ঋণ কেলেঙ্কারি তদন্তে দুদক
জামানতবিহীন ও অস্বিত্বহীন জামানত রেখে অযোগ্য ব্যক্তি ও ভূঁইফোর কিছু প্রতিষ্ঠানকে অর্ধশত কোটি টাকার বেশি ঋণ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ ডেভেলমেন্ট ব্যাংক লিমিটেডের (বিডিবিএল) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। প্রতিষ্ঠানটির প্রাক্তন ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান পরিচালক ড. মো. জিল্লুর রহমানের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ খতিয়ে দেখতে মাঠে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরপরেই দুদকের সহকারী পরিচালক মো. গুলশান আনোয়ার প্রধানকে অনুসন্ধান কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। দুদকের ঊর্ধ্বতন একটি সূত্র জানিয়েছে, সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে এরই মধ্যে ৪টি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া ঋণ সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র তলব করে পৃথক ৩টি চিঠি দিয়েছেন ওই কর্মকর্তা। যা আগামী ৫ জুলাইয়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রের মূলকপি সংরক্ষণর্পূবক সত্যায়িত ছায়ালিপি সরবরাহের জন্য ব্যাংকটির বর্তমান এমডিকে অনুরোধ করা হয়েছে। তলবকৃত নথিপত্রের মধ্যে রয়েছে- বাংলাদেশ ডেভেলমেন্ট ব্যাংক লিমিটেডের প্রিন্সিপাল শাখার গ্রাহক এম এম ভেজিটেবলের অ্যাকাউন্ট ওপেনিং ফর্ম, ব্যাংক স্টেটম্যান্ট, এমও ইউ, উক্ত গ্রাহকের ঋণের আবেদনপত্র, শাখার সুপারিশ, ক্রেডিট কমিটির অনুমোদন, পরিচালনা পর্ষদের ৬৫ ও ৬৬তম সভায় উপস্থাপিত বোর্ড মেমো এবং বোর্ড রেজ্যুলেশনপত্র এবং শাখায় প্রেরিত সেংশন অর্ডার। উক্ত ঋণ ও এলটিআর বিপরীতে শাখায় সংগৃহীত জামানত, ঋণের বিপরীতে জামানত হিসাবে ১২ কোটি টাকার এফডিআরসংক্রান্ত রেকর্ডপত্র। এছাড়া, ওই গ্রাহকের ওপর বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্ত প্রতিবেদনের সত্যায়িত কপি (২০১৩, ২০১৪) এবং উক্ত ব্যাংকের প্রিন্সপাল শাখার উক্ত গ্রাহকের ওপর ওই ব্যাংকের নিজস্ব ইন্টারনাল তদন্ত প্রতিবেদন এর সত্যায়িত কপি। দ্বিতীয় চিঠিতে তলবকৃত নথিপত্রের মধ্যে রয়েছে- বিডিবিএলের প্রিন্সিপাল শাখার গ্রাহক ঢাকা ট্রেডিং হাউজের অ্যাকাউন্ট ওপেনিং ফর্ম, ব্যাংক স্টেটম্যান্ট, এমও ইউ, উক্ত গ্রাহকের ঋণের আবেদনপত্র, শাখার সুপারিশ, ক্রেডিট কমিটির অনুমোদন, পরিচালনা পর্ষদের ৬৩তম সভায় উপস্থাপিত বোর্ড মেমো এবং বোর্ড রেজ্যুলেশনপত্র এবং শাখায় প্রেরিত সেংশন অর্ডার। ওই ঋণ ও এলটিআর বিপরীতে শাখায় সংগৃহীত জামানত সংক্রান্ত রেকর্ডপত্র। উক্ত শাখায় ওই গ্রাহকের ২০১২ সালের ৪ মার্চের এলটিআরের আবেদন, শাখার প্রস্তাব, বোর্ড অনুমোদনপত্র, এসব বিষয়ক স্থানীয় এলসিসংক্রান্ত শাখার প্রস্তাব থেকে প্রধান কার্যালয়ের অনুমোদন। একই বছরের ২৯ এপ্রিলে গ্রাহকের ৩০ কোটি টাকার এলসিসংক্রান্ত আবেদন, শাখার নোটিং থেকে প্রধান কার্যালয়ের অনুমোদন (বিশষত ৩২ পৃষ্ঠার নোটিংসহ), এলসিসংক্রান্ত সেট অব ডকুমেন্টস (শিপিং ডকুমেন্টস, ইনভয়েস, ট্রাক চালান, মালামাল গ্রহণের রিসিপ্ট) শাখার