পুলিশ-শিক্ষার্থী সংঘর্ষ
অনলাইন ডেস্ক :পুলিশ-শিক্ষার্থী সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়েছে জিগাতলা ও এর আশপাশের এলাকায়। টিয়ার শেল ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের কারণে এরই মধ্যে সেখানে পুলিশসহ কয়েকজন আহত হয়েছে। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীর পাশাপাশি সেখানে যুক্ত হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থীও। আজ রোববার সকাল থেকেই সায়েন্স ল্যাবরেটরি এবং শাহবাগ এলাকায় শিক্ষার্থীদের অবস্থান লক্ষ করা যাচ্ছিল। সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়ের দিকে মূলত ইউনিফর্ম পরা স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা অন্যান্য দিনের মতো মূল সড়কে অবস্থান করে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছিল। তবে বড় জমায়েতটি ছিল শাহবাগ এলাকায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ জড়ো হয় শাহবাগে। নিরাপদ সড়কের দাবিতে তারা একাত্মতা প্রকাশ করে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘বাচ্চাদের ওপর নির্যাতন হয়েছে, সেটার জন্য বিচার চাই। আর অবশ্যই নিরাপদ সড়ক চাই।’ আরেকজন বলেন, ‘কালকে (শনিবার) জিগাতলায় যা হলো ছোটদের, বাচ্চাদের ওপর যেভাবে হামলা চলল, তার জন্য আমরা সবাই জাস্টিস চাই।’ আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘এটা তো সর্বস্তরের জনগণের দাবি। পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষার্থী যারা আছে, সবাই এ আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করছে। আমরাও এ আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করে আন্দোলনে নেমেছি।’ দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ শাহবাগ থেকে শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে এলিফ্যান্ট রোড হয়ে সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়ে দিকে যেতে থাকে। একসময় আন্দোলনকারীরা মুখোমুখি হয় পুলিশের। দুপুর ১টা নাগাদ শুরু হয় সংঘর্ষ। একদিকে শিক্ষার্থীদের ইটপাটকেল নিক্ষেপ, অন্যদিকে পুলিশের টিয়ার শেল নিক্ষেপের মধ্য দিয়ে চলতে থাকে সংঘর্ষ। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সেখানে উত্তেজনা চলছে এবং সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হয়, যাদের মধ্যে পুলিশ সদস্যও রয়েছেন। গত ২৯ জুলাই রাজধানীর কুর্মিটোলার বিমানবন্দর সড়কে জাবালে নূর পরিবহনের বাসের চাপায় দুই কলেজ শিক্ষার্থী নিহত হয়। এ ছাড়া আহত হয় বেশ কয়েকজন। নিহত শিক্ষার্থীরা হলো শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের একাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী দিয়া খানম মিম ও দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আবদুল করিম রাজীব। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে এরই মধ্যে ২০ লাখ টাকার অনুদান দিয়েছেন। নৌমন্ত্রী শাজাহান খানও নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে পাঁচ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে রাস্তায় বিক্ষোভে ফেটে পড়ে শিক্ষার্থীরা। টানা অষ্টম দিনের মতো তারা রাস্তায় নিয়েছে। গতকাল রাজধানীর জিগাতলায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায় একদল যুবক। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা রাস্তার অবস্থান নেওয়ার থেকে ঢাকার অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোয় বাস চলাচল একেবারেই কমে যায়। এমনকি আন্তজেলা বাস চলাচলও বন্ধ করে দেন মালিক ও শ্রমিকরা। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা নয়টি দাবি করেছে। তাদের সব দাবি মেনে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালও বলেছেন, শিক্ষার্থীদের সব দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে। এখন তাদের ক্লাসে ফিরে যাওয়ার উচিত বলে জানান তিনি। এরই মধ্যে গণপরিবহন মালিক-শ্রমিক সমিতির নেতারা বলেছেন, নিরাপদ বোধ না করা পর্যন্ত তাঁরা রাস্তায় বাস নামাবেন না। ফলে অঘোষিত ধর্মঘট চলছে।
বার্নিকাটের গাড়িবহরে হামলা
অনলাইন ডেস্ক :বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাটের গাড়িকে লক্ষ্য করে মোটরসাইকেল আরোহীসহ একদল দুর্বৃত্ত হামলা চালিয়েছে। আজ রোববার মার্কিন দূতাবাসের দেওয়া এক বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, গতকাল শনিবার রাতে রাজধানী ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকায় হওয়া হামলায় রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট, তাঁর গাড়িচালক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের কোনো ক্ষতি না হলেও দুটি গাড়ির কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনায় পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য ঢাকা মহানগর পুলিশ ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে মার্কিন দূতাবাস। কারা হামলা চালিয়েছে, এ বিষয়ে কিছু জানা যায়নি।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুল তথ্য প্রচার করা হচ্ছে
অনলাইন ডেস্ক :স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন- নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ভিন্ন খাতে নেয়ার চেষ্টা চলছে। রোববার গুলিস্তান জিরো পয়েন্টে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ট্র্যাফিক সপ্তাহের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুল তথ্য প্রচার করা হচ্ছে। একজন অভিনেত্রী কিভাবে অভিনয় করেছেন, কেঁদেছেন তা সবাই দেখেছেন। মূলত তার উদ্দেশ্য ছিল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানো। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সড়কে যে অরাজকতা চলছে, সেটি পুলিশ ধৈর্যের সঙ্গে মোকাবেলা করছে। ধৈর্য থাকা মানে এ নয় যে, যা চলছে তা শুধু দেখেই যাব। ধৈর্য ভেঙে গেলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। তিনি আরও বলেন, একজনকে দায়িত্বশীল নেতা তিনি ঢাকায় নামতে বলেন। তার উদ্দেশ্য ভালো ছিল না। ছেলেরা ব্যাগে বইয়ের পরিবর্তে পাথর নিয়ে নেমেছিল। রাতারাতি হাজার স্কুল ড্রেস বানানো হলো। এসব ভিন্ন উদ্দেশ্যের জন্য করা হয়েছে। মন্ত্রী বলেন- আমরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি, তাদের দাবি সম্পর্কে জানতে চেয়েছি। অথচ তারা কিছু বলতে পারে না। ৯ দফার সবগুলোই পূরণ করা হয়েছে। সড়ক পরিবহন আইনটি আগামীকাল মন্ত্রিসভার বৈঠকে উঠবে এবং রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট স্কুল ও কলেজের সামনে আন্ডারপাস তৈরিতে এরইমধ্যে সেনাবাহিনীকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন- এ ট্র্যাফিক সপ্তাহের মাধ্যমে আমি সবাইকে রাস্তায় চলাচলে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। রাস্তায় চালক, যাত্রী, পথচারী সবাইকেই আইন মেনে চলতে হবে। তা না হলে সড়ক দুর্ঘটনা কোনোভাবেই কমানো যাবে না। এসময় পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) জাবেদ পাটোয়ারী, ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়াসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ঢাকাসহ সারাদেশে আজ থেকে শুরু হয়েছে ট্র্যাফিক সপ্তাহ। আগামী ১১ আগস্ট পর্যন্ত যানবাহনের নিবন্ধন, লাইসেন্স, ফিটনেস, ইনস্যুরেন্সসহ নানা কাগজপত্র ও এসবের মেয়াদ যাচাই-বাছাইয়ের বিশেষ অভিযান পরিচালনা করবে পুলিশ। গতকাল শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে ট্র্যাফিক সপ্তাহের ঘোষণা দেন ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া।
