষি উপকরণ যাতে কিনতে পারেন, তার ব্যবস্থা করে সার, বীজ, কটনাশক প্রতিটি জিনিস সহজলভ্য করা হয়েছে। কৃষক যাতে উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পান, তার ব্যবস্থাও করে দেওয়া হয়েছে। সমবায়ের মাধ্যমেও চাষবাষের ব্যবস্থা করা হয়েছে, একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের সুবিধাও কৃষকরা পাচ্ছেন। আর যেন কোনো দিন এ দেশে খাদ্যাভাব বা মঙ্গা না দেখা দেয়, এ জন্য প্রতিটি ইঞ্চি জমিকে কাজে লাগানোর উদ্যোগ নিয়েছে তাঁর সরকার, বলেন প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনা আরো বলেন, জনগণ বারবার নৌকায় ভোট দিয়েছে বলেই তাঁর সরকারের পক্ষে এসব উন্নয়ন সাধন করা সম্ভব হয়েছে। আওয়ামী লীগ সভাপতি এ সময় এই আসনের নৌকার প্রার্থী আবুল কালাম মো. আহসানুল হক চৌধুরী ডিউককে বিজয়ী করার আহ্বান জানিয়ে তাঁকে জনগণের হাতে সোপর্দ করেন। তিনি উপস্থিত সকলের কাছে নৌকায় ভোট প্রদানের প্রতিশ্রুতি চাইলে জনগণ দুহাত তুলে তাতে সম্মতি জানায়। তিনি বলেন, আপনারা ডিউককে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করেন, যাতে করে আমরা আবারও আপনাদের সেবা করার সুযোগ পাই। প্রধানমন্ত্রী এ সময় তাঁর নির্বাচনী মহাজোটের উল্লেখ করে যেসব স্থানে মহাজোটের প্রার্থী রয়েছে, সেসব আসনের জনগণকে মহাজোটের প্রার্থীকেও ভোট প্রদানের আহ্বান জানান।
গাজীপুর জেলা প্রশাসককে হত্যার হুমকি
অনলাইন ডেস্ক: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গাজীপুর জেলা প্রশাসককে হত্যার হুমকি দিয়ে চিঠি দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার (২৩ ডিসেম্বর) দুপুরে সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেন জেলা প্রশাসক ড. দেওয়ান মুহম্মদ হুমায়ুন কবির। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার প্রেরকের নাম-ঠিকানাবিহীন ডাকযোগে একটি চিঠি আসে তার কাছে। এতে নির্বাচনকালীন দায়িত্বপালনে নিরপেক্ষ থাকার হুমকি দেয়া হয়। আগামী ৩ দিনের মধ্যে নিরপেক্ষতার প্রমাণ দিতে না পারলে তাকে এবং স্ত্রী-সন্তানদের হত্যারও হুমকি দেয়া হয় চিঠিতে। বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীকে জানান জেলা প্রশাসক। এদিকে, হুমকি ও ভয়-ভীতির ঊর্ধ্বে উঠে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে অবিচল থাকার কথা জানান জেলা প্রশাসক ড. দেওয়ান মুহম্মদ হুমায়ুন কবির।
১৬ দেশ ও সংস্থা নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবে
অনলাইন ডেস্ক: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আবেদন করেছে ১৬টি দেশ ও সংস্থার ১৭৮ জন পর্যবেক্ষক। ইসি সচিবালয়ের জনসংযোগ শাখা সূত্রে জানা যায়, ১৬টি দেশ ও সংস্থার ১৭৮ জন পর্যবেক্ষকের মধ্যে বিদেশী পর্যবেক্ষক থাকবেন ৯৭ জন এবং বিদেশীদের প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশী থাকবেন ৮১ জন। সূত্র জানায়, আন্তর্জাতিক এনজিও নেটওয়ার্ক-এনফ্রেলর ৩২ জন বিদেশী পর্যবেক্ষক থাকবেন। ফ্রান্সের ৪ জন পর্যবেক্ষকের মধ্যে ২ জন বিদেশী ও ২ জন বাংলাদেশী। জাপানের ৯ জন পর্যবেক্ষকের মধ্যে ৪ জন বিদেশী ও ৫ জন বাংলাদেশী। স্পেনের ১ জন বিদেশী পর্যবেক্ষক থাকবেন। ডেনমার্কের ৩ জন পর্যবেক্ষকের মধ্যে ১ জন বিদেশী ও ২জন বাংলাদেশী। নরওয়ের ২ জন পর্যবেক্ষকের মধ্যে ১ জন বিদেশী ও ১ জন বাংলাদেশী। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন ফর ইলেক্টোরাল সিস্টেমস (আইএফইএস)-এর ৪ জন পর্যবেক্ষক থাকবেন, এর মধ্যে ১ জন বিদেশী ও ৩ জন বাংলাদেশী। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের (ডিআই) ২৪ জন পর্যবেক্ষক থাকবেন, এর মধ্যে ২ জন বিদেশী ও ২২ জন বাংলাদেশী। ডিপেন্ডা কেনডেল ইনিশিয়েটিভ এর ৩ জন বিদেশী পর্যবেক্ষক থাকবে। যুক্তরাষ্ট্রের থাকবেন ৬৫ জন পর্যবেক্ষক, এর মধ্যে ৩২ জন বিদেশী ও ৩৩ জন বাংলাদেশী। জার্মানীর ৮ জন পর্যবেক্ষক থাকবেন, এর মধ্যে ৬ জন বিদেশী ও ২ জন বাংলাদেশী। নেদারল্যান্ডসর ৪ জন বিদেশী পর্যবেক্ষক এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের থাকবেন ২ জন বিদেশী পর্যবেক্ষক। ওয়াশিংটনভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট (আইআরআই) এর ৪ জন পর্যবেক্ষক থাকবেন, এর মধ্যে ২ জন বিদেশী ও ২ জন বাংলাদেশী। সুইজারল্যান্ডর ৬ জন পর্যবেক্ষক থাকবেন, এর মধ্যে ২ জন বিদেশী ও ৪ জন বাংলাদেশী। এশিয়ান ফাউন্ডেশনের ৭ জন পর্যবেক্ষক থাকবেন, এর মধ্যে ২ জন বিদেশী ও ৫ জন বাংলাদেশী। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ৩০ ডিসেম্বর।
বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য গড়ে দেব : প্রধানমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক: সিলেটে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আরেকবার ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য গড়ে দেব, নিজের ভাগ্য গড়তে আসিনি। আজ শনিবার বিকেলে সিলেট আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় এই কথা বলেন শেখ হাসিনা। এর আগে তিনি হজরত শাহজালাল (র.), হজরত শাহপরান (র.) ও গাজী বুরহান উদ্দিনের (র.) মাজার জিয়ারত করেন শেখ হাসিনা। জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, বিএনপি-জামায়াত দেশকে জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ হিসেবে পরিচিত করেছে। গ্যাসবিক্রির মুচলেকা দিয়ে ক্ষমতায় বসেছিল বিএনপি-জামায়াত। শেখ হাসিনা বলেন, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে তারই রাষ্ট্রপতি, প্রধান উপদেষ্টা ও সেনাপ্রধান। আমরা মামলা দেইনি। দীর্ঘ ১০ বছরের বিচারের পর তাঁর সাজা হয়েছে। আর ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলায় দণ্ডিত আসামি লন্ডনে বসে বসে নাটাই ঘোরায়। বিদেশের মাটিতে বসে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র করছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সম্পর্কে শেখ হাসিনা বলেন, আবার যদি ক্ষমতায় যাই, তাহলে ওই সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে ধরে নিয়ে এসে সাজা কার্যকর করব। বাংলাদেশের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে দেব না। শেখ হাসিনা বলেন, সিলেট বিভাগে আমরা বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল করে দিয়েছি। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ হবে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিনিয়োগে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হবে। প্রত্যেক ঘরে ঘরে আলো জ্বালব এই পরিকল্পনা নিয়েই কাজ করে যাচ্ছি। স্কুল-কলেজ, ব্রিজ, রাস্তাঘাট ব্যাপকভাবে তৈরি করা হচ্ছে। সিলেট বিভাগে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় করে দিয়েছি। প্রত্যেক জেলায় যাতে বিশ্ববিদ্যালয় হয়, ব্যবস্থা নিয়েছি। সরকারি-বেসরকারিভাবে আমরা সব জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় করার ব্যবস্থা নিচ্ছি। এখন লন্ডন থেকে সরাসরি বিমান সিলেটে নামছে। বাংলাদেশ বিমান করুণদশা থেকে মুক্তি পেয়েছে। সারা দেশে ৫৬০টি মসজিদ কাম ইসলামিক সেন্টার আমরা করে দিচ্ছি। সৌদি সরকার এখানে সহায়তা করছে। কওমি মাদ্রাসার সনদের মান দিয়েছি, দেশে-বিদেশে তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মোবাইল ফোন বেসরকারি খাতে দিয়ে সবার জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছি। বিএনপি সরকারের মন্ত্রী একচেটিয়া ব্যবসা করত, সেই মনোপলি ভেঙে দিয়েছি। সবার হাতে মোবাইল ফোন পৌঁছে গেছে। নৌকা মানুষের জীবনের বন্ধু। হজরত নূহ (আ.)-এর আমলে নৌকায় ভর করে মানুষ মুক্তি পেয়েছিল। তেমনি নৌকায় ভোট দিলে মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন হয়। আমরা সরকার গঠন করে বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়িয়েছি। কোনো ঘর আর অন্ধকার থাকবে না। বলছিলেন শেখ হাসিনা। রেল যোগাযোগে উন্নয়নের জন্য আলাদা মন্ত্রণালয় করে দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন,একটি বাড়ি একটি খামারের মাধ্যমে আমরা নিশ্চিত করেছি, দেশের প্রতিটি ইঞ্চি যেন চাষাবাদের আওতায় আসে। হাওড় অঞ্চলের মানুষের জন্য ব্যাপক উন্নয়ন পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করা হচ্ছে। সিলেটের প্রত্যেকটি নদীর ড্রেজিং করার জন্য আমরা পরিকল্পনা নিয়েছি। সিলেটের অনেক নদীর নাব্যতার কারণে বন্যার সৃষ্টি হয়। বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন,জাতির পিতা আমাদের স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন, আমরা মাথা উঁচু করে চলব। পদ্মা সেতু নিয়ে আমি চ্যালেঞ্জ করেছিলাম, আমরা নিজের টাকায় পদ্মাসেতু করব। আল্লাহর রহমতে সেই পদ্মা সেতু করতে সক্ষম হয়েছি। বিএনপি সরকার মানে হত্যা, গুম, জঙ্গিবাদের রাজত্ব। দেশকে বিশ্বের নিকট ভিক্ষুকদের দেশ হিসেবে পরিচয় করিয়েছে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার। এখন বাংলাদেশ মানে উন্নয়ন, সমৃদ্ধি ও মর্যাদা। বিএনপির উদ্দেশে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, আজকের নির্বাচনে নমিনেশন ব্যবসা করেছে তারা। একেকটা সিটে কয়েকজনকে প্রার্থী দিয়েছে, যে বেশি টাকা দিয়েছে তাকে নমিনেশন দেওয়া হয়েছে। বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে শেখ হাসিনা সিলেট বিভাগের সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারে দলীয় ও মহাজোটের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন। এ সময় তিনি মহাজোটের জাতীয় পার্টির প্রার্থীর পক্ষে ভোট চেয়ে তিনি বলেন, আপনারা লাঙ্গল মার্কায় ভোট দেন, কোনো সমস্যা নেই, সব লাঙ্গল নৌকায় নিয়ে আসব। গান গেয়ে প্রধানমন্ত্রী স্বাগত কোন মেস্ত্ররি নাও বানাইল কেমন দেখা যায়, ঝিলমিল ঝিলমিল করে রে বঙ্গবন্ধুর নৌকায় বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিমের বিখ্যাত গান কোন মেস্ত্ররি নাও বানাইল কেমন দেখা যায়, ঝিলমিল ঝিলমিল করে রে ময়ূরপঙ্খী নাও গানের সুরে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। বিকেল সোয়া ৩টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন আলিয়া মাদ্রাসা মাঠের সভামঞ্চে পৌঁছান তখন এ গান গেয়ে শোনান তিনি। সার্কিট হাউজ থেকে শেখ হাসিনা যখন সভাস্থলে পৌঁছান তখন মঞ্চে বক্তব্য