তারেক রহমানের নাম ভোটার তালিকাতে নেই
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছবিসহ ভোটার তালিকায় নাম নেই। এছাড়া বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) কার্ডও নেই তার। এসম্পর্কে নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, ২০০৭-২০০৮ সালে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়ন করা হয়। সেসময় তারেক রহমান জেলে ছিলেন। তবে তার নাম ভোটার তালিকায় আন্তর্ভূক্ত হয়েছিল কিনা জানা নেই। তবে ছবিসহ ভোটার তালিকা শুরুর সময় ইসি’র জনসংযোগ পরিচালকের দায়িত্বে থাকা এস এম আসাদুজ্জামান বুধবার সাংবাদিকদের জানান, ওই সময়ে তারেক রহমান ভোটার হননি। আর যেহেতু ভোটার তালিকায় নাম উঠেনি তাই, জাতীয় পরিচয়পত্রও পাননি। ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি লন্ডন চলে যান। সেসময় তিনি চাননি বলেই ভোটার তালিকায় নাম উঠেনি। তবে যোগ্য বাংলাদেশি যে কারও যে কোনো সময় ভোটার হওয়ার সুযোগ রয়েছে বলেও জানান তিনি। এদিকে তারেক রহমান ভোটার না হলেও তার মা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ২০০৮ সালের ২৯ নভেম্বর ক্যান্টনমেন্টের ঠিকানায় ভোটার হন। এদিকে যুক্তরাজ্যে তারেক রহমানের জমা দেয়ার পাসপোর্টের একটি কটি দেখিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেছেন, তার হিসেবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এখন আর বাংলাদেশের নাগরিক নন। তবে বিএনপি তা প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, তারেক রাজনৈতিক আশ্রয় লাভের জন্য তার পাসপোর্ট যুক্তরাজ্য সরকারকে জমা দিয়েছেন। তিনি বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ছাড়েননি। তবে ভোটার হয়েছিলেন কি না এমন বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে এখনো কিছু জানানো হয়নি।
কোটা আন্দোলনের নেপথ্য কথা-চার নেতার মুখে
বেনজির এক ছাত্র বিক্ষোভ। স্বতঃস্ফূর্ত। লাখ লাখ ছাত্রের জমায়েত। ছিল না সুনির্দিষ্ট কোনো নেতৃত্ব। আন্দোলনের ফল অবশ্য এখনো পরিষ্কার নয়। শুরুতে ছাত্রলীগ এ আন্দোলনে তেমন কোনো বাধা না দিলেও এখন এই সংগঠনের নেতাকর্মীদের হাতে নানামুখী নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন কোটা আন্দোলনে যুক্তরা। হুমকি আর ভয়ভীতির মধ্যে দিন কাটছে আন্দোলনের নেতাদের। তিন নেতাকে ডিবি পুলিশ তুলে নিয়ে ছেড়েও দিয়েছে। কিন্তু এ ঘটনায় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছেন তারা। কিন্তু প্রশ্ন হলো- কীভাবে গড়ে উঠলো এই আন্দোলন। আন্দোলনের মঞ্চ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের চার নেতার সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলেছে মানবজমিন। পেছনের দিনের ঘটনার বয়ানের পাশাপাশি তারা কথা বলেছেন ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে। আন্দোলনকারীদের সমন্বয়ক হাসান আল মামুন বলেন, ফেব্রুয়ারির শুরু থেকেই আলোচনা শুরু করলেও প্রথম জমায়েত হই ১৭ই ফেব্রুয়ারি। বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ আকবর আলি খানের কোটা নিয়ে বক্তব্য শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন পেজে শেয়ার হয়। এরপর থেকেই মূলত আলোচনা করতে থাকে শিক্ষার্থীরা। ১৭ই ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি ও