বাংলাদেশি বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর শোক
নেপালের ত্রিভূবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বিএস ২১১ ফ্লাইটের বিমানটি বিধ্বস্তে হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী নিহতদের আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করেন এবং আহতের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন। তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। এদিকে সিঙ্গাপুর সময় ৭ টা ৫০মিনিটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নেপালের প্রধানমন্ত্রী খাদগা প্রসাদ শর্মা অলির সঙ্গে টেলেফোনে কথা বলেছেন। নেপালের প্রধানমন্ত্রী হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেন। খাদগা প্রসাদ শর্মা অলি জানান, দুর্ঘটনা ঘটার পর তিনি ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ত্রিভূবন বিমানবন্দর খোলার সঙ্গে সঙ্গে তিনি সাহায্যকারী দল নেপালে পাঠাবেন। প্রয়োজনীয় যত রকমের সাহায্য দরকার বাংলাদেশ তা করবে বলেও আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী। উল্লেখ্য, সোমবার দুপুর ১২টা ৫১মিনিটে নেপালের উদ্দেশে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৬৭জন যাত্রী নিয়ে ইউ এস বাংলা এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটটি ছেড়ে যায়। নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর ত্রিভূবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ২টা ২০ মিনিটে অবতরণের সময় আগুন লেগে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনায় অন্তত ৫০ যাত্রী নিহত হয়েছে বলে জানাচ্ছে দেশটির সংবাদমাধ্যম মাই রিপাবলিকা।
সরকার বিচার বিভাগের ওপর হস্তক্ষেপ করে না:আইনমন্ত্রী
বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে দেয়া চার মাসের জামিনের মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়েছে সরকার বিচার বিভাগের ওপর হস্তক্ষেপ করে না বলে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। সোমবার হাইকোর্ট বেগম খালেদা জিয়ার চার মাসের আন্তর্বর্তী জামিন আদেশের পর সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভা কক্ষে এক প্রতিক্রিয়ায় সাংবাদিকদের তিনি একথা বলেন। আনিসুল হক বলেন, বিএনপি নেতারা সারাদেশে বলে বেড়াচ্ছিলেন আমরা নাকি আদালতে হস্তক্ষেপ করছি বলেই জামিন হচ্ছে না। আজকে প্রমাণিত হলো, বিচার বিভাগ যে স্বাধীন এবং বিচার কাজে সরকার হস্তক্ষেপ করে না। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার জামিনাদেশ প্রমাণ করে বিচারবিভাগ বা আদালতের ওপর সরকারের কোনও হস্তক্ষেপ নেই। আর কোনও মামলায় সাজা হয়ে না থাকলে এখন জেল থেকে তার বের হতে কোনও সমস্যা হওয়ার কথা না। আইনমন্ত্রী বলেন, এই মামলা দুদক (দুর্নীতি দমন কমিশন) করেছে, সরকার তো করেনি। কাজেই এই জমিনাদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে কি হবে না, তা দুদকের বিষয়। তবে তারা সরকারকে অ্যাটর্নি জেনারেলের মাধ্যমে বিষয়টি অবহিত করতে পারে। জামিন আদেশের সার্টিফায়েড কপি আদালত গেটে না যাওয়া পর্যন্ত হয় তো খালেদা জিয়াকে অপেক্ষা করতে হবে। এর আগে দুপুরে পাঁচ বছরের কারাদন্ডপ্রাপ্ত খালেদা জিয়ার অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় চার মাসের জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ জামিন দেন।
১৬ যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার
নেপালে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় ১৬ যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিমানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইমরান আসিফ। সোমবার এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। এর আগে বিমান দুর্ঘটনায় ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে জানিয়েছিলেন বিমানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। তবে তাদের নাম-পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেননি তিনি। দুর্ঘটনায় আহতদের নেপালের ৪টি হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। এদিকে নেপাল সেনাবাহিনীর একজন মুখপাত্র বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় ৫০ জনের নিহতের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে নেপালের পুলিশের মুখপাত্র মনোজ নুপেন প্রাথমিকভাবে ৪০ জনের প্রাণহানির তথ্য জানিয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে ৩১ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া হাসপাতালে নেয়ার পর আরও ৯ জন মারা গেছেন। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, বিধ্বস্ত বিমানের আগুন নিভিয়ে ফেলা হয়েছে। উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মুখপাত্র প্রেম নাথ ঠাকুর বলেছেন, দুই ইঞ্জিন বিশিষ্ট টার্বোপ্রোপ বিমানটি ৬৭ আরোহী ও চার ক্রু নিয়ে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা থেকে কাঠমান্ডুর উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছিল। তিনি বলেন, যাত্রীদের মধ্যে ৩৭ পুরুষ, ২৭ নারী ও দুই শিশু ছিল। এদের মধ্যে অন্তত ৩৩ জন নেপালের নাগরিক। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বোম্বারডায়ার ড্যাশ-৮ বিমানটি দুপুর ২টা ২০ মিনিটে বিধ্বস্ত হয়। বিধ্বস্ত হওয়ার আগে এতে আগুন ধরে যায়। নেপালের বেসামরিক বিমান পরিবহন কর্তৃপক্ষের মহাপরিচালক সানজিব গৌতম বলেন, বিমানটির পাইলটকে বিমানবন্দরের দক্ষিণ-প্রান্ত থেকে রানওয়েতে অবতরণের অনুমতি দেয়া হয়েছিল। কিন্তু বিমানবন্দরের উত্তর অংশ থেকে বিমানটি অবতরণের চেষ্টা করে পাইলট। এ সময় হঠাৎ বিমানটিতে আগুন ধরে যায়। পরে বিমানবন্দরের পাশের একটি ফুটবল মাঠে আছড়ে পড়ে বিমানটি। বিমান বিধ্বস্তের পরপরই ঘটনাস্থলে উদ্ধাকারী দল, সেনাবাহিনী ও অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছায়। বিমাবন্দরের অপর এক কর্মকর্তা বলেন, বিমানটি বিধ্বস্তের আগে আকাশে কাঁপতে শুরু করে।
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বাংলাদেশের পাশে থাকবে সিঙ্গাপুর
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বাংলাদেশের পাশে থাকবে সিঙ্গাপুর। পাশাপাশি সংকটের স্থায়ী সমাধানে আসিয়ানভুক্ত দেশগুলো মিয়ানমার সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লি সিয়েন লুং। সোমবার স্থানীয় সময় সকালে দ্বিপাক্ষীক বৈঠকে সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এই আশ্বাস দেন সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী। বৈঠক শেষে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব এবং বেসামরিক বিমান চলাচলে সহযোগীতা সংক্রান্ত দুটি সমঝোতা স্মারক সই হয়। সিঙ্গাপুর সফরের দ্বিতীয় দিন ব্যস্ত সময় পাড় করেন সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার স্থানীয় সময় সকালে দেশটির রাষ্ট্রপতি হালিমা ইয়াকুবের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করেন তিনি। প্রেসিডেন্ট ভবন ইস্তানায় পৌঁছালে শেখ হাসিনাকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেয়া হয়। পরে, দেশটির প্রেসিডেন্ট হালিমা ইয়াকুবের সাথে দ্বিপাক্ষীক বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে, একই ভবনে সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লি সিয়েন লুং এর সাথে দ্বিপাক্ষীক বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৈঠকে ব্যবসা ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বিমান চলাচল