আওয়ামীলীগ চার সিটিতে নৌকার বিজয় সুনিশ্চিত করতে চায়
জুলাইয়ের শেষে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সিলেট, বরিশাল ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের নির্বাচন। রোজার মধ্যে অর্থাৎ জুনের প্রথম সপ্তাহের শেষ অথবা দ্বিতীয় সপ্তাহের শুরুতেই এসব নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর ফলে আগামী ২৬ জুন অনুষ্ঠিত গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আগেই নির্বাচনী উত্তাপ শুরু হচ্ছে এই তিন সিটিতেও। জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে এসব নির্বাচনের ফল দেশের রাজনীতিতে প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। আওয়ামী লীগ বলছে, সরকারের উন্নয়ন প্রচার ও দলীয় ঐক্য নিশ্চিত করতে পারলেই নৌকার বিজয় সুনিশ্চিত। এজন্য নির্বাচনী প্রচারণায় আনা হচ্ছে নানা কৌশল। জাতীয় নির্বাচনের আগে কোনো সিটিতেই জয় হাতছাড়া করতে চায় না দলটি। ২০১৩ সালের নির্বাচনে খুলনায় তালুকদার আবদুল খালেক, বরিশালে শওকত হোসেন হিরণ, রাজশাহীতে এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন, সিলেটে বদরউদ্দিন আহমেদ কামরান এবং গাজীপুরে এডভোকেট আজমত উল্লাহ খান বিএনপির প্রার্থীদের কাছে পরাজিত হন। এবার ৫ সিটিতে জয় ধরে রাখতে আওয়ামী লীগও বেশ সতর্ক। ইতোমধ্যে খুলনায় তালুকদার আবদুল খালেক আসনটি পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন। রাজশাহী ও সিলেটে খায়রুজ্জামান লিটন এবং বদরউদ্দিন আহমেদ কামরানকে দলের প্রার্থী হিসেবে আগেই সিগন্যাল দেয়া হয়েছে হাইকমান্ড থেকে। বরিশালে হিরণের মৃত্যুর ফলে এবার সেখানে নতুন কাউকে মনোনয়ন দেবে আ.লীগ। আর গাজীপুরে আজমত উল্লাহ খানের পরিবর্তে জাহাঙ্গীর আলমকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। দলীয় হাইকমান্ডের আশা, আজমত উল্লাহ এবং জাহাঙ্গীর ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্তরিকভাবে কাজ করলে গাজীপুরে নৌকার বিজয় নিশ্চিত হবে। খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তালুকদার আবদুল খালেক নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে জয়ের ধারাবাহিকতা শুরু হয়েছে বলে মনে করে আওয়ামী লীগ। ২৬ জুন অনুষ্ঠেয় গাজীপুর ও পরবর্তীতে বরিশাল, সিলেট এবং রাজশাহীতেও জয়ের ধারা বজায় রাখতে চায় তারা। সে জন্য মাঠ পর্যায়ে কোন্দল মিটিয়ে দলকে ঐক্যবদ্ধ ও চাঙ্গা রাখতে কেন্দ্রীয়ভাবে নানা উদ্যোগ নিয়েছে দলটি। এ ছাড়া সাংগঠনিক তৎপরতা বৃদ্ধি, সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড ব্যাপকহারে ভোটারদের কাছে তুলে ধরারও পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। জানা গেছে, গত সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনির্ধারিত আলোচনায় গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, খুলনায় দলের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ ছিল বলেই আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। গাজীপুরেও জয়ী হতে হলে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। এ সময় বৈঠকে উপস্থিত গাজীপুরের দুই মন্ত্রী মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকিকে উদ্দেশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গাজীপুরে যেন কোনো ঝামেলা না হয়। কোনো ধরনের অজুহাত আমি শুনতে চাই না। এদিকে গাজীপুরে বিজয় নিশ্চিত করতে স্থানীয় নেতাদের দ্বন্দ্ব নিরসনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের নেতৃত্বে ৮টি দল গঠন করা হয়েছে। আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হওয়ার আগেই ঘরোয়াভাবে সব কোন্দল মেটানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক ভোরের কাগজকে জানান, খুলনা সিটিতে জয়ের পর আমাদের এখন টার্গেট গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জয়ী হওয়া। পর্যায়ক্রমে অন্য সিটি করপোরেশনগুলোতেও জয় পেতে হবে। এজন্য দলের ভেতরকার বিভেদ দূরীকরণসহ সবদিকেই খেয়াল রাখা হচ্ছে। তিনি বলেন, কেন্দ্র থেকে নির্বাচনের বিষয়টি কঠোরভাবে মনিটরিং করা হবে। ইতোপূর্বে খুলনা, রাজশাহী ও সিলেটে আওয়ামী লীগের যারা মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তারা প্রত্যেকেই ক্লিন ইমেজের। মেয়র থাকাকালীন তারা ব্যাপক উন্নয়ন করেছিলেন। ৫ বছর বিএনপির মেয়র থাকায় কোনো উন্নয়ন হয়নি। ফলে এবার তালুকদার আবদুল খালেককে জনগণ ভোট দিয়ে পুনরায় মেয়র নির্বাচিত করেছেন। মানুষ বুঝেছে আওয়ামী লীগকে ভোট দিলে এলাকার উন্নয়ন হবে। আমরা বিশ^াস করি, প্রতিটি সিটিতেই মানুষ আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে জয়ী করবে। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, মানুষ এখন অনেক সচেতন। তারা ভালো লিডারশিপ চান। সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের যারা প্রার্থী তারা প্রত্যেকেই পরীক্ষিত ও জনবান্ধব লিডার। এলাকার উন্নয়নে তারা ব্যাপক ভ‚মিকা রেখেছেন। ৫টি বছর তাদের অনুপস্থিতি মানুষ উপলব্ধি করতে পেরেছেন। তারা জানেন, বিএনপির কোনো ভবিষ্যৎ নেই।সূএ ভোরের কাগজ
