নাটকের অবদান অনস্বীকার্য স্বাধীনতা আন্দোলনে
জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, স্বাধীনতা সংগ্রামসহ সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নাটকের অবদান অনস্বীকার্য। প্রতিবাদ ও পরিবর্তনের ভাষা হলো নাটক। নাট্য চর্চাকে তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দিতে গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের প্রতি তিনি আহ্বান জানান। শুক্রবার ঢাকায় শিল্পকলা একাডেমিতে বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের ত্রয়োবিংশ জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন তিনি। স্পিকার বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশে যে উন্নয়নের ধারা সূচিত হয়েছে তার প্রতিফলন ঘটেছে নাট্য জগতে। স্বাধীনতা সংগ্রাম, স্বাধীকার ও ভাষা অন্দোলনের ইতিহাসকে ধারণ করে রচিত হয়েছে অনেক কাব্য, উপন্যাস ও নাটক। সে কারণে এদেশের নাটকের আবেদন ফুরিয়ে যায় না— বরং নাটকে প্রতিফলিত হতে থাকে ঐতিহাসিক ও সমসাময়িক ঘটনাবলি। এ কারণেই নাটক সমাজের দর্পন। তিনি বলেন, আগামী দিনে অনেক নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। সংবিধানে শোষণমুক্ত দেশ গড়ার যে অঙ্গীকার রয়েছে সেটা বাস্তবায়নে নাট্যকর্মীরা ভূমিকা রাখবেন বলে স্পিকার আশা প্রকাশ করেন। শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক ও সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক লিয়াকত আলী লাকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন, নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার, আতাউর রহমান খান, মামুনুর রশীদ, নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু, আক্তারুজ্জামান প্রমূখ। এর আগে শিরীন শারমিন জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও বেলুন উড়িয়ে দুই দিনব্যাপী ত্রয়োবিংশ জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধন করেন।
২৫ মে শান্তি নিকেতনে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী,থাকবেন মোদিও
চলতি মাসের ২৫ তারিখ শান্তি নিকেতনে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিশ্বভারতীতে গিয়ে তার বাংলাদেশ ভবন উদ্বোধন করার কথা রয়েছে। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও ওই অনুষ্ঠানে থাকতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে। কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গতকাল বৃহস্পতিবারই ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সবুজকলি সেনকে শেখ হাসিনার সফরের দিনটি জানানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক সেরে ওইদিনই ফিরে যান উপাচার্য। তার আগে তিনি বলেন, ওই সময়েই আমরা সমাবর্তন অনুষ্ঠানটি করার প্রস্তুতি নিচ্ছি। উপাচার্য জানান, বিশ্বভারতীর আচার্য প্রধানমন্ত্রীকেও তিনি আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। নরেন্দ্র মোদি বোলপুরে আসতে খুবই আগ্রহী। বাংলাদেশ হাইকমিশনের পক্ষে উপাচার্যকে এদিন জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৪ তারিখে এসে বর্ধমানের চুরুলিয়ায় কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষ সাম্মানিক ডিগ্রি নেবেন। পরদিন শান্তি নিকেতনে যাবেন। এদিকে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরের আগে মঙ্গলবার বাংলাদেশের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি দল শান্তি নিকেতনে যাচ্ছে। ২৫ কোটি টাকা খরচ করে ভবনটি নির্মাণ করেছে বাংলাদেশ। তবে ভারতের কেন্দ্রীয় কিংবা বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে সফরের দিনক্ষণ রাজ্যকে জানানো হয়নি। আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দুই রাষ্ট্র প্রধানের মধ্যে শেখ হাসিনাই শেষ বার ভারত সফরে এসেছিলেন। ফের আসবেন কিভাবে, প্রশ্ন উঠছিল। কিন্তু বাংলাদেশের কূটনীতিকদের কথায়,বাংলাদেশ ভবন উদ্বোধন অনুষ্ঠানকে পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রীয় সফর বলা যায় না। পর পর দুই বার কোনো দেশ সফরে প্রটোকলগত কোনো বাধা নেই।