পাবলিক লাইব্রেরি থেকে শিক্ষার্থীরা বের হয়ে শাহবাগে যায়। মানববন্ধন করবে। কিন্তু পুলিশ বাধা দেয়। পরে রাজু ভাস্কর্যে মানববন্ধন করি। তিনি বলেন, আন্দোলনে অর্থ সহায়তা আসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে। যারা লাইব্রেরিতে পড়ে এবং গ্রুপে যারা আছে তারা ৫ টাকা, ১০ টাকা দিয়ে সহায়তা করে। ওই টাকা দিয়ে ব্যানার করি। পুরো আন্দোলনটা এভাবেই পরিচালনা করি। মামুন বলেন, মানববন্ধনের পর আমরা কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে সভা করি। ৪/৫ জন ছিল। পরে কমিটি হয়। কমিটি করার সময় আমরা সতর্ক থেকেছি যেন জামায়াত-শিবিরের কেউ না ঢুকে পড়ে। কারণ আমরা জানতাম এক সময় আন্দোলনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য এভাবে ব্লেইম দেবে। প্রথমদিকে ছাত্রলীগ থেকে সমর্থন দেয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির দিন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির কয়েকজন নেতা হঠাৎ করে লাইব্রেরির সামনে বাধা দেয়। আমাকে মধুর ক্যান্টিনে নিয়ে যায়। বলা হয়, নেত্রী তো দাবি মেনেই নিছে। আবার আন্দোলন কেন? শূন্য পদ থেকে তো মেধাবীদের নিয়োগ দেয়া হবে। নেত্রীর আশ্বাসে আমরা শান্ত হই। হঠাৎ করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হলো, শূন্য পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটাধারীদের প্রাধান্য দেয়া হবে। কোটাধারীদের মধ্য থেকে পাওয়া না গেলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের থেকে নেয়া হবে। পরে আমরা সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগের চেষ্টা করি। প্রতিটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্মারকলিপি দেই। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও দেখা করার চেষ্টা করি। কিন্তু পারিনি। আমরা সবাইকে বোঝাতে চেষ্টা করি এটা সময়ের দাবি। এটা প্রয়োজন। মামুন আরো বলেন, এরপর হাইকোর্টের মোড়ে পুলিশ আমাদের ওপর টিয়ারশেল মারে। আমরা একটা ইটও ছুড়িনি। একটা গাছের পাতাও ছিঁড়িনি। ৮ই এপ্রিল শাহবাগ মোড়ে বসার পেছনে একটা কারণ ছিল। সেদিন জাতীয় সংসদের অধিবেশন ছিল। আমরা চেয়েছি সেখানে এ বিষয়টি উঠুক। সবাই আলোচনা করুক। আমাদের একটা আশ্বাস দিক। কয়েকজন সংসদ সদস্যের সঙ্গেও আলোচনা করি। সংসদে উপস্থাপনের জন্য বলি। কিন্তু তারা করেননি। পুলিশকে বলেছি, আমাদের আশ্বাস দেয়া হোক। কোটা সংস্কার করা হবে। এর মধ্যে আমরা অ্যাম্বুলেন্সসহ রোগীদের গাড়ি পারাপারের সুযোগ দেই। পরে সাড়ে ৭টার পর পুলিশ অ্যাটাক করলো। এমন ভাবে করলো ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। আমি ১০০টি রাবার বুলেট সংগ্রহ করি যেগুলো বিস্ফোরিত হয়নি। তিনি বলেন, আমরা এখন নিরাপদ নই। আমাদের নামে নানারকমের প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হচ্ছে। এসব অভিযোগের ভিত্তি নেই। বাংলাদেশে সবচেয়ে স্বচ্ছ একটা আন্দোলন করেছি। ভিসির বাসায় হামলার বিষয়েও আমরা জড়িত ছিলাম না। ভালো করে তদন্ত করলে সত্যটা বের হয়ে আসবে। যুগ্ম সমন্বয়ক মোহাম্মদ রাশেদ খান বলেন, ১৭ই ফেব্রুয়ারির পর বিভিন্ন কর্মসূচি দিয়েছি। ৮ই এপ্রিল কর্মসূচি দেয়ার আগে ১৪/১৫ দিনের একটা বিরতি দিই। বিরতি দেয়ার কারণ এই সময়টাতে দেশের মানুষকে আমরা আন্দোলন সম্পর্কে সচেতন করি। লিফলেট বিতরণ করি। পরে ৮ই এপ্রিল শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পুলিশ হামলা করে। ওইদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একটা অন্যরকম ইতিহাস তৈরি করেছে। এক ছাত্রের বিপদে আরেক ছাত্র এগিয়ে এসেছে। ছাত্রীরা এগিয়ে এসেছে। শাহবাগে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ টিয়ারশেল, গুলি ছুড়েছে এ খবর জানার পর হলে কেউ বসে থাকেনি। সবাই দলে বেঁধে শাহবাগে চলে এসেছে। যে তিন নেতাকে পুলিশ তুলে নিয়েছিল তাদের মধ্যে রাশেদ একজন। তিনি বলেন, গুম করার পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছিল। হাতকড়া পরানো হয়েছিল। কিন্তু মিড়িয়ায় প্রচার হওয়ার কারণে ছাড়া পেয়েছি। সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সুফিয়া কামাল হল থেকে ছাত্রীদের রাতের আঁধারে বের করে দিয়েছে হল প্রশাসন। এটা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে নারী নির্যাতন। যেটা বাংলাদেশে আগে হয়নি। ঘটনার প্রতিবাদে লাইব্রেরির সামনে প্রোগ্রাম করতে চেয়েছিলাম। সেখানে একটি মহল আগে থেকে অবস্থান নেয়। আমরা পরে বাধ্য হয়ে প্রোগ্রাম রাজু ভাস্কর্যে স্থানান্তর করি। সেখানেও বাধা দেয়। আন্দোলন করার অধিকার তো সংবিধানে স্বীকৃত। তারপরও কেন বাধা? একটি মহল আমাদের ভয়-ভীতি দেখাচ্ছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভয় দেখাচ্ছে। যাতে প্রোগ্রামে তারা না আসতে পারে। বিভিন্ন হল থেকে বের করে দিয়েছে। আতঙ্ক তৈরি করছে। ফেসবুকে একটা গ্রুপ খুলেছে। সেখানে আমাদের ছবি দিয়ে বলা হচ্ছে যেখানে পাওয়া যাবে সেখানে হামলা করা হবে। বিভিন্নভাবে গালিগালাজ করছে। রাশেদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করেছি। নিরাপত্তা চেয়েছি। কিন্তু প্রশাসন নিরাপত্তা দেয়ার ব্যবস্থা করেনি। বাইরে বের হলে কিছু লোক ফলো করে। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। অনিরাপদ রয়েছি। যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের নিরাপত্তা দিচ্ছে না তাই সরকারের কাছ থেকে আমরা নিরাপত্তা চাই। আমাদের আন্দোলন কোনো সরকার বিরোধী আন্দোলন ছিল না। সরকার বিরোধী কোনো স্লোগান দিইনি। রাজশাহী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের মারধর করা হয়েছে। প্রোগ্রাম করতে দেয়া হয়নি। তিনি বলেন, ফেসবুক আইডি খুলতে পারছি না। যে আইডি ছিল সেটি তারা রিপোর্ট করে, হ্যাকড করে নষ্ট করে দিয়েছে। পরে আইডি খোলার চেষ্টা করেছি। কিন্তু খোলার সঙ্গে সঙ্গেই তারা রিপোর্ট করে বন্ধ করে দেয়। সামাজিক মাধ্যমে যোগাযোগ করতে পারছি না। গেজেটের বিষয়ে রাশেদ বলেন, আমরা অপেক্ষা করছি। প্রধানমন্ত্রী দেশের বাইরে ছিলেন। তিনি দেশে এসেছেন। গেজেট প্রকাশের জন্য আমরা যথেষ্ট অপেক্ষা করেছি। দ্রুত গেজেট প্রকাশ না করলে কেন্দ্রীয় কমিটি বসে সিদ্ধান্ত নিয়ে জানানো হবে। মামলা উঠিয়ে নেয়ার জন্য আলটিমেটাম দেয়া আছে। কারণ অজ্ঞাতনামা মামলা দিয়ে রাঘব বোয়ালদের বাঁচিয়ে দিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের হয়রানি করবে। আলটিমেটাম শেষ হলে আমরা বসে সিদ্ধান্ত নেবো। আন্দোলনকে বানচাল করার জন্য ভিসির বাসায় হামলা চালানো হয়েছিল। এই হামলার সঙ্গে সাধারণ শিক্ষার্থীরা জড়িত না। আরেক যুগ্ম সমন্বয়ক নূরুল হক নূর গেজেট প্রকাশের বিষয়ে বলেন, আমরা চেয়েছি কোটা সংস্কার। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী কোটা বাতিল করে দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর ওপর আমাদের আস্থা আছে। তিনি এতদিন বাইরে ছিলেন। আশা করি দ্রুত গেজেট প্রকাশ করা হবে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটা আতঙ্ক কাজ করছে। কারণ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব, এইচ টি ইমামসহ আরো কয়েকজন বলেছেন, কোটা বাতিল হবে না। এটা সংস্কার করা হবে। যেখানে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন বাতিল করা হয়েছে সেখানে ওনারা এটা কিভাবে বলেন। এ নিয়ে সবার মধ্যে একটা দ্বিধা-দ্বন্দ্ব বা শঙ্কা রয়েছে। তবে আমরা বরাবরই বলে এসেছি মন্ত্রী বা সচিব কে কি বললো সেটা বিবেচনার বিষয় নয়। প্রধানমন্ত্রী যেহেতু বলেছেন তাই আমরা ধরে নিচ্ছি কোট পদ্ধতি বাতিল হচ্ছে। মামলা প্রত্যাহারের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা শুরু থেকেই বলে এসেছি সাধারণ শিক্ষার্থীরা ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িত নয়। ভিসির বাসায় হামলার ঘটনায় মিড়িয়াতে অসংখ্য নিউজ হয়েছে। প্রমাণ এসেছে। ভিডিও ফুটেজ রয়েছে। সেখানে অনেককে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের নামে মামলা দেয়া হোক। অজ্ঞাতনামা দিয়ে কোনো মামলা রাখা যাবে না। তিনি বলেন, ৮ই এপ্রিল রাতে পরিকল্পিতভাবে ক্যাম্পাসকে রণক্ষেত্র করা হয়েছে। বহিরাগত এনে রড, রামদা নিয়ে আক্রমণ করা হয়েছে শিক্ষার্থীদের ওপর। গুলি করা হয়েছে। যারা বহিরাগত নিয়ে এসেছে তাদের বিচার হওয়া উচিত। বহিরাগত কারা নিয়ে এসেছে সেটা মিড়িয়ায় এসেছে। এই বহিরাগতরাই ভিসির বাসায় হামলা চালিয়েছে। পুলিশের হামলার সময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েও পাননি বলে জানান নূর। তিনি বলেন, রাত ৯টার দিকে ভিসির বাসার সামনে যাই। হ্যান্ডমাইক দিয়ে ভিসি স্যারকে আহতদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে নির্যাতনের প্রতিবাদ জানাতে আহ্বান করি। আমরা বলেছি, স্যার আপনার সন্তানদের ওপর পুলিশ গুলি করছে, টিয়ারশেল মারছে। প্লিজ স্যার একটু আসেন। কিন্তু তিনি আসেননি। আমাদের সঙ্গে কথা বলেননি। ১৫ মিনিট বাসার সামনে অবস্থান করে পরে আমরা চলে আসি। অপর যুগ্ম সমন্বয়ক ফারুক হাসান বলেন, লাইব্রেরিতে যারা পড়তো তারাই এই আন্দোলন শুরু করে। পরে সবার মাঝে এটি ছড়িয়ে পড়ে। তিনি বলেন, আন্দোলনের এ পর্যায়ে এসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক কাজ করছে। অনেকে বলেছেন তাদের হুমকি দেয়া হয়েছে। ক্যাম্পাসে সবার মাঝে আতঙ্ক কাজ করছে। কেউ আগের মতো পড়াশোনা বা স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারছেন না। আমাদের তিনজনকে তুলে নেয়ার পর এই আতঙ্ক আরো বেড়েছে। যে কাউকেই তুলে নিয়ে যেতে পারে- এমন আতঙ্ক সবার মধ্যে কাজ করছে। তিনি আরো বলেন, মামলা প্রত্যাহারের আলটিমেটাম শেষ হলে কেন্দ্রীয় কমিটি বসে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানাবো।
গ্লোবাল উইমেনস লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড পাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
