চিকিৎসায় অবহেলাকে কেন্দ্র করে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলে সংঘর্ষ-,আহত ১৩
অনলাইন ডেস্ক: রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর মায়ের চিকিৎসায় অবহেলাকে কেন্দ্র করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও শেকৃবির শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে কমপক্ষে ১৩ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। সোমবার (৬ আগস্ট) সকাল ১০ টার দিকে মেডিকেল কলেজের ৪নং ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় প্রায় ৩ ঘণ্টা সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ ছিল। পরবর্তীতে আগারগাঁও পুলিশ এসে পরস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। জানা যায়, শেকৃবির তৃতীয় বর্ষের সাদিদ নামে এক শিক্ষার্থীর মা গত ২ আগস্ট ইউরিনারি ট্রাক্ট ইনফেকশনে আক্রান্ত হয়ে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪নং ওয়ার্ডের ১৮ নং বেডে ভর্তি হন। ভর্তি হওয়ার পর থেকে তার মায়ের স্বাস্থ্যের কোন উন্নতি হচ্ছিল না বলে অভিযোগ ওঠে। এছাড়াও ওয়ার্ডে দায়িত্বরত নার্সদের সেবা নিয়েও অভিযোগ তোলেন রোগী। এ ব্যাপারে রোগীর ছেলে সাদিদ বলেন, চারদিন ধরে আমার মা এই মেডিকেলে চিকিৎসাধীন আছেন। কিন্তু মায়ের চিকিৎসা ভালো মত চলছিল না। দায়িত্বরত নার্স ও ইন্টার্ন ডাক্তাররা চিকিৎসায় গাফিলতি করছিলেন। এ ব্যাপারে আজ (সোমবার) সকালে কথা বলতে গেলে তারা প্রথমে খারাপ ব্যবহার শুরু করেন আমার সঙ্গে এবং এক পর্যায়ে ইন্টার্ন একজন ডাক্তার আমার মাকে বেড থেকে বের করে দেন এবং আমার মায়ের গায়ে ধাক্কা দেন। এর প্রতিবাদ করার পরে ইন্টার্ন ডাক্তার, মেডিকেল শিক্ষার্থী ও স্টাফরা মিলে আমার ওপর আক্রমণ করে। পরে এ ঘটনা আমি আমার বন্ধুদের জানাই। আমার বন্ধুরা হাসপাতালে এলে আমাদের কোন কথা বলার সুযোগ না দিয়েই মেডিকেলের ছাত্ররা আমাদের ওপর আক্রমণ করে। এতে আমিসহ আমার ৩ জন বন্ধু গুরুতর আহত হয়ে পার্শ্ববর্তী পুপুলার হাসপাতালে চিকিৎসা নিই। এ ঘটনায় সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের দুই ইন্টার্ন ডাক্তার লাঞ্ছিত এবং শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ জন গুরুতর আহতসহ মোট ১৩ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। এছাড়াও সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের দ্বারা লাঞ্ছিত হয়েছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান। এ বিষয়ে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা জানান, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মেডিকেলে এসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। তারা দায়িত্বরত ইন্টার্ন ডাক্তারের সঙ্গে বাকবিতন্ডাও করেন। তবে এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের রোগীর সঙ্গে কথা বলতে দেননি মেডিকেল প্রশাসন। এ ব্যাপারে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের সহকারী পরিচালক ড. কে এম মামুন মোর্শেদ বলেন, ব্যাপারটা গুরুতর কিছু নয়, তাদের সঙ্গে শুধু হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে সমস্যা সমাধান করব আমরা। শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. ফরহাদ হোসেন আলোকিত বাংলাদেশকে বলেন, এ ঘটনায় আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কিছু শিক্ষার্থী আহত হয়েছে এবং শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান লাঞ্ছিত হয়েছেন। আমরা সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে ব্যাপারটা সমাধানের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা ঘরে ফিরতে শুরু করেছে
