উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে প্রতিবন্ধীদের অন্তর্ভুক্তির আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহবান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।তিনি বলেন, বাংলাদেশ এটা করেছে এবং আমরা আশা করি অন্যান্য দেশও আমাদের অনুসরণ করবে। তার সরকারের বিভিন্ন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী একথা বলেন।মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে প্রতিবন্ধিতা ও দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা শীর্ষক দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এসময় তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন যে কোনো ধরনের দুর্যোগ মোকাবেলার সক্ষমতা অর্জন করেছে এবং এজন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বিশ্বে বাংলাদেশ এখন রোল মডেল হিসেবে পরিচিত। শেখ হাসিনা বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় প্রতিবন্ধীদের অন্তর্ভুক্তকরণে এ সম্মেলন ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, বৈশ্বিক, আঞ্চলিক, জাতীয় এবং স্থানীয় পর্যায়ে এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। পারস্পরিক অর্জন ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক, আঞ্চলিক পরিকল্পনা এবং ‘ঢাকা ঘোষণা ২০১৫’-এর কর্মপন্থা অন্তর্ভুক্ত করে ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে এ সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীর বিক্রম অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব শাহ কামাল স্বাগতিক বক্তৃতা করেন। রয়্যাল থাই সংসদের সদস্য এবং ইউএনর ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অন রাইটস অব দ্যা পারসন্স উইথ ডিজ্যাবিলিটিজর সদস্য মনথিয়ান বুন্তান সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন। ইন্টারন্যাশনাল ফোকাল পয়েন্ট, অ্যাডভাইজরী গ্রুপ অন ডিআইডিআরএম, বাংলাদেশ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা’র (ডব্লিইএইচও) অটিজম বিষয়ক অ্যাম্বাসেডর সায়মা ওয়াজেদ হোসেন, প্রায় ৩৩টি দেশের ১০০ জনের বেশি সদস্য, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ এবং উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাবৃন্দ সম্মেলনে যোগ দেন। শেখ হাসিনা বলেন, প্রতিবছর বাংলাদেশ নানা ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করছে এবং এতে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি এবং সম্পদ ও মানুষের জীবনযাত্রা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কিন্তু এখন বাংলাদেশ যে কোনো ধরনের দুর্যোগ মোকাবেলার সক্ষমতা অর্জন করেছে। তিনি বলেন, জাতির পিতা ১৯৭২ সালে সাইক্লোন প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি) প্রস্তুত করেছিলেন। যা ছিল বিশ্বব্যাপী জনসম্পৃক্ত দুর্যোগ প্রস্তুতি কর্মসূচিগুলোর মধ্যে প্রথম উদ্যোগ। ‘আমরা অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায়ও এখন সিপিপি মডেল অনুসরণ ও সম্প্রসারণ করছি। দুর্যোগ-পরবর্তী ত্রাণ কার্যক্রমের পরিবর্তে আমরা টেকসই দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নীতি গ্রহণ করেছি। যা আমাদের সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্যারিস চুক্তি-২০১৫ এর মত আন্তর্জাতিক নীতি কাঠামোর সঙ্গে খাপ খাওয়াতে সহায়তা করেছে,’ বলেন তিনি। ২০৩০ সালের মধ্যে তার সরকার টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে বদ্ধপরিকর উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সে