মাদকবিরোধী অভিযান,গ্রেফতার হতে পারেন এমপি সহ সাড়ে ৪শ জনপ্রতিনিধি
ডেস্ক :মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে গ্রেফতার হতে পারেন সাড়ে ৪শজনপ্রতিনিধি। এই তালিকায় আছে ১০ জন এমপি, ১৫ জন সাবেক এমপি, অর্ধশতাধিক পৌর মেয়র, দুই শতাধিক কাউন্সিলর এবং দেড় শতাধিক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের নাম।তালিকাটি ইতিমধ্যে পুলিশের সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোতে পাঠানো হয়েছে। তবে এখনই তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে না। ঈদের পরই এদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পুলিশ সদর দফতরের সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।সূত্র জানায়, চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে (রমজান মাসজুড়ে) প্রাথমিকভাবে শীর্ষ পর্যায়ের ৩ শতাধিক মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিশেষ বৈঠকে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য ঈদের আগের দিন পর্যন্ত সময় পাবেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এরপর মাদকের এক হাজার গডফাদার এবং তালিকাভুক্ত আড়াই হাজার মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। ওই এক হাজার গডফাদারের মধ্যে সাড়ে ৪শজনপ্রতিনিধি আছেন। পুলিশ সদর দফতর থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে গত ৯ দিনে ৪৭ জন নিহত হয়েছে। এর মধ্যে মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত বন্দুকযুদ্ধে আট জেলায় অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছে। তাদের মধ্যে কুষ্টিয়ায় দুজন, জামালপুর, কুমিল্লা, ঠাকুরগাঁও, লালমনিরহাট, রংপুর, ফেনী ও গাইবান্ধায় একজন করে নিহত হয়েছে। এর আগে সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত ১১ জন নিহত হয়। এছাড়া ১ রমজান থেকে বুধবার পর্যন্ত গ্রেফতার হয়েছে প্রায় ৫ হাজারের বেশি মাদক ব্যবসায়ী। মামলা হয়েছে প্রায় চার হাজার জনের বিরুদ্ধে। রযাবের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দেয়া হয়েছে ২ হাজার ৭২১ জনের। সূত্র আরও জানায়, মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালাতে ১৩ মে পুলিশের রেঞ্জ ডিআইজি, মেট্রোপলিটন কমিশনার এবং এসপিদের কাছে পুলিশ সদর দফতর থেকে চিঠি দেয়া হয়েছে। ওই চিঠির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রেঞ্জ, জেলা বা মেট্রোপলিটন এলাকার মাদক ব্যবসায়ী, মাদক সংশ্লিষ্ট রাজনীতিবিদ এবং পুলিশ কর্মকর্তাদের নামের তালিকাও পাঠানো হয়। সম্প্রতি রযাবের পক্ষ থেকে সারা দেশের মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা তৈরি করে তা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দেয়া হয়। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অন্যান্য ইউনিটের পক্ষ থেকেও একই ধরনের তালিকা মন্ত্রণালয়ে জমা পড়ে। সবগুলো তালিকার সমন্বয়ে এরই মধ্যে একটি সমন্বিত তালিকা তৈরি করেছে মন্ত্রণালয়। ওই তালিকাটি পুলিশ সদর দফতরের মাধ্যমে পাঠানো হয় রযাব-পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে। এরপরই মাঠে নামে রযাব এবং পুলিশ। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ ও রযাবের দাবি- নিহতরা সবাই শীর্ষ পর্যায়ের মাদক ব্যবসায়ী। তাদের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মাদক মামলা রয়েছে। তবে এসব ঘটনাকে বিচারবহির্ভূত হত্যা হিসেবে উল্লেখ করেছে একাধিক মানবাধিকার সংগঠন। নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে, গ্রেফতারের পর তাদের হত্যা করা হচ্ছে। বিএনপির দাবি- এর পেছনে সরকারের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আছে। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল তার নিজ দফতরে মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেন, কাউকে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা করা হচ্ছে না। মাদকের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বিশেষ অভিযানে রয়েছে। অভিযান চলাকালে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীরা র‌্যাব-পুলিশের ওপর আক্রমণ চালাচ্ছে। আর র‌্যাব-পুলিশ আত্মরক্ষার্থে গুলি ছুড়ছে। তিনি বলেন, মাদক ব্যবসায়ী বা তাদের গডফাদাররা যত শক্তিশালীই হোক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ক্ষেত্রে কেউ ছাড় পাবে না। জানতে চাইলে পুলিশ সদর দফতরের এআইজি সহেলী ফেরদৌস বলেন, সারা