জাফর ইকবালের ওপর হামলায় প্রধানমন্ত্রীর নিন্দা
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবালের ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে প্রকৃত দোষীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। চিকিৎসাধীন মুহম্মদ জাফর ইকবালের তিনি নিয়মিত খোঁজখবর রাখছেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এদিকে আওয়ামী লীগের দপ্তর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জাফর ইকবালের ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, জাফর ইকবালের মতো সবার শ্রদ্ধাভাজন দেশবরেণ্য শিক্ষকের ওপর এই ধরনের হামলা দেশে অশুভ শক্তির অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির ইঙ্গিত বহন করে।
আহত ড. জাফর ইকবালকে (সিএমএইচ) নেয়া হয়েছে
ছুরিকাঘাতে আহত ড. জাফর ইকবালকে নিয়ে বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টার করে ঢাকা নিয়ে আসা হয়েছে। রোববার রাত ১২টার দিকে তিনি ঢাকায় পৌঁছেন। পরে ঢাকা সেনানিবাসস্থ সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেয়া হয়েছে। এর আগে শনিবার বিকেলে ৫টার দিকে সিলেটে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের ওপর হামলা করেন এক যুবক। ধারালো অস্ত্র দিয়ে পেছন দিক থেকে তার মাথায় আঘাত করেন। এতে অধ্যাপক জাফর ইকবালের প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। ঘটনার পর হামলাকারীকে আটক করেছে পুলিশ। তার নাম ফজলুল রহমান। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে কুমারগাঁওয়ের বাসিন্দা, সে মাদ্রাসার ছাত্র। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া বিভাগ থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। হামলার পর জাফর ইকবালকে আহত অবস্থায় সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নেয়া হয়। সেখানে তাকে এক্সে ও সিটি স্ক্যান করা হয়। এরপরেই ড.জাফর ইকবালকে উন্নত চিকিৎসা দেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টারে করে ঢাকায় আনার সিদ্ধান্ত হয়। ড. জাফর ইকবালের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে প্রকৃত দোষীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়া, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পক্ষ থেকেও নিন্দা জানানো হয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন-এ- সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ-মিছিল করেছেন ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থীরা। সন্ধ্যায় রাজধানীর শাহবাগেও বিক্ষোভ সমাবেশ ও মশাল মিছিল করেন গণজাগরণ মঞ্চ। দেশের জনপ্রিয় শিশুসাহিত্যিক এবং কলাম-লেখক জাফর ইকবাল বর্তমানে শাবিপ্রবি’র কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক এবং তড়িৎ কৌশল বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
আগামী নির্বাচনে ইনশাল্লাহ আওয়ামী লীগ বিজয়ী হবে : প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশের উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতে হলে আগামী নির্বাচনে নৌকায় ভোট দিতে হবে। বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতাসীন হলে দুর্নীতি, জঙ্গি ও সন্ত্রাসী তৈরি, পুড়িয়ে মানুষ হত্যা ছাড়া আর কিছু করতে পারে না। আওয়ামী লীগই দেশের উন্নয়ন করতে পারে। শনিবার খুলনা সার্কিট হাউজ ময়দানে খুলনা জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। তিনি বলেন, আমি আজ এখানে ৪৮টি প্রকল্প উদ্বোধন এবং ৫২টির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে দিয়েছি। এর ফলে এই অঞ্চলের সার্বিক উন্নতি হবে। আমরা বন্ধ কলকারখানা খুলে দিয়েছি। আমি ’৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে রূপসা ব্রিজ করে দিয়েছিলাম। এবার যশোর থেকে বাগেরহাট হয়ে মংলা পর্যন্ত রেললাইন যাবে। এর নির্মাণ শুরু করে দিয়েছি। তিনি বলেন, আমরা জনগণের কল্যাণের জন্য যা যা ওয়াদা করেছিলাম তা করেছি। আমরা বয়স্ক, বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তাদের ভাতার ব্যবস্থা করেছি। ৬৮ লাখ মা-বোন ভাতা পাচ্ছেন। তিনি বলেন, আপনাদের ছেলেমেয়েরা পড়াশোনা করে। তাদের বই আপনাদের কিনতে হয় না। বইর দায়িত্ব আমি নিয়েছি। জানুয়ারি মাসের ১ তারিখে আমি প্রায় ৩৬ কোটি বই ছেলেমেয়ের হাতে তুলে দিয়েছি। প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত দুই কোটি তিন লাখ ছাত্রছাত্রীকে বৃত্তি দিচ্ছি। তিনি মানুষ যাতে বিনা খরচে স্বাস্থ্যসেবা পেতে পারে সেজন্য কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন, খুলনায় বিশেষায়িত হাসপাতাল স্থাপনসহ অন্যান্য পদক্ষেপ গ্রহণের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দেশের একজন মানুষও যাতে গৃহহীন না থাকে সেজন্য ঘরবাড়ির ব্যবস্থা করে দিয়েছি। বাংলাদেশের মানুষ কেউ কুঁড়েঘরে বাস করবে না। প্রতিটি পরিবার পিছু একটি করে টিনের ঘর আমরা করে দেবো। তিনি কৃষকদের উন্নতির জন্য গৃহীত পদক্ষেপের বর্ণনা দিতে গিয়ে তার গৃহীত একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের কথা বলেন। সেই সাথে কৃষক তাদের উৎপাদিত কৃষি পণ্যের ন্যায্যমূল্য যাতে পায় তার ব্যবস্থা করেছি বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, আমরা সারের মূল্য বারবার কমিয়ে দেয়া, দুই কোটি কৃষককে কৃষি উপকরণ প্রদান করা এবং এক কোটি কৃষকের ব্যাংকে ১০ টাকায় অ্যাকাউন্ট খোলার ব্যবস্থা করে দিয়েছি। তিনি যুবকদের বিদেশে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হচ্ছে জানিয়ে বলেন, এখন আর বিদেশ যেতে জমি জায়গা বিক্রি করতে হবে না। কর্মসংস্থান ব্যাংক থেকে দুই লাখ যুবকের বিনা জামানতে ঋণ পাওয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছি। তিনি বলেন, বাচ্চা স্কুলে পাঠালে এক লাখ ৩০ হাজার মা বোনকে টাকা দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাদের মোবাইলে টাকা চলে যাবে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার আগে মা-বোনেদের হাতে মোবাইল ফোন ছিল না। এখন সবার হাতে মোবাইল আছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। বিএনপির কাজ ছিল জঙ্গি, সন্ত্রাসী তৈরি আর আগুনে মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করা। ২০০১ সালে তারা ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় খুলনায় হত্যাকাণ্ড শুরু করে। তারা সাংবাদিক মানিক সাহা, হুমায়ুন কবীর বালু ও হারুন, আওয়ামী লীগ নেতা মঞ্জুরুল ইমামসহ অনেক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীকে হত্যা করে। তিনি বলেন, এ সময় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ছিল সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য। আমরা ক্ষমতায় আসার পর এ অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেছি। শিক্ষক-অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ছাত্ররা স্কুল-কলেজে যাচ্ছে কিনা, মাদকাসক্ত হচ্ছে কিনা সেদিকে লক্ষ্য রাখুন। আপনারা সন্তানদের খোঁজখবর নিন যাতে তার জঙ্গিবাদের সাথে জড়িয়ে না পড়ে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা দেশের শান্তি, উন্নতি ও কল্যাণ চাই। আমরা দশ লাখ লোকের বিদেশে এবং দেশে দেড় কোটি লোকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছি। আমরা চার লাখ কোটি টাকার বাজেট দিয়েছি। আমরা যখন ক্ষমতায় এসেছিলাম তখন ১৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হতো। এখন ১৬ হাজার