অনলাইন ডেস্ক: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আহবানে সাড়া দিয়ে নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা ঘরে ফিরতে শুরু করেছে। বেশির ভাগ আন্দোলন কারী শিক্ষার্থী ঘরে ফিরে গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা শিক্ষার্থীদের নয়দফা আন্দোলনের সব দাবি মেনে নিয়েছি এবং তা বাস্তবায়নও শুরু করেছি।’ ওবায়দুল কাদের আজ বিকেলে রাজধানীর ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন। এ সময় আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক এমপি, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপুমণি এমপি, এডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক এমপি, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, এ কে এম এনামুল হক শামীম, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি, দপ্তর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন ও উপ-দপ্তর সম্পাদক ব্যরিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর একই দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর বক্তব্য সমর্থন করার মাধ্যমে প্রমাণ হয়েছে তারা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের অরাজনৈতিক আন্দোলনের ওপর ভর করে ফায়দা হাসিল করার ষড়যন্ত্র করেছিলেন। তিনি বলেন, সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীরা কেউ অস্ত্র হাতে নিয়ে রাস্তায় নামেন নি। এ আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের কোন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল না। আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে হামলার কোন এজেন্ডাও তাদের ছিল না। সেতুমন্ত্রী কাদের বলেন, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর আহ্বানকে তারা গোপনে সারাদেশে পৌঁছে দিয়েছে। এ নির্দেশে বিএনপি-জামায়াতের তরুণ ক্যাডাররা ঢাকায় একত্রিত করেছে। তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত তাদের নয় বছরের আন্দোলন করতে না পারার ব্যর্থতা ঢাকতে শিক্ষার্থীদের অরাজনৈতিক আন্দোলনে দলীয় ক্যাডারদের অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে সরকার হঠাও আন্দোলনের নোংরা খেলায় মেতে উঠেছে। ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রীপরিষদের সভায় আজ সড়ক পরিবহন আইনটি অনুমোদিত হয়েছে। তবে এটা চুড়ান্ত পর্যায় নয়। এরপর এটি বিল আকারে সংসদে যাবে। সংসদ সময় নির্ধারণ করে তা স্থায়ী কমিটিতে পাঠাবে। চুলচেরা বিশ্লেষণের পর স্থায়ী কমিটি বিলটি পার্লামেন্টে উপস্থাপিত হওয়ার পর তা পাশ হলে আইনে পরিনিত হবে। সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের প্রস্তাবিত সড়ক পরিবহন আইনে শাস্তির বিষয়ে বলেন, ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যার উদ্দেশে দুর্ঘটনা ঘটালে দন্ডবিধির ৩০২ ধায় বিচার হবে। আর বেপরোয়া ড্রাইভিংয়ের জন্য দুর্ঘটনায় কেউ মারা গেলে ৫ বছরের শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এক ক্র্যাশ কর্মসূজচি গ্রহণ করেছে। এ কর্মসূচী অনুযায়ী শুক্রবার ছাড়া সপ্তাহের ৬ দিন সকাল ১০ থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত বিআরটি’র সদরদপ্তরসহ দেশের সকল কার্যালয় খোলা থাকবে। এ বিষয়ে তিনি আরো বলেন, এ কর্মসূচির আওতায় যানবাহনে ফিটনেস সার্টিফিকেট, ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান ও নবায়নসহ সকল জরুরি সেবা প্রদান করা হবে। সাংবাদিকদের ওপর হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, এ হামলার সঙ্গে ছাত্রলীগের কেউ জড়িত থাকলে তার প্রমান দিন। উপযুক্ত শাস্তি দেব।
সর্বোচ্চ ৫ বছরের দণ্ড-সড়ক পরিবহন আইনের খসড়া অনুমোদন
অনলাইন ডেস্ক: সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পেয়েছে। সর্বোচ্চ সাজা পাঁচ বছর ও পাঁচ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রেখে সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮-এর খসড়া অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। সোমবার (৬ আগস্ট) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়। নতুন আইন অনুযায়ী বেপরোয়াভাবে বা অবহেলা করে গাড়ি চালানোর কারণে কেউ গুরুতর আহত বা নিহত হলে দণ্ডবিধির ৩০৪ (খ) ধারায় মামলা দায়ের হবে। এই ধারায় সাজা সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড এবং সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা। বর্তমান আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ তিন বছর কারাদণ্ডের বিধান আছে। তবে গাড়ি চালানোর কারণে কারো নিহত হওয়ার ঘটনা তদন্তে হত্যা বলে প্রমাণিত হলে ফৌজদারি আইনে মৃত্যুদণ্ডের বিধান প্রয়োগ হবে। নতুন আইনে বলা হয়েছে, গাড়ি চালানোর অপেশাদার লাইসেন্স পেতে হলে অষ্টম শ্রেণি পাস ও ১৮ বছর হতে হবে। আর পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য ২১ বছর হতে হবে। লাইসেন্সে চালকের জন্য ১২ পয়েন্ট থাকবে। অপরাধ করলে চালকের পয়েন্ট কাটা যাবে। এভাবে ১২ পয়েন্ট শেষ হয়ে গেলে তার লাইসেন্স বাতিল হবে। কোনো অপরাধী ড্রাইভিং লাইসেন্স পাবেন না। আগে যেসব অপরাধী লাইসেন্স পেয়েছেন তা বাতিল করা হবে।
বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের যাত্রী সংকটে আরও ২টি হজ ফ্লাইট বাতিল
অনলাইন ডেস্ক: পর্যাপ্ত যাত্রী না পাওয়ায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সোম ও মঙ্গলবারের দুটি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এ নিয়ে হজ ফ্লাইট চালুর পর থেকে বিমানের ১৫টি বিশেষ ফ্লাইট বাতিল করা হলো। বিমানের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) শাকিল মেরাজ পরিবর্তন ডটকমকে এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘যাত্রী সংকটের কারণে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সোমবার সকাল ৬টা ৫৫ মিনিটের বিশেষ হজ ফ্লাইট (বিজি-৩০৭১) এবং আগামীকাল মঙ্গলবার সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটের বিশেষ হজ ফ্লাইট (বিজি০১০৭৫) বাতিল করা হয়েছে।’ জানা গেছে, বাংলাদেশ থেকে এ বছর ১ লাখ ২৬ হাজার ৭৯৮ জন পবিত্র হজব্রত পালনে সৌদি আরব যাচ্ছেন। রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ৬৩ হাজার ৫৯৯ যাত্রী বহন করবে। আর সৌদি এয়ারলাইন্স বাকি অর্ধেক যাত্রী পরিবহন করবে। গত ১৪ জুলাই থেকে শুরু হয়ে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশ বিমানের মোট ১৮৭টি ফ্লাইট সৌদি আরবে যাওয়ার কথা (ডেডিকেটেড-১৫৫ এবং শিডিউল-৩২) রয়েছে।
সাকিবদের প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন
অনলাইন ডেস্ক: ওয়ানডের পর স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টি-টুয়েন্টি সিরিজও জিতে নিয়েছে বাংলাদেশ। এই জয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব এমএম ইমরুল কায়েস সংবাদমাধ্যমে এ অভিনন্দন বার্তা পাঠান। সোমবার বাংলাদেশ সময় সকালে সাকিব আল হাসানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ বৃষ্টি আইনে ম্যাচটিতে ১৯ রানের জয় পায়। এর ফলে সফরকারীরা ২-১ ব্যবধানের সিরিজ নিশ্চিত করে। টস জিতে লিটন কুমার দাসের ঝড়ো ৬১ রানে ভর করে বাংলাদেশ করেছিল ৫ উইকেটে ১৮৪ রান। জবাবে ১৭.১ ওভারে স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৭ উইকেটে ১৩৫ রান করে। এরপরই শুরু হয় বৃষ্টি। পরে আম্পায়ারা বৃষ্টি আইনে বাংলাদেশকে বিজয়ী ঘোষণা করেন। একই সফরে মাশরাফীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ ওয়ানডে সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতে নেয়। এর ফলে দেশের বাইরে প্রথম কোনো বড় দলকে হারিয়ে বাংলাদেশ সিরিজ জিতল।
আজ সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় তোলা হচ্ছে
অনলাইন ডেস্ক: বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহতের পর চলমান ছাত্র আন্দোলনের কারণে সামনে আসা সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় তোলা হচ্ছে সোমবার।