লক্ষ্যে আমরা নারী-পুরুষ নির্বিশেষে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিসহ দেশের সব মানুষকে উন্নয়ন কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায়ও বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। তিনি বলেন, সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় ঝুঁকি অবহিতকরণ উন্নয়ন কর্মসূচি অন্তর্ভুক্তকরণ এবং দুর্যোগ ঝুঁকি মোকাবেলায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে সমন্বিত কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বড় ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি অপারেশনাল সেন্টার স্থাপন এবং দুর্যোগ ঝুঁকিহ্রাসে গত সাড়ে ৯ বছরে সারাদেশে ৪ হাজার ৮৮টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র, ২৫৫টি বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া ২২০টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র এবং ৪২৩টি বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র ও ৬৬টি ত্রাণ গুদাম নির্মাণের কাজ চলছে। আপদকালীন খাদ্য মজুদে সরকারের পারিবারিক সাইলো বিতরণের কর্মসূচির উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগকালে খাদ্যাভাব মেটাতে দুর্যোগপ্রবণ ১৯টি জেলার ৬৩টি উপজেলার ৫ লাখ পরিবারের মধ্যে ৫৬ কেজি চাউল বা ৪০ কেজি ধান ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি করে ফুডগ্রেড প্লাস্টিকের তৈরি পারিবারিক সাইলো বিতরণ করা হচ্ছে। শেখ হাসিনা বলেন, দুর্যোগের আগাম সতর্কবার্তা ও দৈনন্দিন আবহাওয়া বার্তা জানতে মোবাইলে ১০৯০ নম্বরে টোল ফি আইভিআর পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। প্রতিবন্ধীদের অধিকার সুরক্ষার জন্য সরকার ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন, ২০১৩’ এবং ‘নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্ট আইন, ২০১৩’ প্রণয়ন করেছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং সাড়াদান কৌশলে প্রতিবন্ধিতা বিষয়কে অন্তর্ভুক্তির জন্য দুর্যোগ বিষয়ক বৈশ্বিক প্লাটফর্মে প্রচার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এই সম্মেলন হতে প্রাপ্ত অর্জন ও অভিজ্ঞতা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জীবন ও জীবিকা উন্নয়নে এবং দুর্যোগ সহনশীলতা শক্তিশালী করতে সদস্য রাষ্ট্রসমূহের সুনির্দিষ্ট কর্মপন্থা গ্রহণে সহায়তা করবে। ইন্টারন্যাশনাল ফোকাল পয়েন্ট, অ্যাডভাইজরি গ্রুপ অন ডিআইডিআরএম, বাংলাদেশ এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিই এইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অটিজম বিষয়ক গুডউইল অ্যাম্বাসেডর সায়মা ওয়াজেদ হোসেনকে প্রতিবন্ধিতা অন্তর্ভুক্তিমূলক দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিষয়টিকে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে গুরুত্বপূর্ণভাবে তুলে ধরার জন্য ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। এ সম্মেলন সব দেশের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জীবনমান উন্নয়নে ইতিবাচক অবদান রাখবে বলেও প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী প্রতিবন্ধীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন এবং এরপর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত ও প্রতিবন্ধীদের জন্য সহায়ক বিভিন্ন সামগ্রী প্রদর্শনীর তিনদিনের এক মেলার উদ্বোধন করে এর বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন।
আমরা খুলনার ব্যাপারে আশাবাদী