মেগাওয়াট আমরা উৎপাদন করেছি। ২০০১ সালে আমরা ঘরে ঘরে আলো জ্বালব। তিনি বলেন, আমরা উন্নয়ন করতে চাই। বিএনপি-জামায়াত মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করে। খালেদা জিয়া অফিসে বসে বিরানী খান আর মানুষ পুড়িয়ে হত্যার হুকুম দেন। ২০১৪ সালের নির্বাচনের সময় তারা গ্রামে বিদ্যুৎকেন্দ্র পুড়িয়ে প্রকৌশলীকে হত্যা করে। সে সময় খালেদা জিয়া পাঁচ শ মানুষকে হত্যা এবং সাড়ে তিন হাজার মানুষকে আহত করে। এখন খালেদা জিয়ার দুর্নীতি করে জেলে গেছে। এখানে আমাদের কিছু করার নেই। জনসভায় সভাপতিত্ব করেন খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হারুনুর রশিদ। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন দলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, ডা: দীপু মনি ও আবদুর রহমান এমপি, প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক, আবু সাঈদ আল মামুন, সাবেক প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান, বিজিএমইএর সভাপতি সালাম মুর্শিদী, শেখ হেলালউদ্দিন এমপি, এস এম কামাল হোসেন, খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি তালুকদার আবদুল খালেক, সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান, অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান পপলু ও কামরুজ্জামান জামাল।
জাফর ইকবালের ওপর হামলায় জড়িত অপরাধীদের শাস্তি দেয়া হবে'
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, বিশিষ্ট লেখক ড.মুহম্মদ জাফর ইকবালের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, এই হামলায় জড়িত অপরাধীদের খুঁজে বের করে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে। শনিবার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে আইনমন্ত্রী একথা বলেন। তিনি বলেন, যে কোন শিক্ষকের ওপর হামলা শুধু নিন্দাজনকই নয়, একটি ঘৃণ্য অপরাধ। তাই অপরাধীদের খুঁজে বের করে উপযুক্ত শাস্তি দেয়া হবে। এর আগে শনিবার বিকেলে ৫টার দিকে সিলেটে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের ওপর হামলা হয়েছে। ধারালো অস্ত্র দিয়ে পেছন দিক থেকে তার মাথায় আঘাত করা হয়। এতে তার প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। ঘটনার পর হামলাকারীকে আটক করেছে পুলিশ। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তার পরিচয় জানা যায়নি। হামলার পর জাফর ইকবালকে আহত অবস্থায় সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নেয়া হয়। সেখানে তাকে এক্সে ও সিটি স্ক্যান করা হয়। এদিকে ড. জাফর ইকবালকে উন্নত চিকিৎসা দেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টারে করে ঢাকায় আনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে আইএসপিআর। এদিকে জাফর ইকবালের ওপর হামলার ঘটনার প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেছেন। দেশের জনপ্রিয় শিশুসাহিত্যিক এবং কলাম-লেখক জাফর ইকবাল বর্তমানে শাবিপ্রবির কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক এবং তড়িৎ কৌশল বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
আজ খুলনা যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ারস, বাংলাদেশ (আইইবি)র ৫৮তম সমাবর্তনে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিতে খুলনা সফরে যাচ্ছেন। দিনব্যাপী সফরে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বিকেলে নগরীর সার্কিট হাউস মাঠে স্থানীয় আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক জনসভায় ভাষণ দেবেন। এছাড়াও তিনি একই স্থানে খুলনার ৪৭টি উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন এবং ৫২টি প্রকল্পের ভিত্তিফলক উন্মোচন করবেন। আইইবির সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুস সবুর বাসসকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী সকাল ১১ টায় নগরীর খালিশপুর কেন্দ্রে আইইবির চার দিনব্যাপী সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন। প্রধানমন্ত্রী যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন সেগুলো হলো- গল্লামারী-বটিয়াঘাটা-দাকোপ-নলিয়ান ফরেস্ট সড়ক, রূপসা-শ্রীফলতলা-তেরখাদা সড়ক, কেডিএ খানজাহান আলী সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একাডেমিক-কাম-প্রশাসনিক ভবন, লায়ন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাডেমিক ভবন, চালনা মোবারক মেমোরিয়াল কলেজের একাডেমিক ভবন, খুলনা আইডিয়াল কলেজের একাডেমিক ভবন, শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের একাডেমিক ভবন, খুলনা ইসলামিয়া ডিগ্রি কলেজের একাডেমিক ভবন, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন, মহেশ্বরপাশা সরকারি শিশু পরিবার হোস্টেল ভবন, মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউ ভবন, মেডিকেল কলেজের অডিটরিয়াম ভবন, শহীদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতাল ভবন, তেরখাদা থানা ভবন, রূপসা ফায়ার স্টেশন ভবন, রূপসা সেনহাটি নদী ফায়ার স্টেশন, বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিস, কৃষি বিভাগের অফিস-কাম-ট্রেনিং এন্ড প্রসেসিং সেন্টার ভবন, রূপসা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন, দিঘলিয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন, তেরখাদা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন, ডুমুরিয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন, পাইকগাছা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন। পাইকাগাছা আরএন্ডএইচ-বাঁকা জিসি সড়কের কপোতাক্ষ নদের উপর ব্রিজ। খুলনা ডায়াবেটিক হাসপাতালের নতুন ভবন। হাতিয়ার ডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন শেল্টার ভবন, শিমলার আইট খেজুরডাঙ্গা আরএনজিপিএস কাম সাইক্লোন শেল্টার ভবন। দেওয়াড়া পশ্চিমপাড়া আরএন জিপিএস কাম সাইক্লোন সেল্টার ভবন, তেরখাদা আব্দুলের মোড় আরএন্ডএইচ-মাঝিরগাথি জিসি ভায়া কোলা বাজার সড়ক, বটিয়াঘাটা উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সের সম্প্রসারণ। পাইকগাছা হাবিবনগর মাদ্রাসা মোড় থেকে ডুমুরিয়া মাগুরখালি-কাঁঠালতলা বাজার পর্যন্ত সংযোগ সড়ক, খুলনা শহীদ মিনার, রেলওয়ে স্টেশন এবং ইয়ার্ড রি-মডেলিং প্রকল্প, খুলনা জেলা স্টেডিয়াম, পাঁচতলা বিশিষ্ট কয়রা আধুনিক ডাকবাংলো ভবন, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য হোস্টেল ভবন, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন, পাইকগাছায় কপিলমুনি ইউনিয়ন ভূমি অফিস, কয়রা থানা ভবন, ডুমুরিয়াতে শোভনা ইউনিয়ন ভূমি অফিস, জলমা ইউনিয়ন ভূমি অফিস, আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সার্ভিসেস ডেলিভারি প্রকল্প, বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল (বর্ধিতাংশ), জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল (ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ), শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ ভবন (ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ), মাইকেল মুধুসুদন দত্ত অতিথি ভবন (বর্ধিতাংশ), আচার্য প্রফল্ল চন্দ্র রায় কেন্দ্রীয় গবেষণাগার (বর্ধিতাংশ), খুলনা ওয়াসা ভবন। প্রধানমন্ত্রী যে সকল প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন সেগুলো হচ্ছে : খুলনা-চুকনগর-সাতক্ষীরা (খুলনা অংশ) সড়ক। পাইকগাছা কৃষি কলেজ। বটিয়াঘাটা ডিগ্রি কলেজের একাডেমিক