মিরপুরে মা ও দুই মেয়ের লাশ উদ্ধার
রাজধানীতে এক নারী ও তার দুই শিশু সন্তানের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার সন্ধ্যার পর মিরপুর বাংলা কলেজের পাশের একটি বাসা থেকে ওই তিনটি লাশ উদ্ধার করা হয়। দারুস সালাম থানার ওসি সেলিমুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, সোমবার সন্ধ্যার পর পুলিশ খবর পেয়ে লাশ উদ্ধারে যায়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, বাসার দরজা ভেঙে মা ও দুই মেয়ের লাশ উদ্ধার করা হয়। ওই নারীর নাম জেসমিন আক্তার (৩৫); তার মেয়ে দুটির বয়স নয় বছর ও চার বছর। তার স্বামী হাসিবুল ইসলাম সংসদ সচিবালয়ের কর্মচারী। ওই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, তিনজনের গলা কাটা ছিল, জেসমিনের পেটেও ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তবে কারা কেন এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তা জানতে পারেনি পুলিশ।
জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত দুই হাজার ১২৩
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত, চার মাসে দেশে এক হাজার ৮৭১টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রাণ হারিয়েছে দুই হাজার ১২৩ জন। আহত হয়েছেন পাঁচ হাজার ৫৫৮ জন। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির চার মাসের পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। সোমবার (৩০ এপ্রিল) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করে। বিকেলে সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী স্বাক্ষরিত ওই সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চলতি বছরের প্রথম চার মাসে ১৮৭১টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২১২৩ জন নিহত ও ৫৫৫৮ জন আহত হয়েছেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দেশের জাতীয়, আঞ্চলিক ও অনলাইন গণমাধ্যমে প্রচারিত সড়ক দুর্ঘটনার সংবাদ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। এতে বলা হয়, দেশের ৬টি বিভাগীয় হাসপাতালের তথ্য অনুসারে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৪ মাসে মারা গেছে ২০৬ জন। বিদায়ী বছরের একই সময়ে ছোট-বড় ১৭৬৫টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৯৭৯ জন নিহত ও ৪৭২৭ জন আহত হয়েছিল । এতে দেখা গেছে, ২০১৭ সালের তুলনায় ২০১৮ সালে মোট দুর্ঘটনা ১ দশমিক ৬ শতাংশ, নিহত ১ দশমিক ৪৪ শতাংশ, আহত ৮ দশমিক ৩১ শতাংশ বেড়েছে। যাত্রী কল্যাণ সমিতির পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, জানুয়ারি মাসে ৪৯৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৩৫৩ জন আহত ও ৫১৪ জন নিহত হয়, এ মাসে ১৪০টি বাস, ২০৪টি ট্রাক-লরি ও কাভার্ডভ্যান, ৯টি হিউম্যান হলার, ৪১টি কার ও মাইক্রোবাস, ৫২টি অটোরিকশা, ৯৮টি মোটরসাইকেল, ৩২টি ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক, ৫৩টি নছিমন-করিমন- ট্রাক্টর সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এসব দুর্ঘটনার ১৭৭টি মুখোমুখি সংঘর্ষ, ৮০টি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে এবং ৮টি ট্রেন-যানবাহন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে ৬ জন, গাড়ি চাপায় ২০৫ জন পথচারী সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। ফেব্রুয়ারি মাসে ৪৩৯টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ১৫২১ জন আহত ও ৪৫৯ জন নিহত হয়। এই মাসে ১১৩টি বাস, ১৮৯টি ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান, ৯টি হিউম্যান হলার, ৬৩টি অটোরিকশা, ৩২টি কার ও মাইক্রোবাস, ৯৩টি মোটরসাইকেল, ২৩টি ব্যাটারিচালিত রিকশা, ৩৫টি নছিমন করিমন সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এসব দুর্ঘটনার ১৫৪টি মুখোমুখি সংঘর্ষ ও ৮৭টি খাদে পড়ে, ৬টি ট্রেন-যানবাহন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া ১৭০টি গাড়ি চাপার ঘটনা ঘটে। মার্চ মাসের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, এ মাসে ৪৯১টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৫০৬ জন আহত, ৪৮৩ জন নিহত হয়েছেন। এ মাসে ১৩২টি বাস ২৩৬টি ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান, ৭টি হিউম্যান হলার ৬১টি অটোরিকশা, ২৭টি কার ও মাইক্রোবাস, ৯০টি মোটরসাইকেল, ১৪টি ব্যাটারিচালিত রিকশা, ২৬টি নছিমন করিমন দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এসব দুর্ঘটনার ১৫৬টি মুখোমুখি সংঘর্ষ, ৮৭টি খাদে পড়ে ও ৩টি ট্রেন- যানবাহনের সংর্ঘষের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া ২২২টি গাড়ি চাপার ঘটনা ঘটেছে। এপ্রিল মাসে ৪৪২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১১৭৮ জন আহত ও ৪৬১ জন নিহত হয়। এই মাসে ১১৪টি বাস, ১৮৪টি ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান, ৬টি হিউম্যান হলার, ৬১টি অটোরিকশা, ২৭টি কার ও মাইক্রোবাস, ৮২টি মোটরসাইকেল, ১৪টি ব্যাটারিচালিত রিকশা, ৩৬টি নছিমন করিমন-ট্রাক্টর সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এসব ঘটনার ১১৮টি মুখোমুখি সংঘর্ষ, ৮৯টি খাদে পড়ে, ১টি বাস-ট্রেন-যানবাহন সংঘর্ষ এবং ২১১টি গাড়ি চাপার ঘটনা ঘটে। সড়ক দুর্ঘটনারোধে যাত্রী কল্যাণ সমিতি কয়েকটি সুপারিশ পেশ করেছে। সুপারিশগুলো হলো, সড়ক দুর্ঘটনাকে জাতীয় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে জরুরিভিক্তিতে সড়ক দুর্ঘটনার প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হ্রাসে মালিক-শ্রমিক-যাত্রী-সরকার মিলে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণ, ফিটনেসবিহীন মেয়াদোত্তীর্ণ লক্কড়-ঝক্কড় যানবাহন উচ্ছেদ করে মানসম্মত যানবাহনের ব্যবস্থা, চালকদের আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা, চালকদের হাতে দৈনিক চুক্তি ভিক্তিক বাস, ট্রাক, হিউম্যান হলারসহ অন্যান্য যানবাহন ইজারা দেয়া বন্ধ, দেশের সব বেহাল সড়ক-মহাসড়ক সংস্কার, ট্রাফিক আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত, বিআরটিএকে শক্তিশালীকরণ, পরিবহন খাতকে রাজনৈতিক প্রভাব মুক্ত এবং ফুটপাত নিমার্ণ ও সংস্কারসহ ফুটপাত দখল মুক্ত করে হাঁটার পরিবেশ নিশ্চিত করা।
দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তথ্য দেন :দুদক কমিশনার
বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) বিভিন্ন কর্মকর্তাদের যোগসাজশে বেশকিছু গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ ওঠলেও প্রতিষ্ঠানটির অনিয়মের ফাঁদে দিন দিন জনগণের ভোগান্তি বেড়েই চলেছে। এ ভোগান্তি কমাতে সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের সুনির্দিষ্ট তথ্য চায় দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক। সোমবার বিআরটিএর ভোগান্তির ওপর বিভিন্ন অভিযোগ শুনতে এক গণশুনানির আয়োজন করে দুদক। এতে উপস্থিত ছিলেন দুদক কমিশনার