পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কমেছে শতভাগ
এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। রোববার সকালে আনুষ্ঠানিক ফলাফল প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। পরে দুপুরে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, এবার শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কমেছে ৬৯২টি। এবার মোট ১ হাজার ৫৩৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শতভাগ পাস করেছে। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এবার শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে ১৬টি। গতবছর ছিল ৯৩টি। এ বছর তা বেড়ে হয়েছে ১০৯টি। তিনি বলেন, জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা এ বছর বেড়েছে ৫ হাজার ৮৬৮ জন। নাহিদ জানান, সাধারণ ৮টি শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার কমেছে ১.৮১ শতাংশ। তবে গতবছরের তুলনায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইতিবাচক ফল এসেছে।
পাহাড়ে শান্তি বজায় থাকুক আমার চাওয়া
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কে বাঙালি, কে পাহাড়ি- আমার কাছে সেটি বিবেচ্য নয়। আমরা চাওয়া সারাদেশের মত পাহাড়েও শান্তি বজায় থাকুক। রোববার সকালে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলের অনুলিপি গ্রহণ করে বান্দরবান জেলা প্রশাসন ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কথা বলার সময় তিনি একথা বলেন। খবর: বাসস। শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানদের নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ ফলাফলের অনুলিপি তুলে দেন। এতে দেখা গেছে, এবার এসএসসি ও সমমানে ৭৭ দশমিক ৭৭ শতাংশ পরীক্ষার্থী পাস করেছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার ৬২৯ জন। গতবছর পাসের হার ছিল ৮০ দশমিক ৩৫। আর জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১ লাখ ৪ হাজার ৭৬১ জন। সেই হিসাবে এবার পাসের হার কমলেও জিপিএ-৫ বেড়েছে ৫ হাজার ৮৬৮ জন। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এবার পাসের হার কিছুটা কম। তবে এটি হতাশাজনক নয়। আমি ছাত্রছাত্রীদের বলব- এবার পাস করনি বলে হতাশ হওয়া চলবে না। আরও উৎসাহী হয়ে পড়াশোনায় মন দিতে হবে।’ তিনি অভিভাবক এবং শিক্ষকদেরও ছেলেমেয়েদের প্রতি আরও মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দেন। বলেন, ‘কেউ অকৃতকার্য হলে বকাঝকা দিয়ে লাভ নেই। তাদের অনুপ্রাণিত করতে হবে, তারা যেন ভবিষ্যতে ভালো করতে পারে।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘স্বল্পোন্নত থেকে আমরা উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছি। উন্নয়নের এই ধারা অব্যাহত রাখতে হলে নতুন প্রজন্মকে সঠিকভাবে গড়ে তুলতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘এবার ৭৭ দশমিক ৭৭ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে, এটি একটি সফলতা। আমি তাদের সবাইকে অভিনন্দন জানাই। যারা পাস করতে পারেনি, তাদেরও অভিনন্দন জানাই। যারা অকৃতকার্য হয়েছে, তারাও তো চেষ্টা করেছে।’ প্রধানমন্ত্রী বরিশাল ও বান্দবান জেলা প্রশাসন ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কথা বলা ছাড়াও দুটি জেলার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। বান্দরবান জেলার প্রতিনিধিদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের সময় শেখ হাসিনা বলেন, ‘পাহাড়ে শান্তিপূর্ণ অবস্থান বজায় রাখতে সবাইকে এক সঙ্গে কাজ করতে হবে। তাহলেই আমরা উন্নয়নের সুফল ভোগ করতে পারব। সরকার সারাদেশের মত পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়নের ব্যাপারে সজাগ রয়েছে।’ সুযোগ পেলে পার্বত্য অঞ্চলে ঘুরতে যাওয়ার কথাও বলেন তিনি। প্রসঙ্গত, বিগত দুই মাসে পার্বত্য জেলাগুলোতে হত্যা বেড়ে গেছে। এ সময়ে বিভিন্ন দলের অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছেন। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার রাঙ্গামাটির নানিয়ারচর উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা শক্তিমান চাকমাকে দুর্বৃত্তরা দিনে-দুপুরে গুলি করে হত্যা করে। পরের দিন শুক্রবার তার শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে যোগ দিতে খাগড়াছড়ি থেকে রাঙ্গামাটি যাওয়ার পথে গাড়িবহরে দুর্বৃত্তরা ব্রাশফায়ার করলে ঘটনাস্থলেই ইউপিডিএফ নেতা তপন জ্যোতি চাকমাসহ ৫ জন নিহত হন। এদিকে, বরিশাল জেলা প্রশাসন ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে বরিশালকে আবারও বাংলার শস্য ভাণ্ডার হিসেবে গড়ে তুলতে তার সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বরিশাল এক সময় বাংলার শস্য ভাণ্ডার ছিল, আবারও বরিশালকে বাংলার শস্য ভাণ্ডার হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
সিনহাকে ৪ কোটি টাকা দেয়া দু জনকে দুদকের জিজ্ঞাসাবাদ
ফারমার্স ব্যাংক থেকে ৪ কোটি টাকা উত্তোলন করে আত্মসাতের অভিযোগে দুই ব্যবসায়ীকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। রোববার সকাল ১০টা থেকে তাদের দুদকের সেগুনবাগিচা কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য পরিবর্তন ডটকমকে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন,ফারমার্স ব্যাংক থেকে ব্যবসায়ী নিরঞ্জন চন্দ্র সাহা এবং মোহাম্মদ শাহজাহান ভুয়া কাগজপত্র দেখিয়ে একই দিনে ২ কোটি করে ৪ কোটি টাকা উত্তোলন করেন। ওইদিনই তারা টাকাগুলো পে-অর্ডারের মাধ্যমে রাষ্ট্রের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে জমা দেন। এরপর সেই অ্যাকাউন্ট থেকে একই দিন টাকাগুলো তুলে আত্মসাৎ করা হয়। প্রণব কুমার ভট্টাচার্য আরও বলেন,অভিযোগ অনুসন্ধানে তাদের দুদক পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুদকের এক কর্মকর্তা পরিবর্তন ডটকমকে জানান, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিটি আসলে সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহা। তার অ্যাকাউন্টেই ৪ কোটি টাকা জমা দেয়া হয়। পরে সেখান থেকে টাকাগুলো আত্মসাতের ঘটনা ঘটে। তিনি আরও বলেন,এ বিষয়ে এখনই কিছু বলা না গেলেও তদন্তের মাধ্যমে জানা যাবে, তার অ্যাকাউন্টেই জমা হয়েছিল ৪ কোটি টাকা। এর আগে গত ২৫ এপ্রিল দুদক পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন স্বাক্ষরিত চিঠিতে এই দুই ব্যবসায়ীকে তলব করা হয়। সেই ডাকে সাড়া দিয়ে সকাল সাড়ে নয়টায় দুদক কার্যালয়ে আসেন নিরঞ্জন চন্দ্র সাহা ও মোহাম্মদ শাহজাহান।
মুসলিম বিশ্বের জন্য ৪ কর্মপন্থা দিলেন প্রধানমন্ত্রী
ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) সদস্য মুসলিম দেশগুলোর জন্য চারটি কর্মকৌশল ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ওআইসির ৪৫তম পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে দেয়া ভাষণে তিনি এ কর্মকৌশল ঘোষণা করেন। স্থায়ী শান্তি, সংহতি ও উন্নয়নের জন্য ইসলামি মূল্যবোধ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলন চলবে আগামী ৬ মে পর্যন্ত। প্রধান অতিথির বক্তব্যে শেখ হাসিনা বলেন,পৃথিবীর এক পঞ্চমাংশ জনশক্তি, এক তৃতীয়াংশের বেশি কৌশলগত সম্পদ এবং প্রচুর সম্ভাবনাময় কয়েকটি উদীয়মান শক্তিশালী অর্থনীতির দেশসহ অপার সম্ভবনা ও সম্পদশালী মুসলিম বিশ্বের পিছিয়ে পড়ে বা অমর্যাদাকর অবস্থায় থাকার কোনো কারণ নেই। তিনি বলেন,উন্নয়ন আমাদের অধিকার, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আমাদের নাগালের মধ্যে এবং সামাজিক অগ্রগতির উপায় আমাদের হাতে। আমাদের এখন প্রয়োজন যৌথ ইসলামী কর্মকৌশল ঢেলে সাজানো। এরপরই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী মুসলিম দেশগুলোর সম্পদকে কাজে লাগিয়ে জনগোষ্ঠীকে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ইসলামী কর্মকৌশল ঢেলে সাজাতে তার চিন্তা-ভাবনা তুলে ধরেন। এগুলো হলো- প্রথমত, ইসলামের মৌলিক বিশ্বাসের ওপর সকলকে আস্থাশীল হতে হবে। আমাদের