ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু
কমলাপুর স্টেশনে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। শুক্রবার সকাল থেকে শুরু হয়ে টিকিট বিক্রি চলবে ৬ জুন পর্যন্ত। স্টেশন থেকে জানানো হয়েছে, কাউন্টারে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত টিকিট বিক্রি হবে। আর ফিরতি টিকিট দেওয়া হবে ১০ থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত। একজন যাত্রী সর্বোচ্চ চারটি টিকিট কিনতে পারবেন। ট্রেন ছাড়তে দেরি হলে রাখা হয়েছে বিকল্প ব্যবস্থা। স্টেশন ম্যানেজার সীতাংশু চক্রবর্তী বলেন, ঈদে ট্রেনে যাত্রী সেবা নিশ্চিত করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে মন্ত্রণালয়। আর সবাইকে লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট নিতে হবে। একইসঙ্গে সবাইকে টিকিট দেওয়া সম্ভব না। কেননা সম্পদ সীমিত। বৃহস্পতিবার রাতে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, রাতেই টিকিটের জন্য লাইন স্টেশনের বাইরে চলে গেছে। কেউ পত্রিকা বিছিয়ে শুয়ে আছেন। আবার দলবদ্ধভাবে অনেকেই তাস খেলছিলেন। কাউন্টারম্যানরা জানান, আজ ১ জুন দেওয়া হবে ১০ জুনের টিকিট। ২ জুন দেওয়া হবে ১১ জুনের, ৩ জুন দেওয়া হবে ১২ জুনের, ৪ জুন দেওয়া হবে ১৩ জুনের, ৫ জুন দেওয়া হবে ১৪ জুনের এবং ৬ জুন দেওয়া হবে ১৫ জুনের ট্রেনের টিকিট। আর ফিরতি টিকিট ১০ জুন দেওয়া হবে ১৯ জুনের টিকিট, ১১ জুন ২০ জুনের, ১২ জুন দেওয়া হবে ২১ জুনের, ১৩ জুন দেওয়া হবে ২২ জুনের, ১৪ জুন দেওয়া হবে ২৩ জুনের এবং ১৫ জুন দেওয়া হবে ২৪ জুনের টিকিট।
সতর্কভাবে অভিযান পরিচালনার সুপারিশ
মাদকবিরোধী অভিযানে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ‘বিতর্কের উর্ধ্বে থেকে’ ‘সতর্কভাবে’ অভিযান পরিচালনার সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি। সংসদ ভবনে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে চলমান অভিযানে কথিত বন্দুকযুদ্ধে হতাহতের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর উদ্বেগের প্রেক্ষিতে এ সুপারিশ করা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি টিপু মুনশি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন, মো. ফরিদুল হক খান, আবুল কালাম আজাদ, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, ফখরুল ইমাম এবং কামরুন নাহার বৈঠকে অংশ নেন। বৈঠক শেষে কমিটির সদস্য ফখরুল ইমাম সাংবাদিকদের বলেন, চলমান অভিযানে আমরা সন্তোষ প্রকাশ করেছি। তবে কোন নিরীহ মানুষ যেন এর শিকার না হয় সেজন্য আমরা সাবধান হতে বলেছি। সতর্ক থাকতে বলেছি। অভিযানের সময় আক্রমণ বা পাল্টা আক্রমণে যদি কেউ মারা যায় তাহলে তো কিছু করার নেই। তিনি আরো বলেন, অভিযানের সময় কিছু ক্ষেত্রে ডাকাত ধরার ঘটনা ঘটেছে। তাদের কেউ কেউ মারা গেছে। সংসদ সচিবালয় সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বৈঠকে মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরে অবস্থানকারী বাংলাদেশিদের পাসপোর্ট ও ভিসা নবায়ন কার্যক্রম আরও সহজ করার সুপারিশ করেছে কমিটি। এছাড়া গাজীপুর ও রংপুর মহানগরী পুলিশ এলাকায় পুলিশের জন্য ব্যারাক নির্মাণ, থানা ভবনসহ আনুষাঙ্গিক অবকাঠামো নির্মাণের সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি।
মাদক ব্যবসার সাথে জড়িতদের কোনো ছাড় দেয়া হবে না
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, মাদক বিভিন্ন পরিবারকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। মাদক ব্যবসার সাথে জড়িতদের কোনো প্রকার ছাড় দেয়া হবে না। বৃহস্পতিবার বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস উপলক্ষে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক আয়োজিত এক আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘মাদকের ভয়াবহতা গ্রামগঞ্জে ছড়িয়ে পড়েছে। মাদক বিভিন্ন পরিবারকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাদকব্যাধির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। এখানে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।’ স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব সিরাজুল হক খানের সভাপতিত্বে সভায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হাবিবুর রহমান, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ব্রিগেডিয়ার (অব.) ডা. আব্দুল মালিক, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, যদি মেডিকেল কলেজের কোনও ছাত্র ধূমপান করে তাহলে তাকে মেডিকেলে রাখা হবে না, বহিষ্কার করা হবে। যদি কোনও চিকিৎসক ধূমপান করেন তাহলে তিনি মেডিকেলে পড়াতে পারবেন না। নিজে উপদেশ দিবেন আর নিজেই ধূমপান করবেন, এটা হবে না। এছাড়া যারা ধূমপায়ী তাদের মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষা দিতে দেয়া হবে না। তিনি বলেন, ধূমপান মানেই বিষপান। এর কোনও সুফল নেই। সব গবেষণায় দেখা গেছে, যেকোনও ধরনের তামাক গ্রহণ স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। আবুল কালাম আজাদ বলেন, হৃদরোগে যত মৃত্যু হয় তার ১৭ ভাগ তামাকজনিত কারণে। তামাককে প্রতিরোধ করতে পারলে এই হার অনেক কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। বাংলাদেশ সরকার ২০৪০ সালের মধ্যে দেশকে তামাকমুক্ত করতে চায়। সে লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। অনুষ্ঠানে প্রতি বছরের মতো এবারও তামাক নিয়ন্ত্রণে অবদান রাখার জন্য পুরস্কার দেয়া হয়। ২০১৪ সাল থেকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এ পুরস্কারের আয়োজন করে। এ বছর তামাক নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে ব্যক্তি হিসেবে পুরস্কার পেয়েছেন বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা মরহুম অধ্যাপক ড. ফজলুল হক। প্রতিষ্ঠান হিসেবে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন ইনস্টিটিউটের পক্ষ থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেন ব্রিগেডিয়ার (অব.) আব্দুল মালিক। জেলা হিসেবে পুরস্কার পেয়েছে জামালপুর জেলা টাস্কফোর্স।
দোয়া মাহফিলে প্রধানমন্ত্রী
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মা এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দাদির ৪৩তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আজ বাদ আসর রাজধানীর ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু ভবনে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তাঁর ছোট বোন শেখ রেহানা মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে যোগ দেন। এ ছাড়া বঙ্গবন্ধু পরিবারের আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব এবং শুভাকাঙ্খীগণ, বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টের ট্রাস্টিগণ এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তাগণ মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে যোগ দেন। অনুষ্ঠানে মরহুমার আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। ’৭৫-এর ১৫ আগস্টে শাহাদৎ বরণকারী বঙ্গবন্ধু এবং অন্যান্য শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা এবং জাতির অব্যাহত শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।-বাসস
১২৮ জন অতিরিক্ত জেলা জজ গাড়ি ব্যবহারের সুবিধা পাচ্ছেন
দাফতরিক কাজে সরকারি গাড়ি ব্যবহারের সুবিধা পাচ্ছেন অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজরা। অতিরিক্ত জেলা জজ পদে কর্মরত ১২৮ জন বিচারক এই সুবিধা পাবেন। অতিরিক্ত জেলা জজদের গাড়ি সুবিধা পাওয়ার বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সম্মতির পর গত ২৯ মে অর্থ মন্ত্রণালয় সম্মতি দিয়েছে। বৃহস্পতিবার আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বলা হয়েছে, দেশের ৬৪টি জেলায় অতিরিক্ত জেলা জজ পদমর্যাদায় কর্মরত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটরা সরকারি গাড়ি ব্যবহারের সুবিধা পেয়ে আসলেও অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজরা ওই সুবিধা পেতেন না। এটা নিয়ে অতিরিক্ত জেলা জজদের মধ্যে হতাশা ছিল। হতাশা দূর করার জন্য একটি অনুষ্ঠানে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক অতিরিক্ত জেলা জজদের সরকারি গাড়ি ব্যবহারের সুবিধা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। একই সঙ্গে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হককে নির্দেশ দেন। এরপর চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি আইন ও বিচার বিভাগ থেকে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজদের দাফতরিক কাজে ব্যবহারের জন্য জেলা ও দায়রা জজ আদালত বা মহানগর দায়রা জজ আদালতের টিওঅ্যান্ডই-তে (যন্ত্রপাতি ও যানবাহন) ১২৮টি গাড়ি অন্তর্ভুক্ত করতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সম্মতির জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় গত ১৮ এপ্রিল ওই প্রস্তাবে সম্মতি দেয় এবং অর্থ বিভাগের সম্মতি নেয়ার শর্ত দেয়। এরপর ৭ মে ওই বিষয়ে সম্মতি নেয়ার জন্য আইন ও বিচার বিভাগ থেকে অর্থ বিভাগে প্রস্তাব পাঠালে ২৯ মে অর্থ বিভাগ সম্মতি জানিয়ে আইন ও বিচার বিভাগকে পত্র দিয়েছে।
