চট্টগ্রামে ২ সাংবাদিককে লাঞ্ছিত, অভিযুক্ত পুলিশ প্রত্যাহার
একাত্তর প্রতিবেদন,চট্টগ্রাম :চট্টগ্রাম নগরীতে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের পর একটি টেলিভিশন চ্যানেলের দুই সংবাদকর্মী ও তাদের গাড়িচালককে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা মারধর ও লাঞ্ছিত করেছে। নগরীর বাদামতলি মোড়ে এই ঘটনার পর সাংবাদিকদের দাবির মুখে ঘটনার জন্য অভিযুক্ত দুই পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়। এই ঘটনায় নিউজ টোয়েন্টিফোরের ক্যামেরাপার্সন আহাদুল ইসলাম বাবু এবং চালক নুরুল আলম আহত হয়েছেন। চ্যানেলটির সাংবাদিক নয়ন বড়ুয়া জয়ও লাঞ্ছিত হয়েছেন। ঘটনার পরপরই চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ বাদামতলি মোড়ে প্রতিবাদে কর্মসূচি পালনের ডাক দেয়।পরে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকতারা এসে ঘটনায় অভিযুক্ত দুই ট্রাফিক পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। ঘটনার বিষয়ে চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের ক্যামেরাপার্সন আহাদুল ইসলাম বাবু বলেন, চৌমুহনীর দিক থেকে গাড়ি নিয়ে আমরা আগ্রাবাদ সিঙ্গাপুর-ব্যাংকক মার্কেটের বিপরীতের জামান হোটেলে যাচ্ছিলাম।বাদামতলির মোড়ে ডান দিকে মোড় নেওয়ার সময় গোল চত্বর না ঘুরে কোণাকুণি পথে গাড়ি নিয়ে এগিয়ে যান চালক। আমাদের গাড়ির সামনে আরও চার-পাঁচটি গাড়ি ছিল। ওই গাড়িগুলোর মধ্যে কোনোটিকেই পুলিশ বাধা দেয়নি। আহাদুল ইসলাম বাবু বলেন,কিন্তু হঠাৎ করে ট্রাফিক সার্জেন্ট মশিউর এসে চালককে মারধর শুরু করে। চালককে মারতে নিষেধ করলে তিনি আমাকেও লাঞ্ছিত করেন। এক পর্যায়ে বাদামতলি মোড়সংলগ্ন ট্রাফিক বক্সের কাছে গাড়ি দাঁড় করায়। তারপর অদূরে মোড়ের পুলিশ বক্সে গেলে আমার গায়ে হাত দেয় এবং চালককে লাঠি দিয়ে পেটায় ট্রাফিক সার্জেন্ট মশিউর ও সাখাওয়াত। এসময় পুলিশ সদস্যদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে রিপোর্টার নয়ন বড়ুয়া জয়কেও লাঞ্ছিত করা হয় বলে জানান বাবু।এ ঘটনার খবর পেয়ে ইফতারের পরই বাদামতলির মোড়ে ছুটে যান চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের (সিইউজে) নেতারা। সেখানে তারা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের সাথে আলাপ শেষে ট্রাফিক পুলিশের উপ-কমিশার (বন্দর) ফাতিহা ইয়াসমিন অভিযুক্ত দুই ট্রাফিক সদস্যকে প্রত্যাহার করার ঘোষণা দেন। পাশাপাশি আগামীকাল এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করে কমিটির প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণেরও আশ্বাস দেন তিনি। অবস্থান কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন- সিইউজে সাধারণ সম্পাদক হাসান ফেরদৌস, বিএফইউজের যুগ্ম মহাসচিব তপন চক্রবর্তী, সিইউজের সাবেক সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী, সাবেক সহ-সভাপতি নিরূপম দাশগুপ্ত, সদস্য উত্তম সেনগুপ্ত, টিভি ক্যামেরা জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি শফিক আহমেদ সাজিব ও সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম বাবু। সাংবাদিকদের সাথে আলোচনায় অংশ নেন ট্রাফিক পুলিশের উপ-কমিশার (বন্দর) ফাতিহা ইয়াসমিন, অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (বন্দর) ছত্রধর ত্রিপুরা, টিআই (এডমিন) আবুল কাশেম ও ডবলমুরিং থানার ওসি মহিউদ্দিন সেলিম। উক্ত ঘটনায় নিউজ একাত্তর ডট কম ও সাপ্তাহিক সংবাদের কাগজ পত্রিকার পক্ষ থেকে তিব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
