আজ প্রধানমন্ত্রীর গণসংবর্ধনা
অনলাইন ডেস্ক: দেশের উন্নয়ন ও অর্জনে অনন্য সফলতার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আজ শনিবার বিকেল ৩টায় রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে গণসংবর্ধনা দেওয়া হবে। ভারতের আসানসোলের কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডি-লিট ডিগ্রি অর্জন, মহাকাশে সফলভাবে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট পাঠানো, অস্ট্রেলিয়ার সিডনি থেকে গ্লোবাল উইমেন্স লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড অর্জন ও স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত করায় এ গণসংবর্ধণা দেওয়া হচ্ছে। গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানকে সফল করতে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। এ অনুষ্ঠানে তিন লক্ষাধিক লোকের সমাগম হবে বলে ধারণা করছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা। এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে রাজধানী ঢাকাসহ আশপাশের জেলার নেতা-কর্মীরা যেমন যোগদান করবেন তেমনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগদান করবেন। দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এ গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানকে স্মরণীয় করে রাখতে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। এজন্য সংবর্ধনাস্থলকে সাজানো হয়েছে নান্দনিকভাবে। ইংরেজি বর্ণ এল আকৃতিতে বিশাল প্যান্ডেল নির্মাণ করা হয়েছে। অনুষ্টানস্থলে ৩০ হাজার চেয়ার বসানো হয়েছে। দেশের বরেণ্য চিত্রশিল্পী হাশেম খানের তত্ত্বাবধানে আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ১৬টি ছবি নিয়ে আয়োজন করা হবে চিত্র প্রদর্শনীর। এ প্রদর্শনীতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ছবিসহ থাকবে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে লেখা বইসমূহ। এছাড়াও প্রদর্শনীতিতে বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী ও বঙ্গবন্ধুর কারাগারের রোজনামচা বই দুটিও স্থান পাবে। সংবর্ধনাস্থলের বাইরেও ব্যাপকভাবে সাজানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে সংবর্ধনাস্থলে যে সড়ক দিয়ে আসবেন সে সড়কগুলোতে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন ও অর্জনের ছবি সংবলিত পোস্টার-ফেস্টুন লাগানো হয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, পুরো সোহরাওয়ার্দী উদ্যান আলোকসজ্জা করা হয়েছে। দলীয় নেতা-কর্মীদের পদভারে পুরো সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। মৎস্য ভবনের সামনে গণসংবর্ধনাস্থলের প্রবেশমুখে বিশাল একটি তোরণ নির্মাণ করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ সভাপতিমন্ডলীর সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের জাতীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখবেন। মঞ্চে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র এবং প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। বিকেল ৩টা থেকে গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠান আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে। অনুষ্ঠানের শুরুতে বাঙালির ইতিহাস ও ঐতিহ্যসংবলিত ৩০ মিনিটের একটি পরিবেশনা থাকবে। আওয়ামী লীগের সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল সংবাদ মাধ্যমকে জানান, বিকেল ৩টায় আওয়ামী লীগের গণসংবর্ধনা শুরু হলেও দুপুর বারোটা থেকে লোকজন আসা শুরু করবে। দুপুর ১২টা থেকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু হবে। দেশের বরেণ্য শিল্পীরা এতে সংগীত পরিবেশন করবেন। তিনি জানান, গণসংবর্ধনায় আসার জন্য ইতোমধ্যে সব রাজনৈতিক দলের নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সব শ্রেণি-পেশার মানুষ এ গণসংবর্ধনায় যোগদান করবেন। এ সভায় আওয়ামী লীগের মন্ত্রীপরিষদের সদস্যরা নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন ও অর্জনের চিত্র তুলে ধরে বক্তব্য রাখবেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। এ গণসংবর্ধনা আগামী জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি করবে বলে আশা প্রকাশ করছেন আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ।
