আমি কখনই কোনো উপহার গ্রহণ করি না: প্রতিমন্ত্রী ইমরান আহমদ
অনলাইন ডেস্ক: প্রতিমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথমবারের মতো নিজ এলাকায় আসেন সিলেট-৪ আসনের সংসদ সদস্য, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী ইমরান আহমদ। এ সুযোগে প্রতিমন্ত্রীকে খুশি করতে গত বুধবার রাতে তার বাসায় ট্রাকভর্তি বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী পাঠান গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল জলিল। স্থানীয় বেশ কয়েকটি সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সকালে ঘুম থেকে ওঠে এই ট্রাক দেখে ক্ষুব্ধ হন প্রতিমন্ত্রী ইমরান। সঙ্গে সঙ্গেই তিনি খাদ্যসামগ্রী সমেত ট্রাক ফেরত পাঠান ওসির কাছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, আমি কখনই কোনো উপহার গ্রহণ করি না। সে (ওসি) না জেনেই এগুলো পাঠিয়েছিল। আমি তা ফিরিয়ে দিয়েছি। আগামীতে কেউ যেন আমার কাছে কোনো উপহার না নিয়ে আসে বিষয়টি স্পষ্ট করতে ওইসব ফেরত পাঠিয়েছি, বলেন প্রতিমন্ত্রী। তবে এ ব্যাপারে গোয়াইনঘাট থানার ওসি মো. আব্দুল জলিল কিছু জানেন না বলে মন্তব্য করেছেন।
সবার জন্য কাজ করবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক: বর্তমান সরকার দলীয় সম্পৃক্ততা নির্বিশেষে সবার জন্য কাজ করে যাবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেষ হাসিনা। একাদশ সংসদ নির্বাচনে অর্জিত বিশাল জয় উদযাপনে শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগ আয়োজিত মহাসমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষ দীর্ঘদিন পর স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিতে পেরেছে। ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে নির্বাচিত করায় তিনি দেশবাসীকে ধন্যবাদ জানান। এছাড়া, তিনি সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোকে এবং অবাধ নির্বাচন উপহার দেয়ায় নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ জানান। নির্বাচনে অংশ নেয়া সব রাজনৈতিক দলকেও ধন্যবাদ জানান শেখ হাসিনা। ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়া একাদশ সংসদ নির্বাচনে ২৫৭ আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট ২৯৯ আসনের মধ্যে জয়লাভ করে ২৮৮ আসনে। জোট সঙ্গী জাতীয় পার্টি পায় ২২টি আসন।
প্রধানমন্ত্রীর নামে ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট, গ্রেফতার ৫
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাম ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভুয়া অ্যাকাউন্ট তৈরির দায়ে পৃথক অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে Rab। বাহিনীর এক ক্ষুদে বার্তায় জানানো হয়, গ্রেফতার ব্যক্তিদের পরিচয় ও বিস্তারিত তথ্য বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলন করে জানানো হবে। তবে Rabসদরদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, সাইবার অপরাধের অভিযোগ পাঁচজনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। সূত্র আরও জানায়, অভিযুক্তরা প্রধানমন্ত্রী, তার পরিবারের সদস্য ও অন্য জাতীয় নেতাদের নামে ভুয়া প্রোফাইল তৈরি করে মানুষের সাথে প্রতারণা, চাঁদাবাজি ও অপপ্রচার চালাতেন। এছাড়া তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়ানো এবং মিথ্যা ও সরকারবিরোধী প্রচারণায় জড়িত ছিলেন।-ইউএনবি
যা প্রয়োজন তা মেটাচ্ছি, তাহলে দুর্নীতি কেন : প্রধানমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের মতো দুর্নীতির বিরুদ্ধেও জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে সরকার। টেকসই উন্নয়নের জন্য সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়ে তোলা দরকার। