সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনা প্রমাণিত হলেই ব্যবস্থা :স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনা প্রমাণিত হলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান খান কামাল। দেখেন তদন্ত চলছে, অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি। শনিবার (১৯ মে) দুপুরে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দিরে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা জানান। মন্ত্রী বলেন, মহাখালীতে সাংবাদিক হেনস্তা ও পল্টনের ঘটনায় তদন্ত কমিটি কাজ করছে। তবে কারা তদন্ত করছে সেই নামগুলো মনে নেই। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর আগেও কাউকে ছাড় দেওয়া হয় নাই, এখনো কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। এর আগেও দেখেছেন এমপিদের বিচার হয়েছে। এখানেও কেউ ছাড় পাবে না। সে পুলিশ কর্মকর্তা হোক, সামরিক কর্মকর্তা আর রাজনৈতিক ব্যক্তি হোক। কেউ আইনের ঊর্দ্ধে নয়। রযাব মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান করছে, তাদের অভিযানে বন্দুকযুদ্ধে বেশ কয়েকজন মারা গেছেন। এ জন্য আমরা পেছনের অপরাধীদের বিষয়ে জানতে পারছি না। এসব অভিযানকে কিভাবে দেখছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গোয়েন্দাদের তথ্যের ভিত্তিতেই বিভিন্ন জায়গা থেকে মাদক বিক্রেতা ও দুর্বৃত্তদের প্রতিহত করা হচ্ছে। যারা প্রতিরোধ গড়ে তোলে তাদের সাথে বন্দুকযুদ্ধ হয়ে থাকে। যেমন র&যাবের সঙ্গে ঘটেছে। তিনি আরও বলেন, এমন ঘটনায় একজন ম্যাজিস্ট্রেট তদন্ত করে থাকেন। এগুলোর বিষয়ে তদন্ত চলছে। বিনাবিচারে কিছু হলে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো হত্যাকাণ্ড গোপন থাকবে না সবগুলোরই বিচার হবে। মাদক যে ভয়াবহ রূপ নিতে যাচ্ছে আমাদের মেধা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আমরা ২০৪১ সালে যে বাংলাদেশের রূপ দেখতে চাচ্ছি, আমরা যেতে পারবো না যদি মাদককে প্রতিহত না করি। সেজন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করছি। বঙ্গবন্ধু যে স্বপ্ন দেখেছিলেন আমরা আস্তে আস্তে সেই জায়গায় যাওয়ার চেষ্টা করছি উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যা বিশ্বাস করেন তা বাস্তবায়ন করেন। এখানে সবাই সমানভাবে চলবে এমন কোনো অশুভ শক্তিকে আমরা মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে দেবো না। মন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমানে রোহিঙ্গারা আমাদের কাছে নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোনো দেশে গেলে সেই দেশের মন্ত্রীরা বলেন কিভাবে আমরা রেহিঙ্গাদের মোকাবেলা করছি। তখন বলি বাংলাদেশর মানুষ খুব ভালো, তারা বিপদের সময় পাশে দাঁড়ায়। ১৬ কোটি মানুষকে যদি খাওয়াতে পারি, তাদেরও খাওয়াতে পারব। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি জয়ন্ত সেন দীপু। সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তাপস কুমার পাল।
ঈদে যানজট ও ভোগান্তি রোধে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে
ঈদের তিনদিন আগে থেকে মহাসড়কে সব রকমের ট্রাক, লরি, কাভার্ড ভ্যান চলাচল বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন সড়ক ও পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এছাড়া ৮ জুনের মধ্যে ভাঙা-চোরা সড়ক সংস্কার কাজ শেষ করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। শনিবার (১৯ মে) গাজীপুরের কালিয়াকৈরে গাজীপুর, টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক, সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোর পুলিশ সুপার, হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি ও সড়ক পরিবহন বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক সমন্বয় সভায় তিনি এ নির্দেশ দেন। মন্ত্রী বলেন, ঈদে মহাসড়কে যানজট ও ভোগান্তি রোধে পুলিশ, সড়ক ও জনপথ এবং স্থানীয় প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে মহাসড়কে ৮০০-৯০০ হাইওয়ে পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে। পুলিশের পাশাপাশি কমিনিউটি পুলিশের সদস্যরাও উপস্থিত থাকবেন।
