বাংলাদেশ-ভুটান অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি সই
০৬ডিসেম্বর,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দ্বিপাক্ষিক অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ) সই করেছে বাংলাদেশ ও ভুটান। রোববার (৬ ডিসেম্বর) বাংলাদেশকে ভুটানের স্বাধীনতার স্বীকৃতি দেওয়ার ঐতিহাসিক দিনে এই অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি সই হয়। ভার্চ্যুয়াল এ অনুষ্ঠানে নিজ নিজ দেশের পক্ষে চুক্তিপত্রে সই করেন বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি ও ভুটানের অর্থ-বাণিজ্যমন্ত্রী লোকনাথ শর্মা। চুক্তি সই অনুষ্ঠানে গণভবন প্রান্ত থেকে ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভুটান প্রান্ত থেকে দেশটির প্রধানমন্ত্রী লোটে শেরিং সংযুক্ত ছিলেন। চুক্তি সইয়ের পর দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যেকার সম্পর্কের আরও উন্নতি এবং ব্যবসা-বাণিজ্যসহ পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করেন। তারা দুই দেশের ঐতিহাসিক ও বিদ্যমান সুসম্পর্কের কথা তুলে ধরেন। বাংলাদেশ-ভুটানের মধ্যে এই চুক্তি সইয়ের ফলে বাংলাদেশের ১০০টি পণ্য ভুটানে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে। আর ভুটানের ৩৪টি পণ্য বাংলাদেশে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার সুবিধা পাবে। পরবর্তীতে আলোচনার মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে পণ্য সংখ্যা বাড়ানো হবে। বাংলাদেশ-ভুটানের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ধীরে ধীরে বাড়ছে। ২০১২-১৩ অর্থবছরে দুই দেশের বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ২৬ দশমিক ৫২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। আর ২০১৮-১৯ অর্থবছরে তা থেকে বেড়ে ৫৭ দশমিক ৯০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়। ভুটানে বাংলাদেশে তৈরি পোশাক, খাদ্যসামগ্রী, প্লাস্টিক, ওষুধ, গৃহসজ্জাসামগ্রী, ইলেকট্রিক্যাল সামগ্রী রপ্তানি করে থাকে। আর ভুটান থেকে বোল্ডার পাথর, সবজি-ফলমূল, নির্মাণসামগ্রী, কেমিক্যালস ইত্যাদি পণ্য আমদানি করে বাংলাদেশ। ১৯৭১ সালে ৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশকে স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ হিসাবে প্রথম স্বীকৃতি দেয় ভুটান। ঐতিহাসিক দিনটি সামনে রেখে ৬ ডিসেম্বর চুক্তি সই হয়। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন, ভুটানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. টান্ডি দর্জি, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান, বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিমসহ দুই দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী এবং সরকারের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাণিজ্য সচিব ড. মো. জাফর উদ্দীন। অনুষ্ঠানে আরও জানানো হয়, বাংলাদেশ ২০২৪ সালে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নত হবে। ফলে উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশ থেকে স্বল্পোন্নত দেশ হিসাবে বর্তমান প্রাপ্ত বাংলাদেশের কিছু বাণিজ্য সুবিধা লোপ পাবে। বর্ণিত প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকারের অঙ্গীকার ও নির্দেশনার ভিত্তিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বিশ্ববাণিজ্যে বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব বাড়ানোর কার্যক্রম নিয়েছে। এসব কার্যক্রমের মধ্যে থাকছে- বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বিদ্যমান