আঞ্চলিক কানেকটিভিটি জোরদারে প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বারোপ
দক্ষিণ এশিয় দেশগুলোর মধ্যে কানেকটিভিটি জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই ভারতের সঙ্গে একটি রেল যোগাযোগ উন্মুক্ত করার পদক্ষেপ নিয়েছে। যেটি ১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় বন্ধ হয়ে যায়। আজ প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁওস্থ কার্যালয়ে ঢাকায় নবনিযুক্ত নেপালের রাষ্ট্রদূত ড. চোপ লাল ভূশাল তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একথা বলেন। খবর বাসস’র প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম বলেন, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নেপাল এবং ভূটানের সঙ্গে কানেকটিভিটিজোরদার করার বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন এবং মালামাল পরিবহন ও ট্রানজিট হিসেবে সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে ব্যবহার করতে দেয়ার প্রস্তাবও পুনর্ব্যক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রী এ সময় বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে বিম্যমান সৌহাদ্যপূর্ণ এবং ঐতিহ্যগত সম্পর্কে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে নেপালের সহযোগিতার কথা বিশেষ করে মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্রের জোগানদানের বিষয়টি স্মরণ করেন বলেও প্রেস সচিব উল্লেখ করেন। কানেকটিভিটি জোরদারের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ-ভূটান-ইন্ডিয়া-নেপাল (বিবিআইএন) সড়ক যোগাযোগ অবকাঠামো বাস্তবায়নের বিষয়ে বাংলাদেশ অধিক গুরুত্বারোপ করছে। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব বলেন, নেপালের রাষ্ট্রদূত দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান অত্যন্ত আন্তরিকতাপূর্ণ সম্পর্কে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং তাঁর দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন। কিছু খারাপ সময় অতিবাহিত করার পর তাঁর দেশ এখন একটি কেন্দ্রিয় এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সংবিধান প্রণয়নে সক্ষম হয়েছে, এখনকার সরকার ও বেশ শক্তিশালী এবং স্থিতিশীল, বলেন ড. চোপ লাল। রাষ্ট্রদূত বলেন, সংসদ সদস্যদের মধ্যে এখন ৩৪ শতাংশই নারী সদস্য এবং স্থানীয় সরকারে নারী প্রতিনিধিত্ব প্রায় ৪০ শতাংশ। মেডিকেল, ইঞ্জিনিয়ারিংসহ অন্যান্য বিষয়ে প্রায় ৩ হাজার নেপালি শিক্ষার্থী এখন বাংলাদেশে পড়াশোনা করছে, বলেন তিনি। নেপালের রাষ্ট্রদূত এ সময় তাঁর দেশের রাজধানী কাঠমুন্ডুতে ২০১৫ সালের প্রলয়ঙ্করী ভূমিকম্পের পর বাংলাদেশের প্রদত্ত খাদ্য এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের জন্য বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। রাষ্ট্রদূত দুই দেশের মধ্যে বিদ্যুৎ খাতে গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতা গড়ে ওঠার সম্ভবনার কথা উল্লেখ করে বলেন, নেপালের ৫০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে এই বিদ্যুৎ খাতে সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরীর জন্য সংলাপ চলছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ সময় তাঁর সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের জন্যও নেপালের প্রধানমন্ত্রীকে বাংলাদেশে আমন্ত্রণ জানান। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন।