এলসি বিপরীতে একসেপটেন্স লেটারের সত্যায়িত কপি। গ্রাহক মেসার্স ঢাকা ট্রেডিং হাউজের সঙ্গে ডিরেক্টর জেনারেল অব ফুডস, খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ সরকারের সম্পাদিত এমওইউ (স্থানীয় বাজার থেকে ১৫০০০ মেট্রিক টন গম সংগ্রহের) এর সত্যায়িত কপি, উক্ত ব্যাংকের প্রিন্সিপাল শাখার গ্রাহকের উপর অডিট ফার্ম জি. কিবরিয়া অ্যান্ড কোম্পানির ২০১৪ সালের ২০ নভেম্বর থেকে ২০১৫ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত অডিট প্রতিবেদনের সত্যায়িত কপি। গ্রাহকের ওপর বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্ত প্রতিবেদনের সত্যায়িত কপি। (২০১৪, ২০১৫) এবং উক্ত ব্যাংকের প্রিন্সপাল শাখার উক্ত গ্রাহকের ওপর ওই ব্যাংকের নিজস্ব ইন্টারনাল তদন্ত প্রতিবেদন এর সত্যায়িত কপি (২০১৪, ২০১৫)। সর্বশেষ চিঠিতে তলবকৃত নথিপত্রের মধ্যে রয়েছে- বাংলাদেশ ডেভেলমেন্ট ব্যাংক লিমিটেডের প্রিন্সিপাল শাখার গ্রাহক টাটকা অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেডের অ্যাকাউন্ট ওপেনিং ফর্ম, ব্যাংক স্টেটম্যান্ট, এমও ইউ, উক্ত গ্রাহকের ঋণের আবেদনপত্র, শাখার সুপারিশ, ক্রেডিট কমিটির অনুমোদন, পরিচালনা পর্ষদের ৪৫তম সভায় উপস্থাপিত বোর্ড মেমো এবং বোর্ড রেজ্যুলেশন পত্র এবং শাখায় প্রেরিত সেংশন অর্ডার। উক্ত ঋণ বা এলটিআর বিপরীতে শাখায় সংগৃহীত জামানতসংক্রান্ত রেকর্ডপত্র। প্রস্তাবিত ঋনের বিপরীতে জামানত হিসেবে বন্ধকী সম্পত্তির ওপর ব্যাংক আল-ফালাহর গুলশান শাখার ২০১১ সালের ১৪ নভেম্বরের অসম্মতিবিষয়ক কপি। এ এইচ জেড এগ্রো ইন্ড্রাট্রিজ প্রাইভেট লিমিটেডের অনুকূলে গ্রাহকের ক্যাশ ক্রেডিট বাবদ আবেদন, শাখার প্রস্তাব, ক্রেডিট কমিটির সুপারিশসংক্রান্ত প্রস্তাব বা অনুমোদন, ২০১১ সালের ১৪ নভেম্বরের পরিচালনা পষর্দে উপস্থাপিত বোর্ড মেমো, বোর্ড রেজ্যুলেশন, একইভাবে ২০১১ সালের ৫ ডিসেম্বরের পরিচালনা পষর্দে উপস্থাপিত বোর্ড মেমো, বোর্ড রেজ্যুলেশন, শাখার প্রেরিত সেংশান অর্ডার, ১৮ কোটি ৪২ লাখ টাকা উত্তোলন এবং কীভাবে বিতরণ হলো এর তথ্যাদি, লেনদেনসংক্রান্ত তথ্যাদি ও প্রতিবেদন। এছাড়া ওই শাখার গ্রাহকের ওপর ওই ব্যাংকের নিজস্ব ইন্টারনাল তদন্ত প্রতিবেদন এর সত্যায়িত কপি।
বিদেশিদের নিরাপত্তা ভীতি এখন আর নেই হলি আর্টিজানে
আলোচিত রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারির ভয়াবহ জঙ্গি হামলার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিক ও কূটনীতিকদের মধ্যে যে নিরাপত্তা ভীতি তৈরি হয়েছিল, তা এখন আর নেই। সরকারের নেওয়া নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আস্থাও প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশে অবস্থানরত বিদেশিরা। এছাড়া হলি আর্টিজান বেকারির ভয়াবহ হামলার দুই বছরের ব্যবধানে কূটনৈতিক জোনে শক্তিশালী নিরাপত্তা বলয় তৈরি করতেও সক্ষমও হয়েছে সরকার। গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে ২০১৬ সালের ১ জুলাই ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় বিদেশি নাগরিকসহ বেশ কয়েকজন নিহত হন। এছাড়া সন্ত্রাসীদের ভয়াবহ হামলায় দুই পুলিশ কর্মকর্তাও প্রাণ হারান। পরে অবশ্য যৌথবাহিনীর অভিযানে হামলাকারী ছয় জঙ্গিও নিহত হয়। হলি ‍আর্টিজানে হামলার পরে বাংলাদেশে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিক ও কূটনীতিকদের মধ্যে নিরাপত্তা ভীতি তৈরি হয়েছিল। অনেক বিদেশি নাগরিকই আরো হামলার আশঙ্কায় বাংলাদেশ ত্যাগ করেছিলেন। বেশ কয়েকজন বিদেশি কূটনৈতিকও ঢাকার মিশন থেকে বদলি হয়ে অন্যান্য দেশে চলে যান। ফলে এ নিয়ে সরকারের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি হয়। হামলার পরে বিদেশি নাগরিক ও কূটনৈতিক জোনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিতে জোর দাবি ওঠে। কূটনীতিকদের দাবি, অনুযায়ী রাজধানীর কূটনৈতিক জোনের নিরাপত্তা ঢেলে সাজিয়েছে সরকার। এছাড়া বিদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তার লক্ষ্যে পৃথক ডাটাবেজও তৈরি করা হয়েছে। সে অনুযায়ী তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়। তাছাড়া সরকার বিদেশি কূটনীতিকদের জন্য বুলেট প্রুফ গাড়ি ও সাদা নম্বর প্লেট ব্যবহারেরও নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে নিরাপত্তার জন্য সশস্ত্র আনসারদেরও ভাড়া নিতে পারছেন এখন ঢাকার দূতাবাসগুলো। হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলায় ইতালি ও জাপানের ১৬ জন নাগরিক নিহত হন। সে কারণে এই দেশ দুইটির পক্ষ থেকে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ছিল সবচেয়ে বেশি। তবে হামলার পরে গত বছর ২৪ মে ঢাকা সফর করেন জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি-জাইকার প্রেসিডেন্ট ড. শিনিচি কিতাওকা । তিনি জঙ্গি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ এবং বাংলাদেশে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের ক্ষেত্রে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের বিষয়ে অবহিত হয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার অ্যালিসন ব্লেক বলেছেন, হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার পর বাংলাদেশে নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। সরকারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের প্রেক্ষিতে বিদেশিদের আস্থা ফিরে এসেছে বলেও মনে করেন তিনি ।
কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা রাশেদ গ্রেপ্তার
সরকারী চাকরিতে কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা, বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম শাখার প্রধান (ডিসি) কমিশনার মাসুদুর রহমান জানান, রাশেদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে এ মুহূর্তে বিস্তারিত বলা যাচ্ছে না। শাহবাগ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল হাসান জানান, রোববার সকালে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় আইন বিষয়ক সম্পাদক আল নাহিয়ান খান জয় বাদী হয়ে শাহাবাগ থানায় তথ্য-প্রযুক্তি আইনে মামলা দায়ের করেন। আগে সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন গণমাধ্যমকে