সাম্প্রদায়িক মানসিকতা বর্জন করতে হবে এবং ক্ষুদ্র রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করা বা সমাজের বিভাজন সৃষ্টির উদ্দেশে ধর্মকে ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। দ্বিতীয়ত, শান্তিপূর্ণ উপায়ে সকল বিবাদের সমাধান করতে হবে। আমাদের নিন্দুকদের কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ বা প্রভাব বিস্তারের সুযোগ না দিয়ে নিজেদের সমস্যা নিজেদেরই সমাধান করতে হবে। ওআইসিতে আমাদের বিরোধ মীমাংসা প্রক্রিয়াসমূহকে শক্তিশালী করতে হবে এবং আমাদের নিজস্ব শক্তি ও সম্পদসমূহের আরও উৎকর্ষ সাধন করতে হবে। তৃতীয়ত, আমাদের আত্মসচেতন ও আলোকিত জীবনযাপন করতে হবে। তাহলেই ইসলাম-সম্পর্কিত ভীতি দূর হবে। আমাদের মূল্যবোধভিত্তিক আন্তর্জাতিক সম্পর্কের লালন করে আলোকিত বিশ্ব ব্যবস্থার পথ দেখাতে হবে। চতুর্থত, দারিদ্য ও ক্ষুধা দূরীকরণ এবং জরুরি মানবিক দুরবস্থা মোকাবিলার জন্য ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার বলিষ্ঠ কর্মসূচিসহ একটি দ্রুত কার্যকর উন্নয়নমূলক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা আবশ্যক। ওআইসি-২০২৫ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য আমাদের যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। উল্লেখ্য, প্রায় ৩৫ বছর পর দ্বিতীয়বারের মত বাংলাদেশ ওআইসির নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের এমন সম্মেলন আয়োজন করেছে। এর আগে ১৯৮৩ সালে ঢাকায় প্রথমবারের মত ওআইসির পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলন হয়েছিল। এবারের সম্মেলনে ৫৭ সদস্য বিশিষ্ট এই সংস্থার ৪০ জন মন্ত্রী ও সহকারী মন্ত্রীসহ প্রায় সাড়ে ৫শ প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন। এবারের সম্মেলনে রোহিঙ্গা সংকট ছাড়াও ফিলিস্তিন ইস্যু আলোচনায় অগ্রাধিকার পাচ্ছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও বক্তব্য দেন- ওআইসির ৪৪তম সম্মেলনের চেয়ার ও আইভরিকোস্টের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্সেল আমন তানাহ, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, বিশেষ আমন্ত্রণে যোগ দেয়া কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিস ক্রিসটিয়া ফ্রিল্যান্ড, ওআইসির সেক্রেটারি ড. ইউসেফ এ আল-ওথাইমেন প্রমুখ।
নাটকের অবদান অনস্বীকার্য স্বাধীনতা আন্দোলনে
জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, স্বাধীনতা সংগ্রামসহ সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নাটকের অবদান অনস্বীকার্য। প্রতিবাদ ও পরিবর্তনের ভাষা হলো নাটক। নাট্য চর্চাকে তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দিতে গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের প্রতি তিনি আহ্বান জানান। শুক্রবার ঢাকায় শিল্পকলা একাডেমিতে বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের ত্রয়োবিংশ জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন তিনি। স্পিকার বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশে যে উন্নয়নের ধারা সূচিত হয়েছে তার প্রতিফলন ঘটেছে নাট্য জগতে। স্বাধীনতা সংগ্রাম, স্বাধীকার ও ভাষা অন্দোলনের ইতিহাসকে ধারণ করে রচিত হয়েছে অনেক কাব্য, উপন্যাস ও নাটক। সে কারণে এদেশের নাটকের আবেদন ফুরিয়ে যায় না— বরং নাটকে প্রতিফলিত হতে থাকে ঐতিহাসিক ও সমসাময়িক ঘটনাবলি। এ কারণেই নাটক সমাজের দর্পন। তিনি বলেন, আগামী দিনে অনেক নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। সংবিধানে শোষণমুক্ত দেশ গড়ার যে অঙ্গীকার রয়েছে সেটা বাস্তবায়নে নাট্যকর্মীরা ভূমিকা রাখবেন বলে স্পিকার আশা প্রকাশ করেন। শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক ও সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক লিয়াকত আলী লাকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন, নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার, আতাউর রহমান খান, মামুনুর রশীদ, নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু, আক্তারুজ্জামান প্রমূখ। এর আগে শিরীন শারমিন জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও বেলুন উড়িয়ে দুই দিনব্যাপী ত্রয়োবিংশ জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধন করেন।