টরেন্টো পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ সেশনে যোগ দিতে টরেন্টো পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় টরেন্টোতে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল নাঈম উদ্দিন আহমেদ এবং কানাডার আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের পরিচালক ও উপপ্রধান প্রটোকল জোনাথন সাউভি পিয়ারসন ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। এর আগে দুবাইয়ে যাত্রাবিরতি করেন প্রধানমন্ত্রী। দুবাই থেকে স্থানীয় সময় ভোর সাড়ে ৩টায় প্রধানমন্ত্রী কানাডার উদ্দেশে রওনা হন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় এমিরেটসের একটি ফ্লাইটে ঢাকা ত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রী। আরব আমিরাতের স্থানীয় সময় রাত ১০.৫ মিনিটে তিনি দুবাইয়ে পৌঁছান। সেখানে তাকে স্বাগত জানান আমিরাতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ইমরান। আগামী ৯ জুন অনুষ্ঠেয় ওই সম্মেলনে অংশ নিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও কয়েকটি দেশের সরকারপ্রধান ও কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। ২ ঘণ্টা যাত্রাবিরতি শেষে প্রধানমন্ত্রী টরেন্টো থেকে কানাডার প্রাদেশিক শহর কুইবেকে যাবেন। সেখানে এ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। কানাডায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার মিজানুর রহমান এবং সে দেশের কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক গণ্যমান্য ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কুইবেকের জ্যাঁ লেসাগে ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে অভ্যর্থনা জানাবেন। সন্ধ্যায় শেখ হাসিনা জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের সম্মানে কানাডার গভর্নর জেনারেলের দেয়া নৈশভোজে অংশ নেবেন। প্রধানমন্ত্রী শনিবার লি ম্যানইর রিচেলিউ হোটেলে জি-৭ আউটরিচ নেতাদের কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। স্থানীয় সময় রোববার সকালে তিনি কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হবেন। এদিন তিনি কুইবেক থেকে টরেন্টোতে ফিরে আসবেন এবং সন্ধ্যায় হোটেল মেট্রোতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। প্রধানমন্ত্রী সোমবার (স্থানীয় সময়) কানাডার মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত বব রের সঙ্গে বৈঠক করবেন। হোটেল রিজ কার্লটনে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। শেখ হাসিনা সাসক্যাচুওয়ান প্রদেশের উপপ্রধানমন্ত্রী এবং বাণিজ্য ও রফতানি উন্নয়নমন্ত্রী গর্ডন ওয়েন্ট কিউসি, অভিবাসনমন্ত্রী জেরেমি হ্যারিসন ও সাসক্যাচুওয়ান প্রদেশের ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন। টরেন্টো ত্যাগের আগে প্রধানমন্ত্রী তার হোটেল কক্ষে কমার্শিয়াল কর্পোরেশন অব কানাডার (সিসিসি) প্রেসিডেন্ট ও সিইও মার্টিন জেবলকের সঙ্গে বৈঠক করবেন। মঙ্গলবার রাতে তিনি দুবাই হয়ে দেশে ফিরবেন। শেখ হাসিনা জি-৭ দেশগুলোর এ শীর্ষ সম্মেলনে ১৬টি দেশের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগ দেবেন। এটি বিশ্বের অর্থনৈতিক শক্তিগুলোর একটি প্লাটফর্ম। বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনৈতিক শক্তি কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইটালি, জাপান, যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের সমন্বয়ে প্লাটফর্মটি গঠিত। আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট এবং জি-২০ এর সভাপতি মাউরিকো ম্যাকরি, হাইতির প্রেসিডেন্ট ও ক্যারিবিয়ান কমিউনিটির সভাপতি জোভেনেল মইসি, জ্যামাইকার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ড্রিউ হোলনেস, কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট উহরো কেনিয়াত্তা, মার্শাল আইল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট হিলদা হেইনি, নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী এরনা সোলবার্গ, রুয়ান্ডার প্রেসিডেন্ট ও আফ্রিকান ইউনিয়নের সভাপতি পল ক্যাগামি, সেনেগালের প্রেসিডেন্ট ম্যাকি সাল, সিসিলির প্রেসিডেন্ট ড্যানি ফেউরি, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাপোসা, ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট নগুয়েন জুয়ান পুউচ, ইন্টারন্যাশনাল মনিটরি ফান্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টিন ল্যাগারডি, ইকোনমিক কো-অপারেশন ও ডেভেলপমেন্ট সংস্থার মহাসচিব জোসে অ্যাঞ্জেল গুরিয়া, জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরেস এবং বিশ্বব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ক্রিস্টালিনা গিউরগিভা সম্মেলনে যোগ দেবেন।
