কোটার অগ্রগতি নেই, প্রধানমন্ত্রীও কিছু বলেননি
মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেছেন, সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিল বিষয়ে নতুন করে কোনো আলোচনা হয়নি। এ নিয়ে কোনো অগ্রগতিও নেই, আগের অবস্থাতেই আছে। সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন। তবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন,আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে বলেছি- আগে যে কমিটি হয়েছিল, সেটি কিভাবে আগামীতে রোল প্লে করবে তার বিস্তারিত জানাতে। তিনি বলেন,কমিটি বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি হবে। সেটা আমাদের কাছে আসলে আমরা ব্যবস্থা নিতে পারব এবং কমিটি নিয়ে বসব। কমিটি গঠন নিয়ে কোনো টাইমফ্রেম নির্ধারণ করেছেন কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে শফিউল আলম বলেন,এ বিষয়ে কোনো টাইমফ্রেম নির্ধারণ করা হয়নি। আশা করছি দ্রুতই হবে। প্রধানমন্ত্রী অনেক দিন বিদেশে ছিলেন। এজন্য কাজ বেশি এগোয়নি। উনি এসেছেন, দেখা যাক কী হয়। প্রধানমন্ত্রী কোনো দিক-নির্দেশনা দিয়েছেন কি না এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, না, সংস্কার কিংবা বাতিল কোনো বিষয়েই প্রধানমন্ত্রী আমাদের এখন পর্যন্ত কোনো নির্দেশনা দেননি। তবে কমিটি গঠন হলে, বৈঠক হলে এ বিষয়ে আরও অগ্রগতি হবে। কোটা সংস্কার দাবিতে গত মাসের শুরুতে রাজধানীসহ সারাদেশে আন্দোলন জোরদার হলে একপর্যায়ে ১১ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী সংসদে কোটা পদ্ধতি বাতিলের ঘোষণা দেন। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন না হওয়ায় বিষয়টি অস্পষ্টই রয়ে গেছে। তবে কয়েকটি দেশ সফর শেষে সর্বশেষ সংবাদ সম্মেলনেও প্রধানমন্ত্রী পুরো কোটা বাতিলে তার আগের অবস্থানই ব্যক্ত করেছেন।
দুদকে গাজীপুরের দুই ব্যবসায়ীকে জিজ্ঞাসাবাদ
গাজীপুরে সরকারি জায়গা-জমি দখল করে রিসোর্ট ও বাগান বাড়ি করার অভিযোগে দুই ব্যবসায়ীকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সোমবার সকাল ১১টা থেকে সেগুনবাগিচায় দুদকের কার্যালয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এর আগে গত ২৬ এপ্রিল দুদকের উপ-পরিচালক মো. আহমার উজ্জামানের সই করা নোটিসে তিন রিসোর্ট ব্যবসায়ীকে আজ তলব করা হয়েছিল। তিন ব্যবসায়ীর মধ্যে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার রাঙ্গামাটিয়ার ওয়াটার ফ্রন্ট রিসোর্ট এর মালিক রফিকুল ইসলাম ও গাজীপুর সদরের আরণ্য বাংলা বাড়ির মালিক সোহেল আহমেদ হাজির হয়েছেন। তবে কালামপুর এলাকার সোহাগ পল্লী পিকনিক স্পট এর মালিক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল জলিল আসেননি। দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য জানান, তিন ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে সরকারি সম্পত্তি দখল করা ছাড়াও অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধান করা হচ্ছে। সম্প্রতি এসব রিসোর্ট ও বাগানবাড়ির মালিকদের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ পেয়ে যাচাই-বাছাই শেষে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত দেয় দুদক। কমিশনের উপ-পরিচালক আহমার উজ্জামানকে অনুসন্ধান কর্মকর্তা নিয়োগ করেছে দুদক।
১০ মে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ
