কোটার সম্পর্ক নেই বাসভবনে হামলার সাথে: ঢাবি উপাচার্য
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালযের উপাচার্য আখতারুজ্জামান বলেছেন, লাশ ফেলে বিভীষিকা সৃষ্টি করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারকে অচল করার পরিকল্পনায় নিজ বাসভবনে হামলা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ঢাবি উপাচার্যের বাসভবন পরিদর্শনে যাওয়ার পর সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। উপাচার্য বলেন, দুর্বৃত্তরা চেয়েছিল একটি লাশের রাজনীতি করতে, রক্তের রাজনীতি করতে। এটি একবারেই রাজনৈতিক উদ্দেশে করা হয়েছে হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে রক্তপাত ঘটিয়ে একটি বিভীষিকাময় পরিবেশ সৃষ্টি করে বিশ্ববিদ্যালয়কে অচল করা, সরকারকে অচল করা, অস্থিতিশীল একটা পরিবেশ সৃষ্টি করা। এটাই আমার কাছে সকল আলামতে মনে হয়। এর সাথে কোটার কোনো সম্পর্ক নেই। উপাচার্য আখতারুজ্জামান বলেন, সিন্ডিকেট যথার্থই বলেছে, রাত ২টার দিকে যদি পুলিশ-রযাব অ্যাকশনে যেত তবে অনেক প্রাণহানি হতো, যেটি কোনোভাবেই কাম্য নয়- দুর্বৃত্তদের এটাই ছিল প্রত্যাশা। তিনি আরো বলেন,পুলিশ এবং রযাবের শক্তিপ্রয়োগের মাধ্যমে দিয়ে আমরা এই দুর্বৃত্তকে দমন করি নি এবং সেটার জন্য আমরা যে প্রজ্ঞা এবং সাহসী একাগ্রতা এবং নৈতিক মানে উজ্জীবিত থেকেছি এবং বড় আকারের প্রাণহানি যে ঘটেনি সে কারণে সিন্ডিকেট সন্তোষ প্রকাশ করেছে। এ সময় হামলার ঘটনার বর্ণনা দিয়ে আখতারুজ্জামান বলেন, হামলার আগে মেয়েদের একটি মিছিল স্লোগান দিয়ে গেটের সামনে এলেও তারা ভেতরে ঢুকেনি। রাত সোয়া ১টার দিকে পূর্ব দিক থেকে একদল মিছিল নিয়ে এসে হামলা করে জানিয়ে তিনি বলেন, এখানে গেইটে প্রায় ১৫ মিনিট যাবত হামলা করতে ছিল। তারপর ওয়াল টপকে তারা উপরে উঠে সিসি ক্যামেরা ভেঙে তারপর ভাঙচুর শুরু করল। প্রায় ৭০-৮০ জন হাতে লাঠিসোটা নিয়ে ভেতরে ঢুকেই আলো বাতিগুলো ভাঙতে শুরু করে জানিয়ে উপাচার্য বলেন,তখন আমি বুঝতে পারছি এরা আন্দোলনকারী নয়। তখনই ভাবলাম একটা নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটানোর জন্যই তারা আসছে এবং এটাই এখানে পরিচালিত হবে। তখন পরিবারে সদস্যরা দিগ্বিদিক ছোটাছোটি শুরু করছে। তখন আমি ভাবছি ওরা বুঝি নিচে ভাঙচুর করেই চলে যাবে। এর মধ্যে আমি নিচে যাওয়ার জন্য এগুচ্ছি তখনই তারা উপরে উঠে এসে আমার বেডরুমে ভাঙচুর শুরু করল। এই তাণ্ডবলীলা শুরু করল। আমার মেয়ে ও স্ত্রী কোনোক্রমে পালানোর পথ পেয়ে বের হয়ে গেল। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো ছাত্র এই ঘটনার সাথে জড়িত থাকলে তার কি ধরণের শাস্তি হবে জানতে চাইলে আখতারুজ্জামান বলেন,এটি খুব অমুলক প্রশ্ন। কারো যদি ক্রিমিনাল হিসেবে শাস্তি হয়। অপরাধী হিসেবে বিচারের মুখোমুখি হয়ে শাস্তি হয়, তাহলে বিধান অনুযায়ী সেগুলো রাষ্ট্র ও সরকারে আইনের মধ্যে হবে। উপাচার্য আরো বলেন, যারা আমার বাড়িতে প্রবেশ করল তাদের মধ্যে থেকে কয়েকজনকে আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই, তারা কিন্তু আমার প্রাণ রক্ষা করেছে। তবে মুখোশ পরা কয়েকজন আমাকে লাঠি হাতে আক্রমণের, আঘাত দেওয়ার চেষ্টা করেছে।
সরিয়ে নেয়া হয়েছে পুলিশ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) থেকে পুলিশ সদস্যদের সরিয়ে নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপকমিশনার মারুফ হোসেন সরদার। তিনি জানান, ক্যাম্পাসের ভেতর পুলিশ সদস্যদের ইউনিফর্ম পরে যেতেও নিষেধ করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকালে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা জানান। মারুফ হোসেন আরও জানান, ঢাবি ক্যাম্পাস থেকে পুলিশ সদস্যদের সরিয়ে নেয়া হয়েছে। ক্যাম্পাসে এখন কোনও পুলিশ নেই। ক্যাম্পাসে গিয়ে দেখা গেছে, ক্যাম্পাসের কোথাও পুলিশ নেই। ক্যাম্পাসের বাইরে মুক্তি ও গণতন্ত্র তোরণ, দোয়েল চত্বর, শাহবাগ, চানখাঁর পুলের মোড় ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের আশপাশে পুলিশ রয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে রাজধানীসহ সারা দেশের বিভিন্ন জায়গায় কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনে ফের উত্তেজনা শুরু হয়।
