বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে নবনিযুক্ত ১৮ বিচারপতির শ্রদ্ধা
অনলাইন ডেস্ক :বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্ট ও হাইকোর্টের নবনিযুক্ত ১৮ জন বিচারপতি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। শুক্রবার (৬ জুলাই) দুপুরে বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধের বেদিতে তারা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের নিহত সদস্যদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন। সুপ্রীম কোর্ট ও হাই কোর্টের নবনিযুক্ত বিচারপতিগণ হলেন, মো. আবু আহমেদ জমাদার, এ এস এম আব্দুল মোবিন, মো. মোস্তাফিজুর রহমান, ফাতেমা নজীব, মো. কামরুল হোসেন মোল্যা, এস এম কুদ্দুস জামান, মো. আতোয়ার রহমান, বিজির হায়াত, শশাংক শেখর সরকার, মোহাম্মদ আলী, মহি উদ্দিন শামীম, মো. রিয়াজ উদ্দিন খান, মো. খায়রুল আলম, এস এম মনিরুজ্জামান, আহমেদ সোহেল, সরদার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীর, খোন্দকার দিলীরুজ্জামান ও ড. কে এম হাফিজুল আলম। এ সময় গোপালগঞ্জ জেলা আদালতের জেলা ও দায়রা জজ মো. দলিল উদ্দিন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোখলেসুর রহমান সরকার, পুলিশ সুপার মুহাম্মদ সাইদুর রহমান খান ও আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।
কোটা নিয়ে সহিংস পরিস্থিতি সৃষ্টি করার চেষ্টা হচ্ছে
অনলাইন ডেস্ক :সংসদে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কথা দেওয়ার পরও কোটা নিয়ে সহিংস পরিস্থিতি সৃষ্টি করার চেষ্টা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ-বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক। শুক্রবার (৬ জুলাই) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার মনিয়ন্দ উচ্চ বিদ্যালয়ের নবনির্মিত একাডেমিক ভবন উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের কাছে এমন মন্তব্য করেন তিনি। আনিসুল হক বলেন, প্রধানমন্ত্রী কথা দিয়েছেন কোটা পদ্ধতির সংস্কার করা হবে। তিনি যা বলেন তাই করেন। আর বিএনপি-জামায়াত কুচক্রী মহল রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া হওয়ার পর দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে বন্ধ রাখার জন্য এ বিষয়টিকে ইস্যু করে গন্ডগোল বাঁধানোর চেষ্টা করছে। ওই অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ শামছুজ্জামান, আখাউড়া পৌরসভার মেয়র তাকজিল খলিফা কাজল, উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক জয়নাল আবেদীনসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
চিকিৎসকের অবহেলাতেই রাইফার মৃত্যু,তিন চিকিৎসকের শাস্তির সুপারিশ
অনলাইন ডেস্ক :চিকিৎসক ও ম্যাক্স হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলাতেই চট্টগ্রামে আড়াই বছর বয়সী শিশু রাইফার মৃত্যু হয়েছে বলে সরকারি তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অবহেলার দায়ে শিশুর মৃত্যুর সঙ্গে সম্পৃক্ত তিন চিকিৎসকের যথাযথ শাস্তির সুপারিশ করা হয়েছে।চট্টগ্রামের সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে শিশু বিশেষজ্ঞ নিয়ে গঠিত তদন্ত কমিটি পাঁচ দিন তদন্তের পর এই তদন্ত প্রতিবেদন দেন।শুক্রবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেন চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতারা।তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক হাসান ফেরদৌস বলেন, ম্যাক্স হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসকদের অবহেলাতেই আমাদের সহকর্মী দৈনিক সমকালের চট্টগ্রাম ব্যুরোর সিনিয়র রিপোর্টার রুবেল খানের মেয়ে রাইফার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. আজিজুর রহমান সিদ্দিকীর নেতৃত্বে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, রাইফার মৃত্যুর পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে রাইফার বাবা-মা যে অভিযোগ করেছিলেন তার সত্যতা পাওয়া গেছে। রাইফা হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর থেকে তার রোগ নির্ণয় ও ওষুধ প্রয়োগ যথাযথ থাকলেও সে যখন খিঁচুনিতে আক্রান্ত হয় তখন চিকিৎসকের অনভিজ্ঞতা ও আন্তরিকতার অভাব পরিলক্ষিত হয়। জটিল পরিস্থিতি মোকাবিলার দক্ষতা ও জ্ঞান তাদের ছিল না। ম্যাক্স হাসপাতালে জরুরি বিভাগে ভর্তি ও চিকিৎসা শুরুর প্রতিটি ক্ষেত্রে রাইফার অভিভাবকদের ভোগান্তি ছিল চরমে। শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. বিধান রায় শিশুটিকে যথেষ্ট সময় ও মনোযোগ দিয়ে দেখেননি। রোগ জটিলতায় বিপদকালীন সময়ে আন্তরিকতার সঙ্গে সেবা প্রদান করেননি বলে রাইফার বাবা-মা যে অভিযোগ করেছেন তা সত্য বলে প্রতীয়মান হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ম্যাক্স হাসপাতালে ভোগান্তি অনেক প্রকট। চিকিৎসক ও নার্সদের সেবা প্রদানের সমন্বয় নেই। অদক্ষ নার্স ও অনভিজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগের ফলে এই হাসপাতালে কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসা সেবা পায় না রোগীরা। তদন্ত প্রতিবেদনে ম্যাক্স হাসপাতালে রাইফাকে চিকিৎসা প্রদানকারী শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. বিধান রায় চৌধুরীসহ চিকিৎসায় অবহেলার দায়ে তিনজন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয়। তদন্ত কমিটিতে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ছাড়াও অপর দুই সদস্য হলেন-চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান ডা. প্রণব কুমার চৌধুরী ও চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের যুগ্ম সম্পাদক সবুর শুভ। উল্লেখ্য, গেল ২৯ জুন চট্টগ্রামের অভিজাত ম্যাক্স হাসপাতালে সামান্য গলা ব্যথা নিয়ে ভর্তি হয়ে রাইফা খান চিকিৎসকদের অবহেলায় মারা যায়। এই ঘটনায় দোষী চিকিৎসকদের বিচার দাবিতে ধারাবাহিক আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন চট্টগ্রামের সাংবাদিকরা।আরটিভি অনলাইন
একের পর এক ভুল চিকিৎসা ও অবহেলায় রোগী মৃত্যু,বিচারের দৃষ্টান্ত স্থাপন হয়নি আজো
বিশেষ প্রতিনিধি :চট্টগ্রামের বেসরকারী হাসপাতালগুলোতে একের পর এক ভুল চিকিৎসা ও অবহেলায় রোগী মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনায় বিচারের প্রত্যাশায় কেউ কেউ আদালতের স্মরণাপন্ন হলেও রোগীদের জিম্মি করে চিকিৎসকদের কথিত আন্দোলনের মুখে বিচার প্রক্রিয়াও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। চিকিৎসকদের সংগঠনগুলোর এমন বেপরোয়া আচরণে ক্ষুব্ধ ভুক্তভোগীরা। আর মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন আইনের সঠিক প্রয়োগ আর বিচারের দৃষ্টান্ত স্থাপন না হওয়ায় বেসরকারী হাসপাতালগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।চট্টগ্রামের সিনিয়র সাংবাদিক রুবেল খানের আড়াই বছরের কন্যা রাইফা খান। ঠান্ডা থেকে সামান্য গলা ব্যাথার কারণে ভর্তি করেছিলেন নগরীর বিলাশবহুল হাসপাতাল ম্যাক্স-এ। কিন্তু দুই দিনেও শিশুটিকে ছুঁয়ে দেখেনি হাসপাতালের কোনো চিকিৎসক। মোবাইল ফোনে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে উচ্চ মাত্রার এন্টিবায়েটিক ও ঘুমের ওষুধ দেয় নার্স। আর এতেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে শিশুটি। এ ঘটনায় পুলিশ ওই হাসপাতালের ৩ জনকে আটক করে থানায় নিলেও বিএমএ নেতাদের হুমকির মুখে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়। এতে ক্ষুব্ধ শিশুটির অভিভাবক।