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, নারায়ণগঞ্জে যেমন ইলেকশন হয়েছে তেমনই হচ্ছে খুলনায়। আপনারা সাংবাদিকদের থেকে খোঁজ নিয়ে দেখেন সেখানে তেমন কোন অভিযোগ নেই, সাংবাদিকরাতো আর সবাই আওয়ামী লীগ করেনা তারাই তো দেখছে নির্বাচনের অবস্থা। বিএনপির মঞ্জুই শুধু অভিযোগ করছে এবং ঢাকায় বসে তারা সংবাদ সম্মেলন করছে। মঙ্গলবার দুপুর ১টায় কাঁচপুর সেতু এলাকায় মহাসড়কের যানজট পরিদর্শন করতে এসে এসব কথা বলেন তিনি। তিনি আরও বলেন, জনগণ খুলনায় গোপন ব্যালটে ভোট দিচ্ছে, আমরা খুলনার ব্যাপারে আশাবাদী। জনগণ সেখানে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিচ্ছে, সেখানে অভিযোগ দেয়ার মত কিছু এখনো পাইনি। সকালে ভোটের উপস্থিতি কিছুটা ধীরে থাকলেও এখন পুরোদমে চলছে। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা চেয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সংবাদ সম্মেলনের ব্যাপারে তিনি বলেন, বেগম জিয়ার ব্যাপারে আমি আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে কথা বলেছি, তাকে জিজ্ঞাসা করেছি যে বিএনপি যেভাবে বলছে তার অবস্থা কি সেরকম কিনা। তিনি আমাকে বলেছেন তার বয়স হয়েছে তিনি যে পুরোপুরি সুস্থ তা বলা যাবেনা তবে কারাবিধি মত তার চিকিৎসা নেয়া হচ্ছে। তারপরও খতিয়ে দেখা হচ্ছে তার চিকিৎসায় যা ব্যবস্থা নেয়া দরকার তা নেয়া হচ্ছে। মন্ত্রী বলেন, এখানে ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৪ লেন করার পরও মাঝে মাঝে ব্যাপক যানজট সৃষ্টি হচ্ছে এটা অস্বীকার করার কোন কারণ নেই, তবে আমরা বসে নেই। এখানে রাস্তার কোন সমস্যা নেই, রাস্তার ৪ লেন হয়ে গেছে, ফেনীর ফ্লাইওভারের কাজও শেষ। কদুয়ায় কুমিল্লায় যে সমস্যা হতো সে রেলওভারপাসটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করেছেন। গত কয়দিন যে সমস্যাটি হচ্ছে এটি মূলত ফেনীর ফতেহপুরে রেলওয়ের পাসের জন্য। এসময় মন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন হাইওয়ের পুলিশের ডিআইজি আতিকউল্লাহ, নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আলীউল হোসেন, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোঃ শাহরিয়ার আলম ও আব্দুস সাত্তার এবং উপ-সহকারি প্রকৌশলী মতিয়ার রহমানসহ পুলিশ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
বাংলাদেশ বার কাউন্সিল নির্বাচনে আ.লীগের জয়
আইনজীবীদের সনদ প্রদান ও পেশাগত বিষয়ের সর্বোচ্চ সংস্থা বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে কর্তৃত্ব ধরে রেখেছেন সরকার সমর্থক আওয়ামী লীগপন্থী আইনজীবীরা। ভোট গ্রহণের পর আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ বার কাউন্সিল সূত্রে বেসরকারি ফলে এ তথ্য জানা যায়। তবে আনুষ্ঠানিক ফল বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অ্যাটর্নি জেনারেল ঘোষণা করবেন। আইনজীবীদের নিয়ন্ত্রণ ও তদারককারী সংস্থা বাংলাদেশ বার কাউন্সিল নির্বাচনে ১৪টি পদের মধ্যে ১২টিতেই জয় পেয়েছেন আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবীরা। দুটি পদে জয় পেয়েছেন বিএনপি সমর্থক আইনজীবীরা। বার কাউন্সিল নির্বাচনে ১৪ সদস্যের মধ্যে সাধারণ আসনে সাতজন এবং দেশের সাতটি অঞ্চলের স্থানীয় আইনজীবী সমিতির সদস্যদের মধ্য থেকে একজন করে আরো সাতজন নির্বাচিত হয়ে থাকেন। অ্যাটর্নি জেনারেল পদাধিকারবলে বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান। সারা দেশের ৭৮টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ শেষে রাতেই আলাদা করে কেন্দ্রগুলোতে ফল ঘোষণা করা হয়। সে অনুযায়ী প্রাপ্ত ফল থেকে