প্রাধান্য পাচ্ছে রোহিঙ্গা সংকট-কাল ওআইসি সম্মেলন শুরু
ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) ৪৫তম পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলন (সিএফএম) আগামীকাল শনিবার শুরু হচ্ছে ঢাকায়। আগারগাঁওয়ের বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ৬ মে পর্যন্ত চলবে এ সম্মেলন।স্থায়ী শান্তি, সংহতি ও উন্নয়নের জন্য ইসলামি মূল্যবোধ- এ প্রতিপাদ্যে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবারের সম্মেলন। এর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ লক্ষ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী জানিয়েছেন, ৫৭ সদস্য বিশিষ্ট এই সংস্থার প্রায় ৪০ জন মন্ত্রী ও সহকারী মন্ত্রীসহ প্রায় সাড়ে ৫০০-এর বেশি প্রতিনিধি এ সম্মেলনে অংশ নেবেন। এবারের সম্মেলনের অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় হবে রোহিঙ্গা সংকট, পাশাপাশি ফিলিস্তিন ইস্যু আলোচনায় থাকবে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, রোহিঙ্গা ইস্যু স্বাভাবিক কারণেই বিশেষ গুরুত্ব পাবে। সম্মেলনে একটি বিশেষ অধিবেশনে রাখা হয়েছে এ ইস্যুটি আলোচনার জন্য। সেখানে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া দ্রুত ও নিশ্চিতভাবে সম্পন্ন করতে ওআইসির পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা আলোচনা করবেন। এছাড়াও আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মেলন শুরুর আগে আজ শুক্রবার আগত প্রতিনিধিদের মধ্যে আগ্রহীদের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনের জন্য নিয়ে যাওয়া হবে বলেও জানান মন্ত্রী। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের পক্ষে যে জনমত গড়ে উঠছে এ সম্মেলন সে জনমতকে আরও শক্ত ভিত্তি দেবে। বাংলাদেশ রোহিঙ্গা ইস্যুতে ইতোমধ্যে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের সমর্থন আদায় করতে পেরেছে এবং মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টির পথে অনেকদূর এগিয়ে গেছে। মিয়ানমার যদিও নানা কৌশলে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াকে দীর্ঘসূত্রতায় বেঁধে রাখতে চাইছে, এরপরও আন্তর্জাতিক চাপের মুখে সম্প্রতি দেশের নীতিনির্ধারকরা নড়াচড়া শুরু করেছেন। এরইমধ্যে মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চি জাতিসংঘের মানবাধিকার ও উন্নয়নমূলক সংস্থাগুলোকে রাখাইনে প্রবেশ করতে দিতে সম্মত হয়েছেন। এতদিন আন্তর্জাতিক বিশ্বের নানা পর্যায়ের চাপেও জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থা এবং বিদেশি গণমাধ্যমকে সে দেশে ঢুকতে অনুমোদন দেওয়া হয়নি। কিন্তু অব্যাহত আন্তর্জাতিক চাপের মুখে সু চি রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও স্বেচ্ছামূলক প্রত্যাবাসন ত্বরান্বিত করতে জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর সঙ্গে এই মুহূর্তে চুক্তিতে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্বে মুসলিম দেশগুলোর সবচেয়ে বড় ও নীতিনির্ধারণী ফোরাম ওআইসি। এর যে কোনো সিদ্ধান্ত ও কনভেনশন খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রভাব রাখতে সক্ষম। ফলে সম্মেলনে রোহিঙ্গা সংকটের দ্রুত সমাধানের পক্ষে বিশ্বপ্রতিনিধিরা খোলামেলা আলোচনা করার সুযোগ পাবেন এবং সরেজমিন রোহিঙ্গা পরিস্থিতি দেখে যেতে পারবেন। এর মধ্য দিয়ে রোহিঙ্গাদের মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে মিয়ানমারের ওপর চাপ প্রয়োগের শক্তসামর্থ্য উপায় বের করা যাবে বলে মনে করছেন অনেকে। প্রায় সাড়ে তিন দশক পর দ্বিতীয় বারের মতো বাংলাদেশ ওআইসির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের কোনো সম্মেলনের আয়োজন করতে চলেছে। এর আগে ১৯৮৩ সালে ঢাকায় প্রথমবারের মতো ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এদিকে গতকালের সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, সম্মেলনে রোহিঙ্গা ইস্যু