নাসিরউদ্দিন আহমেদের উপস্থিতিতে বিআরটিএ চেয়ারম্যানসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এবার আওয়াজ তুলুন ব্যানারে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে এ গণশুনানির আয়োজন করা হয়। দুদক কমিশনার নাসিরউদ্দিন আহমেদ বলেন,কোন রাজনৈতিক নেতা কি সচিব, দুদক কাউকে পরোয়া করে চলেনা। বিআরটিএসহ প্রত্যেকটা সেক্টরের দর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তথ্য দেন আমাদের কাছে, সত্য হলে তাদেরকে আমরা জেলে পুড়বো। পরিবহন খাতসহ যে কোন সরকারি ও বেসরকারি কার্যক্রমে ভোগান্তির রোধের জন্য প্রত্যেক নাগরিককে সেচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন,যেখানেই দুর্নীতি ও ভোগান্তি দেখবেন সঙ্গে সঙ্গে দুদকের হটলাইন নম্বর ১০৬ এ কল করে সেই অনিয়মের তথ্য আমাদের জানান। গণশুনানিতে বিভিন্ন ভুক্তভোগিরা তাদের গাড়ির মালিকানা পরিবর্তন, গাড়ির ফিটনেস পরীক্ষা, রেজিস্ট্রেশন, ড্রাইভিং লাইসেন্স সংগ্রহের জন্য পরীক্ষা বা সংগ্রহে ভোগান্তি, টাকার বিনিময়ে অযোগ্যদের লাইসেন্স প্রদান, বিআরটিএতে দালালদের দৌরাত্ম ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যোগশাজস এবং গণ পরিবহনের অনিয়মসহ বিভিন্ন বিষয়ে অভিযোগ জানিয়েছেন। দুদক কমিশনার বিআরটিএর কর্তৃপক্ষের কাছে সুনির্দিষ্ট উত্তর জানতে চাইলে বিআরটিএর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে তাদের কাছে কোনও অভিযোগ গেলে তারা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়। গাড়ির ফিটনেস পরীক্ষার জন্য প্রতি জেলায় থাকা বিআরটিএর শাখা অফিসেই ব্যবস্থা রাখার দাবি ওঠলে বিআরটিএর ঢাকা বিভাগের ডেপুটি ডিরেক্টর মাসুদুল আলমের কাছে দুদক কমিশনার জানতে চান। জবাবে মাসুদুল আলম বলেন,আমাদের এই বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। গাড়ির মালিকান পরিবর্তনের ক্ষেত্রে কোন গাড়ির মালিক তার গাড়ি বিক্রি করে মালিকানা পরিবর্তনের আগেই দেশের বাইরে চলে গেলে ভোগন্তিতে পড়েন নতুন ক্রেতা। দুদক জানতে চাইলে, এই ভোগান্তি রোধে একমাত্র মূল মালিকের উপস্থিতি ছাড়া আর কোন আইনি ব্যবস্থা বিআরটিএর নেই বলে মাসুদুল আলম জানান। এ বিষয়টির সমাধানে দুদকের কমিশনার বলেন,আপনাদের আইনি ব্যবস্থায় পাওয়ার অব এটর্নীর ব্যবস্থা করতে পারেন। এতে করে মূল প্রক্রিয়ার আগেই গাড়ির মালিক দেশের বাইরে গেলেও ক্রেতার ভোগান্তি কমবে। গণপরিবহনে নেই ভাড়ার তালিকা গণপরিবহনে ভাড়ার চার্ট না থাকা ও অবৈধ সিটিং সার্ভিস ব্যবস্থায় বিআরটিএর নিস্ক্রিয়তার বিষয়টি তুলে ধরলে মাসুদুল আলম বলেন, আমরা অভিযান চালিয়ে যে সকল গাড়ির বিরুদ্ধে অনিয়ম পাই তাদেরই আইনের আওতায় আনি। কিছু গাড়ি বিআরটিএর নিয়ম মেনে চলাচল করে তার এমন দাবির প্রেক্ষিতে সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে পাল্টা তাকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়া হয়, যে কোনও কোম্পানির একটা পরিবহন দেখান যারা আপনাদের নিয়েম মেনে চলে। এই চ্যালেঞ্জের জবাবে বিআরটিএর এই শীর্ষ কর্মকর্তা ছিলেন নিশ্চুপ। এদিকে ড্রাইভিং লাইসেন্স সংগ্রহের জন্য পরীক্ষা বা সংগ্রহে ভোগান্তি, টাকার বিনিময়ে অযোগ্যদের লাইসেন্স প্রদান, বিআরটিএতে দালালদের দৌরাত্মের বিষয়গুলোতে কোনও সদুত্ত দিতে পারেননি তিনি। গণ শুনানী শেষে নিজ বক্তব্যে দুদকের তদন্ত বিভাগের কমিশনার নাসিরউদ্দিন আহমেদ বলেন,জনগনের সেবা নিশ্চিত করতে আপনাদের উচিৎ এখন থেকেই আরও সচেতন হওয়া। তদন্ত করে খুঁজে বের করুন কোন কোন অংশে জনগণের ভোগান্তি হচ্ছে। সেখানে পরিকল্পণার পরিবর্তন এনে তাদের কাজ সহজ করুন। প্রয়োজনে দুর্নীতিবাজদের তথ্য আমাদের কাছে দিন। দেখুন আমরা কি করি।
পদপ্রত্যাশীদের পারিবারিক পরিচয়ও দেখা হবে :প্রধানমন্ত্রী
ছাত্রলীগের নেতৃত্বে অযাচিত কেউ যেন আসতে না পারে, সে জন্য পদপ্রত্যাশীদের জীবনবৃত্তান্তের পাশাপাশি তাদের পারিবারিক পরিচয়ও দেখা হবে। গোয়েন্দা সংস্থা দিয়ে খোঁজ নেয়া হচ্ছে স্বজনদের রাজনৈতিক বিশ্বাস আর কর্মকাণ্ডের বিষয়ে। ছাত্রলীগের অভিভাবক হিসেবে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ছাত্র সংগঠনটির নেতা-কর্মীদেরকে এ কথা জানিয়ে দিয়েছেন। আগামী ১১ ও ১২ মের সম্মেলনকে সামনে রেখে সোমবার আওয়ামী লীগের নেতাদেরকে ডেকে নিয়ে কথা বলেন শেখ হাসিনা। এ সময় তিনি নেতৃত্ব নির্বাচনে তার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দেন। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ছাত্রলীগের নানা কর্মকাণ্ডে ক্ষমতাসীন দলকে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। নেতা-কর্মীদের সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি এমনকি হত্যায় সম্পৃক্ততার অভিযোগের পর বিরক্তি প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগ নেতারাও। আর বারবার আলোচনায় এসেছে সংগঠনে অনুপ্রবেশের বিষয়টি নিয়ে। আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধ রাজনৈতিক আদর্শের পরিবারের সদস্যরাও ছাত্রলীগের নেতৃত্বে এসেছে, বারবার এটি প্রমাণ হয়েছে। এ নিয়ে তীব্র সমালোচনাও সইতে হয়েছে সংগঠনটির। নানা সময় দেখা গেছে, নেতারা দল ভারী করতে বিতর্কিতদেরকে সংগঠনে নিয়ে আসে। আবার টাকার বিনিময়ে পদ পাওয়ার বিষয়টিও আর গোপ নয়। আর এবারের জাতীয় সম্মেলনের আগে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। আর ছাত্রলীগকে নতুন মডেলে ঢেলে সাজানোর কথা জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। আর এই ঢেলে সাজাতে নতুন মডেল কী হবে, সেটি এখনও প্রকাশ করা হয়নি। তবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে একটা ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে, অবিতর্কিত, যাদের নিজেদের বা পরিবারের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই, তাদেরকে নেতৃত্বে আনতে চাইছেন শেখ হাসিনা। জাতীয় সম্মেলনে কোনো ভোট হবে না জানিয়ে দিয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, ‘সম্মেলনে কোন প্রার্থীর নাম প্রস্তাব ও সমর্থন করারও প্রয়োজন নেই। যোগ্যতার ভিত্তিতে পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ড মেধা এসব বিবেচনায় নিয়ে সিলেকশন পদ্ধতিতে সভাপতি সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হবে।
নির্ধারিত সময়ের আগেই মেট্রো রেল প্রকল্পের কাজ শেষ হবে
২০২০ সালের মধ্যে মেট্রো রেল প্রকল্পের কাজ শেষ হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে মেট্রোরেল নির্মাণ প্রকল্পের ৫ ও ৬ নম্বর প্যাকেজের জন্য চারটি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি সই অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। ওবায়দুল কাদের বলেন, আমরা ছয় মাস পিছিয়ে ছিলাম হোলি আর্টিজান ট্র্যাজেডির জন্য। তবে নির্মাণ কোম্পানিকে তা নিরুৎসাহিত করেনি। ছয় মাস আমরা কাভার করে ফেলেছি। ২০১৯ সালের মধ্যে আগারগাঁও পর্যন্ত এবং ২০২০ সালের মধ্যে পুরো মেট্রোরেলের