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে সচিবালয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় পরিদর্শনে গিয়ে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। এই মন্ত্রণালয়টি প্রধানমন্ত্রী নিজের হাতে রেখেছেন। দুর্নীতি দমনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি ও প্রশাসনের সব পর্যায়ে স্বচ্ছতা ও জাবাবদিহি নিশ্চিত করার ঘোষণা দিয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনা বলেন, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির যেমন আমরা ঘোষণা দিয়েছি, তেমনি দুর্নীতির বিরুদ্ধেও আমি জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা দিয়েছি। এই কারণে আমরা কিন্তু এখন যেমন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী সবার জন্য বেতন-ভাতা থেকে শুরু করে সবকিছু ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করে দিয়েছি। আমি তো মনে করি যে, এখন আর ওই দুর্নীতির প্রয়োজন না। যা প্রয়োজন সেটা তো আমরা মেটাচ্ছি। তাহলে দুর্নীতি কেন হবে? কাজেই এখানে মানুষের মন-মানসিকতাটা পরিবর্তন করতে হবে। এবং সুনির্দিষ্ট একটা নির্দেশনা আপনাদের যেতে হবে একেবারে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত যে, কেউ যদি এ ধরনের দুর্নীতিগ্রস্ত হয় সঙ্গে সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে, বলেন শেখ হাসিনা। তিনি আরো বলেন, সব রকম সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া ও তৃণমূলের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করাই এই সরকারের লক্ষ্য। বিগত সময়ে সরকার ও রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপির বিভিন্ন সন্ত্রাসী কার্যকলাপের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ২০১৩-তে ডিসেম্বর থেকে ২০১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত এই সন্ত্রাস চলতে থাকে। এরপর আবার ২০১৫-তে সেই অগ্নিসন্ত্রাস এবং... তা ছাড়া ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত বারবার দুর্নীতিতে, মানে সারা বিশ্বে দুর্নীতিবাজ একটা দেশ হিসেবে বাংলাদেশ স্বীকৃতি পায়। এ ধরনের... আর তা ছাড়া জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, বাংলা ভাই, মাদক নানা ধরনের ঘটনায় মানুষের জীবনযাপন অতিষ্ঠ হয়। আন্তর্জাতিকভাবেও বাংলাদেশের ভাবমূর্তি দারুণভাবে ক্ষুণ্ণ হয়। প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, যে কারণে জনগণ আমাদের ভোট দিয়ে বারবার নির্বাচিত করেছে। এবার নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করেছি একটানা তৃতীয়বার। কাজেই এ ক্ষেত্রে আমি এটুকু বলব যে, তৃতীয়বারে একটানা যেমন সরকার এসেছে, এটা একটা যেমন সুযোগ দেশের মানুষের জন্য কাজ করার, আমি সেটাই মনে করি। প্রধানমন্ত্রী হওয়াটা বড় কথা না, দেশের জন্য কতটুকু কাজ করতে পারব (সেটাই বড় কথা)। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে দ্রুত সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ বাস্তবায়ন করা হবে বলেও জানান। দেশকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব স্মরণ করিয়ে দিয়ে সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
যেসব রাস্তা বন্ধ থাকবে আ.লীগের বিজয় উৎসবের দিনে
অনলাইন ডেস্ক: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ব্যবধানে বিজয় উদযাপন করতে যাচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এ উপলক্ষে আগামী শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিজয় উৎসব করবে দলটি। ঢাকা মহানগরীসহ আশপাশের জেলা থেকে দলের নেতাকর্মীরা এদিন সকাল থেকেই হাজির হবেন স্বাধীনতা সংগ্রামের স্মৃতিবিজড়িত এই উদ্যানে। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ দিন তিনি সরকারের আগামী দিনের রূপরেখার ব্যাপারে নীতিনির্ধারণী বক্তব্য দেবেন বলে জানা গেছে। বিশাল এই মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে। আজ বৃহস্পতিবার ডিএমপির পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে গাবতলী, মিরপুর রোড হয়ে আগতরা সায়েন্সল্যাব-নিউমার্কেট হয়ে নীলক্ষেতে নেমে পায়ে হেঁটে টিএসসি হয়ে বিভিন্ন গেট দিয়ে উদ্যানে প্রবেশ করবেন এবং তাঁদের বাসগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের মল চত্বর এবং নীলক্ষেত হতে পলাশী পর্যন্ত রাস্তার উভয় পার্শ্বে এক লাইনে পার্ক করবেন। উত্তরা হতে এয়ারপোর্ট রোড হয়ে মহাখালী-মগবাজার-কাকরাইল চার্চ- রাজমনি ক্রসিং-নাইটিংগেল-পল্টন মোড়-জিরো পয়েন্ট অথবা খিলক্ষেত ফ্লাইওভার-বাড্ডা-গুলশান-রামপুরা রোড-মৌচাক ফ্লাইওভার-মালিবাগ- শান্তিনগর-রাজমনি ক্রসিং-নাইটিংগেল হয়ে পল্টন মোড়/জিরো পয়েন্ট হয়ে আগতরা পল্টন মোড়/জিরো পয়েন্টে নেমে হেঁটে দোয়েল চত্বর হয়ে উদ্যানের বিভিন্ন গেট দিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে যাবেন এবং তাঁদের বাসগুলো মতিঝিল এলাকায় পার্ক করবেন। উত্তরা/এয়ারপোর্ট