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ স্থগিত
অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগ স্থগিত করেছে মালয়েশিয়া। দেশটির দায়িত্বশীল পর্যায় থেকে বলা হচ্ছে, দেশটিতে কর্মী প্রেরণে নিয়োজিত দশ এজেন্সির সমন্বয়ে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেট এই অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে। অভিযোগ রয়েছে, গত দুই বছরে সিন্ডিকেটটি অন্তত ২০০ কোটি রিংগিত হাতিয়ে নিয়েছে। এ অভিযোগের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত স্থগিত থাকবে কর্মী নিয়োগ। দেশটির মানবসম্পদ মন্ত্রীকে উদ্ধৃতি দিয়ে শুক্রবার এ খবর দিয়েছে মালয়েশিয়ার ইংরেজি সংবাদমাধ্যম স্টার অনলাইন। তবে কর্মী নিয়োগ স্থগিতের বিষয়টি অস্বীকার করেছে বাংলাদেশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা। তারা বলছে, এ ব্যাপারে দেশটির পক্ষ থেকে অফিসিয়ালি কোনো ধরনের নোটিশ করা হয়নি। এমনকি কর্মী প্রেরণ অব্যাহত রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তারা। স্টার অনলাইন তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় লোক পাঠাতে যেখানে মাথাপিছু দুই হাজার রিংগিত খরচ হওয়ার কথা, সেখানে এজেন্টরা বাংলাদেশি শ্রমিকদের কাছ থেকে ২০ হাজার রিংগিত আদায় করছে। এর অর্ধেক টাকা যাচ্ছে ওই চক্রের হাতে, যার বিনিময়ে তারা ওয়ার্ক পারমিট ও উড়োজাহাজের টিকিটের ব্যবস্থা করে দিচ্ছে। প্রবাসী এক বাংলাদেশি ব্যবসায়ীর নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগসাজশে শ্রমিকদের কাছ থেকে দুই বছরে অন্তত ২০০ কোটি রিঙ্গিত হাতিয়ে নিয়েছে। এ অভিযোগ ওঠার পর দেশটি কর্মী নেয়ার সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছে। মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রী এম কুলাসেগারানকে উদ্ধৃত করে দেশটির ইংরেজি সংবাদমাধ্যম স্টার অনলাইন জানিয়েছে, ওই চক্রের বিষয়ে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে। স্টার অনলাইনের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই চক্রটি মালয়েশিয়া সরকারের ওপরের মহলে যোগসাজসের মাধ্যমে বাংলাদেশে এজেন্ট অনুমোদন দিয়ে একচেটিয়া কারবার গড়ে তুলেছে। এই প্রক্রিয়ায় ২০১৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত এক লাখের বেশি বাংলাদেশি শ্রমিক মালয়েশিয়ায় গেছে। আরও অন্তত এক লাখ লোক মালয়েশিয়ায় যাওয়ার অপেক্ষায় আছে। মালয়েশিয়ান মন্ত্রী বলেন, একটি চক্র শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে মানবপাচারের মতো ব্যবহার করছে। তারা শ্রমিকদের শোষণ করছে। এ অভিযোগের পূর্ণ তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশি শ্রমিকদের নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত থাকবে। এই অনিয়মের জন্য পূর্বের সরকারকে দোষারোপ করেন এম কুলাসেগারান। তিনি বলেন, পূর্ববর্তী প্রশাসন শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে ব্যবসা করেছে। এতে লাভবান হয়েছে গুটিকয়েক ব্যক্তি। এটি পুরোপুরিভাবে একটি বিশৃঙ্খল প্রক্রিয়া। যার সুযোগ নিয়েছে মধ্যস্বত্বভোগীরা। আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি। মূল সমস্যা