বাসের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হচ্ছে ৩০ মে থেকে
আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে সড়কপথে যাতায়াতের জন্য বাসের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হচ্ছে আগাসী বুধবার (৩০ মে) থেকে। বৃষ্টি ও সড়কের বেহাল দশার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে এবার একটু আগে থেকেই শুরু হচ্ছে অগ্রিম টিকিট বিক্রি। বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান ও সোহাগ পরিবহনের এমডি সোহেল তালুকদার বলেন, দূরপাল্লার পরিবহন মালিকদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। ৩০ মে বিক্রি হবে ৭ জুন যাত্রার টিকিট। যাত্রীদের চাহিদা অনুসারে কাউন্টারে টিকিট অবশিষ্ট থাকা পর্যন্ত বিক্রি চলবে। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতির মহাসচিব খোন্দকার এনায়েত উল্যাহ বলেন, মহাখালী বাস টার্মিনালে বাসের অগ্রিম টিকিট দেয়ার ধরা-বাধা নিয়ম নেই। যেকোনো কোম্পানি চাইলে যেকোনো সময় অগ্রিম টিকিট বিক্রি করতে পারবে। বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও শ্যামলী পরিবহনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রমেশ চন্দ্র ঘোষ বলেন, অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে সংগঠনের পক্ষ থেকে এবার বাসের অগ্রিম টিকিট বিক্রির ব্যাপারে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি আমরা শুরু করেছি। অনেক পরিবহন অনলাইনে টিকিট বিক্রি করছে। ফলে টিকিট প্রাপ্তিতে কোনো সমস্যা হবে না আশা করা যাচ্ছে। প্রসঙ্গত, রাজধানীর তিনটি বাস টার্মিনাল সায়েদাবাদ, মহাখালী ও গাবতলী থেকে দূরপাল্লার বাস চলাচল করে থাকে। এবার ঈদযাত্রায় ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হবে ১ জুন থেকে। তবে বরাবরের ন্যায় বিআরটিসির বাসের আগাম টিকিট বিক্রির ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
আমাকে যে সম্মানসূচক ডিগ্রি দেওয়া হয়েছে তা আমি সমগ্র বাঙালিদের প্রতি উৎসর্গ করছি
পশ্চিমবঙ্গের আসানসোলে কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডি.লিট ডিগ্রি পাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমি বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনেক উপাধি পেয়েছি, অনেক প্রস্তাব এখনও পড়ে আছে। আমি হয়ত সেদিকে বেশি সময় দিচ্ছি না। কিন্তু যখন নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রস্তাবটা এলো আমার আকাঙ্ক্ষা দমন করতে পারিনি। তাই ছুটে এসেছি আপনাদের মাঝে। তিনি বলেন, আমাকে যে সম্মানসূচক ডিগ্রি দেওয়া হয়েছে তা আমি বাংলাদেশের জনগণের প্রতি উৎসর্গ করছি, পাশাপাশি উৎসর্গ করছি বিশ্বের সমগ্র বাঙালিদের। শেখ হাসিনা তার বক্তৃতায় বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম এদেশের শোষিত-নিপীড়িত মানুষের জন্য সংগ্রাম করেছেন। শোষিত-নিপীড়িত মানুষের জন্যই তিনি বারবার কারাবরণ করেছেন। তেমনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও শোষিত-নিপীড়িত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে গেছেন। তিনিও বারবার কারাবরণ করেছেন। শত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও তাদেরকে কেউ দমাতে পারেনি। তাই বলা যায় শোষিত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজী নজরুল ইসলাম ও শেখ মুজিবুর রহমান পাশাপাশি দুটি নাম। তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশে নিয়ে আসেন এবং আমাদের জাতীয় কবির মর্যাদায় ভূষিত করেন। আমরা যখন আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি সেই আন্দোলন-সংগ্রামে নজরুল ইসলাম আমাদের প্রেরণা। তিনি বাংলা সাহিত্যের কবি আর তেমনি রাজনীতির কবি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আজকে নজরুলের জন্মবার্ষিকীতে তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাই।’ শেখ হাসিনা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতবাসী আমাদের পাশে ছিল। তারা এক কোটি শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে, আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের ট্রেনিং দিয়েছেন। এ জন্য আমরা ভারত সরকারকে কৃতজ্ঞতা জানাই। তিনি বলেন, আমাদের যে জয়বাংলা স্লোগান তা কবি নজরুলের কবিতা থেকে ধার করা। নজরুলের কবিতা বাংলার জয় হোক, বাংলা-বাঙালির জয় হোক। সেখান থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জয়বাংলা স্লোগান তুলে ধরেছিলেন। সেই জয়বাংলা স্লোগান মহান আত্মত্যাগে আমাদের উদ্ধুদ্ধ করেছিল। মুক্তিযুদ্ধে ভারত সরকারের অবদান তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের জীবনে বারবার আঘাত এসেছে। যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ গড়ে তোলার জন্য বঙ্গবন্ধু সাড়ে তিন বছর সময় পেয়েছিলেন। ওই সময় দেশে খাদ্য ছিল না, পানি ছিল না। রাস্তাঘাট ভাঙাচোরা, এক কোটি মানুষ শরণার্থী। ওই সময় ভারত আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। ৭৫ এর পর আমরা বিদেশে ছিলাম। ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী আমাদের খোঁজ-খবর নিয়েছেন। মিসেস গান্ধী জার্মানি থেকে আমাদের নিয়ে এসে আশ্রয় দিয়েছেন। এমনকি আমার স্বজনদের আশ্রয় দিয়েছেন। প্রতিটি দুঃসময়ে আমি আপনাদের পাশে পেয়েছি। শিক্ষাখাতের উন্নয়নে বাংলাদেশ সরকারের পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের সাক্ষরতার হার ৭২ শতাংশ। প্রতি জেলায় আমরা বিশ্ববিদ্যালয় করছি এবং বহুমুখি বিশ্ববিদ্যালয় করার চেষ্টা চালাচ্ছি। আমাদের সম্পদের সীমাবদ্ধতা আছে তারপরও আমরা চেষ্টা চালাচ্ছি কীভাবে মানুষকে শিক্ষিত করা যায়। কারণ শিক্ষিত জাতি আমাদের সম্পদ। কাজী নজরুল ইসলামের জন্ম ভারতে কিন্তু তিনি বাংলাদেশের অনেক জায়গায় গিয়েছেন। আমরা ত্রিশালে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় করেছি। তিনি কুমিল্লায় ছিলেন, সেখানে আমরা গবেষণা কেন্দ্র করেছি। জাতির পিতা সে আত্মজীবনী লিখেছেন সেখানে লিখেছেন ফরিদপুরে কবি কাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে তার দেখা হয়েছিল। একসঙ্গে তারা ছিলেন। এ থেকেই বোঝা যায় তাদের দুজনের মধ্য চেতনার মিল ছিল। নজরুল-রবীন্দ্রনাথ দুই বাংলার সম্পদ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলা ভাগ হয়েছে নজরুল-রবীন্দ্রনাথ ভাগ হয় নাই। এটা দ্ব্যার্থহীনভাবে আমরা বলতে পারি। তাই যখন এই বিশ্ববিদ্যালয় আমাকে দাওয়াত দিয়েছে আমি চলে এসেছি। ১৯৯৯ সালে পশ্চিমবঙ্গে এসে আমি চুরুলিয়া গ্রামে গিয়েছি, সেটা করুণ অবস্থায় ছিল। মমতা ব্যানার্জীকে ধন্যবাদ দিই। তিনি চুরুলিয়ায় নজরুলের জন্মভিটাকে সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছেন। ভারত-বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চিরজীবী হওয়ার আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা প্রতিবেশী দেশ। প্রতিবেশী দেশ হিসেবে আমরা একসঙ্গে কাজ করে যাব। আমরা একে অপরের সঙ্গে কাজ করে নজরুল গবেষণাকে এগিয়ে নিয়ে যাব সেটাই আমরা চাই। আমাদের দেশে ১১ লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে। মানবতার কারণে আমরা তাদের আশ্রয় দিয়েছি। আমরা চাই, অচিরেই এ সমস্যার সমাধান হোক। মাদক-সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ যেন মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে না পারে সে জন্য প্রতিবেশী দেশের সহায়তা চাই। এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষ সমাবর্তনের মাধ্যমে সম্মানসূচক ডক্টর অব লিটারেচার (ডি.