তথ্য অধিকার আইন জনগণকে ক্ষমতায়ন করেছে
প্রধান তথ্য কমিশনার মরতুজা আহমদ বলেছেন, তথ্য অধিকার আইন জনগণকে ক্ষমতায়ন করেছে এবং জনগণের তথ্য জানার অধিকারকে আইনগত স্বীকৃতি দিয়েছে। আজ রাজধানীর আগারগাঁওয়ের তথ্য কমিশন মিলনায়তনে ‘তথ্য অধিকার আইন ২০০৯’ বিষয়ে প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধকালে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। প্রধান তথ্য কমিশনার বলেন,তথ্য অধিকার আইন দেশের একটি অনন্য আইন। অন্য সকল আইন কর্তৃপক্ষ জনগণের উপর প্রয়োগ করে জনগণকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য। তথ্য অধিকার আইনই একমাত্র আইন যেটি জনগণ কর্তৃপক্ষের উপর প্রয়োগ করে। তিনি বলেন, রাষ্ট্রযন্ত্রের সকল স্তরে স্বচ্ছতা আনয়ন, জবাবদিহিতা নিশ্চিত এবং দুর্নীতি হ্রাসের মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় তথ্য অধিকার আইন গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করতে পারে। তথ্য কমিশনার নেপাল চন্দ্র সরকার ও তথ্য কমিশনার সুরাইয়া বেগম আইনটির উৎপত্তি, কীভাবে তথ্য প্রাপ্তির আবেদন করতে হয়, কীভাবে আপিল করতে হয়, কীভাবে অভিযোগ দায়ের করতে হয়, তথ্য প্রদান না করলে কী শাস্তির বিধান রয়েছে এসব বিষয়ে প্রশিক্ষণার্থীদের ধারণা দেন। তথ্য কমিশনের দু’দিনব্যাপী এ কর্মশালায় দেশের ৩৪জন কমিউনিটি রেডিও এর স্টেশন ম্যানেজার ও প্রোগ্রাম প্রোডিউসার অংশগ্রহণ করছেন।বাসস
বিএনপি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না : হানিফ
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেছেন, বিএনপি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেনা। তারা ষড়যন্ত্র করে পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় যেতে চায়। তিনি বলেন, বিএনপি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না বলে নির্বাচনে না আসাতে নানা প্রকার ফন্দি এঁটে চলেছে। তারা চায় দেশের এই শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিনষ্ট করে পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় যেতে। কিন্তু বাংলার মাটিতে তাদের সেই স্বপ্ন পূরণ হবে না। ’ হানিফ আজ সকালে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ মিলনায়তনে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহাতাব উদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম, প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন। বর্ধিত সভায় আরও বক্তব্য রাখেন নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন প্রমুখ। হানিফ বলেন শেখ হাসিনার সাড়ে ৯ বছরের শাসনামলে দেশ আজ উন্নতির শিখরে অবতীর্ণ হয়েছে। সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ এবং মাদকের মত মরণব্যাধির বিরুদ্ধে শেখ হাসিনা দেশব্যাপী যে দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন তা ইতোমধ্যে দেশে এবং বহিঃবিশ্বে সুনাম বৃদ্ধি করেছে।’ ‘বিএনপি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থেকে দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করেছে’ উল্লেখ করে হানিফ বলেন ‘অসহযোগ আন্দোলনের নামে বিএনপি সারাদেশে যে আগুন সন্ত্রাস এবং পেট্টোল বোমা মেরে নিরীহ জনগণ হত্যা ও জাতীয় সম্পদ বিনষ্ট করে যে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিলো, জনগণ তা আজাও ভুলে যায়নি।’ হানিফ তৃলমূল পর্যায়ে দলকে সংগঠিত করে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেখ হাসিনার মনোনীত প্রার্থীকে বিজয়ী করতে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখার জন্য দলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান। হাসান মাহমুদ বলেন ‘বিএনপি দেশের সুনাম নষ্ট করতে দেশ ও দেশের বাইরে গিয়ে শুধু সরকারের সমালোচনায় ব্যস্ত থাকে। তাদের দলীয় কার্যালয়ে শুধু ফটো সেশনের মাধ্যমে রাজনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালিত হচ্ছে। জনগণ আজ তাদের সাথে নেই। তাই তারা নির্বাচনকে ভয় পায়।বাসস
