৩৮ ও ৩৯তম বিসিএস পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ
মঙ্গলবার পিএসসির বিশেষ বৈঠকে ৩৮তম ও ৩৯তম বিসিএস পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি)। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ৩ আগস্ট ৩৯তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা ও ৮ আগস্ট থেকে ৩৮তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা শুরু হবে। ৩৯তম বিসিএস চিকিৎসক নিয়োগের জন্য বিশেষ বিসিএস। পিএসসি সূত্র জানায়, ৩৯তম বিশেষ বিসিএসের আবেদন কার্যক্রম শুরু হয় গত ১০ এপ্রিল, শেষ হয় ৩০ এপ্রিল। মোট ৩৯ হাজার ৯৫৪ জন প্রার্থী আবেদন করেছেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ৩৯তম বিসিএসে ৪ হাজার ৫৪২ জন সহকারি সার্জন আর ২৫০ জন সহকারী ডেন্টাল সার্জন নেওয়া হবে। সব মিলে প্রায় ৫ হাজার চিকিৎসক নেওয়া হবে এই বিসিএসে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ৩৯তম বিশেষ বিসিএসের প্রিলিমিনারিতে এক কথায় লিখে পরীক্ষা হবে। এতে ২০০ নম্বরের প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। এ ছাড়া ১০০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা হবে। মেডিক্যাল সায়েন্স বা ডেন্টাল সায়েন্স বিষয়ে ১০০ নম্বরের পরীক্ষা হবে। তাছাড়া বাংলা, ইংরেজি, বাংলাদেশ বিষয়াবলি ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলিতে ২০ নম্বর করে এবং মানসিক দক্ষতা ও গাণিতিক যুক্তিতে ১০ নম্বর করে মোট ২০০ নম্বরের দুই ঘণ্টার লিখিত পরীক্ষা হবে। প্রতি প্রশ্নের সঠিক উত্তরের জন্য ১ নম্বর দেওয়া হবে। তবে প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য কাটা হবে শূন্য দশমিক ৫০ নম্বর। লিখিত পরীক্ষায় পাস নম্বর পিএসসি নির্ধারণ করবে। মৌখিক পরীক্ষার পাস নম্বর ধরা হয়েছে ৫০। লিখিত পরীক্ষা শুধু ঢাকায় হবে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ৩৮তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করে পিএসসি। এতে ১৬ হাজার ২৮৬ জন উত্তীর্ণ হন। তারা এখন লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেবেন। পিএসসি সূত্র জানায়, ৩৮তম বিসিএসের মাধ্যমে জনপ্রশাসনে ২ হাজার ২৪ জন ক্যাডার কর্মকর্তা নিয়োগ করা হবে। প্রশাসন ক্যাডারের ৩০০, পুলিশ ক্যাডারের ১০০টি পদসহ ৩৮তম বিসিএসে সাধারণ ক্যাডারে মোট ৫২০টি, কারিগরি ও পেশাগত ক্যাডারে ৫৪৯টি এবং শিক্ষা ক্যাডারে ৯৫৫টি পদ থাকছে।
এবারের ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক হবে
এবারের ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক হবে দাবি করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এ নিয়ে তিনি কোনো ধরনের বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। সোমবার দুপুরে তিনি নিজস্ব ভেরিফাইড ফেসবুক ওয়ালে এ নিয়ে একটি পোস্ট দেন। পোস্টে ঢাকা-চট্টগ্রাম সড়ক নিয়ে সেতুমন্ত্রী আরও লিখেছেন, ‘ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনী রেলওয়ে ওভারপাসের দুই লেন ইতোমধ্যে যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছে। সেখানে এখন আর যানজট হচ্ছে না। ১৫ জুনের মধ্যে নির্মাণকাজ পুরোপুরি শেষ হবে। তখন সম্পূর্ণ যানজটমুক্ত হবে ফেনী রেলওয়ে ওভারপাস এলাকা।’ ‘ইন্ডিয়ান লাইন অব ক্রেডিটের আওতায় ময়নামতি-সরাইল সড়কের নির্মাণকাজ শুরু প্রক্রিয়াধীন। আপাতত এ সড়কের মেরামত ও সংস্কার কাজ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। মেঘনা ও গোমতি সেতুর টোল প্লাজায় টোল আদায় ব্যবস্থাপনা আরো উন্নত করা হয়েছে।’ তিনি দাবি করেন, ‘আগামী ডিসেম্বর নাগাদ দ্বিতীয় কাঁচপুর, দ্বিতীয় মেঘনা ও দ্বিতীয় গোমতী সেতুর নির্মাণকাজ নির্ধারিত সময়ের ছয় মাস আগে শেষ হতে যাচ্ছে। এছাড়া নিজস্ব অর্থায়নে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ কাজ প্রক্রিয়াধীন।’ ঢাকা-ময়মনসিংহ ও উত্তরবঙ্গগামী সড়ক নিয়ে তিনি ফেসবুকে লিখেন, ‘সাসেক প্রকল্পের আওতায় জয়দেবপুর-এলেঙ্গা মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার কাজ চলছে। এরই মধ্যে এই মহাসড়কে ২৬টি সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। যানজটপ্রবণ চন্দ্রা মোড় প্রশস্ত করার পাশাপাশি বাই লেন নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে। সাসেক প্রকল্পের আওতায় ১১টি উড়াল সেতু ও রেল ওভারপাস এবং ১০টি আন্ডারপাস নির্মাণ কাজ এগিয়ে চলেছে। এয়ারপোর্ট-জয়দেবপুর বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট-বিআরটি প্রকল্পের সড়ক অংশের কাজ ঈদকে সামনে রেখে জনদুর্ভোগ লাঘবে আপাতত বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’ ঢাকার আশপাশের এলাকার রাস্তার কথা তুলে ধরে তিনি লিখেন, ‘ঢাকার চার পাশের যানজটপ্রবণ এন্ট্রি এবং এক্সিট পয়েন্টগুলোর ব্যবস্থাপনায় নেয়া হয়েছে বিশেষ উদ্যোগ। গাজীপুর-মদনপুর দেশের প্রথম পিপিপিভিত্তিক এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ আগামী অক্টোবরে শুরু হবে।’ ‘পোস্তগোলা-ভাঙ্গা দেশের প্রথম এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। তরুণ প্রজন্মের স্বপ্নের প্রকল্প মেট্রোরেল-৬ এর নির্মাণকাজ এগিয়ে চলছে। মেট্রোরেলের আরও ৪টি রুটের কাজ প্রক্রিয়াধীন। ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজের প্রথম ধাপের কাজ ৩০ ভাগ শেষ হয়েছে’- ফেসবুকে উল্লেখ করেন কাদের। তিনি বলেন, ‘বর্ষায় অতিবর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত জেলা সড়কের মেরামত কাজ আগামী ৮ জুনের মধ্যে শেষ করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। পদ্মাসেতুর চারটি স্প্যান স্থাপন করা হয়েছে। এরই মধ্যে এ প্রকল্পের কাজ ৫৫ ভাগ শেষ হয়েছে।’ এছাড়া তিনি লিখেন, ‘কক্সবাজার সমুদ্র উপকূলে ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ দৃষ্টিনন্দন মেরিন ড্রাইভ ইতোমধ্যে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছে।’ চট্টগ্রামবাসীর স্বপ্নের প্রকল্প কর্ণফুলী টানেলের নির্মাণ কাজ এবং আমানত শাহ সেতুর দুই প্রান্তের সড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণ কাজ এগিয়ে চলেছে উল্লেখ করে সেতুমন্ত্রী আরো বলেন, ‘বাগেরহাট-চিতলমারী-পাটগাতি সড়কের কাজ শুরু হয়েছে। যশোর-বেনাপোল, যশোর-ঝিনাইদহ এবং যশোর-মাগুরা সড়কের কাজ শেষ হয়েছে। সিলেট-কোম্পানীগঞ্জ সড়কের নির্মাণকাজ এগিয়ে চলছে। আগস্ট মাসে কালনা সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হতে যাচ্ছে। টেকেরহাট–বাকেরগঞ্জ সড়কের দেড় কিলোমিটারের কাজ চলমান রয়েছে, এছাড়া সড়কের বাকি অংশ সচল রয়েছে।’ এবারের ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক হবে দাবি করে তিনি লিখেন, ‘এবারের ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে মন্ত্রণালয় সজাগ রয়েছে। বৃষ্টিজনিত ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামতে দেয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা। অতিবৃষ্টিতে যান চলাচলে ধীরগতি হলেও যানজট হবে না। আমাদের প্রচেষ্টা অবিরত, অব্যাহত।’ তিনি উল্লেখ করেন, ‘আশা করা যাচ্ছে, এবারের ঈদযাত্রা গতবারের চেয়ে আরও স্বস্তিদায়ক হবে। এ নিয়ে কোনো ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করে সড়ক সম্পর্কে কোনো রূপ আতঙ্ক সৃষ্টি না করতে জনস্বার্থে সবার প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।