নারীর ক্ষমতায়ন, সমঅধিকার প্রতিষ্ঠা ও জাতীয় উন্নয়নে নারীকে মূল ধারায় সম্পৃক্ত করার স্বীকৃতি হিসেবে এ বছর ‘গ্লোবাল উইমেনস লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড’ পাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার সকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান মন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ২৭ এপ্রিল ‘গ্লোবাল সামিট অব উইমেন-২০১৮’-এ এই পুরস্কার দেওয়া হবে। ২৬ থেকে ২৮ এপ্রিলের এ সম্মেলনে যোগ দিতে অস্ট্রেলিয়া যাবেন প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ ছাড়া অস্ট্রেলিয়ায় ওই সফরে সিডনিতে কমনওয়েলথ হাউসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুলের সঙ্গে শিক্ষা, ক্রীড়া, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও বাণিজ্য, বিনিয়োগসহ দুদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা করবেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
প্রবাসেও ভোট হবে
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পরীক্ষামূলকভাবে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোট নেয়ার সুপারিশ করেছেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের পরিচালক। এর সুবিধা অসুবিধার বিষয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার কথা বলেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে এক সেমিনারে মূল প্রবন্ধে এ সুপারিশ করা হয়। সেমিনারের উদ্বোধন করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা। প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিকদের জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদান ও ভোটাধিকার প্রয়োগ শীর্ষক এ সেমিনারের আয়োজন করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়নের পর এটিএম শামসুল হুদার কমিশন ২০০৮ সালে এবং কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ নেতৃত্বাধীন কমিশন ২০১৪ সালে দুই দফা প্রবাসীদের ভোটাধিকার দেওয়ার বিষয়ে উদ্যোগ নেয়। কিন্তু পরে আর তা বাস্তবায়িত হয়নি। কে এম নূরুল হুদা নেতৃত্বাধীন বর্তমান কমিশন প্রবাসী ভোটার করতে নতুন করে উদ্যোগ নিয়েছে। তারই ধারবাহিকতায় এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে। ইসির জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক সাইদুল ইসলাম বলেন, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের জন্য নিবন্ধন প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে দূতাবাসে একটি কক্ষে লোকাল সার্ভার স্থাপন; প্রবাসীদের সংখ্যানুপাতে রেজিস্ট্রেশন টিম তৈরি করে কাজ এগিয়ে নেওয়া এবং নিবন্ধন কাজের জন্য যন্ত্রপাতি ও দক্ষ আইটি কর্মকর্তা নিয়োগে করতে হবে। জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক বলেন, প্রবাসে ভোটগ্রহণে প্রধান চ্যালেঞ্জ হচ্ছে- বিপুল সংখ্যক ভোটকেন্দ্র স্থাপন ও ব্যয়, ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা, সহিংসতা ঠেকানো, পোস্টাল ব্যালটের স্বচ্ছতা ও গোপনীয়তা রক্ষা। সাইদুল ইসলাম কয়েকটি সুপারিশ তুলেন ধরেন। তা হলো: প্রবাসেই ভোটদানের ব্যবস্থা, প্রাথমিকভাবে পোস্টাল ব্যালেটের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ, সচেতনতা বৃদ্ধিসহ আইনি কাঠামো তৈরি। জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক বলেন, পোস্টাল ভোট পদ্ধতিতে একজন প্রবাসী তার পছন্দমত যেকোনো জায়গা থেকে ভোট দিতে পারে। আবেদন করলে ওই ঠিকানায় আগে থেকে ব্যালেট সরবরাহ করা হয়। ভোট দেয়ার পর তা দেশে ডাকযোগে পাঠিয়ে দেয়া হয়। এ পদ্ধতি প্রবাসীদের জন্য ২০০৮ সাল থেকে চালু আছে।
