দ্বিতীয় মেয়াদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতে চলেছেন আবদুল হামিদ
দ্বিতীয় মেয়াদে দেশের ২১তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতে চলেছেন মোঃ আবদুল হামিদ। সোমবার রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিনে তাঁর পক্ষে মাত্র একটি মনোনয়নপত্রই জমা পড়েছে। এখন এ পদে নির্বাচনের জন্য ভোট গ্রহণের প্রয়োজন নেই। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করবেন প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা। আগামীকাল বুধবার এই মনোনয়নপত্র বাছাই করা হবে। জানা গেছে, বাছাই শেষে মনোনয়নপত্র বৈধ হলে ওইদিনই তাকে রাষ্ট্রপতি পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করবেন রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনকারী প্রধান নির্বাচন কমিশনার। গত শুক্রবার রাষ্ট্রপতি পদে মোঃ আবদুল হামিদের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়। সোমবার জমার শেষ দিনে আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে এসে রাষ্ট্রপতির পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এ নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন তিনি। মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার সময় আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, জাতীয় সংসদে সরকারী দলের চীফ হুইপ আ স ম ফিরোজ, হুইপ ইকবালুর রহীম, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা রিয়াজুল কবীর কাওসার। আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠানের তারিখ নির্ধারিত ছিল। কিন্তু এ পদে নির্বাচনের জন্য একটিমাত্র মনোনয়নপত্র জমা পড়ায় ভোটের আয়োজন করতে হবে না। রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনে মোঃ আবদুল হামিদের পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার পর দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, এতে করে তারা জনপ্রত্যাশা পূরণ করেছেন। আমাদের কাছে আছে অনেকেই। মনে হচ্ছে, তিনিই জনগণের কাছে সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য, জনগণের কাছে সর্বজন শ্রদ্ধেয়। রাষ্ট্রপতি তো দলের রাষ্ট্রপতি হবে না, দেশের রাষ্ট্রপতি। কাজেই ওই ধরনের একজন মানুষকেই খুঁজে নিয়েছি। জনগণের চিন্তা-ভাবনা, চোখের ভাষায় মোঃ আবদুল হামিদই সর্বাধিক প্রত্যাশিত। মোঃ আবদুল হামিদ হচ্ছেন ভাটি বাংলার বীর পুরুষ, মুক্তিযোদ্ধা। আওয়ামী লীগের পছন্দের এ মানুষটি দেশের মানুষ গ্রহণ করছে আস্থার সঙ্গে। এখন জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করলেই আওয়ামী লীগ খুশি। গত ২৫ জানুয়ারি প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন। এ পদে নির্বাচনের জন্য সোমবার রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিন ছিল। শেষ দিনে বর্তমান রাষ্ট্রপতির পক্ষে একটি মাত্র মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে বলে কমিশন সূত্র নিশ্চিত করেছে। এখন দ্বিতীয় মেয়াদে ৭৪ বছর বয়সী মোঃ আবদুল হামিদকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করা আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। বাছাই শেষে যে কোন সময় তাকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে। ইসির তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হবে আগামীকাল ৭ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টা থেকে। তফসিলে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারে শেষ তারিখ ১০ ফেব্রুয়ারি। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনের জন্য মোঃ আবদুল হামিদের পক্ষ থেকে তিনটি মনোনয়নপত্র দাখিল করা হয়েছে। প্রথম মনোনয়নপত্রে প্রস্তাবক হয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। সমর্থক হয়েছেন দলের সভাপতিম-লীর সদস্য এবং বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। তার পক্ষে জমা দেয়া দ্বিতীয় মনোনয়নপত্রে প্রস্তাবক হয়েছেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী এবং বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন। আর সমর্থক হয়েছেন জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ আ স ম ফিরোজ। তৃতীয় মনোনয়নপত্রে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ প্রস্তাবক হয়েছেন। সমর্থক হয়েছেন হুইপ মোঃ আতিউর রহমান আতিক। আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জাতীয় সংসদের একজন সংসদ সদস্য প্রস্তাবক এবং একজন সংসদ সদস্যকে সমর্থক হতে হয়। আর একই ব্যক্তি সর্বোচ্চ তিনটি মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেন। যে কোন একটি বাছাইয়ে বৈধ হলেই অন্যগুলো বাদ হয়ে যায়। গত ২ জানুয়ারি শুক্রবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদের জন্য মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ আসম ফিরোজ। এর আগে গত ৩১ জানুয়ারি এ পদে দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচনের জন্য আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে তাঁকেই মনোনয়ন দেয়া হয়। গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে আওয়ামী লীগের সংসদীয় বোর্ডের সভায় মোঃ আবদুল হামিদকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। পরে ১ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার রাতে বঙ্গভবনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদকে দেশের ২১তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে দলের মনোনয়ন প্রদানের সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেন। ২০১৩ সালে রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের মৃত্যুর কারণে ওই বছর ২৪ মার্চ থেকে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপ্রধান ছিলেন মোঃ আবদুল হামিদ। পরে ২২ এপ্রিল তিনি বাংলাদেশের ২০তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেন ২৪ এপ্রিল। আগামী ২৩ এপ্রিল তার ৫ বছর মেয়াদ পূর্ণ হবে। এরপর থেকে তিনি তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন। সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মেয়াদ অবসানের কারণে রাষ্ট্রপতি পদ শূন্য হওয়ার ক্ষেত্রে মেয়াদ পূর্তির তারিখের আগের নব্বই থেকে ষাট দিনের মধ্যবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হয়। ফলে আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এ নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে নির্বাচন কমিশনের। স্বাধীনতার পর থেকে ১৯ মেয়াদে এ পর্যন্ত ১৬ জন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। সেই হিসেবে মোঃ আবদুল হামিদ এই পদে সপ্তদশ ব্যক্তি এবং দ্বিতীয় মেয়াদে ২১তম রাষ্ট্রপতি হতে যাচ্ছেন। দেশের আইনে এক ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুই মেয়াদে রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্বে থাকতে পারেন। ফলে এবার নির্বাচিত হলে এটাই হবে মোঃ আবদুল হামিদের শেষ মেয়াদ। তৃতীয় মেয়াদে কাউকে রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনের সুযোগ নেই।
দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসাসেবা দিতে কেন নির্দেশ নয় :হাইকোর্ট
দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসাসেবা দিতে সকল হাসপাতাল ও ক্লিনিককে নির্দেশনা দিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট। এছাড়া ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে নিহত এক ব্যবসায়ীর পরিবারকে কেন ১০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হবে না রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে। এক রিটের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি মো. আতাউর রহমান খানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল সোমবার এ আদেশ দেন। রিটকারীর পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। তিনি বলেন, দুর্ঘটনায় কেউ আহত হয়ে হাসপাতালে গেলে অনেক সময় চিকিৎসা প্রদানে অপারগতা প্রকাশ করা হয়। এটা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। প্রসঙ্গত, গত ২৬ জানুয়ারি গভীর রাতে সায়েদাবাদ এলাকায় ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে আহত হয়ে চিকিৎসা না পেয়ে মারা যান খুলনার ব্যবসায়ী মো. ইব্রাহিম। গুরুতর আহত হয়ে ওই ব্যক্তি নিকটস্থ টিকাটুলির সালাহউদ্দিন স্পেশালাইজড হাসপাতালে গেলেও প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে অস্বীকার করেন কর্তৃপক্ষ। পরে ঢাকা মেডিক্যালে নেওয়া হলে ডাক্তার মৃত ঘোষণা করে। এ ঘটনায় রিট করে এইচআরপিবি। দুই সপ্তাহের মধ্যে স্বরাষ্ট্র সচিব, স্বাস্থ্য সচিব, পুলিশের আইজিসহ বিবাদীদেরকে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
