পবিত্র লাইলাতুল মিরাজ আজ
পবিত্র লাইলাতুল মিরাজ আজ। যথাযোগ্য মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য পরিবেশে আজ ২৬শে রজব, শনিবার দিবাগত রাতে সারা দেশে পবিত্র লাইলাতুল মিরাজ পালিত হবে। এ উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাদ মাগরিব জাতীয় মসজিদে এক ওয়াজ ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেছে। পবিত্র এই রাতে মহানবী হযরত মুহম্মদ (সা:) মিরাজ গমন করে আল্লাহ্ রাব্বুল আলামিনের সান্নিধ্য লাভ করেন এবং পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের বিধান নিয়ে পৃথিবীতে ফিরে আসেন। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা হিজরি সনের রজব মাসের ২৬ তারিখ দিবাগত রাতে লাইলাতুল মিরাজ পালন করেন। ইসলামে এই রাতকে বিশেষ মর্যাদা দেয়া হয়েছে। মিরাজের রাত ইবাদত-বন্দেগি ও দোয়া কবুলের রাত হিসেবে গণ্য করা হয়। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত ও জিকির-আজকারের মধ্য দিয়ে রাতটি পার করে থাকেন। অনেকে পবিত্র মিরাজে নফল রোজা রাখেন। দান-সদকাও করেন। ইসলামী শরীয়তের পরিভাষায় মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসা পর্যন্ত সফরকে ইসরা এবং মসজিদুল আকসা থেকে সাত আসমান পেরিয়ে আরশে আজিম সফরকে মিরাজ বলা হয়। ইতিহাসের নিরিখে নবুওয়াতের দশম বছর ৬২০ খ্রিস্টাব্দের ২৬ রজব দিবাগত রাতে মহানবী (সা:) আল্লাহর সান্নিধ্যে মিরাজ গমন করেন। পবিত্র কোরআনের সূরা বনি ঈসরাইল ও সূরা নজমের আয়াতে, তাফসিরে এবং সব হাদিস গ্রন্থে মিরাজের ঘটনার বর্ণনা রয়েছে। পবিত্র এই রাতে হযরত জিবরাঈল (আ:)-এর সঙ্গে নবীজী প্রথমে বায়তুল্লাহ শরীফ থেকে বোরাকে চড়ে বায়তুল মুকাদ্দাস গমন করেন। সেখানে হযরত আদম (আ:) সহ অন্যান্য নবীদের নিয়ে মহানবী (সা:) দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করেন। তারপর সেখান থেকে তিনি এই রাতেই সপ্তম আকাশ পেরিয়ে সিদরাতুল মুনতাহায় উপনীত হন। এরপর রফরফ নামক বাহনে চড়ে আল্লাহর প্রিয় হাবিব মহান প্রভুর অনুগ্রহে আরশে আজিমে পৌঁছেন। আল্লাহ তায়ালার দিদার লাভ ও সরাসরি কথোপকথন শেষে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের হুকুম নিয়ে পৃথিবীতে প্রত্যাবর্তন করেন প্রিয়নবী হযরত মুহম্মদ (সা:)।
যত বাধাই আসুক, বাঙালি কোনো বাধা মানে না: প্রধানমন্ত্রী
দেশে-বিদেশের সকল বাঙালিকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, বাংলাদেশে নববর্ষ উদযাপন একটি সার্বজনীন উৎসব। এ উৎসব উদযাপনে যত বাধাই আসুক, বাঙালি কোনো বাধা মানে না। এ জাতি বাধা ভাঙতে জানে। প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আমরা নববর্ষ উদযাপন করি। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বৈশাখী ভাতা চালু করা হয়েছে। প্রবাসীরাও নানা অনুষ্ঠানে নতুন বছরকে বরণ করে নেন। আজ শনিবার প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানানোর সময় তিনি এসব কথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, পৃথিবীতে অনেক দেশ আছে। সব দেশেই নববর্ষের অনুষ্ঠান হয়। কিন্তু ভাষাভিত্তিক রাষ্ট্র এই উপমহাদেশে শুধু বাংলাদেশ। আমরা বাংলা ভাষায় কথা বলি, বাংলায় হাসি, বাংলায় কাঁদি, বাংলায় জীবন চর্চা করি। তিনি আরো বলেন, ১৯৯২ সালে আমরা ১৪০০ বঙ্গাব্দকে বরণ করতে অনুষ্ঠানের আয়োজন করিছিলাম। কিন্তু সেখানে তৎকালীন খালেদা জিয়া সরকার বাধা দেয়। আমরা কবি সুফিয়া কামালকে নিয়ে সেসব বাধা উপেক্ষা করে রমনা পার্কে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নতুন শতাব্দিকে স্মরণ করি। এ ছাড়াও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের কথা উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হয়েছে। উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তুলব। সকল বাঙালি ঐক্যবদ্ধভাবে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করবে।
