অমর একুশে গ্রন্থমেলার উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
অমর একুশে গ্রন্থমেলার উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার বিকেলে বাংলা একাডেমী চত্বরে মেলার উদ্বোধন করেন তিনি। এরিমধ্যে বইমেলার জন্য প্রস্তুত হয়ে গেছে বইমেলায় অংশগ্রহণকারী ৪৫৫টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের স্টলগুলি। বাংলা একাডেমী প্রাঙ্গনসহ সোহরাওয়ার্দীর উদ্যানের নির্ধারিত জায়গা জুড়ে সৃষ্টি হয়েছে ভাষার মাসের আবহ। বিকেল ৩টায় বাংলা শুরু হয় মেলার উদ্বোধনী আয়োজন। এ পর্বে বক্তৃতা করেন বাংলা একাডেমীর পরিচালক, সংস্কৃতিমন্ত্রীসহ আগত বিদেশী অতিথিরা। উদ্বোধনী পর্বে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একসেস টু ইনফরমেশন বিভাগের কিশোর বাতায়ন প্লাটফর্ম এবং একসেসিবেল ডিকশনারির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে উদ্বোধনী বক্তৃতায় তিনি বলেন, মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে।
পুলিশের ওপর হামলা ভবিষ্যতে সহ্য করা হবে না
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত মঙ্গলবার রাজধানীতে পুলিশের ওপর হামলার তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলা আর সহ্য করা হবে না। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো শক্তিশালী ভূমিকা পালন করছে। এমনকি জনগণের জানমাল রক্ষায় তারা জীবন উৎসর্গ করছে। তিনি বলেন, গতকালও পুলিশের ওপর ন্যক্কারজনক হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ধরনের জঘন্য ঘটনা আমরা ভবিষ্যতে সহ্য করব না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুধবার সন্ধ্যায় গণভবনে পুলিশের নতুন আইজি জাবেদ পাটোয়ারীকে র্যা ঙ্ক ব্যাজ পরিয়ে দেয়ার সময় এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং বিদায়ী আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক উপস্থিত ছিলেন। খবর বাসসর। শেখ হাসিনা সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদ ও মাদক নির্মূলে দেশবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি বলেন, আমরা সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদ ও মাদক নির্মূল করতে চাই। এ বিষয়ে আমরা দেশবাসীর সহযোগিতা চাই। প্রধানমন্ত্রী বলেন, পুলিশ দেশে অনেক কঠিন দায়িত্ব পালন করছে। আমরা চাই দেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকুক। দেশের উন্নয়ন যাতে অব্যাহত থাকে সে জন্য আমরা জনগণের সহযোগিতা কামনা করছি। র্যা ঙ্ক ব্যাজ পরিয়ে দেয়ার পর প্রধানমন্ত্রী নতুন আইজিপিকে ফুলের তোড়া দিয়ে অভিনন্দন জানান। নতুন আইজি ড. জাবেদ পাটোয়ারীর দায়িত্ব গ্রহণ ॥ ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বাংলাদেশ পুলিশের নবনিযুক্ত ইন্সপেক্টর জেনারেলের (আইজি) দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। বুধবার দুপুরে পুলিশ সদর দফতরে আনুষ্ঠানিকভাবে তার কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন সদ্য সাবেক আইজি একেএম শহীদুল হক। পুলিশের নবনিযুক্ত আইজি দায়িত্ব গ্রহণ ও বিদায়ী আইজি দায়িত্ব হস্তান্তর অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। পুলিশের আইজির দায়িত্ব হস্তান্তর ও গ্রহণ উপলক্ষে বুধবার পুলিশ সদর দফতরে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তারা। বুধবার ঢাকায় পুলিশ সদর দফতরে বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিদায়ী আইজি একেএম শহীদুল হক বলেন, গতকাল যে ঘটনা ঘটেছে সামনে আরও ঘটবে। পুলিশকে ধৈর্য ধরে এগুলো মোকাবেলা করতে হবে। জিয়া ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় হাজিরা দিয়ে মঙ্গলবার বিকেলে খালেদা জিয়া গুলশানের বাসায় ফেরার পথে হাইকোর্ট এলাকায় পুলিশের প্রিজনভ্যানে আক্রমণ করে বিএনপির