ঐশীর যাবজ্জীবন দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল রাষ্ট্রপক্ষের
পুলিশ দম্পতি মাহফুজুর রহমান ও তার স্ত্রী স্বপ্না রহমান হত্যা মামলায় তাদের মেয়ে ঐশী রহমানকে হাইকোর্টের দেয়া যাবজ্জীবন দণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। সোমবার আপিল দায়ের করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড সুফিয়া খাতুন। তিনি আরও জানান, রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিলে ঐশীর মৃত্যুদণ্ড চাওয়া হয়েছে। এর আগে গত বছরের ৫ জুন ঐশী রহমানের মৃত্যুদণ্ডের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন সাজার দণ্ড দিয়ে রায় ঘোষণা করেন হাইকোর্টের বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ। রায়ের আগে আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জহিরুল হক জহির, সহকারি অ্যাটর্নি জেনারেল আতিকুল হক সেলিম ও নিজামুল হক নিজাম। অপরদিকে আসামিপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন আইনজীবী আফজাল এইচ খান ও সুজিত চ্যাটার্জি। এরপর গত ৭ মে উভয় পক্ষের শুনানি শেষে মামলাটি গত ৫ জুন রায়ের জন্য অপেক্ষমান (সিএভি) রাখা হয়। এর আগে পুলিশ দম্পতি হত্যা মামলায় তাদের একমাত্র মেয়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ঐশী রহমানের মামলাটি ডেথ রেফারেন্স আকারে হাইকোর্টে আসে। একইসঙ্গে, ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে ঐশী। পরে ১২ মার্চ এই মামলায় ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি শুরু হয়। শুনানি শেষে রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমান রাখেন আদালত। পরে ৫ জুন রায় ঘোষণা করেন আদালত। গত ২২ অক্টোবর এই মামলায় পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ পায়। ২০১৩ সালের ১৬ আগস্ট রাজধানীর মালিবাগের চামেলীবাগে নিজ বাসা থেকে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (রাজনৈতিক শাখা) পরিদর্শক মাহফুজুর রহমান ও তার স্ত্রী স্বপ্না রহমানের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মা-বাবা খুন হওয়ার পর পালিয়ে যান ঐশী। এ ঘটনায় ২০১৩ সালের ১৭ আগস্ট নিহত মাহফুজুর রহমানের ছোট ভাই মো. মশিউর রহমান রুবেল পল্টন থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। একই বছরের ১৭ আগস্ট ঐশী রহমান রমনা থানায় আত্মসমর্পণ করে। এরপর ২৪ আগস্ট আদালতে খুনের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেয় ঐশী। ২০১৪ সালের ৯ মার্চ গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মো. আবুল খায়ের মাতুব্বর ঐশীকে প্রধান করে তিনজনের বিরুদ্ধে দুটি পৃথক অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। ২০১৫ সালের ১২ ডিসেম্বর প্রধান আসামি ঐশী রহমানকে ডাবল মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন আদালত। অপর দুই আসামি ঐশীর বন্ধু রনিকে দুই বছরের কারাদণ্ড ও জনিকে খালাস দেয়া হয়।
থাইল্যান্ডের রাজকুমারী ঢাকায়
থাইল্যান্ডের রাজকুমারী মহাচক্রী সিরিনধরন চার দিনের সফরে ঢাকায় এসেছেন। তার সঙ্গে এসেছেন ১১ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। সফরে বাংলাদেশে থাইল্যান্ডের রাজ পরিবারের উন্নয়ন প্রকল্পগুলো পরিদর্শন করবেন তিনি। সোমবার দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে রাজকুমারী ও তার সঙ্গীদের বহনকারী থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইট ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এসময় বিমানবন্দরে রাজকুমারী মহাচক্রীকে স্বাগত জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। এসময় উপস্থিত ছিলেন থাইল্যান্ডে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সাঈদা মুনা তাসনিম ও ঢাকায় নিযুক্ত থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত পানপিমন সুবান্নেপংসে। বিমানবন্দরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে কুশল বিনিময়ের পর থাই রাজকুমারী হোটেল র‌্যাডিসনে যান। সফরকালে তিনি সেখানেই অবস্থান করবেন। এ সফরে রাজকুমারী বেশ কিছু উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শনের পাশাপাশি নতুন প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন। সফরে থাই রাজকুমারী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। এছাড়া তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরের সঙ্গে বৈঠক করবেন। রাজকুমারী মহাচক্রী সিরিনধরন ৩০ মে চট্টগ্রাম পরিদর্শনে যাবেন এবং সেখানে বেশ কিছু উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন। তিনি এর আগে ২০১০ এবং ২০১১ সালেও বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন।
