শনিবার, এপ্রিল ১৭, ২০২১
ত্রাণ বিতরণের নামে কোন ধরনের বৈষম্য করা চলবে না
২১এপ্রিল,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, এই দুর্যোগকালে সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাহসিকতা ও পরীক্ষীত নেতৃত্বে জাতি আজ ঐক্যবদ্ধ। আজ সকালে তার সরকারি বাসভবনে ব্রিফিংকালে তিনি একথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তৃণমূল পর্যন্ত ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহবান জানিয়েছেন উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ত্রাণ বিতরণের নামে কোন ধরনের বৈষম্য করা চলবে না। তিনি বলেন, দলমত নির্বিশেষে সবাইকে এই কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। ত্রাণ বিতরণে বাধা দেয়া হচ্ছে বিএনপির এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, এ অভিযোগ একেবারেই ভিত্তিহীন। তাদের এ অভিযোগের কোন তথ্য-প্রমাণ নেই। বিএনপিকে নিষ্ক্রীয় করার জন্য তারা নিজেরাই যথেষ্ট, তাদের নেতিবাচক রাজনীতির জন্য আজ তাদের এই পরিনতি।
নতুন ৪৩৪ করোনা রোগী শনাক্ত, মৃত্যু ৯ জনের
২১এপ্রিল,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে ৪৩৪ জন। আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন আরও ৯ জন। এ নিয়ে দেশে মোট করোনা আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন ৩ হাজার ৩৮২ জন, মোট মারা গেছেন ১১০ জন। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ২ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছে ৮৭ জন। আজ মঙ্গলবার দুপুরে করোনা নিয়ে নিয়মিত অনলাইন ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানায় স্বাস্থ্য অধিদফতর। এদিকে গতকাল সোমবার দেশে ৪৯২ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয় ও ১০ জনের মৃত্যু হয়। ২০শে এপ্রিলের হিসেব অনুযায়ী ঢাকায় এখন ১১৭৪ জন করোনাভাইরাসে শনাক্ত হয়েছেন।ঢাকার আশেপাশেই মূলত করোনাভাইরাস রোগী অন্য যেকোনো জায়গার তুলনায় বেশি। আইইডিসিআরের হিসেব অনুযায়ী চট্টগ্রামে পুরো বিভাগে মোট করোনাভাইরাস রোগী আছেন ১১৮ জন, যেখানে নরসিংদীতে ১৩৫ জন, কিশোরগঞ্জে ১৪৬ জন এবং গাজীপুরে শনাক্ত হয়েছেন ২৬৯ জন। নারায়ণগঞ্জে সংক্রমণ হয়েছে ৩৮৭ জনের মাঝে। এর বাইরে মুন্সীগঞ্জে ৩৩ জন, গোপালগঞ্জে ৩০ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন।
সরিষাবাড়ীতে ডাক্তারদের পিপিই দিলেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী
২১এপ্রিল,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা ভাইরাস থেকে সুরক্ষায় জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তার -নার্সদের মাঝে ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই) ও সার্জিক্যাল মাস্ক বিতরণ করেছেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মোঃ মুরাদ হাসান। প্রতিমন্ত্রী উপজেলার দৌলতপুরস্থ নিজ বাসভবনে সামাজিক দূরত্ব রক্ষা করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তার ও নার্সদের জন্য ৪০ পিস ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই) এবং ৫০টি সার্জিক্যাল মাস্ক প্রদান করেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডাক্তার জারিন পিপিই ও সার্জিক্যাল মাস্ক গ্রহণ করেন। তথ্য প্রতিমন্ত্রী এ সময় বলেন, সরকার করোনা মোকাবিলা ও দেশের নাগরিকদের সুরক্ষার জন্য দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন। সবাইকে সচেতন হতে হবে। প্রত্যেককে সরকারি নির্দেশনা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। তিনি বলেন, সবাই নিজ নিজ জায়গা থেকে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করলে করোনা সংক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।
করোনা: ডাক্তার-সাংবাদিককে হয়রানি করলে বাড়িওয়ালার বিদ্যুৎ-গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন
২১এপ্রিল,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: কভিড-১৯ আক্রান্তদের সেবাদানকারী চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, জরুরি সেবাদানকারী ব্যক্তি, সংবাদকর্মী এবং করোনায় আক্রান্ত কোনো ব্যক্তিকে বাড়ির মালিক হয়রানি করলে তাদের (বাড়ির মালিকদের) বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হবে। সোমবার (২০ এপ্রিল) সরকারি এক তথ্য বিবরণীতে বিদ্যুৎ বিভাগ এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের উদ্ধৃতি দিয়ে এ নির্দেশনা জানানো হয়েছে। করোনা ভাইরাস সংক্রমণে লকডাউনের মধ্যে আক্রান্তদের সেবাকাজে নিয়োজিত চিকিৎসক-নার্স এবং স্বাস্থ্যকর্মীসহ সাংবাদিক এবং জরুরি কাজে নিয়োজিতদের বাড়ি ছাড়ার জন্য বাড়ির মালিকদের হুমকির মধ্যে সরকারের এ নির্দেশনা এসেছে। তথ্য বিবরণীতে বলা হয়েছে, কেউ এ ধরনের হয়রানির শিকার হলে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিসমূহ, ডিপিডিসি, ডেসকো, নেসকো, ওজোপাডিকোর ওয়েবসাইটে দেওয়া কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ ও গ্রাহক সেবা কেন্দ্রের টেলিফোন নম্বরে যোগাযোগ করে জানাতে পারেন। এ ধরনের অভিযোগ পাওয়ার পর যাচাই করে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একইভাবে সংশ্লিষ্ট গ্যাস বিতরণ কোম্পানির ওয়েবসাইটে দেওয়া কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ ও গ্রাহক সেবা কেন্দ্রের টেলিফোন নম্বরে যোগাযোগ করে হয়রানির তথ্য জানানো হলে গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। করোনার মধ্যে জরুরি কাজে নিয়োজিতদের হয়রানি বা বাড়ি ছাড়তে বললে এর আগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) থেকে বাড়িওয়ালাদের অর্থের উৎস খোঁজা হবে বলে জানানো হয়। আর পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জরুরি কাজে নিয়োজিত চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, জরুরি সেবাদানকারী ব্যক্তি, সংবাদকর্মী এবং করোনায় আক্রান্ত কোনো ব্যক্তি বাড়ির মালিক বা কোনোভাবে হেনস্তার স্বীকার হলে ৯৯৯-এ কল করুন। আমরা ব্যবস্থা নেবো।
এডিবির কাছে সহায়তা চাইলেন অর্থমন্ত্রী
২০এপ্রিল,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: জনপ্রশাসনের যারা মাঠ পর্যায়ে করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় দায়িত্ব পালন করছেন তাদের প্রণোদনা দিতে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) কাছে ১০ কোটি ডলার বা প্রায় ৯০০ কোটি টাকার সমপরিমাণ অর্থ সহায়তা চেয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। আজ সোমবার অর্থমন্ত্রী এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট মাসাতাসুগু আসাকাওয়ার সঙ্গে করোনা পরিস্থিতি এবং সহযোগিতা নিয়ে ফোনে আলাপচারিতায় এ সহায়তার কথা বলেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, এ পর্যন্ত এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক বাংলাদেশকে যে সহায়তা দিয়েছে তা এই ক্রান্তিকালীন বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত জরুরি ছিল। কিন্তু বর্তমান উদ্ভূত পরিস্থিতে আমাদের প্রয়োজন এর চেয়ে আরো অনেক বেশি। বাংলাদেশের ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে এডিবির বৃহত্তর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে অনুরোধ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি ও সমাজের উপর করোনার বিরূপ প্রভাব মোকাবিলার জন্য এডিবি থেকে বর্ধিত প্রকল্প সহায়তা এবং ২০১৯-২০ অর্থবছরের ৫০০ মিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য আরো ১ বিলিয়ন ডলার বাজেট সাপোর্ট প্রয়োজন। কোভিড-১৯ মোকাবিলায় ফ্রন্টলাইন কর্মীদের (চিকিৎসা কর্মী, সিভিল প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, অত্যাবশ্যকীয় সেবা