কর্মী পরিচিত আসামি ছিনতাই, পুলিশকে বেধড়ক পিটুনি ও পুলিশের আগ্নেয়াস্ত্র ছিনতাই করে ভাংচুর ঘটনার ইঙ্গিত করে একথা বলেন বিদায়ী আইজি। নবনিযুক্ত আইজি জাবেদ পাটোয়ারীকে উদ্দেশ করে বলেন, নির্বাচনী বছরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং নির্বাচনের পরিবেশ বজায় রাখা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। অনেক ষড়যন্ত্র হবে, অনেক নাটক হতে পারে এগুলোকে মোকাবেলা করে নির্বাচনের পরিবেশ বজায় রাখা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। দায়িত্ব হস্তান্তরের মাধ্যমে ৩২ বছরের কর্মজীবনের ইতি টানার বিষয়ে বিদায়ী পুলিশের আইজি একেএম শহীদুল হক বলেন, আইজি হিসেবে দায়িত্ব শেষ হওয়ার মাধ্যমে পূর্ণ সন্তুষ্টি নিয়ে ৩২ বছরের চাকরি জীবনের ইতি টানছি। তিনি বলেন, গত তিন বছর এক মাস আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে চেষ্টা করেছি পুলিশের সক্ষমতা উঁচুমাত্রায় নিয়ে যেতে এবং পুলিশকে জনবান্ধব করতে। দায়িত্ব পালনকালে অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে কিন্তু সাহসিকতার সঙ্গে সব সঙ্কট মোকাবেলা করতে সক্ষম হয়েছি। গত তিন বছরে পুলিশের যা অর্জন তার কৃতিত্ব কনস্টেবল থেকে আইজি পর্যন্ত সবার। আর সব ব্যর্থতার দায় আমার। দায়িত্ব পালনকালে পুলিশের সবাইকে হয়ত খুশি করতে পারিনি। একটা প্রশাসনিক কাঠামোতে কাজ করতে হয়েছে।
দুর্নীতিকে বরদাশত করা হবে না হুঁশিয়ারি প্রধানমন্ত্রীর
উন্নয়নের স্বার্থে দুর্নীতিকে বরদাশত করা হবে না: প্রধানমন্ত্রী উন্নয়নের স্বার্থে কোনো অনিয়ম ও দুর্নীতিকে কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, অর্থ সাশ্রয় ও দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়তে স্বচ্ছ্বতার সাথে অডিট করতে হবে। বুধবার সকালে রাজধানীর কাকরাইলে আন্তর্জাতিক সুপ্রিম অডিট ইনস্টিটিউটের সম্প্রসারিত ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, অডিট এন্ড অ্যাকাউন্টস বিভাগকে আরো দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সাথে কাজ করতে হবে। সামরিক শাসনামলের অবৈধ ক্ষমতাদখলকারীদের কারণে দেশের মানুষের উন্নয়ন হয়নি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্যক্তিস্বার্থে নয়, দেশের উন্নয়ন ও জনগণের ভাগ্যবদলে কাজ করছে বর্তমান সরকার। পদ্মা সেতু নিয়ে নানা অভিযোগ উঠলেও সেটিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে নিজস্ব অর্থায়নে বর্তমান সরকার ওই সেতু নির্মাণ করছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হলে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হওয়ার পাশাপাশি বাড়বে নিজেদের আত্মবিশ্বাস। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা চাই এ দেশ ও দেশের মানুষ আরও উন্নত হোক। এই দুর্নীতি বা অনিয়ম, এগুলো আমরা কখনো বরদাশত করবো না। আরও বেশি নজরদারি করবেন, সেটাই আমি চাইছি। সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে সরকারের ব্যয় সম্পাদনের পরে অডিট কার্যক্রমের পাশাপাশি ব্যয় হওয়ার আগে এবং এমনকি ব্যয় কার্যক্রম চলাকালেও অডিট কার্যক্রম জোরদার হলে আর্থিক অপচয় ও অনিয়ম বহুলাংশে হ্রাস পাবে বলে আমি বিশ্বাস করি। সরকারের প্রকল্পগুলো আরও দ্রুত ও যথাযথভাবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা সব ক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে চাই। সেক্ষেত্রে আপনাদের দায়িত্ব অনেক বেশি।
চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন
হালনাগাদ শেষে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এতে মোট ভোটার ১০ কোটি ৪১ লাখ ৪২ হাজার ৩৮১ জন। এবার ৪৩লাখের বেশি নতুন ভোটার এ তালিকায় যুক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসি। দাবি-আপত্তি ও সংশোধনীর জন্য আবেদন নিষ্পত্তি শেষে আজ বুধবার এ তালিকা প্রকাশ করা হল। এর আগে চলতি বছরের ২ জানুয়ারি দেশজুড়ে হালনাগাদ ভোটার তালিকার খসড়া প্রকাশ করে ইসি।ওই তালিকায় ১০ কোটি ১৮ লাখের বেশি ভোটার ছিল। তা থেকে হালনাগাদ বাদ দেয়া হয়েছে মৃত অন্তত ১৫ লাখ ২৭ হাজারেরও বেশি ভোটার। নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, এ বছর হালনাগাদ যোগ হচ্ছে ৪৩ লাখ ২০ হাজারের মতো নতুন ভোটার। নতুনদের নিয়ে বর্তমানে ভোটার সংখ্যা দাঁড়াবে ১০ কোটি ৪১ লাখের মতো; যারা একাদশ সংসদ নির্বাচনে ভোট দেবেন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম সংসদ নির্বাচনের সময় ভোটার ছিল ৯ কোটি ১৯ লাখ ৬৫ হাজার ১৬৭ জন। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরে নবম সংসদ নির্বাচনের সময় দেশে মোট ভোটার ছিল ৮ কোটি ১০ লাখ ৮৭ হাজার। নবম সংসদ নির্বাচনের পর যারা ভোটার হয়েছেন, তাদের অধিকাংশের বয়স এখন ১৮-২৮ বছর। উল্লেখ্য, ১ জানুয়ারি ১৮ বছর হলেই নাগরিকদের ভোটার তালিকাভুক্ত করা হয়। নির্বাচন কমিশন বছরের উপযুক্ত সময়ে হালনাগাদ করার জন্য কর্মসূচি ঘোষণা করে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের তথ্য সংগ্রহ চলে। এ ছাড়া বছরের যে কোনো সময় ভোটারযোগ্যদের নিবন্ধন করা হয়।
হজ্ব ব্যবস্থাপনায় দুর্নীতির অভিযোগে এজেন্সির মালিকদের দুদকের তলব
হজ্ব ব্যবস্থাপনায় চরম অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত করতে ১৮ হজ্ব এজেন্সির মালিকদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মঙ্গলবার পৃথক এক চিঠিতে হজ্ব এজেন্সির মালিকদের আগামি ৫ ফেব্রুয়ারি দুদকের কার্যালায়ে হাজির হওয়ার জন্য বলা হয়েছে। এ বিষয়ে দুদকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, দুদক হজ্ব এজেন্সির মালিকদের জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি ভুক্তভোগী ৯৮ জন হজ্ব যাত্রীর বক্তব্যও গ্রহণ করবে। এখন ওই ভুক্তভোগীদের নাম ও স্থায়ী বা বর্তমান ঠিকানা সংগ্রহের কাজ চলছে। খুব শিগগিরই ওই তালিকা ধরে মাঠ পর্যায়ে সফরে নামবে দুদক টিম। একই সঙ্গে বর্তমানে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট নথিপত্র সংগ্রহ করে তা যাচাই-বাছাই চলছে। দুদকের পাঠানো চিঠিতে যে ১৮ হজ্ব এজেন্সির মালিকদের তলব করা হয়েছে সেগুলো হলো মেসার্স আল সাফা এয়ার ট্র্যাভেলস, আশা এভিয়েশন, গোল্ডেন বাংলা ট্র্যাভেলস এন্ড ট্যুরস, ইউনাইটেড ট্যুরস এন্ড ট্র্যাভেলস, গোল্ডেন ট্র্যাভেলস এন্ড কার্গো সার্ভিস, বুশরা ট্র্যাভেলস এন্ড ট্যুরস, আল-বালাদ ওভারসিজ, গুলশান এ মোহাম্মাদী ট্র্যাভেলস, মাশফালাহ ট্র্যাভেলস, মিডগুয়ে এভিয়েশন, মদিনা এয়ার ইন্টারন্যাশনাল এভিয়েশন, এন. ই. এয়ার সার্ভিস, সাদ এয়ার ইন্টারন্যাশনাল, ইকো এভিয়েশন এন্ড ট্যুরস, ইউরো এশিয়া ট্র্যাভেলস এন্ড ট্যুরস, সিদ্দীকীয়া ট্যুরস এন্ড ট্র্যাভেলস, সাওবান এয়ার ট্র্যাভেলস এবং ওলামা আউলিয়া হজ্ব গ্রুপ বাংলাদেশ। ২০১৭ সালে এই ১৮ হজ্ব এজেন্সির প্রতারণায় হজে যেতে পারেনি ৯৮ জন হজ্ব যাত্রী। এছাড়া হাজিদের মানসম্মত ট্রলিব্যাগ না দেওয়া, ভিসা থাকার পরও হজে পাঠাতে টালবাহানা, সৌদি আরবে চুক্তিহীন বাড়িতে রাখা ও নিম্নমানের খাবার দেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ ওঠে এসব এজেন্সির বিরুদ্ধে। এমন সুনির্দিষ্ট অভিযোগের অনুসন্ধান শুরু করে দুদক।
সকল বিবৃতিতে মিয়ানমারের ওপর গুরুত্বপূর্ণ চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে
মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক ব্যুরোর উপ-সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডানিয়েল এন রোজেনব্লুম বলেছেন, সকল সুযোগ-সুবিধাসহ রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে রাখাইন রাজ্যে সঠিক পরিস্থিতি সৃষ্টির লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র মিয়ানমারের প্রতি দৃঢ়তা অব্যাহত রাখবে। মঙ্গলবার ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল শীর্ষক সংলাপে তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে রাখাইন রাজ্যে সঠিক পরিস্থিতি সৃষ্টির লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র মিয়ানমারের প্রতি দৃঢ় আহ্বান অব্যাহত রাখবে। বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল এন্ড স্ট্র্যাটেজিক (বিজ) তার নিজস্ব মিলনায়তনে এ সংলাপের আয়োজন করে। রোজেনব্লুম বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন খুবই কড়া মন্তব্য করেছেন এবং রোহিঙ্গাদের ওপর বর্বরতার বিরুদ্ধে সোচ্চার রয়েছেন। তিনি বলেন, যারা স্বেচ্ছায় ফিরতে চায় তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বেসামরিক সরকারের প্রতিশ্রুতির প্রতি সম্মান দেখানোর জন্যও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর প্রতি দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, আমরা সোচ্চার থাকব এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়ে যাব। এ ভয়ংকর ট্র্যাজেডি মোকাবেলায় বাংলাদেশের মহান ত্যাগের প্রতি আমাদের স্বীকৃতি রয়েছে। রোজেনব্লুম বলেন, মিয়ানমারের নেতৃত্বে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে যে অঙ্গীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্র তাকে স্বাগত জানায়। তাদের প্রত্যাবাসনে এক চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ-মিয়ানমারের মধ্যে আলোচনা চলছে। এ সংলাপে অন্যান্যের মধ্যে বাংলাদেশে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্সিয়া স্টিফেন্স ব্লুম বার্নিকাট, বিজ-এর চেয়ারম্যান মুন্সী ফয়েজ আহমদ ও মহাপরিচালক মেজর জেনারেল এ কে এম আবদুর রহমানও বক্তব্য রাখেন। এতে পররাষ্ট্র বিষয়ক বিশ্লেষক এবং সাবেক কূটনীতিকরাও অংশ নেন। এই মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, রোহিঙ্গা সংকটে বাংলাদেশ সরকারের পদক্ষেপের প্রশংসা করি আমরা। রোহিঙ্গা শিবিরে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের জন্যও আমরা বাংলাদেশ সরকারের প্রশংসা করছি। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র শুধু রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমারের বর্বরতার সমালোচনা করেই ক্ষান্ত হয়নি, বাংলাদেশ সরকারের দ্রুত সাড়া দেয়ার প্রতিও জোরালো সমর্থন জানিয়েছে। পাশাপাশি আমরা গত আগস্ট থেকে ব্যাপক সহায়তাও প্রদান করেছি। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র রোহিঙ্গাদের সহায়তায় বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থাকে ৯৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তা প্রদান করেছে। রাষ্ট্রদূত বার্নিকাট বলেন, সকল বিবৃতিতে মিয়ানমারের ওপর গুরুত্বপূর্ণ চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে। জাতিসংঘে বাংলাদেশ যে প্রস্তাব পেশ করেছে- যুক্তরাষ্ট্র তাকে সমর্থন করে। দ্রুত এ সংকট সমাধানে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশ্বাস প্রদান করেন।
সিলটে প্রধানমন্ত্রী
আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে সিলেট ওসমানী বিমানবন্দর পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সফর সঙ্গীরা । সিলেটে পৌঁছেই হজরত শাহজালাল (রহ.) এর মাজার জিয়ারত করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। বেলা ১২টায় তিনি হজরত শাহপরান (রহ.) এর মাজার জিয়ারত শেষে গাজী বোরহান উদ্দিন (রহ.) এর মাজার জিয়ারত করেন। সেখানে জিয়ারত শেষে জোহরের নামাজ ও দুপুরের খাবারের জন্য প্রধানমন্ত্রী আসেন সিলেট সার্কিট হাউজে। বিকেল ৩টার দিকে তিনি আলিয়া মাদরাসা মাঠের এসে পৌঁছেছেন।