বাংলাদেশ শীঘ্রই উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি পাচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশ শীঘ্রই উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি পাচ্ছে; উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার জন্য যত শর্ত রয়েছে, তার সবই বাংলাদেশ পূর্ণ করেছে। আমরা উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে নিজেদের অবস্থানটাকে উন্নত করতে পারব, সেই পর্যায়ে আমরা এসে গেছি, সেই ঘোষণা আপনারা (দেশবাসী) শীঘ্রই পাবেন, ইনশা আল্লাহ! বুধবার ২১ ফেব্রুয়ারি মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে সেগুনবাগিচায় মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট কর্তৃক গৃহীত চার দিনব্যাপী কর্মসূচীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা আদায়ে আমরা অনেকদূর এগিয়েছি। ইতোমধ্যে আমাদের নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। কিন্তু যে জাতি রক্ত দিয়ে দেশ স্বাধীন করেছে, তাদের সঙ্গে তো নিম্ন শব্দটি থাকতে পারে না। আমাদের এখন একটি সুযোগ এসে গেছে। যে কয়টি ক্যাটাগরিতে অর্জন থাকলে আমরা উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে মর্যাদা পেতে পারি, তার প্রতিটি শর্তই বাংলাদেশ এখন পূর্ণ করেছে। কাজেই আমাদের মর্যাদাটা আরও একধাপ উপরে এগিয়ে নিতে পারব। শ্রীলঙ্কায় এবার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালনের প্রসঙ্গ টেনে সরকারপ্রধান বলেন, আমরা সেখানে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালনের কিছু কিছু চিত্র দেখেছি। এজন্য সত্যিই আমরা আনন্দিত। জাতিসংঘ সদস্যভুক্ত সব দেশে যেন এই দিবসটি পালিত হয়, আমরা এর জন্য তথ্য সব জায়গায় পাঠিয়েছি। আমি মনে করি, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট থেকেও প্রতিবছর এ বিষয়ে উদ্যোগ নেয়া উচিত। তাহলে সবাই বিষয়টি জানতে পারবে। তিনি বলেন, আমরা ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছি। এটা আমাদের জন্য বিরাট গর্বের। কাজেই এই ভাষার ব্যবহার ও চর্চা ভুলে গেলে চলবে না। বাঙালী হিসেবে সব ঐতিহ্য আমাদের ধারণ করতে হবে, চর্চা করতে হবে। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন শ্রীলঙ্কার জাতীয় দাফতরিক ভাষা বিষয়ক সচিব ডব্লিউএমপিজি উইক্রমাসিংহে। আলোচনায় অংশ নেন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলী ও ঢাকার ইউনেস্কোর আবাসিক প্রতিনিধি বি খালদুন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব সোহরাব হোসেন স্বাগত বক্তব্য রাখেন এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. জিনাত ইমতিয়াজ আলী। সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাগণ, সংসদ সদস্য, বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ, লেখক, সাহিত্যিক, কবি, সাংবাদিক, একুশে পদকপ্রাপ্ত বিশিষ্টজনরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। বাংলা ভাষার ওপর পাকিস্তানের বারংবার আক্রমণের ইতিহাস তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলা ভাষা নিয়ে আমাদের অনেক যন্ত্রণা সহ্য করতে হয়েছে। এক সময় আমাদের ওপর চাপিয়ে দেয়া হলো বাংলা অক্ষরে বাংলা ভাষা লেখা যাবে না, আরবী হরফে বাংলা ভাষা লিখতে হবে। এরপরে রোমান হরফে বাংলা ভাষা লিখতে হবে। বাঙালী জাতি এর প্রতিবাদ করে। এর পরে বলা হলো রবীন্দ্রনাথ পড়া যাবে না। হিন্দুর লেখা পড়লে নাকি আমাদের মুসলমানিত্ব নষ্ট হয়ে যাবে। এ জন্য রবীন্দ্রনাথের লেখা নিষিদ্ধ করা হলো। জাতীয় কবি নজরুল ইসলাম যে সমস্ত লেখা লিখেছেন তাকে মুসলমানি ভাষা দেয়া হলো। তাঁর ‘মহাশ্মশান’ পরিবর্তন করে লেখা হলো ‘গোরস্থান’। ‘সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি, সারাদিন আমি যেন ভাল হয়ে চলি’- এই কবিতা পরিবর্তন করে করা হলো- ‘ফজরে উঠিয়া আমি দিলে দিলে বলি’ করা হলো। ছাত্র জীবনে আমাদের কত ধরনের যন্ত্রণা ভোগ করতে হয়েছে তা বুঝতেই পারছেন। তিনি বলেন, আমি বাংলা বিভাগের ছাত্রী ছিলাম। আমাদের বিভাগের প্রধান ছিলেন হাই সাহেব। তখন এখানকার গবর্নর ছিলেন মোনায়েম খান। রবীন্দ্রনাথ পড়া নিষিদ্ধের প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারাদেশে প্রতিবাদ শুরু হলো। বিরক্ত হয়ে মোনায়েম খান হাই সাহেবকে ডেকে বললেন- আপনারা শুধুই রবীন্দ্র সঙ্গীত রবীন্দ্র সঙ্গীত করেন কেন? আপনারা কী দুই চারটা রবীন্দ্র সঙ্গীত নিজেরা লিখে ফেলতে পারেন না? জবাবে হাই সাহেব বিনয়ের সঙ্গে বলেছিলেন- ‘স্যার, আমি লিখতে পারি। তবে আমি লিখলে তো সেটা রবীন্দ্র সঙ্গীত হবে না, সেটা হাই সঙ্গীত হয়ে যাবে।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২১ ফেব্রুয়ারি আমরা শহীদ দিবস হিসেবে পালন করছি, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালন করছি। রক্তের অক্ষরে আমরা মাতৃভাষার মর্যাদাকে রক্ষা করেছি। ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে, এটা আমাদের জন্য গর্বের। কাজেই এই ভাষার চর্চা ও ভাষার ব্যবহারের কথা আমাদের ভুললে চলবে না। বাঙালী হিসেবে আমাদের ঐতিহ্য সব ধরে রাখতে হবে, চর্চা করতে হবে, সংরক্ষণ করতে হবে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে বাংলায় ভাষণ প্রদানের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে আমি প্রতিবারই জাতিসংঘে বাংলায় ভাষণ দিয়ে থাকি। একুশ আমাদের শেখায় মাথা নত না করা। একুশের পথ ধরেই কিন্তু আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। কারণ, একুশে ফেব্রুয়ারি বুকের রক্ত দিয়ে ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। একটা জাতিকে ধ্বংস করার জন্য সব সময় তাদের সংস্কৃতি ও ভাষার ওপর আঘাত করা হয়। সেই ষড়যন্ত্রটাই পাকিস্তানী শাসকরা করেছিল। আর যার ফলে আমরা মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জন করে স্বাধীন জাতি হিসেবে বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পেরেছি, একটি রাষ্ট্র পেয়েছি। আমাদের লক্ষ্য: জাতির পিতা যে লক্ষ্য নিয়ে আমাদের স্বাধীনতা এনে দিয়েছিলেন, বাংলাদেশ ক্ষুধা, দারিদ্র্যমুক্ত হিসেবে গড়ে উঠবে, বাঙালী জাতি হিসেবে বিশ্বসভায় মাথা উঁচু করে মর্যাদার সঙ্গে চলবে। বাংলাদেশ হবে একটি শান্তিপূর্ণ দেশ। অসাম্প্রদায়িক চেতনায় গড়ে উঠবে উন্নত, সমৃদ্ধ, ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলাদেশ। আমরা তা গড়ে তুলতে পারব, ইনশা আল্লাহ! কারণ, আমরা অনেকদূর এগিয়ে গেছি। আজকে আমরা সারা বিশ্বে উন্নয়নের রোলমডেল হিসেবে মর্যাদা পেয়েছি। জাতির পিতা যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গড়ের তোলার পর আমরা নিম্ন আয়ের দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছিলাম। এখন সবদিক থেকে আমাদের একটা সুযোগ এসে গেছে। আমরা প্রবৃদ্ধি ও মাথা পিছু আয় অর্জন করেছি। যে কয় ক্যাটাগরিতে অর্জন থাকলে আমরা উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে মর্যাদা পেতে পারি, তার প্রতিটি শর্তই কিন্তু বাংলাদেশ এখন পূর্ণ করেছে। তাই এখন আমাদের দেশকে মর্যাদায় আরও একধাপ উপরে নিয়ে যেতে পারব। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে আমাদের নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ বলা হয়েছে। কিন্তু আমি সব সময় মনে করি, যে জাতি রক্ত দিয়ে দেশ স্বাধীন করেছে সেই জাতির সঙ্গে ‘নিম্ন’ শব্দটি থাকতে পারে না। ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত হিসেবে আমরা গড়ে তুলব। আজকে আমরা আর নিম্ন আয়ের দেশ না, আমাদের এই অঞ্চলের সব দেশই কিন্তু উন্নয়নশীল দেশ। কাজেই উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে আমরা নিজের অবস্থানটা উন্নত করতে পারব। সেই পর্যায়ে আমরা এখন এসে গেছি। সেই ঘোষণা অচিরেই দেশবাসী পাবেন, ইনশা আল্লাহ! ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠায় বাঙালী জাতির দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাকিস্তানের ৫৬ ভাগ জনগোষ্ঠী বাঙালী হলেও আমাদের বাংলা ভাষার কোন অধিকার ছিল না। ’৪৮ সালে করাচীতে যখন উর্দু ভাষাকে রাষ্ট্রীয় ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার কথা ঘোষণা করা হয় তখন বাঙালী জাতি প্রতিবাদে ফেটে পড়ে। ওই সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্র ছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু। তিনি বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতির দাবিতে আন্দোলন গড়ে তোলেন, রাষ্ট্রভাষা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গড়ে তোলেন। এ কারণে গ্রেফতার হন বঙ্গবন্ধু। সারাদেশে বাঙালী জাতি ফুঁসে ওঠে। তিনি বলেন, ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য কারাগারে বসেও অনশন শুরু করেন বঙ্গবন্ধু। শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে বঙ্গবন্ধুকে হানাদাররা মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৫৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার বিজয়ী হলে ক্ষমতায় যাওয়ার পর পাকিস্তানের প্রথম শাসনতন্ত্র রচনা করা হয়। সেই শাসনতন্ত্রে উর্দুর পাশাপাশি বাংলাকেও রাষ্ট্রীয়ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়। শুধু বাংলাকে স্বীকৃতিই নয়, ২১ ফেব্রুয়ারিকে শহীদ দিবস এবং সরকারী ছুটি ঘোষণা করা হয়। শহীদ মিনার নির্মাণের নক্সাও প্রণয়ন করা হয়। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ওই সময় ক্ষমতায় না এলে কোনদিনই বাংলা রাষ্ট্রীয় ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি পেত না। ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ইউনেস্কো কর্তৃক স্বীকৃতি পাওয়ার ইতিহাস তুলে ধরে সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা বলেন, ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পরে বাংলা ভাষার চর্চা ও উৎকর্ষ সাধনে কাজ শুরু করে। তখন রফিক ও সালাম নামে কানাডায় বসবাসরত দুই প্রবাসী বাঙালী ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি প্রদানের জন্য জাতিসংঘে আবেদন করেন। তখন তাঁদের বলা হয়, কোন সদস্যরাষ্ট্র যদি এ আবেদন করে তখন বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। আমাকে এটা জানালে তাৎক্ষণিক উদ্যোগ নেই এবং জাতিসংঘে রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রস্তাব দেই। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বীকৃতি প্রাপ্তির পর সারা বিশ্বের মাতৃভাষা সংরক্ষণ, গবেষণার জন্য আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট স্থাপনের জন্য এখানে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করি। কিন্তু ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারে আসার পর অন্যান্য প্রকল্পের মতো এই ইনস্টিটিউট নির্মাণের কাজও বন্ধ করে দেয়। ২০০৯ সালে পুনরায় ক্ষমতায় এসে এই ইনস্টিটিউট নির্মাণ ও উদ্বোধন করি। ২০১০ সালে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা আইন জাতীয় সংসদে পাস করি। বিএনপিকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, তারা এটার নির্মাণ কাজ বন্ধ না করলে আমরা ক্ষমতায় এসে এটি নির্মাণ ও উদ্বোধন করার সৌভাগ্য আমার হতো না। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটকে ক্যাটাগরি-২ তে উন্নীত করার জন্য প্রধানমন্ত্রী এ সময় ইউনেস্কোকে ধন্যবাদও জানান। বাংলাকে দাফতরিক ভাষার স্বীকৃতি দিন- জাতিসংঘকে কাদের ॥ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বিশ্বের প্রায় ৩০ কোটি মানুষের ভাষা বাংলাকে জাতিসংঘের দাফতরিক ভাষার মর্যাদা দেয়ার দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, জাতিসংঘের কাছে আজকে আমাদের একটাই দাবি বিশ্বের প্রায় ৩০ কোটি ভাষাভাষী বাঙালী জাতির ভাষা বাংলাকে দাফতরিক ভাষার মর্যাদা প্রদান করুন। এটাই আমাদের প্রত্যাশা বাঙালী জাতির পক্ষ থেকে। বুধবার ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে শহীদ বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, বাংলা ভাষা আজকে সারা বিশ্বে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে। বাংলা ভাষা বিশ্বস্বীকৃত আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস এবং একুশে ফেব্রুয়ারির মর্যাদা প্রাপ্তির মধ্য দিয়ে শহীদদের আত্মবলিদান সার্থক হয়েছে। একুশ এবং একাত্তর একই চেতনার ওপর প্রতিষ্ঠিত মন্তব্য করে তিনি বলেন, ২১ এবং ৭১ এর চেতনায় আমরা অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশকে গড়ে তুলব।
একুশে ফেব্রুয়ারির নিরাপত্তার জন্য তৈরি RAB
একুশে ফেব্রুয়ারিকে ঘিরে যেকোনো ধরনের অপতৎপরতা ঠেকাতে প্রস্তুত রয়েছে RAB। মঙ্গলবার দুপুরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পরিদর্শনে এসে RABএর মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ সাংবাদিকদের এ কথা জানান। এসময় নিরাপত্তা জোরদারের সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এ সময় তিনি বলেন, 'সবাইকে আগে পলাশীর মোড়ে আসতে হবে। সেখান থেকে জগন্নাথ হলের পাশ দিয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পৌঁছাতে হবে। নির্দেশনাটি মানতে সকল জনগণকে আমরা অনুরোধ করবো।' RABএর মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ আরো বলেন, 'আর একটা বিষয় হচ্ছে এই দিন রাতে নিরাপত্তার জন্য আমরা সর্বশক্তি নিয়োগ করবো। নাগরিকদের নিরাপত্তা বিধানে RAB তৎপর থাকবে।'
অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে নিজের আগের অবস্থান থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দিলেন ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রে অস্ত্র বিক্রির আগে ক্রেতার অতীত পর্যালোচনার কার্যক্রম জোরদারের বিষয়টি সমর্থন দেবার ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউজ বলছে, ইতিমধ্যেই আগ্নেয়াস্ত্রের মালিক হবার ক্ষেত্রে নিয়মকানুন শক্ত করার জন্য ট্রাম্প রিপাবলিকান সিনেটর জন করনিনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় একটি বিল আনার ব্যপারে কথা বলেছেন। আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নিতে অ্যামেরিকায় গড়ে উঠা জন দাবীর মুখে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে নিজের আগের অবস্থান থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দিলেন ট্রাম্প। আগে একবার আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণের প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেছিলেন, অস্ত্র রাখার ক্ষেত্রে মানুষের যে ব্যক্তিগত অধিকার আছে সেখানে কিছুতেই তিনি হস্তক্ষেপ করবেন না। বুধবার ফ্লোরিডায় নির্বিচারে গুলি চালিয়ে ১৭জনকে হত্যা করা হয়েছিলো যে সেমি-অটোমেটিক রাইফেল দিয়ে, সেটি বৈধভাবেই কিনেছিলেন হামলাকারী নিকোলাস ক্রুজ। এই ঘটনার পর, হামলাকারীর মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠে এবং জানা যায় ২০১৬ সালেই মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে বাধ্য হয়েছিলেন তিনি। ক্রুজের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে এই তথ্য সামনে আসার পর আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণের দাবী আরো জোরালো হয়। দুদিন আগে ফ্লোরিডা হামলায় প্রাণে বেঁচে যাওয়া ডেভিড হগ ট্রাম্পকে সরাসরি উদ্দেশ্য করে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের দাবী জানান। হগ বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, হাউস অফ রেপ্রেজেন্টেটিভ কিংবা সিনেট, সবকিছুই আপনার নিয়ন্ত্রণে। কিন্তু এরপরও মানুষের মানসিক স্বাস্থ্য পরিচর্যার জন্য এবং আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণের জন্য আপনি একটি বিলও আনেননি। এটি সত্যিই হতাশাজনক। আপনি কর ব্যবস্থায় সংস্কার করেছেন অথচ আমাদের শিশুদের জীবন রক্ষায় কোনো উদ্যোগ নেননি। এমন সমালোচনার মুখেই, হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পের নতুন অবস্থান। অস্ত্র বিক্রির আগে ক্রেতার অতীত সম্পর্কে ভালো মত খোঁজ খবর পক্ষে সমর্থন দেবার ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প। যদিও ফ্লোরিডার এ ঘটনার আগে, সবসময়ই তিনি ভিন্ন সুরে কথা বলেছেন।
ইউনিসেফ-এর উপ-আঞ্চলিক পরিচালকের স্পিকারের সাথে সাক্ষাৎ
জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সঙ্গে ইউনিসেফ-এর দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক উপ-আঞ্চলিক পরিচালক ফিলিপ কোরি সোমবার সংসদ ভবনে তার কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকালে তারা শিশুর অধিকার, ইউনিসেফের সাহায্যে চলমান প্রকল্প, জেন্ডার সংবেদনশীল ও শিশু বাজেট প্রনয়ণ ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা করেন। স্পিকার এ সময় বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে ইউনিসেফের সহযোগিতার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য প্রয়োজন তার জন্মের পূর্বে আশু ব্যবস্থা গ্রহণ করা- কেননা এসময় শিশুর বুদ্ধির বিকাশ ঘটে। তিনি এই সময় গর্ভবতী মায়েদের প্রতি যতœশীল হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, সামাজিক উন্নয়ন সূচকে বাংলাদেশের যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে। তিনি বাংলাদেশের বর্তমান বাজেট ব্যবস্থাকে একটি মডেল বাজেট হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, শিশু বাজেট এবং জেন্ডার সমতার ক্ষেত্রেও এই বাজেট অনন্য। এর ফলে জেন্ডার সমতার বিষয়টি এদেশে মূল উন্নয়ন গতিধারায় সম্পৃক্ত হয়েছে। ফিলিপ কোরি দক্ষিণ এশিয়ার সংসদ সদস্যদের নিয়ে শিশুদের অধিকার বিষয়ক এক মত বিনিময় সভা বাংলাদেশে আয়োজন করার আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং সভার গুরুত্ব স্পীকারকে অবহিত করেন। তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার অন্তত পঞ্চাশ জন সংসদ সদস্য নিয়ে এ মতবিনিময় সভা হতে পারে- যেখানে শিশুর স্বাস্থ্য, পুষ্টি এবং বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ বিষয়ে আলোচনা হবে। তিনি আরও বলেন, শিশুরাই ভবিষ্যত নেতৃত্ব- তাদের সুস্বাস্থ্য ও দৈনন্দিন জীবন মানোন্নয়নই এ ধরনের সভা আয়োজনের মূল লক্ষ্য। এ সময় বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউনিসেফ-এর আবাসিক প্রতিনিধি এডওয়ার্ড বেগবেদার উপস্থিত ছিলেন।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ
এলক্ষ্যে মাদক ও এ সম্পর্কিত ব্যবসা ও কর্মকান্ড প্রতিরোধে সংস্থাটিকে অধিকতর দক্ষ ও কার্যকর করতে নতুন জনবল কাঠামো, আগাম তথ্য সংগগ্রহের জন্য গোয়েন্দা শাখা শক্তিশালী করা, আগ্নেয়াস্ত্র, র্যাঙ্কব্যাজসহ ইউনিফরম, নতুন আইন ও নতুন চাকরি বিধির প্রস্তাব করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে অধিদফতরটির মহাপরিচালক (ডিজি) মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন আহমেদ সোমবার বাসসকে বলেন, আমরা পর্যাপ্ত স্টাফের জন্য বর্তমান জনবল ১৭০৬ থেকে বৃদ্ধি করে ৮৫০৫ জন এবং গোয়েন্দা শাখা শক্তিশালী করার প্রস্তাব দিয়েছি। এছাড়া অস্ত্রধারী মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা খুবই খুঁকিপূর্ণ। এজন্য আগ্নেয়াস্ত্রের প্রস্তাব করা হয়েছে। অবশ্য আগ্নেয়াস্ত্র প্রদানের ব্যাপারে সরকার নীতগতভাবে সম্মত হয়েছে। প্রস্তাবে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ডের বিধান রয়েছে। এতে ইয়াবা ব্যবসাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। হুকা-ছিলিম মাদকদ্রব্যের তালিকাভুক্তি এবং বিভাগীয় শহরে ২শ শয্যার নিরাময় কেন্দ্র নির্মাণেরও প্রস্তাব করা হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের প্রধান বলেন, এই সামাজিক অভিশাপের হাত থেকে রেহাই পেতে কেবল একটি সংস্থাই যথেষ্ট নয়। এজন্য সকলকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে এগিয়ে আসতে হবে। সংস্থাটির পরিচালক (অপারেশন) সৈয়দ তৌফিক উদ্দিন আহমেদ বলেন, সংস্থাটির সক্ষমতা বাড়াতে ১৮ থেকে ২০টি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, জাতীয় ভিত্তিক ওয়্যারলেস নেটওয়ার্ক ও বিভাগীয় শহরগুলোতে ৪টি কেমিক্যাল ল্যাবরেটরী স্থাপন, প্রশিক্ষণ, জেলা কার্যালয়গুলোতে একটি করে যানবাহন, অনলাইনে সংস্থাটির ৩৭টি সেবার ব্যবস্থা এবং মাদকদ্রব্য সনাক্তের নতুন মেশিন কেনার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।
জরুরি সভা ডেকেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়
প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে এবার প্রথমবারের মতো সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, পুলিশ, রেব ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিদের নিয়ে সমন্বয় সভা ডেকেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সভায় তিনজন মন্ত্রীসহ সাতজন সচিবকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সমন্বয় সভাটি অনুষ্ঠিত হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (মাধ্যমিক) চৌধুরী মুফাদ আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পাবলিক পরীক্ষা আয়োজনের সঙ্গে একাধিক মন্ত্রণালয়ের সম্পৃক্ততা রয়েছে। আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সমন্বয় ছাড়া প্রশ্নফাঁস ঠেকানো সম্ভব নয়। তাই আগামী পরীক্ষাগুলো সুষ্ঠুভাবে আয়োজন করতেই এই সভা ডাকা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ধারবাহিকভাবে এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হচ্ছে। সঙ্গে উত্তরপত্রও। শিক্ষা মন্ত্রণালয় পাঁচ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণাসহ নানা উদ্যোগ নিলেও প্রশ্ন ফাঁস ঠেকানো যায়নি। বরং পরীক্ষা শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশ্ন ফাঁস হচ্ছে। সর্বশেষ সোমবারের পরীক্ষায়ও প্রশ্ন ফাঁস হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয় গঠিত প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ সংক্রান্ত তথ্য যাছাই-বাছাই কমিটিও প্রশ্ন ফাঁসের প্রমাণ পেয়েছে। আগামী ২ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা নিয়েও চরম আতঙ্কে রয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ অবস্থায় প্রশ্ন ফাঁস ঠেকানোর কৌশল বের করতেই সভাটি ডাকা হয়েছে।
