আগামী রোববার ইতালি সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
আগামী রোববার ইতালি ও ভ্যাটিকান সিটি সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই সফরে রোমভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল ফান্ড ফর অ্যাগ্রিকালচার ডেভেলপমেন্টের (ইফাড) বার্ষিক গভর্নিং কাউন্সিলের বৈঠকে যোগ দেবেন তিনি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, আগামী ১২ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি এ কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে রোমভিত্তিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ফান্ড ফর অ্যাগ্রিকালচার ডেভেলপমেন্টের বার্ষিক কাউন্সিল। সেই সভায় যোগ দিতে ইতালির প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে শেখ হাসিনা এ সফরে যাচ্ছেন। সফরকালে শেখ হাসিনা ইতালির প্রধানমন্ত্রী পাওলো জেনতিলনির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য, বিনিয়োগ, পর্যটন ও পরিবেশ খাতে সহযোগিতা বিষয়ে আলোচনা হবে। এরপর ভ্যাটিকান সিটি সফরে যাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে ভ্যাটিকান রাষ্ট্রপ্রধান পোপ ফ্রান্সিসের সঙ্গেও বৈঠক করবেন।
সারা দেশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে :আইজিপি
আগামীকাল ৮ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায়কে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে পুলিশ। কাল দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণাধীন থাকবে। আজ রাজধানীর পুলিশ সদর দপ্তরে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী। প্রেস ব্রিফিংয়ে লিখিত বক্তব্যে আইজিপি বলেন, ৮ ফেব্রুয়ারি একটি মামলার রায়কে কেন্দ্র করে ঢাকাসহ সারা দেশের মানুষের মধ্যে এক ধরনের প্রচ্ছন্ন উদ্বেগ বা উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হয়েছে বলে গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক, প্রিন্ট ও সোশ্যাল মিডিয়া সূত্রে জানা যাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থে বাংলাদেশ পুলিশ এরই মধ্যে দেশব্যাপী সর্বাত্মক প্রচেষ্টা গ্রহণ করেছে, গ্রহণ করা হয়েছে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা পরিকল্পনা। নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে ঢাকা মহানগরীসহ সব বিভাগ, জেলা ও উপজেলায়। আমরা মনে করি আগামীকাল ৮ ফেব্রুয়ারি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণাধীন থাকবে। আমরা আশা করি সংশ্লিষ্ট সবাই আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবেন। তারপরও যদি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী কর্তৃক জননিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলা অবনতি করার অপচেষ্টা করা হয় আমরা আইনগতভাবে তা মোকাবিলা করব। নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টির যেকোনো অপচেষ্টা পুলিশ কঠোরভাবে পেশাদারত্বের সাথে মোকাবিলা করবে। কোনো অবস্থাতেই এ ধরনের অপচেষ্টা সহ্য করা হবে না। আইজিপি জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, আমরা সম্মানিত দেশবাসীকে আশ্বস্ত করতে চাই, দেশের আইনশৃঙ্খলা এবং জননিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পুলিশ সক্ষম এবং প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা সম্মানিত নাগরিকবৃন্দকে কোনো গুজবে কান না দিয়ে অথবা ভীত না হয়ে স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখার অনুরোধ করছি। কোথাও সন্দেহজনক কোনো কিছু পরিলক্ষিত হলে নিকটস্থ পুলিশকে অথবা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ অবহিত করার অনুরোধ জানাচ্ছি। সর্বোপরি দেশের স্বাভাবিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখার স্বার্থে সম্মানিত নাগরিকগণের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করছি।
জনবহুল স্থানে ওয়াইফাই নিশ্চিত করা হবে :তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী
২০১৮ সালের মধ্যেই দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন অপটিক্যাল ফাইভার ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগের আওতায় আসবে। বিশ্ববিদ্যালয়, মার্কেটসহ জনবহুল স্থানে ওয়াইফাই নিশ্চিত করা হবে। বুধবার অ্যালিফ্যান্ট রোডে মাল্টিপ্লাস প্লাজায় কম্পিউটার সিটি সেন্টারে তথ্যপ্রযুক্তি প্রদর্শনী ডিজিটাল আইসিটি মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার এ কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচি বাস্তবায়নের ফলে বাংলাদেশ তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে নেতৃত্বের জায়গায় পৌঁছেছে। বাংলাদেশের সফটওয়্যার আয়ারল্যান্ড পুলিশ বিভাগসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ব্যবহার করছে। বাংলাদেশের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়াররা