পাঁচ জেলায় বন্দুকযুদ্ধ : নিহত ৪
অনলাইন ডেস্ক: কুষ্টিয়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, দিনাজপুর ও কক্সবাজারে বন্দুকযুদ্ধে ৪ জন নিহত হয়েছেন। নিহতরা সবাই মাদক ব্যবসায়ী বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া লালমনিরহাটে মাদক পাচারের সময় পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে এক মাদক ব্যবসায়ী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। কুষ্টিয়া কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ শামসুদ্দিন শ্যাম (৩৮) নামে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ৫শ পিস ইয়াবা, একটি ওয়ান শুটার গান, ২ রাউন্ড গুলি ও ২টি গুলির খোসা উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় পুলিশের তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। শুক্রবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে ভেড়ামারা বাকাপুলের কাছে এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, রাত ৩টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর আসে ভেড়ামারা বাঁকাপুল চরদামুকদিয়া এলাকায় একদল মাদক ব্যবসায়ী মাদক কেনাবেচা করছে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের একটি টিম সেখানে অবস্থান নেয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশের ওপর গুলি বর্ষণ করে। এতে পুলিশও পাল্টা জবাব দিলে উভয়ের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আহত অবস্থায় শ্যাম নামে এক ব্যক্তিকে উদ্ধার করে ভেড়ামারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি আরও জানান, রাতেই মরদেহ কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে নিয়ে আসা হয়। নিহত মাদক ব্যবসায়ী শ্যাম ভেড়ামারা ক্ষেমিরদিয়াড় এলাকার মৃত তোবারক মিয়ার ছেলে। তার বিরুদ্ধে ভেড়ামারা থানায় ৮টি মাদকের মামলা রয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার মোল্লান এলাকায় র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ একজন নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তি মাদক ব্যবসায়ী বলে দাবি করেছে র‌্যাব। র‌্যাব-৫ চাঁপাইনবাবগঞ্জ ক্যাম্পের ডেপুটি কমান্ডার আবু খায়ের জানান, শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে মাদকবিরোধী অভিযানে যায় র্যাবের একটি দল। মোল্লান এলাকায় পৌঁছলে র‌্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে মাদক ব্যবসায়ীরা। র‌্যাবও পাল্টা গুলি চালায়। এ সময় কয়েকজন মাদকব্যবসায়ী পালিয়ে গেলেও একজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। তাকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র, গুলি ও ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়েছে। দিনাজপুর দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলায় দুই দল মাদক ব্যবসায়ীর মধ্যে গোলাগুলিতে আব্দুল করিম নামে একজন নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে পুলিশ। পার্বতীপুর থানার ওসি হাবিবুল হক প্রধান বলেন, শুক্রবার রাত ৩টার দিকে উপজেলার বেলাইচণ্ডী ইউনিয়নের বার্নিরহাট এলাকায় গোলাগুলির খবর আসে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আব্দুল করিম নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে। তাকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়। আব্দুল করিমের কাছে থাকা এক রাউন্ড গুলিসহ একটি ওয়ান শুটারগান ও বেশ কিছু ইয়াবা ও ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। কক্সবাজার কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় দু’দল মাদক ব্যবসায়ীর সংঘর্ষে একজন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। নিহত মোহাম্মদ ইসমাঈল (৩৮) চকরিয়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কোচপাড়ার আব্দুস সালামের ছেলে। চকরিয়া থানার ওসি বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, শনিবার ভোরের দিকে উপজেলার লামা-আলীকদম সড়কের পাহাড়ি এলাকায় দুই দল মাদক ব্যবসায়ী সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এ সময় গুলিতে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী নিহত হন। তার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগে চকরিয়াসহ বিভিন্ন থানায় মামলা রয়েছে। লালমনিরহাট লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ রবিউল ইসলাম (৪২) নামে এক মাদক ব্যবসায়ী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এতে এক পুলিশ কনস্টেবল আহত হয়েছেন। আহত মাদক ব্যবসায়ীকে হাতীবান্ধা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করা হয়েছে। শুক্রবার রাতে উপজেলার সিংগিমারী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। গ্রেফতার রবিউল বগুড়ার ধাওয়া ফিকশান সোনারপাড়া এলাকার বাসিন্দা। পুলিশ সূত্র জানায়, শুক্রবার রাতে মাদক ব্যবসায়ী রবিউলসহ একটি দল মাদকের চালান পার করছেন, এমন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার সিংগিমারী এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক বিক্রেতারা গুলি চালালে আত্মরক্ষার্থে পুলিশও দুই রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এতে রবিউল দুই পায়ে গুলিবিদ্ধ হন। ঘটনাস্থল থেকে ২৫ কেজি গাঁজা জব্দ করা হয়। হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক বলেন, এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। ওয়ান নিউজ
কমেছে স্বর্ণের দাম
অনলাইন ডেস্ক: দেশের বাজারে এক মাসের ব্যবধানে সনাতন পদ্ধতির ছাড়া অন্য সব ধরনের স্বর্ণ দাম ভরিতে এক হাজার ১৬৬ টাকা কমেছে। বৃহস্পতিবার (১৯ জুলাই) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। শুক্রবার থেকে স্বর্ণের নতুন এ দর কার্যকর হবে। আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম কমার কারণে দেশের বাজারে তা সমন্বয় করতে এ দাম কমানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা। নতুন দাম অনুযায়ী, ২২, ২১ ও ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণ প্রতি ভরিতে কমেছে এক হাজার ১৬৬ টাকা। তবে অপরিবর্তী রয়েছে সনাতন পদ্ধতির দাম। বাজুস জানায়, নতুন দাম অনুযায়ী প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম এক হাজার ১৬৬ টাকা কমিয়ে ৪৮ হাজার ৬৩৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ২১ ও ১৮ ক্যারেটের দামও এক হাজার ১৬৬ টাকা কমানো হয়েছে। এর মধ্যে ২১ ক্যারেট ৪৬ হাজার ৩৬৪ টাকা এবং ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৪১ হাজার ২৯০ টাকা। আর প্রতি ভরি সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২৭ হাজার ৫৮৫ টাকা। প্রতি ভরি ২১ ক্যারেট রুপার (ক্যাডমিয়াম) দাম নির্ধারণ করা হয়েছে এক হাজার ৫০ টাকা। সারা দেশের স্বর্ণের দোকানগুলোতে বৃহস্পতিবার ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হয়েছে ৪৯ হাজার ৮০৫ টাকা, ২১ ক্যারেট ৪৭ হাজার ৫৩০ টাকা এবং ১৮ ক্যারেট স্বর্ণ ৪২ হাজার ৪৫৬ টাকায়। সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের ভরি বিক্রি হয়েছে ২৭ হাজার ৫৮৫ টাকা। এর আগে চলতি বছরের ২০ জুন স্বর্ণের দাম কমেছিল। ওই সময় ২২, ২১ ও ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরিতে স্বর্ণের দাম এক হাজার ১৬৬ টাকা কমানো হয়েছিল।
সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে সক্ষম নির্বাচন কমিশন
অনলাইন ডেস্ক: দৃঢ় আস্থা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, চলতি বছরের শেষ দিকে নির্বাচন কমিশন একটি অংশগ্রহণমূলক অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানে সক্ষম হবে। জার্মানির পররাষ্ট্র বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী নিলস অ্যানেন বৃহস্পতিবার (১৯ জুলাই) দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গণভবনে সৌজন্য সাক্ষাতে এলে একথা বলেন শেখ হাসিনা। বৈঠকের পর সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম বলেন, প্রধানমন্ত্রী তাঁর দৃঢ় আস্থা প্রকাশ করে বলেছেন, নির্বাচন কমিশন সকল রাজনৈতিক দল, প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট সকলের সমর্থন ও সহযোগিতায় একটি অংশগ্রহণমূলক অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানে সক্ষম হবে। প্রেস সচিব বলেন, তাঁরা বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, আগামীর নির্বাচন, রোহিঙ্গা ইস্যু এবং দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সহযোগিতার বিভিন্ন খাত নিয়ে আলোচনা করেন। ‘আমাদের নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ স্বাধীন এবং ইতোমধ্যে এই কমিশন সারাদেশের জাতীয় এবং স্থানীয় সরকার পর্যায়ের ৬ হাজারেরও বেশি নির্বাচন সম্পন্ন করেছে। এসব নির্বাচনে কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে কোন প্রশ্ন নেই এবং এসব নির্বাচনে কখনো আমরা এবং কখনো তারা (বিরোধী দল) জয়ী হয়েছে’, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে একথা বলেন তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্রের পুনঃপ্রবর্তনে তাঁর দলের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। দলটি সামরিক শাসনে ক্রমাগত ভোগান্তির সম্মুখীন হয়। সামরিক শাসনে এদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এবং প্রতিষ্ঠানসমূহ ভেঙে পড়েছিল। জার্মান মন্ত্রী বলেন, এটাই তার বাংলাদেশে প্রথম সফর এবং তিনি আকাশপথে ভ্রমণের সময় এ দেশের সৌন্দর্য এবং প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করেছেন। তিনি এ সময় বাংলাদেশের সঙ্গে তার দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে সন্তোষ প্রকাশ করেন। জার্মান মন্ত্রী, ই-পাসপোর্ট প্রকল্পের উন্নয়ন এবং এটি বাস্তবায়নে একটি সমঝোতা স্মারক সাক্ষরের জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করেন। প্রধানমন্ত্রী এ সময় জার্মান কোম্পানির মাধ্যমে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পের অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন। জার্মান মন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের ভূয়শী প্রশংসা করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি কারিগরি শিক্ষার বিষয়ে জার্মানীর দীর্ঘ ঐতিহ্য থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে এ বিষয়ে তাঁদের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের সঙ্গে বিনিময়ের আগ্রহ ব্যাক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মানবিক কারণে আশ্রয় প্রদান করা হয়েছে। কিন্তু, সংখ্যায় তারা স্থানীয় জনগণকেও ছাপিয়ে গেছে এবং তাদের সনাক্তকরণের জন্য রেজিস্ট্রেশনের পর পরিচয়পত্র প্রদান করা হয়েছে। বাংলাদেশ এই রোহিঙ্গা সমস্যার একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রত্যাশী। তাঁর সরকার রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশকে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে জানিয়ে জার্মান মন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গারা বাংলাদেশ সরকারের জন্য ব্যাপক সমস্যা। প্রধানমন্ত্রী তাঁর জার্মান সফরের কথা স্মরণ করে জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মারকেলকে তাঁর সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক মো. আবুল কালম আজাদ, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন, জার্মানীতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ইমতিয়াজ আহমেদ এবং বাংলাদেশের জার্মানীর রাষ্ট্রদূত ড. টমাস প্রিন্জ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
দেশকে এগিয়ে নেয়ার মত শিক্ষিত জাতি গড়তে চাই
অনলাইন ডেস্ক: সরকার উন্নয়নের ধারবাহিকতা রক্ষা করে দেশকে আগামী দিনে সব ক্ষেত্রে এগিয়ে নেওয়ার জন্য একটি শিক্ষিত জাতি গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘আমরা একটি শিক্ষিত জাতি গড়ে তুলতে চাই, যেন আগামী দিনেও আমাদের এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকে। এজন্য সরকার শিক্ষাখাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দিয়েছে এবং শিক্ষার বহুমুখীকরণ ও কারিগরি শিক্ষার ওপর সর্বাধিক গুরুত্বারোপ করেছে যাতে এই বিশাল জনসংখ্যাকে দক্ষ মানব সম্পদে রূপান্তরিত করা যায়।’ প্রধানমন্ত্রী বৃহস্পতিবার (১৯ জুলাই) সকালে তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবনে এবছর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ সকালে গণভবনে পরীক্ষার ফলাফলের সার-সংক্ষেপ প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন। এ বছরের উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এইচএসসি) এবং সমমানের আলিম, এইচএসসি কারিগরি, এইচএসসি (বিজনেস ম্যানেজমেন্ট) এবং ডিপ্লোমা ইন বিজনেস স্টাডিজ ডিআইবিএস) পরীক্ষা দেশের আটটি শিক্ষাবোর্ড, মাদ্রাসা এবং কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের আওতায় গত এপ্রিল-মে মাসে অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে শিক্ষার্থীদের ওপর আস্থা পুণর্ব্যক্ত করে বলেন, ‘আমাদের ছেলে-মেয়েরা অনেক অনেক মেধাবী। কাজেই সেই মেধাকে আমাদের দেশ গড়ার কাজে লাগাতে হবে।’ দেশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণ, পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ এবং সমুদ্র সীমানা অর্জনের ফলে সার্বিক ভাবে একটি উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থা সময়ের প্রয়োজন হিসেবে দেখা দিয়েছে, যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। দারিদ্র মুক্ত সোনার বাংলা গড়তে চেয়েছিলেন বলেই জাতির পিতা শিক্ষাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে কারণে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার পর পরই ড. কুদরত-ই-খুদার নেতৃত্বে শিক্ষা কমিশন গঠন করেন। যার রিপোর্ট তিনি বাস্তবায়ন করে যাবার মত সময় পাননি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুকে ‘৭৫ এ নির্মমভাবে হত্যার পর যারাই ক্ষমতায় এসেছে তারাই ওই শিক্ষা কমিশন রিপোর্টের কোন গুরুত্ব দেয়নি। কারণ, তারা সংবিধান লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে হত্যা ক্যু, ষড়যন্ত্রের মধ্যদিয়েই ক্ষমতায় এসেছিল। তাদের ক্ষমতা ভোগ করার দিকে যতটা দৃষ্টি ছিল, দেশ গড়ার দিকে ততটা ছিল না। বাংলাদেশের জনগণ ২১টি বছর এভাবে ভোগান্তির শিকার হয়। আওয়ামী লীগ ‘৯৬ সালে সরকার গঠনের পর সেই শিক্ষা কমিশনের রিপোর্ট নতুন ভাবে তৈরি করে শিক্ষার মান উন্নয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করে। আওয়ামী লীগ ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসতে না পারায় সেই রিপোর্ট পুনরায় পরিত্যক্ত হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরবর্তীতে ২০০৯ সালে যখন সরকার গঠন করে সেই শিক্ষা রিপোর্টের আলোকে যুগান্তকারি শিক্ষনীতিমালা গ্রহণ করতে সক্ষম হই। যার ফলে আজকে শিক্ষাকে মানসম্মত, আধুনিক এবং আধুনিক প্রযুক্তি জ্ঞান সম্পন্ন করা হয়েছে। বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে যেন আমরা চলতে পারি সেদিকে লক্ষ রেখেই এই উদ্যোগ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকারের উদ্যোগগুলোর মধ্যে রয়েছে- শিক্ষা ব্যবস্থা ও ফল প্রকাশ পদ্ধতি সংস্কার, কোর্সগুলোকে আন্তর্জাতিক মান সম্পন্ন করা এবং মাদ্রাসা ও কওমী মাদ্রাসা শিক্ষাকেও গুরুত্ব প্রদান করা। প্রধানমন্ত্রী এসময় ’৯৬ পরবর্তী সরকার গঠনের পর প্রতিটি জেলাকে নিরক্ষর মুক্ত করার উদ্যোগও পরবর্তী মেয়াদে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় না আসতে পারার কারণে ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয় উল্লেখ করে বলেন, বিএনপি-জামায়াত সরকার তাদের মেয়াদে শিক্ষার হার না বাড়িয়ে আমাদের রেখে যাওয়া ৬৫ দশমিক ৫ শতাংশকে কমিয়ে আবার ৪৫ শতাংশে নিয়ে আসে। যেমনটি ’৯৬ সালে সরকার গঠনের সময় পেয়েছিলাম। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর জেলায় জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন থেকে শুরু করে কারিগরি শিক্ষার দিকে অধিক গুরুত্ব দেয়া হয়। কারণ, কারিগরি শিক্ষা কর্মসংস্থানের আরো সুযোগ সৃষ্টি করবে। পাশাপাশি তাঁর সরকার বিজ্ঞান শিক্ষাকেও গুরুত্ব দেয়। শেখ হাসিনা এ সময় দেশকে খাদ্যে স্বয়ং সম্পূর্ণ করা এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে তাঁর সরকারের বিভিন্ন সাফল্য তুলে ধরে বলেন, আমাদের অর্থনৈতিক নীতিমালার লক্ষ্যই হচ্ছে প্রতিটি গ্রামকে সব রকরমের নাগরিক সুবিধা দিয়ে উন্নত-সমৃদ্ধ করে গড়ে তোলা। কারণ, সরকার হিসেবে জনগণের সেবা করা এটাই আমাদের কর্তব্য। কারিগরি ও মাদ্রাসাসহ ১০টি শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যানগণ নিজ নিজ শিক্ষাবোর্ডের ফলাফল একে একে প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন। মাদ্রাসা এবং কারিগরি শিক্ষা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলী এবং মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। ভিডিও কনফানেন্সের মাধ্যমে এই ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান। নেত্রকোনা জেলা এ সময় গণভবনের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত ছিল। ‘সোনার বাংলা গড়তে সোনার মানুষ চাই’- জাতির পিতার বক্তব্যের এই উদ্ধৃতির আলোকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের ছেলে-মেয়েরা সোনার মানুষ হিসেবে গড়ে উঠবে সেইভাবেই আমরা তাদেরকে গড়তে চাই।’ তিনি প্রশ্নপত্র ফাঁস প্রতিরোধে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এবারের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক, বোর্ড এবং মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা এবং আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীর সদস্যদের প্রতি ধন্যবাদ জানান। প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, এই সমস্যাটা শুধু আমাদের দেশে নয়, ডিজিটালাইজেশনের কারণে অনেক উন্নত দেশেও এ ধরনের সমস্যা দেখা যাচ্ছে। এবার আধাঘণ্টা আগে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার হলে উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং পরীক্ষার ২৫ মিনিট আগে কয়েকটি সেটের মধ্য থেকে কোন প্রশ্নের সেটে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে তা মোবাইল এসএমএস’র মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কতৃর্পক্ষকে জানিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনযোগী হওয়ার আহবান জানিয়ে বলেন, নকল করতে হবে কেন, একটু মনযোগী হলেইতো পরীক্ষায় পাশ করা যায়। শিক্ষাকে জীবনের অন্যতম সম্পদ আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, ‘এই সম্পদ কেউ কেড়ে নিতে পারবে না।’ প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ এবং মাদক থেকে শিক্ষার্থীদের দূরে থাকার জন্য সতর্ক কওে দিয়ে এ বিষয়ে লক্ষ্য রাখার জন্য অভিভাবক, শিক্ষক, মসজিদের ইমাম, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা এবং জনপ্রতিনিধিসহ সকল শ্রেণীপেশার মানুষের প্রতি আহ্বান জানান।
