উপহার ফিরিয়ে দিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী
অনলাইন ডেস্ক :চার সিনিয়র মন্ত্রীকে বিএমডব্লিউ গাড়ি উপহার দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অন্যেরা গ্রহণ করলেও বিনয়ের সাথেই উপহার ফিরিয়ে দিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী। এতে মহত্মের কিছু নেই। আমার নিজের পুরোনো গাড়িটিই ব্যবহার করতে সাচ্ছন্দ্য বোধ করছি, তাই বিনয়ের সাথে আমি প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া গাড়িটি ফিরিয়ে দিয়েছি। এভাবেই বললেন কৃষিমন্ত্রী, এক সময়ের অগ্নিকন্যা খ্যাত, বেগম মতিয়া চৌধুরী। মন্ত্রণালয় পরিচালনায় দক্ষতার পরিচয় দেওয়ার পুরস্কার হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া একটি বিএমডব্লিউ মডেলের গাড়ি না নিয়ে আলোচনায় এসেছেন এই মন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী তাকে সহ মোট পাঁচ জন সিনিয়র মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতাকে এই মডেলের একটি করে গাড়ি উপহার দিয়েছিলেন। অন্যরা হচ্ছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ ও পূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। প্রত্যেককেই নিজ নিজ মন্ত্রণালয় দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনার জন্যই এই উপহার দেন প্রধানমন্ত্রী। বাকি চার মন্ত্রী সানন্দে প্রধানমন্ত্রীর উপহার গ্রহণ করেন, তবে বিনয়ের সঙ্গে তা ফেরত দেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী। এই ফেরত দেওয়াতে মহত্মের কিছু নেই বলেই প্রতিক্রিয়ায় জানান তিনি। শনিবার রাতে টেলিফোনে তিনি আরও বলেন, এটি বেশ দামি গাড়ি, আমি অপেক্ষাকৃত কম দামের গাড়িতে চড়ে অভ্যস্ত এবং তাতেই ভালো আছি। তিনি এও বলেন, এত দামি গাড়ি পরিচালনা করার অর্থ তার কাছে নেই। উল্লেখ্য, ওআইসি সম্মেলনের সময়ে গাড়িগুলো আনা হয়েছিলো যা অব্যবহৃত পড়ে ছিলো। সিনিয়র মন্ত্রী ও নেতাদের কাজে খুশি হয়েই এগুলো তাদের উপহার হিসেবে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
যেকোনো সমস্যা দু'দেশের আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে
অনলাইন ডেস্ক :রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে সহযোগিতার আশ্বাসসহ বিভিন্ন দিক নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সব বিষয় বৈঠকে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে—জানিয়েছেন ভারতের সফররত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং। রোববার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ-ভারত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক শেষে এ কথা বলেন তিনি। রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং। এছাড়াও বৈঠকে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, অবৈধ চোরাচালান বন্ধ, ভ্রমণ ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে তারা আলোচনা করেন। বাংলাদেশ-ভারত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের এ ষষ্ঠ বৈঠকে প্রবীণ নাগরিক ও মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ৫ বছরের ভিসা দিতে চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। আর বাকি ভিসা আগের মতোই থাকবে বলে জানানো হয়। ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ভারত অংশের মাদক কারখানা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। আর যেকোনো সমস্যা দু'দেশের আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে। বাংলাদেশ-ভারত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের ষষ্ঠ বৈঠকে যৌথভাবে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং। বৈঠক শুরুর আগে রাজনাথ সিংকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করা হয়। সকালে রাজনাথ সিং ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন ও বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি। এ সময় জাদুঘরের বিভিন্ন কক্ষ ঘুরে দেখেন রাজনাথ সিং। সেখানে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে রাখা পরিদর্শন বইয়ে সই করেন। বঙ্গবন্ধু জাদুঘর থেকে এরপর ঢাকেশ্বরী মন্দিরে যান ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং। সেখানে তিনি প্রার্থনায় অংশ নেন। গত শুক্রবার তিন দিনের সরকারি সফরে ঢাকায় আসেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং। গত ২০১৬ সালের জুলাই মাসে নয়াদিল্লিতে সর্বশেষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