২৫ মে শান্তি নিকেতনে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী,থাকবেন মোদিও
চলতি মাসের ২৫ তারিখ শান্তি নিকেতনে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিশ্বভারতীতে গিয়ে তার বাংলাদেশ ভবন উদ্বোধন করার কথা রয়েছে। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও ওই অনুষ্ঠানে থাকতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে। কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গতকাল বৃহস্পতিবারই ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সবুজকলি সেনকে শেখ হাসিনার সফরের দিনটি জানানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক সেরে ওইদিনই ফিরে যান উপাচার্য। তার আগে তিনি বলেন, ওই সময়েই আমরা সমাবর্তন অনুষ্ঠানটি করার প্রস্তুতি নিচ্ছি। উপাচার্য জানান, বিশ্বভারতীর আচার্য প্রধানমন্ত্রীকেও তিনি আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। নরেন্দ্র মোদি বোলপুরে আসতে খুবই আগ্রহী। বাংলাদেশ হাইকমিশনের পক্ষে উপাচার্যকে এদিন জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৪ তারিখে এসে বর্ধমানের চুরুলিয়ায় কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষ সাম্মানিক ডিগ্রি নেবেন। পরদিন শান্তি নিকেতনে যাবেন। এদিকে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরের আগে মঙ্গলবার বাংলাদেশের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি দল শান্তি নিকেতনে যাচ্ছে। ২৫ কোটি টাকা খরচ করে ভবনটি নির্মাণ করেছে বাংলাদেশ। তবে ভারতের কেন্দ্রীয় কিংবা বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে সফরের দিনক্ষণ রাজ্যকে জানানো হয়নি। আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দুই রাষ্ট্র প্রধানের মধ্যে শেখ হাসিনাই শেষ বার ভারত সফরে এসেছিলেন। ফের আসবেন কিভাবে, প্রশ্ন উঠছিল। কিন্তু বাংলাদেশের কূটনীতিকদের কথায়,বাংলাদেশ ভবন উদ্বোধন অনুষ্ঠানকে পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রীয় সফর বলা যায় না। পর পর দুই বার কোনো দেশ সফরে প্রটোকলগত কোনো বাধা নেই।
প্রাধান্য পাচ্ছে রোহিঙ্গা সংকট-কাল ওআইসি সম্মেলন শুরু
ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) ৪৫তম পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলন (সিএফএম) আগামীকাল শনিবার শুরু হচ্ছে ঢাকায়। আগারগাঁওয়ের বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ৬ মে পর্যন্ত চলবে এ সম্মেলন।স্থায়ী শান্তি, সংহতি ও উন্নয়নের জন্য ইসলামি মূল্যবোধ- এ প্রতিপাদ্যে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবারের সম্মেলন। এর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ লক্ষ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী জানিয়েছেন, ৫৭ সদস্য বিশিষ্ট এই সংস্থার প্রায় ৪০ জন মন্ত্রী ও সহকারী মন্ত্রীসহ প্রায় সাড়ে ৫০০-এর বেশি প্রতিনিধি এ সম্মেলনে অংশ নেবেন। এবারের সম্মেলনের অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় হবে রোহিঙ্গা সংকট, পাশাপাশি ফিলিস্তিন ইস্যু আলোচনায় থাকবে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, রোহিঙ্গা ইস্যু স্বাভাবিক কারণেই বিশেষ গুরুত্ব পাবে। সম্মেলনে একটি বিশেষ অধিবেশনে রাখা হয়েছে এ ইস্যুটি আলোচনার জন্য। সেখানে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া দ্রুত ও নিশ্চিতভাবে সম্পন্ন করতে ওআইসির পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা আলোচনা করবেন। এছাড়াও আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মেলন শুরুর আগে আজ শুক্রবার আগত প্রতিনিধিদের মধ্যে আগ্রহীদের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনের জন্য নিয়ে যাওয়া হবে বলেও জানান মন্ত্রী। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের পক্ষে যে জনমত গড়ে উঠছে এ সম্মেলন সে জনমতকে আরও শক্ত ভিত্তি দেবে। বাংলাদেশ রোহিঙ্গা ইস্যুতে ইতোমধ্যে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের সমর্থন আদায় করতে পেরেছে এবং মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টির পথে অনেকদূর এগিয়ে গেছে। মিয়ানমার যদিও নানা কৌশলে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াকে দীর্ঘসূত্রতায় বেঁধে রাখতে চাইছে, এরপরও আন্তর্জাতিক চাপের মুখে সম্প্রতি দেশের নীতিনির্ধারকরা নড়াচড়া শুরু করেছেন। এরইমধ্যে মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চি জাতিসংঘের মানবাধিকার ও উন্নয়নমূলক সংস্থাগুলোকে রাখাইনে প্রবেশ করতে দিতে সম্মত হয়েছেন। এতদিন আন্তর্জাতিক বিশ্বের নানা পর্যায়ের চাপেও জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থা এবং বিদেশি গণমাধ্যমকে সে দেশে ঢুকতে অনুমোদন দেওয়া হয়নি। কিন্তু অব্যাহত আন্তর্জাতিক চাপের মুখে সু চি রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও স্বেচ্ছামূলক প্রত্যাবাসন ত্বরান্বিত করতে জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর সঙ্গে এই মুহূর্তে চুক্তিতে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্বে মুসলিম দেশগুলোর সবচেয়ে বড় ও নীতিনির্ধারণী ফোরাম ওআইসি। এর যে কোনো সিদ্ধান্ত ও কনভেনশন খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রভাব রাখতে সক্ষম। ফলে সম্মেলনে রোহিঙ্গা সংকটের দ্রুত সমাধানের পক্ষে বিশ্বপ্রতিনিধিরা খোলামেলা আলোচনা করার সুযোগ পাবেন এবং সরেজমিন রোহিঙ্গা পরিস্থিতি দেখে যেতে পারবেন। এর মধ্য দিয়ে রোহিঙ্গাদের মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে মিয়ানমারের ওপর চাপ প্রয়োগের শক্তসামর্থ্য উপায় বের করা যাবে বলে মনে করছেন অনেকে। প্রায় সাড়ে তিন দশক পর দ্বিতীয় বারের মতো বাংলাদেশ ওআইসির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের কোনো সম্মেলনের আয়োজন করতে চলেছে। এর আগে ১৯৮৩ সালে ঢাকায় প্রথমবারের মতো ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এদিকে গতকালের সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, সম্মেলনে রোহিঙ্গা ইস্যু ছাড়াও মুসলিম বিশ্বের চ্যালেঞ্জ, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ, ফিলিস্তিন সমস্যাসহ বিভিন্ন বিষয় প্রাধান্য পাবে। মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে মুসলিম বিশ্বের বেশ কিছু দেশ শান্তি, নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায় হুমকি, অভ্যন্তরীণ দ্বন্ধ, মুসলিম রাষ্ট্রে বাইরের হস্তক্ষেপ, সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ, ইসলামোফবিয়া ও মানবিক বিপর্যয়সহ নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে এবং একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় সংস্থাটির সম্মিলিত উদ্যোগ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বাৎসরিক সম্মেলন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি জানান, আয়োজক দেশ হিসেবে বাংলাদেশ আগামী এক বছর সিএফএম-এর চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবে। সম্মেলনে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মুসলিম দেশগুলোকে সক্রিয়ভাবে পাশে থাকার আহবান জানানো ছাড়াও বাংলাদেশের প্রস্তাবনাগুলো তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, আশা করছি সম্মেলনে আলোচ্য বিষয়ের সব সিদ্ধান্ত, ঢাকা ঘোষণাপত্র আউটকাম ডকুমেন্ট হিসেবে সংরক্ষিত হবে। মুসলিম দেশগুলোর নিজেদের মধ্যে কানেক্টিভিটি, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার বিষয়ে মিডিয়ার ব্যবহার এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ওআইসি চেয়ার প্রতিষ্ঠাসহ কয়েকটি প্রস্তাব করবে বাংলাদেশ। প্রেস ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছাড়াও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এবং পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হক উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, জনসংখ্যার ভিত্তিতে বাংলাদেশ বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম মুসলিম দেশ। ১৯৭৪ সালে পাকিস্তানের লাহোরে অনুষ্ঠিত ওআইসির দ্বিতীয় শীর্ষ সম্মেলনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশ ওআইসির সদস্য হয়। এই সংস্থাভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের ৪৪তম সম্মেলনটি আইভরি কোস্টে অনুষ্ঠিত হয়। গত বছর মে মাসে আইভরি কোস্টের আবিদজানে ওই সম্মেলনে ওআইসিভুক্ত সদস্য দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সর্বসম্মতিক্রমে বাংলাদেশে ৪৫তম সম্মেলন অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
ব্রিটিশ হোম অফিসে চিঠি তারেক রহমানকে দেশে ফেরত আনতে
তারেক রহমানকে দেশে ফেরত আনতে ব্রিটিশ হোম অফিসে চিঠি পাঠিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ব্রিটিশ সরকারের উত্তরের প্রেক্ষিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী। সকালে, পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে আসন্ন ওআইসি পররাষ্ট্র মন্ত্রীদের ৪৫ তম সম্মেলন উপলক্ষ্যে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, টেকশই শান্তি সম্প্রীতি ও উন্নয়নের স্লোগান নিয়ে আগামী ৫-৬ মে ঢাকায় এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলনে যোগ দিতে আসা বিভিন্ন দেশ ও সংস্থার প্রতিনিধিদের নিয়ে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি দেখাতে আগামীকাল কক্সবাজার যাবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
আজ বিশ্ব গনমাধ্যম দিবস
দেশে গণমাধ্যমের বিপুল বিকাশ ঘটলেও এখনো সাংবাদিকদের নানা ধরনের হয়রানি ও হুমকির মুখোমুখি হতে হয়। সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিকরা বলছেন- সন্ত্রাসী জঙ্গি ও প্রভাবশালী মহলের হুমকির পাশাপাশি গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্বেগের নতুন কারণ প্রস্তাবিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কিছু ধারা। মুক্ত গণমাধ্যম নিশ্চিত করতে সাংবাদিক নেতাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া এবং নিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টির জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানান। গণমাধ্যম ও গণতন্ত্র পরস্পরের পরিপূরক। মুক্ত গণমাধ্যম নিশ্চিত করা না গেলে ব্যহত হয় গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রাও। দেশে গণমাধ্যমের সংখ্যা যেমন বাড়ছে তেমনি বাড়ছে সাংবাদিকতা পেশার মানুষও। তবে হুমকি হয়রানি নির্যাতন ও উদ্বেগের জায়গাও কম নয়। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য মতে, গত দুই দশকে ২৩ সাংবাদিক হত্যা ও প্রায় সাড়ে ৩ হাজার সাংবাদিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এ পরিস্থিতি স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য বড় হুমকি বলে মনে করেন সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিকরা। নতুন উদ্বেগের বিষয় প্রস্তাবিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কিছু ধারা। প্রতিষ্ঠানের গোপনীয় তথ্য-উপাত্ত কোনো ইলেকট্রনিক মাধ্যমে ধারণ, প্রেরণ, সংরক্ষণ এবং পরোয়ানা ছাড়া আটক ও তল্লাসির ক্ষমতা’সহ এই আইনের ছয়টি ধারা নিয়ে উদ্বেগ ও আপত্তি জানিয়েছেন, গণমাধ্যমের সম্পাদকরা। তারা মনে করেন, গণমাধ্যমকে স্বাধীন করতে সবচে জরুরি রাজনৈতিক বিভক্তির উর্ধ্বে উঠে সাংবাদিক নেতাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া। সেইসাথে সরকারকে আরো ধৈর্যশীল হওয়ার পরামর্শ তাদের।

জাতীয় পাতার আরো খবর