ছাড়াও মুসলিম বিশ্বের চ্যালেঞ্জ, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ, ফিলিস্তিন সমস্যাসহ বিভিন্ন বিষয় প্রাধান্য পাবে। মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে মুসলিম বিশ্বের বেশ কিছু দেশ শান্তি, নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায় হুমকি, অভ্যন্তরীণ দ্বন্ধ, মুসলিম রাষ্ট্রে বাইরের হস্তক্ষেপ, সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ, ইসলামোফবিয়া ও মানবিক বিপর্যয়সহ নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে এবং একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় সংস্থাটির সম্মিলিত উদ্যোগ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বাৎসরিক সম্মেলন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি জানান, আয়োজক দেশ হিসেবে বাংলাদেশ আগামী এক বছর সিএফএম-এর চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবে। সম্মেলনে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মুসলিম দেশগুলোকে সক্রিয়ভাবে পাশে থাকার আহবান জানানো ছাড়াও বাংলাদেশের প্রস্তাবনাগুলো তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, আশা করছি সম্মেলনে আলোচ্য বিষয়ের সব সিদ্ধান্ত, ঢাকা ঘোষণাপত্র আউটকাম ডকুমেন্ট হিসেবে সংরক্ষিত হবে। মুসলিম দেশগুলোর নিজেদের মধ্যে কানেক্টিভিটি, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার বিষয়ে মিডিয়ার ব্যবহার এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ওআইসি চেয়ার প্রতিষ্ঠাসহ কয়েকটি প্রস্তাব করবে বাংলাদেশ। প্রেস ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছাড়াও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এবং পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হক উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, জনসংখ্যার ভিত্তিতে বাংলাদেশ বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম মুসলিম দেশ। ১৯৭৪ সালে পাকিস্তানের লাহোরে অনুষ্ঠিত ওআইসির দ্বিতীয় শীর্ষ সম্মেলনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশ ওআইসির সদস্য হয়। এই সংস্থাভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের ৪৪তম সম্মেলনটি আইভরি কোস্টে অনুষ্ঠিত হয়। গত বছর মে মাসে আইভরি কোস্টের আবিদজানে ওই সম্মেলনে ওআইসিভুক্ত সদস্য দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সর্বসম্মতিক্রমে বাংলাদেশে ৪৫তম সম্মেলন অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
ব্রিটিশ হোম অফিসে চিঠি তারেক রহমানকে দেশে ফেরত আনতে
তারেক রহমানকে দেশে ফেরত আনতে ব্রিটিশ হোম অফিসে চিঠি পাঠিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ব্রিটিশ সরকারের উত্তরের প্রেক্ষিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী। সকালে, পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে আসন্ন ওআইসি পররাষ্ট্র মন্ত্রীদের ৪৫ তম সম্মেলন উপলক্ষ্যে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, টেকশই শান্তি সম্প্রীতি ও উন্নয়নের স্লোগান নিয়ে আগামী ৫-৬ মে ঢাকায় এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলনে যোগ দিতে আসা বিভিন্ন দেশ ও সংস্থার প্রতিনিধিদের নিয়ে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি দেখাতে আগামীকাল কক্সবাজার যাবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
আজ বিশ্ব গনমাধ্যম দিবস
