ডিসেম্বরে জাতীয় নির্বাচন,অক্টোবরে তফসিল
অক্টোবরে জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হবে জানিয়ে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, ডিসেম্বরের মাঝামাঝিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। শনিবার দুপুরে মানিকগঞ্জের ঘিওর কলেজ মাঠে জনপ্রতিনিধি ও জনতার সমাবেশে একথা বলেন তিনি। খন্দকার মোশাররফ বলেন, অক্টোবরে তফসিল ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন। তার মানে অক্টোবরের মাঝামাঝিতে তফসিল ঘোষণা হলে ডিসেম্বরের মাঝামাঝিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে- এটাই নিয়ম। এটাইতো সাংবিধানিকভাবে দেশের পলিসি, যে পলিসিতে পাঁচ বছর অন্তর অন্তর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপিকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন,ওনারা কইতাছে যে খালেদা জিয়াকে মুক্ত না করে তারা নির্বাচনে যাবে না। মুক্ত করার পথ কি? একজন সাজাপ্রাপ্ত, দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে মুক্তি করার পথ হইতেছে আইনি প্রক্রিয়া। তাছাড়া মুক্ত করার কোনো পথ নেই। আপনারা মুক্ত করতে চান আইনি ব্যবস্থায় যান। হাইকোর্টে যান, সুপ্রিম কোর্টে যান। তারা যদি মুক্ত করে তাহলে আমাদের কী ঠেকাডা (করার) আছে। আমরাতো চাই ওনাদের নেত্রী এসে নির্বাচন করুক। খেলার মাঠে আমরা দুর্বল টিম নিয়ে কেন খেলতে যাব যোগ করেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী। তিনি বলেন,খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার ক্ষমতা আওয়ামী লীগের নাই ,এ সরকারের নাই। যদি ওনারে মুক্ত করতে হয় আদালত ও আইন তারে মুক্ত করবে। আমরা চাই- ওনারা নির্বাচনে আসুক। নির্বাচনে খেলাডা জমুক। মানিকগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুকিযোদ্ধা গোলাম মহীউদ্দীনের সভাপতিত্ব এতে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এএম নাঈমুর রহমান দুর্জয়, জেলা প্রশাসক নাজমুছ সাদাত সেলিম, পুলিশ সুপার রিফাত রহমান শামীম, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুস সালাম, মানিকগঞ্জ পৌরসভার মেয়র গাজী কামরুল হুদা সেলিমসহ স্থানীয় নেতাকর্মী ও জনপ্রতিনিধিরা।
আমরা কেন পারব না সিঙ্গাপুর-ভারত পারলে ?
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে রোগীদের উন্নত চিকিৎসা দেয়ার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে রোগ নির্ণয়ের আধুনিক যন্ত্রপাতি পরিচালনার জন্য দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন। শনিবার সকালে রাজধানীর মুগদায় ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যাডভান্সড নার্সিং এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চের (এনআইএএনইআর) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এ নির্দেশ দেন। খবর: বাসস। প্রধানমন্ত্রী বলেন,একটা বিষয় আমরা দেখি রোগ নির্ণয়ের (ডায়াগনসিস) ব্যাপারে কেন যেন কোথায় একটা বিরাট ভুল হয়ে যায়। যদিও যন্ত্রপাতি এখন অনেক উন্নত। তবে, সেগুলো পরিচালনার জন্য দক্ষ লোকের অভাব রয়েছে। তিনি বলেন,অনেক মডার্ন মেশিন এখন, সেগুলো চালানোর মত বা সেগুলো রিডিং করার মত বা সেগুলোকে দেখার মত সেই ধরনের স্কিলড মানুষ তৈরি করা প্রয়োজন। আশ্বস্ত করে শেখ হাসিনা বলেন,এই দক্ষ জনবল গড়তে কি করতে হবে, আমার মনে হয় আপনারা সেভাবেই ব্যবস্থা নেবেন। আপনারা উদ্যোগ নিয়ে কি করতে হবে বলেন, আমরা করে দেব। কোনো অসুবিধা নাই। তিনি বলেন,এই বিষয়টার সুরাহা হওয়া দরকার। না হলে আমাদের একজন কেউ রোগী হলেই দৌঁড়াতে হবে সিঙ্গাপুর, ব্যাংকক, ভারত বিভিন্ন জায়গায়। কিন্তু, কেন? তারা ভালভাবে যদি পারে, আমরা কেন পারব না, এই প্রশ্নটিই বারবার আমার মনে হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন,আমাদেরও পারতে হবে। সমমানের সমমর্যাদার চিকিৎসাসেবা আমরাও দিতে পারব। সেই অভিজ্ঞতা, সেই শক্তিটা আমাদের অর্জন করতে হবে। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক, কোইকা সহ-সভাপতি কিয়াংগুন সুল, কোইকার সাউথ এশিয়া অ্যান্ড প্যাসিফিক অ্যাফেয়ার্স ব্যুরোর মহাপরিচালক ইয়ো ইয়ং কিং বক্তৃতা করেন। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. সিরাজুল হক খান স্বাগত বক্তব্য দেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে খালেদার শারীরিক প্রতিবেদন