দুর্নীতিমুক্ত সিটি উপহারের অঙ্গীকার নব নির্বাচিত মেয়র খালেকের
দুর্নীতিমুক্ত সিটি করপোরেশন উপহারের অঙ্গীকার করে খুলনা সিটি করপোরেশনের নব নির্বাচিত মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন, খুলনা মহানগরের জলাবদ্ধতা নিরসনের কাজ যেখানে রেখে আমি মেয়র পদ ছেড়েছিলাম, সেখান থেকেই আবার কাজ শুরু করবো। সততা, নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে খুলনাবাসীকে দুর্নীতিমুক্ত খুলনা সিটি করপোরেশন উপহার দেবো। একই সঙ্গে খুলনা মহানগরীকে মাদকমুক্ত করার জন্য সব ধরনের প্রচেষ্টা চালাবেন বলেও অঙ্গীকার করেন তিনি। খুলনা প্রেসক্লাবের লিয়াকত আলী মিলনায়তনে বৃহস্পতিবার (১৬ মে) বেলা সাড়ে ১১টায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন। বিএনপির মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুর সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে ব্যাপক ভোট ডাকাতির অভিযোগ এনে একশ কেন্দ্রে পুনরায় ভোট গ্রহণের দাবির বিষয়ে তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন, আমি শুনেছি তিনটি কেন্দ্রে কিছু সমস্যা হয়েছে। তাই বলে একশ কেন্দ্রে আবার ভোট গ্রহণ করতে হবে- এমন দাবি কেউ মেনে নেবে না। আগামী জাতীয় নির্বাচন ও নির্বাচন কমিশনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই তিনি এমন দাবি করেছেন। তিনি বলেন, নির্বাচনে যদি তারা জয়লাভ করতো তাহলে নির্বাচন ঠিক হতো, আর এখন পরাজয় মেনে নিতে না পেরে তার আবোল-তাবোল বকতে শুরু করেছে। কিন্তু ২০১৩ সালের নির্বাচনে আমি তো পরাজিত হয়েছিলাম। কিন্তু কোনো কথা বলিনি। খালেক বলেন, আমি খুলনা মহানগরকে মাদকমুক্ত করবো। মাদকের সঙ্গে আমার দলেরও কেউ যদি জড়িত থাকে, তাহলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেবো। তিনি বলেন, নজরুল ইসলাম মঞ্জুর সঙ্গে চরমপন্থীদের সখ্যতা ছিল। তারাই নির্বাচনে তাদের ব্যবহার করেছে। কিন্তু তারা যখন চরমপন্থীদের সামলাতে পারেনি তখন আইন করে তাদের ধরে ক্রসফায়ার দিয়েছে। আমরা সন্ত্রাসী ও চরমপন্থীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেবো। সংবাদ সম্মেলনে এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট শেখ হারুনার রশিদ, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা এসএম কামাল হোসেন, নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান মিজান, বিসিবির পরিচালক শেখ সোহেল প্রমুখ।
আমরা আদেশ দলবল দেখে দেই না: প্রধান বিচারপতি
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন বহালের সংক্ষিপ্ত আদেশ চেয়ে তার আইনজীবীর আবেদন নাকচ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ। এ বিষয়ে আদালত বলেছেন, সংক্ষিপ্ত আদেশ দেওয়ার বিধান আপিল বিভাগের রুলসে নেই। তবে তাড়াতাড়ি জামিনের রায় প্রকাশ করা হবে। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন ৪ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় এই আদেশ দেন। বিরতির পর বেলা সাড়ে ১১টায় আদালতের কার্যক্রম শুরু হলে খালেদা জিয়ার আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী বলেন, আমরা খালেদা জিয়ার জামিনের সংক্ষিপ্ত আদেশ চাচ্ছি। বেল বন্ড দাখিল করার জন্য সংক্ষিপ্ত আদেশ দরকার। আপনাদের আজকের রায় পত্র-পত্রিকায়, টিভিতে প্রচারিত হয়েছে। হয়তো আপনাদের নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হবে। আমাদের দিতে অসুবিধা নেই। তখন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আপত্তি জানিয়ে বলেন, খালেদা জিয়া তো আরো কয়েকটি মামলায় শ্যেন এরেস্ট আছেন। তাছাড়া আপিল বিভাগ থেকে এ ধরনের শর্ট অর্ডার দেওয়ার নজির নেই। বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী বলেন, এ ধরনের শর্ট অর্ডার দেওয়ার নজির নেই। এ সময় প্রধান বিচারপতি খালেদার আইনজীবীকে বলেন, আপনার আবেদন রিফিউজ করা হলো। আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী বলেন, হাইকোর্ট বিভাগের রুলসে শর্ট অর্ডার দেওয়ার বিধান আছে। বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী বলেন, হাইকোর্টের বিধান কি আমাদের জন্য মানা বাধ্যতামূলক? আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী বলেন, আমি তা বলছি না। আপনারা চাইলে তা দিতে পারেন। তখন প্রধান বিচারপতি আবারও বলেন, আপনার আবেদন রিফিউজ করা হলো। আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী বলেন, আমি তো একা এসেছি। দলবল নিয়ে আসিনি। প্রধান বিচারপতি বলেন, এটা কেমন কথা? দলবল নিয়ে আসলেই কি আমরা আদেশ দিয়ে দেই? দলবল দেখে আমরা আদেশ দেই না। বেঞ্চের অপর বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার এ জে মোহাম্মদ আলীর মন্তব্যে উষ্মা প্রকাশ করে বলেন, আপনি গুরুতর আপত্তিকর কথা বলেছেন। আপনি আমাদের ফোর্স করতে পারেন না। আপনারা ভুলে যান যে কোর্টে আপনারা আইনজীবী। অফিসার অব দ্য কোর্ট। কোনো দলের লোক নন। তখন এ জে মোহাম্মদ আলী তার মন্তব্যের জন্য আদালতের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন। এ পর্যায়ে বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী এ জে মোহাম্মদ আলীকে বলেন, প্রধান বিচারপতি যেখানে নাকচ করে দিয়েছেন সেখানে আপনি তর্ক করছেন কেন? শেষে প্রধান বিচারপতি বলেন, আপনার আবেদন আমরা বিবেচনা করতে পারলাম না। বিবেচনা করার সুযোগ নেই।
সেবা ও মানবিক আচরণের মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জনে সচেষ্ট থাকতে হবে:প্রধানমন্ত্রী
শিক্ষানবীস সহকারী পুলিশ সুপারদের উদ্দেশ্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মানুষ বিপদের সময় পুলিশের কাছে সাহায্যের জন্য আসে। তাই সেবা ও মানবিক আচরণের মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জনে সচেষ্ট থাকতে হবে। বুধবার (১৬ মে) সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির ৩৫তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের শিক্ষানবীস সহকারী পুলিশ সুপারদের সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে কর্মক্ষেত্রে যোগ দিতে যাওয়া নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব পালনের সময় জনগণের অধিকার, মানবাধিকার ও আইনের শাসনকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। সমাজের নারী, শিশু ও প্রবীণদের প্রতি সংবেদনশীল আচরণ করতে হবে। বছরব্যাপী প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করায় নবীন কর্মকর্তাদের শুভেচ্ছা, অভিনন্দন ও আন্তরিক ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ পুলিশ সদস্যদের শ্রদ্ধা জানান তিনি। পুলিশবাহিনীর প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা বিধান, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, সন্ত্রাস ও অপরাধ দমন, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার সমুন্নত রাখার পাশাপাশি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখতে পুলিশ সদস্যরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশের পুলিশ জাতিসংঘে শান্তিরক্ষা মিশনে দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের জন্য বহির্বিশ্বে প্রশংসা অর্জন করেছে। পুলিশবাহিনীকে নতুন চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, প্রযুক্তির উন্নয়নের পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী অপরাধের ধরন দ্রুত পাল্টে যাচ্ছে। বিশেষ করে সিয়াবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে দক্ষ হতে হবে।