সেই যুবক আটক
অনলাইন ডেস্ক :নিরাপদ সড়কের দাবিতে চলমান ছাত্র আন্দোলনের বিষয়ে বিএনপি নেতা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে টেলিফোনে কথোপকথনের অভিযোগে ব্যারিস্টার মিলহানুর রহমান নাওমিকে কুমিল্লার বরুড়া থেকে উঠিয়ে নেয়ার অভিযোগ করেছে পরিবারের সদস্যরা। আজ রোববার ভোরে জেলার বরুড়া উপজেলার দেওরা গ্রামের নাওমির ফুফুর বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয়। তবে কুমিল্লার পুলিশ এ বিষয়ে কিছু জানে না বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছে। নাওমির বাবা কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর সিদ্দিকুর রহমান সুরুজ জানান, আজ ভোরে ঢাকা থেকে আসা ডিবি পুলিশ নাওমির মামা মঞ্জুর আলম ও চাচা ফরিদুর রহমানকে নিজ বাড়ি নগরীর উনাইসার থেকে নাওমির খোঁজে বরুড়ায় নিয়ে যায়। সেখান থেকে নাওমিকে আটক করে ঢাকায় নিয়ে যায়। নাওমির বাবা তার ছেলেকে নির্দোষ দাবি করেন এবং সে দেশের রাজনীতির কোন দলের সঙ্গে জড়িত নয় বলে জানান। তিনি বলেন, তার ছেলে ছোট বেলায় পড়াশুনার জন্য বিদেশে চলে যায় এবং লন্ডন থেকে ব্যারিস্টারি পড়া শেষ করে গত ৬ মাস আগে দেশে আসে। বিএনপি নেতা আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে তার বাসায় তার চাচাতো বোনের বিয়ের দাওয়াত দেয়ার জন্য ফোন করেছিল নাওমি। বাড়তি কথাগুলো সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন বলেও উল্লেখ করেন নাওমীর বাবা। তিনি আরও জানান, যদি নাওমি অপরাধ করে থাকে তাহলে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিচার করা হোক, তবে তার প্রতি যেন অবিচার করা না হয়। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে এক ছাত্রের অডিও ফোনালাপ ভাইরাল হয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। অডিও ক্লিপটি আন্দোলনের সপ্তম দিন গতকাল শনিবার ফেসবুকে ভাইরাল হয়। ওই অডিওতে নাওমীকে ঢাকায় আন্দোলনে সক্রিয় হতে বলেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে নাশকতায় উসকানি ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগে শনিবার রাতে চট্টগ্রাম নগরীর কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন নগর ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া দস্তগীর।
বল প্রয়োগ করবে না, চুমু খাবে: কাদের
অনলাইন ডেস্ক: নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে বিএনপি ভর করেছে বলে অভিযোগ করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এ সময় সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী গতকাল শনিবার আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির কার্যালয়ে হামলার সমালোচনা করেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, এই নেতিবাচক রাজনীতির হোতা বিএনপি নিরাপদ সড়কের আন্দোলনকে নিরাপদ ক্ষমতার পথ হিসেবে ব্যবহার করতে চায়। এবং সেই এজেন্ডা নিয়ে এরা এগিয়ে যাচ্ছে। সাত দিন ধরে ধৈর্য ধরেছি। আজকে পুলিশকে অপমান করা