রহস্যময় ড্রোন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আকাশে
কোটা সংস্কারের দাবিতে উত্তাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসসহ সারাদেশ। ঠিক সেই মুহূর্তে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আকাশে দেখা গেছে রহস্যময় একটি ড্রোন। ড্রোনটি প্রায় ১০ মিনিট অবস্থান করে ঢাবির আকাশে। এসময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা শেইম, শেইম (লজ্জা) বলে স্লোগান দিতে থাকে। মঙ্গলবার আনুমানিক সন্ধ্যা ৬টার সময় প্রথমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির উপরে দেখা যায় ড্রোনটি। তখন লাইব্রেরির সামনে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী জড়ো হয়ে কর্মসূচি ঘোষণা করছিলেন। এর সামান্য কিছুক্ষণ পর ড্রোনটি ঠিক রাজু ভাস্কর্যের উপরে আসে। এরপর আবার ড্রোনটি লাইব্রেরির উপরে যায়। কিছুক্ষণ নিরুদ্দেশ হয়ে যায় ড্রোনটি। এসময় ড্রোনটিতে কয়েকবার নীল বাতি জ্বলতে দেখা গেছে। ড্রোনটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আকাশে দেখার পর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মাঝে বেশ উদ্বেগ লক্ষ্য করা যায়। ড্রোনের বিষয়ে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক মাহফুজুর রহমান খান বলেন,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আকাশে কেন ড্রোন সেটা আমরা জানি না। কারা ড্রোন এনেছে সেটাও আমরা জানি না। তবে আমাদের মনে হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ড্রোন হতে পারে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হয়তো বোঝার চেষ্টা করছে কারা আছে কতজন আছে। তরিকুল ইসলাম নামের অন্য এক আন্দোলনকারী বলেন,সরকার হয়তো ড্রোন দিয়ে আমাদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করছেন। আমরা কোনো কিছুতে ভয় পাই না। আমাদের যৌক্তিক দাবি মানতেই হবে। আমরা এখানে কী করছি সেটা পুরো জাতি জানে। আমরা আমাদের কথা সংবাদ সম্মেলন করে বলেছি। ড্রোন কারা এনেছে, কেন এনেছে এটা আমাদের দেখার বিষয় না। আন্দোলন চলছে, আন্দোলন চলবে যোগ করেন তিনি। এর আগে কোটা সংস্কারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুস্পষ্ট ঘোষণা না আসা পর্যন্ত আগের মতো আন্দোলন কর্মসূচি চালিয়ে যেতে ঐক্যবদ্ধ ঘোষণা দেয় আন্দোলনকারীরা। সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে এ ঘোষণা দেয় শুরু থেকে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেয়া কমিটি। কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা আসতেই হাজার হাজার শিক্ষার্থী ফের রাজু ভাস্কর্যের সামনে জড়ো হতে থাকেন। মিছিল আর স্লোগানে তারা গোটা ক্যাম্পাস মুখরিত করে রেখেছেন। এর আগে সোমবার সচিবালয়ে সরকারের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে কোটা সংস্কার পদ্ধতি পরীক্ষা-নিরীক্ষার আশ্বাসে ৭ মে পর্যন্ত কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিরা। তবে অস্পষ্ট আশ্বাস মেনে না নিয়ে কর্মসূচি চালিয়ে যেতে থাকে একাংশ। আজকের ঘোষণার মধ্যদিয়ে এই বিভক্তির অবসান ঘটল। উল্লেখ্য, কোটা সংস্কার দাবিতে রোববার দুপুরে পূর্বঘোঘিত গণপদযাত্রা শেষে শাহবাগ মোড় অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা। পরে রাত ৮টার দিকে তাদের ওপর পুলিশ চড়াও হলে সংঘর্ষ শুরু হয়। সোমবার সকাল পর্যন্ত পুলিশ ও ছাত্রলীগের সঙ্গে দুই শতাধিক শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থী আহত হন। এছাড়া শতাধিক আন্দোলনকারীকে আটক করা হয়।
সিলেটে মা-ছেলেকে হত্যা যে কারণে করে তানিয়া দম্পতি !
