জেলা প্রশাসক সম্মেলন শুরু ২৪ জুলাই
তিন দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন আগামী মাসের ২৪ জুলাই ঢাকায় শুরু হবে। এই সম্মেলন ২৬ জুলাই শেষ হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ফারুক আহমেদ বৃহস্পতিবার এ কথা জানিয়েছেন। তৃণমূলের প্রশাসনকে চাঙ্গা রাখা, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নে গতি আনা, তৃণমূল পর্যায়ে সরকারের নীতি ও দর্শনের বাস্তবায়ন ও পর্যালোচনা, ভুলভ্রান্তি সংশোধন, সরকারের নীতিনির্ধারক ও জেলা প্রশাসকদের মধ্যে সরাসরি মতবিনিময় এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়ার লক্ষ্যেই প্রতিবছর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এই জেলা প্রশাসক সম্মেলনের আয়োজন করে। এ সপ্তাহেই সম্মেলনের তারিখ জানিয়ে জেলা প্রশাসকদের চিঠি দেওয়া হয়েছে জানিয়ে ফারুক আহমেদ বলেন, ‘বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে সরকারের নীতি, দর্শন, প্রাধিকার—এগুলো নিয়ে প্রতিবছর এ বৈঠক হয়। এবারও এটা হবে। তারিখ চূড়ান্ত হয়েছে। কিছু প্রোগ্রামও চূড়ান্ত হয়েছে। কিন্তু পুরো প্রোগ্রাম এখনো চূড়ান্ত হয়নি।’ অতিরিক্ত সচিব আরো বলেন, জেলা প্রশাসক সম্মেলন রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান। এখানে মুক্ত আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী মাঠ প্রশাসন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ জনস্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় শোনেন এবং নির্দেশনা দেন। এবারও সম্মেলনে মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, উপদেষ্টা, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী, জ্যেষ্ঠ সচিব ও সচিবরা অংশ নেবেন। কার্য অধিবেশনগুলোতে সভাপতিত্ব করবেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
ই-পাসপোর্ট চালু হচ্ছে
ডেস্ক রিপোর্ট :দেশের নাগরিকরা এবার ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট বা ই-পাসপোর্টের সুবিধা নিতে পারবেন। নাগরিকদের হাতে এই পাসপোর্ট তুলে দিতে প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে একনেক সভায় প্রকল্পটির অনুমোদন দেয়া হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর প্রকল্পটি এ বছরই বাস্তবায়ন শুরু করে ২০২৮ সালের জুনের মধ্যে শেষ করবে। নতুন এ প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে চার হাজার ৬৩৫ কোটি টাকা। পুরোপুরি সরকারি অর্থায়নেই এটি বাস্তবায়ন করা হবে। আজকের বেঠকে মোট ১৫টি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়। যার ব্যয় ধরা হয়েছে ১৮ হাজার ৩৭২ কোটি টাকা। যার বেশিরভাগই সরকারি অর্থায়ন থেকে আসবে। ই-পাসপোর্ট প্রকল্পের তথ্য মতে, বহির্বিশ্বের সাথে সামঞ্জস্য রেখে সর্বশেষ উন্নত প্রযুক্তি সম্পন্ন পাসপোর্ট ইস্যু, পাসপোর্টের নিরাপত্তা বৃদ্ধি, বহির্বিশ্বে বাংলাদেশি পাসপোর্টের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি এবং ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে বাংলাদেশি নাগরিক ও আগত বিদেশি নাগরিকদের সুষ্ঠুভাবে গমনাগমন নিশ্চিত করতেই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে সরকার। এই পাসপোর্ট বাস্তবায়ন হলে বিশ্বের যেকোনো স্থান হতে ওই পাসপোর্ট ধারীর নম্বর সার্চের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সব তথ্য পাওয়া যাবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ই-পাসপোর্ট বাস্তবায়ন হলে বিদেশে বাংলাদেশের ইমেজ বৃদ্ধি পাবে। ২০১০ সালে আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইসিএও) গাইডলাইন অনুযায়ী বাংলাদেশ মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) ও মেশিন রিডেবল ভিসা (এমআরভি) পদ্ধতি চালু করে। কিন্তু এমআরপি ব্যবস্থায় দশ আঙ্গুলের ছাপ ডেটাবেজে