আওয়ামী লীগকে কখনো ভোট না দিয়ে থাকলেও তাকে রেশনকার্ডে অন্তর্ভূক্ত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী
২৪এপ্রিল,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, 'যিনি আওয়ামী লীগের কড়া সমালোচক, কোনো সময় আমাদের দলকে ভোটও দেননি, তিনিও যদি প্রকৃতপক্ষে অভাবী হন, প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত নতুন পঞ্চাশ লাখ রেশন কার্ডে তার নাম অন্তর্ভূক্ত করতে হবে। তিনি বলেন, সরকার যে পঞ্চাশ লাখ পরিবারের মধ্যে ১০ টাকা দরে মাসে ৩০ কেজি করে চাল দিয়ে আসছে, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী আরো যে পঞ্চাশ লাখ রেশন কার্ড দেয়া হবে, সেখানে প্রকৃতপক্ষে যাদের প্রয়োজন, তাদেরকেই অন্তর্ভুক্ত করতে হবে, কোনো দলীয় পরিচয়ে নয়। আজ দুপুরে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলা সদরে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ইউনিয়ন পরিষদগুলোর চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিদের সাথে করোনা পরিস্থিতিতে ত্রাণ বিতরণসহ নানা বিষয়ে সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। 'নতুন এই কার্ডটি করার ক্ষেত্রে আমাদেরকে একটু সতর্ক হতে হবে কারণ এ ধরণের কার্ড করার সময় কোন দলীয় পরিচয় বিবেচনা করা যাবেনা উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, 'যার প্রয়োজন, দলমত নির্বিশেষে তাকেই অন্তর্ভুক্ত করতে হবে, এটি প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ। সুতরাং সেভাবেই তালিকা করতে হবে। কারণ একজন মানুষও অভাবে থাকুক সরকার সেটা চায় না।' আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেন, সরকারি দল হিসেবে আমাদের দায়িত্ব অনেক বেশি। সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব আমাদের দলীয় নেতাকর্মীরা শুরু থেকেই পালন করছে। আজকে একটি মাস দেশের সবকিছু বন্ধ। তারপরও আল্লাহর রহমত ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সময়োচিত পদক্ষেপের কারণে এখনও পর্যন্ত একজন মানুষও না খেয়ে মৃত্যুবরণ করেনি। সুতরাং কেউ যেন না খেয়ে থাকে সেদিকে আমাদের দৃষ্টিপাত করতে হবে। তথ্যমন্ত্রী বলেন, রাঙ্গুনিয়ায় বিভিন্ন ভাবে ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে। সরকারের ত্রাণ ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে বিতরণ করা হচ্ছে। আমাদের পারিবারিক প্রতিষ্ঠান এনএনকে ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে যেসব গ্রামগুলোতে ত্রাণ দেয়া হচ্ছে, সেগুলো আমরা চেষ্টা করছি আপনারা যাদেরকে দিচ্ছেন, তারা ছাড়া অন্যদেরকে দেবার জন্য। আমাদের দলের অনেক সামর্থবান নেতৃবৃন্দরাও ত্রাণ দিচ্ছেন। সমাজে যারা অবস্থাসম্পন্ন এবং সামর্থবান তারাও ত্রাণ দিচ্ছে। পুরো ত্রাণ কার্যক্রমের একটা সমন্বয় করতে হবে। কারো সর্দি কাশি হলেই তাকে করোনা রোগী সন্দেহ করা সঠিক নয় উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, 'সর্দি-কাশিতো আমাদের সবসময়ই হয়ে থাকে। প্রত্যেক মানুষেরই হয়। এখন সামাজিক ভাবে হেয় করার জন্য দেখা যাচ্ছে কারো সর্দি-কাশি হলো, তার সাথে কারো বিরোধ আছে, তার সম্পর্কে করোনা রোগী এধরণের বিরূপ কথা ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। এসব ঘটনা যাতে না ঘটে সেদিকেও সকলের খেয়াল রাখতে হবে। রাঙ্গুনিয়ায় কৃষক লীগ এবং স্বেচ্ছাসেবক লীগ ইতোমধ্যে দরিদ্র কৃষকের ধান কেটে দেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে আজ শুক্রবার থেকে তারা প্রতি ইউনিয়নে এই কার্যক্রম শুরু করবে, জানান তথ্যমন্ত্রী। পরে তথ্যমন্ত্রী রাঙ্গুনিয়া উপজেলা প্রশাসনের সাথে কোভিড-১৯ মোকাবেলায় প্রস্তুতি ও ত্রাণ বিতরণসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করেন। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাসুদুর রহমান, পৌরসভার মেয়র শাহজাহান সিকদার, ভাইস চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
