পরিবেশ দূষণে দেশে বছরে লোকসান ৫২ হাজার কোটি টাকা
অনলাইন ডেস্ক: পরিবেশ দূষণের কারণে দেশে প্রতিবছর ৫২ হাজার কোটি টাকার লোকসান হয় বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, বাংলাদেশে বছরে যেসব মানুষ মারা যায় তার ২৮ শতাংশই পরিবেশ দূষণের কারণে। রোববার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে বিশ্বব্যাংক আয়োজিত বার্ষিক মূল্যায়ন প্রতিবেদন অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানানো হয়। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়, পরিবেশ দূষণে বাংলাদেশ অনেক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দেশটিতে বছরে আর্থিক ক্ষতি হয় ৫২ হাজার কোটি টাকা। বিশ্বে যেসব মানুষ মারা যান তার ১৬ শতাংশ পরিবেশ দূষণের কারণে। যেখানে বাংলাদেশে এ হার প্রায় দুই গুণ। দেশটিতে এ হার ২৮ শতাংশ। ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০১৫ সালে বাংলাদেশের শহর অঞ্চলে ৮০ হাজার মানুষ পরিবেশ দূষণের কারণে মারা যান। এ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- বন ও পরিবেশ মন্ত্রী মো. আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর রাজশ্রী পারালকার প্রমুখ।
প্রতি উপজলায় হবে টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ
অনলাইন ডেস্ক: দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে সরকার প্রত্যেক উপজেলায় একটি করে টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ স্থাপনের প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুন্দর আগামীর জন্য ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারসহ সকলকে নিবেদিত প্রাণ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতি উপজেলায় একটি করে টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ স্থাপনের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ১০০টির কাজ শুরু করা হয়েছে।’ এছাড়া ৪টি সরকারি মহিলা পলিটেকনিক ও ২৩টি বিশ্বমানের নতুন পলিটেকনিক স্থাপনে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কাজ করে যাচ্ছে। খবর বাসস’র শেখ হাসিনা আজ সকালে গণভবনে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (আইডিইবি) ২২তম জাতীয় কনভেশনের উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন। তিনি বলেন, ‘কি পেলাম, কি পেলাম না, তার চিন্তা না করে আগামী প্রজন্ম যেন সুন্দর জীবন পায় সেই লক্ষ্য নিয়ে আমাদের দেশকে আগে গড়ে তুলতে হবে। এক্ষেত্রে সকলকে নিবেদিত প্রাণ হয়ে কাজ করার জন্য আমি আহ্বান জানাচ্ছি।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেক বছর আমাদের নষ্ট হয়ে গেছে, ’৭৫ থেকে ’৯৬-২১ টি বছর হারিয়ে গেছে। যে সময়টা প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের কোন উন্নতিই হয়নি। উন্নতি হয়েছে ক্ষমতাসীনদের এবং তাদের ঘিরে থাকা মুষ্টিমেয় গোষ্ঠীর। বৃহৎ জনগোষ্ঠী কিন্তু বঞ্চিতই ছিল। সরকার প্রধান বলেন, এই বঞ্চিত মানুষকে বঞ্চনার হাত থেকে মুক্তি দেয়াই আমি মনে করি আমার দায়িত্ব। বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা এই দেশকে স্বাধীন করেছি তাই একে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত সোনার বাংলাদেশ হিসেবেই আমরা গড়ে তুলবো। আইডিইবি সভাপতি প্রকৌশলী একেএমএ হামিদ অনুষ্ঠানে সভাপত্বি করেন। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. শামসুর রহমান সম্মেলনের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থল থেকে কাকরাইল আইডিইপি ভবনের উর্ধ্বমূখী সম্প্রসারণ কাজ এবং ভবনটির সম্মুখে রক্ষিত স্বাধীনতা ও বঙ্গবন্ধু ভাস্কর্যেও উদ্বোধন করেন। প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে একজন মরণোত্তরসহ তিনজনকে এ বছরের আইডিইবি স্বর্ণপদক প্রদান করেন। স্বর্ণপদক প্রাপ্তরা হচ্ছেন- আব্দুল কাদের সরকার, সৈয়দ উদ্দীন আহমেদ ওরফে চলচ্চিত্র নির্মাতা ছোটকু আহমেদ এবং মরহুম মো. সফর আলী মিয়া (মরণোত্তর)। স্বর্ণপদক প্রাপ্তরা প্রত্যেকে প্রধানমন্ত্রীর নিকট থেকে পদক, ত্রেস্ট ও সার্টিফিকেট গ্রহণ করেন এবং মরহুম সফর আলী মিয়ার পক্ষে তাঁর বড় ছেলে এটিএম মোজাহারুল হোসেন পদক গ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে মন্ত্রী পরিষদ সদস্যবৃন্দ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাবৃন্দ, সংসসদস্যবৃন্দ, সরকারের পদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ, আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষাবিদ, বিদেশি কূটনৈতিক এবং উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ, আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ এবং ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এরআগে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে সারা দেশের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের সংগঠন আইডিইবি’র তিনদিন ব্যাপী ২২ তম জাতীয় কনভেনশন উদ্বোধন করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা সেই পাকিস্তান আমল থেকেই বাংলার মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সংগ্রাম শুরু করেন। তাঁর ২৩ বছরের সংগ্রামের মধ্যদিয়ে আজকে আমরা স্বাধীন জাতি। তিনি যেই মুহূর্তে এই স্বাধীনতার সুফল বাংলার মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেয়ার চেষ্টা করছেন ঠিক তখনই তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। তিনি বলেন, ছয় বছর দেশে আসতে পারিনি, আমাদের দেশে আসতে দেয়া হয়নি। ’৮১ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আমাকে সভানেত্রী নির্বাচিত করলে আমি এক প্রকার জোর করেই দেশে ফিরে এলাম। তার পর থেকেই আমার প্রচেষ্টা এই স্বাধীনতাকে অর্থবহ করতে হবে। বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য গড়তে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, কি পেলাম, কি পেলাম না সে চিন্তা না আমি কখনো করিনি। ছেলে-মেয়েকে বললাম একটাই সম্পদ দেব- সেটা হচ্ছে শিক্ষা, তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করবে, আর কোন সম্পদ নয়। শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের জনগণের জন্য কাজ করতে হবে। তাই ছোট ছোট বাচ্চা, ১০ বছরের ছেলে, ৮ বছরের মেয়েকে স্নেহবঞ্চিত করে চলে এসেছিলাম বাংলার মানুষের পাশে দাঁড়াতে। কারণ, বাংলার মানুষ শোষিত, বঞ্চিত, নির্যাতিত ছিল এবং আমরা পরিকল্পিভাবে পদক্ষেপ নিয়েছি দেখেই আজকে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ। আমাদের সামনে অনেক দূর যেতে হবে সে পরিকল্পনাও আমরা নিয়েছি। সরকারি কর্মচারিদের বেতন ১২৩ ভাগ বৃদ্ধির প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রত্যেকের কাজের সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি করে দিয়েছি, কর্মক্ষেত্রে কাজের পরিবেশ যাতে সুন্দর হয় সে ব্যবস্থা আমরা করেছি এবং সর্বোপরি এত বেশি প্রকল্প আমরা হাতে নিয়েছি এবং কাজ করে যাচ্ছি যার সুফল বাংলাদেশের জনগণ পাচ্ছে। অনুষ্ঠানে প্রকৌশলীদের একটা ইনক্রিমেন্টের দাবির প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, সরকারি কর্মচারিদের যে হারে বেতন বাড়িয়েছি তাতে আর কিছু দাবি না করাই উচিত ছিল। তারপরও আপনাদের ইনক্রিমেন্টের ব্যাপারে অর্থ মন্ত্রণালয়ে