দেশে বসেই জাপানের এক হাজার ফ্ল্যাট বাড়ির নিরাপত্তা দিচ্ছেন। ফেব্রুয়ারিতেই নেপাল ও নাইজেরিয়ায় বাংলাদেশ কম্পিউটার রপ্তানি করতে যাচ্ছে। এ সময় তিনি দেশব্যাপী ইন্টারনেট সুপার হাইওয়ে তৈরি করার আশাবাদও ব্যক্ত করেন। মোস্তাফা জব্বার আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে বাংলাদেশে তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন সূচিত হয়েছে। আমরা কম্পিউটার আমদানিকারক দেশ থেকে এখন রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হয়েছি। তথ্যপ্রযুক্তি থেকে বাংলাদেশ আটশ মিলিয়ন ডলার আয় করছে। দেশে এখন প্রায় সাড়ে আট কোটি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করছে। ব্রডব্যান্ডের মূল্য প্রতি জিবিপিএস ২৭ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে প্রায় তিনশ টাকায় নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ইন্টারনেট এখন নতুন প্রজন্মের শক্তি। ইন্টারনেট সম্প্রসারণের পাশাপাশি ইন্টারনেট নিরাপত্তা নিয়েও আমরা কাজ করছি। নিরাপদ ইন্টারনেট নিশ্চিত করতেও আমরা সক্ষম হবো। দেশে ফেসবুক ব্যবস্থাপনার নিজস্ব কোনো প্রযুক্তি নেই। আমরা এ বছরের মাঝামাঝি তা অর্জনে সক্ষম হবো। অনুষ্ঠানে ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের উপাচার্য অধ্যপক ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী, বৃহত্তর অ্যালিফ্যান্ট রোড দোকান মালিক সমিতির প্রধান উপদেষ্টা মোস্তফা মহসীন মন্টু, এফবিসিসিআই সভাপতি মো. শফিউল ইসলাম (মহিউদ্দিন), মো. হেলাল উদ্দিন, বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির সভাপতি আলী আশফাক এবং ডিজিটাল আইসিটি ফেয়ার ২০১৮ এর আহ্বায়ক তৌফিক এহসান বক্তৃতা করেন। পরে মন্ত্রী ডিজিটাল আইসিটি মেলার উদ্বোধন করেন এবং মেলায় বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন।
সোহেলকে গ্রেফতার কর হয়নি :ডিএমপি
বিএনপি নেতা হাবিবুন-নবী খান সোহেলকে গ্রেফতার কর হয়নি। বিএনপির পক্ষ থেকে যে প্রোপাগান্ডা চালানো হচ্ছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, অপপ্রচার।এসব কথা বলেছেন ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া।বুধবার (০৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ডিএমপি হেড কোয়ার্টারে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। ডিএমপি কমিশনার বলেন, পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেনি।বিভিন্ন মাধ্যমে যে খবরগুলো আসেতেছে তা সত্য নয়। আমি সব ইউনিটের সঙ্গে কথা বলেছি, কেউ তাকে গ্রেফতার করেনি। জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করার জন্য এরকম অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।গণগ্রেফতারের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তিনি বলেন, কোনো গণগ্রেফতার হচ্ছে না।৩০ জানুয়ারি পুলিশ ভ্যানে হামলা চালিয়ে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ভিডিও ফুটেজ দেখে দেখে গ্রেফতার করা হচ্ছে।
সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগের সংবাদ সম্মেলন
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বুধবার সন্ধ্যা ৬টায় সংবাদ সম্মেলন করবেন। দলের সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়েছে। সকালে আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। আগামী বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি মামলার রায় ঘোষণা করা হবে। এই প্রেক্ষাপটে বিকেলে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন খালেদা জিয়া। এরপর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের এ সংবাদ সম্মেলনের ঘোষণা এলো।
দেশ গঠনেও ভূমিকা রাখছে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী :প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি দেশ গঠনেও ভূমিকা রাখছে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী। রাজধানীর মিরপুর সেনানিবাসে সামরিক বাহিনী কমান্ড ও স্টাফ কলেজে (ডিএসসিএসসি) এক অনুষ্ঠানে বুধবার সকালে তিনি এ কথা বলেন। কলেজের ডিএসসিএসসি কোর্সের গ্রাজুয়েটদের সনদ তুলে দিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী সেনাবাহিনীর ১৩৬ গ্রাজুয়েটসহ বিভিন্ন বাহিনীর ২৬৬ অফিসারকে সনদ তুলে দেন। এ সময় তিনি সশস্ত্র বাহিনীর নানা কার্যক্রমের প্রশংসা করে বলেন, আমাদের সশস্ত্র বাহিনী যেমন নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে, তেমনি দেশ গঠনেও ভূমিকা রাখছে। সশস্ত্র বাহিনীর উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন তিনি। উল্লেখ করেন দেশের উন্নয়নে সরকারের কর্মসূচির কথাও।
জননিরাপত্তায় ৮ ফেব্রুয়ারিরাস্তায় নামবে আওয়ামী লীগ
৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার বিরূদ্ধে দুর্নীতি মামলার রায়কে কেন্দ্র করে ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় নাশকতা হতে পারে বলে পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ওই দিন আওয়ামী লীগ কোন পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি দেবে না। তবে, জননিরাপত্তায় বিঘঘটলে পুলিশকে সহযোগিতায় রাস্তায় নামবে আওয়ামী লীগ। মঙ্গলবার বিকালে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের সম্পাদকম-লী ও সহযোগী সংগঠনের সঙ্গে যৌথসভা কাদের একথা বলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপির পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় নেতিবাচক কথা বার্তা ছড়িয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে। আদালতের রায় কি হবে সেটা আমরাও জানি না। আজকের সভায় আমাদের মহানগর নেতাদেরও বলা হয়েছে, ওই দিন যেনো আমাদের পক্ষ থেকে কোন রকম উস্কানি সৃষ্টি না করা হয়। এই পরিস্থিতিতে আবারও দেশে ২০১৩ বা ২০১৫ সালের মতো সহিংসতা শুরু হয় কি না, এ নিয়ে উদ্বেগ স্পষ্ট। অবশ্য রায়ের দিন থেকে শুরু করে রাজধানীতে কোনো ধরনের মিছিল-সমাবেশ বা জমায়েত নিষিদ্ধ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। আমি আপনাদের একটা কথা বলতে চাই,আওয়ামী লীগ ক্ষমতাসীন দল। আমরা কখনও চাইবো না কোন রকম নৈরাজ্য সৃষ্টি হোক। তারা যদি উস্কানি দেয়, হাইকোর্টের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি করে তাহলে আমরাও চুপ থাকবো না। কাদের বলেন, এই মামলার রায় কী হবে তার সঙ্গে সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আদালত স্বাধীনভাবে মামলার কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বেগম জিয়া আমাদের শত্রু নয়। বিএনপিও আমাদের শত্রু নয়। কিন্তু বিএনপি আমাদের শত্রু ভাবে। তা না হলে ১৫ আগস্ট (২০০৪ সালের ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা) খুনিদের মদদ দিত না। এই ধরনের হামলা করত না। বার বার আমাদের সঙ্গে শত্রুতা করেছে। বিএনপি শত্রুতা ও প্রতিহিংসার রাজনীতি করে। আওয়ামী লীগের সম্পাদকম-লীর সদস্য মাহবুবউল আলম হানিফ, দীপু মনি, এনামুল হক শামীম, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, হাছান মাহমুদ, ফরিদুন্নাহার লাইলী, সুজিত রায় নন্দী, আবদুস সোবাহান, দেলোয়ার হোসেন, আবদুস সবুর, রোকেয়া সুলতানা, উপ-দফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি একেএম রহমতুল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান, ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ, সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসাইন প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
৩২ ধারা সাংবাদিকদের কাজকে বাধাগ্রস্ত করবে না: আইনমন্ত্রী
আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৩২ ধারা সাংবাদিকদের কাজকে বাধাগ্রস্ত করবে না। সাংবাদিকদের কাজ গুপ্তচরবৃত্তি নয়। তাঁরা তথ্য সংগ্রহ করেন বা করবেন প্রতিবেদন তৈরির স্বার্থে। সরকারের গোপন তথ্য সরকারের শত্রু বা বিদেশের কাছে সরবরাহ করার জন্য নয়। আজ মঙ্গলবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ল রিপোর্টার্স ফোরাম আয়োজিত ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, কোনো সাংবাদিক তাঁর বস্তুনিষ্ঠ প্রতিবেদন প্রকাশের জন্য যদি ৩২ ধারায় অভিযুক্ত হন, তাহলে তিনি (আইনমন্ত্রী) নিজে বিনা পারিশ্রমিকে তাঁর (সাংবাদিক) পক্ষে মামলা লড়বেন। গত ৩০ জানুয়ারি মন্ত্রিসভায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের খসড়া অনুমোদন করা হয়। এর মাধ্যমে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) আইনের বিতর্কিত ৫৭ ধারা বাতিল করলেও নতুন আইনে ৫৭ ধারার বিষয়বস্তুগুলো চারটি ধারায় ভাগ করে রাখা হয়েছে। এ জন্য আলাদা আলাদা শাস্তির বিধান রাখা হচ্ছে। আইসিটি আইনে ৫৭ ধারায় মানহানি, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত, রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোসংক্রান্ত বিষয়গুলো একত্রে ছিল। নতুন আইনের ৩২ ধারা নিয়ে সবচেয়ে বেশি আপত্তি উঠেছে। এতে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি বেআইনিভাবে প্রবেশের মাধ্যমে কোনো সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা বিধিবদ্ধ কোনো সংস্থার অতিগোপনীয় বা গোপনীয় তথ্য-উপাত্ত কম্পিউটার, ডিজিটাল যন্ত্র, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক, ডিজিটাল নেটওয়ার্ক বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক মাধ্যমে ধারণ, প্রেরণ বা সংরক্ষণ করেন বা করতে সহায়তা করেন, তাহলে সেই কাজ হবে কম্পিউটার বা ডিজিটাল গুপ্তচরবৃত্তির অপরাধ। এই অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ ১৪ বছরের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড হবে। কেউ যদি এই অপরাধ দ্বিতীয়বার বা বারবার করেন, তাহলে তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড ভোগ করতে হবে।

জাতীয় পাতার আরো খবর