আজ বিজয়ের দিন
১৬,ডিসেম্বর,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আজ ১৬ ডিসেম্বর, মহান বিজয় দিবস। বাঙালি জাতির জীবনে সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল দিন, পরাধীনতার শৃঙ্খলমুক্তির দিন। সারাদেশের মানুষ আজ আনন্দ-উৎসব এবং একই সঙ্গে বেদনা নিয়ে দিবসটি পালন করবে। স্বাধীনতার জন্য যে অকুতোভয় বীর সন্তানেরা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন, গভীর বেদনা ও শ্রদ্ধায় তাদেরকে স্মরণ করা হবে। তবে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে এবার বিজয় দিবস উদযাপনে জাতীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্যবিধি মানা হবে। থাকছে না অন্যান্য বারের মতো আড়ম্বর আয়োজন। এছাড়া বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হবে না। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ পৃথক বাণী দিয়েছেন। দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে এদিন সংবাদপত্রগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবে। এ উপলক্ষে ইলেকট্রনিক মিডিয়া মাসব্যাপী মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালা প্রচার করবে। ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শেষে ১৯৭১ সালের এই দিন বাঙালি জাতি স্বাধীনতা সংগ্রামের চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে। স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি ও হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের পর ১৬ ডিসেম্বর বিকেলে তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) বর্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পণ করে যৌথ বাহিনীর কাছে। এর মধ্য দিয়ে স্বাধীনতার রক্তিম সূর্যালোকে উদ্ভাসিত হয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। সেই থেকে ১৬ ডিসেম্বর আমাদের বিজয় দিবস। যথাযথ ভাবগাম্ভীর্যে দিবসটি সাড়ম্বরে উদযাপন করা হয়। স্বাধীনতার জন্য বাঙালিকে দীর্ঘ সংগ্রামের পথ পাড়ি দিতে হয়েছে। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের অবসানের পর দ্বি-জাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে যে পাকিস্তান রাষ্ট্রের অভ্যুদয় হয়েছিল, সেখানেও বাঙালিদের ওপর নেমে এসেছিল পশ্চিম পাকিস্তানিদের শোষণ-নির্যাতন। তবে প্রথম আঘাত এসেছিল মাতৃভাষার ওপর। ১৯৫২ সালে বুকের রক্তে রাজপথ রাঙিয়ে বাংলা মায়ের সন্তানেরা মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠা করে এক অনন্য ইতিহাস সৃষ্টি করেছিলেন। ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে যে স্বাধিকার চেতনার স্ফুরণ ঘটেছিল, আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় কালক্রমে তা স্বাধীনতার আন্দোলনে রূপ নেয়। বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার জন্য চূড়ান্ত যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে তোলেন। স্বাধীনতার ঠিক আগে ১৪ ডিসেম্বর বাংলাদেশ তথা পৃথিবীর ইতিহাসের এক কালো অধ্যায়। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তার দোসর রাজাকার আল-বদর, আল-শামস মিলিতভাবে পরিকল্পনা করে বাংলার শ্রেষ্ঠ সন্তান বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে। বাঙালির চূড়ান্ত বিজয়ের মাত্র দুই দিন আগে ঘটে এক মর্মান্তিক হত্যাযজ্ঞ। তারা বেছে বেছে অসংখ্য শিক্ষাবিদ, গবেষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, সাংবাদিক, কবি ও সাহিত্যিকদের হত্যা করে। বাঙালি বুদ্ধিজীবীদের নিশ্চিহ্ন করার এই নীলনকশা প্রণয়ন করে পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নরের সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী। পাকবাহিনীর অস্ত্র সহায়তা নিয়ে তাদেরই ছত্রচ্ছায়ায় আধাসামরিক বাহিনী আলবদরের ক্যাডাররা এই বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞ সংঘটিত করে। হানাদার পাকিস্তানী বাহিনী তাদের পরাজয় আসন্ন জেনে বাঙালি জাতিকে মেধাশূন্য করার লক্ষ্যে বুদ্ধিজীবী নিধনের এই পরিকল্পনা করে। মহামারি করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে বিজয় দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে। এরপর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীর নেতৃত্বে উপস্থিত বীরশ্রেষ্ঠ পরিবার, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। আজ সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে এবং গুরুত্বপূর্ণ ভবন ও স্থাপনাসমূহ আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হবে। ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন শহরের প্রধান সড়ক ও সড়কদ্বীপ জাতীয় পতাকা ও অন্যান্য পতাকায় সাজানো হয়েছে। বিজয় দিবস উপলক্ষে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ ও ডিজিটাল প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে জাতীয় সমৃদ্ধি অর্জন শীর্ষক অনলাইনে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। এদিন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের স্বাধীনতা স্তম্ভ ও ভূগর্ভস্থ জাদুঘরে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও ঐতিহ্যভিত্তিক পোস্টার প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্বল্পসংখ্যক দর্শনার্থীকে সেখানে প্রবেশের সুযোগ দেয়া হবে। এছাড়া ডাকযোগে, ই-মেইলে, অনলাইনে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক রচনা প্রতিযোগিতা ও শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ভার্চুয়াল অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে। বিজয় দিবস উপলক্ষে ডাক বিভাগ স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ করবে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মার মাগফেরাত ও যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সুস্বাস্থ্য কামনা এবং দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিশেষ দোয়া ও উপাসনার আয়োজন করা হবে। এছাড়া এতিমখানা, বৃদ্ধাশ্রম, হাসপাতাল, জেলখানা, শিশু বিকাশ কেন্দ্রসহ এমন প্রতিষ্ঠানে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এবং বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসেও দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
আলেমরা আন্দোলন করবেন না, আলোচনায় সমাধান: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
১৫,ডিসেম্বর,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য নির্মাণের বিষয়ে আলেমরা আর আন্দোলন করবেন না দাবি করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান জানিয়েছেন, তাদের পাঁচটি প্রস্তাবনা আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে। সরকার কারো ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেবে না এবং সংবিধানের বাইরেও যাবে না। সোমবার রাতে ধানমন্ডিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসায় হেফাজতে ইসলামের কয়েকজন শীর্ষ নেতার সঙ্গে বৈঠকের পর মঙ্গলবার (১৫ ডিসেম্বর) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে একথা জানান মন্ত্রী। ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ও সচিবের উপস্থিতিতে ওই বৈঠকে বেফাকের সভাপতি মাওলানা মাহমুদুল হাসানের নেতৃত্বে দেশের ১২ জন শীর্ষস্থানীয় আলেম মতবিনিময় করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গত ৫ ডিসেম্বর সারাদেশে শীর্ষস্থানীয় আলেমরা দেশের বর্তমান অবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলাপ করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছিলেন। সেই চিঠির বিষয়ে আলাপ-আলোচনার জন্য আমার কাছে গিয়েছিলেন। ফলপ্রসূ আলাপ হয়েছে। আমরা যে সমস্ত আলাপ করেছি, আরো আলাপ হবে। আমরা মনে করি আলাপের মাধ্যমে সব সমস্যা সমাধান করতে পারবো। আমরা ঐক্যে পৌঁছাতে পারবো। আলাপ-আলোচনার মধ্যে যে সমস্ত কথাবার্তা বেরিয়ে এসেছে সে বিষয়ে আমরা ঐক্যে পৌঁছাতে পারবো। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তারাও হৃদয় দিয়ে ধারণ করেন বাঙালির জাতির পিতাকে। তারাও স্বীকার করেন যে প্রধানমন্ত্রী একজন খাঁটি মুসলমান, তার ঈমানি দায়িত্ব তিনি পালন করে যাচ্ছেন। আলাপের মাধ্যমে ঐক্য যেটুকু হয়েছে, যে সমস্ত প্রশ্ন আছে সেগুলো আরো আলাপের মাধ্যমে শেষ করতে পারবো ইনশাল্লাহ। কোন কোন বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে- প্রম্নে তিনি বলেন, আলাপ-আলোচনা যে শুরু হয়েছে, এটা চলবে। তারা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের পরিবর্তে মুজিব মিনার করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন, তারা কী এখনও সেই অবস্থানে আছেন- প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তারা দেখা করতে চেয়েছেন। সবকিছুই আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে আমরা ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারবো। তারা এই আবেদন রেখেছেন, কেউ যাতে রাস্তায় নেমে এসে ভাঙচুর না করেন। কেউ যেন এসে কোনো ধরনের শান্তি-শৃঙ্খলা ভঙ্গ না করে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি না করে, এ ব্যাপারে তারা আমাদের সঙ্গে সম্পূর্ণ ঐকমত্যে এসেছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ফেসবুকে নানা ধরনের উত্তেজনা ছড়ানোর যে প্রয়াস চলছে, সেইগুলোর বিরুদ্ধে তারাও কথা বলেছেন। তারা বলেছেন এগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে। কোথাও যাতে সরকারবিরোধী আন্দোলন কেউ না করেন সেই আহ্বানও তারা রেখেছেন। তিনি বলেন, পাঁচটি প্রস্তাবনা তারা আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেই শেষ কতে চান। আমরা অনেকদূর এগিয়েছি। আশা করি আলোচনার মাধ্যমেই ফয়সালা করতে পারব। এর মানে তাদের দাবিই শেষ পর্যন্ত মানতে হচ্ছে- প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, সেটা আমি বলিনি। বলেছি আলোচনার মাধ্যমে আমরা শেষ করবো। সরকার কী নতজানু নীতি নিয়েছে- জবাবে মন্ত্রী বলেন, প্রশ্নই আসে না। সরকার কখনও নতজানু নীতিতে বিশ্বাস করে না। ‘আমরা সংবিধানের বাইরে যাবো না। আমরা কারো ধর্মীয় সেন্টিমেন্টেও আঘাত করতে চাই না। আলোচনার মাধ্যমে শেষ করতে চাই। যারা জাতির পিতার ভাস্কর্য বুড়িগঙ্গায় ফেলে দিতে বলেছে, যারা ভেঙেছে তাদের সঙ্গে আলোচনা সরকারের নতজানু নীতি কিনা- প্রশ্নে স্বরাষ্টমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ কখনও নতজানু রাজনীতি করে না। আমাদের সরকার সবকিছু স্পষ্টভাবে সবকিছু জানিয়ে দিয়ে করে। আমরা সংবিধানের বাইরে কোনো কিছুই করবো না। তার মানে এই নয় যে আমরা কোনো ধর্মকে অবজ্ঞা করবো। আমরা ধর্মীয় সংস্কৃতি মেনে, ধর্মীয় বিধান মেনেই চলছি এবং আলেম-ওলামারা এটাও স্বীকার করে গেছেন যে আমাদের প্রধানমন্ত্রী একজন ধর্মপ্রাণ মুসলমান। তিনি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ সময়মতো আদায় করেন, তাহাজ্জুদের নামাজটাও পড়েন। তারা মনে করেন প্রধানমন্ত্রীর কাছে যে আবেদন করেছেন তা আলোচনার মাধ্যমে শেষ হবে। আমরা আলোচনা শুরু করেছি, আলোচনার নিশ্চই একটা ফলপ্রসূ রেজাল্ট আপনারা দেখবেন। ভাস্কর্য নির্মাণ নিয়ে সরকার দোটানায় আছে কিনা- প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, আমরা সংবিধানের বাইরে যাবো না। কারো ধর্মীয় অনুভূতিতেও আঘাত দেবো না। ভাস্কর্য যেখানে যেভাবে আছে সেভাবে থাকবে কি থাকবে না, আমরা সবগুলো নিয়ে আলোচনা করছি। তিনি বলেন, স্পষ্ট কথা হলো- ভাস্কর্য কেন করা হয়? এটাকে কিন্তু পূজা করা হয় না। এটা মূর্তি নয়। আমরা বলছি জন্ম জন্মান্তরে বঙ্গবন্ধু কে ছিলেন, হৃদয়ে ধারণ করার জন্য বঙ্গবন্ধুকে ধরে রাখতে চাচ্ছি। তারা বলেছেন মূল ভাস্কর্যের জায়গায় একটি মুজিব মিনার করার জন্য, আমরা বলেছি আলোচনার মাধ্যমে শেষ করবো। ভাস্কর্য নির্মাণের বিষয়ে সরকার নমনীয়- এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, নমনীয়ের কথা আমি বলিনি। সেখানে ভাস্কর্য থাকবে না- এটা আমি কখনও বলিনি। আমি স্পষ্ট করে বলছি, কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি যে ভাস্কর্য ওখানে থাকবে না, ওখান থেকে সরিয়ে দেবো। কোন সিদ্ধান্ত হয়নি এই জায়গায় অন্য কিছু হবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তারা দেখা করতে চেয়েছেন, আমরা প্রস্তাব দেবো। তিনি রাজি হলে দেখা করবেন। কোভিড-১৯ এর কারণে প্রধানমন্ত্রীকে সুস্থ রাখাও আমাদের কর্তব্য। উনি যদি দেখা করতে ইচ্ছা পোষণ করেন তাহলে নিশ্চয়ই দেখা হবে। দেখা করার বিষয়ে আপনাকে প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব দিয়েছেন কিনা- প্রশ্নে তিনি বলেন, আমাকে দায়িত্ব দেবেন কেন। অনেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত আছে। যেহেতু শান্তি-শৃঙ্খলার বিষয়টি আসছে সেহেতু আমি সামনে চলে এসেছি। এই পরিস্থিতিতে ভাস্কর্য নির্মাণ কাজ কি চলমান থাকবে- প্রশ্নে তিনি বলেন, চলমান তো আছেই। সেগুলো সবই আপনারা দেখছেন। বিকল্প প্রস্তাবে মিনার ও ভাস্কর্য কি একসঙ্গে থাকবে- প্রশ্নে তিনি বলেন, না। আমরা বলছি কোনোটাই সিদ্ধান্ত হয়নি। এটা নিয়ে আরো আলোচনা হবে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী একটা বড় পরিসরে আলাপ করবেন।
ঢাকা কলেজের অধ্যাপক আফরোজা সুলতানা আর নেই