চুক্তিসমূহ সময়োপযোগী করা, পিটিএ এবং এফটিএ সস্পাদন। বাংলাদেশ বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) সদস্য। ডব্লিউটিও বিধি-বিধান মেনে বাংলাদেশ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক প্রিফারেন্টাল ট্রেড এগ্রিমেন্ট (পিটিএ) আলোচন/নেগোশিয়েশন অব্যাহত রেখেছে। তারই ধারাবাহিকতায় ২২-২৩ আগস্ট ২০১৯ সালে ভুটানের সঙ্গে থিম্পুতে পিটিএ নেগোশিয়েশন কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। গত ১৬ জুন ২০২০ ভিডিও কনফারেলিংয়ের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় সভায় খসড়া পিটিএ চুক্তি ও এর সঙ্গে সংযুক্ত রুলস অব ডিটারমিনেশন অব ওরজিন (আরও) নিজ নিজ দেশের অনুমোদনের পর সইয়ের জন্য চূড়ান্ত করা হয়। বিধি মোতাবেক চুক্তিটি সইয়ের পর ডব্লিটিওতে নোটিফাই করা হবে। ২০০৮-০৯ অর্থ বছরে বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে মোট বাণিজ্য ছিল ১২ দশমিক ৭৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। বাংলাদেশ শূন্য দশমিক ৬১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য রপ্তানি করে ও একই সময়ে আমদানি করে ১২ দশমিক ১৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দুই দেশের বাণিজ্য ৫৭ দশমিক ৪৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়। এ সময় বাংলাদেশ রপ্তানি করে ৭ দশমিক ৫৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য, একই সময়ে ভুটান থেকে আমদানি হয় ৪৯ দশমিক ৯০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য।
ফতোয়া দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে অপশক্তিরা: তথ্যমন্ত্রী
০৬ডিসেম্বর,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যকে যারা অবমাননা করেছে তাদেরকে খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা জনগণের দাবি বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী ডক্টর হাছান মাহমুদ। রোববার (৬ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট আয়োজিত গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুবার্ষিকীর এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। এ সময় মন্ত্রী বলেন, জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানোর জন্য ভাস্কর্য নিয়ে বিরূপ বক্তব্য দেয়া হচ্ছে। এ সমস্ত বক্তব্য দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করা যাবে না। মন্ত্রী আরও বলেন, অপশক্তিদের অনুসারীরা নানা ধরনের ফতোয়া দিচ্ছে, বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। ভাস্কর্য আর মূর্তিকে এক করে ফেলছে অপশক্তিরা। দেশে সাম্প্রদায়িক বিষ-বাষ্প ছড়াতে দেওয়া হবে না।
বাংলাদেশে খাদ্য ও কৃষি সংস্থায় লোক নেবে জাতিসংঘ
০৬ডিসেম্বর,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) লোক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। এফএওর বাংলাদেশে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পে নিয়োগের জন্য এ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। যোগ্যতা অনুযায়ী আবেদন করতে পারবেন যে কেউ। পদগুলো হলো- ফিল্ড ফ্যাসিলিটেটর, টেকনিক্যাল কো-অর্ডিনেটর, ন্যাশনাল প্রজেক্ট পারসোনাল, মার্কেট ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েট, মার্কেট ডেভেলপমেন্ট স্পেশালিস্ট, মনিটরিং, ইভ্যালুয়েশন, অ্যাকাউন্টেবিলিটি অ্যান্ড লার্নিং (এমইএএল) অ্যাসোসিয়েট, অ্যাকুয়াকালচার অ্যান্ড ফিশ প্রসেসিং অ্যান্ড প্রডাক্ট ডেভেলপমেন্ট স্পেশালিস্ট, হর্টিকালচার/এগ্রোনমি স্পেশালিস্ট। প্রার্থীরা এফএও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত পদগুলোতে আবেদন করতে পারবেন।