হতে আগত গাড়িগুলোর পার্কিং স্থান মতিঝিল/গুলিস্তানে সংকুলান না হলে প্রয়োজনে হাতিরঝিল এলাকায় পার্ক করা হতে পারে। পূর্বাঞ্চল হতে যাত্রাবাড়ী হয়ে এবং দক্ষিণাঞ্চল হতে পোস্তগোলা হয়ে মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারের নিচ দিয়ে আগত ব্যক্তিরা গুলিস্তানে নেমে হেঁটে জিরো পয়েন্ট-দোয়েল চত্বর হয়ে অনুষ্ঠানস্থলে গমন করবেন এবং তাদের বাসগুলো মতিঝিল/গুলিস্তান এলাকায় পার্ক করবেন। যাঁরা মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারের ওপর দিয়ে চানখাঁরপুল হয়ে আসবেন, তাঁরা চানখাঁরপুল নেমে হেঁটে দোয়েল চত্বর হয়ে উদ্যানের বিভিন্ন গেট দিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করবেন এবং তাঁদের বাসগুলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জিমনেশিয়াম মাঠে পার্ক করবেন। বাবুবাজার ব্রিজ হয়ে আগতরা গোলাপ শাহ মাজারে নেমে হেঁটে হাইকোর্ট-দোয়েল চত্বর হয়ে উদ্যানের বিভিন্ন গেট দিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করবেন এবং তাঁদের বাসগুলো গুলিস্তান এলাকায় পার্ক করবেন। শাহবাগ হতে মৎস্য ভবন পর্যন্ত সড়ক সর্বসাধারণের চলাচলের জন্য বন্ধ থাকবে এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের চারদিকের রাস্তায় যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে। অনুষ্ঠানস্থলে প্রধানমন্ত্রীসহ সম্মানিত ব্যক্তিদের গমনাগমন উপলক্ষে ওই দিন ভোর হতে অনুষ্ঠান শেষ না হওয়া পর্যন্ত অনুষ্ঠানস্থলের চারপাশের বিভিন্ন ইন্টারসেকশন, যেমন বাংলামোটর, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, শাহাবাগ, কাঁটাবন, নীলক্ষেত, পলাশী, বকশীবাজার, চানখাঁরপুল, গোলাপ শাহ মাজার, জিরো পয়েন্ট, পল্টন, কাকরাইল চার্চ, অফিসার্স ক্লাব, মিন্টো রোড ক্রসিংগুলো হতে গাড়ি ডাইভারশন দেওয়ার প্রয়োজন পড়তে পারে। অনুষ্ঠানস্থলে আগত ব্যক্তিদের কোনো প্রকার হ্যান্ডব্যাগ, ট্রলি ব্যাগ, দাহ্য পদার্থ বা ধারালো কোনো বস্তু বহন না করা এবং কর্তব্যরত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করার জন্য অনুরোধ করা হলো।
সংসদ সদস্যদের শপথের বৈধতা নিয়ে রিট খারিজ
অনলাইন ডেস্ক: দশম জাতীয় সংসদ না ভেঙে দিয়ে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নেওয়া শপথের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিট উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। আজ বৃহস্পতিবার বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রিটের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। এর আগে ১৪ জানুয়ারি হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন এ রিট দায়ের করেন। গত ৮ জানুয়ারি সংবিধান অনুসারে দশম জাতীয় সংসদ না ভেঙে দিয়ে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নেওয়া শপথের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে জাতীয় সংসদের স্পিকার, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে আইনি নোটিশ দেওয়া হয়। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. তাহেরুল ইসলাম তাওহীদের পক্ষে নোটিশটি প্রেরণ করেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন। নোটিশে বলা হয়, সংবিধানের ১২৩(৩) অনুচ্ছেদে সংসদ ভেঙে দিয়ে পুনরায় সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত হওয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু সে অনুচ্ছেদ প্রতিপালন না করে পুনরায় সংসদ সদস্যরা শপথ নেওয়ায় বর্তমানে দুটি সংসদ বহাল রয়েছে, যা সংবিধান পরিপন্থী। কিন্তু সে নোটিশের কোনো জবাব না পাওয়ায় হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়। গত ৭ জানুয়ারি বিকেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে শপথ নেন নতুন মন্ত্রিসভার ৪৭ সদস্য। নিয়ম অনুযায়ী প্রথমে প্রধানমন্ত্রী এবং পরে পর্যায়ক্রমে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীরা শপথ নেন।
ডিসেম্বরেই চলবে মেট্রোরেল
