১২৮ জন অতিরিক্ত জেলা জজ গাড়ি ব্যবহারের সুবিধা পাচ্ছেন
দাফতরিক কাজে সরকারি গাড়ি ব্যবহারের সুবিধা পাচ্ছেন অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজরা। অতিরিক্ত জেলা জজ পদে কর্মরত ১২৮ জন বিচারক এই সুবিধা পাবেন। অতিরিক্ত জেলা জজদের গাড়ি সুবিধা পাওয়ার বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সম্মতির পর গত ২৯ মে অর্থ মন্ত্রণালয় সম্মতি দিয়েছে। বৃহস্পতিবার আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বলা হয়েছে, দেশের ৬৪টি জেলায় অতিরিক্ত জেলা জজ পদমর্যাদায় কর্মরত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটরা সরকারি গাড়ি ব্যবহারের সুবিধা পেয়ে আসলেও অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজরা ওই সুবিধা পেতেন না। এটা নিয়ে অতিরিক্ত জেলা জজদের মধ্যে হতাশা ছিল। হতাশা দূর করার জন্য একটি অনুষ্ঠানে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক অতিরিক্ত জেলা জজদের সরকারি গাড়ি ব্যবহারের সুবিধা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। একই সঙ্গে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হককে নির্দেশ দেন। এরপর চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি আইন ও বিচার বিভাগ থেকে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজদের দাফতরিক কাজে ব্যবহারের জন্য জেলা ও দায়রা জজ আদালত বা মহানগর দায়রা জজ আদালতের টিওঅ্যান্ডই-তে (যন্ত্রপাতি ও যানবাহন) ১২৮টি গাড়ি অন্তর্ভুক্ত করতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সম্মতির জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় গত ১৮ এপ্রিল ওই প্রস্তাবে সম্মতি দেয় এবং অর্থ বিভাগের সম্মতি নেয়ার শর্ত দেয়। এরপর ৭ মে ওই বিষয়ে সম্মতি নেয়ার জন্য আইন ও বিচার বিভাগ থেকে অর্থ বিভাগে প্রস্তাব পাঠালে ২৯ মে অর্থ বিভাগ সম্মতি জানিয়ে আইন ও বিচার বিভাগকে পত্র দিয়েছে।
১৮ বিচারপতির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত
সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের ১৮ অতিরিক্ত বিচারপতির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে এ শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন নবনিযুক্ত বিচারপতিদের শপথ বাক্য পাঠ করান।সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. জাকির হোসেন শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। বিকেল ৩টা ৫ মিনিটে কুরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে শপথ অনুষ্ঠান শুরু হয়ে চলে ৩টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত। শপথ নেয়া নতুন ১৮ বিচারপতিরা হলেন- আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসা মো. আবু আহমাদ জমাদার, আইন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মোস্তাফিজুর রহমান, নরসিংদীর জেলা ও দায়রা জজ ফাতেমা নজীব, ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. কামরুল হোসেন মোল্লা, ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ এস এম কুদ্দুস জামান, ঢাকার বিভাগীয় বিশেষ জজ মো. আতোয়ার রহমান, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এস এম আব্দুল মবিন, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল খিজির হায়াত, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এস এম মনিরুজ্জামান, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শশাংক শেখর সরকার, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ আলী, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মহি উদ্দিন শামীম, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. রিয়াজ উদ্দিন খান, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. খায়রুল আলম, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আহমেদ সোহেল, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সরদার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীর, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল খোন্দকার দিলীরুজ্জামান ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. কে এম হাফিজুল আলম। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের সকল বিচারপতি উপস্থিত ছিলেন। এর আগে বুধবার সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে ১৮ অতিরিক্ত বিচারপতি নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। সংবিধানের ৯৮ অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি তাদের নিয়োগ দেন। পরে আইন মন্ত্রণালয় রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে নিয়োগের বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেন।