একটা বৈঠক হয়েছে। এ ব্যাপারে শিগগিরই একটি ভালো ঘোষণা আসতে পারে। দক্ষ মানবসম্পদের চেয়ে কোন সম্পদই বড় নয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা এজন্য জনশক্তিকে জনসম্পদে পরিণত করার জন্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, কারিগরি শিক্ষা বিষয়ে ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছি। তিনি বলেন, গত সাড়ে ৯ বছরে দেশব্যাপী সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে প্রায় ৫০০ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। দেশের বিভিন্ন জেলায় ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ ও ইউনিভার্সিটি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ করা হয়েছে। ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং-এ অনলাইনে ভর্তি পদ্ধতির পাশাপাশি সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটগুলোতে ডাবল শিফট চালু করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ক্যাপাসিটি ২৫ হাজারের স্থলে ১ লাখে উন্নীত করার জন্য প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। তাঁর সরকার এমডিজি বাস্তবায়নে সফল হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ৭ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার আলোকে আমরা এসডিজির বিভিন্ন অভীষ্ট অর্জনে কাজ করে যাচ্ছি। ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি অর্জনেও আমরা সফল হব, ইনশাআল্লাহ। তিনি বলেন, আমরা শত বছরের ডেল্টা প্ল্যান বা বদ্বীপ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। ২১০০ সালের ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়নের মাধ্যমে এক টেকসই উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে। বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছে উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, আর্থ-সামাজিক সূচকে আমরা উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছি। মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পেয়ে ১ হাজার ৭৫২ মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৭৮ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি ও সামাজিক সুরক্ষা বলয় সৃষ্টির ফলে দারিদ্র্যের হার হ্রাস পেয়ে ২২ শতাংশে নেমে এসেছে। ‘রাজধানীর ওপর যেন চাপ কমে সেই চেষ্টা করা হচ্ছে’ উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘গ্রামগুলোকে আরও উন্নত করতে পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে, শহরের সকল সুযোগ-সুবিধা গ্রামে পৌঁছানো হবে। গ্রামেও যেন মানুষ উন্নত বাড়িঘর করতে পারে সেজন্য ঋণ সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।’ ঢাকাকে আধুনিক নগর হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পুরো ঢাকাজুড়ে আমরা সার্কুলার রোড করবো, এই সার্কুলার রোড হবে মাটিতে নয় আকাশ জুড়ে, এলিভেটেড এক্সপ্রেস হবে। ঢাকা অত্যাধুনিক শহর হিসেবে গড়ে উঠবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অগ্রগতি এখন আর কেউ থামাতে পারবে না। আগামী ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সাল নাগাদ উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে বিশ্ব মানচিত্রে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে।
নামে-বেনামে,ফেসবুক আইডির কথা অস্বীকার করলেন এইচটি ইমাম