কয়েক দফা পেছানোর পর আগামী ১০ মে মহাকাশে যাচ্ছে বাংলাদেশের প্রথম যোগাযোগ স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১। ওইদিন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরাল লঞ্চ প্যাড থেকে স্থানীয় সময় বিকেল চারটায় এটি উৎক্ষেপণ করা হবে। বেসরকারি মার্কিন মহাকাশ অনুসন্ধান ও স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণকারী প্রতিষ্ঠান স্পেস এক্সের বরাতে এসব তথ্য জানিয়েছেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ। টেলিফোনে তিনি পরিবর্তন ডটকমকে বলেন,স্পেস এক্স থেকে ১০ মে তারিখ নিশ্চিত করে বিটিআরসিকে বার্তা দিয়েছে। বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটটি ওইদিন স্থানীয় সময় বিকেল চারটায় (বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী ১১ মে দিনগত রাত তিনটা) উৎক্ষেপণ করা হবে। এখন পর্যন্ত এটাই সর্বশেষ তারিখ। এর আগে গত শুক্রবার স্পেস এক্স বঙ্গবন্ধু-১ এর রকেটের প্রাক-উৎক্ষেপণ পরীক্ষা (ফায়ার স্ট্যাটিক টেস্ট) চালায়। পরে শনিবার স্পেস এক্স টুইটারে এ পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানায়। বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের মূল অবকাঠামো তৈরি করেছে ফ্রান্সের থ্যালেস অ্যালেনিয়া স্পেস। গত ৩০ মার্চ বিশেষ উড়োজাহাজে করে এটি ফ্রান্স থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরাল লঞ্চ প্যাডে নেয়া হয়। বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট খরচ হচ্ছে ২ হাজার ৭৬৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১ হাজার ৩৫৮ কোটি টাকা ঋণ হিসেবে দিচ্ছে বহুজাতিক ব্যাংক এইচএসবিসি। বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগের জন্য তৈরি এ স্যাটেলাইটের মোট ৪০টি ট্রান্সপন্ডার থাকবে। এর মধ্যে ২০টি ট্রান্সপন্ডার বাংলাদেশের জন্য আর বাকি ২০টি বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রির জন্য রাখা হবে। সফলভাবে মহাকাশে গেলে বিশ্বের ৫৭তম দেশ হিসেবে নিজস্ব স্যাটেলাইটের মালিক হবে বাংলাদেশ। মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের অবস্থান হবে ১১৯ দশমিক ১ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে। স্যাটেলাইটটির গ্রাউন্ড স্টেশন তৈরি করা হয়েছে গাজীপুরের জয়দেবপুর ও রাঙামাটির বেতবুনিয়ায়।
বাচ্চু দুদকে না আসায় ১৫ মে ফের তলব
অবৈধ সম্পদের বিষয়ে বেসিক ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ আবদুল হাই বাচ্চু দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তলবে সোমবার হাজির হননি। তিনি সকাল ১০টার দিকে দুদকের সেগুনবাগিচা কার্যালয়ে লোক মারফত চিঠি পাঠিয়ে সময় আবেদন করেন। সময় মঞ্জুর করে বাচ্চুকে আগামী ১৫ মে দুদক কার্যালয়ে হাজির থাকতে বলা হয়েছে। দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য পরিবর্তন ডটকমকে এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন,সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন এবং অর্থ পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে বেসিক ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ আবদুল হাই বাচ্চুকে সোমবার জেরার জন্য তলব করা হয়েছিল। কিন্তু, তিনি না এসে চিঠি দিয়ে দুই মাসের সময় আবেদন করেছেন। তাকে এক সপ্তাহ সময় দিয়ে ১৫ মে হাজির থাকতে বলা হয়েছে। দুদকের পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেনের তত্ত্বাবধানে অভিযোগগুলোর