দুই ঘণ্টায় ঢাকা-চট্রগ্রাম আসা যাওয়া করা যাবে
বাংলাদেশ রেলওয়ের ঢাকা-চট্টগ্রাম ভায়া কুমিল্লা বা লাকসাম হাইস্পিড ট্রেন নির্মাণের উদ্দেশে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও ডিজাইন নির্মাণের চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। বৃহস্পতিবার রেলভবনে এ চুক্তিতে বাংলাদেশের পক্ষে স্বাক্ষর করেন সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালক মো. কামরুল আহসান এবং কনসালটেন্সির পক্ষে ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ডিপার্টমেন্ট বিজনেস ম্যানেজার লিও উইচাও। বাংলাদেশ রেলওয়ে, চায়না রেলওয়ে ডিজাইন কর্পোরেশন এবং মজুমদার এন্টার প্রাইজ (বাংলাদেশ) যৌথভাবে এ কাজ করবে। চুক্তি অনুযায়ী ১৮ মাসের মধ্যে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এবং ডিটেইলড ডিজাইন কাজ শেষ হবে। বাংলাদেশী টাকায় ১০২ কোটি ১০ লাখ ৪৭ হাজার ৭৩০ টাকা চুক্তি মূল্য। সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে কনসালটেন্সি সার্ভিসের কাজ করা হচ্ছে। রেলপথ মন্ত্রী মুজিবুল হক চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে এর দৈর্ঘ্য ৩২০ কিলোমিটার। প্রস্তাবিত রুট অনুযায়ী এর দৈর্ঘ্য ৯১ কি.মি. কমে হবে ২৩০ কি.মি.। তিনি বলেন, ২০০ কি.মি. গতির ট্রেন চালানোর মাধ্যমে দেড় থেকে দুই ঘণ্টায় ঢাকা-চট্রগ্রাম আসা যাওয়া করা যাবে। এতে করে দ্রুত যাত্রী ও পণ্য পরিবহন করা সম্ভব হবে। দেশের অর্থনীতির উন্নয়নে এই ট্রেন সার্ভিস গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন। রেলমন্ত্রী এ সময় বলেন, বর্তমান সরকার রেলখাতের উন্নয়নে অধিক গুরুত্ব দিয়েছে। ফলে নতুন নতুন প্রকল্প নেয়া হচ্ছে। এ সময় তিনি চলমান কয়েকটি প্রকল্পের কথা উল্লেখ করেন। এ চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোফাজ্জেল হোসেন, মহাপরিচালক মোঃ আমজাদ হোসেন, কনসালটেন্সি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।বাসস
প্রধানমন্ত্রী এবং থাই রাজকুমারীর বৈঠক
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ এবং থাইল্যান্ডের মধ্যে কৃষি খাতে সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। থাই রাজকুমারী মাহা চাকরি সিরিনধম বৃহস্পতিবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে গেলে শেখ হাসিনা এ কথা বলেন। বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী এবং থাই রাজকুমারী মূলত, কৃষি খাত নিয়েই আলোচনা করেন এবং এই খাতে দুই দেশের সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণে সহযোগিতার বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। থাই রাজকুমারী বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি বিশেষ করে একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প এবং ক্ষুদ্র সঞ্চয় কর্মসূচির ভূয়সী প্রশংসা করেন। বাংলাদেশের কৃষি খাতের সাফল্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ দেশের বিজ্ঞানীরা খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য লবণাক্ততা, বন্যা এবং ক্ষরাসহিষ্ণু প্রজাতির ধান উদ্ভাবন করেছে। তিনি থাই রাজকুমারীকে বলেন, বাংলাদেশ স্বাদু পানির মাছ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে এবং ছাগল, গরু এবং ভেড়া থেকে প্রতি বছর প্রচুর পরিমাণে মাংস উৎপাদন করছে। প্রধানমন্ত্রী এ সময় আম চাষে দু’দেশের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেন, কারণ থাইল্যান্ড বছর জুড়ে আম উৎপাদনে বিখ্যাত। থাই