৫৬০টি মডেল মসজিদ নির্মাণের কার্যক্রম শুরু হয়েছে
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ইতোমধ্যে ৮ হাজার ৭২২ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি করে ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামকি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আজ সংসদে তাঁর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে জাতীয় পার্টির রুস্তম আলী ফরাজীর এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগের ২০১৪ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি করে উন্নত মসজিদ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি ছিল। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১৫ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি ধর্ম মন্ত্রণালয় পরিদর্শনকালে নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় লাইব্রেরি, গবেষণা কক্ষ, ইসলামিক সাংস্কৃতিক কার্যক্রম, শিশু শিক্ষা কার্যক্রম এবং পুরুষ ও মহিলাদের পৃথক নামাজ কক্ষ, মেহমানদের আবাসন ব্যবস্থা, বিদেশী পর্যটকদের পরিদর্শনের ব্যবস্থা, হজ যাত্রীদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ইত্যাদি সুবিধাসহ মডেল মসজিদ কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য নির্দেশ দেয়া হয়। তিনি বলেন,২০১৮ সালের ৫ এপ্রিলে প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি করে ৫৬০টি মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন প্রকল্পের আওতায় ৯টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মাধ্যমে আমি এ প্রকল্পের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করি। শেখ হাসিনা বলেন, ৯টি মডেল মসজিদ নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে ১শটি মডেল মসজিদের নির্মাণ কাজ এ বছর শুরু করা হবে। পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে অবশিষ্ট মসজিদসমূহ নির্মাণ করা হবে।
বিএনপি জিতলে আছি, হারলে নাই
গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে অনিয়ম, জাল ভোট, কারচুপির অভিযোগ আনায় বিএনপির সমালোচনা করেছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। বুধবার সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, দুর্ভাগ্যজনক বিষয় হলো, বিএনপি তাদের পুরোনো কৌশল জিতলে আছি, হারলে নাই এই নীতি থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি। আজ বুধবার সকালে ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগের সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় নয়টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়। পরে আজ বুধবার সকালে এ সিটির ৪২৫টির মধ্যে ৪১৬টি কেন্দ্রের ফল নিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা রকিব উদ্দিন মণ্ডল জাহাঙ্গীর আলমকে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করেন। ফলাফল ঘোষণার কিছু পরেই বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, গাজীপুরে নির্বাচনের নামে তামাশা করেছে সরকার ও নির্বাচন কমিশন। নতুন নতুন রূপে ভোট ডাকাতির ফর্মুলা আবিষ্কার করছে, যাতে ফলাফল নিজেদের পক্ষে নিয়ে ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে পারে। আমরা গাজীপুরের ভোটের ফলাফল ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছি। এবং নির্বাচন বাতিল করে পুনরায় নির্বাচনের দাবি জানাচ্ছি। অন্যদিকে গাজীপুর সিটি করপোরেশনে বিএনপির প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার দাবি করেছেন, একজন উচ্চ আদালতের বিচারক দিয়ে একটি গণশুনানি হোক। এই গণশুনানিতে কী বেরিয়ে আসে, গোটা জাতি তথা বিশ্ববাসী দেখুক। হাসান উদ্দিন সরকারের এই দাবিকে আজগুবি বলে মন্তব্য করেছেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, বিএনপি মহাসচিব ও অন্য দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ, জনগণের