কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা ফারুকসহ তিনজন কারাগারে
কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম ‘সাধারণ ছাত্র পরিষদ’র যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক হাসানসহ তিনজনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। বাকি দুই আসামি হলেন—তরিকুল ইসলাম ও জসিম উদ্দিন। মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক সুব্রত ঘোষ শুভ উভয়পক্ষের শুনানি শেষে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। আন্দোলন চলাকালে গত ৮ এপ্রিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনে হামলার অভিযোগে শাহবাগ থানায় দায়ের করা দুই মামলায় গতকাল সোমবার তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। আজ দুপুরে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বাহাউদ্দীন ফারুকী (পরিদর্শক, ডিবি পুলিশ) তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আসামিদের কারাগারে রাখার আবেদন করে আদালতে হাজির করেন। গতকাল শহীদ মিনারে কোটা সংস্কার আন্দোলনের কর্মসূচি চলাকালে ফারুক হাসানসহ তিনজনকে বেধড়ক মারধর করা হয়। এরপর ছাত্রলীগ নেতাদের সহায়তায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান সানি ফারুককে সেখান থেকে তুলে নিয়ে যায় এবং শাহবাগ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। এরপর ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মাসুদুর রহমান সংবাদমাধ্যমকে জানান, ফারুক হাসান শাহবাগ থানায় আছে। তাকে গ্রেফতার দেখানোর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। এর আগে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন বলেন, আমরা তিনজন যুগ্ম আহ্বায়ক মাহফুজ, ফারুক হাসান ও জসিম উদ্দিনের কোনও সন্ধান পাচ্ছি না। তিনি দাবি করেন, ফারুক হাসানকে মারধরের পর শহীদ মিনার থেকে ও জসিম উদ্দিনকে পাবলিক লাইব্রেরির ভেতর থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া মাহফুজ নামের আরেক যুগ্ম আহ্বায়ককে রাশেদ নামে এক কর্মীর বাসা থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু, পুলিশ কাউকে আটকের কথাই স্বীকার করছে না। আসামিদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ৮ এপ্রিল দিবাগত রাত ১টার দিকে সহস্রাধিক বিক্ষোভকারী ভিসির বাসভবনে প্রবেশ করে। তারা মূল গেট ভেঙে ও দেয়াল টপকে বাসায় ঢোকে। তাদের হাতে রড, হকিস্টিক, লাঠি ও বাঁশ ছিল। এছাড়া বাসভবনের আশপাশেও একাধিক মোটরসাইকেলে তরা আগুন ধরিয়ে দেয়। ওই ঘটনায় শাহবাগ থানায় (উপ-পরিদর্শক) রবিউল ইসলাম বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।
হাইকোর্টে তলব রেলওয়ের মহাপরিচালককে
রাজধানীর শাহজাহানপুর রেল কলোনিতে পরিত্যক্ত পাইপে পড়ে শিশু জিহাদের মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবারকে ২০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ পালন না করায় বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালককে তলব করেছেন হাইকোর্ট। আগামী ১৪ আগস্ট তাকে আদালতে হাজির হয়ে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। মঙ্গলবার বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মো. আব্দুল হালিম। রেলওয়ের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট আসাদুল হক। আইনজীবী আব্দুল হালিম সাংবাদিকদের জানান, আদালতের নির্দেশনার পরও নিহত জিহাদের পরিবারকে ২০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ না দেওয়ায় ফেব্রুয়ারি থেকে একের পর এক নোটিশ করা হয়েছে। সর্বশেষ তাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ দায়ের করা হয়। আজ আদালত আবেদনের শুনানি নিয়ে রেলওয়ের মহাপরিচালক আমজাদ হোসেনকে তলব করেছেন। গত ২২ জানুয়ারি বিবাদিদের প্রতি আইনি নোটিশ পাঠান এই আইনজীবী। ওই নোটিশ পাওয়ার পরও কোনো