চিহ্নিত করার চেষ্টা করছি। আশা করি, দ্রুতই একটি সমাধানে পৌঁছাতে পারবো। তত দিন পর্যন্ত সরকারিভাবে আবেদন প্রক্রিয়া চলবে। তিনি বলেন, মন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারের সময়ে মানবসম্পদ আমদানির বিষয়টি পরিচালনা করা হয়েছে ব্যক্তিগত ব্যবসার কায়দায়, যাতে কেবল ব্যক্তিবিশেষই লাভবান হয়। বলেন, যেভাবে বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় জনশক্তি নেয়া হচ্ছিল তাতে শ্রমিকদের কাছ থেকে মোটা অংকের বাড়তি অর্থ আদায় করা হচ্ছিল, আর তা যাচ্ছিল দুই দেশের কিছু দালালের পকেটে। স্টার অনলাইনকে কুলাসেগারান জানান, তার আগ পর্যন্ত মালয়েশিয়া সরকার পুরনো পদ্ধতিতে (জি টু জি) ফিরে যাবে, যাতে আবেদন প্রক্রিয়া চালু রাখা যায়। একটি সূত্রের বরাত দিয়ে স্টার অনলাইন লিখেছে, ওই দশ এজেন্সির মধ্যে কয়েকটি ছিল রাতারাতি গজিয়ে ওঠা কোম্পানি। মালয়েশীয় চাকরিদাতা ও বাংলাদেশি শ্রমিকদের মধ্যে দালালের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে অর্থ হাতিয়ে নেয়াই ছিল সেসব কোম্পানি গড়ে তোলার উদ্দেশ্য। এসব কোম্পানি শ্রমিকদের কাছ থেকে জনপ্রতি ২০ হাজার রিংগিত আদায় করে। অথচ দুই সরকারের চুক্তি অনুযায়ী বিমানভাড়াসহ সব মিলিয়ে এজেন্টের খরচ পড়ে দুই হাজার রিংগিতের কম। মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশি হাইকমিশনার শহীদুল ইসলাম এ বিষয়ে বলেন, এ ব্যাপারে আমরা কোনো নির্দেশনা পাইনি। তিনি বলেন, সংবাদটি দেখেছি, তিনি কোন প্রেক্ষাপটে বলেছেন তা আমাদের জানা নেই। তিনি বলেন, স্থগিত হলে তো আমাদের জানার কথা। হাইকমিশনার এর বেশি মন্তব্য করতে চাননি। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বাংলাদেশের দশটি এজেন্সি এখন মালয়েশিয়ায় লোক পাঠায়। যারা কাজটি করে তারা প্রত্যেকেই বাংলাদেশে থাকে। মালয়েশিয়া স্টারের ওই প্রতিবেদনটি আমি পড়েছি। সেখানে যে প্রবাসী বাংলাদেশির কথা বলা হচ্ছে তার বিষয়ে কোনো তথ্য আমার জানা নেই। তিনি বলেন, আমার জানামতে এ ব্যাপারে অফিসিয়ালি কোনো চিঠি পায়নি। এছাড়া কর্মী প্রেরণ অব্যাহত রয়েছে বলেও তিনি জানান। উল্লেখ্য, সরকারি হিসাবে পাঁচ লাখের বেশি নিবন্ধিত বাংলাদেশি দেশটিতে বিভিন্ন পেশায় কাজ করেন। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর ২০১৩ সালে দুই দেশের সরকারি পর্যায়ে (জি টু জি) পদ্ধতিতে বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি নিতে শুরু করে মালয়েশিয়া। কিন্তু ওই প্রক্রিয়ায় মালয়েশিয়ার ‘প্ল্যান্টেশন’ খাতে কাজ করতে আগ্রহীর সংখ্যা কম হওয়ায় সে সময় ভালো সাড়া মিল ছিল না। পরে মালয়েশিয়া জনশক্তির জন্য বাংলাদেশকে তাদের ‘সোর্স কান্ট্রির’ তালিকাভুক্ত করে। ফলে সেবা, উৎপাদন, নির্মাণসহ অন্যান্য খাতেও বাংলাদেশি কর্মী নেয়ার সুযোগ তৈরি হয়। মালয়েশিয়া সরকার তাদের পাঁচটি খাতে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ের সমন্বয়ে ‘জি টু জি প্লাস’ পদ্ধতিতে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিতে রাজি হওয়ার পর ২০১৬ সালে ঢাকায় দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। পাঁচ বছর মেয়াদি এই চুক্তির আওতায় লোক পাঠানোর অনুমতি দেয়া হয় ওই দশটি জনশক্তি রপ্তানিকারক এজেন্সিকে।
আওয়ামী লীগের হাত ধরেই বাঙালির অর্জন: প্রধানমন্ত্রী