বিষয়ে বাচ্চুকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এর আগে বেসিক ব্যাংকের ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনায় গতবছরের ৪ ও ৬ ডিসেম্বর এবং চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি ও ৫ মার্চ- চার দফায় দুদক তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এ সময় ২৪টি মামলার বিষয়ে বাচ্চু তদন্ত কর্মকর্তাদের কাছে নিজের বক্তব্য পেশ করেন। বেসিক ব্যাংকের ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনায় ২০১৫ সালের শেষ দিকে রাজধানীর মতিঝিল, পল্টন ও গুলশান থানায় ১৫৬ জনকে আসামি করে ৫৬টি মামলা করে দুদক। এসব মামলায় বেসিক ব্যাংকের ২৭ কর্মকর্তা, ১১ জরিপকারী এবং ৮১ ঋণ গ্রহণকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানসহ ১২৯ জনকে আসামি করা হয়। এরপর বংশাল ও মতিঝিল থানায় আরও দুটি মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায় ২ হাজার ৬৫ কোটি টাকা অনিয়মের মাধ্যমে ঋণ দেয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। বেসিক ব্যাংক ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনায় এ পর্যন্ত ৬২টি মামলা করেছে দুদক। তবে কোনো মামলাতেই আবদুল হাই বাচ্চুকে আসামি করা হয়নি। প্রসঙ্গত, ২০০৯ সালে বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে বাচ্চুকে নিয়োগ দেয় সরকার। ২০১২ সালে তার নিয়োগ নবায়ন হয়। কিন্তু, ২০১৪ সালে ঋণ কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠলে চাপের মুখে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেন তিনি। বাংলাদেশ ব্যাংক তখন অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে অভিযোগ করেছিল, বাচ্চুর নেতৃত্বেই ব্যাংকের সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকার ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনা ঘটেছে।
কারিগরি সহযোগিতা দেবে অস্ট্রেলিয়া বিদ্যুৎ উন্নয়নে
দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে দক্ষ জনশক্তি তৈরির জন্য অস্ট্রেলিয়ার কাছে কারিগরি সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের আবেদনের প্রেক্ষিতে তাৎক্ষণিকভাবে সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। রোববার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত এক কর্মশালায় পারস্পরিক এ আবেদন ও আশ্বাস বিনিময় হয়। অস্ট্রেলিয়ার মনাস ইউনিভার্সিটি এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় যৌথভাবে এই কর্মশালার আয়োজন করে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, আমাদের নিজস্ব সক্ষমতায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের উন্নয়নে সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাচ্ছি। তারপরও উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন প্রযুক্তিগত সহযোগিতায় অস্ট্রেলিয়াকে আমরা পাশে চাই। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে আমরা এক হাজারের বেশি টেকনিশিয়ানকে প্রশিক্ষণ দিয়েছি। আমাদের তরুণ প্রজন্মকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিষয়ে আরও বেশি শিক্ষিত ও সচেতন করে তুলতে চাই। এক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতা প্রয়োজন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ খাতের উন্নয়নে সরকার নানা পরিকল্পনা করেছে। এজন্য দক্ষ মানবসম্পদ প্রয়োজন। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এই মানবসম্পদ গড়ে তুলতে হবে। বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার রাষ্ট্রদূত জুলিয়া নিবলেট বলেন,অস্ট্রেলিয়া সর্বোচ্চ কয়লা রপ্তানিকারক দেশ। বাংলাদেশে কয়লা ও এলএনজি পণ্য ব্যবহার হচ্ছে। বাংলাদেশের ধারাবাহিক উন্নয়নের জন্য বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের উন্নয়ন প্রয়োজন। তিনি বলেন, এক্ষেত্রে উদ্ভাবনী ও প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা প্রয়োজন। অস্ট্রেলিয়া এ খাতে উদ্ভাবনী শক্তি প্রয়োগ করছে। এসময় তিনি বাংলাদেশকে জ্বালানি খাতে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। কর্মশালায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক প্রকৌশলী মোহাম্মদ হোসাইন, মনাস অ্যান্ড দ্য বাংলাদেশ প্রকল্পের প্রফেসর জুলি উলফার্ম কক্স ও সেন্ট্রাল কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর স্কট বাউম্যান।
জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে এগিয়ে ছেলে,পাসে মেয়ে
মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষায় ৭৭ দশমিক ৭৭ শতাংশ পাস করেছে। আর জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার ৬২৯ জন। রোববার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে শিক্ষামন্ত্রী বিস্তারিত ফলাফল প্রকাশ করেন। এতে দেখা গেছে, ১০টি বোর্ডে ছাত্রদের তুলনায় ২ দশমিক ১৪ শতাংশ ছাত্রী বেশি পাস করেছে। তবে জিপিএ-৫ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছে ছাত্ররা। এবার ছাত্রী ৭৮ দশমিক ৮৫ এবং ছাত্র ৭৬ দশমিক ৭১ শতাংশ পাস করেছে। আর ৫৪ হাজার ৯২৮ ছাত্রী এবং ৫৫ হাজার ৭০১ ছাত্র জিপিএ-৫ পেয়েছে। গতবারের চেয়ে জিপিএ-৫ বেড়েছে ৫ হাজার ৮৬৮ জন। এবার পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ২০ লাখ ৩১ হাজার ৮৮৯ জন। গতবছর ১৭ লাখ ৮১ হাজার ৯৬২ জন পরীক্ষা দিয়েছিল। ফলাফলের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন,ফলাফলে এবার কিছু ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে সমভাবে মূল্যায়ন করা হয়। এজন্য আমরা খাতা পুনঃমূল্যায়নের ব্যবস্থা রেখেছি। এর ফলাফল পরীক্ষার মোট ফলের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি বলেন,শিক্ষার পরিবেশ মানসম্মত তৈরি করার চেষ্টা চলছে। মানসম্মত শিক্ষার জন্য শিক্ষকদের দেশি-বিদেশি প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। এবার আটটি সাধারণ বোর্ডে পাসের হার ৭৯ দশমিক ৪০ শতাংশ। ছেলেদের পাসের হার ৭৮ দশমিক ৪০ শতাংশ ও মেয়েদের ৮০ দশমিক ৩০ শতাংশ। উভয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ২ হাজার ৮৪৫ জন। অন্যদিকে, মাদ্রাসা বোর্ডে পাসের হার ৭০ দশমিক ৮৯। জিপিএ-৫ পেয়েছে ছেলেরা ১ হাজার ৯৮৮ ও মেয়েরা ১ হাজার ৩৮৩। মোট ৩ হাজার ৩৭১ জন। কারিগরি বোর্ডে পাসের হার ৭১ দশমিক ৯৬। জিপিএ-৫ পেয়েছে মেয়েরা ১ হাজার ৯১৪ জন ও ছেলেরা ২ হাজার ৪৯৯ জন। মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ হাজার ৪১৩। এবার ১০ বোর্ডের মধ্যে ৮টি সাধারণ বোর্ডে মাধ্যমিকে শীর্ষে রয়েছে রাজশাহী বোর্ড। এ বোর্ডে পাসের হার ৮৬ দশমিক ০৭ শতাংশ। যেখানে ছাত্রীদের পাসের হার ৭৮ দশমিক ০৮ শতাংশ এবং ছাত্র ৮৫ দশমিক ১৫। দ্বিতীয় অবস্থানে ঢাকা বোর্ড, পাসের হার ৮১ দশমিক ৪৮ শতাংশ। ছাত্র ৭৯ দশমিক ৭৯ ও ছাত্রী ৮৩ দশমিক ১০ শতাংশ। তৃতীয় কুমিল্লা