উপাচার্যের বাসভবনে হামলায় জড়িতদের গ্রেফতার করা হচ্ছে
অনলাইন ডেস্ক :স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের নয়, যারা উপাচার্যের বাসভবনে হামলায় জড়িত তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে।বৃহস্পতিবার শেরে বাংলা মহিলা আদর্শ কলেজে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি। এ সময় মন্ত্রী বলেন: কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে না। যারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনে হামলায় জড়িত ছিল তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে ২ জুলাই বিদ্যমান কোটাপদ্ধতি পর্যালোচনা, সংস্কার বা বাতিলের বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে সরকার। সেই কমিটি এর মধ্যে একটি সভাও করেছে।
চিকিৎসা গ্রহণের নীতিমালা করছে সরকার
অনলাইন ডেস্ক :বাংলাদেশের রোগীদের বিদেশ গিয়ে চিকিৎসা সেবা গ্রহণের লক্ষ্যে নীতিমালা প্রণয়নের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। কিন্তু, এ পর্যন্ত কতজন রোগী বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেছে এবং কত টাকা ব্যয় হয়েছে তার সঠিক পরিসংখ্যান আপাতত দেয়া সম্ভব নয়। তবে, নীতিমালা প্রণয়নের পর এ ব্যাপারে সঠিক তথ্য দেয়া সম্ভব হবে। বৃহস্পতিবার ঢাকা-১৯ আসনের এমপি ডাঃ মোঃ এনামুর রহমানের লিখিত প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম সংসদকে এ তথ্য জানান। ডেপুটি স্পিকার অ্যাড. ফজলে রাব্বী মিয়ার সভাপতিত্বে বিকালে এ অধিবেশন শুরু হয়। স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, প্রতিবছর আমাদের দেশ থেকে চিকিৎসার জন্য কিছু সংখ্যক রোগী বিদেশে চলে যায়। তবে, মন্ত্রণালয়ের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, মূলত চারটি রোগের চিকিৎসা গ্রহণের জন্য তারা বিদেশে যান। কারণসমূহ হচ্ছে, -আর্থিক স্বচ্ছলতা, বিদেশে চিকিৎসা প্রীতি, হেলথ ট্যুরিজম এবং বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে চিকিৎসা স্বল্পতা। তবে, এ প্রবণতা কমিয়ে আনতে দেশে সকল মেডিকেল কলেজ, হাসপাতাল, বিশেষায়িত হাসপাতাল ও জেনারেল হাসপাতালকে আধুনিক যন্ত্রপাতি দ্বারা সুসজ্জিতকরণের মাধ্যমে উন্নত চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে। তাছাড়া বেসরকারি পর্যায়েও রয়েছে আন্তজার্তিক মানের বেশ কিছু আধুনিক হাসপাতাল যেখানে অন্য দেশ থেকে এসে রোগীগণ চিকিৎসা গ্রহণ করার বহু নজির আছে।
সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ আলোচনাই প্রাধান্যে রাজনাথ সিংয়ের সফরে
অনলাইন ডেস্ক: সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ সহযোগিতার আলোচনাই প্রাধান্য পাবে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের ঢাকা সফরে। তার সফরকালে দুই দেশের মধ্যে তিনটি সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি সইয়ের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও রাজনাথ সিং রাজশাহীর পুলিশ একাডেমি সারদাতে যাবেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের আমন্ত্রণে আগামীকাল শুক্রবার (১৩ জুলাই) তিনদিনের সফরে ঢাকায় আসছেন ভারতীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং। ভারতীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হবে। বৈঠকে দুই দেশের নিরাপত্তা, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ সহযোগিতা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা হবে । গত এক দশক ধরেই দুই দেশ সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে জোর দিয়ে আসছে। দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে জঙ্গিবাদ মোকাবেলায় দুই দেশই সমন্বিত ভাবে কাজ করে চলেছে। রাজনাথ সিংহের এবারের ঢাকা সফরে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ প্রতিরোধই আলোচনার প্রধান ইস্যু হবে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্টসূত্রে জানা গেছে, তরুণ সমাজ সব সময় জঙ্গিদের টার্গেট হয়ে থাকে। তরুণদের মধ্য থেকেই জঙ্গিরা কর্মী রিক্রুট করে চলেছে। সে কারণে দুই দেশই জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে তরুণদের সচেতন করতে চায়। জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে তরুণদের সচেতন করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার থেকে ইতোমধ্যেই নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেসব উদ্যোগ জানার বিষয়ে ভারতের আগ্রহও কম নয়। দুই দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে বিষয়টি আলোচনার এজেন্ডায় রয়েছে। দুই দেশের সীমান্ত পরিস্থিতি ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিয়ে উভয় পক্ষ আলোচনার প্রস্তুতি নিয়েছে। যদিও সীমান্ত পরিস্থিতির উন্নয়ন হয়েছে। বিশেষ করে সীমান্তে নিরীহ মানুষ হত্যা কমেছে। তবে সীমান্তে সন্ত্রাসী ও চোরাচালান কার্যক্রম অব্যাহত রয়ে গেছে। এ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে উভয়পক্ষেরই। দুই দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠকে বিষয়টিতে জোর দেওয়া হচ্ছে। সফরের দ্বিতীয় দিন রাজনাথ সিং আগামী ১৪ জুলাই রাজধানীর বারিধারায় যমুনা ফিউচার পার্কে ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্র উদ্বোধন করবেন। এই ভিসা আবেদন কেন্দ্রে কোনো ধরনের ভিসা অ্যাপয়েন্ট ছাড়াই ভিসা আবেদন জমা নেওয়া হবে। রাজধানীর বেশ কয়েকটি আইভ্যাক সেন্টারে ভারতীয় ভিসা আবেদন জমা নেওয়া হয়ে থাকে। তবে যমুনা ফিউচার পার্কের নতুন ভিসা আবেদন সেন্টারই হবে সবচেয়ে বড় সেন্টার। এখানে প্রায় ৫০টি ভিসা আবেদন কাউন্টারও থাকবে। এছাড়া সাতশ’র বেশি ভিসা প্রার্থী একসঙ্গে বসতে পারবেন। ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকা সফরকালে দুই দেশের মধ্যে তিনটি সমঝোতা স্মারক সইয়ের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এসব সমঝোতা স্মারকের মধ্যে রয়েছে ভারতের প্যাটেল ন্যাশনাল পুলিশ একাডেমি ও বাংলাদেশের সারদা পুলিশ একাডেমির মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা, বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (এসিসি) এবং ভারকের সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (সিবিআই) মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই ও ২০১৮ সালে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে রিভাইজড ট্রাভেল অ্যাগ্রিমেন্ট সইয়ের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আগামী ১৫ জুলাই রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে যাবেন। তিনি পুলিশ একাডেমি পরিদর্শন করবেন। এছাড়া সারদায় দুই দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথ্য প্রযুক্তি ও ফরেনসিক ল্যাবের উদ্বোধন করবেন। জাল টাকা প্রতিরোধের বিষয়ে বাংলাদেশের কাছে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হবে বলে জানিয়েছে ভারতের একাধিক কূটনৈতিক সূত্র। বাংলাদেশের সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় জাল টাকা সে দেশে প্রবেশ করছে বলে ভারতের দাবি। গত বছর সীমান্তে প্রায় ৬৯ লাখ ভারতীয় জাল টাকা ধরা পড়েছে। সীমান্ত এলাকায় সন্ত্রাসী ও চোরাকারবারিরা এই জাল টাকার ব্যবসায়ে জড়িত বলে প্রতিবেশী দেশটির দাবি। এছাড়া ভারতীয় জাল টাকা তৈরিতে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর ইন্ধন রয়েছে বলেও মনে করে দেশটি। ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফরে জাল টাকা প্রতিরোধের বিষয়ে আলোচনা হবে। ঢাকা সফরকালে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সঙ্গেও বৈঠক করবেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে যাবেন। তিনি বিজিবি সদর দপ্তরও পরিদর্শন করবেন। আগামীকাল শুক্রবার (১৩ জুলাই) বিকাল সাড়ে চারটায় ঢাকায় পৌঁছাবেন রাজনাথ সিং। ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সেক্রেটারি (বিএম) বারজ রাজ শর্মা, অতিরিক্ত সচিব এ কে মিসরা, যুগ্মসচিব সাতিনদিয়া গর্গসহ ১২ জন প্রতিনিধি আসছেন।
আবার পেছালো রিজার্ভ চুরি মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ
অনলাইন ডেস্ক: বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থ চুরির ঘটনায় মুদ্রা পাচার ও তথ্যপ্রযুক্তি আইনে দায়ের করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ আবার পিছিয়েছে। আগামী ২৯ আগস্ট তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পরবর্তী তারিখ ধার্য করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার মামলাটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ধার্য থাকলেও এ দিন মামলার তদন্ত সংস্থা সিআইডি প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেনি। এ জন্য ঢাকা মহানগর হাকিম এ কে এম মঈন উদ্দিন সিদ্দিকী প্রতিবেদন দাখিলের নতুন এ তারিখ ঠিক করেন। ২০১৬ সালের ১৬ মার্চ মামলাটি তদন্ত করে সিআইডিকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন আদালত। প্রতিবেদন দাখিলের জন্য এ পর্যন্ত কয়েক দফায় সময় নিয়েছে পুলিশ। ২০১৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে জালিয়াতি করে সুইফট কোডের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি হয়ে যায়। ওই ঘটনায় ২০১৬ সালের ১৫ মার্চ মতিঝিল থানায় মামলাটি দায়ের করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড বাজেটিং বিভাগের যুগ্ম পরিচালক জুবায়ের বিন হুদা। মামলাটিতে সরাসরি কাউকে আসামি করা হয়নি। মামলাটি তদন্ত করার জন্য কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সিআইডিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
ঋণ দিতে চায় এডিবি দ্বিতীয় পদ্মাসেতুতে
অনলাইন ডেস্ক: ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া অংশে দ্বিতীয় পদ্মাসেতু নির্মাণে পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এমনকি ফিজিবিলিটি স্টাডির কাজও শুরু হয়েছে। এরপরেই নেওয়া হবে মূল প্রকল্প। সরকার উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তা নিয়ে এই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে চায়। কারণ পদ্মাসেতুর থেকেও দ্বিতীয় পদ্মাসেতু প্রকল্পে ব্যয় অনেক বেশি। প্রস্তাবিত দ্বিতীয় পদ্মাসেতুর দৈর্ঘ্য হবে ৬ দশমিক ১০ কিলোমিটার। সেতুতে রেললাইনও থাকবে। এই মেগা প্রকল্পে ঋণ দিতে চায় এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। তবে এই প্রকল্পে ঋণ নেওয়ার বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব আসেনি বলে জানিয়েছে এডিবি। এখন দ্বিতীয় পদ্মাসেতুতে ঋণ দিতে সরকারের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবের আশায় রয়েছে এডিবি। এডিবি সূত্র জানায়, দ্বিতীয় পদ্মাসেতু অনেক ব্যয়বহুল হবে। এখানে কো-ফাইন্যান্সিং করবে এডিবি। কয়েকটি উন্নয়ন সহযোগী এক হয়ে দ্বিতীয় পদ্মাসেতু বাস্তবায়ন করতে চায় এডিবি। এডিবি’র এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, আমরা দ্বিতীয় পদ্মাসেতুতে ঋণ দিতে প্রস্তুত আছি। তবে তার আগে সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব আসতে হবে। সেই প্রস্তাব এখনও আসেনি। আমরা চাই শুধু এডিবি নয় এই সেতু বাস্তবায়নে আরও উন্নয়ন সহযোগী যুক্ত হোক। কয়েকটি উন্নয়ন সহযোগী যুক্ত হলে দ্বিতীয় সেতুর কাজ বাস্তবায়ন সহজ হবে। আগে কথিত দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগে পদ্মাসেতু প্রকল্পে ঋণ বাতিল করেছিল বিশ্বব্যাংক। দুর্নীতির এই অভিযোগ নিয়ে দীর্ঘ টানাপোড়েন শেষে ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় এ অবকাঠামো প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ১২০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি বাতিল হয়ে যায়। ফলে দ্বিতীয় পদ্মাসেতুতে ঋণ নিতে ‘ধীরে চলো’ নীতি অনুসরণ করেছে সরকার, যাতে পদ্মাসেতুর মতো একই পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়। ঋণের ধরনসহ নানা দিক বিবেচনা করেই দ্বিতীয় পদ্মাসেতু প্রকল্পে ঋণ নেবে সরকার। এডিবি ঋণ ও দ্বিতীয় পদ্মাসেতু প্রসঙ্গে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান বলেন, দ্বিতীয় পদ্মাসেতু হবে পাটুরিয়া-গোয়ালন্দে। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। তবে ঋণ নেব না দেশীয় অর্থে এটা বাস্তবায়ন করবো বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে ভাবা হচ্ছে। আমাদের সবাই নানা প্রকল্পে ঋণ দিতে চায়। কারণ বাংলাদেশের ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা বেড়েছে। তবে ঋণ নেওয়ার আগে আমরা সব সময় সাবধানতা অবলম্বন করবো। কেউ ঋণের প্রস্তাব দিলেই ঝাঁপিয়ে পড়া ঠিক হবে না। পাটুরিয়া-গোয়ালন্দে দ্বিতীয় পদ্মাসেতু নির্মিত হলে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, মাগুরা ও রাজবাড়ীর সড়ক যোগাযোগের দূরত্ব কমে যাবে। গোপালগঞ্জ, যশোর ও মাদারীপুর জেলার অংশবিশেষের দূরত্বও কমবে। প্রাথমিকভাবে এক বছর আগে ফিজিবিলিটি স্টাডি প্রকল্পে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয় ১৩ হাজার ১২২ কোটি। এই ব্যয় দিয়ে দ্বিতীয় সেতুর কাজ শুরু করতে চায় সরকার। যেমন পদ্মাসেতু প্রকল্প ২০০৭ সালে ১০ হাজার কোটি টাকা দিয়ে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে কয়েক ধাপে বেড়ে এখন এই প্রকল্পের ব্যয় ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি ৩৮ লাখ টাকা এডিবি বলছে দ্বিতীয় পদ্মাসেতু প্রকল্পে সব মিলিয়ে ৫ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হবে। প্রতি ডলার সমান ৮০ টাকা ধরে বাংলাদেশি মুদ্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা। সরকারের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পেলে এই প্রকল্পে ‘লিড ডোনার’ বা প্রধান ঋণদাতা হতে প্রস্তুত রয়েছে এডিবি।
প্রতিটি বিভাগীয় শহরে একটি করে মাদকাসক্ত নিরাময় হাসপাতাল স্থাপন করা হবে
অনলাইন ডেস্ক :দেশের প্রতিটি বিভাগীয় শহরে একটি করে ৫০ শয্যার মাদকাসক্ত নিরাময় হাসপাতাল স্থাপন করা হবে। আজ সংসদে সরকারি দলের সদস্য সাবিনা আক্তার তুহিনের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ এবং মাদকাসক্তদের সুস্থ করে সমাজের মূল ধারায় ফিরিয়ে আনতে সরকার ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এ লক্ষ্যে রাজধানীর তেজগাঁয়ের ৫০ শয্যার মাদকসক্ত নিরাময় কেন্দ্রকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করা হচ্ছে। সরকারি দলের অপর সদস্য এ কে এম রহমতুল্লাহ’র তারকা চিহ্নিত এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ২০০৯ সাল থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ৩ লাখ ৫৩ হাজার ৯০৬টি অভিযান পরিচালনা করে ১ লাখ ৭ হাজার ৭৮৭ জন মাদক অপরাধীর বিরুদ্ধে ১ লাখ ১২১টি মামলা দায়ের করেছে। তিনি জানান, এই সময়ে ৯৪ লাখ ২৫ হাজার ৫৯৯ পিস ইয়াবা, ১৩১.৯১৪ কেজি হেরোইন, ৯.৪০৪ কেজি কোকেন, ২.৫৩০ কেজি আফিম, ৩৫ হাজার ৭৫০ দশমিক ৩৮৯ কেজি গাঁজা, ৩ লাখ ৭৪ হাজার ৭৭ বোতল ফেনসিডিল, ১ লাখ ৪২ হাজার ৯৯৩ এ্যাম্পুল ইনজেকশন ড্রাগ, ৫২ হাজার ৫৬২ বোতল বিদেশী মদ এবং ১ লাখ ১৯ হাজার ৫১৬ ক্যান ও ৮০৬ বোতল বিয়ার উদ্ধার করেছে। মন্ত্রী জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর দায়েরকৃত মামলার মধ্যে চলতি বছরের মে পর্যন্ত ৫০ হাজার ৭০৫টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে।বাসস
দারিদ্র্য দূরীকরণ ও নারীর ক্ষমতায়নে পরিবার পরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ
অনলাইন ডেস্ক : জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, সুস্থ ও সুন্দর জাতি গঠন, দারিদ্র্য দূরীকরণ ও নারীর ক্ষমতায়নে পরিবার পরিকল্পনার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ‘নারীদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের জায়গাগুলোতে প্রাধান্য দিতে হবে। নারীদের জন্য এটা কোন সুযোগ নয়, এটা তাদের অধিকার। এ অধিকার প্রদানে সমান সুযোগ ও প্রবেশগম্যতা নিশ্চিত করা গেলে সমন্বিত উদ্যোগে দেশ দ্রুত এগিয়ে যাবে।’ ‘বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস-২০১৮’ উপলক্ষে আজ বুধবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় স্পিকার এ আহবান জানান। অনুষ্ঠানে বিশিষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ সামাজিক ও অর্থনৈতিক সকল সূচকে এগিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে স্পিকার বলেন, ‘ইতোমধ্যে বাংলাদেশ এমডিজি’র লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) পূরণেও সক্ষম হবে।’ তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে তরুণ ও কর্মক্ষম জনসংখ্যা মোট জনসংখ্যার ৭০ শতাংশ। অর্থাৎ বর্তমানে বাংলাদেশ পপুলেশন ডিভিডেন্টের সুবর্ণ যুগে অবস্থান করছে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে এটি একটি বিরল সুযোগ। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। স্পিকার বলেন, বর্তমানে বিশ্বে জনসংখ্যা প্রায় ৭.৫ বিলিয়ন। বিপুল জনসংখ্যার বিপরীতে সীমিত সম্পদ দিয়ে বিশ্বে জনসংখ্যার সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করা কঠিন কাজ।’ তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পরিবার পরিকল্পনার সেবা প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত প্রসারিত করে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণের আহবান জানান। এর আগে স্পিকার বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস-২০১৮ এর শুভ উদ্বোধন করেন। অনুুষ্ঠানে তিনি মাঠ পর্যায়ের শ্রেষ্ঠ পরিবার পরিকল্পনা কর্মী, শ্রেষ্ঠ সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ও মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড ২০১৮ বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার ও ক্রেস্ট বিতরণ করেন। অনুষ্ঠানশেষে তিনি পরিবার পরিকল্পনা মেলা-২০১৮ উদ্বোধন করেন এবং মেলার বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব জি ,এম, সালেহ উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী মোস্তফা সারোয়ার, ইউএনএফপি’র কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. আশা টরকেলসন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।বাসস
প্রধানমন্ত্রী জনগোষ্ঠীকে দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করার উদ্যোগ নিয়েছেন
অনলাইন ডেস্ক :প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এদেশের মানুষকে বোঝা মনে করেননি। তিনি বিশাল জনগোষ্ঠীকে দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করার উদ্যোগ নিয়েছেন। আজ পাবনা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সভাকক্ষে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ এ কথা বলেন। দক্ষ মানবসম্পদের অর্জিত প্রবৃদ্ধি আয় থেকেই একটি মানসম্মত টেকসই উন্নত জাতি গড়ে তোলা সম্ভব এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি মানুষের জন্য পাঁচটি মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করে একটি আদর্শ জনসম্পদ গড়ে তোলার লক্ষ্যেই প্রধানমন্ত্রী তার কর্মযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছেন। মন্ত্রী সরকারের রূপকল্প উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলায় সকলকে আন্তরিক থাকার আহ্বান জানান। পাবনা জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন এর সভাপতিত্বে এসময় অন্যান্যের মধ্যে সরকারের কর্মকর্তা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।বাসস
এসডিজি অর্জনে সংসদ সদস্যদের সম্পৃক্ত করা দরকার
অনলাইন ডেস্ক : স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী টেকসই উৃন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে সংসদ সদস্যদের সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। তিনি বলেন, সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন সূচকে বাংলাদেশের যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে। ইতোমধ্যে এমডিজি’র লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করেছে এদেশ-একথা উল্লেখ করে স্পিকার বলেন, এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য পূরণেও সক্ষম হবে। বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউএনডিপি’র আবাসিক প্রতিনিধি সুদীপ্ত মুখার্জী আজ বুধবার জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী সাথে তাঁর কার্যালয়ে সাক্ষাত করতে গেলে তিনি এ কথা বলেন। এসময় তাঁরা টেকসই উন্নয়ন (এসডিজি), এসডিজি বাস্তবায়নে কর্মশালা আয়োজন, ইউএনডিপি’র সাহায্যপুষ্ট চলমান প্রকল্পসমুহের বাস্তবায়ন এবং স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন। ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এসময় বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে ইউএনডিপি’র সহযোগিতার কথা কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন। সুদীপ্ত মুখার্জী বলেন, সুদূর অতীত থেকে ইউএনডিপি বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগি। ভবিষ্যতেও ইউএনডিপি বাংলাদেশের উন্নয়নে সহযোগিতা প্রদান অব্যাহত রাখবে। এসময় তিনি এসডিজি’র লক্ষ্য পূরণে সংসদ সদস্যদের নিয়ে দিনব্যাপী অভিজ্ঞতা বিনিময় ও অবহিতকরণ সভা করারও আগ্রহ প্রকাশ করেন।বাসস

জাতীয় পাতার আরো খবর