এখন পর্যন্ত ৩৭ জনের লাশ শনাক্ত করা হয়েছে: সোহেল মাহমুদ
২১ফেব্রুয়ারী,বৃহস্পতিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: পুরান ঢাকায় আগুনের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩৭ জনের লাশ শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক সোহেল মাহমুদ। বৃহস্পতিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) এ কথা জানান তিনি। নিহতদের ময়নাতদন্ত শেষে আজই লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলেও জানান তিনি। অধ্যাপক সোহেল মাহমুদ বলেন, লাশগুলোকে একেবারে শনাক্ত করা যাচ্ছে না। তাদের আমরা ডিএনএ স্যাম্পল কালেক্ট করবো। যাদেরকে চেনা যাচ্ছে প্রথমে তাদেরকে আত্মীয় স্বজন ও পরে ফিঙ্গারপ্রিন্ট নিয়ে শনাক্ত করবো। আশা করি আমাদের বেশি কোন অসুবিধা হবে না। কয়েকটি ইউনিটে ভাগ হয়ে কাজ শেষ করে ফেলতে পারবো।
পুরান ঢাকায় রাসায়নিক কারখানা কিংবা গুদাম থাকতে পারবে না : সাঈদ খোকন
২১ফেব্রুয়ারী,বৃহস্পতিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: পুরান ঢাকায় কোনো রাসায়নিক কারখানা কিংবা গুদাম থাকতে পারবে না বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন। তিনি বলেন, সোমবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে রাসায়নিক কারখানার বিরুদ্ধে তিনি অভিযান শুরু করেছিলেন। কিন্তু তার দু দিনের মাথায় এ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চকবাজারের দুর্ঘটনাস্থলের কাছের একটি মসজিদে সাংবাদিকদের সঙ্গে এসব কথা বলেন তিনি। এ অগ্নিদুর্ঘটনা তার ব্যর্থতার কারণে হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, জনগণই তা বিচার-বিবেচনা করবেন। নিরাপত্তার জন্য পূরাণ ঢাকায় গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে, ফায়ার সার্ভিসের ছাড়পত্র না পাওয়া পর্যন্ত সেগুলোর সংযোগ দেয়া হবে না বলে জানান মেয়র। তিনি আরো বলেন, এতে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে। বুধবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টা ১০ মিনিটের দিকে এ আগুনে এখন পর্যন্ত ৭০ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। অগ্নিনির্বাপক বাহিনীর ৩৭টি ইউনিট আগুন নেভাতে কাজ করেছেন। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) একেএম শাকিল নেওয়াজ বলেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা গেলেও ভেতরে এখনও জ্বলছে। রাসায়নিকসহ বিভিন্ন দাহ্য পদার্থ থাকায় আগুন পুরো নেভাতে অনেক সময় লাগবে। চুড়িহাট্টা শাহী মসজিদের পেছনের ওই ভবনগুলোতে অগ্নিকাণ্ডে নিহত হয়েছে ৭০ জন, এছাড়াও বহু মানুষ আহত হয়েছেন। ভোরের দিকেও দগ্ধ অবস্থায় লোকজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী আহমেদ বলেন, উদ্ধারকাজ পুরোপুরি শেষ হওয়ার পর হতাহতের সঠিক তথ্য জানা যাবে।
৫ হাজার ডাক্তার নিয়োগ আগামী দুই মাসের মধ্যে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
২১ফেব্রুয়ারী,বৃহস্পতিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: দেশে চিকিৎসক সংকট দূর করতে শীঘ্রেই ৫ হাজার ডাক্তার নিয়োগ দেবে সরকার। আগামী ২ মাসের মধ্যেই এ নিয়োগ দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, দেশের চিকিৎসক সংকট দূর করতে আগামী ২ মাসের মধ্যে ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দেবে সরকার। বৃহস্পতিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সংসদে সরকারি দলের সদস্য আতিউর রহমান আতিকের এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, পাশাপাশি নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে অচিরেই প্রতিটি বিভাগে একটি করে ক্যান্সার হাসপাতাল ও একটি কিডনি হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বুধবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিকালে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিক্ষক, চিকিৎসক ও সেবক-সেবীকাদের সাথে মতবিনিময়ের সময় এ কথা বলেন তিনি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের মেয়াদকালে নতুন প্রতিষ্ঠিত সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় পূর্ণাঙ্গ রূপে নির্মাণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, সরকার স্বাস্থ্য খাতসহ দেশের সার্বিক উন্নয়ন করতে সক্ষম হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশের স্বাস্থ্যসেবা বিশ্ব পরিমণ্ডলে প্রশংসিত হয়েছে। এখন আমাদের দেশে প্রায় সকল ধরনের চিকিৎসা সেবা প্রদান করা যাচ্ছে। কিছুটা সেবা আমাদের দেশে নেই বলে মানুষ বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। যা সংখ্যায় অনেক কম। দিন দিন আমাদের সেবার মান উন্নত হচ্ছে। আরও উন্নত করতে হবে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য সচিব জিএম সালেহ উদ্দিন, ওসমানী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. ময়নুল হক। মতবিনিময় শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, দু’একটি হাসপাতালে দুদক ডাক্তারদের উপস্থিতি দেখতে গিয়েছিল। এরপর কিছু পরামর্শ দিয়েছে যাতে করে স্বাস্থ্যসেবায় আরও স্বচ্ছতা আসে। সেই পরামর্শগুলো বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছেন বলে জানান মন্ত্রী। এর আগে দুপুরে বিমানযোগে দু’দিনের সফরে সিলেট আসেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটাই তার প্রথম সিলেট সফর।
ভাষা শহীদদের প্রতি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
২১ফেব্রুয়ারী,বৃহস্পতিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: হৃদয় নিঙড়ানো ভালোবাসা আর পরম মমতায় ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানালো জাতি। একুশের প্রথম প্রহরে পুরো জাতির পক্ষে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী। এরপরই শহীদ মিনারে ঢল নামে শ্রদ্ধা জানাতে আসা সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের। জীবন বিলিয়ে দিয়ে যারা প্রতিষ্ঠা করেছিলো মাতৃভাষার মর্যাদা; সেইসব মহাত্মাদের বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করছে জাতি। জাতির যে বীর সন্তানদের রক্তে শৃঙ্খলমুক্ত হয়েছিলো দুঃখিনী বর্ণমালা আর মায়ের ভাষা বাংলা, বীর সেই সৈনিকদের অবদান ও সংগ্রামের দিনগুলিকে স্মরণ করলো বাংলাদেশ। কৃতজ্ঞতার অর্ঘ্য নিবেদন করলো বিনম্র শ্রদ্ধায়। আর তাই একুশের প্রথম প্রহরে জেগে উঠেছিলো কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। পুরো জাতির পক্ষে একুশের প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শহীদ বেদিমূলে কিছু সময় নীরবতায় রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকার প্রধান শ্রদ্ধা জানান ভাষার কারিগরদের। পরে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে পাশে নিয়ে শহীদবেদীতে ফুল দেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। এরপর, ভাষার মর্যাদার প্রশ্নে আপোষহীন সেইসব ত্যাগী আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানান জাতীয় সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার, সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা ও বিদেশী কূটনীতিকরা। আরো শ্রদ্ধা জানান- তিন বাহিনী প্রধানসহ রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিরা। রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলে ফুলেল ভালোবাসা জানাতে সর্বস্তরের জনতার পদভারে মুখর হয়ে ওঠে স্মৃতির মিনার। বাহারি ফুলের পুষ্পার্ঘ্য অর্পণে বেদিমূলে ভিড় করেন সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা। ঐক্যের একুশ ধ্বনিত হয় মুক্তির জয়গানে।