ব্যবস্থাপনা, শিক্ষাসহ দুদেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন দুই নেতা। চলমান রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সিঙ্গাপুরের সহযোগীতাও চান শেখ হাসিনা। এসময়, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশের পাশে থাকার পাশাপাশি সংকটের স্থায়ী সমাধানে আসিয়ানভুক্ত দেশগুলো মিয়ানমার সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করবে বলে আশ্বাস্ত করেন সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লি সিয়েন লুং। বৈঠক শেষে, দুদেশের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব এবং বেসামরিক বিমান চলাচলে সহযোগীতা সংক্রান্ত দুটি সমঝোতা স্মারক সই হয়। বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের মধ্যে বিমান চলাচল বিষয়ে সমঝোতা স্মারকে সই করেন বাংলাদেশ বেসরকারি বিমান চলাচল ও পর্যটন সচিব এবং সিঙ্গাপুরের যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের পার্মানেন্ট সেক্রেটারি। একইসঙ্গে সরকারি-বেসরকারি যৌথ অংশীদারিত্বের প্রকল্পে দুদেশের মধ্যে সহযোগিতা বাড়াতে অন্য সমঝোতা স্মারকে সই করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ অথরিটির নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সিঙ্গাপুর ইন্টারন্যাশনাল এন্টারপ্রাইজ- এসআইইর নির্বাহী কর্মকর্তা। এদিকে, বিকেলে সিঙ্গাপুর বন্দর পরিদর্শনে যাবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সন্ধ্যায় তিনি যোগ দেবেন সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশ দূতাবাসের নৈশভোজে। আগামী ১৪ মার্চ দেশে ফেরার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার।
বাংলাদেশ-সিঙ্গাপুর দুটি সমঝোতা স্মারক
বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুর পিপিপি এবং বিমান চলাচল সংক্রান্ত দুটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছে। স্মারক দুটি হচ্ছে- পাবলিক-প্রাইভেট অংশীদারিত্ব (পিপিপি) বিষয়ক সমঝোতা স্মারক এবং এয়ার সার্ভিস ম্যানেজমেন্ট সংক্রান্ত কনফিডেন্সিয়াল সমঝোতা স্মারক। সিঙ্গাপুরের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় ইস্তানায় সোমবার দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে আনুষ্ঠানিক বৈঠক শেষে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লি সিয়েন লুংয়ের উপস্থিতিতে স্মারকগুলো স্বাক্ষরিত হয়। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন সচিব এসএম গোলাম ফারুক এবং সিঙ্গাপুরের পরিবহন মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী সচিব তান গাই সেন উভয়দেশের এয়ার সার্ভিস ম্যানেজমেন্ট সংক্রান্ত কনফিডেন্সিয়াল সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষর করেন। প্রাইভেট পাবলিক পার্টনারশিপ অথরিটি (পিপিপিএ)-র সিইও সৈয়দ আফসর এইচ উদ্দিন এবং সিঙ্গাপুরের আন্তর্জাতিক এন্টারপ্রাইজের সহকারী সিইও তান সুন কিম উভয়দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত পাবলিক-প্রাইভেট অংশীদারিত্ব (পিপিপি) বিষয়ক অপর সমঝোতা সমঝোতা স্মারকটিতে স্বাক্ষর করেন।
বিএনপিকে গণতন্ত্র রক্ষা করতে হবে না :সেতুমন্ত্রী
খালেদা জিয়াকে ছাড়া বিএনপি আগামী জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেবে, কি নেবে না- এটা তাদের সিদ্বান্ত বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, নির্বাচনে আসা, না আসা বিষয়ে সরকারের দায় নেই। এটা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার। তারা নির্বাচনে অংশ নেবে, কি নেবে না- এতে সরকারের কোনো বক্তব্য নেই। রোববার দুপুরে কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলায় সুইচ টিপে গোমতী সেতুর সুপারস্ট্রাকচার কাজের উদ্বোধন করেন সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, বিএনপিকে গণতন্ত্র রক্ষা করতে হবে না। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি গণতন্ত্র রক্ষায় তারা আগুন, বোমা সন্ত্রাস চালিয়েছিল। ২০১৪ সালের মতো নীলনকশা থাকলে বিরত হোন। পুরনো ভুলের পুনরাবৃত্তি করলে জনগণ প্রতিহত করবে। জনগণ অনেক সচেতন, সজাগ। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে জনগণকে নিয়ে তা প্রতিহত করা হবে। মন্ত্রী বলেন, নির্ধারিত সময়ের ছয় মাস পূর্বেই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে তিনটি সেতুর নির্মাণ কাজ সমাপ্ত হবে। এতে জনদুর্ভোগ কমবে। সময় সাশ্রয় হবে। এ সময় সড়ক ও জনপথ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নারী লাঞ্ছনা ও যৌন হয়রানির সত্যতা মিলেছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ভিডিও ফুটেজে ঐতিহাসিক সাতই মার্চ আওয়ামী লীগের সমাবেশে যাওয়ার পথে মিছিল থেকে নারী লাঞ্ছনা ও যৌন হয়রানির সত্যতা মিলেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। রোববার দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁও আদর্শ স্কুল অ্যান্ড কলেজের বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ওইদিন ভিকারুন্নেসার যে ছাত্রীকে হয়রানি করা হয়েছে, এ কথা সত্য। আমরা ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করেছি। জড়িতদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। মেয়েটির বাড়িতে গিয়েছি, তার সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। যারাই এ ঘটনা ঘটিয়েছে তাদেরকে আমরা চিহ্নিত করে শাস্তির ব্যবস্থা করব। সাতই মার্চের সমাবেশকে কেন্দ্র করে সেই দিন রাজধানীতে লাখ লাখ মানুষের ঢল নেমেছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেখানে নারী-পুরুষ সমানভাবে গেছে। তবে কেন এই ঘটনা ঘটল এটাই আমার প্রশ্ন? তাহলে এরা কারা? কেন তারা মিছিলে গিয়ে এ ঘটনাটি ঘটাল- এটাই দেখার বিষয়। অপর এক প্রশ্নের জবাবে আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, বিএনপির কোনো নেতাকর্মীকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করছে না সরকার। যারা বিভিন্ন সময় বাস পুড়িয়েছেন, অগ্নিসংযোগ করেছেন, পুলিশের অস্ত্র ভেঙে দিয়েছেন কিংবা পুলিশকে মারধর করেছেন তাদেরকেই গ্রেফতার করা হচ্ছে। ভিডিও ফুটেজ দেখে প্রত্যেককে চিহ্নিত করেই ধরা হচ্ছে বলে জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, কোনো সাধারণ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হচ্ছে না। ভিডিও ফুটেজে যাদের দেখা গেছে এবং মামলা রয়েছে যাদের বিরুদ্ধে, তাদের ছাড়া অন্য কাউকে গ্রেফতার করছে না আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, কোন শিক্ষার্থীর লেখাপড়ার জন্য অসুবিধা হবে এমনটা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কখনোই চান না। তাই তিনি সব জায়গায় সমানভাবে কাজ করছেন। বছরের প্রথম দিন দেশের সব ছাত্রছাত্রীর কাছে পাঠ্যবই পৌঁছে দেয়া হয়। এটা কিন্তু একটা দুঃসাধ্য ব্যাপার। কোনো আমলে এটা হয়নি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলেই কিন্তু এটা সম্ভব হয়েছে। সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের চিত্র তুলে ধরে তিনি আরেও বলেন, স্কুল-কলেজগুলোতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশক্রমে একের পর এক ইমারত তৈরি করা হচ্ছে। একের পর এক যেসব রাস্তার উন্নয়ন প্রয়োজন, সেগুলো কিন্তু তার নির্দেশনায় হচ্ছে। হাতিরঝিল তো একটি অন্যতম দর্শনীয় স্থান। শুধু বাংলাদেশ নয় সারা বিশ্বে উদাহরণ দেয়ার মতো একটি জায়গা হয়েছে হাতিরঝিল। এই জায়গার আরো উন্নয়ন হবে, এখানে আরো অনেক কিছুই স্থাপন করা হবে।

জাতীয় পাতার আরো খবর