সব মানুষের জন্য আবাসন নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার
অনলাইন ডেস্ক :দেশের সব মানুষের জন্য আবাসন নিশ্চিতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার (৭ জুলাই) সকালে আজিমপুর সরকারি কলোনিতে নবনির্মিত বহুবল ভবন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‌‘১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে আমরা বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নিই। কিন্তু ২০০১ সালে বিএনপি জামায়াত ক্ষমতায় এসে সেটি বন্ধ করে দেয়। ২০০৮ সালে ফের ক্ষমতায় এসে আমরা বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর কাজ শুরু করি। বর্তমানে দেশে ১৮৭০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে।’ বাসাবাড়ি ও অফিসে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ‘বাসা থেকে বের হওয়ার সময় নিজ হাতে বাতি ও ফ্যানের সুইচ অফ করবেন। অফিস ত্যাগ করারও সময়ও এই অনুশীলন করতে হবে। আমি নিজেও এটি করে থাকি।’ সরকারি কর্মচারীদের জন্য মতিঝিল ও আজিমপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে ১০টি ভবন উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। চাকরিজীবীদের জন্য বহুতল ভবন নির্মাণের ব্যবস্থা করায় গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দফতরকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
টিটিএফ উদ্বোধন করলেন পর্যটনমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক :কলকাতায় তিন দিনব্যাপী ৩০তম ট্রাভেল এন্ড ট্যুরিজম ফেয়ারের উদ্বোধন করেছেন বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী একেএম শাহজাহান কামাল। শুক্রবার ভারতের কলকাতায় নেতাজী ইনডোর স্টেডিয়ামে এটি উদ্বোধন করেন তিনি। আজ ঢাকায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে একথা জানানো হয়। ভারতের অন্যতম বৃহৎ এ মেলায় এবার ১৩টি দেশ এবং ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের ৪৩০টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের ব্যবস্থাপনায়, বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশেনসহ ১৫টি ট্যুর অপারেটর সংগঠন এ মেলায় অংশ নিচ্ছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিহারের পর্যটন মন্ত্রী প্রমোদ কুমার, পশ্চিম বঙ্গের ক্রটারি আটরি ভট্টাচার্য, থাইল্যান্ড এম্বেসির ভেনাস আসওয়াপুম, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিখিল রঞ্জন রায় প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। পর্যটন মন্ত্রী একেএম শাহজাহান কামাল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সৌন্দর্যকে পর্যটন সম্ভাবনায় পরিণত করতে একটি অভিন্ন প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হবে। দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থাকে (সার্ক) কাজে লাগিয়ে এ অঞ্চলকে একটি ট্যুরিস্ট হাব হিসেবে গড়ে তোলা হবে। তিনি আরও বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের নাগরিকদের সহজে ও স্বাচ্ছন্দ্যে ভ্রমণ নিশ্চিত করতে সহজে ভিসা প্রাপ্তি, ট্রেন ও বাসে যাত্রী সেবা বৃদ্ধি, বিমানের ফ্লাইট বাড়ানোর পাশাপাশি দ্রুত নৌ চলাচলের পদক্ষেপ নেয়া হবে। বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনকে প্রমোট করতে ‘ওয়ান সুন্দরবন’ প্রোগ্রাম বাস্তবায়ন করা হবে। পরে মন্ত্রী মেলায় বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নের উদ্বোধন করেন। এ সময় কলকাতা উপদুতাবাসের ডেপুটি হাইকমিশনারসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে বছরব্যাপী মুজিববর্ষ উদযাপন করবে আওয়ামী লীগ