রায়কে গ্রহণ না করে ও নির্বাচনের ফলাফলকে প্রত্যাখ্যান করে, মিথ্যা, বানোয়াট ও আজগুবি তথ্য জাতির সামনে উত্থাপন করছে। আজকে আবার শুনলাম, তারা আদালতকে বলেছে গণশুনানি করার জন্য। সব আজগুবি বিষয়গুলো, উদ্ভট বিষয়গুলো, আজকে বিএনপি আবিষ্কার করছে। গাজীপুর নির্বাচন স্বাধীন, অবাধ ও নিরপেক্ষ হয়েছে দাবি করে আওয়ামী লীগের এই নেতা আবারও বলেন, গাজীপুরে একটা সম্প্রীতির পরিবেশ উপস্থিত ছিল, সবাই দেখেছে। গাজীপুর নগরীতে একটা উৎসবমুখর পরিবেশ ছিল। প্রার্থীরা স্বাধীনভাবে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পেরেছে। বিভিন্ন কেন্দ্রে বিপুলসংখ্যক ভোটারের উপস্থিতি প্রমাণ করে, এই নির্বাচন কতটা অবাধ হয়েছে, ফ্রি এবং ফেয়ার হয়েছে। ওবায়দুল কাদের আরো বলেন, নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য তারা দেউলিয়া হয়ে মাঠে নেমেছে। এবং আজকে এটাও বলে দিতে পারি, অচিরেই দেশের জনগণের আস্থা, না পেয়ে জনগণের সমর্থন পেতে ব্যর্থ হয়ে, এখন শুধু আদালত নয়, অচিরেই তারা বিদেশিদের দ্বারে ধরনা দেবে। নালিশ করার জন্য, জনগণের কাছে নালিশ করতে গিয়ে সাড়া না পেয়ে, তারা এখন বিদেশিদের দ্বারস্থ হবে। এ বিষয়ে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই। আমরা আগেই বলেছি, যাদের এ দেশের জনগণের প্রতি আস্থা নেই, তারাই বিদেশিদের কাছে নালিশ করতে যায়। এবং যেটা তারা বারবার করেছে, এটাই আবার করবে, এটাই আমরা মনে করি। এটা সবাই জানে। সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে লিখিত বক্তব্যে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, গাজীপুরে একটা সম্প্রীতির পরিবেশ উপস্থিত ছিল, সবাই দেখেছে। গাজীপুর নগরীতে একটা উৎসবমুখর পরিবেশ ছিল। প্রার্থীরা স্বাধীনভাবে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পেরেছে। বিভিন্ন কেন্দ্রে বিপুল সংখ্যক ভোটারের উপস্থিতি প্রমাণ করে, এই নির্বাচন কতটা অবাধ হয়েছে, ফ্রি এবং ফেয়ার হয়েছে। এর আগে ২০১৩ সালে এ সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে মেয়র পদে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক এম এ মান্নান নির্বাচিত হন। অধ্যাপক মান্নান মেয়র পদে নির্বাচিত হলেও সরকারের রোষানলে পড়ে গত পাঁচ বছরের অধিকাংশ সময় তিনি কারাগারে বন্দি ছিলেন।
কোটা সংস্কার বা বাতিলের বিষয়ে কোনো অগ্রগতি নেই
সরকারি চাকুরিতে কোটা সংস্কার বা বাতিলের বিষয়ে এখনও কোনো অগ্রগতি নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মাদ শফিউল আলম। তিনি বলেন, কোটা বিষয়ে কোনো অগ্রগতি নেই। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে কোটা সংস্কার সংক্রান্ত কমিটির যে প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ফলে এই মুহূর্তে এ বিষয়ে কোনো অগ্রগতি নেই। গেল ৯ মে কোটা সংস্কার বা বাতিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে মন্ত্রিপরিষদ মোহাম্মদ শফিউল আলমকে আহ্বায়ক করে একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পাঠানো হয়। সেই সময় গণমাধ্যমকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সিনিয়র সচিব মো. মোজাম্মেল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেন। কিন্তু এ প্রস্তাবের পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে নির্দেশ পেলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একটি প্রজ্ঞাপন জারির কথা ছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে কোনো নির্দেশনা এখন পর্যন্ত আসে নি। ফলে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমরা কমিটির প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠিয়েছি। এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত এখনো পাইনি। মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে যে কমিটির প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে তা অনুমোদন পায়নি। ফলে