প্রদানকারী) জন্য ১০০ মিলিয়ন ডলার, কোভিড-১৯ এর কারণে চাকরি হারানো দেশি ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য এবং অতি-ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও কুটির শিল্প খাতের ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনে ১৫০ মিলিয়ন ডলার আর্থিক সহায়তা এবং অছাড়কৃত ওসিআর লোনের কমিটন্টে চার্জ হ্রাসের অনুরোধ করেন অর্থমন্ত্রী। এডিবির প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের উল্লেখিত খাতসমূহে আর্থিক সহায়তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েছেন এবং বিষয়টি পর্যালোচনা করে বাংলাদেশকে সময়মত অবহিত করবেন বলে জানান। এর আগে এডিবি প্রেসিডেন্টের কাছে সারা বিশ্বে তথা বাংলাদেশের পরিস্থিতি তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, পুরো বিশ্ব সম্প্রদায় এখন একটি ক্রান্তিকাল পার করছে। করোনা ভাইরাসের কারণে আজ মানব সম্প্রদায়ের জীবন ও অস্তিত্ব হুমকীর সম্মুখীন হয়েছে। গোটা বিশ্ব আজ প্রকট অর্থনৈতিক মন্দার সম্মুখীন হতে যাচ্ছে। বিশ্বের অর্থনৈতিক মন্দার ধাক্কা বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্যও দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, জানি না যে, এই সঙ্কট কতদিন থাকবে এবং তা আমাদের অর্থনীতিকে কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। তবুও সম্ভাব্য অর্থনৈতিক নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় আমরা কাজ করে যাচ্ছি। নভেল করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এডিবির স্বাস্থ্য ও অর্থনীতি খাতে ২০ বিলিয়ন বা দুই হাজার কোটি ডলার আর্থিক সহায়তার প্যাকেজ ঘোষণার জন্য এডিবির প্রেসিডেন্ট মাসাতাসুগু আসাকাওয়ার নিকট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন অর্থমন্ত্রী। এডিবির প্রেসিডেন্টের গতিশীল নেতৃত্বে উন্নয়নশীল দেশগুলো করোনা ভাইরাসের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা করতে সক্ষম হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি তিনি স্বাস্থ্য খাতের জরুরি সেবা ও বাজেট সাপোর্টের জন্য এডিবি তৎক্ষণাৎ ভিত্তিতে বাংলদেশের জন্য যে ৬০২.৩৯ মিলিয়ন ডলার আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি প্রদান করেছে সেজন্যও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। এডিবি প্রেসিডেন্ট বলেন, এই মহামারি এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে অর্থনৈতিক, সামাজিক, এবং উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় বড় ধরনের আঘাত হানতে পারে। যার ফলে এই অঞ্চলের দরিদ্রতা আরো বাড়তে পারে এবং অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিতে পারে। এডিবি ঘোষিত সহযোগিতা প্যাকেজ উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এবং বেসরকারি খাতকে এই মহামারি মোকাবিলা করার জন্য দ্রুত সরবরাহ করা হচ্ছে। তিনি অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশে এডিবির চলমান প্রকল্প ও পাইপলাইনের প্রকল্পগুলো নিয়ে আলোচনা করেন। সেগুলো দ্রুত সফলভাবে সম্পন্ন করার পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ করেন। উল্লেখ্য, বর্তমানে বাংলাদেশে এডিবির প্রায় ৮.৭০ বিলিয়ন ডলার সহায়তায় ৬৩টি প্রকল্প চলমান রয়েছে। পাশাপাশি পাইপলাইনে রয়েছে প্রায় ৯.৯৪ বিলিয়ন ডলার সহায়তার ৮১টি প্রকল্প। অর্থমন্ত্রী ও এডিবি প্রেসিডেন্টের মধ্যে করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় বাংলাদেশের গৃহীত পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা হয়। অর্থমন্ত্রী বাংলাদেশের গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে বলেন, কোথাও লকডাউন, কোথাও গণছুটি আবার কোথাও কারফিউ জারি করে মানুষকে ঘরবন্দি করা হয়েছে। বাংলাদেশে গত ২৬শে মার্চ থেকে আগামী ২৫শে এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। জরুরি সেবা কার্যক্রম ছাড়া সবকিছু বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এখন দেশের সিংহভাগ শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং ছোট-খাটো কারখানা বন্ধ। গণপরিবহন ও বিমান চলাচল স্থগিত। অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেন, এর আগে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর উদ্বোধন অনুষ্ঠান, স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান ও পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে। তিনি এডিবির প্রেসিডেন্টকে জানান, ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী দেশের মানুষ ও অর্থনীতির জন্য ৯৫ হাজার ৬১৯ কোটি টাকার বিভিন্ন আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন, যা জিডিপির ৩.৩ শতাংশ। এই প্যাকেজের অর্থ ব্যয়ে জনসাধারণের ব্যয় বৃদ্ধি, সামাজিক সুরক্ষা জালকে প্রশস্ত করা এবং আর্থিক সরবরাহ বাড়ানোর ক্ষেত্রে জোর দেয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প, পরিষেবা খাত এবং কুটির শিল্পগুলিকে সুরক্ষার জন্য ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে কার্যনির্বাহী মূলধনের বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট মাসাতাসুগু আসাকাওয়া বাংলাদেশের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের প্রশংসা করেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কতৃক ত্বরিত ঘোষিত আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজের জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
সব জেলার ত্রাণ কাজের সমন্বয়ে ৬৪ সচিব
২০এপ্রিল,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ ও ক্ষতিগ্রস্তদের জেলা পর্যায়ে ত্রাণ কার্যক্রম সমন্বয়ের লক্ষ্যে সরকারের জ্যেষ্ঠ সচিব, সচিব এবং সচিব পদমর্যাদার ৬৪ জন কর্মকর্তাকে একটি করে জেলার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। আজ সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সচিবদের এই দায়িত্ব দিয়ে অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় আদেশটি প্রকাশ করেছে। আদেশ বলা হয়েছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলার সংসদ সদস্য, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সমন্বয় সাধন করে করোনা (কোভিড-১৯) সংক্রান্ত স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার কাজ (সচিবরা) তত্ত্বাবধান ও পরিবীক্ষণ করবেন। জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পরিবীক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সমন্বয় করতেও সচিবদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রাপ্ত সমস্যার/চ্যালেঞ্জ অথবা অন্যবিধ বিষয় সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর, সংস্থকে লিখিত আকারে জানাবেন এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে অবহিত করবেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিবরা সমন্বয় কাজে তার মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর বা সংস্থার উপযুক্ত সংখ্যক কর্মকর্তাকে সম্পৃক্ত করতে পারবেন বলে আদেশে বলা হয়েছে। এই সঙ্কটের মধ্যে ত্রাণ বিতরণে অনিয়মের জন্য রোববার পর্যন্ত ইউনিয়ন পরিষদের আটজন চেয়ারম্যান এবং ১৬ জন সদস্যসহ মোট ২৪ জন জনপ্রতিনিধিকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
লকডাউনে ভারতে আটকে পড়া ১৬৪ জন বাংলাদেশী দেশে ফিরেছেন