ভিআইপি ও জরুরি সেবার জন্য আলাদা লেনের প্রস্তাব
ঢাকায় ভিআইপি (গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি) ও জরুরি সেবা দেয়া সংস্থার গাড়ি চলাচলে আলাদা লেন করার জন্য সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়কে প্রস্তাব দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভা বৈঠকের ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম এ তথ্য জানান। রাস্তায় ভিআইপিদের জন্য আলাদা একটা লেন করার জন্য মন্ত্রিসভা সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগকে নির্দেশনা দিয়েছে কি না- একজন সাংবাদিক এ বিষয়টি জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, না মন্ত্রিসভা এটা বলেনি। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে একটা নরমালঅনুরোধ করা হয়েছে এটা পরীক্ষা করে দেখার জন্য। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ভিআইপিরা ডান দিক দিয়ে যায়, উল্টো দিক দিয়ে যায়। ভিআইপিদের অনেক সময় (উল্টো পথে) যাওয়া লাগে, প্রয়োজন হয়। তিনি বলেন, অন্যান্য অনেক দেশেই ভিআইপিদের জন্য আলাদা লেন আছে, আমাদের দেশেও সেটা করা যায় কি না সেটা পরীক্ষা করে দেখবে (সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়)। মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরও বলেন,(আলাদা লেন) বিশেষ করে ইর্মাজেন্সির জন্য, ভিআইপিরা অত বেশি ইম্পর্ট্যান্ট না। অ্যাম্বুলেন্সে যে লোকটা মারা যাচ্ছে, এছাড়া ফায়ার সার্ভিস, অ্যাক্সেস পায় না- এসব ইমার্জেন্সি সার্ভিস। পুলিশেরও (দ্রুত যাওয়ার) দরকার হয় অনেক সময়।
প্রেসিডেন্ট বেরসে এর বঙ্গবন্ধু জাদুঘর পরিদর্শন
রাজধানীর ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশে সফররত সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট অ্যালেইন বেরসে। সোমবার দুপুরে ৩২ নম্বর সড়কে বঙ্গবন্ধু জাদুঘর পরিদর্শন করেন সফররত এ সুইস প্রেসিডেন্ট। এ সময় সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর ও বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি ফুল দিয়ে তাকে শুভেচ্ছা জানান। পরে বঙ্গবন্ধু প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান অ্যালেইন বেরসে এবং সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। সফররত প্রেসিডেন্টকে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর ঘুরে দেখান রাদওয়ান সিদ্দিকী ববি। পরে স্মৃতি বইতে তিনি মন্তব্য লিখেন। এ সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম ও মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান সফররত সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট অ্যালেইন বেরসে। শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করার পর এক মিনিট নীরবতা পালন করেন তিনি। এ সময় সশস্ত্র বাহিনীর একটি দল শহীদদের সম্মানে কুচকাওয়াজ প্রদর্শন করেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে প্রেসিডেন্ট অ্যালেইন বেরসে স্মৃতিসৌধের পরিদর্শন বইতে নিজের অনুভূতি লিপিবদ্ধ করেন এবং স্মৃতিসৌধের ভিআইপি বাগানে একটি নাগেশ্বর চাপা গাছের চারা রোপণ করে স্মৃতিসৌধ এলাকা ত্যাগ করেন। এর আগে সড়ক পথে সফর সঙ্গীদের নিয়ে স্মৃতিসৌধে পৌঁছলে তাকে স্বাগত জানান গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. এনামুর রহমান, সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি, ঢাকা জেলা প্রশাসক সালাউদ্দিন আহমেদ ও ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শাহ্ মিজান শাফিউর রহমান। উল্লেখ্য, রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি নিজ চোখে দেখতে এবং দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনার জন্য চারদিনের সফরে গতকাল (রবিবার) ঢাকায় আসেন সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট অ্যালেইন বেরসে।