জানান, রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাশেদকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রসঙ্গত, চাকরিতে কোটা প্রথা বাতিল করে সরকারি ঘোষণা বাস্তবায়ন না করায় শনিবার বেলা ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে সংবাদ সম্মেলন ডাকে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। সংবাদ সম্মেলন শুরুর আগ মুহূর্তে কোটা আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালায় ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। এতে পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল্লাহ নূরসহ সাত শিক্ষার্থী আহত হন।
জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্থনি গুতেরেস বাংলাদেশ সফরে আসছেন রোববার
জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্থনি গুতেরেস বাংলাদেশ সফরে আসছেন রোববার (১ জুলাই)। রোহিঙ্গাদের মর্যাদাসহ স্বেচ্ছায় ও নিরাপদে স্বদেশে ফিরে যাওয়ার অগ্রগতি পর্যালোচনা করবেন তিনি। জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র সেন্ট ফানে ডুজারিক এ কথা জানান। খবর বাসস’র গত অক্টোবরের পর থেকে প্রায় ৭ লাখের অধিক রোহিঙ্গা জীবন বাঁচাতে তাদের আবাস ভূমি ছেড়ে পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। মিয়ানমারের সেনাসদস্যদের বর্বরোচিত হত্যাকান্ড এবং নির্যাতনের মুখে তারা দেশ ছেড়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বৃহস্পতিবার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র ডুজারিক সাংবাদিকদের বলেন, জাতিসংঘ মহাসচিব মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের অবস্থা সরাসরি দেখতে আগামী ১ জুলাই (রোববার) ঢাকা আসছেন। তিনি বিশ্ব ব্যাংক গ্রুপ প্রেসিডেন্ট ড. জিম ইয়াং কিমের সঙ্গে যৌথ সফরে আসছেন। তারা ঢাকা সফরকালে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা নতুন রোহিঙ্গাদের অবস্থা এবং আন্তর্জাতিক মানে নিরাপদে তাদের আবাস ভূমিতে ফিরে যাবার ক্ষেত্রে অগ্রগতি পর্যালোচনা করবেন। তিনি বলেন, তারা ২০১৭ সালের পর থেকে রেহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মহানুভবতা তুলে ধরবেন। তাদের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ে সহায়তা কতটা প্রয়োজন তাও তুলে ধরবেন। তাদের ঢাকা সফরে আসার লক্ষ্য হচ্ছে, রোহিঙ্গাদের জন্য মধ্য মেয়াদি পরিকল্পনা বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের সাথে আরো আলোচনার ক্ষেত্র তৈরি এবং সংকট নিরসনের উপায় খুজে বের করতে জাতিসংঘ ও বিশ্ব ব্যাংকের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করা। জাতিসংঘ মহাসচিব এবং বিশ্ব ব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও অন্যান্য পদস্থ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করবেন। তারা রোহিঙ্গা শিবির পরিদশর্নে ২ জুলাই কক্সবাজারে যাবেন। তাদের সঙ্গে জাতিসংঘের শরনার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার ফিলিপপো গ্রান্ডি এবং জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের নির্বাহী পরিচালক ড. নাটালিয়া কানেমও থাকবেন। জাতিসংঘ মহাসচিব ৩ জুলাই নিউইয়র্ক ফিরে যাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
