প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বারোপ দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার ওপর
বিশ্বে টিকে থাকার জন্য দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন,বিশ্ব দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে, বাংলাদেশকেও এর সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগুতে হবে। আমরা সেভাবেই আমাদের শিশু-কিশোরদের গড়ে তুলতে চাই এবং শিক্ষাই তাদের বিকাশের একমাত্র চাবিকাঠি। প্রধানমন্ত্রী রোববার (৮ জুলাই) তাঁর তেজগাঁও কার্যালয়ে দেশব্যাপী সৃজনশীল মেধা অন্বেষণ-২০১৮ এর নির্বাচিত জাতীয় পর্যায়ের ১২ জন সেরা মেধাবীর মাঝে পুরস্কার বিতরণকালে দেয়া ভাষণে এসব কথা বলেন। খবর বাসসর শেখ হাসিনা বলেন, দেশকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত করে উন্নত ও সমৃদ্ধভাবে গড়ে তোলার মূল হাতিয়ার হলো শিক্ষা। কেউ যদি শিক্ষিত হয় তাহলে যেকোন প্রতিকূল পরিবেশে সে টিকে থাকতে পারে। তিনি বলেন,সবাইকে একটা কথাই বলবো, শিক্ষাটাই হচ্ছে সবচেয়ে বড় সম্পদ। এর চেয়ে বড় সম্পদ আর কিছু না। এই সম্পদ কেউ কেড়ে নিতে পারবে না, ছিনতাই করতে পারবে না। শিক্ষাটা যদি থাকে জীবনটাকে সুন্দরভাবে পরিচালনা করা যায়। ডিজিটাল বাংলাদেশে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে দেশের আরো দক্ষ জনশক্তি প্রয়োজন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন,আমরা মহাকাশে বঙ্গবন্ধু-১ উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করেছি, যার মাধ্যমে সমগ্র বাংলাদেশে নেটওয়ার্কটা চালু হবে। সমুদ্র থেকে বাংলাদেশের সর্বত্র যোগাযোগ স্থাপনে আমাদের স্যাটেলাইট কাজ করবে। শিক্ষায়, স্বাস্থ্যসেবায় সব কিছুতেই অবদান রাখতে পারবে। তিনি বলেন,সরকার পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র করছে, আরো জটিল এবং আধুনিক যন্ত্রপাতির সন্নিবেশ ঘটাচ্ছে, যেগুলো চালাতে ভবিষ্যতে অনেক দক্ষ জনশক্তির প্রয়োজন হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন,আজকের শিশুরাই একদিন সবকিছু পরিচালনা করবে। সেই সুযোগটাই আমরা সৃষ্টি করতে চাই। সেটাই আমাদের লক্ষ্য। আধুনিক প্রযুক্তি সম্পন্ন, জ্ঞান-বিজ্ঞানভিত্তিক একটি জাতি আমরা গড়ে তুলতে চাই। সে লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করছি। অনুষ্ঠানে মেধাবী শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষাই একজন মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ। আর এই শিক্ষাটাই তিনি এবং তাঁর ছোট বোন শেখ রেহানা তাদের সন্তানদের দিয়েছেন। শেখ হাসিনা বলেন,আমি এবং রেহানা আমাদের ছেলেমেয়েদের একটা কথাই বলি, একটাই সম্পদ সেটা হচ্ছে শিক্ষা। তোমরা লেখাপড়া শিখবে, মানুষের মতো মানুষ হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন,আমাদের ছেলেমেয়েরা এতো মেধাবী, আমি মনে করি, বিশ্বে বাংলাদেশের ছেলেমেয়েরা সবচেয়ে বেশি মেধাবী। আমাদের ছেলেমেয়েদের একটু সুযোগ করে দিলে তারা অত্যন্ত ভালো করে। আমাদের ছেলেমেয়েদের আমরা সেভাবেই গড়তে চাই যেন আগামী দিনে বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রতিযোগিতায় তারা এগিয়ে থাকে, বলেন প্রধানমন্ত্রী। সরকার এজন্যই মেধা অন্বেষণ কর্মসূচির বাস্তবায়ন শুরু করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন,দেশে-বিদেশে বহু জায়গায় গিয়ে আমার এ অভিজ্ঞতা হয়েছে। গ্রাম বাংলায় সোনার টুকরো ছড়িয়ে আছে। আমরা সেই সোনার টুকরোগুলো খুঁজে বের করছি। তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দিচ্ছি। সরকার বিজ্ঞান, কারিগরি শিক্ষা এবং মাদ্রাসা শিক্ষার আধুনিকায়নের ওপরও গুরুত্বারোপ করছে, উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি এ সময় প্রায় ২ কোটি ৩ লাখ শিক্ষার্থীকে বৃত্তি-উপবৃত্তি প্রদান, মাধ্যমিক পর্যায়ের সকল শিক্ষার্থীর মাঝে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক প্রদানসহ শিক্ষার সম্প্রসারণ ও মানোন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা বাংলাদেশকে দারিদ্র্যমুক্ত করতে চাই। আর দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে শিক্ষাটাই হচ্ছে মূল হাতিয়ার। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এবং শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী (কারিগরি এবং মাদ্রাসা শিক্ষা) কাজী কেরামত আলী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক এবং উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন এবং মেধা অন্বেষণ-২০১৮ এর নির্বাচিত জাতীয় পর্যায়ের ১২ জন সেরা মেধাবীর পক্ষে মাহিন মুসতাসির ও সিরাতুল মুসতাকিম শ্রাবন্তী অনুষ্ঠানে নিজস্ব অনুভূতি ব্যক্ত করেন। সরকার ২০১৩ সাল থেকে দেশের সকল বিভাগের স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে এই মেধা অন্বেষণ কর্মসূচি শুরু করে। তিনটি বিভাগে- ৬ষ্ঠ থেকে ৮ম শ্রেণী, নবম থেকে দশম শ্রেণী এবং একাদ্বশ ও দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত সাহিত্য, বিজ্ঞান, গণিত এবং কম্পিউটার- চারটি বিষয়ে দেশের সকল বিভাগ ও জেলা পর্যায় থেকে নির্বাচিত শীর্ষ ১০৮ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে নির্বাচিত ১২ জনকে এদিন মেধা অন্বেষণ-২০১৮ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। পুরস্কার হিসেবে একটি ট্রফি, এক লাখ টাকার বৃত্তি এবং সনদপত্র প্রদান করা হয়। জাতীয় পর্যায়ের সেরা ১২ মেধাবী শিক্ষার্থী ৯ জুলাই পাঁচদিনের শিক্ষা সফরে তুরস্ক যাবেন বলেও অনুষ্ঠানে জানানো হয়। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বাকি ৯৬ জন শিক্ষার্থীর প্রত্যেককেও পুরস্কার হিসেবে ৫ হাজার টাকা এবং সনদপত্র প্রদান করেন। শেখ হাসিনা বলেন সারাদেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা মেধাবীদের দেশে বিদেশে কাজের সুযোগ করে দেয়া হবে। যাতে তারা নিজেদের মেধা মননের প্রতিফলন ঘটাতে পারেন। তিনি বলেন,আমি এইটুকু আশা করবো যে, আমাদের ছাত্ররা মন দিয়ে পড়ালেখা করবে। দেশের জন্য কাজ করবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শিক্ষার সামগ্রিক মানোন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তিনি কুদরত-ই-খোদা কমিশন গঠন করেছিলেন। কিন্তু পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট জাতির জনককে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। এরপর শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ সবদিক থেকে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা থমকে দাঁড়ায়। পঁচাত্তরের পর অবৈধ ক্ষমতা দখলকারীরা শিক্ষার মানোন্নয়নে কোনো কাজ করেনি। তারা বরং কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়েছে।
কোটা পর্যালোচনা কমিটি বিভিন্ন দেশের তথ্য সংগ্রহ করবে
চাকরিতে বিদ্যমান কোটাপদ্ধতি পর্যালোচনা, সংস্কার বা বাতিলের বিষয়ে সরকারের গঠিত কমিটির প্রথম বৈঠক হয়েছে রোববার (৮ জুলাই)। প্রথম সভায় দেশে-বিদেশে কোটাসংক্রান্ত যেসব তথ্য আছে এবং এ বিষয়ে বিভিন্ন কমিটির প্রতিবেদন সংগ্রহ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কোটা সংক্রান্ত তথ্য পর্যালোচনা করে ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেবে সচিবদের সমন্বয়ে গঠিত কোটা পর্যালোচনা কমিটি। আগামী ৭ দিনের মধ্যে কোটার বিষয়ে আবারও বৈঠকে বসবে এই কমিটি। সচিবালয়ে কোটা নিয়ে প্রতিবেদন তৈরির কর্মকৌশল নির্ধারণে প্রথম বৈঠক শেষে এ কথা জানান কমিটির মুখপাত্র জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দিন। তিনি জানান, কোটা ইস্যুতে গঠিত কমিটির প্রথম বৈঠক আজ (রোববার) অনুষ্ঠিত হয়েছে। কোটা সংক্রান্ত দেশি-বিদেশি তথ্য, পত্রিকার প্রতিবেদন, পিএসসির প্রতিবেদনসহ যাবতীয় প্রতিবেদন সংগ্রহ করার চেষ্টা চলছে। এগুলো হাতে পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ শুরু