২০১২ সালে পাইলসের চিকিৎসার জন্য নগরীর বেলভিউ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন সাংবাদিক আমিনুল মিঠু। চিকিৎসকরা তারা শরীরের ভেতর নিডেল রেখেই সেলাই করে দিয়েছিলেন। পরবর্তিতে দেশ-বিদেশে মিলে মোট ১৩ বার অস্ত্রপচারের পর প্রাণে বেঁচে গেলেও স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরেননি আজও। এ ঘটনার বিচার চেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করলেও বিএমএ নেতা ফয়সাল ইকবালের হুমকির মুখে নিজেরাই এখন নিরাপত্ত্বাহীন।সাংবাদিক আমিনুলের ঘটনায় দুই চিকিৎসককে গ্রেফতার করলে কথিত আন্দোলনের ডাক দেয় চিকিৎসকদের সংগঠন বিএমএ। এতে টানা ৫ দিন বন্ধ রাখা হয় চট্টগ্রামের সব বেসরকারি হাসপাতাল। এক পর্যায়ে আদালত চিকিৎসকদের অভিযোগ থেকে অব্যহতি দেয়। সাংবাদিক কন্যা রাইফার মৃত্যুর এক সপ্তার মধ্যেই ফরট্রিক্স হাসপাতালে চিকিৎসকের অবহেলায় মারা যায় ব্যবসায়ী লোকমান চৌধুরী। চট্টগ্রাম এমন ঘটনা ঘটছে অহরোহ। কয়েকটি ঘটনায় ভুক্তোভোগীরা আদালতের স্মরণাপন্ন হলেও বিচারের দৃষ্টান্ত স্থাপন হয়নি আজো।চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানাধীন বেসরকারি হাসপাতাল ফর্টিসে চিকিৎসকের অবহেলায় এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গতকাল মঙ্গলবার রাতে ঘটা এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে হাসপাতালে বিক্ষোভ ও ভাঙচুরের চেষ্টা করে নিহতের স্বজনরা। স্বজনরা জানায়, ব্যবসায়ী লোকমান চৌধুরী গত ২২ জুন ফুসফুসের ব্যথা নিয়ে ফর্টিস হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসকের পরামর্শে তখন থেকে তাঁকে অক্সিজেন মাস্ক পরিয়ে রাখা হয়। কিন্তু গতকাল রাতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক শিমুল কুমার ভৌমিক রোগীর সেই মাস্ক খুলে নেন। অক্সিজেন না পাওয়ায় রোগীর অবস্থার অবনতি হলে রাত ৯টার দিকে তিনি মারা যান। এ ব্যাপারে বারবার দৃষ্টি আকর্ষণ সত্ত্বেও চিকিৎসকরা যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি বলে দাবি মৃতের স্বজনদের। অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে রোগীর আত্মীয়স্বজন হাসপাতালে ভাঙচুরের চেষ্টা চালায়। হাসপাতালের চিকিৎসক বা কর্মচারী কাউকেই সে সময় আশপাশে দেখা যায়নি। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পাঁচলাইশ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোজাম্মেল হক জানান, রাত ৯টার দিকে লোকমান চৌধুরীর মৃত্যু হয়েছে। সাভারের আশুলিয়ার পল্লীবিদ্যুত এলাকায় মমতাজ হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় এক নারীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। আশুলিয়ার মমতাজ উদ্দিন জেনারেল হাসপাতালে বৃহস্পতিবার রাত একটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।নিহত নারীর নাম লাইলি বেগম (৩২)। তিনি আশুলিয়ার ডেন্ডাবর এলাকার আবুল কাসেমের স্ত্রী।ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত চিকিৎসক, নার্স ও আয়া পলাতক রয়েছেন।নিহতের স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে টনসিলজনিত সমস্যা নিয়ে লাইলি বেগমকে মমতাজ উদ্দিন জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাতে অপারেশন চলাকালে ওই রোগীর মৃত্যু হয়।ঘটনার পর ডাক্তার এবং হাসপাতাল পরিচালনা কমিটির কাউকেই পাওয়া যায়নি। এসময় নিহতের স্বজনরা আশুলিয়া থানা পুলিশে খবর দিলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুলিশ। আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুল আউয়াল বলেন, রাতে ভুল চিকিৎসায় রুগীর মৃত্যুর খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি।নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আশুলিয়া থানায় একটি মামলার প্রস্তুতি চলছে। তদন্তসাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিউজ একাত্তর ডট কম / ০৬.০৭.২০১৮
দেশের চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকবে
অনলাইন ডেস্ক :প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সুশৃঙ্খলভাবে চললে যে কোনো লক্ষ্য অর্জন করাই সম্ভব। বৃহস্পতিবার (৫ জুলাই) ঢাকা সেনানিবাসে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর)’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এক অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের যেমন অধীনস্তদের সুযোগ-সুবিধা দেখতে হবে, তেমনি অধীনস্তরাও যেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশ মেনে শৃঙ্খলা বজায় রেখে কাজ করে- সেটাই আমি আশা করি। আমি বিশ্বাস করি সুশৃঙ্খলভাবে চললে যে কোনো লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কর্মরত পিজিআর সদস্যদের জন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে সব সময় দোয়া করেন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি নামাজ পড়ে যখন নিজের ছেলে মেয়ের জন্য দোয়া করি, দেশবাসীর জন্য দোয়া করি, তেমনি আমার আশেপাশে যারা কাজ করে, নিজেদের জীবন দিয়ে আমাকে রক্ষা করতে হয়, তাদের জন্যও আমি সব সময় দোয়া করি আল্লাহর কাছে। শুধু আল্লাহর কাছে বলি, আমার জীবন গেলেও আমার আশেপাশে যারা তাদের জীবন যেন অক্ষয় থাকে, সে কামনা করি। পিজিআরের সুযোগ সুবিধা ও লোকবল বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশের উন্নয়নে তার সরকারের নেয়া নানা চেষ্টা ও উদ্যোগের বিষয় তুলে ধরেন। আমি মনে করি আপনারা একটি পরিবারেরই সদস্য। আপনাদেরকে আমি আমার পরিবার হিসেবেই মনে করি- উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। দেশের চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকবে, এমন আশা প্রকাশ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা বাংলাদেশকে উন্নীত সমৃদ্ধ করে, দারিদ্র্যমুক্ত করে গড়ে তুলতে চাই। ইতিমধ্যে দারিদ্যের হার আমরা ২২ ভাগে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি। এই ধারাটা অব্যাহত থাকবে। মানবসম্পদ আমাদের বড় সম্পদ। এই সম্পদকে কাজে লাগিয়েই আমরা বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে যাচ্ছি। তিনি বলেন, আজকে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। সেই সাথে সাথে আমরা উন্নয়ন বরাদ্দটাও বৃদ্ধি করেছি। আমাদের গ্রামে প্রতিটি মানুষ যেন এর সুফলটা পায়, সেই প্রচেষ্টাই আমরা চালাচ্ছি। আমাদের আয় বৈষম্য দূর হয়েছে। গ্রামে অর্থ সংকুলান হচ্ছে, গ্রামের মানুষেরও ভাগ্য পরিবর্তন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ আমরা পৌঁছে দিচ্ছি। আজকে প্রায় ৯৩ ভাগ মানুষ বিদ্যুৎ পাচ্ছে, বাকিটুকুও আমরা করে দিতে পারব। শিক্ষদীক্ষা সব দিক থেকেই আমরা ব্যবস্থা করে দিচ্ছি। লক্ষ্যটাই আমার ছিল আমার দেশকে উন্নত করতে হবে, জনগণের জীবন মান উন্নত করতে হবে, তাদের সমস্যাটির সমাধান করতে হবে। একটি মানুষও গৃহহারা থাকবে না, একটি মানুষও অভুক্ত থাকবে না। প্রতিটি মানুষই সুন্দরভাবে বাঁচবে। আর সেই সাথে আমাদের সব শ্রেণি লেখাপড়া শিখে উন্নত হবে। আধুনিক প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন হবে। তিনি বলেন, আমরা চাই, দেশে যে অর্থনৈতিক গতিশীলতা তৈরি হয়েছে, সেটা যেন অব্যাহত থাকে, আমরা যেন এগিয়ে যেতে পারি। বাংলাদেশে এখন সব দিক থেকে এগিয়ে যাচ্ছে এবং এগিয়ে যাওয়াটা যেন থেমে না যায়, এটা আমরা চাই। বাংলাদেশের জন্য আমরা একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ঠিক করেছি। ২০২০ সালে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী আমরা পালন করব। এই ২০২০ সালের মধ্যেই আমরা ক্ষুধা দারিদ্র্য হ্রাস করতে চাই। তিনি আরো বলেন, উন্নয়নশীল দেশে আমাদের যে উন্নতিটা ঘটেছে, সেটা আমাদের ধরে রাখতে হবে। সেই সাথে সাথে ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় একটি উন্নত, সমৃদ্ধ দেশ হবে, সেই পরিকল্পনা নিয়েই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। আমি সত্যিই আনন্দিত, আমাদের সকলে, প্রতিটা প্রতিষ্ঠানই নিজ নিজ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নে