সোমবার সকালে সচিবালয়ে হবে মন্ত্রিসভার বৈঠক। এতে সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভেটিং করে আইন মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এ আইনের খসড়া মন্ত্রিসভায় তুলবে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। গেল কয়েকদিনের টানা আন্দোলনের মাঝেই এ আইন সংক্রান্ত ফাইলে সই করে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক। এরপর আইনের চূড়ান্ত খসড়া প্রণয়নে বাকি কার্যক্রম শেষ করে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। সম্প্রতি এ আইন নিয়ে কথা বলেছেন সরকারের একাধিক প্রভাশালী মন্ত্রী ও নেতা। আইনে কি থাকছে এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেছেন, সড়কে অপরাধের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সাজার বিধান রেখে এ আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। তিনি বলেন, যেমন অপরাধ, তেমন শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। এক্ষেত্রে কেউ ছোট অপরাধে বড় সাজা পাওয়ার আশঙ্কা নেই। আইনের বিষয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, পথচারীরাও কীভাবে রাজধানীর পথে চলাফেরা করবে তারও একটি নির্দেশনা রয়েছে এ আইনে। তবে তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বের কথা তুলে ধরে বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা হেডফোন কানে দিয়ে রাস্তা পার হওয়ায় দুর্ঘটনা ঘটছে। এ ধরনের দুর্ঘটনা কমাতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব রয়েছে।
আজ কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৭৭তম মহাপ্রয়াণ দিবস
অনলাইন ডেস্ক: আজ বাইশে শ্রাবণ কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৭৭তম মহাপ্রয়াণ দিবস। ১৩৪৮ বঙ্গাব্দের ২২ শ্রাবণ তিনি কলকাতায় পৈত্রিক বাসভবনে মৃত্যুবরণ করেন। কলকাতার জোড়াসাঁকোর বিখ্যাত ঠাকুর পরিবারের দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও সারদাসুন্দরী দেবীর চতুর্দশ সন্তান রবীন্দ্রনাথ বাংলা সাহিত্যের আকাশে রবি হয়েই উদিত হয়েছিলেন। জন্ম ১২৬৮ বঙ্গাব্দের পঁচিশে বৈশাখ। রবীন্দ্রনাথ কবি, উপন্যাসিক, নাট্যকার, সঙ্গীতজ্ঞ, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, ভাষাবিদ, চিত্রশিল্পী, গল্পকার- সবগুলো শৈল্পিক গুণের সমন্বিত এক বিস্ময়কর প্রতিভা। আট বছর বয়সে তিনি কবিতা লেখা শুরু করেন। বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় তার সাহিত্যকর্ম অনুদিত হয়েছে। বিভিন্ন দেশের পাঠ্যসূচিতে তার লেখা সংযোজিত হয়েছে। তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘কবিকাহিনী’ প্রকাশিত হয় ১৮৭৮ সালে। ১৯১০ সালে প্রকাশিত হয় তার‘গীতাঞ্জলী’ কাব্যগ্রন্থ। এই কাব্যগ্রন্থের ইংরেজী অনুবাদের জন্য তিনি ১৯১৩ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। ১৯০১ সালে পশ্চিমবঙ্গের শান্তিনিকেতনে ব্রহ্মচর্যাশ্রম প্রতিষ্ঠা করে তিনি সেখানেই বসবাস করেন। ১৯২১ সালে গ্রামোন্নয়নের জন্য ‘শ্রীনিকেতন’ নামে একটি সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯২৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ বিশ্বভারতী’ প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৮৯১ সাল থেকে পিতার আদেশে কবি কুষ্টিয়ার শিলাইদহে, পাবনা, নাটোরে জমিদারী তদারকিতে ছিলেন। যা বাংলাদেশের এক আলোকোজ্জ্বল অধ্যায়। শিলাইদহে তিনি দীর্ঘদিন অতিবাহিত করেন। এখানে জমিদার বাড়িতে তিনি অসংখ্য কবিতা ও গান রচনা করেন। ১৯০১ সালে শিলাইদহ থেকে সপরিবারে কবি বোলপুরে শান্তিনিকেতনে চলে যান। বাংলাদেশ ও ভারতের জাতীয় সংগীত নেওয়া হয়েছে এই প্রতিভাধর কবির রচনা থেকেই। তার লেখা ও সুর করা আড়াই হাজারের বেশি গান বাংলা সাহিত্যের অতুলনীয় সম্পদ। রবীন্দ্রনাথ বোলপুরের শান্তিনিকেতনে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শিক্ষাব্যবস্থায় নতুন ধারা প্রবর্তন করেন। কৃষির উন্নতির জন্য তার প্রতিষ্ঠিত শ্রীনিকেতনও এক যুগান্তকারী প্রতিষ্ঠান। বাঙালির প্রতিটি আবেগ অনুভবে জড়িয়ে আছেন রবীন্দ্রনাথ। বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধেও তার গান ও কবিতা ছিল প্রেরণাস্বরূপ। বাংলা ভাষার সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক রবীন্দ্রনাথের ৫২ কাব্যগ্রন্থ, ৩৮ নাটক, ১৩ উপন্যাস, ৩৬ প্রবন্ধ ও অন্যান্য গদ্যসংকলন তার জীবদ্দশায় বা মৃত্যুর অব্যবহিত পরে প্রকাশিত হয়। ১৯৩০-এর দশক থেকেই রবীন্দ্রনাথ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। জীবনের শেষ চার বছর তিনি বেশ অসুস্থ ছিলেন। ১৯৩৭ সালে তিনি একবার গুরুতর অসুস্থ হন। এর পর কিছুটা সুস্থ হলেও ১৯৪০ সালে তার অসুস্থতা বেড়ে যায়। তিনি শেষ জীবনে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ঘনঘটা এবং মানবতার সংকট দেখে দুঃখিত হন। তবু তিনি মানবতার জয়ে আস্থা হারাননি। ১৯৪১ সালে শেষবারের মতো শান্তিনিকেতন থেকে জোড়াসাঁকোর প্রাসাদে চলে আসতে হয় অসুস্থ কবিকে। মৃত্যুর সাত দিন আগেও কবিতা লিখেছেন তিনি। বাইশে শ্রাবণ তার পার্থিব জীবনের সমাপ্তি ঘটলেও বাংলা সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শ্রেষ্ঠ আসন অধিকার করে আছেন চিরদিনের জন্য। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৭৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সরকারি ও বেসরকারিভাবে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন নানা কর্মসূচি নিয়েছে। বাংলা একাডেমি আজ বিকেল চারটায় আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে একক বক্তৃতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। এতে ‘আজকের বিশ্বে রবীন্দ্রসৃজনের প্রাসঙ্গিকতা ’ শীর্ষক বক্তৃতা প্রদান করবেন নাট্যজন আতার রহমান । সভাপতিত্ব করবেন বাংলা একাডেমির সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জমান। পরে রয়েছে গীতিনৃত্যালেখ্য ‘ওই পোহাইলো তিমির রাতি।’ গীতিনৃত্যালেখ্য পরিবেশন করবে রক্তকরবী ও শুদ্ধ সংগীত চর্চা কেন্দ্র। এ ছাড়াও শিল্পকলা একাডেমি বিকেলে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শিশু একাডেমিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন দিবসটি পালনের জন্য কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
প্রতিষ্ঠান প্রধানদের দায়ভার নিতে হবে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামলে
অনলাইন ডেস্ক: এবার শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামলে তার দায়িত্ব প্রতিষ্ঠান প্রধানদের নিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। রোববার রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ঢাকা মহানগরীর সব স্কুল-কলেজের (সরকারি-বেসরকারি) প্রধানদের সঙ্গে জরুরি মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদেরকে নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের বোঝাতে হবে। প্রধান শিক্ষক হয়ে যদি শিক্ষার্থীদের বোঝাতে না পারেন তাহলে প্রধান শিক্ষক হয়েছেন কেন? শিক্ষামন্ত্রী বলেন,প্রধান শিক্ষকদের শিক্ষা প্রতষ্ঠানের শিক্ষার অভ্যন্তরীণ পরিবেশ তৈরি করতে হবে। আগামীকাল সব শিক্ষার্থীকে নিয়ে সমাবেশ করে সবার কাছে বার্তা পৌঁছে দিন, শিক্ষার্থীদের যেন কেউ ব্যবহার করতে না পারে। গুজব রটিয়ে যেন কেউ শিক্ষার্থীদের ক্ষতিগ্রস্ত না করতে পারে। সব শিক্ষক মিলে আলোচনা করে ব্যবস্থা নিতে হবে। এ ব্যবস্থার জন্য শিক্ষকদের দায়িত্ব নিতে হবে। যারা পারবেন না, তাদের জবাবদিহি করতে হবে। কোনো অজুহাতে তা অমান্য করা হলে প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। আজ থেকেই এই ব্যবস্থা নিতে হবে। শিক্ষার্থীদের ধমক দিয়ে নয়, ভালোবাসা দিয়ে বোঝাতে হবে মন্তব্য করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, অভিভাবকদের সম্পৃক্ত করতে হবে। অভিভাবকদের ডেকে সভা করতে হবে। শিক্ষক-অভিভাবক মিলে এ ব্যবস্থা নিতে হবে। কোনও অজুহাত দেখানোর সুযোগ নেই। আমরা খবর নেবো, তথ্য রাখবো, কে করছেন, কে করছেন না। শিক্ষার্থীদের অবশ্যই শিক্ষকদের কথা শুনতে হবে উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন,মিথ্যা গুজবে শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। কোনো কোনো মহল এর সুবিধা নিতে পারে। তাই শিক্ষার্থীদের এখন ক্লাসে ফিরতে হবে, ঘরে ফিরতে হবে। তাদের দাবি সরকার মেনে নিয়েছে। তার বাস্তবায়নে কাজ চলছে। শিক্ষার্থীরা যৌক্তিক দাবিতে রাস্তায় নেমেছে উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন,আমরা তাদের দোষারোপ করছি না। তবে শিক্ষা পরিবারের সদস্য হিসেবে আমরা তাদের একা ছেড়ে দিতে পারি না। এ সময় গভর্নিং বডির সদস্যদের সহায়তা নিয়ে প্রতিষ্ঠান যথাযথভাবে পরিচালনার জন্য স্কুল-কলেজ প্রধানদের নির্দেশ দেন শিক্ষামন্ত্রী।

জাতীয় পাতার আরো খবর