দারিদ্র্য দূরীকরণ ও নারীর ক্ষমতায়নে পরিবার পরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ
অনলাইন ডেস্ক : জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, সুস্থ ও সুন্দর জাতি গঠন, দারিদ্র্য দূরীকরণ ও নারীর ক্ষমতায়নে পরিবার পরিকল্পনার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ‘নারীদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের জায়গাগুলোতে প্রাধান্য দিতে হবে। নারীদের জন্য এটা কোন সুযোগ নয়, এটা তাদের অধিকার। এ অধিকার প্রদানে সমান সুযোগ ও প্রবেশগম্যতা নিশ্চিত করা গেলে সমন্বিত উদ্যোগে দেশ দ্রুত এগিয়ে যাবে।’ ‘বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস-২০১৮’ উপলক্ষে আজ বুধবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় স্পিকার এ আহবান জানান। অনুষ্ঠানে বিশিষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ সামাজিক ও অর্থনৈতিক সকল সূচকে এগিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে স্পিকার বলেন, ‘ইতোমধ্যে বাংলাদেশ এমডিজি’র লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) পূরণেও সক্ষম হবে।’ তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে তরুণ ও কর্মক্ষম জনসংখ্যা মোট জনসংখ্যার ৭০ শতাংশ। অর্থাৎ বর্তমানে বাংলাদেশ পপুলেশন ডিভিডেন্টের সুবর্ণ যুগে অবস্থান করছে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে এটি একটি বিরল সুযোগ। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। স্পিকার বলেন, বর্তমানে বিশ্বে জনসংখ্যা প্রায় ৭.৫ বিলিয়ন। বিপুল জনসংখ্যার বিপরীতে সীমিত সম্পদ দিয়ে বিশ্বে জনসংখ্যার সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করা কঠিন কাজ।’ তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পরিবার পরিকল্পনার সেবা প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত প্রসারিত করে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণের আহবান জানান। এর আগে স্পিকার বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস-২০১৮ এর শুভ উদ্বোধন করেন। অনুুষ্ঠানে তিনি মাঠ পর্যায়ের শ্রেষ্ঠ পরিবার পরিকল্পনা কর্মী, শ্রেষ্ঠ সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ও মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড ২০১৮ বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার ও ক্রেস্ট বিতরণ করেন। অনুষ্ঠানশেষে তিনি পরিবার পরিকল্পনা মেলা-২০১৮ উদ্বোধন করেন এবং মেলার বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব জি ,এম, সালেহ উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী মোস্তফা সারোয়ার, ইউএনএফপি’র কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. আশা টরকেলসন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।বাসস
প্রধানমন্ত্রী জনগোষ্ঠীকে দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করার উদ্যোগ নিয়েছেন
অনলাইন ডেস্ক :প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এদেশের মানুষকে বোঝা মনে করেননি। তিনি বিশাল জনগোষ্ঠীকে দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করার উদ্যোগ নিয়েছেন। আজ পাবনা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সভাকক্ষে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ এ কথা বলেন। দক্ষ মানবসম্পদের অর্জিত প্রবৃদ্ধি আয় থেকেই একটি মানসম্মত টেকসই উন্নত জাতি গড়ে তোলা সম্ভব এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি মানুষের জন্য পাঁচটি মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করে একটি আদর্শ জনসম্পদ গড়ে তোলার লক্ষ্যেই প্রধানমন্ত্রী তার কর্মযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছেন। মন্ত্রী সরকারের রূপকল্প উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলায় সকলকে আন্তরিক থাকার আহ্বান জানান। পাবনা জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন এর সভাপতিত্বে এসময় অন্যান্যের মধ্যে সরকারের কর্মকর্তা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।বাসস
এসডিজি অর্জনে সংসদ সদস্যদের সম্পৃক্ত করা দরকার