দেশে গণমাধ্যমের বিপুল বিকাশ ঘটলেও এখনো সাংবাদিকদের নানা ধরনের হয়রানি ও হুমকির মুখোমুখি হতে হয়। সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিকরা বলছেন- সন্ত্রাসী জঙ্গি ও প্রভাবশালী মহলের হুমকির পাশাপাশি গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্বেগের নতুন কারণ প্রস্তাবিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কিছু ধারা। মুক্ত গণমাধ্যম নিশ্চিত করতে সাংবাদিক নেতাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া এবং নিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টির জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানান। গণমাধ্যম ও গণতন্ত্র পরস্পরের পরিপূরক। মুক্ত গণমাধ্যম নিশ্চিত করা না গেলে ব্যহত হয় গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রাও। দেশে গণমাধ্যমের সংখ্যা যেমন বাড়ছে তেমনি বাড়ছে সাংবাদিকতা পেশার মানুষও। তবে হুমকি হয়রানি নির্যাতন ও উদ্বেগের জায়গাও কম নয়। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য মতে, গত দুই দশকে ২৩ সাংবাদিক হত্যা ও প্রায় সাড়ে ৩ হাজার সাংবাদিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এ পরিস্থিতি স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য বড় হুমকি বলে মনে করেন সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিকরা। নতুন উদ্বেগের বিষয় প্রস্তাবিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কিছু ধারা। প্রতিষ্ঠানের গোপনীয় তথ্য-উপাত্ত কোনো ইলেকট্রনিক মাধ্যমে ধারণ, প্রেরণ, সংরক্ষণ এবং পরোয়ানা ছাড়া আটক ও তল্লাসির ক্ষমতা’সহ এই আইনের ছয়টি ধারা নিয়ে উদ্বেগ ও আপত্তি জানিয়েছেন, গণমাধ্যমের সম্পাদকরা। তারা মনে করেন, গণমাধ্যমকে স্বাধীন করতে সবচে জরুরি রাজনৈতিক বিভক্তির উর্ধ্বে উঠে সাংবাদিক নেতাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া। সেইসাথে সরকারকে আরো ধৈর্যশীল হওয়ার পরামর্শ তাদের।
ডিআইজি মিজান দুদকের জিজ্ঞাসাবাদে
ক্ষমতার অপব্যবহার ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ডিআইজি মিজানুর রহমান মিজানকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুদকের সেগুনবাগিচা কার্যালয়ে অভিযোগ অনুসন্ধানে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাকে দুদকের উপপরিচালক ও অনুসন্ধান কর্মকর্তা ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারী জিজ্ঞাসাবাদ করছে। গত ২৫ এপ্রিল দুদকের তলবি নোটিশে সাড়া দিয়ে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে দুদক কার্যালয়ে হাজির হন মিজান। দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়ে অনুসন্ধান করবে দুদক। এই অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে তাকে তলব করা হয়েছে। দুদক সূত্রে জানা যায়, ডিআইজি মিজান পুলিশের উচ্চ পদে থেকে তদ্বির, নিয়োগ, বদলিসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ আছে। চাকরি জীবনে তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে নানা উপায়ে শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। তার নামে-বেনামে বিলাসবহুল বাড়ি, গাড়ি, ফ্ল্যাট ও জমি রয়েছে। একাধিক ব্যাংক হিসাবে রয়েছে বিপুল অর্থ ও ফিক্সড ডিপোজিট। এমনকি দেশের বাইরে অর্থ পাচারেরও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। উল্লেখ্য, বেসরকারি একটি টেলিভিশনের জনৈক সংবাদ পাঠিকাকে হত্যার হুমকি দেন ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিআইজি) মিজানুর রহমান। এর আগে এক নারী ব্যাংক কর্মকর্তাকে জোর করে তুলে নিয়ে বিয়ে এবং নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছিল তার বিরুদ্ধে। মরিয়ম আক্তার ইকো নামের ওই নারী দাবি করেছিলেন, ঘরে বউ-সন্তান রেখে তাকে জোর করে বিয়ে করার পর ৪ মাস সংসার করেছিলেন ডিআইজি মিজান। ওই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর তাকে প্রত্যাহার করে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয় এবং অভিযোগের তদন্ত শুরু হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ওই তদন্ত প্রতিবেদন পুলিশ প্রধানের কাছে জমা দিয়েছে কমিটি। ওই সময় এ সম্পর্কিত বিভিন্ন অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের কারণে তিনি হত্যার হুমকি দিয়েছিলেন সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের।
সাজাপ্রাপ্ত আসামি তারেককে ফিরিয়ে নিয়ে আসবো: প্রধানমন্ত্রী