বাঙালি যা কিছু অর্জন করেছে তা আওয়ামী লীগের হাত ধরেই হয়েছে বলে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার গত সাড়ে ৯ বছরে দেশের কৃষি, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, তথ্য-প্রযুক্তি, অবকাঠামো, বিদ্যুৎ, গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়ন, কূটনৈতিক সাফল্য ও সহযোগিতা বৃদ্ধিসহ প্রতিটি খাতে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ব্যাপক উন্নয়ন করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। শনিবার সকালে গণভবনে আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভায় বক্তৃতাকালে এ সব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এখন বাংলাদেশ নিম্নমধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে। অর্থনৈতিক অগ্রগতির সূচকে বিশ্বের শীর্ষ ৫টি দেশের একটি বাংলাদেশ। সভায় দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য, জেলা, উপজেলা, মহানগর, পৌরসভার সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক, দলীয় এমপি, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানসহ চার হাজার প্রতিনিধি অংশ নেন।
আওয়ামী লীগ পেল নিজস্ব ভবন
স্বাধীনতা-সংগ্রামে নেতৃত্বদানকারী দল আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠার পর প্রথমবারের মতো নিজস্ব ভবন পেলো। দৃষ্টিনন্দন ও আধুনিক সব সুযোগ সুবিধা সম্পন্ন রাজধানীর ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউর নতুন দশতলা ভবন হচ্ছে আওয়ামী লীগের স্থায়ী ঠিকানা। ৮ কাঠা জায়গার উপর ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে নিজস্ব অর্থায়নে নির্মাণ করা হয়েছে বিশ্বমানের দলীয় কার্যালয়টি। পুরো কার্যালয়টি ওয়াইফাই জোনের আওতায়। আওয়ামী লীগের ৬৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে নতুন ভবনে দলীয় কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসময় একটি গাছের চারা রোপণ করেন তিনি। সরেজমিনে দেখা গেছে, দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের জন্য রাখা হয়েছে সুপরিসর কক্ষ। দলের সভাপতির কক্ষের সঙ্গে রয়েছে বিশ্রামাগার ও নামাজের জায়গা। এছাড়া ডিজিটাল লাইব্রেরি, ভিআইপি লাউঞ্জ, সাংবাদিক লাউঞ্জ, ডরমিটরি ও ক্যান্টিন থাকছে। দুই পাশ কাঁচ দিয়ে ঘেরা। এছাড়াও দুটি স্বতন্ত্র কার পার্কিং, একাধিক লিফট, সিঁড়ি, অগ্নি প্রতিরোধ ব্যবস্থা রয়েছে। জানা গেছে, ভবনটির ছয় বা সাততলা পর্যন্ত ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, কৃষকলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মহিলালীগসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের অফিস থাকবে। আওয়ামী লীগের পুরনো অফিস ২৩, বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের চারতলা ভবনটি লিজ গ্রহণ প্রক্রিয়া শেষ হয় ২০১১ সালে। এর পর দলটি নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। পরবর্তীতে ২০১৬ সালের ৬ এপ্রিল নতুন কার্যালয়ের নতুন ভবনের নকশা অনুমোদন দেন দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা। ২০১৬ সালের ১৭ জুলাই পুরনো স্থাপনা ভাঙা শুরু হয়। রাজধানীর গুলিস্তানের ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের ১০ তলা আধুনিক কার্যালয়টির নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করা হয় গত