জানা যায়, নির্বাচিত ১৪টি পদের মধ্যে ১২টিতেই সরকারপন্থীরা জয়লাভ করেছে। এর মধ্যে সাধারণ ক্যাটাগরিতে সাতটি পদের মধ্যে আওয়ামীপন্থী প্যানেল থেকে ছয়জন নির্বাচিত হয়েছেন। এই প্যানেল থেকে সাধারণ ক্যাটাগরিতে নির্বাচিতরা হলেন—বার কাউন্সিলের বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আবদুল বাসেত মজুমদার, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুয়ায়ুন, বিশিষ্ট মানবাধিকারকর্মী অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম (জেড আই) খান পান্না, আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শ. ম. রেজাউল করিম, অ্যাডভোকেট সৈয়দ রেজাউর রহমান ও অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মোখলেছুর রহমান বাদল। সাধারণ ক্যাটাগরিতে বিএনপিপন্থী প্যানেল থেকে শুধু সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ জে মোহাম্মদ আলী নির্বাচিত হয়েছেন। গ্রুপভিত্তিক ৭টি পদের মধ্যে আওয়ামীপন্থীরা ছয়টি পদে জয়লাভ করেন। তাঁরা হলেন—সাবেক বৃহত্তর ঢাকা জেলা (গ্রুপ-এ) অ্যাডভোকেট কাজী নজিবুল্লাহ হিরু, বৃহত্তর ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর জেলার আইনজীবী সমিতিতে (গ্রুপ-বি) মো. কবির উদ্দিন ভূঁইয়া, বৃহত্তর কুমিল্লা জেলা ও সিলেট জেলা অঞ্চলের আইনজীবী সমিতিতে (গ্রুপ-ডি) এ এফ মো. রুহুল আনাম চৌধুরী, বৃহত্তর খুলনা, বরিশাল ও পটুয়াখালী অঞ্চলের আইনজীবী সমিতিতে (গ্রুপ-ই) পারভেজ আলম খান, বৃহত্তর রাজশাহী, যশোর ও কুষ্টিয়া অঞ্চলের আইনজীবী সমিতিতে (গ্রুপ-এফ) মো. ইয়াহিয়া এবং বৃহত্তর দিনাজপুর, রংপুর, বগুড়া ও পাবনা জেলার আইনজীবী সমিতিতে (গ্রুপ-জি) রেজাউল করিম মন্টু জয়ী হয়েছেন। গ্রুপভিত্তিক পদে শুধু বৃহত্তর চট্টগ্রাম ও নোয়াখালী জেলার আইনজীবী সমিতিতে (গ্রুপ-সি) বিএনপি সমর্থিত প্যানেল থেকে অ্যাডভোকেট মো. দেলোয়ার হোসেন চৌধুরী নির্বাচিত হয়েছেন। বাংলাদেশ লিগ্যাল প্র্যাকটিশনার্স অ্যান্ড বার কাউন্সিল অর্ডার ১৯৭২ অনুসারে ১৫ সদস্যের কাউন্সিলে অ্যাটর্নি জেনারেল পদাধিকারবলে চেয়ারম্যান। এ ছাড়া ১৪ জন সদস্য নির্বাচিত হন। যার মধ্যে সাতজন সাধারণ ক্যাটাগরিতে ও সাতজন আঞ্চলিক ক্যাটাগরিতে নির্বাচিত হন। নির্বাচিত এই ১৪ সদস্য নিজেরা ভোটের মাধ্যমে একজন ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেন। নির্বাচিত কমিটির মেয়াদ হলো তিন বছর। এদিকে নির্বাচন-সংক্রান্ত আপত্তি শুনানির জন্য তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি ট্রাইব্যুনাল গঠন করে দেওয়া হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান হলেন বিচারপতি সৈয়দ আমিরুল ইসলাম। বাকি দুজন হলেন বিচারপতি ফরিদ আহমেদ ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. অজি উল্লাহ। সর্বশেষ ২০১৫ সালে অনুষ্ঠিত বার কাউন্সিল নির্বাচনে ১৪টি পদের মধ্যে ১০টিতে আওয়ামীপন্থী ও চারটিতে বিএনপিপন্থীরা জয়লাভ করে। সদস্যদের ভোটে পরে অ্যাডভোকেট আবদুল বাসেত মজুমদার ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
দুর্যোগ মোকাবেলায় বাংলাদেশ এখন প্রস্তুত: প্রধানমন্ত্রী
দুর্যোগ মোকাবেলার সক্ষমতা অর্জনে বাংলাদেশ বিশ্বে রোল মডেলে পরিণত হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যে কোনো দুর্যোগ মোকাবেলায় বাংলাদেশ এখন প্রস্তুত। সকালে, বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে প্রতিবন্ধি ও দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিষয়ক দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন তিনি। দুর্যোগকালীন সময়ে প্রতিবন্ধিদের বিশেষ সহায়তা করার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী। এসময় প্রতিবন্ধিরা যাতে সঙ্কটে না পড়ে সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বাবা হলেন রেলমন্ত্রী