ভবন। মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইমাজিং ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এ ব্লকের উর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ। মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নার্সেস ডরমিটরি। মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের স্টাফ ডরমিটরি। মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বাংকার। খুলনা সদর হাসপাতাল ১৫০ বেড থেকে ২৫০ বেডে উন্নীতকরণ। সিভিল সার্জনের অফিস ভবন। শহীদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালের আবাসিক ভবন। দিঘলিয়া উপজেলা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। পুলিশ সুপারের কার্যালয়। এএসপি ক সার্কেল অফিস। দৌলতপুর থানা ভবন। আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ানের অস্ত্রাগার ভবন। পুলিশ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের একাডেমিক ভবন। পুলিশ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ফায়ারিং বার্ট। পুলিশ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অস্ত্রাগার ভবন। জেলা রেজিস্ট্র্রি অফিস ভবন। রূপসা উপজেলা মডেল মসজিদ। আলিয়া মাদ্রাসা মডেল মসজিদ। ডুমুরিয়া ভদ্রা নদীর ওপর ৩১৫.৩০ মিটার লম্বা পিসি গার্ডার ব্রিজ। বটিয়াঘাটা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন। তেরখাদা উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সের প্রশাসনিক ভবন ও হলরুম। পাইকগাছা উপজেলার হরিঢালী ইউনিয়ন ভূমি অফিস। পাইকগাছা উপজেলার লতা ইউনিয়ন ভূমি অফিস। ফুলতলা উপজেলায় উচ্চ জলাধার ও পাইপ লাইনের মাধ্যমে সুপেয় পানি সরবরাহ। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১০০০ আসনবিশিষ্ট অডিটরিয়াম-কাম মাল্টিপারপাস হল। টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট। জেলা কারাগার। জেলা পুলিশ লাইন। ১০ তলাবিশিষ্ট বিএসটিআই আঞ্চলিক অফিস ভবন। আরআরএফ ব্যারাক ভবনের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ। পাইকগাছা উপজেলা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। আরআরএফর অস্ত্রাগার ভবন। পাইকগাছা সাব-রেজিস্ট্রি অফিস। রূপসা শ্রম কল্যাণ কেন্দ্র পুনর্নির্মাণ ও আধুনিকীকরণ। ওজোপাডিকো লিমিটেডের ১৫-তলাবিশিষ্ট প্রধান কার্যালয়। জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে ভদ্রা ও সালতা নদী পুনঃখনন। বিএনএস তিতুমীর সংলগ্ন ভৈরব নদীর তীর সংরক্ষণ। শেখ রাসেল ইকো পার্ক। এডমিনিস্ট্রেটিভ কনভেনশন সেন্টার। ১০-তলা ভিতবিশিষ্ট জয় বাংলা ভবন। ১০ তলাবিশিষ্ট শহীদ বুদ্ধিজীবী ড. মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী আবাসিক ভবন। লালন সাঁই মিলনায়তন ও টিএসসি ভবন। শহীদ বুদ্ধিজীবী ডা. আলীম চৌধুরী চিকিৎসা কেন্দ্র। সুলতানা কামাল জিমনেসিয়াম। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আইইআর ভবন। আইটি ইনকিউবেশন এন্ড ট্রেনিং সেন্টার। রূপসা নদীর তলদেশ দিয়ে পাইপ লাইন স্থাপন। খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান বাসসকে জানান, প্রধানমন্ত্রী বিকেল ৩টায় খুলনা সার্কিট হাউস ময়দানে মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় ভাষণ দেবেন। তিনি বলেন, খুলনা নগরীতে আগামীকালের জনসভা সফল করার জন্য সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) কমিশনার হুমায়ুন কবীর বাসসকে জানান, আইইবি খালিশপুর সেন্টার এবং সার্কিট হাউস ময়দান এলাকাসহ নগরীতে ৩,৫০০ পুলিশ সদস্য নিয়োগসহ ৮০০ সিসিটিভি স্থাপনের মাধ্যমে তিন স্তরবিশিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
বর্তমান সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন হবে: তোফায়েল আহমেদ