অনলাইন ডেস্ক :জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ২০২০ সালকে সাধারণ জনগণ এবং দলীয় নেতা-কর্মীদের অংশগ্রহণে আওয়ামী লীগ মুজিববর্ষ হিসেবে উদযাপন করবে। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা আজ সন্ধ্যায় দলের উপদেষ্টা পরিষদ এবং কার্যনির্বাহী সংসদের যৌথ সভায় বলেন, ‘২০২০ সালের মার্চ থেকে ২০২১ সালের মার্চ পর্যন্ত মুজিববর্ষ উদযাপনের মধ্যদিয়ে ২০২১ সালের ২৬ মার্চ আমরা স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন করবো। আমরা পুরো এক বছরের জন্য আমাদের কর্মসূচিকে ঢেলে সাজাবো।’ জাতি, ধর্ম, বর্ণ. গোত্র, নির্বিশেষে সকল বয়সের শ্রেণী পেশার মানুষের অংশগ্রহণে মুজিববর্ষ উদযাপিত হবে বলে সন্ধ্যায় ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ দলের নবনির্মিত কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই যৌথ সভায় তিনি জানান। সকল জেলা, উপজেলা, ওয়ার্ড এবং ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত এটি বাস্তবায়নে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণের কথাও বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই অনুষ্ঠানের সঙ্গে আমাদের সহযোগী সংগঠনগুলোকেও যেমন সম্পৃক্ত করবো, তেমনি দেশের জ্ঞানী-গুণী-বুদ্ধিজীবীরাও থাকবেন। পাশাপাশি সরকারিভাবেও এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য কেবিনেট সচিবকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।’ এই কর্মসূচির মধ্যে শিশু-কিশোরদের বিভিন্ন প্রতিযোগিতা, স্কুলভিত্তিক খেলাধূলা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, নাটক, কবিতা আবৃত্তি, রচনা প্রতিযোগিতা থাকবে এবং কামার, কুমার, জেলে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ যাদের জন্য বঙ্গবন্ধু সারাজীবন কাজ করেছেন তাদেরও কর্মসূচি থাকবে। এ উপলক্ষে জাতির পিতার জীবন এবং কর্ম নিয়ে বেশ কিছু বইও প্রকাশিত হবে, যার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম জাতির পিতার স্বাধীকার আন্দোলন এবং দেশের ইতিহাস সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পারবে। শেখ হাসিনা বলেন, ‘ইতিহাস জানার জন্য, প্রজন্মের গবেষণায় এগুলো একটি সম্পদ হবে।’ ‘কারাগারের রোজ নামচা’ এবং ‘বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী’- তাঁর ডায়রী ভিত্তিক লেখা দুটি ইতোমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর ১৯৫২ সালে চীন ভ্রমণের ওপর লেখা একটি বইয়ের কাজও শেষ পর্যায়ে রয়েছে। বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে পাকিস্তানী গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্ট নিয়ে বের করতে যাওয়া প্রায় ৯ হাজার পৃষ্ঠার প্রকাশনার ১৪টি ভলিউমের প্রথম ভলিউম ছাপারও কাজ চলছে। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার শুনানি নিয়েও কয়েক খন্ডের বই প্রকাশিত হবে এবং বঙ্গবন্ধুর নিজের লেখনী ‘স্মৃতিকথা’ও পরবর্তী সময়ে প্রকাশ করা হবে। আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘বহুমুখী কর্মসূচির মধ্যদিয়েই আমরা পুরো বছর উদযাপন করবো।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা আমাদের স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন এবং বলেছিলেন রক্ত দিয়েই তিনি রক্তঋণ শোধ করে যাবেন, তিনি তা করে গেছেন। এখন আমাদেরও সেই রক্তঋণ শোধ করতে হবে। আর তাঁর আত্মা শান্তি পাবে তখনই যখন বাংলাদেশের মানুষ সুখী ও সমৃদ্ধ জীবন-যাপন করবে। বাংলাদেশে আর ক্ষুধাতাড়িত দরিদ্র জনগোষ্ঠী নেই উল্লেখ করে তিনি রোহিঙ্গা প্রসঙ্গে বলেন, আমরা এখন শুধু নিজেদের নয়, ১১ লাখ রোহিঙ্গাকেও আশ্রয় দিয়ে তাদের খাদ্যসহ সব রকমের সহযোগিতা দিতে পারছি। তিনি বলেন, আমরা নিপীড়িতদের পাশে দাঁড়াতে পারছি, শোষিতের পক্ষে রয়েছি। যে কথা জাতিসংঘে ১৯৭৪ সালে জাতির পিতা তাঁর প্রথম বাংলায় প্রদত্ত ভাষণে বলেন- ‘বিশ্ব আজ দু’ভাগে বিভক্ত শোষক আর শোষিত, আমি শোষিতের পক্ষে।’ দেশে একটা মানুষও না খেয়ে কষ্ট পাবে না, কেউ আর গৃহহীন থাকবে না, আমরা একটি টিনের ঘর হলেও তাদের করে দেবো। তাছাড়া দেশে এখন আর কুঁড়ে ঘর দেখতে পাওয়া যায়না এবং দেশে ২ লাখ ৮০ হাজার গৃহহীনকে ঘর করে দেয়ার প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের কর্মসূচি শুধু শহরভিত্তিক নয়, তৃণমূল পর্যায়েও কর্মসূচির বাস্তবায়ন চলছে। আমাদের লক্ষ্যই হচ্ছে গ্রামের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন এবং সেটাই আমরা করছি। তিনি বলেন, দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা বর্তমানের প্রায় ১৮ হাজার মেগাওয়াট থেকে বাড়িয়ে আগামী ২০২১ সালের মধ্যে তাঁর সরকার ২০ হাজার মেগাওয়াট করার উদ্যোগ নিয়েছে এবং জাতির পিতার ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন প্রায় পূরণের পথে রয়েছে। দেশ আজ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছে। উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে বিশ্বে স্বীকৃতি পেয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইনশাল্লাহ বাংলাদেশের এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে।বাসস
বিএনপির নেতারাই খালেদা জিয়ার মুক্তি চায় না
অনলাইন ডেস্ক :বিএনপির নেতারাই খালেদার মুক্তি চায় না বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। শুক্রবার (৬ জুলাই) দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক গোল টেবিল আলোচনায় এ মন্তব্য করেন তিনি। হাছান মাহমুদ বলেন, যে দলের নেতারা প্রকাশেই বক্তৃতা করে বলেছেন খালেদা জিয়া জেলে থাকলে তাদের কয়েক লক্ষ ভোট বাড়বে। এতেই বোঝা যায়- দলটির নেতারাই খালেদা জিয়া মুক্তি চায় না। বিএনপির নেতারা মনে করেন খালেদা জিয়া জেলে থাকা অবস্থায় দলটি নির্বাচনে গেলে লাভ হবে। তারা ভোটে বিজয় হবে। গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন পরাজিত হয়ে দলটি মিথ্যাচার করছে দাবি করে এই মূখপাত্র বলেন, বিএনপি জানে তারা নির্বাচনে জয় লাভ করতে পারবে না তাই নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু করছে। আগামী নির্বাচনগুলোতেও আওয়ামী লীগ বিপুল ভোটে জয়ী হবে। আলোচনা সভায় খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেন, কোটা আন্দোলনকারীরা বিএনপির হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে। কোটা সংস্কার আন্দোলন অযৌক্তিক। বিএনপি তাদের মদদ দিয়ে যাচ্ছে।
বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে নবনিযুক্ত ১৮ বিচারপতির শ্রদ্ধা
অনলাইন ডেস্ক :বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্ট ও হাইকোর্টের নবনিযুক্ত ১৮ জন বিচারপতি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। শুক্রবার (৬ জুলাই) দুপুরে বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধের বেদিতে তারা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের নিহত সদস্যদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন। সুপ্রীম কোর্ট ও হাই কোর্টের নবনিযুক্ত বিচারপতিগণ হলেন, মো. আবু আহমেদ জমাদার, এ এস এম আব্দুল মোবিন, মো. মোস্তাফিজুর রহমান, ফাতেমা নজীব, মো. কামরুল হোসেন মোল্যা, এস এম কুদ্দুস জামান, মো. আতোয়ার রহমান, বিজির হায়াত, শশাংক শেখর সরকার, মোহাম্মদ আলী, মহি উদ্দিন শামীম, মো. রিয়াজ উদ্দিন খান, মো. খায়রুল আলম, এস এম মনিরুজ্জামান, আহমেদ সোহেল, সরদার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীর, খোন্দকার দিলীরুজ্জামান ও ড. কে এম হাফিজুল আলম। এ সময় গোপালগঞ্জ জেলা আদালতের জেলা ও দায়রা জজ মো. দলিল উদ্দিন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোখলেসুর রহমান সরকার, পুলিশ সুপার মুহাম্মদ সাইদুর রহমান খান ও আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।
কোটা নিয়ে সহিংস পরিস্থিতি সৃষ্টি করার চেষ্টা হচ্ছে