ঈদ ঘিরে পর্যাপ্ত নিরাপত্তায় পুলিশ প্রস্তুত
হুমকি না থাকলেও ঈদের জামাত ঘিরে জঙ্গি তৎপরতাসহ যে কোনো নাশকতা এড়াতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশর মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী। সারা দেশে শান্তিপূর্ণভাবে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত করতে পুলিশ সদস্যদেরকে প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর রাজারবাগে পুলিশের বার্ষিক কেরাত, আযান ও রচনা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি। এসময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইজিপি বলেন, জঙ্গিদের পুরোপুরি নির্মূল করা না গেলেও তাদের সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দেয়া সম্ভব হয়েছে। আগামীতে যেন জঙ্গিরা মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত আছে। এবারের ঈদ ঘিরে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার ফলে, প্রতিটি জামাত নিরাপদে অনুষ্ঠিত হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। আইজিপি বলেন, ঈদ জামাতের সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়চ্ছে। গতকয়েক বছর ধরে শোলাকিয়ার মতো লাখ লাখ মুসল্লির অংশগ্রহণে দিনাজপুরেও বড় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আমরা প্রতিটি ঈদের জামাতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। ঈদের জামাতের আগে ও পরের সতর্কতা প্রসঙ্গে আইজিপি বলেন, আমরা মনে করি প্রত্যেকটি জামায়াত নিরাপদে অনুষ্ঠিত হবে। তিনি আরো বলেন, নির্দিষ্ট কোনো হুমকি নেই আমাদের এখন পর্যন্ত এবং আমরা আশঙ্কা করছি না এমন কোনো হুমকির। আমাদের সকল ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। যে কোনো হুমকির জন্য আমরা প্রস্তুত রয়েছি। এবং সেই প্রস্তুতি অনুযায়ী কিন্তু সবাই পরিকল্পনা সাজিয়েছে। এর আগে পুলিশ লাইন মসজিদে সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেননের উপস্থিতিতে প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন আইজিপি। এ সময় তিনি বলেন, বলেন, পুলিশ সদস্যদের মধ্যে ইসলামী আদর্শ ও মূল্যবোধ গড়ে তোলার জন্য প্রতি বছর আযান, কেরাত ও রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। যাতে তারা ইসলামী আদর্শে উজ্জীবিত হতে পারে। আযানে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের নায়েক মো. সাইফুল ইসলাম ১ম, নৌ-পুলিশ, ঢাকার এএসআই এম মহিউদ্দিন ২য় এবং রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের নায়েক মো. ওমর ফারুক ৩য় স্থান অর্জন করেন। কেরাতে পুলিশ একাডেমী, সারদা, রাজশাহীর নায়েক মো. আরিফুর রহমান ১ম স্থান, পুলিশ স্টাফ কলেজের কনস্টবল খান হাসিবুর রহমান ২য় এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের নায়েক মো, সাইফুল ইসলাম ৩য় স্থান অধিকার করেন। মাদক দ্রব্যের ব্যবহার ও বিস্তার রোধে ইসলামের ভূমিকা’ শীর্ষক রচনা প্রতিযোগিতায় নৌ-পুলিশের এএসআই এম মহিউদ্দিন ১ম, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের এএসআই হাফেজ ওমর আহমাদ ২য় এবং এসবি, ঢাকার উচ্চমান সহকারী শেখ রেজাউল কবীর ৩য় স্থান অধিকার করেন।
রাজধানীর ইয়াবা সুন্দরী গ্রেপ্তার