করোনায় আরও ৪ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ৫০৩
২৪এপ্রিল,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: মহামারি আকার ধারণ করা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে বাংলাদেশে এই বৈশ্বিক মহামারীতে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৩১ জনে। এছাড়া একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৫০৩ জন। এ নিয়ে সর্বমোট আক্রান্ত চার হাজার ৬৮৯ জন। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। অনলাইনে বুলেটিন উপস্থাপন করেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা। এছাড়া নিজের বাসা থেকে এতে সংযুক্ত হন রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা। বুলেটিনে বলা হয়, করোনাভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় আইইডিসিআরসহ ২১টি প্রতিষ্ঠানে তিন হাজার ৬৮৬টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। সব মিলিয়ে নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৩৯ হাজার ৭৭৬টি। নতুন যে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে তার মধ্যে আরও ৫০৩ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। ফলে করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে চার হাজার ৬৮৯ জনে। আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে মারা গেছেন আরও চারজন। এদের মধ্যে চারজনই পুরুষ, এবং সবাই ঢাকার বাসিন্দা। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ১৩১ জনে। এছাড়া সুস্থ হয়ে উঠেছেন আরও চারজন। ফলে মোট সুস্থ রোগীর সংখ্যা ১১২। বুলেটিন উপস্থাপনকালে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে সবাইকে বাড়িতে থাকার এবং স্বাস্থ্য বিভাগের পরামর্শ মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়।
বনবিড়ালের পর আরও ৪টি বাঘ ও ৩টি সিংহ করোনা আক্রান্ত
২৩এপ্রিল,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: নিউইয়র্কের ব্রংক্স চিড়িয়াখানায় ফের চারটি বাঘ এবং তিনটি সিংহের শরীরে মিলল করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯)। চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এই খবর জানানো হয়েছে। এর আগে এই চিড়িয়াখানাতেই একটি মালায়ন বাঘিনি ও ছটি বনবিড়ালের শরীরে করোনাভাইরাসের লক্ষণ পাওয়া গিয়েছিল। গত ৫ এপ্রিল নিউইয়র্কের এই চিড়িয়াখানার ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন সোসাইটি এই খবর প্রকাশ্যে এনেছিল। এই সংস্থাই চিড়িয়াখানাটির দেখভালের দায়িত্বে রয়েছে। তবে সবচেয়ে আগে একটি বনবিড়ালের শরীরে দেখা গিয়েছিল বলে জানানো হয়েছে। মার্কিন কৃষিবিভাগের বিবৃতিতে বলা হয়েছে ব্রংক্স চিড়িয়াখানায় এক কর্মী থেকে বাঘে সংক্রমণ ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে। ওই চিড়িয়াখানার বেশ কিছু সিংহ ও বাঘের মধ্যে শ্বাসজনিত কষ্টের উপসর্গ দেখা গিয়েছে। জেনারেল অ্যানাস্থেশিয়া সম্পর্কিত ঝুঁকি থাকার ফলে অন্যদের পরীক্ষা করা যায়নি। কয়েক দিন আগেই নিউইয়র্কের চিড়িয়াখানায় চার বছরের বাঘ নাদিয়া কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়েছে বলে জানা গিয়েছিল। লক্ষণ প্রকাশ না পাওয়া কোনও চিড়িয়াখানার কর্মীর থেকেই বাঘটি আক্রান্ত হয়েছে বলে, ধারণা কর্তৃপক্ষের। প্রাণীদের দেহ থেকে মানবদেহে করোনাভাইরাস সংক্রমিত হয় না, বলে মত বিশেষজ্ঞদের। বলা হচ্ছে, মানবদেহ থেকে করোনা ছড়িয়ে প্রাণীদের মধ্যে সংক্রমণ ঘটাতে পারে। পশুদের অজ্ঞান না করেই তাদের শরীর থেকে নমুনা নিয়ে পরীক্ষা করা হচ্ছে। যে সমস্ত পশুদের শুকনো কাশি বা শ্বাসকষ্ট হচ্ছে তাদেরকেও আলাদা করে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ।- বিডি-প্রতিদিন