দেশে মাদকের ভয়াবহ আগ্রাসন রোধে পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে আমরা সারা দেশে মাদকের গডফাদার, শীর্ষ পর্যায়ের ব্যবসায়ী, পাইকারি ব্যবসায়ী এবং খুচরা বিক্রেতাদের তালিকা করেছি। সেই তালিকা অনুযায়ী অভিযান চলছে। এক্ষেত্রে গডফাদার এবং শীর্ষ পর্যায়ের মাদক ব্যবসায়ীদের দিকে পুলিশের নজর থাকবে বেশি। তালিকায় যেসব পুলিশ সদস্য বা জনপ্রতিনিধির নাম রয়েছে তাদেরও গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে। র‌্যাব সদর দফতরের উপপরিচালক মেজর আবদুল্লাহ আল মেহেদী বুধবার জানান, বিশেষ অভিযান শুরুর পর থেকে র‌্যাব এ পর্যন্ত ২ হাজার ৭২১ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছে। আর বিশেষ অভিযান চলাকালে বন্দুকযুদ্ধে ৯ দিনে ৪৭ জন মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে। আরেকটি সূত্র জানায়, ১২ ফেব্রয়ারি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা বিভাগে মাদকের ভয়াবহ আগ্রাসন ঠেকাতে গঠিত এনফোর্সমেন্ট কমিটির চতুর্থ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভার আলোকে পুলিশের উদ্যোগে কক্সবাজার জেলার মাদক ব্যবসায়ীদের ১ হাজার ১৫১ জনের তালিকা প্রস্তুত করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রস্তুত করা এক তালিকা অনুযায়ী রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৪৩৮ জন মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকের পৃষ্ঠপোষক রয়েছে। এই পাঁচ জেলার পৃষ্ঠপোষকদের মধ্যে দুজন বর্তমান এমপি ও দুজন সাবেক এমপির নাম রয়েছে। এসব জেলায় আছে দেড় শতাধিক মাদকের হাট বা স্পট। গত বছরের ২ থেকে ৭ অক্টোবর ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত বিজিবি-বিএসএফ ডিজি পর্যায়ের ৪৫তম সম্মেলনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিজিবির পক্ষ থেকে দেশের ২৫টি জেলার ৩৩৭ জন শীর্ষ মাদক পাচারকারীর তালিকা তৈরি করা হয়। ক্রমবর্ধমান আগ্রাসন রোধে গঠিত কোর কমিটির বিশেষ সভা গত নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলের ৭০৬ মাদক ব্যবসায়ীর তালিকা প্রস্তুত করা হয়। এসব তালিকার মধ্যে একাধিক তালিকায় যাদের নাম এসেছে তাদের ব্যাপারে কঠোর অবস্থানে সরকার। যুগান্তর
নজরুল চর্চা নতুন প্রজন্মকে সমৃদ্ধ করবে: রাষ্ট্রপতি
রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, নতুন প্রজন্ম নজরুল চর্চার মাধ্যমে নিজেদের সমৃদ্ধ করবে এবং বৈষম্যহীন, সমতাভিত্তিক একটি অসাম্প্রদায়িক সমাজ বিনির্মাণের প্রত্যয়ে দেশপ্রেমের মহান ব্রতে উজ্জীবিত হয়ে জাতিগঠনে অর্থবহ অবদান রাখবে। জাতীয় কবির ১১৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার ত্রিশালে জাতীয় পর্যায়ে তিন দিনের কর্মসূচির উদ্বোধনকালে রাষ্ট্রপতি বলেন, নজরুল কেবল বাংলার জাতীয় কবিই নন, তিনি জাগরণের কবি, সাম্যের কবি। খবর বাসসের রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, নতুন প্রজন্ম নজরুলের অনির্বাণ শিখার আলোকচ্ছটায় নিজেদের সমৃদ্ধ করে সমাজ পরিবর্তনে ও সোনার বাংলা বিনির্মাণে অবদান রাখবে। জাতীয় কবি নজরুল ইসলামের স্মৃৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে রাষ্ট্রপতি বলেন, নজরুল পশ্চিমবঙ্গের চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করলেও ১৯১৪ সাল থেকে তার জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় কাটিয়েছেন ময়মনসিংহের এ ত্রিশালে। রাষ্ট্রপতি বলেন, সাম্যের কবি হিসেবে নজরুল তার কালজয়ী প্রতিভা, সমৃদ্ধ ও মূল্যবান সাহিত্য কর্ম, বক্তৃতা, জীবন দর্শন এবং মানবিক মূল্যবোধের স্ফূরণের মাধ্যমে বাঙালির জাগরণে, স্বাধিকার ও স্বাধীনতার আন্দোলন সংগ্রামে এবং ধর্মান্ধতা ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর প্রেরণায় অনন্য ভূমিকা রেখেছেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, নজরুল বহুবার বাংলাদেশের পূর্ব, উত্তর ও দক্ষিণসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ছুটে এসেছেন। অবিভক্ত বাংলার পশ্চাৎপদ জনপদগুলোর মানুষের কাছে এসেছেন। তার বর্ণাঢ্য ব্যক্তিত্ব এবং বক্তৃতা গান ও আবৃত্তির মাধ্যমে বাংলার সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মাঝে জাগরণের বাণী পৌঁছে দিয়েছেন এবং স্বাধীনতার বাণী শুনিয়েছেন। বীর মুক্তিযোদ্ধা রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেন, নজরুলের সাহিত্যকর্ম পাকিস্তানি শাসকদের শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে। তার দেশপ্রেম ও উদ্দীপনামূলক কবিতা ও গান আমাদের লড়াই সংগ্রামের স্পৃহাকে শানিত করেছে। রাষ্ট্রপতি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সৃষ্টিশীল এ মহান কবির প্রতি সম্মান জানাতে কবিকে ১৯৭২ সালে সপরিবারে কলকাতা থেকে ঢাকায় নিয়ে আসেন। অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, অতিরিক্ত সচিব এম মসিউর রহমান ও ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক ড. সুভাষ চন্দ্র বিশ্বাস বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় সংসদে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান বেগম সিমিন আরা এমপি। এরপর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। বিদ্রোহী কবি নজরুল ইসলামের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‌্যালি, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। ২৫ মার্চ দরিরামপুর নজরুল মঞ্চ থেকে এই কর্মসূচি শুরু হয়। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসন যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। ২৭ মে এ কর্মসূচি শেষ হবে।
যৌথ উদ্যোগে বিনিয়োগকে উভয় দেশ লাভবান হবে
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশের আরো উন্নয়নে ভারতীয় বিনিয়োগকে বাংলাদেশ স্বাগত জানাবে।একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশি বিনিয়োগকারীদের ভারতে বিনিয়োগে বিশেষ করে যৌথ উদ্যোগের সুবিধা দিতে সেদেশের সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এতে উভয় দেশ লাভবান হবে।-খবর বাসস। শুক্রবার সন্ধ্যায় কলকাতার তাজ বেঙ্গল হোটেলের ম্যান্ডারিং কক্ষে স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান। সাক্ষাৎ শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের অবহিত করেন। শেখ হাসিনা বাংলাদেশে নদী খননে ভারতীয় ব্যবসায়ীদের সমর্থন কামনা করে বলেন, এতে আঞ্চলিক যোগাযোগ জোরদার হবে। পরে প্রধানমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গের গভর্নর কেশরী নাথ ত্রিপাঠির দেয়া ভোজসভায় যোগ দেন। কোলকাতার রাজভবনে এ ভোজসভা অনুষ্ঠিত হয়
মাদকবিরোধী অভিযান ,নিহত ৮
কুমিল্লা, দিনাজপুর, চাঁদপুর, জয়পুরহাট, ময়মনসিংহ ও বরগুনায় মাদকবিরোধী অভিযানকালে র‌্যাব ও পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ আটজন নিহত হয়েছেন।র‌্যাব ও পুলিশের দাবি, নিহতরা সবাই মাদক ব্যবসায়ী। তাদের নামে বিভিন্ন থানায় মাদকের মামলা রয়েছে। শুক্রবার দিবাগত রাতে এ ‘বন্দুকযুদ্ধের’ ঘটনাগুলো ঘটে। আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর: কুমিল্লা: জেলায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ বাবুল (৪০) ও আলমাস (৩৬) নামে দুই যুবক নিহত হয়েছেন। নিহতরা মাদক ব্যবসায়ী বলে দাবি করেছে পুলিশ। শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে জেলার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার বাগরা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত বাবুল একই উপজেলার আশাবাড়ি গ্রামের আবদুল মালেকের ছেলে। তার বিরুদ্ধে ১৬টি মাদকের মামলা রয়েছে। আলমাস উপজেলার দক্ষিণ তেতাভূমি গ্রামের আফাজ উদ্দিনের ছেলে। তার বিরুদ্ধে আটটি মাদকের মামলা রয়েছে। ব্রাহ্মণপাড়া থানার ওসি সৈয়দ আবু মোহাম্মদ শাহ জাহান কবির জানান, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে মাদক উদ্ধার ও মাদক ব্যবসায়ীদের আটক করতে ব্রাহ্মণপাড়া- দেবিদ্বার সার্কেলের এএসসি শেখ মোহাম্মদ সেলিম ও ওসি সৈয়দ আবু মোহাম্মদ শাহজান কবির সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে উপজেলার বাগরা এলাকায় অবস্থান নেয়। রাত দেড়টার দিকে মাদক ব্যবসায়ী বাবুল ও আলমাস তাদের সহযোগীদের নিয়ে সেখানে পৌঁছলে তাদের আটকের চেষ্টা করে পুলিশ। এ সময় মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। উভয় পক্ষের গুলি বিনিময়ে মাদক ব্যবসায়ী বাবুল ও আলমাস গুরুতর আহত হয়। তাদের উদ্ধার করে কুমেক হাসপাতালে নেয়ার পথে উভয়ের মৃত্যু হয়। ঘটনাস্থল থেকে ৪০ কেজি গাঁজা ও একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে। দিনাজপুর: দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলায় র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ একজন ও সদর উপজেলার রামসাগরে দুই দল মাদক বিক্রেতার মধ্যে গুলি বিনিময়ে আরও একজন মাদক বিক্রেতা নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন-বীরগঞ্জ উপজেলার চিহ্নিত মাদক বিক্রেতা সাবদারুল ইসলাম (৪২) ও নিহত আবদুস সালাম ওই এলাকার মৃত আব্দুস সামাদের ছেলে। র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন ১৩ দিনাজপুর ক্যাম্পের অধিনায়ক (সিও) মেজর তালুকদার নাজমুছ সাকিব জানান, শুক্রবার ভোর রাতে বীরগঞ্জে বিপুল মাদক পাচারের খবর পেয়ে র‌্যাব অভিযান চালায়। এসময় র‌্যাবকে লক্ষ্য করে সাবদারুল গুলি ছুড়লে র‌্যাবও পাল্টা গুলি ছোড়ে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন তিনি। পরে তার কাছে একটি বিদেশি পিস্তল, চার রাউন্ড তাজা গুলি, এক রাউন্ড গুলির খোসা, প্রায় দুই কেজি