৪ জন রিমান্ডে ভিসির বাসভবনে হামলার ঘটনায়
সরকারী চাকরিতে কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনে ভাঙচুরের মামলায় গ্রেপ্তার চারজনের বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। রোববার শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম মো. রায়হান উল ইসলাম তাদের রিমান্ডের আদেশ দেন। রিমান্ডে যাওয়া চারজনের মধ্যে রাকিবুল হাসান ওরফে রাকিবের চার দিন, আলী হোসেন শেখ ওরফে আলীর তিন দিন এবং মাসুদ আলম ওরফে মাসুদ ও আবু সাঈদ ফজলে রাব্বির ওরফে সিয়ামের দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। আগে চার আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির এএসপি ফজলুল হক। রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, আসামি রাকিব হাসান ও আলীর কাছ থেকে উপাচার্যের বাড়ি ভাঙচুরের সময় সিকিউরিটি গার্ডের দুটি মোবাইল খোয়া যায়। সেই দুটি মোবাইল রাকিব হাসান ও আলীর কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত তথ্য উদ্‌ঘাটনে আসামিদের রিমান্ডে নেওয়া জরুরি। উল্লেখ্য, গত ৯ এপ্রিল রাত সাড়ে ১২টা থেকে ২টার মধ্যে শতাধিক মুখোশধারী উপাচার্যের বাড়িতে হামলা চালায়। তারা দেশীয় অস্ত্র লোহার রড, পাইপ, হেমার, লাঠি ইত্যাদি নিয়ে উপাচার্যের বাড়ির ওয়াল টপকে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে। দুষ্কৃতকারীরা ঐতিহ্যবাহী ভবনে সংরক্ষিত মূল্যবান জিনিসপত্র, আসবাবপত্র, টিভি, ফ্রিজ, ফ্যানসহ সকল মালামাল ভাঙচুর করে। দুটি গাড়ি পুড়িয়ে দেয়। ভবনে রক্ষিত সিসি ক্যামেরা ভাঙচুর করে ও আলামত নষ্টের জন্য কম্পিউটারে রক্ষিত ডিভিআর পুড়িয়ে দেয়। এতে কমপক্ষে দেড়কোটি টাকার ক্ষতি হয়। ওই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র সিকিউরিটি অফিসার এসএম কামরুল আহসান বাদী হয়ে ১০ এপ্রিল মামলা করেন। এছাড়া একই সময় কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের রাস্তা বন্ধ করে টায়ার ও আসবাবপত্র জ্বালানোসহ নাশকতা এবং পুলিশকে মারধরের ঘটনায় আরো তিনটি মামলা দায়ের করে পুলিশ। অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে প্রতিটি মামলায় রাজধানীর শাহবাগ থানায় দায়ের করা হয়।
ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরার পরিকল্পনা,সিটি নির্বাচনে সেনা নয়
নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাৎ হোসেন চৌধুরী বলেছেন, খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের কোনো পরিকল্পনা নেই। তবে নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে যা যা প্রয়োজন সে ধরনের সকল প্রস্তুতি আমাদের রয়েছে। রোববার দুপুরে খুলনা সার্কিট হাউজের লবিতে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। নির্বাচন কমিশনার বলেন, পরীক্ষামূলকভাবে ও জনগণকে অবহিতকরণের লক্ষ্যে এবারের খুলনা সিটি নির্বাচনে একটি ওয়ার্ডে অথবা ৪/৫টি কেন্দ্রে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে। ভোটকেন্দ্রগুলোকে সিসি টিভির আওতায় আনার জন্য কাজ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রতিটি ভোটার ভোটকেন্দ্রে গিয়ে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারবেন। এজন্য প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে পর্যাপ্ত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হবে। শাহাদাৎ হোসেন চৌধুরী বলেন, সকল দলের প্রার্থীরা যাতে নির্বাচনে তাদের প্রচার- প্রচারণা স্বাভাবিকভাবে করতে পারেন সে বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, প্রতিটি কেন্দ্রে ১২ জন ও গুরুত্বপূর্ণ (ঝুকিপূর্ণ) কেন্দ্রের জন্য ২২ জন করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অস্ত্রসহ মোতায়েন থাকবে। শাহাদাৎ হোসেন চৌধুরী বলেন, জেলা প্রশাসনের ১৩/১৪ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইতোমধ্যে মাঠে কাজ করছে। আগামী ১৩ মে খুলনা সিটিতে বিজিবি মোতায়েন করা হবে। এছাড়াও র‌্যাব, পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক নির্বাচনের মাঠে দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানান তিনি। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় উপস্থিত ছিলেন, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব হেলালুদ্দিন আহমদ, বিভাগীয় কমিশনার লোকমান হোসেন মিয়া, খুলনার রেঞ্জ ডিআইজি দিদার আহমেদ, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. হুমায়ুন কবির, জেলা প্রশাসক আমিন উল আহসান, র‌্যাব-৬ এর অধিনায়ক খোন্দকার রফিকুল ইসলাম প্রমুখ। এর আগে তিনি খুলনা সার্কিট হাউজের সম্মেলন বিভিন্ন পর্যায়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিভাগীয় সমন্বয় কমিটির সভায় মিলিত হন। উল্লেখ্য, আগামী ১৫ মে খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
নকশা প্রকাশে নীতিমালা হচ্ছে সংসদের
লুই আই কানের অনন্য সৃষ্টি জাতীয় সংসদ ভবন। স্থাপত্যের ভাষায় যাকে বলা হয় মাস্টার পিস বিশ্বের সেরা কয়েকটি স্থাপত্যের একটি। জাতীয় সংসদ ভবনের মূল নকশাসহ গুরুত্বপূর্ণ দলিল, তথ্য-উপাত্ত, চুক্তি ইত্যাদি প্রকাশ করতে নীতিমালা তৈরি করেছে সংসদ সচিবালয়। খসড়া নীতিমালাটি সংসদ সচিবালয়ের সিনিয়র সচিবের কাছে পাঠানো হয়েছে। তথ্য অধিকার আইন পাস হওয়ার নয় বছর পর এ উদ্যোগ নিয়েছে সংসদ। সাংবাদিকসহ অন্য কেউ আবেদন করে সংসদের তথ্য-উপাত্ত নিতে পারবেন এ নীতিমালার মাধ্যমে।তবে এটি চূড়ান্তের আগে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ও জনমত যাচাইয়ের দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের ভাষ্য, শুধু তথ্য উন্মুক্ত নয়, সেগুলো তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছাতে হবে। তাহলে দুর্নীতি কমবে। নীতিমালা তৈরির সঙ্গে জড়িত সংসদের গণ-সংযোগ- ১ এর পরিচালক তারিক মাহমুদ জাগো নিউজকে বলেন, আমরা নীতিমালাটি সংসদের সিনিয়র সচিব ড. মো. আবদুর রব হাওলাদারের কাছে জমা দিয়েছি। উনি বৈঠক করে এটি চূড়ান্ত করবেন। কবে এটি চূড়ান্ত হবে তা তিনিই বলতে পারবেন। সূত্র জানায়, ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে লুই আই কানের করা জাতীয় সংসদ ভবনের মূল নকশাগুলো যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভেনিয়া ইউনির্ভাসিটির মহাফেজখানা (আর্কাইভ) থেকে বাংলাদেশে আনা হয়। এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদের কার্যউপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে নকশাগুলো প্রকাশের জন্য একটি নীতিমালা করার কথা বলেন। সেই থেকেই এ নীতিমালা তৈরির কাজ শুরু হয়। জানা যায়, তথ্য অবমুক্তকরণ নীতিমালা, ২০১৮ নামে নীতিমালাটি তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ এর আলোকে করা হচ্ছে। নীতিমালা অনুযায়ী, জাতীয় সংসদ সচিবালয় নাগরিকের তথ্য অধিকার নিশ্চিতের লক্ষ্যে সংসদ সচিবালয়ের যাবতীয় তথ্যের ক্যাটালগ এবং ইনডেক্স প্রস্তুত করে যথাযথভাবে সংরক্ষণ করবে। তবে যেসব তথ্য ফটোকপি বা অন্য কোনো মাধ্যমে দেয়া হবে তার ব্যয়ভার যে তথ্য চাইবেন তাকে দিতে হবে।