একাধিক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে যুক্তরাজ্যের লন্ডন থেকে ফিরিয়ে নিয়ে আসা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ বুধবার বিকেল চারটায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এমনটি জানান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমরা অনেক দেশ থেকে এ ধরনের আসামি নিয়ে আসি। সাজাপ্রাপ্ত আসামি তারেকের বিষয়েও আমরা ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে আলোচনা করছি। নিশ্চয়ই আমরা তাকে ফিরিয়ে নিয়ে আসবো। তারেককে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন করায় বিএনপির সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে তারা চেয়ারপারসন করলো। বিএনপি নাকি সবচেয়ে বড়, জনপ্রিয় দল, তাদের দলে কি একজন যোগ্য লোকও নেই? এ ধরনের সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে তারা চেয়ারপারসন করে? এ ধরনের রাজনৈতিক দেউলিয়া দল আর নেই।
বিশ্ব সম্প্রদায় বাংলাদেশের প্রশংসা করেছে রোহিঙ্গা ইস্যুতে
রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিশ্ব সম্প্রদায় বাংলাদেশের পদক্ষেপের প্রশংসা করেছে বলে জায়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ বিষয়ে বাংলাদেশের পক্ষে বিশ্ব সম্প্রদায়ের সমর্থন রয়েছে বলেও জানান তিনি। সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়া সফর নিয়ে বুধবার (২ মে) বিকালে গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে কমনওয়েলথ সম্মেলনে অংশ নেয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। সম্মেলনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে বলে এ সময় জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন,সেখানে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে কফি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন এবং প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এই সফরকে আমার সরকারের কূটনৈতিক সাফল্য বলে মনে করি। সফরে নরেন্দ্র মোদি, জাস্টিন ট্রুডোসহ বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধানের সঙ্গে বৈঠকেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনার কথা বলেন শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের পদক্ষেপের প্রশংসা করেছে বিশ্ব সম্প্রদায়। এছাড়া বিশ্বদরবারে অর্থনীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা তুলে ধরা হয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরা আমাদের দেশে এসেছেন, তাদের মনোভাব অত্যন্ত ইতিবাচক, তারাও চান মিয়ানমার থেকে যে ১১ লাখ মানুষ এসেছে, তারা সেখানে ফিরে যাক। চাকরীতে কোটা সংস্কার বাতিল করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনো ধরনের ক্ষোভ থেকে সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। কোটা নিয়ে কোনো আলোচনা বা নতুন করে বিবেচনার সুযোগ নেই। ছাত্রলীগের আসন্ন সম্মেলনে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ছাত্রলীগের নতুন নেতৃত্ব গঠনে নির্বাচনের নিয়ম আছে। সেজন্য প্রার্থীদের আবেদন নেওয়া হয়েছে। প্রথমে সমঝোতার চেষ্টা করা হয়, সেটা না হলে নির্বাচন হয়। সমঝোতা হয়ে গেলে প্রেস রিলিজের মাধ্যমে তা ঘোষণা করা হবে। উল্লেখ্য, সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদের আমন্ত্রণে চলতি মাসের ১৫ তারিখে দুদিনের সফরে সৌদি আরব যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে গালফ শিল্ড-১ নামে একটি যৌথ সামরিক মহড়ার কুচকাওয়াজ ও সমাপনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি। এরপর সেখান থেকে কমনওয়েলথ সরকারপ্রধানদের বৈঠকে (সিএইচওজিএম) যোগ দিতে যুক্তরাজ্য যান প্রধানমন্ত্রী। যুক্তরাজ্য ও সৌদি আরবে আট দিনের রাষ্ট্রীয় সফর শেষে ২৩ এপ্রিল দেশে ফিরেন তিনি। এর তিন দিন পর ২৭ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গ্লোবাল সামিট অন ওমেন সম্মেলনে যোগ দিতে অস্ট্রেলিয়া যান। এই সম্মেলনে নারী নেতৃত্বে সফলতার স্বীকৃতি হিসেবে প্রধানমন্ত্রীকে গ্লোবাল উইমেনস লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। তিন দিনের অস্ট্রেলিয়া সফর শেষে রোববার মধ্যরাতে দেশে ফিরেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
