সেনাবাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা ২৪-২৬ ডিসেম্বরের মধ্যে
অনলাইন ডেস্ক: ২৪ থেকে ২৬শে ডিসেম্বরের মধ্যে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে সেনাবাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা করেছে নির্বাচন কমিশন। এই ফোর্স মোতায়েন থাকবে পহেলা জানুয়ারি পর্যন্ত। বুধবার (১৩ ডিসেম্বর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন। মোতায়েন হওয়া স্ট্রাইকিং ফোর্স বিজিবি, কোস্টগার্ড ব্যাটালিয়ন, আনসারের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর সঙ্গে একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাখতে বলা হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর লেখা চিঠিতে আরো বলা হয়েছে, নির্বাচনের আচরণবিধি পালনের পাশাপাশি নির্বাচনী এলাকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ প্রতিরোধের জন্য ভোট গ্রহণের দুইদিন আগে থেকে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ প্রয়োজন।
ঢাকার উদ্দেশে শেখ হাসিনা, পথসভায় বক্তব্য দেবেন
অনলাইন ডেস্ক: গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আসার পথে ফরিদপুর, রাজবাড়ী ও মানিকগঞ্জে বিভিন্ন পথসভায় বক্তব্য দেবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি। আজ বৃহস্পতিবার সকালে টুঙ্গিপাড়া ছাড়ার আগে প্রধানমন্ত্রী দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। পরে তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। গতকাল বুধবার বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে নির্বাচনী প্রচারকাজ শুরু করেন আওয়ামী লীগ প্রধান। পরে তিনি বিকেলে নিজ নির্বাচনী এলাকায় জনসভা করেন। আজ ঢাকা ফেরার পথে ফরিদপুরের ভাঙ্গা মোড়, ফরিদপুর মোড়, রাজবাড়ী সড়ক মোড়, মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড, ধামরাইয়ের রাবেয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল প্রাঙ্গণ এবং সাভার বাসস্ট্যান্ডে আয়োজিত সমাবেশেও বক্তব্য দেবেন। গোপালগঞ্জ-৩ (টুঙ্গিপাড়া-কোটালীপাড়া) থেকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন শেখ হাসিনা। এ আসন থেকে তিনি পর পর ছয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এ ছাড়া আওয়ামী লীগ সভাপতি রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) থেকে মনোনয়নপত্র নিয়ে জমা দিয়েছিলেন। পরে এই আসনটি তিনি স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে ছেড়ে দেন।
আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় আসছে
অনলাইন ডেস্ক: আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে আওয়ামী লীগই আবার সরকার গঠন করবে বলে মনে করছে ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট-ইআইইউ। ডিসেম্বরের শুরুতে বাংলাদেশ বিষয়ে প্রকাশিত সর্বশেষ কান্ট্রি ব্রিফিংয়ে ইকোনমিস্ট গ্রুপের এই গবেষণা উইং বলেছে, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে গত কয়েক বছর ভালো অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি পেয়েছে বাংলাদেশ। তৃণমূলের সমর্থন আগামী ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয়ে বড় ভূমিকা রাখবে। ২০১৯ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত সময়ে বাংলাদেশের যে ভবিষ্যত ইআইইউ দেখতে পাচ্ছে, তাতে সন্ত্রাসী হামলা, বিরোধী দলের আন্দোলন এবং জনতার বিক্ষোভের কারণে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হওয়ার আভাসের কথা রয়েছে। ইআইইউর পূর্বাভাস বলছে, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা আগামী পাঁচ বছরও অব্যাহত থাকবে। এই সময়ে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে গড়ে ৭.৭ শতাংশ হারে। বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ ও ভোগ বৃদ্ধি এক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখবে। স্থানীয় বিভিন্ন জরিপে জনপ্রিয়তার দিক দিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার অনেক এগিয়ে থাকার তথ্য তুলে ধরে ইআইইউর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে অসাধারণ অগ্রগতির পাশাপাশি ভোটের মাঠে একটি কার্যকর বিরোধী শক্তির অনুপস্থিতির কারণে বিএনপি বা জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে বড় কোনো চ্যালেঞ্জ গড়ে তুলতে পারবে না বলেই ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট মনে করছে। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদেশি বিনিয়োগপ্রাপ্তি অব্যাহত রাখা, এবং দেশের অর্থনীতিতে বেসরকারি খাতের ভূমিকা বাড়াতে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জয় পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। আর আওয়ামী লীগ সেই জয় পেলে আগামী দিনগুলোতে বঙ্গোপসাগরের তীরে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভৌগলিক অবস্থানে থাকা বাংলাদেশ প্রতিবেশী ভারত, চীন ও জাপানের কাছ থেকে আরও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আদায় করে নিতে পারবে বলে ধারণা করছে ইআইইউ। অবশ্য রোহিঙ্গা সঙ্কটকে কেন্দ্র করে মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কোন্নয়নের আশু কোনো সম্ভাবনা ইআইইউ দেখছে না। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যে পাঁচ বছরের পূর্বাভাস ইআইইউ দিচ্ছে, তার প্রথম ভাগে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বিষয়টি বড় একটি সমস্যা হিসেবেই থেকে যাবে বলে তারা মনে করছে। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
কেউ অধিকার বঞ্চিত হয় না নৌকায় ভোট দিলে: প্রধানমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক: আওয়ামী লীগের উন্নয়ন তৃণমূলের উন্নয়ন, নৌকায় ভোট দিলে কেউ কোনোদিন অধিকার বঞ্চিত হয় না বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশের অগ্রযাত্রা ধরে রাখতে সবার সহযোগিতা চেয়ে তিনি বলেন, দেশে কোনো দরিদ্র থাকবে না, বেকার থাকবে না। বুধবার বিকাল ৪টার দিকে শেখ লুৎফর রহমান কলেজ মাঠে জনসভায় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। নৌকা মার্কায় ভোট চেয়ে আবারও দেশের সেবা করার সুযোগ চান আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করা আমার একমাত্র লক্ষ্য। ২০১৪ সালে দেশের মানুষ আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়েছিল বলে সারাবিশ্বে বাংলাদেশে আজ উন্নয়নের রোল মডেল। দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আগুন সন্ত্রসীদের ক্ষমতায় আসার পথ বন্ধ করুন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন তার ছোটবোন শেখ রেহানা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন চিত্রনায়ক রিয়াজ ও ফেরদৌস। আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে জনসভায় বক্তব্য দেন- আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান প্রমুখ। এ নির্বাচনী জনসভার মধ্য দিয়ে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করলেন আওয়ামী লীগের সভাপতি। এদিন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় পৌঁছান। দুপুরে তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানান। এরপর সেখান থেকেই তিনি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু করেন। বুধবার দুপুর ২টার দিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় পৌঁছান। সেখানে প্রধানমন্ত্রী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মাজার জিয়ারত করেন। পরে পৈতৃক বাড়িতে দুপুরের খাবার শেষে নির্বাচনী সভায় অংশ নিতে কোটালীপাড়ায় যান। বৃহস্পতিবার সড়কপথে ঢাকায় ফেরার পথে ফরিদপুরের ভাঙ্গা মোড়, ফরিদপুর মোড়, রাজবাড়ী মোড়, পাটুরিয়া ফেরিঘাট, মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড, ধামরাই রাবেয়া মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতাল মাঠে ও সাভার বাসস্ট্যান্ডে নির্বাচনী প্রচার কর্মসূচিতে অংশ নেবেন বলেও একটি সূত্রে জানা গেছে।