অনলাইন ডেস্ক :সংসদে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কথা দেওয়ার পরও কোটা নিয়ে সহিংস পরিস্থিতি সৃষ্টি করার চেষ্টা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ-বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক। শুক্রবার (৬ জুলাই) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার মনিয়ন্দ উচ্চ বিদ্যালয়ের নবনির্মিত একাডেমিক ভবন উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের কাছে এমন মন্তব্য করেন তিনি। আনিসুল হক বলেন, প্রধানমন্ত্রী কথা দিয়েছেন কোটা পদ্ধতির সংস্কার করা হবে। তিনি যা বলেন তাই করেন। আর বিএনপি-জামায়াত কুচক্রী মহল রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া হওয়ার পর দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে বন্ধ রাখার জন্য এ বিষয়টিকে ইস্যু করে গন্ডগোল বাঁধানোর চেষ্টা করছে। ওই অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ শামছুজ্জামান, আখাউড়া পৌরসভার মেয়র তাকজিল খলিফা কাজল, উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক জয়নাল আবেদীনসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
চিকিৎসকের অবহেলাতেই রাইফার মৃত্যু,তিন চিকিৎসকের শাস্তির সুপারিশ
অনলাইন ডেস্ক :চিকিৎসক ও ম্যাক্স হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলাতেই চট্টগ্রামে আড়াই বছর বয়সী শিশু রাইফার মৃত্যু হয়েছে বলে সরকারি তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অবহেলার দায়ে শিশুর মৃত্যুর সঙ্গে সম্পৃক্ত তিন চিকিৎসকের যথাযথ শাস্তির সুপারিশ করা হয়েছে।চট্টগ্রামের সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে শিশু বিশেষজ্ঞ নিয়ে গঠিত তদন্ত কমিটি পাঁচ দিন তদন্তের পর এই তদন্ত প্রতিবেদন দেন।শুক্রবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেন চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতারা।তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক হাসান ফেরদৌস বলেন, ম্যাক্স হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসকদের অবহেলাতেই আমাদের সহকর্মী দৈনিক সমকালের চট্টগ্রাম ব্যুরোর সিনিয়র রিপোর্টার রুবেল খানের মেয়ে রাইফার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. আজিজুর রহমান সিদ্দিকীর নেতৃত্বে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, রাইফার মৃত্যুর পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে রাইফার বাবা-মা যে অভিযোগ করেছিলেন তার সত্যতা পাওয়া গেছে। রাইফা হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর থেকে তার রোগ নির্ণয় ও ওষুধ প্রয়োগ যথাযথ থাকলেও সে যখন খিঁচুনিতে আক্রান্ত হয় তখন চিকিৎসকের অনভিজ্ঞতা ও আন্তরিকতার অভাব পরিলক্ষিত হয়। জটিল পরিস্থিতি মোকাবিলার দক্ষতা ও জ্ঞান তাদের ছিল না। ম্যাক্স হাসপাতালে জরুরি বিভাগে ভর্তি ও চিকিৎসা শুরুর প্রতিটি ক্ষেত্রে রাইফার অভিভাবকদের ভোগান্তি ছিল চরমে। শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. বিধান রায় শিশুটিকে যথেষ্ট সময় ও মনোযোগ দিয়ে দেখেননি। রোগ জটিলতায় বিপদকালীন সময়ে আন্তরিকতার সঙ্গে সেবা প্রদান করেননি বলে রাইফার বাবা-মা যে অভিযোগ করেছেন তা সত্য বলে প্রতীয়মান হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ম্যাক্স হাসপাতালে ভোগান্তি অনেক প্রকট। চিকিৎসক ও নার্সদের সেবা প্রদানের সমন্বয় নেই। অদক্ষ নার্স ও অনভিজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগের ফলে এই হাসপাতালে কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসা সেবা পায় না রোগীরা। তদন্ত প্রতিবেদনে ম্যাক্স হাসপাতালে রাইফাকে চিকিৎসা প্রদানকারী শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. বিধান রায় চৌধুরীসহ চিকিৎসায় অবহেলার দায়ে তিনজন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয়। তদন্ত কমিটিতে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ছাড়াও অপর দুই সদস্য হলেন-চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান ডা. প্রণব কুমার চৌধুরী ও চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের যুগ্ম সম্পাদক সবুর শুভ। উল্লেখ্য, গেল ২৯ জুন চট্টগ্রামের অভিজাত ম্যাক্স হাসপাতালে সামান্য গলা ব্যথা নিয়ে ভর্তি হয়ে রাইফা খান চিকিৎসকদের অবহেলায় মারা যায়। এই ঘটনায় দোষী চিকিৎসকদের বিচার দাবিতে ধারাবাহিক আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন চট্টগ্রামের সাংবাদিকরা।