এখনো ঐ কমিটির প্রজ্ঞাপন জারি সম্ভব হয়নি। এজন্য এ কমিটি এখন দৃশ্যত অকাযকর। ফলে কোটা নিয়ে কাজ করার মতো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ফরমেট এখনো দাঁড়ায়নি। কতদিন নাগাদ কোটা বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে কোটা সংস্কারে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত এ কর্মকর্তা (অতিরিক্ত সচিব আবুল কালাম আজাদ) আরো বলেন, ধরে নিন আগামী দুই মাসেও কিছু হবে না। কারণ কমিটি করার ক্ষেত্রে কোটা বিষয়ে ভাল বোঝেন এমন অফিসারেরও অভাব রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা চলছে। কোটা সংস্কার বা বাতিল বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে প্রস্তাব দেওয়ার মতো যোগ্য লোক পেলেই হয়তো কমিটি চূড়ান্ত করা হবে। এরপর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত। সরকারি চাকুরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে নজিরবিহীন ছাত্র আন্দোলন ঘিরে মাস দুয়েক আগেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার ইস্যু। তবে কোটা সংস্কার নিয়ে বতমানে কার্যত দায়িত্বশূণ্য অবস্থায় আছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। দেশের প্রায় সব কয়টি সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের লাগাতার আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১১ এপ্রিল জাতীয় সংসদ অধিবেশনে কোটা বাতিলের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই সময় তিনি বলেছিলেন, কোটা নিয়ে যখন এতকিছু, তখন কোটাই থাকবে না। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও প্রতিবন্ধীদের অন্যভাবে চাকরির ব্যবস্থা করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলেছিলেন, তারা কোটা সংস্কার চান (৫৬ ভাগ থেকে ১০ ভাগে নামিয়ে আনা) তবে কোটা বাতিল নয়। বিশিষ্টজনরাও কোটা একেবারেই বাতিল নিয়ে দ্বিমত পোষণ করছেন। সেসময় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির ২৮তম একটি বৈঠকে কমিটির সদস্য কেউ কেউ কোটা সম্পূর্ণ বাতিল না করে সংস্কারের পক্ষে মত দেন। যদিও অনেকে সংসদে দেয়া প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পক্ষেও যুক্তি তুলে ধরেন। কমিটির সভাপতি এইচ এন আশিফুর রহমান এমপির সভাপতিত্বে সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কমিটির সদস্য জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেক, এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী, র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী, মুস্তফা লুৎফুল্লাহ, খোরশেদ আরা হক এবং জয়া সেন গুপ্তাসহ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এ ঘোষণার আগেই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কোটা সংস্কার নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কিন্তু সে সময়ও ওই কমিটি কোনো কাজে আসেনি। পরবর্তীতে সেই কমিটি বাতিল করে আবার নতুন কমিটির তালিকাসহ একটি প্রস্তাবনা পাঠানো হয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে। বর্তমানে সেই কমিটির প্রজ্ঞাপন আজও জারি করতে পারেনি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এ ব্যাপারে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো: দৌলতুজ্জামান খাঁন বলেন, এ বিষয়ে এখন আপাতত আমাদের আর কিছু করার নেই। আমরা কমিটির প্রস্তাবনা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠিয়েছি। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব এখন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের। সেখান থেকে নির্দেশনা আসলে আমরা একটি প্রজ্ঞাপন জারি করতে পারি। এদিকে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটির সভাপতি এইচ এন আশিকুর রহমান বলেন, কোটা বিষয়ে আমরা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীসহ বসে একটি প্রস্তাবনা তৈরি করেছিলাম। সেই আলোকে একটি কমিটির প্রস্তাবনা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছিল। তবে আমাদের সেই প্রস্তাবনায় কোটা বাতিল হবে নাকি সংস্কার হবে সেই বিষয়ে কোনো কিছু উল্লেখ ছিল না। এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা রয়েছে।সূত্র:পরিবর্তন ডটকম