করোনা সংকটে একজন মানুষও না খেয়ে মরেনি : তথ্যমন্ত্রী
২৩এপ্রিল,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনাভাইরাসের প্রভাবে সৃষ্ট সংকট মোকাবিলায় যথাযথ সরকারি উদ্যোগের কারণে বাংলাদেশে একজন মানুষও না খেয়ে মরেনি বলে দাবি করেছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেছেন, করোনার প্রভাবে আজকে একটি মাস দেশের সমস্ত কর্মকাণ্ড বন্ধ। কিন্তু একজন মানুষও বাংলাদেশে না খেয়ে মৃত্যুবরণ করেনি। আমি বলবো- এটাই সরকারের সফলতা। বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে আয়োজিত ত্রাণ বিষয়ক সমন্বয় সভা শেষে সাংবাদিকদের তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এসব কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশে ১৭ লাখ টন খাদ্য মজুদ ছিল। করোনা সংকট মোকাবিলায় এর মধ্যে ১ লাখ টন খাদ্য বিতরণ করা হয়েছে। আরও ৬ লাখ টন খাদ্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনার সরকার গত কয়েক বছর ধরে ৫০ লাখ পরিবারকে মাসে ৩০ কেজি করে চাল কেজিপ্রতি ১০ টাকায় বছরে ৭ মাস বিতরণ করছে। প্রধানমন্ত্রী আরও ৫০ লাখ পরিবারকে এর আওতায় আনার ঘোষণা দিয়েছেন। এর মাধ্যমে প্রায় ৫ কোটি মানুষ উপকার পাবে।- বিডি-প্রতিদিন
করোনা সংকট শিগগিরই শেষ হবে না বলে হুঁশিয়ারি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার
২৩এপ্রিল,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বুধবার সতর্ক করে বলেছে, করোনা ভাইরাস সৃষ্ট সংকট শিগগিরই শেষ হবে না। কারণ, অনেক দেশ এখন করোনা মোকাবেলার প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। এদিকে করোনায় বিশ্বে মৃতের সংখ্যা এক লাখ ৮০ হাজার ছাড়িয়েছে। আক্রান্ত হয়েছে প্রায় ২৬ লাখ লোক। এছাড়া বিশ্বব্যাপী করোনার কারণে অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বেকার হয়ে পড়ছে কোটি কোটি লোক। এ প্রেক্ষিতে কোন কোন দেশ কিছু কিছু অর্থনৈতিক কার্যক্রম পুনরায় শুরুর উদ্যোগ নিয়েছে। এ কারণে হু’র প্রধান টেডরস এডহানম গেব্রিয়াসিস র্ভাচুয়াল সংবাদ সম্মেলনে সতর্ক করে বলেন, ভুল করবেন না। আমাদের অনেক দূর যেতে হবে। এই ভাইরাস আমাদের সাথে অনেকদিন ধরে থাকবে। তিনি আরো বলেন, অধিকাংশ দেশ করোনা মোকাবেলার প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। আর যারা মহামারির প্রাথমিক পর্যায়ে আক্রান্ত হয়েছে তারা দেখছে তাদের সংক্রমণের হার বাড়ছে। এদিকে, জার্মানী মহামারি করোনা নিয়ন্ত্রণে থাকার দাবি জানিয়ে সোমবার থেকে সীমিতভাবে দোকান পাট খুলতে শুরু করেছে। একইসঙ্গে দেশটি তাদের তৈরি ভ্যাকসিনের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরুর ঘোষণা দিয়েছে। ফিনল্যান্ড বলেছে, জুলাই পর্যন্ত দেশটি ৫শ’রও বেশি লোকের জমায়েত নিষিদ্ধের নির্দেশ বহাল রাখবে। স্পেন বলেছে, মে মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত তারা লকডাউন অব্যাহত রাখবে। সিঙ্গাপুর তাদের লকডাউনের সময় ১ জুন পর্যন্ত বাড়িয়েছে। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ডিজিজ কন্ট্রোল এন্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) সেন্টারের পরিচালক রবার্ট রেডফিল্ড দেশটিতে করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় পর্যায় আরো ধ্বংসাত্মক হতে পারে বলে হুঁশিয়ার করেছেন। কারণ, ফ্লু’র মৌসুম শুরুর সঙ্গে করোনার সময় মিলে পরিস্থিতি মারাত্মক হতে পারে এবং আমেরিকানদের প্রতি আগামী মাসগুলোতে এ বিষয়ে প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি সতর্ক করে বলেছে, চলতি বছর বিশ্বব্যাপী ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা ২৬ কোটি ৫০ লাখ। করোনার কারণে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এ সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাবে। বিশ্ব ব্যাংক বলছে, চলতি বছর রেমিটেন্সের হার ২০ শতাংশ কমে যাবে যা সাম্প্রতিক ইতিহাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পরিমান হ্রাস। এদিকে, করোনার আরেকটি নিষ্ঠুর বাস্তবতার কথা তুলে ধরেছেন দুবাইয়ে শ্মশানের ব্যবস্থাপক ঈশ্বর কুমার। তিনি বলেন, এখ মরদেহ দাহ করতে কেউ আসে না, কেউ স্পর্শ করে না, কেউ বলে না বিদায়। তিনি বলেন, মহামারির আগে লোকজন আসত ফুল নিয়ে বিদায় জানাতে। তাদের জন্য শোক প্রকাশ করতো। এখন তারা মরছে একা।-বাসস
