এক-এগারো থেকে আওয়ামী লীগ শিক্ষা নিয়েছে-সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, এক-এগারো থেকে আওয়ামী লীগ শিক্ষা নিয়েছে। বিএনপির কারণে এ ঘটনার পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা থাকলেও এটা আর ঘটবে না। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের সম্পাদকমণ্ডলীর সভা শেষে ওবায়দুল কাদের সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন। সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ভয়-আশঙ্কা আছে এই কারণে যে ওয়ান-ইলেভেন থেকে আমরা শিক্ষা নিয়েছি। কিন্তু বিএনপি নেয়নি। বিএনপি তার বর্তমান অবস্থা জেনে গেছে। নির্বাচনের আগেই সারা দেশে আওয়ামী লীগের জোয়ার দেখে বিএনপি বুঝে গেছে যে আগামী নির্বাচনে তাদের পরিণতি কী।’ তিনি বলেন, বিএনপি ভোট পাওয়ার মতো কোনো কাজ করেনি। সে কারণে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করার চেষ্টা করছে। আওয়ামী লীগ বিএনপির সেই দুরভিসন্ধি বাস্তবায়ন করতে দেবে না, বাংলাদেশে আর এক-এগারোর পুনরাবৃত্তি ঘটানো যাবে না। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন উপনির্বাচন বিষয়ে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রার্থী ঘোষণার আগে কেউ প্রার্থী নন। অনেকে নিজের মতো করে দলের সভানেত্রী, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করেছেন। অনেকে দেখা করছেন। এতে প্রমাণিত হয় না যে প্রার্থী মনোনয়ন করা হয়ে গেছে। তবে আতিকুল ইসলাম দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করেছেন। সে সময় সভানেত্রী তাঁকে কাজ করার কথা বলেছেন, সিদ্ধান্ত জানাননি। আওয়ামী লীগ–মনোনীত মেয়র প্রার্থী কে হবেন, সে বিষয়ে ১৬ জানুয়ারি মনোনয়ন বোর্ডের সভায় সিদ্ধান্ত হবে বলেও জানান ওবায়দুল কাদের। আওয়ামী লীগ ক্রমে ব্যবসায়ীদের দিকে ঝুঁকছে, এ বিষয়ে দল কী ভাবছে—সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, দলের প্রার্থী, দলীয় নেতা আর নির্বাচন এটার মধ্যে পার্থক্য আছে। এটা রাজনৈতিক স্ট্র্যাটেজি। স্ট্র্যাটেজিক অ্যালায়েন্স। নির্বাচনে স্ট্র্যাটেজিক অ্যালায়েন্স হয়।’ তিনি প্রশ্ন করেন, ‘একজন রাজনীতিবিদ কি ব্যবসা করতে পারেন না? তাঁরা চাঁদাবাজি করে খাবেন?’ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, আবদুর রহমান, জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক আহমদ হোসেন, এনামুল হক শামীম, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, মহিবুল হাসান চৌধুরী, দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ, বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক আবদুস সবুর, শিক্ষা ও মানবসম্পদ–বিষয়ক সম্পাদক শামসুন্নাহার চাঁপা, আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক শাম্মী আক্তার, উপপ্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম প্রমুখ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।
দেশের উন্নয়ন করতে হলে নিরাপত্তা খাতে বিনিয়োগের বিকল্প নেই- প্রধানমন্ত্রী
নিরাপত্তা খাতে টাকা দেয়া বরাদ্দ নয়, বিনিয়োগ পুলিশ সপ্তাহ উদ্বোধনে দেয়া প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ আইনশৃঙ্খলা বা নিরাপত্তা খাতে দেয়া টাকাকে অনেকেই বরাদ্দ বলে থাকেন। আমি বলি এটি বরাদ্দ নয়, বিনিয়োগ। এ খাতে আরও বিনিয়োগ করতে হবে। দেশের উন্নয়ন করতে হলে এ খাতে বিনিয়োগের বিকল্প নেই। এই বিনিয়োগই উন্নয়ন। একদিন এই বিনিয়োগই দেশ ও জাতিকে চরম স্বস্তি এনে দিবে। দেশ ও জাতিকে উন্নতির চরম শিখরে নিয়ে যাবে। আর আইনশৃঙ্খলা খাতে বিনিয়োগ বাড়িয়ে দেশ থেকে চিরতরে নির্মূল করতে হবে সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ। এক্ষেত্রে পুলিশকে আরও জনবান্ধব হতে হবে। জনগণকেও এগিয়ে আসতে হবে সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ নির্মূলে। পুলিশের দায়িত্ব অপরিসীম। দায়িত্ব আরও বাড়াতে হবে। বাড়তি দায়িত্ব পালনের জন্য পুলিশ বাহিনীতে আরও ৪৪ হাজার নতুন পদ সৃষ্টি করা হচ্ছে। সোমবার জাতীয় পুলিশ সপ্তাহের উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এমনটাই জানালেন। পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা স্বাধীন দেশের পুলিশ। জনগণের প্রতি আপনাদের দায়িত্ব অপরিসীম। আপনারা নিজেদের জনবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলবেন। দেশ ও জাতির স্বার্থে আপনাদের প্রত্যেকে জনবান্ধব হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। প্রতিটি পুলিশ সদস্য অসহায় ও বিপন্ন মানুষের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবেন। নিষ্ঠার সঙ্গে নিজেদের দায়িত্ব পালন করবেন। বিএনপি-জামায়াতের পেট্রোলবোমা হামলা আর আগুন সন্ত্রাসে প্রাণ হারিয়েছেন ২৭ পুলিশ সদস্য। আমি তাদের এবং তাদের পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জানাচ্ছি। এমন ভয়াল তা-বের পরও পুলিশ অত্যন্ত সাহসিকতা ও বিচক্ষণতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছে। যা খুবই বিরল। বিএনপি-জামায়াতের সেই তা-ব অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বিশেষ করে পুলিশ মোকাবেলা করেছে। সেই সাহসিকতার জোরেই দেশ থেকে সন্ত্রাস জঙ্গীবাদ চিরতরে নির্মূল করতে হবে। এজন্য পুলিশে জনবল বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলছে। নতুন পদ সৃষ্টি হচ্ছে। পুলিশ সদস্যদের উন্নত প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। যাতে আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশ পুলিশ কাজ করতে পারে। ইতোমধ্যেই সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ল্যাবরেটরি, ডিএনএ ল্যাব হয়েছে। মানিলন্ডারিংয়ের জন্য বিশেষজ্ঞ টিম হয়েছে। তারা কাজ করছেন। সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সাফল্য আসছে। ডিএনএ ল্যাব হওয়ার কারণে মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি হচ্ছে। যার সুফল পাচ্ছেন অনেকেই। প্রধানমন্ত্রী বলেন, হলি আর্টিজানে হামলার পর দেশ-বিদেশে আমাদের দেশ সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণার সৃষ্টি হয়েছিল। স্বল্প সময়ের মধেই আমরা সেই নেতিবাচক ধারণার উত্তরণ ঘটাতে পেরেছি। অল্প