সংবিধান অনুযায়ী, বর্তমান সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন হবে বলে আবারো মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। শুক্রবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্জেন্ট জহরুল হক হলের প্রথম পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে পুনর্মিলনীর উদ্বোধন করেন অতিথিরা। অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, র্যা বের মহাপরিচালক বেনজির আহমেদসহ বিশিষ্টজনেরা বক্তব্য রাখেন। তারা বিভিন্ন সময়ে জাতীয় জীবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা নিয়ে স্মৃতিচারণা করেন। সেই ইতিহাস নতুনদের সামনে তুলে ধরতে এবং সংরক্ষণের জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তারা।
সীমান্তের শূন্য রেখায় অবস্থান করছে ৬ হাজার ২২ জন রোহিঙ্গা
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে বিজিবির সঙ্গে পতাকা বৈঠকে সীমান্তে গুলির বিষয়টি অস্বীকার করেছে মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনী-বিজিপি। অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার স্বার্থেই সেনা মোতায়েন করা হয়েছে বলেও দাবি দেশটির। শুক্রবার বিকেলে বান্দরবানের ঘুমধুমে পতাকা বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে একথা জানায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবি। বিজিবি ৩৪ ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লে. কর্নেল মঞ্জুরুল হাসান খান জানান, 'গুলিবর্ষণে বিষয়ে তারা বলেছে, তাদের ওখানে অনেক বন্যপ্রাণী থাকে একারণে গুলি করতে হয়। মানুষ দেখে তারা ফায়ার করেনি বলে তারা জানায়।' তিনি আরো জানায়, মিয়ানমার সেনাবাহিনীকে বলা হয়েছে, তোমরা যা করছো তাতে বাংলাদেশে প্যানিক সৃষ্টি করতে পারে। সুতরাং এটা করো না। এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ঠেকাতেই সীমান্তে অবস্থান নিয়েছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, রোহিঙ্গা ফেরত ঠেকাতেই সীমান্তে অবস্থান নিয়েছে মিয়ানমার সেনারা। তিনি বলেন, 'তাদের ধারণা ছিলো যে, এখান থেকে কিছু মিয়ানমারের অধিবাসী (রোহিঙ্গা) তাদের সীমানার ভেতরে ঢুকবে। এইজন্য সেখানে তাদের কিছু সেনা অবস্থান করছে।' গেলো বছরের ২৫ আগস্টের সহিংসতার পর মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে নাইক্ষ্যংছড়ির তব্রু সীমান্তে অবস্থান করছে কয়েকহাজার রোহিঙ্গা। গেলো ২০ ফেব্রুয়ারি তাদের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করতে মিয়ানমারের ঢেকিবুড়িয়ায় বৈঠক হয় বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে। বৈঠকে তাদের ফিরিয়ে নিতে সম্মত হয় মিয়ানমার সরকার। কিন্তু হঠাৎ করে গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে নাইক্ষ্যংছড়ি তব্রু সীমান্তের শূণ্য রেখায় অবস্থানকারী রোহিঙ্গাদের বিপক্ষে অবস্থান করে সাতটি গাড়ি যোগে আসা ২০০ মিয়ানমার সেনাসদস্য। গেলো একমাস ধরে অবস্থান রয়েছে আরো ২০০ সেনার। এতে আতঙ্ক বিরাজ করছে সীমান্তে বসবারকারীদের মাঝেও। সীমান্তে অবস্থানকারী রোহিঙ্গারা বলেন, 'মিয়ানমার সেনারা ভারী অস্ত্র নিয়ে আছে। তারা বলছে, এখান থেকে সরে যাও। তোমরা অবৈধ্য। ওরা আমাদের জোরপূর্বক বাংলাদেশের মাটিতে রাখতে চায়।' আরেকজন রোহিঙ্গা বলেন, 'মিয়ানমারের সেনারা যেভাবে আমাদের আক্রমণের দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে, অবশ্যই আমরা আতঙ্কে আছি।' আরেক রোহিঙ্গা অভিযোগ করেন, 'রাতের বেলা তারা আমাদের এখানে চলে আসে। দিনের বেলা চলে যাই।' গেলো ছয় মাস ধরে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে নাইক্ষ্যংছড়ির তমব্রু সীমান্তের শূন্য রেখায় অবস্থান করছে ৬ হাজার ২২ জন রোহিঙ্গা।