আমাদের বহু চ্যালেঞ্জ নিয়েই এগিয়ে যেতে হচ্ছে
অনলাইন ডেস্ক :প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দুই প্রতিবেশি দেশের সঙ্গে সম্পর্ক ঠিক রেখে বিশাল সমুদ্র সীমা জয় করেছি। আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করে আমরা জয়লাভ করেছি। সমুদ্রের বিশাল জলরাশিতে আজ আমাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা হয়েছে। আজ রোববার স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) ৩২ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এসব কথা বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতার শাহাদাতের পর ৭৬-৭৭ সাল থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামে অশান্তি লেগে ছিল। ৯৩ তে আমরা ক্ষমতায় এসে পাহাড়ে শান্তি ফিরিয়ে এনেছি। পার্বত্য শান্তিচুক্তি করে পরিস্থিতি সামাল দিই। ভারত থেকে ৬৪ হাজার শরনার্থী ফেরত আনি। তাঁর সরকারের সাফল্য ‍তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু স্থল সীমান্ত চুক্তি করে দিয়ে গিয়েছিলেন। ৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে আমরা সেটি এগিয়ে নিয়ে যাই। পরে বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় এসে সেটি তো এগিয়ে নিতে পারেই নি বরং থামিয়ে দেয়। ভারতের সঙ্গে আলোচনার ভয়ে তারা পিছু হটে। ২০০৮ সালে ক্ষমতায় আসার পর আমরা প্রতিবেশি দেশগুলোর সঙ্গে দীর্ঘদিনের অমিমাংসিত বিষয়গুলো সুরাহা করি। আমরা ছিটবিনিময় চুক্তি করি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এতোকিছুর পরও আমাদের বহু চ্যালেঞ্জ নিয়েই এগিয়ে যেতে হচ্ছে। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে এসএসএফের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাসহ তিন বাহিনীর প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন।
ভারত ও বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক
অনলাইন ডেস্ক :দ্বিপাক্ষিক নানা বিষয় নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক চলছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আজ রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় এ বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে নয় সদস্যের ভারতীয় প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং। আর বাংলাদেশের ১৫ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে আছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, বৈঠকে নিরাপত্তা সহযোগিতা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, কনস্যুলার সেবা সংক্রান্ত বিষয় এবং জাল মুদ্রা, মাদক ও মানবপাচারের মতো অপরাধমূলক কর্মকান্ড কীভাবে দমন করা যায় সেসব বিষয় নিয়েও আলোচনা হবে। দুই দেশের ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করতে দুই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠকে সংশোধিত ট্র্যাভেল এগ্রিমেন্ট ২০১৮ সই হওয়ার কথা রয়েছে। ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রোববার সকালে সচিবালয়ে পৌঁছালে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান। পুলিশ প্রধান, কোস্টগার্ড প্রধান, র‌্যাব প্রধান, ডিএমপি কমিশনারসহ বিভিন্ন আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারাও উপস্থিত রয়েছেন এ বৈঠকে ।
বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন
অনলাইন ডেস্ক :ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন ঢাকা সফররত ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং। সেখানে তিনি জাতির জনকের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে তিনি বঙ্গবন্ধু জাদুঘর ঘুরে ঘুরে দেখেন এবং পরিদর্শন বইতে স্বাক্ষর করেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রোববার (১৫ জুলাই) সকাল ৯ টায় ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে যান রাজনাথ সিং। এরপর সকাল ১০ টায় বিশেষ প্রার্থণা অনুষ্ঠানে যোগদিতে রাজধানীর ঢাকেশ্বরি মন্দিরের উদ্দেশ্য যান তিনি। প্রার্থনা শেষে সকাল সাড়ে ১০ টা থেকে ১২ টা পর্যন্ত দুই দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল এবং রাজনাথ সিং সচিবালয়ে আনুষ্ঠানিক বৈঠকে মিলিত হবেন। বৈঠক শেষে দুই দেশের মধ্যে ২০১৭ সালের মোটর গাড়ি (যাত্রী) চলাচলের চুক্তিটি নবায়ন করা হবে। আশা করা হচ্ছে এদিন দুপুর ৩ টায় নয়াদিল্লির উদেশ্য ঢাকা ত্যাগ করবেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের আমন্ত্রণে তিনদিনের সরকারি সফরে শুক্রবার সন্ধ্যায় একটি বিশেষ বিমানে ঢাকা আসেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং। বাংলাদেশ-ভারতের মধ্য সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে সহযোগিতা জোরদারেই মূলত তিনি ঢাকা আসেন। রাজনাথের সফরসঙ্গী হিসেবে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সেক্রেটারি (বিএম) বারজ রাজ শর্মা, অতিরিক্ত সচিব এ কে মিসরা, যুগ্মসচিব সাতিনদিয়া গর্গসহ ১২ সদস্যর একটি প্রতিনিধি দল ঢাকা আসেন।
আইনমন্ত্রীর বড় বোনের ইন্তেকাল
অনলাইন ডেস্ক :আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হকের বড় বোন মিস সায়মা ইসলাম ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। শনিবার (১৪ জুলাই) দিবাগত রাত ১টার দিনে রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধী অবস্থায় তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর। সায়মা ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে কিডনি রোগে ভুগছিলেন। রোববার (১৫ জুলাই) সকালে আইন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা রেজাউল করিম জানান, রোববার বিকেল ৫টার দিকে রাজধানীর গুলশান আজাদ মসজিদে তার নামাজে জানাযা শেষে বনানী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে। জানাযায় তার সব আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও শুভানুধ্যায়ীদের উপস্থিত থাকার জন্য আইনমন্ত্রীর পরিবারের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
পৌরসভার মেয়রকে হত্যাচেষ্টা
অনলাইন ডেস্ক :শনিবার (১৪ জুলাই) দিনগত রাত দেড়টার দিকে মাদারীপুর জেলার কালকিনি পৌরসভার মেয়র এনায়েত হোসেন হাওলাদারকে (৩৫) কুপিয়ে জখম করেছে দুর্বৃত্তরা। স্থানীয়রা জানায়, রাত দেড়টার দিকে মুখোশ পরা ১০/১২ জনের একটি দল পেছনের গেট ভেঙে মেয়রের বাড়ি ঢোকে। এরপর তারা মেয়রের শোবার ঘরের জানালা ভেঙে রাম দা দিয়ে আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হন। একপর্যায়ে আত্মরক্ষার্থে নিজের শর্টগান দিয়ে তিনি গুলি ছুড়লে দুর্বৃত্তরাও কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়ে এবং বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যায়। পরে আহত মেয়রকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দেয়া হয়। মেয়র বলেন, আমাকে মেরে ফেলতেই এ হামলা চালানো হয়েছে। কালকিনি থানার ওসি কৃপা সিন্ধু বালা জানান, খবর পেয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। হামলাকারীদের ধরতে অভিযান চলছে।
কিছু মহল নানা ধরনের ভয়ভীতি সৃষ্টি করে
অনলাইন ডেস্ক :সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কিছু মহল নানা ধরনের ভয়ভীতি সৃষ্টি করে। ভয়ের কোনো কারণ নেই। আজ শনিবার (১৪ জুলাই) রূপপুরে নির্মাণাধীন দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের মূল নির্মাণকাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং রাশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী ইউরি ইভানোভিচ বোরিচভ দ্বিতীয় ইউনিটের প্রথম কংক্রিট ঢালাইয়ের অনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন প্রযুক্তি অনেক এগিয়ে গেছে, অনেক উন্নত হয়েছে। রাশিয়া তাদের সর্বশেষ ও সর্বাধুনিক প্রযুক্তি দিয়ে এটা নির্মাণ করছে। শেখ হাসিনা বলেন, বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং নিরাপত্তার জন্য সব ধরনের প্রশিক্ষণ আমরা দিচ্ছি আমাদের লোকজনকে। আমাদের সেনাবাহিনীসহ সব বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে প্রশিক্ষিত আলাদা একটি ইউনিট গঠন করছি। এজন্য রাশিয়ায় যেমন প্রশিক্ষণ হচ্ছে, ভারতেও প্রশিক্ষণ চলছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বর্জ্যও নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব রাশিয়া নিয়েছে। কাজেই কারো কোনো আতঙ্কগ্রস্ত হওয়ার কিছু নেই। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি শান্তির জন্য ব্যবহার করবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। রাশিয়ার সর্বাধুনিক প্রযুক্তি, আর্থিক সহায়তা ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংস্থা আণবিক শক্তি করপোরেশনের (রোসাটম) অঙ্গ প্রতিষ্ঠান এএসই গ্রুপ অব কোম্পানিজ এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের রিয়েক্টর ভবনের প্রথম কংক্রিট ঢালাইয়ের মাধ্যমে ইউনিটটির মূল নির্মাণকাজ শুরু হবে। পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার রূপপুর ইউনিয়নে এই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রায় ১২শ’ একর জমির উপর নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে সবচেয়ে বৃহৎ ও ব্যয়বহুল প্রকল্প। গত বছর ৩০ নভেম্বর এই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের কংক্রিট ঢালাইয়ের উদ্বোধন করা হয়। প্রথম ইউনিটের এই কংক্রিট ঢালাইয়ের কাজ শুরুর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ব পরমাণু ক্লাবে (নিউক্লিয়ার নেশন) যুক্ত হয়েছে। বাংলাদেশ বিশ্ব পরমাণু ক্লাবের ৩২তম সদস্য দেশ। বর্তমানে বিশ্বের ৩১টি দেশে ৪৫০টি পারমাণবিক বিদ্যুতের ইউনিট চালু আছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণকে বাংলাদেশের জন্য অনেক বড় অর্জন হিসেবে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এটা আমাদের জন্য অনেক বড় অর্জন। আমাদের এই অগ্রগতি অব্যাহত থাকুক, এটা আমরা চাই। আমরা এই অগ্রগতি অব্যাহত রাখবো। রাশিয়াকে সুসময়ের বন্ধু ও দুঃসময়ের বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, রাশিয়া বাংলাদেশকে শুধু মুক্তিযুদ্ধের সময় সহযোগিতাই করে নাই, যুদ্ধের পরে দেশ গড়ে তোলার ‍কাজেও সহযোগিতা করেছে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় চট্টগ্রাম বন্দরে পোতা মাইন স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে অপসারণ করতে গিয়ে রাশিয়ার কয়েকজন আত্মত্যাগ করেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেই রাশিয়া আজ আমাদের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে সহযোগিতা করছে। আমি ২০১৩ সালে রাশিয়া সফরে পুতিনের সঙ্গে কথা বলি। তখন তিনি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। উন্নত দেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে শেখ হাসিনা বলেন, ২০২১ সাল পর্যন্ত যেসব পরিকল্পনা ছিল সেগুলো বাস্তবায়ন করছি। ২০২১ থেকে ৪১ সাল পর্যন্ত কিভাবে দেশকে এগিয়ে নেবো তার একটা খসড়া পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। আমি সেটা একবার দেখেছি। আমরা পরিকল্পনা তৈরি করছি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা এগিয়ে যাচ্ছি, এগিয়ে যাবো, কেউ দাবিয়ে রাখতে পারবে না। ওই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটমিক এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের (আইএইএ) পরিচালক দহী হান, রাশিয়ার কৃষি উপমন্ত্রী ইলিয়া শেস্তাকফ, রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি সংস্থার (রোসাটম) ডেপুটি ডিরেক্টর আলেক্সান্ডার লাক্সি, ভারতের পরমাণু শক্তি কমিশনের প্রধান অভিলাস ভরদ্বাজ প্রমুখ৷ আরও উপস্থিত ছিলেন- বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধিরী, ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরিফ, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম প্রমুখ।

জাতীয় পাতার আরো খবর