সময়ের ব্যবধানে আমরা জঙ্গীবাদ বিষয়ে ইতিবাচক ধারায় উন্নীত হতে পেরেছি। দেশে একের পর এক জঙ্গী আস্তানা আবিষ্কৃত হয়েছে। অভিযান হয়েছে। গ্রেফতার হয়েছে জঙ্গীরা। অভিযান চালাতে গিয়ে বীরত্বের সঙ্গে জীবন উৎসর্গ করেছেন অনেক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য। তাদের প্রতি রইল আমার আন্তরিক দোয়া। আর তাদের পরিবারের প্রতি রইল সর্বোচ্চ সহমর্মিতা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের মুখে নস্যাৎ হয়ে গেছে বড় বড় সব নাশকতার পরিকল্পনা। গুঁড়িয়ে গেছে জঙ্গী আস্তানা, যা নিঃসন্দেহে যা প্রশংসার দাবিদার। এখানেই শেষ নয়, বাংলাদেশ পুলিশ চলমান রোহিঙ্গা সমস্যার ক্ষেত্রেও প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করেছে। বর্তমানে প্রায় দশ লাখ রোহিঙ্গা আমাদের দেশে রয়েছে। তাদের সার্বিক নিরাপত্তা থেকে শুরু করে তাঁবু বানানো, খাবার দেয়া, মেডিক্যাল সুবিধাসহ আনুষঙ্গিক নানা কাজে পুলিশ সার্বিক সহযোগিতা করে যাচ্ছে। যা এককথায় অতুলনীয়। পুলিশ ইতোমধ্যেই জাতীয় জরুরী সেবা হিসেবে ৯৯৯ নম্বর চালু করেছে। যার সুফল পাচ্ছেন জনগণ। ভবিষ্যতে এই সেবার মান আরও বাড়ানো হবে। এই নম্বরের মাধ্যমে এ্যাম্বুলেন্স, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সেবা পাচ্ছেন নাগরিকরা। পর্যায়ক্রমে সেবার মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, যারা ভাল কাজ করবেন, তাদের অভিনন্দন জানানো হবে। যারা খারাপ কাজ করবেন তারা তিরস্কৃত হবে। প্রতিটি পুলিশ সদস্যের উচিত তাদের নিজ নিজ জায়গা থেকে নিজেদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। তাতেই জনগণ অনেক সুফল পাবে। ইতোমধ্যেই পুলিশ সদর দফতরের আইজিপি কমপ্লেইন সেল স্থাপন করা হয়েছে। যা বাহিনীর সদস্যদের পেশাগত জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখছে। তিনি আরও বলেছেন, সুশাসন প্রতিষ্ঠায় পুলিশের আন্তরিকতা, কর্মদক্ষতা ও পেশাদারিত্ব দেশবাসীর কাছে প্রশংসিত হচ্ছে। জঙ্গীবাদ নির্মূলে দেশের সকলকে এক হতে হবে। কারণ জঙ্গী ও সন্ত্রাসী কারও বন্ধু হতে পারে না। তারা দেশ ও জাতির শত্রু। জঙ্গীবাদ ও সন্ত্রাস দমনে গঠিত পুলিশের এন্টি টেররিজম ইউনিট ইতোমধ্যেই প্রশংসা কুড়িয়েছে। এই ইউনিট জঙ্গী ও সন্ত্রাসবাদ নির্মূল এবং এদের মদদদাতাদের আইনের আওতায় আনতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। এছাড়া পুলিশের অনলাইন পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্ভিস ও মোবাইল এ্যাপ প্রবর্তনের উদ্যোগকেও প্রধানমন্ত্রী স্বাগত জানান। পরিশেষে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত আস্থার সঙ্গে বলেন, দেশে স্থিতিশীল পরিবেশ বিরজমান রাখার জন্য দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার কোন বিকল্প নেই। এজন্য এ খাতে আরও বিনিয়োগ করতে হবে। এ খাতে দেয়া অর্থকে অনেকেই বরাদ্দ বলে থাকেন। আমি বলি এটি বিনিয়োগ। এই বিনিয়োগই উন্নয়ন। একদিন দেশ ও জাতিকে এই বিনিয়োগ স্বস্তিতে রাখবে। উন্নতির চরম শিখরে নিয়ে যাবে। এর আগে পুলিশ সপ্তাহের অনুষ্ঠানে খোলা জিপে করে প্যারেড পরিদর্শন করে সালাম ও কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত ১১টি কন্টিনজেন্ট ও পতাকাবাহী দলের নয়নাভিরাম প্যারেড পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী সাহসিকতা ও সেবামূলক কাজের জন্য ১৮২ জনকে বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম) এবং রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম) পরিয়ে দেন। ২০১৭ সালে সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ কাজের জন্য ৩০ জন বিপিএম এবং ৭১ জন পিপিএম পেয়েছেন। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ মামলার রহস্য উদঘাটন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, দক্ষতা, কর্তব্যনিষ্ঠা, সততা ও শৃঙ্খলামূলক আচরণের মাধ্যমে প্রশংসনীয় অবদানের জন্য ২৮ জন পেয়েছেন বিপিএম সেবা পদক এবং ৫৩ জন পেয়েছেন পিপিএম সেবা পদক।
চলতি সপ্তাহ থেকেই দেশব্যাপী ধরপাকড় অভিযান জোরদার করা হচ্ছে।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরম্নদ্ধে দুর্নীতি মামলার রায়ে সাজা হলে দেশ আবার হামলা, ভাঙচুর, জ্বালাও-পোড়াও রাজনীতির ফাঁদে পড়তে পারে। ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলগুলো সংঘাত-সহিংসতায় জড়িয়ে পড়ারও জোরালো আশঙ্কা রয়েছে উন্মুক্ত স্থানে সভা-সমাবেশে অঘোষিত নিষেধাজ্ঞা, মিছিলে বাধা এবং বিভিন্ন মামলায় নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের হিড়িকে বিএনপি-জামায়াতসহ বিরোধী দলগুলো দীর্ঘদিন ধরে কোনঠাসা থাকলেও এবার আরও কঠোর হচ্ছে সরকার। সে লক্ষ্যে কৌশলী নানা ছক এঁটে মধ্য জানুয়ারি থেকে প্রশাসনকে সর্বোচ্চ তৎপরতা চালানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি চলতি সপ্তাহ থেকেই দেশব্যাপী ধরপাকড় অভিযান জোরদার করা হচ্ছে। প্রশাসনিক সূত্রগুলো জানায়, স্বল্প সময়ের মধ্যেই খালেদা জিয়ার বিরম্নদ্ধে চলমান দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে। আর তা তার বিরম্নদ্ধে যাওয়ার বিষয়টিও ক্রমশ পরিষ্কার হয়ে আসছে। এমনটা হলে সরকারবিরোধী এ দলটি স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক উত্তাপ ছড়ানোর চেষ্টা করবে। ঘোষণা হতে পারে সরকারবিরোধী এক দফার কর্মসূচি। সর্বাত্মক কর্মসূচি ঘোষণা করে দলের নেতাকর্মীরা যে কোনো মূল্যে রাজপথে নামার চেষ্টা করবেন। এতে হামলা, ভাঙচুর, জ্বালাও-পোড়াওয়ের রাজনীতির ফাঁদে পড়তে পারে দেশ। টালমাটাল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলগুলো সংঘাত-সহিংসতায় জড়িয়ে পড়ারও জোরালো আশঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়াও এর সঙ্গে আগামী জাতীয় একাদশ নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশের বিষয়টিও অঙ্গাঅঙ্গীভাবে জড়িত। তাই দেশের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই সরকার আগেভাগেই হার্ডলাইনে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে। তবে সরকারের এ কৌশলী পরিকল্পনায় বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের অহেতুক হয়রানি-নির্যাতনের কোনো ছক নেই বলে দাবি করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতনরা। তারা জানান, জঙ্গি দমন, মাদক নির্মূল, আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, সাম্প্রদায়িক শান্ত্মি বিনষ্টে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র বানচাল, রাজনৈতিক আন্দোলনের নামে সৃষ্ট নৈরাজ্য ঠেকিয়ে নির্বাচনী লেভেল পেস্নয়িং ফিল্ড তৈরির লক্ষ্যে সরকার আগাম এ তৎপরতা চালাচ্ছে। এ অভিযানে সরকারি দলের ব্যানারে থাকা চিহ্নিত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, ভূমিদসু্য এবং অস্ত্র ও মাদক ব্যবসায়ীরাও রেহাই পাবে না। এ ব্যাপারে মাঠ প্রশাসনকে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেয়া হবে বলেও নিশ্চিত করেন সংশিস্নষ্ট কর্মকর্তারা। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, গত নভেম্বরের মাঝামাঝিতে এ ব্যাপারে চূড়ান্ত্ম ছক তৈরি করা হলেও রংপুর পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে তা এতোদিন স্থগিত রাখা হয়। তবে সুষ্ঠু পরিবেশে ভোট শেষ হওয়ায় এবার 'অ্যাকশন পস্নান' কার্যকরের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। নানাভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী অস্ত্রধারী পলিটিক্যাল ক্যাডারদেরও এ অভিযানের আওতায় ধরপাকড় করা হবে। বিশেষ করে নানা উস্কানিতে দেশকে অস্থিতিশীল করে তোলার মিশনে নামা ভয়ঙ্কর ষড়যন্ত্রকারীচক্র এবং এর নেপথ্য মদদদাতাদের বিরম্নদ্ধে কঠোর 'অ্যাকশনে' নামার ছক তৈরি করা হয়েছে। পুলিশের এআইজি পদমর্যদার একজন কর্মকর্তা জানান, বিগত সময়ে বিভিন্ন সহিংসতা ও নাশকতার ঘটনায় শুধু সরাসরি অংশগ্রহণকারীদের বিরম্নদ্ধে মামলা করা হলেও এখন থেকে এ ব্যাপারে আরও কঠোর হবে পুলিশ। এ ধরনের ঘটনা দ্রম্নত তদন্ত্ম করে এর নেপথ্য মদদদাতা ও হুকুমদাতাকেও আসামি করা হবে। এতে গোপন বৈঠক করে পলিটিক্যাল গডফাদারদের নাশকতা চালানোর অপতৎপরতা কমবে। বড় ধরনের ধ্বংসযজ্ঞ ঠেকাতে গুলির নির্দেশও দেয়া হবে বলে জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা। এদিকে সরকারের হার্ডলাইনে নামার বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কারো কাছ থেকে সরাসরি কোনো বক্তব্য পাওয়া না গেলেও থানার ওসিরা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এ কর্মপরিকল্পনার নানা কৌশলের কথা জানিয়েছেন। মামলা ও ওয়ারেন্ট মাথায় নিয়ে ঘুরে বেড়ানো রাজনৈতিক ক্যাডারদের গ্রেপ্তারে উপরমহলের জোরালো তাগিদের বিষয়টিও তারা স্বীকার করেছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে মিরপুর জোনের একটি থানার একজন ওসি (তদন্ত্ম) যায়যায়দিনকে জানান, বিএনপি-জামায়াত ও শিবিরসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সক্রিয় নেতাকর্মীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা এরই মধ্যে তারা জোগাড় করেছেন। এদের কার বিরম্নদ্ধে কতটি মামলা রয়েছে, কোনো মামলায় আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আছে কিনা এবং কে কোথায় অবস্থান করছেন- সে তথ্যও তাদের হাতে রয়েছে। ক্যাটাগরিওয়াইজ নেতাদের তিনভাগে ভাগ করে সে তালিকা প্রতিটি থানার সাব-ইন্সপেক্টরদের মধ্যে বণ্টন করে তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। বিএনপি-জামায়াতের কোনো সক্রিয় নেতা ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালি কারো ঘাড়ে ভর করে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে কিনা তা খুঁজে বের করারও নির্দেশনা রয়েছে। পাশাপাশি রাজনৈতিক ক্যাডারদের প্রশ্রয়দাতা পুলিশ কর্মকর্তাদেরও চিহ্নিত করা হবে। বিগত সময়ে বোমাবাজি, নাশকতা ও সহিংসতার সঙ্গে জড়িত কোনো ক্যাডারকে পুলিশ গ্রেপ্তার করার পর ক্ষমতাসীন দলের কোনো নেতা ছাড়িয়ে নেয়ার তদবির করলে তাকেও আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সংশিস্নষ্ট সূত্রগুলো জানায়, এ মিশন সফল করতে থানা পুলিশের সঙ্গে স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি), ডিটেক্টিভ ব্রাঞ্চ (ডিবি) ও ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি)সহ গোয়েন্দা সংস্থা সার্বিক কার্যক্রম সমন্বয় করবে। প্রয়োজনে এ ব্যাপারে রিজার্ভ ফোর্সের সহায়তাও নেয়া হবে। এরই মধ্যে এ প্রস্তুতি চূড়ান্ত্ম করে প্রতিটি থানায় দুই বা ততোধিক বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। প্রতি টিমে একজন পরিদর্শক, দুইজন সাব-ইন্সপেক্টর ও চারজন কনস্টেবল রয়েছে। ডিএমপির একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ক্ষমতাসীন দলের অনেক নেতার সঙ্গেই বিরোধী শিবিরের গোপন আঁতাত রয়েছে। এদের কেউ কেউ গোপন ও প্রকাশ্যে একসঙ্গে একাধিক ব্যবসা চালাচ্ছেন। এমনকি তারা মিলেমিশে টেন্ডারবাজি, ভূমি দখল ও চাঁদাবাজি করছেন। এ তালিকা তৈরির কাজও পুলিশ শেষ পর্যায়ে নিয়ে এসেছে। এ সব 'ডুয়েল পেস্নয়ারদেরও' কঠোর নজরদারিতে রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এদিকে সরকার আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে হার্ডলাইনে নামার কথা বললেও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা এতে ভিন্নমত পোষণ করেছেন। তাদের ভাষ্য, একাদশ জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরেই আবর্তিত হবে চলতি বছরের রাজনীতি। এর মধ্যে খালেদা জিয়ার বিরম্নদ্ধে চলমান দুর্নীতি মামলার রায় সবচেয়ে বড় 'টার্নিং পয়েন্ট' হতে পারে। কেন না এই রায়ের পরই স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে, আগামী দিনের রাজনীতি কোনো দিকে মোড় নেবে। এ মামলার রায় বিএনপি চেয়ারপারসনের বিপক্ষে গেলে যেমন রাজপথ উত্তপ্ত হতে পারে, তেমনি পক্ষে গেলে দলের নেতাকর্মীরা নতুনভাবে চাঙ্গা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি নির্বাচনী যুদ্ধের প্রস্তুতিতে জোরেশোরে মাঠে নামবে বিএনপি। তাই দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রকারী ও জঙ্গি দমন এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের নামে সরকার মূলত প্রশাসনকে দিয়ে বিরোধী দলকে কোনঠাসা করে রাখতে চাইছে। তবে এসব কৌশলিী পরিকল্পনা বাস্ত্মবায়নের চেষ্টা চালিয়ে সরকার তার মূল টার্গেটে আদৌও পৌঁছাতে পারবে কিনা তা নিয়ে রাজনৈতিক বিশেস্নষকদের যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। তাদের মতে, গত দু'বছর ধরে বিএনপি অনেকটা ইতিবাচক রাজনীতি করছে। এমনকি ছোট-বড় রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে নানাভাবে সরকারের রোষানলে পড়লেও তা সয়ে নিচ্ছে। সংঘাত বা সহিংসতা এড়িয়ে তারা সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির দিকে গুরম্নত্ব দিচ্ছে। সর্বশেষ ৫ জানুয়ারি 'গণতন্ত্র হত্যা দিবস' পালনের লক্ষ্যে বিএনপি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করার অনুমতি চেয়ে প্রত্যাখিত হলেও এর প্রতিবাদে কঠোর কোনো কর্মসূচি গ্রহণ করেনি। এর আগে রোহিঙ্গা শিবিরে ত্রাণ দিতে আসা-যাওয়ার পথে খালেদা জিয়ার গাড়ি বহরে হামলা ও নানাভাবে প্রতিবন্ধকতার ঘটনাতেও বিএনপি নীরব ভূমিকা পালন করেছে। এতে দলটি পরোক্ষভাবে লাভবানই হয়েছে। ঠিক একইভাবে নির্বাচনী বছরের শুরম্নতে বিরোধী দলকে চাপে রাখতে সরকার হার্ডলাইনে নামলে এ কৌশল ক্ষমতাসীনদের জন্য বুমেরাং হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। তাদের ভাষ্য, বিএনপিকে ছাড়া ৫ জানুয়ারির নির্বাচন আজও সরকারের জন্য দেশ-বিদেশে একটি কলঙ্কজনক অধ্যায় হিসেবে রয়ে গেছে। সে জন্য বাংলাদেশের আগামী নির্বাচনে দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকদের বিশেষ নজর থাকবে। এ পরিস্থিতিতে বিএনপি-জামায়াতসহ বিরোধী দলগুলোর নেতাকর্মীদের ওপর যত কৌশলেই নির্যাতনের খড়গ নামানো হোক না কেন তাতে সরকারের ইমেজ ক্ষুণ্ন্ন হবে। যার নেতিবাচক প্রভাবে আগামীর নির্বাচনের মাঠে পড়বে। তবে সরকার যেভাবে হার্ডলাইনে নামতে চাইছে তাতে সে চাপ সামাল দিয়ে বিরোধী শিবিরের রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা আদৌ রাজনীতিতে টিকে থাকতে পারবে কিনা তা নিয়ে সন্দিহান অনেকেই। তাদের ধারণা, সরকারবিরোধী রাজনীতিকদের কঠোর চাপে রাখা হলে অনেকেই এ অঙ্গন থেকে সরে দাঁড়াবে। বিশেষ করে অস্ত্রধারী ক্যাডাররা গা ঢাকা দেবে। এতে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক অঙ্গনে এককভাবে দাপিয়ে বেড়ানোর সুযোগ পাবে। তবে এতে আইন শৃঙ্খলাসহ দেশের সার্বিক পরিস্থিতিতে এক ধরণের অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হবে। এমনকি রাজনৈতিক কোনঠাসা দশার সুযোগে নতুন করে জঙ্গিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন অভিজ্ঞ রাজনীতিকরা। আবার কেউ কেউ মনে করেন, সরকারের নানামুখী কঠোর চাপে সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীরা কোনঠাসা না হয়ে বরং প্রচ- ক্ষোভে ফুঁসে ওঠে জ্বালাও-পোড়াও ও ভাঙচুরসহ নানামুখি নৈরাজ্যে জড়িয়ে পড়তে পারে। যা ২০১৪ সালের জানুয়ারির মতো বোমাবাজি, অগ্নিসংযোগ ও হত্যাযজ্ঞের আরও একটি কালো অধ্যায়ের সৃষ্টি করবে।
হয়রানি মুক্ত সেবা পাওয়া জনগণের সাংবিধানিক অধিকার-রাষ্ট্রপতি
হয়রানি মুক্ত সেবা প্রদানে পুলিশের প্রতি রাষ্ট্রপতির আহবান। রাষ্ট্রপতি এম আব্দুল হামিদ সেবা প্রার্থীদের হয়রানিমুক্ত সেবা প্রদানে সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সাথে কাজ করতে পুলিশের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, হয়রানি মুক্ত সেবা পাওয়া জনগণের সাংবিধানিক অধিকার। এ কথা বিবেচনায় রেখে জনগণের জন্য হয়রানি মুক্ত সেবা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি সোমবার পুলিশ সপ্তাহ-২০১৮ উপলক্ষে রাজারবাগ পুলিশ লাইনে বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক নৈশ ভোজসভায় বক্তৃতাকালে এ কথা বলেন। রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ বলেন, দেশের শান্তিপ্রিয় জনগণ সাধারণত থানা অথবা পুলিশের কাছে যেতে চায় না। তারা খুব অসহায় হয়ে পড়লেই তখন বাধ্য হয়ে পুলিশের সাহায্য নেয়। সারাদেশে তৃণমূল পযার্য়ে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রে পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, পুলিশের ওপর যখন জনগণের পূর্ণ আস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে এবং তাদের দুঃসময়ে কাংক্ষিত সেবা পাবে, তখনি তারা মনে করবে পুলিশ তাদের বন্ধু। তিনি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, পুলিশ সন্ত্রাসী ও জঙ্গি তৎপরতা দমনে, অপরাধীদের আটক করতে এবং স্পর্শকাতর মামলার চার্জ শিট দ্রুত প্রদানের পাশাপাশি সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। রাষ্ট্রপতি বলেন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রেখে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দেশের অগ্রগতি প্রসঙ্গে আবদুল হামিদ বলেন, আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি ও জননিরাপত্তা বিঘিত হলে উন্নয়ন থেমে যাবে, মানুষ অনিরাপদ বোধ করবে, বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হবে এবং সামগ্রিকভাবে অর্থনৈতিক অবস্থার অবনতি ঘটবে। তিনি বলেন, সংবাদপত্রের প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, ক্রমান্বয়ে সাইবার অপরাধ বাড়ছে এবং অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বেশির ভাগই কিশোর ও তরুণ প্রজন্ম। মাদকাসক্তি ও মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার তরুণদের অপরাধের দিকে ধাবিত করছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি অবৈধ মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স নীতি’ বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন। রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করে যে, দেশ ও দেশের মানুষের আকাংখা পূরণে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে বাংলাদেশ পুলিশের প্রতিটি সদস্য সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, আন্তরিকতা ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবে। বক্তব্যের শুরুতেই রাষ্ট্রপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মুক্তিযুদ্ধে শহীদ দেশপ্রেমিক সৈনিকগণ বিশেষ করে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে নৃশংসভাবে নিহত পুলিশ সদস্য এবং বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আত্মত্যাগী লোকদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামাল এমপি, জননিরাপত্তা বিভাগের সচি মোস্তফা কামার উদ্দিন, মহাপুলিশ পরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক, ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাগণ এবং রাষ্ট্রপতির সংশ্লিষ্ট সচিবগণ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে ওয়ার্ল্ড এক্সপো-২০২৫এর আয়োজক দেশ হতে সমর্থন চেয়েছে ফ্রা