লিট) ডিগ্রি দেওয়া হয়। নজরুলের আদর্শে উদ্বুদ্ধ ও সাম্যবাদী সমাজ প্রতিষ্ঠার স্বীকৃতি স্বরূপ তাকে এই ডিগ্রি দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৫ মে ভারত সফরে যান। সফরের প্রথম দিনে তিনি বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ ভবনের উদ্বোধন করেন। এদিন তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকও করেন। সফরের দ্বিতীয় দিন নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে যোগ দেন শেখ হাসিনা। শনিবার সন্ধ্যায় দেশে ফেরার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে :প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা পুরোপুরি কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়ে আশা প্রকাশ করেন উভয় দেশ ভবিষ্যতেও সহযোগিতার এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘদিনের কৌশলগত বন্ধুত্বকে অপরাপর বিশ্বের জন্য ‘দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের মডেল’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে ঘোষণা দিতে পারি যে, উভয় দেশ সহযোগিতার এই মনোভাব ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখবে।’ এখানে শুক্রবার বিকেলে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে যৌথভাবে নবনির্মিত বাংলাদেশ ভবন উদ্বোধনকালে শেখ হাসিনা এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, শান্তিনিকেতনে বাংলাদেশ ভবন বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সাংস্কৃতিক বন্ধন সুদৃঢ় এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরো জোরদার হবে। তিনি বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শান্তিনিকেতনে এটি ছোট এক টুকরো বাংলাদেশ, যেখান থেকে বাংলাদেশের চেতনা প্রতিপালিত হবে। রবীন্দ্রনাথের এই প্রভাব নিজস্বভাবেই অনন্য হয়ে উঠবে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ ভবন বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময়ের প্রতীক হয়ে উঠবে। তিনি শান্তিনিকেতনে আসার জন্য এবং তার সঙ্গে বাংলাদেশ ভবন উদ্বোধনের সুযোগ লাভের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান। অনুষ্ঠানের শুরুতে শান্তিনিকেতনের ছাত্রছাত্রীরা বাংলাদেশ ও ভারতের জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং ‘আনন্দলোকে মঙ্গলালোকে’ রবীন্দ্র সংগীত পরিবেশন করা হয়। পশ্চিমবঙ্গের গভর্নর কেশরিনাথ ত্রিপাঠি, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি সবুজ কলি সেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর বোন শেখ রেহানা এবং সাহিত্যিক, শিক্ষাবিদ, কবি, গায়ক এবং শিল্পীসহ উভয় দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। শেখ হাসিনা বলেন, প্রতিবেশী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে একত্রে চলতে চায় এবং এ লক্ষ্যে দু’দেশের মধ্যকার সব সমস্যার নিষ্পত্তি হয়েছে। তবে আমাদের এখনো কিছু সমস্যা রয়েছে, যা আমি এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশের স্বার্থে এখানে তা উত্থাপন করতে চাই না। অবশ্য আমি বিশ্বাস করি যে বন্ধুত্বপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে যে কোন সমস্যার সমাধান করা যায়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত ৯ বছরে বিভিন্ন খাতে দু’দেশের মধ্যকার সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। তিনি তাঁর দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন যে, পারস্পরিক সহযোগিতা পূর্ণ ব্যবহারের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ভারত আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন সাধনে সক্ষম হবে। শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ ভবন দু’দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময় ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ভবন হবে এমন একটি অনন্য কেন্দ্র যেখানে শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশের গৌরবোজ্জ্বল মুক্তিযুদ্ধ জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান, রবীন্দ্রনাথ এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতি সম্পর্কে লেখাপড়া ও গবেষণা করতে পারবে। শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে রবীন্দ্রনাথের স্মৃতি বিজড়িত চত্বরে বাংলাদেশ ভবন স্থাপনে তিনি অভিভূত। প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব ভারতী চত্বরে বাংলাদেশ ভবন নির্মাণের সুযোগ করে দেয়ার জন্য বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, পশ্চিম বাংলা সরকার, ভারত সরকার ভারতের বন্ধুভাবাপূর্ণ জনগণকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, দ্বিতল এই ভবনটি নির্মাণে বাংলাদেশ সরকার প্রায় ২৫ কোটি রুপি ব্যয় করেছে এবং এই ভবনের রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত ও সংস্কারের জন্য তিনি ১০ কোটি রুপির এককালীন তহবিল দেয়ার ঘোষণা দেন। গবেষকদের সুবিধার জন্য এই ভবনে একটি লাইব্রেরি, অডিটোরিয়াম, ক্যাফেটেরিয়া, ডিজিটাল সরঞ্জামাদিসহ যাদুঘর, আর্কাইভ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা থাকবে। শেখ হাসিনা বলেন, রবীন্দ্রনাথ কলকাতায় জন্মগ্রহণ করলেও তিনি বাংলাদেশকে তাঁর হৃদয়ে ঘনিষ্ঠভাবে ধারণ করে রেখেছিলেন। তিনি তার জীবনের কিছুদিন বাংলাদেশের পতিসার, শিলাইদহ এবং শাহাজাদপুরে কাটিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রবীন্দ্রনাথ এসব জায়গায় তাঁর জমিদারী পর্যবেক্ষণের জন্য সফর করেন। তিনি দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কল্যাণে সর্বদা উদ্বিগ্ন থাকতেন এবং সুখে-দুঃখে তাদের পাশে থাকতেন।’ শেখ হাসিনা বলেন, রবীন্দ্রনাথ বাংলাদেশের পল্লী এলাকার প্রকৃতিকে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করতেন এবং পল্লীর দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য তিনি কৃষিভিত্তিক সমাজ ও অসাধারণ গান, কবিতা, উপন্যাস ও ছোট গল্প রচনা করতেন। পতিসারে তিনি কৃষি সমবায় এবং ক্ষুদ্র ঋণ ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়েছিলেন। শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্ব ভারতীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক মাত্র কিছুদিন আগে। তিনি বলেন, ১৯৯৯ সালে এই প্রতিষ্ঠান থেকে ‘দেশীকুট্টুম’ পুরস্কার লাভের পর থেকে এই প্রতিষ্ঠানের সাথে তাঁর সম্পর্ক। শেখ হাসিনা বলেন, রবীন্দ্রনাথ বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের সকল ক্ষেত্রে সহযোগিতা দিয়েছেন। ১৯৪৮ সালে তৎকালীন তরুণ ছাত্র নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাঙালি জাতি তাদের মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার সংগ্রাম শুরু করেন। তিনি বলেন, ‘ভাষা আন্দোলনের সূত্রপাত ধরে ১৯৬১ সালে আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রাম শুরু হয়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মশত বার্ষিকীতে পাকিস্তানের ক্ষমতাসীনরা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গান বন্ধের উপর নিকৃষ্ট পদক্ষেপ নেয় এবং রবীন্দ্রনাথে সব কাজকর্ম বন্ধ করে দেয়। আমাদের দেশের জনগণ এ ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়।’ তিনি বলেন, ‘আমরা রবীন্দ্রনাথের চেতনাকে আমাদের অন্তরে ধারণ করে রাখার জন্য সংগ্রাম করেছি। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে রবীন্দ্রনাথের গান আমাদেরকে অনুপ্রাণিত করেছে এবং সাহস ও শক্তি যুগিয়েছে।’ শেখ হাসিনা বলেন, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সারাটি জীবন ক্ষুধা দারিদ্র্য ও শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখেছেন। তিনি বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মতো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও বিশ্বাস করতেন সমাজে বৈষম্য দুর না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ব কখনোই উন্নতি লাভ করবে না। তিনি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির প্রতিপাদ্য ছিল ‘সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়’ এই নীতি প্রণয়ন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর নীতি অনুসরণ করে বাংলাদেশ সকল প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে বিশেষ করে ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ট বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। এই দু’দেশের জনগণের মধ্যে অভিন্ন ঐতিহাসিক, সামাজিক, ভাষাগত, সাংস্কৃতিক এবং আবেগঘন সম্পর্ক রয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যা করার পর ভারতের প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী ইন্দ্রিরা গান্ধি তাঁকে এবং তাঁর বোন শেখ রেহানাকে আশ্রয় দেয়ায় ভারতের জনগণের প্রতি তিনি ব্যক্তিগতভাবে কৃতজ্ঞ। বাংলাদেশের জনগণ এই সমর্থন কখনো ভুলবে না।