খুলনা সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আবদুল খালেক নির্বাচিত
খুলনা সিটি করপোরেশন (খুসিক) নির্বাচনে কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফলে নৌকা প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আবদুল খালেক বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। আবদুল খালেক ১৭৬৯০২ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। আর ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু পেয়েছেন ১০৮৯৫৬ ভোট। মোট ২৮৯টি কেন্দ্রের মধ্যে ২৮৬টি কেন্দ্রের প্রাপ্ত ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। বাকি তিনটি কেন্দ্রের ভোট অনিয়মের কারণে স্থগিত হয়েছে। এছাড়া দুটি কেন্দ্রে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এই দুই কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে একটিতে আওয়ামী লীগ প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক পেয়েছেন ৭৭৭ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। অপরটিতে বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৭১০ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। এরআগে মঙ্গলবার (১৪ মে) সকাল ৮টা থেকে উৎসবমুখর পরিবেশে খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনের ২৮৯ টি কেন্দ্রে শুরু হয় ভোট প্রদান। একটানা চলে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। বিএনপি অভিযোগ করেছে, তাদের এজেন্টদের বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। সমর্থকদের ভয়ভীতি দেখানোর পাশাপাশি মারধরও করা হয়েছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ বলেছে, পরাজয় অবশ্যম্ভাবী জেনে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই বিএনপি ‘মিথ্যা অভিযোগ’ করছে। ভোটের সার্বিক পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশনার শাহাদাত হোসেন চৌধুরী বলেছেন, কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া সুষ্ঠুভাবেই ভোট হয়েছে। ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেছেন, খুলনায় চমৎকার ও সুন্দর এবং উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন হয়েছে। খুলনায় মেয়রের পাশাপাশি ৩১টি সাধারণ ওয়ার্ড এবং ১০টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচনে ভোটার ছিল ৪ লাখ ৯৩ হাজার ভোটার। এর মধ্যে ৬০ ভাগ ভোট দিয়েছেন বলে ধারণা রিটার্নিং কর্মকর্তা ইউনুচ আলীর।
কেসিসির নির্বাচনে খালেক এগিয়ে রয়েছেন
খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণ করা দুটি কেন্দ্রের ফলাফলে আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক এগিয়ে রয়েছেন। দুই কেন্দ্র মিলে আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক পেয়েছেন ৭৭৭ ভোট। অপরদিকে তার নিকটতম প্রার্থী বিএনপির নজরুল ইসলাম মঞ্জু ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৭১০ ভোট। কেসিসির পিটিআই কেন্দ্রে পুরুষ ভোটাররা এবং সোনাপোতা কেন্দ্রে নারী ভোটাররা ইভিএমে ভোট দেন। পিটিআই কেন্দ্রটি ছিল পুরুষ ভোটারদের জন্য। এখানে মোট ভোটার ছিল ১৮৭৯ জন। এর মধ্যে ধানের শীষ নিয়ে মঞ্জু পেয়েছেন ৫১১ ভোট, দ্বিতীয় অবস্থানে নৌকা প্রতীক নিয়ে তালুকদার আবদুল খালেক পেয়েছেন ৫০৫ ভোট, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী পাখা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৪৩ ভোট, জাতীয় পার্টির প্রার্থী লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১১ ভোট এবং সিপিবির প্রার্থী কাস্তে প্রতীকে পেয়েছেন ৭ ভোট। অন্যদিকে, সোনাপোতা ইভিএম কেন্দ্রটি ছিল নারী ভোটারদের জন্য। এই কেন্দ্রে তালুকদার আবদুল খালেক নৌকা প্রতীকে ২৭২ ও নজরুল ইসলাম মঞ্জু ধানের শীষ প্রতীকে ১৯৯ ভোট পেয়েছেন। মঙ্গলবার খুলনা সিটি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষে এখন গণনার কাজ চলছে। উল্লেখ্য, খুলনা সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে যে পাঁচজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, তারা হলেন- আওয়ামী লীগের তালুকদার আবদুল খালেক (নৌকা), বিএনপির নজরুল ইসলাম মঞ্জু (ধানের শীষ), জাতীয় পার্টির এসএম শফিকুর রহমান (লাঙল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের অধ্যক্ষ মাওলানা মুজ্জাম্মিল হক (হাতপাখা) এবং বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবির মিজানুর রহমান বাবু (কাস্তে)। ৪৬ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এ নগরীতে মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ২৮৯টি ও ভোটকক্ষ এক হাজার ৫৬১টি। নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৯৩ হাজার ৯৩ জন, যার মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৪৮ হাজার ৯৮৬ জন ও নারী ভোটার ২ লাখ ৪৪ হাজার ১০৭ জন।
দেশের উন্নয়নে আওয়ামী লীগের কোন বিকল্প নেই
দেশের উন্নয়নে নৌকা তথা আওয়ামী লীগের কোন বিকল্প নেই বলে জানিয়ে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, ১৪ দলের মুখপাত্র বর্তমান সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, ‘বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত। দেশের সার্বিক উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হলে আগামীতেও নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে বিজয়ী করতে হবে।’ মঙ্গলবার (১৫ মে) সিরাজগঞ্জের কাজীপুরে ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প ও পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক এর ভবন নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর শেষে এক পথসভায় এসব বলেন। মন্ত্রী মেগা প্রকল্প পদ্মাসেতু সহ বিদ্যুৎ, কৃষি, অবকাঠামোগত বিভিন্ন উন্নয়নের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘আজ বাংলার মানুষের মাথাপিছু আয় বেড়েছে, দেশের মানুষ খেয়ে পড়ে আজ শান্তিতে আছে। বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশের গরিব-দুঃস্থ ও বয়স্কদের নানাবিদ ভাতা, মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বোচ্চ ভাতা-গৃহস্থল দিয়ে সম্মানিত করেছেন বলে উল্লেখ করেন।’ এসময় কাজীপুর উপজেলা চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক সরকার, ইউ এন ও শফিকুল ইসলাম, একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পর কাজীপুর সমন্বয়কারি সারোয়ার আলমসহ জেলা ও উপজেলার দলের সর্বস্তরের নেতা কর্মিগণ উপস্থিত ছিলেন। পরে মন্ত্রী কাজীপুরের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প ও পরে সিরাজগঞ্জ সদরে মনসুর আলী মেডিকেল কলেজের নির্মাণাধীন কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করেন।
কেন ডেসটিনি বিলুপ্ত হবে না: হাই কোর্ট