ঝুঁকিপূর্ণ ধারাগুলো বাতিলের আহ্বান ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের:টিআইবি
প্রস্তাবিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রণীত হলে শুধু মতপ্রকাশের ক্ষেত্রেই নয়, গণমাধ্যমকর্মীদের পাশাপাশি সব নাগরিকের মৌলিক মানবাধিকার চর্চার ক্ষেত্রে অধিকতর নিরাপত্তাহীনতার ঝুঁকি সৃষ্টি করবে। তাই এ আইনের ঝুঁকিপূর্ণ ধারাগুলো বাতিলের আহ্বান জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। বুধবার এক বিবৃতিতে সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান এ আহ্বান জানান।তিনি বলেন, মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সব নাগরিকের বাকস্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিতের সাংবিধানিক অঙ্গীকার ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী। দেশের গণমাধ্যমকর্মীরা যাতে মুক্ত পরিবেশে স্বাধীনভাবে বাকস্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সাংবিধানিক অধিকার চর্চা অব্যাহত রাখতে পারে, সে জন্য প্রস্তাবিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮-এর ৮, ২১, ২৫, ২৮, ২৯, ৩১, ৩২, ৪৩ ও ৫৮ ধারা পুনর্বিবেচনা ও তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা বাতিলের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান ইফতেখারুজ্জামান। খসড়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মীসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে অগ্রসর হওয়ার জন্য সংসদীয় কমিটির প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। ইফতেখারুজ্জামান বলেন, যৌক্তিক বিধিনিষেধ সাপেক্ষে সংবিধান মতপ্রকাশের যে স্বাধীনতা দিয়েছে, তা তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারার কাছে অসহায়। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীসহ মূলধারার গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে ইতিমধ্যেই একদিকে অভূতপূর্ব ভীতি ও অন্যদিকে ভীতিপ্রসূত স্ব-আরোপিত সেন্সরশিপ চাপিয়ে দিয়েছে, যা বাক্স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীন দায়িত্ব পালনের প্রধান অন্তরায় বলে বিবেচিত হচ্ছে। আইনের ৮, ২১, ২৫, ২৮, ২৯, ৩১, ৩২, ৪৩ ও ৫৮ ধারাসমূহ প্রয়োজনীয় সংশোধন ছাড়া প্রণীত হলে সার্বিকভাবে দেশে গণতান্ত্রিক অধিকার চর্চা ও গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের সম্ভাবনা ধূলিসাৎ হওয়ার ঝুঁকি সৃষ্টি করবে। খসড়াটি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট অংশীজনের পক্ষ থেকে ব্যাপক উদ্বেগ প্রকাশ সত্ত্বেও ধারাগুলো সংশোধন না করেই সংসদে উত্থাপিত হওয়াকে হতাশাজনক উল্লেখ করে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এ আইনের ফলে বিভিন্ন প্রকার অনিয়ম-দুর্নীতিসহ ক্ষমতার অপব্যবহারের তথ্য প্রকাশ যেমন অসম্ভব হয়ে পড়বে, তেমনি এসব অপরাধের সুরক্ষার মাধ্যমে অধিকতর বিস্তৃতি ঘটাবে। সরকার-ঘোষিত ডিজিটাল বাংলাদেশে তথ্যপ্রযুক্তির কল্যাণে দুর্নীতি প্রতিরোধ ও সুশাসন নিশ্চিতের যে সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে, প্রস্তাবিত আইনটি সে ক্ষেত্রে বাধা হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক। তিনি বলেন, টেকসই উন্নয়ন অভীষ্টসমূহ অর্জনে সরকারের পাশাপাশি জনগণ, সুশীল সমাজ ও গণমাধ্যমের ভূমিকা অপরিসীম। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমসহ সব নাগরিক যাতে সব ধরনের ভয়ভীতির ঊর্ধ্বে থেকে সরকারের সহায়ক শক্তি হিসেবে স্বাধীনভাবে তাদের দায়িত্ব পালন ও বাধাহীন মতামত প্রকাশ করতে পারে, তার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। এ পর্যায়ে খসড়া আইনটির সংশোধনের দায়ভার সংসদীয় কমিটির ওপর ন্যস্ত হওয়ার কারণে কমিটিকে অবশ্যই ইতিবাচক ও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।

জাতীয় পাতার আরো খবর