৮ কোটি টাকাসহ গ্রেপ্তার, তিনজন রিমান্ডে
অনলাইন ডেস্ক: রাজধানীতে আট কোটি ১৫ লাখ টাকাসহ র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া তিনজনকে পাঁচদিন করে রিমান্ড দিয়েছেন আদালত। আজ বুধবার ঢাকা মহানগর হাকিম মাসুদ উর রহমান এ আদেশ দেন। ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে আজ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মতিঝিল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ফারুক হোসেন তিন আসামিকে হাজির করে ১০ দিন করে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। সে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক এ আদেশ দেন। রিমান্ডে যাওয়া আসামিরা হলেন- মতিঝিলের ইউনাইটেড করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এ এম আলী হায়দার ওরফে নাফিজ, অফিস ব্যবস্থাপক আলমগীর হোসেন এবং গুলশানের আমেনা এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপক (জিএম) জয়নাল আবেদীন। আসামিদের মধ্যে জয়নাল আবেদীন একসময় হাওয়া ভবনের কর্মচারী ছিলেন বলে এজাহারে লেখা ছিল। গত সোমবার রাত থেকে গতকাল মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত র‌্যাব ৩-এর একটি দল মতিঝিল সিটি সেন্টারের ২৭ তলায় ইউনাইটেড করপোরেশন ও ইউনাইটেড এন্টারপ্রাইজ নামের দুটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার ও টাকা জব্দ করে। তাঁদের কাছ থেকে নগদ আট কোটি ১৫ লাখ ৩৮ হাজার ৬৫১ টাকা জব্দের তথ্য জানিয়েছে র‌্যাব।
পেশিশক্তি দেখানো শুরু করেছে ঐক্যফ্রন্ট: প্রধানমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক: নির্বাচনে নিজেদের অনিবার্য পরাজয় হবে বুঝতে পেরে ঐক্যফ্রন্ট তাদের পেশিশক্তি দেখানো শুরু করেছে বলে মন্তব্য করে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশব্যাপী আওয়ামী লীগের পাঁচ নেতা-কর্মীকে হত্যা ও চার শতাধিককে আহত করেছে। বুধবার প্রধানমন্ত্রী নিজের বাসভবন সুধাসদন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কুষ্টিয়ায় এক নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেয়ার সময় এসব কথা বলেন। খবর: ইউএনবি শেখ হাসিনা বলেন, তারা (ঐক্যফ্রন্ট) জানে যে, তারা নির্বাচনে জয়লাভ করতে পারবে না। কারণ, বাংলাদেশের মানুষ কখনও সন্ত্রাসী, জঙ্গি, দুর্নীতিবাজ, অর্থ পাচারকারী ও এতিমের টাকা আত্মসাৎকারীদের ভোট দেবে না। এ কারণে তারা পেশিশক্তি দেখানো শুরু করেছে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ দেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ চায়, যেখানে সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। জনগণ তাদের ভোট ও দেশের মালিক। জনগণ ঠিক করবে তারা আগামী নির্বাচনে কেমন সরকার চায়, যোগ করেন তিনি। আওয়ামী লীগ প্রধান সুনিশ্চিতভাবে বলেন, তার দলের নেতাকর্মীরা একসাথে থাকলে কেউ তাদের আগামী নির্বাচনে পরাজিত করতে পারবে না। শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে হবে। বিরোধীদলগুলো ঐক্যফ্রন্ট থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। তারা যাতে নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে পারে সে জন্য শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে, জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ঐক্যফ্রন্ট হয়তো সন্ত্রাস করতে পারে, এটা তাদের চারিত্র। কিন্তু আওয়ামী লীগ কখনও তা করবে না। তিনি দাবি করেন, ঐক্যফ্রন্টের কর্মীরা এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগের পাঁচ নেতা-কর্মীকে হত্যা ও ৪০১ জনকে আহত করেছে। বিএনপি-জামায়াত জোট ৫১ জেলার ৮৮ আসনে হামলা, ভাংচুর, বোমা হামলা ও আগুন সন্ত্রাস চালিয়েছে। তাদের চরিত্র যা তারা