শনিবার, এপ্রিল ১৭, ২০২১
জাতির পিতার সম্মান রক্ষায় সরকারি কর্মকর্তাদের প্রতিজ্ঞা
১২,ডিসেম্বর,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সম্মান রক্ষায় প্রতিজ্ঞা করেছেন সরকারি কর্মকর্তারা। বঙ্গবন্ধুর কোনো রকমের অসম্মান হতে দেবেন না বলে জানিয়েছেন তারা। শনিবার সমাবেশের মাধ্যমে এই প্রতিজ্ঞা করেছেন বিসিএস ক্যাডার ও নন-ক্যাডার কর্মকর্তারা। জাতির পিতার সম্মান, রাখবো মোরা অম্লান এই স্লোগানে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সরকারি কর্মকর্তা ফোরামের আয়োজনে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। একই সঙ্গে সারা দেশের জেলা-উপজেলায় এই সমাবেশ করেন সরকারি কর্মকর্তারা। রাজধানীতে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউস বলেন, আমরা আমাদের জীবদ্দশায় জাতির পিতার প্রতি কোনো রকমের অন্যায় ও অসম্মান হতে দেব না, এটাই হলো আজকের অঙ্গীকার। আমরা জনগণের সেবক। সংবিধানে জাতির পিতা রয়েছেন। আমাদের দায়িত্ব সংবিধানকে সমুন্নত রাখা। আমরা যদি থাকি, তাহলে জাতির পিতার অবমূল্যায়ন হওয়ার সুযোগ নেই। আমরা সমগ্র জাতির কাছে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে এসেছি, এ রকম কোনো ঘটনা হতে দেব না। তিনি বলেন, জয়বাংলা শব্দটি মুক্তিযুদ্ধের। এখন থেকে শব্দটি ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনে সরকারের কাছে অনুমতি চাওয়া হবে বলে জানান তিনি। সমাবেশে বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও স্থানীয় সরকার বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সাংবিধানিকভাবে জাতির পিতা হিসেবে স্বীকৃত। বঙ্গবন্ধু ও স্বাধীনতা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। স্বাধীনতাবিরোধী চক্র এখনো এই মহান নেতাকে অস্বীকার করে যাচ্ছে। তারা হুংকার দিয়ে যাচ্ছে যে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণ করা যাবে না। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর ওপর কোনো রকমের আঘাত, কোনো অপমান মেনে নেয়া হবে না, সহ্য করা হবে না। সংবিধান ও রাষ্ট্রের ওপর আঘাত কঠোরভাবে মোকাবিলার ঘোষণা দিয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ বলেন, বঙ্গবন্ধু সংবিধানের অংশ। বঙ্গবন্ধু দেশ ও পতাকা দিয়েছেন, মানচিত্র দিয়েছেন। তার ওপর হামলা হলো সংবিধান ও রাষ্ট্রের ওপর হামলা, জনগণের ওপর হামলা। রাষ্ট্র অবশ্যই তার আইন-বিধির মাধ্যমে এটি কঠোর হস্তে মোকাবিলা করবে।
বুর্কিনা ফাসোর জাতীয় দিবসে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা
১২,ডিসেম্বর,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বুর্কিনা ফাসোর জাতীয় দিবস উপলক্ষে দেশটির প্রেসিডেন্ট রচ মার্ক ক্রিশ্চিয়ান কাবোরে ও প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফ জোসেফ মেরি দাবিরিকে শুভেচ্ছা বার্তা পাঠিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ অভিনন্দন বার্তায় বলেন, বাংলাদেশ ও বুর্কিনা ফাসো দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক উভয় পর্যায়ে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক উপভোগ করছে। তিনি তার দৃঢ়প্রত্যয় ব্যক্ত করেন যে, আগামী বছরগুলোতে বন্ধুপ্রতিম দুটি দেশের মধ্যে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আরও গতি অর্জন করবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বার্তায় বলেন, বাংলাদেশ ও বুর্কিনা ফাসোর মধ্যে পারস্পরিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে বন্ধুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বিরাজ করছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিদ্যমান সদিচ্ছা ও সমঝোতার বন্ধন আগামী দিনে দুই দেশের জনগণের অভিন্ন সমৃদ্ধির জন্য দুই সরকারের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে গভীরতা ও মাত্রায় আরও বৃদ্ধি পাবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী বুর্কিনা ফাসোর প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর সুস্বাস্থ্য, সুখ এবং দীর্ঘজীবন এবং সেদেশের বন্ধুভাবাপন্ন জনগণের দীর্ঘস্থায়ী শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করেছেন।