বিএসটিআই আইনের সাজা বাড়ল
বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড আইনকে (বিএসটিআই) সংশোধন করে শাস্তি বাড়ানো হয়েছে। আইনে অনধিক দুই বছর কারাদণ্ড ও এক লাখ জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। তবে ন্যূনতম জরিমানা পঁচিশ হাজার টাকার নিচে নয়। এছাড়া লাইসেন্স ছাড়া বিএসটিআইয়ের স্ট্যান্ডার্ড মার্ক ব্যবহার, নিবন্ধন না করে ব্যবসা ও পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে বাজেয়াপ্ত করার বিধান রাখা হয়েছে আইনে। এছাড়া আইনের সবক্ষেত্রেই শাস্তি ও জরিমানা বাড়ানো হয়েছে। আইনের কোনো ধারায় কাভার না করলে কিন্তু অপরাধ হলে এক লাখ টাকা বা সর্বনিম্ন পচিশ হাজার টাকা জরিমানা করা যাবে। একই অপরাধ দুই বার করলে শাস্তি দ্বিগুণ রাখার বিধান রয়েছে ওই আইনে। সোমবার (২৮ মে) মন্ত্রিপরিষদের বৈঠক শেষে মন্ত্রি পরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম এ তথ্য জানান। এছাড়া বৈঠকে পাটনীতির খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সংজ্ঞা চিহ্নিত করা হয়েছে। কৌশলগত অগ্রাধিকার চূড়ান্ত করা হয়েছে। এতে মিশন-ভিশন যুক্ত করা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী ভারত সফর নিয়ে কথা বলেছেন। ভারত সফরকালে তিনি রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে কথা বলেছেন। এ সংকট সমাধানে তিনি ভারতের সহায়তা চেয়েছেন।
বিদেশি পতাকা উড়ানো বন্ধে রিট
রাশিয়া বিশ্বকাপ ফুটবল উপলক্ষে বিদেশি পতাকা অননুমোদিতভাবে উড়ানো বন্ধের নির্দশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে। বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি জাফর আহমদের ডিভিশন বেঞ্চে এ আবেদনের শুনানি হবে। মুক্তিযোদ্ধা মুহাম্মদ নুরুল আমিন নামে এক ব্যাক্তি এ রিট করেন। আবদনে বলা হয়েছে, অতীতে দেখা গেছে ফুটবল বিশ্বকাপ চলাকালে বাংলাদেশে বিভিন্ন দলের সমর্থকরা সে দেশের পতাকা বিভিন্ন স্থানে উড়ান। বাংলাদেশের পতাকা বিধিমালা, ১৯৭২-এর বিধান অনুযায়ী, বাংলাদেশে অবস্থিত বিদেশি কূটনৈতিক মিশনসমূহ ছাড়া অন্য কোনো স্থানে অন্য রাষ্ট্রের পতাকা উত্তোলনের সুযোগ নেই। আর যদি করা হয় তাহলে সরকারের বিশেষ অনুমোদন নিতে হবে।
পাকিস্থানের সাথে বিএনপির মিল অাছে
বিএনপি নেতাদের কাছে প্রশ্ন রেখে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং দলের অন্যতম মুখপাত্র ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক গভীর হলে আপনাদের বুকটা কাঁপে কেন? সোমবার (২৮ মে) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের তৃতীয় তলার কনফারেন্স লাউঞ্জে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট আয়োজিত 'ভারতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ডক্টর অব লিটারেচার (ডি-লিট) ডিগ্রি প্রদান করায় শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ প্রশ্ন রাখেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সাথে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হলে আপনাদের বুক কাঁপে এইজন্য যে আপনারা (বিএনপি) এখনও পাকিস্থানি ভাবধারার চিন্তা থেকে বেরিয়ে আসতে পারেননি। তাই ভারতের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক গভীর হলেই পাকিস্থানের যেমন বুক কাঁপে বিএনপিরও বুক কাঁপে। সুতরাং এক্ষেত্রে পাকিস্থানের সাথে বিএনপির মিল অাছে। ‘প্রধানমন্ত্রী আগামী নির্বাচনে জয়লাভের নিশ্চয়তা বিধান করতে ভারত সফর করেছেন’ সাম্প্রতিক বিএনপি নেতাদের এমন বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, নির্বাচনে ভারত এসে ভোট দিবে না, ভোট দিবে দেশের জনগণ। আমরা জনগণের ক্ষমতায় বিশ্বাস করি, আমরা অন্য কারো ক্ষমতায় বিশ্বাস করিনা। আওয়ামী লীগ সব সময় জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় গেছে ও জনগণের ক্ষমতায় ক্ষমতাবান হয়ে দেশ পরিচালনা করেছে। আয়োজক সংগঠনের উপদেষ্টা লায়ন চিত্তরঞ্জন দাসের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, আওয়ামী লীগ নেতা বলরাম পোদ্দার, সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম রনি, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অরুণ সরকার রানা, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অভিনেত্রী অরুণা বিশ্বাস প্রমুখ।