নাচে গানে বিভিন্ন আয়োজনে মঙ্গল শোভাযাত্রায় মানুষের ঢল
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ থেকে মঙ্গলশোভাযাত্রা শুরু। নাচে গানে বিভিন্ন আয়োজনে সকাল ৯ টা থেকে শুরু হয়েছে মঙ্গলশোভাযাত্রা। ঢাক-ঢোল আর বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রে এগিয়ে চলেছে শোভাযাত্রা। শনিবার সকাল সোয়া নয়টার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ থেকে এই শোভাযাত্রা বের করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আখতারুজ্জামানের নেতৃত্বে চারুকলা অনুষদ থেকে বের হওয়া এই শোভাযাত্রায় অংশ নিয়েছে লাখো মানুষ। বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন পহেলা বৈশাখে নতুন একটি বার্তা নিয়ে হাজির হয় মঙ্গল শোভাযাত্রা। দেশ ও জাতির জন্য অকল্যাণকর অশুভকে প্রতিহত ও সুন্দর-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের প্রত্যয় থাকে প্রতিপাদ্যে। তাই এবারের পহেলা বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রার প্রতিপাদ্য ধরা হয়েছে লালনের অমর বাণী মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি। এই বার্তা নিয়েই বাঙালির প্রাণের উৎসব বাংলা নববর্ষের মঙ্গল শোভাযাত্রা শনিবার সকাল ৯টায় শুরু করন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থীরা। আজকের দিনটির প্রধান আকর্ষণ মঙ্গল শোভাযাত্রা। এছাড়াও রমনা বটমূল, রবীন্দ্র সরোবর, কলাবাগানসহ ও রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে রয়েছে পহেলা বৈশাখ উদযাপনে নানা আয়োজন। ইতোমধ্যে মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন শেষ হয়েছে। সকাল ৯টায় শুরু হবে এই শোভা যাত্রা। ১৯৮৫ সালে চারুপীঠ নামের একটি সংগঠন যশোরে প্রথমবারের মতো নববর্ষ উপলক্ষে আনন্দ শোভাযাত্রা আয়োজন করে। পাপেট, বাঘের প্রতিকৃতি ও পুরনো বাদ্যযন্ত্র এবং অনেক শিল্পকর্ম নিয়ে এই শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ১৯৮৯ সাল থেকে ঢাকা চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থীরা প্রতিবছর পহেলা বৈশাখে মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন করে। ২০১৬ সালে ৩০ নভেম্বর জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা (ইউনেস্ক) মঙ্গল শোভাযাত্রাকে অধরা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসাবে স্বীকৃতি দেয়। বাঙালির প্রাণের এ উৎসব উদযাপনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ, ইনস্টিটিউট এবং ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সংগঠনও পৃথকভাবে বর্ণাঢ্য কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
সাড়ে চার বছর ধরে পড়ে থকা লিপা রাণীর লাশ মুসলিম রীতিতে দাফনের নির্দেশ হাইকোর্টের
সাড়ে চার বছর ধরে হাসপাতালের মর্গে পড়ে থাকা নীলফামারীর ডোমারের লিপা রাণীর লাশ মুসলিম রীতি অনুযায়ী দাফনের নির্দেশ দিয়েছেন, হাইকোর্ট। জেলা প্রশাসনের তত্বাবধানে এ লাশ দাফন করতে বলা হয়েছে। তবে লিপার পরিবার দাফনের আগে মরদেহ দেখতে চাইলে তারও ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে বিচারপতি মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরীর হাইকোর্টের একক বেঞ্চ এ রায় দেন। ২০১৩ সালে ধর্মান্তরিত হয়ে লাইজু নামে এক মুসলিম ছেলেকে বিয়ে করেন লিপা রাণী। বিয়ের পর থেকেই পারিবারিক দ্বন্দ্ব চলছিলো। বিয়ের কিছুদিন পর স্বামী লাইজু মারা গেলে লিপাও আত্মহত্যা করেন। এরপর লিপার লাশ দাবি করে আদালতে মামলা করে দুপক্ষ। দীর্ঘ সাড়ে চারবছর এ মামলা নিষ্পত্তি না হওয়ায় লাশ পড়ে আছে রংপুর মেডিকেলের মর্গে। বিষয়টি সময় সংবাদে প্রচারিত হলে হাইকোর্টে মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির আবেদন জানায় মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র।এরপর গত দুই কার্যদিবস শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার এ রায় দিলেন উচ্চ আদালত।