কেন এই নীতিমালা নীতিমালাটির মুখবন্ধে উল্লেখ আছে, এক সময় তথ্য দেয়ার ক্ষেত্রে অনেক বিষয়ে গোপনীয়তা অবলম্বন করা হতো। কিন্তু এ আইনের মাধ্যমে সব তথ্যের অবাধ প্রকাশের পথ সুদৃঢ় হবে। এতে সংসদের সঙ্গে সম্পর্কিত সব কার্যক্রম সম্পর্কে জনগণের বিস্তারিত জানার সুযোগ হবে। এ নীতিমালা ব্যবহারের মাধ্যমে সাধারণ জনগণ কোন কোন উদ্দেশ্যে কী কী আইন তৈরি হচ্ছে- এসব তথ্যসহ সংসদ সচিবালয়ের সামগ্রিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানার সুযোগ পাবেন। নীতিমালার ধরা- ১ এ বলা হয়েছে, তথ্য অর্থে সংসদ সচিবালয়ের আওতাধীন কার্যালয়সমূহের গঠন, কাঠামো ও দাফদরিক কর্মকাণ্ড-সংক্রান্ত যে কোনো স্মারক, বই, নকশা, মানচিত্র, চুক্তি, তথ্য-উপাত্ত, লগ বই, আদেশ, বিজ্ঞপ্তি, দলিল, নমুনা, পত্র, প্রতিবেদন, হিসাব বিবরণী প্রকল্প প্রস্তাব, আলোকচিত্র, অডিও, ভিডিও, অঙ্কিত চিত্র, ফিল্ম, ইলেক্ট্রনিক প্রক্রিয়ায় প্রস্তুত যে কোনো উপকরণ, যান্ত্রিকভাবে পাঠযোগ্য দলিলাদি এবং ভৌতিক গঠন ও বৈশিষ্ট্য-নির্বিশেষে অন্য যে কোনো তথ্যবহ বস্তু বা এদের প্রতিলিপিও এর অন্তর্ভুক্ত হবে। তবে দাফতরিক নোটশিট বা নোটশিটের প্রতিলিপি এর অন্তর্ভুক্ত হবে না। কী কী প্রকাশ করবে না সংসদ নীতিমালা অনুযায়ী অনেকগুলো বিষয়ে তথ্য দেবে না সংসদ। সেগুলো হলো- (ক) কোনো তথ্য প্রকাশের ফলে বাংলাদেশের নিরাপত্তা, অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকি হতে পারে এরূপ তথ্য; (খ) পররাষ্ট্রনীতির কোনো বিষয় যার দ্বারা বিদেশি রাষ্ট্রের অথবা আন্তর্জাতিক কোনো সংস্থা বা আঞ্চলিক কোনো জোট বা সংগঠনের সহিত বিদ্যমান সম্পর্ক ক্ষুণ্ন হতে পারে এমন তথ্য; (গ) কোনো বিদেশি সরকারের কাছ হতে প্রাপ্ত কোনো গোপনীয় তথ্য; (ঘ) কোনো তথ্য প্রকাশের ফলে কোনো তৃতীয় পক্ষের বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদের অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এরূপ বাণিজ্যিক বা ব্যবসায়িক অন্তর্নিহিত গোপনীয়তাবিষয়ক, কপিরাইট বা বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ সম্পর্কিত তথ্য; (ঙ) কোনো তথ্য প্রকাশের ফলে কোনো বিশেষ ব্যক্তি বা সংস্থাকে লাভবান বা ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এমন তথ্য যেমন- অ) আয়কর, শুল্ক, ভ্যাট ও আবগারি আইন, বাজেট বা করহার পরিবর্তন-সংক্রান্ত কোনো আগাম তথ্য; (আ) মুদ্রার বিনিময় ও সুদের হার পরিবর্তনজনিত কোনো আগাম তথ্য; (ই) ব্যাংকসহ আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের পরিচালনা ও তদারকি-সংক্রান্ত কোনো আগাম তথ্য; (চ) কোনো তথ্য প্রকাশের ফলে প্রচলিত আইনের প্রয়োগ বাধাগ্রস্ত হতে পারে বা অপরাধ বৃদ্ধি পেতে পারে এমন তথ্য; (ছ) কোনো তথ্য প্রকাশের ফলে জনগণের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে বা বিচারাধীন মামলার সুষ্ঠু বিচারকার্য ব্যাহত হতে পারে এমন তথ্য; (জ) কোনো তথ্য প্রকাশের ফলে কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত জীবনের গোপনীয়তা ক্ষুণ্ন হতে পারে এমন তথ্য; (ঝ) কোনো তথ্য প্রকাশের ফলে কোনো ব্যক্তির জীবন বা শারীরিক নিরাপত্তা বিপদাপন্ন হতে পারে এমন তথ্য; (ঞ) আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সহায়তার জন্য কোনো ব্যক্তি কর্তৃক গোপনে প্রদত্ত কোনো তথ্য; (ট) আদালতে বিচারাধীন কোনো বিষয় এবং যা প্রকাশে আদালত বা ট্রাইব্যুনালের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে অথবা যার প্রকাশ আদালত অবমাননার শামিল এরূপ তথ্য; (ঠ) তদন্তাধীন কোনো বিষয় যার প্রকাশ তদন্ত কাজে বিঘ্ন ঘটাতে পারে এরূপ তথ্য; (ড) কোনো অপরাধের তদন্ত প্রক্রিয়া এবং অপরাধীর গ্রেফতার ও শাস্তিকে প্রভাবিত করতে পারে এরূপ তথ্য; (ণ) কৌশলগত ও বাণিজ্যিক কারণে গোপন রাখা বাঞ্ছনীয় এমন কারিগরি বা বৈজ্ঞানিক গবেষণালব্ধ কোনো তথ্য; (ত) কোনো