আপিল মোকাবেলায় প্রস্তুত দুদক
দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক সোমবার রাতে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায়ের কপি পেয়েছে। এর পর রাতেই রায় পড়ে শেষ করেছেন সংস্থাটির আইনজীবীরা। তারা বলছেন, এ রায়ের বিরুদ্ধে কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া যদি আজ জামিন আবেদন ও রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন, তা হলে তা মোকাবেলার জন্য দুদক প্রস্তুত আছে। মঙ্গলবার সকালে দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান এ কথা জানান। দুদকের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলাতেই দণ্ডিত হয়ে গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পুরাতন কারাগারে আছেন খালেদা জিয়া। ওই দিনদুপুরে মামলার রায় ঘোষণা করেন ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ আদালত। এর ১২ দিন পর সোমবার একই আদালত এ মামলার এক হাজার ১৭৪ পৃষ্ঠার রায় প্রকাশ করেন। এদিন খালেদা জিয়াসহ মামলার আসামিদের ও দুদককে রায়ের কপি সরবরাহ করা হয়। উল্লেখ্য, রায়ে খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত। এ ছাড়া মামলায় অন্য আসামি তার ছেলে তারেক রহমান, সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমানকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেয়া হয়। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা করে জরিমানা করা হয়।
কারও জন্য ঠেকে থাকবে না নির্বাচন :প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংবিধান অনুযায়ী সঠিক সময়ে আগামী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে জানিয়ে বলেছেন, সংবিধানে যেভাবে রয়েছে সেভাবেই সময়মতো আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কারও জন্য নির্বাচন ঠেকে থাকবে না। যারা গণতন্ত্র বিশ্বাস করে, জনগণের ভোটের অধিকারে বিশ্বাস করে, যাদের গণতন্ত্রের ওপর আস্থা-বিশ্বাস আছে- তারা নির্বাচন করবে। আর না করলে এখানে আমাদের কোন কিছুই করার নেই। ২০১৪ সালে এত তাণ্ডব করেও যখন নির্বাচন ঠেকাতে পারেনি, ভবিষ্যতেও কেউ নির্বাচন ঠেকাতে পারবে না। নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র বিদ্যমান। কোন দল নির্বাচন করবে, আর কোন দল নির্বাচন করবে না এটা সম্পূর্ণ তাদের দলীয় সিদ্ধান্তের ব্যাপার। তাই যথাসময়ে নির্বাচন হবে, জনগণও ভোট দেবে। যদি কেউ বলে নির্বাচন করতে দেব না এটা হচ্ছে গায়ের জোরের কথা। আর এটা বিএনপি বলতে পারে, কারণ তাদের জন্মটাই তো ওইভাবে। আর যদি বলেন বিএনপি প্রধান খালেদা জিয়াকে আমি শাস্তি দিয়েছি যে আমি তুলে নেব, তা তো আমি পারব না। কারণ রায় দিয়েছে আদালত। এখানে আমাদের তো কিছু করার নেই। আর মামলাও তো আমরা দেইনি, দিয়েছে বিএনপি নেত্রীরই প্রিয় তত্ত্বাবধায়ক সরকাররা। প্রধানমন্ত্রী বিএনপির নেতাদের প্রতি প্রশ্ন রেখে বলেন, আপনাদের দলের কি এমনই দৈন্যদশা যে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব নেয়ার মতো কোন নেতা নেই? খালেদা জিয়া বিএনপির কোন নেতার ওপর এতটুকু ভরসা রাখতে পারলেন না? ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হওয়ার মতো এতটুকু যোগ্যতাও কি বিএনপি কোন নেতার নেই? বিএনপির কোন নেতার ওপর ভরসা না করে বিএনপি নেত্রী মুচলেকা দিয়ে বিদেশে পালিয়ে যাওয়া ও আদালতে ৭ বছরের দ-িত আসামি নিজের ছেলেকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দিলেন। দলের মধ্যে যোগ্য আর কাউকে কি খুঁজে পাওয়া গেল না। এর জবাব বিএনপির নেতারাই ভাল দিতে পারবেন। সোমবার বিকেলে গণভবনে এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে একাধিক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সম্প্রতি ইতালি সফর নিয়ে অর্জিত সাফল্যগুলো তুলে ধরতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজিত করা হলেও প্রশ্নোত্তর পর্বে ঘুরে ফিরেই প্রাধান্য পায় আগামী নির্বাচন, বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার দুর্নীতির মামলায় কারাদ-, প্রশ্নপত্র ফাঁস ও রোহিঙ্গা ইস্যুটি। প্রধানমন্ত্রী স্বভাবসুলভ হাসিমুখে সাংবাদিকদের একের পর এক প্রশ্নের উত্তর দেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার সফরসঙ্গী অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু উপবিষ্ট ছিলেন। সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাগণ, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যবর্গ, সংসদ সদস্যবৃন্দ এবং সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতারা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। আগামী নির্বাচন ঠেকাতে পারবে না ॥ খালেদা জিয়া ছাড়া নির্বাচন নয়, নির্বাচন করতেও দেয়া হবে না- মর্মে বিএনপির নেতাদের এমন হুমকি প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়ার মামলা নিয়ে এখন অনেকে অনেক কথা বলছেন। এ মামলার শুরুর সময়ই বিএনপির নেত্রীর আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম তাঁকে বলেছিলেন, টাকা দিলেই মামলা থাকবে না। তখন এতিমের টাকা দিয়ে দিলেই তো মামলা থাকত না। আর পবিত্র কোরান শরিফেও তো লেখা আছে এতিমের টাকা মেরে খাওয়া যায় না। আর খেলে তো শাস্তি এটা যেমন আদালত দেয়, আল্লাহর তরফ থেকেও দেয়। এখানে তো আমাদের কিছু করার নেই। তিনি বলেন, বিএনপি থেকে হুমকি দেয়া হচ্ছে তারা নাকি নির্বাচন করবে না! নির্বাচন যদি না করে কারও করার কিছু নেই। গতবারও তারা নির্বাচন করেনি। আমরা জানতাম তারা নির্বাচনে আসবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আসেনি। এবারও যদি না আসে, কোন দল যদি নির্বাচন না করে আমাদের করার কী আছে? আর যদি বলেন আমি শাস্তি দিয়েছি আমি তুলে নেব। তা তো আমি পারব না। এটা কোর্ট দিয়েছে। মামলা করেছে দুদক। আমাদের কিছু করার নাই। আর এখানে বহুদলীয় গণতন্ত্র। কোন দল নির্বাচন করবে কোন দল নির্বাচন করবে নাদ এটা সম্পূর্ণ তাদের দলীয় সিদ্ধান্ত। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি হুমকি দিতেই পারে কারণ তাদের জন্মটাই তো হয়েছে ওইভাবে। বিচারপতি সায়েম সাহেবকে অস্ত্রের মুখে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সরিয়ে দিয়ে জেনারেল জিয়া নিজেকে প্রেসিডেন্ট ঘোষণা দিল। ১৫ আগস্ট হত্যাকা-ের সঙ্গে সম্পূর্ণ জড়িত সেই মোশতাক অবৈধভাবে প্রেসিডেন্ট হয়েই জিয়াকে সেনাপ্রধান বানিয়ে দিল। জিয়া কতটা বিশ্বস্ত ছিল খুনী মোশতাকের। আর সেই জিয়াউর রহমান একাধারে সেনাপ্রধান, একাধারে প্রেসিডেন্ট। একই অঙ্গে দুই রূপ নিয়ে উনি ক্ষমতায় এলেন। ঠিক আইয়ুব খান ইস্কান্দার মির্জাকে সরিয়ে দিয়েছিল, ঠিক সেই পাকিস্তানের আইয়ুব খানের পদাঙ্ক অনুসরণ করেই জিয়াউর রহমান নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা দিল। তারপর হ্যাঁ না ভোট। তারপরে এসে এই বিএনপি দল করল। এ কারণে তাদের চরিত্রটাই ওই রকম। প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন বর্জনের হুমকি এটা তো নতুন কিছু না। ২০১৪ সালে বিএনপি নির্বাচন করবে না বলে নির্বাচন ঠেকানোর নামে আগুন দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করেছে। প্রায় ৭০টি সরকারী অফিস পুড়িয়েছে। ২৭ নং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সদস্যকে হত্যা করেছে। গাড়িতে পেট্রোল বোমা মেরে আগুনে পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করেছে। তারা (বিএনপি-জামায়াত) ২০১৩, ২০১৪ ২০১৫-এই সময়ে না হলেও প্রায় ৫শ কাছাকাছি মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে। প্রায় সাড়ে তিন হাজারের ওপর মানুষকে শুধু আগুন দিয়ে পুড়িয়েছে। আমরা এখনও চেষ্টা করি এই মানুষগুলোকে সাহায্য করতে। সরকারপ্রধান এ সময় বিএনপি-জামায়াতে আগুন সন্ত্রাসের শিকার হওয়া পরিবারগুলোর চলমান নিদারুণ দুঃখ দুর্দশার কথা তুলে বলেন, এ ধরনের ঘটনা তো বিএনপি-জামায়াত মিলে ঘটিয়েছে। তারা মসজিদে আগুন দিয়েছে। শত শত কোরান শরীফ পুড়িয়েছে। রেল তো তারা প্রায় ধ্বংসই করে দিয়েছিল। প্রায় ২৯টি ট্রেনের বগি পোড়ানো হয়েছে। আর লঞ্চেও তারা আগুন দিয়েছিল। এতও ঘটনা তারা ঘটিয়েছে। কারণ নির্বাচন ঠেকাবে? প্রিসাইডিং অফিসারসহ অনেকেই আহত হয়েছে। তারপর যখন জনগণ তাদের প্রতিরোধ করল তখন কিন্তু তারা বিরত হলো। শেখ হাসিনা বলেন, নির্বাচনটা হচ্ছে মানুষের একটা অধিকার। তার গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকার। আমরা সেটা পূরণ করব। এখন নির্বাচনে তারা যাবে না। যারা দুর্নীতির বিরুদ্ধে এত কথা বলেন, সেই দুর্নীতিতে যিনি (খালেদা জিয়া) সাজাপ্রাপ্ত তাকে ছাড়া নির্বাচনে যাবে না। রায়টা তো আর আমি দেই নাই। রায়টা দিয়েছে কোর্ট। মামলা করেছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার। আর সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার কে? ফখরুদ্দিন সাহেব ওয়ার্ল্ড ব্যাংকে কাজ করতেন। তাকে নিয়ে এসে বাংলাদেশ ব্যাংকের গবর্নর করা হলো। কারণ বিএনপি বা খালেদা জিয়ার তিনি অত্যন্ত বিশ্বস্ত। সেই জন্যই তো নিয়ে আসল। তিনি বলেন, জেনারেল মঈনকে সেনাবাহিনীর ৯ জন জেনারেলকে ডিঙ্গিয়ে সেনাপ্রধান করা হলো। নয় জন জেনারেল ডিঙিয়ে যখন কাউকে করা হয় তার মানে কি? তিনিও সব থেকে বিশ্বস্ত সবচেয়ে প্রিয় পাত্র। আর প্রেসিডেন্ট ইয়াজউদ্দিন সাহেব তো তাদের ইয়েস উদ্দিনই ছিলেন। এই যে ইয়াজউদ্দিন ফখরুদ্দিন মঈনুদ্দিন সবগুলোই খালেদা জিয়ার নিজের লোক। তারাই মামলাটা দিয়েছে। জেনারেল মতিন, আমাদের মঈনুল হোসেন। তারাই তো দায়িত্বে ছিলেন। মামলা তো তারা দিয়েছে। সেখানে সেই মামলা দুদক করেছে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, জিয়া অরফানেজ মামলাটি কিন্তু দশ বছর চলেছে। যার কার্যদিবসই প্রায় ২৬১ দিন। সেখানে ৮০ বারই বেশি হাইকোর্ট এবং আপীল বিভাগে শুধু রিট করা হয়েছে এবং সময় নেয়া হয়েছে। জজের প্রতি অনাস্থা জানানো হয়েছে তিন বার। সময় চেয়েছে ১০৯ বার। তিনি বলেন, মামলা নিয়ে নানা টালবাহানা দেশবাসী দেখেছে। আপীল বিভাগে প্রায় ২২ বার রিট করা হয়েছে। এতকিছু করার পরও খালেদা জিয়া আদালতে উপস্থিত ছিলেন মাত্র ৪৩ দিন। ১০ বছর পর আদালতের রায়ে তার সাজা হয়েছে। তাই হুমকি দিয়ে লাভ নেই। নির্বাচন সময়মতো হবে। জনগণও ভোট দেবে। ২০১৪ সালে এত তা-ব করেও যখন নির্বাচন ঠেকাতে পারেনি, ভবিষ্যতেও ঠেকাতে পারবে না। ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হতে বিএনপিতে কী একজনও যোগ্য লোক নেই॥ দুর্নীতিবাজদের দলে রাখতে বিএনপির রাতারাতি গঠনতন্ত্র পরিবর্তন এবং দ-প্রাপ্ত তারেক রহমানকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন করার বিষয়ে অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আদালতের রায় হওয়ার আগেই বিএনপি তাদের গঠনতন্ত্রে থাকা ৭ ধারা পরিবর্তন করে নির্বাচন কমিশনে জমা দিয়েছে। আর বিএনপি গঠনতন্ত্র মানে বলে মনে হয় না। তবে বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সর্বসময় ক্ষমতার অধিকারী চেয়ারপার্সন, আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্রে আমার কিন্তু এত ক্ষমতা নেই। তিনি বলেন, বিএনপির গঠনতন্ত্রে ছিল দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হলে দলে থাকতে পারবে না। কিন্তু রায়ের আগেই সেই ধারাটি পরিবর্তন করা হলো। আমার প্রশ্ন- বিএনপিতে কি একটি যোগ্য নেতাও নেই যাকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন করা যেত? তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আগে কোনদিন রাজনীতি করবে না এমন মুচলেকা দিয়ে যে দেশ ছেড়ে চলে গেছে, যার বিরুদ্ধে মামলায় ১০ বছরের সাজার রায় হয়েছে, বিদেশে থাকা তাকেই (তারেক জিয়া) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন করা হলো! প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন রেখে বলেন, বিএনপিতে দেশে থাকা কী একটা নেতাকেও খুঁজে পাওয়া গেল না? বিএনপির কী এমনই দৈনদশা যে, খালেদা জিয়া তার দলের কাউকে দায়িত্ব দেয়ার ভরসা পেলেন না? ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন হওয়ার মতো এতটুকু যোগ্যতাও কী বিএনপি কোন নেতার নেই? এ সময় প্রধানমন্ত্রী ওয়ান ইলেভেনের সময় গ্রেফতার হওয়ার সময় জিল্লুর রহমানকে আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি দায়িত্ব অর্পনের কথা তুলে ধরে বলেন, আমাকে গ্রেফতার করার সময় দলেরই সিনিয়র নেতা জিল্লুর রহমানকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দিয়েছিলাম। বিদেশের কাউকে কিংবা আমার বোন বা ছেলেকে সেই দায়িত্ব দেয়নি। প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের অবশ্যই শাস্তি দেয়া হবে ॥ প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস এটা তো নতুন কিছু না। এটা কিন্তু সব সময় যুগ যুগ ধরেই চলে এবং কখনও প্রচার হয় কখনও প্রচার হয় না- এটাই হলো বাস্তবতা। তারপরও এবারে যে হচ্ছে এখানে সমস্যা হয়ে গেছে প্রযুক্তির ব্যবহার। আর এই প্রযুক্তি আমাদের সুযোগ করে দিয়েছি, আবার সমস্যাও সৃষ্টি করে। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, যে প্রশ্নগুলো ফাঁস হয়েছে এটা কতদিন আগে ফাঁস হয়েছে? হয় কুড়ি কিংবা ৩০ মিনিট আগে। প্রশ্নকর্তার উদ্দেশে তিনি বলেন, একটা প্রশ্ন আমার আছে- যখন প্রশ্নপত্রগুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার পর সেগুলো খোলা হয়। সেটা বিতরণ করার জন্য খোলা হয়। এখন যদি সেখানে চট করে মোবাইল ফোনে একটা ফটো নিয়ে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়, সেটা আপনি কি করবেন? এই যে কুড়ি মিনিট, আধাঘণ্টা বা ধরলাম এক ঘণ্টা। আমাদের দেশে এত বেশি ট্যালেন্টটেড কে আছে? তিনি বলেন, একঘণ্টা আগে সাধারণত পরীক্ষার হলে যাওয়ার জন্য ছাত্ররা প্রস্তুতি নেয়। হয় পথে থাকে বা পরীক্ষা কেন্দ্রে যায়। এই যে আধাঘণ্টা আগে বা বিশ মিনিট আগে প্রশ্ন দেখার পর ওই প্রশ্ন অনুযায়ী বই খুলে সেই প্রশ্নের উত্তর মুখস্থ করে সেটাকে স্মরণ করে খাতায় খেলার মতো এই রকম ট্যালেন্টেড কোন ছাত্র আছে আমাকে একটু বলবেন? প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই প্রশ্নের উত্তরটা আমিও খুঁজছি, কিন্তু পাচ্ছি না। যে এত ট্যালেন্টেড কে আছে যে একবার দেখেই সব উত্তরগুলো মনে করে ফটাফট লিখে দিল। একটা আছে যেটা শুধু টিক মারতে হয়। চিন্তা করছি এত ট্যালেন্ট বা এ রকম ফটোজেনিক মেমোরি কার আছে? সে একবার প্রশ্ন দেখল আর ওই সময়ের মধ্যে বই খুঁজে উত্তরগুলো বের করে নেয়া আর সেটাকে মাথার মধ্যে নিয়ে নেয়া আর সেটাকে লিখে ফেলে দেয়া এটা কেউ পারবে কি না? তিনি বলেন, ইন্টারনেট বন্ধ হলেই যে সব সমস্যার সমাধান হবে তা নয়। তাহলে কি ডিজিটাল সিস্টেম টোটালি ব্লক করে দিতে হবে? এখন তো আমাদের সব কিছু ডিজিটাল পদ্ধতিতে। বন্ধ করে দিলে কি অবস্থাটা হবে একবার ভেবে দেখুন। মন্ত্রী কিংবা সচিব কি নিজেরা প্রশ্নপত্র ফাঁস করতে গেছে? কিছু নিশ্চয় আছে যারা এভাবে ছড়িয়ে দিচ্ছে। তবে সাংবাদিকদের কাছে অনুরোধ, আপনারা দয়া করে অন্তত একটা বের করে দেন, সঙ্গে সঙ্গে আমরা শাস্তি দেব। কারণ আমরাও চাই না এভাবে প্রশ্ন ফাঁস হোক, বদমান হোক। আর আমরা জনমত গড়ে তুলুন, আমরা পরীক্ষায় টিক (এমসিকিউ) মারাটা বন্ধ করে দেব। একজন সব দেন, আর একজন শুধুই নেন ॥ কোন আইনের বিধান অনুযায়ী কারাগারে খালেদা জিয়াকে ব্যক্তিগত গৃহপরিচারিকা দেয়া হলো এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবাই কি দিতে পারে? একজন ভাগ্যবতী আছেন (খালেদা জিয়া) তিনি শুধু নিয়েই যান। আর একজন (শেখ হাসিনা) শুধুই দেন। আমরা দু’বোন উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত বঙ্গবন্ধুর বাড়িটিও জনগণের জন্য দিয়ে দিয়েছি। তিনি বলেন, কারাগারে ব্যক্তিগত কাউকে নেয়া নতুন নয়। ওয়ান ইলেভেনের সময়ও কারাগারে বন্দী থাকা অবস্থায় খালেদা জিয়ার জন্য এই ফাতেমাই মেড সার্ভেন্ট হিসেবে তার সঙ্গে ছিলেন। আর আদালত তাকে মেড সাভেন্ট হিসেবে তাকে দিতে বলেছেন। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলেছি যেন ফাতেমার কাছ থেকে সই নিয়ে রাখা হয় যে সে স্বেচ্ছায় কারাবন্দী থাকতে রাজি আছে। নইলে এ নিয়েও হয়তো কেউ নানা কথা বলবে। রোহিঙ্গাদের তো অসহায়ভাবে ঠেলে দিতে পারি না? রোহিঙ্গা ইস্যুতে অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমার আমাদের প্রতিবেশী দেশ। তাই আলোচনার মাধ্যমে আমরা রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানের চেষ্টা করছি। আর এটা মিয়ানমার সরকারের অভ্যন্তরীণ সমস্যা, তাই সমাধানও তাদেরই করতে হবে। তিনি বলেন, প্রথম পর্যায়ে ৮ হাজার পরিবার ফিরিয়ে দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। আগে দেখি এই ৮ হাজার পরিবারকে ফিরিয়ে নিয়ে মিয়ানমার সরকার কী করে। দেশটির ওপর আন্তর্জাতিক চাপ রয়েছে। কিন্তু হঠাৎ করেই তো আমরা আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের অসহায় অবস্থায় ঠেলে দিতে পারি না। তারাও তো মানুষ। তিনি বলেন, আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে মিয়ানমার সরকারের অনেক টালবাহানা তো রয়েছেই। আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ফেরত গিয়ে যাতে মানুষের মতো বাঁচতে পারে, বসবাস করতে পারে সেটাই আমরা চাই। এ সময় প্রধানমন্ত্রী অস্থায়ীভাবে ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের রাখার জন্য হাজার হাজার ছোট ছোট বাড়ি নির্মাণের নক্সা দেখিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখানে ১০ লাখ লোকের বসবাসের মতো জায়গা রয়েছে। পুরো জিয়া পরিবার চরম দুর্নীতিবাজ নয় ॥ সংবাদ সম্মেলনে দেয়া লিখিত সম্পুরক তথ্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জিয়াউর রহমান মারা যাওয়ার পর টেলিভিশনে ভাঙ্গা স্যুটকেস এবং ছেড়া গেঞ্জি দেখানো হয়। তাকে সততার মূর্ত প্রতীক বানানো হলো। কয়েক বছরের মধ্যেই দেখা গেল জিয়া পরিবার হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পদের মালিক। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, হঠাৎ করে এত টাকার মালিক তারা হলো কীভাবে? পুরো জিয়া পরিবার অর্থাৎ খালেদা জিয়া, তারেক ও কোকো- সবাই শুধু অসৎ তারা চরম দুর্নীতিবাজ, জিঘাংসাপরায়ণ ও ক্ষমতালোভী। তিনি বলেন, আদালতে খালেদা জিয়া এবং তার দুই ছেলের দুর্নীতির প্রমাণ হয়েছে এবং সাজা হয়েছে। তারা শুধু দুর্নীতির মাধ্যমে টাকার মালিক হয়েই ক্ষান্ত হয়নি, সেই টাকা বিদেশে পাচার করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস তারেক রহমানের ১২ কোটি টাকা টাকা আটক করেছিল। আমরা ২০১২ সালে সে টাকা দেশে ফেরত নিয়ে আসি। তারেক ও তার ব্যবসায়িক পার্টনার মামুন সিঙ্গাপুর সিটিএন ব্যাংকে ২১ কোটি টাকা পাচার করে। এ মামলায় হাইকোর্টে তারেক রহমানের ৭ বছরের সাজা এবং ২১ কোটি টাকা জরিমানা হয়। এছাড়া বিশ্বের অনেক জায়গায় খালেদা জিয়ার ছেলেদের টাকা ও সম্পদের সন্ধান পাওয়া গেছে। রায় নিয়ে বিশ্বের কারো ফোন পাইনি ॥ যুদ্ধাপরাধী জামায়াত নেতাদের ফাঁসির রায় কার্যকরের সময় দেশের বাইরে থেকে অনেক ফোন পেলেও এবার খালেদা জিয়ার রায় নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে কোন টেলিফোন পেয়েছেন কি না? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপির চেয়ারপার্সনের মামলার রায়ের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনের কেউ ফোনও করেনি, কেউ কোন প্রশ্নও করেনি। কিছু জানতেও চাননি। সেদিক থেকে এটি একটি ভাল লক্ষণ। দুর্নীতিবাজদের পক্ষে কেউ কিছু বলে না। নতুন ডিজিটাল আইন সংক্রান্ত অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাইবার ক্রাইম একটি বিরাট সমস্যা। এ দেশসহ সারাবিশ্বে এ সমস্যা আছে। কেউ যদি এমন অপরাধ করেন, তাহলে তার ক্ষেত্রে এটি প্রয়োগ করা হবে। ফৌজদারি আইন (সিআরপিসি) অনুযায়ী কেউ অপকর্ম না করলে সেখানে অপপ্রয়োগ কেন হবে? তাই সাংবাদিকদের কেউ কোন অপকর্ম না করলে ভয় পাওয়ার তো কিছু নেই? তবে আইনটি প্রণয়নের আগে সাংবাদিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী অবশ্যই ভেবে দেখবেন। চালের দাম বৃদ্ধির জন্য সিন্ডিকেট ও গণমাধ্যমও কিছুটা দোষী মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চালের দাম বাড়ানোয় মিডিয়ারও একটু অবদান আছে। ব্যবসায়ীরা যখন চালের দাম বাড়ায়, তখন আপনারা তা ঢালাওভাবে প্রচার করেন। তাতে অন্য ব্যবসায়ীরা আরেকটু দাম বাড়িয়ে নেয়। চালের দাম সিন্ডিকেটের জন্যও বাড়ে, আবার মিডিয়ার প্রচারের জন্যও বাড়ে।
ইতালি সফর নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন বিকালে
ইতালি সফর শেষে ফেরার পর সংবাদ সম্মেলনে আসছেন প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ সোমবার বিকাল সাড়ে ৪টায় গণভবনে এই সংবাদ সম্মেলন হবে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন তার প্রেস সচিব ইহসানুল করিম। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিদেশ সফর নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এলেও সাংবাদিকদের জিজ্ঞাসা অধিকাংশ সময় থাকে দেশের রাজনৈতিক বিষয়াদি নিয়ে। ফলে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দুর্নীতি মামলার দণ্ডের পর শেখ হাসিনার এই সংবাদ সম্মেলনেও বিষয়টি যে আলোচনায় উঠেবে, সে ধারণা করা যায়। জাতিসংঘের কৃষি উন্নয়ন তহবিলের (আইএফএডি) গভর্নিং কাউন্সিলের সভায় অংশগ্রহণ এবং ভ্যাটিকান সফর শেষে শনিবার রাত সোয়া ৮টায় দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পোপ ফ্রান্সিস ও আইএফএডির প্রেসিডেন্ট গিলবার্ট এফ হংবোর আমন্ত্রণে চার দিনের সরকারি সফরে রোববার রোম যান প্রধানমন্ত্রী। সফর শেষে বৃহস্পতিবার সকালে রোম থেকে আবুধাবির উদ্দেশে যাত্রা করেন তিনি। সেখানে একদিন যাত্রাবিরতির পর দুপুরে দেশের পথে রওয়ানা হন তিনি। সোমবার সকালে ভ্যাটিকান সফর করে পোপ ফ্রান্সিসের সঙ্গে বৈঠক করেন শেখ হাসিনা। পরদিন আইএফএডির ৪১তম গভর্নিং কাউন্সিলের সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন তিনি। ওই দিন বিকালে রোমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সংবর্ধনায় যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী।

জাতীয় পাতার আরো খবর