সপ্তাহ পেরোলেই আসতে পারে শৈত্যপ্রবাহ
১১ডিসেম্বর,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দেশে শৈত্যপ্রবাহ বইছে না। অথচ রাজধানীসহ সারাদেশে বেড়েছে শীতের অনুভূতি। মূলত দিনের তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় শীত বেড়েছে। আগামী চার-পাঁচদিন এমনই থাকবে। এর পর ৭-৮ দিনের মধ্যে শৈত্যপ্রবাহ আসতে পারে। আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সারাদেশে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা একদম নিচে নেমে এসেছে। বৃহস্পতিবার সিরাজগঞ্জের তাড়াশে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ১৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শুধু তাই নয়, দেশের মাত্র ৫টি অঞ্চল বাদে সারাদেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ১৯ থেকে ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে। আর বেশিরভাগ অঞ্চলের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ১৯ থেকে ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে। আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক বলেন, সারাদেশেই শীতের অনুভূতি বেড়েছে। সূর্যের আলো পড়ছে না, দিনের বেলা তাপমাত্রা খুব কম থাকছে এ কারণে শীতের অনুভূতি বেড়েছে। শীত কিন্তু এখনও শুরু হয়নি। ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে তাপমাত্রা আসলে শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়। শৈত্যপ্রবাহ না বইলেও শীতের অনুভূতি বেড়ে গেছে। তিনি আরও বলেন, আগামী ১৭ থেকে ১৮ ডিসেম্বরের মধ্যে শৈত্যপ্রবাহ চলে আসতে পারে। এদিকে আরও চার-পাঁচ দিন এ অবস্থাই থাকতে পারে। এর মধ্যে দেশের পশ্চিমাঞ্চলে হালকা বৃষ্টিরও সম্ভাবনা রয়েছে। সবমিলিয়ে শীতের অনুভূতি আরও বাড়তে পারে। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা কমলেও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা খুব একটা কমেনি। ফলে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার পার্থক্য কমে এসেছে। যেমন ঢাকায় আজ সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ১৭ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং গতকাল সূর্য উঠলেও সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছিল ২৩ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অর্থাৎ, ঢাকায় সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার মধ্যে পার্থক্য মাত্র ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজকে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে সীতাকুণ্ডে ১৪ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছিল টেকনাফে, ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিকে শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে দুপুর পর্যন্ত সারাদেশের নদী অববাহিকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা থাকতে পারে এবং অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা থাকতে পারে। সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
জাতীয় পরিষদ সদস্য দেলওয়ার হোসেনের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক
১১ডিসেম্বর,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দলের জাতীয় পরিষদ সদস্য দেলওয়ার হোসেন তালুকদারের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। আজ এক শোক বার্তায় তিনি মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনা এবং তার শোক-সন্তপ্ত পরিবার-পরিজন, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। উল্লেখ্য, দেলওয়ার হোসেন তালুকদার বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২ টা ৩০ মিনিটে নিজ বাসভবনে ইন্তেকাল করেন (ইন্না... রাজিউন)। তার বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর। তিনি স্ত্রী, ১ ছেলে, ২ মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন, সহকর্মী, গুণগ্রাহী ও শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন।
প্রযুক্তিখাতে বিশ্বে জায়গা করে নেবে বাংলাদেশ: জয়
১১ডিসেম্বর,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: শুধু প্রযুক্তির ব্যবহার নয় বরং এর উৎপাদনেও বাংলাদেশ এগিয়ে থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক (আইসিটি) উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। এর জন্য গবেষণার ওপর নজর দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। বৃহস্পতিবার (১০ ডিসেম্বর) চলমান ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড-২০২০ এর দ্বিতীয় দিনে মিনিস্ট্রিয়াল কনফারেন্সে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে যোগ দেন সজীব ওয়াজেদ জয়। কনফারেন্সে কী-নোট স্পিকার এবং প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা। সজীব ওয়াজেদ বলেন, আমরা চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সেন্টার অব এক্সিলেন্স তৈরি করছি। নজর দেওয়া হচ্ছে গবেষণার ওপর। অন্যদের কাছ থেকে প্রযুক্তি নিয়ে ব্যবহার করার জন্য নয়। আমরা ভবিষ্যত প্রযুক্তিখাতে বিশ্বে নেতৃত্ব দিতে চাই। আর সেই প্রযুক্তি তৈরি হবে দেশেই। এটা স্বপ্ন নয়, এটাই হবে বাস্তবতা। ভবিষ্যতের বড় বড় প্রযুক্তির কিছু কিছু বাংলাদেশ থেকেই তৈরি হবে। তেমন পরিকল্পনা নিয়েই এগোচ্ছে বাংলাদেশ। গত এক দশক ধরে বাংলাদেশে ডিজিটাল রূপান্তরে নেওয়া নানা উদ্যোগ ও তার সুফল কীভাবে দেশ ও দেশের মানুষ পাচ্ছে তাও উঠে আসে এম্ব্রেসিং ডিজিটাল টেকনোলজিস ইন দ্য নিউ নরমাল শীর্ষক এই কনফারেন্সে। এ বিষয়ে নিজ বক্তব্যে ভবিষ্যৎ দিক নির্দেশনা তুলে ধরেন আইসিটি উপদেষ্টা। যেসব দেশ বাংলাদেশ থেকে ডিজিটাল রূপান্তরের দীক্ষা নিচ্ছে তাদেরকে নিয়েই ভবিষ্যত প্রযুক্তি বিশ্বে নেতৃত্বে দেওয়ার অঙ্গীকার করেন তিনি। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের সভাপতিত্বে ডিজিটাল প্লাটফর্মে যুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখেন শ্রীলঙ্কার মিনিস্ট্রি অব টেকনলোজি সেক্রেটারি জয়ন্ত ডি সিলভা, মালদ্বীপের কমিউনিকেশন, সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজির মিনিস্টার মোহাম্মদ মালেহ জামাল, নেপালের ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব অনিল কুমার সাহা, উইটসার সেক্রেটারি জেনারেল ড. জেমস পয়জন্ট। নওশের রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে সংযুক্ত ছিলেন, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর, ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) সভাপতি শমী কায়সার, বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির (বিসিএস) সভাপতি শাহিদ-উল-মুনীর, বাক্কো সভাপতি ওয়াহিদুর রহমান শরিফ, আইসিটি বিভাগের সিনিয়র সচিব এনএম জিয়াউল আলম। ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড-২০২০ এর তিন দিনব্যাপী আয়োজনের বৃহস্পতিবার ছিলো দ্বিতীয় দিন। শুক্রবার (১১ ডিসেম্বর) বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হবে এই আয়োজন। এবারের আসরের প্ল্যাটিনাম স্পন্সর দেশীয় ই-কমার্স মার্কেটপ্লেস ইভ্যালি ডট কম ডট বিডি।