সংরক্ষণ না থাকায় একাধিক পাসপোর্ট করার প্রবণতা ধরা পড়ে। এর ফলে ই-পাসপোর্টের প্রয়োজনীয়তা ব্যাপকভাবে অনুভব করে সরকার। এই পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৬ সালের ২৪ এপ্রিল পাসপোর্ট সেবা সপ্তাহ উদ্বোধনের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ই-পাসপোর্ট প্রবর্তনের নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রীর জার্মানি সফরের সময় ২০১৭ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি সে দেশের প্রতিষ্ঠান ভ্যারিডোস জিএমবিএইচ এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে ই-পাসপোর্ট চালুর বিষয়ে একটি সমঝোতা চুক্তি হয়। তারই ধারাবাহিকতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পাসপোর্ট অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিদের নিয়ে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে ই-পাসপোর্ট চালুর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
রাজধানীতে যোগ প্রেমীদের মিলনমেলা
সামঞ্জস্য ও শান্তির জন্য যোগ’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে বসেছিলো যোগ প্রেমীদের মিলনমেলা। ‘আন্তর্জাতিক যোগ দিবস-২০১৮’ উপলক্ষে ভারতীয় দূতাবাসের উদ্যোগে এ আয়োজন। রাজধানীর ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের যোগ প্রশিক্ষক মাম্পী দে’র পরিচালনায় যোগ সেশন শুরু হয় সকাল সাতটায়। এতে অংশ নেন পাঁচ হাজারেরও বেশি মানুষ। ২১ জুন বছরের সবচেয়ে বড় দিন। আর এদিনেই পালিত হয় যোগ দিবস। ২০১৫ সাল থেকে প্রতিবছর ভারতীয় হাইকমিশন বাংলাদেশে যোগ দিবস পালন করে আসছে। অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একটি ভিডিও বার্তাও প্রচার করা হয়। চতুর্থবারের মতো আয়োজিত এ অনুষ্ঠানটি ছিল সবার জন্য উন্মুক্ত। এতে শিশু, বৃদ্ধ, নারী, পুরুষসহ প্রায় সব শ্রেণির মানুষ এই যোগ দিবসে যোগ দেন। স্টেডিয়ামে প্রবেশের প্রতিটি গেটেই ছিল দীর্ঘ লাইন। ভেতরে জায়গা না পেয়ে অনেককে ফিরে যেতেও দেখা যায়। তাছাড়া গ্যালারিতে বসেও অনেকে যোগব্যায়ামের কলাকৌশল উপভোগ করেন। এই অনুষ্ঠানে অনেকেই অটিজমে আক্রান্ত অথবা শারীরিক প্রতিবন্ধী শিশুদের নিয়ে আসেন। একজন অটেস্টিক শিশুর বাবা আহমেদ হুমায়ূন বলেন, ‘জন্মের কয়েক মাসের মধ্যেই আমার মেয়ের অটিজম ধরা পরে। ওর শরীরের উপর নিজের নিয়ন্ত্রণ পেতে এবং ওকে মানসিক শান্তিতে রাখতে যোগব্যায়াম খুব ভালো কাজ করছে। এখন সে নিজেই অনেকটা করতে পারে।’ উত্তরা থেকে এসেছিল শিশু তন্ময় ও তার মা। তারা যোগব্যায়ামে অংশ নেন। তন্ময়ের মা জানান, তার আগে ঘুমের সমস্যা ছিল। পায়ে ব্যথাও ছিল। যোগব্যায়ামের ফলে তিনি এখন সুস্থ আছেন। যোগ সেশনে অংশগ্রহণকারী সকলকে বিনামূল্যে যোগ ম্যাট, টি-শার্ট, উপহার সামগ্রী দেয়া হয়। এছাড়া অনুষ্ঠানে লাকি ড্রয়ের মাধ্যমে পুরস্কার দেয়া হয়। এসব পুরস্কারের মধ্যে ছিল একটি টাটা টিয়াগো গাড়ি, একটি বাজাজ মোটরসাইকেল,ভারতে ভ্রমণ প্যাকেজ, দু’জনের দিল্লি ট্রিপ, ঢাকায় পাঁচ তারকা হোটেলে দু’জনের থাকার সুযোগ। উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ১১ ডিসেম্বর জাতিসংঘ আন্তর্জাতিক যোগ দিবস ঘোষণা দেয়। ভারতের দেওয়া এই প্রস্তাবটি ১৭৫টি রাষ্ট্রের সমর্থনের মধ্য দিয়ে এ দিবসটি আন্তর্জাতিকভাবে এখন পালিত হয়ে আসছে। জাতিসংঘের কোনো প্রস্তাবের প্রতি এটিই ছিল সর্বোচ্চ সংখ্যক রাষ্ট্রের সমর্থনদানের রেকর্ড।
চীনের কাছ থেকে জেট বিমান কিনছে বাংলাদেশ