ঐশীর যাবজ্জীবন দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল রাষ্ট্রপক্ষের
পুলিশ দম্পতি মাহফুজুর রহমান ও তার স্ত্রী স্বপ্না রহমান হত্যা মামলায় তাদের মেয়ে ঐশী রহমানকে হাইকোর্টের দেয়া যাবজ্জীবন দণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। সোমবার আপিল দায়ের করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড সুফিয়া খাতুন। তিনি আরও জানান, রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিলে ঐশীর মৃত্যুদণ্ড চাওয়া হয়েছে। এর আগে গত বছরের ৫ জুন ঐশী রহমানের মৃত্যুদণ্ডের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন সাজার দণ্ড দিয়ে রায় ঘোষণা করেন হাইকোর্টের বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ। রায়ের আগে আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জহিরুল হক জহির, সহকারি অ্যাটর্নি জেনারেল আতিকুল হক সেলিম ও নিজামুল হক নিজাম। অপরদিকে আসামিপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন আইনজীবী আফজাল এইচ খান ও সুজিত চ্যাটার্জি। এরপর গত ৭ মে উভয় পক্ষের শুনানি শেষে মামলাটি গত ৫ জুন রায়ের জন্য অপেক্ষমান (সিএভি) রাখা হয়। এর আগে পুলিশ দম্পতি হত্যা মামলায় তাদের একমাত্র মেয়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ঐশী রহমানের মামলাটি ডেথ রেফারেন্স আকারে হাইকোর্টে আসে। একইসঙ্গে, ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে ঐশী। পরে ১২ মার্চ এই মামলায় ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি শুরু হয়। শুনানি শেষে রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমান রাখেন আদালত। পরে ৫ জুন রায় ঘোষণা করেন আদালত। গত ২২ অক্টোবর এই মামলায় পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ পায়। ২০১৩ সালের ১৬ আগস্ট রাজধানীর মালিবাগের চামেলীবাগে নিজ বাসা থেকে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (রাজনৈতিক শাখা) পরিদর্শক মাহফুজুর রহমান ও তার স্ত্রী স্বপ্না রহমানের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মা-বাবা খুন হওয়ার পর পালিয়ে যান ঐশী। এ ঘটনায় ২০১৩ সালের ১৭ আগস্ট নিহত মাহফুজুর রহমানের ছোট ভাই মো. মশিউর রহমান রুবেল পল্টন থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। একই বছরের ১৭ আগস্ট ঐশী রহমান রমনা থানায় আত্মসমর্পণ করে। এরপর ২৪ আগস্ট আদালতে খুনের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেয় ঐশী। ২০১৪ সালের ৯ মার্চ গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মো. আবুল খায়ের মাতুব্বর ঐশীকে প্রধান করে তিনজনের বিরুদ্ধে দুটি পৃথক অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। ২০১৫ সালের ১২ ডিসেম্বর প্রধান আসামি ঐশী রহমানকে ডাবল মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন আদালত। অপর দুই আসামি ঐশীর বন্ধু রনিকে দুই বছরের কারাদণ্ড ও জনিকে খালাস দেয়া হয়।
থাইল্যান্ডের রাজকুমারী ঢাকায়
