টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী প্রচারণা শুরু
অনলাইন ডেস্ক: গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাতির জনকের সমাধিতে শ্রদ্ধা ও মোনাজাতের মধ্য দিয়ে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুর দুইটার দিকে বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন শেখ হাসিনা। তার ছোট বোন শেখ রেহানাসহ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতা-কর্মীরা এসময় উপস্থিত ছিলেন। পরে ফাতেহা পাঠ ও মোনাজাতে অংশ নেন তারা। বিকেলে নিজ নির্বাচনী এলাকা কোটালীপাড়ার শেখ লুৎফর রহমান সরকারি ডিগ্রি কলেজ মাঠে স্থানীয় আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য রাখবেন শেখ হাসিনা। তার এই নির্বাচনী সফরে কোটালীপাড়ায় নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। জনসভায় গোপালগঞ্জের ১৬টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা থেকে লক্ষাধিক লোকসমাগম হবে বলে জানান স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা। এর আগে সকাল সাড়ে আটটায় গণভবন থেকে সড়কপথে গোপালগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা দেন শেখ হাসিনা। যাত্রাপথে বিভিন্ন স্থানে রাস্তার দুপাশে জমায়েত হয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতিকে শুভেচ্ছা জানান দলীয় নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষ। আগামীকাল বৃহস্পতিবার ফিরতি পথে ফরিদপুরের ভাঙ্গা মোড়, ফরিদপুর মোড়, রাজবাড়ী, পাটুরিয়া, মানিকগঞ্জ, ধামরাই, সাভারসহ ১০টি নির্বাচনী এলাকায় প্রচারণায় অংশ নেবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।
এই লেন হাইকোর্টের কাগজ,আপনেরা তো দেননি!
অনলাইন ডেস্ক: নির্বাচন কমিশন ভবনের প্রবেশপথের ঠিক সামনে মোটরসাইকেল থেকে নেমে সোজা চলে গেলেন অভ্যর্থনা ডেস্কে। গিয়েই আলোচিত প্রার্থী হিরো আলম বলে উঠলেন, আপনেরা তো দেননি, এই লেন হাইকোর্টের কাগজ! খুব ভোগান্তি দিলেন আপনেরা। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর রিটার্নিং কর্মকর্তা হিরো আলমের প্রার্থিতা অবৈধ বলে ঘোষণা করেন। তারপর তিনি নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন। আপিল শুনানিতেও হেরে যান তিনি। এর পর ইসি থেকে রায়ের সার্টিফায়েড কপি নিয়ে উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন হিরো আলম। উচ্চ আদালত থেকে রায়ের কপি নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে নির্বাচন কমিশনে জমা দিতে আসেন তিনি। অভ্যর্থনা ডেস্কের কর্মকর্তা হিরো আলমের রায়ের কপি যাচাই করেন। পরে তিনি জমা না নিয়ে হিরো আলমকে ওপরে গিয়ে জমা দিতে বললেন। দেরি না করে দ্রুতই দ্বিতীয়তলায় চলে যান হিরো আলম। সেখানে যাওয়ামাত্র ইসির এক কর্মকর্তা বলে ওঠেন, আরে হিরো আলম ভাই, কেমন আছেন? আপনি এলে লোকজনে ভরে যায়, অথচ অন্য কারো সঙ্গে এত লোক আসে না। উত্তরে হিরো আলম বলেন, সবই আপনাদের ভালোবাসা ভাই। দ্রুত সই করে লেন, ভালো করে দেখেশুনে সই করে লেন! তখন পাশ থেকে ইসির আরেক কর্মকর্তা হিরো আলমকে উদ্দেশ করে বলেন, আপনার সাহস আছে ভাই, আপনি পারবেন। উত্তরে হিরো আলম বলেন, সাহস আছে বলেই তো আমাকে সিংহ মার্কা দিল ইসি। এখনই মরে গেলেও আমার আর কোনো কষ্ট থাকবে না। জীবনে যা পাওয়ার, সব পাইছি। বাকিটুকু বেঁচে থাকব সাধারণ জনগণের জন্য। ডেসপ্যাচে রায়ের কপি দেওয়ার পর এনটিভি অনলাইনের সঙ্গে কথা বলেন হিরো আলম। কথা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আজ রাতেই বগুড়ায় চলে যাব। কাল থেকে প্রচার শুরু করব। আমার আর সইতেছে না! ঢাকায় থেকে আমার কোনো কাজ নেই। নির্বাচন কমিশন আমাকে খুব প্যারা দিল। শুনানিতে যখন ইসি আমাকে বাদ দিল, তখনই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিলাম হাল