মোহাম্মদপুর জেনেভা ক্যাম্পের শীর্ষ তালিকাভুক্ত মাদক চোরাকারবারি জয়নাল আবেদীন ওরফে পাঁচু (২৯) ও তার স্ত্রী ‘ইয়াবা সুন্দরী’ খ্যাত ফারহানা আক্তার ওরফে পাপিয়াকে (২৫) রাজধানীর লালবাগ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ২০ হাজার পিস ইয়াবা, ১টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৫ রাউন্ড গুলি ও বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করে ডিএমপি মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের এডিসি ওবায়দুর রহমান জানান, সম্প্রতি মাদকের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান জোরদার করা হলে তারা আত্মগোপনে চলে যায়। বৃহস্পতিবার রাতে কাউন্টার টেরোরিজম এ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইমের (সিটিটিসি) স্পেশাল এ্যাকশন গ্রুপ গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর লালবাগ এলাকায় ১০ হাজার পিস ইয়াবা পরিবহনের সময় তাদের গ্রেফতার করে। পরবর্তী সময়ে তাদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী লালবাগ এলাকার গোপন আস্তানা থেকে উদ্ধার করা হয় আরও ১০ হাজার পিস ইয়াবা, একটি আগ্নেয়াস্ত্র, পাঁচ রাউন্ড গুলিসহ বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর ও মতিঝিলসহ একাধিক থানায় মাদক ও অস্ত্র আইনে একাধিক মামলা রয়েছে। উল্লেখ্য, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের তালিকাভুক্ত রাজধানীর ১২ জন শীর্ষ মাদক চোরাকারবারির মধ্যে অন্যতম পাপিয়া আক্তার। ‘ইয়াবা সুন্দরী’ নামে পরিচিত পাপিয়া আক্তার ইয়াবা বিক্রি করে বাড়ি-গাড়ির মালিক হয়েছেন। পাপিয়ার সঙ্গে রয়েছে আরও কয়েকজন নারী। এরা পাপিয়া ও তার স্বামীর কাছ থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে খুচরা বিক্রেতা হিসেবে কাজ করে। এমনকি ক্রেতারা অর্ডার দিলে পৌঁছে দেন বাড়িতে গিয়েও। তবে সম্প্রতি মাদকবিরোধী অভিযান শুরু হবার পর থেকে স্বামীসহ গা ঢাকা দেয় পাপিয়া।
সকল ধর্মে শান্তি ও সম্প্রীতিকে সমানভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে
জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এমপি বলেছেন, সকল ধর্মে শান্তি ও সম্প্রীতিকে সমানভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ শান্তি ও সম্প্রীতির দেশ। এখানে ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষ এক অভূতপূর্ব মেলবন্ধনে সহবস্থান করছে। স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র উপহার দিয়েছেন। তিনি শুক্রবার আশুলিয়ায় বোধিজ্ঞান ভাবনা কেন্দ্রে দু’দিন ব্যাপী ‘আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ শান্তি সম্মেলন ২০১৮’ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। স্পিকার বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানে অসাম্প্রদায়িক দেশের কথা উল্লেখ রয়েছে। পরমতের প্রতি শ্রদ্ধা গণতন্ত্রের পূর্ব শর্ত। তিনি বলেন, ধর্ম যার যার উৎসব সবার—এই মন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে বাংলাদেশের জনগণ সকল ধর্মীয় উৎসব,সার্বজনীন বাংলা নববর্ষ, পহেলা বৈশাখ এবং জাতীয় উৎসবসমূহ আড়ম্বরভাবে উদযাপন করে থাকে। এসময় তিনি প্রীতি ও সহমর্মতিার বন্ধন অটুট রেখে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে সকলকে এক সাথে কাজ করে যাওয়ার আহবান জানান। এর আগে স্পিকার বৌদ্ধজ্ঞান ভাবনা কেন্দ্র পরিদর্শণ করেন এবং এর অনুপম নির্মাণশৈলির প্রশংসা করেন। কেন্দ্রটি সত্য ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, বৌদ্ধজ্ঞান ভাবনা কেন্দ্রের অনুসারীবৃন্দসহ সকল ধর্মের অনুসারীরা মানবাধিকার রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে এবং সবার জন্য শান্তিময় বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আর্থ-সামাজিক সকল ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়েছে উল্লেখ করে ড. শিরিন বলেন, দারিদ্রতা হ্রাসে এ সরকারের গণমুখী পদক্ষেপের সুফল