কুমিল্লা থেকে গ্রেফতার হওয়া তানিয়া আক্তার ও তার স্বামী ইউসুফ মামুন সিলেটের মিরা বাজারের খারপাড়ায় মা-ছেলেকে গলা কেটে হত্যা করেন। এর আগে পরিবারের সবাইকে রাতের খাবারের সাথে ঘুমের ওষুধ দিয়ে অচেতন করা হয়। হত্যাকাণ্ডের সময় গলা টিপে শিশু রাইসাকে মৃত ভেবে ফেলে যান তারা। গত ৩০ মার্চ রাত ৩টায় হত্যাকাণ্ড শেষে স্বামী-স্ত্রী বাসা থেকে বেরিয়ে যান। সিলেটের আলোচিত জোড়া খুনের ঘটনার রহস্য উদঘাটন হয়েছে দাবি করে সোমবার সন্ধ্যা ৭টায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) নগরীর উপশহরস্থ তাদের কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিং করে। ব্রিফিংয়ে পিবিআইর বিশেষ পুলিশ সুপার রেজাউল করিম মল্লিক জানান, সিলেট নগরীর মিরা বাজারের খারপাড়ায় মা রোকেয়া বেগম ও ছেলে রবিউল ইসলাম রোকনকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তানিয়া আক্তারকে (২২) গ্রেফতার করে পিবিআই। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ও তানিয়ার দ্বিতীয় স্বামী ইউসুফ মামুনের (২৪) দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কুমিল্লার তিতাস উপজেলার ঘোষহাটা গ্রাম থেকে সোমবার ভোরে গ্রেফতার করা হয় তাকে। পরে সিলেট আনা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানান, তানিয়া আক্তার দুই বছর আগে সিলেটে হজরত শাহজালাল (র.)-এর মাজারে আসেন। এখানেই পরিচয় হয় রোকেয়া বেগমের সাথে। পাশাপাশি দেখা হয় মামুনের সাথেও। পরে রোকেয়া বেগম কুমিল্লা থেকে আসা তানিয়াকে বোন বানিয়ে সিলেটে রেখে দেন। এদিকে, মামুনের সাথেও তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। এর কয়েক দিন পরই মামুনের সাথে তানিয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের পর স্বামী-স্ত্রী আলাদা আলাদা বসবাস করতেন। জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানান, তানিয়া রোকেয়ার বাসায় থাকতেন। সম্প্রতি তানিয়াকে অসামাজিক কাজে নামাতে চান রোকেয়া। অনেক সময় রোকেয়া বেগম জোর করতেন। আর একথা স্বামী মামুনকে জানালে রোকেয়া বেগমকে হত্যার পরিকল্পনা করেন তারা। এর অংশ হিসেবে গত ৩০ এপ্রিল রাত ৮টার দিকে তানিয়া, মামুন, রিপন, শিপন ছাড়াও আরো ৪/৫ জন রোকেয়ার বাসায় যান। রাত ৯টার দিকে লোডশেডিং হলে তানিয়া ও মামুন ছাড়া বাকিরা চলে যান। অন্য সময়ের মতো স্ত্রী তানিয়ার সাথে মামুন থেকে যান রোকেয়ার বাসায়। রাতের খাবারের সাথে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে পরিবারের সবাইকে অচেতন করা হয়। রাত ১টার দিকে স্বামী-স্ত্রী মিলে প্রথমে রোকেয়া বেগমের কক্ষে যান। ঘুমে অচেতন রোকেয়া বেগমের মুখে কম্বল দিয়ে শ্বাসরোধ করার জন্য চেপে ধরেন তানিয়া আর ছুরি দিয়ে গলা কেটে ও কুপিয়ে রোকেয়াকে হত্যা করেন মামুন। এ সময় রাইসা জেগে উঠলে তার গলায় চেপে ধরে হত্যার চেষ্টা চালান মামুন। এতে রাইসা অজ্ঞান হয়ে পড়লে মৃত্যু নিশ্চিত হতে তানিয়া শ্বাস-প্রশ্বাস পরীক্ষা করেন। পরে পার্শ্ববর্তী রুমে ঘুমে অচেতন রোকেয়ার ছেলে রোকনকেও একই কায়দায় হত্যা করেন তারা। রাত ৩টার দিকে স্বামী-স্ত্রী বাসা থেকে বের হন। ভোরে তানিয়াকে কুমিল্লার গাড়িতে তুলে