১৮ বিচারপতির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত
সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের ১৮ অতিরিক্ত বিচারপতির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে এ শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন নবনিযুক্ত বিচারপতিদের শপথ বাক্য পাঠ করান।সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. জাকির হোসেন শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। বিকেল ৩টা ৫ মিনিটে কুরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে শপথ অনুষ্ঠান শুরু হয়ে চলে ৩টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত। শপথ নেয়া নতুন ১৮ বিচারপতিরা হলেন- আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসা মো. আবু আহমাদ জমাদার, আইন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মোস্তাফিজুর রহমান, নরসিংদীর জেলা ও দায়রা জজ ফাতেমা নজীব, ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. কামরুল হোসেন মোল্লা, ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ এস এম কুদ্দুস জামান, ঢাকার বিভাগীয় বিশেষ জজ মো. আতোয়ার রহমান, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এস এম আব্দুল মবিন, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল খিজির হায়াত, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এস এম মনিরুজ্জামান, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শশাংক শেখর সরকার, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ আলী, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মহি উদ্দিন শামীম, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. রিয়াজ উদ্দিন খান, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. খায়রুল আলম, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আহমেদ সোহেল, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সরদার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীর, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল খোন্দকার দিলীরুজ্জামান ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. কে এম হাফিজুল আলম। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের সকল বিচারপতি উপস্থিত ছিলেন। এর আগে বুধবার সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে ১৮ অতিরিক্ত বিচারপতি নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। সংবিধানের ৯৮ অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি তাদের নিয়োগ দেন। পরে আইন মন্ত্রণালয় রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে নিয়োগের বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেন।
দুই ঘণ্টায় ঢাকা-চট্রগ্রাম আসা যাওয়া করা যাবে
বাংলাদেশ রেলওয়ের ঢাকা-চট্টগ্রাম ভায়া কুমিল্লা বা লাকসাম হাইস্পিড ট্রেন নির্মাণের উদ্দেশে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও ডিজাইন নির্মাণের চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। বৃহস্পতিবার রেলভবনে এ চুক্তিতে বাংলাদেশের পক্ষে স্বাক্ষর করেন সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালক মো. কামরুল আহসান এবং কনসালটেন্সির পক্ষে ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ডিপার্টমেন্ট বিজনেস ম্যানেজার লিও উইচাও। বাংলাদেশ রেলওয়ে, চায়না রেলওয়ে ডিজাইন কর্পোরেশন এবং মজুমদার এন্টার প্রাইজ (বাংলাদেশ) যৌথভাবে এ কাজ করবে। চুক্তি অনুযায়ী ১৮ মাসের মধ্যে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এবং ডিটেইলড ডিজাইন কাজ শেষ হবে। বাংলাদেশী টাকায় ১০২ কোটি ১০ লাখ ৪৭ হাজার ৭৩০ টাকা চুক্তি মূল্য। সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে কনসালটেন্সি সার্ভিসের কাজ করা হচ্ছে। রেলপথ মন্ত্রী মুজিবুল হক চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে এর দৈর্ঘ্য ৩২০ কিলোমিটার। প্রস্তাবিত রুট অনুযায়ী এর দৈর্ঘ্য ৯১ কি.মি. কমে হবে ২৩০ কি.মি.। তিনি বলেন, ২০০ কি.মি. গতির ট্রেন চালানোর মাধ্যমে দেড় থেকে দুই ঘণ্টায় ঢাকা-চট্রগ্রাম আসা যাওয়া করা যাবে। এতে করে দ্রুত যাত্রী ও পণ্য পরিবহন করা সম্ভব হবে। দেশের অর্থনীতির উন্নয়নে এই ট্রেন সার্ভিস গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন। রেলমন্ত্রী এ সময় বলেন, বর্তমান সরকার রেলখাতের উন্নয়নে অধিক গুরুত্ব দিয়েছে। ফলে নতুন নতুন প্রকল্প নেয়া হচ্ছে। এ সময় তিনি চলমান কয়েকটি প্রকল্পের কথা উল্লেখ করেন। এ চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোফাজ্জেল হোসেন, মহাপরিচালক মোঃ আমজাদ হোসেন, কনসালটেন্সি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।বাসস