আগুনে ক্ষতিগ্রস্তদের সরকার ক্ষতিপূরণ দেবে: ওবায়দুল কাদের
২১ফেব্রুয়ারী,বৃহস্পতিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: পুরান ঢাকার চকবাজারের ভয়াবহ আগুনে ক্ষতিগ্রস্তদের সরকার ক্ষতিপূরণ দেবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এছাড়া ঘটনা খতিয়ে দেখে কঠোর ব্যবস্থাও নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) আজিমপুর কবরস্তানে ভাষা শহীদদের সমাধীতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে এ মন্তব্য করেন তিনি। ওবায়দুল কাদের বলেন, যারা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে, তাদের বিষয়ে অবশ্যই সরকার ব্যবস্থা নেবে। এসব মানবিক দিক সরকার সবসময় দেখে আসছে এখনও দেখবে। সরকাররে অবস্থান এখানে অনেক কঠোর। সরকার যা যা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ সব নেবে। এসময় তিনি আরো বলেন, 'বাংলাকে জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার দাবিও জানান ওবায়দু কাদের। উল্লেখ্য, বুধবার রাত পৌনে ১১টার দিকে চুড়িহাট্টা শাহী মসজিদের পেছনের একটি ভবন থেকে আগুনের সূত্রপাত বলে স্থানীয়রা জানান। পরে তা পাশের ভবনগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। সর্বশেষ রাত ৩টার দিকে স্থানীয়দের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন ফায়ার সার্ভিসের প্রায় ২০০ কর্মী।
ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান রাষ্ট্রপতির
২১ফেব্রুয়ারী,বৃহস্পতিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: ঢাকার চকবাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় নিহতদের আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করেন তিনি। রাষ্ট্রপতি এ দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান । বৃহস্পতিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং আহতদের আশু সুস্থতা কামনাও করেন তিনি। রাজধানীর চকবাজারের চুড়িহাট্টা শাহী মসজিদের পেছনের ভবনগুলোতে লাগা ভয়াবহ আগুনে দগ্ধ এখন পর্যন্ত অন্তত ৬৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া মরদেহের মধ্যে ৪৮ পুরুষ ৫ জন নারী ও ২ জন শিশু রয়েছে।
রাজধানীর চকবাজারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর শোক
২১ফেব্রুয়ারী,বৃহস্পতিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: রাজধানীর পুরান ঢাকার চকবাজারের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৭০ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে এখনো কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ৩৭টি ইউনিট। অগ্নিকাণ্ডে নিহতের ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ আব্দুল হামিদ। তিনি এক বিবৃতিতে দুর্ঘটনায় নিহতদের আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করেন। একই সঙ্গে তিনি শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন। দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সকলকে এগিয়ে আসারও আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। এদিকে, অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের ঘটনায় শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এক বিবৃতিতে শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান তিনি।
পুরান ঢাকার চকবাজারে আগুনে পুড়ল ৭০, বাড়ছে লাশের সংখ্যা