অনলাইন ডেস্ক: মেট্রোরেল প্রকল্পের উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত প্রথম ধাপের কাজের অগ্রগতি এখন দৃশ্যমান। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই গতি ব্যাহত না হলে চলতি বছরেই শুরু হবে রেল চলাচল। তবে দ্বিতীয় ধাপের কাজের শুরুতেই শঙ্কা দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, ফার্মগেট থেকে মতিঝিল এলাকায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে প্রভাব পড়বে প্রকল্পে। সেক্ষেত্রে বিকল্প ব্যবস্থার কথা বলছেন প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। রাজধানীর উত্তরায় এরই মধ্যে দু টি পিলারের মধ্যে একে একে গার্ডার জোড়া দিয়ে এখন দৃশ্যমান মেট্রোরেলের লাইন। এই গার্ডারের দু পাশেই বসবে দুটি রেল লাইন। উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত এলাকায় একে একে মাথা তুলে দাঁড়াচ্ছে একেকটি পিলার। অন্যদিকে দিয়াবাড়িতে তৈরি আছে গার্ডার। সবকিছু ঠিক থাকলে ডিসেম্বরেই এই রুটে চলবে মেট্রোরেল। মেট্রোরেল ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ এন ছিদ্দিক বলেন, 'ভায়াডাক্টটা যে দেড় কিলোমিটার রয়েছে, আসতে আসতে হয়ত ৬০-৭০ শতাংশ হয়ে যাবে। আমরা সেখান থেকেই কিন্তু রেললাইন বসাতে থাকবো, যাতে ট্রেন আসার পর ট্রেন চালু করা যায়। অন্যদিকে দ্বিতীয় ধাপের কাজ গত ডিসেম্বর পর্যন্ত হয়েছে দুই দশমিক চার শতাংশ। আগারগাঁও থেকে পল্লবী অংশের কাজেই ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় যেখানে নগরবাসীকে হিমশিম খেতে হয়, সেখানে ফার্মগেট, কারওয়ানবাজার, শাহবাগ, মতিঝিলের মত ব্যস্ততম এলাকায় এই বিশাল কর্মযজ্ঞ পরিচালনা, সংশ্লিষ্টদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। নগর পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক আকতার মাহমুদ বলেন, এই সময়টাতে আমাদের যে নাগরিক দুর্ভোগটা হয়, সেটাকে ব্যবস্থাপনা করাটাই একটা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ। এটাকে যতটাই সহনীয় পর্যায়ে আনতে পারবো ততটাই স্বস্তি ফিরে আসবে। এ ক্ষেত্রে প্রথম ধাপের কাজের অভিজ্ঞতা থেকে বিকল্প ট্রাফিক প্ল্যানের কথা বলছেন কর্তৃপক্ষ।
টিআইবির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করলেন সিইসি
অনলাইন ডেস্ক: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অনিয়ম নিয়ে ট্রান্সপেরেন্সি ইন্টারন্যাশাল বাংলাদেশের (টিআইবি) প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা। তিনি বলেছেন, ভোটের দিন গণমাধ্যম, নির্বাচনী কর্মকর্তা, নির্বাহী-বিচারিক হাকিম ও আইন-শৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকা কারও কাছ থেকে অনিয়মের কোনো তথ্য না পাওয়ায় টিআইবির প্রতিবেদনকে প্রত্যাখ্যান করছি। এর আগে নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলামও টিআইবির প্রতিবেদনকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। বুধবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে আগারগাঁওয়ে নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউটে (ইটিআই) এক অনুষ্ঠান শেষে সিইসি কেএম নূরুল হুদা সাংবাদিকদের একথা বলেন। টিআইবির প্রতিবেদন বিষয়ে জানতে চাইলে সিইসি বলেন, তাদের প্রতিবেদন পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করছি। কারণ তারা (টিআইবি) অনিয়মের অভিযোগ তুললেও সেদিন গণমাধ্যম ও নির্বাচনের মাঠে থাকা ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা, ম্যাজিস্ট্রেট, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছ থেকে কোনো ধরনের অনিয়ম হয়েছে বলে তথ্য পাইনি আমরা। এজন্য টিআইবির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করছি। ইসি ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ ও বিতর্কিত বলেও মন্তব্য করেছে টিআইবি। এ বিষয়ে টিআইবির বক্তব্যকে অসৌজন্যমূলক বলে মন্তব্য করেন সিইসি। তবে টিআইবির বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়েও উদ্যোগী হবেন না বলে জানান সিইসি। তিনি বলেন, এটা অসৌজন্যমূলক বক্তব্য, তাদের এভাবে কথাগুলো বলা ঠিক হয়নি। তবে আমরা এ নিয়ে কোনো ব্যবস্থা নেব না। প্রসঙ্গত, ভোটের অনিয়ম নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে টিআইবি। দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাটি ৫০টি আসনের মধ্যে অন্তত ৪১টি আসনে কোনো না কোনো অনিয়ম হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানায়। সেই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলে সংস্থাটি। সেদিনই নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম বলেন, টিআইবি যে প্রতিবেদনটিকে গবেষণা বলে দাবি করছে, তা কোনো গবেষণা নয়। প্রতিবেদন মাত্র। কেননা, গবেষণা করতে যে সব পদ্ধতি প্রয়োগ করতে হয়, তা এখানে প্রয়োগ করা হয়নি। এটি সম্পূর্ণরূপে মনগড়া প্রতিবেদন। এছাড়া বলা হয়েছে- এটা তা