তথ্য মন্ত্রণালয় সব সময় সাংবাদিকদের কল্যাণের জন্য কাজ করছে
তথ্য প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট তারানা হালিম বলেছেন, নবম ওয়েজবোর্ডে ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের অন্তর্ভুক্ত করার কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। আজ শনিবার সকালে টাঙ্গাইল সার্কিট হাউজে স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়ে তথ্য প্রতিমন্ত্রী একথা বলেন। তারানা হালিম বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা বাড়নোর জন্য তথ্য মন্ত্রণালয় সারাদেশে তথ্য অভিযান পরিচালনা করেছে। তিনি বলেন, আগামী দুই-তিন মাসের মধ্যে অনলাইন পত্রিকার রেজিস্ট্রেশন কাজ সম্পন্ন করা হবে। তথ্য মন্ত্রণালয় সব সময় সাংবাদিকদের কল্যাণের জন্য কাজ করছে। ইতোমধ্যে সাংবাদিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ করা হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশী চ্যানেলগুলো প্রতিবছর ১৪০ মিলিয়নের মতো খরচ করে। নিজস্ব স্যাটেলাইট হওয়ার কারণে এটি এখন থেকে সাশ্রয় হবে। তিনি বলেন, ৭ থেকে ৮ বছরের মধ্যে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের নির্মাণ খরচ উঠে আসবে, এরপর থেকে যা হবে তা লাভ। ইতোমধ্যেই যে সকল দেশে ফুট প্রিন্টিং আছে সে সকল দেশের সাথে ব্যবসায়ীক আলাপ চলছে। এটাতো দৃশ্যমান লাভ। সভায় টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক খান মো. নুরুল আমিন, পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায়, জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দসহ জেলায় কর্মরত প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
শেখ হাসিনা তার গতিশীল নেতৃত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশের বিজয় কেতন উড়িয়েছেন
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই পারে ভারতের কাছ থেকে তিস্তা নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায় করতে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। আজ শনিবার ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটির স্বাধীনতা হলে বাংলাদেশ স্বাধীনতা পরিষদ আয়োজিত ‘মহকাশের নিজ কক্ষে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই ভারতের কাছ থেকে সীমান্তে, সমুদ্রে, ছিটমহলে, গঙ্গা নদীতে পানি বন্টনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ন্যায্য হিস্যা আদায় করেছেন। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আজকে মহাকাশে বাংলাদেশের পতাকা উড্ডয়ন হয়েছে। অর্থাৎ জলে, স্থলে, অন্তরিক্ষে শেখ হাসিনা তার গতিশীল নেতৃত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশের বিজয় কেতন উড়িয়েছেন। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যেভাবে সিমান্ত সমস্যার সমাধান হয়েছে, যেভাবে সমুদ্রসীমা সমস্যার সমাধান হয়েছে, গঙ্গার পানির হিস্যা যেভাবে আদায় হয়েছে একইভাবে তিস্তার পানি সমস্যারও সমাধান হবে। তিনি বলেন, বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দিল্লীতে গিয়ে গঙ্গার পানির কথা বলতে ভুলেই গিয়েছিলেন। যাদের নেত্রী গঙ্গার পানির কথা বলতে ভুলে যান তাদের নেতারাই আবার তিস্তার পানি নিয়ে কথা বলেন। আপনাদের সেই কথা বলার অধিকার নেই। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা ভারতের একটি রাজ্যের রাজধানীতে গেছেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রতি সম্মান প্রর্দশন করে রাজধানী থেকে কলকাতায় উড়ে এসেছেন শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করার জন্যে। এখানেই বোঝা যায় বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক কতো গভীর এবং শেখ হাসিনার সঙ্গে নরেন্দ্র মোদীর সম্পর্ক কতো গভীর। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ২৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাসিবুর রহমান মানিকের সভাপতিত্বে আরো উপস্থিত ছিলেনÑ খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, আওয়ামী লীগ নেতা বলরাম পোদ্দার, তাঁতী লীগের কার্যকরি সভাপতি সাধনা দাশ গুপ্তা, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন টয়েল প্রমুখ।
মাদক পাচারে যারাই জড়িত থাকুক কেউ রেহাই পাবেনা
সাভারে আশুলিয়ায় সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, বদির বিরুদ্ধে যদি মাদক পাচারের অভিযোগ প্রমাণিত হয় তাহলে বদির বেয়াই যেমন ছাড় পায়নি, তেমনি বদিসহ আওয়ামীলীগ, বিএনপি বা অন্যদলের যারাই জড়িত থাকুক কেউ রেহাই পাবেনা। আজ শনিবার দুপুরে আসন্ন ঈ উপলক্ষে মহাসড়কের পূর্ব প্রস্তুতি পরিদর্শণে এসে আশুলিয়ার বাইপাইল এলাকায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। এসময় মন্ত্রী বলেন, শুধু বাংলাদেশ নয়, পৃথিবীর সব দেশেই ড্রাগস এর সঙ্গে অস্ত্র জড়িত। যারা কোটি কোটি টাকার অবৈধ ব্যবসা করায় তারা অস্ত্র ছাড়া চলেনা। সেই অস্ত্র যখন র‌্যাব পুলিশকে প্রতিরোধ করতে আসে, তাদের উপর গুলি ছুড়ে তখন মাদক ব্যবসায়ীদের অস্ত্রের মুখে র‌্যাব এবং পুলিশ কি বসে বসে জুই ফুলের গান গাইবে? এটাই এনকাউন্টার। মন্ত্রী আরও বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে র‌্যাব এবং পুলিশ আজ সর্বাত্বক অভিযান শুরু করেছে। এ অভিযানের কারণে রাজনৈতিক মতলবি একটি মহল খুশি না হলেও সাধারন মানুষ খুশি হয়েছে। মাদকের কারণে দেশের তরুণ সমাজের একটি অংশ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, মিয়ানমান থেকে রোহিঙ্গা স্রোতের মতো মাদকের স্রোতও আজ সোনামির মতো বাংলাদেশের গ্রামে-গঞ্জে ও শহরের পাড়া মহল্লায় ঢুকে পড়েছে। এরকম অবস্থায় দেশের মানুষ মাদকের বিরুদ্ধে এরকম একটি অভিযান চেয়েছে এবং মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা তৈরী হওয়ায় সাধারণ মানুষ খুশি। তালিকা অনুযায়ী এখন তদন্ত হচ্ছে এবং খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে। সেই অনুযায়ী মাদক ব্যবসায়ীদের রুখে দিতে র‌্যাব এবং পুলিশ সব ধরনের উদ্যোগ নিয়ে মাদকের বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছে। ঈদে ঘরমুখো মানুষের ুর্ভোগের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ঈ উপলক্ষ্যে সাধারণ মানুষের ূর্ভোগ কমাতে আমরা আগে থেকেই কাজ শুরু করেছি। ইতিমধ্যে গাজিপুর, কালিয়াকৈর আশুলিয়া এলাকায় ঈ পূর্ব প্রস্তুতির জন্য পরিদর্শন করেছি। এবার আশুলিয়ার রাস্তাগুলো আগের যে কোন সময়ের চেয়ে ভালো উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, প্রতিবছর এখানকার রাস্তাগুলো ডুবে গেলেও রাস্তুা উঁচু করায় সেরকম কোন আশঙ্কা নাই। এছাড়া আব্দুল্লাহপুর থেকে ডিইপিজেড পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ীর্ঘ মেয়াী পরিকল্পনা চলছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, উপরে এলিভেটেড এবং নীচে ফোর লেন করার জন্য সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকার প্রজেক্ট অনুমোদন হয়েছে। বর্তমানে সেটি চাইনিজ কোম্পানীর অনুমোদনের জন্য বেইজিংয়ে আছে। সেখানে এক্সিম ব্যাংক ফান্ডটি রিলিজ করলেই আগামী অক্টোবরের মধ্যে আব্দুল্লাহপুর থেকে ইপিজেড পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এবং ফোর লেনের কাজ শুরু হবে। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরকে ঘিরে তিস্তা চুক্তি নিয়ে বিএনপির মিথ্যাচারের জবাবে মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের রাজধানী দিল্লিতে যাননি। গিয়েছেন কলকাতায় শান্তি নিকেতনে বাংলাদেশ ভবন উদ্বোধন করার জন্য। সেখানে তিস্তা চুক্তি বলে কোন এজেন্ডা নেই। যারা ভারতে গিয়ে লাল কার্পেট রিসিপশন নিয়ে ঢাকা এয়ারপোর্টে ফিরে এসে সাংবাদিকদের বলেছিলো গঙ্গার পানি নিয়ে কথা বলতে আমরা ভুলেই গিয়েছিলাম। কিন্তু আমরা ভুলে যাইনি। আমি নিজেও প্রতিনিধি ল নিয়ে যখন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোরি সঙ্গে আলোচনা করেছি সেখানে রোহিঙ্গা এবং তিস্তা চুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। চুক্তি হলে সবাই জানতে পারবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, শুধু মাত্র দিল্লী সরকার কিংবা ভারতের ফেডারেল সরকার একমত হলেই হবেনা পশ্চিমবঙ্গ সরকারেরও সম্মতি লাগবে। আজকে মমতা ব্যানার্জীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈঠক হচ্ছে, আমার বিশ্বাস চুক্তি যে কোন সময় হতে পারে।
আত্মগোপনে মাদকের শীর্ষ গডফাদাররা
সারাদেশে মাদকবিরোধী অভিযান শুরু হওয়ার পর আত্মগোপনে চলে গেছেন মাদকের শীর্ষ গডফাদাররা। তারা ভয়ে এখন গাঢাকা দিয়েছে। অনেকে ঘরবাড়িতে তালা দিয়ে পালিয়েছে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে থাকা তালিকায় টেকনাফের ৬০ গডফাদারের অনেকে ঢাকায় আশ্রয় নিয়েছেন। সূএ, প্রতিদিনের সংবাদ,তারা তাদের পৃষ্ঠপোষক শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে আশ্রয় চাচ্ছেন। তবে মাদকের প্রতি সরকার ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থানের কারণে তাদের পৃষ্ঠপোষকরাও তাদের আশ্রয় দিচ্ছেন না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি সংস্থার তদন্তে যেসব গডফাদার, প্রভাবশালী আশ্রয়দাতা, বিনিয়োগকারী ও পৃষ্ঠপোষকের নাম এসেছে তাদের আইনের আওতায় আনা না গেলে মাদকের মূলোৎপাটন সম্ভব নয়। তবে মাদক নির্মূলে গডফাদার ও তাদের পৃষ্ঠপোষকদের নিয়ে সরকার ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনী শক্ত অবস্থানে আছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া বলেছেন, ঢাকায় মাদকের পৃষ্ঠপোষকদের খুঁজে বের করা হবে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে টেকনাফের মাদকের ৬০ গডফাদারের তালিকা আছে। মাদকের গডফাদারদের তালিকায় রাজনৈতিক জনপ্রতিনিধি ও তাদের নিকট আত্মীয় স্বজনের নাম রয়েছে। যাদের মধ্যে আছেন সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদির চার ভাই। তারা হলেন মো. আব্দুস শুক্কুর, আব্দুল আমিন, পৌর কাউন্সিলর মৌলভী মুজিবুর রহমান ও মো. সফিক। গডফাদারের ওই তালিকায় জনপ্রতিনিধির মধ্যে আছেন টেকনাফের উপজেলার চেয়ারম্যান জাফর আহমেদ ও তার পুত্র সদর ইউপি চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান। এসব গডফাদারদের তালিকা ধরে অভিযান চালাচ্ছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। গডফাদারদের মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকায় আট নম্বরে থাকা আকতার কামাল মারা গেছেন। গতকাল কক্সবাজারে মেরিনড্রাইভ সড়কে তার গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। স্থানীয়রা বলছেন, আকতার কামাল উখিয়া টেকনাফের ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদির বড় বোন শামসুন্নাহারের দেবর এবং টেকনাফ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জাফর আহমদ এর বেয়াই। এছাড়া শীর্ষ ওই মাদক গডফাদার টেকনাফের বিএনপি নেতা সুলতান আহমেদ এর শ্যালক। তিনি টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত সদস্য। চেয়ারম্যান জাফর আহমদ নিজে এবং তার তিন ছেলে ইউপি চেয়ারম্যান শাহজাহান, মোস্তফা মিয়া, দিদার মিয়া মাদকের গডফাদারের ওই তালিকায় আছেন। অন্যদিকে গোয়েন্দাদের হাতে রাজধানী ঢাকায় ১০২ জন শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী তালিকা আছে। তারা রাজধানীকে মাদকের ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করে। টেকনাফ থেকে কক্সবাজার হয়ে সরাসরি মাদক চলে আসে ঢাকায় শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে। এরপর তারা ঢাকার অলি-গলি থেকে শুরু করে সারাদেশে মাদক পাচার করে।