২১ফেব্রুয়ারী,বৃহস্পতিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: পুরান ঢাকার চকবাজারে ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী এ ঘটনায় ৭০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। নিহতদের সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) জাবেদ পাটোয়ারী জানান, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৭০ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এখন পর্যন্ত ৬৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার রাত ১০টা ১০ মিনিটে চকবাজারের নন্দকুমার দত্ত সড়কের চুরিহাট্টা মসজিদ গলির রাজ্জাক ভবন থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। চার তলার ওই ভবনে আগুন লাগার পর তা ছড়িয়ে পড়ে পাশের কয়েকটি ভবনে। ফায়ার সার্ভিসের ৩৭টি ইউনিটের কর্মীরা চেষ্টা চালিয়ে রাত ৩টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে এখনো তারা কাজ করছেন। ওই এলাকায় ফায়ার সার্ভিসের একটি অস্থায়ী কমান্ডপোস্ট বসিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। ভোর ৪টা ৫২ মিনিটে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে জানানো হয় অগ্নিকাণ্ডে ৪১ জন মারা গেছেন। ওই সময়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয় ৪১ জন। এর মধ্যে চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ঘটনাস্থল থেকে ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক লেফট্যানেন্ট কর্নেল জুলফিকার বলছেন, ভেতরে আরো লাশ থাকতে পারে। এ কারণে তল্লাশি অব্যাহত আছে। উদ্ধারকাজ পুরোপুরি শেষ হওয়ার পর নিহতের সঠিক সংখ্যা জানা যাবে। স্থানীয়রা জানান, রাজ্জাক ভবনের নিচতলায় রাসায়নিক দ্রব্যের কারখানা ছিল। সেখানে রাখা গাড়ির সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। ওই ভবনের পাশে বেশ কয়েকটি রেস্তোরাঁ ছিল। যার প্রত্যেকটিতে একাধিক গ্যাসের সিলিন্ডার ছিল। আগুন ছড়িয়ে যাওয়ার কারণে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হতে পারে। আগুন লাগার পর থেমে থেমে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছিল বলে স্থানীয়রা জানান। ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সরু গলি হওয়ার কারণে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছাতে পারেনি। চকবাজার থানার সামনে গাড়ি রেখে সেখান থেকেই পাইপের মাধ্যমে পানি নেওয়া হয়। আশপাশের ভবনের পানির ট্যাংক থেকেও আগুন নিয়ন্ত্রণে পানি নেওয়া হয়।
বাংলাদেশের মানুষ মাথা উঁচু করে চলবে: প্রধানমন্ত্রী
২০ফেব্রুয়ারী,বুধবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মর্যাদার সাথে দেশের ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতিকে সুরক্ষা এবং চর্চার আহবান জানিয়ে বলেছেন, আসুন আমাদের মাতৃভূমিকে এমনভাবে গড়ে তুলি যেন ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এর সুফল ভোগ করতে পারে এবং আমরা এক অনন্য মর্যাদায় চলতে পারি। তিনি একুশের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশের মানুষ মাথা উঁচু করে চলবে কারণ একুশ আমাদের শিখিয়েছে মাথা নত না করা। একুশ আমাদের শিখিয়েছে কিভাবে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষা করা যায়। কীভাবে নিজের মাতৃভাষা, শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য সবকিছুকেই রক্ষা করা যায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুধবার বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অমর একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় আয়োজিত একুশে পদক ২০১৯ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের স্বাধীনতা, আমাদের ভাষার অধিকার আমাদের সংস্কৃতি ও কৃষ্টিকে রক্ষার চর্চাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটা সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টি করা আমাদের কর্তব্য। আমরা অনেক সংগ্রামের মধ্যদিয়ে যেটা অর্জন করেছি তার সুফলটা যেন আগামী প্রজন্ম ভোগ করতে পারে, তারা যেন একটা সুন্দর জীবন পায় সেটাই আমরা চাই। একুশে পদক বিজয়ীদের উদ্দেশ্যে সরকার প্রধান বলেন, আজকে যারা একুশে পদক পেয়েছেন তারা গুণীজন। তারা স্ব-স্ব ক্ষেত্রে কীর্তিমান, তাদের বিশাল অবদান রয়েছে। সেই অবদানের কথা সবসময়ই আমরা স্মরণ করি এবং আমি মনে করি, আমাদের আগামী দিনের প্রজন্মও তাদের অনুসরণ করে নিজেদের গড়ে তুলবে। তিনি বলেন, আমরা বাঙালি জাতি, বাংলাদেশ আমাদের দেশ, বাংলা আমাদের ভাষা- যে কথা জাতির পিতা বারবার বলে গেছেন। সেই দেশকেই আমরা গড়ে তুলতে চাই। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের দরবারে একটি মর্যাদার আসনে বাংলাদেশ যেন অধিষ্ঠিত হয় এবং বাঙালি জাতি যেন বিশ্বসভায় সম্মানের সঙ্গে মাথা উঁচু করে চলতে পারে সেটা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুধবার বিকেলে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মর্যাদাপূর্ণ একুশে পদক বিতরণ করেছেন। তিনি স্ব-স্ব ক্ষেত্রে কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ২১ জন ব্যক্তিকে রাষ্ট্রের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সম্মাননা একুশে পদক ২০১৯ এ ভূষিত করেন। গত ৬ ফেব্রুয়ারি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় এই পদক বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করে। এ বছরের একুশে পদকপ্রাপ্তরা হলেন : ভাষা আন্দোলনে অবদানের জন্য মরহুম অধ্যাপক হালিমা খাতুন (মরণোত্তর), যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি গোলাম আরিফ টিপু এবং অধ্যাপক মনোয়ারা ইসলাম। ক্ষিতীন্দ্র চন্দ্র বৈশ্য একুশে পদক পেয়েছেন মহান মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকার জন্য। প্রয়াত পপ শিল্পী আজম খান (মরণোত্তর) ও নজরুল সংগীত শিল্পী খায়রুল আনাম শাকিলের সঙ্গে এবার সংগীত বিভাগে এ পুরস্কার পান গায়ক সুবীর নন্দী। সুবর্ণা মুস্তাফার সঙ্গে লাকী ইনাম ও লিয়াকত আলী লাকী একুশে পদক পান অভিনয়ের জন্য। দেশের প্রথম নারী আলোকচিত্রী সাইদা খানম আলোকচিত্রে অবদানের জন্য এবং চিত্রশিল্পী জামাল উদ্দিন আহমেদ চারুকলায় এ পুরস্কার পান। গবেষণায় ড. বিশ্বজিৎ ঘোষ ও ড. মাহবুবুল হক এবং শিক্ষায় ড. প্রণব কুমার বড়ুয়াকে এ পদক প্রদান করা হয়। এছাড়া ভাষা সাহিত্যে রিজিয়া রহমান, ইমদাদুল হক মিলন, অসীম সাহা, আনোয়ারা সৈয়দ হক, মইনুল আহসান সাবের ও হরিশংকর জলদাস একুশে পদক পান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একুশে পদকপ্রাপ্তদের হাতে পদক তুলে দেন এবং মরণোত্তর একুশে পদক বিজয়ী মরহুম অধ্যাপক হালিমা খাতুনের পক্ষে তার কন্যা বেগম প্রজ্ঞা লাবনী এবং পপ সম্রাট আজম খানের পক্ষে তার কন্যা বেগম ইভা খান পুরস্কার গ্রহণ করেন। সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. আবু হেনা মুস্তফা কামাল স্বাগত বক্তৃতা করেন। মন্ত্রী পরিষদ সচিব মো. শফিউল আলম অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন এবং পদক বিজয়ীদের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি পাঠ করেন। অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ সদস্যবৃন্দ, সরকারের উপদেষ্টাবৃন্দ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, বিচারপতিগণ, পদস্থ সামরিক ও বেসাসরিক কর্মকর্তাবৃন্দ, কবি, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী, শিল্পীসহ বিশিষ্ট নাগরিকবৃন্দ, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকবৃন্দ, পূর্বের একুশে পদক বিজয়ী ব্যক্তিবর্গ এবং আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পুরস্কার হিসেবে প্রত্যেককে ৩৫ গ্রাম ওজনের একটি স্বর্ণপদক, এককালীন দুই লাখ টাকা ও একটি সম্মাননাপত্র দেয়া হয়। ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে সরকার ১৯৭৬ সাল থেকে প্রতিবছর বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই পুরস্কার দিয়ে আসছে। এ পর্যন্ত ৪৫৭ জন সুধী এবং ৩টি প্রতিষ্ঠানকে একুশে পদকে ভূষিত করা হয়েছে।

জাতীয় পাতার আরো খবর