প্রধানমন্ত্রী এবং থাই রাজকুমারীর বৈঠক
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ এবং থাইল্যান্ডের মধ্যে কৃষি খাতে সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। থাই রাজকুমারী মাহা চাকরি সিরিনধম বৃহস্পতিবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে গেলে শেখ হাসিনা এ কথা বলেন। বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী এবং থাই রাজকুমারী মূলত, কৃষি খাত নিয়েই আলোচনা করেন এবং এই খাতে দুই দেশের সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণে সহযোগিতার বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। থাই রাজকুমারী বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি বিশেষ করে একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প এবং ক্ষুদ্র সঞ্চয় কর্মসূচির ভূয়সী প্রশংসা করেন। বাংলাদেশের কৃষি খাতের সাফল্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ দেশের বিজ্ঞানীরা খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য লবণাক্ততা, বন্যা এবং ক্ষরাসহিষ্ণু প্রজাতির ধান উদ্ভাবন করেছে। তিনি থাই রাজকুমারীকে বলেন, বাংলাদেশ স্বাদু পানির মাছ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে এবং ছাগল, গরু এবং ভেড়া থেকে প্রতি বছর প্রচুর পরিমাণে মাংস উৎপাদন করছে। প্রধানমন্ত্রী এ সময় আম চাষে দু’দেশের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেন, কারণ থাইল্যান্ড বছর জুড়ে আম উৎপাদনে বিখ্যাত। থাই রাজকুমারী প্রধানমন্ত্রীকে জানান, তার দেশ একটি প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশকে ‘ভেটিভার ঘাস’ দিচ্ছে। এই ঘাস আকারে লম্বা ও পুরু এবং যা মাটির ক্ষয়রোধ ও সুরক্ষায় কার্যকরী। বাংলাদেশের মৌসুমী ফল লিচু থাইল্যান্ডে খুব জনপ্রিয় এবং থাইল্যান্ড বাংলাদেশ থেকে লিচু আমদানি করছে বলে জানান থাই রাজকুমারী। প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম, মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান, থাইল্যান্ডে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সাঈদা মুনা তাসনীম এবং ঢাকায় থাই রাষ্ট্রদূত প্যানপিমন সুয়ান্নাপোংসে এ সময় উপস্থিত ছিলেন। বাসস
১৪ জুনের মধ্যে শ্রমিকদের বেতন-বোনাস দেয়ার নির্দেশ
ঈদুল ফিতরের আগে পোশাক খাতে কর্মরত শ্রমিকদের বেতন-বোনাস ১৪ জুনের মধ্যে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে এক বিশেষ সভায় তিনি এই নির্দেশনা দেন। এ সময় তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ), বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ), বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনসহ (এফবিসিসিআই) আটটি সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, পোশাক খাতের শ্রমিকদের সময়মতো বেতন-ভাতা দিতে হবে। ১০ তারিখের মধ্যে মে মাসের পূর্ণ বেতন এবং ১৪ তারিখের আগে বোনাস পরিশোধ করতে হবে। ঈদের আগে কোনো শ্রমিককে ছাঁটাই করা চলবে না। শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দেয় এমন কোনও কর্মকাণ্ড করা যাবে না। ব্যবসায়ীরা নগদ টাকা বহনের ক্ষেত্রে পুলিশি সহায়তা চাইলে পাবেন। তোফায়েল আহমেদ বলেন, এবার দেশের প্রতিটি শ্রমিক শান্তিপূর্ণভাবে ঈদ উদযাপন করতে পারবে। বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের ৮২ শতাংশই তৈরি পোশাক। এ বছর এই খাতে ৯.৩৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। তাই এ বছরের এ খাতের ৩০ বিলিয়ন রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব। আগামী ৩১ জানুয়ারির পর দেশের পোশাক কারখানায় ইউরোপ ও আমেরিকার ক্রেতাদের জোট অ্যাকর্ড-অ্যালায়েন্স থাকবে না বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, ইতিমধ্যেই অ্যাকর্ড-অ্যালায়েন্সের মেয়াদ শেষ হয়েছে, চলতি বছরের ৩১ মে পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়। আগামী ৩১ ডিসেম্বরের পর এদেশে অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্সের কোনও প্রয়োজন নাই। বাংলাদেশ এখন আত্মমর্যাদা সম্পন্ন জাতি। আমরা এখন উন্নয়নশীল দেশ। আগামী ২০২৭ পর্যন্ত আমরা এলডিসি সুবিধা পাবো।

জাতীয় পাতার আরো খবর