রাষ্ট্রপতি পদে আবদুল হামিদের মনোনয়নপত্র দাখিল
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে বর্তমান রাষ্ট্রপ্রধান মো. আবদুল হামিদের মনোনয়নপত্র জমাপড়েছে নির্বাচন কমিশনে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সোমবার দুপুরে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে গিয়ে এ নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধি দল ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে ছিল। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী, সোমবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র দাখিলের সুযোগ রয়েছে। বুধবার যাচাই বাছাইয়ের পর ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মনোনয়নপত্রা প্রত্যাহার করা যাবে। প্রার্থীর সংখ্যা একজনের বেশি না হলে তাকেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে। আর একাধিক প্রার্থী হলে ১৮ ফেব্রুয়ারি সংসদের অধিবেশন কক্ষে বিধিমালা অনুযায়ী ভোট হবে। সেখানে সংসদ সদস্যরাই ভোট দিয়ে নতুন রাষ্ট্রপতি বেছে নেবেন। সংসদে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় রাষ্ট্রপ্রধানের পদে ৭৪ বছর বয়সী আবদুল হামিদের দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হওয়া আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২০তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মো. আবদুল হামিদ। সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মেয়াদ অবসানের কারণে রাষ্ট্রপতি পদ শূন্য হওয়ার ক্ষেত্রে মেয়াদপূর্তির তারিখের আগের নব্বই থেকে ষাট দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হয়। ফলে ২৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এ নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে নির্বাচন কমিশনের। গত ৩১ জানুয়ারি গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে আওয়ামী লীগের সংসদীয় বোর্ডের সভায় আবদুল হামিদকে আবারও রাষ্ট্রপতি হিসেবে মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। শুক্রবার আবদুল হামিদের পক্ষে জাতীয় সংসদের প্রধান হুইপ আ স ম ফিরোজ মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন এবং রবিবার রাষ্ট্রপতি ওই মনোনয়নপত্রে সই করেন। স্বাধীনতার পর থেকে ১৯ মেয়াদে এ পর্যন্ত ১৬ জন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। সেই হিসেবে আবদুল হামিদ এই পদে সপ্তদশ ব্যক্তি। বাংলাদেশের আইনে এক ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুই মেয়াদে রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্বে থাকতে পারেন। ফলে এবার নির্বাচিত হলে এটাই হবে আবদুল হামিদের শেষ মেয়াদ।
রাষ্ট্রপতি তাঁর বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, প্রধান বিচারপতি নিয়োগে সংবিধানে জ্যেষ্ঠতার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তিনি বলেছেন, সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে বলা আছে রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দিবেন। সেখানে কোথাও লেখা নেই যে, জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দিতে হবে। রাষ্ট্রপতি তাঁর বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং সেই সিদ্ধান্তে আমরা শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি। আইনমন্ত্রী রোববার রাজধানীর গুলশানস্থ লেকশোর হোটেলে বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশন আয়োজিত হিউম্যান রাইটস, সাসটেইনিবিলিটি রিপোর্টিং অ্যান্ড রেসপন্সিবল বিজনেস কনডাক্ট- হোয়াট ডাজ বিজনেস নিড টু নো শীর্ষক এক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন। বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্াব মিঞার পদত্যাগের বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, তিনি পদত্যাগ করতেই পারেন। এটা তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। এখানে আইনমন্ত্রীর কিছু বলার নেই। বিচারপতি নিয়োগের বিষয়ে তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগে খুব শিগগিরই বিচারপতি নিয়োগ দেওয়া হবে। নিম্ন আদালত