১৫,ডিসেম্বর,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ঢাকা কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক আফরোজা সুলতানা আর নেই (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মঙ্গলবার রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ৭ টা ১৫ মিনিটে তার মৃত্যু হয়। এর আগে ব্রেন হেমারেজ সংক্রান্ত জটিলতায় সোমবার তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর তার অবস্থার আরও অবনতি হলে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। অধ্যাপক আফরোজা সুলতানার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর এ. টি. এম. মইনুল হোসেন।
শ্রদ্ধা ভালোবাসায় সিক্ত হতে প্রস্তুত জাতীয় স্মৃতিসৌধ
১৫,ডিসেম্বর,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: মহান বিজয় দিবসে সর্বস্তরের জনগণের শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসায় সিক্ত হতে পুরো প্রস্তুত জাতীয় স্মৃতিসৌধ। দিবসটি পালনে এরই মধ্যে পুরো সৌধ এলাকা ধুয়ে মুছে রঙ-তুলির আঁচড়ে রাঙিয়ে তোলা হয়েছে। বাহারি ফুলের গাছ ও আলোকসজ্জায় সাজানো হয়েছে স্মৃতিসৌধের রাস্তাসহ পুরো এলাকা। বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে এ বছর বিজয় দিবসে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন না মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী। তবে তাদের পক্ষে দুইজন সামরিক সচিব জাতীর শ্রেষ্ঠ সন্তানদের স্মরণে শহীদ বেদীতে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান। এরপর মন্ত্রী পরিপষদ সদস্য, দেশি-বিদেশি মেহমান ও কুটনৈতিকসহ ভিআইপি ব্যক্তিরা শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। পরে সর্বস্তরের সাধারণ মানুষের জন্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে জাতীয় স্মৃতিসৌধ। এদিকে বিজয় দিবসে আগত দর্শনার্থীসহ সকলের নিরাপত্তার জন্য কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে ঢাকা জেলা পুলিশ। এছাড়া সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধিসহ ওয়াচ টাওয়ারের মাধ্যমে সকলের গতিবিধি অনুসরণের পাশাপাশি নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার জন্য পুরো এলাকায় বসানো হয়েছে পর্যাপ্ত সংখ্যক সিসিটিভি ক্যামেরা। অন্যদিকে বিজয় দিবসকে ঘিরে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের আমিনবাজার থেকে জাতীয় স্মৃতিসৌধ পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন স্থান মেরামত ও ডিভাইডারসহ আশপাশের গাছগুলোতে রঙ করা হয়েছে। প্রধান ফটকে ঢোকার জন্য জীবাণুনাশক স্প্রে ব্যবহার করতে বড় করে মেশিন স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া স্মৃতিসৌধে আগত ভিআইপিদের সংবর্ধনা দিতে তিন বাহিনীর গার্ড অব অনার প্রদানের মহড়া কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল সাইফুল আবেদীন। স্মৃতিসৌধের সৌন্দর্য বর্ধনের বিষয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন বলেন, বেশ কিছুদিন ধরেই মহান বিজয় দিবস উদযাপনের জন্য জাতীয় স্মৃতিসৌধ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে কাজ করে যাচ্ছে আমাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। পুরো এলাকা রঙ-তুলির আঁচড় ও বাহারি ফুলের গাছ দিয়ে সাজানো হয়েছে। বিজয় দিবসের প্রথম প্রহরে জাতীর সূর্য সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য এখন পুরোপুরি প্রস্তুত জাতীয় স্মৃতিসৌধ। স্মৃতিসৌধে আগত দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়ে ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন সরদার বলেন, মহান বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে বেশ কিছুদিন ধরে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তৎপর রয়েছে। ইতোমধ্যে জাতীয় স্মৃতিসৌধের আশপাশের এলাকার গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস উদযাপনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত এ নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় থাকবে। এছাড়া স্মৃতিসৌধে আগত সকল দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য ঢাকা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনসহ সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে। পর্যাপ্ত সংখ্যক সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণ, জীবানুনাশক স্প্রে চেম্বার স্থাপন করার পাশাপাশি সকলকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শ্রদ্ধা নিবেদনে পুলিশের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সকল ধরনের সহযোগিতা করা হবে বলেও জানান তিনি।