বাংলাদেশ বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছে, আমরাও পারি: ওবায়দুল কাদের
১০ডিসেম্বর,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দক্ষ ও বিচক্ষণ নেতৃত্বে শত বাধা অতিক্রম করে পদ্মা সেতু আজ দৃশ্যমান। তিনি বলেন, একজন মানবিক ও সাহসী নেতৃত্বের কারণেই সব অসম্ভবকে সম্ভব করে বাংলাদেশ আজ বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছে আমরাও পারি। বৃহস্পতিবার সকালে জয়পুরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যের শেষে পদ্মা সেতু বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি তার সরকারি বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সম্মেলনে যুক্ত হন। বিশ্বকে অবাক করে দিয়ে নিজস্ব অর্থায়নে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ স্বপ্নের পদ্মা সেতুর সর্বশেষ স্প্যান বৃহস্পতিবার (১০ ডিসেম্বর) ১২টা ২ মিনিটে বসানো হয়।
ভাস্কর্য নিয়ে যারা বিতর্ক সৃষ্টি করতে চায় তারা লেখাপড়া জানেনা: তোফায়েল আহমেদ
১০ডিসেম্বর,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, যারা ভাস্কর্য নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করতে চায়, তারা লেখাপড়া জানেনা। পৃথিবীর বহু মুসলিম দেশে ভাস্কর্য আছে। আজকে ভাস্কর্য নিয়ে রাজনীতি শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ ডিসেম্বর) দুপুরে ভোলা জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের উদ্বোধন ও জেলার মডেল মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা প্রশাসন ও গণপূর্ত বিভাগ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। তোফায়েল আহমেদ বলেন, পৃথিবীর প্রথম বৃহত্তম মুসলিম রাষ্ট্র ইন্দোনেশিয়ায় তাদের জাতির পিতার ভাস্কর্য রয়েছে। আমাদের মহানবীর জন্মস্থান সৌদী আরবে আছে মুষ্টিবদ্ধ হাত এবং ঘোড়ার ছবি। ইরানে বিখ্যাত কবি ওমর খৈআম, ফেরদৌসের ভাস্কর্য রয়েছে। ইরাকে আলীবাবা চল্লিশ চোর এর বুদ্ধীমতী নারী মর্জিনা তারও ভাস্কর্য আছে। তিনি বলেন, মলেশিয়ায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে যারা শহীদ হয়েছে তাদের নিয়ে আছে ন্যাশনাল মনুমেন্ট। তুরস্কের বর্তমান প্রেসিডেন্টের নামে ভাস্কর্য রয়েছে। তিউনেশিয়ায়ও ভাস্কর্য আছে। বাংলাদেশেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক আগে থেকেই ভাস্কর্য আছে। তারপরেও ভাস্কর্য নিয়ে কেন বিতর্ক প্রশ্ন রাখেন তিনি। প্রবীণ এই আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, বাংলার মাটি ও মানুষ থাকবে, ততদিন জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালীর জাতির হৃদয়ের মনিকোঠায় বিরাজ করবেন। আজকে মাদ্রাসায় যারা পড়ান সেখানেও তারা অন্যায় কাজ করে, কিন্তু সেগুলো নিয়ে সোচ্চার হয়না। সোচ্চার হয় ভাস্কর্য নিয়ে। সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, বিজয়ের আনন্দ ক্ষণস্থায়ী, পরাজয়ের গ্লানি চীরস্থায়ী। ৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর আমরা বিজয় লাভ করেছি। কিন্তু আমরা তা ভুলে গেছি। আর যারা পরাজিত তারা কিন্তু ভোলেনি। তারা ওৎ পেতে আছে। যার কারণে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে, নিস্পাপ রাসেলকেও হত্যা করেছে। যাতে বঙ্গবন্ধুর রক্তের কেউ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হতে না পারে। বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ এই সহচর বলেন, সেদিন জাতির পিতার দুইকন্যা দেশের বাইরে থাকায় তারা বেঁচে যান। আমরা তাঁর কন্যার হাতে আওয়ামী লীগের পতাকা তুলে দিয়েছি। সেই পতাকা হাতে নিয়ে জেল, জুলুম, অত্যাচার, নির্যাতন সহ্য করে বার বার মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েও নিষ্ঠার সাথে আপোষহীনভাবে বাংলাদেশকে পরিচালনা করে পৃথিবীর মধ্যে একটি গর্বিত জাতিতে পরিনত করেছেন। তোফয়েল বলেন, জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে ক্ষমতায় এসে রাষ্ট্রীয় নীতিকে তছনছ করেছে। বাঙালী জাতীয়তাবাদকে বাংলাদেশীয় জাতীয়তাবাদ করেছে। ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ ছিলো, তিনি ধর্মভিত্তিক রাজনীতি দিয়েছে। তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিরলস পরিশ্রম করে চলছেন। তার নেতৃত্বে এই করোনাকালেও আমরাও এশিয়ার মধ্যে এগিয়ে রয়েছি। ভারতের চেয়ে আমাদের মাথাপিছু আয় বেশি। মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিনদেরও তিনি সাহায্য করছেন। গরীব দুখী মানুষ যাতে দু’বেলা খেতে পারেন সে ব্যবস্থাও প্রধানমন্ত্রী করেছেন। ব্যবসায়ীরা যাতে আর্থিকভাবে সহায়তা পায় সেই ব্যবস্থাও করেছেন। জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের হলরুমে অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মো. মাসুদ আলম ছিদ্দিকের সভাপতিত্বে আরো বক্তৃতা করেন- জেলা পুলিশ সুপার সরকার মো. কায়সার, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল মমিন টুলু, সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মোশারেফ হোসেন, জেলা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী কাজী শরিফউদ্দিন আহমেদ।
আগামী বছরের মধ্যেই বৈষম্য বিলোপ আইন : আইনমন্ত্রী
১০ডিসেম্বর,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আগামী বছরের (২০২১) মধ্যেই বৈষম্য বিলোপ আইন করা হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক। বিশ্ব মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১০ ডিসেম্বর) ভার্চুয়াল সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ কথা জানান। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের উদ্যোগে এ ভার্চুয়াল সভার আয়োজন করা হয়। এবার দিবসের প্রতিপাদ্য- ঘুরে দাঁড়াবো আবার, সবার জন্য মানবাধিকার। আইনমন্ত্রী বলেন, বৈষম্য বিলোপ আইন আগামী বছর আইন হিসেবে রূপান্তরিত হবে দেখতে পাবেন। আমি আপনাদের কথা দিতে পারি, কারণ এটা শেষ ধাপে এসেছে। আগামী বছর লেজিসলেটিভ ফর্মালিটিজগুলো সম্পন্ন করার বছর। আমি ওই বছরই লেজিসলেটিভ ফর্মালিটিজগুলো কমপ্লিট করে দেব। সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সব বৈষম্য বিলোপে বেশ আগে একটি আইনের খসড়া করা হলেও সেটি আলোর মুখ দেখেছি। আনিসুল হক বলেন, বাংলাদেশ সরকার মানবাধিকারের মূল্যবোধগুলো অত্যন্ত নিবিড়ভাবে উপলব্ধি করে ধারণ করে। আমরা মানবাধিকার নিয়ে গতানুগতিকভাবে যেভাবে চিন্তা করছিলাম করোনাভাইরাস আজকে সেই গতানুগতিক চিন্তাধারা বদলে দিয়েছে। সেজন্যই মনে হয়, ঘুরে দাঁড়াবো আবার, সবার জন্য মানবাধিকার স্লোগান আবিষ্কৃত হয়েছে। তিনি বলেন, মানবাধিকারের লঙ্ঘনগুলো আমরা দেখছি সারা বিশ্বে কোভিড-১৯ পরিস্থিতির মধ্যে হচ্ছে। সেগুলোর পুনরাবৃত্তি যাতে না হয় সেই ব্যবস্থা করতে হবে।
মানবাধিকার সুরক্ষায় সচেতনতা সৃষ্টিতে একযোগে কাজ করার আহবান প্রধানমন্ত্রীর
১০ডিসেম্বর,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সবার মধ্যে মানবাধিকার সুরক্ষায় সচেতনতা সৃষ্টিতে একযোগে কাজ করার উপর গুরুত্বারোপ করে সবাইকে আরো কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সকলের মধ্যে মানবাধিকার সুরক্ষায় সচেতনতা সৃষ্টিতে একযোগে কাজ করে আমরা জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত-সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সমর্থ হবো, ইনশাআল্লাহ। প্রধানমন্ত্রী কোভিড-১৯ মোকাবিলায় মানবাধিকার সুরক্ষার লক্ষ্যে সরকারের পাশাপাশি মানবাধিকার সুরক্ষার কাজে নিয়োজিত জাতীয় মানবাধিকার কমিশনসহ সকল সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম, মালিক ও শ্রমিক সংগঠনসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরো কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। শেখ হাসিনা আগামীকাল মানবাধিকার দিবস ২০২০ পালন উপলক্ষ্যে আজ দেয়া এক বাণীতে এ আহবান জানিয়ে বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের উদ্যোগে মানবাধিকার দিবস পালন করা হচ্ছে জেনে তিনি আনন্দিত। এছাড়াও মানবাধিকার দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য ঘুরে দাঁড়াবো আবার, সবার জন্য মানবাধিকার করোনা মহামারির এই সময়ে অত্যন্ত সময়োপযোগী হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার দেশের জনগণের মানবাধিকার সুরক্ষায় বদ্ধপরিকর। মানবাধিকার উন্নয়ন ও সুরক্ষার অঙ্গীকার বাস্তবায়নকল্পে সরকার ২০০৯ সালে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন প্রণয়ন করে। ইতোমধ্যে কমিশনকে শক্তিশালী করার জন্য জনবল ও বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধি করাসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমানে কমিশন স্বাধীন এবং নিরপেক্ষভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বাংলাদেশ তিনবার জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের সদস্য পদে নির্বাচিত হয়েছে। এছাড়া আমাদের সরকার মানবাধিকার সুরক্ষার লক্ষ্যে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কনভেনশনে স্বাক্ষর ও অনুসমর্থন করেছে। আমরা বিশ্ব মানবতার দিকে লক্ষ্য রেখে মিয়ানমারে নির্যাতিত হয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছি। নিরাপত্তাসহ তাদের জীবন ধারনের জন্য প্রয়োজনীয় সকল সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। এবারের মানবাধিকার দিবস এক ভিন্ন প্রেক্ষাপটে উদ্যাপিত হচ্ছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে গোটা বিশ্ব এখন বিপর্যস্ত। করোনা মোকাবিলার সকল প্রচেষ্টার মূল কেন্দ্রবিন্দু মানবাধিকার সুরক্ষা এই প্রত্যয় নিয়ে আমরা আমাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি, করোনা মোকাবিলা ও সকলের সমঅধিকার প্রতিষ্ঠিত করতে গিয়ে চিহ্নিত সীমাবদ্ধতাগুলোকে জয় করার মাধ্যমে আমরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারব। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সারাজীবন শোষিত-বঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য সংগ্রাম করেছেন। মানবাধিকারের প্রতি তাঁর অঙ্গীকার ছিল অবিচল। শৈশব থেকে আমৃত্যু তিনি মানবাধিকারের প্রতি নিবেদিত ছিলেন। মানুষের রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য বারবার কারাবরণ করেছেন। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব চেয়েছিলেন শোষণ ও বঞ্চনামুক্ত বাংলাদেশ গড়তে যেখানে প্রতিটি মানুষ মানবিক মর্যাদা, সাম্য ও ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তা লাভ করবে। আমাদের স্বাধীনতা অর্জনের পর মাত্র দশ মাসের মধ্যে জাতির পিতা যে সংবিধান উপহার দিয়েছিলেন, সেই সংবিধানে ১৯৪৮ সালে জাতিসংঘ ঘোষিত ৩০টি অনুচ্ছেদ সংবলিত সর্বজনীন মানবাধিকার দর্শনের পুরোপুরি প্রতিফলন রয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে এবারের মানবাধিকার দিবসে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন সারা দেশে বঙ্গবন্ধু ও মানবাধিকার শীর্ষক রচনা প্রতিযোগিতা আয়োজন করেছে জেনে তিনি আনন্দিত। প্রধানমন্ত্রী মনে করেন, কমিশনের এই উদ্যোগের ফলে তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকসহ মাঠ প্রশাসনে কর্মরত সকলের মধ্যে বঙ্গবন্ধুর মানবাধিকার দর্শন সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে। তিনি মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সকল কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।- বাসস

জাতীয় পাতার আরো খবর