যমজ পুত্রসন্তানের বাবা হয়েছেন রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক। সোমবার (১৪ মে) দিনগত রাত সাড়ে ১২ টায় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে যমজ সন্তান জন্ম দেন রেলমন্ত্রীর স্ত্রী হনুফা আক্তার রিক্তা। মা ও যমজ সন্তান এখন ভালো অাছেন। রেলমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব এনএএম জসিম উদ্দীন জানান, রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক যমজ পুত্রসন্তানের বাবা হয়েছেন। মা ও সন্তান দুটি সুস্থ আছেন। এখন সবাই স্কয়ার হাসপাতালে অাছেন। ২০১৪ সালের ৩১ অক্টোবর কুমিল্লার চান্দিনার বাসিন্দা হনুফা আক্তার রিক্তার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন রেলমন্ত্রী। এর আগে ২০১৬ সালের ২৮ মে রেলমন্ত্রী কন্যা সন্তানের বাবা হন।
কেসিসি নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন খালেক-মঞ্জু
খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক (নৌকা) ভোট দিয়েছেন। মঙ্গলবার (১৫ মে) সকাল ৮টা ১০ মিনিটে কেসিসির ১৮৩ নম্বর ভোট কেন্দ্র মহানগরীর পাইনিয়ার মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে তিনি ভোট দেন। ভোট শেষে তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন, নির্বাচন নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই। খুলনার উন্নয়নে মানুষ নৌকায় ভোট দেবে। বিজয়ের বিষয়ে আশাবাদী খালেক। নির্বাচনের পরিবেশ সুন্দর রাখার জন্য সবার সহযোগিতা কামনা করেন। মিডিয়ার জন্য সাধারণ মানুষ ভোট কেন্দ্রে ঢুকতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেন খালেক। কেসিসি নির্বাচনে মেয়র পদে আ’লীগের তালুকদার আব্দুল খালেকসহ পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন- বিএনপি মনোনীত নজরুল ইসলাম মঞ্জু (ধানের শীষ), জাতীয় পার্টি মনোনীত শফিকুর রহমান মুশফিক (লাঙল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত মাওলানা মুজ্জাম্মিল হক (হাত পাখা) ও সিপিবি মনোনীত মো. মিজানুর রহমান বাবু (কাস্তে)। খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত নজরুল ইসলাম মঞ্জু (ধানের শীষ) ভোট দিয়েছেন। কেসিসির ২৪৩নম্বর ভোট কেন্দ্র মহানগরীর মিয়াপাড়া মেইন রোডের রহিমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে মঙ্গলবার (১৫ মে) সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে তিনি ভোট দেন। ভোট শেষে নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, খুলনাবাসী এ দিনের অপেক্ষায় ছিলেন। আশা করি সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বিজয়ী হবো। নির্বাচনে ২২, ৩০, ২১, ২৮,১৫, ১৩, ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের ভোট কেন্দ্রে আমার পুলিং এজেন্টদের ঢুকতে দিচ্ছে না সরকার দলীয় প্রার্থীর লোকজন। বিভিন্ন জায়গায় ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আসার পথে ভয় দেখোনো হচ্ছে। এসব বিষয়ে আমি রিটানিং অফিসারকে ফোন দিলে তিনি রিসিভ করছেন না। আমি নির্বাচনের শেষ পর্যন্ত দেখাবে। ভোটের ফলাফল মেনে নিবেন কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে মঞ্জু বলেন, ভোট ডাকাতি হলে তো মেনে নেব না। এর আগে মঞ্জু মহানগরীর টুটপাড়া কবরস্থানে বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করেন। কেসিসি নির্বাচনে মেয়র পদে