আরটিভি অনলাইন
একের পর এক ভুল চিকিৎসা ও অবহেলায় রোগী মৃত্যু,বিচারের দৃষ্টান্ত স্থাপন হয়নি আজো
বিশেষ প্রতিনিধি :চট্টগ্রামের বেসরকারী হাসপাতালগুলোতে একের পর এক ভুল চিকিৎসা ও অবহেলায় রোগী মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনায় বিচারের প্রত্যাশায় কেউ কেউ আদালতের স্মরণাপন্ন হলেও রোগীদের জিম্মি করে চিকিৎসকদের কথিত আন্দোলনের মুখে বিচার প্রক্রিয়াও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। চিকিৎসকদের সংগঠনগুলোর এমন বেপরোয়া আচরণে ক্ষুব্ধ ভুক্তভোগীরা। আর মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন আইনের সঠিক প্রয়োগ আর বিচারের দৃষ্টান্ত স্থাপন না হওয়ায় বেসরকারী হাসপাতালগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।চট্টগ্রামের সিনিয়র সাংবাদিক রুবেল খানের আড়াই বছরের কন্যা রাইফা খান। ঠান্ডা থেকে সামান্য গলা ব্যাথার কারণে ভর্তি করেছিলেন নগরীর বিলাশবহুল হাসপাতাল ম্যাক্স-এ। কিন্তু দুই দিনেও শিশুটিকে ছুঁয়ে দেখেনি হাসপাতালের কোনো চিকিৎসক। মোবাইল ফোনে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে উচ্চ মাত্রার এন্টিবায়েটিক ও ঘুমের ওষুধ দেয় নার্স। আর এতেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে শিশুটি। এ ঘটনায় পুলিশ ওই হাসপাতালের ৩ জনকে আটক করে থানায় নিলেও বিএমএ নেতাদের হুমকির মুখে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়। এতে ক্ষুব্ধ শিশুটির অভিভাবক।২০১২ সালে পাইলসের চিকিৎসার জন্য নগরীর বেলভিউ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন সাংবাদিক আমিনুল মিঠু। চিকিৎসকরা তারা শরীরের ভেতর নিডেল রেখেই সেলাই করে দিয়েছিলেন। পরবর্তিতে দেশ-বিদেশে মিলে মোট ১৩ বার অস্ত্রপচারের পর প্রাণে বেঁচে গেলেও স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরেননি আজও। এ ঘটনার বিচার চেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করলেও বিএমএ নেতা ফয়সাল ইকবালের হুমকির মুখে নিজেরাই এখন নিরাপত্ত্বাহীন।সাংবাদিক আমিনুলের ঘটনায় দুই চিকিৎসককে গ্রেফতার করলে কথিত আন্দোলনের ডাক দেয় চিকিৎসকদের সংগঠন বিএমএ। এতে টানা ৫ দিন বন্ধ রাখা হয় চট্টগ্রামের সব বেসরকারি হাসপাতাল। এক পর্যায়ে আদালত চিকিৎসকদের অভিযোগ থেকে অব্যহতি দেয়। সাংবাদিক কন্যা রাইফার মৃত্যুর এক সপ্তার মধ্যেই ফরট্রিক্স হাসপাতালে চিকিৎসকের অবহেলায় মারা যায় ব্যবসায়ী লোকমান চৌধুরী। চট্টগ্রাম এমন ঘটনা ঘটছে অহরোহ। কয়েকটি ঘটনায় ভুক্তোভোগীরা আদালতের স্মরণাপন্ন হলেও বিচারের দৃষ্টান্ত স্থাপন হয়নি আজো।চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানাধীন বেসরকারি হাসপাতাল ফর্টিসে চিকিৎসকের অবহেলায় এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গতকাল মঙ্গলবার রাতে ঘটা এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে হাসপাতালে বিক্ষোভ ও ভাঙচুরের চেষ্টা করে নিহতের স্বজনরা। স্বজনরা জানায়, ব্যবসায়ী লোকমান চৌধুরী গত ২২ জুন ফুসফুসের ব্যথা নিয়ে ফর্টিস হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসকের পরামর্শে তখন থেকে তাঁকে অক্সিজেন মাস্ক পরিয়ে রাখা হয়। কিন্তু গতকাল রাতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক শিমুল কুমার ভৌমিক রোগীর সেই মাস্ক খুলে নেন। অক্সিজেন না পাওয়ায় রোগীর অবস্থার অবনতি হলে রাত ৯টার দিকে তিনি মারা যান। এ ব্যাপারে বারবার দৃষ্টি আকর্ষণ সত্ত্বেও চিকিৎসকরা যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি বলে দাবি মৃতের স্বজনদের। অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে রোগীর আত্মীয়স্বজন হাসপাতালে ভাঙচুরের চেষ্টা চালায়। হাসপাতালের চিকিৎসক বা কর্মচারী কাউকেই সে সময় আশপাশে দেখা যায়নি। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পাঁচলাইশ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোজাম্মেল হক জানান, রাত ৯টার দিকে লোকমান চৌধুরীর মৃত্যু হয়েছে। সাভারের আশুলিয়ার পল্লীবিদ্যুত এলাকায় মমতাজ হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় এক নারীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। আশুলিয়ার মমতাজ উদ্দিন জেনারেল হাসপাতালে বৃহস্পতিবার রাত একটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।নিহত নারীর নাম লাইলি বেগম (৩২)। তিনি আশুলিয়ার ডেন্ডাবর এলাকার আবুল কাসেমের স্ত্রী।ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত চিকিৎসক, নার্স ও আয়া পলাতক রয়েছেন।নিহতের স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে টনসিলজনিত সমস্যা নিয়ে লাইলি বেগমকে মমতাজ উদ্দিন জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাতে অপারেশন চলাকালে ওই রোগীর মৃত্যু হয়।ঘটনার পর ডাক্তার এবং হাসপাতাল পরিচালনা কমিটির কাউকেই পাওয়া যায়নি। এসময় নিহতের স্বজনরা আশুলিয়া থানা পুলিশে খবর দিলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুলিশ। আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুল আউয়াল বলেন, রাতে ভুল চিকিৎসায় রুগীর মৃত্যুর খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি।নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আশুলিয়া থানায় একটি মামলার প্রস্তুতি চলছে। তদন্তসাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিউজ একাত্তর ডট কম / ০৬.০৭.২০১৮
দেশের চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকবে
অনলাইন ডেস্ক :প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সুশৃঙ্খলভাবে চললে যে কোনো লক্ষ্য অর্জন করাই সম্ভব। বৃহস্পতিবার (৫ জুলাই) ঢাকা সেনানিবাসে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর)’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এক অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের যেমন অধীনস্তদের সুযোগ-সুবিধা দেখতে হবে, তেমনি অধীনস্তরাও যেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশ মেনে শৃঙ্খলা বজায় রেখে কাজ করে- সেটাই আমি আশা করি। আমি বিশ্বাস করি সুশৃঙ্খলভাবে চললে যে কোনো লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কর্মরত পিজিআর সদস্যদের জন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে সব সময় দোয়া করেন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি নামাজ পড়ে যখন নিজের ছেলে মেয়ের জন্য দোয়া করি, দেশবাসীর জন্য দোয়া করি, তেমনি আমার আশেপাশে যারা কাজ করে, নিজেদের জীবন দিয়ে আমাকে রক্ষা করতে হয়, তাদের জন্যও আমি সব সময় দোয়া করি আল্লাহর কাছে। শুধু আল্লাহর কাছে বলি, আমার জীবন গেলেও আমার আশেপাশে যারা তাদের জীবন যেন অক্ষয় থাকে, সে কামনা করি। পিজিআরের সুযোগ সুবিধা ও লোকবল বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশের উন্নয়নে তার সরকারের নেয়া নানা চেষ্টা ও উদ্যোগের বিষয় তুলে ধরেন। আমি মনে করি আপনারা একটি পরিবারেরই সদস্য। আপনাদেরকে আমি আমার পরিবার হিসেবেই মনে করি- উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। দেশের চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকবে, এমন আশা