অনলাইন ডেস্ক: বাংলাদেশে অপপ্রচার রোধে ফেসবুকে নামে-বেনামে অ্যাকাউন্ট খোলার পরামর্শ দেবার যে খবর বেরিয়েছে তা অস্বীকার করেছেন প্রধানমন্ত্রী উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম। তিনি বিবিসিকে বলেছেন, বেনামী ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খোলার কোন পরামর্শ তিনি দেননি। তিনি শুধু বলেছেন তরুণ সমাজের হাতে একাধিক অ্যাকাউন্ট থাকলে তা ব্যবহার করে সোশাল মিডিয়ায় অপপ্রচারের জবাব দিতে এবং মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষে তৎপরতা বাড়াতে। গত বুধবার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় মি. ইমাম নামে-বেনামে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খোলার পরামর্শ দিয়েছেন বলে খবর বেরুনোর পর তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলিতে শোরগোল তৈরি হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, তিনি ঐ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ব্যক্তিবর্গকে লক্ষ্য করে বলেন: সোশ্যাল মিডিয়ায় মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তি বৃদ্ধিতে আপনাদের নাতি-নাতনিদের নামে-বেনামে একটার জায়গায় ১০টা কেন, প্রয়োজনে একশটা ফেসবুক আইডি খুলতে বলুন। নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সম্পৃক্ত করুন। ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট তৈরির পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ফেক নিউজ বা ভুয়া খবর প্রচারে উসকানি দিচ্ছেন কিনা, তা নিয়েও সোশাল মিডিয়ায় প্রশ্ন ওঠে। আমি জেনে শুনে কোন বে আইনি কাজ করতে বলিনি, আসন্ন নির্বাচনে সোশাল মিডিয়ার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মি. ইমাম বলেন, সামনে সোশাল মিডিয়া একটা বিশাল ভূমিকা রাখবে। আমি তরুণদের বলেছি, তোমরা এই হাতিয়ারটাকে ব্যবহার করো। আমি নাতি-নাতনির কথাটা বলেছি এই কারণে যে আমার কাছে যারা নাতী-নাতনি তারা এখন সবাই ভোটার। ঢাকার ঐ অনুষ্ঠানে এইচ টি ইমাম জানিয়েছেন যে সোশ্যাল মিডিয়ার বড় অংশ এখন বিএনপি-জামায়াতের দখলে রয়েছে। এই তথ্য তিনি কোথা থেকে পেলেন? বিবিসি বাংলার তরফে এই প্রশ্ন করার পর তিনি বলেন, দেশের বাইরে জামায়াত এবং তার ছাত্র সংগঠন শিবিরের তত্ত্বাবধানে বহু ফেসবুক অ্যাকাউন্ট রয়েছে যেখান থেকে দেশ, মুক্তিযুদ্ধ ইত্যাদি নানা বিষয়ে অপপ্রচার চালা্ছে বলে তারা অনুসন্ধান করে দেখতে পেয়েছেন তাহলে সামাজিক মাধ্যমে প্রচারের লড়াইয়ে আওয়ামী কী হেরে যাচ্ছে কি না, এই প্রশ্নের জবাবে মি. ইমাম বলেন, তিনি বিষয়টাকে সেভাবে দেখতে চান না। হেরে যাচ্ছি, আমি এটা বলছিনা। আমরা যাতে না হারি সে জন্য উদ্বুদ্ধ করার জন্যেই এসব কথা বলেছি, তিনি বলেন। বাংলাদেশে রাজনৈতিক প্রচারণার ক্ষেত্রে ফেসবুক এখন এককভাবে সবচেয়ে শক্তিশালী যোগাযোগ মাধ্যমে পরিণত হয়েছে। আগামী নির্বাচনে সামাজিক যোগাযোগের এই প্লাটফর্মটি ব্যবহারের প্রশ্নে প্রধান দলগুলো এখন থেকেই চিন্তাভাবনা শুরু করেছে। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম এই প্রশ্নে মূলত ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মধ্যে থাকা মনোভাবই প্রকাশ করেছেন যেখানে তারা মনে করছেন তাদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ফেসবুকে অনেক বেশি সক্রিয়। এসব বিরোধী প্রচার-প্রচারণার প্রশ্নে আওয়ামী লীগ কর্মীরা ততটা তৎপর নয় বলেই দলের নেতারা মনে করছেন। তারই প্রতিক্রিয়ায় আওয়ামী লীগের অনুগত ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ সাইবার ব্রিগেড গড়ে তুলছে । সাইবার ব্রিগেডের নেতারা বলছেন, এই গোষ্ঠীর মূল লক্ষ্য হবে গুজব প্রতিহত করা এবং নির্বাচনকে সামনে রেখে সামাজিক মাধ্যমে সরকারের উন্নয়ন সম্পর্কে ইতিবাচক প্রচারণা চালানো। সূত্র: বিবিসি
প্রাইভেট মেডিকেল কলেজে সত্যিকারের ডাক্তার তৈরি হচ্ছে কি না দেখা দরকার:
অনলাইন ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘প্রাইভেট বহু মেডিকেল কলেজ হয়ে যাচ্ছে কিন্তু সেখানে আদৌ কোনো পড়াশুনা হচ্ছে কি না, কি পড়াশুনা হচ্ছে। সত্যিকারের ডাক্তার তৈরি হচ্ছে নাকি রোগী মারা ডাক্তার হচ্ছে। সেটিও আমাদের দেখা দরকার।’ আজ বৃহস্পতিবার সকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) এক হাজার শয্যার সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল ও ডক্টরস ডরমেটরির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘একমাত্র মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় পারবে সেটা নজরদারিতে রাখতে। যাতে একটা মানসম্মত শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে। সেই ব্যবস্থা করে চিকিৎসা সেবার মান উন্নয়ন করতে চাই।’ আগামীতে ক্ষমতায় এলে প্রত্যেকটি বিভাগে একটি করে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আকাশবীণার র‌্যাফট খুলে পড়ার ঘটনায় ৩ সদস্যের কমিটি
অনলাইন ডেস্ক: বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার আকাশবীণার সামনের একটি ইমার্জেন্সি এক্সিট ডোরের র‌্যাফট খুলে পড়ার ঘটনায় তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) শাকিল মেরাজ গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বিমানের ডেপুটি চিফ অব ফ্লাইট সেফটি ক্যাপটেন এনামুল হক তালুকদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। অন্য দুই সদস্য হলেন- বিমানের কর্পোরেট কোয়ালিটি ম্যানেজার নিরঞ্জন রায় ও প্রিন্সিপাল ইঞ্জিনিয়ার রবিউল আমিন। তিনি আরও বলেন, এখানে কারো গাফিলতি ছিল কি না তা তারা খতিয়ে দেখবেন। বিমান সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার ভোর সোয়া ৪টার দিকে মালয়েশিয়া থেকে যাত্রী নিয়ে ঢাকায় ফেরে আকাশবীণা। যাত্রী নেমে যাওয়ার পর নিয়মিত গ্রাউন্ড চেকের অংশ হিসেবে বিমানের প্রকৌশল বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তারা ড্রিমলাইনার পরিষ্কার করে। পরে সিঙ্গাপুর ফ্লাইটের আগে বিএফসিসির খাবারের গাড়ি আসলে দরজা খোলার সময় বিমানের প্রকৌশল বিভাগের স্টাফ মোস্তাফিজুল হক র‌্যাফটটি খুলে ফেলেন। পরবর্তীতে সেটি বিমানের প্রকৌশল বিভাগে পরীক্ষার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। এ ঘটনায় পরবর্তী ঢাকা থেকে সিঙ্গাপুরের বিজি-৮৪ ফ্লাইটটি ছাড়ার নির্ধারিত সময় ৮টা ২৫ মিনিট থাকলেও ফ্লাইটটি ঢাকা ছাড়ে ৯টার দিকে। তখন র‌্যাফট ছাড়াই ফ্লাইট পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয় বিমানের প্রকৌশল বিভাগ। প্রসঙ্গত, জরুরি অবস্থায় যাত্রীদের বিমান থেকে বের হওয়ার জন্য দরজার সঙ্গে থাকে এই র‌্যাফট। এটার মাধ্যমে যাত্রীরা বিমান থেকে দ্রুত বের হয়ে যেতে পারেন। আকাশবীণার একটি ইমার্জেন্সি দরজা দিয়ে ৫৫ জন যাত্রী বের হতে পারেন। চারটি ইমার্জেন্সি এক্সিট ডোরের একটির র‌্যাফট না থাকায় ৫৫ জন যাত্রী কম নিয়ে ফ্লাইট পরিচালনা করতে হচ্ছে বিমানকে। এদিকে, র‌্যাফট খুলে পড়ার ঘটনায় বিমানের প্রকৌশল বিভাগের মোস্তাফিজুল হককে সাময়িক বরখাস্ত এবং শোকজ করা হয়েছে বলে বিমান সূত্রে জানা গেছ। প্রসঙ্গত, গত ৫ সেপ্টেম্বর ড্রিমলাইনার আকাশবীণার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উড়োজাহাজটির আসন সংখ্যা ২৭১টি। এর মধ্যে বিজনেস ক্লাস ২৪টি, আর ২৪৭টি ইকোনমি ক্লাস। আকাশবীণা দিয়ে প্রাথমিকভাবে ঢাকা-সিঙ্গাপুর- ঢাকা ও ঢাকা-কুয়ালালামপুর-ঢাকা রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করা হচ্ছে।
সুপার স্পেশালাইজড- হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন প্রধানমন্ত্রীর