বছরের ২৩ জুন। কার্যালয়ের সামনে স্টিলের বড় অক্ষরে লেখা রয়েছে, ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ’। পাশেই দলীয় প্রতীক নৌকা। সবার উপরে রয়েছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল। এরপর রয়েছে মুক্তিযুদ্ধ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের ম্যুরাল। দুই পাশ কাঁচ দিয়ে ঘেরা। আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, নতুন ভবন উদ্বোধনের পর আওয়ামী লীগের সব সাংগঠনিক কার্যক্রম চলবে ২৩, বঙ্গবন্ধু এভিনিউর এ কার্যালয় থেকে। আর ধানমন্ডির আওয়ামী লীগ সভাপতির কার্যালয় থেকে দলের নির্বাচনী কার্যক্রম ও সিআরআইসহ দলের অন্যান্য সংস্থার গবেষণামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হবে। ভবনটির সামনের দেয়ালজুড়ে দলের সাইনবোর্ডসহ দলীয় স্লোগান ‘জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু’, চার মূলনীতি খোদাই করে লেখা। ভবনের সামনে-পেছনে ছেড়ে দেয়া জায়গায় হবে বাগান। এ ভবনের সামনে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহতদের স্মরণে স্থায়ী স্মৃতিসৌধ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। ভবনটির প্রথম থেকে তৃতীয়তলা পর্যন্ত প্রতিটি ফ্লোর ৪ হাজার ১০০ বর্গফুট। চতুর্থতলা থেকে উপরের সব ক’টি ৩ হাজার ১০০ বর্গফুটের। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে আওয়ামী লীগের নতুন ভবন উদ্বোধন দলের নেতাকর্মীদের বাড়তি অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করছে। আওয়ামী লীগের নিজস্ব ফান্ড থেকে ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে ভবনটির নির্মাণ কাজ শুরু করা হলেও নির্মাণ সামগ্রীর দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় নির্মাণ খরচ বেড়েছে বলেও জানান তিনি।
চলে গেলেন নিউজ একাত্তর ডট কম এর নির্বাহী সম্পাদক নূরুল ইসলাম ভূইয়া
নিজস্ব প্রতিনিধি,ঢাকা:দির্ঘ দিন অসুস্থ থাকার পর বার্ধক্যজনিত কারণে গত ২২ জুন শুক্রবার ঢাকা মেডিকেল কলেজে বিকেল ৫.৩০ মিনিটের সময় মৃত্যু বরণ করেন মো:নুরুল ইসলাম ভুইয়া (ইন্নালিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যু কালে তার বয়স হয়েছিল ৭৮ বৎসর।তিনি দৈনিক মানবকন্ঠ পত্রিকার সাবেক সহ সম্পাদক ও পরবর্তীতে অনলাইন দৈনিক নিউজ একাত্তর ডট কম এর নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে দায়ীত্ব পালন করেছেন। তাহার মৃত্যুতে বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন শোক জানিয়েছেন। তাহার অকাল মৃত্যুতে নিউজ একাত্তর ডট কম এর পক্ষ থেকে শোক ও শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়।
এখানে কোনও একদলীয় শাসন নেই
দেশে বাকশাল পদ্ধতি হওয়ার কোনও প্রশ্নই উঠে না। সাংবিধানিক ক্ষেত্রে তার বাস্তব রূপও নেই। গণতান্ত্রিকভাবে বিএনপিসহ সকল দল সুযোগ গ্রহণ করছে। এখানে কোনও একদলীয় শাসন নেই। বললেন তথ্যমন্ত্রী ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় কুষ্টিয়া সার্কিট হাউজে মতবিনিয়কালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, সামরিক সরকারের আমদানি করা জঙ্গি, যুদ্ধাপরাধী, জামায়াত, আগুন সন্ত্রাসী এবং তাদের বন্ধু বিএনপি এই পাঁচ দানব রাজনীতি ও গণতন্ত্রের জন্য ভয়ানক বিপজ্জনক। এদেরকে কিভাবে রাজনীতি এবং ক্ষমতার রাইরে রাখা যায় সেটা নিয়ে