হয়েছে। রাস্তায় দাঁড়িয়ে আওয়ামী লীগ অফিসের দিকে গোলাগুলি করতে করতে আসবেন। তাদেরকে বল প্রয়োগ করবে না, চুমু খাবে? যোগ করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। আজ রোববার সকালে রাজধানীর ধানমণ্ডিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এসব কথা বলেন। গত ২৯ জুলাই রাজধানীর কুর্মিটোলার বিমানবন্দর সড়কে জাবালে নূর পরিবহনের বাসের চাপায় দুই কলেজ শিক্ষার্থী নিহত হয়। এ ছাড়া আহত হয় বেশ কয়েকজন। নিহত শিক্ষার্থীরা হলো শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের একাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী দিয়া খানম মিম ও দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আবদুল করিম রাজীব। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে এরই মধ্যে ২০ লাখ টাকার অনুদান দিয়েছেন। নৌমন্ত্রী শাজাহান খানের পক্ষ থেকেও পাঁচ লাখ টাকা করে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে রাস্তায় বিক্ষোভে ফেটে পড়ে শিক্ষার্থীরা। এর পর থেকে ঢাকার অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোয় বাস চলাচল একেবারেই কমে যায়। এমনকি আন্তজেলা বাস চলাচলও বন্ধ হয়ে যায়। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা নয়টি দাবি করেছে। তাদের সব দাবি মেনে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ অবস্থার মধ্যেই গতকাল শনিবার রাজধানীর ধানমণ্ডির আওয়ামী লীগ সভাপতির কার্যালয়ে হামলা করা হয় বলে বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
তৃতীয় পক্ষ মাঠে, শিক্ষার্থীদের ফিরিয়ে নিন : প্রধানমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক: তৃতীয় পক্ষ মাঠে নেমেছে, যে কোনো ধরনের অঘটন ঘটতে পারে বলে সতর্ক করে নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ঘরে ফিরিয়ে নিতে শিক্ষক-অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রোববার (৫ আগস্ট) গণভবনে দেশের ১০ জেলায় ফাইবার অপটিক কানেকটিভিটি উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে সব বাচ্চারা রাস্তায় নেমেছে, আমরা তাদের সহযোগিতা করেছি। কিন্তু এর ভেতর তৃতীয় পক্ষ ঢুকে গেছে, যাদের কাজ ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করা। তাই এখন আর ছাত্রদের রাস্তায় থাকার দরকার নেই। তিনি আরও বলেন,তৃতীয় পক্ষ মাঠে নেমেছে, ঢাকার বাইরে থেকে লোক নিয়ে এসেছে, তাদের কাজ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করা, যখনই আমি এটা জেনেছি, আমি আতঙ্কিত বোধ করছি। এখন যদি শিক্ষার্থীদের কিছু হয়, তবে এর দায়িত্ব কে নেবে। অভিভাবক ও শিক্ষকদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন,শিশুরা যেটুকু করেছে, তা যথেষ্ট। অভিভাবকদের অনুরোধ আপনারা আপনাদের সন্তানদের ঘরে ফিরিয়ে নিন। শিক্ষকদের প্রতি অনুরোধ আপনারা তাদের ক্লাসে ফিরিয়ে নিন, পড়াশোনা করা তাদের দায়িত্ব। তাদের লেখাপড়ায় মনোযোগী করে তুলুন। তাদের রাস্তায় আর থাকার দরকার নেই। ট্রাফিক পুলিশ তাদের দায়িত্ব পালন করবে। শিক্ষার্থী লেখাপড়া শিখুক, পড়াশোনা করুক। প্রধানমন্ত্রী বলেন,যারা আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মানুষ মারতে পারে, অনিক-হৃদয়ের মত ছাত্রের শিক্ষাজীবন নষ্ট করতে পারে, তারা সব কিছু করতে পারে। তাই শিশুদের রাস্তা থেকে তুলুন। দুর্ঘটনা বন্ধ করার সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছি, আর কোন মায়ের কোল খালি হোক তা আর চাই না। সড়ক দুর্ঘটনায় দুই শিক্ষার্থী নিহতের বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন,আমরা তাদের মনোবেদনা বুঝি। তারা সহপাঠী হারিয়েছে। অন্তত আমার থেকে এই বেদনা কেউ বোঝে না। শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে লাইসেন্স দেখছে, যা ইচ্ছা তাই করেছে। আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অসীম ধৈর্য ধরেছে। তারাও শিক্ষার্থীদের সহায়তা করেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন,কেউ গুজবে কান দিবেন না। যা শুনবেন, দেখবেন অন্তত যাচাই করুন। বিশেষ করে ছাত্র, যুব সমাজ ও অভিভাবদের প্রতি আমার এই আহ্বান রইল। শিক্ষার্থীদের দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন,এদের দাবি-দাওয়া যা ছিল, সবই একে একে বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। যেখানেই স্কুল, সেখানেই ট্রাফিক থাকবে, রাস্তা পারাপার করিয়ে দেবে। আন্ডারপাস করা হবে। ওভারব্রিজ হবে, তবে তা যেন ব্যবহার করে।
শেখ হাসিনাকে নেপালের প্রধানমন্ত্রীর ফোন
অনলাইন ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফোন করে আসন্ন বঙ্গোপসাগর উপকূলবর্তী সাত দেশের জোট বিমসটেক সম্মেলনে যোগদানের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলি। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নেপালের প্রধানমন্ত্রী শনিবার (০৪ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে টেলিফোন করেন। দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ১০ মিনিট কথা হয়। তারা পারস্পরিক কুশল বিনিময় করেন। এসময় কে পি শর্মা অলি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আসন্ন বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি সেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কোঅপারেশন (বিমসটেক) সম্মেলনের আমন্ত্রণ জানান ও এই সম্মেলনে অংশগ্রহণ করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করেন। বাংলা নিউজ
মিথ্যা অপপ্রচারে বিভ্রান্ত হবেন না: প্রধানমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, গুজবে কান দেবেন না, মিথ্যা অপপ্রচারে বিভ্রান্ত হবেন না। প্রযুক্তি যেন গঠনমূলক কাজে ও মানুষের কল্যাণে ব্যবহার হয় সেই আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রযুক্তির ব্যবহার করে কেউ কেউ অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে। এ সময় কল্যানমূলক কাজে প্রযুক্তির ব্যবহারে ছোটদের উদ্বুদ্ধ করতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। রোববার (০৫ আগস্ট) সকালে গণভবন থেকে ১০ জেলার ৩০০ ইউনিয়ন পরিষদে অপটিক্যাল ফাইবার কানেক্টিভিটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী। বাসচাপায় শহীদ রমিজ উদ্দিন কলেজের দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটা দুর্ঘটনা ঘটে গেছে, সে জন্য আমরা অত্যন্ত দুঃখিত। আমরা পদক্ষেপ নিয়েছি। শিক্ষক ও অভিভাবকদের প্রতি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ঘরে ফিরিয়ে নেওয়ারও আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, যথেষ্ট হয়েছে আর না, ঘরের ছেলে-মেয়ে ঘরে ফিরে যেতে হবে। লেখাপড়া করতে হবে। আর কোনো বাবা-মায়ের কোল খালি হোক আমি চাই না। কারণ, হারানোর বেদনা আমি বুঝি। অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ, সন্তানদের ঘরে ফিরিয়ে নিন। রাস্তায় চলাচলে ট্রাফিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্কুল থেকেই ট্রাফিক রুল শেখাতে হবে। স্কুলের সামনেই ট্রাফিক থাকবে, জেব্রা ক্রসিং থাকবে, যেখানে আন্ডারপাস প্রয়োজন তার ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছি। দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, তা যতদূর সম্ভব রোধ করতে হবে। দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মোবাইল ফোন প্রত্যেকটা মানুষের হাতে আমরা পৌঁছে দিয়েছি। আজকে হাতে হাতে মানুষের মোবাইল ফোন। সব ধরনের ইন্টারনেট আমরা দিয়ে দিচ্ছি। ঘরে বসে আজকে ছেলেমেয়েদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হচ্ছে।