বারবার মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছি, মৃত্যুকে ভয় করিনি: প্রধানমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক: আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমাকে মারার জন্য ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা করা হয়। বারবার মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছি, মৃত্যুকে ভয় করিনি। কখনো ষড়যন্ত্রকে ভয় করিনি। আমার নিজের আত্মবিশ্বাস ছিল। তিনি বলেন, ‘আমার বাবার মতো বাংলার মানুষের জন্য কাজ করছি। আমার লক্ষ্য ছিল বাংলার মানুষের জন্য স্বাধীনতার সুফল নিশ্চিত করা। এ কারণে যতই ষড়যন্ত্র হোক আমি ভয় পাই না। বুধবার কোটালীপাড়ায় শেখ লুৎফর রহমান আদর্শ সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত জনসভায় তিনি এ কথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, আমাকে মারার জন্য কোটালীপাড়ায় বোমা পুঁতে রাখা হয়েছিল। যে বোমা পুঁতেছিল সেও কোটালীপাড়ার সন্তান। কিন্তু যে বোমা খুঁজে পেয়েছিল সেও একজন চায়ের দোকানদার। আমি ওই সময় প্রাণে বেঁচে গিয়েছি। সে চা দোকানদার বোমা উদ্ধার করেছিল আমি তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। এর আগে বুধবার বিকেল ৪টার দিকে শেখ হাসিনা জনসমাবেশ স্থলে আসেন। এদিন আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগের জনসংযোগ শুরু হওয়ার পর এটিই সংগঠনের সভাপতি শেখ হাসিনার প্রথম জনসভা। জনসভায় সভাপতিত্ব করছেন কোটালীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুভাষ চন্দ্র জয়ধর। সভা পরিচালনা করছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ আয়নাল হোসেন। এর আগে সকালে ঢাকা থেকে সড়ক পথে টঙ্গীপাড়ায় যান বঙ্গবন্ধুকন্যা। সেখানে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানান এবং দোয়ায় অংশ নেন শেখ হাসিনা। ফেরার পথে বেশ কয়েকটি নির্বাচনী পথসভায় অংশ নেবেন তিনি।
আগুন সন্ত্রাসীরাই হত্যার রাজনীতিতে নেমেছে
অনলাইন ডেস্ক: আগুন-সন্ত্রাসীরাই হত্যার রাজনীতিতে নেমেছে বলে মন্তব্য করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, তারা অতীতে আগুন-সন্ত্রাস করেছে, এখন তারাই নির্বাচনকে সামনে রেখে হত্যার রাজনীতিতে নেমেছে। বুধবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ব্যবসায়ী-পেশাজীবীদের সমাবেশে তিনি এমন মন্তব্য করেন। নির্বাচনী প্রচারণার প্রথম দিনে দুজনের মৃত্যুর বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, হত্যার রাজনীতি আওয়ামী লীগ করে না। যারা হত্যার রাজনীতি করে তারা অতীতেও জ্বালাও-পোড়াও করে নিরীহ মানুষকে হত্যা করেছে। নির্বাচন সামনে রেখে তারাই আজ এসব হামলা চালাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী অত্যন্ত দক্ষ। তারা যেকোনো হামলা ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুত রয়েছে। এসব হামলার ঘটনায় যারাই দায়ী, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসবে। দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি জনগণ। জনগণই দেশের সন্ত্রাসীদের রুখে দেবে- বলেও মন্তব্য করেন তিনি। নির্বাচনকেন্দ্রিক বড় ধরনের কোনো নাশতকা বা হামলার আশঙ্কা আছে কিনা- জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমাদের গোয়েন্দা সদস্য ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তৎপর রয়েছেন। তাদের কাছে কোনো চ্যালেঞ্জই চ্যালেঞ্জ নয়, অতীতেও জঙ্গি-সন্ত্রাস খুব দক্ষতার সঙ্গে নির্মূল করেছে। তারা যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রস্তুত। প্রসঙ্গত, নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে গতকাল মঙ্গলবার ঠাকুরগাঁওয়ে গণসংযোগ করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গণসংযোগ চালাতে গিয়ে তার গাড়িবহরে হামলা হয়। হামলার সত্যতা নিশ্চিত করলেও কারা হামলা করেছে সে বিষয়ে কিছু বলতে পারেনি স্থানীয় পুলিশ। ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমুর রহমান অভিযোগ করেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম দানারহাট এলাকায় নির্বাচনী গণসংযোগে গেলে তার গাড়িবহরে হামলা চালানো হয়। ছয়টি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। মির্জা ফখরুলের সফরসঙ্গী কমপক্ষে ১০ জন আহত হন। ঠাকুরগাঁও সদর থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমরা দু-তিনটা গাড়ি ভাঙচুর হওয়ার খবর পেয়েছি। তবে কারা গাড়ি ভেঙেছে সেটা তদন্ত-সাপেক্ষে বলা যাবে। এছাড়া গতকালের নির্বাচনী প্রচারণায় ফরিদপুর ও নোয়াখালীতে প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত হন দুজন। এসব ঘটনার জন্য বিব্রত বোধ করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা। বুধবার সকালে নির্বাচন ভবনের অডিটরিয়ামে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, নির্বাচন হবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ। কিন্তু প্রতিযোগিতা যেন সহিংসায় পরিণত না হয়, সেদিকে আপনাদের লক্ষ্য রাখতে হবে। সিইসি বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ে বিএনপি মহাসচিবের গাড়িবহরে হামলা হয়েছে। যেটা অনাকাঙ্ক্ষিত এবং আমরা বিব্রত। এটা কখনও কাম্য হতে পারে না। একটা মানুষের জীবন সমস্ত নির্বাচনের চেয়ে মূল্যবান। সারাদেশে যে ৩০০টি আসনে নির্বাচন হবে সেটার যে মূল্য, আমরা মনে করি একটা মানুষের জীবনের মূল্য তার চেয়ে বেশি। সহিংসতার কারণে সেই জীবন চলে গেল, এটা কারও কাম্য হতে পারে না। এ অবস্থা থেকে আমাদের উত্তরণের পথ খুঁজে বের করতে হবে।
টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী প্রচারণা শুরু
অনলাইন ডেস্ক: গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাতির জনকের সমাধিতে শ্রদ্ধা ও মোনাজাতের মধ্য দিয়ে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুর দুইটার দিকে বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন শেখ হাসিনা। তার ছোট বোন শেখ রেহানাসহ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতা-কর্মীরা এসময় উপস্থিত ছিলেন। পরে ফাতেহা পাঠ ও মোনাজাতে অংশ নেন তারা। বিকেলে নিজ নির্বাচনী এলাকা কোটালীপাড়ার শেখ লুৎফর রহমান সরকারি ডিগ্রি কলেজ মাঠে স্থানীয় আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য রাখবেন শেখ হাসিনা। তার এই নির্বাচনী সফরে কোটালীপাড়ায় নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। জনসভায় গোপালগঞ্জের ১৬টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা থেকে লক্ষাধিক লোকসমাগম হবে বলে জানান স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা। এর আগে সকাল সাড়ে আটটায় গণভবন থেকে সড়কপথে গোপালগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা দেন শেখ হাসিনা। যাত্রাপথে বিভিন্ন স্থানে রাস্তার দুপাশে জমায়েত হয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতিকে শুভেচ্ছা জানান দলীয় নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষ। আগামীকাল বৃহস্পতিবার ফিরতি পথে ফরিদপুরের ভাঙ্গা মোড়, ফরিদপুর মোড়, রাজবাড়ী, পাটুরিয়া, মানিকগঞ্জ, ধামরাই, সাভারসহ ১০টি নির্বাচনী এলাকায় প্রচারণায় অংশ নেবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।
এই লেন হাইকোর্টের কাগজ,আপনেরা তো দেননি!
অনলাইন ডেস্ক: নির্বাচন কমিশন ভবনের প্রবেশপথের ঠিক সামনে মোটরসাইকেল থেকে নেমে সোজা চলে গেলেন অভ্যর্থনা ডেস্কে। গিয়েই আলোচিত প্রার্থী হিরো আলম বলে উঠলেন, আপনেরা তো দেননি, এই লেন হাইকোর্টের কাগজ! খুব ভোগান্তি দিলেন আপনেরা। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর রিটার্নিং কর্মকর্তা হিরো আলমের প্রার্থিতা অবৈধ বলে ঘোষণা করেন। তারপর তিনি নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন। আপিল শুনানিতেও হেরে যান তিনি। এর পর ইসি থেকে রায়ের সার্টিফায়েড কপি নিয়ে উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন হিরো আলম। উচ্চ আদালত থেকে রায়ের কপি নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে নির্বাচন কমিশনে জমা দিতে আসেন তিনি। অভ্যর্থনা ডেস্কের কর্মকর্তা হিরো আলমের রায়ের কপি যাচাই করেন। পরে তিনি জমা না নিয়ে হিরো আলমকে ওপরে গিয়ে জমা দিতে বললেন। দেরি না করে দ্রুতই দ্বিতীয়তলায় চলে যান হিরো আলম। সেখানে যাওয়ামাত্র ইসির এক কর্মকর্তা বলে ওঠেন, আরে হিরো আলম ভাই, কেমন আছেন? আপনি এলে লোকজনে ভরে যায়, অথচ অন্য কারো সঙ্গে এত লোক আসে না। উত্তরে হিরো আলম বলেন, সবই আপনাদের ভালোবাসা ভাই। দ্রুত সই করে লেন, ভালো করে দেখেশুনে সই করে লেন! তখন পাশ থেকে ইসির আরেক কর্মকর্তা হিরো আলমকে উদ্দেশ করে বলেন, আপনার সাহস আছে ভাই, আপনি পারবেন। উত্তরে হিরো আলম বলেন, সাহস আছে বলেই তো আমাকে সিংহ মার্কা দিল ইসি। এখনই মরে গেলেও আমার আর কোনো কষ্ট থাকবে না। জীবনে যা পাওয়ার, সব পাইছি। বাকিটুকু বেঁচে থাকব সাধারণ জনগণের জন্য। ডেসপ্যাচে রায়ের কপি দেওয়ার পর এনটিভি অনলাইনের সঙ্গে কথা বলেন হিরো আলম। কথা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আজ রাতেই বগুড়ায় চলে