ভোগ করছে জনগণ। এ ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশের পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। আসিন জেন রক্ষিত থের এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. এনামুর রহমান এমপি, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব ড. সম্পদ বড়ুয়া, প্রতিভা মুৎসুদ্দি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া ও আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ সম্মেলন উদযাপন পরিষদের আহবায়ক ড. প্রশান্ত ভূষণ বড়ুয়া ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা শাহাবুদ্দিন বক্তব্য রাখেন।
বাজেট বাস্তবায়ন চ্যালেঞ্জ মনে করছে সিপিডি
বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে নবীন বাংলাদেশের জন্য প্রবীন বাজেট আখ্যা দিয়ে বাজেটে রাজস্ব আদায়, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়ন এবং মোট দেশজ উৎপাদনের প্রবৃদ্ধির (জিডিপি) অনুপাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে। এজন্য সংস্থাটি আগেভাগেই বাজেট বাস্তবায়নের সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণের পরামর্শ দিয়ে বলেছে-রাজস্ব আয় কিভাবে আসবে তার সঠিক কর্মপরিকল্পনা এবং বাস্তবায়নের দিক থেকে ব্যয়ের ক্ষেত্রে ফলাফলভিত্তিক পরীবিক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করতে হবে। যাতে ইস্ফিত লক্ষ্য অর্জন করা যায়। শুক্রবার রাজধানীর গুলশানে একটি হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় বাজেট ২০১৮-১৯ এর পর্যালোচনায় সংস্থাটি এমন পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে। সিপিডির পর্যালোচনা তুলে ধরেন সংস্থাটির বিশেষ ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন। উপস্থিত ছিলেন সিপিডির বিশেষ ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান, গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম, জ্যেষ্ঠ গবেষক তৌফিকুল ইসলাম খান প্রমুখ। দেবপ্রিয় বলেন, জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৮ শতাংশ অর্জন করতে হলে ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগ বর্তমান বিনিয়োগের চেয়ে ১১৭ হাজার কোটি টাকা বাড়াতে হবে। একইসঙ্গে সরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে হবে বর্তমান সময়ের চেয়ে ৩০ হাজার কোটি টাকা। পুঁজির উৎপাদনশীলতাও বাড়াতে হবে। এটি বাস্তবে করা অনেক কঠিন, এজন্য জিডিপির প্রাক্কলিত প্রবৃদ্ধি অর্জন নিয়ে সংশয় রয়েছে। দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, মূলত দুটি দিক থেকে সিপিডি এ বাজেটকে পর্যালোচনা করেছে। এগুলো হলো সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে নতুন যেসব চাপ অর্থনীতির সামনে আছে সেগুলো মোকাবেলায় বাজেটে দিকনির্দেশনা এবং সম্পদের সুষম বন্টন ও বৈষম্য রোধ করা। বাজেট বিশ্লেষণ করতে গিয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতির স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি বেশ কিছু ভালো-মন্দ দিক চিহ্নিত করেছে সিপিডি। স্বল্পমেয়াদি ভালো দিকের মধ্যে রয়েছে প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা, সরকারি বিনিয়োগের অব্যাহত বৃদ্ধি, রফতানি ও প্রবাসী আয়ের ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, সামাজিক নিরাপত্তাবলয় বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক সাহায্যের পরিমাণ বৃদ্ধি। স্বল্পমেয়াদি সমস্যার মধ্যে আছে রাজস্ব আদায় বাড়াতে দূর্বলতা, এডিপি বাস্তবায়নের ধীরগতি, কৃষকের ন্যায্যমূল্য না পাওয়া, আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়া ইত্যাদি। ধনীদের সম্পদের ওপর সারচার্জ বাড়ানো, স্থানীয় শিল্পের প্রসারে নীতিসহায়তা, প্রতিবন্ধী হাসপাতালের সুবিধা, গরিবের রুটি-বিস্কুট ও পাদুকার ওপর মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) তুলে নেয়াকে বাজেটের ভাল দিক বলে মনে করছে সিপিড। তবে সংস্থাটি ব্যাংকের করপোরেট করহার কমানোর সমালোচনা করেছে। দেবপ্রিয় বলেন, ব্যাংকের করপোরেট কর হার কমানোর সুফল সুদের হার ও তারল্য সংকটের ওপর প্রভাব ফেলবে না। সুতরাং বিনিয়োগ সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ কোন কাজে আসবে না। তিনি করপোরেট কর হার কমানোর উদ্যোগ পুন:বিবেচনার সুপারিশ করেন। বাসস