দেশবাসীকে মহান বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রীর
১৫,ডিসেম্বর,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে দেশের জনগণকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এবং নতুন করে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধির আশঙ্কার কারণে সঠিক স্বাস্থ্য নির্দেশনা মেনে দিবসটি উদযাপনের আহ্বান জানিয়েছেন। ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার জানান, ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস উপলক্ষে দেশের প্রায় ১৭ কোটি মোবাইল ব্যবহারকারীকে ৪৫ সেকেন্ডের একটি অডিও বার্তা পাঠানো হয়েছে। শুভেচ্ছা বার্তায় প্রধনামন্ত্রী বলেন, আসসালামু আলাইকুম, আমি শেখ হাসিনা। বিজয় দিবস উপলক্ষে আপনাকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। তিনি বলেন, আমাদের মহান নেতা, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে দীর্ঘ ২৪ বছরের সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। শেখ হাসিনা আরও বলেন, করোনাভাইরাস আমাদের জীবনের বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বাধাগ্রস্ত করেছে, কিন্তু তারপরও আমি আপনাকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি আপনাদের সকলকে স্বাস্থ্যনির্দেশনা মেনে বিজয় দিবস উদযাপনের আহ্বান জানাচ্ছি। তিনি আরও বলেন, আমরা এই দেশকে একটি উন্নত, ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত এবং অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশে পরিণত করার মাধ্যমে লাখ লাখ শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। বার্তাটির শেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী জানান, বিজয় দিবস উপলক্ষে ইতোমধ্যেই তারা প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা বার্তা প্রেরণ করা শুরু করেছেন এবং এটি ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে। তিনি আরও বলেন, মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর একত্রে অডিও বার্তা প্রেরণের সক্ষমতা নেই, যে কারণে এটা পর্যায়ক্রমে প্রেরণ করা হচ্ছে।
স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তির আস্ফালন রুখতে ঐক্যবদ্ধ থাকুন : তথ্যমন্ত্রী
১৪,ডিসেম্বর,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের সংস্কৃতির বিরোধী অপশক্তির বিরুদ্ধে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ থাকার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সোমবার সকালে দিবসটি উপলক্ষে রাজধানীর ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুস্পস্তবক অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের একথা বলেন। তথ্যমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের এই দিনে স্বাধীনতার ঠিক পূর্ব মুহূর্তে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যখন বুঝতে পেরেছিল বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করতে যাচ্ছে, তখন জাতিকে পঙ্গু করার হীন উদ্দেশ্যে সেদিন জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের হত্যা করা হয়েছিল। তাই যতদিন বাংলাদেশ থাকবে ইতিহাসের পাতায় এই দিনটি কালো দিন হিসেবেই থাকবে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, স্বাধীনতার প্রায় ৫০ বছর পরও সেদিন যারা বুদ্ধিজীবী হত্যার নীলনকশা এঁকেছিল, সেই জামায়াতে ইসলামী ও তাদের দোসর-অনুসারীরা এখনো ও বাংলাদেশে সক্রিয় উল্লেখ করে ড. হাছান বলেন, সেদিন যারা স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, যারা মুক্তিযোদ্ধাদের কাফের, ইসলামবিরোধী বলে ফতোয়া দিয়েছিল, তারাই আজকে ভাস্কর্য নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। জাতির স্বাধীনতার প্রায় ৫০ বছর পরও স্বাধীনতাবিরোধীদের এ ধরণের আস্ফালন মেনে নেয়া যায় না। তাই এদের বিরুদ্ধে আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। এসময় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বিষয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী আহমেদের মন্তব্য প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ সুস্থ হয়ে ফিরেছেন। এজন্য আমি মহান স্রষ্টার কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। কিন্তু উনি হাসপাতাল থেকে ফিরে এসেই দলীয় কার্যালয়ে গিয়ে যেভাবে আমাদের দলের সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আক্রমণ করেছেন, এতে মনে হচ্ছে আসলে উনি এখনো পুরোপুরি সুস্থ হন নাই। উনার আরো একটু চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে। এর পরপরই রাজধানীর রায়ের বাজার বধ্যভূমিতে পুস্পস্তবকবক অর্পণ শেষে এখনো দেশে স্বাধীনতাবিরোধীদের আস্ফালন কেন- সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের একটি বড় রাজনৈতিক দল বিএনপি যারা বেশ কয়েকবার রাষ্ট্র ক্ষমতা ছিল, তারা স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তিকে সহযোগিতা করছে। দলগতভাবে স্বাধীনতার বিরোধিতাকারী, বুদ্ধিজীবী হত্যার নীল নকশা প্রণয়নকারী, আলবদর বাহিনী গঠনকারী, নারী নির্যাতনের সাথে যুক্ত জামায়াতে ইসলামীকে জোটসঙ্গী করে রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়ার কারণেই এখনো স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি আস্ফালন করার অপচেষ্টা করে। ঐক্যবদ্ধভাবে এদের রুখতে হবে। সূত্র : বাসস
নূর হোসাইন কাসেমীর দাফন সম্পন্ন
১৪,ডিসেম্বর,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমীর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার (১৪ ডিসেম্বর) বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর তুরাগ এলাকায় আল্লামা কাসেমী প্রতিষ্ঠিত জামিয়া সুবহানিয়া মাহমুদনগর, ধউর, মাদরাসায় পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমীর প্রেস সচিব মুনীর আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে সকাল সোয়া ৯টায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে লাখো মানুষের উপস্থিতিতে তার জানাজা সম্পন্ন হয়। আল্লামা কাসেমীর ছোট ছেলে মুফতি জাবের কাসেমী তার বাবার জানাজা নামাজে ইমামতি করেন। জানাজায় শীর্ষ আলেমদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- দারুল উলুম দেওবন্দের শুরা সদস্য মাওলানা শফিকুল ইসলাম, মাওলানা মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী, সাবেক ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাস, জামায়াতে ইসলামের নায়েবে আমির অধ্যাপক মজিবুর রহমান, আমিরে হেফাজত আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী, বেফাক সভাপতি আল্লামা মাহমুদুল হাসান, শায়খ জিয়া উদ্দিন, মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক, মাওলানা আব্দুল হামিদ পীর সাহেব, মাওলানা নাজমুল হাসান, মাওলানা মাহফুজুল হক রাহমানিয়া, মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব, মাওলানা গোলাম মহিউদ্দিন ইকরাম, মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী, মাওলানা মামুনুল হক, মাওলানা খালিদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী, মাওলানা হাসান জামিল, আল্লামা কাসেমীর ছোট ভাই মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস ও মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজী, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমেদ আব্দুল কাদের প্রমুখ। রোববার (১৩ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে রাজধানীর গুলশানে ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী।
ফুলেল শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালন
১৪,ডিসেম্বর,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আপামর জনসাধারণ, রাজনৈতিক দল এবং বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুলেল শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালন করা হয়েছে। সোমবার (১৪ ডিসেম্বর) শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে রাজধানীর রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে সর্বস্তরের জনসাধারণ এ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। রায়েরবাজার বধ্যভূমি উম্মুক্ত করে দেওয়া হলে শীতের কুয়াশা উপেক্ষা করেই জনগণের ঢল নামে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য। সকাল থেকে দুপুর অবদি একটানা চলে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন। প্রথমেই রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। এরপর একে