ছেড়ে দেওন যাবে না। বহুত লোকের কথা সহ্য করে এই পর্যন্ত এসেছি। থেমে থাকা যাবে না, হাইকোর্টে যেতে হবে। শেষমেশ তো ইসিকে হাইকোর্ট দেখিয়েই ছাড়লাম। আমি সাধারণ মানুষের নেতা হতে চাই। আল্লাহ আমাকে তৌফিক দিয়েছেন ভোটের লড়াই করতে। আমি আশা করি, আল্লাহ আমাকে সংসদ পর্যন্ত নিয়ে যাবেন। অনেক কথার জবাব আল্লাহ কিন্তু এরই মধ্যে দিয়ে দেছেন। আমি কিছুই বলব না। যারা আমাকে থামাতে চেষ্টা করে যাচ্ছে, আমি তাদের কিছুই বলব না। ৩০ তারিখে আমার ভোটাররা জবাব দিয়ে দেবে। ভোটাররা আপনার পক্ষে কতটা সাড়া দেবেন বলে ধারণা এমন প্রশ্নে হিরো আলম বলেন, আমি তো জানি না, কতজন ভোটার আমাকে ভোট দেবে। তবে আমার অনেক ভক্ত আছে। আমাকে অনেকে ফোন দিচ্ছে গ্রামে যাওয়ার জন্য। সবাই আমার সঙ্গে কাজ করবে বলে ডাকছে আমাকে। আর আমি সবার দোয়ায় জিতে যাব বলে মনে করছি এখন পর্যন্ত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভোট নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনার ব্যাপারে ইন্টারনেট দুনিয়ায় বাংলা ভাষাভাষি মানুষের কাছে আলোচিত হিরো আলম বলেন, আমাকে অনেকে অনেক বাজে কথা বলেন ফেসবুকে। সামনে তো বলার সাহস পায় না। তবে আমি এসবে মন দেই না। কারণ আমি জানি, আমি অনেকের মতো সুদখোর না, ঘুষ খাই না, আমি মার্ডার করি না, ব্যাংকের টাকা মারি না, আমি কাউকে পুলিশ দিয়ে ধরিয়েও দেই না। বরং আমি এমপি নির্বাচিত হলে এসব বন্ধ করার চিন্তা করব। আমি একা তো পারব না, কিন্তু অনেক এমপিকে এসব নিয়ে চিন্তা করতে বলব। একদিন সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। যদি আমরা চাই। হিরো আলম আরো বলেন, আমি যদি হেরেও যাই, তবুও আমি চেষ্টা করব সাধারণ মানুষের হয়ে কাজ করার। এইবারই যে শ্যাষ, তা তো না। আগামীতে বেঁচে থাকলে আবারও দাঁড়ানো যাবে এমপি পদে। তবে ফেলের কথা আমি ভাবছি না এখন।
টুঙ্গিপাড়ার পথে প্রধানমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য আজ সকালে ঢাকা থেকে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। এর মধ্য দিয়েই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারকাজ শুরু করবেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী। গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে টুঙ্গিপাড়ায় পৌঁছে বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, ফাতেহা পাঠ, দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। পরে দুপুর আড়াইটার দিকে নিজ নির্বাচনী এলাকা কোটালীপাড়ার শেখ লুৎফর রহমান আদর্শ সরকারি কলেজ মাঠে এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণ দেবেন তিনি। রাতে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণের কথা রয়েছে শেখ হাসিনার। টুঙ্গিপাড়ায় নিজ বাড়িতে রাত্রিযাপন করে পরদিন বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে তিনি সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেবেন। এদিকে প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে তাঁর নির্বাচনী এলাকা গোপালগঞ্জ-৩ (কোটালীপাড়া-টুঙ্গিপাড়া) আসনে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে সঞ্চার হয়েছে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার। নির্বাচনী প্রচার ঘিরে মুখর হয়ে উঠেছে কোটালীপাড়া-টুঙ্গিপাড়া উপজেলা। বর্ণিল সাজে সজ্জিত করা হয়েছে কোটালীপাড়াকে। এরই মাঝে শেখ হাসিনার জনসভা সফল করতে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে কোটালীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ। এ ছাড়া জনসভার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন, পুলিশসহ গোয়েন্দা সংস্থার কর্মীরা কাজ করে যাচ্ছেন। গোপালগঞ্জ-৩ আসনে এ পর্যন্ত ছয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন শেখ হাসিনা। আগামী নির্বাচনেও নৌকার দুর্ভেদ্য এ ঘাঁটি থেকে তিনি বিপুল ভোটে জয়লাভ ও টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করবেন বলে প্রত্যাশা ভোটারদের।