করব। বেধে দেয়া ১৫ দিনের মধ্যেই প্রতিবেদন দেয়া হবে বলে জানান তিনি। কোটা ইস্যুতে আন্দোলনকারীদের বিষয়ে মো. মহিউদ্দিন বলেন, অনেকেই বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে আন্দোলন করছেন। আবার অনেকেই প্রকৃত বিষয় না জেনে আন্দোলন করছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চাইছেন শৃঙ্খলা আনতে। তাই বাস্তবধর্মী ও সার্বিক তথ্যগত দিক বিবেচনায় এনেই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। প্রসঙ্গত, গত ২ জুলাই প্রজাতন্ত্রের চাকরিতে বিদ্যমান কোটা পদ্ধতি পর্যালোচনা/বাতিল অথবা সংস্কারের লক্ষ্যে সাত সদস্য বিশিষ্ট উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে সরকার। ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে সরকারের কাছে সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দেবে এ কমিটি। ২ জুলাই (রোববার) রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের নির্দেশক্রমে জনপ্রশাসন বিভাগের সচিব ফয়েজ আহমেদ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ কমিটি গঠন করা হয়। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলমকে কমিটির প্রধান করা হয়। এছাড়া জনপ্রশাসন বিভাগের সচিব ফয়েজ আহমেদ, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী, পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সচিব মনজুরুর রহমান (অতিরিক্ত সচিব), মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব অপরূপ চৌধুরী, সরকারি কর্মকমিশনের সচিব আক্তারি জাহান, আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ শহিদুল হক, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব সাজ্জাদুল হাসানকে নিয়ে এ কমিটি গঠন হয়।
ফারুকী হত্যার প্রতিবেদন পিছিয়ে ১৪ আগস্ট
বাংলাদেশের বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আইয়ের ইসলামি অনুষ্ঠানের উপস্থাপক নুরুল ইসলাম ফারুকী হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ পিছিয়ে আগামী ১৪ আগস্ট ধার্য করেছেন আদালত। রোববার মামলাটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ধার্য ছিল। কিন্তু এদিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক আরশেদ আলী মন্ডল প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেননি। এজন্য ঢাকা মহানগর হাকিম মাজহারুল হক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নতুন এ তারিখ ঠিক করেন। উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ২৮ আগস্ট রাত ৯টার দিকে ১৭৪ পূর্ব রাজাবাজারের দোতলা বাসায় মাওলানা নুরুল ইসলাম ফারুকীকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। রাতেই তার হাত বাঁধা গলা কাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত ফারুকী চ্যানেল আইয়ের ধর্মীয় অনুষ্ঠান 'কাফেলা' ও 'শান্তির পথে', মাই টিভির লাইভ অনুষ্ঠান 'সত্যের সন্ধানে'র উপস্থাপক ছিলেন। তাছাড়া তিনি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সম্পাদক এবং সুপ্রিম কোর্ট জামে মসজিদের খতিব ছিলেন।
৭২ লাখ টাকার সোনা জব্দ শাহজালালে
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৭২ লাখ টাকার দেড় কেজি সোনা জব্দ করেছে শুল্ক গোয়েন্দা পুলিশ। শনিবার বিকেলে এক অভিযানে সৌদি আরবের রিয়াদ থেকে আগত সাত যাত্রীর কাছ থেকে ওই সোনা উদ্ধার করা হয়। শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. সহিদুল ইসলাম জানান, শাহজালাল বিমানবন্দরে শনিবার বিকেলে সৌদি আরব থেকে বিজি ০৪০ বিমানযোগে আগত ৭ জন যাত্রীর কাছ থেকে ১৩টি স্বর্ণবার জব্দ করে। জব্দকৃত স্বর্ণের ওজন ১ কেজি ৪৫৪ গ্রাম। যাত্রীরা কোনো প্রকার ঘোষণা ছাড়াই গ্রিন চ্যানেল অতিক্রম করে বাইরে বের হওয়ার সময় বিশেষ কায়দায় মোবাইলের ব্যাটারি রাখার জায়গা, জুতার মধ্যে ও শরীরের মধ্যে লুকায়িত অবস্থা থেকে শুল্ক গোয়েন্দা দল তা উদ্ধার করে। জব্দকৃত স্বর্ণবারের মোট মূল্য প্রায় ৭২ লাখ ৭০ হাজার টাকা। আটককৃত পণ্য ও যাত্রীর বিষয়ে শুল্ক আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পেলেন ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন
অনলাইন ডেস্ক :আইনজীবীদের নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন। তিনি সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক সভাপতি ও বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের আহ্বায়ক। শনিবার দুপুরে বার কাউন্সিল ভবনে সাধারণ সভা শেষে প্রতিষ্ঠানটির ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে সিনিয়র এই আইনজীবীর নাম ঘোষণা করা হয়।বার কাউন্সিলের ফাইন্যান্স কমিটির চেয়ারম্যান শ ম রেজাউল করিম বার ভবনের সম্মেলন কক্ষে সাধারণ আইনজীবীদের সামনে ইউসুফ হোসেন হুমায়ুনের নাম ঘোষণা করেন। এর আগে গত তিন বছর দায়িত্ব পালন করছেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আব্দুল বাসেত মজুমদার। এবারের বার কাউন্সিলের নির্বাচনে ১৪ পদের মধ্যে ১২টিতে জয় পেয়েছে সরকার সমর্থকরা। আর বিএনপি সমর্থিতরা পেয়েছেন দুটি পদ।গত ১৪ মে সারা নির্বাচনের পর থেকে ভাইস চেয়ারম্যান পদের জন্য আলোচনায় ছিলেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতিতে সভাপতি-সম্পাদকসহ বিভিন্ন পদে নির্বাচিত বাসেত মজুমদার। সারা দেশের আইনজীবীদের নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ বার কাউন্সিল। প্রতি তিন বছর পর পর স্বায়ত্তশাসিত এ প্রতিষ্ঠানটিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বার কাউন্সিলের বিধি অনুযায়ী এটি পরিচালিত হয় ১৫ সদস্যের কমিটি দিয়ে। পদাধিকারবলে বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এই পদটি ব্যতীত নির্বাচিত ১৪ সদস্যের মধ্যে থেকে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ও মতামতের ভিত্তিতে একজনকে ভাইস-চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হয়।
স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ঢাকা ছেড়েছেন রাষ্ট্রপতি
অনলাইন ডেস্ক : চোখের চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য আট দিনের সফরে যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। শনিবার বেলা ১১টার দিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ভিভিআইপি ফ্লাইটে লন্ডনের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন তিনি। বিমানবন্দরে রাষ্ট্রপতিকে বিদায় জানান কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী। এছাড়া মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব, পররাষ্ট্র সচিব, কূটনৈতিক কোরের ডিন, তিন বাহিনীর প্রধান, পুলিশের আইজিসহ সামরিক- বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। এর আগে গত অক্টোবরে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য লন্ডন গিয়েছিলেন রাষ্ট্রপতি হামিদ।
সব মানুষের জন্য আবাসন নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার
অনলাইন ডেস্ক :দেশের সব মানুষের জন্য আবাসন নিশ্চিতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার (৭ জুলাই) সকালে আজিমপুর সরকারি কলোনিতে নবনির্মিত বহুবল ভবন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‌‘১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে আমরা বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নিই। কিন্তু ২০০১ সালে বিএনপি জামায়াত ক্ষমতায় এসে সেটি বন্ধ করে দেয়। ২০০৮ সালে ফের ক্ষমতায় এসে আমরা বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর কাজ শুরু করি। বর্তমানে দেশে ১৮৭০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে।’ বাসাবাড়ি ও অফিসে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ‘বাসা থেকে বের হওয়ার সময় নিজ হাতে বাতি ও ফ্যানের সুইচ অফ করবেন। অফিস ত্যাগ করারও সময়ও এই অনুশীলন করতে হবে। আমি নিজেও এটি করে থাকি।’ সরকারি কর্মচারীদের জন্য মতিঝিল ও আজিমপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে ১০টি ভবন উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। চাকরিজীবীদের জন্য বহুতল ভবন নির্মাণের ব্যবস্থা করায় গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দফতরকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