অনলাইন ডেস্ক: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়া সেন্টার অব এক্সিলেন্স প্রকল্পেরও উদ্বোধন করেন তিনি। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার পর এসব প্রকল্পের উদ্বোধন করেন শেখ হাসিনা। আগামী ২০২১ সালে ১৩তলা বিশিষ্ট এই হাসপাতালের উদ্বোধন হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে এক ছাদের নিচেই সবধরনের স্বাস্থ্য সেবা মিলবে বলে বলা হচ্ছে। বিএসএমএমইউর উত্তর পাশে ৩ দশমিক ৪ একর জায়গায় এক হাজার ৩৬৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে অত্যাধুনিক বিশেষায়িত (সুপার স্পেশালাইজড) হাসপাতালটি। নির্মাণ ব্যয়ের মধ্যে এক হাজার ৪৭ কোটি টাকা ঋণ হিসেবে দিচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া। মাত্র শূন্য দশমিক শূন্য এক শতাংশ সুদে ৪০ বছরে এই ঋণ পরিশোধ করতে হবে, যার মধ্যে গ্রেস পিরিয়ড থাকবে ১৫ বছর। প্রকল্পের আওতায় প্রথম ফেজে দুটি বেজমেন্টসহ ১১তলা হাসপাতাল ভবন নির্মাণ করা হবে। বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে পরবর্তী দুই তলা উর্ধমুখী সম্প্রসারণ করা হবে। ১৩ তলা হাসপাতাল ভবনটিতে থাকবে এক হাজার শয্যা। দেশের প্রথম সেন্টার বেইজড চিকিৎসা সেবা চালু হবে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালটিতে। বর্তমানে সিঙ্গাপুর, কোরিয়াসহ বিশ্বের অধিকাংশ উন্নত দেশে সেন্টার বেইজড চিকিৎসা সেবা পদ্ধতি চালু আছে। গতকাল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া জানান, নবনির্মিত হাসপাতাল ভবনের প্রথম ফেজে থাকবে স্পেশালাইজড অটিজম সেন্টারসহ ম্যাটারনাল এ্যান্ড চাইল্ড হেলথ কেয়ার সেন্টার, ইমার্জেন্সি মেডিক্যাল কেয়ার সেন্টার, হেপাটোবিলিয়ারি ও গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি সেন্টার, কার্ডিও ও সেরিব্রো ভাসকুলার সেন্টার এবং কিডনি সেন্টার। আর দ্বিতীয় ফেজে থাকবে রেসপিরেটরি মেডিসিন সেন্টার, জেনারেল সার্জারি সেন্টার, অফথালমোলজি/ডেন্টিস্ট্রি/ডার্মাটোলজি সেন্টার, ফিজিক্যাল মেডিসিন/রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার ইত্যাদি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল হবে একটি রোগীবান্ধব সুবজ হাসপাতাল। এতে থাকবে সানকেন গার্ডেন, রুফটপ গার্ডেন ও অন্যান্য পরিবেশবান্ধব সুযোগ-সুবিধা। সুপরিসর এই হাসপাতালে বহির্বিভাগ ও ইনফো ডেস্ক থাকবে। হসপিটাল ইনফরমেশন সেন্টার চালু করার মাধ্যমে রোগী ও হাসপাতাল পরিচালনা হবে সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে। কনক কান্তি বড়ুয়া বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের চলমান উন্নয়নের ধারায় অন্যতম উপাদান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা। শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ করার পর ১৯৯৮ সালের ৩০ এপ্রিল এই মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করেন। প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষক, চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় আজকে এ বিশ্ববিদ্যালয় দেশের মানুষের আকাঙক্ষার জায়গায় পৌঁছেছে। বর্তমানে ১৯০৪ শয্যাবিশিষ্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের হাসপাতালে প্রতিদিন বহির্বিভাগে ৭০০০ থেকে ৮০০০ রোগী এবং বৈকালিক স্পেশালাইজড আউটডোরে ৯০০ থেকে ১০০০ রোগী চিকিৎসাসেবা নিচ্ছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬২টি রেসিডেন্সি কোর্সসহ পোস্ট গ্রাজ্যুয়েট কোর্সের সংখ্যা ৯৫টি। বিভাগের সংখ্যা ৫৬টি। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষাসহ রোগীদের আধুনিক ও উন্নতসেবা প্রদান করায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় রোগীদের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।