ডিএমপির অভিযানে মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার ৪৮
০৬ডিসেম্বর,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: রাজধানীতে অভিযান চালিয়ে মাদকদ্রব্যসহ ৪৮ জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বিভিন্ন থানা ও গোয়েন্দা বিভাগ। গ্রেফতারকৃত প্রত্যেকে মাদক বিক্রি ও সেবনের দায়ে অভিযুক্ত। শনিবার (৫ ডিসেম্বর) সকাল ৬টা থেকে রোববার (৬ ডিসেম্বর) সকাল ৬টা পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতারসহ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে দুই হাজার ৭৮১ পিস ইয়াবা, ১৪৫.৫ গ্রাম ৫১ পুরিয়া হেরোইন, তিন কেজি ৫৭৫ গ্রাম গাঁজা, ২৫ বোতল ফেনসিডিল ও পাঁচ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ৩৫টি মামলা রুজু হয়েছে।
ভাস্কর্য ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন ওলামারা
০৫ডিসেম্বর,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ভাস্কর্য ইস্যুতে চলমান অস্থিরতার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন বলে এক বৈঠকে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আলেম-ওলামারা। দেশের কওমি মাদ্রাসাগুলোর শিক্ষা বোর্ড বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের (বেফাক) ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, আল হাইয়াতুল উলিয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আল্লামা মাহমুদুল হাসানের সভাপতিত্বে শনিবার রাজধানীর যাত্রাবাড়ী মাদরাসায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, আল্লামা মাহমুদুল হাসান দামাত বারাকাতুহুর নেতৃত্বে উলামায়ে কেরামের একটি প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে চলমান সংকট নিরসনে নিজেদের দাবি ও অবস্থান তুলে ধরবেন। আলেম-ওলামাদের করণীয় নির্ধারণের বৈঠকে সিদ্ধান্তের বিষয়ে হেফাজতে ইসলামের ঢাকা মহানগর প্রচার সেলের সমন্বয়ক মাওলানা ওয়ালী উল্লাহ আরমান বলেন, আজকের বৈঠকের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। সব মত ও চিন্তার ওলামারা এক টেবিলে বসেছিলেন। বৈঠক থেকে খুবই উপযুক্ত, বুদ্ধিদীপ্ত সিদ্ধান্ত ও পরামর্শ এসেছে। তিনি জানান, শীর্ষ ওলামাদের বৈঠকে ২টি সিদ্ধান্ত এবং ৫টি প্রস্তাবনা পেশ করা হয়েছে। সিদ্ধান্ত দুটি হলো- আল্লামা মাহমুদুল হাসান প্রধানমন্ত্রীর কাছে দেশের ওলামায়ে কেরামের পক্ষ থেকে একটি চিঠি পাঠাবেন। যাতে ভাস্কর্য বিষয়ে ওলামাদের বক্তব্য ও আহ্বান তুলে ধরা হবে। দ্বিতীয়ত, আল্লামা মাহমুদুল হাসানের নেতৃত্বে উলামায়ে কেরামের একটি প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে চলমান সংকট নিরসনে নিজেদের দাবি ও অবস্থান তুলে ধরবেন। বৈঠকে সরকারের প্রতি পাঁচ প্রস্তাব হলো- জীবিত বা মৃতের মানবাকৃতির মূর্তি বা ভাস্কর্য নির্মাণ হারাম। তাই এহেন কাজ করে কোটি মুসলমানদের ক;লিজায় আঘাত না দিয়ে বিকল্প চিন্তা করতে সরকারের প্রতি প্রস্তাব। # অনলাইন ও অফলাইনে নবীর অবমাননা বিষয়ে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও কঠিন শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান। # ধোলাইপাড়ে বন্ধ করে দেওয়া মসজিদ চালু করতে হবে এবং বিগত ঈমানি আন্দোলনে গ্রেফতারদের নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে। # শব্দ দূষণের মনগড়া অজুহাতে মাহফিল নিষিদ্ধ করার ষড়যন্ত্র বন্ধ করতে হবে। # উম্মতের দ্বিন ঈমান, দেশ ও জাতির রাহবার ওলামাদের সম্পর্কে কটূক্তি ও বিষোদগার বন্ধ করতে হবে। বৈঠকে শীর্ষ আলেমদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- আল্লামা নুরুল ইসলাম জিহাদী, মাওলানা আতাউল্লাহ হাফেজ্জী, মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাস, আল্লামা শায়খ সাজিদুর রহমান, আল্লামা মুহিব্বুল হক গাছবাড়ী, মুফতি মনসুরুল হক, মুফতি মুবারকুল্লাহ, মুফতি রুহুল আমীন, মুফতি রশিদুর রহমান ফারুক, মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস, মুফতি জাফর আহমদ, মুফতি আরশাদ রাহমানী, মাওলানা মাহফুজুল হক। এছাড়াও মাওলানা মামুনুল হক, মুফতি ফয়জুল করিম, মাওলানা বাহাউদ্দীন যাকারিয়া, মুফতি মিজানুর রহমান সাঈদ, মাওলানা মুসলেহ উদ্দিন রাজু, মুফতি মুহাম্মদ আলী, মাওলানা কেফায়েতুল্লাহ আজহারী, মাওলানা খালিদ সাইফুল্লাহ্ আইয়ুবী, মাওলানা হাসান জামিল, মাওলানা নাজমুল হাসান, মুফতি আব্দুল্লাহ ইয়াহইয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙার প্রতিবাদে সারা দেশে বিক্ষোভ-মানববন্ধন
০৫ডিসেম্বর,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: কুষ্টিয়ায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙার প্রতিবাদে রাজধানীর মতো সারা দেশে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। এ সময় সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান বক্তারা। সেইসঙ্গে দোষীদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনারও দাবি তোলেন প্রতিবাদকারীরা। সন্ধ্যা গড়াতেই জয়দেবপুর বাস স্ট্যান্ড এলাকায় এভাবেই মশাল হাতে বিক্ষোভ মিছিলে কুষ্টিয়ায় বঙ্গবন্ধুর নির্মাণাধীন ভাস্কর্য ভাঙচুরের প্রতিবাদে স্লোগান দেন গাজীপুর মহানগর যুবলীগের নেতাকর্মীরা। এ সময় অবিলম্বে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় জড়িত ও ইন্ধনদাতাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা। একই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে, রংপুরে সন্ধ্যায় জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় থেকে নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে বের হয়। ধর্মের অপব্যাখ্যাকারীরা এঘটনার সঙ্গে জড়িত উল্লেখ করে অবিলম্বে তাদের গ্রেফতারের দাবি জানান। পরে জাহাজ কোম্পানি মোড়ে গিয়ে সড়ক অবরোধ করে আন্দোলনকারীরা। প্রায় এক ঘণ্টা পর অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। অন্যদিকে, ঝিনাইদহে জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে শনিবার সন্ধ্যায় বিশাল একটি বিক্ষোভ মিছিল শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা ভাস্কর্য ভাঙচুরকারীরা দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে উল্লেখ করে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানান। একই প্রতিবাদে বরিশাল, রাজশাহী, নেত্রকোনা, মাদারীপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেন বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।
ফয়জুল-মামুনুলের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করার ঘোষণা
০৫ডিসেম্বর,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ভাস্কর্যবিরোধী বক্তব্যের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে অবমাননার অভিযোগে হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমির ফয়জুল করিমের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করার ঘোষণা দিয়েছে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে মঞ্চের নেতারা এ ঘোষণা দেন। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. আল মামুন বলেন, কিছুদিন আগে মৌলবাদী অপশক্তি মামুনুল হক ও ফয়জুল করিম কর্তৃক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ভেঙে বুড়িগঙ্গা নদীতে ফেলে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। দেশের সংবিধান ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী বক্তব্যের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। একই সাথে তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। তিনি বলেন, ভাস্কর্যের বিরোধিতার নামে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে কটাক্ষ ও অবমাননা করে মামুনুল গংরা প্রকাশ্যে বড় বড় গলায় কথা বলছে। মৌলবাদী অপশক্তিরা ধর্মের দোহাই দিয়ে ভাস্কর্য নিষিদ্ধ বলে মানুষের মাঝে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। এরা ভাস্কর্য ও মূর্তির পার্থক্যের অপব্যাখ্যা দিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে। তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ না নিলে আমরা দেশ ও জাতির সমূহ বিপর্যয়ের আশঙ্কা প্রকাশ করছি। মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির সহ-সভাপতি কামরুজ্জামান রাজু, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সনেট মাহমুদ, ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার সভাপতি মিলন ঢালী, সাধারণ সম্পাদক দ্বীন ইসলাম বাপ্পী। সূত্র: কালের কণ্ঠ
ডিসেম্বর নাগাদ মেট্রোরেলের ৩ সেট কোচ নির্মাণ সম্পন্ন হবে
০৫ডিসেম্বর,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: জাপানে ডিসেম্বরের মধ্যে মেট্রো-ট্রেনের আরো তিন সেট যাত্রীবাহী কোচের নির্মাণ সম্পন্ন হবে। সেপ্টেম্বরে দুই সেট কোচ নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। ঢাকা ম্যাস Rapid ট্রানজিট লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমএএন সিদ্দিক বলেন, সেপ্টেম্বর মাসে জাপানের ওসাকার কারখানায় মেট্রো ট্রেনের আরো দুই সেট কোচের নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। আরো তিনটি সেট তৈরীর কাজ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, মেট্রো রেলটি ৪০ মিনিটেরও কম সময়ে ২০ কিলোমিটারের পুরো রুট ভ্রমণ করতে পারবে। এ রুটে ৬০ হাজার যাত্রী ঘন্টায় যাতায়াত করতে পারবে। প্রতিটি ট্রেনের ছয়টি কোচের মধ্যে একটি কোচ নারীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। তবে ট্রেনের অন্যান্য কোচে নারী-পুরুষ একসাথে ভ্রমণ করতে পারবে। উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত মেট্রো রেললাইনের প্রথম পর্যায়ের কাজের অগ্রগতি ৭৭.৫৭ শতাংশ এবং আগারগাঁও থেকে মতিঝিল পর্যন্ত রেললাইনটির ৪৭.৪৯ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সামগ্রিকভাবে রেলপথটির ৫৩.৫৮ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ঢাকা মহানগরীর জন্য ২০.১ কিলোমিটার দীর্ঘ মেট্রো রেল সিস্টেমের একটি অংশ উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত প্রায় ১১.০৪ কিলোমিটার দৃশ্যমান হয়েছে। ৯টি স্টেশনের সাব-স্ট্রাকচার সম্পন্ন হয়ে গেছে। উত্তরা উত্তর, উত্তরা মধ্য ও উত্তরা দক্ষিণের স্টেশনের হলঘরের ছাদ নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়াও পল্লবী, মিরপুর-১১, মিরপুর-১০, কাজীপাড়া ও শেওড়াপাড়া স্টেশনের হলঘরের নির্মাণ কাজ চলছে। উত্তরা মধ্য ও উত্তরা দক্ষিণ-এর প্লাটফরম নির্মাণের কাজ ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে আর উত্তরা উত্তরের প্লাটফরম নির্মাণের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। স্টেশন তিনটির কারিগরি ও বৈদ্যুতিক শুরু হয়েছে। পাশাপাশি, কন্ট্রাক্ট প্যাকেজ সিপি-০৭ হস্তান্তরের জন্য টেলিযোগাযোগ, বিদ্যুৎ সাবস্টেশন, সিগন্যালিং ও স্ট্রেশন কন্ট্রোলারের অফিস নির্মাণের কাজও শুরু হয়েছে। সিদ্দিক আশা করছেন, করোনা পরিস্থিতিতে সুরক্ষা নীতি মেনে এখন যেভাবে কাজ চলছে তা অব্যাহত থাকলে, ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই রেলপথটি সম্পন্ন হবে। এমআরটি লেন-৬ নির্মাণকাজে নিয়োজিত কয়েকজন কর্মীর মধ্যে কোভিড-১৯ এর উপসর্গ দেখা দেয়ায় তাদের কাজ থেকে বিরত রাখা হয়েছে। তাদের কোভিড-১৯ সনাক্তকরণ পরীক্ষা করা হয়েছে। করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কারণে গাবতলি নির্মাণাধীন স্থানে ১০ শয্যার একটি আইসোল্যাশন কেন্দ্র ও উত্তরা পঞ্চবটি নির্মাণস্থানে ১৪ শয্যার একটি আইসোল্যাশন কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে উল্লেখ করে সিদ্দিক বলেন, প্রয়োজনে আরো আবাসিক স্থাপনা নির্মাণ করা হবে। যাদের দেহে কোভিড-১৯ ধরা পড়েছে তাদেরকে বাড়িতে অথবা প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনে তাদেরকে করোনার জন্য নির্ধারিত হাসপাতালে ভর্তি করা হবে। ম্যাস Rapid ট্রানজিট-এমআরটি লেন-৬-এর ২১ কিমি দীর্ঘ রুটে মোট ১৬টি স্টেশন থাকবে। স্টেশনগুলো হলো- উত্তরা উত্তর, উত্তরা মধ্য, উত্তরা দক্ষিণ, পল্লবী, মিরপুর-১১, মিরপুর-১০, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, আগারগাঁও, বিজয় সরণী, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, শাহবাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ সচিবালয় ও মতিঝিল। দিয়াইবাড়ি, মিরপুর ও মতিঝিল স্টেশনগুলো আইকনিক হবে। অন্যান্য স্টেশনগুলো স্বাভাবিকভাবেই নির্মাণ করা হবে। সিদ্দিক বলেন, যদি সবকিছু স্বাভাবিক থাকে, তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই রাজধানীবাসীরা তাদের স্বপ্নের মেট্রোরেলে চড়ে দিয়াইবাড়ি থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ভ্রমণ করতে পারবেন।
১০ জেলায় অ্যান্টিজেন টেস্ট উদ্বোধন করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী
০৫ডিসেম্বর,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) শনাক্তকরণে দেশের ১০ জেলায় অ্যান্টিজেন টেস্ট কার্যক্রম উদ্বোধন করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে দেশের সব জেলায় অ্যান্টিজেন টেস্ট করা হবে। পর্যাপ্ত রিএজেন্ট আছে। শনিবার (৫ ডিসেম্বর) বেলা ১১টায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী অনলাইনে ১০ জেলায় এ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। স্বাস্থ্য সচিব মো. আব্দুল মানান বলেন, টেস্টের সংখ্যা বাড়াতে দু-চার দিনের মধ্যে মোবাইল ল্যাব চালু করা হবে। দুটি মোবাইল ল্যাব চালু করা হবে প্রাথমিকভাবে। এগুলো আসকোনা ও দিয়াবাড়ির আইসোলেশন সেন্টারের আশপাশে নমুনা পরীক্ষা করবে। অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, পঞ্চগড়, গাইবান্ধা, জয়পুরহাট, পটুয়াখালী, মেহেরপুর, মুন্সীগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, যশোর, মাদারীপুর ও সিলেটে অ্যান্টিজেন টেস্ট শুরু হয়েছে। এর মধ্যে সিলেটে শহীদ শামসুদ্দিন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এবং বাকি ৯ জেলায় জেলা সদর হাসপাতালে এ টেস্ট করা হবে। অ্যান্টিজেন টেস্টের মাধ্যমে ১৫ থেকে ৩০ মিনিটের মধ্যে নমুনা পরীক্ষা করা যাবে। স্বাস্থ্য সচিবের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা। এসময় ১০ জেলার সিভিল সার্জন অনলাইনে যুক্ত ছিলেন। গত ১৭ সেপ্টেম্বর সরকার অ্যান্টিজেন টেস্টের মাধ্যমে করোনা ভাইরাস পরীক্ষায় অনুমতি দেয়।

জাতীয় পাতার আরো খবর