সরকারের দুই মেয়াদে ১৯১ নৌদুর্ঘটনা
নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান বলেছেন, বর্তমান সরকারের দুই মেয়াদে (গত মেয়াদ থেকে চলতি বছরের মে পর্যন্ত) মোট ১৯১টি নৌদুর্ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে বড় আকারে ৪৮টি নৌদুর্ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়। গঠিত কমিটির প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। বুধবার (২৭ জুন) জাতীয় সংসদে দিদারুল আলমের (চট্টগ্রাম-৪) লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। মন্ত্রী বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনে নৌযান পরিচালনাকারীদের অদক্ষতা, বিরূপ আবহাওয়া, নৌযানের ত্রুটি ইত্যাদি চিহ্নিত হয়েছে। চিহ্নিত বিষয় সমূহের মধ্যে যেসব বিষয় দ্রুত নিষ্পত্তি যোগ্য সেগুলো নিষ্পত্তি করা হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি বিষয়সমূহ পর্যায়ক্রমে নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, দুর্ঘটনা তদন্ত ও তদন্ত পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়ায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা কমে গেছে। বিগত তিন বছর যাত্রীবাহী নৌযানে অবস্থান নিশ্চিত করা, নৌযানের কারিগরি মান নিশ্চিত করা হচ্ছে। দায়িত্ব বণ্টনের মাধ্যমে পরিদর্শন কার্যক্রম জোরাদার করায় আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা দ্রুততার সঙ্গে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। নৌ নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সরকারি জনবল বৃদ্ধির প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে।
সরকারি চাকরিতে প্রবেশে ৩৫,অবসরে ৬৫ বছর করার সুপারিশ
সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ বছর করার সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি। পাশাপাশি অবসরের বয়সসীমা ৬৫ করার সুপারিশ করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। সুপারিশ বাস্তবায়নে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে মন্ত্রণালয়কে বলা হয়েছে। বুধবার (২৭ জুন) দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ সুপারিশ করা হয়। কমিটির সভাপতি এইচ এন আশিকুর রহমানের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী, র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী, অ্যাডভোকেট মুস্তফা লুৎফুল্লাহ, খোরশেদ আরা হক ও মো. আব্দুল্লাহ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট মুস্তফা লুৎফুল্লাহ বলেন, সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানোর প্রস্তাবটি দীর্ঘদিন ধরে বিবেচনাধীন ছিল। বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা শেষে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ বছর করার সুপারিশ করা হয়েছে। সর্বসম্মতভাবে এ সুপারিশ গ্রহণের পাশাপাশি অবসরের বয়সসীমা ৬৫ বছর করারও পরামর্শ দেয়া হয়েছে। কমিটি সূত্র জানায়, সরকারি চাকরিতে প্রবেশ ও অবসরের বয়সসীমা বাড়ানোর বিষয়ে বেশকিছু যুক্তিকে বিবেচনায় নেয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে উন্নত দেশগুলো তাদের জনগণকে মানবসম্পদে রূপান্তরের ক্ষেত্রে বয়সের কোনো সীমারেখা নির্দিষ্ট করেনি। প্রতিবেশী দেশগুলোতে চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা আমাদের দেশের তুলনায় অনেক বেশি। পশ্চিমবঙ্গে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৪০, শ্রীলংকায় ৪৫, ইন্দোনেশিয়ায় ৩৫, ইতালিতে ৩৫, ফ্রান্সে ৪০ এবং অনেক দেশে অবসরের আগের দিন পর্যন্ত। আর বাংলাদেশে অবসরের বয়সসীমা ৫৭ থেকে বাড়িয়ে ৫৯ করা হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদের ক্ষেত্রে আরও দুই বছর বেশি। কিন্তু প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানোর হয়নি। প্রসঙ্গত সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানোর দাবিতে সাধারণ ছাত্র পরিষদসহ বিভিন্ন সংগঠন আন্দোলন করে আসছে। ইতিপূর্বে জেলা প্রশাসকদের সম্মেলনেও বয়সসীমা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়। আর সরকার ও বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যরাও ইতিপূর্বে জাতীয় সংসদে প্রস্তাবটি উত্থাপন করে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী বরাবরই এর বিপক্ষে তার অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন। এ নিয়ে সংসদেও তিনি বক্তব্য দিয়েছেন। বৈঠকে জানানো হয়, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীন দশটি প্রকল্পের বিপরীতে সংশোধিত বাজেটে বরাদ্দকৃত অর্থের পরিমাণ ১৬৩ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। গত ১৮ জুন পর্যন্ত এর বাস্তবায়ন অগ্রগতি ৬৩ ভাগ। আরও জানানো হয়, বর্তমানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দফতরের বিশেষ অনুরোধে চারজন সচিব, ৩৬ অতিরিক্ত সচিব, ১১১ যুগ্ম সচিব এবং ২০০ উপ-সচিব তিন বছরের অধিককাল ধরে রয়েছেন।
গাজীপুরে ছিল নিবিড় ম্যাকানিজম
সিপিবির নেতৃবৃন্দ বলেছেন, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের সাজানো ও পূর্বনির্ধারিত ফল গ্রহণযোগ্য নয়। এই নির্বাচন সরকারদলীয় ও প্রশাসনের নিবিড় ম্যাকানিজমের মাধ্যমে হয়েছে। সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে গাজীপুরবাসীর ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ করে দিতে না পারার ব্যর্থতা নির্বাচন কমিশনের। পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম বুধবার এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন। তারা বলেন, মঙ্গলবার গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ভোট গ্রহণের সময় সকাল থেকেই অনেক এলাকায় সরকারদলীয় ছাড়া অন্য দলের এজেন্টরা দাঁড়াতেই পারেননি। আচরণ বিধি লঙ্ঘন করে এলাকায় এলাকায় মহড়া, নানান কলাকৌশলে পুরো নির্বাচনী পরিস্থিতি সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মনে ভীতির সঞ্চার করা হয়। এরপর কয়েকটি এলাকায় বিরোধী দলগুলোর এজেন্টদের থাকতে না দেয়া, ভাঙচুর, ভোটকেন্দ্র দখল করে ব্যালট পেপারে বেআইনিভাবে সিল মারার খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে, সাধারণ মানুষ ভোট দেয়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। ফলে নির্বাচনে ভোটারদের অংশগ্রহণ অন্যান্য স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের তুলনায় অনেক কম ছিল। নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন এ ক্ষেত্রে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। কোথাও কোথাও নির্বাচন কমিশনকে অসহায় থেকে সরকারি দলের স্থানীয় নেতা-কর্মীদের ইচ্ছা-অনিচ্ছার ক্রীড়নকে পরিণত হতে দেখা গেছে।
বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু এখন ৭২ বছর
২০১৬ সালের হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে গড় আয়ু বেড়েছে ৭ মাস ২০ দিন। বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু এখন ৭২ বছর। ২০১৬ সালে বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু ছিল ৭১ দশমিক ৬ বছর। বুধবার রাজধানীর বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) মিলনায়তনে রিপোর্ট অন বাংলাদেশ স্যাম্পোল ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস ২০১৭ প্রকল্পের রিপোর্ট এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব সৌরেন্দ্র নাথ চক্রবর্তী, মহাপরিচালক আমির হোসেন এ সময় উপস্থিত ছিলেন। প্রকল্প পরিচালক একেএম অাশরাফুল হক সার্বিক বিষয় উপস্থাপন করেন।

জাতীয় পাতার আরো খবর