দেন মামুন। এ সময় সে সিলেট নগরীতে অবস্থান করেন। পিবিআইর কর্মকর্তা রেজাউল করিম মল্লিক বলেন, তানিয়া ও মামুন দাবি করেছেন, রোকেয়ার বাসায় অসামাজিক কার্যকলাপ হতো। নিয়মিত খদ্দেরের আনাগোনা ছিল। আর ছেলে রোকন সবকিছু জানতো ও মাকে সহায়তা করতো। রোকেয়ার বাসায় নিয়মিত মাদকের আসর বসতো। তারা আরো জানান, হত্যাকাণ্ডের সপ্তাহখানেক আগে রোকেয়া ও তার ছেলে-মেয়ে এবং তানিয়া-মামুন দম্পতিসহ আরো ৪/৫ জন কক্সবাজারে ভ্রমণ করেন। ওই ভ্রমণে আর কারা সঙ্গী ছিল, তাদের নাম জানাতে পারেননি তানিয়া। তারা আরো বলেন, জোড়া খুনের ঘটনায় রিমান্ডে থাকা রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী নাজমুলের কথা রোকেয়ার মুখে শুনলেও কোনো দিন তাদের দেখা হয়নি। এর আগে বিকেল সোয়া ৩টায় নগরীর উপশহরস্থ সিলেট পিবিআইর কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে বিশেষ পুলিশ সুপার রেজাউল করিম মল্লিক জানান, গত রোববার সন্ধ্যায় সিলেট নগরীর বন্দরবাজার থেকে তানিয়ার কথিত দ্বিতীয় স্বামী মামুনকে আটক করা হয়। তার দেওয়া তথ্যমতে কুমিল্লার তিতাসে অভিযান চালিয়ে পিত্রালয় থেকে তানিয়াকে গ্রেফতার করা হয়। প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, গত ১ এপ্রিল পুলিশ লাশ উদ্ধার করার পর পরই সন্দেহভাজনদের মোবাইল ট্র্যাকিং শুরু হয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জানা যায়, ওই দিনই সিলেট ছাড়ে তানিয়া। সর্বশেষ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তাকে ট্রেস করা যায়। এর পর থেকে মোবাইল বন্ধ করে দেয়। উল্লেখ্য, গত ১ এপ্রিল নগরীর মিরাবাজারের খারপাড়া মিতালী আবাসিক এলাকার ১৫/জে নম্বর বাসায় রোকেয়া বেগম (৪০), তার ছেলে রবিউল ইসলাম রোকনের (১৭) গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় রোকেয়ার সাড়ে ৩ বছর বয়সী মেয়ে রাইসাকে উদ্ধার করা হয়। গত এক বছর ধরে এ বাসায় ভাড়া থাকতেন তারা। এ ঘটনায় রোকেয়ার ভাই জাকির হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাত পরিচয় ৪-৫ জনকে আসামি করে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। মামলার পর গত বুধবার শহরতলীর বটেশ্বর এলাকা থেকে নাজমুল হোসেন নামে একজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তাকে ৫ দিনের রিমান্ডে পাঠান আদালত।
বিশ্বব্যাংক কি বললো তাতে কিছু আসে যায় না :পরিকল্পনামন্ত্রী
প্রবৃদ্ধির হার নিয়ে বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনের কড়া সমালোচনা করেছেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংক কি বললো তাতে কিছু আসে যায় না। তারা অনুমানের ওপর ভিত্তি করে তথ্য দেয়। সম্প্রতি বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) দেয়া মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করেছেন পরিকল্পনামন্ত্রী। এতে চলতি বছর শেষে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৬৫ শতাংশ হবে বলে জানানো হয়। সোমবার বিশ্বব্যাংক বিবিএসের এই প্রবৃদ্ধির হার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। সংস্থাটি বলছে, প্রবৃদ্ধি নিয়ে সংশয় আছে, যা বিশ্লেষণের প্রয়োজন। বছর শেষে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬.৫ অথবা ৬.৬ শতাংশ হবে বলেও জানানো হয়েছে সংস্থাটির পক্ষ থেকে। পরিকল্পনামন্ত্রীর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে বিশ্বব্যাংকের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন কামাল। শেরেবাংলা নগর পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে নিজ দফতরে সাংবাদিকদের বিশ্বব্যাংকের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবও দেন তিনি। সাংবাদিকদের তিনি জানান, বিশ্বব্যাংক ফরমাল ইকোনোমি নিয়ে কাজ করে। কোনো সার্ভে নাই, তারা ঢাকা অফিসে বসে প্রতিবেদন তৈরি করে ঢাকার বাইরে যায় না। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন প্রসঙ্গে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাংকের ফিগার সঠিক নয়, আমাদের (বিবিএস) ফিগার সঠিক। বিশ্বব্যাংকের দেয়া তথ্যে আমি হতভম্ব। বিশ্বব্যাংকের কর্মকর্তারা ঢাকা অফিসে বসে বসে প্রতিবেদন তৈরি করেন। তারা (বিশ্বব্যাংক কর্মকর্তা) ঢাকার বাইরে যায় না। বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের কর্মকর্তাদের প্রসঙ্গে মুস্তফা কামাল বলেন, বিশ্বব্যাংকের কর্মকর্তাদের আন্তরিকতার অভাব। এটা ব্যক্তি বিশেষে ভিন্ন হয়। বিশ্বব্যাংকের ভারত অফিসের কর্মকর্তারা যদি জিডিপি প্রবৃদ্ধির ফিগার দিতো তবে এটা ৮ শতাংশ হতে পারতো। তিনি আরও বলেন, বিশ্বব্যাংক কেনই আমাদের তথ্য নিয়ে মাতামাতি করে। বিশ্বব্যাংক বিবিএস-এ কোটি টাকা ব্যয় করে প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। তারাই (বিশ্বব্যাংক) আবার বিবিএস নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। বিশ্বব্যাংক আমাদের গ্রহণ কেন করে না আমরা জানি না।
কোটাব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন স্থগিত
আগামী মে মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত তাদের আন্দোলন স্থগিত করেছেন কোটাব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার পরিষদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠক শেষে পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন এ ঘোষণা দেন। সোমবার যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের কনফারেন্স রুমে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে এ বৈঠক শুরু হয়। শেষ হয় ৬টা ১৮ মিনিটে। ব্রিফিংয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, তরুণরা এই কোটা সংস্কার আন্দোলন করছেন। তারা আমাদের রাজনীতির অপরিহার্য অংশ, তারাই নতুন প্রজন্ম। আমরা এই পরবর্তী প্রজন্মের জন্যই রাজনীতি করি। তাই শেখ হাসিনার সরকার কখনও তরুণদের যৌক্তিক দাবিকে উপেক্ষা করেনি। সেই ইতিবাচক দৃষ্টিকোণ থেকেই প্রধানমন্ত্রী তিনি আমাকে পাঠিয়েছেন। আমার সঙ্গে আমার সহকর্মীরা আছেন। আন্দোলনকারীদের ২০ জনের প্রতিনিধি এখানে এসেছেন। তাদের বক্তব্য আমরা শুনেছি। ওবায়দুল কাদের বলেন, বিদ্যমান কোটা পদ্ধতি নিয়ে একটা সমাধান খুঁজে পাওয়ার জন্য এরই মধ্যে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিশেষ বৈঠকের নির্দেশ দিয়েছেন। কয়েক মিনিট আগেও প্রধানমন্ত্রী আমাকে