রাজকুমারী প্রধানমন্ত্রীকে জানান, তার দেশ একটি প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশকে ‘ভেটিভার ঘাস’ দিচ্ছে। এই ঘাস আকারে লম্বা ও পুরু এবং যা মাটির ক্ষয়রোধ ও সুরক্ষায় কার্যকরী। বাংলাদেশের মৌসুমী ফল লিচু থাইল্যান্ডে খুব জনপ্রিয় এবং থাইল্যান্ড বাংলাদেশ থেকে লিচু আমদানি করছে বলে জানান থাই রাজকুমারী। প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম, মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান, থাইল্যান্ডে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সাঈদা মুনা তাসনীম এবং ঢাকায় থাই রাষ্ট্রদূত প্যানপিমন সুয়ান্নাপোংসে এ সময় উপস্থিত ছিলেন। বাসস
১৪ জুনের মধ্যে শ্রমিকদের বেতন-বোনাস দেয়ার নির্দেশ
ঈদুল ফিতরের আগে পোশাক খাতে কর্মরত শ্রমিকদের বেতন-বোনাস ১৪ জুনের মধ্যে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে এক বিশেষ সভায় তিনি এই নির্দেশনা দেন। এ সময় তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ), বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ), বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনসহ (এফবিসিসিআই) আটটি সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, পোশাক খাতের শ্রমিকদের সময়মতো বেতন-ভাতা দিতে হবে। ১০ তারিখের মধ্যে মে মাসের পূর্ণ বেতন এবং ১৪ তারিখের আগে বোনাস পরিশোধ করতে হবে। ঈদের আগে কোনো শ্রমিককে ছাঁটাই করা চলবে না। শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দেয় এমন কোনও কর্মকাণ্ড করা যাবে না। ব্যবসায়ীরা নগদ টাকা বহনের ক্ষেত্রে পুলিশি সহায়তা চাইলে পাবেন। তোফায়েল আহমেদ বলেন, এবার দেশের প্রতিটি শ্রমিক শান্তিপূর্ণভাবে ঈদ উদযাপন করতে পারবে। বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের ৮২ শতাংশই তৈরি পোশাক। এ বছর এই খাতে ৯.৩৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। তাই এ বছরের এ খাতের ৩০ বিলিয়ন রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব। আগামী ৩১ জানুয়ারির পর দেশের পোশাক কারখানায় ইউরোপ ও আমেরিকার ক্রেতাদের জোট অ্যাকর্ড-অ্যালায়েন্স থাকবে না বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, ইতিমধ্যেই অ্যাকর্ড-অ্যালায়েন্সের মেয়াদ শেষ হয়েছে, চলতি বছরের ৩১ মে পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়। আগামী ৩১ ডিসেম্বরের পর এদেশে অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্সের কোনও প্রয়োজন নাই। বাংলাদেশ এখন আত্মমর্যাদা সম্পন্ন জাতি। আমরা এখন উন্নয়নশীল দেশ। আগামী ২০২৭ পর্যন্ত আমরা এলডিসি সুবিধা পাবো।
ঈদের আগে ও পরে কিছুদিন নগরের উন্নয়নকাজ বন্ধ রাখার আহ্বান
টানাবৃষ্টি ও চলমান উন্নয়ন কাজে সৃষ্ট যানজট-জনদুর্ভোগ রোধে ঈদের আগে ও পরে কিছুদিন নগরের উন্নয়নকাজ বন্ধ রাখার আহ্বান জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এক ফেসবুক পোস্টে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের লেখেন, ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে সড়কে নগর উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার খোঁড়াখুড়ি চলছে। ঈদকে সামনে রেখে এসব কাজ জনভোগান্তি সৃষ্টি করছে। বৃষ্টিবিঘ্নিত হওয়ায় কাঁদামাটিতে পথচারিদের চলাচলেও কষ্ট হচ্ছে। সড়কের লেন কমে যাওয়ায় সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। তাই, এ সময়ে ঢাকা ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন অথরিটি-ডিটিসিএ’র চেয়ারম্যান হিসেবে আমি ওয়াসা, ডেসাসহ নগরে উন্নয়ন কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট সকল দফতরকে ঈদের আগে-পরে কিছুদিন কাজ বন্ধ রাখার জন্য অনুরোধ করছি। সড়কে যাত্রীদের আগ্রহ নেই। পত্রিকাগুলোতে প্রকাশিত এমন রিপোর্টের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, এদিকে ঈদ উপলক্ষে পরিবহনের আগাম টিকেট বিক্রি শুরু হয়েছে। আজ কোনো কোনো দৈনিকে ছাপা হয়েছে যাত্রীদের সড়কে আগ্রহ কম। আবার বেশির ভাগ কাগজে রিপোর্ট বেরিয়েছে উপচেপড়া ভিড়, টিকিটের সঙ্কট। প্রশ্ন হচ্ছে, আগ্রহ কম হলে উপচেপড়া ভিড় কেন?
মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী
মানবাধিকারকর্মীদের অব্যাহত সমালোচনার মধ্যেও মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। চলমান অভিযানে নিহতের ঘটনাগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি সমর্থনের প্রকাশও ঘটিয়েছেন তিনি। মাদক নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে হতাহতের ঘটনায় সমালোচনা করে মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, ‘অভিযানে আইনের চেয়ে বন্দুকের ব্যবহার বেশি ঘটছে।’ বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে শেখ হাসিনা বলেন, ‘মাদক সমাজে একটা ব্যাধির মতো, আপনারাই পত্রপত্রিকায় লিখেছেন এটা। আপনারা কি চান অভিযান চলুক, না কি বন্ধ হয়ে যাক?’ মাদকবিরোধী অভিযান প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি যখন ধরি, ভালো করেই ধরি। মাদকের কোনো গডফাদারই ছাড় পাবে না। সে যে বাহিনীরই হোক না কেন। তিনি বলেছেন, বন্দুকযুদ্ধে নিরীহরা মরছে না। দীর্ঘদিন থেকে নজরে রাখা হয়েছে মাদক পাচার ও চোরাকারবারের সঙ্গে জড়িতের। মূলত তাদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’ ভারত সফর করে আসা শেখ হাসিনা বুধবার বিকালে গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে আসেন। এসময় সাংবাদিকরা তাকে মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে প্রশ্ন করলে এসব কথা বলেন তিনি। এর আগে তিনি ভারত সফর সম্পর্কে সাংবাদিকদের মাধ্যমে জাতির কাছে বিস্তারিত তুলে ধরেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাজে সমর্থন রেখে সরকার প্রধান বলেন, ‘খুব স্বাভাবিক যে এই ধরনের অভিযান চালাতে গেলে কিছু ঘটনা ঘটতেই পারে।’ নিরাপরাধ কেউ এই অভিযানের শিকার হচ্ছে না দাবি করে তিনি বলেন, ‘এ পর্যন্ত যে কয়টা ঘটনা হয়েছে, মনে হয় না একটাও নিরীহ ব্যক্তি শিকার হয়েছে।’ গণমাধ্যমে গ্রেপ্তারের ঘটনাগুলোকে বাদ দিয়ে শুধু নিহতের ঘটনাগুলোকেই সামনে আনা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। অভিযানে এই পর্যন্ত ১০ হাজারের বেশি ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানান তিনি। শেখ হাসিনা বলেন,‘ যখন কোথাও পুলিশ, র‍্যাব কোথাও অভিযানে যায়, আর সেখানে যদি কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে থাকলে, কোনো নিরীহ ব্যক্তি শিকার হলে অবশ্যই আমরা ব্যবস্থা নেব।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যদি বলেন, ভেজালবিরোধী-মাদকবিরোধী অভিযান বন্ধ করে দিই। ছেলে মাকে, বাবাকে হত্যা করছে মাদকের কারণে। এ ধরনের অভিযান চালাতে গেলে কিছু ঘটনা ঘটে।’ গত শুক্রবার দুই দিনের সরকারি সফরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা যান প্রধানমন্ত্রী। ওই দিনই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যৌথভাবে শান্তিনিকেতনে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বাংলাদেশ ভবন’ উদ্বোধন করেন। এ সময় হাসিনা ও মোদির মধ্যে বাংলাদেশ ভবনে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়। বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে সম্মানিত অতিথি হিসেবে যোগদান করেন শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত শনিবার পশ্চিমবঙ্গের আসানসোলে কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে থেকে সম্মানসূচক ডি-লিট ডিগ্রি গ্রহণ করেন। সাম্প্রতিক সফরে শেখ হাসিনা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠক করেন। শেখ হাসিনা এই সফরে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি এবং কলকাতায় নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু জাদুঘর পরিদর্শন করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর বোন শেখ রেহানাও ছিলেন।

জাতীয় পাতার আরো খবর