প্রকাশ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা বাংলাদেশকে উন্নীত সমৃদ্ধ করে, দারিদ্র্যমুক্ত করে গড়ে তুলতে চাই। ইতিমধ্যে দারিদ্যের হার আমরা ২২ ভাগে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি। এই ধারাটা অব্যাহত থাকবে। মানবসম্পদ আমাদের বড় সম্পদ। এই সম্পদকে কাজে লাগিয়েই আমরা বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে যাচ্ছি। তিনি বলেন, আজকে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। সেই সাথে সাথে আমরা উন্নয়ন বরাদ্দটাও বৃদ্ধি করেছি। আমাদের গ্রামে প্রতিটি মানুষ যেন এর সুফলটা পায়, সেই প্রচেষ্টাই আমরা চালাচ্ছি। আমাদের আয় বৈষম্য দূর হয়েছে। গ্রামে অর্থ সংকুলান হচ্ছে, গ্রামের মানুষেরও ভাগ্য পরিবর্তন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ আমরা পৌঁছে দিচ্ছি। আজকে প্রায় ৯৩ ভাগ মানুষ বিদ্যুৎ পাচ্ছে, বাকিটুকুও আমরা করে দিতে পারব। শিক্ষদীক্ষা সব দিক থেকেই আমরা ব্যবস্থা করে দিচ্ছি। লক্ষ্যটাই আমার ছিল আমার দেশকে উন্নত করতে হবে, জনগণের জীবন মান উন্নত করতে হবে, তাদের সমস্যাটির সমাধান করতে হবে। একটি মানুষও গৃহহারা থাকবে না, একটি মানুষও অভুক্ত থাকবে না। প্রতিটি মানুষই সুন্দরভাবে বাঁচবে। আর সেই সাথে আমাদের সব শ্রেণি লেখাপড়া শিখে উন্নত হবে। আধুনিক প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন হবে। তিনি বলেন, আমরা চাই, দেশে যে অর্থনৈতিক গতিশীলতা তৈরি হয়েছে, সেটা যেন অব্যাহত থাকে, আমরা যেন এগিয়ে যেতে পারি। বাংলাদেশে এখন সব দিক থেকে এগিয়ে যাচ্ছে এবং এগিয়ে যাওয়াটা যেন থেমে না যায়, এটা আমরা চাই। বাংলাদেশের জন্য আমরা একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ঠিক করেছি। ২০২০ সালে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী আমরা পালন করব। এই ২০২০ সালের মধ্যেই আমরা ক্ষুধা দারিদ্র্য হ্রাস করতে চাই। তিনি আরো বলেন, উন্নয়নশীল দেশে আমাদের যে উন্নতিটা ঘটেছে, সেটা আমাদের ধরে রাখতে হবে। সেই সাথে সাথে ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় একটি উন্নত, সমৃদ্ধ দেশ হবে, সেই পরিকল্পনা নিয়েই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। আমি সত্যিই আনন্দিত, আমাদের সকলে, প্রতিটা প্রতিষ্ঠানই নিজ নিজ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নে বিশাল অবদান রেখে যাচ্ছে। দেশের উন্নয়নে নিজের দর্শন তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেটুকু কাজ করেছি আন্তরিকতার সাথে, দেশকে ভালোবেসে, দেশের মানুষকে ভালোবেসে। কারণ আমার বাবা দেশের স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন, তার একটা স্বপ্ন ছিল বাংলাদেশ স্বাধীন দেশ হিসেবে মর্যাদাপূর্ণ হবে। সেই সাথে সাথে বাংলাদেশের মানুষগুলোও একটা মার্যাদা নিয়ে বিশ্বের দরবারে চলবে। এ সময় পদ্মাসেতু প্রকল্প নিয়ে চক্রান্তের বিষয়টিও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, একটা চ্যালেঞ্জ এসেছিল। আমার ওপর দোষারোপ করতে চেয়েছিল পদ্মাসেতুর দুর্নীতির কথা বলে। দুর্ভাগ্যবশত আমার দেশেরই একজন স্বমানধন্য মানুষ সামান্য ব্যাংকের এমডি পদ বয়সের কারণে হারিয়ে সে প্রতিশোধ নিয়েছিল পদ্মাসেতুর অর্থ বন্ধ করে দিয়ে ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের হয়ে। তিনি বলেন, এটাকে আমি চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছিলাম। কারণ দুর্নীতি করে নিজের ভাগ্য গড়তে আসিনি। এসেছি জনগণের ভাগ্য গড়তে। সেটা প্রমাণ হয়েছে, কোনো দুর্নীতি এখানে হয়নি। আমার সিদ্ধান্ত ছিল নিজেদের অর্থে পদ্মাসেতু করব। যেদিন পারব, সেদিনই করব। সেটা আমরা সফলতার সাথে করতে পারছি। আজকে পদ্মাসেতু দৃশ্যমান। আর এই একটা সিদ্ধান্তই কিন্তু সারা বিশ্বের বুকে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করে একটি সম্মানজনক অবস্থানে নিয়ে গেছে।

জাতীয় পাতার আরো খবর