কাজ উত্তরা থার্ড ফেজ থেকে মতিঝিলের বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যন্ত শেষ করে ফেলব। ২০২৪ সালের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু জাপান আমাদের কোয়ালিটি কাজ দিচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের আগেই কাজ শেষ করে দিচ্ছে। এটা একটা ভালো দিক। মেট্রোরেল প্রকল্পের কাজ আটটি প্যাকেজে ভাগ করা হয়েছে। প্যাকেজ ৫ ও ৬-এর আওতায় আগারগাঁও থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ট্রেনলাইন ও ৭টি স্টেশন নির্মাণ করা হবে। মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ১৬ হাজার ৫৯৫ কোটি টাকা দেবে জাপানের সংস্থা জাইকা। বাকি ৫ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা জোগাবে সরকার। মেট্রোরেলের প্রস্তাবিত ১৬টি স্টেশন হচ্ছে উত্তরা (উত্তর), উত্তরা (সেন্টার), উত্তরা (দক্ষিণ), পল্লবী, মিরপুর১১, মিরপুর-১০, কাজীপাড়া, তালতলা, আগারগাঁও, বিজয় সরণি, ফার্মগেট, সোনারগাঁও হোটেল, জাতীয় জাদুঘর, দোয়েল চত্বর, জাতীয় স্টেডিয়াম ও বাংলাদেশ ব্যাংক এলাকা। প্রতি ৪ মিনিট পরপর ১ হাজার ৮০০ যাত্রী নিয়ে চলবে মেট্রোরেল। ঘণ্টায় চলাচল করবে প্রায় ৬০ হাজার যাত্রী। প্রায় ২০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে সময় লাগবে ৪০ মিনিটের কম।
পরিবর্তন হওয়া দরকার ট্রাফিক আইন: বিচারপতি খায়রুল হক
আইন কমিশনের এই চেয়ারম্যান ও প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক বলেছেন, সড়ক দুর্ঘটনা রোধে বর্তমান ট্রাফিক আইনের পরিবর্তন করা দরকার। সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের সঙ্গে বৈঠক শেষে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সোমবার এ কথা জানান তিনি। তিনি বলেন, যেভাবে প্রতিনিয়ত সড়কে প্রাণ যাচ্ছে, অঙ্গহানী হচ্ছে তাতে ট্রাফিক আইনে পরিবর্তন আনা দরকার। ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালানোর শাস্তি যা আছে তাও বাড়ানো দরকার। তাছাড়া আইন কার্যকর করার ক্ষেত্রে সবাইকে আরো বেশি মনোযোগ দিতে বলেন খায়রুল হক। অন্যদিকে সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রেও আইন থাকা দরকার বলে মনে করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আসছেন বুধবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং সূত্রে জানা গেছে, আগামী বুধবার (২ মে) বিকাল ৪টায় গণভবনে সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়া সফর পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হবে। গত রোববার (২৯ এপ্রিল) বৈশ্বিক নারী বিষয়ক সম্মেলনে (গ্লোবাল সামিট অন উইমেন) যোগদান শেষে দেশে ফেরেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুলের আমন্ত্রণে বৈশ্বিক নারী বিষয়ক ওই সম্মেলনে যোগ দিতে ২৭ এপ্রিল সিডনিতে যান প্রধানমন্ত্রী। সম্মেলনে বাংলাদেশে নারী শিক্ষার প্রসার এবং নারী উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে অগ্রণী ভূমিকা পালনের স্বীকৃতি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গ্লোবাল উইমেন্স লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড-২০১৮ সম্মাননা দেওয়া হয়।
বজ্রপাতে ১৯ জনের মৃত্যু দেশের ৯ জেলায়