নিয়ে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বক্তব্যেও পরিপ্রেক্ষিতে আনিসুল হক বলেন, উনি যে কথা বলেছেন, সেটা অসত্য। আমরা সকলেই বাংলাদেশের বিচার বিভাগের এবং বিচারালয়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং সেটাই সকলের ব্যক্ত করা উচিত। তিনি বলেন, আমি দুঃখিত যে উনি একথা বলেছেন। কিন্তু এটা সম্পূর্ণ অসত্য। আইনমন্ত্রী বলেন, আগেও বলেছি এখনও বলছি, বিচার হয়েছে আদালতে, সাক্ষ্য প্রমাণ হয়েছে এবং সেই সাক্ষ্য প্রমাণাদি বিশ্লেষণ এবং বিবেচনায় নিয়ে বিচারক রায় দিবেন। এটুকুই জানি, তার বেশি জানি না। বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি কামরান টি রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক এমপ্লয়ার্স সংস্থার মহাসচিব লিন্ডা ক্রোমজং, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্য ও ডেইলি সান পত্রিকার সম্পাদক এনামুল হক চৌধুরী, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আশরাফ শামীম বক্তৃতা করেন।
শীঘ্রই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু হবে
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী জানিয়েছেন, দ্বিপাক্ষিক প্রচেষ্টার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ আঞ্চলিক ও বহুপাক্ষিক পরিম-লে সতর্ক কূটনৈতিক কার্যক্রম চালিয়েছে যাচ্ছে। দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে সমস্যাটি সমাধানে আমরা বহুদূর অগ্রসর হয়েছি। আমরা আশা করি যে, জাতিসংঘ ও ওআইসিসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সংস্থাসমূহের সহযোগিতায় আমাদের বন্ধুপ্রতিম প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারের সঙ্গে কূটনৈতিক আদান-প্রদান ও পারস্পরিক যোগাযোগের মাধ্যমে অতি শীঘ্রই রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে নিরাপদে প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া শুরু হবে। রবিবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সংসদ সদস্য আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম ও মোরশেদ আলমের পৃথক প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে মন্ত্রী আরও জানান, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলমান বৈষম্য ও নির্যাতনের ফলে বিভিন্ন সময়ে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহণ করেছে। বর্তমানে দশ লাখেরও অধিক মিয়ানমার নাগরিক বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে অবস্থান করছে। এদের মধ্যে ৬ লাখ ৮৮ হাজার বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা গত বছরের ২৫ আগস্ট বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের অবস্থান বাংলাদেশের জন্য ব্যাপক আর্থ-সামাজিক, পরিবেশগত এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি সৃষ্টি করেছে। তিনি জানান, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলমান রোহিঙ্গা সমস্যা একটি জটিল ও দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। এ প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক সরকারের সঙ্গে বন্ধুত্ব বজায় রেখে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনসহ রোহিঙ্গা সমস্যার টেকসই সমাধানের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ প্রসঙ্গে আরও জানান, বাংলাদেশে আশ্রয়গ্রহণকারী বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে সরকার জোরালো দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। বহুপাক্ষিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে মিয়ানমার সরকারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ প্রয়োগ এবং একইসঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে সরকারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তিনি জানান, ইতোমধ্যে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক সংগৃহীত বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের বায়োমেট্রিক তথ্য এবং ইউএনএইচসিআর-এর পরিবার ভিত্তিক তথ্য সংগ্রহের লক্ষ্যে বাংলাদেশ এবং ইউএনএইচসিআর-এর মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। প্রত্যাবাসন শুরু করার জন্য মাঠ পর্যায়ে প্রস্তুতি অব্যাহত