তিন মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে জাতীয় পত্রিকার সম্পাদকরা
প্রস্তাবিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে সরকারের দুই মন্ত্রী ও এক প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বসেছে জাতীয় পত্রিকাগুলোর সম্পাদকদের সংগঠন সম্পাদক পরিষদ। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে এগারোটায় সচিবালয়ে আইন মন্ত্রনালয়ের সভাকক্ষে এই বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, ডাক টেলিযোগাযোগ এবং তথ্য যোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তফা জাব্বার এবং আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমদ পলক উপস্থিত আছেন। সম্পাদকদের মধ্যে আছেন নিউজ টুডের রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ, নিউ এজের নূরুল কবির, প্রথম আলোর মতিউর রহমান, ডেইলি স্টারের মাহফুজ আনাম, বাংলাদেশ প্রতিদিনের নঈম নিজাম, ইনকিলাবের এ এফ এম বাহাউদ্দিন এবং ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের এ এইচ এম মোয়াজ্জেম হোসেন। যুগান্তরের সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) সাইফুল আলম, সংবাদের খন্দকার মনিরুজ্জামান, বণিক বার্তার দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, কালের কণ্ঠের ইমদাদুল হক মিলন এবং নয়া দিগন্তের সম্পাদক আলমগীর মহিউদ্দিন বৈঠকে অংশ নিয়েছেন। গত ২৯ জানুয়ারি মন্ত্রিসভা প্রস্তাবিত আইনটিতে নীতিগত অনুমোদন দেয়। এই আইনটি পাস হলে বহুল আলোচিত তথ্য প্রযুক্তি আইনটির পাশাপাশি এর সমালোচিত ৫৭ ধারাও বিলোপ হবে। ৫৭ ধারা অনেক বেশি ব্যাপক এবং বিস্তৃত বলে অনলাইনে যে কোনো সমালোচনামূলক লেখনির বিরুদ্ধেই এই ধারা ব্যবহারের সুযোগ আছে বলে সমালোচনা আছে। প্রস্তাবিত আইনে ৫৭ ধারাকে আরও সুনির্দিষ্ট করে বিভিন্ন ধারায় সংযোগজ করা হয়েছে। তবে প্রস্তাবিত আইনের বিশেষ করে ৩২ ধারা নিয়ে গণমাধ্যম কর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই ধারাটির কারণে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে সমালোচনা করে আসছেন সাংবাদিকরা। এই ধারায় বলা আছে,যদি কোনো ব্যক্তি বেআইনি প্রবেশের মাধ্যমে কোন সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্বশাসিত বিধিবদ্ধ সংস্থার কোন গোপনীয় বা অতি গোপনীয় তথ্য-উপাত্ত কম্পিউটার বা ডিজিটাল ডিভাইস বা কম্পিউটার নেটওয়ারর্কে ধারণ, প্রেরণ, সংরক্ষণ করেন বা করতে সহায়তা করেন তাহলে সেটা হবে গুপ্তচরবৃত্তির অপরাধ। এই গুপ্তচরবৃত্তির সর্বোচ্চ শাস্তি ১৪ বছর জেল বা সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা জরিমানা। কেউ যদি এই অপরাধ দ্বিতীয়বার বা বারবার করেন, তাহলে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড ভোগ করতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকে অবশ্য নানা সময় এই ধারার কারণে সাংবাদিকরা স্বাধীন সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে বাধার সম্মুখীন হবেন না বলে আশ্বাস দেয়া হচ্ছে। আইনমন্ত্রী ও তথ্যমন্ত্রী একাধিকবার বলেছেন, প্রস্তাবিত আইনটি চূড়ান্ত নয়। এখানে সাংবাদিকদেরকে বিশেষ নিরাপত্তা দেয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন তারা। গত ৬ ফেব্রুয়ারি আদালত বিষয়ে সংবাদ সংগ্রহকারী সাংবাদিকদের সংগঠন 'ল রিপোর্টার ফোরাম এর সঙ্গে এর আলোচনায় আইনমন্ত্রী নিশ্চয়তা দেন, ৩২ ধারা স্বাধীন সাংবাদিকতায় বাধা হবে না। এই ধারায় কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হলে বিনা পয়সায় মামলা লড়ার ঘোষণাও দেন তিনি।