শিল্পী, কবি ও সাহিত্যিকদের অংশগ্রহণে এই উৎসব
অনলাইন ডেস্ক :দেশজ সংস্কৃতি ধারণ, লালন ও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে আগামী শুক্র ও শনিবার সারা দেশে সাংস্কৃতিক উৎসব করবে সরকার। জেলা প্রশাসন, জেলা শিল্পকলা একাডেমি এবং জেলা তথ্য অফিসের সহযোগিতায় সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় এই উৎসবের আয়োজন করেছে। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বুধবার তথ্য অধিদফতরের এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, সাংস্কৃতিক উৎসব আয়োজন কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সব জেলা প্রশাসকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় শিল্পী, কবি ও সাহিত্যিকদের অংশগ্রহণে এই উৎসব হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, যেসব জেলার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সাংস্কৃতিক চর্চা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে সেসব বিদ্যালয়ে প্রশিক্ষণ নেওয়া ছাত্রছাত্রীদের এই অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। উৎসবে স্থানীয় শিল্পীরা রবীন্দ্র সংগীত, নজরুল সংগীত, আধুনিক ও দেশাত্মবোধক গান, কবিতা আবৃত্তি, একক অভিনয়, পল্লীগীতি, লালনগীতি, লোকগীতি; জারি, সারি ও মুর্শিদী গান ছাড়াও আঞ্চলিক গান পরিবেশন করবেন। সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, ‘এ সংস্কৃতিক উৎসব সফলভাবে আয়োজনের মাধ্যমে দেশব্যাপী সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড আরও বিকশিত হবে এবং কিশোর-তরুণ সমাজসহ সর্বস্তরের জনগণ বাংলাদেশের নিজস্ব সংস্কৃতির প্রতি আকৃষ্ট হবে।’ অন্যদের মধ্যে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, তথ্যসচিব আবদুল মালেক, সংস্কৃতি সচিব নাসির উদ্দিন আহমেদ, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা কামরুন নাহার সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।
আমাদের ছেলেমেয়েরা অনেক বেশি মেধাবী
অনলাইন ডেস্ক :পরীক্ষায় যারা ফেল করেছে তাদেরকে বকাঝকা না করতে বললেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অভিভাবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, পরীক্ষায় ভালো-মন্দ, পাস-ফেল থাকবেই। এটা জীবনের অংশ কিন্তু আপনার সন্তান যেন মাদকাসক্ত না হয়, সেই দিকে খেয়াল রাখবেন। জঙ্গি বা সন্ত্রাসবাদের সাথে জড়িয়ে না পড়ে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। বৃহস্পতিবার গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর কাছে শিক্ষা বোর্ডগুলোর এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল হস্তান্তর করার সময় তিনি এসব কথা বলেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, বাবা সব সময় বলতেন। আমাদের দেশে মাটি ও মানুষ আছে। এইগুলোই আমাদের সম্পদ। এগুলোকে কাজে লাগিয়ে আমাদের দেশের উন্নয়ন করতে হবে। আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে দিয়েছি। এখন ইন্টারনেটকে কাজে লাগিয়ে আমাদের উন্নয়ন করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের ছেলেমেয়েরা অনেক বেশি মেধাবী। তাদের সেই মেধাকে কাজে লাগাতে হবে। কারণ, বিশ্ব যখন এগিয়ে যাচ্ছে, আমাদেরকেও সেইসাথে সাথে এগিয়ে