কল্পলোকের অবাস্তব বাজেট, বললেন এরশাদ
২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটকে কল্পলোকের অবাস্তব বাজেট বলে অভিহিত করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। বৃহস্পতিবার বাজেট অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের সামনে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এ কথা বলেন জাপার চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ‘এই বাজেট বাস্তবায়নযোগ্য নয়। বাস্তবতার সঙ্গে এই বাজেটের কোনো মিল নেই। এই বাজেট হয়েছে ঘাটতির রেকর্ড করা বাজেট। এই বাজেট দিয়ে মনোতুষ্টি করা গেলেও সাবির্কভাবে দেশের কল্যাণ হবে না।’ তিনি বলেন, ‘জনগণের করের টাকায় ঋণের নামে লুটপাট হওয়া ব্যাংকগুলোর ঘাটতি পূরণ কারার কথা বলা হয়েছে। এর চেয়ে লজ্জার আর কিছু হতে পারে না।’ সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদ বলেন, ‘এই বাজেটে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বিনিয়োগে উৎসাহ দেয়ার কোনো বিষয় নেই। সুশাসন প্রতিষ্ঠায় কোনো উদ্যোগ বা দিকনির্দেশনাও নেই এই বাজেটে।’ তিনি বলেন, ‘নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটারদের তুষ্ট করার জন্যই এই বাজেট প্রনয়ণ করা হয়েছে। এ বাজেট বাস্তবের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। আমাদের দেশের ভোটাররা অনেক সচেতন। বিশাল অঙ্কের ঘাটতি বাজেট দিয়ে তাদের তুষ্ট করা যাবে না।’
জমে উঠেছে কেনাকাটা
বছর ঘুরে আবারো আসছে ঈদ উৎসব। তাই শপিংমলগুলোর মতো রাজধানীর ফুটপাতের দোকানগুলোতেও জমে উঠেছে কেনাকাটা। এখানে মানভেদে ২শ’ থেকে ৩শ’ টাকায় প্রতি পিচ পাঞ্জাবি, ১৬০ টাকায় শিশুদের টি-শার্ট ও ফ্রক এবং ২৬০ টাকায় শার্ট পাওয়া যাচ্ছে। তবে পুলিশ তাড়া করায় স্বস্তি মিলছে না বেচাকেনায়। গামের্ন্টস ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বেতন বোনাস হয়ে গেলে বিক্রি আরো বাড়বে বলে প্রত্যাশা এসব দোকানিদের। সরেজমিন দেখা গেছে, সব বয়সী নারী-পুরুষের জন্য রং বে-রঙের বিভিন্ন ডিজাইনের জামা-কাপড় পাওয়া যাচ্ছে ফুটপাতে। সারি সারি এসব দোকানগুলো থেকে প্রতিনিয়তই পছন্দমতো জামা-কাপড় ও শার্ট কিনছেন নগরবাসী। এখানে শার্ট বিক্রি হচ্ছে মাত্র ২৬০ টাকায়। এসব শার্ট রাজধানীর বিভন্ন কারখানা থেকে সংগ্রহ করে এখানে বিক্রি করছে ব্যবসায়ীরা। ফুটপাতে অল্প আয়ের মানুষ সাধ্যের মধ্যে পণ্য কিনতে পেরে যেমন খুশি, তেমনি পণ্য বিক্রি করে খুশি দোকানিরাও। ঈদ উপলক্ষে ফুটপাতের দোকানগুলোতে শিশুদের ফ্রক, টি-শার্ট ছাড়াও বাহারি ডিজাইন ও নানা রংয়ের শিশুদের পোশাক পাওয়া যাচ্ছে। যেগুলোর দাম ১৬০ থেকে ২শ’ টাকা পর্যন্ত। দাম নিয়ে সন্তোষ জানান ক্রেতারা। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্যরা সাধ্যের মধ্যে পছন্দের জামা কাপড় খুঁজে নেন এই ফুটপাত থেকে। এখানে পাওয়া যাচ্ছে হরেক রকমের পায়জামা পাঞ্জাবি। রমজানের প্রথম দিকে তেমন জমজমাট না থাকলেও এরই মধ্যে জমে উঠেছে ফুটপাতের ব্যবসা। জাঁকজমকপূর্ণ আলো ঝলমলে মার্কেটে পোশাকের দাম আকাশচুম্বী হওয়ায় নিম্ন আয়ের মানুষদের একমাত্র ভরসা এই ফুটপাত। নামিদামি শপিংমলে কেনাকাটার ইচ্ছা থাকলেও সামর্থ্য না থাকায় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ফুটপাতের দোকানে ছুটছেন নগরীর অনেক মানুষ। নিজেদের আদরের ছেলেমেয়ে বা প্রিয়জনকে ঈদের পোশাকসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য পণ্য কিনে দেন এই ফুটপাত থেকে। কি নেই এই ফুটপাতে? শার্ট, প্যান্ট, জুতা, সালোয়ার, কামিজ, রং-বেরংয়ের থ্রি-পিস, গেঞ্জি, পাজামা-পাঞ্জাবি, কসমেটিকস, টুপি, আতর সবকিছুই রয়েছে ফুটপাতের দোকানে। দামও রয়েছে নাগালের মধ্যেই। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সব বয়সী নারী-পুরুষের জন্য রং-বেরংয়ের বিভিন্ন ডিজাইনের জামা-কাপড় পাওয়া যাচ্ছে ফুটপাতে। রাজধানীর ফুটপাতের বাজারে প্রতিনিয়তই ক্রেতারা আসছেন, পছন্দমতো জামা-কাপড় কিনছেন। কেউ কর্মস্থলে যাওয়ার সময় কেউবা ফেরার সময় পছন্দমতো নিজেদের প্রয়োজনীয় কেনাকাটা সারছেন। সকাল থেকে শুরু হয়ে ফুটপাতের এই বেচাকেনা চলে রাত ১০টা বা তারও একটু বেশি সময় পর্যন্ত। একাধিক ফুটপাতের ব্যবসায়ী জানান, ঈদের সময় যত কাছে আসবে এই বেচাকেনা মধ্যরাত ছাড়িয়ে যাবে। মার্কেট ভেদে ছেলেদের শার্ট বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৫শ’ টাকায়, জিন্স প্যান্ট ৩৫০ থেকে সাড়ে ৭শ’ টাকায়, টি-শার্ট ২৫০ টাকা থেকে ৪শ’ টাকা, মেয়েদের থ্রি-পিস ৪৫০ টাকা থেকে হাজার/১২শ’ টাকা, শাড়ি ৪৫০ থেকে ২ হাজার টাকা, বাচ্চাদের থ্রি-কোয়াটার জিন্স প্যান্ট ৩শ’ টাকা, গেঞ্জির সেট ২শ’ থেকে ৫শ’ টাকা, ফ্রক ও টপস ২৫০ থেকে ৫শ’ টাকা, ছেলে ও মেয়ে শিশুদের জন্য হাতাকাটা গেঞ্জি ২শ’ থেকে ৪শ’ টাকা। ফুটপাতের বেচাকেনা খোঁজ নিতে বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটে যেতেই কানে ভেসে এলো ‘দেইখ্যা লন ২শ’, বাইছ্যা লন ২শ’, একদাম ২শ’, যেটাই নেবেন ২শ’। এ রকম শব্দ শুধু এখানেই নয়, পুরো রাজধানীজুড়েই। বায়তুল মোকররমের সামনে ফুটপাতে গেঞ্জির ব্যবসা করেন আমজাদ হোসেন। এক দাম ৪০ টাকায় বেচাকেনা করছেন তিনি। পাশেই কয়েকটি জুতার দোকানে গিয়ে দেখা যায় তারাও এক দামেই ব্যবসা করছেন। যার যে জুতা পছন্দ হচ্ছে এক দাম বলে দিচ্ছেন বিক্রেতারা। ক্রেতার পছন্দ ও সাধ্যের মধ্যে হলে প্যাকেট করছেন আর সাধ্যের মধ্যে না হলে অন্য দোকানে ছুটছেন। এক দামের বিষয়ে ফুটপাতের ব্যবসায়ী আব্দুর রহমান জানান, প্রতিদিন অনেক ক্রেতার সঙ্গে কথা বলি। রোজা রাইখা বেশি কথা ভালো লাগে না সীমিত লাভ রেখে মাল (পণ্য) ছেড়ে দিচ্ছি। মতিঝিল এলাকার শার্ট বিক্রেতা ইসলাম মিয়া জানান, বাণিজ্যিক এলাকা হওয়ায় এখানে সারাক্ষণই ভিড় লেগে থাকে। বিক্রিও ভালো। বিভিন্ন অফিসের বড় বড় কর্মকর্তারা এখান থেকে কেনেন। রাজধানীর মৌচাক মার্কেটের ফুটপাতের ব্যবসার খোঁজ নিয়ে জানা গেল এখানে জমজমাট কসমেটিকস পণ্য। পরিবারের প্রয়োজনীয় পণ্যটি আগেভাগেই কিনে ফেলছেন সবাই। তবে এখানকার ফুটপাতের জামা বা জুতার ব্যবসায়ীরাও বসে নেই। তাদের বিকিকিনিও বেশ ভালো। ঈদ সামনে রেখে বসে নেই মৌসুমি হকাররাও। বিভিন্ন পণ্য নিয়ে ট্রাফিক সিগন্যালে থামা গাড়িগুলোর দিকে ছুটছেন একেকজন। কারো হাতে আতর, কারো হাতে টুপি, কারো হাতে নামাজ শিক্ষার বিভিন্ন ধরনের বই সামগ্রী। যানজটে গাড়িতে বসে থাকা মানুষের কাছে নিয়ে যাচ্ছেন এই পণ্যগুলো ভাসমান হকাররা।
রেকর্ড করেছেন মুহিত
একটানা ১০ বার জাতীয় বাজেট পেশ করে রেকর্ড গড়তে চলেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। আজ (৭ জুন, বৃহস্পতিবার) দশম জাতীয় সংসদের ২১তম অধিবেশনে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেট পেশ করবেন তিনি। দেশের ৪৭তম এই বাজেট হবে আবুল মাল আবদুল মুহিতের টানা দশম এবং নিজের ১২তম জাতীয় বাজেট উপস্থাপন। এর আগে সর্বোচ্চ ১২টি বাজেট পেশ করেন সাইফুর রহমান। তবে তার একটানা ৫টির বেশি বাজেট উপস্থাপনের সুযোগ হয়নি। এবারের বাজেট উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে সাইফুর রহমানের রেকর্ডেও ভাগ বসাবেন আবুল মাল আবদুল মুহিত। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের আমলে মুহিত ১৯৮২-৮৩ ও ১৯৮৩-৮৪ দুই অর্থবছরে বাজেট পেশ করেছিলেন। এরপর নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরে অর্থমন্ত্রী মুহিত ২০১০-২০১১ অর্থবছরে ১ লাখ ৩২ হাজার ১৭০ কোটি টাকার বাজেট দিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলেন। সরকারের টানা দুই মেয়াদে অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করা মুহিতের চলতি (২০১৭-২০১৮) অর্থবছরে তা ছিল ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকা। আর আগামী ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এসে তার পরিমাণ প্রায় ৪ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত সময়ে বাজেট পেশকারীর সংখ্যা ১১ জন। তারা হলেন- তাজউদ্দীন আহমেদ, ড. আজিজুর রহমান, মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান, ড. এম এন হুদা, এম. সাইফুর রহমান, আবুল মাল আবদুল মুহিত, এম সায়েদুজ্জামান, মেজর জেনারেল এম এ মুনিম, ড. ওয়াহিদুল হক, শাহ্ এএমএস কিবরিয়া ও ড. এ বি মির্জ্জা মো. আজিজুল ইসলাম। এর মধ্যে তাজউদ্দীন আহমেদ ১৯৭২-৭৩, ১৯৭৩-৭৪ ও ১৯৭৪-৭৫, ড. আজিজুর রহমান ১৯৭৫-৭৬, মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান ১৯৭৬-১৯৭৭, ১৯৭৭-৭৮ ও ১৯৭৮-৭৯, ড. এম এন হুদা ১৯৭৯-৮০, এম. সাইফুর রহমান ১৯৮০-৮১ ও ১৯৮১-৮২ অর্থবছরে এবং ১৯৯১-৯২, ১৯৯২-৯৩, ১৯৯৩-৯৪, ১৯৯৪-৯৫, ১৯৯৫-৯৬ পর্যন্ত টানা ৫ বার এবং ২০০২-০৩, ২০০৩-০৪, ২০০৪-০৫, ২০০৫-০৬, ২০০৬-০৭ অর্থবছরে বাজেট পেশ করেন। এ ছাড়া এম সায়েদুজ্জামান ১৯৮৪-৮৫, ১৯৮৫-৮৬, ১৯৮৬-৮৭ ও ১৯৮৭-৮৮, মেজর জেনারেল এম এ মুনিম ১৯৮৮-৮৯ ও ১৯৯০-৯১, ড. ওয়াহিদুল হক ১৯৮৯-৯০, শাহ্ এএমএস কিবরিয়া ১৯৯৬-৯৭, ১৯৯৭-৯৮, ১৯৯৮-৯৯, ১৯৯৯-২০০০, ২০০০-০১ ও ২০০১-০২ এবং ড. এ বি মির্জ্জা মো. আজিজুল ইসলাম ২০০৭-০৮ ও ২০০৮-০৯ অর্থবছরে বাজেট ঘোষণা করেন।
চট্টগ্রামে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩
চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়া থানাধীন শাহ আমানত সেতু (নতুন ব্রিজ) এলাকায় এনজিএস সিমেন্টের একটি ট্র‍াক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সিএনজি অটোরিকশা ও রিকশাকে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলে দুই নারীসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। আহত নয়জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির নায়েক আমির উদ্দিন জানান, দুর্ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে আনা তিনজনকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেছেন। এর মধ্যে একজন শহীদুল ইসলামের স্ত্রী নারগিস আকতার (৩৫)। অপর নারী হাসিনা আকতার (৪০)। অজ্ঞাতপরিচয় পুরুষটির বয়স আনুমানিক ২৮ বছর। তিনি আরো জানান, নয়জনকে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে আবদুস সাত্তার (৪০), ইমরান (৬), আবদুর রহমান (৪০), অনীল বড়ুয়া (৫০), শারমিন (২৩), রিগান (৩৩), সিফাত (১৬) ও দিদারের (৩০) পরিচয় মিলেছে।
ভোটার আকর্ষণের বাজেট
বাজেট ঘোষণার পর এখন পর্যন্ত বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। ২০১৮-১৯ সালের বাজেট বিষয়ে বিএনপির বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা গণমাধ্যমে বলেছেন, এবারের বাজেট নির্বাচনমুখী বাজেট। এই বাজেট বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না। লোক দেখানো এবং ভোটার আকর্ষণই এই বাজেটের মূল লক্ষ্য। আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০১৮-১৯ সালের বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। চার লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়। গত অর্থবছরে চার লাখ ২৬৬ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছিল। বাজেট বিষয়ে এক প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘সরকার বাজেট থেকে কত টাকা চুরি করবে, সেটা তো দেয়নি। সরকার কত টাকা আত্মসাৎ করবে, কত টাকা খাবে, কত টাকা কে কীভাবে পকেটস্থ করবে—সেটা বলেনি।’ তিনি বলেন, গরিবের পকেট কাটবে আর নিজেদের পকেট ভরবে, এই বাজেটের উদ্দেশ্য এটাই। বিএনপির আরেক স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, এই বাজেট বাস্তবসম্মত নয়। এটি ভোটের বাজেট। জনগণকে ধোঁকা দিয়ে, প্রত্যাশা দিয়ে একটি বড় বাজেট করেছে। সরকার গত বছরের বাজেট বাস্তবায়ন করতে পারেনি। ব্যাপক কাটছাঁট করেছে। গত বছরের সংশোধিত বাজেটে যে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছিল, সেই লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হয়নি। এবার আরও ৬৪ হাজার কোটি টাকা বেশি, এই লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব না। বিএনপির অপর স্থায়ী কমিটির সদস্য মাহবুবুর রহমান বলেন , এই বাজেটে বেশ ভালো-ভালো কথা আছে। প্রতিশ্রুতি আছে। কিন্তু এটা বাস্তবায়ন কতটুকু সম্ভব, তা নিয়ে সন্দেহ আছে। তিনি বলেন, সশস্ত্র বাহিনী খাতে বরাদ্দ যথেষ্ট মনে হয়নি। কারণ সশস্ত্র বাহিনী এখন বড় হয়ে গেছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য সশস্ত্র বাহিনীর জন্য বরাদ্দ বাড়ানো প্রয়োজন ছিল। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই বাজেটকে ঢাউস বাজেট বলাই যায়। এই বাজেটের মূল উদ্দেশ্য নির্বাচন। এই বাজেট বাস্তবায়ন করা কতটুকু সম্ভব হবে, আমি জানি না। সামনে নির্বাচন রেখে এই বাজেট দেওয়া হয়েছে।
বের হলো ৭ সোনার বার
বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে ভারতে পাচারের সময় সাত পিস (৭শ গ্রাম) সোনার বারসহ লাভলু ব্যাপারী (২৫) নামে এক পাসপোর্টযাত্রীকে আটক করেছেন কাস্টম কর্মকর্তারা। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ওই যাত্রী চেকপোস্ট কাস্টমস-ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ভারতে প্রবেশ করার সময় তার শরীর তল্লাশি করে পায়ুপথ থেকে সোনার বারগুলো উদ্ধার করা হয়। আটক লাভলু শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার বিকে নগর গ্রামের আব্দুল মান্নান ব্যাপারীর ছেলে। বেনাপোল কাস্টমস হাউসের ডেপুটি কমিশনার জাকির হোসেন বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, সোনার একটি বড় চালান চেকপোস্ট দিয়ে ভারতে পাচার হবে। এ ধরনের সংবাদের ভিত্তিতে বিকেল থেকে নজরদারি বাড়ানো হয়। সন্ধ্যার দিকে কাস্টম-ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে ভারতে প্রবেশ করার সময় লাভলুর গতিবিধি সন্দেহজনক হওয়ায় তাকে আটক করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে বিষয়টি অস্বীকার করে সে। পরে ক্লিনিকে নিয়ে এক্সরে করিয়ে সোনার বার রয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া যায়। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় জুস ও পানি খাইয়ে পায়ুপথ থেকে সোনার বার বের করা হয়। তিনি আরো বলেন, জব্দকৃত সোনার বারের ওজন ৭০০ গ্রাম যার মূল্য ৩২ লাখ টাকা। এসব সোনা কাস্টম গোডাউনে জমা ও এ ব্যাপারে বেনাপোল পোর্ট থানায় মামলা করা হয়েছে।
স্বপ্নের উচ্চবিলাসী বাজেট
বাংলাদেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেওয়ার স্বপ্ন দেখছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তার স্বপ্ন পূরণে সম্ভাব্য সবকিছুই পরিকল্পনা করছেন তিনি। তার প্রতিফলনও বাজেট প্রস্তাবে রাখার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু প্রস্তাবিত বাজেট পাস হওয়ার ৬ মাসের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন থাকায় সবই নির্বাচনকেন্দ্রিক হয়ে তা জনতুষ্টি আর অতুষ্টিতে পরিণত হয়েছে। তাই আশা আর স্বপ্ন একই সূতায় বাধা সম্ভব হবে না জীবনের শেষ বাজেট দেওয়া এই অর্থমন্ত্রীর। কারণ তার এই বাজেটে চালের দাম বাড়ার স্পষ্ট আভাস রয়েছে। ব্যক্তির কর হারও অপরিবর্তিত রেখেছেন তিনি। অপরদিকে বাড়ছে পোশাকের কর হার, কমছে কর্পোরেট কর। এ বাজেট গরিবের জন্য যেমন বোঝা হবে, তেমনি ব্যবসায়ীদের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেবে। দেশকে মধ্যম আয়ে পরিণত করার জন্য আগামীর পথে এগিয়ে নেওয়ার স্বপ্ন সামনে রেখে ভোটের বছরে ৪ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকার বাজেট জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করেছেন এই প্রবীণ মন্ত্রী। দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ১২ বার বাজেট দেওয়ার রেকর্ড স্পর্শ করা মুহিত বিশাল এই ব্যয়ের প্রায় ৭৩ শতাংশ অর্থ রাজস্ব খাত থেকে আদায়ের লক্ষ্য ঠিক করেছেন। যা বাস্তবায়ন আকাশ কুসুম স্বপ্ন। তবে অর্থমন্ত্রী নিজেই বলতেন, স্বপ্ন দেখতে না জানলে বড় কিছু করা যায় না। স্বপ্ন বাস্তবায়নে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কতটা যে অক্ষম তা বারবারই প্রমাণ হয়েছে। তাই অক্ষম এনবিআর অর্থমন্ত্রীর স্বপ্ন বাস্তবায়নে কতটা সক্ষম হবে তা নিয়েই সন্দিহান অর্থনীতিবিদরা। তাদের মতে, স্বপ্ন বাস্তবায়নে এনবিআরের যতটা দক্ষতার প্রয়োজন তা এই প্রতিষ্ঠানের নেই। কর্মকর্তাদের মধ্যে সততারও অভাব রয়েছে।অর্থমন্ত্রী দাবি করেছেন দ্রুততম সময়ে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের রূপরেখা বাস্তবায়নে তাদের সরকারের ঈর্ষণীয় সক্ষমতা ইতোমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে। এটি শুধু তাদের দাবি নয়, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সত্য। ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ বলে একদিন যে দেশকে অবজ্ঞা করা হয়েছে, সে দেশ বিশ্ববাসীর কাছে এখন এক ‘উন্নয়ন-বিস্ময়’; বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অগ্রযাত্রা এখন বিশ্বের রোল মডেল। মন্ত্রীর এই কথা সত্য, তবে ব্যর্থতাগুলো তিনি কৌশলে এড়িয়ে গেছেন বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা। তাদের মতে, ব্যর্থতা না এড়িয়ে তা প্রকাশ করলে উন্নয়নের জন্য সহায়ক ভূমিকা পালন করতো। মুহিত বলেন, ২০১৭ সালে দ্রুততর প্রবৃদ্ধি অর্জনকারী শীর্ষ দশটি দেশের তালিকায় বাংলাদেশও রয়েছে। দারিদ্র্যমুক্ত ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার স্বপ্নের পুরোপুরি বাস্তবায়নে আমাদের পাড়ি দিতে হবে আরও খানিকটা পথ। বিপুল কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে পুরোপুরি কাজে লাগানোর জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি ও দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রমে আরও গতি সঞ্চার করার কথা বলেছেন তিনি। তাই উচ্চ প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি যোগাযোগ-বিদ্যুৎ-জ্বালানি অবকাঠামো বিনির্মাণ ও বিনিয়োগ-বান্ধব পরিবেশ সৃজনের জন্য তাদের আয়োজন ও প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার কথাও বলেছেন। তবে বাস্তবতা হচ্ছে, বিদ্যুৎ-জ্বালানির জন্য অনেক শিল্পকারখানা বন্ধ হওয়ার উপক্রম। অনেক প্রতিষ্ঠান চালুও করা হচ্ছে না এরই বিদ্যুৎ-জ্বালানির অভাবে। এমনকি বাসাবাড়িতে ইফতার সেহরির সময়ও বিদ্যুৎ থাকছে না। ফলে বিদ্যুৎ-জ্বালানি ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব না, আর উন্নয়ন না হলে জিডিপিও বাড়বে না বলেই সংশ্লিষ্টরা বলছেন। তিনি বলেন, আমরা এখন এই মজবুত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আমাদের প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ২০২১-২০৪১ প্রণয়নের কাজ শুরু করেছি। এছাড়াও একটি সমন্বিত দীর্ঘমেয়াদি ‘বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০’-এর খসড়াও প্রণয়ন করছেন বলে জানিয়ে বলেন, সারা পৃথিবী আমাদের সফল উন্নয়ন কৌশল ও কার্যক্রমের স্বীকৃতি ইতোমধ্যেই দিয়েছে। প্রবীণ এই অর্থমন্ত্রী তার বাজেট প্রস্তাবে বলেন, শ্রমবাজারে প্রতি বছর প্রায় ২০ লক্ষ শ্রমশক্তি যুক্ত হয়। কর্মক্ষম এই জনশক্তির জন্য দেশের অভ্যন্তরে এবং প্রবাসে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, তাদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং মানসম্মত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তারা