আরও দুই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদন পেল
অনুমোদন পেল আরও দুটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের অনুমোদন দিয়ে বুধবার আদেশ জারি করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ। নতুন দুই বিশ্ববিদ্যালয় হলো খুলনায় খানবাহাদুর আহছানউল্লা বিশ্ববিদ্যালয় এবং রাজশাহীতে আহছানিয়া মিশন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিবের রুটিন দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত সচিব মো. মহিউদ্দীন খান গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয় দুটি অনুমোদনের প্রস্তাব আগেই পাঠানো হয়েছিল। গতকাল মঙ্গলবার এই দুটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়। এ নিয়ে দেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা দাঁড়াল ৯৯টিতে। এ ছাড়া অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে আরও আটটি বিশ্ববিদ্যালয়। অনুমোদন পাওয়া দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ঢাকা আহছানিয়া মিশনের সভাপতি কাজী রফিকুল আলম। তিনি আহছানউল্লা ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির অনুমোদন নিয়ে ঢাকায় সেটি পরিচালনা করছেন। ২৩ শর্তে নতুন দুটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর আগে গত ২৯ জানুয়ারি জেড এন আর এফ ইউনিভার্সিটি অব ম্যানেজমেন্ট সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় নামে আরেকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এটি স্থাপন করা হবে রাজধানীর গুলশানে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোক্তা ড. এম. জুবায়দুর রহমান। মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন অনুমোদন পাওয়া বিশ্ববিদ্যলয়ের মধ্যে খুলনা খানবাহাদুর আহছানউল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঠিকানা দেখানো হয়েছে ১৪০ কেডিএ, খানবাহাদুর আহছানউল্লা সড়ক, ছোট বয়রা, সোনাডাঙ্গা, খুলনা। আর আহছানিয়া মিশন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ঠিকানা দেখানো হয়েছে ২১৬/১ তালাইমারি, পোস্ট- কাজলা, রাজশাহী। মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০১০-এর ৩৬ ধারা অনুযায়ী শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার প্রতিশ্রুতিতে একই আইনের ৭-এর ১ ও ২ ধারা অনুযায়ী ২৩টি শর্তে সাময়িকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় দুটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় দুটি স্থাপনের বিষয়ে নীতিগত সম্মতি দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর চূড়ান্ত অনুমোদন দিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে গত ২৯ মার্চ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিবের কাছে চিঠি পাঠানো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার মন্ত্রণালয় বিশ্ববিদ্যালয় দুটির অনুমোদন দেয়।