টিটিএফ উদ্বোধন করলেন পর্যটনমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক :কলকাতায় তিন দিনব্যাপী ৩০তম ট্রাভেল এন্ড ট্যুরিজম ফেয়ারের উদ্বোধন করেছেন বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী একেএম শাহজাহান কামাল। শুক্রবার ভারতের কলকাতায় নেতাজী ইনডোর স্টেডিয়ামে এটি উদ্বোধন করেন তিনি। আজ ঢাকায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে একথা জানানো হয়। ভারতের অন্যতম বৃহৎ এ মেলায় এবার ১৩টি দেশ এবং ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের ৪৩০টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের ব্যবস্থাপনায়, বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশেনসহ ১৫টি ট্যুর অপারেটর সংগঠন এ মেলায় অংশ নিচ্ছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিহারের পর্যটন মন্ত্রী প্রমোদ কুমার, পশ্চিম বঙ্গের ক্রটারি আটরি ভট্টাচার্য, থাইল্যান্ড এম্বেসির ভেনাস আসওয়াপুম, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিখিল রঞ্জন রায় প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। পর্যটন মন্ত্রী একেএম শাহজাহান কামাল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সৌন্দর্যকে পর্যটন সম্ভাবনায় পরিণত করতে একটি অভিন্ন প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হবে। দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থাকে (সার্ক) কাজে লাগিয়ে এ অঞ্চলকে একটি ট্যুরিস্ট হাব হিসেবে গড়ে তোলা হবে। তিনি আরও বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের নাগরিকদের সহজে ও স্বাচ্ছন্দ্যে ভ্রমণ নিশ্চিত করতে সহজে ভিসা প্রাপ্তি, ট্রেন ও বাসে যাত্রী সেবা বৃদ্ধি, বিমানের ফ্লাইট বাড়ানোর পাশাপাশি দ্রুত নৌ চলাচলের পদক্ষেপ নেয়া হবে। বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনকে প্রমোট করতে ‘ওয়ান সুন্দরবন’ প্রোগ্রাম বাস্তবায়ন করা হবে। পরে মন্ত্রী মেলায় বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নের উদ্বোধন করেন। এ সময় কলকাতা উপদুতাবাসের ডেপুটি হাইকমিশনারসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে বছরব্যাপী মুজিববর্ষ উদযাপন করবে আওয়ামী লীগ
অনলাইন ডেস্ক :জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ২০২০ সালকে সাধারণ জনগণ এবং দলীয় নেতা-কর্মীদের অংশগ্রহণে আওয়ামী লীগ মুজিববর্ষ হিসেবে উদযাপন করবে। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা আজ সন্ধ্যায় দলের উপদেষ্টা পরিষদ এবং কার্যনির্বাহী সংসদের যৌথ সভায় বলেন, ‘২০২০ সালের মার্চ থেকে ২০২১ সালের মার্চ পর্যন্ত মুজিববর্ষ উদযাপনের মধ্যদিয়ে ২০২১ সালের ২৬ মার্চ আমরা স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন করবো। আমরা পুরো এক বছরের জন্য আমাদের কর্মসূচিকে ঢেলে সাজাবো।’ জাতি, ধর্ম, বর্ণ. গোত্র, নির্বিশেষে সকল বয়সের শ্রেণী পেশার মানুষের অংশগ্রহণে মুজিববর্ষ উদযাপিত হবে বলে সন্ধ্যায় ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ দলের নবনির্মিত কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই যৌথ সভায় তিনি জানান। সকল জেলা, উপজেলা, ওয়ার্ড এবং ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত এটি বাস্তবায়নে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণের কথাও বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই অনুষ্ঠানের সঙ্গে আমাদের সহযোগী সংগঠনগুলোকেও যেমন সম্পৃক্ত করবো, তেমনি দেশের জ্ঞানী-গুণী-বুদ্ধিজীবীরাও থাকবেন। পাশাপাশি সরকারিভাবেও এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য কেবিনেট সচিবকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।’ এই কর্মসূচির মধ্যে শিশু-কিশোরদের বিভিন্ন প্রতিযোগিতা, স্কুলভিত্তিক খেলাধূলা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, নাটক, কবিতা আবৃত্তি, রচনা প্রতিযোগিতা থাকবে এবং কামার, কুমার, জেলে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ যাদের জন্য বঙ্গবন্ধু সারাজীবন কাজ করেছেন তাদেরও কর্মসূচি থাকবে। এ উপলক্ষে জাতির পিতার জীবন এবং কর্ম নিয়ে বেশ কিছু বইও প্রকাশিত হবে, যার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম জাতির পিতার স্বাধীকার আন্দোলন এবং দেশের ইতিহাস সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পারবে। শেখ হাসিনা বলেন, ‘ইতিহাস জানার জন্য, প্রজন্মের গবেষণায় এগুলো একটি সম্পদ হবে।’ ‘কারাগারের রোজ নামচা’ এবং ‘বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী’- তাঁর ডায়রী ভিত্তিক লেখা দুটি ইতোমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর ১৯৫২ সালে চীন ভ্রমণের ওপর লেখা একটি বইয়ের কাজও শেষ পর্যায়ে রয়েছে। বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে পাকিস্তানী গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্ট নিয়ে বের করতে যাওয়া প্রায় ৯ হাজার পৃষ্ঠার প্রকাশনার ১৪টি ভলিউমের প্রথম ভলিউম ছাপারও কাজ চলছে। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার শুনানি নিয়েও কয়েক খন্ডের বই প্রকাশিত হবে এবং বঙ্গবন্ধুর নিজের লেখনী ‘স্মৃতিকথা’ও পরবর্তী সময়ে প্রকাশ করা হবে। আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘বহুমুখী কর্মসূচির মধ্যদিয়েই আমরা পুরো বছর উদযাপন করবো।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা আমাদের স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন এবং বলেছিলেন রক্ত দিয়েই তিনি রক্তঋণ শোধ করে যাবেন, তিনি তা করে গেছেন। এখন আমাদেরও সেই রক্তঋণ শোধ করতে হবে। আর তাঁর আত্মা শান্তি পাবে তখনই যখন বাংলাদেশের মানুষ সুখী ও সমৃদ্ধ জীবন-যাপন করবে। বাংলাদেশে আর ক্ষুধাতাড়িত দরিদ্র জনগোষ্ঠী নেই উল্লেখ করে তিনি রোহিঙ্গা প্রসঙ্গে বলেন, আমরা এখন শুধু নিজেদের নয়, ১১ লাখ রোহিঙ্গাকেও আশ্রয় দিয়ে তাদের খাদ্যসহ সব রকমের সহযোগিতা দিতে পারছি। তিনি বলেন, আমরা নিপীড়িতদের পাশে দাঁড়াতে পারছি, শোষিতের পক্ষে রয়েছি। যে কথা জাতিসংঘে ১৯৭৪ সালে জাতির পিতা তাঁর প্রথম বাংলায় প্রদত্ত ভাষণে বলেন- ‘বিশ্ব আজ দু’ভাগে বিভক্ত শোষক আর শোষিত, আমি শোষিতের পক্ষে।’ দেশে একটা মানুষও না খেয়ে কষ্ট পাবে না, কেউ আর গৃহহীন থাকবে না, আমরা একটি টিনের ঘর হলেও তাদের করে দেবো। তাছাড়া দেশে এখন আর কুঁড়ে ঘর দেখতে পাওয়া যায়না এবং দেশে ২ লাখ ৮০ হাজার গৃহহীনকে ঘর করে দেয়ার প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের কর্মসূচি শুধু শহরভিত্তিক নয়, তৃণমূল পর্যায়েও কর্মসূচির বাস্তবায়ন চলছে। আমাদের লক্ষ্যই হচ্ছে গ্রামের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন এবং সেটাই আমরা করছি। তিনি বলেন, দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা বর্তমানের প্রায় ১৮ হাজার মেগাওয়াট থেকে বাড়িয়ে আগামী ২০২১ সালের মধ্যে তাঁর সরকার ২০ হাজার মেগাওয়াট করার উদ্যোগ নিয়েছে এবং জাতির পিতার ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন প্রায় পূরণের পথে রয়েছে। দেশ আজ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছে। উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে বিশ্বে স্বীকৃতি পেয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইনশাল্লাহ বাংলাদেশের এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে।বাসস

জাতীয় পাতার আরো খবর