সংসদে নতুন ২০১৮-১৯ অর্থ বছরের বাজেট পাস
সরকারি ও বিরোধী দলের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে নির্দিষ্টকরণ বিল পাসের মধ্য দিয়ে জাতীয় সংসদে নতুন ২০১৮-১৯ অর্থ বছরের বাজেট পাস হয়েছে। বৈষম্য দূর করে টেকসই উন্নয়ন করার লক্ষ্য নিয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সর্বোচ্চ ৫ লাখ ৭১ হাজার ৮৩৩ কোটি ৮২ লাখ ৯২ হাজার টাকা ব্যয়ের অনুমোদন নিতে নির্দিষ্টকরণ বিল-২০১৮ পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করেন। পরে কণ্ঠভোটে সর্বসম্মতিতে তা পাস হয়। এরআগে মঞ্জুরি দাবির উপর আলোচনার সুযোগ নিয়ে বিরোধী দল জাতীয় পার্টি ও স্বতন্ত্র এমপিরা শিক্ষাখাতে অনিয়ম-দুর্নীতি, অবকাঠামোগত উন্নয়নে ব্যর্থতা, জনগণের স্বাস্থ্য সেবা সংকট, দুর্যোগ মোকাবেলা প্রস্তুতির অভাব ও রেলখাতের অব্যবস্থাপনার পাশাপাশি সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করেন। বৃহস্পতিবার সকালে শুরু হওয়া সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদসহ সরকারী বিরোধী দলের অধিকাংশ সদস্যের উপস্থিতিতে অধিবেশনে প্রস্তাবিত বাজেটের উপর ৫৯টি মঞ্জুরি দাবি বিপরীতে ৪৪৮টি ছাঁটাই প্রস্তাব আনা হয়। সরকার ও বিরোধী দলের হুইপের মধ্যে সমঝোতা অনুযায়ী ৫টি মঞ্জুরি দাবি আলোচনার সিদ্ধান্ত হয়। এই আলোচনায় অংশ নেন জাতীয় পার্টির মো. ফখরুল ইমাম, কাজী ফিরোজ রশীদ, নূরুল ইসলাম ওমর, মোহাম্মদ আব্দুল মুনিম চৌধুরী, নূরুল ইসলাম মিলন, সেলিম উদ্দিন ও বেগম রওশন আরা মান্নান এবং স্বতন্ত্র সদস্য ডা. রুস্তম আলী ফরাজী। দীর্ঘ প্রায় চার ঘণ্টা আলোচনা শেষে দেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ বাজেট পাস হয়। এরআগে আলোচনা শেষে মঞ্জুরী দাবিগুলো কণ্ঠভোটে সংসদে গৃহীত হয়। এরপর অর্থমন্ত্রী ‘নির্দিষ্টকরণ বিল-২০১৮’ পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করলে সর্বসম্মতিতে তা পাস হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সরকারী দল ও বিরোধী দলের সদস্য টেবিল চাপড়িয়ে ইতিহাসের সর্ববৃহৎ বাজেট বাস্তবায়নের যাত্রাকে স্বাগত জানান। বাজেট পাসের পর অর্থমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে সন্ধ্যায় আয়োজিত ডিনারে যোগদানের জন্য সকল সদস্যকে আমন্ত্রণ জানান। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত গত ৭ জুন জাতীয় সংসদে ‘সমৃদ্ধ আগামীর পথযাত্রা’ শিরোনামে ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট উত্থাপন করেন। প্রস্তাবিত বাজেটের উপর সাধারণ আলোচনা গত ১০ জুন থেকে শুরু হয়। গত ২৭ জুন বুধবার সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেষ হাসিনার বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে সাধারণ আলোচনা শেষ হয়। এরপর বুধবার রাতে সংসদে অর্থবিল-২০১৮ পাস হয়। যে বিলে কর-সংক্রান্ত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আর নির্দিষ্টকরণ বিল