কল সেন্টার ৩৩৩ এর শুভ উদ্বোধন
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা জনাব সজীব আহমেদ ওয়াজেদ জয় আজ ১২ এপ্রিল ২০১৮ ইং বৃহস্পতিবার বিকেলে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে চট্টগ্রামসহ দেশের ৮ জেলার সাথে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে কল সেন্টার ৩৩৩ এর শুভ উদ্বোধন করেন। দেশব্যাপী ২৪ ঘন্টা সরকারি তথ্য ও সেবা প্রদানে এ কল সেন্টারের উদ্বোধন করা হল। অন্যান্য জেলার ন্যায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনও এ ভিডিও কনফারেন্সিংয়ে যুক্ত থেকে অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। এ অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) শংকর রঞ্জন সাহা, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন, সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মাসুদ উল হাসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, জেলা পুলিশ সুপার নুরেআলম মিনা, সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আজিজুর রহমান সিদ্দিকীসহ জেলার সকল উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সরকারের বিভিন্নস্তরের কর্মরত কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ। কল সেন্টার ৩৩৩ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা জনাব সজীব আহমেদ ওয়াজেদ জয় বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিক ও নিরলস প্রচেষ্টায় ডিজিটাল বাংলাদেশের যাত্রা এগিয়ে যাচ্ছে। সরকারি সেবা জনগণের দৌরগোড়ায় পৌঁছে দিতে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা কাজ করে যাচ্ছে। ফলে দেশের জনগণ ঘরে বসেই সকল ধরনের তথ্য ও সেবা পেয়ে যাচ্ছে। দেশের প্রায় সাড়ে ১২ কোটি মানুষ মোবাইল ফোন ব্যবহার করছে। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তথ্য প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে সকল ধরনের সেবা ভোগ করছে। মোবাইল ফোন থেকে কল সেন্টার ৩৩৩ এ ফোন করে যাবতীয় নাগরিক সেবা, সামাজিক সমস্যা, ভেজাল দ্রব্য ক্রয়-বিক্রয়, ইভটিজিং, বাল্য বিবাহ, পরিবেশ দূষণ, সরকারি গাছ কর্তন, দুর্যোগ, অভিযোগ ও মাদকদ্রব্যের ব্যবহারসহ বিভিন্ন বিষয়ে জানানোর পর জনগণ এর সুফল পাচ্ছে। ডিজিটাল বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে আমরা অনেক দূর এগিয়ে যাব এবং বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ বিনির্মাণ সম্ভব হবে। এ জন্য সকলের আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন।প্রেস বিজ্ঞপ্তি
যুক্তরাজ্য-অস্ট্রেলিয়া-সৌদি আরব সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজের আমন্ত্রণে দুই দিনের সফরে রোববার সৌদি আরব সফর যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে ‘গালফ শিল্ড-১’ শীর্ষক যৌথ সামরিক মহড়ার সমাপনী অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তিনি। সৌদি আরব থেকেই যুক্তরাজ্যে যাবেন; এরপর অস্ট্রেলিয়া সফর করবেন। কূটনৈতিক সূত্রে জানা যায়, কমনওয়েলথ সরকারপ্রধান পর্যায়ের সম্মেলনে অংশ নিতে প্রধানমন্ত্রী সোমবারই সৌদি আরব থেকে যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে যাবেন। সেখানে ২২ এপ্রিল পর্যন্ত সরকারি সফর। এরপর ‘গ্লোবাল সামিট অব উইমেনে’ যোগ দিতে এবং ‘গ্লোবাল উইমেনস লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড’ গ্রহণ করতে ২৬-২৯ এপ্রিল অস্ট্রেলিয়ার সিডনি সফর করবেন তিনি। গত ৫ এপ্রিল ঢাকায় সৌদি রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ এইচ এম আল মুতাইরি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে ‘গালফ শিল্ড-১’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে সৌদি বাদশাহর আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণপত্র পৌঁছে দেন।
বেপরোয়া হয়ে উঠেছে ভোলার ইলিশ শিকারিরা বৈশাখকে সামনে রেখে
পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে ভোলার ইলিশ শিকারিরা। জেল জরিমানা এমনকি সরকারি নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করে দলে দলে জেলেরা ইলিশ নিধনে নেমে পড়েছেন। মাছঘাট ও হাট-বাজারগুলোতেও প্রকাশ্যে চলছে ইলিশ বেচাকেনা। অভয়াশ্রমগুলোতে ইলিশ নিধন অব্যাহত থাকায় উদ্দেশ্য সফল হবেনা বলে আশংকা বিশেষজ্ঞদের। তবে বেপরোয়া জেলেদের নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত টহল ও অভিযান চলছে বলে জানালেন কোস্টগার্ড ও মৎস্য বিভাগ। ভোলার মেঘনা-তেঁতুলিয়া নদীর অভয়াশ্রমে মার্চ-এপ্রিল দু’মাস জাল ফেলা সম্পূর্ণ নিষেধ থাকলেও জেলেদের ইলিশ ধরা থেকে বিরত রাখতে পারেনি আইন শৃঙ্খলারক্ষাবাহিনী। বৈশাখী উৎসবকে সামনে রেখে ইলিশের চাহিদা ও দাম বেড়ে যাওয়ায় ইলিশ শিকারির সংখ্যাও বেড়েছে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ধরা বড় সাইজের ইলিশগুলো চোরাপথে চলে যাচ্ছে ঢাকা-বরিশালসহ দেশের বড় বড় শহরে। নিষিদ্ধ সময়ে ঘাটগুলোতে প্রকাশ্যে চলছে বেচাকেনা। ইলিশের কমতি নেই স্থানীয় বাজারগুলোতে। জেলেরা বলছেন, চাহিদা বেড়ে যাওয়া ও দীর্ঘ সময়ে বেকার থাকায় অর্থ সংকটের কারণে আইন অমান্য করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। স্থানীয় জেলেরা বলেন, 'আমরা পাটের অভাবে মাছ ধরতে গিয়েছি। আমাদের কিস্তি শোধ করতে হবে তাই চুরি করে মাছ ধরতে গিয়েছি।' কিছু প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের কারণে ইলিশ রক্ষার উদ্দেশ্য ভেস্তে যাচ্ছে উল্লেখ করে এ উন্নয়নকর্মী প্রশাসনের অভিযান পরিচালনায় গাফিলতির অভিযোগ করেন। ভোলা উন্নয়ন ও স্বার্থরক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অমিতাভ রায় অপু বলেন, 'প্রশাসন বলে আমরা কাজ করছি কিন্তু মেঘনায় গেলে বুঝা যাচ্ছে না কোনো নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কারণ অবাধে মাছ ধরা হচ্ছে।' আর ইলিশ নিধন বন্ধে নিয়মিত অভিযান চলছে জানিয়ে বৈশাখকে সামনে রেখে অভিযান আরো জোরদারের কথা জানালেন কোস্ট গার্ড ও মৎস্য কর্মকর্তা
বারবার হ্যাক হচ্ছে সরকারি ওয়েবসাইট-টেকসই নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাবে:মত বিশেষজ্ঞদের
নিরাপত্তার ঘাটতির কারণে বার বার হ্যাক করা হচ্ছে দেশের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সব ওয়েবসাইট। বিশেষ করে মঙ্গলবার রাতে গুরুত্বপূর্ণ অধিকাংশ মন্ত্রণালয়েরই ওয়েবসাইট হ্যাকিংয়ের শিকার হয়। এতে নিরাপত্তার ঘাটতির বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টেকসই নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় এমন ঘটনা ঘটছে বার বার। ব্যবস্থা না নিলে, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চুরি হওয়ার আশংকা করছেন তারা। ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে হ্যাকিং এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরির পর ভাবিয়ে তোলে দেশের অনলাইন নিরাপত্তার বিষয়টি। গেল ১০ এপ্রিল মঙ্গলবার রাতে বেশ কয়েকটি সরকারি ওয়েবসাইটে ব্রাউজ করলে, সাইটগুলো হ্যাক হয়েছে বলে দেখা যায়। হ্যাকাররা ঐ সাইটগুলো হ্যাক করার পরে শিরোনাম হিসাবে ‘হ্যাকড বাই বাংলাদেশ’ নামের লেখা ঝুলিয়ে দেয়। এছাড়া কোটা সংস্কারের দাবিতে বিভিন্ন বক্তব্যও সেঁটে দেয় তারা। বঙ্গভবন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, জাতীয় সংসদ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালসহ অধিকাংশ জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ওয়েবসাইট হ্যাক হয়ে যায়। এভাবে প্রায়ই দেখা যায় কোনো না কোন গুরুত্বপূর্ণ সাইট হ্যাকিং এর শিকার হচ্ছে। প্রযুক্তিবিদরা বলছেন, অনলাইন নিরাপত্তার ক্ষেত্রে দুর্বলতার কারণেই বার বার ঘটছে এমন ঘটনা। তথ্য ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ সুমন আহমেদ সাবির বলেন, সাইবার নিরাপত্তার জায়গাটা আমাদের দেশে এখনও পর্যাপ্ত নয়। এ বিষয়টিকে যথাযথ গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে না। বিশেষ করে আমাদের সরকারি ওয়েবাসইটগুলোর অনেক বেশি যত্নের প্রয়োজন। এর জন্য প্রযুক্তিগত জ্ঞানের অভাব নয় বরং মনোযোগের অভাব রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এতে বহির্বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হওয়ার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় তথ্য চুরি হওয়ার শঙ্কা থেকেই যায়। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. কায়কোবাদ বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা বিধানের জন্য যেসব তথ্য রয়েছে সেগুলো চুরি হয়ে যেতে পারে এমন ঘটনার মাধ্যমে। যারা সেখানে কাজ করেন তাদের যথাযথ প্রশিক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে। দেশের সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও কথা বলতে রাজি হননি কেউই।
ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা যেন ভুল না করে : জাফর ইকবাল
সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে চলমান আন্দোলনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে গিয়ে ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা যেন ভুল না করে- এ ব্যাপারে তাদের পরামর্শ দিয়েছেন জনপ্রিয় লেখক, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল। বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া আইআইসিটি ভবনে সারা দেশে চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলন প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ আহ্বান জানান। তিনি বলেন, যখন সরকার কোনো কিছুর সম্মুখীন হয়, তখন সরকারের পুলিশ বাহিনীর সঙ্গে ছাত্রলীগও এসে পড়ে। ছাত্রলীগ যারা করে তারাও ছাত্র, তারা পড়াশোনা করবে। তারা যেন ভুল না করে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যেন সংঘাত সৃষ্টি না হয়। তিনি আরো বলেন,তরুণ প্রজন্মের উপর আমার আস্থা রয়েছে। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে এখনো পর্যন্ত সব গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলনে তরুণরা নেতৃত্ব দিয়েছে। আমি আশা করব, তারা যেন সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়।। এ সময় তিনি কোটাকে সঙ্গত সংখ্যায় নামিয়ে আনার পক্ষে মত দেন। সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যামন ৫৬ শতাংশ কোটা সংস্কারের দাবি জানিয়েছে সারা দেশে আন্দোলন করছে চাকরিপ্রার্থী ও ছাত্ররা। তাদের দাবি কোটা ১০ শতাংশে নামিয়ে আনতে হবে।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যই কোটা নিয়ে চূড়ান্ত বক্তব্য: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেছেন, কোটা সংস্কার এবং ভ্যাট বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যই চূড়ান্ত। অন্য কোনো মন্ত্রীর বক্তব্য ধর্তব্যের মধ্যে পড়ে না। অর্থমন্ত্রী কী বলেছেন অথবা সংসদে অন্য একজন মন্ত্রী কী বলেছেন, সে বিষয়ে তাঁরাই ব্যাখ্যা দেবেন। তাই তাঁদের বক্তব্যকে ইস্যু করে আন্দোলন করার যৌক্তিকতা নেই। বুধবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির তৃতীয় তলায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী এ কথা বলেন। শ্রমিক কর্মচারী পেশাজীবী মুক্তিযোদ্ধা সমন্বয় পরিষদ এবং মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও প্রজন্ম সমন্বয় পরিষদ এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আরও বলেন, যারা আন্দোলন করছে, তাদের মধ্যে কিছু সাধারণ ছাত্র আছে। কিন্তু অধিকাংশই বহিরাগত, মুখোশ পরা। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তারা অরাজকতা সৃষ্টি করেছে। যেসব ছাত্র সঠিক তথ্য না জেনে ভুল বুঝে আন্দোলন করছে, তাদের ফিরে আসার অনুরোধ করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে সভাপতি শ্রমিক কর্মচারী পেশাজীবী মুক্তিযোদ্ধা সমন্বয় পরিষদের আহ্বায়ক নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান বলেন, ৪৭ বছর ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলন করছি। ইতিহাসের শ্রেষ্ঠতম ছাত্র আন্দোলনেও ছিলাম। কখনো এমন অরাজকতা করিনি। ঐতিহ্যবাহী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনে হামলা ও তাঁর প্রাণনাশের চেষ্টা যারা করেছে, সেই মুখোশধারীদের বেশির ভাগ ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের কর্মী। জাসদ নেত্রী সাংসদ শিরিন আকতার বলেন, মঙ্গল শোভাযাত্রা আর পয়লা বৈশাখের অনুষ্ঠান বানচাল করার জন্য আন্দোলনের নামে অরাজকতা করা হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলন থেকে ছয়টি দাবি জানানো হয়। এগুলোর মধ্যে রয়েছে কোটা সংস্কারের নামে উসকানিদাতা ও অরাজকতা সৃষ্টিকারীদের শাস্তি, যুদ্ধাপরাধীদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ বাজেয়াপ্ত, যুদ্ধাপরাধী ও স্বাধীনতাবিরোধীদের সন্তানদের সরকারি চাকরিতে নিয়োগ না দেওয়া, আগুনসন্ত্রাস সৃষ্টিকারী ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংসকারীদের বিচার। দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কর্মসূচিও দেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে শুক্রবার সকালে স্বাধীনতা হলে প্রতিবাদ সমাবেশ, ১৫ এপ্রিল জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জমায়েত ও গণমিছিল, ২০ এপ্রিল থেকে ৩১ মে পর্যন্ত বিভিন্ন জেলায় সমাবেশ, ৫ মে ঢাকায় দিনব্যাপী জাতীয় কনভেনশন। সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে আওয়ামী লীগ নেতা ইসমত কাদির গামা, সংস্কৃতিকর্মী রোকেয়া প্রাচী, প্রজন্ম সমন্বয় পরিষদের সভাপতি আশিকুর রহমান খান উপস্থিত ছিলেন।
৮ রদবদল প্রশাসনের সচিব পদে
প্রশাসনে সচিব পদে আটটি রদবদল করা হয়েছে। বুধবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মো. তমিজুল ইসলাম খান ও এম. কাজী এমদাদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত দুটি ভিন্ন প্রজ্ঞাপনে এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়েছে।govt প্রজ্ঞাপনে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) সচিব আবু হেনা মো. রাহমাতুল মুমিনকে জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব, বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব এসএম গোলাম ফারুককে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব, সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. জিল্লার রহমানকে কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের সচিব, কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের সচিব মো. আলমগীরকে সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং সুরক্ষা সেবা বিভাগে সংযুক্ত অতিরিক্ত সচিব মো. মহিবুল হককে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব পদে বদলিপূর্বক নিয়োগ দেয়া হয়। অপর একটি প্রজ্ঞাপনে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. কামাল উদ্দিন তালুকদারকে জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমির মহাপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত সচিব পদমর্যদায়), প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আকরাম আল হোসেনকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত সচিব পদমর্যদায়), এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মোশাররফ হোসেনকে বিসিএস প্রশাসন একাডেমির রেক্টর (ভারপ্রাপ্ত সচিব পদমর্যদায়) পদে বদলিপূর্বক প্রেষণে নিয়োগ দেয়া হয়।