বিএনপির নজরুল ইসলাম মঞ্জুসহ পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগ মনোনীত তালুকদার আব্দুল খালেক (নৌকা), জাতীয় পার্টি মনোনীত শফিকুর রহমান মুশফিক (লাঙল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত মাওলানা মুজ্জাম্মিল হক (হাত পাখা) ও সিপিবি মনোনীত মো. মিজানুর রহমান বাবু (কাস্তে)। অনেক বাধা পেরিয়ে অবশেষে খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনে ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে এ ভোট গ্রহণ শুরু হয়। সকাল ৮টার আগেই ব্যালট পেপারসহ অন্যান্য নির্বাচনী সরঞ্জাম নিয়ে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তারা ভোটকেন্দ্রে পৌঁছান। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোট গ্রহণ চলবে। নির্বাচন উপলক্ষে আজ খুলনা সিটি করপোরেশন এলাকায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের যুগ্ম সচিব এস এম আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, মঙ্গলবার বগুড়া জেলার তালোড়া পৌরসভার সাধারণ নির্বাচন এবং দুটি পৌরসভার উপনির্বাচন হবে। সাতটি ইউনিয়ন পরিষদে সাধারণ ও ৪৬টি ইউনিয়ন পরিষদে উপনির্বাচনও মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হবে। সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুল পরিমাণ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। প্রতিটি সাধারণ কেন্দ্রে ২২ জন এবং গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ২৪ জন করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। নির্বাচনী এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য প্রতি ওয়ার্ডে পুলিশের মোবাইল ফোর্স এবং প্রতি তিন ওয়ার্ডের জন্য একটি স্ট্রাইকিং ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে র‌্যাবের একটি করে মোবাইল টিম টহল দিচ্ছে। নির্বাচনী এলাকায় ১৬ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের ২০ জন পর্যবেক্ষক ও নয় জন পর্যবেক্ষণ সহায়ক নিয়োগ করা হয়েছে। তাছাড়া ৬০ জন এক্সিকিউটিভ এবং ১০ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনে কন্ট্রোল রুম খোলা হচ্ছে, যেখান থেকে সার্বক্ষণিক নির্বাচনী এলাকায় যোগাযোগ এবং নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। খুলনা সিটি করপোরেশনে ৩১টি সাধারণ ওয়ার্ড, ১০টি সংরক্ষিত ওয়ার্ড। ভোটকেন্দ্র ২৮৯টি। মোট ভোটকক্ষ ১ হাজার ৫৬১টি। ভোটার ৪ লাখ ৯৩ হাজার ৯৩ জন। মেয়র পদে প্রার্থী পাঁচজন, সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৩৮ জন এবং সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১৪৮ জনসহ মোট ১৯১ জন প্রার্থী খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
রোজার মাসে দেশি গরুর মাংশের দাম ৪৫০ টাকা
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) রোজার মাসে দেশি গরুর মাংশের দাম ৪৫০ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে। আজ সোমবার মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকনের সভাপতিত্বে দক্ষিণ সিটির মাংস ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এই দর নির্ধারণ করা হয়। এই দাম গত বছর রোজায় বেঁধে দেওয়া দামের চেয়ে ২৫ টাকা কম। গত বছর প্রতি কেজি গরুর মাংসের জন্য ৪৭৫ টাকা দাম ঠিক করে দেয়া হয়েছিল। মেয়র সাঈদ খোকন আরও জানান, এবার ভারতীয় গরুর মাংস প্রতি কেজি ৪২০ টাকা, মহিষের মাংস ৪২০ টাকা, খাসির মাংস ৭২০ টাকা এবং ভেড়া ও ছাগলের মাংস ৬০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই দাম সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন বাজারগুলো ছাড়াও সুপারশপগুলোর জন্য প্রযোজ্য হবে। উত্তর সিটি কর্পোরেশন এই দর মেনে চলবে কি না- এমন প্রশ্নে মেয়র বলেন,সাধারণত আমরা যে দর নির্ধারণ করি তারাও সেটাই করে। গত বছরও দুই সিটি কর্পোরেশনের মাংসের দাম একই ছিল। এই দাম না মানলে মাংস বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ার উচ্চারণ করেন মেয়র খোকন। তিনি বলেন,এবার মাংসের দাম গতবারের চেয়ে একটু কম। আজকে এই নির্ধারিত দরই সর্বোচ্চ দর হিসেবে বিবেচিত হবে। কিন্তু বিভিন্ন সময় অভিযোগ আসে যে নির্ধারিত দামের চেয়ে অতিরিক্ত দামে মাংস বিক্রি করেন অনেকে। সিটি কর্পোরেশনের মূল্য তালিকা মানেন না। এবার কেউ বেশি রাখলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গত বছর প্রতি কেজি দেশি গরুর মাংসের দাম ঠিক হয়েছিল ৪৭৫ টাকা। এ ছাড়া ভারতীয় গরুর মাংস প্রতি কেজি ৪৪০ টাকা, মহিষের মাংস ৪৪০ টাকা, খাসির মাংস ৭২৫ টাকা এবং ভেড়া ও ছাগলের মাংস ৬২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। উল্লেখ্য, রমজান উপলক্ষে বেঁধে দেয়া এ দর ১ থেকে ২৬ রমজান পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। প্রতি বছর রোজায় খাদ্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠলেও এবার বাজার সহনীয় থাকবে বলে আশা করছেন মেয়র। তিনি বলেন,আমরা বলতে পারি- পণ্যমূল্য ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রয়েছে। অধিকাংশ পণের দাম স্থিতিশীল আছে। আশা করি এমনটা পুরো রোজা জুড়ে থাকবে। ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে মেয়র বলেন,একটি মাস আমরা মুনাফা কম করলাম। এটা করলে হয়ত আল্লাহ আরও উন্নতি দিতে পারে আমাদের ব্যবসায়। একটি মাস মাংসের মূল্য এবং গুণগত মান নিশ্চিত করি। ওজন যেন ঠিক দিই। সাধারণ ক্রেতা যেন না ঠকে। এ ব্যাপারে আমাদের ধর্মেও কঠোর অনুশাসন আছে। এ তিনটি জিনিস আমরা নিশ্চিত করি। ঢাকা মহানগর মাংস ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি রবিউল আলম সভায় দাবি করেন, ব্যবসায়ীরা ওজনে মাংস কখনও কম দেন না। সিটি কর্পোরেশন যে মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছে তা মেনে চলারও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। রমজানে রাজধানীর মাংসের বাজার স্থিতিশীল থাকবে। আমরা যে কোনো মূল্যে এটা মেনে চলার ব্যবস্থা করব। তবে কোনো আধুনিক জবাইখানা নাই বলে মাংসের মান নির্ধারণ করা যাচ্ছে না। বাযবসায়ী নেতা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) আওতায় গাবতলী পশুরহাটে মাংস ব্যবসায়ীরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন অভিযোগ করে তিনি বলেন, এর পেছনে ডিএনসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা জড়িত। একটি গরুর হাটের জন্য আমরা বেইজ্জতি হচ্ছি। ইজারাদারের সন্ত্রাসীরা মাংস ব্যবসায়ীদের বেঁধে রাখে। রাতের আঁধারে তাদের কাছে টাকা আদায় করে। আর ডিএনসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা লুটের টাকার অংশ নিচ্ছে, কোটি কোটি টাকার মালিক হচ্ছে। দক্ষিণের মেয়রের উদ্দেশে রবিউল আলম বলেন,গাবতলীর সন্ত্রাসীদের হাত থেকে আমাদের রক্ষা করুন। আপনি উত্তরের মেয়রকে একটা ফোন করুন। আমাদের অন্য কোনো দাবি নাই। সরকার যে রেট নির্ধারণ করে দিয়েছে আমরা সেই রেটে টাকা জমা দিতে চাই। এটা করলে তিনশ টাকা কেজি মাংস বিক্রি করা সম্ভব। মাংস ব্যবসায়ীরা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় একটি স্থায়ী গরুর হাট করার দাবি জানালে মেয়র সাঈদ খোকন তা করে দেওয়ার আশ্বাস দেন। কামরাঙ্গীরচরে