বাংলাদেশে করোনায় আক্রান্ত ২১৮ পুলিশ সদস্য
২৩এপ্রিল,বৃহস্পতিবার,সাইফুল ইসলাম,ঢাকা,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা পরিস্থিতিতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সম্মুখযুদ্ধে থেকে মানুষের সুরক্ষায় কাজ করছেন পুলিশ সদস্যরা। চাহিদার তুলনায় সুরক্ষা সরঞ্জাম কম থাকলেও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে হাঁসিমুখে কাজ করছেন তারা। মরণঘাতি এই ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার পর বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) পর্যন্ত সারাদেশে ২১৮ জন সদস্য (কনস্টেবল থেকে কর্মকর্তা) আক্রান্ত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে পুলিশ সদরদপ্তর থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, করোনা মোকাবিলায় পুলিশের দুই লাখ সদস্য সরাসরি মাঠে কাজ করছেন। তাদেরকে যথাসম্ভব সুরক্ষা সামগ্রী সরবরাহ করা হয়েছে। এখনও অনেক চাহিদা রয়েছে, যা পূরণে কাজ করছে সদরদপ্তর। কিন্তু আমাদের দেশপ্রেমিক সদস্যরা নিজেদের পূর্ণাঙ্গ সুরক্ষার জন্য অপেক্ষা করছে না কিংবা বসে থাকছেন না। সাধারণ মানুষের সুরক্ষার জন্য তারা সবকিছু করছেন। বিশেষ করে সমাবেশ ও লোকসমাগমে আইনি ব্যবস্থা, অপরাধ দমন, আসামি গ্রেপ্তার ও আদালতে পাঠানো, খাদ্য, ওষুধ ও অন্যান্য জরুরি সেবার সঙ্গে যুক্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিকে নিরাপত্তা দেয়া, দ্রব্য সামগ্রীর মূল্য নিয়ন্ত্রণ, মজুতদারি ও কালো বাজারি রোধ, সরকারি ত্রাণ ও টিসিবির পণ্য বিতরণে অনিয়মের ক্ষেত্রে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে। এছাড়া সামাজিক দূরত্ব বাস্তবায়ন, খোলা স্থানে বাজার স্থানান্তর, বাড়ি বাড়ি নিজস্ব উদ্যোগে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেয়া, কৃষি ও অর্থনীতি সচল রাখতে বিভিন্ন স্থানে ধান কাটার শ্রমিক পাঠানো, অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে পৌঁছে দেয়া, চিকিৎসা পেতে সহযোগিতা করা, প্রিয়জন পরিত্যক্ত ও পথের পাশে পড়ে থাকা মৃতব্যক্তিকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সৎকারের মতো মহৎ কাজ করে যাচ্ছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পুলিশ সদস্যরা মানুষকে সুরক্ষা দিতে জীবনের ঝুঁকি নিচ্ছে। করোনা বিস্তার রোধে তাদেরকে মানুষের খুব কাছে যেতে হচ্ছে। তাই নিজের অজান্তেই অনেক সদস্য করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন। দেশে এই ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে আজ (২৩ এপ্রিল) পর্যন্ত সারাদেশে ২১৮ জন সদস্য (কনস্টেবল থেকে কর্মকর্তা) আক্রান্ত হয়েছেন। কোয়ারেনটাইনে আছেন ৬৫২ জন। আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পর্যাপ্ত আয়োজন রাখা হয়েছে। তাছাড়া পুলিশের হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। এছাড়া বাহিনী প্রধান ড. বেনজীর আহমেদ ব্যক্তিগতভাবে তাদের খোঁজ খবর এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিচ্ছেন। নিয়মিত আক্রান্ত সদস্যদের পরিবারের খোঁজখবর নেয়ার জন্যও তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়েছেন।
বাংলাদেশ অনেক সংকট ও দুর্যোগ মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন
২৩এপ্রিল,বৃহস্পতিবার,আহাম্মদ হোসেন ভুইয়া,নিউজ একাত্তর ডট কম: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মতো একজন সাহসী এবং পরীক্ষীত নেতৃত্ব আছে বলেই বাংলাদেশ অনেক সংকট ও দুর্যোগ মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তিনি আজ ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলটির ত্রাণ উপকমিটির উদ্যোগে অসহায় গরীব মানুষের মাঝে প্রতিনিধির মাধ্যমে খাদ্য সামগ্রী বিতরণের আগে তাঁর বাসা থেকে সংযুক্ত হয়ে ভিডিও কানফারেন্সিংএ একথা বলেন। এই সংকটকালে যারা কষ্টে আছেন তাদের জন্য এই প্রয়াস অব্যাহত রাখার আহবান জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, সারা বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে।তিনি বলেন, যারা কর্মহারিয়ে দিশেহারা মুখে বলতে পারেনা, তাদের খুঁজে খুঁজে বাড়ী গিয়ে ত্রাণ দিতে হবে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন,এই সংকটে দুটো বিষয়ের উপর গুরুত্ব দিতে হবে তা হলো এই যুদ্ধে করোনাকে মোকাবেলা করতে হবে এবং গরীব মানুষদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ভয়কে জয় করবো ইনশাআল্লাহ। তিনি কৃষকের ধান কাটা কর্মসূচিতে কৃষকলীগ,স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ অংশ নেয়ায় ধন্যবাদ জানান। পরে দেশের আলেম ওলামা,মটরচালক লীগ,মহিলা শ্রমিকলীগ,ফটো জার্নালিস্ট, মুক্তিযোদ্ধা ও বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিদের মধ্যে খাদ্য সামগ্রিক বিতরণ করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী,উপদপ্তর সম্পাদক সায়েম খান ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ।
করোনাভাইরাসে ২৪ ঘণ্টায় ৭ জনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ৪১৪
২৩এপ্রিল,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: মহামারি করোনাভাইরাস দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও সাতজনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। এ নিয়ে ভাইরাসটিতে ১২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত হিসেবে নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন আরও ৪১৪জন। ফলে করোনাভাইরাসে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে চার হাজার ১৮৬ জন। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। অনলাইনে বুলেটিন উপস্থাপন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক, স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা। বুলেটিন উপস্থাপনকালে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে সবাইকে বাড়িতে থাকার এবং স্বাস্থ্য বিভাগের পরামর্শ মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়। গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস এখন গোটা বিশ্বে তাণ্ডব চালাচ্ছে। চীন পরিস্থিতি কিছুটা সামাল দিয়ে উঠলেও এখন মারাত্মকভাবে ভুগছে ইউরোপ-আমেরিকা-এশিয়াসহ বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চল। এ ভাইরাসে বিশ্বজুড়ে আক্রান্তের প্রায় সাড়ে ২৬ লাখ। এক লাখ ৮৪ হাজার ছাড়িয়েছে মৃতের সংখ্যা। তবে সাত লাখ ২২ হাজার রোগী ইতোমধ্যে সুস্থ হয়েছেন। গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। এরপর প্রথম দিকে কয়েকজন করে নতুন আক্রান্ত রোগীর খবর মিললেও এখন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে এ সংখ্যা। প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। নিয়েছে আরও নানা পদক্ষেপ। এসব পদক্ষেপের মূলে রয়েছে মানুষে মানুষে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, বিশেষত ঘরে রাখা। কিন্তু সশস্ত্র বাহিনী, র্যাব ও পুলিশের টহল জোরদার করেও মানুষকে ঘরে রাখা যাচ্ছে না বিধায় করোনাভাইরাসের বিস্তার উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালকের পদত্যাগ চেয়ে আইনি নোটিশ