দল বা প্রার্থীকে সমর্থন করে না : রবার্ট মিলার
অনলাইন ডেস্ক :আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সবাইকে সহিংসতা থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত রবার্ট মিলার বলেছেন, সহিসংতা গণতন্ত্রের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কোনো রাজনৈতিক দল বা প্রার্থীকে সমর্থন করে না। আমরা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এবং মূল্যবোধকে সমর্থন করি। মঙ্গলবার বিকেলে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদার সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন রবার্ট মিলার।বৈঠকের বিষয়বস্তু সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে রবার্ট মিলার বলেন, আসন্ন সংসদ নির্বাচন নিয়ে আলোচনার জন্য এসেছিলাম। আমরা বলেছি, সব দল অবাধে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার এবং রাজনীতি করার যেন সুযোগ পায়। তারা যেন শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচনী প্রচরণা চালাতে ও সমাবেশ করার সুযোগ পায়। প্রাণবন্ত প্রতিযোগিতার মধ্যে দিয়ে গণতন্ত্র আরো শক্তিশালী হয়। গণমাধ্যম, বিরোধী দলগুলো যেন তাদের মত ব্যক্ত করতে পারে।মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘নির্বাচনে সবার শান্তিপূর্ণ আচরণের প্রত্যাশায় সবাই। সে রাজনৈতিক দল হোক, আর যেই হোক, যেন শান্তিপূর্ণ আচরণ করে। সবাই যেন সহিংসতা থেকে দূরে থাকে। কেননা, সহিংসতা গণতন্ত্রের পথে বাধা হিসেবে থাকে। যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না, সহিংসতা শুধু তাদের উদ্দেশ্য পূর্ণ করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কোনো রাজনৈতিক দল বা প্রার্থীকে সমর্থন করে না। আমরা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এবং মূল্যবোধকে সমর্থন করি।রবার্ট মিলার বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১০ কোটি ৪০ লাখ বাংলাদেশি (ভোটার) অংশ নেবেন। আমরা সবাই এই নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে আছি। বাংলাদেশ সরকারের প্রতিশ্রুতি-অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করার বিষয়টিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (ইউএসএ) উৎসাহিত করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ টিমকে সহায়তা করবে ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ইনস্টিটিউট (এনডিআই)। পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট প্রাক-মূল্যায়ন দল অক্টোবরে পাঠিয়েছিল এনডিআই। পরবর্তীতে ডিসেম্বরেও এরকম আরো একটি দল পাঠিয়েছিল। এনডিআইয়ের অংশীদার ‘দি এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশন’। তারা দুজন আন্তর্জাতিক নির্বাচন বিশেষজ্ঞ নিয়োজিত করেছে এবং স্বল্পমেয়াদী ও দীর্ঘমেয়াদী ইলেকশন পর্যবেক্ষকও পাঠাবে। বলছিলেন রবার্ট মিলার।মিলার বলেন, মার্কিন দূতাবাস পৃথক পর্যবেক্ষক দল নিয়োগ করবে সারাদেশে। যুক্তরাজ্য ও সুইজারল্যান্ডের সহযোগিতায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ১৫ হাজার স্থানীয় পর্যবেক্ষক নিয়োগ করবে, যারা ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপের (ইডব্লিউজি) হিসেবে কাজ করবে।
নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ
অনলাইন ডেস্ক :জাসদ সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠনের মধ্যে দিয়ে লেভেল প্লেইং ফিল্ড নিশ্চিত হয়েছে। আজ দুপুরে নিজ নির্বাচনী এলাকা কুষ্টিয়ার মিরপুরে স্থানীয়দের সাথে এক মতবিনিময় সভায় যোগ দেয়ার আগে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। হাসানুল হক ইনু বলেন, বিএনপি নির্বাচনের নামে বারবার যে সমতল ভূমির কথা বলছেন তা নিশ্চিত হয়েছে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠনের মধ্যে দিয়ে। নির্বাচন কমিশন বা প্রশাসনের কোন আচরণ পক্ষপাতিত্ব হয়েছে বিএনপি তা বলতে পারছে না। তিনি বলেন, অতীতের দশ বছর ধরে যারা আগুন সন্ত্রাস ও দুর্নীতির সাথে জড়িত আছে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসন পুরাতন মামলা কার্যকর করছে। তাও একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায়। ইনু বলেন, নতুন করে বিএনপির কোন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হয়নি। শুধু অপরাধীদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক আইনী কার্যক্রম অব্যাহত আছে। এর সঙ্গে নির্বাচনের কোন সম্পর্ক নেই। এ সময় জেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলীম স্বপন ও উপজেলা জাসদের সাধারন সম্পাদক আহম্মদ আলীসহ স্থানীয় বিভিন্ন সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীসহ তিন মন্ত্রীর দায়িত্বে আরও চার মন্ত্রণালয়
অনলাইন ডেস্ক: চার টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীকে অব্যাহতি দেয়ার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিন মন্ত্রীকে চার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে মঙ্গলবার (১১ ডিসেম্বর) দফতর বণ্টন করে প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অপরদিকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন খন্দকার মোশাররফ হোসেন। খন্দকার মোশাররফ স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছিলেন। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন আ ক ম মোজাম্মেল হক, যিনি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছিলেন। উল্লেখ্য, নির্বাচনকালীন মন্ত্রিসভা গঠনে পদত্যাগপত্র জমা দেয়ার এক মাসেরও বেশি সময় পর গত ৯ ডিসেম্বর চার টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীকে অব্যাহতি দেয়া হয়। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী মতিউর রহমান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বারকে অব্যাহতি দিয়ে রোববার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। আলোকিত বাংলাদেশ
প্রার্থীসহ সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান: সিইসি
অনলাইন ডেস্ক: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সহিংসতা এড়াতে প্রশাসন, প্রার্থীসহ সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদা। তিনি বলেন, ভোটের উত্তাপ যেন উত্তপ্ত না হয়, সবাইকে সেদিকে দৃষ্টি রাখতে হবে। আজ মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের সঙ্গে নির্বাচনী নির্দেশনামূলক এক কর্মশালায় তিনি এ আহ্বান জানান। ম্যাজিস্ট্রেটদের উদ্দেশে কেএম নুরুল হুদা বলেন, আপনারা বিচারক। আপনাদের দক্ষতা, পারদর্শিতা, একাগ্রতা, আইনের প্রতি আপনাদের শ্রদ্ধা, ন্যায়বিচারের ব্যাপারে আপনাদের মানসিকতা যেন মানুষের সঙ্গে মেলামেশার কারণে কখনও নষ্ট না হয়। কারও পক্ষ হয়ে কিংবা কারও প্রতি বিরাগভাজন হয়ে আপনারা সেটা করতে পারেন না। এর আগে গতকাল এ কর্মশালার উদ্বোধনী দিনে ম্যাজিস্ট্রেটদের নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে সিইসি বলেন,প্রজ্ঞা ও মেধা খাটিয়ে নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করতে হবে। আতঙ্ক নয়, নির্বাচন কমিশন একটি আস্থার ভোট চায়। কোনো দল বা ব্যক্তির প্রতি কমিশনের বিশেষ নজর নেই জানিয়ে নুরুল হুদা বলেন, আমরা এমন একটি ভোট করতে চাই, যেন কোনো রাজনৈতিক দল এ বিষয়ে প্রশ্ন তুলতে না পারে। ম্যাজিস্ট্রেটদের প্রশ্নের ঊর্ধ্বে থেকে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান সিইসি। তিনি বলেন, আপনারা সংবিধান ও আইনের ভিত্তিতে দায়িত্ব পালন করবেন। জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের তিন দিনব্যাপী ব্রিফিং অনুষ্ঠানের প্রথম ধাপে আজ ২১৫ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট অংশ নেন। তিন ধাপে ৬৪০ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে ব্রিফ করবে কমিশন। ভোটগ্রহণের আগের দিন, ভোটগ্রহণের দিন এবং ভোটগ্রহণের পরের দুদিন নির্বাচনের মাঠে নিয়োজিত থাকবেন এরা।