এখানে ২০টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে নতুন ১৮টি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন তিনি। মঙ্গলবার বিকেল ৩টার দিকে সিলেট জেলার সরকারি আলিয় মাদরাসা মাঠ থেকে এসব প্রকল্প উদ্বোধন করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনকৃত ২০ টি উন্নয়ন প্রকল্পের মধ্যে আছে : হযরত গাজী বোরহান উদ্দিন (রহ.) মাজার উন্নয়ন, মহিলা ইবাদতখানা নির্মাণ, মাজারের সৌন্দর্য বর্ধন এবং মাজারের যাতায়াতের প্রধান রাস্তা ২ কি.মি. প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন, সিলেট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬তলা ভিত বিশিষ্ট ও ৪তলা নতুন একাডেমিক-কাম-প্রশাসনিক ভবন, সিলেট জেলার পিরোজপুরে ১টি সার পরীক্ষাগার ও গবেষণাগার ভবন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের বিভাগীয় জেলা অফিস, সিলেট বিভাগীয় ও জেলা এনএসআই কার্যালয় ভবন, সিলেট মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন, জাকিগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের নগর ভবন শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ১২তলা ভিত্তি বিশিষ্ট নগর ভবনের বেজমেন্ট ফ্লোরসহ ৫ম তলা পর্যন্ত ভবন, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত বাবুছড়ায় আরসিসি ইউ টাইপ ড্রেন নির্মাণ কাজ, জালালাবাদ রাস্তা সম্প্রসারণ ও এসফল্ট দ্বারা উন্নয়ন কাজ, সিলেট-সুনামগঞ্জ বাইপাস সড়ক উন্নয়ন, মৌলভীবাজার-রাজনগর-ফেঞ্চগঞ্জ-সিলেট সড়ক এবং রশিদপুর-বিশ্বনাথ-লামাকাজী সড়কে ওভারলে কাজ, সিলেট-গোপালগঞ্জ-চারখাই-জকিগঞ্জ সড়কে এবং দরবস্ত-কানাইঘাট-শাহাবাগ সড়কে মজবুতীকরণসহ ওভারলে কাজ, ঢাকা (কাঁচপুর)- ভৈরব-জগদীশপুর-শায়েস্তাগঞ্জ-সিলেট-তামাবিল-জাফলং সড়কের (সিলেট-শেরপুর অংশ) মজবুতীকরণসহ সার্বিক কাজ এবং সড়কের শেরপুর টোল প্লাজা অংশে রিজিড পেভমেন্ট নির্মাণ কাজ, দক্ষিণ জকিগঞ্জ উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবন, দক্ষিণ সুরমা উপজেলার কামালবাজার ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবন, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্গত কানাইঘাট সড়ক, কুইটুকে তিন তলা বিশিষ্ট প্রাইমারী হেলথ কেয়ার সেন্টার ভবন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন তিনি। যে ১৮ টি নতুন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী তার মধ্যে আছে : হজরত শাহজালার (রহ.) মাজারের মহিলা এবাদতখানা ও অন্যান্য উন্নয়ন কার্যক্রম, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম ফজিলাতুননেছা মুজিব হল নির্মাণ, গোয়াইনঘাট উপজেলা পরিষদ ভবন ও হলরুম নির্মাণ, সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজের ছাত্র হোস্টেল ভবন নির্মাণ, সিলেট এম এ জি মেডিকেল কলেজের ছাত্রী হোস্টেল ভবন নির্মাণ, সিলেটে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল নির্মাণ, সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালের অভ্যন্তরে ১টি নার্সিং হোস্টেল নির্মাণ, সিলেট পুলিশ লাইনে ১টি এসএমপি ব্যারাক ভবন নির্মাণ, সিলেট পুলিশ লাইনে ১টি অস্ত্রাগার নির্মাণ, এসএমপির কোতয়ালী মডেল থানার কম্পাউন্ডে ডরমেটরি (১০-তলা ভিত বিশিষ্ট ৪-তলা) ভবন নির্মাণ, সিলেট জেলাধীন তামাবিল ইমিগ্রেশন চেক পোস্ট (টাইপ-২ অনুযায়ী (৬-তলা ভিতবিশিষ্ট ৩তলা) ভবন নির্মাণ, সিলেটস্থ লালবাজারে রেঞ্জ রিজার্ভ ফোর্স (আরআরএফ) পুলিশ লাইন নির্মাণ, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য হোস্টেল নির্মাণ এবং সম্প্রসারণ (বালিকা-০৬ ইউনিট, বালক ০৫ ইউনিট এবং সম্প্রসারণ-২০ ইউনিট)’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় সিলেটে হোস্টেল ভবন নির্মাণ বিশ্বনাথ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ, বিভাগীয় পরিচালক (পরিবার পরিকল্পনা) ও জেলা পরিবার পরিকল্পনা, সিলেট এর অফিস ভবন নির্মাণ, সিলেট-গোপালগঞ্জ-চারখাই-জকিগঞ্জ মহাসড়কের ৬৫ কিলোমিটার উন্নয়ন, গোলাপগঞ্জ-ঢাকা দক্ষিণ-ভাদেশ্বর মহাসড়ক ও চারখাই-শেওলা-বিয়ানীবাজার-বারইগ্রাম মহাসড়কের ৯.৬০ কি মি উন্নয়ন, সিলেট এম এ জি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ভবন ৪তলা থেকে ১০তলা ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ। এই সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার সফর সঙ্গীরা উপস্থিত ছিলেন।