দিচ্ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক। এ সময় জননেত্রীর আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগতম স্লোগান দিতে থাকেন সমাবেশে আগত আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকরা। এর পর পরই এই গানের সুর তোলেন বদর উদ্দিন আহমদ কামরান। নির্বাচনী প্রচারণার উদ্দেশ্যে শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় বাংলাদেশ বিমানের একটি নিয়মিত ফ্লাইটে সিলেট আসেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর তিনি হজরত শাহজালাল (র.), হজরত শাহপরান (র.) ও সিলেটের প্রথম মুসলিম গাজী বুরহান উদ্দিনের (র.) মাজার জিয়ারত করেন। আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা মাজার জিয়ারত শেষে জোহরের নামাজ ও মধ্যাহ্নভোজের জন্য নগরীর সার্কিট হাউজে অবস্থান করেন। এরপর সার্কিট হাউজ থেকে সভাস্থলে পৌঁছান। জনসভা অবশ্য দুপুর ২টায় শুরু হয়। সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট লুৎফুর রহমানের সভাপতিত্বে সেই জনসভা শুরু হয়। সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের পরিচালনায় স্বাগত বক্তব্য দেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন।
চারজনের প্রতীক পরিবর্তনের নির্দেশ,সাতজনের প্রার্থিতা বাতিল
অনলাইন ডেস্ক: উপজেলা চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ না করায় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির পাঁচ এবং স্বতন্ত্র দুজনের প্রার্থিতা বাতিল করেছেন হাইকোর্ট। পৃথক আবেদনের শুনানি শেষে আজ বৃহস্পতিবার বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে নির্বাচন কমিশনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাডভোকেট শাহ মঞ্জুরুল হক। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু। হাইকোর্টে যাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে তাঁরা হলেন-জামালপুর-৪ আসনে বিএনপির মো. ফরিদুল কবির তালুকদার শামীম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসন মো. মুসলিম উদ্দিন, ঝিনাইদহ-২ আসনে মো. আবদুল মজিদ, জয়পুরহাট-১ আসনে মো. ফজলুর রহমান ও রাজশাহী-৬ আসনে মো. আবু সাইদ চাঁদ এবং স্বতন্ত্র রংপুর-১ আসনে মো. আসাদুজ্জামান ও ময়মনসিংহ-৮ আসনে মাহমুদ হোসেন। এ ছাড়া চারটি আসনে প্রার্থীদের ধানের শীষ প্রতীক পরিবর্তন করে অন্য চারজনকে দেওয়া হয়েছে। এঁরা হলেন নওঁগা-১ আসনে খালেক চৌধুরীর পরিবর্তে মোস্তাফিজুর রহমান, বগুড়া-৩ আসনে আব্দুল মুহিত তালুকদারের পরিবর্তে মাসুদা মোমিন, মানিকগঞ্জ-১ আসনে এস এম জিন্নাহ কবিরের পরিবর্তে বিএনপির প্রয়াত মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেনের ছেলে খন্দকার আবদুল হামিদ ডাবলুকে এবং নাটোর-১ আসনে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রার্থী মঞ্জুরুল ইসলাম বিমলের পরিবর্তে কামরুন্নাহার শিরীনকে ধানের শীষ প্রতীক দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এর আগে বিএনপির সাত প্রার্থী উপজেলা চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ না করা সত্ত্বেও নির্বাচন কমিশন তাদের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেছিলেন। পরে কমিশনের সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে পৃথক আবেদন করা হয়। ওই আবেদনের শুনানি শেষে তাদের প্রার্থিতা বাতিলের আদেশ দেন হাইকোর্ট।

জাতীয় পাতার আরো খবর