আগামী বুধবার নির্বাচনী প্রচার শুরু করবেন শেখ হাসিনা
অনলাইন ডেস্ক: আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী বুধবার টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা কার্যক্রম শুরু করবেন। আজ দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, এমপি একথা জানান। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি-জামায়াত নাশকতা করার পাঁয়তারা করছে বলে উল্লেখ করে জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, বিএনপির মনোনয়ন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ নিয়ম বহির্ভূত অগণতান্ত্রিক পন্থায় পরিচালিত হয় এবং মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় ব্যাপক বাণিজ্য হয়েছে। তিনি বলেন, বিএনপির নেতা-কর্মীদের অভিযোগ অনুযায়ী, লন্ডনে পলাতক তারেক রহমান এই মনোনয়ন বাণিজ্য করেছেন। তাহলে বিএনপির মনোনয়ন বাণিজ্যে কত টাকা দেশ থেকে পাচার হয়েছে? আর এ বিশাল অংকের টাকা আগামী নির্বাচনে ব্যবহৃত হলে তা একটি অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে’-বলেন নানক। আগামী নির্বাচনে নিশ্চিত পরাজয় জেনে বিএনপি-জামায়াত নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে নাশকতার পাঁয়তারা করছে বলে উল্লেখ করে নানক বলেন, নির্বাচনে বিএনপি মনোনয়ন বাণিজ্য করেছে। নির্বাচন কমিশনের উচিত তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া। আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণ বিএনপি-জামায়াত অপশক্তির ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলে ব্যালটের মাধ্যমে আগুন সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে, মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধীদের বিরুদ্ধে, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের মদদদাতা বিএনপি-জামায়াতের বিরুদ্ধে রায় দেবে। আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদের পৃষ্ঠপোষক তারেক রহমানের দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে জনগণ রায় দেবে। নানক বলেন, বিএনপির নেতা-কর্মীরা মনোনয়ন বাণিজ্যের প্রতিবাদে তাদের চেয়ারপারসনের কার্যালয় ও কেন্দ্রীয় কার্যালয় ঘিওে রেখেছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সিনিয়র নেতাদের অপদস্থ করা হয়েছে এবং দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর করতে দেখা গেছে। জাহাঙ্গীর কবির নানক আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আন্তর্জাতিকভাবে চিহ্নিত সন্ত্রাসী সংগঠন শিবিরের কয়েকজন নেতা আগ্নেয়াস্ত্র ও বোমাসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ধরা পড়েছে। এ থেকে বোঝা যায় বিএনপি এবং জামায়াত নাশকতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে। তিনি বলেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিশ্চয়ই ব্যবস্থা নেবে। তারপরও আমরা উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় আছি। এক প্রশ্নের জবাবে নানক বলেন, আওয়ামী লীগের কোন বিদ্রোহী প্রার্থী নেই। যারা স্বতন্ত্র দাঁড়িয়েছিল তারা প্রায় সবাই তাদের প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নিয়েছে। আগামী ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের পর আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করা হবে বলেও তিনি জানান। সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বি এম মোজাম্মেল হক ও ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী প্রমুখ। বাসসের গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, গোপালগঞ্জের কোটালী পাড়ায় উপজেলা পরিষদ হল রুমে আজ আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য এসএসএফর উপস্থিতিতে সমন্নয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোখলেসুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাইদুর রহমান খান, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি চৌধুরী এমদাদুল হক, সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলী খান, কোটালীপাড়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান হাওলাদার, পৌর মেয়র মো. কামাল হোসেন শেখ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মাহফুজুর রহমানসহ এসএসএফর কর্মকর্তা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উর্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। উপজেলা চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান হাওলাদার জানান, আগামী বুধবার দুপুর আড়াইটায় স্থানীয় শেখ লুৎফর রহমান রহমান আদর্শ সরকারি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত জনসভায় আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভাষন দেবেন। তিনি জানান, এই জনসভাকে সফল করতে দলীয়ভাবে সব প্রস্তুতি গ্রহন করা হয়েছে।
নির্বাচনে সাংবাদিকদের সতর্ক দৃষ্টি রাখার অনুরোধ: এইচ টি ইমাম
অনলাইন ডেস্ক: বিভ্রান্তিমূলক কোনো তথ্য বা সংবাদ ছড়িয়ে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যাতে নির্বাচনের পরিবেশকে কলুষিত করতে না পারে সেদিকে সাংবাদিকদের সতর্ক দৃষ্টি রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও দলীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ারম্যান এইচ টি ইমাম। সোমবার রাতে রাজধানীর একটি হোটেলে নির্বাচন কমিশন বিটের সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে এইচ টি ইমাম বলেন, নির্বাচনের দিন কিংবা তার আগে ও পরে আপনাদের ওপর বিশাল দায়িত্ব থাকবে। আপনারা যাতে সে দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালন করতে পারেন সেদিকে আমাদের লক্ষ্য থাকবে। নির্বাচন পর্যবেক্ষণের নামে দেশী বা বিদেশী ব্যক্তি বা সংস্থা যেন নির্বাচনে কোনোভাবে প্রভাব বিস্তার করতে না পারে সেদিকেও নজর রাখার আহ্বান জানান তিনি। আপনারা লক্ষ্য রাখবেন তারা যেন নির্বাচনে কোনোরুপ প্রভাব বিস্তার করতে না পারে, দুঃখজনক হলেও সত্য এই ধরণের অপতৎপরতা আমরা অতীতে লক্ষ্য করেছি। এসময় সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সকল দল ও গণমাধ্যমের পূর্ণ সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি। তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করতে আওয়ামী লীগের ইশতেহারে বিশেষ অগ্রাধিকার থাকবে বলেও জানান এইচ টি ইমাম। মতবিনিম সভায় আওয়ামী নেতা এবিএম রিয়াজুল কবির কাওসার, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি) বিটে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন রিপোটার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসির (আরএফইডি) সভাপতি ও চ্যানেল আইয়ের বিশেষ সংবাদদাতা সোমা ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক ও বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মইনুল হক চৌধুরীসহ বিভিন্ন সংবাদপত্র, অনলাইন, টেলিভিশন ও রেডিওর সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় পাতার আরো খবর