বোর্ডে পাসের হার ৮০ দশমিক ৪০, ছাত্র ৮১ দশমিক ২৯ ও ছাত্রী ৭৯ দশমিক ৬৯ শতাংশ। চতুর্থ দিনাজপুরে পাসের হার ৭৭ দশমিক ৬২, ছাত্র ৭৫ দশমিক ৮১ ও ছাত্রী ৭৯ দশমিক ৫১। পঞ্চম অবস্থানে বরিশাল বোর্ড, পাসের হার ৭৭ দশমিক ১১, ছাত্র ৭৫ দশমিক ২৩ ও ছাত্রী ৭৯ দশমিক ০২, ষষ্ঠ অবস্থানে যশোর বোর্ডে ৭৬ দশমিক ৬৪, ছাত্র ৭৪ দশমিক ৪৪ ও ছাত্রী ৭৮ দশমিক ৮৭। সপ্তম চট্টগ্রাম বোর্ডে ৭৫ দশমিক ৫০, ছাত্র ৭৫ দশমিক ৮৬ ও ছাত্রী ৭৫ দশমিক ১৯, অষ্টম সিলেট বোর্ডে পাসের হার ৭০ দশমিক ৪২ শতাংশ। ছাত্র ৮১ দশমিক ৩৩, ছাত্রী ৭৯ দশমিক ৭১ শতাংশ। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আগে বিজ্ঞান, গণিত ও ইংরেজি বিষয়ে পাসের হার অনেক কম ছিল। আমরা এসব বিষয়ে শিক্ষকদের দক্ষতা ও অতিরিক্ত ক্লাসসহ নানা প্রচেষ্টার মাধ্যমে ফল ভালো করতে সক্ষম হয়েছি। অন্যদিকে, বিদেশি ৮টি কেন্দ্রে পাসের হার ৯৩ দশমিক ৭৮। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯০ জন। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলী, মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা সচিব মো. সোহরাব হোসাইন, কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের সচিব মো. আলমগীর, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. মাহাবুবুর রহমান, বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা প্রমুখ। ১০৯ প্রতিষ্ঠানে কেউ পাস করেনি এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১০৯টি। অর্থাৎ এসব প্রতিষ্ঠান থেকে কেউই পাস করতে পারেনি। ফলাফল প্রকাশ উপলক্ষ্যে সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ জানান, এ বছর শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১০৩টি, যা গত বছর ছিল ৯৩টি। তবে শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কমেছে বলে জানান তিনি। গত বছর শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ২ হাজার ২৬৬টি। এবার তা কমে দাড়িয়েছে ১ হাজার ৫৭৪ টি। যে কারণে পাসের হারে এগিয়ে কুমিল্লা বোর্ড পরপর দু বার এসএসসির ফল বিপর্যয়ের পর এবার সবচেয়ে ভাল ফল হয়েছে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে। এবার ১০টি শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৭৭ দশমিক ৭৭ শতাংশ। আর আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৭৯ দশমিক ৪০ শতাংশ। যেখানে কুমিল্লা বোর্ডে পাসের হার ৮০ দশমিক ৪০ শতাংশ। গতবছর কুমিল্লার পাসের হার ছিল ৫৯ দশমিক ০৩ শতাংশ। গত পাঁচ বছরে, অর্থাৎ ২০১৩ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে ২০১৭ সালেই পাসের হার সবচেয়ে কম ছিল। আর ২০১৬ সালে পাসের হার ছিল ৮৪ শতাংশ। কুমিল্লায় পাসের হার হঠাৎ বাড়ার বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন,কুমিল্লা বোর্ডের বিষয়টি উল্লেখযোগ্য। দেখেন আপনারাই কিন্তু বলেছিলেন গত দু বছরে তাদের ফলাফলে বিরাট ফারাকের কথা। আপনাদেরও তাগিদ ছিল এটা কেন হয়। এ বিষয়ে আমরা বোর্ডকে সজাগ করেছি। সার্বিকভাবে মন্ত্রণালয়, অধিদফতর এবং বোর্ডের সঙ্গে পরামর্শ করে আমরা একটা ব্যাপক প্রচেষ্টা হাতে নিয়েছি, যাতে ঘাটতিগুলো পূরণ করতে পারে। তিনি বলেন,দু বছর ধরে কনটিনিউয়াসলি এই ধারাবাহিকতা বজায় যেন থাকে, সে বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এসব কারণে হয়তো এবার সমতায় আসছে। হয়তো কেউ কম, কেউ একটু বেশি করেছে। তবে আগে যেমন কুমিল্লার বিষয়টি চোখে লাগতো। এবার সেটা হয়নি। এ বিষয়ে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কায়সার নিউজ একাত্তর ডটকম কে জানান, সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলেই এবার ভালো ফলাফল হয়েছে। বোর্ড এবং মন্ত্রণালয়ের যৌথ প্রচেষ্টার ফল আমরা পেয়েছি।
পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কমেছে শতভাগ
এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। রোববার সকালে আনুষ্ঠানিক ফলাফল প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। পরে দুপুরে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, এবার শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কমেছে ৬৯২টি। এবার মোট ১ হাজার ৫৩৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শতভাগ পাস করেছে। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এবার শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে ১৬টি। গতবছর ছিল ৯৩টি। এ বছর তা বেড়ে হয়েছে ১০৯টি। তিনি বলেন, জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা এ বছর বেড়েছে ৫ হাজার ৮৬৮ জন। নাহিদ জানান, সাধারণ ৮টি শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার কমেছে ১.৮১ শতাংশ। তবে গতবছরের তুলনায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইতিবাচক ফল এসেছে।
পাহাড়ে শান্তি বজায় থাকুক আমার চাওয়া
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কে বাঙালি, কে পাহাড়ি- আমার কাছে সেটি বিবেচ্য নয়। আমরা চাওয়া সারাদেশের মত পাহাড়েও শান্তি বজায় থাকুক। রোববার সকালে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলের অনুলিপি গ্রহণ করে বান্দরবান জেলা প্রশাসন ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কথা বলার সময় তিনি একথা বলেন। খবর: বাসস। শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানদের নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ ফলাফলের অনুলিপি তুলে দেন। এতে দেখা গেছে, এবার এসএসসি ও সমমানে ৭৭ দশমিক ৭৭ শতাংশ পরীক্ষার্থী পাস করেছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার ৬২৯ জন। গতবছর পাসের হার ছিল ৮০ দশমিক ৩৫। আর জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১ লাখ ৪ হাজার ৭৬১ জন। সেই হিসাবে এবার পাসের হার কমলেও জিপিএ-৫ বেড়েছে ৫ হাজার ৮৬৮ জন। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এবার পাসের হার কিছুটা কম। তবে এটি হতাশাজনক নয়। আমি ছাত্রছাত্রীদের বলব- এবার পাস করনি বলে হতাশ হওয়া চলবে না। আরও উৎসাহী হয়ে পড়াশোনায় মন দিতে হবে।’ তিনি অভিভাবক এবং শিক্ষকদেরও ছেলেমেয়েদের প্রতি আরও মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দেন। বলেন, ‘কেউ অকৃতকার্য হলে বকাঝকা দিয়ে লাভ নেই। তাদের অনুপ্রাণিত করতে হবে, তারা যেন ভবিষ্যতে ভালো করতে পারে।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘স্বল্পোন্নত থেকে আমরা উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছি। উন্নয়নের এই ধারা অব্যাহত রাখতে হলে নতুন প্রজন্মকে সঠিকভাবে গড়ে তুলতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘এবার ৭৭ দশমিক ৭৭ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে, এটি একটি সফলতা। আমি তাদের সবাইকে অভিনন্দন জানাই। যারা পাস করতে পারেনি, তাদেরও অভিনন্দন জানাই। যারা অকৃতকার্য হয়েছে, তারাও তো চেষ্টা করেছে।’ প্রধানমন্ত্রী বরিশাল ও বান্দবান জেলা প্রশাসন ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কথা বলা ছাড়াও দুটি জেলার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। বান্দরবান জেলার প্রতিনিধিদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের সময় শেখ হাসিনা বলেন, ‘পাহাড়ে শান্তিপূর্ণ অবস্থান বজায় রাখতে সবাইকে এক সঙ্গে কাজ করতে হবে। তাহলেই আমরা উন্নয়নের সুফল ভোগ করতে পারব। সরকার সারাদেশের মত পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়নের ব্যাপারে সজাগ রয়েছে।’ সুযোগ পেলে পার্বত্য অঞ্চলে ঘুরতে যাওয়ার কথাও বলেন তিনি। প্রসঙ্গত, বিগত দুই মাসে পার্বত্য জেলাগুলোতে হত্যা বেড়ে গেছে। এ সময়ে বিভিন্ন দলের অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছেন। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার রাঙ্গামাটির নানিয়ারচর উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা শক্তিমান চাকমাকে দুর্বৃত্তরা দিনে-দুপুরে গুলি করে হত্যা করে। পরের দিন শুক্রবার তার শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে যোগ দিতে খাগড়াছড়ি থেকে রাঙ্গামাটি যাওয়ার পথে গাড়িবহরে দুর্বৃত্তরা ব্রাশফায়ার করলে ঘটনাস্থলেই ইউপিডিএফ নেতা তপন জ্যোতি চাকমাসহ ৫ জন নিহত হন। এদিকে, বরিশাল জেলা প্রশাসন ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে বরিশালকে আবারও বাংলার শস্য ভাণ্ডার হিসেবে গড়ে তুলতে তার সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বরিশাল এক সময় বাংলার শস্য ভাণ্ডার ছিল, আবারও বরিশালকে বাংলার শস্য ভাণ্ডার হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
সিনহাকে ৪ কোটি টাকা দেয়া দু জনকে দুদকের জিজ্ঞাসাবাদ
ফারমার্স ব্যাংক থেকে ৪ কোটি টাকা উত্তোলন করে আত্মসাতের অভিযোগে দুই ব্যবসায়ীকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। রোববার সকাল ১০টা থেকে তাদের দুদকের সেগুনবাগিচা কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য পরিবর্তন ডটকমকে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন,ফারমার্স ব্যাংক থেকে ব্যবসায়ী নিরঞ্জন চন্দ্র সাহা এবং মোহাম্মদ শাহজাহান ভুয়া কাগজপত্র দেখিয়ে একই দিনে ২ কোটি করে ৪ কোটি টাকা উত্তোলন করেন। ওইদিনই তারা টাকাগুলো পে-অর্ডারের মাধ্যমে রাষ্ট্রের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে জমা দেন। এরপর সেই অ্যাকাউন্ট থেকে একই দিন টাকাগুলো তুলে আত্মসাৎ করা হয়। প্রণব কুমার ভট্টাচার্য আরও বলেন,অভিযোগ অনুসন্ধানে তাদের দুদক পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুদকের এক কর্মকর্তা পরিবর্তন ডটকমকে জানান, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিটি আসলে সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহা। তার অ্যাকাউন্টেই ৪ কোটি টাকা জমা দেয়া হয়। পরে সেখান থেকে টাকাগুলো আত্মসাতের ঘটনা ঘটে। তিনি আরও বলেন,এ বিষয়ে এখনই কিছু বলা না গেলেও তদন্তের মাধ্যমে জানা যাবে, তার অ্যাকাউন্টেই জমা হয়েছিল ৪ কোটি টাকা। এর আগে গত ২৫ এপ্রিল দুদক পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন স্বাক্ষরিত চিঠিতে এই দুই ব্যবসায়ীকে তলব করা হয়। সেই ডাকে সাড়া দিয়ে সকাল সাড়ে নয়টায় দুদক কার্যালয়ে আসেন নিরঞ্জন চন্দ্র সাহা ও মোহাম্মদ শাহজাহান।

জাতীয় পাতার আরো খবর