সেটাই করছে। তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট ২০০১ সালে যা করেছিল তা করতে চায়। তারা ২০০১ সালের মতো জনগণকে অত্যাচার এবং ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে চায়। গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতার জন্য নির্বাচনে ভোট দেয়ার সুযোগ কাজে লাগাতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দয়া করে আসন্ন নির্বাচনে নিজেদের ভোট দিন এবং পছন্দের প্রার্থীদের বিজয়ী করুন। সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনে ঐক্যফ্রন্ট নেতা ডা. কামাল হোসেনের অশোভন আচরণের কঠোর সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, তার খারাপ ব্যবহার থেকে কেউ ছাড় পাচ্ছে না। তিনি ইসির সাথে ঝগড়া করেছেন। পুলিশ বাহিনী নিয়ে খারাপ কথা বলেছেন। তিনি ঐক্যফ্রন্টের নেতা, একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আইনজীবী। কেউ তার কাছ থেকে নোংরা কথা আশা করে না বলে উল্লেখ করেন আওয়ামী লীগ প্রধান।
গোপালগঞ্জ-৩ আসনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নৌকায় ভোট চাইলেন ডিপজল-আঁচল
অনলাইন ডেস্ক: গোপালগঞ্জ-৩ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে নৌকা প্রতীকে ভোট চেয়েছেন চলচ্চিত্র অভিনেতা মনোয়ার হোসেন ডিপজল ও চিত্রনায়িকা আঁচল। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কোটালীপাড়া উপজেলার কুশলা মাঠে ওই জনসভার আয়োজন করে কুশলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ। সেই জনসভায় সবাইকে নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে বিপুল ব্যবধানে জয়যুক্ত করতে সবার প্রতি আহ্বান জানান ডিপজল ও আঁচল। এ জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির ধর্মবিষয়ক সম্পাদক আলহাজ শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ। কুশলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি দিলীপ বাড়ৈর সভাপতিত্বে জনসভায় অ্যাডভোকেট রাশিদা আব্দুল্লাহ, কোটালীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুভাষ চন্দ্র জয়ধর, সাধারণ সম্পাদক এস এম হুমায়ন কবীর, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান বিমল বিশ্বাস, পৌর মেয়র কামাল হোসেন শেখ, সাবেক পৌর মেয়র এইচ এম অহিদুল ইসলাম, কুশলা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম বদলসহ আরো অনেকে বক্তব্য দেন। বিভিন্ন বয়সের হাজার হাজার মানুষ নৌকা প্রতীকসহ ঢাক-ঢোল পিটিয়ে মিছিল নিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষের জনসভায় যোগ দেন।
সাংবাদিক এবং মিডিয়া সংশ্লিষ্ট যানবাহনের মুক্তভাবে চলাচল নিশ্চিত করার দাবি সম্পাদক পরিষদের
অনলাইন ডেস্ক: নির্বাচনের আগে ও পরে তিনদিন সারাদেশে সাংবাদিক, সংবাদকর্মী এবং মিডিয়া সংশ্লিষ্ট যানবাহনের মুক্তভাবে চলাচল নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সম্পাদক পরিষদ। বুধবার (২৬ ডিসেম্বর) প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদার কাছে সম্পাদক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজ আনাম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ দাবি জানানো হয়। চিঠিতে সাংবাদিক ও সংবাদকর্মীদের মোটরসাইকেল, সাংবাদিক বা সংবাদপত্র পরিবহনকারী যানবাহনের অবাধ চলাচল নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। এ ছাড়া সাংবাদিকরা যাতে অবাধ চলাচল করতে পারে সে জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে সম্পাদক পরিষদের ওই চিঠিতে।
নির্বাচনে জামায়াতের ২৫ প্রার্থীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট
অনলাইন ডেস্ক: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর ২৫ নেতার প্রার্থীতা বৈধ করে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আবেদন করা হয়েছে। বুধবার সকালে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় তরিকত ফেডারেশনের মহাসচিব রেজাউল হক চাঁদপুরীর পক্ষে রিটটি দায়ের করেন আইনজীবী ব্যারিস্টার তানিয়া আমীর। আবেদনটি আদালতে উপস্থাপনের পর বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি খায়রুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানির জন্য আগামী (২৭ ডিসেম্বর) বৃহস্পতিবার দিন ঠিক করেছেন। এর আগে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে যাওয়া ২৫ জামায়াত নেতার প্রার্থিতার বৈধতা নিয়ে নির্বাচন কমিশনে আবেদন করেন তরিকত ফেডারেশনের মহাসচিবসহ চার ব্যক্তি। সেই আবেদনে সাড়া না পেয়ে এ বিষয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন তারা। ওই রিটের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট তিন দিনের মধ্যে বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে নির্দেশ দেন ইসিকে। তবে ইসি জানিয়েছে, এ বিষয়ে তাদের কিছু করার নেই। জামায়াত নেতাদের প্রার্থিতা বাতিল করার এখতিয়ার তাদের নেই। যার পরিপ্রেক্ষিতে এবার বিষয়টি নিয়ে ফের হাইকোর্টে আবেদন করা হয়েছে।
পুলিশ কর্মকর্তারা ড. কামালের কার্যালয়ে যে কারণে
অনলাইন ডেস্ক: গণফোরাম সভাপতি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এ সময় তারা ড. কামালের কাছে তার নিরাপত্তার বিষয়ে জানতে চান। বুধবার দুপুরে মতিঝিলের ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন পুলিশের কর্মকর্তারা। প্রায় ১৫ মিনিট এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সাক্ষাৎ শেষে মতিঝিল বিভাগের ডিসি আনোয়ার হোসেন এসব কথা বলেন। আনোয়ার হোসেন সাংবাদিকদেরকে বলেন, স্বাভাবিক কাজের অংশ হিসেবে আমরা এখানে এসেছিলাম। তার ( কামাল হোসেন) নিরাপত্তার বিষয়ে আলোচনা করতে এসেছিলাম। ড. কামালোর ওপরে হুমকি আছে কী না- জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের কাছে উনি, সে আশঙ্কা প্রকাশ করেন নাই। কী কারণে এসেছেন- জানতে চাইলে আনোয়ার বলেন, ড. কামালের সাথে আমার সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এসেছিলাম। ড. কামাল হোসেনের আলাদা কোন অবজারভেশন আছে কী না? এ বিষয়ে খোলা-মেলা আলোচনা হয়েছে। মতিঝিল বিভাগের ডিসি আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের প্রতিনিধি দলের ছিলেন, এডিসি শিবলি নোমান, নাজমুন নাহার, সরোয়ার, এসি মিশু, ওসি ফারুক, পিআই শহীদ প্রমুখ। বুধবার (২৬ ডিসেম্বর) দুপুরে ড. কামাল হোসেনের মতিঝিলের চেম্বার তারা প্রবেশ করেন। এ সময় ৩০ জন পুলিশ সদস্য ছিলেন। এর আগে ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসছেন জানিয়েছিলেন গণফোরামের প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম পথিক। তবে শেষ পর্যন্ত আছাদুজ্জামান মিয়া আসেননি বলে জানা গেছে। চেম্বারে এ সময় উপস্থিত ছিলেন গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসীন মন্টু, নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, জগলুল হায়দার আফ্রিক, গণফোরামের প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম পথিক প্রমুখ।
গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হামলা: মানববন্ধনে দোষীদের শাস্তি দাবি