প্রতারিত করে গ্রাহকদের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগের মুখে থাকা ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেড অবলুপ্ত বা অবসায়ন করতে নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়েছে হাই কোর্ট। মঙ্গলবার (১৫ মে) বিচারপতি এম আর হাসানের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ এ নোটিশ জারি করেন। আদালত ৪ জুলাই পরবর্তী আদেশের জন্য দিন নির্ধারণ করেছেন। রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিস অ্যান্ড ফার্মস এবং ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেডকে এর জবাব দিতে বলা হয়েছে। যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোম্পানি তার কাজকর্ম গুটিয়ে ফেলে, দায়-দেনার নিষ্পত্তি করে, তাকে কোম্পানির অবসায়ন বলা হয়। দুর্নীতির মামলায় জর্জরিত মাল্টিলেভেল মার্কেটিং কোম্পানি ডেসটিনি ২০১২ সাল থেকে কার্যত বন্ধ। আদালতে ওই কোম্পানির পরিচালক অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল এম হারুন-অর-রশীদ ও পাঁচ শেয়ার হোল্ডারের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী এ বি এম সিদ্দিকুর রহমান খান ও মাইনুল ইসলাম। জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মসের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন এ কে এম বদরুদ্দোজা। এ কে এম বদরুদ্দোজা জানান, ২০০০ সালের ১৪ ডিসেম্বর রেজিস্টার্ড হওয়া কোম্পানিটির ২০১২ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত বার্ষিক সাধারণ সভা বিলম্বের মার্জনা চেয়ে ওই কোম্পানির পরিচালক এম হারুন-অর-রশীদ ও পাঁচ শেয়ার হোল্ডার হাইকোর্ট আবেদন করেন। হারুন-অর-রশীদ ছাড়া বাকি পাঁজজন হলেন- কাজী মোহাম্মদ আশরাফুল হক, মো. সাইফুল আলম রতন, সিরাজুম মুনীর, মো. জাকির হোসেন, বিপ্লব বিকাশ শীল। আবেদনে বিবাদী করা হয়েছে, জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মসের রেজিস্টার ও ডেসটিনি-২০০০লিমিটেডকে। এ কে এম বদরুদ্দোজা বলেন, আইন অনুসারে প্রতি ইংরেজি পঞ্জিকা বত্সরে বার্ষিক সাধারণ সভা করতে হয়। এতে ব্যর্থ হলে কোম্পানির যেকোনো সদস্যের আবেদনক্রমে, আদালত উক্ত কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভা আহ্বান করতে অথবা আহ্বান করার নির্দেশ দিতে পারবে এবং আদালত উক্ত সভা আহ্বান অনুষ্ঠান ও পরিচালনার জন্য যেরূপ সমীচীন বলে বিবেচনা করবে সেরূপ অনুবর্তী ও আনুসাঙ্গিক আদেশ দিতে পারবে৷ এ আইন অনুসারে তারা হাইকোর্টে আবেদন করেন। কিন্তু যে ছয়জন আবেদন করেছেন তাদের মধ্যে ডেসটিনির প্রেসিডেন্ট ও প্রাক্তন সেনাপ্রধান হারুন-অর-রশীদ শর্তসাপেক্ষে জামিনপ্রাপ্ত। জামিনের শর্ত ছিল- তদন্ত পর্যন্ত তিনি এ কোম্পানির কোনো কার্যক্রমের সাথে কোনো রকম সম্পর্ক রাখবেন না। আবেদনে তদন্ত শেষ হয়েছে কি না সে বিষয়ে কিছু বলা নাই। ফলে তিনি আবেদন করতে পারেন কি না তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। এছাড়া তাদের এজিএমের আবেদনে উল্লেখ আছে, ২০১২ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত কোম্পানির কোনো অডিট নেই। অডিট রিপোর্ট না থাকলে বার্ষিক সাধারণ সভা কীভাবে হবে? তিনি আরও বলেন, আবেদনে তারা বলেছে, দুদকের মামলায় সমস্ত সম্পদ জব্দকৃত। সে সম্পদ তত্ত্বাবধানে তত্ত্বাবধায়কও নিয়োজিত আছেন। ফলে কোম্পানি হিসেবে এর কোনো কর্মকাণ্ড নেই। এছাড়া সাত পরিচালকের মধ্যে ২০১২ সালের অক্টোবর থেকে কোম্পানির পরিচালক রফিকুল আমীন ও মোহাম্মদ হোসেন জেলে আছেন। চারজন পলাতক। এছাড়া তদন্ত চলাকালে অপর পরিচালক হারুন-অর-রশীদ এ কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করবেন না, এমন শর্তে হাইকোর্ট থেকে জামিন নেন। দুদকের কারণে ছয় বছর ধরে কোম্পানির কার্যক্রম প্রায় বন্ধ। এখন পরিচালক ছাড়া এজিএম হবে কীভাবে? এ কারণে আদালত এজিএমের বিষয়ে আদেশ না দিয়ে কোম্পানিটি অবসায়ন করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে ডেসটিনি-২০০০ লিমিটেডের প্রতি শোকজ নোটিশ জারি করেছেন বলে জানান এ কে এম বদরুদ্দোজা।

জাতীয় পাতার আরো খবর