জিটুজি চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ও চীনের মধ্যে কে-৮ডব্লিউ জেট ট্রেইনার বিমান ক্রয় সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। বুধবার (২০ জুন) বিমান বাহিনীর সদর দফতরে এ চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হয়। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাতের উপস্থিতিতে বাংলাদেশের পক্ষে সহকারী বিমান বাহিনী প্রধান (পরিকল্পনা) এয়ার ভাইস মার্শাল এম সানাউল হক এবং চীনের পক্ষে চায়না ন্যাশনাল এ্যারো টেকনোলজি ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট কর্পোরেশনের (সিএটিআইসি) ভাইস প্রেসিডেন্ট লিউ জিয়ানহাই চুক্তি স্বাক্ষর করেন। এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে বিমান সদরের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারগণ, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ঝ্যাং জু ও সিএটিআইসির প্রেসিডেন্ট উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, কে-৮ডব্লিউ জেট ট্রেইনার বিমান ২০১৪ সাল থেকে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। পুনরায় কে-৮ডব্লিউ জেট ট্রেইনার বিমানের সংযোজন বিমান বাহিনীর বিমান প্রশিক্ষণ সক্ষমতাকে বহুলাংশে বৃদ্ধি করবে। বিমান বাহিনীতে চীনের তৈরি কে-৮ডব্লিউ জেট ট্রেইনার বিমান সংযোজনের এই চুক্তিটি ফোর্সেস গোল-২০৩০ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে স্বাক্ষরিত হলো।
২০২০ সালের মধ্যে ৯৯ লাখ কর্মসংস্থান
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আগামী ২০২০ সালের মধ্যে দেশের জনশক্তি খাতে প্রায় ৯৯ লাখ নতুন কর্মী যুক্ত হবে। এর মধ্যে প্রায় ২০ লাখ মানুষ চাকরি নিয়ে বিদেশে পাড়ি জমাবেন। বাকিটা হবে দেশের শ্রমবাজারে। আজ সংসদে প্রধানমন্ত্রী তার জন্য নির্ধারিত এক প্রশ্নের জবাবে সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা অনুযায়ী এই কর্মসংস্থান তৈরি হবে বলে জানান। শেখ হাসিনা বলেন, সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা সময়ে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) লক্ষ্য ধরা হয়েছে গড়ে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ; যেটা ২০২০ সালের মধ্যে ৮ শতাংশে পৌঁছাবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর বেকার যুবদের দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করার লক্ষ্যে বিগত ৯ বছরে ২২ লাখ ৩৭ হাজার ৮৬ জন যুবকে প্রশিক্ষণ প্রদান করেছে। আত্মকর্মসংস্থানে নিয়োজিত যুবদের জন্য প্রকল্প গ্রহণ ও ঋণ কর্মসূচির আওতায় বিগত ৯ বছরে ৫ লাখ ৮৬ হাজার ৫৯১ জনকে ৮১৬ কোটি ৩৩ লাখ ৬ হাজার টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে এবং ৫ লাখ ৮৬ হাজার ৫৯১ জন যুব সফল স্বাবলম্বী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ২০০৯-১০ অর্থবছর থেকে ‘ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচি’ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ কর্মসূচির আওতায় ২৪ থেকে ৩৫ বছর বয়সী এবং উচ্চ মাধ্যমিক ও তদূর্ধ্ব শিক্ষাগত যোগ্যতাসম্পন্ন বেকার যুবক ও যুবমহিলাদের ১০টি সুনির্দিষ্ট মডিউলে ৩ মাস মেয়াদী মৌলিক প্রশিক্ষণ প্রদানের পর জাতি গঠনমূলক কর্মকান্ডে সম্পৃক্তকরণের মাধ্যমে অস্থায়ী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়। এ পর্যন্ত ৭ পর্বে মোট ৩৭ জেলার ১২৮টি উপজেলা ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচির আওতাভুক্ত হয়েছে। এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য এ যাবত মোট ১ হাজার ৭২১ কোটি ৭১ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত মোট ১ লাখ ৬৯ হাজার ৩৩২ জনকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। এদের মধ্যে ১ লাখ ৬৬ হাজার ৯৯৭ জন সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থায় ২ বছরের অস্থায়ী কর্মে নিযুক্ত হয়েছে। অস্থায়ী কর্ম শেষে এদের মধ্যে মোট ৩৭ হাজার ৪২৩জন স্বাবলম্বী হয়েছে। এছাড়া ২ বছরের অস্থায়ী কর্মসংস্থান সমাপ্তকারী ৮৫ হাজার ৩২৪ জনের প্রত্যেককে ৪৮ হাজার টাকা করে মোট ৪০৯ কোটি ৫৫ লাখ টাকা সঞ্চয় ফেরত দেয়া হয়েছে। এর ফলে তারা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠেছে।