বিশাল অবদান রেখে যাচ্ছে। দেশের উন্নয়নে নিজের দর্শন তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেটুকু কাজ করেছি আন্তরিকতার সাথে, দেশকে ভালোবেসে, দেশের মানুষকে ভালোবেসে। কারণ আমার বাবা দেশের স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন, তার একটা স্বপ্ন ছিল বাংলাদেশ স্বাধীন দেশ হিসেবে মর্যাদাপূর্ণ হবে। সেই সাথে সাথে বাংলাদেশের মানুষগুলোও একটা মার্যাদা নিয়ে বিশ্বের দরবারে চলবে। এ সময় পদ্মাসেতু প্রকল্প নিয়ে চক্রান্তের বিষয়টিও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, একটা চ্যালেঞ্জ এসেছিল। আমার ওপর দোষারোপ করতে চেয়েছিল পদ্মাসেতুর দুর্নীতির কথা বলে। দুর্ভাগ্যবশত আমার দেশেরই একজন স্বমানধন্য মানুষ সামান্য ব্যাংকের এমডি পদ বয়সের কারণে হারিয়ে সে প্রতিশোধ নিয়েছিল পদ্মাসেতুর অর্থ বন্ধ করে দিয়ে ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের হয়ে। তিনি বলেন, এটাকে আমি চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছিলাম। কারণ দুর্নীতি করে নিজের ভাগ্য গড়তে আসিনি। এসেছি জনগণের ভাগ্য গড়তে। সেটা প্রমাণ হয়েছে, কোনো দুর্নীতি এখানে হয়নি। আমার সিদ্ধান্ত ছিল নিজেদের অর্থে পদ্মাসেতু করব। যেদিন পারব, সেদিনই করব। সেটা আমরা সফলতার সাথে করতে পারছি। আজকে পদ্মাসেতু দৃশ্যমান। আর এই একটা সিদ্ধান্তই কিন্তু সারা বিশ্বের বুকে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করে একটি সম্মানজনক অবস্থানে নিয়ে গেছে।
ই-ধূমপান প্রতিরোধে ব্যাপক জনসচেতনতা গড়ে তুলতে হবে
অনলাইন ডেস্ক :স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, তামাক নিয়ন্ত্রণে সরকার সুনির্দ্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। নতুন বাজেটেও তার প্রতিফলন রয়েছে। সরকারের এই কাজে সহযোগিতার জন্য বেসরকারী সংগঠনগুলোকে আরো সক্রিয় হতে হবে। বিশেষ করে ই-ধূমপান প্রতিরোধে ব্যাপক জনসচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। বৃহস্পতিবার বিকেলে বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট ও তামাক নিয়ন্ত্রণে কর্মরত সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ আহ্বান জানান। জাতীয় সংসদ ভবনস্থ স্পিকারের দপ্তরে আয়োজিত ওই সভায় অংশ নেন জোটের সমন্বয়কারী সাইফুদ্দিন আহমেদ, ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের অধ্যাপক রুমানা হক, আন্তর্জাতিক সংস্থা দি ইউনিয়নের কারিগরি পরামর্শক সৈয়দ মাহবুবুল আলম, সচেতন সংস্থার প্রতিনিধি জালাল উদ্দিন, সাংবাদিক নিখিল ভদ্র, পার্লামেন্ট নিউজের সাকিলা পারভীন এবং ডাব্লিউবিবি ট্রাস্টের সৈয়দা অনন্যা রহমান ও সৈয়দ সাইফুল আলাম শোভন। সভায় স্পিকার বলেন, বর্তমান সরকার সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারাবদ্ধ। তাই জনসাধারণের স্বাস্থ্য ঝুঁকি মোকাবেলায় আন্তরিকতার সাথে কাজ করে যাচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে সরকার ইতোমধ্যে জনস্বাস্থ্য উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন প্রণয়ন করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে তামাকমুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন। এছাড়াও এসডিজি’র লক্ষ্য অর্জনে ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোবাকো কন্ট্রোল (এফসিটিসি) বাস্তবায়নকে একটি টার্গেট হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। ওই লক্ষ্য অর্জনে সকলকে একসাথে কাজ করার আহবান জানান তিনি। ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, সুস্থ্য জাতি গঠনে সরকার ২০১৮-১৯ অর্থবছরে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তামাক বিরোধী কার্যক্রম পরিচালনায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুকূলে নয় কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে। যা তামাক বিরোধী কার্যক্রমে ব্যয় হবে। তিনি আরো বলেন, সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ এলাকায় তামাকজাত দ্রব্যের কুফল সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। তাই তামাক বিরোধী প্রচারণায় সংসদ সদস্যদের সম্পৃক্ত করার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন তিনি। এসময় বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোটের সমন্বয়কারী সাইফুদ্দিন আহমেদ তামাক বিরোধী ক্যাম্পেইনে তাদের কার্যক্রম তুলে ধরেন। তিনি জানান, সরকারী ও বেসরকারী পর্যায়ে সভা-সেমিনার আয়োজনের মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধির কাজ চলছে। তবে তামাকজাত পণ্য নিয়ন্ত্রণে আগামী সংসদ নির্বাচনে প্রতিটি দলের নির্বাচনী ইশতেহারে একটি সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার থাকা প্রয়োজন। এসময় তাঁরা বাংলাদেশকে তামাক মুক্ত করার জন্য কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ, তামাক পণ্য ব্যবহারের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, সংসদ সদস্যদের তামাক বিরোধী প্রচারনায় সম্পৃক্তকরণসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
হিজড়াদের পুর্নবাসনের জন্য কর্মসুচির আওতায় নিয়ে আসতে হবে
অনলাইন ডেস্ক :হিজড়াদের জোর করে টাকা আদায় এবং দৌরাত্ব বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। বৃহস্পতিবার সংরক্ষিত মহিলা এমপি কাজী রোজী ও নুর জাহান বেগমের পৃথক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে সমাজকল্যান মন্ত্রীর পক্ষে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়ের আহমেদ বক্তব্য দানকালে এ আহ্বান জানান। স্পিকার ড. শিরিন শারমীন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বিকালে এ অধিবেশন শুরু হয়। বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, এ ধরণের কোনো ঘটনা যাতে না ঘটে সে জন্য আমি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীকে বলবো তারা যেনো এ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেন। পাশাপাশি ওই সম্প্রদায়কে এ ধরণের ঘটনা থেকে বিরত রাখতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার সমাজের অসহায় মানুষদের সাহয্যে ও পুর্নবাসনের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। হিজড়াদের জন্যও কর্মসুচি নেওয়া হয়েছে। তবে, রাস্তায় হিজড়ারা টাকা দাবি করে এটা আমার জানা নেই। তবে হিজড়াও মানুষ তাদের সহযোগীতার জন্য আমাদের সবাইকে হাত বাড়িয়ে দেওয়া উচিত। প্রত্যেক সংসদকে দেখতে হবে তাদের এলাকায় কোনো হিজড়া পুর্নবাসন কর্মসুচির আওতার বাইরে থাকলে তাদেরকে পুর্নবাসনের জন্য কর্মসুচির আওতায় নিয়ে আসতে হবে। সংরক্ষিত মহিলা এমপি ফজিলাতুন্নেছা বাপ্পির প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, হিজড়াদের মুল ধারায় নিয়ে আসার জন্য সরকারের পরিকল্পনা আছে। সে অনুয়ায়ি পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে। তাদেরকে কর্মসূচির আওতায় নিয়ে আসা হলে আবার অনেকে চলে যায়। তারা যাতে চলে না যায় সে জন্য কাউন্সিলিংয়ের ব্যবস্থা করা উচিত। দেশে সরকারী ৫ টি বৃদ্ধাশ্রম ও ৮৫ টি শিশু পরিবার এমপি সাধন চন্দ্র মজুমদারের লিখিত প্রশ্নের জবাবে সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়াধীন সমাজসেবা অধিদপ্তরের আওতায় সারা দেশে বৃদ্ধাশ্রমের (শান্তি নিবাস) সংখ্যা ৬টি। প্রতিটি বৃদ্ধাশ্রমে ৫০ জন করে মোট ৩০০ জন প্রবীণ ব্যক্তির থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। এগুলোর অবস্থান যথাক্রমে- ঢাকা (ফরিদপুর), খুলনা (বাগেরহাট), চট্টগ্রাম, সিলেট, বরিশাল এবং রাজশাহী জেলায়। মেনন জানান, সমাজসেবা অধিদপ্তরের আওতায় সারা দেশে ৮৫ টি শিশু পরিবার রয়েছে, যার প্রতিটিতে ১০ জন করে প্রবীণ ব্যক্তির থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। এর মধ্যে নওগাঁ সরকারী শিশু পরিবারটি বালিকাদের জন্য। এমপি বজলুল হক হারুনের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, সমাজ সেবা অধিদপ্তরের অধীনে পরিচালিত ৮৫ টি শিশু পরিবারে ১০ হাজার ৩০০ জন এতিম ও অনাথ শিশু অধিকার সুরক্ষা ও আদর যত্নে লালন-পালনসহ তাদের সাধারণ শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, প্রশিক্ষণ, চিত্ত বিনোদন এবং পূনবাসনের ব্যবস্থা রয়েছে। এমপি মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে মেনন জানান, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে ‘প্রতিবন্ধীতা সম্পর্কিত সমন্বিত বিশেষ শিক্ষা নীতিমালা-২০০৯’ এর আওতায় বর্তমানে সারা দেশে ৬২ টি বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী স্কুল চালু করা হয়েছে। এছাড়া ২০১১ সালে ফাউন্ডেশন ক্যাম্পাসে একটি সম্পূর্ণ অবৈতনিক স্পেশাল স্কুল ফর চিলড্রেন উইথ অটিজম চালু করা হয়। পরবর্তিতে ঢাকার মিরপুরে, লালবাগ, উত্তরা ও যাত্রাবাড়ী এবং রাজশাহী, খুলনা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, রংপুর ও সিলেট এবং গাইবান্ধা জেলায় ১ টি সহ মোট ১১ টি স্পেশাল স্কুল ফর চিলড্রেন উইথ অর্টিজম চলমান রয়েছে।
ঈশ্বরদী-পাবনা রুটে ট্রেন চলাচল শুরু হচ্ছে
অনলাইন ডেস্ক :আগামী ১৪ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে ঈশ্বরদী-পাবনা রুটে অবশেষে ট্রেন চলাচল শুরু হচ্ছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর নেয়া এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মধ্য দিযে পাবনাবাসীর দীর্ঘদিনের ট্রেন চলাচলের স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে। ১৪ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকালে রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের পারমাণবিক চুল্লি বসানোর কাজের অর্থাৎ ফাস্ট কংক্রিট পোরিং ডেট বা এফসিডি কাজের উদ্বোধন করতে পাবনার ঈশ্বরদীতে যাবেন। পরে পাবনা পুলিশ লাইন মাঠে দুপুর ২টার দিকে জনসভার পূর্বে পাবনার বিভিন্ন উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এখানেই ঈশ্বরদী-পাবনা রুটে রেলপথের উদ্বোধন করবেন। বৃহস্পতিবার পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আসাদুল হক ঈশ্বরদী-পাবনা রেলপথ উদ্বোধনের বিষযটি নিশ্চিত করেছেন। পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় নবাগত ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) নাজমুল ইসলাম জানান, ঈশ্বরদীর মাঝগ্রাম হতে ঢালারচর পর্যন্ত নতুন রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় নবনির্মিত ঈশ্বরদী-পাবনা রেল সেকশনে ২৫ কিলোমিটারে রেলপথের নির্মাণ প্রক্রিয়া, সেতু-কালভার্ট নির্মাণ, রেলগেট, রেলক্রসিং, ট্রেন চলাচলের সিগন্যাল ব্যবস্থা সম্পূর্ণ প্রস্তুত। মোট ৭৮ কিলোমিটার নতুন রেললাইন। অবশিষ্ঠ ৫৩ কিলোমিটার দ্বিতীয় ধাপে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে শেষ হবে । পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে প্রকৌশলী (ডিএন-২) আরিফ আহমেদ জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফলক উন্মোচন করে উদ্বোধনের পর প্রথম ট্রেনটি পাবনা এক্সপ্রেস নামে চলবে। উদ্বোধনের সময় ইঞ্জিনসহ ৬টি বগি নিয়ে পাবনা হতে ঈশ্বরদী পর্যন্ত চলাচল করবে। এছাড়াও পরবর্তীতে পাবনা-রাজশাহীর মধ্যে চলাচল করবে।
রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বিরাট বোঝার সৃাষ্টি করছে