মুসলিম উম্মাহর ঐক্যে গুরুত্বারোপ প্রধানমন্ত্রীর
অনলাইন ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুসলিম বিশ্বের ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেছেন, এই উম্মাহর একসঙ্গে থাকা উচিত। তিনি বলেন, মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে সৃষ্ট সংঘাতে ওই দেশগুলোর জনগণকেই ভোগান্তির শিকার হতে হয়। এজন্য মুসলিম উম্মাহর মধ্যে কোনো সমস্যা দেখা দিলে তা আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেই সমাধানের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশে নবনিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ রেজা নাওফর বুধবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁওস্থ কার্যালয়ে তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এলে শেখ হাসিনা এ অভিমত ব্যক্ত করেন। বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। বৈঠকে দু দেশের মধ্যে অভিন্ন সাংস্কৃতিক বন্ধনের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি হচ্ছে- সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব এবং কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়। ইরানের জনগণকে সাহসী হিসেবে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ইরানের অর্থনীতির উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হচ্ছে। বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের অসাধারণ দিকসমূহ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের জনগণের জীবন-মানের উন্নয়নে তার সরকার কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছে। তিনি বলেন,আমরা দারিদ্র্যের হার ২১ শতাংশে নামিয়ে এনেছি এবং আমাদের উন্নয়ন নীতিমালা হচ্ছে গ্রামকেন্দ্রিক। বাংলাদেশে বিরাজমান ধর্মীয় সম্প্রীতির উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখানে সব ধর্মের মানুষ একত্রে যেকোন ধর্মীয় উৎসবে অংশগ্রহণ করে। তিনি বাংলাদেশে নবনিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানিয়ে ইরানের রাষ্ট্রপতির প্রতি শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন। শেখ হাসিনা বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনকালীন তার সরকারের পক্ষে থেকে সম্ভাব্য সব রকমের সহযোগিতা প্রদানে রাষ্ট্রদূতকে আশ্বাস দেন। প্রধানমন্ত্রী ২০১২ সালে ষষ্ঠ ন্যাম সম্মেলন এবং ১৯৯৭ সালে ওআইসি সম্মেলনে যোগ দিতে তার ইরান সফরের কথা স্মরণ করেন। ইরানের রাষ্ট্রদূত বৈঠকে ৩০ ডিসেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে তার দলের বিপুল বিজয়ে ইরানের রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানান। রেজা নাওফর শেখ হাসিনাকে একজন বিচক্ষণ ও দূরদর্শী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অভিহিত করে বলেন, আমরা ইরানের সব মানুষ আপনাকে ভালবাসি। তিনি দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর সুষম উন্নয়ন নীতিমালার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের উত্তরণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানান। বাংলাদেশ ও ইরানের মধ্যে বিদ্যমান ধর্মীয় এবং সাংস্কৃতিক মেল বন্ধনের উল্লেখ করে রেজা নাওফর বলেন, আমাদের এই সম্পর্ককে আমাদের আরো এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। রাষ্ট্রদূত বলেন, দুই দেশের মধ্যে আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভাল সহযোগিতা রয়েছে। রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক সম্পর্কও সুন্দর অবস্থানে রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিমাণ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, এটি বর্তমানে সন্তোষজনক অবস্থা নেই। পশ্চিমা অবরোধ সত্ত্বেও ইরান এগিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, আমরা এই অঞ্চলের উত্তেজনা প্রশমনে কাজ করে যাচ্ছি, কেননা আমরা কোন যুদ্ধবাজ দেশ নই। এই অঞ্চলের উত্তেজনা প্রশমনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যেকোন উদ্যোগকে ইরান স্বাগত জানাবে, বলে জানান ইরানের রাষ্ট্রদূত। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় পাতার আরো খবর