ক্রয় কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পূর্বে বা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্বে সংশ্লিষ্ট ক্রয় বা কার্যক্রম-সংক্রান্ত কোনো তথ্য; (থ) জাতীয় সংসদের বিশেষ অধিকারহানির কারণ হতে পারে এমন তথ্য; (দ) আইন দ্বারা সংরক্ষিত কোনো ব্যক্তির গোপনীয় তথ্য; (ধ) নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র বা পরীক্ষায় প্রদত্ত নম্বর সম্পর্কিত আগাম তথ্য; (ন) মন্ত্রিপরিষদ বা ক্ষেত্রমত, মন্ত্রিপরিষদের মর্যাদাসম্পন্ন কোনো পরিষদের বৈঠকে উপস্থাপনীয় সার-সংক্ষেপসহ অনুষঙ্গিক দলিলাদি এবং উক্তরূপ বৈঠকের আলোচনা ও সিদ্ধান্ত সংক্রান্ত কোনো তথ্য; (প) কমিটি বৈঠকে উত্থাপনীয় কাগজপত্র; তবে শর্ত থাকে যে, মন্ত্রিপরিষদ বা ক্ষেত্রমত, মন্ত্রিপরিষদের মর্যদাসম্পন্ন কোনো পরিষদ ও কমিটির বৈঠকে কোনো সিদ্ধান্ত গৃহীত হবার পর অনুরূপ সিদ্ধান্তের কারণ এবং যে সব বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্তটি গৃহীত হয়েছে তা প্রকাশ করা যাবে। আরও শর্ত থাকে যে, নীতিমালার অধীন তথ্য প্রদান স্থগিত রাখার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তথ্য কমিশনের অনুমতি নিতে হবে। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিয়োগ যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চাহিদা মাফিক জনগণকে তথ্য দেয়ার জন্য সংসদে একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হবে। সংসদের সিনিয়র সচিব এ কর্মকর্তা নিয়োগ দেবেন। তার কাছে তথ্য না পেলে আপিল করা যাবে। আপিল কর্তৃপক্ষ হবেন সংসদের সিনিয়র সচিব। কোনো ব্যক্তি এ নীতিমালা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য লাভে ব্যর্থ হলে কিংবা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কোনো সিদ্ধান্তে সংক্ষুব্ধ হলে কিংবা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অতিরিক্ত মূল্য ধার্য বা গ্রহণ করলে ওই সময়সীমা অতিক্রান্ত হবার, বা ক্ষেত্রমত, সিদ্ধান্ত লাভের পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে আপিল কর্তৃপক্ষের কাছে আপিল করতে পারবেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও সাবেক তথ্য কমিশনার অধ্যাপক সাদেকা হালিম বলেন,এ নীতিমালা আরও আগে করা উচিত ছিল। শুধু নীতিমালা নয়, সংসদের যাবতীয় বিষয় যেমন সাংবিধানিক আলোচনা, রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, কোন খাতে কত ব্যয়- এসব তথ্য শুধু উন্মুক্ত করলেই হবে না তৃণমূল পর্যায়ে তা পৌঁছাতে হবে। তাহলেই মানুষ উপকৃত হবে, দুর্নীতি কমে যাবে। তবে নীতিমালা চূড়ান্ত করার আগে এটি নিয়ে ডিবেট (যুক্তিতর্ক) করতে হবে, মতামত নিতে হবে। এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সম্পৃক্ত করা উচিত।
জেট এয়ারওয়েজ ঝড়ের কবলে: যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক
ভারতের কলকাতা ও মুম্বাই থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসা জেট এয়ারওয়েজের দুটি ফ্লাইট ঝড়ের কবলে পড়েছিল। ফলে নির্দিষ্ট সময়ের অনেক পরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট দুটি অবতরণ করে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে আকাশে অতিরিক্ত সময় উড়তে থাকলে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।