জবাব না পাওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগে আবেদন করা হয়। উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি জিহাদের মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে হাইকোর্ট রায় দেন। রায়ে ৯০ দিন সময় দেওয়া হয়। গত ১ জানুয়ারি ৯০ দিন সময় শেষ হয়ে যায়। ২০১৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর শাহজাহানপুর রেল কলোনিতে কয়েকশ ফুট গভীর একটি নলকূপের পাইপে পড়ে যায় চার বছরের শিশু জিহাদ। ফায়ার সার্ভিসের প্রায় ২৩ ঘণ্টা রুদ্ধশ্বাস অভিযানের পর কয়েক তরুণের তৎপরতায় পাইপের নিচ থেকে তুলে আনা হয় অচেতন জিহাদকে। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
চসিক মেয়রসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল
কর্ণফুলী নদী তীরের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে উচ্চ আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন না করায় চট্টগ্রাম সিটি মেয়রসহ আটজনের বিরুদ্ধে কেন আদালত অবমাননার অভিযোগে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবেনা, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।মঙ্গলবার বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ সংক্রান্ত এক আবেদনের শুনানি নিয়ে রুল জারি করেন।চট্টগ্রাম সিটি মেয়র ছাড়াও অন্যরা হলেন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, চট্টগ্রামের পুলিশ কমিশনার, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সচিব, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চিফ এক্সিকিউটিভ ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান। তাদেরকে চার সপ্তাহের মধ্যে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। জানা যায়, কর্ণফুলী নদীর তীরে অবৈধ দখল সংক্রান্ত ২০১০ সালে মিডিয়ায় প্রকাশিত রিপোর্ট নিয়ে জনস্বার্থে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে রিট করা হয়। রিটের চূড়ান্ত শুনানী করে হাইকোর্ট ১১ দফা নির্দেশনা দেন।নির্দেশনায় ৯০ দিনের মধ্যে বিবাদীদেরকে নদীর জায়গা থেকে স্থাপনা উচ্ছেদ করা এবং জলাধার সংরক্ষণ আইনের ৫,৮,৬ (ঙ)১৫ ধারার বাস্তবায়ন করতে বলা হয়। এরপর ২০১৬ সালের ১৬ আগস্টের এ রায়ের অনুলিপি বিবাদীদের কাছে পাঠানো হলেও আজ পর্যন্ত কর্ণফুলী নদীর অবৈধ দখল উচ্ছেদের ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।তাই গত ২৫ জুন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আদালত অবমননার নোটিশ পাঠানো হয়। এতে সাত দিনের মধ্যে আদালতের রায় অনুযায়ী কর্ণফুলী নদী তীর থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের অনুরোধ জানানো হয়।মনজিল মোরসেদ বলেন, আমরা নোটিশের কোনো জবাব না পেয়ে গত ২ জুলাই আদালত অবমাননার মামলা করি। আদালত শুনানি নিয়ে উক্ত রুল জারি করেন। উল্লেখ্য, সংশ্লিষ্ট আদালতের নির্দেশে কর্ণফুলী নদীতে জরিপ করে ব্যাবসায়ীসহ বিভিন্ন প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠানের প্রায় ২ হাজার ১৮৭টি অবৈধ দখল ও স্থাপনা পাওয়া যায়। এগুলো উচ্ছেদ করতে আদালত রায় দিলেও তা এখন পর্যন্ত বাস্তবায়ন করা হয়নি।
ভাষাসৈনিক ও সাহিত্যিক ড. হালিমা খাতুন আর নেই
ভাষাসৈনিক ও সাহিত্যিক ড. হালিমা খাতুন আর নেই। মঙ্গলবার (৩ জুলাই) দুপুর আড়াইটার দিকে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে হালিমা খাতুনের বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন।জানা গেছে, তিনি হৃদরোগ, কিডনি জটিলতা, রক্তদূষণের মতো নানা জটিলতা নিয়ে গত শনিবার এই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। তার নাতনী অন্তরা বিনতে আরিফ প্রপা সাংবাদিকদের জানান, গত বৃহস্পতিবার গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাকে রাজধানীর গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে আজ চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।ভাষা আন্দোলনে তার অনন্য অবদানের জন্য শিল্পকলা একাডেমি তাকে ভাষা সৈনিক সম্মাননা প্রদান করে। হালিমা খাতুনের একমাত্র মেয়ে দেশের অন্যতম আবৃত্তিশিল্পী প্রজ্ঞা লাবণী।
রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ
সোমবার রাত থেকে ভারি বর্ষণে রাঙ্গামাটির পাহাড়ের খাদে থাকা মানুষদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। রাঙ্গামাটি শহরের রাঙ্গাপানি, মানিকছড়ি, সাপছড়ি, শিমুলতলীসহ বেশ কিছু জায়গায় পাহাড়ের মাটি ভেঙ্গে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম সড়কের বিভিন্ন স্থানে সড়কের উপর পানি উঠে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে সকাল থেকে। তবে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোন ক্ষতির খবর পায়নি বলে জানিয়েছেন রাঙ্গামাটি ফায়ার সার্ভিস। এদিকে ভারি বর্ষণে কাপ্তাই হ্রদের পানি আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে। হ্রদের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় রাঙ্গামাটির বেশ কয়েকটি উপজেলার নিম্নাঞ্চলে পানি বাড়তে শুরু করেছে। হ্রদের পানি বৃদ্ধির ফলে পানির উচ্চতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। অতি বৃষ্টির ফলে রাঙ্গামাটি চট্টগ্রাম সড়কের মগাছড়ি, ঠাণ্ডাছড়ি, রাউজান, ধামরাইহাট, পারুয়াসহ রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম সড়কের বিভিন্ন অংশে রাস্তায় পানি উঠে গেছে। যাত্রীদেরকে পায়ে হেটে ভেলায় চড়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে। রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ জানান, গতরাত থেকে ভারি বৃষ্টিপাতের ফলে রাঙ্গামাটির মানুষের মধ্যে আতঙ্ক নতুন করে ছড়িয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে আমরা রাঙ্গামাটির সর্বত্র মাইকিং করছি। তিনি বলেন, রাঙ্গামাটি জেলা সদরসহ সকল উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে সব রকম পরিস্থিতির জন্য তৈরি থাকতে। জেলা প্রশাসক বলেন, রাঙ্গামাটির আশ্রয় কেন্দ্রগুলো খোলা আছে। পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীরা নিজেদের মতো করে আশ্রয় কেন্দ্রে চলে আসার জন্য তিনি মাইকিংকে অনুরোধ জানিয়েছেন। রাঙ্গামাটি সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কাজী মাসুদুর রহমান জানান, বৃষ্টি বাড়লে আমাদের ভীতি বাড়তে শুরু করে। রাঙ্গামাটির পাহাড়ের মাটিগুলো খুবই নরম হয়ে গেছে। তবে সকাল থেকে আমরা বেশ কয়েকটি এলাকা পরিদর্শন করেছি। তবে বড় ধরনের কোন ক্ষতি হয়নি। নানিয়ারচর সংবাদদাতা জানান, নানিয়ারচর উপজেলার পাশাপাশি খাগড়াছড়ি, মহালছড়িতে গত রাত থেকে প্রবল বর্ষণ হওয়ায় চেঙ্গী নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে। হ্রদের পানি বেড়ে যাওয়ায় সকাল থেকে নানিয়ারচরের নিম্নাঞ্চলও পানিবন্দী হয়ে পড়ছে।
বান্দরবানে পাহাড় ধসে একজনের মৃত্যু
ভারি বর্ষণে পার্বত্য জেলা বান্দরবানে মঙ্গলবার পাহাড় ধসে একজনের মৃত্যু হয়েছে। সড়ক প্লাবিত হয়ে বান্দরবানের সঙ্গে সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ ব্যহত হচ্ছে।সদর থানার ভারপ্রাপ্ত গোলাম সারোয়ার কর্মকর্তা বলেন, গত দুই দিনের টানা বর্ষণের ফলে দুপুরে জেলা শহরের কালাঘাটা এলাকায় পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। এ সময় মাটি চাপা পড়ে প্রতিমা রানী নামের এক নারীর মৃত্যু হয়। পরে খবর পেয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় ফায়ার সার্ভিস তার মরদেহ উদ্ধার করেছে। এদিকে, বান্দরবান-চট্টগ্রাম সড়কের বাজালিয়ার বৈদ্যপাড়ায় সড়কে পানি ওঠায় যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এতে বান্দরবান-চট্টগ্রাম রুটে যাত্রীবাহী বাস চলাচল সীমিত হয়ে পড়েছে।এছাড়াও জেলার পলুপাড়ায় বেইলি ব্রিজ পানিতে প্লাবিত হওয়ে বান্দরবানের সঙ্গে রাঙামাটির সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। ব্রিজের উভয় পাশে যানবাহন আটকা পড়েছে।