ওয়ার্ল্ড এক্সপো-২০২৫-এর আয়োজক দেশ হতে বাংলাদেশের সমর্থন চেয়েছে ফ্রান্স। আজ রোববার সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এই সমর্থন চান ফ্রান্স সরকারের বিশেষ দূত ও ওয়ার্ল্ড ট্রেড অর্গানাইজেশনের সাবেক মহাপরিচালক প্যাসকেল লামি। এ সময় তাঁকে এ বিষয়ে সমর্থন দেওয়ার আশ্বাস দেন শেখ হাসিনা। সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এহসানুল করিম। এ সময় কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির প্রশংসা করেন প্যাসকেল লামি। আর ফ্রান্স সফরের সময়ে দেশটির প্রেসিডেন্টের আতিথেয়তার প্রশংসা করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে সমুদ্রসম্পদ ব্যবহার করে ব্লু ইকোনমিতেও অগ্রগতি অর্জনের চেষ্টা করছে। এ জন্য ফ্রান্সের সহায়তাও চান প্রধানমন্ত্রী। ওয়ার্ল্ড এক্সপো-২০২৫-এর আয়োজক হতে চায় আরো তিনটি দেশ। এগুলো হলো জাপান, রাশিয়া ও আজারবাইজান। চলতি বছরের নভেম্বরে ব্যুরো ইন্টারন্যাশনাল দেস এক্সপজিশনসের ১৬৪তম বার্ষিক সাধারণ সভায় আয়োজন দেশ নির্বাচনে ভোট দেবে সংস্থার ১৭০ সদস্য রাষ্ট্র। আর এর মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে কোন দেশ ২০২৫ সালের ওয়ার্ল্ড এক্সপোর আয়োজক হবে, সে বিষয়টি।
১৯তম জাতীয় সংসদ অধিবেশন শুরু রাষ্ট্রপতির সূচনা ভাষণের মধ্যদিয়ে
রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ স্বাধীনতা সমুন্নত ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুজ্জ্বল রাখতে দেশ থেকে সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ সম্পূর্ণরূপে নির্মূলের মাধ্যমে শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলতে বাঙালী জাতিকে আবারও ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, একাত্তরের শহীদানদের কাছে আমাদের অপরিশোধ্য ঋণ রয়েছে, ধর্মবর্ণগোত্র নির্বিশেষে এবং দলমতপথের পার্থক্য ভুলে জাতির গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা ও দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ত্বরাম্বিত করার মধ্য দিয়ে আসুন আমরা লাখো শহীদের রক্তের ঋণ পরিশোধ করি। স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে রবিবার ১৯তম জাতীয় সংসদ অধিবেশনের সূচনা দিনে প্রদত্ত ভাষণে রাষ্ট্রপতি আরও বলেন শান্তি, গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি অর্জনের যে পথ আমরা পরিক্রমণ করছি, তা আমাদের বহুদূর এগিয়ে নিয়ে যাবে। বিশ্বসভায় ইতোমধ্যে অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও সামাজিক অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি অর্জনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ একটি সম্মানজনক অবস্থানে সমাসীন হয়েছে এবং অচিরেই একটি উন্নত দেশ হিসাবে আপন মহিমায় উদ্ভাসিত হবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস। ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে বাংলাদেশ মধ্য-আয়ের দেশে পরিণত হবে এবং ২০৪১ সালে বিশ্বসভায় একটি উন্নত দেশের মর্যাদায় অভিষিক্ত হবে, এটাই জাতির প্রত্যাশা। আমি দৃঢ়ভাবে আশাবাদী- সুশাসন ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক রূপায়ন এবং সমাজের সকল স্তরে প্রত্যক্ষ জনসম্পৃক্তির মধ্য দিয়ে আমরা নির্ধারিত লক্ষ্যসমূহ অর্জনসহ একটি আদর্শ সমাজভিত্তিক কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনে সক্ষম হব। সরকার ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের উপস্থিতিতে সন্ধ্যা ৬টায় কালো হাল্কা এ্যাশ কালারের স্যুট-প্যান্ট ও লাল টাই পরিহিত রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ সংসদ অধিবেশনে প্রবেশের সময় বিউগলে তার আগমনী বার্তা বাজানো হয়। অধিবেশন কক্ষে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে এ সময় বিউগলে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। অধিবেশনে প্রবেশ করেই রাষ্ট্রপতি স্পীকারের ডান পাশে রাখা নির্ধারিত আসনে আসন গ্রহণ করেন। এরপর ৬টা ৫ মিনিটে রাষ্ট্রপতি ১৫৭ পৃষ্ঠাব্যাপী ভাষণের সংক্ষিপ্তসার তাঁর ভাষণে উত্থাপন করেন। টানা প্রায় এক ঘণ্টা ১০ মিনিটের ভাষণের সময় মাঝে মাঝেই সরকার ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা তুমুল টেবিল চাপড়িয়ে রাষ্ট্রপতিকে উজ্জীবিত রাখেন। ভিভিআইপি লাউঞ্জেও দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ, কূটনীতিক এবং ও সামরিক- বেসামরিক উর্ধতন কর্মকর্তা উপস্থিত থেকে রাষ্ট্রপতির ভাষণ প্রত্যক্ষ করেন। রাষ্ট্রপতি তাঁর ভাষণে বর্তমান সরকারের গত চার বছরের উন্নয়ন-সফলতাগুলো বিস্তারিতভাবে দেশবাসীর সামনে তুলে ধরেন। সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় রাষ্ট্রপতি তাঁর ভাষণ শেষ করেন। টেবিলে উত্থাপিত তাঁর পূর্ণাঙ্গ ভাষণটি সংসদীয় কার্যক্রমে পঠিত বলে গণ্য করা হয়। ভাষণ শেষে বিউগলে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতি সংসদ অধিবেশন ত্যাগ করেন। এরপর স্পীকার সংসদ অধিবেশন আগামীকাল মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করেন। রাষ্ট্রপতি তাঁর ভাষণের শুরুতেই দেশবাসীকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু, জাতীয় চার নেতা এবং মুক্তিযুদ্ধে শহীদ সকল মুক্তিযোদ্ধাকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে বলেন, বাংলাদেশ সংবিধান সমুন্নত এবং সংসদীয় গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত রেখে ২০১৪ সালে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে দশম জাতীয় সংসদ গঠিত হয় এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের ওপর দেশ পরিচালিনার গুরুদায়িত্ব অর্পিত হয়। গত মহাজোট সরকারের ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার রূপকল্প- ২০২১দিন বদলের সনদ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আলোকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত একটি প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক ও জ্ঞানভিত্তিক ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আপ্রাণ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে একটি মধ্য-আয়ের দেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকারের নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টা ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছে। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে নিমধ্য-আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে। এখন জাতির দৃষ্টি নিবদ্ধ হয়েছে ২০৪১ সালের দিকে- বিশ্বসভায় একটি উন্নত দেশের মর্যাদায় অভিষিক্ত হওয়ার মানসে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, সরকার উন্নয়নের এ ধারা অব্যাহত রেখে জাতির আকাক্সক্ষা পূরণে সফল হবে। রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, বর্তমান সরকারের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণ। এ লক্ষ্য অর্জনে সরকার দারিদ্র্যনিরসন এবং বৈষম্য দূর করে আর্থসামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রথমবারের মতো দীর্ঘমেয়াদি রূপকল্প হিসেবে বাংলাদেশ প্রেক্ষিত পরিকল্পনা এবং মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনা হিসেবে পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং বাস্তবায়ন করা। এর ধারাবাহিকতায় ২০১৫-২০ মেয়াদে প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিতকরণ, দারিদ্র্য হ্রাস ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে জনগণের ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়, যা বর্তমানে বাস্তবায়নাধীন। তিনি বলেন, এই পরিকল্পনায় গড়ে বার্ষিক ৭ দশমিক ৪ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা ২০২০ সাল নাগাদ ৮ শতাংশে পৌঁছবে। সহরাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য (এমডিজি)র অনর্জিত লক্ষ্যসমূহ শনাক্তকরণসহ টেকসই উন্নয়ন অভীষ্টসমূহ সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করে তা অর্জনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এ সকল পরিকল্পনার মৌলিক উদ্দেশ্য হলো উচ্চতর প্রবৃদ্ধি অর্জনের মাধ্যমে ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি মধ্য আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত দেশে উন্নীতকরণ। সরকার কর্তৃক এ সকল কার্যক্রম গ্রহণের ফলে জনগণের আর্থসামাজিক অবস্থার দৃশ্যমান উন্নয়ন ঘটছে এবং বাংলাদেশ প্রশংসনীয় অগ্রগতি অর্জন করে যাচ্ছে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, সরকার নির্ধারিত সময়ের পূর্বেই কাক্সিক্ষত লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম হবে। সংসদ প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি বলেন, জাতীয় সংসদ দেশের জনগণের আশা-আকাক্সক্ষার কেন্দ্রবিন্দু। বর্তমান সরকার সার্বিক আর্থসামাজিক উন্নয়নে অর্ভূতপূর্ব গতিশীলতা সঞ্চারণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে একটি উন্নত ও আলোকিত দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নিরন্তর ঐকান্তিক প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, পরমতসহিষ্ণুতা, মানবাধিকার ও আইনের শাসন সুসংহতকরণ এবং জাতির অগ্রযাত্রার স্বপ্ন ও আকাক্সক্ষার সফল বাস্তবায়নে সরকারি দলের পাশাপাশি বিরোধী দলকেও গঠনমূলক ভূমিকা পালন করতে হবে। আমি জনগণের প্রত্যাশা পূরণের প্রতিষ্ঠান জাতীয় সংসদে সরকার ও বিরোধী দলসহ সকলকে সম্মিলিতভাবে যথাযথ ও কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানাই।
জনগণের আস্থা অর্জনের নিরন্তর প্রচেষ্টাও এ বাহিনীর প্রতিটি সদস্যের থাকতে হবে : প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশের উন্নয়ন, প্রগতি এবং মানুষের শান্তি, নিরাপত্তা ও সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ পুলিশকে নিরপেক্ষতার মূর্ত প্রতীক হতে হবে। সেবা প্রত্যাশীদের সর্বোত্তম আইনগত সহায়তা দিয়ে জনগণের আস্থা অর্জনের নিরন্তর প্রচেষ্টাও এ বাহিনীর প্রতিটি সদস্যের থাকতে হবে। তিনি দৃঢ় আস্থা প্রকাশ করে বলেন, পুলিশের প্রতিটি সদস্য স্বীয় দায়িত্ব সঠিকভাবে পালনের মাধ্যমে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরো উজ্জ্বল করবেন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হৃদয়ে ধারণ করে সেবা, ত্যাগ ও দেশপ্রেমের মন্ত্রে উদ্বুদ্ধ হয়ে ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত, সমৃদ্ধ জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ বিনির্মাণে সচেষ্ট হবেন। প্রধানমন্ত্রী পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে আজ দেয়া এক বাণীতে একথা বলেন। আগামীকাল ৮ জানুয়ারি থেকে পুলিশ সপ্তাহ শুরু হচ্ছে। বাণীতে তিনি বলেন, সরকার বাংলাদেশ পুলিশকে একটি দক্ষ, জনবান্ধব ও প্রতিশ্রুতিশীল বাহিনীতে উন্নীত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। পুলিশের জনবল বৃদ্ধি, প্রযুক্তির সংযোজন, যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ, বিশেষায়িত নতুন নতুন ইউনিট গঠনসহ বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন,জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ দমনে আমরা পুলিশ এন্টি টেররিজম ইউনিটগঠন করা হয়েছে। বিভিন্ন ইউনিটে প্রতিনিয়ত নারীর অন্তর্ভুক্তি বাড়ানো হচ্ছে। তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে অপরিসীম ত্যাগ ও বীরত্বগাঁথার ইতিহাসকে ধারণ করে সগৌরবে এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ পুলিশবাহিনী। দেশের অভ্যন্তরীণ শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন এবং গণতন্ত্র ও মানবাধিকার সমুন্নত রাখতে এই বাহিনী উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করছে। জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ দমনে পুলিশের সাফল্য দেশে-বিদেশে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ পুলিশের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা বিশ্ব দরবারে দেশের ভাবমূর্তি আরো উজ্জ্বল করেছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উদাত্ত আহ্বানে সাড়া দিয়ে পুলিশবাহনীর সদস্যগণ ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চের ভয়াল রাতে পাকিস্তান হানাদারবাহিনীর বিরুদ্ধে সর্বপ্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন উল্লেখ করে তিনি বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে ও বিভিন্ন সময়ে দেশের জন্য আত্মোৎসর্গকারী দেশপ্রেমিক বীর পুলিশ সদস্যদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