যেতে হবে। আমাদের নতুন প্রজন্ম তারা সোনার মানুষ হিসেবে গড়ে উঠবে। সেইভাবেই আমরা তাদেরকে গড়তে চাই। আর আমাদের ছেলেমেয়েরা যে কত মেধাবী, সেটা আমরা নিজেরাই দেখছি। পরীক্ষার সময়সূচি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, কোনও প্রকার বাধা ছাড়াই এবার পরীক্ষা শেষ হয়েছে। একটা সময় ছিল যখন একই দিনে দুই পেপার পরীক্ষা হতো। এখন তো দীর্ঘ সময় নিয়ে পরীক্ষা হয়। এছাড়া তিনি পরীক্ষায় যারা কৃতকার্য হয়েছে তাদের অভিনন্দন জানান। যারা অকৃতকার্য‌ হয়েছে তাদের আবার পরীক্ষা দেয়ার জন্য প্রস্তুতি নিতে বলেছেন। এবার এইচএসসি ও সমমানে পাসের হার ৬৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ। গতবার এই হার ছিল ৬৮ দশমিক ৯১ শতাংশ। সেই হিসাবে এবার উচ্চ মাধ্যমিকে পাসের হার কমেছে ২ দশমিক ২৭ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৯ হাজার ২৬২ জন। গতবার পেয়েছিল ৩৭ হাজার ৭২৬ জন। ফলে জিপিএ-৫ কম পেয়েছে ৮ হাজার ৪৬৪ জন।
এ বছরে পরীক্ষায় ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীরা ভালো করেছেন
অনলাইন ডেস্ক :এ বছরের এইচএসসি (উচ্চ মাধ্যমিক) ও সমমানের পরীক্ষায় ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীরা ভালো করেছেন। ছাত্রদের পাশের হার ৬৩ দশমিক ৮৮ শতাংশ। ছাত্রীদের পাশের হার ৬৯ দশমিক ৭৩ শতাংশ। অর্থাৎ ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীরা পাশের হারে ৫ দশমিক ৯৫ শতাংশ এগিয়ে। আজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল হস্তান্তর করে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এ তথ্য জানান। অনুষ্ঠানে মুখ্যসচিব নজিবুর রহমান, শিক্ষাসচিব এবং সব শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যানরা উপস্থিত ছিলেন। এ বছর ১০ বোর্ডে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল মোট ১২ লাখ ৮৮ হাজার ৭৫৭ জন শিক্ষার্থী। মোট পাশ করেছে ৮ লাখ ৫১ হাজার ৭০১ জন। যা গত বছরের চেয়ে ৫৭ হাজার ৯০ জন বেশি। এবারই প্রথম ৫৫ দিনে এইচএসসির ফল প্রকাশিত হয়েছে। আজ দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে শিক্ষার্থীরা স্ব-স্ব শিক্ষাবোর্ডের ওয়েবসাইট থেকে অনলাইনে ফল জানতে পারবেন। এছাড়া মুঠোফোনেও ফল জানা যাবে।
প্রধানমন্ত্রীর কাছে এইচএসসির ফল হস্তান্তর
অনলাইন ডেস্ক :প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল হস্তান্তর করেছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে সব বোর্ড চেয়ারম্যানদের সঙ্গে নিয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে ফলের সারসংক্ষেপ হস্তান্তর করেন। আজ দুপুর ১টার দিকে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ফলের বিভিন্ন দিক তুলে ধরবেন শিক্ষামন্ত্রী। সংবাদ সম্মেলনের পর শিক্ষার্থীরা নিজ স্কুল, মোবাইল এসএমএস ও ওয়েবসাইটের (www.educationboardresults.gov.bd) মাধ্যমে ফল জানতে পারবে। এবার সারাদেশে দুই হাজার ৫৪১টি কেন্দ্রে এই পরীক্ষায় ১৩ লাখ ১১ হাজার ৪৫৭ শিক্ষার্থী অংশ নেয়। ফল জানা যাবে যেভাবে : আটটি সাধারণ শিক্ষাবোর্ডের এইসএসসি পরীক্ষার্থী মোবাইলের মাধ্যমে ফল পেতে HSC লিখে স্পেস দিয়ে বোর্ডের প্রথম তিন অক্ষর স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে ২০১৮ লিখে ১৬২২২ নম্বরে এসএমএস পাঠাতে হবে। ফিরতি এসএমএসে ফল জানা যাবে। মাদরাসা বোর্ডের শিক্ষার্থীদের ফল জানতে Alim লিখে স্পেস দিয়ে MAD স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে ২০১৮ লিখে ১৬২২২ নম্বরে এসএমএস পাঠাতে হবে। কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের ফল জানতে HSC লিখে স্পেস দিয়ে TEC লিখে স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে ২০১৮ লিখে ১৬২২২ নম্বরে এসএমএস পাঠাতে হবে। ফিরতি এসএমএসে ফল জানা যাবে।

জাতীয় পাতার আরো খবর