২০এপ্রিল,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: লকডাউনে ভারতে আটকে পড়া ১৬৪ জন বাংলাদেশী দেশে ফিরেছেন। অল্প আগে সরকারী সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, নয়া দিল্লিস্থ বাংলাদেশ হাই কমিশন তথা বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগ ও সহযোগিতায় আকাশপথে চেন্নাই থেকে দেশে প্রত্যাবর্তন করেছেন তারা। এদিকে আটকেপড়া বাংলাদেশিদের বহনকারী ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের জিএম মার্কেটিং অ্যান্ড পিআর কামরুল ইসলাম জানিয়েছেন ৩ টা ৪৮ মিনিটে চেন্নাই ফেরত স্পেশাল ফ্লাইটটি ঢাকায় অবতরণ করেছে। নয়া দিল্লির বাংলাদেশ মিশন জানিয়েছে, ওই উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় আগামী কয়েকদিনে আরো কয়েকটি ফ্লাইটে চিকিৎসার জন্য গিয়ে আটকে পড়া অনেকেই চেন্নাই হয়ে বাংলাদেশে ফিরতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে। মিশনের বিজ্ঞপ্তি মতে, বর্তমানে তামিলনাড়ু ও কর্ণাটকে আটকে থাকা অসুস্থ ও প্রবীণদের আকাশপথে দেশে ফেরার জন্য অনুমোদন পাওয়া গেছে ও তাঁদের প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে । পর্যায়ক্রমে বাকি সকল রাজ্য থেকে প্রত্যাবর্তনে আগ্রহীদের দেশে ফেরানোর জন্য দূতাবাস সার্বক্ষনিকভাবে কাজ করছে । প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে খাদ্য, আবাসন ও চিকিৎসা সেবা অব্যাহত রাখার জন্য কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে । দিল্লীর পাহাড়গঞ্জ এলাকায় কিছু বাংলাদেশী তাঁদের অসুবিধার কথা জানালে দূতাবাসের কর্মকর্তাগণ স্থানীয় সরকারের বিশেষ অনুমোদন নিয়ে তাঁদের সাথে সাক্ষাত করে খাদ্য ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছেন । দিল্লীসহ অন্যান্য বড় শহরে যেখানে বেশিসংখ্যক বাংলাদেশী আটকে রয়েছেন তাঁদের প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে সরকারের উচ্চ মহলে আলোচনা চলছে । দেশে ফেরার আগে পর্যন্ত আটকে পড়া ছাত্রছাত্রীদের অসুবিধাসমূহ কিভাবে আরও সহনীয় করা যায় সেজন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। শিক্ষার্থীরা মানব সভ্যতার ইতিহাসে এই অভূতপূর্ব পরিস্থিতি যে ধৈর্য্য ও সহনশীলতার সাথে মোকাবেলা করছেন দূতাবাস সে জন্য তাঁদের ধন্যবাদ জানাচ্ছে । বাংলাদেশের গৌরবময় ইতিহাসে পূর্ববর্তী প্রজন্মের বীরত্ব ও ত্যাগ শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে নয়া দিল্লির বাংলাদেশ দূতাবাস প্রচারিত ওই সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়- আজকের এ সংকটময় ও কষ্টকর পরিস্থিতিতে তরুণ শিক্ষার্থীরা যে সাহস ও ধৈর্য্যের পরিচয় দিচ্ছেন অনাগত কাল তার মূল্যায়ন নিশ্চয়ই করবে। বাংলাদেশ হাই কমিশন সকলের সুস্থতা কামনা করছে।
বঙ্গবন্ধুর আরেক খুনী মোসলেহ উদ্দিনও কি গ্রেপ্তার হয়েছে ?
২০এপ্রিল,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বঙ্গবন্ধুর খুনী আব্দুল মাজেদের ধরা পড়া এবং ফাঁসির এক সপ্তাহের মধ্যে আরেক খুনী রিসালদার (বরখাস্ত) মোসলেহ উদ্দিনকে নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে গোয়েন্দা মহলে জোর গুঞ্জন চলছে। একটি সুত্রের দাবি, মাজেদের মত রিসালদারও দীর্ঘদিন ধরে ভারতে লুকিয়ে রয়েছেন। মাজেদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য ভারতের গোয়েন্দা এজেন্সিগুলির হাতে আসার পরই গোয়েন্দারা নড়েচড়ে বসে। আর এরপরই উত্তর ২৪ পরগণার একটি আধা শহর এলাকা থেকে মোসলেহ উদ্দিনকে আটক করা হয়েছে। সে সেখানে ইউনানি চিকিৎসক সেজে ভাড়া বাড়িতে থাকছিল । গোয়েন্দারা মোসলেহ উদ্দিনকে হেফাজতে নেবার পরই তাকে সীমান্তের কোনও এক অরক্ষিত অঞ্চল দিয়ে বাংলাদেশের গোয়েন্দাদের হাতে গোপনে তুলে দেয়া হয়েছে বলে কোনও কোনও গোয়েন্দা সুত্রে দাবি করা হয়েছে।মানবজমিন। গোয়েন্দাদের একংশের মতে, লকডাউনের সময়ে মোসলেহ উদ্দিনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে সোরগোল ফেলে দিতে চায়নি ভারত। বরং অত্যান্ত গোপনে বাংলাদেশের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে। কিন্তু এসব সংবাদেও কোনও সত্যতা কোনও মহলই স্বীকার করেনি। তবে সরকারিভাবে পুলিশ বা কোনও গোয়েন্দা সংস্থা এ ব্যাপারে কোন কথা বলে নি। আবার অন্য একটি সুত্রের মতে, মাজেদ গ্রেপ্তার হবার খবর জানার পরই মোসলেহ উদ্দিন পালিয়ে গিয়েছে। বঙ্গবন্ধু হত্যার ফেরারী হওয়া ফাঁসির আসামি এই মোসলেহ উদ্দিন। ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট ৩২ নম্বর ধানমন্ডীতে মুজিবের বাড়িতে অভিযান চালানো দলটির সামনের সারিতে ছিল মোসলেহ উদ্দিন। অনেকের দাবি, মোসলেহ উদ্দিনই গুলি করে হত্যা করেছিল মুজিবকে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার অভিযোগে এখন পর্যন্ত সৈয়দ ফারুক রহমান, বজলুল হুদা, এ কে এম মহিউদ্দিন আহমেদ, সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান, মুহিউদ্দিন আহমেদ ও আব্দুল মাজেদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। এ ছাড়া ফাঁসির দন্ডাদেশপ্রাপ্ত আরেক আসামি আজিজ পাশা ২০০২ সালে পলাতক অবস্থায় জিম্বাবুয়েতে মারা গিয়েছে। আর ফেলার আসামীদের মধ্যে এস এইচ এম বি নূর চৌধুরী কানাডায় ও এ এম রাশেদ চৌধুরী যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। খন্দকার আবদুর রশিদ ও শরিফুল হক ডালিম কোথায় রয়েছে সে সম্পর্কে কোনও তথ্য নেই। তবে মোসলেহ উদ্দিন দীর্ঘদিন ভারতেই লুকিয়ে ছিল। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়েছে।
শতক ছাড়ালো মৃত্যু, আক্রান্ত আরও ৪৯২
২০এপ্রিল,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দেশে করোনাভাইরাসে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে ভাইরাসটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১০১ জনে। করোনায় আক্রান্ত হিসেবে নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন আরও ৪৯২ জন। ফলে মোট আক্রান্তের সংখ্যা হয়েছে দুই হাজার ৯৪৮ জন। সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। অনলাইনে বুলেটিন উপস্থাপন করেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা, তার সঙ্গে ছিলেন অধিদফতরের কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের (সিএমএসডি) পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. শহীদুল্লাহ। বুলেটিনে বলা হয়, করোনাভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় দুই হাজার ৭৭৯টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। সব মিলিয়ে নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ২৬ হাজার ৬০৪টি। নতুন যে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে তার মধ্যে নতুন করে ৪৯২ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। ফলে করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৯৪৮-এ। আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে মারা গেছেন আরও ১০ জন। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ১০১ জনে। এছাড়া সুস্থ হয়ে উঠেছেন আরও ১০ জন। ফলে মোট সুস্থ রোগীর সংখ্যা ৮৫ জন। বুলেটিনে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. শহীদুল্লাহ পিপিইসহ চিকিৎসা সামগ্রী গ্রহণ এবং তা চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে বিতরণের তথ্য তুলে ধরেন। বুলেটিন উপস্থাপনকালে করোনার বিস্তাররোধে সবাইকে বাড়িতে থাকার এবং স্বাস্থ্য বিভাগের পরামর্শ মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়। গত ডিসেম্বরের শেষে চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস এখন গোটা বিশ্বে তাণ্ডব চালাচ্ছে। চীন পরিস্থিতি কিছুটা সামাল দিয়ে উঠলেও এখন ভুগছে ইউরোপ-আমেরিকা-এশিয়াসহ বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চল। এ ভাইরাসে বিশ্বজুড়ে আক্রান্তের সাড়ে ২৪ লাখ ১৪ হাজারেরও বেশি। মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে এক লাখ ৬৫ হাজার। তবে সোয়া ছয় লক্ষাধিক রোগী ইতোমধ্যে সুস্থ হয়েছেন।

জাতীয় পাতার আরো খবর