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল জানিয়েছেন, দণ্ডিত বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা সংক্রান্ত চিকিৎসক দলের একটি প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে পৌঁছেছে। এটি দেখে কারাবিধি মেনে তার চিকিৎসা দেয়া হবে। শনিবার ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে প্রকৌশলীদের প্রতিনিধি সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে তিনি একথা জানান। খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন ঘিরে নেতাকর্মীদের গণগ্রেফতার করা হচ্ছে- বিএনপির এমন অভিযোগের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, খুলনায় কোনো গণগ্রেফতার হচ্ছে না। কাউকে হয়রানিও করা হচ্ছে না। ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। অনুষ্ঠানে মন্ত্রীর কাছে প্রকৌশলীদের নানা সমস্যা ও দাবি-দাওয়া তুলে ধরা হয়। তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন,আপনাদের যৌক্তিক দাবিগুলো দেশের উন্নয়নের স্বার্থে সরকার সব সময়ই মেনে নেবে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আইডিইবির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি একেএমএ হামিদ।
স্যাটেলাইট পাঠানোর মধ্য দিয়ে নতুন যুগে বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী
মহাকাশে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট পাঠানোর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ নতুন যুগে প্রবেশ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নানা জল্পনা-কল্পনা শেষে শুক্রবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার লঞ্চ প্যাড থেকে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করা হয়। মার্কিন স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ ও মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্পেস এক্সর ফ্যালকন-৯ ব্লক-৫ রকেট স্যাটেলাইটটি নিয়ে মহাকাশের পথে পাড়ি জমায়। বাংলাদেশ সময় রাত ২টা ১৪ মিনিটে রকেট উৎক্ষেপণের আধা-ঘণ্টা পর বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট কাঙ্ক্ষিত জিওস্টেশনারি ট্রান্সফার অরবিটে পৌঁছায়। স্পেস এক্সর স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের লাইভ টেলিকাস্টে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ধারণকৃত একটি ভিডিও সম্প্রচারিত হয়। এতে যে, যেখান থেকে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ কার্যক্রম দেখছেন, তাদের সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন,বাংলাদেশের অব্যাহত অগ্রযাত্রার ধারাবাহিকতায় যোগ হচ্ছে আরেকটি মাইলফলক। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের মাধ্যমে মহাকাশে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করছি। স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের দিনকে বাংলাদেশ ও বাঙালি জাতির জন্য অত্যন্ত গৌরবের অভিহিত করে শেখ হাসিনা বলেন,আজ আমরাও স্যাটেলাইট ক্লাবের গর্বিত সদস্য হলাম। প্রবেশ করলাম এক নতুন যুগে। বাংলাদেশের জাতির জনকের নামাঙ্কিত এই স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সম্প্রচার, টেলিযোগাযোগ ও ডেটা কমিউনিকেশন সেবা পাওয়া যাবে। প্রধানমন্ত্রী জানান, এই স্যাটেলাইটের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, তাজিকস্তান, কাজাকস্তান ও উজবেকিস্তানের অংশ বিশেষে সেবা প্রদান করা সম্ভব হবে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধিতে গুরুত্ব দিতেন। তাঁর স্বপ্ন ছিল বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে মর্যাদাশীল দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। তিনি অনুধাবন করতে পেরেছিলেন, বহির্বিশ্বের সঙ্গে অব্যাহত যোগাযোগ স্থাপন করতে না পারলে অগ্রগতি ও প্রগতির পথে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। এজন্য তিনি ১৯৭৪ সালে বেতবুনিয়ায় দেশের সর্ব প্রথম স্যাটেলাইট আর্থ স্টেশন স্থাপন করেছিলেন।
অবশেষে স্বপ্নপূরণ,মহাকাশে বাংলাদেশ
অবশেষে নানা জল্পনা কল্পনা শেষে মহাকাশে দ্বার উন্মোচিত হল লাল-সবুজের। যুক্তরাষ্ট্রের কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে বাংলাদেশ সময় শুক্রবার দিবাগত রাতে মহাকাশের পথে যাত্রা করলো বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১। এর মধ্যে দিয়ে তথ্য প্রযুক্তির দুনিয়ার সর্বোচ্চ স্তরে পা রাখলো বাংলাদেশ। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় শুক্রবার বিকেল ৪টা ১৪ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় শুক্রবার দিবাগত রাত ২টা ১৪ মিনিট) স্পেস এক্সের ফ্যালকন-৯ রকেটের মাধ্যমে ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাবেরাল উৎক্ষেপণ মঞ্চ থেকে স্যাটেলাইটটি উৎক্ষেপণ করা হয়। স্যাটেলাইন উৎক্ষেপণকারী মার্কিন প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স জানিয়েছে, স্যাটেলাইটটির সফল উৎক্ষেপণ করা সম্ভব হয়েছে। মহাকাশের পথে দ্রুতবেগে ছুটে চলা স্যাটেলাইটটি নির্দিষ্ট কক্ষপথে পৌঁছতে সময় নিয়েছে ৩৩ মিনিট। সেইসাথে প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপ পার হওয়া স্যাটেলাইটটির বহনকারী রকেট ফ্যালকন-৯। গতকাল কারিগরি জটিলতার কারণে একই সময় ফ্লোরিডার এ উৎক্ষেপণ মঞ্চ থেকে স্যাটেলাইটটি উৎক্ষেপণ আটকে যায়। এর আগেও গত ৪ মে উৎক্ষেপেণের কথা ছিল প্রায় ২ হাজার ৭৬৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ স্যাটেলাইটটির । কিন্তু, কারিগরি কারণে ৭ মে উৎক্ষেপেণের সিদ্ধান্ত হলেও পরে তা পিছিয়ে ১০ মে করা হয় এ মহাকাশ যাত্রার। কিন্তু শেষমেস একদিন পর মহাকাশ জগতে অনন্য এক মাইলফলক স্পর্শ করল বাংলাদেশ। উৎক্ষেপণের পর স্যাটেলাইটটি কবে নাগাদ মহাকাশে পৌঁছবে সে বিষয়ে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ মেজবাহউজ্জামান বলেন, ফ্যালকন-৯ রকেট ৩.৫ মেট্রিক টন ওজনের বঙ্গবন্ধু-১ যোগাযোগ স্যাটেলাইটটি মহাকাশে নিয়ে যাবে। মহাকাশে নির্দিষ্ট স্লটে এটির পৌঁছতে ৮ দিন সময় লাগবে। এ স্যাটেলাইটের সাথে যুক্ত বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এ স্যাটেলাইটের উৎক্ষেপনের ফলে সক্ষমতা বৃদ্ধি করে বৈদেশিক মুদ্রা আয় ও সাশ্রয়, দেশের দুর্গম অঞ্চলে ইন্টারনেট সেবা প্রদান, আবহাওয়া নিয়ন্ত্রণ ও দুর্যোগ মোকাবেলা করা সম্ভব হবে। সেইসাথে দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার বড় ধরণের পরিবর্তন ঘটবে বলে আশা করছেন তারা। এদিকে দেশের এই ঐতিহাসিক মুহূর্ত সরাসরি দেখতে ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের কেপ ক্যানাভেরালে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। সেখানে তার সাথে উপস্থিত ছিলেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি জুনাইদ আহমেদ পলক, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদসহ স্যাটেলাইট প্রকল্পটির শীর্ষ গবেষক ও কর্মকর্তারা। উল্লেখ্য, নিজস্ব স্যাটেলাইটের দিক থেকে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের ৫৭ তম দেশ। ২০০৮ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের প্রজেক্ট নেয়া নেয় সরকার। বিটিআরসি ২০১৫ সালের নভেম্বরে দেশের প্রথম স্যাটেলাইট নির্মাণের জন্য ফ্রান্সের থালেস এলিনিয়া স্পেস ফ্যাসিলিটিস কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করে। স্যাটেলাইটটি উৎক্ষেপণের জন্য বাংলাদেশ ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে রাশিয়ার স্যাটেলাইট প্রতিষ্ঠান ইন্টার স্পুটনিকর কাছ থেকে ২ কোটি ৮০ লাখ ডলারে ১১৯ দশমিক ১ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমায় (স্লট) কক্ষপথ স্লট কেনে। একইসাথে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের জন্য স্পেস এক্সর ফেলকন-৯ লঞ্চার ব্যবহার করতে যুক্তরাষ্ট্রের সাথেও চুক্তি করে বাংলাদেশ। এখান থেকেই শুরু হয় বাংলাদেশের মহাকাশ যাত্রার নতুন দিগন্ত।
জাতিগত অনেক বড় পাওয়া এটা আমাদের
সকল অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে দেশের প্রথম স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু- ১ আর মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মহাকাশে উড়তে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সময় ১০ মে বিকাল ৪টায় (বাংলাদেশ সময় ১১ মে দিবাগত রাত ৩টা) ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে স্যাটেলাইটটি উৎক্ষেপণ হবে। সফলভাবে মহাকাশে গেলে বিশ্বের ৫৭তম দেশ হিসেবে নিজস্ব স্যাটেলাইটের মালিক হবে বাংলাদেশ। মহাকাশে উৎক্ষেপণ হতে যাওয়া বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু- ১ নিয়ে ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বারের সঙ্গে আলাপ হয়। তিনি বলেন, এটা আমাদের জাতিগত অনেক বড় পাওয়া। জাতিগতভাবে ৫৭তম দেশের কাতারে বাংলাদেশের অবস্থান সম্ভব হচ্ছে স্যাটেলাইটটি উৎক্ষেপণের মাধ্যমে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশেকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। পদ্মা সেতু, মেট্রোরেলের মতো কাজের চ্যালেঞ্জ নিয়ে তিনি সফল হয়েছেন। আমাদের নিজস্ব স্যাটেলাইট থাকবে না- এটা তো হতে পারে না। তিনি আরও বলেন, আমাদের ইন্টারনেটের ব্যবহার ও চাহিদা অনেক বেড়েছে। তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়নে নিজস্ব স্যাটেলাইট ছিল সময়ের দাবি। এটি এখন পূরণ হতে চলেছে। বঙ্গবন্ধু- ১ উৎক্ষেপণের মুহূর্তটি হবে বাংলাদেশের জন্য অন্যরকম একটি দিন। এটি মহাকাশে স্থাপনের মাধ্যমে অন্য দেশের ওপর যেমন বাংলাদেশের নির্ভরতা কমবে, তেমনি দেশের অভ্যন্তরীণ টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে। যেকোনো ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগে টেরিস্ট্রিয়াল অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট দেশে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিতে সহয়াক হবে। এর সর্বোচ্চ সক্ষমতা আমরা ব্যবহার করবো। প্রয়োজনের অতিরিক্ত ট্রান্সপন্ডার (২০টি) বাণিজ্যিকভাবে বিক্রিও হবে। একাধিকবার উৎক্ষেপণের তারিখ পরিবর্তন হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, এটা ভীষণ টেকনিক্যাল বিষয়। এখানে আমাদের কোনো হাত নেই। সবাই এটির উৎক্ষেপণের জন্য অপেক্ষায় আছে। একটা স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের আয়োজন অনেক বড়। সবকিছু চূড়ান্ত হওয়ার পরই এটা উৎক্ষেপণ করা হবে, উৎক্ষেপণের জন্য অনেকগুলো ফেক্টরও কাজ করে। এছাড়া টেকনিক্যাল বিষয়ের সঙ্গে আবহাওয়ার বিষয়টিও জড়িত। নিজস্ব স্যাটেলাইট মালিকানার গর্বের পাশাপাশি এর মাধ্যমে বাংলাদেশের সামনে মহাকাশবিজ্ঞানের অসীম সম্ভাবনার দ্বার খুলবে। দেশের সব ইউনিয়নে অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবলের মাধ্যমে দ্রুতগতির ইন্টারনেট পৌঁছে দিতে না পারলেও বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট চালু হলে এর সীমাবদ্ধতা দূর করা যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দুর্যোগের সময় নিরবচ্ছিন্ন টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১। এর মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলে সাশ্রয়ীমূল্যে সম্প্রচার সেবা দেয়া সম্ভব হবে। স্যাটেলাইটটি নির্মাণ করেছে ফ্রান্সের থ্যালেস অ্যালেনিয়া নামের একটি প্রতিষ্ঠান। স্যাটেলাইটের কাঠামো তৈরি, উৎক্ষেপণ, ভূমি ও মহাকাশের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, ভূ-স্তরে দুটি স্টেশন পরিচালনার দায়িত্ব এ প্রতিষ্ঠানটির। এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে দুই হাজার ৯০২ কোটি টাকা। স্যাটেলাইটে থাকছে ৪০টি ট্রান্সপন্ডার। এগুলোর মধ্যে প্রাথমিকভাবে ২০টি ব্যবহার করবে বাংলাদেশ। অন্যগুলো ভাড়া দেয়া হবে। স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু- ১ এর গ্রাউন্ড স্টেশন তৈরি করা হয়েছে গাজীপুর ও রাঙ্গামাটিতে।
বঙ্গবন্ধু-১ যেভাবে মহাকাশে পৌঁছাবে
প্রতিবেশী দেশ ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার পথে মহাকাশে ছুটছে বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার মহাকাশে ডানা মেলছে বাংলাদেশের প্রথম যোগাযোগ স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরাল লঞ্চপ্যাড থেকে স্থানীয় সময় বিকেল ৪টায় (বাংলাদেশ সময় ১১ মে রাত ৩টা) এটি উৎক্ষেপণ করা হচ্ছে। এর আগে বেশ কয়েকবার উৎক্ষেপণের দিনক্ষণ ঠিক করা হলেও শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। তবে সব অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে মহাকাশে যাত্রা শুরু করছে বাংলাদেশের প্রথম এ স্যাটেলাইট। কীভাবে মহাকাশে পৌঁছাবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি মহাকাশ অনুসন্ধান ও প্রযুক্তি কোম্পানি স্পেসএক্স। মার্কিন এ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ফ্যালকন-৯ রকেট ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরালের লঞ্চিংপ্যাড থেকে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটকে নিয়ে মহাকাশের পথে উড়াল দেবে। ফ্যালকন-৯ রকেটে রয়েছে চারটি অংশ। এর উপরের অংশে থাকবে স্যাটেলাইট, নিচে অ্যাডাপটর। এরপরই রয়েছে স্টেজ-২। এছাড়া একেবারে নিচের অংশে স্টেজ-১। উৎক্ষেপণের পরপর স্টেজ ওয়ান চালু হয়ে উপরের দিকে উঠতে শুরু করবে ফ্যালকন-৯। তীব্র গতিতে ছুটবে মহাকাশের দিকে। তবে উৎক্ষেপণের সময় আগ্রহীদের ক্যানাভেরালের লঞ্চিংপ্যাড থেকে তিন-চার কিলোমিটার দূরে অবস্থান নিতে হবে। উৎক্ষেপণের পর প্রায় সাত মিনিট দেখা যাবে এ রকেট। তীব্র বেগে মহাকাশপানে ছুটতে থাকা এ উচ্চগতির রকেট সাত মিনিট পর অদৃশ্য হয়ে যাবে। নির্দিষ্ট সময় পর রকেটের স্টেজ-১ খুলে ক্যানাভেরালের লঞ্চিংপ্যাডে ফিরে আসবে। এরপর চালু হবে স্টেজ-২। পুনরায় ব্যবহারযোগ্য স্টেজ-১ পৃথিবীতে এলেও স্টেজ-২ একটি নির্দিষ্ট দূরত্ব পর্যন্ত স্যাটেলাইটকে নিয়ে গিয়ে মহাকাশেই অবস্থান করবে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের প্রকল্প পরিচালক মো. মেজবাহুজ্জামান এ প্রসঙ্গে বলেন, প্রথম ধাপটি হলো লঞ্চঅ্যান্ড আর্লি অরবিট ফেজ (এলইওপি)। দ্বিতীয় ধাপ হচ্ছে স্যাটেলাইট ইন অরবিট। প্রথম ধাপে ১০ দিন এবং পরের ধাপে ২০ দিন লাগতে পারে। লঞ্চিংপ্যাড থেকে উৎক্ষেপণ স্থান ৩৬ হাজার কিলোমিটার দূরে যাবে এ স্যাটেলাইট। পরে ৩৫ হাজার ৭০০ কিলোমিটার যাওয়ার পর রকেটের স্টেজ-২ খুলে যাবে। স্যাটেলাইট উন্মুক্ত হওয়ার পরপর এর নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি এবং কোরিয়ার তিনটি গ্রাউন্ড স্টেশনে চলে যাবে। ওই তিন স্টেশন থেকে স্যাটেলাইটটিকে নিয়ন্ত্রণ করে এর নিজস্ব কক্ষপথে (১১৯.১ পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অরবিটাল স্লট) স্থাপন করা হবে। স্যাটেলাইটটি পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রায় ২০ দিন সময় লাগবে। সম্পূর্ণ চালু হওয়ার পর এর নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশের গ্রাউন্ড স্টেশনে হস্তান্তর করা হবে। গাজীপুরের জয়দেবপুর ও রাঙ্গামাটির বেতবুনিয়ায় দুটি গ্রাউন্ড স্টেশনের নির্মাণকাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে দুই হাজার ৯৬৭ কোটি টাকা।