গাজীপুরে ফোম কারখানার আগুন নিয়ন্ত্রণে
গাজীপুরের টঙ্গীর বড়বাড়ি জয়বাংলা রোড এলাকায় ফোম কারখানার আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর কারখানার আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। আগুন নেভাতে গিয়ে এক নিরাপত্তাকর্মী দগ্ধ হয়েছেন। জামান নামে আহত ওই কর্মীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উপ-পরিচালক আক্তারুজ্জামান জানান, জয়দেবপুর, টঙ্গী ও উত্তরা ফায়ার সার্ভিসের ৮টি ইউনিটের কর্মীরা ৫ ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে। ভেতরে কি পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তদন্ত ছাড়া বলা যাবে না। টিনশেড ওই কারখানা ও সংলগ্ন গুদামে প্রচুর ফোম ও সিনথেটিক কাপড়ের মজুদ থাকায় আগুন নেভাতে সময় লাগে। তবে কিভাবে আগুন লেগেছে তা এখনো জানতে পারেননি বলেও জানান তিনি। কারখানার মালিক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাসিমুল আলম চৌধুরীর দাবি, আগুনে ৬০-৭০ কোটি টাকার ক্ষতি হতে পারে। তিনি বলেন, ‘৬০ থেকে ৭০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি।
মার্কিন দূতাবাস বিএনপির মুখপাত্রে পরিণত হয়েছে: জয়
বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস ‘বিএনপির মুখপাত্রে’ পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর পুত্র ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাটের উদ্বেগ প্রকাশের প্রেক্ষাপটে সোমবার রাতে এক ফেইসবুক স্ট্যাটাসে জয় এই মন্তব্য করেন। গাজীপুরের ওই নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীকে দু’লাখ ভোটে পরাজিত করে মেয়র হন আওয়ামী লীগের জাহাঙ্গীর আলম। বিএনপি ওই নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলেছে। জয় লিখেছেন, বাংলাদেশে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস অনেকটা বিএনপি'র মুখপাত্রে পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি গাজীপুরে অনুষ্ঠিত সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নিয়ে বিএনপি'র মন্তব্যগুলোই তারা পুনরাবৃত্তি করছে এবং অনিয়মের কথা বলছে অথচ নির্বাচনে বিএনপি'র সহিংসতা চালানোর চেষ্টা নিয়ে কিছুই বলছে না। জয় বলেন, নির্বাচনে ৪২৫টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে মাত্র ৯টি অর্থাৎ ২.১ শতাংশ কেন্দ্রে অনিয়ম হয়েছিল। এক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন তার দায়িত্ব পালন করার মাধ্যমে কেন্দ্রগুলোর ভোটগ্রহন বাতিল ঘোষণা করে। প্রধানমন্ত্রী পুত্র বলেন, আমাদের নতুন মেয়র জাহাঙ্গীর আলম বিএনপির প্রার্থী হাসান থেকে ২ লক্ষের বেশি ভোট, অর্থাৎ দ্বিগুন ভোট, পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। সকল নির্বাচনী পর্যবেক্ষকরা একমত যে অনিয়মের অভিযোগ যা এসেছে তা কোনোভাবেই নির্বাচনের ফলে প্রভাব ফেলতে পারেনি। তিনি আরও বলেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মিজানুর রহমানের ফোনালাপ থেকে আমরা জানতে পারি যে তার দল সহিংসতা তৈরী করার মাধ্যমে নির্বাচনটিকে প্রশ্নবিদ্ধ করার ষড়যন্ত্র করেছিল। জয় তার স্ট্যাটাসে আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস তাদের বক্তব্যে এই বিষয়টিকে কিন্তু এড়িয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান সরকারের নীতি হচ্ছে অন্য কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক না গলানো। তাই বক্তব্যটি বাংলাদেশে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসেরই বলে ধরে নেয়া যায়। বুঝাই যা যাচ্ছে দূতাবাসের কর্মকর্তাবৃন্দ তাদের বিএনপির বন্ধুদের সাথে খুব বেশি সময় কাটাচ্ছেন আজকাল।

জাতীয় পাতার আরো খবর