আন্তরিকভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি স্বীকার করেছেন, দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হলো বর্ধিত বিনিয়োগ। কিন্তু বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ এখনো নিশ্চিত করতে পারেননি। তিনি বলেছেন, তারা সরকারি খাতে বিনিয়োগ ক্রমান্বয়ে বাড়াচ্ছেন। তবে, এ বিনিয়োগের মূল উদ্দেশ্য হলো বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করা। বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ-গ্যাস-পানির সংযোগ প্রাপ্তি, বিনিয়োগ প্রস্তাব প্রক্রিয়াকরণ, নিষ্কন্টক জমির প্রাপ্যতা ইত্যাদি বিষয়গুলো নিয়ামক ভূমিকা পালন করে থাকে। এসব সেবা সহজলভ্য করে বৃহৎ ও রপ্তানিমুখী শিল্পের বিকাশ ও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করার উদ্দেশ্যে সম্ভাবনাময় এলাকাসমূহে অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার জন্য তারা ২০১০ সালে ‘বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল আইন’ প্রণয়ন করেন। সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে এ পর্যন্ত মোট ৭৬টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আর অর্থনেতিক প্রবৃদ্ধির সুফল সবার কাছে পৌঁছতে বৈষম্য কমিয়ে, বিদ্যমান সরকারি পেনশন কার্যক্রমের বাইরে বেসরকারি পর্যায়ে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক খাতে কর্মরত সব কর্মজীবী মানুষের জন্য সর্বজনীন পেনশনব্যবস্থা চালুর কথা বলেছেন। সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতা ও ভাতা বাড়ানো হচ্ছে। প্রস্তাবিত বাজেটে চাল আমদানিতে শুল্ক রেয়াতি সুবিধা প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফলে সকল প্রকার চাল আমদানিতে আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ ও সম্পূরক শুল্ক ৩ শতাংশ প্রযোজ্য হবে। ফলে আমদানি করা চালের দাম বাড়বে। যা সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হবে। তবে সরকারি কর্মচারীরা বাড়তি বেতন পাওয়ায় তাদের ওপর এর প্রভাব অনেকটাই কম পড়বে। নতুন অর্থবছরে সাধারণ করদাতাদের করমুক্ত আয়ের সীমা আগের মতই ২ লাখ ৫০ হাজার টাকাই থাকছে। অপরদিকে ব্যাংক, বিমা ও আর্থিকপ্রতিষ্ঠানের কর্পোরেট কর কমানোর প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। আবার নতুন বাজেটে তৈরি পোশাকের সাধারণ কারখানার করহার ১৫ শতাংশ ও তৈরি পোশাকের তালিকাভুক্ত কোম্পানির করহার ১২ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। উভয় ক্ষেত্রে গত বছর একক আয়কর হার ছিল ১২ শতাংশ। গতকাল ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করা হয়েছে। এটি দেশের ৪৭তম ও আওয়ামী লীগ সরকারের ১৮তম এবং অর্থমন্ত্রীর ১২তম বাজেট প্রস্তাব। ‘সমৃদ্ধ আগামীর পথযাত্রায় বাংলাদেশ’ নাম দিয়ে এবারের বাজেট উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে টানা দশবার বাজেট পেশ করেন মুহিত। দুপুর সাড়ে ১২টার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ ভবনে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জন্য এই বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে মন্ত্রী, সচিবসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। এরপর মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পাওয়া প্রস্তাবিত বাজেটে সম্মতিসূচক স্বাক্ষর করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। বাজেট অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। এবার মূল বাজেটের যে আকার মুহিত ধরেছেন, তা বাংলাদেশের মোট জিডিপির ১৮ দশমিক ৩ শতাংশ। গতবছর প্রস্তাবিত বাজেট ছিল জিডিপিরি ১৮ শতাংশ। সে হিসেবে এবার দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। অবশ্য এক বছরের ব্যবধানে দেশের জিডিপিও বড় হয়েছে। যদিও ব্যাংক লুটের ঘটনায় অর্থনীতি ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে। ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকার এই বাজেটের মধ্যে উন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৭৯ হাজার ৬৬৯ কোটি টাকা। এরমধ্যে ১ লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকা যাবে সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি)। আর অনুন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ৮২ হাজার ৪১৫ কোটি টাকা, যা বিদায়ী অর্থবছরের সংশোধিত অনুন্নয়ন বাজেটের চেয়ে ৩৪ শতাংশ বেশি। চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের মূল বাজেট ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট ৩ লাখ ৭১ হাজার ৪৯৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ আগামী বাজেটের আকার সংশোধিত বাজেট থেকে প্রায় ৯৩ হাজার কোটি টাকা বেশি। বিশাল এই বাজেটে ব্যয় মেটাতে সরকারি অনুদানসহ আয়ের পরিমাণ ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৪৩ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ৯৬ হাজার ২০১ কোটি টাকা। এনবিআর-বহির্ভূত কর ৯ হাজার ৭২৭ কোটি টাকা। কর ব্যতীত রাজস্ব প্রাপ্তি ৩৩ হাজার ৩৫২ কোটি টাকা। বৈদেশিক অনুদান ৪ হাজার ৫১ কোটি টাকা। মোট ঘাটতি ১ লাখ ২১ হাজার ২৪২ কোটি টাকা। সরকারের অর্থায়নে অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থা থেকে ঋণ ধরা হয়েছে ৭১ হাজার ২২৬ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে যা আছে ৬০ হাজার ৩৫২ কোটি টাকা। এদিকে, নিট ঋণ ধরা হয়েছে ৫০ হাজার ১৬ কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ ঋণ ৭১ হাজার ২২৬ কোটি টাকা। বাজেটে জিডিপি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭ দশমিক ৮ শতাংশ। মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। বাজেটে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বিদ্যুৎ খাতে। নতুন বাজেটে ঘাটতি মেটাতে অর্থমন্ত্রী বৈদেশিক উৎস থেকে মোট ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছেন ৬০ হাজার ৫৮৫ কোটি টাকা। সেখান থেকে ১০ হাজার ৫৬৯ কোটি টাকা বিদেশি ঋণ পরিশোধ বাবদ খরচ হবে। সরকারের নিট বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ দাঁড়াবে ৫০ হাজার ১৬ কোটি টাকা। ঘাটতির বাকি ৭১ হাজার ২২৬ কোটি টাকা নেওয়া হবে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে। এরমধ্যে ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া হবে ৪২ হাজার ২৯ কোটি টাকা, সঞ্চয়পত্র থেকে নেওয়া হবে ২৬ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা। বাকি তিন হাজার কোটি টাকা অন্যান্য উৎস থেকে। *বাজেট ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি * উন্নয়ন ১ লাখ ৭৯ হাজার ৬৬৯ কোটি *অনুন্নয়ন ২ লাখ ৮২ হাজার ৪১৫ কোটি *আয় ৩ লাখ ৪৩ হাজার ৩৩১ কোটি *রাজস্ব ২ লাখ ৯৬ হাজার ২০১ কোটি *ঘাটতি ১ লাখ ২১ হাজার ২৪২ কোটি *অভ্যন্তরীণ ঋণ ৭১ হাজার ২২৬ কোটি *বৈদেশিক ঋণ ৬০ হাজার ৫৮৫ কোটি *জিডিপি ৭ দশমিক ৮ শতাংশ *মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৬ শতাংশ
বন্দুকযুদ্ধে নিহত ৩
রংপুর, ঠাকুরগাঁও এবং দিনাজপুরে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে কথিত বন্দুকযুদ্ধে তিনজন মারা গেছেন। পুলিশের দাবি নিহতরা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। ঠাকুরগাঁও: রাণীশংকৈল উপজেলার নেকমরদ এলাকায় পুলিশের সাথে কথিত বন্দুকযুদ্ধে শামীম হোসেন (৪২) নামে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আড়াইটায় ঠাকুরগাঁও জেলার নেকমরদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত শামীম হোসেন রাণীশংকৈল উপজেলার নেকমরদ এলাকার মৃত আব্দুল সাত্তারের ছেলে বলে জানা যায়। পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে উপজেলার নেকমরদ এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় শামীমসহ কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ী পুলিশের উপস্থিতি বুঝতে পেরে তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এসময় পুলিশ মাদক ব্যবসায়ীদের লক্ষ্য করে পাল্টাগুলি চালায়। উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি গুলি বর্ষণের ফলে শামীম হোসেন (৪২) নামে এক মাদক ব্যবসায়ী ঘটনাস্থলে নিহত হন। পরে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে মর্গে পাঠায়। রাণীশংকৈল থানার ওসি আব্দুল মান্নান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় মাদক ব্যবসায়ীরা হামলা করলে পুলিশও পাল্টা হামলা করে ও শামীম হোসেন নামের এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়। শামীমের বিরুদ্ধে রাণীশংকৈল থানায় মাদকের একাধিক মামলা রয়েছে। রংপুর: সিটি করপোরেশনের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কুকরুল আমেরতল তিন রাস্তার মোড়ে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে ‌‌'বন্দকযুদ্ধে' একজন নিহত হয়েছেন। নিহত আবু মুসা বিষকালাই (২৭) ওই ওয়ার্ডের হনুমানতলা বস্তির আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে। তার নামে কোতোয়ালি থানায় মাদক ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ১১টি মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। রংপুর সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুর রহমান বলেন, মাদক কেনাবেচার খবর পেয়ে কুকরুল আমেরতল এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি করে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়।এতে ঘটনাস্থলেই মুসা মারা যান। দিনাজপুর: সদর উপজেলার খাড়িপাড়া এলাকায় বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে গোলাগুলির খবর পেয়ে সেখানে অভিযান চালায় পুলিশ। পরে ঘটনাস্থল থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়। দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে লাশ পাঠানো হয়েছে। দুইদল মাদক বিক্রেতাদের মধ্যে গোলাগুলিতে ওই ব্যক্তি নিহত হয়েছে বলে দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার ওসি রেদওয়ানুর রহিম জানান।
শবে কদরের ছুটি ২ জুনের পরিবর্তে ১৩ জুন নির্ধারণ
আসছে শবে কদরের ছুটি পুনঃনির্ধারণ করেছে সরকার। শবে কদরের ছুটি ছিল ১২ জুন। ১২ জুনের পরিবর্তে ছুটি থাকবে ১৩ জুন। বাংলাদেশের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় শবে কদরের নতুন ছুটির তারিখ পুনঃনির্ধারণ করে মঙ্গলবার এই আদেশ জারি করে। সরকারি ওই আদেশে বলা হয়, দ্য নেগোশিয়েবল ইন্সট্রুমেন্টস অ্যাক্ট- ১৮৮১ এর ২৫ ধারার বিশ্লেষণে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে নির্বাহী আদেশে শবে কদরের ছুটি পুনঃনির্ধারণ করা হলো। আদেশে আরো বলা হয়, যে সকল অফিসের সময় সূচি ও ছুটি তাদের নিজস্ব আইন-কানুন দ্বারা নির্ধারিত হয়ে থাকে সে সকল অফিস, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের চাকরি সরকার কর্তৃক অত্যাবশ্যক চাকরি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অফিস, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান নিজস্ব আইন-কানুন অনুযায়ী জনস্বার্থ বিবেচনা করে এ ছুটি ঘোষণা করবে। সরকারি ওই আদেশে আরও বলা হয়, ২০১৮ সালের ছুটির বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী, ১৭ মে থেকে রোজা শুরু হবে এমনটা ধরে ১২ জুন নির্বাহী আদেশে শবে কদরের সরকারি ছুটি নির্ধারিত ছিল। কিন্তু গত ১৮ মে থেকে রোজা শুরু হওয়ায় ১২ জুন শবে কদরের রাতে ইবাদত বন্দেগী করবেন ধর্মপ্রাণ মসুলমানরা। এজন্য শবে কদরের ছুটি পুনঃনির্ধারণ করে ১৩ জুন করা হয়েছে।

জাতীয় পাতার আরো খবর