একে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, বাংলাদেশ যুবলীগ, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, বাংলাদেশ আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগ, বাংলাদেশ স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, শেখ হাসিনা পরিষদ, বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগ, জাতীয় শ্রমিক লীগ, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসর, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ, মুক্তিযোদ্ধা সংহতি পরিষদ, ঢাকা মহানগর উত্তর এবং দক্ষিণ আওয়ামী লীগ, বিভিন্ন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটসহ বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো। শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে শ্রদ্ধা জানাতে আসা জনসাধারণ, রাজনৈতিক দল এবং বিভিন্ন সংগঠন বাংলাদেশে মৌলবাদী, ধর্মান্ধ উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর আস্ফালন রুখে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
১৪,ডিসেম্বর,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। করোনা মহামারি পরিস্থিতির মধ্যে সোমবার (১৪ ডিসেম্বর) সকাল ৭টা ১০ মিনিটে রাজধানীর মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের পক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তাঁর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এস এম শামিম উজ জামান এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তাঁর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল নকিব আহমদ চৌধুরী। পৃথিবীর ইতিহাসের এক কালো অধ্যায় শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস নানা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে জাতি স্মরণ করছে একাত্তরে বিজয়ের ঠিক আগে প্রাণ হারানো জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের। পরাজয় নিশ্চিত জেনে ১৬ ডিসেম্বরের আগে বাঙালি বুদ্ধিজীবী নিধন বাংলাদেশের ইতিহাসে নৃশংসতম ও বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞ। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর নির্দেশনা ও মদদে একশ্রেণির দালালরা এ হত্যাযজ্ঞ সংঘটিত করে। পূর্ব পাকিস্তানে বাঙালি বুদ্ধিজীবীদের নিশ্চিহ্ন করার এ নীলনকশা প্রণয়ন করে পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নরের সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী। বুদ্ধিজীবীদের প্রকৃত সংখ্যা আজ পর্যন্ত গণনা করা হয়নি। ১৯৭২ সালে প্রকাশিত বাংলাদেশ শীর্ষক গ্রন্থ থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, এদের মধ্যে ৯৯১ জন ছিলেন শিক্ষাবিদ, ৪৯ জন চিকিৎসক, ৪২ জন আইনজীবী এবং ১৬ জন সাহিত্যিক, শিল্পী ও প্রকৌশলী। বুদ্ধিজীবী নিধনের এ তালিকায় ঢাকা বিভাগে ২০২ জন শিক্ষক ও ১০ জন আইনজীবীকে হত্যা করা হয়। চট্টগ্রাম বিভাগে ২২৪ জন শিক্ষক ও ১০ জন আইনজীবীকে হত্যা করা হয়। খুলনা বিভাগে ২৮০ জন শিক্ষক ও ছয়জন আইনজীবীকে হত্যা করা হয়। রাজশাহী বিভাগে ২৬২ জন শিক্ষক ও ১৫ জন আইনজীবীকে হত্যা করা হয়। তবে এ তালিকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নাম ছিল না। যাদের হত্যা করা হয়েছিল তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে ছিলেন এ এন এম মুনীর চৌধুরী, ড. জিসি দেব, মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী, আনোয়ার পাশা, ড. জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা, আবদুল মুকতাদির, এস এম রাশীদুল হাসান, ড. এন এম ফয়জুল মাহী, ফজলুর রহমান খান, এ এন এম মুনীরুজ্জামান, ড. সিরাজুল হক খান, ড. শাহাদাত আলী, ড. এম এ খায়ের, এ আর খান খাদিম, মো. সাদেক, শরাফত আলী, গিয়াসউদ্দিন আহমেদ, অনুদ্বৈপায়ন ভট্টাচার্য। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছিলেন অধ্যাপক মীর আবদুল কাইয়ুম, হাবিবর রহমান, সুখরঞ্জন সমাদ্দার, ড. আবুল কালাম আজাদ। সাংবাদিক ছিলেন সিরাজুদ্দীন হোসেন, শহীদুল্লাহ কায়সার, খোন্দকার আবু তালেব, নিজামুদ্দীন আহমদ, আ ন ম গোলাম মোস্তফা, শহীদ সাবের, শেখ আবদুল মান্নান (লাডু), সৈয়দ নাজমুল হক, এম আখতার, আবুল বাসার, চিশতী হেলালুর রহমান, শিবসদন চক্রবর্তী, সেলিনা পারভীন। এছাড়া শিল্পী ছিলেন আলতাফ মাহমুদ, সাহিত্যিক পূর্ণেন্দু দস্তিদার, মেহেরুন্নেসা, দানবীর রণদাপ্রসাদ সাহাসহ আরও অসংখ্য নাম।

জাতীয় পাতার আরো খবর