মাদক নিয়ন্ত্রণে আইন সংশোধন হচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-১৯৯০ এর অধীনে সংঘটিত অপরাধের বিচার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পৃথক আদালত গঠনের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। মাদক ব্যবসার পৃষ্ঠপোষক ও গডফাদারসহ মাদক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগের লক্ষ্যে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন- ২০১৮ প্রণয়ন করা হচ্ছে। বুধবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে পিরোজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. রুস্তম আলী ফরাজীর এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদ্যমান মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯০ অনুযায়ী মাদক অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। তবে বিদ্যমান আইনে কোনো ব্যক্তির দখলে/ কর্তৃত্বে/ অধিকারে মাদকদ্রব্য পাওয়া না গেলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ কম। তাই মাদক ব্যবসায় জড়িত মাস্টার মাইন্ডরা সহজেই পার পেয়ে যায়। তিনি বলেন, মাদক ব্যবসার পৃষ্ঠপোষক ও গডফাদারসহ মাদক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগের লক্ষ্যে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৮ প্রণয়ন করা হচ্ছে। সংশোধিত আইনে মাদক ব্যবসায় পৃষ্ঠপোষক ও মাদকের গডফাদারসহ মাদক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখার প্রস্তাব করা হবে। তাছাড়া এ আইনে মাদক ব্যবসায় পৃষ্ঠপোষক ব্যক্তি/ প্রতিষ্ঠানকেও আইনের আওতায় আনার জন্য মানিলন্ডারিং সংক্রান্ত অপরাধ তদন্তে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের কর্মকর্তাদের ক্ষমতা দেয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-১৯৯০ এর অধীন সংঘটিত অপরাধের বিচার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পৃথক আদালত গঠনের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে মাদক অপরাধীদের তাৎক্ষণিক সাজা দেয়া হচ্ছে। মাদক অপরাধ-সংক্রান্ত মামলার বিচার কার্যক্রম আলাদা কোনো আদালতের মাধ্যমে পরিচালনার বিষয়টি আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় খতিয়ে দেখছে। তিনি জানান, গত ১৮ মে’ ২০১৮ হতে এ পর্যন্ত চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে বিপুল পরিমাণে মাদকদ্রব্য, অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং এগুলো পরিবহনের বাহন উদ্ধার ও জব্দ করা হয়েছে। এ পর্যন্ত মাদকদ্রব্য সংশ্লিষ্ট মোট ১৫ হাজার ৩৩৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মোট ২০ হাজার ৭৬৭ জনকে গ্রেফতার করে বিচারের জন্য সোপর্দ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাদকদ্রব্য ও মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের বিরুদ্ধে সরকার সব সময় কঠোর অবস্থানে রয়েছে। মাদকের আগ্রাসন প্রতিরোধে মাদক ব্যবসায়ী, মাদকসেবী ও মাদক চোরাচালান সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সারাদেশে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। মাদক সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযানের পাশাপাশি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। যানবাহন ও মাদক স্পটগুলোতে তল্লাশি চলছে। তাছাড়া, ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, মাদক সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইনে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ যাতে এতে আকৃষ্ট না হয় সেজন্য এর কুফল সম্পর্কে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে।
চলতি অর্থবছর রাজস্ব আদায় ১ লাখ ৭৯ হাজার কোটি টাকা