রয়েছে। সংসদ সদস্য মোছাঃ সেলিনা জাহান লিটার প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, রাখাইন রাজ্যে ঐতিহাসিকভাবে মুসলিমদের বসবাস ছিল। রোহিঙ্গাদের স্বতন্ত্র জাতিসত্ত্বার স্বীকৃতি দিলে আদিবাসী জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্বের অধিকার থেকে বঞ্চিত করার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মিয়ানমার রোহিঙ্গা জাতিসত্ত্বা অস্বীকার করে আসছে। তিনি জানান, রাখাইন রাজ্যে রাখাইন সম্প্রদায় সংখ্যাগরিষ্ঠ। রাখাইনরাও রোহিঙ্গাদের বহিরাগত মনে করে এবং তাদের নাগরিকত্বের অধিকার বঞ্চিত করার উদ্দেশে রোহিঙ্গা জাতিসত্ত্বা অস্বীকার করে। সেনাবাহিনী, উগ্র জাতিয়তাবাদী রাখাইন, উগ্রবাদী বৌদ্ধ এবং ভিক্ষুদের একটি অংশ একাত্ম হয়ে রোহিঙ্গা জাতিসত্ত্বা অস্বীকার এবং রোহিঙ্গা নামকরণের বিরোধিতা করে আসছে।
স্থায়ী সদর দফতর পাচ্ছে রেব
বাহিনী প্রতিষ্ঠার প্রায় ১৪ বছর পর স্থায়ী সদর দফতর পাচ্ছে র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (রেব)। রেব ফোর্সেস সদর দফতর নির্মাণ শীর্ষক একটি প্রকল্পে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে সরকার। রাজধানীর আশকোনায় হজ ক্যাম্পের পাশে হতে যাওয়া এই প্রকল্পটির জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৯৫ কোটি টাকা। রবিবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন পায়। শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এ সভায় প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপার্সন শেখ হাসিনা সভাপতিত্ব করেন। রাজধানীর মিরপুর ৬ নং সেকশনে সরকারী কর্মকর্তাদের জন্য ২৮৮টি আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ এবং চট্টগ্রামে বিমান সেনাপ্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট স্থাপন প্রকল্প সভায় অনুমোদন পেয়েছে। এই তিনটি নতুন প্রকল্প ছাড়াও আটটি চলমান উন্নয়ন প্রকল্প সংশোধিত আকারে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে ৭ হাজার ৪২৩ কোটি ৭২ লাখ টাকা, যার পুরোটাই সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে দেয়া হবে। একনেক সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল প্রকল্পগুলো সম্পর্কে ব্রিফ করেন। মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে র্যাবের সদর দফতরের জন্য কোন স্থায়ী অবকাঠামো নেই। ২০০৩ সালে বাংলাদেশ পুলিশের পাশাপাশি এলিট ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে রেপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (রেব) গঠন করা হয়। বর্তমানে র্যাবের সদর দফতরে ১ হাজার ৪৮৬ জন বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত রয়েছে। রেববের ফোর্স ও কর্মচারীদের আবাসন, যোগাযোগ, যন্ত্রপাতি পরিবহনের যানবাহন, অস্ত্র গোলাবারুদ, ডগ স্কোয়াড এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির জন্য ভাড়া করা অস্থায়ী অফিস পর্যাপ্ত নয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে সরকার আধুনিক সুবিধাসংবলিত রেব ফোর্সেস সদর দফতর স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রকল্পটি ২০২১ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে। জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় ১৪তলা ভিতসহ ১৩তলা বিশিষ্ট অফিস ভবন নির্মাণ ও ১২তলা ভিতসহ ১২তলা বিশিষ্ট ব্যাচেলর অফিসার্স কোয়ার্টার তৈরি করা হবে। এছাড়া ১০তলা ভিতসহ ১০তলা বিশিষ্ট ফোর্স ব্যারাক, ৮তলা ভিতসহ ৮তলা বিশিষ্ট এমটি শেড কাম উপ-পরিচালক মেস নির্মাণ, ১০তলা ভিতসহ ১০তলা বিশিষ্ট আবাসিক কোয়ার্টার তৈরিসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য অবকাঠামোও নির্মাণ করা হবে। মন্ত্রী বলেন, সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সংখ্যা বহুগুণে বৃদ্ধি পেলেও সরকারী আবাসন সুবিধা আগের মতোই রয়ে গেছে। ফলে বর্তমানে আবাসন সঙ্কট প্রকট আকার ধারণ করেছে। এজন্য সরকারী কর্মকর্তাদের আবাসন সুবিধা তথা স্বাস্থ্যকর ও উপযুক্ত বাসস্থান নিশ্চিত করতে ঢাকার মিরপুর ৬নং সেকশনে সরকারী কর্মকর্তাদের জন্য ২৮৮টি আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্পটি নেয়া হয়েছে। প্রকল্পটি গণপূর্ত অধিদফতর সেপ্টেম্বর ২০১৭ হতে জুন, ২০২০ মেয়াদে বাস্তবায়ন করবে। পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রত্যেক হাওড় অঞ্চলের জন্য আলাদা আলাদা প্রকল্প নেয়ার নির্দেশা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, মাছের জন্য ল্যান্ডিং স্টেশন নির্মাণ, মাছ বাজারজাতকরণে ভ্যান কেনাসহ বিকল্প ফসল উৎপাদন ও বিকল্প আয়ের পথ খুঁজে বের করতে হবে। এ জন্য প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও হাওড় উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে বলেছেন। তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী জাতীয় রাজস্ব ভবন ২০তলার পরিবর্তে ১২তলা করার নির্দেশনা দিয়েছেন। কারণ, বিমানবন্দর কাছাকাছি থাকায় এটি ২০তলা করা যাচ্ছে না। এক প্রশ্নের জবাবে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, যাচাই বাছাই ছাড়া প্রকল্প প্রণয়নের সুযোগ নেই। প্রকল্পের কম্পোনেন্ট (কার্যক্রম) ও আওতা বাড়ায় সংশোধিত আকারে প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়। এতে প্রকল্প ব্যয় বেড়ে গেছে এমনটা ভাবার সুযোগ নেই। একনেকে অনুমোদন পাওয়া সংশোধিত প্রকল্পসমূহ হচ্ছে-উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়কে দীর্ঘ সেতু নির্মাণ প্রকল্প, বৃহত্তর ফরিদপুর গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন (২য় পর্যায়), বৃহত্তর ফরিদপুর গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন (৩য় সংশোধিত) প্রকল্প, সমন্বিত কৃষি উন্নয়নের মাধ্যমে পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ প্রকল্প, ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের ইন্দ্রপুল হতে চক্রশালা পর্যন্ত বাঁক সরলীকরণ প্রকল্প, চট্টগ্রাম বিএফ ঘাঁটি জহুরুল হক বিমান সেনা প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট স্থাপন প্রকল্প, বরিশাল টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ উন্নীতকরণ প্রকল্প, জামালপুরের মাদারগঞ্জে শেখ রাসেল টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট প্রকল্প এবং জাতীয় রাজস্ব ভবন নির্মাণ (সংশোধিত) প্রকল্প।
প্রবাসীদের স্বীকৃতিস্বরূপ নির্মিত হতে যাচ্ছে এনআরবি মন্যুমেন্ট
বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা প্রবাসীদের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এবারই প্রথমবারে মতো বাংলাদেশে নির্মিত হতে যাচ্ছে এনআরবি মন্যুমেন্ট। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের অর্থায়নে বিশিষ্ট নির্মাণ প্রকৌশলী জামিলুর রেজার তত্বাবধানে সিলেট শহরের প্রবেশপথেই এটি নির্মিত হবে বলে জানান লন্ডন সফররত সিলেট সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। সিলেট শহরের উন্নয়নে প্রবাসী তরুণদের সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স। তাদের এই অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেটে নির্মিত হতে যাচ্ছে এনআরবি মন্যুমেন্ট। লন্ডনের সিটি হোটেলে ব্রিটিশ বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্সের উদ্যোগে আয়োজিত এক সংবর্ধনা সভায় সংগঠনের প্রেসিডেন্ট এনাম আলীর দাবীর প্রেক্ষিতে লন্ডন সফররত সিলেট মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী এ কথা জানান। তিনি আরো বলেন, সিলেটের উন্নয়নে প্রবাসীদের যেকোন পরামর্শ, অভিমতকে প্রাধান্য দেয়া হবে। এই মন্যুমেন্ট বাংলাদেশের সঙ্গে প্রবাসীদের সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করবে বলে জানান ব্রিটিশ বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স ইন্ডাষ্ট্রিজ প্রেসিডেন্ট এনাম আলী এমবিই। ব্রিটেনে বর্তমানে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নব্বই হাজার গ্র্যাজুয়েট রয়েছেন। সিলেটসহ বাংলাদেশের উন্নয়নে এসব তরুণ মেধাবীদের সম্পৃক্ত করার উদ্যোগকে স্বাগত জানান অনেকে। ব্রিটিশ বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্সের উদ্যোগে গত বছরের অক্টোবরে সিলেটে অনুষ্ঠিত হয় এআরবি গ্লোবাল বিজনেস কনভেনশন। সে অনুষ্ঠানে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র নগরের উন্নয়নে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

জাতীয় পাতার আরো খবর