একটি পশুর হাট করে দেওয়া হবে। একটা প্রস্তাব দেওয়া আছে। এটা আমার কাছে গেলে আমি অনুমোদন দিয়ে দেব। রমজানে জবাইখানায় সিটি কর্পোরেশনের বিধি অনুযায়ী স্বাস্থ্যসম্মত এবং হালাল উপায়ে পশু জবাই নিশ্চিত করা এবং পচা-বাসি মাংস বিক্রি না করতে ব্যবসায়ীদের নির্দেশ দেন মেয়র। তিনি বলেন, ডিজিটাল মেশিনে ওজন করা, মাংসের বর্জ্য অপসারণসহ দোকানের আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখা এবং মাংসের মূল্য তালিকা প্রদর্শন করার নিয়মও মানতে হবে। সভায় ব্যবসায়ীরা গরুর মাংস ৫০০ টাকা, বিদেশি গরু এবং মহিষের মাংস ৪৮০ টাকা, খাসির মাংস ৭৫০ টাকা, ছাগী ও ভেড়ার মাংস ৬৮০ টাকা রাখার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এ সময় কয়েকজন সংবাদকর্মী মেয়রকে জানান, বর্তমান বাজারদর আরও কম। পরে সিটি কর্পোরেশন রোজার জন্য দর ঠিক করে দেয়। সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শেখ সালাহউদ্দীন। কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ বিলাল, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. জাহিদ হোসেন, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ইউসুফ আলী সরদার, গোলাম মর্তুজা মন্টু, শেখ আবদুল বারেকসহ মহানগর এলাকার মাংস ব্যবসায়ী সমিতির প্রতিনিধিরা এ সভায় অংশ নেন।
প্রধানমন্ত্রী ও জয়কে অভিনন্দন
মহাকাশে বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১-এর সফল উৎক্ষেপণে আজ মন্ত্রিসভা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর আইটিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়কে অভিনন্দন জানিয়েছেন। ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার ও আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক প্রধানমন্ত্রীকে ফুলের তোড়া উপহার দেন। সোমবার মন্ত্রিসভার নিয়মিত সাপ্তাহিক বৈঠকে এ অভিনন্দন জানানো হয় বলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. শফিউল আলম বৈঠক শেষে বাংলাদেশ সচিবালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফকালে একথা বলেন। সচিব বলেন, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১-এর সফল উৎক্ষেপণ এবং এর মাধ্যমে কক্ষপথে স্যাটেলাইটভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে ৫৭তম সদস্য হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সজীব ওয়াজেদ জয়কে অভিনন্দন জানিয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের উত্থাপিত প্রস্তাব গ্রহণ করে মন্ত্রিসভা।
কোটা নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি
সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের বিষয়ে খুব শিগগিরই প্রধানমন্ত্রীর মন্ত্রণালয় থেকে সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. শফিউল আলম । সোমবার বেলা ১১টায় সচিবালয়ের ৬ নম্বর ভবনে নতুনভাবে স্থাপিত মন্ত্রিপরিষদের সম্মেলন কক্ষে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে কোটা সম্পর্কে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে একথা জানান। বৈঠকে সচিব মো. শফিউল আলম বলেন,আজকে মন্ত্রিসভার বৈঠকে কোটা নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। আমি যতটুকু জানি, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি সারসংক্ষেপ পাঠিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে খুব শিগগিরই একটি সিদ্ধান্ত পাওয়া যাবে বলে আমি আশা করছি। তিনি আরও বলেন,হয়তো কয়েকদিনের মধ্যেই পেয়ে যাবো। অবিলম্বে এই প্রজ্ঞাপন জারি কার্যকর করা হবে।

জাতীয় পাতার আরো খবর