যা করণীয় তাই করব রমজানে নিত্যপণ্যের দাম কম রাখতে: মেয়র সাঈদ খোকন
সকল পণ্যের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে উল্লেখ করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র সাঈদ খোকন বলেছেন, গত বছরের তুলনায় এবার রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কম থাকবে। আর দাম কম রাখার জন্য যা যা করণীয় তাই করব। বৃহস্পতিবার নগর ভবনের ব্যাংকফ্লোর সেমিনার কক্ষে রমজানে পচা-বাসি খাবার ও কেমিক্যালযুক্ত ফল বিক্রি বন্ধ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি রোধে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় একথা বলেন তিনি। মতবিনিময় সভায় অংশ নিয়ে ঢাকা মহানগর ফল আমদানি-রফতানিকারক আড়ত সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহমেদ জানান, পাইকারি বাজারের খেজুর বিক্রি হচ্ছে ৬৮ থেকে ৭০ টাকা কেজিতে। আর সেই খেজুর খুচরা বাজারে ১২০ টাকার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। এ বিষয়ে মেয়র সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানান। মেয়র বলেন, ডিএসসিসির ৫ অঞ্চলে ৫টি বাজার মনিটরিং টিম গঠন করা হবে। রমজানে দ্রব্যমূল্য ও পণ্যের মান ঠিক আছে কিনা তা তারা দেখভাল করবে। এদিকে কাঁচাবাজার বিক্রেতাদের সমিতির তালিকার সঙ্গে সবজি ও কাঁচা মরিচের দামের বাস্তবে মিল নেই বলে সাংবাদিকরা জানালে ব্যবসায়ীরা বলেন, রমজানে সকল ধরনের সবজির দাম কম থাকবে। এছাড়া হোটেল মালিক সমিতিকে ফুটপাতে ইফতারের পসরা বসানো থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন মেয়র। নির্দেশ অমান্য করে যদি কেউ ফুটপাত দখলে রাখে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান তিনি। মতবিনিময় সভায় ব্যবসায়ীরা ছাড়াও স্বাস্থ্য অধিদফতর, প্রাণী সম্পদ অধিদফতরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
শাহবাগে শিক্ষার্থী-পুলিশ সংঘর্ষ : প্রতিবেদন ১১ জুন
রুটিনসহ পরীক্ষার তারিখ ঘোষণার দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অধিভুক্ত ৭ কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনায় মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ১১ জুন দিন ধার্য করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (১০ মে) মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদন দাখিল না করায় ঢাকা মহানগর হাকিম গোলাম নবী এ দিন প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নতুন দিন ধার্য করেন। ২০১৭ সালের ২০ জুলাই সকালে শাহবাগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সরকারি ৭ কলেজের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেন। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে পুলিশ। এতে কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন। খুব কাছ থেকেই টিয়ারশেল ছোড়ায় সরকারি তিতুমীর কলেজের ছাত্র সিদ্দিকুরের দুই চোখ নষ্ট হয়ে যায়। এ ঘটনায় পরের দিন পুলিশের দায়িত্ব পালনে বাধা, পুলিশকে লক্ষ্য করে হামলা, হত্যাচেষ্টা ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালানোর অভিযোগে অজ্ঞাত ১২০০ জনকে আসামি করে শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মাজহার বাদি হয়ে মামলা করেন।

জাতীয় পাতার আরো খবর