পাসের মাধ্যমে সংসদ কর্তৃক অনুমোদিত ৫ লাখ ৭১ হাজার ৮৩৩ কোটি ৮২ লাখ ৯২ হাজার টাকার মধ্যে সংসদের ওপর দায় এক লাখ ৪৬ হাজার ১৪৭ কোটি ৬২ লাখ ৯৫ হাজার টাকা। এই টাকা অনুমোদনের জন্য কোন ভোটের প্রয়োজন হয় না। সরাসরি সংসদ এই টাকা অনুমোদন করে। অবশিষ্ট ৪ লাখ ২৫ হাজার ৬৮৬ কোটি ১৯ লাখ ৯৭ হাজার টাকা ভোটের মাধ্যমে সংসদে গৃহীত হয়। জাতীয় সংসদে পাসকৃত এই বাজেটটি মুলত গ্রস বাজেট। বিভিন্ন দাতা সংস্থা ও অন্যান্য খাতে বাজেটে সরকারের অর্থ বরাদ্দের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু এই অর্থ কখনো ব্যয় হয় না। যা বাজেটের আয় ব্যয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে হিসাবে মেলানো হয়। এই বাধ্যবাধকতার কারণে এবারের বাজেটেও এক লাখ ৪৬ হাজার ১৪৭ কোটি ৬২ লাখ ৯৫ হাজার টাকা বাজেটে অতিরিক্ত বরাদ্দ রাখা হয়েছে। যা ব্যয় হবে না। পহেলা জুন জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী যে ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকার বাজেট উত্থাপন করেছেন, সেটাই ব্যয় হবে। সেটাই আগামী অর্থবছরের নীট বাজেট।
সরকারের সুষ্ঠু নির্বাচনের অঙ্গিকার দেখতে চায় যুক্তরাষ্ট্র
বাংলাদেশে শক্তিশালী গণতন্ত্র ও অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার জন্য গ্রহণযোগ্য এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অপরিহার্য বলে মনে করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা স্টিফেনস ব্লুম বার্নিকাট। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ কূটনৈতিক সংবাদদাতা সমিতি (ডিকাব)’র অনুষ্ঠানে এসে তিনি এ কথা বলেন। মার্শা বার্নিকাট বলেন, খুলনা-গাজীপুরের সিটি নির্বাচনে ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানো, বিরোধীদলের পোলিং এজেন্টদের হয়রানি ও ভোটগ্রহণে অনিয়মের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র উদ্বিগ্ন। সরকারের সুষ্ঠু নির্বাচনের অঙ্গিকার দেখতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। বার্নিকাট আরো বলেন, বাংলাদেশ সরকার সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ করতে বদ্ধপরিকর। আমরা সরকারের এ প্রতিজ্ঞার বাস্তবায়ন দেখতে চাই। বাংলাদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন, মুক্ত গণমাধ্যমের ওপর গুরুত্ব এবং বিরোধীদলের রাজনৈতিক অবস্থানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তিনি বলেন, গণতন্ত্র তখনই উন্নত হয়, যখন সকল জনগণ এতে সস্পৃক্ত হয়। বিরোধী দলের অনেক নেতা গ্রেফতার হয়েছে। শুধু নির্বাচনের আগে নয় বেশ কয়েক বছর ধরেই এমন হচ্ছে। মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে সর্বাত্বক সহযোগী হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশে নারীর উন্নয়ন, খাদ্য উৎপাদনসহ বিভিন্ন বিশ্বে অনুসরণীয়। যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ এশিয়ার শান্তি রক্ষার্থে বেশ বাংলাদেশের সঙ্গে কিছু সামরিক প্রদর্শন করে। সন্ত্রাস একটি বিশ্ব সংকট। এটি মোকাবিলায় সকলে একসঙ্গে কাজ করে যাবে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এ দেশে বিনিয়োগে অন্যতম পার্টনার। জ্বালানীসহ বিভিন্নখাতে বিনিয়োগকারীরা আরো এগিয়ে যাবে। মাদক সকল আইন বিরোধী কাজের উৎস। এ মাদকমুক্ত সমাজ করতে হলে এর মূল পাণ্ডাকে ধরতে হবে। না হলে মাদক বিরোধী অভিযান সফল হয়না। অনুষ্ঠানে ডিক্যাবের সভাপতি রেজাউল করিম লোটাস এবং সাধারণ সম্পাদক মাহফুজ মিশু বক্তব্য দেন।