গুগল ও ইউটিউবে কর বসানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে
রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেট পরবর্তী সংবাদ সম্মেলন শুরু হয়েছে। শুক্রবার বিকালে এ সংবাদ সম্মেলন শুরু হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত আছেন-পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা মসিউর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী এবং অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান। এর আগে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বৃহস্পতিবার সংসদে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জন্য ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকার বাজেট পেশ করেন। প্রস্তাবিত বাজেটে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৩৯ হাজার ২৮০ কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মাধ্যমে ২ লাখ ৯৬ হাজার ২০১ কোটি আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। বৈদেশিক অনুদান থেকে ৪ হাজার ৫১ কোটি পাওয়ার লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে। এছাড়া বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে ১লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকা। অর্থমন্ত্রী তার বাজেট বক্তৃতায় বলেন, বর্তমানে ইন্টারনেট বা সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে পণ্য বা সেবার ক্রয়-বিক্রয় যথেষ্ট বেড়েছে। ফলে অনলাইনভিত্তিক যেকোন পণ্য বা সেবার ক্রয়-বিক্রয় বা হস্তান্তরকে এ সেবার আওতাভুক্ত করা সম্ভব হবে। তাই ভার্চায়াল বিজনেস সেবার উপর ৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব করছি। শুক্রবার বিকালে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, অনলাইনে পণ্য বা সেবা কেনাবেচায় ৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আরোপের যে প্রস্তাব নতুন অর্থবছরের বাজেটে করা হয়েছ, তা ভুলক্রমে ছাপা হয়েছে। গুগল ও ইউটিউবে কর বসানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
বিএনপি সব ভালোকেই বাকা চোঁখে দেখে
নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান বলেছেন, এ সরকারের ক্ষমতায় আসার পর নৌ দুর্ঘটনা কমিয়ে আনা হয়েছে। গত তিন বছরে দেশে কোন নৌ দুর্ঘটনা ঘটেনি। এবারও প্রতিটি ঘাটে নৌ পুলিশ, কোস্টগার্ড, বিআইডব্লিউটিএ এবং টিসিসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা দিয়ে ঘাট নিয়ন্ত্রন করা হবে যাতে কোন লঞ্চেই অতিরিক্ত যাত্রী এবং ঝুকিপূর্নভাবে যেতে না পারে। শুক্রবার সকালে ঈদ উপলক্ষে ভোলা সদরের ইলিশা ও ভেদুরিয়া ফেরীঘাট পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নে জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, বাজেট কোন দলের হয়না, বাজেট হয় জাতীর। এর চেয়ে ভালো বাজেট বাংলাদেশে আর কখননো হয়নি। সময়ের চেয়ে সবচেয়ে ভালো হয়েছে, এখানে কোন কিছুরই দাম বাড়েনি। কিন্তু বিএনপি সব ভালোকেই বাকা চোঁখে দেখে। তারা এ সরকারের কোন কিছুই ভালো চোখে দেখেনি। এ সরকারের অনেক অর্জন রয়েছে। বিএনপি যতই আস্ফালন করুন না কেন তাদের নির্বাচনে আসতেই হবে। এ সময় বিআইডব্লিটিএ চেয়ারম্যান কমডোর এম মোজাম্মেল হকসহ প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তরা উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় পাতার আরো খবর