গাঁজা ও ১০০ বোতল ফেনসিডিল পাওয়া যায়। এ ঘটনায় আহত হন দুই র‌্যাব সদস্য। এদিকে দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার ওসি রেদওয়ানুর রহিম জানান, রাতে রামসাগর এলাকায় দুই দল মাদক বিক্রেতার মধ্যে গুলি বিনিময় হয়। খবর পেয়ে পুলিশের একটি টহল দল সেখানে গেলে আবদুস সালামকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে। এ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে এম আবদুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক আবদুস সালামকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থল থেকে ফেনসিডিল, চারটি হাত বোমা, একটি পিস্তল ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। চাঁদপুর: চাঁদপুর জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও কচুয়া থানা পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মাদক বিক্রেতা বাবলু (৩৫) নিহত হয়েছেন বলে দাবি পুলিশের। তার বিরুদ্ধে কচুয়া থানায় পাঁচটি মাদক মামলা রয়েছে। নিহত বাবলু ওই গ্রামের সুলতার মিয়ার ছেলে। কচুয়া থানার ওসি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, শুক্রবার দিনগত রাত ৩টার দিকে চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার ১০ নম্বর আশরাফপুর ইউনিয়নের বনরা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এসময় তার বাড়ি থেকে ১১০ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলা ডিবি ও কচুয়া থানা পুলিশ বাবলুর বাড়িতে যৌথ অভিযান চালায়। এসময় পুলিশকে লক্ষ্য করে তিনি গুলি ছুড়লে পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। এতে গুলিবিদ্ধ হন বাবলু। এ অবস্থায় বাবলুকে উদ্ধার করে কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মরদেহ কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে। জয়পুরহাট: জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার ভিমপুর এলাকায় র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে রেন্টু নামের এক মাদক বিক্রেতা নিহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে ফেনসিডিল, এক নলা বন্দুক ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে বলেও দাবি করেছে র‌্যাব। র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-৫ জয়পুরহাট ক্যাম্প কমান্ডার শামীম হোসেন জানান, মাদকের একটি বড় চালান কেনাবেচা হচ্ছে- এমন খবর পেয়ে র‌্যাবের একটি দল রাতে ভিমপুর এলাকায় যায়। টের পেয়ে মাদক বিক্রেতারা র‌্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এ সময় র‌্যাবও পাল্টা গুলি ছুড়লে ওই মাদক বিক্রেতা গুলিবিদ্ধ হন এবং বাকি চারজন পালিয়ে যান। পরে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ওই ব্যক্তিকে পাঁচবিবি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। বরগুনা: সদর উপজেলায় মাদকবিরোধী অভিযানকালে বন্দুকযুদ্ধে ছগির (৩৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে বরগুনার সদর উপজেলার জাকিচাবক গ্রামে এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে।নিহত ছগির উপজেলার কুমারখালী গ্রামের বাসিন্দা। বরগুনা সদর থানার ওসি এসএম মাসুদ জামান জানান, নিহত ছগির মাদক ব্যবসায়ী। তার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়মনসিংহ: জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্যদের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে শাহজাহান (৩০) নামে এক মাদক বিক্রেতা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে পুলিশ। শুক্রবার দিবাগত রাতে এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে।
২৩ জুন উদ্বোধন করা হবে আওয়ামী লীগের নতুন কেন্দ্রীয় কার্যালয়
সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী ২৩ জুন উদ্বোধন করা হবে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের আওয়ামী লীগের নতুন কেন্দ্রীয় কার্যালয়। দলের ৬৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে কেক কাটার মাধ্যমে নতুন ভবনে দলীয় কার্যক্রম শুরু হবে। এরই মধ্যে শেষ হয়েছে নির্মাণ কাজ। এখন চলছে ঘষামাজা ও সাজসজ্জার কাজ। দলীয় সভানেত্রী, সাধারণ সম্পাদক, প্রেসিডিয়াম, সম্পাদকমণ্ডলী এবং সহযোগী সংগঠনের কার্যালয়ের ডেকোরেশনের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। নিজস্ব অর্থায়নে নির্মাণ করা হয়েছে বিশ্বমানের দলীয় কার্যালয়টি। পুরো কার্যালয়টি থাকবে ওয়াইফাই জোনের আওতায়। আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ বলেন, ২৩ জুন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। ওইদিন কেন্দ্রীয় কার্যালয় উদ্বোধন হওয়ার সম্ভাবনা আছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগের এক প্রেসিডিয়াম সদস্য জানিয়েছেন, আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে গড়ে ওঠা উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে আমরা নতুন কার্যালয়ে দলীয় কার্যক্রম শুরু করব। রাজধানীর গুলিস্তানের ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের ১০ তলা আধুনিক কার্যালয়টির নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করা হয় গত বছরের ২৩ জুন। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজস্ব অর্থায়নে নতুন ভবনের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। এর আগে ২০১৬ সালের ১৭ জুলাই পুরনো ভবন ভাঙার কাজ শুরু হয়। নতুন ভবন নির্মাণে সার্বিক তত্ত্বাবধায়নে ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। কার্যালয়টিতে গিয়ে দেখা গেছে, সামনে স্টিলের বড় অক্ষরে লেখা রয়েছে, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। পাশেই দলীয় প্রতীক নৌকা। সবার উপরে রয়েছে জাতির জনকের ম্যুরাল। এরপর রয়েছে মুক্তিযুদ্ধ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের ম্যুরাল। দুই পাশ কাঁচ দিয়ে ঘেরা। কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ৭, ৮ ও ৯ তলায় থাকবে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও সাধারণ সম্পাদক, প্রেসিডিয়াম সদস্য, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকদের জন্য আলাদা রুম। বিভিন্ন তলায় থাকবে ডিজিটাল লাইব্রেরি, সেমিনার রুম, সাংবাদিক লাউঞ্জ। দুটি স্বতন্ত্র কার পার্কিং, একাধিক লিফট, সিঁড়ি, অগ্নি প্রতিরোধ ব্যবস্থা। ৪ ও ৫ তলায় থাকবে সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও মহানগরের কার্যালয়। জানা গেছে, আওয়ামী লীগের পুরনো অফিস ২৩, বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের চারতলা ভবনটি ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে লিজ নেওয়ার প্রক্রিয়া শেষ করা যায়নি। ২০০৯ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পর আবার উদ্যোগ নেওয়া হয়। লিজ গ্রহণ প্রক্রিয়া শেষ করে ২০১১ সালে নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেয় দলটি। পরবর্তীতে ২০১৬ সালের ৬ এপ্রিল নতুন কার্যালয়ের নতুন ভবনের নকশা অনুমোদন দেন দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বঙ্গবন্ধু এভিনিউর ভবনে অবস্থিত দলের সব সহযোগী-অঙ্গসংগঠনগুলোকে ওই বছরের ৩০ মের মধ্যে অফিস সরানোর জন্য নির্দেশনা দেন। পরে ১৫ জুলাই পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়। নির্দেশনা অনুযায়ী সব কার্যালয় স্থানান্তরিত হওয়ার পর ওই বছর ১৭ জুলাই পুরনো স্থাপনা ভাঙা শুরু হয়। ১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে আওয়ামী লীগের অফিস স্থানান্তরের ঘটনা ঘটেছে বেশ কয়েকবার। পুরান ঢাকার কে এম দাশ লেনের রোজ গার্ডেনে ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন আত্মপ্রকাশ করে আওয়ামী লীগ। ১৯৫৩ সাল থেকে ৯ কানকুন বাড়ি লেনে অস্থায়ী একটি অফিস ব্যবহার করা হতো। ১৯৫৬ সালে পুরান ঢাকার ৫৬, সিমসন রোডে দলের অফিস করা হয়। ১৯৬৪ সালের ২৫ জানুয়ারি আওয়ামী লীগকে পুনরুজ্জীবিত করার পর তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৯১, নবাবপুর রোডে দলের অফিস নেন। এর কিছু দিন পর অস্থায়ীভাবে সদরঘাটের রূপমহল সিনেমা হলের গলিতে কিছু দিন বসেন নেতারা। পরে পুরানা পল্টনে দুটি স্থানে দীর্ঘদিন দলের অফিস ছিল। স্বাধীনতা-উত্তর ১২২, সার্কিট হাউস রোডে কিছু দিনের জন্য আওয়ামী লীগের অফিস ছিল। পরে আবারও পুরান ঢাকার নবাবপুরে অফিস স্থানান্তর হয়। শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী হওয়ার পর ২৩, বঙ্গবন্ধু এভিনিউর বর্তমান অফিসটি ভাড়া নেওয়া হয়। সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন
মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে দ্য গার্ডিয়ানের রিপোর্ট
বাংলাদেশের মাদক বিরোধী অভিযানকে ফিলিপাইনের মতো বলে বর্ণনা করেছে বৃটিশ সংবাদ মাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান। অনলাইন দ্য গার্ডিয়ানের রিপোর্টে বলা হয়েছে, ইতিমধ্যেই মাদকবিরোধী অভিযানে নিহত কয়েকজনকে নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একজনের পরিবার দাবি করেছেন, তার নিহত স্বজন বিরোধীদলের কর্মী ছিলেন। তিনি কখনোই মাদক ছুঁয়ে দেখেন নি। এই পরিবারসহ আরো কয়েকটি পরিবার বলেছে, মৃতদেহ উদ্ধারের কয়েক ঘণ্টা আগে এসব মানুষকে পুলিশ ধরে নিয়ে যায়। এরপর যা ঘটে, কর্তৃপক্ষ তাকে রাত্রিকালীন বন্দুকযুদ্ধ বলে উল্লেখ করছে। অবৈধ মাদকের রমরমা ব্যবসা, বিশেষত মেথামফেটামাইন বা ইয়াবার ব্যবসা বন্ধ করতে গত সপ্তাহে বাংলাদেশ এই অভিযান শুরু করে। উত্তেজনা সৃষ্টিকারী এই মাদক সাধারণত প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, গত