২৩এপ্রিল,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা মোকাবিলায় ডাক্তার, নার্স, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সাংবাদিকসহ সংশ্লিষ্টদের যথাযথ ব্যক্তিগত নিরাপত্তার সরঞ্জাম বা পিপিই সরবরাহে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ তুলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক প্রফেসর মো. আবুল কালাম আজাদের পদত্যাগ দাবি করে একটি আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. জে আর খান (রবিন) এ নোটিশ পাঠান। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সচিব, অর্থ মন্ত্রণালয় সচিব, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের (স্বাস্থ্য সেবা বিষয়ক) সচিব এবং স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালকের (ডিজি) সরকারি ই-মেইলে এ নোটিশ পাঠানো হয়। নোটিশে বলা হয়, করোনাভাইরাসের উৎপত্তিস্থল চীনে হলেও বর্তমানে সে ভাইরাসের প্রভাব বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত। এই ভাইরাসের কারণে মানুষ প্রতিনিয়ত মৃত্যুর মুখোমুখি হচ্ছে। করোনা মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকার ইতোমধ্যে যাবতীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী এ ভাইরাস মোকাবিলা করাসহ দেশের মানুষকে সুরক্ষিত রাখার লক্ষ্যে নানারকম সুযোগ-সুবিধা দিয়ে আন্তরিকভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। নোটিশে বলা হয়, এ মুহূর্তে একাধিক দৈনিক পত্রিকা ও নিউজপোর্টালে প্রকাশিত খবরের আলোকে জানতে পারি, করোনা মোকাবিলায় স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ যথাযথ পদক্ষেপ নিতে প্রতিনিয়ত ব্যর্থ হচ্ছেন। এ ব্যর্থতার কারণে গত ২২ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের ১৭০ জন ডাক্তার, ১০০ জন পুলিশ, ২৮ জন সাংবাদিক, সাত জন প্রশাসনিক কর্মকর্তা, নার্সসহ তিন হাজার ৩২৮ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন এবং ইতোমধ্যে ১১০ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। নোটিশে আরও বলা হয়, এ ভাইরাস ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি এবং এক গোষ্ঠী থেকে অন্য জনগোষ্ঠীতে সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এরপরও ডাক্তারদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা সরঞ্জাম অর্থাৎ পিপিই সরবরাহ করতে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক ব্যর্থ হয়েছেন। এছাড়াও তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সাংবাদিক ও করোনা মোকাবিলায় সংশ্লিষ্টদের জন্য যথাযথ ব্যক্তিগত নিরাপত্তা সরঞ্জামের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। যদিও দেশের সব মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষার লক্ষ্যে যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার ক্ষেত্রে বর্তমানে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক ক্ষমতাবান ও দায়িত্বশীল বটে। তাই করোনায় অব্যবস্থাপনার দায় তিনি কোনোভাবে এড়াতে পারেন না। বাংলাদেশ সংবিধানের ১৫(ক), ১৮(১) এবং ৩২ অনুচ্ছেদে স্বাস্থ্য সেবার ব্যাপারে উল্লেখ রয়েছে। এরমধ্যে ৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী স্বাস্থ্য সেবা মানুষের মৌলিক অধিকার, যা নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রকে দেওয়া হয়েছে। তাই সার্বিক বিবেচনায় স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক প্রফেসর মো. আবুল কালাম আজাদের ইতিপূর্বেই পদত্যাগ করা যুক্তিযুক্ত ছিল। কিন্তু তিনি তা করেননি। তাই এই নোটিশ প্রাপ্তির পর যত দ্রুত সম্ভব তাকে পদত্যাগ করতে অনুরোধ জানানো হলো। অন্যথায় তিনি তার অবিচক্ষণ কার্যকলাপের জন্য সৃষ্ট সব ধরনের ক্ষতির জন্য দায়ী থাকবেন। এ কারণে তার বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জাতীয় পাতার আরো খবর