শুধু এ ফ্লাইট দুটি নয়, রোববার সকালে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভোর সোয়া ৬টা সকাল সোয়া ৮টা পর্যন্ত (২ ঘণ্টা) ফ্লাইট ওঠানামা বন্ধ ছিল। ফলে আন্তর্জাতিক রুটের বিভিন্ন গন্তব্য থেকে ছেড়ে অাসা বেশ কয়েকটি এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটও দেরিতে অবতরণ করে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট ইনকোয়ারি বিভাগে কর্মরত জয়নাল আবেদিন জানান, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে কলকাতা থেকে জেট এয়ারওয়েজের ৯ডব্লিউ-২৭৪ শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৯টা ৫ মিনিটের পরিবর্তে ৯টা ৩৪ মিনিটে অবতরণ করে। এছাড়া জেট এয়ারওয়েজের মুম্বাই থেকে আসা অপর ফ্লাইট ৯ডব্লিউ-২৭৬ ১১টা ১৫ মিনিটের পরিবর্তে ১২টা ১৮ মিনিটে অবতরণ করে। জেট এয়ারওয়েজের কলকাতা থেকে আসা যাত্রী আশরাফুল ইসলাম রানা নামের এক যাত্রী তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে বিমানে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ার তথ্য জানিয়েছেন। ফেসবুকে তিনি লিখেন,রোববার সকাল ৭টা ২০ মিনিটে কলকাতা থেকে রওনা দেয়া জেট এয়ার ৩০ মিনিটে ঢাকা পৌঁছানোর কথা থাকলেও পারেনি। বিমানটি ঝড়ের কবলে পড়ে ব্যাপক ধাক্কা এবং দোলুনিতে ঢাকা থেকে ১২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান নেয়। তিনি আরও লিখেন,দীর্ঘ ২ ঘণ্টা ১০ মিনিট ঝড়ের কারণে আকাশে অবস্থান নেয়ায় জ্বালানি সঙ্কটে পড়ে বিমানটি। যাত্রীদের হাহাকার এবং উৎকণ্ঠার ভেতর দিয়ে অবশেষে ঝড়ের ভেতরই ইমার্জেন্সি ঢাকাতে অবতরণ করতে হয়েছে। জেট এয়ারওয়েজর পাইলটের দক্ষতায় সকাল ১০টায় শত ঝাঁকুনি আর ঝড়ের ভেতরেও অবশেষে সর্তক অবতরণ করে। এতে বেঁচে গেল শতাধিক যাত্রী। তবে জ্বালানি সঙ্কটে না পড়লে ঝড় থামা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারতো প্লেইনটি, জানিয়েছে জেট কর্তৃপক্ষ। বিমানবন্দর ফ্লাইট সূত্রে জানা গেছে, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভোর সোয়া ৬টা থেকে সকাল সোয়া ৮টা পর্যন্ত ফ্লাইট ওঠানামা বন্ধ ছিল। এ সময় আন্তর্জাতিক রুটের বিভিন্ন গন্তব্য থেকে ছেড়ে অাসা বেশ কয়েকটি এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট দেরিতে অবতরণ করে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে রানওয়েতে বিমান ওঠানামা করা ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় দুই ঘণ্টার জন্যে তা বন্ধ রাখা হয়। যে কারণে বেশ কয়েকটি ফ্লাইটের গতিপথ পরিবর্তনও হয়। একই কারণে যাত্রাতেও বিলম্ব ঘটছে বলেও জানানো হয়।
ভারী বর্ষণ হতে পারে আরও দুদিন
আরও দুদিন দেশের কয়েকটি এলাকায় ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে।আবহাওয়াবিদ মো. বজলুর রশিদ রোববার দুপুরে জানান, আজ সকাল থেকে দেশের অনেক এলাকায় ভারী বর্ষণ হয়েছে। আগামী দুদিনও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণের আশঙ্কা রয়েছে। তিনি জানান, আজ দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ময়মনসিংহে ৬৯ মিলিমিটার ও ঢাকায় ৫৫ মিলিমিটার।-খবর বাসস। সকাল ১০টা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার আবহাওয়ার এক সতর্কবার্তায় এ কথা জানানো হয়েছে। আবহাওয়া অফিস জানায়- রাজশাহী, রংপুর, দিনাজপুর, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, সিলেট, যশোর, কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, মাদারীপুর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, ঢাকা, কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চলে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণ হতে পারে। এ ছাড়া আজ সকাল ১০টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রাজশাহী, রংপুর, দিনাজপুর, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, সিলেট, যশোর, কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, মাদারীপুর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, ঢাকা, কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চলসমূহের