অনলাইন ডেস্ক : স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী টেকসই উৃন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে সংসদ সদস্যদের সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। তিনি বলেন, সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন সূচকে বাংলাদেশের যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে। ইতোমধ্যে এমডিজি’র লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করেছে এদেশ-একথা উল্লেখ করে স্পিকার বলেন, এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য পূরণেও সক্ষম হবে। বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউএনডিপি’র আবাসিক প্রতিনিধি সুদীপ্ত মুখার্জী আজ বুধবার জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী সাথে তাঁর কার্যালয়ে সাক্ষাত করতে গেলে তিনি এ কথা বলেন। এসময় তাঁরা টেকসই উন্নয়ন (এসডিজি), এসডিজি বাস্তবায়নে কর্মশালা আয়োজন, ইউএনডিপি’র সাহায্যপুষ্ট চলমান প্রকল্পসমুহের বাস্তবায়ন এবং স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন। ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এসময় বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে ইউএনডিপি’র সহযোগিতার কথা কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন। সুদীপ্ত মুখার্জী বলেন, সুদূর অতীত থেকে ইউএনডিপি বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগি। ভবিষ্যতেও ইউএনডিপি বাংলাদেশের উন্নয়নে সহযোগিতা প্রদান অব্যাহত রাখবে। এসময় তিনি এসডিজি’র লক্ষ্য পূরণে সংসদ সদস্যদের নিয়ে দিনব্যাপী অভিজ্ঞতা বিনিময় ও অবহিতকরণ সভা করারও আগ্রহ প্রকাশ করেন।বাসস
স্যাটেলাইটের মাধ্যমে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ সুবিধা পাবে বাংলাদেশ
অনলাইন ডেস্ক :বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বিভিন্ন সুবিধা পাবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী বুধবার (১১ জুলাই) জাতীয় সংসদে তাঁর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের সদস্য বেগম নাসিমা ফেরদৌসীর এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’ উৎক্ষেপণের মাধ্যমে বাংলাদেশের মহাকাশ জয় সম্ভব হয়েছে। তথ্য প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ সজীব ওয়াজেদ জয়ের নেতৃত্বে এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের তত্ত্বাবধানে বিটিআরসি’র কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট সকলের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় দীর্ঘ ৬ বছরের কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে চলতি বছর ১২ মে ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’ উৎক্ষেপণের মাধ্যমে এ সাফল্য অর্জিত হয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মহান মুক্তিযুদ্ধের পর থেকেই বাংলাদেশকে আত্মমর্যাদাশীল, স্বনির্ভর দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় বঙ্গবন্ধু ১৯৭৫ সালে বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের স্যাটেলাইট যোগাযোগের সূচনা করেন।’ তিনি বলেন, ‘সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রক্রিয়ায় তথ্য প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের উদ্যোগে মহাশূন্যে বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের পদক্ষেপ গ্রহণ করে। স্বপ্নের স্যাটেলাইট নির্মাণ ও এর সফল উৎক্ষেপণে আমি গর্বিত এবং আনন্দিত।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মহাকাশে আজ বাংলাদেশের পতাকা উড়ছে। এ গৌরব বর্তমান সরকারের, এ গৌরব দেশের ১৬ কোটি মানুষের।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণে আওয়ামী লীগ সরকারের গতিশীল উন্নয়নের ধারাবাহিকতার একটি অংশ। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাটি সফল উৎক্ষেপণের মধ্য দিয়ে জাতির পিতার আরেকটি স্বপ্ন পূরণ হলো।’ যারা বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের জন্য সরাসরি সম্পৃক্ত থেকে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছেন তাদের প্রতি ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এ প্রকল্পটি একটি জাতীয় স্বপ্ন। তাই বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর সফল উৎক্ষেপণের জন্য দেশের আপামর জনগণ মসজিদ, মন্দির, প্যাগোডা ও চার্চসহ সকল উপাসনালয়ে মোনাজাত ও প্রার্থনা করেছেন।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণকারী সংস্থা স্পেস এক্স মহাকাশ বিজ্ঞানের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করায় (ফ্যালকন-৯ এবং ব্লক-৫) সারাবিশ্বের প্রায় সকল দেশ ও মিডিয়া এ উৎক্ষেপণের সম্প্রচার করেছে।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের সফল উৎক্ষেপণের মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রবেশ করলো এক ‘এলিট ক্লাবে’। নিজস্ব স্যাটেলাইটের মালিক দেশগুলোর এই ক্লাবে বাংলাদেশ ৫৭তম সদস্য। আমেরিকা, রাশিয়া, চীন, জাপান, ভারত, থাইল্যান্ড, কানাডা, ফ্রান্স, শ্রীলংকাসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের নিজস্ব স্যাটেলাইট রয়েছে। স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের পর সম্প্রতি ভারত সফরকালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।’ তিনি বলেন, ‘স্থল ও জলসীমা জয়ের পর মহাকাশ জয় ছিল বাংলাদেশের জন্য একটি দীর্ঘ যাত্রা। ২০১২ সালে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের লক্ষ্যে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এ প্রকল্পের আওতায় ফিজিবিলিটি স্টাডিসহ সকল প্রস্তুতিমূলক কাজ সম্পন্ন করা হয়। পরে গত ২০১৪ সালের ১৪ সেপ্টেম্বরে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ প্রকল্পটি একনেক সভায় অনুমোদিত হয়।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘স্যাটেলাইট টেকনোলজি ও সেবার প্রসারের মাধ্যমে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মাধ্যমে টেলিযোগাযোগ ও সম্প্রচার সেবার পাশাপাশি টেলিমেডিসিন, ই-লার্নিং, ই-অ্যাডুকেশন, ডিটিএইচ, ভিস্যাট প্রভৃতি সেবা প্রদান সম্ভব হবে।’ তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্থল ও জলসীমায় নিরবচ্ছিন্ন টেলিযোগাযোগ ও সম্প্রচার নিশ্চিত ও নির্বিঘ্ন করা সম্ভব হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এ মোট ৪০টি ট্রান্সপন্ডার থাকবে তার মধ্যে ২০টি বাংলাদেশের জন্য এবং ২০টি দেশের বাইরের জন্য ব্যবহার করা হবে। ২০টি ট্রান্সপন্ডার লীজের মাধ্যমে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় হবে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মাধ্যমে বার্ষিক ১৪ মিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ সফলভাবে উৎক্ষেপণের পর মহাকাশে নিজেদের অবস্থানকে সমুন্নত রাখতে এর ধারাবাহিকতায় বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর আয়ুষ্কাল শেষ হওয়ার আগেই বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ মহাকাশে প্রেরণ করার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।’-বাসস
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮ একটি ভালো আইন
অনলাইন ডেস্ক :ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮ একটি ভালো আইন হবে, কালো আইন নয় বলে জানিয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, ‘এই আইনটি জনবান্ধব ও মিডিয়াবান্ধব আইন হবে। সংসদের আগামী অধিবেশনে আইনটি পাস হতে পারে।’ বুধবার (১১ জুলাই) সচিবালয়ে আইনমন্ত্রীর নিজ দফতরে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮-কে অধিকতর জনবান্ধব ও মিডিয়াবান্ধব করতে সাংবাদিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা শেষে এসব কথা জানান তিনি। বৈঠকে ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল ও ৭১ টেলিভিশনের সিইও মোজাম্মেল বাবু উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটি বর্তমানে সংসদীয় স্ট্যান্ডিং কমিটিতে আছে। ব্যাপক আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে আইনটিকে জনবান্ধব করতেই দফায় দফায় সাংবাদিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছি। স্ট্যান্ডিং কমিটির বৈঠকেও সাংবাদিক নেতারা দুবার অংশ নিয়েছেন। আজকের বৈঠকে আইনের অনেক খুঁটিনাটি বিষয়ে সাংবাদিক নেতারা ব্যাখ্যা চেয়েছেন, আমি ব্যাখ্যা দিয়েছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘সাংবাদিক নেতারা অনেক প্রস্তাবনা দিয়েছেন, সেগুলো নিয়ে স্ট্যান্ডিং কমিটিতে বসব। আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতেই স্ট্যান্ডিং কমিটি আইনটিকে চূড়ান্ত করবে। তবে চূড়ান্তভাবে সংসদে উপস্থাপনের আগে সাংবাদিক নেতাদের সঙ্গে হয়তো আরও একবার বসব। আপনারা বিশ্বাস রাখুন, বঙ্গবন্ধুর হাতে তৈরি সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বা সংবিধানের দেয়া অধিকার খর্ব করবে, এমন কোনও আইন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার হাত দিয়ে হবে না।’ মাহফুজ আনাম বলেন, ‘আজকে কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। আমরা বিস্তারিত আলোচনা করেছি। অনেক প্রস্তাবনা পেশ করেছি। আইনমন্ত্রী সেগুলো গ্রহণ করেছেন। সাংবাদিকদের অধিকার খর্ব করে এমন কোনও আইন যেন না হয়, সে বিষয়টি সম্পর্কে আমরা আমাদের প্রস্তাবনা দিয়েছি। উনি সেগুলো গ্রহণ করেছেন।’ মনজুরুল আহসান বুলবুল বলেছেন, ‘ব্যাখ্যামূলক আলোচনা করেছি। দেশের স্বার্থে এবং মানুষের স্বার্থে একটি ভালো আইন দরকার। এমন আইন হবে না—যা সংবিধানকে খর্ব করে।’ মোজাম্মেল বাবু বলেন, ‘এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। চূড়ান্ত হতে একটু সময় লাগবে। সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষার পাশাপাশি অপসাংবাদিকতাও বন্ধ হওয়া দরকার। সেজন্যই একটি ভালো আইন প্রয়োজন। কাজেই প্রকৃত সাংবাদিকদের ভয়ের কোনও কারণ নেই। সংবিধানের অধিকার খর্ব হবে না।
শিক্ষক আন্দোলন স্থগিত
অনলাইন ডেস্ক :টানা এক মাস আন্দোলন চালানোর পর সরকারের আশ্বাসে অবশেষে অনশন ভাঙলেন নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা। বুধবার (১১ জুলাই) বুধবার বিকেল ৩টা ১০ মিনিটে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী পানি পান করিয়ে শিক্ষকদের অনশন ভাঙান। এ সময় তারা আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দেন। এ সময় জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান বলেন, আপনারা দীর্ঘদিন ধরে খোলা আকাশের নিচে না খেয়ে আন্দোলন করে যাচ্ছেন। এটি জাতীর জন্য কষ্টদায়ক বিষয়। আপনাদের এ কষ্টে সমগ্র জাতি আজ উদ্বিগ্ন। আপনাদের দাবির যৌক্তিকতা আছে। প্রধানমন্ত্রী সংসদে আপনাদের বিষয়টি নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। আমরা আশা করছি বিষয়টি দ্রুত সমাধান হবে। এসময় গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী শিক্ষকদের উদ্দেশে বলেন, আপনাদের দাবি যৌক্তিক। আপনারা শিক্ষার্থীদের কথা ও সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে অনশন ভেঙে পাঠদানে মনোযোগ দিন। দ্রুত আপনাদের দাবি বাস্তবায়ন করা হবে। নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বিনয় ভূষণ রায় বলেন, সরকারের ওপর আস্থা রেখে আমরা অনশন ভেঙে ক্লাসে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আমাদের বৈঠক হয়েছে। তিনি আমাদের দাবি আদায়ের বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন। সরকারের বিভিন্ন মহল থেকে আমাদের আশ্বস্ত করা হয়েছে। দাবি বাস্তবায়নে আগামী দেড় থেকে দুই মাস সময় লাগতে পারে। তিনি বলেন, সরকারি নির্দেশনায় আনিসুজ্জামান স্যার ও রাশেদা কে চৌধুরী ম্যাডাম শিক্ষকদের মাঝে এসে পানি পান করিয়ে অনশন ভাঙিয়েছেন। সবার ওপর আস্থা রেখে আমরা আন্দোলন স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কাল থেকে আবারও সব শিক্ষক পাঠদানে মনোনিবেশ করবেন। উল্লেখ্য, এমপিওভুক্তির দাবিতে গত এক মাস ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীরা। প্রতিদিনের মতো বুধবার ১৭তম দিনে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে খোলা আকাশের নিচে বসে আন্দোলনকারীরা আমরণ অনশন পালন করে আসছিলেন।
আজ আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ
অনলাইন ডেস্ক :খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেছেন, উন্নত দেশের জনগণ যেভাবে স্বাচ্ছন্দ্যে ফুটপাতের খাবার খান, আমাদের দেশেও একই অবস্থা তৈরি হবে। এ জন্য উৎপাদন থেকে সব জায়গার ভেজাল বা রাসায়নিক দ্রব্য সম্পর্কে সবাইকে সচেতন করতে হবে। বুধবার (১১ জুলাই) রাজধানীর বিয়াম ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে ‘নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩, বাস্তবায়ন ও প্রয়োগ’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেন, বর্তমান যখন সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করে তখন খাদ্যে ঘাটতি ছিল। আজ আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। এখন আমরা খাদ্য রফতানি করছি। রফতানিতেও আমাদের সুনাম রয়েছে। খাদ্যমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার জনগণের নিরাপদ খাদ্য প্রাপ্তির অধিকার নিয়ে কাজ করছে। এখন আর দেশে মঙ্গা নেই। মধ্যপ্রাচ্যের লোকেরা আমাদের আর মিসকিন বলতে পারে না। আমরা সবার খাদ্য নিরাপত্তা দিতে সমর্থ হয়েছি। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মাহফুজুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- জাতিসংঘের এফএ'র বাংলাদেশ প্রতিনিধি ডেভিড ডাব্লিউ ডুলান, বিয়াম ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শেখ মুজিবুর রহমান।
বাংলাদেশ ছিল পৃথিবীর সবচে ধনী দেশ
অনলাইন ডেস্ক :চট্টগ্রামের প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. অনুপম সেন বলেছেন, ১৭৫৭ সালে নবাব সিরাজদ্দৌলার পতন ঘটিয়ে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি যখন বাংলাদেশকে ইংল্যান্ডের কলোনিতে পরিণত করে, তখন বাংলাদেশ ছিল পৃথিবীর সবচে ধনী দেশ। প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ২৬ তম ব্যাচের ফেয়ারওয়েল উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এ সমাজবিজ্ঞানী বলেন, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলাদেশকে ইংল্যান্ডের কলোনিতে পরিণত করার মাত্র তিন বছরের মধ্যে এই দেশের তৎকালীন ৫০০ কোটি পাউন্ডের সম্পদ ইংল্যান্ডে পাচার করে। যার বর্তমান মূল্য বের করা প্রায়ই অসম্ভব। প্রফেসর ড. অনুপম সেন বলেন, ইংরেজরা আমাদের পার্থিব সম্পদে দীন করেছে, কিন্তু মননের জগতকে সমৃদ্ধ করেছে। রবীন্দ্রনাথ তার শেষ জীবনে লেখা সভ্যতার সংকট-এ লিখেছিলেন দুধরনের ইংরেজ আছে, বড় ইংরেজ ও ছোট ইংরেজ। শৈশবে তিনি বড় ইংরেজকে দেখেছেন, যারা তার অন্তর্জগতকে সমৃদ্ধ করেছিল। বিশ্বযুদ্ধের সময়ে তিনি দেখছেন ছোট ইংরেজকে, যারা মানুষকে ক্ষুদ্র করছে সংঘাতে জড়িয়ে। বলেন প্রফেসর ড. অনুপম সেন। বিভাগের চেয়ারম্যান সাদাত জামান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন ইংরেজি বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মোহীত উল আলম, বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর আবদুর রহিম ও সহকারী অধ্যাপক কোহিনুর আকতার।
ডাক্তারদের কর্মবিরতি বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে রিট
অনলাইন ডেস্ক :যেকোনো পরিস্থিতে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কর্মবিরতি বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে। হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আইনজীবী ড. বশির আহমেদ বুধবার এ রিট দায়ের করেন। রিটে স্বাস্থ্য সচিব ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে বিবাদী করা হয়েছে। রিটকারী আইনজীবী বশির আহমেদ জানান, বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চে রিট আবেদনটির শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। তিনি বলেন, চিকিৎসা সেবার সঙ্গে মানুষের জীবন-মৃত্যুর সম্পর্ক। এ পেশায় যারা কাজ করেন তারা কিছু হলেই কর্মবিরতির ডাক দেন। সাধারণ মানুষকে এভাবে জিম্মি করে কর্মবিরতির ডাক দেওয়া বেআইনি। এ কারণে আদালতে রিট দায়ের করা হয়েছে। রিটে ডাক্তার, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কর্ম বিরতি ডাকা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারির আবেদন করা হয়েছে। তাছাড়া রিটে সকল জেলা সদরের হাসপাতালগুলোতে কমপক্ষে ৩০ শয্যা বিশিষ্ট আইসিইউ অথবা সিসিইউ ইউনিট বসানোর নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

জাতীয় পাতার আরো খবর