কল সেন্টার ৩৩৩ এর শুভ উদ্বোধন
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা জনাব সজীব আহমেদ ওয়াজেদ জয় আজ ১২ এপ্রিল ২০১৮ ইং বৃহস্পতিবার বিকেলে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে চট্টগ্রামসহ দেশের ৮ জেলার সাথে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে কল সেন্টার ৩৩৩ এর শুভ উদ্বোধন করেন। দেশব্যাপী ২৪ ঘন্টা সরকারি তথ্য ও সেবা প্রদানে এ কল সেন্টারের উদ্বোধন করা হল। অন্যান্য জেলার ন্যায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনও এ ভিডিও কনফারেন্সিংয়ে যুক্ত থেকে অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। এ অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) শংকর রঞ্জন সাহা, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন, সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মাসুদ উল হাসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, জেলা পুলিশ সুপার নুরেআলম মিনা, সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আজিজুর রহমান সিদ্দিকীসহ জেলার সকল উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সরকারের বিভিন্নস্তরের কর্মরত কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ। কল সেন্টার ৩৩৩ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা জনাব সজীব আহমেদ ওয়াজেদ জয় বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিক ও নিরলস প্রচেষ্টায় ডিজিটাল বাংলাদেশের যাত্রা এগিয়ে যাচ্ছে। সরকারি সেবা জনগণের দৌরগোড়ায় পৌঁছে দিতে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা কাজ করে যাচ্ছে। ফলে দেশের জনগণ ঘরে বসেই সকল ধরনের তথ্য ও সেবা পেয়ে যাচ্ছে। দেশের প্রায় সাড়ে ১২ কোটি মানুষ মোবাইল ফোন ব্যবহার করছে। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তথ্য প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে সকল ধরনের সেবা ভোগ করছে। মোবাইল ফোন থেকে কল সেন্টার ৩৩৩ এ ফোন করে যাবতীয় নাগরিক সেবা, সামাজিক সমস্যা, ভেজাল দ্রব্য ক্রয়-বিক্রয়, ইভটিজিং, বাল্য বিবাহ, পরিবেশ দূষণ, সরকারি গাছ কর্তন, দুর্যোগ, অভিযোগ ও মাদকদ্রব্যের ব্যবহারসহ বিভিন্ন বিষয়ে জানানোর পর জনগণ এর সুফল পাচ্ছে। ডিজিটাল বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে আমরা অনেক দূর এগিয়ে যাব এবং বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ বিনির্মাণ সম্ভব হবে। এ জন্য সকলের আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন।প্রেস বিজ্ঞপ্তি
যুক্তরাজ্য-অস্ট্রেলিয়া-সৌদি আরব সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজের আমন্ত্রণে দুই দিনের সফরে রোববার সৌদি আরব সফর যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে ‘গালফ শিল্ড-১’ শীর্ষক যৌথ সামরিক মহড়ার সমাপনী অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তিনি। সৌদি আরব থেকেই যুক্তরাজ্যে যাবেন; এরপর অস্ট্রেলিয়া সফর করবেন। কূটনৈতিক সূত্রে জানা যায়, কমনওয়েলথ সরকারপ্রধান পর্যায়ের সম্মেলনে অংশ নিতে প্রধানমন্ত্রী সোমবারই সৌদি আরব থেকে যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে যাবেন। সেখানে ২২ এপ্রিল পর্যন্ত সরকারি সফর। এরপর ‘গ্লোবাল সামিট অব উইমেনে’ যোগ দিতে এবং ‘গ্লোবাল উইমেনস লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড’ গ্রহণ করতে ২৬-২৯ এপ্রিল অস্ট্রেলিয়ার সিডনি সফর করবেন তিনি। গত ৫ এপ্রিল ঢাকায় সৌদি রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ এইচ এম আল মুতাইরি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে ‘গালফ শিল্ড-১’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে সৌদি বাদশাহর আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণপত্র পৌঁছে দেন।
বেপরোয়া হয়ে উঠেছে ভোলার ইলিশ শিকারিরা বৈশাখকে সামনে রেখে
পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে ভোলার ইলিশ শিকারিরা। জেল জরিমানা এমনকি সরকারি নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করে দলে দলে জেলেরা ইলিশ নিধনে নেমে পড়েছেন। মাছঘাট ও হাট-বাজারগুলোতেও প্রকাশ্যে চলছে ইলিশ বেচাকেনা। অভয়াশ্রমগুলোতে ইলিশ নিধন অব্যাহত থাকায় উদ্দেশ্য সফল হবেনা বলে আশংকা বিশেষজ্ঞদের। তবে বেপরোয়া জেলেদের নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত টহল ও অভিযান চলছে বলে জানালেন কোস্টগার্ড ও মৎস্য বিভাগ। ভোলার মেঘনা-তেঁতুলিয়া নদীর অভয়াশ্রমে মার্চ-এপ্রিল দু’মাস জাল ফেলা সম্পূর্ণ নিষেধ থাকলেও জেলেদের ইলিশ ধরা থেকে বিরত রাখতে পারেনি আইন শৃঙ্খলারক্ষাবাহিনী। বৈশাখী উৎসবকে সামনে রেখে ইলিশের চাহিদা ও দাম বেড়ে যাওয়ায় ইলিশ শিকারির সংখ্যাও বেড়েছে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ধরা বড় সাইজের ইলিশগুলো চোরাপথে চলে যাচ্ছে ঢাকা-বরিশালসহ দেশের বড় বড় শহরে। নিষিদ্ধ সময়ে ঘাটগুলোতে প্রকাশ্যে চলছে বেচাকেনা। ইলিশের কমতি নেই স্থানীয় বাজারগুলোতে। জেলেরা বলছেন, চাহিদা বেড়ে যাওয়া ও দীর্ঘ সময়ে বেকার থাকায় অর্থ সংকটের কারণে আইন অমান্য করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। স্থানীয় জেলেরা বলেন, 'আমরা পাটের অভাবে মাছ ধরতে গিয়েছি। আমাদের কিস্তি শোধ করতে হবে তাই চুরি করে মাছ ধরতে গিয়েছি।' কিছু প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের কারণে ইলিশ রক্ষার উদ্দেশ্য ভেস্তে যাচ্ছে উল্লেখ করে এ উন্নয়নকর্মী প্রশাসনের অভিযান পরিচালনায় গাফিলতির অভিযোগ করেন। ভোলা উন্নয়ন ও স্বার্থরক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অমিতাভ রায় অপু বলেন, 'প্রশাসন বলে আমরা কাজ করছি কিন্তু মেঘনায় গেলে বুঝা যাচ্ছে না কোনো নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কারণ অবাধে মাছ ধরা হচ্ছে।' আর ইলিশ নিধন বন্ধে নিয়মিত অভিযান চলছে জানিয়ে বৈশাখকে সামনে রেখে অভিযান আরো জোরদারের কথা জানালেন কোস্ট গার্ড ও মৎস্য কর্মকর্তা
বারবার হ্যাক হচ্ছে সরকারি ওয়েবসাইট-টেকসই নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাবে:মত বিশেষজ্ঞদের
নিরাপত্তার ঘাটতির কারণে বার বার হ্যাক করা হচ্ছে দেশের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সব ওয়েবসাইট। বিশেষ করে মঙ্গলবার রাতে গুরুত্বপূর্ণ অধিকাংশ মন্ত্রণালয়েরই ওয়েবসাইট হ্যাকিংয়ের শিকার হয়। এতে নিরাপত্তার ঘাটতির বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টেকসই নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় এমন ঘটনা ঘটছে বার বার। ব্যবস্থা না নিলে, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চুরি হওয়ার আশংকা করছেন তারা। ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে হ্যাকিং এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরির পর ভাবিয়ে তোলে দেশের অনলাইন নিরাপত্তার বিষয়টি। গেল ১০ এপ্রিল মঙ্গলবার রাতে বেশ কয়েকটি সরকারি ওয়েবসাইটে ব্রাউজ করলে, সাইটগুলো হ্যাক হয়েছে বলে দেখা যায়। হ্যাকাররা ঐ সাইটগুলো হ্যাক করার পরে শিরোনাম হিসাবে ‘হ্যাকড বাই বাংলাদেশ’ নামের লেখা ঝুলিয়ে দেয়। এছাড়া কোটা সংস্কারের দাবিতে বিভিন্ন বক্তব্যও সেঁটে দেয় তারা। বঙ্গভবন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, জাতীয় সংসদ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালসহ অধিকাংশ জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ওয়েবসাইট হ্যাক হয়ে যায়। এভাবে প্রায়ই দেখা যায় কোনো না কোন গুরুত্বপূর্ণ সাইট হ্যাকিং এর শিকার হচ্ছে। প্রযুক্তিবিদরা বলছেন, অনলাইন নিরাপত্তার ক্ষেত্রে দুর্বলতার কারণেই বার বার ঘটছে এমন ঘটনা। তথ্য ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ সুমন আহমেদ সাবির বলেন, সাইবার নিরাপত্তার জায়গাটা আমাদের দেশে এখনও পর্যাপ্ত নয়। এ বিষয়টিকে যথাযথ গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে না। বিশেষ করে আমাদের সরকারি ওয়েবাসইটগুলোর অনেক বেশি যত্নের প্রয়োজন। এর জন্য প্রযুক্তিগত জ্ঞানের অভাব নয় বরং মনোযোগের অভাব রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এতে বহির্বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হওয়ার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় তথ্য চুরি হওয়ার শঙ্কা থেকেই যায়। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. কায়কোবাদ বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা বিধানের জন্য যেসব তথ্য রয়েছে সেগুলো চুরি হয়ে যেতে পারে এমন ঘটনার মাধ্যমে। যারা সেখানে কাজ করেন তাদের যথাযথ প্রশিক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে। দেশের সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও কথা বলতে রাজি হননি কেউই।
ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা যেন ভুল না করে : জাফর ইকবাল
সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে চলমান আন্দোলনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে গিয়ে ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা যেন ভুল না করে- এ ব্যাপারে তাদের পরামর্শ দিয়েছেন জনপ্রিয় লেখক, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল। বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া আইআইসিটি ভবনে সারা দেশে চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলন প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ আহ্বান জানান। তিনি বলেন, যখন সরকার কোনো কিছুর সম্মুখীন হয়, তখন সরকারের পুলিশ বাহিনীর সঙ্গে ছাত্রলীগও এসে পড়ে। ছাত্রলীগ যারা করে তারাও ছাত্র, তারা পড়াশোনা করবে। তারা যেন ভুল না করে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যেন সংঘাত সৃষ্টি না হয়। তিনি আরো বলেন,তরুণ প্রজন্মের উপর আমার আস্থা রয়েছে। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে এখনো পর্যন্ত সব গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলনে তরুণরা নেতৃত্ব দিয়েছে। আমি আশা করব, তারা যেন সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়।। এ সময় তিনি কোটাকে সঙ্গত সংখ্যায় নামিয়ে আনার পক্ষে মত দেন। সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যামন ৫৬ শতাংশ কোটা সংস্কারের দাবি জানিয়েছে সারা দেশে আন্দোলন করছে চাকরিপ্রার্থী ও ছাত্ররা। তাদের দাবি কোটা ১০ শতাংশে নামিয়ে আনতে হবে।

জাতীয় পাতার আরো খবর