থাইল্যান্ডের রাজকুমারী মহাচক্রী সিরিনধরন চার দিনের সফরে ঢাকায় এসেছেন। তার সঙ্গে এসেছেন ১১ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। সফরে বাংলাদেশে থাইল্যান্ডের রাজ পরিবারের উন্নয়ন প্রকল্পগুলো পরিদর্শন করবেন তিনি। সোমবার দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে রাজকুমারী ও তার সঙ্গীদের বহনকারী থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইট ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এসময় বিমানবন্দরে রাজকুমারী মহাচক্রীকে স্বাগত জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। এসময় উপস্থিত ছিলেন থাইল্যান্ডে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সাঈদা মুনা তাসনিম ও ঢাকায় নিযুক্ত থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত পানপিমন সুবান্নেপংসে। বিমানবন্দরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে কুশল বিনিময়ের পর থাই রাজকুমারী হোটেল র‌্যাডিসনে যান। সফরকালে তিনি সেখানেই অবস্থান করবেন। এ সফরে রাজকুমারী বেশ কিছু উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শনের পাশাপাশি নতুন প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন। সফরে থাই রাজকুমারী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। এছাড়া তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরের সঙ্গে বৈঠক করবেন। রাজকুমারী মহাচক্রী সিরিনধরন ৩০ মে চট্টগ্রাম পরিদর্শনে যাবেন এবং সেখানে বেশ কিছু উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন। তিনি এর আগে ২০১০ এবং ২০১১ সালেও বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন।
বিএসটিআই আইনের সাজা বাড়ল
বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড আইনকে (বিএসটিআই) সংশোধন করে শাস্তি বাড়ানো হয়েছে। আইনে অনধিক দুই বছর কারাদণ্ড ও এক লাখ জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। তবে ন্যূনতম জরিমানা পঁচিশ হাজার টাকার নিচে নয়। এছাড়া লাইসেন্স ছাড়া বিএসটিআইয়ের স্ট্যান্ডার্ড মার্ক ব্যবহার, নিবন্ধন না করে ব্যবসা ও পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে বাজেয়াপ্ত করার বিধান রাখা হয়েছে আইনে। এছাড়া আইনের সবক্ষেত্রেই শাস্তি ও জরিমানা বাড়ানো হয়েছে। আইনের কোনো ধারায় কাভার না করলে কিন্তু অপরাধ হলে এক লাখ টাকা বা সর্বনিম্ন পচিশ হাজার টাকা জরিমানা করা যাবে। একই অপরাধ দুই বার করলে শাস্তি দ্বিগুণ রাখার বিধান রয়েছে ওই আইনে। সোমবার (২৮ মে) মন্ত্রিপরিষদের বৈঠক শেষে মন্ত্রি পরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম এ তথ্য জানান। এছাড়া বৈঠকে পাটনীতির খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সংজ্ঞা চিহ্নিত করা হয়েছে। কৌশলগত অগ্রাধিকার চূড়ান্ত করা হয়েছে। এতে মিশন-ভিশন যুক্ত করা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী ভারত সফর নিয়ে কথা বলেছেন। ভারত সফরকালে তিনি রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে কথা বলেছেন। এ সংকট সমাধানে তিনি ভারতের সহায়তা চেয়েছেন।
বিদেশি পতাকা উড়ানো বন্ধে রিট
রাশিয়া বিশ্বকাপ ফুটবল উপলক্ষে বিদেশি পতাকা অননুমোদিতভাবে উড়ানো বন্ধের নির্দশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে। বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি জাফর আহমদের ডিভিশন বেঞ্চে এ আবেদনের শুনানি হবে। মুক্তিযোদ্ধা মুহাম্মদ নুরুল আমিন নামে এক ব্যাক্তি এ রিট করেন। আবদনে বলা হয়েছে, অতীতে দেখা গেছে ফুটবল বিশ্বকাপ চলাকালে বাংলাদেশে বিভিন্ন দলের সমর্থকরা সে দেশের পতাকা বিভিন্ন স্থানে উড়ান। বাংলাদেশের পতাকা বিধিমালা, ১৯৭২-এর বিধান অনুযায়ী, বাংলাদেশে অবস্থিত বিদেশি কূটনৈতিক মিশনসমূহ ছাড়া অন্য কোনো স্থানে অন্য রাষ্ট্রের পতাকা উত্তোলনের সুযোগ নেই। আর যদি করা হয় তাহলে সরকারের বিশেষ অনুমোদন নিতে হবে।
পাকিস্থানের সাথে বিএনপির মিল অাছে