মদিনায় সড়ক দুর্ঘটনায় তিন বাংলাদেশি নিহত
মদিনায় মহানবী হজরত মুহম্মদ (সা.)-এর পবিত্র রওজা মোবারক জিয়ারত শেষে দেশে ফিরে আসতে মদিনা থেকে জেদ্দা এয়ারপোর্টে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় ৩ জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ৬ জন। এই নয় জন ওমরা হজ্জ যাত্রীর মধ্যে একই পরিবারের ৪ জন ছিল। মঙ্গলবার সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে জেদ্দা এয়ারপোর্টে যাওয়ার পথে মদিনা থেকে দুইশত কিলোমিটার পথ অতিক্রম হওয়ার পর তাদের বহনকারী মাইক্রোবাসের চাকা বিস্ফোরিত হলে গাড়িটি উল্টে যায়। ঘটনাস্থলেই তিনজন মারা যান। নিহতরা হলেন- ঢাকার মিরপুরের পুরাতন কচুক্ষেতের জুলহাস (৫০), ঢাকার মোহাম্মদপুরের রাশেদ (৬৫) ও গোপালগঞ্জের আবুল বাশার (৬০)। আহতরা হলেন- রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকার এস এম আবুল খায়ের (৪১), মোহাম্মদপুরের তারিফ ইরতিজা (১২), মোমতাহিন ইসলাম (১৮) ও মোসতারা আক্তার (৪৩), ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার নাজমুল (৩৯) এবং মানিকগঞ্জের শফিউল আলম (৩৬)। আহতদের মদিনা মালিক ফাহাদ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে তিন জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তারা আইসিওতে রয়েছেন। এনজাল ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে ওমরা করতে সৌদি আরব যান তারা। সৌদি এয়ারলাইনস করে মঙ্গলবার বিকেল ৪টা ৩৫ মিনিটে দেশে যাওয়ার কথা ছিল হতাহতদের।
মাদকবিরোধী অভিযানে আটক ৩৮
চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে রাজধানীর পান্থপথ ও কাঁঠালবাগান এলাকায় ৩১ জনকে আটক করেছে পুলিশ। এছাড়া খিলগাঁও এলাকা হতে ১৮ হাজার পিস ইয়াবাসহ ৫ নারীসহ ৭ জনকে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার রাত ৮টায় কাঠালবাগান পান্থপথ এলাকায় এ অভিযান শুরু হয়ে চলে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত। রমনা বিভাগের উপ কমিশনার মারুফ হোসেন সরদার জানান, অভিযানে ইয়াবাসহ অন্যান্য মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে। মাদকবিরোধী অভিযানের ফলে ব্যবসায়ীরা কোন ঠাসা হয়ে পড়েছে। এরপরেও কেউ কেউ পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে মাদক বিক্রি ও সেবনের চেষ্টা করছে। কাউকেই ছাড় দেয়া হচ্ছে না। বিক্রেতা ও সেবনকারী সবাইকে আটক করা হয়েছে। মতিঝিল বিভাগের উপ কমিশনার আনোয়ার হোসেন বলেন, খিলগাঁও থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ১৮ হাজার ১৫০ পিস ইয়াবা জব্দ করেছে। সেই সঙ্গে পাঁচ নারী মাদক বিক্রেতাসহ সাত জনকে আটক করা হয়েছে।

জাতীয় পাতার আরো খবর