ঝড়-বৃষ্টির সময় বজ্রপাতে দেশের বিভিন্ন স্থানে ১৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আহত হয়েছেন অন্তত ১৬ জন। গতকাল রোববার মাগুরা, সিরাজগঞ্জ, নওগাঁ, রাঙামাটি, নোয়াখালী, সুনামগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, গোপালগঞ্জ ও গাজীপুরে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। মাগুরা: মাগুরা সদরের অক্কুর পাড়া ও রায় গ্রাম এবং শালিখা উপজেলার বুনাগাতী ও বাকলবাড়িয়া গ্রামে বজ্রপাতে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এরা হলেন- অক্কুর পাড়ার ভ্যানচালক শামীম, রায় গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে আলম, জয়পুরহাটের মনপুরা এলাকার আলম মিয়ার ছেলে মেহেদী এবং বাকলবাড়িয়া গ্রামের শক্তিপদ বিশ্বাসের ছেলে প্রল্লাদ বিশ্বাস (৪০)। সিরাজগঞ্জ: সিরাজগঞ্জের কাজিপুর, কামারখন্দ ও শাহজাদপুর উপজেলায় বজ্রপাতে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে আরও চারজন। নিহতরা হলেন- কাজিপুরের ডিগ্রি তেকানী গ্রামের শামছুল মন্ডল (৫৫), তার ছেলে আরমান (১৪), কামারখন্দের পেস্তক কুড়া গ্রামের কাদের হোসেন (৩৭), শাহজাদপুর উপজেলা ছয়আনি গ্রামের ফারুক খানের ছেলে নাবিল (১৭) ও রাশেদুল ইসলামের ছেলে পলিন (১৫)। নওগাঁ: নওগাঁর সাপাহার ও পোরশা উপজেলায় এক গৃহবধূ ও এক স্কুলছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। সাপাহারে সোনাভানের স্বামীসহ আরও তিনজন আহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন- সাপাহারের শিমুলডাঙ্গা রামাশ্রম গ্রামের সোনাভান (২২) এবং পোরশার বালিয়াচান্দা গ্রামের মুক্তার হোসেন (১৪)। সুনামগঞ্জ: সুনামগঞ্জ সদরের সুরমা ইউনিয়নের সৈয়দপুর গ্রামে নিহত হয়েছেন ললিত মিয়া (৩০) নামের এক কৃষক। রোববার বেলা সাড়ে ১০টায় বাড়ির পাশে বোরো ক্ষেতে কাজ করার সময় বজ্রপাতে তার মৃত্যু হয়। রাঙামাটি: রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় বজ্রপাতে নিহত হন গৃহবধূ মানছুরা বেগম (৩৫)। তিনি উপজেলার মুসলিম ব্লক এলাকার বাসিন্দা বলে বাঘাইছড়ি থানার ওসি আমির হোসেন জানান। নোয়াখালী: নোয়াখালী সদর ও সেনবাগ উপজেলায় বজ্রপাতে এক স্কুল ছাত্র ও এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে আরও দুইজন। নিহতরা হলেন- সদর উপজেলার লক্ষ্মীনারায়ণপুর গ্রামের সোহেল রানা জগলুর ছেলে ও নোয়াখালী জিলা স্কুলের সপ্তম শ্রেণির দিবা ক-শাখার ছাত্র ইকবাল হাসনাত পিয়াল (১৩) এবং ভোলা জেলার তজুমদ্দিন উপজেলার সোনাপুর গ্রামের মো. রজন মিয়ার ছেলে মো. শাহিন (২৬)। গাজীপুর: গাজীপুরের কালিয়াকৈর ও শ্রীপুরে বজ্রপাতে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে অন্তত পাঁচজন। নিহতরা হলেন- গাইবান্ধার গোবিন্ধগঞ্জ উপজেলার হরিনাথপুরের আব্বাস আলীর ছেলে জাফিরুল ইসলাম (২৮) ও গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়ি ইউনিয়নের ধলাদিয়া গ্রামের কালু কবিরাজের স্ত্রী বিলকিস বেগম (৪৩)। ব্রাহ্মণবাড়িয়া: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলায় বজ্রপাতে আব্দুর রহিম (৪০) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন দুইজন। রোববার সকাল ৯টার দিকে উপজেলার মোগড়া ইউনিয়নের দরুইন গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। মৃত রহিমের বাড়ি মৌলভীবাজার জেলায়। আহতদের নাম জানা যায়নি। গোপালগঞ্জ: গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় বজ্রপাতে একজন নিহত হয়েছেন। নিহত অশোক পান্ডে (২২) কোটালীপাড়া উপজেলার সাদুল্লাহপুর ইউনিয়নের পীড়ারবাড়ি গ্রামের জ্ঞানেন্দ্রনাথ পান্ডের ছেলে।

জাতীয় পাতার আরো খবর