সারাবিশ্ব এদেশের অভূতপূর্ব উন্নয়ন ও অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করে প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছে: পলক
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এমপি বলেছেন, বাংলাদেশ এখন বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল। সারাবিশ্ব এদেশের অভূতপূর্ব উন্নয়ন ও অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করে প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী শনিবার দুপুরে সিংড়া উপজেলার নিংগইন জোড়মল্লিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৫০বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। শিক্ষা আর প্রযুক্তির সমন্বয়ে দেশের কার্যকরি উন্নয়ন পরিকল্পনার সুফল পেতে শুরু করেছে মানুষ এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন হয়েছে। প্রযুক্তির ছোঁয়ায় দেশের কৃষি এখন অনেক সমৃদ্ধ। কৃষকেরা এখন ফসলের ন্যায্য মূল্য পান। গ্রামীণ জনপদ এখন বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত। মন্ত্রী বলেন, এর সবই সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকার কারণে।নিংগইন জোড়মল্লিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি অধ্যাপক আতিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, সিংড়া পৌরসভার মেয়র জান্নাতুল ফেরদৌস, সিংড়া দমদমা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ আশরফুল ইসলাম তারা, রবীন্দ্র গবেষক ড. আশরাফুল ইসলাম ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জয়নাল আবেদিন।
বুলেটের মাধ্যমে নয়, ব্যালটে ক্ষমতা বদল হবে: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ৫ জানুয়ারির নির্বাচন ভোটারবিহীন বলে অভিযোগ উত্থাপনকারীদের কঠোর সমালোচনা করে বলেছেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন কোনভাবেই ভোটারবিহীন ছিল না। শত বাধা ও খালেদা জিয়ার জ্বালাও-পোড়াও এবং আগুনে শত শত মানুষ হত্যার মধ্যেও শতকরা ৪০ ভাগেরও বেশি ভোট পড়েছে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে। জনগণ ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়েছে বলেই আমরা আজ সরকারের চতুর্থ বছর পূর্ণ করছি। আওয়ামী লীগ জনগণের ভোটেই নির্বাচিত। খালেদা জিয়া ওই সময় দেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাই যেন না থাকে সেই চেষ্টা ও ষড়যন্ত্রই করেছিল। কিন্তু জনগণ তা সফল হতে দেয়নি। নির্বাচন হয়েছে বলেই উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে। শনিবার রাতে গণভবনে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে সূচনা বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বিএনপি-জামায়াত জোটের কঠোর সমালোচনা করে আরও বলেন, বিএনপি এখন কথায় কথায় গণতন্ত্রের কথা বলে। অনেকে বলে বিএনপি বহুদলীয় গণতন্ত্র দিয়েছে। তারা জনগণকে গণতন্ত্র দেয়নি। গণতন্ত্র দিয়েছে স্বাধীনতা বিরোধী, রাজাকার, আলবদর, বঙ্গবন্ধুর খুনীদের। যাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা ছিল তাদের রাজনীতি করার অধিকার দিয়েছে। বঙ্গবন্ধুর খুনীদের পুরস্কৃত করেছে। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, জিয়াউর রহমান কিভাবে ক্ষমতায় এসেছে? কিন্তু কোন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বিএনপির জন্ম? অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে জেনারেল জিয়া রাষ্ট্রপতি সায়েমকে অস্ত্র দিয়ে ভয় দেখিয়ে নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করেছিল। সাবেক রাষ্ট্রপতি সায়েম সাহেব তার লেখা বইতেই সবকিছু লিখে গেছেন। যে দলটির জন্মই অবৈধভাবে সেই দলটির নেতারা গণতন্ত্রের বুলি আওড়ান কীভাবে? ৫ জানুয়ারি নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশের কিছু লোক আছে যারা যেনতেনভাবেই ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে ভোটারবিহীন নির্বাচন বলার চেষ্টা করেন। এই নির্বাচনকে বানচাল করার নামে খালেদা জিয়ারা নির্বিচারে পুড়িয়ে পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করেছে, শত শত ভোট কেন্দ্রে আগুন দিয়েছে, প্রিসাইডিং অফিসারকে পর্যন্ত পুড়িয়ে হত্যা করেছে। কিন্তু এত বাধার মধ্যেও জনগণ সবকিছু প্রতিহত করে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়েছে। ৪০ ভাগেরও বেশি ভোট পড়েছে। জনগণ ভোট দিয়েছে বলেই আওয়ামী লীগ চার বছর ক্ষমতায় আছে। এরশাদ ও খালেদা জিয়ার আমলের নির্বাচনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কই ৮৮ সালে এরশাদ তো ভোটারবিহীন নির্বাচন করে ক্ষমতায় থাকতে পারেনি। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ভোটারবিহীন নির্বাচন করে খালেদা জিয়া দেড় মাসও ক্ষমতায় থাকতে পারেননি। জনগণের আন্দোলনের মুখে তিনি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার মানসিক সমস্যা দেখা দিল কি-না, সেটাও বলতে পারছি না। পরীক্ষা করে দেখা দরকার, তার মাথা ঠিক আছে কি-না। পদ্মা সেতু নিয়ে খালেদা জিয়ার অভিযোগের জবাবে তিনি বলেন, আমরা নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু করছি। খালেদা বলেছেন, পদ্মা সেতু নাকি জোড়াতালি দিয়ে করা হচ্ছে। তিনি মানুষকে পদ্মা সেতুতে উঠতে মানা করেছেন। আমরা দেখব, খালেদা এবং বিএনপি নেতারা পদ্মা সেতুতে ওঠেন কি-না। খালেদা জিয়া অনবরত অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, এই মহিলা কত মিথ্যা কথা বলে। তার পা থেকে মাথা পর্যন্ত সব কিছু মিথ্যাতে ভরা। মাথার চুল থেকে পা পর্যন্ত সব কিছু নকল। মিথ্যা কথা বলে, সবকিছু মিথ্যা ও জালিয়াতি করে। এখন আবার বলছেন, আমাদের নৌবাহিনীর জন্য আনা সাবমেরিন ফুটো হয়ে গেছে। এটা পানির