বলেছেন, তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কোটা পদ্ধতি পরীক্ষা নিরীক্ষা করার নির্দেশ দিয়েছেন। এ বিষয়টিতে সরকার রিজিড অবস্থানে নেই। আমি আন্দোলনকারীদের আশ্বস্ত করেছি, তাদের দাবির যৌক্তিকতা আমরা ইতিবাচকভাবে দেখবো। আগামী ৭ মে’র মধ্যে সরকার কোটা পদ্ধতি রিভিউ বা পরীক্ষা নিরীক্ষা করবে জানিয়ে সরকারের এই প্রতিনিধি বলেন, সরকার মে মাসের ৭ তারিখের মধ্যে কোটা পদ্ধতি পরীক্ষা নিরীক্ষা করবে। এর ফল কী হবে, সেটা আমরা জানাবো। সে পর্যন্ত কোটা সংস্কারের এই আন্দোলন স্থগিত থাকবে। আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিরা এখানে রয়েছেন। তারাও ৭ মে পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত রাখাতে সম্মত হয়েছেন। এর আগে, কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের একজন প্রতিনিধিও সাংবাদিকদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের প্রতিটি দাবি পূরণ করার চেষ্টা করছেন। আমরা আশা করছি, তিনি আমাদের দাবি মেনে নেবেন। মামুনের নেতৃত্বে বৈঠকে প্রতিনিধিদের ১৯ সদস্যের মধ্যে কানিজ ফাতেমা, আফসানা সাফা, একরামুল হক, লীনা মিত্র, আরজিনা হাসান, লুবনা জাহান প্রমুখ ছিলেন।
দৃশ্যমান হলো মেট্রোরেলের উড়ালপথ
বহুকাঙ্ক্ষিত মেট্রোরেলের যাত্রা শুরু রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়ি এলাকা থেকে। থামবে বাণিজ্যিক এলাকা মতিঝিলে। স্বপ্নের এই মেট্রোরেলের প্রথম কোনো কাঠামো এখন দৃশ্যমান। উত্তরায় তৃতীয় ফেজে মাটি থেকে ১০ মিটার উঁচুতে দুটি খুঁটিতে একটি স্প্যান বসানো হয়েছে। ৩৭৭টি পিলারে ওপর এরকম ৩৭৬টি স্প্যান বসে বিস্তৃত হবে ২০ কিলোমিটারের মেট্রোরেল। ২০১৯ সালে পাঁচ সেট ট্রেন দিয়ে উত্তরা-আগারগাঁও রুটে যাত্রা শুরু করবে এই যানজটহীন দ্রুততম যান। মেট্রোরেল বাস্তবায়নকারী ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) জানায়, ৮টি প্যাকেজের মেট্রোরেল (এমআরটি লাইন-৬) প্রকল্পের উত্তরা অংশে যে কাজ হচ্ছে এটি ৩ নম্বর প্যাকেজ। এর অধীনে উত্তরা থেকে পল্লবী পর্যন্ত প্রায় ৬ কিলোমিটারের কাজ চলছে। প্রথম কাজ হিসেবে উত্তরায় দু’টি পিলারের সম্পূর্ণ কাজ শেষে একটি স্প্যান তোলা হয়েছে। এখান থেকে পল্লবী পর্যন্ত মেট্রোরেলের ৪টি স্টেশন পড়বে। এগুলো হলো- উত্তরা নর্থ, উত্তরা সেন্টার, উত্তরা সাউথ এবং পল্লবী। পল্লবী থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত আরও ৬ কিলোমিটারে ৫টি স্টেশন থাকবে। এখানে চলছে পাইলিংয়ের কাজ। রাস্তার মাঝ বরাবর ব্যারিয়ার দিয়ে পাইল ড্রাইভ কাজ চালানো হচ্ছে। প্রকল্পের পরিচালক আফতাব আহমেদ জানান, পিলার ও গাডার তৈরি চলছে। একটি স্প্যান পুরোপুরি প্রস্তুত করে মেট্রোরেলের পুরো অবকাঠামোর একটি ধারণা উপস্থাপন করা হবে। ডিএমটিসিএল প্রকল্প অনুযায়ী, প্যাকেজ ৩ ও ৪ এর কাজ করছে ইটালিয়ান-থাই ডেভেলপমেন্ট পাবলিক কোম্পানি লিমিটেড (ইটাল-থাই) এবং চীনের প্রতিষ্ঠান সিনোহাইড্রো করপোরেশন লিমিটেড। প্যাকেজ-২ এর আওতায় উত্তরায় ডিপো নির্মাণ করছে ইটাল-থাই ও সিনোহাইড্রো। আর প্যাকেজ-১ এর আওতায় ডিপো এলাকায় ল্যান্ড ডেভেলপমেন্টের কাজ করা হচ্ছে। মেট্রোরেল প্রকল্পের প্যাকেজ-৫ ও ৬ এর কাজ আগারগাঁও থেকে মতিঝিল পর্যন্ত। প্যাকেজ ৭ এ হলো- মেট্রোরেলের বৈদ্যুতিক-যান্ত্রিক সব কাজ। এর মূল্যায়ন কার্যক্রম চলছে। প্যাকেজ ৮ রেলকোচ ও ট্র্যাক পরিচালনা রক্ষণাবেক্ষণ কাজ। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ৫ সেট ট্রেন উত্তরা-আগারগাঁও রুটে চালানো শুরু হবে। ডিসেম্বর ২০২১ এর মধ্যে বাকি ১৯ সেট ট্রেন এবং ডিপো যন্ত্রাংশ সরবরাহ শেষ হবে। কোচ আমদানি করা হবে জাপানের গাড়ি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান কাওয়াসাকি-মিৎসুবিশি থেকে। ডিএটিসিএল এর চেয়ারম্যান এম এ এন ছিদ্দিক জানান, ২০১৯-এ মেট্রোরেলের প্রথম ধাপ উত্তরা আগারগাঁও-এর কাজ শেষ হবে। তখনই ৫ সেট ট্রেন দিয়ে মেট্রোরেলের এ রুট চালু হবে। মেট্রোরেলের এ পুরো পথটাই হবে এলিভেটেড। উড়ালপথে ১০০ কিলোমিটার গতিতে চলবে মেট্রোরেল।
লাঠিপেটা-কাঁদানে গ্যাস শাহবাগে বিক্ষোভকারীদের ওপর
সরকারি চাকরিতে কোটা প্রথা সংস্কারের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে অবস্থান নেয়া আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া আর সংঘর্ষে শাহবাগ রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। পুলিশ এ সময় আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এ সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত কতজন আহত হয়েছেন তা জানা যায় নি। আন্দোলনকারীরা শাহবাগের বিভিন্ন জায়গায় আগুন ধরিয়ে দেন। রোববার দুপুর থেকে শুরু হয় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও চাকরীপ্রার্থীদের এ আন্দোলন। প্রথমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে থেকে পদযাত্রা শুরু হয়। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনের রাস্তা দিয়ে বের হয়ে রাজু স্মৃতি ভাস্কর্য হয়ে নীলক্ষেত ও কাঁটাবন ঘুরে শাহবাগ মোড়ে এসে অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা। ফলে শাহবাগ মোড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এবং একপর্যায়ে শাহবাগ মোড় দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ঢাকাসহ সারা দেশে গণপদযাত্রার অংশ হিসেবে এ কর্মসূচি পালন করছে আন্দোলনকারীরা। এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন হাজারো শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থী। তাদের দাবি, বিদ্যমান কোটা পদ্ধতি সংস্কার করে কমাতে হবে। এই চাকরিতে কোটা সব মিলিয়ে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনতে হবে। বর্তমানে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে ৫৫ শতাংশ বিভিন্ন ধরনের অগ্রাধিকার কোটা রয়েছে। আর বাকি ৪৫ শতাংশ নিয়োগ হয় মেধা কোটায়। এ জন্য এই কোটা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীরা। কোটা সংস্কার দাবিতে শিক্ষার্থীদের দাবি হল- কোটাব্যবস্থা সংস্কার করে ৫৬ থেকে ১০ শতাংশে নিয়ে আসা; কোটায় যোগ্য প্রার্থী না পাওয়া গেলে শূন্যপদে মেধায় নিয়োগ দেওয়া; নিয়োগ পরীক্ষায় কোটা সুবিধা একাধিকবার ব্যবহার না করা; কোটায় কোনো ধরনের বিশেষ নিয়োগ পরীক্ষা না নেওয়া এবং চাকরির ক্ষেত্রে সবার জন্য অভিন্ন কাটমার্ক ও বয়সসীমা নির্ধারণ করা।

জাতীয় পাতার আরো খবর