আলোচনার বিষয়বস্তু হতে পারে। নির্বাচনে আসা বা না আসা নিয়ে কোনও আলোচনার প্রশ্নই ওঠে না। কৌশল হিসেবে নির্বাচনের নামে ওই পাঁচ দানব গণতন্ত্রের টুপি পরে মিথ্যাচারকে বেছে নিয়েছে। এসময় মন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো. জহির রায়হান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নূরানী ফেরদৌস দিশা, কুষ্টিয়া জেলা জাসদের সভাপতি গোলাম মহসিন, মিরপুর উপজেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক আহাম্মদ আলী প্রমুখ।সুত্র আর টিভি
কৃষিবিজ্ঞানীদের আরও গবেষণা বাড়াতে হবে
কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী দেশীয় ফলজ উদ্ভিদের জাত সুরক্ষার পাশাপাশি বিদেশি উন্নত ফল চাষের ক্ষেত্রে খাপ খাওয়ানোর উপায় খুঁজে বের করতে আরও গবেষণা বাড়ানোর জন্য কৃষিবিজ্ঞানীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। আজ শুক্রবার সকালে রাজধানীর কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশন বাংলাদেশ মিলনায়তনে ফলদ বৃক্ষরোপণ পক্ষ (২২ জুন- ৬ জুলাই) এবং জাতীয় ফল প্রদর্শনী ২০১৮ এর (২২-২৪ জুন) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতাকালে তিনি এই আহ্বান জানান। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক প্রধান অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেন, ‘দেশীয় ফলের জাতের সুরক্ষার পাশাপাশি আমাদেরকে বিদেশি উন্নত ফলের উৎপাদন বা চাষের ক্ষেত্রে খাপ খাওয়ানোর উপায় খুঁজে বের করতে হবে। এছাড়া মে থেকে মধ্য আগস্ট পর্যন্ত সময়কালে দেশে প্রায় যে ৬০ ভাগ ফল পাওয়া যায় তার সময়সীমা যাতে বাড়ানো যায়, সেজন্য কৃষিবিজ্ঞানীদের আরও গবেষণা বাড়াতে হবে।’ ‘অপ্রতিরোধ্য দেশের অগ্রযাত্রা, ফলের পুষ্টি দেবে নতুন মাত্রা’ প্রতিপাদ্যে ২২ জুন থেকে ৬ জুলাই দেশব্যাপী শুরু হয়েছে ফলদ বৃক্ষ রোপণ পক্ষ ও জাতীয় ফল প্রদর্শনী-২০১৮।
ছয় বছর কারাগারে থাকা অবস্থায় ডাক্তারের চেহারাও দেখেননি
ছয় বছর কারাগারে থাকা অবস্থায় চিকিৎসা তো দূরের কথা, ডাক্তারের চেহারাও দেখেননি বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ। অথচ খালেদা জিয়া চিকিৎসা পাচ্ছেন, সঙ্গে কাজের মেয়েও পেয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। এরশাদ বলেন, খালেদা জিয়া চেয়েছিলেন আমি কারাগারেই মারা যাই। কিন্তু মহান আল্লাহ তায়ালা আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা থেকে সৈয়দপুর হয়ে রংপুর সার্কিট হাউজে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, জিয়াউর রহমান সেনাপ্রধান ছিলেন। তার স্ত্রী হিসেবে তিনিও সিএমএইচে চিকিৎসা নিতে পারেন। কিন্তু উনি গোঁ ধরে বসে আছেন তার ইচ্ছে অনুযায়ী চিকিৎসা নেবেন। এটা কখনোই হতে পারে না। এ সময় মাদক নির্মূলে ক্রসফায়ারকে সমর্থন করেন এরশাদ। বলেন, মাদক দমন করতে গিয়ে কিছু লোক যদি মারা যায় তা গ্রহণ করা উচিত। যদিও আমি বিনা বিচারে মৃত্যু সমর্থন করি না। তারপরেও যারা মাদক ব্যবসা করে যুবসমাজকে ধ্বংস করছে তাদের মৃত্যুতে আমাদের কোনও শোক নেই। আসন্ন গাজীপুর, সিলেট, বরিশাল ও রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিপূর্ণ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন এরশাদ। তিনি বলেন, এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরাই জয়ী।

জাতীয় পাতার আরো খবর