ওপর দিয়ে অস্থায়ীভাবে পশ্চিম/উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬০-৮০ কিলোমিটার বা আরও অধিক বেগে কালবৈশাখী বয়ে যেতে পারে। সেই সঙ্গে বিছিন্নভাবে কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে- রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ী দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া ও বিজলী চমকানোসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণ এবং বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টি হতে পারে। সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা ১-২ ডিগ্রি সেলসিয়াস হ্রাস পেতে পারে। আজ সকাল ৬টায় ঢাকায় বাতাসের আপেক্ষিক আদ্রতা ছিল ৭৫ শতাংশ। আজ ঢাকায় পরবর্তী ৭২ ঘণ্টায় অর্থাৎ আগামী তিন দিন বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে বলে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে। আবহাওয়া চিত্রের সংক্ষিপ্তসারে বলা হয়েছে, পশ্চিমা লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে।
জাদুকরী সমাধান নেই রোহিঙ্গা সংকটের:জাতিসংঘ প্রতিনিধিদল
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিনিধিদল বলেছে, রোহিঙ্গা সংকটের জাদুকরী সমাধান নেই। কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ১৫ সদস্যের এই প্রতিনিধিদলের সবার মুখে একই কথা- এটি এক ভয়ঙ্কর সংকট। কাজেই এটার সমাধানে জাদুটোনা কাজে আসবে না। এর আগে রোববার সকাল ৯টায় বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার তমব্রু সীমান্তে শূন্যরেখায় আশ্রয় শিবিরে গিয়ে সরাসরি রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে নৃশংসতার কাহিনি শোনেন তারা। এর পর ব্রিফিং কক্ষে ঢুকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন জাতিসংঘের এই প্রতিনিধিরা। এর মধ্যে কক্সবাজারের স্থানীয় প্রশাসন ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) রোহিঙ্গাদের নিয়ে তাদের কাছে নানা তথ্য-উপাত্ত সরবরাহ করেন। কক্সবাজার থেকে সরকারি সূত্র জানায়, ইউএনএসসির প্রেসিডেন্ট পেরুর গুস্তাভো মেজা-চুয়াড্রার নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি ইরাক থেকে কুয়েত এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে শনিবার বিকাল সোয়া ৪টার দিকে কক্সবাজার বিমানবন্দরে অবতরণ করে। ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রসচিব রিয়ার অ্যাডমিরাল (অব.) মো. খুরশেদ আলম প্রতিনিধিদলকে বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা জানান। প্রতিনিধিদলে নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী পাঁচ দেশ যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও চীনের প্রতিনিধিরা রয়েছেন। প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যদের মধ্যে বলিভিয়া, ইকুয়েটোরায়েল গায়েনা, ইথিওপিয়া, কাজাখস্তান, কুয়েত, নেদারল্যান্ডস, পেরু, পোল্যান্ড ও সুইডেনের স্থায়ী প্রতিনিধি এবং আইভরি কোস্টের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি রয়েছেন। এই সফরে প্রতিনিধিদলের সদস্যরা বিভিন্ন ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের কাজে নিয়োজিত সরকারি কর্মকর্তা এবং মানবিক সহায়তা ও অন্যান্য কাজে দায়িত্ব পালনরত স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। ঢাকায় ফিরে প্রতিনিধিদলটি সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন এবং পরে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার জন্য দুদিনের সফরে মিয়ানমার যাবেন।
উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীকে যৌন হয়রানি,শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন
তুরাগ পরিবহনে উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীকে যৌন হয়রানি করার ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন সহপাঠীরা।শনিবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। মানববন্ধনে গ্রেফতার হওয়া চালক, বাসের ভাড়া আদায়কারী ও চালকের সহকারীর দ্রুত শাস্তি নিশ্চিত করাসহ কয়েক দফা দাবি তুলে ধরা হয়। মানববন্ধনে উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০ থেকে ৫০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন।শিক্ষার্থীরা জানান, দোষী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে শান্তিপূর্ণ এই আন্দোলন কঠোর হবে। গত ২১ এপ্রিল দুপুর ১টার দিকে উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী বাড্ডা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার পথে তুরাগ বাসে যৌন হয়রানির শিকার হন। পথে যাত্রীরা নেমে যেতে থাকলে বাসটি ফাঁকা হয়ে যেতে থাকে। এতে ভয় পেয়ে শেষ কয়েকজন যাত্রীর সঙ্গে তিনিও বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার গেটে বাস থেকে নামতে যান। তখন হেলপার-কন্ডাক্টর হাত ধরে তাকে আটকানোর চেষ্টা করে। প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে তিনি চলন্ত বাস থেকে লাফিয়ে নেমে নিজেকে রক্ষা করেন। ওই ঘটনায় ওই ছাত্রীর স্বামী ২২ এপ্রিল বিকেলে বাদী হয়ে গুলশান থানায় একটি মামলা করেন। ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয়ে জানানোর পরই শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নামেন। তারা যাত্রাবাড়ী থেকে আবদুল্লাহপুরগামী তুরাগ পরিবহনের বাসগুলো উত্তরায় পৌঁছালেই সেগুলো থামিয়ে দেন। বাসের যাত্রীদের অন্য বাসে তুলে দিয়ে চালককে তাদের ক্যাম্পাসের কাছে বাস চালিয়ে নিয়ে যেতে বাধ্য করেন এবং বাসের চাবি কেড়ে নেন। তুরাগ পরিবহনের ৩৫টি বাস আটকে রেখে প্রতিবাদ করেন শিক্ষার্থীরা। পরদিন ২৩ এপ্রিল ওই বাসের চালক রোমান, বাসের ভাড়া আদায়কারী মনির ও বাসচালকের সহকারী নয়নকে গ্রেফতারের পর রাতেই বাসগুলো পুলিশকে বুঝিয়ে দেন শিক্ষার্থীরা।
শেখ হাসিনার চার প্রস্তাব নারীর ক্ষমতায়নে
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গতকাল সন্ধ্যায় অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে মর্যাদাপূর্ণ গ্লোবাল উইমেনস লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়েছে। এই পুরস্কার গ্রহণ করার পর অনুষ্ঠানে তিনি নারীর ক্ষমতায়ন ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে ৪ দফা প্রস্তাব তুলে ধরেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী জুলি বিশপ গতকাল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে মিয়ানমারের ওপর চাপ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। সিডনির ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারের গালা ডিনারের পর পুরস্কার গ্রহণ করে প্রধানমন্ত্রী নারী অধিকার নিশ্চিত করতে একটি জোট গঠনের তাগিদ দেন। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংস্থা গ্লোবাল সামিট অব উইমেনস বাংলাদেশসহ এশীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নারী শিক্ষা ও ব্যবসায়িক উদ্যোগের বিষয়ে বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের জন্য এই পুরস্কার দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তিন দিনের সফরে গতকাল সকালে সিডনি পৌঁছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার এই গ্লোবাল উইমেনস লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড যেসব নারী তাদের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য নিজেদের ক্ষমতার পরিচয় দিয়েছেন সেসব নারীদের উৎসর্গ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই সম্মানসূচক অ্যাওয়ার্ড প্রদান উপলক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন তার ছোট বোন শেখ রেহানা। এ অনুষ্ঠানে নৈশভোজের পর শেখ হাসিনার হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়ার আগে তার সম্পর্কে একটি ভিডিওচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নারী ক্ষমতায়ন এবং নারী কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে চার দফা প্রস্তাব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, নারীদের প্রতি সমর্থন ও অধিকার নিশ্চিতে একটি নতুন জোট গঠন করতে হবে। যে যার জায়গা থেকে নারীদের জন্য আমাদের কাজ করতে হবে। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বক্তব্যের শুরুতেই বলেন, গ্লোবাল উইমেনস লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড পেয়ে আমি খুবই আনন্দিত এবং সম্মানবোধ করছি। আমি বিশ্বব্যাপী নারীদের এই পুরস্কার উৎসর্গ করছি; যারা ভাগ্য পরিবর্তনে নিজেদের ক্ষমতার পরিচয় দিয়েছেন। শেখ হাসিনা তার চার দফা প্রস্তাব তুলে ধরে বলেন, প্রথমত, নারীর সক্ষমতা নিশ্চিত করতে প্রচলিত একমুখী ধারণা পরিহার করতে হবে। দ্বিতীয়ত, প্রান্তিক ও ঝুঁকির মুখে থাকা নারীরা এখনো কম খাদ্য পাচ্ছে, স্কুলে যেতে পারছে না, কম মজুরিতে কাজ করছে এবং সহিংসতার শিকার হচ্ছে। কোনো নারী ও মেয়েকে পেছনে রাখা উচিত নয়। তিনি আরও বলেন, তৃতীয় বিষয় হলো নারীদের উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সুনির্দিষ্ট স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলা করতে হবে এবং চতুর্থত, জীবন ও জীবিকার সব ক্ষেত্রে নারীদের জন্য সমান সুযোগ তৈরি করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে পর পর দুই দফায় তার নেতৃত্বাধীন সরকার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকার কারণেই সুষ্ঠু, অধিকারভিত্তিক, লিঙ্গ সংবেদনশীল এবং বাস্তবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সুযোগ হয়েছে বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন নারী ক্ষমতায়নের রোল মডেল। বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী মহান ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মহান মুক্তিযুদ্ধসহ বিভিন্ন সংগ্রামে বাঙালি নারীদের ত্যাগ ও অবদানের কথা স্মরণ করেন। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানির কথা উল্লেখ করেন তিনি। অনুষ্ঠানে নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও অধিকার আদায়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদানের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশের মানুষের অধিকার বিশেষ করে নারীর ক্ষমতায়নে নিজের সংগ্রামের কথাও শেখ হাসিনা উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ২০১৭ সালের প্রতিবেদনে ১৪৪টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৪৭তম এবং দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথম স্থানে। নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে ১৫৫টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান সপ্তম।

জাতীয় পাতার আরো খবর