নিচে ডুবে গেছে! সেনাবাহিনীর বউ (খালেদা জিয়া) হয়েও এটা বোঝেন না যে, সাবমেরিন ডুবে যায় না, এটা পানির নিচে যায়। জানি না এই কথা শোনার পর আমাদের নৌবাহিনীর সদস্যরা কী বলবেন। আর দেশের জনগণই বা কী বলবে। বুঝতেছি না, তার মাথায় কিছু আছে কি না। তিনি বলেন, খালেদা শুধু একটা বিষয়ই ভাল বোঝেন তা হলো লুটপাট, অর্থ বানানো, ধ্বংস, মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা। তিনি এগুলোই কেবল বোঝেন, আর কিছু বোঝেন না। খালেদা জিয়ার টুইট বার্তার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়া টুইট করেছেন, আওয়ামী লীগ বুলেটে বিশ্বাস করে, আর তিনি ব্যালটে বিশ্বাস করেন! আমি ৮১ সালে দেশে ফিরে বলেছিলাম, ক্ষমতা বদল হবে বুলেটে নয়, ব্যালটে। বুলেটের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেছে জিয়া, তার স্ত্রী তার থেকে আরও একধাপ এগিয়ে দেশ বিক্রির প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। বুলেটে-বন্দুকের নলে যারা ক্ষমতায় এসেছে, তাদের মুখে এ কথা শোভা পায় না। আর জানি না, টুইট তিনি নিজে লিখেছেন, নাকি কাউকে দিয়ে লেখিয়েছেন, সন্দেহ। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া ভোটারবিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর খুনীদের সংসদে এনে বিরোধী দলের আসনে বসিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুর খুনী হুদা যার ফাঁসি হয়েছে, সেই হুদাকে পর্যন্ত এমপি বানিয়ে সংসদে বসিয়েছিলেন বিএনপি নেত্রী। ভোটারবিহীন নির্বাচন জিয়া-এরশাদ-খালেদা জিয়ারাই করেছেন। বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার দেয়া উকিল নোটিসের জবাব দেয়া হবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তার গোটা পরিবারের সম্পদের হিসাব বের করেছে আন্তর্জাতিক মিডিয়া। আর এটা বললাম কেন, এজন্য আমাকে নোটিস দেন। এ রকম নোটিস বহু দেখেছি। সময়মতো এই নোটিসের জবাব দেব। খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, যদি সৎসাহস থাকে, সত্যি কোন অপরাধ করে না থাকেন, যেসব মিডিয়া খবর দিয়েছে, তাদের নোটিস দিন। তাদের প্রতিবাদ জানান। তাহলে বোঝা যাবে, সততার একটা শক্তি আছে। তিনি সেটাও পারেননি। এ প্রসঙ্গে সরকার প্রধান আরও বলেন, খালেদা জিয়ার গোটা পরিবারের সম্পদের যে হিসাব এসেছে, তা তো বাংলাদেশের কেউ বের করেনি। এটা তো আন্তর্জাতিকভাবে বেরিয়েছে। বিভিন্ন মিডিয়া বের করেছে। সেখান থেকে খবর এসেছে। সেই কথাটি বললাম কেন, এজন্য আমাকে আবার নোটিস দেন। নোটিস আমাকে দেবেন কেন? যেসব মিডিয়া এগুলো বের করেছে, যেসব দেশের সরকার এই তথ্যগুলো দিয়েছে, সেখানে তো নোটিস দিতে যাননি। সেখানে নোটিস দিয়ে বা তাদের কাছে প্রতিবাদ জানালে না হয় সত্যতা বুঝতাম। সব অন্তর্জ্বালা আমাকে দিয়ে মেটাতে চান বিএনপি নেত্রী। কারণ তিনি ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা করে আমাকে হত্যা করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু পারেননি। ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতার সেই ঐতিহাসিক ভাষণ আজও জাতিকে অনুপ্রাণিত ও স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ করে। বিশ্বের আড়াই হাজার বছরের ইতিহাসে যতগুলো ভাষণ রয়েছে এর মধ্যে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ শ্রেষ্ঠ ভাষণ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। ব্রিটিশ সাংবাদিক, লেখক ও গবেষক জ্যাকব এফ ফিল্ড বিশ্বের আড়াই হাজার বছরের বিভিন্ন শ্রেষ্ঠ ভাষণ নিয়ে গবেষণা করে একটি বই বের করেছেন। ওই বইয়ে আড়াই হাজার ভাষণের মধ্যে মাত্র ৪১টি ভাষণ স্থান পেয়েছে। আর ওই ৪১ ভাষণের মধ্যে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ অন্যতম ভাষণ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর সেই শ্রেষ্ঠ ভাষণ আজ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে। ইউনেস্কো বঙ্গবন্ধুর সেই ঐতিহাসিক ভাষণকে ওয়ার্ল্ডস ডকুমেন্টারি হেরিটেজহিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এই স্বীকৃতি বাঙালী জাতির জন্য অত্যন্ত গৌরবের ও মর্যাদার বিষয়। স্বাধীনতা পরবর্তী বিভিন্ন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর মাত্র সাড়ে তিন বছর দেশ পরিচালনার সুযোগ পেয়েছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু। একটি প্রদেশকে রাষ্ট্রে উন্নীত করা ছিল অত্যন্ত কঠিন কাজ। যুদ্ধের ভয়াবহতা কাটিয়ে একটি যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশকে বঙ্গবন্ধু মাত্র অল্প সময়ের মধ্যে গড়ে তুলেছিলেন। দেশকে গড়ে তোলার পাশাপাশি বাংলাদেশ যখন অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছিল তখনই বাঙালীর জীবনে সবচেয়ে বড় আঘাত আসে। তিনি বলেন, পরাজিত পাকিস্তানসহ আমাদের স্বাধীনতার যারা বিরোধী ছিল সেসব বড় বড় দেশের পাশাপাশি একাত্তরের পরাজিত স্বাধীনতাবিরোধী এদেশীয় শত্রুরা নানা চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছিল। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে দেশকে আবার পিছিয়ে দেয়া হয়। তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় এদেশীয় রাজাকার-আলবদর-আলশামসরা যদি বেইমানী, মোনাফেকী ও গাদ্দারি না করত তবে পাক হানাদারদের পক্ষে এতো শহর-বন্দর-গ্রাম জ্বালিয়ে দেয়া বা গণহত্যা চালানো সম্ভব ছিল না। সূচনা বক্তব্যের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের রুদ্ধদ্বার বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকের শুরুতেই প্রারম্ভিক বক্তব্য রাখেন দলের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। শোক প্রস্তাব উত্থাপন করেন দফতর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ। এরপর অনেক রাত পর্যন্ত অনুষ্ঠিত বৈঠকে আগামী নির্বাচন, সারাদেশে সাংগঠনিক সফরের মাধ্যমে দলকে শক্ত সাংগঠনিক শক্তির ওপর দাঁড় করানোর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে আগামী ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস এবং ১২ জানুয়ারি বর্তমান সরকারের মেয়াদের চতুর্থ বর্ষ পূর্তির দিনটি জাঁকজমকভাবে পালনের সিদ্ধান্ত হয় বলে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে।

জাতীয় পাতার আরো খবর