আজ হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক: নতুন রুপে সাজানো হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল উদ্বোধন করা হবে আজ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে হোটেলটির উদ্বোধন করবেন। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ শেষে আগামী নভেম্বরে হোটেলটি বাণিজ্যিকভাবে খুলে দেওয়া হবে। গতকাল বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শাহজাহান কামাল এই তথ্য জানান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিমান ও পর্যটন সচিব মো. মহিবুল হক, বিএসএল (বাংলাদেশ সার্ভিস লি.) এর এমডি মোকাব্বের হোসেন প্রমুখ। ১৯৬৬ সালে যাত্রা শুরু হয়ে দেশের প্রথম পাঁচতারকা হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের। স্থপতি উইলিয়াম বি ট্যাবলারের চমৎকার নকশার এই হোটেলটি আজও চমৎকার স্থাপত্য শিল্পের নিদর্শন। এটি ইন্টারকন্টিনেন্টাল নামেই চলে ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত। এরপর স্টারউড কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি হওয়ায় ১৯৮৩ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত ঢাকা শেরাটন হোটেল নামে এর বাণিজ্যিক কার্যক্রম চলে। শেরাটনের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অধীনে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ‘রূপসী বাংলা হোটেল’ নামে এটি পরিচালিত হয়। ২০১২ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি হোটেলটির মালিক কোম্পানি বাংলাদেশ সার্ভিস লিমিটেড ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলস গ্রুপ (এশিয়া প্যাসিফিক) প্রাইভেট লিমিটেডের (আইএইজি) সঙ্গে ৩০ বছর মেয়াদী চুক্তি করে। চুক্তি অনুযায়ী, ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে বন্ধের পর ২০১৫ সালের মার্চে সংস্কারকাজ শুরু হয়। রূপসী বাংলা হোটেলে কক্ষ ছিল ছোট-বড় মিলিয়ে ২৭২টি। সংস্কারের পর সংখ্যা কমে ২৩১টিতে দাঁড়িয়েছে। আয়তনের দিক থেকে কক্ষের আকার দাঁড়িয়েছে ২৬ থেকে ৪০ স্কয়ার মিটার। বিশ্বমানের অতিথি সেবা নিশ্চিত করতে পরিবর্তন করা হয়েছে সুইমিং পুল ও ডাইনিং হলের স্থান। এর আগে হোটেলটির বলরুম ছিল একদিকে, উইন্টার গার্ডেন নামে সবচেয়ে বড় হলরুমের অবস্থান ছিল আরেক দিকে। এখন দুটি এক করে দেয়া হয়েছে। হোটেলটির মূল ফটকও সরিয়ে দেয়া হয়েছে। ভেতরের সুইমিং পুলটিও স্থানান্তর করে সাজানো হয়েছে নতুন করে। গ্রাহকদের চাহিদার কথা মাথায় নিয়ে বাড়ানো হয়েছে সুযোগ-সুবিধা। সংস্কার কাজে প্রায় ৬২০ কোটি টাকা ব্যায় হয়েছে। ৭১’র ২৫ মার্চের কালরাতে জীবনবাজি রেখে ইতিহাসের বর্বরতম গণহত্যার ছবি ধারণ করেছিলেন হোটেলে অবস্থানরত বিবিসির বিখ্যাত সাংবাদিক মার্ক টালি ও সাইমন ড্রিং, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) পাকিস্তান ব্যুরোর প্রধান আর্নল্ড জেইটলিন, ক্লেয়ার হলিংওর্থ, ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদক ডেভিড গ্রিনওয়ে। এসব ছবির মাধ্যমে বিশ্ব জানতে পেরেছিল বাংলাদেশ কী নৃশংসতার শিকার হয়েছে।
নির্বাচনে হস্তক্ষেপ নয়- চাইলে সহযোগিতা: ভারতীয় হাইকমিশনার