সোশাল মিডিয়ায় ভোটের প্রচার নিয়ন্ত্রণ করতে চায় ইসি
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেসবুকের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্বাচনী প্রচার ঠেকাতে চাইছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার নিষিদ্ধ করার বিধান যুক্ত করার সুপারিশ করেছে ইসির আইন ও বিধিমালা সংস্কার কমিটি। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতারা এবং নির্বাচন-সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের চিন্তা অবাস্তব। এমন বিধান করার আগে ইসিকে আরও ভাবতে হবে। ইসি চাইলেই জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে প্রচার বন্ধ করতে পারবে না। ইসির আইন ও বিধিমালা সংস্কার কমিটির একজন সদস্য বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেসবুক, টুইটার, ভাইবারসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো প্রার্থী বা সমর্থক বা রাজনৈতিক দল কোনো প্রচারণা চালাতে পারবে নাএ ধরনের একটি বিধান বিধিমালায় সংযোজন করার প্রস্তাব তাঁরা করেছেন। এর পাশাপাশি নির্বাচনী প্রচারণায় কোনো ধরনের ইলেকট্রনিক ডিসপ্লে বোর্ড ব্যবহারের ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ প্রস্তাবগুলো কমিশনের সভায় উঠবে। কমিশন সায় দিলে এটি বিধিমালায় যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। ইসির সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা বলছেন, নির্বাচনী প্রচারের ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিশেষ করে ফেসবুকের অপব্যবহার হতে পারে বলে তাঁদের আশঙ্কা আছে। মূলত এ কারণে এই ধারাটি বিধিমালায় সংযোজন করার চিন্তা করা হচ্ছে। ২০১৩ সালেও এ ধরনের একটি চিন্তা ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত তা কার্যকর হয়নি। অবশ্য কেউ ছদ্মনামে এ ধরনের প্রচার বা অপপ্রচার করলে তাকে চিহ্নিত করার মতো কারিগরি সামর্থ্য ইসির নেই। সেটা ইসির কর্মকর্তারা স্বীকারও করেন। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার, ইসির আইন ও বিধিমালা সংস্কার কমিটির প্রধান কবিতা খানম এখনই কিছু বলতে চান না। সাবেক নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, কমিটি যেকোনো সুপারিশ করতে পারে। কিন্তু আইন করার আগে দেখতে হবে তা প্রয়োগ করা যাবে কি না। সাবেক এই নির্বাচন কমিশনার মনে করেন, ইসি এ ধরনের বিধান করলে তা কার্যকর করা অসম্ভব হবে। কারণ ফেসবুক, টুইটার এগুলো এখন জনপ্রিয় যোগাযোগমাধ্যম। বিপুলসংখ্যক মানুষ ইন্টারনেটে এসব যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করবে। এগুলো নজদারি করার মতো ব্যবস্থা বা সামর্থ্য ইসির নেই। তিনি বলেন, সামাজিক মাধ্যমে অপপ্রচার বা ঘৃণা প্রচার যাতে না হয়, জাতীয় পর্যায়ে সে বিষয়টিতে গুরুত্ব দিতে হবে। এর আগে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংলাপে অংশ নিয়ে নাগরিক সমাজের কেউ কেউ অনলাইনে নির্বাচনী প্রচার নিয়ন্ত্রণ করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। ডিজিটাল বাংলাদেশের স্লোগান নিয়ে ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসা আওয়ামী লীগ অনলাইন যোগাযোগমাধ্যমে বেশ সক্রিয়। দলটির ফেসবুক পেজে নিয়মিত হালনাগাদ তথ্য দেওয়া হয়। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও ফেসবুকে সক্রিয়। আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাদের অনেকে এখন থেকেই নৌকায় ভোট দিন আমার মার্কা নৌকা এ ধরনের নানা স্লোগান ফেসবুকে নিয়মিত প্রচার করছেন। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ফেসবুকের মতো সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচার বন্ধ করার প্রস্তাব কতটুকু বাস্তবায়ন করা যাবে, তা নিয়ে সংশয় আছে। এর সঙ্গে অনেক কারিগরি বিষয়ও জড়িত। কেউ দেশের বাইরে থেকে কারও পক্ষে প্রচার চালালে তা কীভাবে ঠেকাবে? বন্ধ করতে চাইলেই কী বন্ধ করা যাবে? ক্ষমতাসীনদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপিও ফেসবুক, টুইটারে সক্রিয়। দলের নামে থাকা ফেসবুক পেজ থেকে নিয়মিত বিভিন্ন কর্মসূচির তথ্য দেওয়া হয়। দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার টুইটার অ্যাকাউন্ট আছে। কারাগারে যাওয়ার আগ পর্যন্ত বিভিন্ন উপলক্ষে তিনি সেখানে নিয়মিত রাজনৈতিক বার্তা দিতেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেনের মতে, ফেসবুক, টুইটারে বিষয়ে ইসির চিন্তা বাস্তবসম্মত নয়। এসব উদ্যোগ নেওয়ার পেছনে তাদের উদ্দেশ্য কী তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ইসি অবাধ তথ্য প্রবাহ বন্ধ করতে চাইছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্বাচনী প্রচার বন্ধের বিধান যুক্ত করা হলে তা কতটা কার্যকর করা যাবে, তা নিয়ে সংশয় আছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার বা ঘৃণা প্রচার বন্ধের বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া উচিত, এ নিয়ে কারও দ্বিমত নেই।
দায়িত্বে অবহেলা ও দুর্নীতির প্রমাণ পেলেই বরখাস্ত
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের মহাপরিচালক জামাল উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, অধিদফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্বে অবহেলা, অসততা ও দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের আর চাকরিতে রাখা হবে না। অধিদফতরের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর কার্যক্রম কঠোরভাবে মনিটর করা হচ্ছে। সোমবার সকালে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের প্রধান কার্যালয়ে মাদকের বিরুদ্ধে তথ্যঅভিযান সংক্রান্ত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দেশে এখন মাদকসেবীর সংখ্যা প্রায় ৭০ লাখের মতো। তবে তাদের মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশই নারী। সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, ২০১৬ সালে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর এককভাবে ৩৯ হাজার ৫৮৫টি অভিযান চালায়। এসব অভিযানে ১০ হাজার ৪৬৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়। মহাপরিচালক জানান, ২০১৬ সালে উদ্ধারকৃত ইয়াবার পরিমাণ ছিল ১৩ লাখ ১৪ হাজার ৭৫৯টি। কিন্তু ২০১৭ সালে এর পরিমাণ কমে ১১ লাখ ৫৮ হাজার ৭৭০-এ নেমে এসেছে। দেশব্যাপী ইয়াবা আগ্রাসন বাড়লেও উদ্ধার কমে যাওয়া প্রসঙ্গে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে মহাপরিচালক বলেন, ২০১৬ সালের মতো বড় অংকের অভিযান চালাতে আমরা ব্যর্থ হয়েছি। তবে সে ব্যর্থতা কাটিয়ে ওঠার জন্য চেষ্টা চলছে। মিয়ানমার থেকে ইয়াবার আগ্রাসন ছড়িয়ে পড়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সম্প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে জানানো হয়, মিয়ানমারের কাছে ৫০টি ইয়াবা কারখানার তালিকা দেয়া হয়েছে। তবে এসব কারখানার বিরুদ্ধে তারা কী ব্যবস্থা নিয়েছে তা বাংলাদেশকে এখনও জানায়নি। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মহাপরিচালক বলেন, যদি কোনো মদের বারে অপ্রাপ্তবয়স্ক বা স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের কাছে মদ পরিবেশন করা হয়, তবে সেসব বারের লাইসেন্স বাতিল করতে অধিদফতর কালবিলম্ব করবে না। এ সময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অধিদফতরের পরিচালক (অপারেশন) ডিআইজি সৈয়দ তৌফিক উদ্দিন আহমেদ, উপপরিচালক ঢাকা মেট্রো উপঅঞ্চল মুকুল জ্যোতি চাকমা।

জাতীয় পাতার আরো খবর