যাব। কাল থেকে প্রচার শুরু করব। আমার আর সইতেছে না! ঢাকায় থেকে আমার কোনো কাজ নেই। নির্বাচন কমিশন আমাকে খুব প্যারা দিল। শুনানিতে যখন ইসি আমাকে বাদ দিল, তখনই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিলাম হাল ছেড়ে দেওন যাবে না। বহুত লোকের কথা সহ্য করে এই পর্যন্ত এসেছি। থেমে থাকা যাবে না, হাইকোর্টে যেতে হবে। শেষমেশ তো ইসিকে হাইকোর্ট দেখিয়েই ছাড়লাম। আমি সাধারণ মানুষের নেতা হতে চাই। আল্লাহ আমাকে তৌফিক দিয়েছেন ভোটের লড়াই করতে। আমি আশা করি, আল্লাহ আমাকে সংসদ পর্যন্ত নিয়ে যাবেন। অনেক কথার জবাব আল্লাহ কিন্তু এরই মধ্যে দিয়ে দেছেন। আমি কিছুই বলব না। যারা আমাকে থামাতে চেষ্টা করে যাচ্ছে, আমি তাদের কিছুই বলব না। ৩০ তারিখে আমার ভোটাররা জবাব দিয়ে দেবে। ভোটাররা আপনার পক্ষে কতটা সাড়া দেবেন বলে ধারণা এমন প্রশ্নে হিরো আলম বলেন, আমি তো জানি না, কতজন ভোটার আমাকে ভোট দেবে। তবে আমার অনেক ভক্ত আছে। আমাকে অনেকে ফোন দিচ্ছে গ্রামে যাওয়ার জন্য। সবাই আমার সঙ্গে কাজ করবে বলে ডাকছে আমাকে। আর আমি সবার দোয়ায় জিতে যাব বলে মনে করছি এখন পর্যন্ত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভোট নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনার ব্যাপারে ইন্টারনেট দুনিয়ায় বাংলা ভাষাভাষি মানুষের কাছে আলোচিত হিরো আলম বলেন, আমাকে অনেকে অনেক বাজে কথা বলেন ফেসবুকে। সামনে তো বলার সাহস পায় না। তবে আমি এসবে মন দেই না। কারণ আমি জানি, আমি অনেকের মতো সুদখোর না, ঘুষ খাই না, আমি মার্ডার করি না, ব্যাংকের টাকা মারি না, আমি কাউকে পুলিশ দিয়ে ধরিয়েও দেই না। বরং আমি এমপি নির্বাচিত হলে এসব বন্ধ করার চিন্তা করব। আমি একা তো পারব না, কিন্তু অনেক এমপিকে এসব নিয়ে চিন্তা করতে বলব। একদিন সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। যদি আমরা চাই। হিরো আলম আরো বলেন, আমি যদি হেরেও যাই, তবুও আমি চেষ্টা করব সাধারণ মানুষের হয়ে কাজ করার। এইবারই যে শ্যাষ, তা তো না। আগামীতে বেঁচে থাকলে আবারও দাঁড়ানো যাবে এমপি পদে। তবে ফেলের কথা আমি ভাবছি না এখন।
টুঙ্গিপাড়ার পথে প্রধানমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য আজ সকালে ঢাকা থেকে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। এর মধ্য দিয়েই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারকাজ শুরু করবেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী। গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে টুঙ্গিপাড়ায় পৌঁছে বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, ফাতেহা পাঠ, দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। পরে দুপুর আড়াইটার দিকে নিজ নির্বাচনী এলাকা কোটালীপাড়ার শেখ লুৎফর রহমান আদর্শ সরকারি কলেজ মাঠে এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণ দেবেন তিনি। রাতে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণের কথা রয়েছে শেখ হাসিনার। টুঙ্গিপাড়ায় নিজ বাড়িতে রাত্রিযাপন করে পরদিন বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে তিনি সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেবেন। এদিকে প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে তাঁর নির্বাচনী এলাকা গোপালগঞ্জ-৩ (কোটালীপাড়া-টুঙ্গিপাড়া) আসনে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে সঞ্চার হয়েছে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার। নির্বাচনী প্রচার ঘিরে মুখর হয়ে উঠেছে কোটালীপাড়া-টুঙ্গিপাড়া উপজেলা। বর্ণিল সাজে সজ্জিত করা হয়েছে কোটালীপাড়াকে। এরই মাঝে শেখ হাসিনার জনসভা সফল করতে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে কোটালীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ। এ ছাড়া জনসভার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন, পুলিশসহ গোয়েন্দা সংস্থার কর্মীরা কাজ করে যাচ্ছেন। গোপালগঞ্জ-৩ আসনে এ পর্যন্ত ছয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন শেখ হাসিনা। আগামী নির্বাচনেও নৌকার দুর্ভেদ্য এ ঘাঁটি থেকে তিনি বিপুল ভোটে জয়লাভ ও টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করবেন বলে প্রত্যাশা ভোটারদের।

জাতীয় পাতার আরো খবর