RAB এর অভিযানে দেড় শতাধিক আটক
রাজধানীর মোহাম্মদপুর বিহারী ক্যাম্পে (RAB) মাদকবিরোধী অভিযানে দেড় শতাধিক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। শনিবার সকাল ১০ টা থেকে এ অভিযান শুরু হয়। RAB এর গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মুফতি মাহমুদ অভিযানের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। অভিযানে ডগ স্কয়ার্ড ব্যবহার করা হচ্ছে। মুফতি মাহমুদ জানান, আমরা আজ যে এলাকায় অভিযান চালাচ্ছি সে এলাকায় প্রচুর মাদকসেবী রয়েছে। আমাদের কাছে কিছু তালিকা রয়েছে যারা মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত। পাশাপাশি জনসচেতনা বৃদ্ধিতে আমরা লিফলেটও বিতরণ করছি। অভিযানে বেশ কয়েকজনকে আটক করেছি। তাদেরকে যাচাইবাছাই করা হবে। যাদের সনাক্ত করা হবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। কি পরিমাণ মাদক আটক করা হয়েছে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে মুফতি মাহমুদ বলেন, আমাদের বেশ কয়েকটি টিম যৌথভাবে কাজ করছে। তাই কি পরিমাণ মাদক উদ্ধার হয়েছে তা এখনো বলা যাচ্ছে না। অভিযান শেষে পরিমাণ জানা যাবে। বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর ফার্মগেটে আনন্দ সিনেমা হলের সামনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ঢাকায় মাদকবিরোধী অভিযান ঘোষণা করেন। তবে এর আগ থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে মাদকবিরোধী অভিযান শুরু হয়। এই অভিযানে অর্ধশতাধিক মাদক ব্যবসায়ী বন্ধুকযুদ্ধে মারা গেছেন। মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জঙ্গি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যেমন জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন, তেমনই মাদকের বিরুদ্ধেও জিরো টলারেন্স ঘোষণা করা হয়েছে। আমরা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরসহ সব গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে গোপনে একটি তালিকা তৈরি করেছি। সেই অনুযায়ী দেশে অভিযান চলছে। এই তালিকা অনুযায়ী মাদক ব্যবসায়ীদের বিচারের আওতায় আনা হবে। কোনোভাবে ছাড় দেওয়া হবে না।
ডি লিট ডিগ্রি নিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
ভারতের কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডক্টর অব লিটারেচার (ডি লিট) ডিগ্রি নিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার ভারতের পশ্চিমবঙ্গের আসানসোলে বিশ্ববিদ্যালয়টির বিশেষ সমাবর্তনে শেখ হাসিনাকে সম্মানসূচক এই ডিগ্রি দেওয়া হয়। শেখ হাসিনাকে এই সম্মান জানানোর কারণ ব্যাখ্যা করে ভারতের বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য অধ্যাপক সাধন চক্রবর্তী বলেন, শোষণমুক্ত, বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে এবং গণতন্ত্র, নারীর ক্ষমতায়ন, দারিদ্র দূরীকরণ ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের উন্নয়নে অসাধারণ ভূমিকা রাখার জন্য এই ডিগ্রি দেওয়া হল শেখ হাসিনাকে। বাংলাদেশের জাতীয় কবির জন্মবার্ষিকীর দিনে তার নামে প্রতিষ্ঠিত ভারতের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া হল ডি-লিট ডিগ্রি। শেখ হাসিনা তাকে দেওয়া এ সম্মান সমগ্র বাঙালি জাতিকে উৎসর্গ করার ঘোষণা দেন। শনিবার সকালে কলকাতা থেকে বিমানে রওনা হয়ে দুর্গাপুর থেকে সড়কপথে দুপুরে আসানসোলে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছান শেখ হাসিনা। বিশেষ সমাবর্তন ও ডি-লিট প্রদান অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী, সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নুর, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, গওহর রিজভী, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরীসহ বাংলাদেশের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক অঙ্গনের বেশ কয়েকজন প্রতিনিধি যোগ দিয়েছেন।

জাতীয় পাতার আরো খবর