আগামীকাল রাষ্ট্রপতি পদের প্রার্থিতা চূড়ান্ত
দেশের ২১তম রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন? রাজনীতির মাঠে এখন চলছে এ নিয়ে জোর আলোচনা। আলোচনায় বর্তমান রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদের নামই উচ্চারিত হচ্ছে সব মহলে। তবে রাজনীতিতে শেষ বলে কোন কথা নেই। আগামীকাল বুধবারই দেশের ২১তম রাষ্ট্রপতি পদের প্রার্থিতা চূড়ান্ত করা হচ্ছে। এ উপলক্ষে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সংসদীয় বোর্ডের সভা ডাকা হয়েছে। মঙ্গলবার রাত ৮টায় প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সরকারী বাসভবন গণভবনে এ সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগ ও দলটির সংসদীয় বোর্ডের সভাপতি শেখ হাসিনা। সোমবার দুপুরে দলের দফতর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি দেশের ২১তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনে রাষ্ট্রপতি পদে মনোয়নপত্র দাখিল করতে হবে আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত, যাচাই-বাছাই ৭ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টা থেকে শেষ না হওয়া পর্যন্ত এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহার আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৪টা পর্যন্ত। ভোটগ্রহণ হবে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। সংবিধান অনুযায়ী শুধু সংসদ সদস্যরাই সংসদ অধিবেশনে ভোট দিয়ে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবেন। এদিকে কে হচ্ছেন পরবর্তী রাষ্ট্রপতি এ নিয়ে আওয়ামী লীগের মধ্যে রয়েছে নানা ধরনের আলোচনা। নাম শোনা যাচ্ছে অনেকের। সবেচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন বর্তমান রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদের নাম। সরকার ও আওয়ামী লীগের একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মেয়াদের শেষ এবং নির্বাচনী বছরে আওয়ামী লীগ কোন ধরনের ঝুঁকি নিতে চায় না। এ কারণে বিশ্বস্ততা, জ্ঞান, অভিজ্ঞতা সর্বোপরি যে কোন ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় পারদর্শী বর্তমান রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদকেই দ্বিতীয়বারের মতো রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচনের সম্ভাবনায় প্রবল। দ্বিতীয় ব্যক্তি হিসেবে রাষ্ট্রপতির পদের জন্য অপর যে আওয়ামী লীগ নেতার নাম উচ্চারিত হচ্ছে, তিনি হচ্ছেন দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমানে জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের নাম। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে এবার বড় ধরনের কোন চমক আসবে কি না, এ বিষয়টি একমাত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়া অন্য কোন নেতা নিশ্চিত নন। দলের অনেক সিনিয়র নেতাও একই ধরনের মত প্রকাশ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী যাঁর পক্ষে গ্রীন সিগন্যাল দেবেন, তিনিই হবেন দেশের ২১তম রাষ্ট্রপতি। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন উপলক্ষে গত ২৪ জানুয়ারি সংসদ সচিবালয়ে স্পীকারের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদা। সংশ্লিষ্টরা জানান, নির্বাচন আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন সংসদ সদস্যদের ভোটে। আর প্রধান নির্বাচন কমিশনার তাতে নির্বাচনী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বৈঠক শেষে স্পীকার সাংবাদিকদের জানান, নির্বাচন কমিশনের চাহিদা অনুযায়ী ভোটার তালিকা সংসদ সরবরাহ করেছে। ওই তালিকায় ভোটার হিসেবে ৩৪৮ জন এমপির তালিকা দেয়া হয়েছে। দুইজন এমপির মৃত্যুর কারণে তালিকায় নেই। ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২০তম রাষ্ট্রপতি শপথ নেন মাটি ও মানুষের নেতা হিসেবে পরিচিত এ্যাডভোকেট মোঃ আবদুল হামিদ। স্বাধীনতার পর থেকে ১৯ মেয়াদে এ পর্যন্ত ১৬ জন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। সেই হিসাবে আবদুল হামিদ এই পদে সপ্তদশ ব্যক্তি। বাংলাদেশের আইনে এক ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুই মেয়াদে রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্বে থাকতে পারবেন। সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, মেয়াদ অবসানের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ক্ষেত্রে মেয়াদপূর্তির তারিখের আগের নব্বই থেকে ষাট দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে। রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২৩ এপ্রিল। স্পীকার জানান, ১৯৯১ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইনের সপ্তম ধারায় বলা হয়েছে- নির্বাচনী কর্মকর্তা নির্ধারিত দিন, সময় ও স্থানে মনোনয়নপত্র পরীক্ষা করবেন। প্রার্থী একজন হলে এবং পরীক্ষায় তাঁর মনোনয়নপত্র বৈধ বিবেচিত হলে কমিশন তাঁকে নির্বাচিত ঘোষণা করবে। তবে একাধিক প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ হলে নির্বাচনের জন্য তাদের নাম ঘোষণা করবে ইসি। সংসদীয় গণতন্ত্র চালুর পর ১৯৯১ সালে একাধিক প্রার্থী হওয়ায় একবারই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেন সংসদ সদস্যরা। পরে প্রতিবারই ক্ষমতাসীন দল মনোনীত প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে আসছেন। আইন অনুযায়ী, একাধিক প্রার্থী হলে সংসদের অধিবেশন কক্ষে নির্বাচনী কর্মকর্তা ভোটের আয়োজন করবেন। নির্ধারিত ব্যালট পেপারে পছন্দের প্রার্থীর নাম লিখে নিজের সই দিয়ে তা জমা দেবেন এমপিরা। ভোটের দিন গ্যালারিসহ সংসদ কক্ষে প্রার্থী, ভোটার, ভোট নেয়ায় সহায়তাকারী কর্মকর্তা ছাড়া সবার প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রিত থাকবে। ভোট শেষে নির্বাচন কমিশনার প্রকাশ্যে ভোট গণনা করবেন। সর্বাধিক ভোটপ্রাপ্তকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে। আর সমান ভোট পেলে প্রার্থীদের মধ্যে লটারির মাধ্যমে ফল নির্ধারণ করা হবে।
মুক্তিযুদ্ধ ও জাতির পিতার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালালে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের (আইসিটি) বিতর্কিত ৫৭ ধারাসহ কয়েকটি ধারা বিলুপ্তির বিধান রেখে ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮ এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। তবে অপব্যবহার রোধে নতুন আইনে ৫৭ ধারাটি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া মন্ত্রিসভা জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন-২০১৮ এর খসড়া নীতিগতভাবে অনুমোদন দিয়েছে। সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এতে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের বলেন, নতুন আইন পাস হলে তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৫৪, ৫৫, ৫৬, ৫৭ ও ৬৬ ধারা বিলুপ্ত হবে। তার বদলে এসব ধারার বিস্তারিত ব্যাখ্যা করে অপরাধের প্রকৃতি অনুযায়ী শাস্তির বিধান রাখা হচ্ছে নতুন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে। প্রস্তাবিত এই আইনে জামিনযোগ্য ও জামিন অযোগ্য বেশকিছু ধারা রয়েছে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব। ২০১৬ সালের ২২ আগস্ট ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের খসড়া মন্ত্রিসভার নীতিগত অনুমোদন পায়। সেখানে বলা হয়, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালালে বা তাতে মদদ দিলে যাবজ্জীবন কারাদ- ও সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা জরিমানা করা যাবে। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের সাইবার অপরাধের জন্য খসড়ায় সর্বোচ্চ ১৪ বছর জেল এবং এক কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের কয়েকটি ধারায় শাস্তির বিধান আছে, কিন্তু সেগুলো অপর্যাপ্ত। পৃথিবীর অনেক দেশেই এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ আইন আছে। পাশের দেশ ভারতেও একটি বিস্তারিত আইন আছে, তার আদলেই বাংলাদেশের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন হচ্ছে। তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় বলা হয়েছে, কোন ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে ওয়েবসাইটে বা অন্য কোন ইলেকট্রনিক বিন্যাসে এমন কিছু প্রকাশ বা সম্প্রচার করেন, যা মিথ্যা ও অশ্লীল বা সংশ্লিষ্ট অবস্থা বিবেচনায় কেউ পড়লে, দেখলে বা শুনলে নীতিভ্রষ্ট বা অসৎ হতে উদ্বুদ্ধ হতে পারেন অথবা যার দ্বারা মানহানি ঘটে, আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটে বা ঘটার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়, রাষ্ট্র ও ব্যক্তির ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হয় বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে বা করতে পারে বা এ ধরনের তথ্যাদির মাধ্যমে কোন ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে উসকানি প্রদান করা হয়, তাহলে এ কাজ অপরাধ বলে গণ্য হবে। এই অপরাধে সর্বোচ্চ ১৪ বছর ও সর্বনিম্ন সাত বছর কারাদ- এবং সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা অর্থদন্দের বিধান রয়েছে বিদ্যমান আইনে। তদন্ত কীভাবে করা হবে সেটা ডিটেইল (বিস্তারিত) করা হয়েছে, যেটা আগে ছিল না বলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় হওয়া মামলাগুলোর কী হবে- জানতে চাইলে শফিউল আলম বলেন, সেই মামলাগুলো চলতেই থাকবে, যেন ধারাটি বাতিল করা হয়নি। দেশের বিভিন্ন স্থানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারার অপব্যবহার বিশেষ করে এ ধারায় সাংবাদিকদের নামে মামলার কারণে এ ধারাটির বিরুদ্ধে সমালোচনা ওঠে। ধারাটি বাতিলের দাবি ওঠে বিভিন্ন মহল থেকে। ২০১৬ সালের বছরের ২২ আগস্ট ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দিলেও খসড়াটি আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য আইনমন্ত্রীকে দায়িত্ব দেয়া হয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, যারা কনসার্ন স্টেক হোল্ডার (সংশ্লিষ্ট সুবিধাভোগী) তাদের নিয়ে বৈঠক করে এটাকে (খসড়া আইন) আরেকটু পরিশীলিত করবেন। এ প্রেক্ষাপটে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে কয়েক দফা সভা করার পর গত বছরের ২৯ নবেম্বর এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় খসড়াটি চূড়ান্ত করা হয়। এর পরই খসড়াটি অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভা বৈঠকে পাঠিয়েছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ। জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইনটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রস্তাব করা হয়েছে। আইনটি অধীনে একটি কর্র্তৃপক্ষ গঠন করা হবে। এটি ২২টি মন্ত্রণালয়কে সমন্বয় করে কাজ করবে। এই কর্র্তৃপক্ষের মাধ্যমে কর্মকর্তাদের দক্ষতা উন্নয়নই বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

জাতীয় পাতার আরো খবর