ইপিজেডে পরিবেশের মান রক্ষায় কঠোর হওয়ার নির্দেশ
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রফতানি পণ্য উৎপাদনকারী বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলসমূহে শিল্প-কারখানা স্থাপনের ক্ষেত্রে পরিবেশের মান ও আইনগত বাধ্যবাধকতা কঠোরভাবে নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের জানান, ‘প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বেপজা’র ৬ষ্ঠ গভর্নিং কাউন্সিলের বৈঠকে বক্তব্যকালে তিনি (প্রধানমন্ত্রী) এ ব্যাপারে নির্দিষ্টভাবে কিছু নিদের্শনা দেন।’ তিনি জানান, বেজা’র গভর্নিং কাউন্সিলের চেয়ারপার্সন শেখ হাসিনা সকল অর্থনৈতিক অঞ্চলে জলাধার ও বৃক্ষ রোপণের মাধ্যমে সবুজ বেষ্টনি গড়ে তোলার বিধান রাখার জন্যও কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঘূর্ণিঝড়, সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাস ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষায় শিল্পাঞ্চলের চারদিকে বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলের সমুদ্র অববাহিকতায় কৃত্রিম ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল সৃষ্টির জন্যও কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান। শেখ হাসিনা বলেন, সরকার মিরসরাই থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত মেরিন ড্রাইভওয়ে নির্মাণ করার পরিকল্পনা নিয়েছে। বৈঠকে বেপজা’র নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী রেগুলারেটরি বডির কার্যক্রম এবং ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ৫ম গভর্নিং কাউন্সিলের বৈঠকে গৃহীত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের বিষয় উপস্থাপন করেন। বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল উপস্থিত ছিলেন।
খালেদা জিয়া ছয় মাসের জামিন পেয়েছেন
কুমিল্লায় হত্যা ও নাশকতার অভিযোগে করা দুটি পৃথক মামলায় ছয় মাসের জামিন পেয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। এছাড়া নড়াইলে করা একটি মানহানী মামলা উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। আজ সোমবার বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি জে বি এম হাসানের হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ এ রায় দেন। এর আগে এসব মামলার শুনানি শেষে আজ রায়ের জন্য দিন নির্ধারণ করেছিলেন আদালত। কুমিল্লায় বাসে অগ্নিসংযোগ করে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসনের জামিন আবেদনের ওপর শুনানি গত বৃহস্পতিবার শেষ হয়। গতকাল রোববার নাশকতার অপর মামলা এবং নড়াইলে মানহানির মামলার শুনানি হয়। শুনানি শেষে আজ সোমবার আদেশের সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল। গত ২০ মে কুমিল্লা ও নড়াইলের তিন মামলায় জামিন চেয়ে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা আবেদন করেন। গত ২২ মে আদালতের অনুমতি নিয়ে জামিন আবেদন দায়ের করার পর বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ কুমিল্লার নাশকতার মামলা ও নড়াইলে মানহানির মামলায় শুনানির জন্য গতকাল রোববার (২৭ মে) দিন ধার্য করেন। এর আগে গত ১৬ মে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে দেয়া হাইকোর্টের জামিন বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। কুমিল্লার মামলা : ২০১৫ সালের ২৫ জানুয়ারি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের হায়দার পুলের চৌদ্দগ্রামে একটি কাভার্ড ভ্যানে অগ্নিসংযোগ ও আশপাশের বেশ কিছু গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরে এ ঘটনায় ২০১৫ সালের ২৫ জানুয়ারি চৌদ্দগ্রাম থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে নাশকতার অভিযোগে মামলা হয়। মামলাটি বর্তমানে কুমিল্লার বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১এ চলমান। ২০১৭ সালের ৯ অক্টোবর এ মামলায় অভিযোগ আমলে নেন আদালত। গত ২৩ এপ্রিল এ মামলায় জামিন চেয়ে আবেদন করা হয়। কিন্তু আদালত আবেদনটির পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ৭ জুন দিন ধার্য রাখেন। এ অবস্থায় শুনানি না করে এ মামলায় জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আপিল আবেদন করা হয়েছে। নড়াইলে মানহানি মামলা : ২০১৫ সালের ২১ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যা নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করার অভিযোগ ওঠে বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় একই বছরের ২৪ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে নড়াইলে মানহানির মামলা করা হয়। স্থানীয় এক মুক্তিযোদ্ধার সন্তান রায়হান ফারুকি ইমাম বাদি হয়ে মামলাটি করেন। মামলায় খালেদা জিয়ার পক্ষে যুক্তিতে বলা হয়েছে দণ্ডবিধির ৫০০, ৫০১ ও ৫০২-এর অধীনে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়। এ মামলাটি জামিনযোগ্য। উল্লেখ্য, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর কারাদণ্ডের আদেশ দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫। এরপর থেকে খালেদা জিয়া ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন। ওই রায়ের পর জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন বেগম খালেদা জিয়া। শুনানি শেষে গত ১২ মার্চ হাইকোর্ট খালেদা জিয়াকে চার মাসের জামিন দেন। পরে অর্থাৎ গত ১৬ মে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন আদেশ বহাল রাখেন। কিন্তু আরো কয়েকটি মামলায় গ্রেফতার দেখানোয় তিনি কারাগার থেকে বের হতে পারছেন না।
রাষ্ট্রপতির ইফতারে প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, প্রধান বিচারপতি
রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ আজ রোববার বঙ্গভবনে প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, প্রধান বিচারপতি, মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, সংসদ সদস্য ও বিদেশী কূটনীতিক, বিশিষ্ট নাগরিক এবং উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্তকর্তাদর সম্মানে ইফতার পার্টির আয়োজন করেন। রাষ্ট্রপতি ভবনের দরবার হলে আয়োজিত ইফতার পার্টিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্পিকার ড. শিরিন শারমীন চৌধুরী, প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদ এবং সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ যোগ দেন। রাষ্ট্রপতির সহধর্মিনী রাশিদা খানম এবং পরিবারের সদস্যরাও ইফতারে অংশ নেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গভবনে পৌঁছলে রাষ্ট্রপতি তাঁকে স্বাগত জানান। মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, ডেপুটি স্পিকার, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, বিদেশী কূটনীতিক, প্রধান নির্বাচন কমিশনার, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, তিন বাহিনীর প্রধান, সংসদ সদস্য, অ্যাটর্নি জেনারেল, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, আইনজীবী, সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিক, উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বিশিষ্ট নাগরিক এবং উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাগণ এতে যোগ দেন। রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রী তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং তাদের খোঁজখবর নেন। ইফতারের পূর্বে দেশ ও জনগণের অব্যাহত শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করে মহান আল্লাহর দরবারে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের সদস্যবৃন্দ এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে যারা তাদের জীবন উৎসর্গ করেছেন তাদের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করে মোনাজাত করা হয়। বঙ্গভবন জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা মুহাম্মদ সাইফুল কবির মোনাজাত পরিচালনা করেন।-বাসস

জাতীয় পাতার আরো খবর