কোনও কোটারই দরকার নেই: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন,কোটা নিয়ে যখন এতকিছু, তখন কোটাই থাকবে না। কোনও কোটারই দরকার নেই। বুধবার (১১ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এসব কথা বলেন। এর মাধ্যমে সরকারি চাকরিতে সব ধরনের কোটা বাতিলের ঘোষণা দিলেন বঙ্গবন্ধু কন্যা। তার ভাষ্য, কোটা থাকলেই সংস্কারের প্রশ্ন আসবে। এখন সংস্কার করলে আগামীতে আরেক দল আবারও সংস্কারের কথা বলবে। কোটা থাকলেই ঝামেলা। সুতরাং কোনও কোটারই দরকার নেই। শেখ হাসিনার সাফ কথা,কোটা ব্যবস্থা বাদ, এটাই আমার পরিষ্কার কথা। সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক অবরোধ করে রেখেছে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এ কারণে পুরো নগরীতে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র যানজট। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক সংসদে এই প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী সংসদে আরও বলেন, দেখে দুঃখ লাগে, ছেলেমেয়েরা সমস্ত লেখাপড়া বন্ধ করে কোটার সংস্কার চেয়ে আন্দোলনে নেমেছে। রোদের তাপে পুড়ে ওরা তো অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে। তাদের অবরোধের কারণে মানুষ হাসপাতালে যেতে পারছে না। অফিস-আদালতে ঠিকভাবে যেতে পারছে না। জানা গেছে, চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলনে বিষয়ে এর আগে দলীয় ফোরামে আলোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তবে জাতীয় সংসদে এবারই প্রথম এ বিষয়ে সরাসরি কথা বললেন তিনি। জাতীয় সংসদে বুধবারের (১১ এপ্রিল) অধিবেশন শুরু হয় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বিকাল ৫টায় অধিবেশন শুরু হয়।
কাঠমান্ডুতে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহতদের পরিবার পাবে ৫০ হাজার ডলার
পালের কাঠমান্ডুতে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বিমান বিধ্বস্ত হয়ে নিহতদের পরিবার কমপক্ষে ৫০ হাজার মার্কিন ডলার করে ক্ষতিপূরণ পাবেন বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এ কে এম শাহজাহান কামাল। বুধবার সচিবালয়ের মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, ওয়ারসো কনভেনশন অনুযায়ী প্রতিটি নিহতদের পরিবার ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির কাছ থেকে আনুমানিক ৫০ হাজার মার্কিন ডলার করে ক্ষতিপূরণ পাবেন। তিনি বলেন, শুধু নিহতরা না, আহতরাও ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ পাবেন। তবে এর জন্য কিছু আইনি প্রক্রিয়াও রয়েছে। ক্ষতিপূরণের এই অর্থ পেতে আইনি সহায়তার জন্য সিভিল এভিয়েশনের আইনজীবীদের নির্দেশ দেন মন্ত্রী। কামাল বলেন, মন্ট্রিল কনভেনশনে অনুসমর্থন নিয়ে আগামী সোমবারের মন্ত্রিসভা বৈঠকে আলোচনার পর সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। সংবাদ সম্মেলনে ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইমরান আসিফ জানান, বিমান দুর্ঘটনায় আহত-নিহত সবার নাম-ঠিকানা তাদের কাছে আছে। ইন্স্যুরেন্সের ক্ষতিপূরণ দেয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বিদ্যমান আইন অনুযায়ী উত্তরাধিকারীর প্রমাণপত্র দিতে হবে। তিনি বলেন, ইতোমধ্যেই ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি আইনজীবী নিয়োগ দিয়েছে, যিনি প্রত্যেকটা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। এ বিষয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞাপনও দেয়া হয়েছে। কি কি তথ্য লাগবে তা পরিবারগুলোকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে। আসিফ বলেন, আহত-নিহতদের ক্ষতিপূরণ বিতরণ করাই এখন আমাদের প্রধান বিষয়। নিহত প্রত্যেক পরিবার ৫০ হাজার ডলারের কম পাবেন না। এসময় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন সচিব এস এম গোলাম ফারুক ছাড়াও মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, গত ১২ মার্চ কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলার একটি বিমান বিধ্বস্ত হলে ৭১ আরোহীর মধ্যে ৫০ জনের মৃত্যু হয়। এর মধ্যে চার ক্রুসহ ২৭ জন ছিলেন বাংলাদেশি।

জাতীয় পাতার আরো খবর