চলতি (২০১৭-১৮) অর্থবছরের মে পর্যন্ত ১ লাখ ৭৯ হাজার কোটি টাকা সাময়িক রাজস্ব আদায় হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বুধবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরীর এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। রাজস্ব আদায় গতিশীল করার লক্ষ্যে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। তিনি জানান, শূন্য থেকে ২৫ শতাংশ হার বিশিষ্ট পণ্যসমূহের আমদানি তথ্য বিশেষ করে পরিমাণ ও মূল্য পর্যালোচনা করে স্টেশনভিত্তিক কর্মপন্থা নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারি, বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কাছে বকেয়া পাওনার নিমিত্তে আধা সরকারি পত্র প্রেরণ করা হচ্ছে। অর্থমন্ত্রী বলেন, ইট ভাটা ও ব্যবসায়ী ভ্যাট আহরণে নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে। ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারীর এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার নেটওয়ার্ক চালুও হওয়ার পর ২০১৫-১৬ অর্থবছরে এর মাধ্যমে ৮৭৫ দশমিক ৩০ বিলিয়ন মূল্যমানের ইএফটিএ ক্রেডিট লেনদেন এবং ৭৯ বিলিয়ন মূল্যমানের শূন্য দশমিক ৭ বিলিয়ন ডেবিট লেনদেন হয়েছে। তিনি বলেন, ই-কমার্স চালু করার ফলে গ্রাহকের হিসাব হতে প্রাপকের হিসাব ইউটিলিটি বিল প্রদান, একই ব্যাংকের একজন গ্রাহক ভিন্ন হিসাবের মধ্যে টাকা স্থানান্তর এবং ক্রেতার হিসাব হতে বিক্রেতার হিসাবে টাকা স্থানান্তর করা যায়।
অক্টোবরে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করা হবে
চলতি বছরের অক্টোবরে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। সকালে সচিবালয়ের নিজ মন্ত্রণালয়ে প্রকৌশলীদের সঙ্গে ঈদ পরবর্তী মতবিনিময় সভায় তিনি একথা জানান। ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আগামী নির্বাচন হবে অংশগ্রহণমূলক। নির্বাচনে অনেক দলই অংশ নেবে। বিএনপি না এলেও দেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আর তারাই তো বলছে আন্দোলন ও নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘দেশে কোনো আন্দোলন হবে না, এটা স্পষ্ট। বিএনপির আন্দোলনে দেশের মানুষ সাড়া দেবে এমন কোনো বস্তুগত পরিস্থিতি নেই। বিএনপিরও আন্দোলনের কোনো প্রস্তুতি নেই। তারা সুসংহত নয়। ফলে আন্দোলনের কোনো সম্ভাবনা নেই।’ এক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘আগামী অক্টোবরে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করা হবে। সে সময়ে মন্ত্রিসভার আকার ছোট হবে। গেলবারের অভিজ্ঞতা থেকেই এটা হবে হবে। তবে এ বিষয়ে সবকিছুর সিদ্ধান্ত নিবেন প্রধানমন্ত্রী।’ ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘নির্বাচনকালীন সময়ে মন্ত্রিসভা নীতিগত কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না। এজন্য এর আকার বড় হওয়ার দরকার নেই। যেমন: আমাদের মন্ত্রণালয়ও নীতিগত কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না। বড় কোনো প্রকল্পও হাতে নিতে পারবে না। নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পরে মন্ত্রিরা কোনো প্রকল্পের ভিত্তি স্থাপন করতে পারবে না। তবে উন্নয়নমূলক কাজগুলো চলমান থাকবে। সেক্ষেত্রে মন্ত্রী পর্যবেক্ষণ করবেন, তদারক করবেন।’ তিনি বলেন, ‘তফসিল ঘোষণার পরে নির্বাচন কমিশনের অধীনে কার্যক্রম চলবে। তারা নির্বাচন পরিচালনার সব কাজ করবে। সংবিধান অনুযায়ী তাদের যে ক্ষমতা দেয়া আছে, তা তারা বাস্তবায়ন করবে।’ খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয়ে আওয়ামী লীগের এই সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘এ বিষয়ে একটি শব্দও বলব না, এটা সাফ কথা। এটা নিয়ে আমি অনেক কথা বলেছি। আর নয়।’ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদকে নোয়াখালীর নিজবাড়িতে ‘অবরুদ্ধ’ করে রাখার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘উনি (ওবায়দুল কাদের) ২২ বছরে এলাকায় একটি কাজও করেননি। ওনার বাড়ির পাশের রাস্তাটিও পাকা করেননি। ওনার বাড়ির পাশের স্কুলটাও শেখ হাসিনার সরকার উন্নত করেছে। ৯০ শতাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল না। আর যে ১০ শতাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল, সেখানেও ২০ ঘণ্টা লোডশেডিং। ওনার গণতন্ত্র হচ্ছে, ঠিক সকাল ১০টার মধ্যে ভোট শেষ হতে হবে। তাকে বাড়ি থেকে বের হতে দেয়া না হলে আমার কোম্পনীগঞ্জ আওয়ামী লীগের সভাপতি-সেক্রেটারির সঙ্গে মোলাকাত করলেন কিভাবে?’ কাদের বলেন, ‘মওদুদ আহমদ জনসংযোগ করেছেন, সব কিছুই করেছেন। পুলিশ তাকে নিরাপত্তা দিতে গেছেন, এটাই দোষ। তার দলের মধ্যে তিনটা দল, বাড়ির সামনেও মারামারি হয়। পুলিশ কি করবে? তিনি একজন বড় নেতা, তার নিরাপত্তাও তো দরকার আছে নাকি? সেজন্য পুলিশ তাকে নিরাপত্তা দিয়েছে। তিনি তো বলতে পারেন নাই আওয়ামী লীগের লোকেরা তাকে বাধা দিয়েছে?’ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘এটা প্রধানমন্ত্রীর কাছে আছে। আমরা এবার চুলচেরা বিশ্লেষণ করে কমিটি দিচ্ছি, যাতে পুরনো অভিযোগগুলো না আসে। কমিটি হতে বেশি সময় লাগবে না। শিগগিরই আসবে।’ এবার মানুষের ঈদযাত্র ভাল হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘ঈদুল আযহায় কোনো জেলা প্রশাসক যেন রাস্তার ওপর গরুর হাটের ইজারা না দেন, সেজন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আশা করি, এই ঈদের মতোই সবাই সহযোগিতা করবেন।
আমরা আইনের মাধ্যমে এগোচ্ছি
বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে কিছু করার ক্ষমতা সরকারের নেই বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তবে জেল কোডে যা আছে খালেদা জিয়া তার থেকে বেশি সুবিধা পাচ্ছেন বলে জানান তিনি। বুধবার রাজধানীর বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে সহকারী জজদের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে ইউনাইটেড হাসপাতালে নিতে কোনো আইনি বাধা আছে কিনা এক সাংবাদিকের এমন প্রশ্নে আইনমন্ত্রী বলেন, আমরা আইনের মাধ্যমে এগোচ্ছি। তার কারণ হচ্ছে যে, যখন আদালত কাউকে শাস্তি দেন এবং সে কারাগারে যান। কারাগারে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জেল কোড অনুযায়ী আইনটা প্রযোজ্য হয়ে যায়। আপিল বিভাগে বিচারক নিয়োগের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, আপিল বিভাগের বিচারক সংকট আছে এ কথার সঙ্গে আমি একমত নই। এর আগে সাতজন বিচারক ছিল। বহুবছর পাচঁজন বিচারক দিয়ে আপিল বিভাগ চলেছে। তার থেকে এখন মামলা বেড়েছে কথাটা ঠিক। বর্তমান বিচারক যারা আছেন তারা কিন্তু বহু দিন যাবত চালিয়ে যাচ্ছেন মামলার সংখ্যা কিন্তু কমে আসছে। একেবারেই সংকট আছে সেই ক্ষেত্রে আমি দ্বিমত পোষণ করি। তারপরেও আপিল বিভাগে শিগগিরই নিয়োগ দেওয়া হবে। এর আগে প্রশিক্ষণার্থী সহকারী জজদের উদ্দেশ্যে আইনমন্ত্রী বলেন, দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বিচারকদের ভূমিকা অগ্রগণ্য। কোয়ালিটি জুডিশিয়ারির ওপর শুধু আইনের শাসনই নয় অর্থনৈতিক উন্নয়ন, গণতন্ত্র সুসংহতকরণ এবং দারিদ্র দূরীকরণও নির্ভর করে। তিনি বলেন, সরকার দেশে বিদ্যমান মামলা জট কমাতে নানাবিধ পদক্ষেপ নিয়েছে। ডিজিটাল যুগের বিচারক হিসেবে নবীন বিচারকদের বিজ্ঞান-মনস্ক ও ইনোভেটিভ আইডিয়া সমৃদ্ধ উদ্যোগ গ্রহণে গুরুত্বারোপ করেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, আদালত বিচারপ্রার্থী মানুষের শেষ ভরসাস্থল। সেখানে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বিচারকদের সৎ ও নিষ্ঠাবান হতে হবে। বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক বিচারপতি খোন্দকার মূসা খালেদের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন আইন সচিব আবু সালেহ শেখ মো.জহিরুল হক।

জাতীয় পাতার আরো খবর