অনলাইন ডেস্ক :ঢাকার নবাবগঞ্জে একটি হোটেলে অবস্থানরত যুগান্তর ও যমুনা টেলিভিশনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীর ওপর সোমবার রাতে সশস্ত্র সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন সংবাদকর্মীরা। বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় সাংবাদিক নেতারা বক্তব্য দেন। বক্তারা অবিলম্বে দোষীদের গ্রেফতার করে বিচার ও শাস্তি দাবি করেন। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্য খায়রুজ্জামান কামালের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন- জাতীয় প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহেদ চৌধুরী, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপু, রাজু আহমেদ ও সৈয়দ শুক্কুর আলী শুভ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন-ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সহ সভাপতি আতিকুর রহমান চৌধুরীসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মীরা। মানববন্ধন পরিচালনা করেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের নির্বাহী কমিটির সদস্য শেখ মামুনুর রশীদ। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর যে হামলা, দমন, নিপীড়ন চলছে তা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। নবাবগঞ্জে সাংবাদিকদের ওপর যে হামলা হয়েছে তার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান সাংবাদিক নেতারা। হামলায় জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে নেতারা বলেন, সন্ত্রাসীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। তাদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। নির্বাচনে যেন আর কোনো সাংবাদিক হামলার শিকার না হন এর জন্য সরকারের পক্ষ থেকে নিশ্চয়তার দাবি জানানো হয় মানববন্ধনে। গণমাধ্যমকর্মীর ওপর হামলার ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে দোহার উপজেলা চেয়ারম্যানকে প্রধান আসামি করে ১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ওই ন্যাক্কারজনক হামলায় অংশগ্রহণকারী আসামীদের মধ্যে রয়েছেন- ১) দোহার উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা মো: আলমগীর হোসেন (৫০), থানা – দোহার, জেলা -ঢাকা ২) নবাবগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নূরে আলম (৪৫), থানা – নবাবগঞ্জ, জেলা -ঢাকা ৩) সেচ্ছাসেবক লীগের নেতা মো: পলাশ (৩৮), থানা – নবাবগঞ্জ, জেলা -ঢাকা ৪) মুরাদ শিকদার, থানা – নবাবগঞ্জ, জেলা -ঢাকা ৫) খৈমুন্দিন , থানা – নবাবগঞ্জ, জেলা -ঢাকা। ৬) মুরাদ হোসেন, থানা – নবাবগঞ্জ, জেলা -ঢাকা ৭) অনুপ দত্ত নিপু, থানা – নবাবগঞ্জ, জেলা -ঢাকা ৮) মুখলেছুর রহমান, থানা – নবাবগঞ্জ, জেলা -ঢাকা ৯) শহিদুল ইসলাম সেন্টু, থানা – নবাবগঞ্জ, জেলা -ঢাকা ১০) সিয়াম, থানা – নবাবগঞ্জ, জেলা -ঢাকা ১১) মো: শহিদুল, থানা – নবাবগঞ্জ, জেলা -ঢাকা ১২) ওয়াশিম ওরফে আজিজ মন্ডল, থানা – নবাবগঞ্জ, জেলা -ঢাকা ১৩) মুজিবুর দেওয়ান, থানা – নবাবগঞ্জ, জেলা -ঢাকা। ১৪) আবদুল জলিল ব্যাপারিসহ (চুড়াইন ইউপি চেয়ারম্যান), থানা – নবাবগঞ্জ, জেলা -ঢাকা অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১২ জন অবৈধভাবে অনাধিকার প্রবেশ করে হত্যা ও জখমের উদ্দেশে ১ নং আসামীর হুকুমে অন্যান্য আসামীগণ অতর্কিতভাবে তাদের হাতে থাকা রিভলভার, ডেগার, রাম দা, চাপাতি, হকিস্টিক, লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্রসস্ত্রসহ গণমাধ্যম কর্মীদের ওপর হামলা করে। উল্লেখ্য, সোমবার (২৪ ডিসেম্বর) ঢাকার নবাবগঞ্জে একটি হোটেলে অবস্থানরত যুগান্তর ও যমুনা টেলিভিশনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীর ওপর হামলা চালায় ছাত্রলীগ-যুবলীগের কর্মীরা। এতে কমপক্ষে ১০ সাংবাদিক আহত হয়েছেন। সোমবার রাত ১১টার দিকে নবাবগঞ্জে থানা রোডে শামীম গেস্ট হাউসে এ হামলার ঘটনা ঘটে। ভাঙচুর করা হয় ১৮টি গাড়ি ও হোটেলের বিভিন্ন কক্ষ। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সংবাদ সংগ্রহের জন্য ওই হোটেলে অবস্থান করছিলেন সাংবাদিকরা। সশস্ত্র হামলাকারীরা প্রায় ঘণ্টাখানেক অবরুদ্ধ করে রাখে গণমাধ্যমকর্মীদের। এ সময় স্থানীয় থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এমনকি ন্যক্কারজনক এ ঘটনা পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়লেও তাৎক্ষণিকভাবে থানা বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কেউ খোঁজ নেননি। অথচ থানার কাছেই এ গেস্ট হাউস অবস্থিত। এর পর মঙ্গলবার (২৫ ডিসেম্বর) বিকালে শামীম গেস্ট হাউসে অবস্থানরত সাংবাদিকদের বের করে দেয়ার জন্য হঠাৎ পুলিশের একটি দল এসে হোটেল মালিককে হুমকি দেয়। হোটেল মালিক জানান, হঠাৎ করে পুলিশ এসে জানায় হোটেলে অবস্থানরত যেসব সাংবাদিক আছে, তাদের ২০ মিনিটের মধ্যে হোটেল ছেড়ে যেতে হবে। অন্যথায় পুলিশ ব্যবস্থা নেবে। এর পর আমি সাংবাদিকদের এ বিষয়টি অবহিত করি। ওই হোটেলে অবস্থানরত যুগান্তরের বিশেষ প্রতিনিধি মুজিব মাসুদ (মামলার বাদী) জানান, আমরা কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই আমাদের হোটেল থেকে ফোন দেয়। তারা জানায়, আপনারা যেখানেই থাকেন তাড়াতাড়ি আসেন, ২০ মিনিটের মধ্যে হোটেল ত্যাগ করতে হবে। এ ঘটনায় স্থানীয়রা জানান, হোটেল থেকে সাংবাদিকদের বের করে দিতে থানার নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. তোফাজ্জল হোসেন ও নবাবগঞ্জ থানার ওসি চাপ প্রয়োগ করে হোটেল কর্তৃপক্ষকে। সাংবাদিকদের বের না করলে পরিণাম খারাপ হবে বলে হুমকি দেয় পুলিশ। একপর্যায়ে বাধ্য হয়েই হোটেল কর্তৃপক্ষ সাংবাদিকদের বের করে দেয়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট কারচুপি নিশ্চিত করতেই সাংবাদিকদের বের করে দেয়া হয়েছে। তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। যুগান্তর রিপোর্ট ।
নির্বাচন নিয়ে বার্তা দিলেন মাহবুব তালুকদার
অনলাইন ডেস্ক :একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নিজের বিবেচনায় রাজনৈতিক দল, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী, নির্বাচনী কর্মকর্তা ও ভোটারদের উদ্দেশ্যে ৪টি বার্তা দিলেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার। বুধবার দুপুরে আগারগাঁওস্থ নির্বাচন ভবনে নিজের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সামনে লিখিত বার্তা পাঠ করেন তিনি। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমি কোনও প্রশ্ন নেব না, কারও প্রশ্নের উত্তরও দেবো না। ‘আমার বার্তা’ শিরোনামে দেয়া লিখিত বার্তায় মাহবুব তালুকদার বলেন, জাতীয় নির্বাচনে ক্রমবর্ধমান সহিংসতা ও সন্ত্রাসের ঘটনায় আমি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। নির্বাচন ও সন্ত্রাস একসঙ্গে চলতে পারে না। স্বাধীনতার ৪৭ বছর পর একটি সহিংসতামুক্ত পরিবেশে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন না করতে পারলে এই স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের জন্য ৩০ লাখ শহীদের আত্মত্যাগ বৃথা যাবে। আমরা তা হতে দিতে পারি না। এক. নির্বাচন কেবল অংশগ্রহণমূলক হলে হয় না, নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও আইনানুগ হতে হয়। এছাড়া, নির্বাচন গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য না হলে বিশ্বসভায় আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে আমরা মাথা তুলে দাঁড়াতে পারব না। প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন করে আমরা কলঙ্কিত হতে চাই না। নির্বাচনে যিনি বা যারাই জয়লাভ করুন, দেশের মানুষ যেন পরাজিত না হয়। দুই. আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বলছি: অতি উৎসাহী হয়ে কোন অনভিপ্রেত আচরণ করবেন না। আপনারা নির্বাচনের সবচেয়ে বড় সহায়ক