১ ঘণ্টা সময় বাঁচবে হবিগঞ্জ-ঢাকা সড়কে
এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল বলভদ্র নদীর উপর একটি ব্রিজ নির্মাণের। সবার দাবির মুখে অনেক প্রতিকূলতাকে জয় করে সেখানে একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হয়। এতে ঢাকার সঙ্গে সিলেটের সড়ক যোগাযোগ কমে যায় ৩৫ কিলোমিটার। ব্রিজটি ২০১৫ সালের ৮ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করেন। কিন্তু সড়কের অবস্থা ভাল না হওয়ায় সেই ব্রিজের সুফল থেকে বঞ্চিত ছিলেন এই এলাকার মানুষ। শুধু ছোট গাড়ি চলাচল করত এই সড়কে। অবশেষে এই আঞ্চলিক সড়কের সুফল পাওয়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। ওই সড়কের হবিগঞ্জ অংশের উন্নয়নে ১৪৬ কোটি টাকার কাজ শুরু হয়েছে। এই উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন করেন হবিগঞ্জ সদর-লাখাই আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. আবু জাহির। এতে ঢাকা-সিলেট সড়ক যোগাযোগে সময় বাঁচবে ১ ঘণ্টা। এলাকাবাসী জানান, অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে বলভদ্র নদীর উপর সেতু নির্মাণের মাধ্যমে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ৩৫ কিলোমিটার দূরত্ব কমিয়ে এনেছিলেন অ্যাডভোকেট মো. আবু জাহির। এবার শুরু হয়েছে রাস্তা উন্নয়নের কাজ। রাস্তাটি ব্যবহার করে হবিগঞ্জ তথা লাখাইবাসী ঢাকা গিয়ে দিনের কাজ দিনে শেষ করে ফিরতে পারবেন। হবিগঞ্জ-লাখাই সড়কে শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজসহ এ রাস্তা ব্যবহারে বাণিজ্যিকভাবে ব্যাপকভাবে এগিয়ে যাবে হবিগঞ্জ-লাখাই। হবিগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহিরুল ইসলাম জানান, হবিগঞ্জ অংশে ২৬.৫ কিলোমিটার সড়কের কাজ হবে। কাজ শেষ হবে ২০২০ সালে। এ কাজে সড়কের প্রস্থ হবে ১৮ মিটার। এ সময় ৪টি ব্রিজও নতুন করে নির্মাণ করা হবে। এই ব্রিজগুলোর সম্মিলিত দৈর্ঘ্য ১৬২ মিটার। হবিগঞ্জ অংশের চেয়ে সামান্য কম অর্থাৎ ২৫.১২৮ কিলোমিটার রাস্তা রয়েছে ব্রাহ্মণবাড়ীয়া অংশে। কিন্তু ব্রাহ্মণবাড়ীয়া সড়ক ও জনপথ বিভাগ এখনও ওই রাস্তার জন্য কোনো প্রকল্প গ্রহণ করেনি। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু এহতেশাম রাশেদ জানান, এখনও প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হয়নি। এর আগে ১শ কোটি টাকার একটি প্রাক্কলন করা হয়েছিল। এখনও যদি স্থানীয় সংসদ সদস্য ডিও লেটার দেন তাহলে প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হবে। হবিগঞ্জ-৩ আসনের এমপি অ্যাডভোকেট মো. আবু জাহির বলেন, হবিগঞ্জ-লাখাইর জনগণের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে বলভদ্র সেতু এনে দিয়েছি। এখন রাস্তাও নির্মাণ হচ্ছে। সেতুর স্থান নির্ধারণ নিয়ে এক সময় জটিলতা সৃষ্টি হলেও প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে সেই জটিলতা দূর করে সেতু নির্মাণ হয়েছে। অবশ্যই রাস্তাটি জনগণের ব্যবহারের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া অংশেরও কাজ হবে। এতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে চাপ কমবে এবং হবিগঞ্জের সঙ্গে ঢাকার সড়ক দূরত্ব হ্রাস পাবে।

জাতীয় পাতার আরো খবর