অনলাইন ডেস্ক: ভারতের হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বলেছেন, বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন একান্তই তাদের নিজস্ব বিষয়। ভারত বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং নির্বাচনে কোনোভাবেই হস্তক্ষেপ করবে না। তবে বন্ধুপ্রতিম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ চাইলে ভারত সবসময় সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক চিরদিন অটুট থাকবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন হর্ষবর্ধন শ্রিংলা। রোববার বরিশাল সফরকালে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এসব কথা বলেন। হাইকমিশনার শ্রিংলা দিনে নদীভ্রমণ শেষে রাত ১০টায় বরিশাল নদীবন্দরে পৌঁছান এবং সেখান থেকে লঞ্চে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। এর আগে হর্ষবর্ধন বাকেরগঞ্জের গান্ধী আশ্রমসহ বিভিন্ন স্থান ভ্রমণে বের হন। ভ্রমণকালে ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে ছিলেন বরিশাল ৪ আসনের সংসদ সদস্য পঙ্কজ দেবনাথ, শেরেবাংলা একে ফজলুল হকের নাতি আওয়ামী লীগ নেতা ফাইয়াজুল হক রাজু, ভারতীয় হাইকমিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি রাজেশ উইকে, নবনীতা চক্রবর্তী, মিডিয়া এটাসে রঞ্জন মণ্ডল প্রমুখ। বরিশালের নদী ও নদী তীরে সবুজে ঘেরা সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হয়েছেন ভারতীয় হাইকমিশনার। দেখেছেন কালাবদর নদীতে ইলিশ শিকারের চিত্রও। এমনকি নিজ হাতে ইলিশ নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন তিনি। নদীপথে ভ্রমণে নানা অভিব্যক্তি বর্ণনা করেছেন গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে। এ সময় তিনি জানান, ভারত মিয়ানমারকে বলেছে, রাখাইনের বাস্তুহারা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে হবে। রাখাইনে সোশ্যাল ইকোনমিক ডেভেলপমেন্টে ভারতের কন্ট্রিবিউশন রয়েছে। রাখাইন রাজ্যে গৃহনির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। অনতিবিলম্বে মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে শুরু করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
দাওরায়ে হাদিসকে মান দিতে সংসদে বিল উত্থাপন-জাপা এমপির আপত্তি
অনলাইন ডেস্ক: জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর বিশেষ ক্ষমতাবলে ‘কওমি মাদ্রাসাসমূহের দাওরায়ে হাদিস (তাকমিল)-এর সনদকে মাস্টার্স ডিগ্রি ইসলামিক (স্টাডিজ ও আরবি) সমমান প্রদানসহ আনুষঙ্গিক বিষয়ে বিধান করার নিমিত্তে আনিত বিল-২০১৮’ উত্থাপন করা হয়েছে। সোমবার রাতে সংসদ অধিবেশনে এ বিলটি উত্থাপনের জন্য প্রস্তাব করেন শিক্ষামস্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ। এতে আপত্তি জানান জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ফখরুল ইমাম। তিনি বলেন, সংসদের দিনের কার্যসূচিতে এ বিলটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি এবং বিলটি সম্পর্কে কিছু জানতে পারেননি। বিলটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এটি সম্পর্কে আমাদের পড়ে দেখা দরকার কোনো ভুলত্রুটি আছে কি না। তিনি স্পিকারকে একই রকম বিশেষ ক্ষমতাবলে বিলটি উত্থাপনের সময় আরো তিন দিনের জন্য পিছিয়ে দিতে বলেন। এসময় স্পিকার বলেন, যেহেতু সংসদের অধিবেশন খুবই স্বল্প সময়ের জন্য, সে কারণে শিক্ষামন্ত্রী ও সংসদীয় কমিটি আমাকে বিলটি উত্থাপনের অনুমতির জন্য আবেদন করেন। সে কারণে সময় স্বল্পতার বিষয়টি বিবেচনা করে আমি বিলটি উত্থাপনের জন্য শিক্ষামন্ত্রীকে অনুমতি দেই। এসময় শিক্ষামন্ত্রী সময় স্বল্পতা ও বিলটি জরুরিভাবে এই অধিবেশনে পাস করার বিশেষ প্রয়োজন বলে জানান। পরে তিনি বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন এবং সাত দিনের মধ্যে রিপোর্ট প্রদানের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিতে পাঠানোর জন্য বলা হয়।

জাতীয় পাতার আরো খবর