শক্তি। প্রত্যেকের প্রতি সমআচরণ ও নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন আপনাদের কর্তব্য। নির্বাচনে পক্ষপাতমূলক আচরণ থেকে বিরত থাকুন। নিজেদের পোশাকের মর্যাদা ও পবিত্রতা রক্ষা করুন। তিন. রিটার্নিং অফিসারসহ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মকর্তাদের বলছি: জাতির ক্রান্তিকালে আপনারা এক ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করছেন। বিবেক সমুন্নত রেখে অনুরাগ বা বিরাগের বশবর্তী না হয়ে সাহসিকতার সঙ্গে আইন অনুযায়ী নিজেদের দায়িত্ব পালন করুন। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও সংরক্ষণে আপনাদের অবদান জাতি কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করবে। কোনও কলুষিত নির্বাচনের দায় জাতি বহন করতে পারে না। চার. ভোটারদের বলতে চাই: নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে আসুন। আপনার ইচ্ছানুযায়ী প্রার্থীকে ভোট দিন। ভয়ভীতি বা প্রলোভনের কাছে নতি স্বীকার করবেন না। আপনার একটি ভোট গণতন্ত্রের রক্ষাকবচ। মনে রাখবেন, এবারের নির্বাচন আমাদের আত্মসম্মান সমুন্নত রাখার নির্বাচন। এবারের নির্বাচন আগামী প্রজন্ম ও আপনার সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যত নির্মাণের নির্বাচন। আরটিভি অনলাইন
বিরামহীন প্রচার মাশরাফির
অনলাইন ডেস্ক: শেষ মুহূর্তে রাত-দিন প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন নড়াইল-২ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী বাংলাদেশ ক্রিকেটের ওয়ানডে দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০টি এলাকায় গণসংযোগ ও পথসভা করছেন তিনি। সর্বশেষ নির্বাচনী প্রচার শেষে গতকাল মঙ্গলবার রাত ৮টায় জেলা পরিষদ মিলনায়তনে মাশরাফি বিন মুর্তজা নড়াইলের সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেন। এ সময় সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত হওয়ার অঙ্গীকার করেন এই ক্রিকেট তারকা। তিনি আরো বলেন, জনগণ যে সিদ্ধান্ত নেবে, আমি সে সিদ্ধান্ত মাথা পেতে নেব। যেনতেনভাবে এমপি নির্বাচিত হতে চাই না। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর প্রতি আমার সম্মান ও শ্রদ্ধা রয়েছে। আমি প্রতিহিংসার রাজনীতি পছন্দ করি না। অতি উৎসাহী কোনো নেতাকর্মী যেন বিরোধী প্রার্থীর প্রতি কোনো প্রকার অসদাচরণ না করেন, সেদিকে খেয়াল রাখবেন বলেও জানান মাশরাফি। বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচ শেষে গত ২২ ডিসেম্বর ঢাকা থেকে নিজ নির্বাচনী এলাকায় আসেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। এর পরই সকাল থেকে রাত অবধি প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন মাশরাফি। দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে পথসভা ও গণসংযোগ করে যাচ্ছেন। নির্বাচনী প্রচারে সুন্দর ও সমৃদ্ধিশালী নড়াইল গড়ে তোলার কথা বলছেন মাশরাফি। তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে নৌকা প্রতীক দিয়ে আপনাদের এখানে পাঠিয়েছেন। যদি নৌকা মার্কায় ভোট দেন, তাহলে আমি বিজয়ী হবো। এমপি নির্বাচিত হলে নড়াইলের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে থাকব। আপনারা আমার পাশে থাকলে জেলার বিভিন্ন সমস্যা সমাধান করতে পারব। নড়াইল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে মাশরাফির সঙ্গে ছিলেন প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট আলমগীর সিদ্দিকী, সাধারণ সম্পাদক মীর্জা নজরুল ইসলাম, এনামুল কবির টুকু, কার্ত্তিক দাস, শামীমূল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম, মলয় নন্দী, হাফিজুল করিম নিলু, মনীর চেধুরী, মুন্সি আদাদুর রহমান প্রমুখ।

জাতীয় পাতার আরো খবর