বছরে ৩০ কোটি ইয়াবার পিল বাংলাদেশে পাচার করা হয়েছে। এর জন্য রাখাইনে সেনাবাহিনীর নির্যাতনে পলায়নপর রোহিঙ্গা শরণার্থী ও তাদের বহন করে বাংলাদেশে নিয়ে আসা জেলেদের দায়ী করা হয়েছে। গত সপ্তাহে মাদকবিরোধী অভিযান শুরুর পর থেকেই প্রতিদিন মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বৃহস্পতিবার সকালে ৯ মাদক ব্যবসায়ীকে হত্যা করা হয়। এতে ১০ দিনে মৃতের সংখ্যা ৫২ জনে পৌঁছায়। নিহতদের মধ্যে একজনের নাম আমজাদ হোসেন। পুলিশ বলছে, তাকে নিয়ে পুলিশ নেত্রোকোনার একটি মাদকের আস্তানায় অভিযান চালায়। এ সময় মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশ কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। উভয় পক্ষের মধ্যে গুলি বিনিময় হলে আমজাদ গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। নেত্রকোনা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আশরাফুল আলম বলেন, তার বিরুদ্ধে হত্যা, সহিংসতা ও মাদক সংক্রান্ত ১৪টি মামলা রয়েছে। সম্প্রতি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার করি। পরে তার সহযোগীরা আমাদের ওপর গুলিবর্ষণ করে। এসময় সে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। তবে আমজাদের ভাই মাহিদ আহমেদ আনসারি বলেন, আমজাদ মাদক ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না। তথাকথিত বন্দুকযুদ্ধের কয়েক ঘণ্টা আগে পুলিশ তাদের বাড়িতে অভিযান চালায়। হঠাৎ চালানো এই অভিযানে আমার ভাইকে ব্যাপক মারধর করা হয়। তার বিরুদ্ধে মাদক বিক্রির অভিযোগ পুরোপুরি ভিত্তিহীন। তাকে হত্যা করা হয়েছে শুধু এ কারণে যে, সে বিরোধী দলের ছাত্র সংগঠনের একজন জনপ্রিয় কর্মী ছিল। তিনি বলেন, আমজাদের বিরুদ্ধে করা মামলাগুলো এ বছরের শেষের দিকে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচন উপলক্ষে বিরোধীদলীয় রাজনৈতিক কর্মীদের উদ্দেশ্যমূলক হয়রানির অংশ। গার্ডিয়ান আরো লিখেছে, অনেক অভিযান র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটলিয়ান (র‌্যাব) দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। র‌্যাবের অভিযানে শুক্কুর আলী নিহত হয়। র‌্যাবের দাবি, শুকুর কুখ্যাত ইয়াবা ও ভাং ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে অন্তত ১০টি মামলা রয়েছে। র‌্যাবের বিবৃতি অনুযায়ী, র‌্যাব কর্মকর্তারা চট্টগ্রামের একটি মাদকের আস্তানায় অভিযান চালায়। এ সময় তারা সশস্ত্র প্রতিরোধের সম্মুখীন হন। উভয়পক্ষের গুলিবিনিময় শেষে ঘটনাস্থল থেকে শুকুরকে মৃত উদ্ধার করা হয়। তার অন্য সহযোগীরা পালিয়ে যায়। কিন্তু শুকুরের স্বজনরা বলছেন, সোমবার মধ্যরাতের পর সাদা পোশাকে কয়েকজন ব্যক্তি তার বাড়িতে এসে তাকে তুলে নিয়ে যায়। নিহতের জামাই মোহাম্মদ সোহেল বলেন, কিছুক্ষণ পরই আমরা গুলির শব্দ শুনতে পাই। বাইরে এসে কিছুটা দূরে শ্বশুরকে পড়ে থাকতে দেখি। এটা পরিষ্কার যে, যারা তুলে নিয়ে গেছে, তারাই তাকে গুলি করে হত্যা করেছে। এটা সত্য না যে, তিনি মাদকের আস্তানায় ছিলেন। সেখানে গুলিবিদ্ধ হন। তিনি মাদক নিতেন। কিন্তু এটা সত্য না যে তিনি মাদক বিক্রি করতেন। ঢাকাভিত্তিক মানবাধিকার কর্মী পিনাকি ভট্টাচার্য বলেন, পুলিশের গুলি করে হত্যা করার উন্মত্ততা দেশজুড়ে আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। এগুলো পরিষ্কারভাবে বিচারবহির্ভূত হত্যা। যা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। এসব বাহিনীর অবাধ ক্ষমতা আছে। তারা বিচারক ও জল্লাদের ভূমিকা পালন করছে। এ ছাড়া মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, এসব হত্যাকাণ্ডের তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। সংস্থাটির দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক পরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলি বলেছেন, একজন মন্ত্রী তো মাদকাসক্তদের গুলি করার কথা বলেছেন। আর প্রধানমন্ত্রী এটাকে ইসলামী উগ্রপন্থিদের নিধনের প্রচেষ্টার সঙ্গে তুলনা করেছেন। নিরাপত্তা রক্ষাকারীরা যথাযথ জবাবদিহিতা ও নজরদারি ছাড়াই আরো একবার তাদের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে, যা উদ্বেগের বিষয়। সূত্র: মানবজমিন
কেবিন বুকিংয়ের আবেদন শুরু ঢাকা-বরিশাল নৌরুটে
আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঢাকা-বরিশাল নৌরুটের বেসরকারি লঞ্চের স্পেশাল সার্ভিসের কেবিন বুকিংয়ের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সরকারিভাবে এখনো কোনো ঘোষণা না আসলেও বরিশালের লঞ্চ মালিকরা এরই মধ্যে ঘরমুখো মানুষের জন্য কেবিন বুকিংয়ের এর কার্যক্রম শুরু করেছেন। লঞ্চ মালিকরা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার (২৪ মে) সপ্তম রমজান থেকে ১৫ রমজান পর্যন্ত এ কেবিন বুকিং এর আবেদন গ্রহণ করা হবে। এদিকে, স্বচ্ছতার দোহাই দিয়ে গতবছর থেকে অনেকটা আগেভাগেই কেবিন বুকিংয়ের চাহিদাপত্র নেওয়া হলেও যাত্রীরা কবে নাগাদ হাতে টিকিট পাচ্ছেন সে বিষয়ে এখনো কিছু নিশ্চিত করেনি লঞ্চ মালিকরা। যদিও এর বাহিরে আগে আসলে আগে পাবেন এ ভিত্তিতেই কিছু লঞ্চ কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের হাতে সরাসরি টিকিট তুলে দিবেন এবারও, তবে সেই টিকেটের জন্য অপেক্ষা করতে হবে আরও বেশ কয়েকদিন। বরিশালের লঞ্চ কাউন্টারগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো যাত্রীদের জন্য বৃহস্পতিবার (২৪ মে) থেকে কেবিন বুকিং স্লিপ জমা নেওয়া শুরু করেছে ক্রিসেন্ট শিপিং লাইন্সের সুরভী লঞ্চ কর্তৃপক্ষ। যা চলবে ১০ রমজান পর্যন্ত। এদিকে, রোববার (২৭ মে) থেকে শুক্রবার (১ জুন) পর্যন্ত প্রাইম নেভিগেশনের সুন্দরবন লঞ্চ কর্তৃপক্ষ কেবিন বুকিংয়ের জন্য আবেদনপত্র গ্রহণ করবেন। একই সময়ে নিজাম শিপিং লাইন্সের অ্যাডভেঞ্চার লঞ্চ কর্তৃপক্ষ কেবিন বুকিংয়ের আবেদন গ্রহণ করবেন এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি লঞ্চ গুলোর কাউন্টারে টাঙিয়েছে। আবেদনগুলো বরিশাল ও ঢাকার স্ব-স্ব লঞ্চের কাউন্টারে জমা দিতে হবে, আবার ভাগ্যে যদি মেলে তবে কাউন্টার থেকেই টিকিট বুঝে নিতে হবে। এছাড়া কীর্তনখোলা, পারাবাত, টিপু, কালাম খান, কামাল, ফারহানসহ বরিশাল-ঢাকা রুটের বাকি লঞ্চ গুলোর টিকিট আগে আসলে আগে পাবেন ভিত্তিতে সরাসরি যাত্রীদের মধ্যে বিক্রি করা হবে। তবে লঞ্চের টিকিট বিক্রি শুরু কবে থেকে সে বিষয়ে কিছু জানাতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। ধরাবাধা কোনো নিয়ম না থাকলেও সরাসরি টিকিট নিতে হলে যাত্রীদের সরাসরি বরিশাল ও ঢাকার স্ব-স্ব লঞ্চের কাউন্টার যেতে হবে। এছাড়া কোন কোন ক্ষেত্রে লঞ্চে হাজির হয়ে নিজেদের মোবাইল নম্বর দিয়ে কেবিন নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন মালিকরা। সুরভী লঞ্চের বরিশাল কাউন্টারের ইনচার্জ নাইমুল ইসলাম জানান, ঈদে ঢাকা থেকে আসা ও বরিশাল থেকে যাওয়ার কেবিনের টিকিটের জন্য আবেদন গ্রহণ শুরু করেছেন তারা। আবেদন যাচাই-বাছাই করে যাত্রী সাধারণের মধ্যে টিকিট বিতরণ করা হবে। টিকিট বিতরণের তারিখ নির্ধারণ না হলেও যারা টিকিট পাবেন তাদের ফোনে জানিয়ে দেওয়া হবে। পারাবাত লঞ্চ কোম্পানির বরিশালের ইনচার্জ মো. সেলিম আহমেদ জানান, তাদের লঞ্চে কেবিনের জন্য আবেদন গ্রহণ করা হবে না। তবে নৌ-মন্ত্রণালয়, মালিক সমিতির ও বিআইডব্লিউটিএ এর যৌথ সভার পরে আগে আসলে আগে পাবেন ভিত্তিতে টিকিট বিক্রি শুরু হবে। ১০ রমজান থেকে ১৫ রমজান পর্যন্ত তাদের লঞ্চের কেবিন বুকিংয়ের আবেদন গ্রহণ করা হবে এবং যাচাই-বাছাই শেষে মঙ্গলবার (৫ জুন) থেকে যাত্রীদের মধ্যে টিকিট বিতরণ শুরু করা হবে বলে জানান সুন্দরবন নেভিগেশনের পরিচালক আকিদুল ইসলাম আকেজ। আকেজ বলেন, কেবিনের চাইতে চাহিদা কয়েকগুণ বেশি থাকায় লটারির মাধ্যমে যাত্রীদের টিকিট দিতে হয়। এজন্য সবাই যে টিকিট পান এমনটাও নয়, তবে আমরা চাই সবাই যেন টিকিট পায়।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতার সঙ্গে আলাদা বৈঠক হবে শেখ হাসিনার
ভারত সফরকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আলাদা বৈঠক হবে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। এমনকি শুক্রবার বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনের পরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর যে বৈঠক হবে তাতেও যোগ দিতে পারেন মমতা। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শান্তিনিকেতনে মমতা বলেছেন, বাংলাদেশ ভবনের উদ্বোধন আছে। বাংলাদেশ থেকে আমাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। দুই প্রধানমন্ত্রী থাকবেন। আমিও থাকব। কথা হবে। ওঁদের বিদায়ও জানাব। পরের দিন শেখ হাসিনার সঙ্গে আলাদা করেও কথা হবে। শুক্রবার প্রথমে সমাবর্তন, তারপর বাংলাদেশ ভবনের উদ্বোধন সেরে বৈঠকে বসার কথা হাসিনা-মোদির। এক ঘণ্টার সেই বৈঠক একেবারেই একান্ত হবে বলে নির্ধারিত আছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, বৈঠকে দু’দেশের কর্মকর্তারাও থাকবেন না। কিন্তু দু’দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গ এতটাই জড়িত যে, ছকের বাইরে হেঁটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ডেকে নেওয়া হতে পারে বলে মনে করছিলেন কূটনীতিকদের একাংশ। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পৃথক বৈঠকে তিস্তা প্রসঙ্গ উঠবে না জানিয়ে মমতা বলেছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে আমার সম্পর্ক সব সময় ভাল। হাসিনা যখন বিরোধী নেত্রী, তখন থেকে যোগাযোগ। দেখা হবে, ভাল লাগছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় তিস্তার পানিবণ্টন নিয়ে কথা হবে কিনা জানতে চাইলে মমতার জবাব, মনে হয় সে প্রসঙ্গ উঠবে না।

জাতীয় পাতার আরো খবর