অনলাইন ডেস্ক :প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের (ইইউ) নতুন রাষ্ট্রদূতকে বলেছেন যে, চলতি বছরের শেষের দিকে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রক্ষমতা ক্যান্টনমেন্টে অবরুদ্ধ থাকার সময় আওয়ামী লীগকে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকারের সুরক্ষায় আন্দোলন করতে হয়েছে। ইইউ’র নতুন রাষ্ট্রদূত রেন্সজে তিরিঙ্ক আজ প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎকালে শেখ হাসিনা এ কথা বলেন। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম বলেন, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে ইইউ প্রতিনিধির আশাবাদের প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী এই আশ্বাস দেন। বৈঠকে বিদ্যমান পারস্পরিক হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্কে সন্তোষ প্রকাশ করা হয়। শেখ হাসিনা নির্বাচন কমিশন এবং স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সের ব্যবস্থা ও ছবিসহ ভোটার তালিকা তৈরি করতে সহায়তার জন্য ইইউকে ধন্যবাদ জানান। প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে বলেন, সরকার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বিশেষ পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে এবং পূর্ব নির্ধারিত লক্ষ্যেই সব উন্নয়ন কর্মকান্ড বাস্তবায়িত হচ্ছে। তাঁর প্রথম মেয়াদে ইইউ সদর দপ্তর পরিদর্শনের কথা স্মরণ করে বাংলাদেশকে ইইউ’র অব্যাহত সমর্থনের প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বিরাট বোঝার সৃাষ্টি করছে। তাদের নিরাপদ আশ্রয়, খাদ্য ও স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে প্রশাসন, পুলিশ ও সেনাবাহিনী, বিজিবিসহ অন্যান্য সংস্থাগুলো নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করছে। তিনি বলেন, বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা স্থানীয় জনসাধারণের চাষের জমি দখল করেছে। এতে স্থানীয়দের অর্থনৈতিক সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।প্রধানমন্ত্রী শরণার্থী ইস্যুতে ইইউ’র ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, এই সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ প্রতিবেশী মিয়ানমার ও মিয়ানমারের অন্যান্য সীমান্তবর্তী দেশের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। বর্তমান সরকারে আমলে গার্মেন্ট শিল্পের শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি প্রদানের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, গার্মেন্ট শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির জন্য তিনি (প্রধানমন্ত্রী) নিজে মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তিনি বলেন, মিল-কারখানায় সংকট তৈরিতে বাইরের অপেশাদার কায়েমী স্বার্থান্বেষী মহলের অপতৎপরতা সত্ত্বেও এ খাতের উন্নয়নে গার্মেন্ট শ্রমিকরা সুন্দরভাবে কাজ করে যাচ্ছে। শেখ হাসিনা গার্মেন্টস পণ্যে মূল্য নির্ধারণে বায়ারদের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এতে ইইউ রাষ্ট্রদূতও সম্মতি জানান। ইইউ দূত অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণসহ বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশের বিশাল অর্জনের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন ৩ হাজার মেগাওয়াট থেকে ১৮ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত হওয়ায় একটি অসাধারণ সাফল্য। রাষ্ট্রদূত রোহিঙ্গাদের জন্য সহায়তা বৃদ্ধি ও অতিরিক্ত সহায়তা হিসেবে ৩০ মিলিয়ন ইউরো প্রদান এবং রোহিঙ্গাদের ওপর নিষ্ঠুর অভিযান পরিচালনার দায়ে মিয়ানমারের ৭ জন জেনারেলের ওপর ব্যবস্থা গ্রহণের কথা উল্লেখ করেন। তিরিঙ্কস আশা প্রকাশ করেন যে, জাতিসংঘ মহাসচিবের সফর রোহিঙ্গাদের প্রতি আরো জোরালো আন্তর্জাতিক সমর্থনে সহায়তা করবে। তিনি বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অব্যাহত সহযোগিতার আশ্বাস দেন। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান ও সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া মুহাম্মাদ জয়নুল আবেদিন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।বাসস

জাতীয় পাতার আরো খবর