কূটনৈতিক এলাকার সড়কে এলইডি বাতি
অনলাইন ডেস্ক: নিরাপত্তা ও দুর্ঘটনা এড়াতে কূটনৈতিক এলাকার পুরনো নিয়ন বাতির জায়গায় বসছে অত্যাধুনিক এলইডি বাতি। এতে একদিকে যেমন রাতের রাস্তা নিরাপদ হবে তেমনি চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ কমে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) অধিকাংশ ওয়ার্ডেই এলইডি বাতির আলোয় ঝলমল করছে অনেক আগ থেকেই। এরপর কথা উঠেছিল দক্ষিণ আলোকিত কিন্তু উত্তর (ডিএনসিস) অন্ধকারে নিমজ্জিত। তাই এবার উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকাও এলইডি বাতির আলোয় আলোকিত হবে। তবে এখনই ডিএনসিসির সব ওয়ার্ডে জ্বলবে না এলইডি বাতি। এজন্য অপেক্ষা করতে হবে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। আগে রাজধানীর ভিআইপি এলাকাখ্যাত কূটনৈতিক জোন এবং সংসদ এলাকায় এলইডি বাতি জ্বলবে। আগামী দেড় মাসের মধ্যে অর্থাৎ ৪৫ দিনের মধ্যে ভিআইপি এলাকার রাতের সড়ক আলো ঝলমলে হবে। সর্বোচ্চ সময় ধরা হয়েছে দুই মাস। জানা যায়, জার্মানির ভালকান কোম্পানির নরডন গ্রুপের অত্যাধুনিক এলইডি বাতি বসছে ডিএনসিসি'র ১, ৩ ও ৫ নং অঞ্চলে। এজন্য মোট ৩ হাজার ৩৪৩টি বাতি আনা হচ্ছে। প্রতিটি এলইডি বাতির জন্য খরচ পড়বে ৪৭ হাজার টাকা। সেনাকল্যাণ সংস্থার মাধ্যমে এই বাতি আনা হচ্ছে। প্রত্যেক বাতির দশ বছরের ওয়ারেন্টি নিশ্চিত করা হয়েছে। কোন বাতির আলো ৭০ শতাংশে নেমে এলে তা পরিবর্তন করার কথা থাকছে চুক্তিতে। পুরো প্রকল্প বাস্তবায়নে খরচ হচ্ছে ২৫ কোটি টাকা। এলইডি বাতির আওতায় আসছে সার্ক ফোয়ারা থেকে শুরু হয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে দিয়ে জাহাঙ্গীর গেট হয়ে মহাখালী। সেখান থেকে স্টাফ কোয়াটার। অন্যদিকে প্রগতি সরণির আবুল হোটেল থেকে শুরু হয়ে যমুনা ফিউচার পার্ক পর্যন্ত। এদিকে বিজয় সরণি ঘুরে খেজুর বাগান হয়ে সংসদের দক্ষিণে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এলাকায় বসানো হবে এলইডি বাতি। অন্যদিকে নতুন বাজার থেকে শুরু করে কাকলী সড়ক পর্যন্ত এবং পাকিস্তান দূতাবাস থেকে শুরু করে সুইমিংপুল পর্যন্ত নতুন এ বাতি বসানো হবে। উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার উত্তরা এবং পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সামনের রাস্তায় এরই মধ্যে এলইডি বাতি বসানো হয়েছে। পুরো শহরের এলইডি বাতি ডিএনসিসি কন্ট্রোল রুম থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। এ বিষয়ে ডিএনসিসি’র তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) লে. কর্নেল মো. আজাদুর রহমান বলেন, আমরা আগামী দেড় মাস থেকে সর্বোচ্চ দুই মাসের মধ্যে ডিপ্লোম্যাটিক জোন এবং সংসদ এলাকায় এলইডি বাতি স্থাপন করবো। বাতিগুলো সব ইউরোপিয়ান মডেলের। সবচেয়ে বড় কথা প্রতিটি বাতিতে থাকছে ১০ বছরের ওয়ারেন্টি। আর পুরো ডিএনসিসি এলাকা ধাপে ধাপে এলইডি বাতির আলোয় আলোকিত হবে। সে জন্য সময় নির্ধারিত আছে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত।

জাতীয় পাতার আরো খবর