বিএনপি নেতাদের কাছে প্রশ্ন রেখে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং দলের অন্যতম মুখপাত্র ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক গভীর হলে আপনাদের বুকটা কাঁপে কেন? সোমবার (২৮ মে) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের তৃতীয় তলার কনফারেন্স লাউঞ্জে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট আয়োজিত 'ভারতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ডক্টর অব লিটারেচার (ডি-লিট) ডিগ্রি প্রদান করায় শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ প্রশ্ন রাখেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সাথে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হলে আপনাদের বুক কাঁপে এইজন্য যে আপনারা (বিএনপি) এখনও পাকিস্থানি ভাবধারার চিন্তা থেকে বেরিয়ে আসতে পারেননি। তাই ভারতের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক গভীর হলেই পাকিস্থানের যেমন বুক কাঁপে বিএনপিরও বুক কাঁপে। সুতরাং এক্ষেত্রে পাকিস্থানের সাথে বিএনপির মিল অাছে। ‘প্রধানমন্ত্রী আগামী নির্বাচনে জয়লাভের নিশ্চয়তা বিধান করতে ভারত সফর করেছেন’ সাম্প্রতিক বিএনপি নেতাদের এমন বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, নির্বাচনে ভারত এসে ভোট দিবে না, ভোট দিবে দেশের জনগণ। আমরা জনগণের ক্ষমতায় বিশ্বাস করি, আমরা অন্য কারো ক্ষমতায় বিশ্বাস করিনা। আওয়ামী লীগ সব সময় জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় গেছে ও জনগণের ক্ষমতায় ক্ষমতাবান হয়ে দেশ পরিচালনা করেছে। আয়োজক সংগঠনের উপদেষ্টা লায়ন চিত্তরঞ্জন দাসের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, আওয়ামী লীগ নেতা বলরাম পোদ্দার, সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম রনি, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অরুণ সরকার রানা, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অভিনেত্রী অরুণা বিশ্বাস প্রমুখ।
ইপিজেডে পরিবেশের মান রক্ষায় কঠোর হওয়ার নির্দেশ
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রফতানি পণ্য উৎপাদনকারী বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলসমূহে শিল্প-কারখানা স্থাপনের ক্ষেত্রে পরিবেশের মান ও আইনগত বাধ্যবাধকতা কঠোরভাবে নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের জানান, ‘প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বেপজা’র ৬ষ্ঠ গভর্নিং কাউন্সিলের বৈঠকে বক্তব্যকালে তিনি (প্রধানমন্ত্রী) এ ব্যাপারে নির্দিষ্টভাবে কিছু নিদের্শনা দেন।’ তিনি জানান, বেজা’র গভর্নিং কাউন্সিলের চেয়ারপার্সন শেখ হাসিনা সকল অর্থনৈতিক অঞ্চলে জলাধার ও বৃক্ষ রোপণের মাধ্যমে সবুজ বেষ্টনি গড়ে তোলার বিধান রাখার জন্যও কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঘূর্ণিঝড়, সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাস ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষায় শিল্পাঞ্চলের চারদিকে বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলের সমুদ্র অববাহিকতায় কৃত্রিম ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল সৃষ্টির জন্যও কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান। শেখ হাসিনা বলেন, সরকার মিরসরাই থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত মেরিন ড্রাইভওয়ে নির্মাণ করার পরিকল্পনা নিয়েছে। বৈঠকে বেপজা’র নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী রেগুলারেটরি বডির কার্যক্রম এবং ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ৫ম গভর্নিং কাউন্সিলের বৈঠকে গৃহীত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের বিষয় উপস্থাপন করেন। বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় পাতার আরো খবর